Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • History • অধ্যায় 1
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

Learning History - Understanding History

পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী ছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ, যা যুগপৎ ভৌগোলিক আবিষ্কার এবং আধুনিক বিজ্ঞানের বৈপ্লবিক সূচনার দ্বারা চিহ্নিত। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির ইতিহাস পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত এই অধ্যায়ে ইউরোপীয়দের বিশ্বব্যাপী ভৌগোলিক সীমানা বিস্তার এবং প্রকৃতি ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তর বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে। ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান তুর্কিদের দ্বারা কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার প্রাচীন স্থলবাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে পর্তুগাল ও স্পেনের মতো আটলান্টিক উপকূলবর্তী দেশগুলি মসলাসমৃদ্ধ প্রাচ্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বিকল্প সামুদ্রিক পথ অনুসন্ধানে ব্রতী হয়। কম্পাস, অ্যাস্ট্রোলেব, কোয়াড্রান্ট এবং দ্রুতগামী ক্যারাভেল জাহাজের মতো বৈপ্লবিক নৌপ্রযুক্তির সহায়তায় ক্রিস্টোফার কলম্বাস, ভাস্কো দা গামা এবং ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান সমুদ্রাভিযান পরিচালনা করে মহাদেশগুলিকে এক বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসেন, যার ফলে 'কলম্বীয় বিনিময়' এবং বাণিজ্যের কেন্দ্র ভূমধ্যসাগর থেকে আটলান্টিকে স্থানান্তরিত হয়। সমান্তরালভাবে দীর্ঘদিনের মধ্যযুগীয় এরিস্টটল-টলেমীয় ভূকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব এবং চার্চের অন্ধ ধর্মীয় অনুশাসন ভেঙে এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক বিপ্লব সূচিত হয়। নিকোলাস কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব প্রস্তাব করেন, যা জোহানেস কেপলারের গ্রহের গতির সূত্র এবং গ্যালিলিও গ্যালিলির দূরবীন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। স্যার আইজ্যাক নিউটনের সার্বজনীন মহাকর্ষ ও গতির সূত্রের মাধ্যমে মহাবিশ্বের এক নিখুঁত গাণিতিক যান্ত্রিক ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানব শারীরস্থানে আন্দ্রিয়াস ভেসালিয়াসের ব্যবচ্ছেদ, উইলিয়াম হার্ভের রক্ত সঞ্চালন তত্ত্ব, ফ্রান্সিস বেকনের আরোহী পর্যবেক্ষণমূলক পদ্ধতি, রেনে দেকার্তের যুক্তিবাদ এবং ১৬৬০ সালে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি গঠনের মাধ্যমে বিজ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

আধুনিক বিজ্ঞান ও ভৌগোলিক আবিষ্কারের ইতিহাস পাঠ সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা, আধুনিক সেকুলার গণতন্ত্র এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদের ভিত্তি অনুধাবনের জন্য অপরিহার্য। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর সামুদ্রিক অভিযানগুলি বিশ্বায়নের আদি পর্যায় সূচনা করেছিল, যা উদ্ভিদ, প্রাণী, মানব প্রজাতি এবং জীবাণুর বিনিময়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করে; তবে এর সাথে জড়িয়ে ছিল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিনাশ ও আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের নির্মম অধ্যায়। অন্যপক্ষে, সপ্তদশ শতকের বৈজ্ঞানিক বিপ্লব আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করে—যেখানে অন্ধ বিশ্বাস বা ধর্মীয় অনুশাসনের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, সুনিয়ন্ত্রিত পরীক্ষণ, গাণিতিক পরিমাপ ও যৌক্তিক প্রমাণ সত্য নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে গৃহীত হয়। ভেসালিয়াসের শারীরস্থান ও নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র মানবজাতিকে অন্ধত্ব থেকে মুক্ত করে আলোকপ্রাপ্তির যুগ (Enlightenment) ও পরবর্তী শিল্প বিপ্লবের পথ উন্মোচিত করেছিল। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি মধ্যযুগীয় জড়তা থেকে আধুনিক যুক্তিবাদের উত্তরণকে অনুধাবন করতে সাহায্য করে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ভৌগোলিক আবিষ্কারের পটভূমি ও নৌপ্রযু...
2 প্রধান সামুদ্রিক অভিযানসমূহ ও পৃথিব...
3 বাণিজ্যিক বিপ্লব ও কলম্বীয় বিনিময়...
4 জ্যোতির্বিজ্ঞানের বৈপ্লবিক পরিবর্তন...
5 গ্যালিলিও গ্যালিলি, আইজ্যাক নিউটন ও...
6 শারীরস্থান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বৈজ্ঞান...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

ভৌগোলিক আবিষ্কারের পটভূমি ও নৌপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক অগ্রগতি

১. ভৌগোলিক আবিষ্কারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অনুঘটক

প্রাচীন ও মধ্যযুগে ইউরোপীয়দের সাথে প্রাচ্যের (ভারত, চিন ও মসলা দ্বীপপুঞ্জ) বাণিজ্য মূলত সিল্ক রুট এবং লোহিত সাগর-ভূমধ্যসাগরীয় জলপথের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্তু পঞ্চদশ শতকে সংঘটিত কিছু ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এই বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে:

  • ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপলের পতন: ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল দখল করেন। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার প্রাচীন বাণিজ্য পথ তুর্কিদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং ইউরোপীয় খ্রিস্টান বণিকদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়।
  • ভেনিস ও জেনোয়ার একচেটিয়া আধিপত্য: ইতালীয় নগররাষ্ট্র ভেনিস ও জেনোয়া মুসলিম শাসকদের সাথে মৈত্রী চুক্তি করে প্রাচ্যের মূল্যবান মসলা (গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, জায়ফল) ও রেশমের একচেটিয়া বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছিল। উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে মসলা ছিল শীতকালে মাংস সংরক্ষণ এবং ওষুধের জন্য অপরিহার্য।
  • আটলান্টিক উপকূলবর্তী দেশগুলির বাধ্যবাধকতা: স্পেন ও পর্তুগাল ছিল ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য থেকে ভৌগোলিকভাবে দূরে। তাই ভেনিসীয় ও মুসলিম মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি প্রাচ্যে পৌঁছানোর জন্য তারা বিকল্প সামুদ্রিক পথ অনুসন্ধানে বাধ্য হয়।
  • 'ঈশ্বর, স্বর্ণ ও গৌরব' (God, Gold, and Glory):
    • স্বর্ণ (Gold): রাজকোষ সমৃদ্ধ করার জন্য মূল্যবান ধাতু (স্বর্ণ ও রৌপ্য) এবং প্রাচ্যের লাভজনক মসলা বাণিজ্যের দখল।
    • ঈশ্বর (God): ক্রুসেডীয় মানসিকতা ও পোপের নির্দেশে নতুন ভূখণ্ডে রোমান ক্যাথলিক ধর্ম প্রচার।
    • গৌরব (Glory): সদ্য শক্তিশালী হওয়া রাজতন্ত্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নাবিকদের বীরত্বগাথা।
২. নৌপ্রযুক্তির অগ্রগতি ও যুবরাজ হেনরি দ্য নেভিগেটর

পঞ্চদশ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় দূরপাল্লার সমুদ্রাভিযানকে সম্ভব করে তুলেছিল:

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন উৎস ও কার্যপ্রণালী নৌযাত্রায় ঐতিহাসিক গুরুত্ব
চৌম্বকীয় কম্পাস (Magnetic Compass) চিনে উদ্ভাবিত; আরব বণিকদের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে প্রসারিত; ৩২-বিন্দুর কম্পাস রোজ যুক্ত করা হয়। খোলা সমুদ্রে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও জাহাজকে সঠিক দিক ও গতিমুখ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অ্যাস্ট্রোলেব ও কোয়াড্রান্ট (Astrolabe & Quadrant) গ্রিক ও আরব জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিমার্জিত সামুদ্রিক অ্যাস্ট্রোলেব। ধ্রুবতারা বা দুপুরের সূর্যের কৌণিক উচ্চতা পরিমাপ করে জাহাজের অক্ষাংশ (Latitude) নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
ক্যারাভেল জাহাজ (Caravel) পর্তুগিজ জাহাজ নির্মাতাদের দ্বারা তৈরি হালকা ও গভীর কাঠামোর জাহাজ; এতে আরব ত্রিভুজাকার ল্যাটিন পাল ব্যবহৃত হয়। বাতাসের প্রতিকূলেও এঁকেবেঁকে (Tacking) জাহাজ চালাতে সক্ষম; হালকা খসড়ার কারণে অজানা উপকূলে অন্বেষণের উপযোগী।
পোর্টোলান চার্ট (Portolan Charts) কম্পাসের দিকরেখা সংবলিত মধ্যযুগীয় নিখুঁত উপকূলীয় মানচিত্র। উপকূলবর্তী বন্দর এবং নিরাপদ নোঙর ফেলার স্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটর (১৩৯৪–১৪৬০): পর্তুগিজ রাজা প্রথম জনের তৃতীয় পুত্র হেনরি সাগরেস (Sagres) অন্তরীপে একটি নৌ-গবেষণাগার ও মানমন্দির স্থাপন করেন। তিনি সারা ইউরোপ থেকে নাবিক, জ্যোতির্বিদ, মানচিত্রকার ও জাহাজ নির্মাতাদের একত্র করেন এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল অভিমুখে একের পর এক নৌ-অভিযান পাঠান, যা পর্তুগালকে সমুদ্রাভিযানের শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

প্রধান সামুদ্রিক অভিযানসমূহ ও পৃথিবী বিভাজনের চুক্তি

১. পর্তুগিজ ও স্পেনীয় ঐতিহাসিক সমুদ্রাভিযান

১৪৮৮ থেকে ১৫২২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপীয় নাবিকদের দুঃসাহসিক অভিযান বিশ্বের ভৌগোলিক মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দেয়:

  • বার্তোলোমিউ ডিয়াজ (১৪৮৮): পর্তুগিজ রাজা দ্বিতীয় জনের নির্দেশে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে অগ্রসর হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণতম প্রান্তে পৌঁছান। তিনি এই প্রান্তের নাম দেন 'ঝড়ের অন্তরীপ' (Cape of Storms), যা রাজা পরবর্তীতে উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope) নাম দেন, কারণ এটি ভারত মহাসাগরে প্রবেশের নিশ্চিত আশা তৈরি করেছিল।
  • ক্রিস্টোফার কলম্বাস (১৪৯২): জেনোয়ার নাবিক কলম্বাস স্পেনের রানি ইসাবেলা ও রাজা ফার্দিনান্দের পৃষ্ঠপোষকতায় আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে পশ্চিমে অগ্রসর হন। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর তিনি বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গুয়ানাহানি (সান সালভাডর)-তে পৌঁছান। তিনি এটিকে ভারত মনে করে স্থানীয়দের 'রেড ইন্ডিয়ান' আখ্যা দেন। তিনি মোট চারটি অভিযান পরিচালনা করেন।
  • ভাস্কো দা গামা (১৪৯৭–১৪৯৮): পর্তুগিজ নৌবহর নিয়ে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে গুজরাটি নাবিক আহমেদ ইবনে মাজিদের সহায়তায় ১৪৯৮ সালের ২০ মে ভারতের মালাবার উপকূলের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন। স্থানীয় হিন্দু শাসক জামোরিনের দরবারে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রাচ্যের সাথে ইউরোপের সরাসরি সামুদ্রিক বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেন। এই অভিযানের মসলা বিক্রি করে ব্যয়ের ৬০ গুণ লাভ হয়।
  • ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান ও সেবাস্তিয়ান এলকানো (১৫১৯–১৫২২): স্পেনের পতাকাতলে পাঁচটি জাহাজ নিয়ে ম্যাগেলান দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তের প্রণালী (ম্যাগেলান প্রণালী) অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করেন। ১৫২১ সালে ফিলিপাইনের মাকটান দ্বীপে ম্যাগেলান নিহত হলে বাস্ক নাবিক জুয়ান সেবাস্তিয়ান এলকানো অবশিষ্ট জাহাজ ভিক্টোরিয়া নিয়ে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ১৫২২ সালে স্পেনে ফেরেন। এটি ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম বিশ্ব জল-পরिक्रमा, যা পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করে।
২. বিশ্ব বাণিজ্যের কর্তৃত্ব ভাগাভাগি: পোপের মধ্যস্থতা ও চুক্তি

নতুন আবিষ্কৃত সমুদ্রপথ ও ভূখণ্ডের অধিকার নিয়ে স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে পোপের হস্তক্ষেপে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়:

চুক্তির নাম বছর ও মধ্যস্থতাকারী মূল সীমানা নির্ধারণ
তোর্দেসিলাসের চুক্তি (Treaty of Tordesillas) ১৪৯৪ (পোপ ষষ্ঠ আলেকজান্ডারের নীতি অনুসারে) কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ থেকে ৩৭০ লিগ পশ্চিমে একটি কল্পিত উত্তর-দক্ষিণ মধ্যরেখা টানা হয়। রেখার পশ্চিমের সমস্ত নতুন আবিষ্কৃত ভূখণ্ড স্পেনের এবং পূর্বের ভূখণ্ড পর্তুগালের অধীন বলে গণ্য হয়। এই কারণে ১৫০০ সালে কাব্রাল কর্তৃক আবিষ্কৃত ব্রাজিল পর্তুগালের অধীনে আসে।
সারাগোসার চুক্তি (Treaty of Zaragoza) ১৫২৯ (সম্রাট পঞ্চম চার্লস ও তৃতীয় জন) প্রশান্ত মহাসাগরে মসলা দ্বীপপুঞ্জ (মালুকু)-এর ২৯৭.৫ লিগ পূর্বে আরেকটি প্রতি-মধ্যরেখা (Anti-meridian) টানা হয়। এতে মসলা দ্বীপপুঞ্জের ওপর পর্তুগালের কর্তৃত্ব এবং ফিলিপাইনের ওপর স্পেনের কর্তৃত্ব স্বীকৃত হয়।

বাণিজ্যিক বিপ্লব ও কলম্বীয় বিনিময়ের বৈশ্বিক প্রভাব

১. বাণিজ্যের কেন্দ্র পরিবর্তন ও আধুনিক পুঁজিবাদের বিকাশ

ভৌগোলিক আবিষ্কার ইউরোপের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ পুনর্গঠিত করে:

  • ভূমধ্যসাগরের গুরুত্ব হ্রাস: ভেনিস, জেনোয়া ও আলেকজান্দ্রিয়ার মতো প্রাচীন বাণিজ্য কেন্দ্রগুলির পতন ঘটে। বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র আটলান্টিক মহাসাগরীয় বন্দরগুলিতে স্থানান্তরিত হয়—লিসবন, সেভিল, অ্যান্টওয়ার্প, আমস্টারডাম এবং লন্ডন।
  • বাণিজ্যিক বিপ্লব (Commercial Revolution): যৌথ মূলধনী কোম্পানি (Joint-Stock Companies) প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬০০) এবং ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওআইসি, ১৬০২)। আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থা (ব্যাংক অব আমস্টারডাম, ১৬০৯), আন্তর্জাতিক ঋণপত্র ও সমুদ্রবীমার সূচনা হয়।
  • মূল্য বিপ্লব (Price Revolution): দক্ষিণ আমেরিকার পোতোসি (বলিভিয়া) ও মেক্সিকোর খনি থেকে বিপুল পরিমাণ রুপো ও সোনা স্পেনে প্রবেশ করে ইউরোপের বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় এবং খাদ্যশস্যের দাম ৪০০% থেকে ৫০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা সামন্ত প্রভুদের ধ্বংস করে উদীয়মান পুঁজিপতি বণিক শ্রেণিকে লাভবান করে।
২. কলম্বীয় বিনিময় (Columbian Exchange) ও জনমিতিক সংকট

ঐতিহাসিক আলফ্রেড ক্রসবি ১৪৯২ সালের পর নতুন বিশ্ব (আমেরিকা) এবং প্রাচীন বিশ্বের (ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা) মধ্যে উদ্ভিদ, প্রাণী, খাদ্য ও রোগের দ্বি-পাক্ষিক আদান-প্রদানকে 'কলম্বীয় বিনিময়' বলে চিহ্নিত করেছেন:

শ্রেণিবিভাগ আমেরিকা থেকে প্রাচীন বিশ্বে (আমেরিকার দান) প্রাচীন বিশ্ব থেকে আমেরিকায় (ইউরেশিয়ার দান)
কৃষিজ শস্য ও খাদ্য আলু, ভুট্টা, টমেটো, মিষ্টি আলু, চিনেবাদাম, কাঁচালঙ্কা, তামাক, কোকো (চকলেট), ভ্যানিলা। গম, যব, চাল, আখ, কফি, কলা, অলিভ, পেঁয়াজ, লেবু।
গৃহপালিত প্রাণী টার্কি পাখি, লামা, আলপাকা। ঘোড়া, গরু, শূকর, ভেড়া, ছাগল, মুরগি।
রোগজীবাণু সিফিলিস (Syphilis)। গুটিবসন্ত (Smallpox), হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া।
জনমিতিক বিপর্যয় ও আটলান্টিক দাস বাণিজ্য: ইউরোপীয়দের নিয়ে আসা গুটিবসন্ত ও হামের বিরুদ্ধে আমেরিকার আদিবাসীদের শরীরে কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল না। ফলে এক শতাব্দীর মধ্যে আদিবাসী জনসংখ্যার ৮০% থেকে ৯০% (কয়েক কোটি মানুষ) মহামারীতে মৃত্যুবরণ করে। আমেরিকায় খনি ও বাগিচা চাষের (আখ, তুলা) শ্রমিকের ঘাটতি মেটাতে ইউরোপীয় বণিকেরা আফ্রিকা থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে দাস হিসেবে আটলান্টিক পাড়ি দিতে বাধ্য করে, যা কুখ্যাত আটলান্টিক ত্রিমুখী দাস বাণিজ্য নামে পরিচিত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের বৈপ্লবিক পরিবর্তন: ভূকেন্দ্রিক থেকে সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব

১. প্রাচীন এরিস্টটল-টলেমীয় ভূকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্বের সীমাবদ্ধতা

ষোড়শ শতকের পূর্বে ইউরোপের সমগ্র মহাজাগতিক ধারণা প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এবং আলেকজান্দ্রিয়ার জ্যোতির্বিদ ক্লদিয়াস টলেমি-র তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যাকে চার্চের ধর্মীয় বিশ্বাসে পরম সত্য হিসেবে গণ্য করা হতো:

  • ভূকেন্দ্রিক মডেল (Geocentric Model): সমগ্র মহাবিশ্বের কেন্দ্রে পৃথিবী স্থির ও গতিহীনভাবে অবস্থিত। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদ, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি এবং স্থির তারামণ্ডলী স্বচ্ছ স্ফটিক গোলকে আবর্তিত হচ্ছে। তার বাইরে রয়েছে ঈশ্বরের আবাসস্থল স্বর্গ।
  • দ্বৈত পদার্থবিদ্যা: চন্দ্রনিম্ন মণ্ডল (পৃথিবী) ছিল অশুদ্ধ, পরিবর্তনশীল ও ক্ষয়িষ্ণু, যা ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ—এই চার উপাদানে গঠিত। পক্ষান্তরে চন্দ্রঊর্ধ্ব স্বর্গীয় জগত ছিল নিখুঁত, চিরন্তন এবং অপরিবর্তনীয় 'পঞ্চম উপাদান' বা ইথার (Quintessence) দ্বারা গঠিত।
  • এপিসাইকেলের জটিলতা: গ্রহগুলির আকাশে পিছিয়ে যাওয়ার গতি (Retrograde Motion) ব্যাখ্যা করার জন্য টলেমিকে অসংখ্য বৃত্তাকার উপবৃত্ত (Epicycles) এবং ইকয়েন্ট (Equant) কল্পনা করতে হয়েছিল, যা গাণিতিকভাবে চরম বিশৃঙ্খল রূপ নিয়েছিল।
২. নিকোলাস কোপার্নিকাস ও সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব (১৫৪৩)

পোলিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩–১৫৪৩) টলেমীয় ব্যবস্থার গাণিতিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। ১৫৪৩ সালে তাঁর মৃত্যুশয্যায় প্রকাশিত হয় যুগান্তকারী গ্রন্থ: De revolutionibus orbium coelestium (অন দ্য রেভোলিউশনস অব দ্য হেভেনলি স্ফিয়ার্স):

  • সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ (Heliocentric Theory): মহাবিশ্বের কেন্দ্রে পৃথিবী নয়, বরং সূর্য স্থিরভাবে অবস্থান করছে।
  • গ্রহের পর্যায়ক্রম: পৃথিবী স্থির নয়; সূর্যকে কেন্দ্র করে দূরত্বের ক্রমানুসারে বুধ, শুক্র, পৃথিবী (চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে), মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি আবর্তিত হচ্ছে।
  • পৃথিবীর দ্বিবিধ গতি: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর দিনে একবার আবর্তন করে (আহ্নিক গতি - দিন ও রাত) এবং সূর্যের চারদিকে বছরে একবার পরিক্রমণ করে (বার্ষিক গতি - ঋতু পরিবর্তন)।
  • পশ্চাদমুখী গতির বাস্তব ব্যাখ্যা: গ্রহগুলির বিপরীত দিকে চলার বিভ্রান্তি ছিল মূলত দ্রুতগামী পৃথিবীর সাপেক্ষে ধীরগতির দূরবর্তী গ্রহগুলিকে দেখার আপেক্ষিক দৃশ্যমান প্রভাব।
৩. টাইকো ব্রাহে ও জোহানেস কেপলার: উপবৃত্তাকার কক্ষপথের সূত্র
জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্রন্থ ও গবেষণা মহাজাগতিক বিপ্লবে অবদান
টাইকো ব্রাহে (১৫৪৬–১৬০১) ডেনিশ জ্যোতির্বিদ; ইউরানিবর্গ মানমন্দিরে দূরবীন ছাড়াই খালি চোখে নিখুঁত মহাজাগতিক পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করেন। ১৫৭২ সালের সুপারনোভা এবং ১৫৭৭ সালের ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ করেন যে স্বর্গীয় মণ্ডল অপরিবর্তনীয় নয় এবং ধূমকেতু স্ফটিক গোলক ভেদ করে যায়।
জোহানেস কেপলার (১৫৭১–১৬৩০) জার্মান গণিতবিদ ও ব্রাহের সহকারী; অ্যাস্ট্রোনমিয়া নোভা (১৬০৯) ও হারমোনিসেস মুন্ডি (১৬১৯)। ব্রাহের মঙ্গল গ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাচীন নিখুঁত বৃত্তাকার কক্ষপথের ভুল ভেঙে গ্রহের গতির ৩টি সূত্র প্রণয়ন করেন।
কেপলারের গ্রহের গতির ৩টি কালজয়ী সূত্র:
  1. প্রথম সূত্র (উপবৃত্তের সূত্র): প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে একটি নাভিতে (Focus) রেখে উপবৃত্তাকার (Elliptical) কক্ষপথে পরিক্রমণ করে।
  2. দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফলের সূত্র): গ্রহ ও সূর্যের সংযোগকারী সরলরেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে (অর্থাৎ সূর্যের কাছে এলে গ্রহের গতি বাড়ে, দূরে গেলে কমে)।
  3. তৃতীয় সূত্র (পর্যায়কালের সূত্র, $T^2 \propto a^3$): যেকোনো গ্রহের সূর্যকে একবার পরিক্রমণের সময়ের বর্গ ($T^2$) সূর্য থেকে তার গড় দূরত্বের ঘনফলের ($a^3$) সমানুপাতিক।

গ্যালিলিও গ্যালিলি, আইজ্যাক নিউটন ও মহাজাগতিক যান্ত্রিক সমাহার

১. গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪–১৬৪২): দূরবীক্ষণ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান

ইতালীয় বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রাচীন কল্পনাভিত্তিক বিজ্ঞানের মূলে কুঠারাঘাত করে প্রত্যক্ষ পরীক্ষামূলক পদ্ধতির সূচনা করেন:

  • দূরবীনের ব্যবহার ও মহাজাগতিক আবিষ্কার (১৬০৯–১৬১০): ১৬০৯ সালে ডাচ চশমা নির্মাতার স্পাইগ্লাস দেখে গ্যালিলিও নিজের ৩০ গুণ শক্তিশালী দূরবীন তৈরি করেন এবং আকাশের দিকে তাক করেন। ১৬১০ সালে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সিডেরিয়াস নানসিয়াস (The Starry Messenger)-এ চারটি যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন:
    1. চাঁদের রুক্ষ পৃষ্ঠদেশ: চাঁদ কোনো মসৃণ নিষ্কলঙ্ক দেবগোলক নয়; এতে পাহাড়, উপত্যকা ও খাদ রয়েছে, অর্থাৎ এটি পৃথিবীর মতোই সাধারণ পদার্থে গঠিত।
    2. বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ: বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণরত চারটি উপগ্রহ (আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড, ক্যালিস্টো) আবিষ্কার করেন, যা প্রমাণ করে মহাবিশ্বের সবকিছু একমাত্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে না।
    3. শুক্র গ্রহের কলা (Phases of Venus): চাঁদের মতোই শুক্র গ্রহের পূর্ণাঙ্গ কলা পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, যা টলেমীয় মডেলে অসম্ভব এবং কেবল কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মডেলেই সম্ভব।
    4. সূর্যকলঙ্ক (Sunspots): সূর্যের গায়ে পরিবর্তনশীল কালো দাগ পর্যবেক্ষণ করে সূর্যের ঘূর্ণন ও অপূর্ণতা প্রমাণ করেন।
  • গতির সূত্র ও জড়তার ধারণা: হেলানো তলে বল গড়িয়ে পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন যে বায়ুর বাধা না থাকলে ভারী ও হালকা সব বস্তু একই ত্বরণে নিচে পড়ে। তিনি জড়তা (Inertia)-র প্রাথমিক সূত্র প্রণয়ন করেন।
  • ইনকুইজিশনের বিচার (১৬৩৩): ১৬৩২ সালে ইতালীয় ভাষায় রচিত ডায়ালগ কনসার্নিং দ্য টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস গ্রন্থে টলেমীয় মতবাদকে ব্যঙ্গ করায় রোমান ক্যাথলিক চার্চের ইনকুইজিশন গ্যালিলিওকে রোমে তলব করে। ১৬৩৩ সালে নির্যাতনের ভয়ে তাঁকে কোপার্নিকাসীয় মতবাদ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয় এবং আমৃত্যু গৃহবন্দি রাখা হয়।
২. স্যার আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২–১৭২৭) ও পদার্থবিদ্যার মহাসমন্বয়

ইংরেজ গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা (১৬৮৭)-এ পার্থিব ও স্বর্গীয় পদার্থবিদ্যাকে এক সমন্বিত গাণিতিক সূত্রে বেঁধে দেন:

নিউটনের মূল ভিত্তি গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক সূত্রাবলী ঐতিহাসিক ও দার্শনিক তাৎপর্য
গতির তিনটি সূত্র ১. জড়তার সূত্র (বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলে)।
২. বলের সূত্র ($F = ma$ - ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক)।
৩. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সূত্র (প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে)।
পৃথিবীর ও মহাকাশের যেকোনো বস্তুর গতির নিখুঁত গাণিতিক ভবিষ্যদ্বাণী সম্ভব করে তোলে।
সার্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা অপর প্রতিটি কণাকে তাদের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক বলে আকর্ষণ করে:
$$F = G rac{m_1 m_2}{r^2}$$
যে অদৃশ্য বলের কারণে গাছ থেকে আপেল মাটিতে পড়ে, ঠিক সেই একই মহাকর্ষ বলের টানে চাঁদ পৃথিবীকে এবং গ্রহগুলি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। স্বর্গ ও মর্ত্যের মধ্যকার এরিস্টটলীয় কৃত্রিম বিভেদ সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়।
ক্যালকুলাস আবিষ্কার গতি এবং বক্ররেখার তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের হার পরিমাপের জন্য লিবনিজের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাস উদ্ভাবন করেন। জ্যোতির্বিদ্যা ও মেকানিক্সের জটিল সমস্যার গাণিতিক সমাধানের নতুন হাতিয়ার তৈরি হয়।
ঘড়ির মতো সুশৃঙ্খল বিশ্ব (Clockwork Universe): নিউটন মহাবিশ্বকে একটি সুবিশাল, সুসংহত ও স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ঘড়ির সাথে তুলনা করেন, যা কিছু অপরিবর্তনীয় প্রাকৃতিক নিয়মে অবিরাম চলছে। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও গণিতের সাহায্যে এই মহাজাগতিক নিয়মকে জানা সম্ভব—এই বিশ্বাস ইউরোপে যুক্তিবাদের যুগ (Age of Reason) তৈরি করে।

শারীরস্থান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিকায়ন

১. চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানব শারীরস্থানে বিপ্লব: ভেসালিয়াস ও হার্ভে

জ্যোতির্বিজ্ঞানের পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানেও প্রাচীন কর্তৃত্বের অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করে প্রত্যক্ষ ব্যবচ্ছেদ ও নিরীক্ষার সূচনা ঘটে:

  • আন্দ্রিয়াস ভেসালিয়াস (১৫১৪–১৫৬৪): ফ্লেমিশ চিকিৎসক ও পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ১৫৪৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দিগন্তকারী গ্রন্থ De humani corporis fabrica (মানবদেহের কাঠামো প্রসঙ্গে)। মধ্যযুগীয় চার্চের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে তিনি নিজে মানব মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করেন এবং প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক গ্যালেনের (যিনি কেবল পশু ব্যবচ্ছেদ করেছিলেন) ২০০টিরও বেশি ভুল সংশোধন করেন। তিনি প্রমাণ করেন মানুষের চোয়াল একটিমাত্র অস্থি দ্বারা গঠিত এবং হৃদপিণ্ডের ভেন্ট্রিকলের মধ্যে কোনো ছিদ্র নেই।
  • উইলিয়াম হার্ভে (১৫৭৮–১৬৫৭): ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লসের চিকিৎসক। ১৬২৮ সালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণা গ্রন্থ ডি মোটু কর্ডিস (De Motu Cordis)-এ তিনি প্রমাণ করেন যে হৃদপিণ্ড একটি পেশিবহুল পাম্পের মতো কাজ করে এবং রক্ত ধমনী ও শিরার মাধ্যমে এক বন্ধ বর্তনীতে অবিরত সারা শরীরে সঞ্চালিত হয়। গ্যালেনের বহু শতাব্দী প্রাচীন 'যকৃতে রক্ত তৈরি ও ক্ষয়প্রাপ্তি'র ভুল তত্ত্ব চূর্ণ হয়ে যায়।
  • রবার্ট হুক ও লিউয়েনহুক: অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে কর্কের কোষে প্রথম 'কোষ' (Cell) প্রত্যক্ষ করেন। অ্যান্থনি ভ্যান লিউয়েনহুক ব্যাকটেরিয়া ও এককোষী অণুজীব আবিষ্কার করেন।
  • রবার্ট বয়েল (১৬২৭–১৬৯১): দ্য স্কেপটিক্যাল কেমিস্ট (১৬৬১) গ্রন্থে অপরিমিত আলকেমির অবসান ঘটিয়ে আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং গ্যাসের চাপ ও আয়তনের সম্পর্কযুক্ত বয়েলের সূত্র ($P_1 V_1 = P_2 V_2$) প্রণয়ন করেন।
২. আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশ: বেকন ও দেকার্ত

আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে দুটি পরিপূরক দার্শনিক পদ্ধতির সমন্বয় ঘটে:

দার্শনিক গ্রন্থ ও পদ্ধতি মূল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১–১৬২৬) নোভাম অর্গানাম (১৬২০)
আরোহী পদ্ধতি ও প্রত্যক্ষবাদ (Inductive Empiricism)
এরিস্টটলের অবরোহী যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সুনিয়ন্ত্রিত পরীক্ষালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণ তত্ত্বে পৌঁছানোর পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন—"জ্ঞানই শক্তি" (Knowledge is Power)।
রেনে দেকার্ত (১৫৯৬–১৬৫০) ডিসকোর্স অন মেথড (১৬৩৭)
অবরোহী যুক্তিবাদ (Deductive Rationalism)
সবকিছুতে সংশয় প্রকাশের মাধ্যমে স্বতঃসিদ্ধ সত্যে পৌঁছানোর ডাক দেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি: "আমি চিন্তা করি, অতএব আমি অস্তিত্বশীল" (Cogito, ergo sum)। তিনি গাণিতিক যুক্তি ও বিশ্লেষণী জ্যামিতির (কার্তেসীয় স্থানাঙ্ক) ভিত্তি স্থাপন করেন।
৩. বিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিকায়ন: বিজ্ঞান সমিতি ও অ্যাকাডেমি

সপ্তদশ শতকে বিজ্ঞানচর্চা ব্যক্তিগত শখের গণ্ডি পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করে:

  • রয়্যাল সোসাইটি অব লন্ডন (প্রতিষ্ঠিত ১৬৬০, সনদ ১৬৬২): দ্বিতীয় চার্লসের পৃষ্ঠপোষকতায় অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে গঠিত হয়। এই সমিতির নীতিবাক্য ছিল Nullius in verba ("কারো মৌখিক কথায় বিশ্বাস করো না")। এটি ১৬৬৫ সালে বিশ্বের প্রথম বৈজ্ঞানিক জার্নাল ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস প্রকাশ করে।
  • অ্যাকাডেমি দে সায়েন্স, প্যারিস (১৬৬৬): চতুর্দশ লুইয়ের অর্থমন্ত্রী কোলবেয়ারের উদ্যোগে ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত বিজ্ঞানীরা মানচিত্রাঙ্কন, নৌবিদ্যা ও সামরিক প্রযুক্তির গবেষণায় যুক্ত হন।

গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিভাষা, সময়কাল ও প্রশাসনিক নীতি

প্রধান সামুদ্রিক আবিষ্কার ও চুক্তির কালপঞ্জি
বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক মাইলফলক (১৫৪৩–১৬৮৭)
পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মৌলিক বৈজ্ঞানিক সূত্রাবলী

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
১৪৫৩ সালের পর আটলান্টিক মহাসাগরীয় দেশগুলির নতুন সমুদ্রপথ অনুসন্ধানের প্রধান ঐতিহাসিক কারণগুলি বিশ্লেষণ করো। (মান: ৪)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদক্ষেপ ১: কনস্টান্টিনোপলের পতন (১৪৫৩) ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল দখল করলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থলবাণিজ্য পথ অটোমান তুর্কিদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পদক্ষেপ ২: তুর্কিদের শুল্ক ও ভেনিসীয় একচেটিয়া বাণিজ্য তুর্কিরা খ্রিস্টান বণিকদের ওপর অত্যধিক শুল্ক আরোপ করে। একই সাথে ইতালির ভেনিস ও জেনোয়া মুসলিমদের সাথে মৈত্রী চুক্তির মাধ্যমে প্রাচ্যের বহুমূল্য মসলা বাণিজ্যে নিরঙ্কুশ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে সাধারণ ইউরোপীয় বাজারে চড়া দামে পণ্য বিক্রি করছিল। পদক্ষেপ ৩: পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলির বিকল্প পথের তাগিদ পর্তুগাল ও স্পেনের মতো আটলান্টিক তীরবর্তী দেশগুলি ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। মধ্যস্বত্বভোগী ভেনিসীয় ও মুসলিম বণিকদের এড়িয়ে সরাসরি ভারত ও মসলা দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর জন্য তাদের একমাত্র উপায় ছিল আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে বিকল্প সামুদ্রিক পথ খুঁজে বের করা। পদক্ষেপ ৪: 'ঈশ্বর, স্বর্ণ ও গৌরব' (God, Gold, and Glory) নতুন জাতীয়তাবাদী রাজতন্ত্রের রাজকোষ ভরতে মূল্যবান সোনা ও রূপার অনুসন্ধান (Gold), প্রাচ্যে খ্রিস্টধর্মের প্রসার (God), এবং সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে জাতীয় গৌরব অর্জন—এই ত্রিমুখী লক্ষ্য নাবিকদের নতুন দিগন্ত অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করেছিল।
উদাহরণ 2
টলেমীয় ভূকেন্দ্রিক মডেলের সাথে কোপার্নিকাসীয় সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের পার্থক্য নির্দেশ করো। রোমান ক্যাথলিক চার্চ কেন সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের তীব্র বিরোধিতা করেছিল? (মান: ৫)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদক্ষেপ ১: উভয় মডেলের গঠনগত পার্থক্য
  • টলেমীয় ভূকেন্দ্রিক মডেল: মহাবিশ্বের কেন্দ্রে পৃথিবী স্থির ও অনড়; সূর্য, চাঁদ ও গ্রহগুলি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নিখুঁত বৃত্তাকার পথে আবর্তিত হয়। গ্রহের বক্রগতির জন্য জটিল এপিসাইকেল কল্পনা করা হয়েছিল।
  • কোপার্নিকাসীয় সূর্যকেন্দ্রিক মডেল: মহাবিশ্বের কেন্দ্রে সূর্য স্থির; পৃথিবী সহ অন্যান্য গ্রহগুলি সূর্যের চারদিকে ঘোরে। পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘোরে বলেই দিন-রাত হয়।
পদক্ষেপ ২: চার্চের বিরোধিতার কারণসমূহ
  1. বাইবেলের আক্ষরিক ব্যাখ্যার অবমাননা: বাইবেলে উল্লেখ ছিল যে ঈশ্বর পৃথিবীকে ভিত্তির ওপর স্থির রেখেছেন (সাম ১০৪:৫) এবং যোশুয়া সূর্যকে আকাশে স্থির দাঁড় করিয়েছিলেন (যোশুয়া ১০:১২-১৩)। পৃথিবী সচল—এই দাবি ছিল বাইবেলের আক্ষরিক অর্থের পরিপন্থী।
  2. মানবজাতির কেন্দ্রীয় মর্যাদায় আঘাত: খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে মানুষ ছিল ঈশ্বরের সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু। পৃথিবীকে সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান সাধারণ গ্রহে নামিয়ে দিলে ঈশ্বরের মহাবিশ্বে মানুষের অনন্য কেন্দ্রীয় গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।
  3. ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রভাব: লুথারের প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের পর ট্রেন্ট কাউন্সিলে ক্যাথলিক চার্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে চার্চের ব্যাখ্যার বাইরে কেউ শাস্ত্রের অর্থ করতে পারবে না। বিজ্ঞানের সত্য মেনে নেওয়া চার্চের অভ্রান্ততার পক্ষে চরম হুমকি বলে বিবেচিত হয়।
উদাহরণ 3
এরিস্টটলীয় প্রাচীন মহাজাগতিক ধারণা খণ্ডনে জোহানেস কেপলারের গ্রহের গতির সূত্রাবলীর গুরুত্ব আলোচনা করো। (মান: ৪)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদক্ষেপ ১: নিখুঁত বৃত্তাকার গতির অন্ধবিশ্বাস চূর্ণ প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর সময় থেকে ধারণা করা হতো যে স্বর্গীয় গোলকগুলি নিখুঁত, তাই গ্রহগুলির কক্ষপথ নিখুঁত বৃত্তাকার হতে বাধ্য। কোপার্নিকাসও এই বৃত্তাকার গতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। পদক্ষেপ ২: কেপলারের প্রথম সূত্রের বৈপ্লবিক রূপ টাইকো ব্রাহের দশকের পর দশক ধরে সংগৃহীত মঙ্গল গ্রহের তথ্য নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে কেপলার প্রমাণ করেন যে গ্রহের কক্ষপথ বৃত্তাকার নয়, বরং উপবৃত্তাকার (Elliptical) এবং সূর্য একটি নাভিতে অবস্থান করে। এর ফলে টলেমি ও কোপার্নিকাসের সমস্ত জটিল এপিসাইকেলের অবসান ঘটে। পদক্ষেপ ৩: গতির পরিবর্তনশীলতা (দ্বিতীয় সূত্র) কেপলারের দ্বিতীয় সূত্রে প্রমাণিত হয় যে গ্রহগুলি সমগতিতে ঘোরে না; সূর্যের কাছে এলে গতি বাড়ে এবং দূরে গেলে গতি কমে। এর ফলে গ্রহের 'সমবৃত্তীয় গতি'র ধারণা বাতিল হয়। পদক্ষেপ ৪: গাণিতিক সমাহার (তৃতীয় সূত্র) তৃতীয় সূত্রের ($T^2 \propto a^3$) মাধ্যমে সৌরজগতের সমস্ত গ্রহের পর্যায়কাল ও দূরত্বের মধ্যে এক অভিন্ন গাণিতিক নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের ভিত্তি তৈরি করে।
উদাহরণ 4
গ্যালিলিও গ্যালিলির দূরবীন আবিষ্কার কীভাবে প্রাচীন এরিস্টটলীয় বিজ্ঞানের ভিত্তি ধসিয়ে দিয়েছিল? (মান: ৫)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদক্ষেপ ১: গ্যালিলিওর দূরবীনীয় পর্যবেক্ষণ (১৬০৯-১৬১০) গ্যালিলিও তাঁর ৩০ গুণ বিবর্ধন ক্ষমতাসম্পন্ন দূরবীন আকাশের দিকে তাক করে চারটি অকাট্য প্রমাণ পান:
  • চাঁদের পৃষ্ঠদেশ: চাঁদে পর্বত ও খাদ দেখে প্রমাণ করেন যে চাঁদ কোনো নিখুঁত ঐশ্বরিক বস্তু নয়, বরং পৃথিবীর মতোই সাধারণ ও অপূর্ণ জড় পদার্থ।
  • বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ: প্রমাণ করেন যে মহাবিশ্বের সবকিছু একমাত্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে না; বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করেও মহাজাগতিক বস্তু ঘুরছে।
  • শুক্র গ্রহের কলা (Phases of Venus): শুক্র গ্রহ চাঁদের মতো বিভিন্ন দশায় আলোকিত হয়, যা প্রমাণ করে শুক্র অবশ্যই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, পৃথিবীকে নয়।
  • সূর্যকলঙ্ক (Sunspots): সূর্যের গায়ে কালো দাগ দেখে সূর্যের অপূর্ণতা ও ঘূর্ণন প্রমাণ করেন।
পদক্ষেপ ২: পার্থিব ও স্বর্গীয় বিজ্ঞানের কৃত্রিম প্রাচীর ভাঙা এরিস্টটলের পদার্থবিদ্যায় বিশ্বাস করা হতো যে চাঁদের নিচে মর্ত্য জগত ক্ষয়িষ্ণু এবং চাঁদের ওপরে স্বর্গীয় জগত নিখুঁত ও চিরন্তন। গ্যালিলিওর দূরবীন প্রমাণ করে সমগ্র মহাবিশ্ব একই সাধারণ পদার্থে গঠিত এবং একই প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক নিয়মে পরিচালিত।
উদাহরণ 5
স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর 'প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা' (১৬৮৭) গ্রন্থে কীভাবে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের চূড়ান্ত মহাসমন্বয় ঘটিয়েছিলেন? (মান: ৪)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদক্ষেপ ১: পার্থিব গতি ও স্বর্গীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের মিলন নিউটনের আগে গ্যালিলিওর পার্থিব মেকানিক্স (পতনশীল বস্তুর সূত্র ও জড়তা) এবং কেপলারের মহাজাগতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান (উপবৃত্তাকার কক্ষপথ) ছিল দুটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্র। পদক্ষেপ ২: সার্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র প্রণয়ন নিউটন প্রমাণ করেন যে একটি আপেল গাছ থেকে যে মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে মাটিতে পড়ে, সেই একই বল চাঁদকে পৃথিবীর কক্ষপথে এবং গ্রহগুলিকে সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ধরে রেখেছে ($F = G rac{m_1 m_2}{r^2}$)। পদক্ষেপ ৩: গতির তিনটি সার্বজনীন সূত্র ও ক্যালকুলাস তিনি গতির তিনটি সার্বজনীন সূত্র প্রণয়ন করেন এবং ক্যালকুলাস প্রয়োগ করে প্রমাণ করেন যে কেপলারের উপবৃত্তাকার গতি মহাকর্ষ বলেরই অবশ্যম্ভাবী গাণিতিক ফলাফল। পদক্ষেপ ৪: যান্ত্রিক মহাবিশ্বের দর্শন (Clockwork Universe) নিউটন প্রমাণ করেন সমগ্র মহাবিশ্ব যুক্তিগ্রাহ্য ও গাণিতিক নিয়মে পরিচালিত এক বিশাল ঘড়ির মতো। এর ফলে বিজ্ঞান কুসংস্কার ও ধর্মীয় অনুমানের হাত থেকে চিরতরে মুক্ত হয়।
উদাহরণ 6
ফ্রান্সিস বেকন ও রেনে দেকার্তের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। (মান: ৪)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদক্ষেপ ১: ফ্রান্সিস বেকনের আরোহী পদ্ধতি (Inductive Empiricism)
  • পদ্ধতি: নিচ থেকে ওপরে (Bottom-up)। সংবেদনশীল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যবেক্ষণ, সুসংবদ্ধ তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হয়।
  • প্রক্রিয়া: নির্দিষ্ট তথ্য $ ightarrow$ পর্যবেক্ষণ $ ightarrow$ অনুসিদ্ধান্ত $ ightarrow$ সাধারণ বৈজ্ঞানিক নিয়ম।
  • দর্শন: প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও ফলিত প্রযুক্তির বিকাশ ("জ্ঞানই শক্তি")।
পদক্ষেপ ২: রেনে দেকার্তের অবরোহী যুক্তিবাদ (Deductive Rationalism)
  • পদ্ধতি: ওপর থেকে নিচে (Top-down)। সমস্ত বিভ্রান্তিকর ইন্দ্রিয়কে চরম সন্দেহের মাধ্যমে বাদ দিয়ে স্বতঃসিদ্ধ সত্যে উপনীত হওয়া।
  • প্রক্রিয়া: স্বতঃসিদ্ধ সত্য ("Cogito, ergo sum" - আমি চিন্তা করি, অতএব আমি আছি) $ ightarrow$ নিখুঁত গাণিতিক ও যৌক্তিক অবরোহন $ ightarrow$ নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত।
  • দর্শন: বিশুদ্ধ গণিত, বিশ্লেষণী জ্যামিতি ও যান্ত্রিক কার্যকারণ।
পদক্ষেপ ৩: আধুনিক বিজ্ঞানে দুই পদ্ধতির সমন্বয় আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বেকনের পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য সংগ্রহ এবং দেকার্তের গাণিতিক যুক্তিকাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ধারণা করা যে কলম্বাসের আগে সবাই বিশ্বাস করত পৃথিবী সমতল।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রাচীন গ্রিস (এরিস্টটল, ইরাটোস্থেনিস) থেকেই শিক্ষিত ইউরোপীয়রা জানতেন পৃথিবী গোলাকার। কলম্বাসের বিতর্ক ছিল পৃথিবীর পরিধি নিয়ে: কলম্বাস পরিধিকে অনেক ছোট ভেবেছিলেন এবং মনে করেছিলেন স্পেন থেকে পশ্চিমে মাত্র ৩,০০০ মাইল গেলেই এশিয়া পৌঁছানো যাবে।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে কোপার্নিকাস গ্রহের গতি থেকে সমস্ত এপিসাইকেল দূর করেছিলেন।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কোপার্নিকাস প্রাচীন গ্রিক বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন যে গ্রহগুলি নিখুঁত বৃত্তে ঘোরে। তাই পর্যবেক্ষণের সাথে মেলাতে গিয়ে তাঁকে বেশ কিছু ছোট এপিসাইকেল রাখতে হয়েছিল। কেপলার উপবৃত্তাকার কক্ষপথ আবিষ্কার করে সমস্ত এপিসাইকেল চিরতরে দূর করেন।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে গ্যালিলিও নিজে দূরবীন আবিষ্কার করেছিলেন।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

১৬০৮ সালে ডাচ চশমা প্রস্তুতকারক হ্যান্স লিপারশে প্রথম দূরবীন উদ্ভাবন করেন। গ্যালিলিও সেই খবর শুনে নিজে ৩০ গুণ শক্তিশালী দূরবীন তৈরি করেন এবং প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় পদ্ধতিগতভাবে প্রয়োগ করেন।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

দিগন্তের প্রসার: ভৌগোলিক আবিষ্কার ও আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা সামুদ্রিক অভিযান, সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব, পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান ও রয়্যাল সোসাইটি (১৫শ-১৭শ শতক) ১. ভৌগোলিক আবিষ্কার ও সামুদ্রিক অভিযান • ১৪৫৩ কনস্টান্টিনোপল পতন & নতুন নৌপথ অনুসন্ধান • কলম্বাস (১৪৯২ আমেরিকা), ভাস্কো দা গামা (১৪৯৮ ভারত) • ম্যাগেলানের পৃথিবী পরিক্রমা (১৫১৯-১৫২২) • কম্পাস, অ্যাস্ট্রোলেব, ক্যারাভেল & বাণিজ্য বিপ্লব ২. জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক বিপ্লব • কোপার্নিকাস (১৫৪৩): সূর্যকেন্দ্রিক (Heliocentric) তত্ত্ব • কেপলার: গ্রহের উপবৃত্তাকার গতির ৩টি সূত্র • গ্যালিলিও: দূরবীন আবিষ্কার & চার বৃহস্পতি উপগ্রহ • নিউটন (১৬৮৭ প্রিন্সিপিয়া): মহাকর্ষ ও গতির সূত্রাবলী আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের মূল ভিত্তি ভৌগোলিক দিগন্ত বিস্তার ও বাণিজ্যের প্রসার ধর্মতাত্ত্বিক অনুমানের বদলে পর্যবেক্ষণ ও অঙ্ক পরীক্ষামূলক প্রমাণ ও শারীরস্থান বিপ্লব বিজ্ঞান সমিতি ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার প্রাতিষ্ঠানিকায়ন ৩. শারীরস্থান, চিকিৎসা ও রসায়ন বিজ্ঞান • ভেসালিয়াস (১৫৪৩): মানব ব্যবচ্ছেদ & গ্যালেনীয় ভ্রান্তি খণ্ডন • উইলিয়াম হার্ভে (১৬২৮): রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া আবিষ্কার • রবার্ট হুক (১৬৬৫) অণুবীক্ষণ & কোষ (Cell) আবিষ্কার • রবার্ট বয়েল: আধুনিক রসায়ন ও বায়ুর চাপের সূত্র ৪. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ • ফ্রান্সিস বেকন: আরোহী পদ্ধতি (Inductive Empiricism) • রেনে দেকার্ত: অবরোহী যুক্তিবাদ ('Cogito, ergo sum') • রয়্যাল সোসাইটি অব লন্ডন (১৬৬০, 'Nullius in verba') • অ্যাকাডেমি দে সায়েন্স প্যারিস (১৬৬৬) ও ধর্মনিরপেক্ষতা WBCHSE Class 11 History • Expanding Horizons: Origins of Modern Science • TargetExams Academic Standard

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান তুর্কিদের কনস্টান্টিনোপল দখলের পর প্রাচ্যের প্রাচীন বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হলে আটলান্টিক উপকূলবর্তী পর্তুগাল ও স্পেন সরাসরি বিকল্প সমুদ্রপথ খুঁজতে বাধ্য হয়।
মূল বিষয় 2
২. চৌম্বকীয় কম্পাস, অ্যাস্ট্রোলেব, ক্যারাভেল জাহাজ এবং পোর্টোলান চার্টের মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ দূরপাল্লার সামুদ্রিক অভিযানকে বাস্তবায়িত করে তোলে।
মূল বিষয় 3
৩. প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটরের পৃষ্ঠপোষকতায় পর্তুগিজ নাবিকেরা অগ্রসর হয়ে উত্তমাশা অন্তরীপ (ডিয়াজ, ১৪৮৮) এবং কালিকট বন্দরে পৌঁছান (ভাস্কো দা গামা, ১৪৯৮)।
মূল বিষয় 4
৪. ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯২ সালে আমেরিকার উপকূলে পৌঁছান এবং ম্যাগেলান ও এলকানোর নৌবহর (১৫১৯-১৫২২) মানব ইতিহাসের প্রথম বিশ্ব জল-পরিক্রমা সম্পন্ন করে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি প্রমাণ করে।
মূল বিষয় 5
৫. ১৪৯৪ সালের তোর্দেসিলাসের চুক্তি ও ১৫২৯ সালের সারাগোসার চুক্তির মাধ্যমে স্পেন ও পর্তুগাল বিশ্ব বাণিজ্যের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।
মূল বিষয় 6
৬. কলম্বীয় বিনিময়ের মাধ্যমে দুই গোলার্ধের মধ্যে শস্য, প্রাণী ও রোগের ব্যাপক আদান-প্রদান ঘটে; তবে গুটিবসন্তের মহামারীতে আমেরিকার আদিবাসী জনসংখ্যা প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং দাস বাণিজ্য শুরু হয়।
মূল বিষয় 7
৭. নিকোলাস কোপার্নিকাস ১৫৪৩ সালে সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব (Heliocentrism) প্রস্তাব করে এরিস্টটল ও টলেমির দুই হাজার বছরের প্রাচীন ভূকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্বকে নস্যাৎ করেন।
মূল বিষয় 8
৮. জোহানেস কেপলার গ্রহের গতির ৩টি সূত্র প্রণয়ন করে প্রমাণ করেন যে গ্রহগুলি সমগতিতে নয়, বরং উপবৃত্তাকার কক্ষপথে বিভিন্ন গতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
মূল বিষয় 9
৯. গ্যালিলিও গ্যালিলি দূরবীন দিয়ে চাঁদের খাদ, বৃহস্পতির উপগ্রহ ও শুক্রের কলা পর্যবেক্ষণ করে কোপার্নিকাসীয় তত্ত্ব অকাট্যভাবে প্রমাণ করেন, যার কারণে চার্চ ১৬৩৩ সালে তাঁকে বিচার করে বন্দি করে।
মূল বিষয় 10
১০. স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে 'প্রিন্সিপিয়া' গ্রন্থে সার্বজনীন মহাকর্ষ ও গতির সূত্রের মাধ্যমে এক যান্ত্রিক মহাবিশ্বতত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং রয়্যাল সোসাইটি বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
পর্তুগালের ভৌগোলিক আবিষ্কারের যুগে যুবরাজ হেনরি দ্য নেভিগেটরের অবদান কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রিন্স হেনরি সাগরেসে একটি নৌ-গবেষণাগার ও মানমন্দির স্থাপন করে নাবিক, মানচিত্রকার ও জাহাজ নির্মাতাদের প্রশিক্ষণ দেন। তিনি ক্যারাভেল জাহাজের বিকাশ ঘটান এবং পশ্চিম আফ্রিকা অভিমুখে ধারাবাহিক নৌ-অভিযানের অর্থায়ন করে পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
2
কলম্বীয় বিনিময়ের ফলে ইউরোপ কীভাবে লাভবান হয়েছিল এবং আমেরিকার আদিবাসীরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: আমেরিকার আলু ও ভুট্টার মতো পুষ্টিকর শস্যের ফলে ইউরোপের খাদ্য সংকট দূর হয় এবং জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে, ইউরোপীয়দের নিয়ে আসা গুটিবসন্ত ও হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকায় আমেরিকার আদিবাসীদের ৮০-৯০% মানুষ মহামারীতে মৃত্যুবরণ করে।
3
কেপলারের প্রথম সূত্র কেন গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের থেকে এক বিরাট ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: এরিস্টটল থেকে কোপার্নিকাস পর্যন্ত সকলেই বিশ্বাস করতেন যে গ্রহের গতি নিখুঁত ও বৃত্তাকার হতে বাধ্য। কেপলারের প্রথম সূত্র প্রমাণ করে যে কক্ষপথ বৃত্তাকার নয়, বরং উপবৃত্তাকার—যা প্রাচীন বৃত্তাকার অন্ধবিশ্বাসকে চিরতরে ধ্বংস করে।
4
বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ আবিষ্কারের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: টলেমীয় ভূকেন্দ্রিক মডেলে দাবি করা হতো যে মহাবিশ্বের সমস্ত স্বর্গীয় বস্তু একমাত্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই ঘোরে। গ্যালিলিওর বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহের (আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড, ক্যালিস্টো) আবিষ্কার প্রমাণ করে যে পৃথিবীর বাইরে অন্য বস্তুকে কেন্দ্র করেও মহাজাগতিক ঘূর্ণন সম্ভব।
5
লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির নীতিবাক্য 'Nullius in verba'-র বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: 'Nullius in verba' (কারো কথায় বিশ্বাস নয়) নীতিটি ঘোষণা করেছিল যে প্রাচীন পণ্ডিত বা ধর্মগ্রন্থের দোহাই দিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য গ্রহণ করা যাবে না; সত্য প্রমাণের জন্য প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ অপরিহার্য।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।