Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 8 • Computer Science • অধ্যায় 2
আনুমানিক সময়: ৫০ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ডেটাবেসের পরিচিতি

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণির কম্পিউটার সায়েন্স পাঠ্যক্রমের দ্বিতীয় অধ্যায় 'ডেটাবেসের পরিচিতি' (Introduction to Database)-র এই প্রামাণ্য স্টাডি মেটেরিয়ালে স্বাগত। এই মৌলিক অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে কীভাবে কম্পিউটার বিজ্ঞানের জগৎ কাগজের খাতা ও ত্রুটিপূর্ণ ফ্ল্যাট-ফাইল ব্যবস্থা থেকে আধুনিক কেন্দ্রীভূত রিলেশনাল ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (RDBMS) রূপান্তরিত হয়েছে। উপাত্ত (Data) ও অর্থপূর্ণ তথ্যের (Information) পার্থক্য উন্মোচনের পাশাপাশি ডেটা রিডান্ড্যান্সি, ডেটা অসঙ্গতি এবং নিরাপত্তা সংকটের মতো ফ্ল্যাট-ফাইলের সীমাবদ্ধতা বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। অধ্যায়টিতে ১৯৭০ সালে ডঃ এডগার এফ কড প্রবর্তিত রিলেশনাল মডেলের খুঁটিনাটি—সারণি, রেকর্ড বা টাপল, ফিল্ড বা অ্যাট্রিবিউট, ডোমেন এবং ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটির গাণিতিক হিসাব সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার কি (প্রাইমারি কি, ক্যান্ডিডেট কি, অল্টারনেট কি ও ফরেন কি) এবং ডেটা অখণ্ডতার শর্তাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পরিশেষে, মাইক্রোসফট অ্যাক্সেসের প্রধান অবজেক্টসমূহ (Tables, Queries, Forms, Reports), প্রয়োজনীয় ডেটা টাইপ এবং এসকিউএল (SQL)-এর মৌলিক DML কমান্ড (SELECT, INSERT, UPDATE, DELETE)-এর ব্যবহারিক প্রয়োগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শেখানো হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছ কীভাবে তোমার বিদ্যালয় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে এক সেকেন্ডে তোমার পরীক্ষার ফলাফল খুঁজে বের করে? কিংবা কীভাবে ভারতীয় রেলওয়ে লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে একই সাথে টিকিট বুক করতে দেয় অথচ দুজনের জন্য কখনোই একই সিট বরাদ্দ হয় না? আধুনিক বিশ্বের সমস্ত স্মার্টফোন অ্যাপ, অনলাইন ব্যাংকিং এবং সার্চ ইঞ্জিনের পেছনে কাজ করে এক অদৃশ্য চালিকাশক্তি—যার নাম 'ডেটাবেস' (Database)। এটি এমন এক ডিজিটাল ব্যবস্থা যা তথ্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং অনুসন্ধানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষার্থীদের জন্য ডেটাবেস বোঝা অত্যন্ত জরুরি কারণ বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো ডেটা। আধার কার্ড ও ডিজিটাল পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে ইউপিআই লেনদেন, অনলাইন কেনাকাটা এবং হাসপাতালের চিকিৎসা রেকর্ড—সবকিছুই নির্ভুল ও সুরক্ষিত ডেটাবেসের উপর নির্ভরশীল। ডেটাবেস শিক্ষা শিক্ষার্থীদের যুক্তিভিত্তিক চিন্তা, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং সুশৃঙ্খল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। ফ্ল্যাট-ফাইলের তুলনায় কীভাবে রিলেশনাল ডেটাবেস তথ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করে, তথ্যের নির্ভুলতা রক্ষা করে এবং একসাথে একাধিক ব্যবহারকারীকে নিরাপদ কাজের সুযোগ দেয় তা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে দক্ষ সফটওয়্যার নির্মাতাতে পরিণত হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • কম্পিউটারের প্রাথমিক ধারণা, যার মধ্যে ফাইল, ফোল্ডার এবং এক্সটেনশন (.txt, .docx, .xlsx) সম্পর্কে জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত।
  • স্প্রেডশিট, সারি (Row) এবং কলাম (Column)-এর সমন্বয়ে গঠিত সারণিভিত্তিক ডেটার সাথে সাধারণ পরিচিতি।
  • কম্পিউটার সিস্টেমে ইনপুট, প্রসেসিং এবং আউটপুট প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধারণা।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • বাস্তব উদাহরণ সহযোগে কাঁচা উপাত্ত (Data) এবং অর্থপূর্ণ তথ্যের (Information) মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারা।
  • প্রচলিত কাগজের খাতা এবং ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেমের মারাত্মক ত্রুটিসমূহ—যেমন ডেটা রিডান্ড্যান্সি, ইনকনসিস্টেন্সি এবং নিরাপত্তার অভাব বিশ্লেষণ করতে পারা।
  • ডেটাবেস এবং ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)-এর সংজ্ঞা ও কার্যকারিতা এবং MySQL, Oracle ও MS Access-এর মতো সফটওয়্যারের সুবিধা মূল্যায়ন করতে পারা।
  • ডঃ ই এফ কডের রিলেশনাল মডেল (RDBMS) আয়ত্ত করে সারণি (Relation), টাপল (Record), অ্যাট্রিবিউট (Field), ডোমেন, ডিগ্রি এবং কার্ডিনালিটি নির্ভুলভাবে গণনা করতে পারা।
  • প্রাইমারি কি, ক্যান্ডিডেট কি, অল্টারনেট কি এবং ফরেন কি-এর ভূমিকা বুঝে এনটিটি ও রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বজায় রাখতে পারা।
  • মাইক্রোসফট অ্যাক্সেসের চারটি প্রধান অবজেক্ট (Tables, Queries, Forms, Reports) চিহ্নিত করে সঠিক ডেটা টাইপ নির্বাচন করতে পারা।
  • এসকিউএল কমান্ডকে DDL ও DML-এ শ্রেণিবদ্ধ করা এবং SELECT, INSERT, UPDATE ও DELETE কমান্ড ব্যবহার করে সঠিক কোয়েরি লিখতে পারা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 অধ্যায় ১: ডেটা ব্যবস্থাপনার বিবর্তন...
2 অধ্যায় ২: ডেটাবেস ও ডিবিএমএস আর্কিট...
3 অধ্যায় ৩: ডঃ ই এফ কডের রিলেশনাল মডে...
4 অধ্যায় ৪: রিলেশনাল ডেটাবেসে কি (Key...
5 অধ্যায় ৫: এমএস অ্যাক্সেস ও এসকিউএল...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

অধ্যায় ১: ডেটা ব্যবস্থাপনার বিবর্তন: ডেটা বনাম তথ্য ও ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা

১.১ উপাত্ত (Data) এবং তথ্য (Information)-এর ধারণা

কম্পিউটার বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো কাঁচা উপাত্ত এবং প্রক্রিয়াজাত তথ্যের পার্থক্য অনুধাবন করা:

  • উপাত্ত বা ডেটা (Data): কোনো পর্যবেক্ষণ, পরিমাপ বা নিরীক্ষণের মাধ্যমে সংগৃহীত কাঁচা, অসংগঠিত, এলোমেলো এবং প্রক্রিয়াবিহীন বাস্তব সত্য বা সংখ্যাকে ডেটা বলা হয়। নিজস্বভাবে কোনো ডেটার অর্থপূর্ণ প্রেক্ষাপট থাকে না এবং এর দ্বারা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নয়। যেমন: ৯৫, ৮৮, ৭৬, 'প্রিয়া', ৮—এগুলি শুধুই কিছু বিচ্ছিন্ন মান। এগুলি কোনো নম্বর, রোল নম্বর নাকি ঘরের নম্বর তা বোঝার উপায় নেই।
  • তথ্য বা ইনফরমেশন (Information): যখন কাঁচা ডেটাকে সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণ (Processing), বাছাই (Filtering) ও বিন্যস্ত করা হয় এবং তা অর্থপূর্ণ রূপ লাভ করে, তখন তাকে তথ্য বলা হয়। উপরোক্ত মানগুলিকে সাজালে যখন পাই: "অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়া গণিতে ৯৫, বিজ্ঞানে ৮৮ এবং ইংরেজিতে ৭৬ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং 'A+' গ্রেড লাভ করেছে"—তখন তা একটি অর্থপূর্ণ তথ্যে (রেজাল্ট কার্ড) পরিণত হয়।
ডেটা প্রসেসিং পাইপলাইন:

কাঁচা ডেটা (ইনপুট) → প্রক্রিয়াকরণ (গণনা, বাছাই ও সাজানো) → অর্থপূর্ণ তথ্য (আউটপুট) → সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

১.২ চিরাচরিত কাগজের খাতা ও ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেম

আধুনিক ডেটাবেস আবিষ্কারের পূর্বে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাগজের খাতা বা লেজার বইতে হিসেব রাখা হতো। কম্পিউটার আসার পর প্রতিটি বিভাগ আলাদা আলাদা ফ্ল্যাট-ফাইল (যেমন টেক্সট ফাইল বা এক্সেল স্প্রেডশিট) সংরক্ষণ করত এবং সেগুলি পড়ার জন্য নিজস্ব আলাদা প্রোগ্রাম তৈরি করত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে এই ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটিগুলি প্রকাশ পেতে থাকে।

১.৩ ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেমের প্রধান সীমাবদ্ধতাসমূহ

ফ্ল্যাট-ফাইল ব্যবস্থার প্রধান সাতটি মারাত্মক দুর্বলতা নিম্নে আলোচিত হলো:

  1. ডেটা রিডান্ড্যান্সি (Data Redundancy - উপাত্তের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি): ফ্ল্যাট-ফাইল ব্যবস্থায় একই তথ্য বিভিন্ন ফাইলে বারবার সংরক্ষিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর নাম, অভিভাবকের ফোন নম্বর ও ঠিকানা—অ্যাডমিশন ফাইল, লাইব্রেরি ফাইল, ফি জমার ফাইল এবং স্পোর্টস ফাইলে আলাদাভাবে জমা রাখা হতো। এতে মেমোরির মারাত্মক অপচয় হতো।
  2. ডেটা ইনকনসিস্টেন্সি (Data Inconsistency - উপাত্তের অসঙ্গতি): রিডান্ড্যান্সির কারণেই তথ্যের অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী তার বাড়ির ঠিকানা পরিবর্তন করে এবং শুধু শ্রেণি শিক্ষকের কাছে তা আপডেট করে, তবে ফি বিভাগে পুরনো ঠিকানাই থেকে যায়। এর ফলে বিভিন্ন ফাইলে একই শিক্ষার্থীর পরস্পরবিরোধী তথ্য দেখা যায়।
  3. তথ্য অনুসন্ধানে জটিলতা (Difficulty in Accessing Data): ফাইল সিস্টেমে হঠাৎ কোনো বিশেষ তথ্য খোঁজার সহজ উপায় ছিল না। প্রধান শিক্ষক যদি দেখতে চান যে "অষ্টম শ্রেণির কোন কোন শিক্ষার্থী কম্পিউটারে ৯০-এর বেশি পেয়েছে এবং কলকাতায় বাস করে", তবে হাজার হাজার পৃষ্ঠার ফাইল হাতড়ে দেখতে হতো অথবা কোনো সফটওয়্যার ডেভেলপারকে ডেকে নতুন প্রোগ্রাম কোড লিখতে হতো।
  4. ডেটা আইসোলেশন ও প্রোগ্রামের উপর নির্ভরশীলতা: ফ্ল্যাট-ফাইলে সংরক্ষিত ডেটা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ থাকে। যদি কোনো কারণে ফাইলের গঠন কিছুটা বদলানো হয় (যেমন ফোন নম্বরের ঘর ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ ডিজিট করা হলো), তবে সেই ফাইলের সাথে যুক্ত সমস্ত কম্পিউটার প্রোগ্রাম বিকল হয়ে যেত।
  5. নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার অভাব: ফাইল সিস্টেমে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যে ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যে কেউ ফাইলটি খুললে শিক্ষার্থীর গোপন পরীক্ষার নম্বর, পরিবারের আয় বা চিকিৎসাজনিত স্পর্শকাতর তথ্য সবই দেখে ফেলতে পারত।
  6. যৌথ ব্যবহারের সমস্যা (Concurrent Access Anomalies): নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যখন একাধিক ব্যবহারকারী একই সাথে একটি ফাইল খোলার ও বদলানোর চেষ্টা করে, তখন ডেটা নষ্ট হয়ে যায়। যেমন দুই জন কর্মচারী একই সাথে একজনের ফি জমা নেওয়ার চেষ্টা করলে একজনের আপডেট অন্যজনের আপডেটের উপর চেপে মুছে যেত।
  7. ডেটা অখণ্ডতার অভাব (Lack of Data Integrity Constraints): ফাইল সিস্টেমে ভুল তথ্য দেওয়া আটকাতে স্বয়ংক্রিয় কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অসাবধানতাবশত বয়স হিসেবে ঋণাত্মক সংখ্যা (-১৫) বা রোলের জায়গায় নাম লিখে ফেললেও ফাইল সিস্টেম তা গ্রহণ করে নিত।

অধ্যায় ২: ডেটাবেস ও ডিবিএমএস আর্কিটেকচার: ধারণা, সুবিধাসমূহ এবং শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার

২.১ ডেটাবেস (Database) কী?

ডেটাবেস (Database) হলো পরস্পরের সাথে যৌক্তিকভাবে সম্পর্কযুক্ত তথ্যের এক সুসংগঠিত, সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সংগ্রহ, যা কম্পিউটারে বৈদ্যুতিনভাবে এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয় যাতে অতি দ্রুত ও নিরাপদে তথ্য খোঁজা, সংযোজন, পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এলোমেলো নথিপত্রের বিপরীতে ডেটাবেসের প্রতিটি উপাদানের মধ্যে একটি যৌক্তিক সংযোগ থাকে—যেমন একজন শিক্ষার্থীর সাথে তার পরীক্ষার নম্বর, লাইব্রেরি থেকে নেওয়া বই এবং উপস্থিতির দিনের সরাসরি সংযোগ।

২.২ ডিবিএমএস (Database Management System) কী?

ডিবিএমএস (DBMS) হলো একটি বিশেষ সিস্টেম সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারী, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম এবং কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে সংরক্ষিত ডেটাবেসের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে। এই সফটওয়্যার ডেটাবেস তৈরি করা, ডেটার গঠন নির্ধারণ করা, রেকর্ড ঢোকানো, অনুসন্ধান (Query) চালানো এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার সমস্ত সুবিধা প্রদান করে।

DBMS আর্কিটেকচার স্তর:

ব্যবহারকারী / অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ↔ DBMS ইঞ্জিন (কোয়েরি প্রসেসর, সিকিউরিটি ও ইন্টিগ্রিটি ম্যানেজার) ↔ অপারেটিং সিস্টেম ফাইল ম্যানেজার ↔ হার্ডডিস্কে ডেটাবেস স্টোরেজ।

২.৩ আধুনিক বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত শীর্ষস্থানীয় DBMS সফটওয়্যার

কাজের পরিধি এবং জটিলতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের DBMS ব্যবহৃত হয়:

DBMS সফটওয়্যার ধরন ও বিভাগ ব্যবহার ক্ষেত্র ও প্রয়োগ
MySQL ওপেন সোর্স RDBMS ওয়েবসাইট, ই-কমার্স পোর্টাল, ওয়ার্ডপ্রেস এবং আধুনিক ক্লাউড ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মেরুদণ্ড।
Oracle Database বাণিজ্যিক এন্টারপ্রাইজ RDBMS বিশাল বাণিজ্যিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক ব্যাংক, টেলিকম সেক্টর ও এয়ারলাইন্স বুকিং গ্রিড।
Microsoft SQL Server বাণিজ্যিক এন্টারপ্রাইজ RDBMS কর্পোরেট আইটি পরিবেশ, আর্থিক অডিট ব্যবস্থা এবং উইন্ডোজ ক্লাউড অবকাঠামো।
PostgreSQL উন্নত ওপেন সোর্স ORDBMS উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যানালিটিক্যাল প্রসেসিং, ভৌগোলিক মানচিত্রায়ন (GIS) ও ফিনটেক।
Microsoft Access ডেস্কটপ GUI RDBMS বিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ, ছোট ব্যবসায়িক ইনভেন্টরি ও একক ব্যবহারকারীর কাজ।
SQLite এমবেডেড RDBMS মোবাইল অ্যাপস (Android/iOS), ওয়েব ব্রাউজারের ইতিহাস ও কুকি সংরক্ষণ এবং স্মার্ট ডিভাইস।
২.৪ ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)-এর প্রধান সুবিধাসমূহ
  • ডেটার অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি হ্রাস (Controlling Redundancy): ডেটা একটি মূল টেবিলে কেন্দ্রীভূতভাবে থাকে। ফলে একাধিক জায়গায় একই তথ্য আলাদা করে টাইপ করতে হয় না, স্টোরেজ বাঁচে।
  • ডেটার ধারাবাহিকতা বা সঙ্গতি বজায় রাখা (Data Consistency): ডেটা এক জায়গায় থাকার কারণে শিক্ষার্থীর ঠিকানা বদলালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগেই তা প্রতিফলিত হয়, বিরোধ মেটে।
  • ডেটা শেয়ারিং বা যৌথ ব্যবহার (Data Sharing): অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে একই সময়ে নিরাপদে ডেটাবেস ব্যবহার করতে পারেন।
  • মান বা স্ট্যান্ডার্ডের প্রয়োগ (Enforcing Standards): ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (DBA) তথ্যের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করে দেন—যেমন তারিখের ফরম্যাট (YYYY-MM-DD), পিন কোডের মাপ ইত্যাদি।
  • ডেটা অখণ্ডতা রক্ষা (Data Integrity): ভুল তথ্য প্রবেশ আটকাতে স্বয়ংক্রিয় নিয়ম প্রযোজ্য থাকে। যেমন বয়স ঋণাত্মক বা প্রাইমারি কি ফাঁকা রাখা কখনোই সম্ভব নয়।
  • দৃঢ় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ (Robust Security): কার কী দেখার অধিকার আছে তা নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। যেমন ছাত্ররা শুধু নিজেদের নম্বর দেখতে পাবে, বদলাতে পারবে না।
  • স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার (Backup and Recovery): আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা কম্পিউটার ক্র্যাশ করলেও ট্রানজ্যাকশন লগের সাহায্যে ডেটাবেসের পূর্বের নিখুঁত অবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।
  • প্রোগ্রাম ও ডেটার স্বাধীনতা (Data Independence): ডেটাবেসের অভ্যন্তরীণ গঠন বা কলাম পরিবর্তন করলেও ব্যবহারকারীর মূল অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম নষ্ট হয় না।

অধ্যায় ৩: ডঃ ই এফ কডের রিলেশনাল মডেল (RDBMS): টেবিল, টাপল, অ্যাট্রিবিউট, ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটি

৩.১ ডঃ এডগার এফ কড ও রিলেশনাল মডেল (১৯৭০)

১৯৭০ সালে আইবিএম (IBM) সংস্থায় কর্মরত বিশিষ্ট ব্রিটিশ গণিতবিদ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডঃ এডগার এফ কড (Dr. Edgar F. Codd বা E.F. Codd) একটি ঐতিহাসিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এর আগে ডেটাবেসে তথ্য রাখা হতো জটিল গাছের মতো শাখা-প্রশাখা (Hierarchical) বা জালের মতো জটিল নেটওয়ার্কে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব ছিল।

ডঃ কড একটি অত্যন্ত বৈপ্লবিক ও সহজ ধারণার অবতারণা করেন: সমস্ত ডেটাকে সাধারণ দ্বিমাত্রিক ছক বা সারণির (2D Tables) মাধ্যমে প্রকাশ করা, যার নাম দেওয়া হয় 'রিলেশন' (Relation)। এই রিলেশনাল মডেলের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সমস্ত আধুনিক ডেটাবেসকে RDBMS (Relational Database Management System) বলা হয়।

৩.২ রিলেশনাল মডেলের মূল পরিভাষাসমূহ

RDBMS-এর গাণিতিক ও ব্যবহারিক ধারণা বুঝতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মুখস্থ রাখা প্রয়োজন:

  • টেবিল বা রিলেশন (Table / Relation): দ্বিমাত্রিক সারি (Rows) এবং কলামের (Columns) সমন্বয়ে গঠিত গ্রিড, যা কোনো নির্দিষ্ট সত্তা (Entity - যেমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বই) সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। ডেটাবেসের প্রতিটি টেবিলের একটি অনন্য নাম থাকে।
  • রেকর্ড বা টাপল (Record / Tuple / Row): কোনো সারণির প্রতিটি অনুভূমিক সারিকে রেকর্ড বা টাপল (Tuple) বলা হয়। একটি টাপলে কোনো একক সত্তার সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত থাকে। যেমন: [১০১, 'অনন্যা সেন', ১৪, 'A+'] একটি ছাত্রীর সম্পূর্ণ রেকর্ড।
  • ফিল্ড বা অ্যাট্রিবিউট (Field / Attribute / Column): সারণির প্রতিটি উল্লম্ব কলামকে ফিল্ড বা অ্যাট্রিবিউট (Attribute) বলে। এটি সত্তার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়কে নির্দেশ করে। যেমন: Roll_No, Student_Name, City, Marks।
  • ডোমেন (Domain): কোনো অ্যাট্রিবিউটে সম্ভাব্য যে সমস্ত বৈধ ও অনুমোদিত পারমাণবিক (Atomic) মান রাখা যেতে পারে, তাদের সম্পূর্ণ সেটকে ডোমেন বলে। যেমন: Grade অ্যাট্রিবিউটের ডোমেন হতে পারে কেবল {'A', 'B', 'C', 'D', 'F'}। এর বাইরে কোনো মান দিলে ডেটাবেস তা গ্রহণ করবে না।
৩.৩ ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটি: সারণির পরিমাপ

বোর্ড পরীক্ষায় প্রায় প্রতি বছর ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটির সংজ্ঞা এবং গণনা সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে:

সোনালী সূত্রদ্বয়:
  • ডিগ্রি (Degree): একটি সারণিতে বা রিলেশনে থাকা কলাম বা অ্যাট্রিবিউটের মোট সংখ্যাকে ডিগ্রি বলে।
  • কার্ডিনালিটি (Cardinality): একটি সারণিতে থাকা সারি, রেকর্ড বা টাপলের মোট সংখ্যাকে কার্ডিনালিটি বলে।

নিচের STUDENTS টেবিলটি লক্ষ্য করো:

Roll_No (PK) Student_Name Class City Marks
১০১ অনন্যা সেন ৮ কলকাতা ৯৪
১০২ সৌরভ রায় ৮ হাওড়া ৮৮
১০৩ তন্ময় ঘোষ ৮ বর্ধমান ৯১
১০৪ রাহুল মণ্ডল ৮ শিলিগুড়ি ৮২

STUDENTS টেবিলটির বিশ্লেষণ:

  • টেবিলে মোট ৫টি কলাম রয়েছে (Roll_No, Student_Name, Class, City, Marks)। সুতরাং এর ডিগ্রি (Degree) = ৫।
  • টেবিলে শিক্ষার্থীদের মোট ৪টি সারি বা রেকর্ড রয়েছে। সুতরাং এর কার্ডিনালিটি (Cardinality) = ৪।
  • পরীক্ষার টিপস: টেবিলে যদি ২ জন নতুন ছাত্র ভর্তি হয় (২টি সারি যোগ হলো), তবে ডিগ্রি ৫-ই থাকবে কিন্তু কার্ডিনালিটি বেড়ে হবে ৪ + ২ = ৬। আর যদি নতুন একটি কলাম Grade যোগ করা হয়, তবে ডিগ্রি হবে ৫ + ১ = ৬।

অধ্যায় ৪: রিলেশনাল ডেটাবেসে কি (Keys) ও অখণ্ডতা: প্রাইমারি কি, ক্যান্ডিডেট কি, ফরেন কি ও রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি

৪.১ ডেটাবেসে 'কি' (Keys)-এর প্রয়োজনীয়তা কী?

বাস্তব জীবনে একটি শ্রেণিকক্ষে একই নামের একাধিক শিক্ষার্থী থাকতে পারে (যেমন দুজন 'রাহুল সেন')। কেবল নাম দিয়ে তাদের চিহ্নিত করতে গেলে পরীক্ষার নম্বর বা অন্যান্য কাজে মারাত্মক ভুল হবে। রিলেশনাল ডেটাবেসে প্রতিটি সারিকে অনন্যভাবে আলাদা করার জন্য এবং বিভিন্ন টেবিলের মধ্যে নির্ভুল সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য কি (Keys বা চাবি) ব্যবহার করা অপরিহার্য।

৪.২ প্রাইমারি কি (Primary Key - PK)

প্রাইমারি কি (Primary Key) হলো কোনো টেবিলের এমন একটি নির্দিষ্ট ফিল্ড বা অ্যাট্রিবিউট, যার মান সারণির প্রতিটি রেকর্ডকে বা টাপলকে স্বতন্ত্র ও অনন্যভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম।

প্রাইমারি কি-র অলঙ্ঘনীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. অনন্যতা (Uniqueness): প্রাইমারি কি-র মান কখনোই টেবিলে পুনরাবৃত্ত হতে পারে না। প্রতিটি সারির জন্য এর মান আলাদা হতে হবে।
  2. অশূন্যতা (Not Null): প্রাইমারি কি-র ঘর কখনো খালি বা NULL রাখা যায় না। যেহেতু এটিই কোনো রেকর্ডের মূল পরিচয়, তাই ফাঁকা প্রাইমারি কি মানে সেই তথ্যের কোনো অস্তিত্ব নেই। একে এনটিটি ইন্টিগ্রিটি (Entity Integrity) নীতি বলা হয়।
  3. অপরিবর্তনশীলতা: এই মান ঘনঘন বদলানো উচিত নয়। যেমন: Student_ID, Admission_No, Aadhaar_No, Voter_ID বা বইয়ের ISBN।
৪.৩ ক্যান্ডিডেট কি এবং অল্টারনেট কি

একটি টেবিলে একাধিক ফিল্ড প্রাইমারি কি হওয়ার যোগ্য হতে পারে:

  • ক্যান্ডিডেট কি (Candidate Key): একটি সারণির যে সমস্ত ফিল্ডের প্রতিটি রেকর্ডকে অনন্যভাবে চিহ্নিত করার সম্পূর্ণ যোগ্যতা থাকে (অর্থাৎ যেগুলি ইউনিক এবং নট নাল), তাদের প্রত্যেকটিকে ক্যান্ডিডেট কি বলে। যেমন একটি ছাত্রের ফাইলে Admission_No এবং Aadhaar_No উভয়ই ক্যান্ডিডেট কি।
  • অল্টারনেট কি (Alternate Key): সমস্ত ক্যান্ডিডেট কি-র মধ্য থেকে ডেটাবেস ডিজাইনার যে কোনো একটি ফিল্ডকে 'প্রাইমারি কি' হিসেবে বেছে নেন। বাকি যে ক্যান্ডিডেট কি-গুলি প্রাইমারি কি হতে পারল না, তাদের অল্টারনেট কি (বা সেকেন্ডারি কি) বলা হয়।
কি-এর পারস্পরিক সম্পর্ক সূত্র:

ক্যান্ডিডেট কি = প্রাইমারি কি + অল্টারনেট কি
সুতরাং: অল্টারনেট কি = ক্যান্ডিডেট কি − প্রাইমারি কি

৪.৪ ফরেন কি (Foreign Key - FK) ও রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি

রিলেশনাল ডেটাবেসে তথ্য যাতে বারবার টাইপ করতে না হয়, তার জন্য ডেটাকে একাধিক বিশেষায়িত টেবিলে ভাগ করে সংযোগ স্থাপন করা হয়। এই একাধিক টেবিলকে যুক্ত করার মাধ্যম হলো ফরেন কি (Foreign Key)।

ফরেন কি হলো কোনো চাইল্ড (Child) টেবিলের এমন একটি অ্যাট্রিবিউট, যার মান অন্য কোনো প্যারেন্ট (Parent) টেবিলের প্রাইমারি কি-কে নির্দেশ করে এবং তার মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

প্যারেন্ট টেবিল: Students চাইল্ড টেবিল: Library_Issues
Roll_No [PK] Name Class Issue_ID [PK] Book_Title Roll_No [FK]
১০১ অনন্যা সেন ৮ ISS-01 কম্পিউটার বিজ্ঞান ১০১
১০২ সৌরভ রায় ৮ ISS-02 বাংলার ইতিহাস ১০২

রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির নিয়ম (Referential Integrity): এই নিয়মের কারণে চাইল্ড টেবিলের ফরেন কি-র ঘরে এমন কোনো রোল নম্বর বসানো যাবে না যা প্যারেন্ট টেবিলে আগে থেকে উপস্থিত নেই। আবার প্যারেন্ট টেবিল থেকে কোনো ছাত্রের রেকর্ড হঠাৎ ডিলিট করা যাবে না যদি লাইব্রেরি টেবিলে তার নামে বই ইস্যুর রেকর্ড অবশিষ্ট থাকে। এটি ডেটাবেসকে ভুলভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখে।

অধ্যায় ৫: এমএস অ্যাক্সেস ও এসকিউএল পরিচিতি: ডেটাবেস অবজেক্ট, ডেটা টাইপ ও প্রাথমিক DML কমান্ড

৫.১ মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস (Microsoft Access) পরিচিতি

মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস (MS Access) হলো মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত একটি জনপ্রিয় ডেস্কটপ রিলেশনাল ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। এর সহজ গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসের (GUI) কারণে জটিল কোডিং না জেনেই সাধারণ ব্যবহারকারী সারণি তৈরি, ডেটা এন্ট্রি এবং চমৎকার রিপোর্ট প্রস্তুত করতে পারেন।

৫.২ এমএস অ্যাক্সেসের চারটি প্রধান অবজেক্ট (Objects)

অ্যাক্সেস ডেটাবেসে মূলত ৪টি মূল কাঠামোগত উপাদানের ওপর কাজ পরিচালিত হয়:

  1. টেবিল (Tables): ডেটাবেসের মূল ভিত্তি। এখানে تمام কাঁচা ডেটা সারি (রেকর্ড) এবং কলামে (ফিল্ড) সাজিয়ে স্থায়ীভাবে জমা রাখা হয়। টেবিল ছাড়া ডেটাবেসের অন্য কোনো উপাদান কাজ করতে পারে না।
  2. কোয়েরি (Queries): কোয়েরি হলো ডেটাবেসের কাছে কোনো প্রশ্ন বা অনুরোধ করা। এর সাহায্যে এক বা একাধিক টেবিল থেকে নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী তথ্য খুঁজে বের করা, সাজানো, গণনা করা বা ফিল্টার করা যায়। যেমন: "যেসব ছাত্রীর নম্বর ৮০-র বেশি শুধু তাদের নাম দেখাও।"
  3. ফর্ম (Forms): ফর্ম হলো ব্যবহারকারী-বান্ধব একটি আকর্ষণীয় গ্রাফিক্যাল পর্দা (GUI Window)। বিশাল জটিল টেবিলে সরাসরি তথ্য টাইপ করা কষ্টসাধ্য ও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফর্মের টেক্সট বক্স, বাটন ও তালিকার সাহায্যে সহজেই নতুন তথ্য এন্ট্রি করা এবং বিদ্যমান তথ্য দেখা যায়।
  4. রিপোর্ট (Reports): রিপোর্ট হলো ডেটাবেসের তথ্যকে সাজিয়ে-গুছিয়ে ছাপার উপযোগী (Printable) করে উপস্থাপন করার এক বিশেষ মাধ্যম। যেমন শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট কার্ড, মাসিক ফি জমার রসিদ বা বার্ষিক নিরীক্ষা রিপোর্ট। এটি মূলত একটি রিড-অনলি (Read-Only) আউটপুট।
৫.৩ এমএস অ্যাক্সেসের প্রধান ডেটা টাইপসমূহ

টেবিল ডিজাইনের সময় প্রতিটি ফিল্ডে কী ধরনের তথ্য বসবে তা নির্ধারণ করে দিতে হয়:

ডেটা টাইপ সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা বিবরণ ও বাস্তব উদাহরণ
Short Text সর্বোচ্চ ২৫৫টি অক্ষর শিক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, শহরের নাম ইত্যাদি সাধারণ পাঠ্য।
Long Text (Memo) ১ গিগাবাইট (৬৪,০০০+ অক্ষর) দীর্ঘ মন্তব্য, শিক্ষকের বিশদ মূল্যায়ন বা চিকিৎসকের বিস্তারিত ব্যবস্থাপত্র।
Number ১, ২, ৪ বা ৮ বাইট গাণিতিক সংখ্যা যা দিয়ে হিসাব করা যায়: প্রাপ্ত নম্বর, বয়স, মজুত বইয়ের সংখ্যা।
Date/Time ৮ বাইট তারিখ ও সময়: জন্ম তারিখ (যেমন ১২/০৪/২০১১), ভর্তি হওয়ার দিন।
Currency ৮ বাইট আর্থিক মান যা মুদ্রার চিহ্ন (₹) সহ থাকে: বিদ্যালয়ের বেতন, বেতন স্কেল।
AutoNumber ৪ বাইট (Long Integer) কম্পিউটার নিজ থেকেই ১, ২, ৩ করে ক্রমিক সংখ্যা বসিয়ে দেয়। আদর্শ প্রাইমারি কি।
Yes/No ১ বিট (বুলিয়ান) যৌক্তিক হ্যাঁ/না মান: ফি জমা দেওয়া হয়েছে কি না (Fees_Paid), লাইব্রেরি সদস্য কি না।
Hyperlink ওয়েব লিঙ্ক পাঠ্য ক্লিকযোগ্য ওয়েবসাইট বা ইমেলের ঠিকানা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৫.৪ এসকিউএল (Structured Query Language - SQL) পরিচিতি

SQL (Structured Query Language) হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এমন এক আদর্শ ভাষা যার মাধ্যমে যে কোনো রিলেশনাল ডেটাবেসের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

কাজের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে এসকিউএল কমান্ডকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

  • Data Definition Language (DDL): যে কমান্ডগুলি ডেটাবেসের টেবিল ও কাঠামো তৈরি, পরিমার্জন বা ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: CREATE TABLE, ALTER TABLE, DROP TABLE।
  • Data Manipulation Language (DML): যে কমান্ডগুলি টেবিলের ভেতরের ডেটা বা রেকর্ডসমূহ নিয়ে কাজ করতে, খুঁজতে ও পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়। চারটি মৌলিক DML কমান্ড হলো SELECT, INSERT, UPDATE, এবং DELETE।
৫.৫ অষ্টম শ্রেণির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক DML কমান্ডসমূহ

একটি কাল্পনিক সারণি Students(Roll_No, Name, Class, Marks, Grade)-এর ওপর মৌলিক DML অপারেশনগুলি নিচে দেখানো হলো:

  1. SELECT কমান্ড (তথ্য অনুসন্ধান করা): সারণি থেকে নির্দিষ্ট রেকর্ড খুঁজে বের করতে ব্যবহৃত হয়।
    -- ১: সমস্ত ছাত্রের সব তথ্য প্রদর্শন করো
    SELECT * FROM Students;
    
    -- ২: শুধু 'A' গ্রেড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ও নম্বর দেখাও
    SELECT Name, Marks FROM Students WHERE Grade = 'A';
  2. INSERT কমান্ড (নতুন তথ্য সংযোজন করা): টেবিলে একটি নতুন রেকর্ড ঢোকাতে ব্যবহৃত হয়।
    -- একজন নতুন ছাত্রের রেকর্ড সংযোজন
    INSERT INTO Students (Roll_No, Name, Class, Marks, Grade)
    VALUES (105, 'ঋত্বিক দাস', 8, 92, 'A');
  3. UPDATE কমান্ড (বিদ্যমান তথ্য পরিবর্তন করা): টেবিলে সংরক্ষিত তথ্য সংশোধন করতে ব্যবহৃত হয়।
    -- রোল ১০২-এর নম্বর ও গ্রেড আপডেট করো
    UPDATE Students
    SET Marks = 95, Grade = 'A+'
    WHERE Roll_No = 102;
    সতর্কতা: WHERE শর্তটি অবশ্যই লিখবে! নতুবা ক্লাসের সবার নম্বর বদলে যাবে!
  4. DELETE কমান্ড (রেকর্ড মুছে ফেলা): কোনো রেকর্ড ডিলিট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    -- অন্য স্কুলে চলে যাওয়া ছাত্রের রেকর্ড মুছে ফেলো
    DELETE FROM Students
    WHERE Roll_No = 105;
    সতর্কতা: WHERE না দিলে টেবিলের সমস্ত ছাত্রের রেকর্ড এক নিমেষে ডিলিট হয়ে যাবে!

প্রোগ্রামিং সিনট্যাক্স, কমান্ড ও অনুবাদক নীতি

উপাত্ত থেকে তথ্য রূপান্তরের সমীকরণ
ডেটা লাইফসাইকেল রূপান্তর
উদাহরণ: বিচ্ছিন্ন নম্বর ৯২, ৮৫, ৯০ প্রক্রিয়াজাত হয়ে তৈরি করে 'প্রিয়া দাস: মোট ২৬৭, গ্রেড A, ১ম স্থান'।
ডিগ্রি বনাম কার্ডিনালিটি গণনা সূত্র
দ্বিমাত্রিক পরিমাপ ম্যাট্রিক্স
৫টি কলাম এবং ৫০ জন ছাত্রের রেকর্ড থাকা টেবিলের ডিগ্রি = ৫ এবং কার্ডিনালিটি = ৫০।
ক্যান্ডিডেট কি, প্রাইমারি কি ও অল্টারনেট কি সম্পর্ক সূত্র
কি বিভাজন সমীকরণ
যদি টেবিলে ক্যান্ডিডেট কি থাকে {ভর্তি_নম্বর, আধার_নম্বর}, তবে ভর্তি নম্বরকে PK বাছলে আধার নম্বর হবে অল্টারনেট কি।
এনটিটি ইন্টিগ্রিটি শর্ত (Entity Integrity Rule)
এনটিটি অখণ্ডতা ধ্রুবক
এটি নিশ্চিত করে যে টেবিলে পরিচয়হীন বা নকল কোনো রেকর্ড থাকতে পারে না।
রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি শর্ত (Referential Integrity Rule)
রেফারেন্সিয়াল অখণ্ডতা সমীকরণ
অনাথ রেকর্ড (যেমন অস্তিত্বহীন রোল নম্বরের নামে বই ইস্যু করা) রোধ করে।
এসকিউএল কমান্ডের শ্রেণিবিভাগ সূত্র (DDL বনাম DML)
এসকিউএল দ্বৈত বিভাজন
DDL কমান্ড টেবিলের ছক বদলায়; DML কমান্ড কেবল তথ্য নিয়ে কাজ করে।
এসকিউএল DML অনুসন্ধান সিনট্যাক্স ছক
রিলেশনাল সিলেকশন ও প্রজেকশন
উদাহরণ: SELECT Name, Marks FROM Students WHERE Marks >= 90;

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
একটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার উদাহরণের সাহায্যে ডেটা (উপাত্ত) এবং ইনফরমেশন (তথ্য)-এর পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ডেটা এবং ইনফরমেশন-এর মৌলিক পার্থক্য নিচে স্পষ্ট করা হলো: ১. কাঁচা ডেটা (Data): কোনো প্রেক্ষাপট ছাড়া অসংগঠিত, এলোমেলো সংখ্যা বা চিহ্ন।

  • উদাহরণ: ৮৫, ৯২, ৭৮, 'অনন্যা', ৮। এই বিচ্ছিন্ন মানগুলি দেখলে বোঝা যায় না ৮৫ কি কোনো বয়স, বাড়ি নম্বর নাকি নম্বর, এবং এর কোনো ব্যবহারিক উপযোগিতা নেই। ২. তথ্য (Information): যখন ডেটাকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে, হিসাব করে একটি বোধগম্য রূপ দেওয়া হয়।
  • উদাহরণ: ডেটাকে প্রসেস করে যখন তৈরি হয় শিক্ষার্থীর রেজাল্ট কার্ড: "অষ্টম শ্রেণির অনন্যা সেন, রোল ১০১, গণিতে ৮৫, কম্পিউটারে ৯২ এবং ইংরেজিতে ৭৮ পেয়ে মোট ৮৫% নম্বর সহ 'A' গ্রেড অর্জন করেছে।" ৩. উপসংহার: ডেটা হলো কাঁচামাল (ইনপুট), আর তথ্য হলো চূড়ান্ত অর্থপূর্ণ ফলাফল (আউটপুট) যার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক ও অভিভাবক সিদ্ধান্ত নেন।
উদাহরণ 2
একটি বিদ্যালয় তাদের ছাত্রছাত্রীদের সমস্ত তথ্য ভর্তি বিভাগ, ফি বিভাগ এবং লাইব্রেরিতে আলাদা আলাদা এক্সেল ফাইলে রাখে। এই ফাইল সিস্টেম ব্যবহারের ফলে কী কী ৩টি প্রধান সমস্যা দেখা দেবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
আলাদা আলাদা এক্সেল ফাইলে তথ্য রাখার ফলে ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেমের ৩টি মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে: ১. ডেটা রিডান্ড্যান্সি (অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি): শিক্ষার্থীর নাম, অভিভাবকের ফোন নম্বর ও ঠিকানা—ভর্তি বিভাগ, লাইব্রেরি ও ফি বিভাগে বারবার টাইপ করে জমা রাখতে হবে। এতে কম্পিউটারের মেমোরি নষ্ট হয় এবং সময় অপচয় হয়। ২. ডেটা ইনকনসিস্টেন্সি (তথ্যের অসঙ্গতি): কোনো ছাত্রের বাড়ি বদল হলে এবং সে শুধু ফি অফিসে নতুন ফোন নম্বর জমা দিলে, লাইব্রেরি ও ভর্তি বিভাগের শিটে পুরনো নম্বরই থেকে যাবে। ফলে একই ছাত্রের দুটি ভিন্ন নম্বর তৈরি হয়ে প্রশাসনিক বিভ্রান্তি দেখা দেবে। ৩. নিরাপত্তা ও যৌথ ব্যবহারের অভাব: লাইব্রেরির কর্মী স্প্রেডশিট খুললে শিক্ষার্থীর গোপন ফি বকেয়ার তথ্য বা পারিবারিক তথ্যও দেখে ফেলতে পারেন, কারণ ফাইলে কলামভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাছাড়া দুজন কর্মী একই সাথে ফাইল এডিট করতে গেলে ফাইল নষ্ট হতে পারে।
উদাহরণ 3
একটি ডেটাবেস টেবিল 'LIBRARY_BOOKS'-এ ৬টি কলাম রয়েছে: Accession_No, Title, Author, Publisher, Year, Price। টেবিলে ১২০টি বইয়ের রেকর্ড রয়েছে। টেবিলটির ডিগ্রি এবং কার্ডিনালিটি কত? যদি ৩০টি নতুন বই যোগ করা হয় এবং ১টি নতুন কলাম (Shelf_No) বাড়ানো হয়, তবে নতুন ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটি কত হবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

রিলেশনাল পরিমাপের নিয়মানুযায়ী: ১. প্রাথমিক অবস্থা:

  • ডিগ্রি (Degree): কলামের মোট সংখ্যা = ৬।
  • কার্ডিনালিটি (Cardinality): সারির মোট সংখ্যা = ১২০। ২. পরিবর্তনের বিবরণ:
  • ৩০টি নতুন বইয়ের রেকর্ড যোগ করা হলো (সারি যোগ: +৩০)।
  • ১টি নতুন কলাম (Shelf_No) টেবিলে যুক্ত করা হলো (কলাম যোগ: +১)। ৩. নতুন মান:
  • নতুন ডিগ্রি: ৬ + ১ = ৭ কলাম।
  • নতুন কার্ডিনালিটি: ১২০ + ৩০ = ১৫০ সারি। উত্তর: পূর্বে ডিগ্রি = ৬, কার্ডিনালিটি = ১২০; পরিবর্তনের পর নতুন ডিগ্রি = ৭ এবং নতুন কার্ডিনালিটি = ১৫০।
উদাহরণ 4
একটি শিক্ষক সারণি 'TEACHERS'-এর ফিল্ডগুলি হলো: Teacher_ID, Aadhaar_No, Name, Department, Phone_No, Salary। এর ক্যান্ডিডেট কি চিহ্নিত করো, উপযুক্ত প্রাইমারি কি বেছে নাও এবং অল্টারনেট কি উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

TEACHERS টেবিলের বিশ্লেষণ: ১. ক্যান্ডিডেট কি (Candidate Keys): যে সমস্ত ফিল্ড স্বতন্ত্র এবং কখনোই ডুপ্লিকেট হয় না:

  • Teacher_ID: বিদ্যালয়ের দেওয়া নিজস্ব আইডি।
  • Aadhaar_No: ১২ সংখ্যার অনন্য জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • সুতরাং ক্যান্ডিডেট কি হলো {Teacher_ID, Aadhaar_No}। ২. প্রাইমারি কি নির্বাচন:
  • Teacher_ID-কে প্রাইমারি কি হিসেবে নির্বাচন করা সবচেয়ে সঠিক, কারণ এটি সংক্ষিপ্ত, বিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দৈনন্দিন রিপোর্টে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আধার নম্বর প্রকাশ করতে হয় না। 3. অল্টারনেট কি (Alternate Key):
  • সূত্রানুযায়ী: অল্টারনেট কি = ক্যান্ডিডেট কি - প্রাইমারি কি।
  • অতএব, Aadhaar_No হলো এই টেবিলের অল্টারনেট কি।
উদাহরণ 5
একটি 'STUDENTS' টেবিল এবং একটি 'ENROLLMENT' টেবিলের মধ্যে কীভাবে প্রাইমারি কি এবং ফরেন কি রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বজায় রাখে তা বুঝিয়ে দাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

প্যারেন্ট ও চাইল্ড টেবিলের সম্পর্কের নিয়ম: ১. প্যারেন্ট টেবিল (STUDENTS):

  • ফিল্ড: Roll_No (Primary Key), Name, Class।
  • Roll_No হলো প্রাইমারি কি যা প্রতিটি ছাত্রকে এককভাবে চিহ্নিত করে (যেমন ১০১, ১০২, ১০৩)। ২. চাইল্ড টেবিল (ENROLLMENT):
  • ফিল্ড: Enroll_ID (Primary Key), Roll_No (Foreign Key), Club_Name।
  • এখানে Roll_No হলো ফরেন কি, যা প্যারেন্ট টেবিলের Roll_No-কে নির্দেশ করে। ৩. রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি রক্ষা:
  • যদি কোনো ব্যবহারকারী ভুল করে এমন কোনো রোল নম্বর (যেমন ৯৯৯) দিয়ে ক্লাবে নাম লেখাতে চায় যা STUDENTS টেবিলে নেই, তবে DBMS স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বাতিল করবে।
  • আবার মূল টেবিল থেকে কোনো ছাত্রের রেকর্ড মুছে ফেলা যাবে না যদি ক্লাব টেবিলে তার নাম অবশিষ্ট থাকে। ফলে কোনো 'অনাথ রেকর্ড' সৃষ্টি হয় না।
উদাহরণ 6
একটি হাসপাতালের 'PATIENTS' টেবিলের নিম্নলিখিত ফিল্ডগুলির জন্য উপযুক্ত MS Access ডেটা টাইপ প্রস্তাব করো: Patient_ID, Full_Name, Date_of_Birth, Admitted_Fee, Is_Insured, Doctor_Remarks।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রতিটি ফিল্ডের জন্য সেরা ডেটা টাইপ: ১. Patient_ID: AutoNumber। স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিটি নতুন রোগীর জন্য ১, ২, ৩ ক্রমিক নম্বর তৈরি করে, যা প্রাইমারি কি-র জন্য আদর্শ। ২. Full_Name: Short Text। রোগীর সাধারণ নাম (সর্বোচ্চ ২৫৫ অক্ষর) সংরক্ষণের জন্য। ৩. Date_of_Birth: Date/Time। নিখুঁত জন্মতারিখ ও বয়স গণনার জন্য। ৪. Admitted_Fee: Currency। আর্থিক ফি-র নিখুঁত দশমিক হিসাব ও টাকার চিহ্ন (₹) সহ প্রদর্শনের জন্য। ৫. Is_Insured: Yes/No। রোগী স্বাস্থ্যবিমার আওতাভুক্ত কি না তা হ্যাঁ/না দিয়ে প্রকাশের জন্য। ৬. Doctor_Remarks: Long Text (Memo)। চিকিৎসকের বিশদ মতামত ও রোগ বিবরণী (২৫৫ অক্ষরের বেশি) লেখার জন্য।
উদাহরণ 7
একটি সারণি 'STUDENTS' (Roll_No, Name, Class, Marks, City)-এর ওপর নিম্নলিখিত কাজের জন্য সঠিক SQL DML কোয়েরি লেখো: (ক) কলকাতার সমস্ত ছাত্রকে প্রদর্শন করো, (খ) রোল ১০৬, 'পূজা সেন', শ্রেণি ৮, নম্বর ৮৯, শহর 'শিলিগুড়ি' নামের নতুন রেকর্ড ঢোকাও, (গ) রোল ১০২-এর নম্বর ৫ বৃদ্ধি করো, (ঘ) রোল ১০৬-এর রেকর্ড মুছে ফেলো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সঠিক এসকিউএল DML কোয়েরিসমূহ: ১. (ক) কলকাতার ছাত্রদের খোঁজা:
SELECT * FROM STUDENTS WHERE City = 'Kolkata';
২. (খ) নতুন ছাত্রের রেকর্ড সংযোজন:
INSERT INTO STUDENTS (Roll_No, Name, Class, Marks, City)
VALUES (106, 'Pooja Sen', 8, 89, 'Siliguri');
৩. (গ) রোল ১০২-এর নম্বর ৫ বাড়ানো:
UPDATE STUDENTS
SET Marks = Marks + 5
WHERE Roll_No = 102;
৪. (ঘ) রোল ১০৬-এর রেকর্ড মোছা:
DELETE FROM STUDENTS
WHERE Roll_No = 106;
উদাহরণ 8
ডেটা সুরক্ষা এবং যৌথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিরাচরিত ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেমের চেয়ে একটি আধুনিক DBMS কেন অনেক বেশি উন্নত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
একটি DBMS এমন দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য প্রদান করে যা সাধারণ ফাইল সিস্টেমে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত: ১. সুনির্দিষ্ট ব্যবহারকারী নিরাপত্তা (Role-Based Access Control): ফাইল সিস্টেমে কোনো ফাইল খোলার পাসওয়ার্ড জানা থাকলে ব্যবহারকারী সমস্ত কলাম ও গোপন তথ্য দেখে ফেলতে পারে। কিন্তু DBMS-এ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কলাম ও সারি ধরে অনুমতি ঠিক করতে পারেন। শিক্ষকরা কেবল নম্বর দেখতে ও বদলাতে পারবেন, কিন্তু ফিনান্সের বেতন বা চিকিৎসাজনিত তথ্য দেখতে পাবেন না। ২. যৌথ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (Concurrent Access & Locking): যখন ভারতীয় রেলের আইআরসিটিসি (IRCTC) সার্ভারে লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে টিকিট কাটেন, DBMS লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে। একজন যাত্রী ৪২ নম্বর সিট বেছে নিলে অন্য কেউ সেই সিট দেখতে বা কাটতে পারবে না যতক্ষণ না প্রথম জনের ট্রানজ্যাকশন শেষ হচ্ছে। ফ্ল্যাট-ফাইলে একসাথে দুজন লিখতে গেলে ফাইল নষ্ট হয়ে যায় বা দুজনের নামেই একই টিকিট হয়ে যায়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

রিলেশনে 'ডিগ্রি' এবং 'কার্ডিনালিটি'-র মধ্যে গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সর্বদা মনে রাখবে: ডিগ্রি (Degree) হলো টেবিলের মোট কলাম সংখ্যা (অ্যাট্রিবিউট), আর কার্ডিনালিটি (Cardinality) হলো মোট সারি বা রেকর্ডের সংখ্যা (টাপল)।

সাধারণ ভুল ধারণা

'ডেটা' এবং 'ইনফরমেশন'-কে একই অর্থবোধক প্রতিশব্দ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ডেটা হলো বিচ্ছিন্ন কাঁচা তথ্য বা সংখ্যা (যেমন ৯৫, ৮৮) যার নিজস্ব কোনো প্রেক্ষাপট নেই। তথ্য হলো প্রক্রিয়াজাত ও অর্থপূর্ণ রূপ (যেমন রেজাল্ট কার্ড)।

সাধারণ ভুল ধারণা

প্রাইমারি কি-তে NULL (ফাঁকা) মান থাকতে পারে বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

এনটিটি ইন্টিগ্রিটি নীতি অনুযায়ী প্রাইমারি কি কখনোই NULL হতে পারে না এবং এর মান সর্বদা অনন্য (UNIQUE) হতে হবে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ক্যান্ডিডেট কি এবং অল্টারনেট কি-র মধ্যে বিভ্রান্ত হওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রাইমারি কি হওয়ার যোগ্য সব ফিল্ড হলো ক্যান্ডিডেট কি। তার মধ্যে একজনকে প্রাইমারি কি বাছা হয়, আর বাকিগুলি হলো অল্টারনেট কি।

সাধারণ ভুল ধারণা

SQL UPDATE ও DELETE কমান্ডে WHERE শর্ত না লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

WHERE শর্ত না দিলে টেবিলের প্রত্যেকটি রেকর্ড মুছে যাবে অথবা সবার নম্বর ১০০ হয়ে যাবে, যা পুরো ডেটাবেস নষ্ট করে দেবে।

সাধারণ ভুল ধারণা

DDL কমান্ডের সাথে DML কমান্ড গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

DDL (Data Definition) টেবিলের কাঠামো নিয়ে কাজ করে (CREATE, ALTER, DROP)। DML (Data Manipulation) ভেতরের রেকর্ড নিয়ে কাজ করে (SELECT, INSERT, UPDATE, DELETE)।

সাধারণ ভুল ধারণা

MS Access-এ ফর্ম এবং রিপোর্টের কাজ একই মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ফর্ম (Forms) হলো পর্দায় তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধন করার জন্য। রিপোর্ট (Reports) হলো তথ্য সাজিয়ে প্রিন্ট বা ছাপানোর জন্য।

রিলেশনাল ডেটাবেস আর্কিটেকচার ও মডেল কনসেপ্ট ম্যাপ (WBBSE অষ্টম শ্রেণি অধ্যায় ২)

WBBSE অষ্টম শ্রেণি কম্পিউটার সায়েন্স • অধ্যায় ২ আর্কিটেকচারাল ম্যাপ ডেটাবেসের পরিচিতি (Introduction to Database) RDBMS আর্কিটেকচার ভিত্তি ও ধারণা উপাত্ত ও ফাইল সিস্টেম ডেটা বনাম তথ্য ও DBMS ডেটা বনাম ইনফরমেশন • ডেটা: কাঁচা উপাত্ত বা সংখ্যা (৯৫, ৮৮) • প্রসেসিং → অর্থপূর্ণ জ্ঞান • তথ্য: শিক্ষার্থীর মার্কশিট ফাইল সিস্টেমের ত্রুটি • ডেটা রিডান্ড্যান্সি (অপ্রয়োজনীয় কপি) • ইনকনসিস্টেন্সি (অসঙ্গতি) • দুর্বল নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণহীনতা DBMS-এর সুবিধাসমূহ • কেন্দ্রীভূত ডেটা নিয়ন্ত্রণ • ডেটা অখণ্ডতা ও সহজ শেয়ারিং • স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ ও রিকভারি জনপ্রিয় সফটওয়্যার • বাণিজ্যিক: Oracle, MS SQL • ওয়েব/ওপেন সোর্স: MySQL, PG • ডেস্কটপ: Access, SQLite ACID বৈশিষ্ট্য সুনিশ্চিত করে রিলেশনাল মডেল টেবিল ও টাপল ই এফ কড (১৯৭০) রিলেশন টেবিল বা রিলেশন • দ্বিমাত্রিক ছক: সারি × কলাম • সম্পর্কযুক্ত উপাত্তের বিন্যাস • প্রতিটি ঘরে একক পারমাণবিক মান মৌলিক উপাদান • টাপল (Tuple): ১টি সম্পূর্ণ রেকর্ড/সারি • অ্যাট্রিবিউট (Attribute): ফিল্ড/কলাম • ডোমেন: সম্ভাব্য বৈধ মানের পরিসীমা ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটি • ডিগ্রি = টেবিলের কলাম সংখ্যা • কার্ডিনালিটি = রেকর্ডের/সারির সংখ্যা • ৫ কলাম, ৪০ সারি: D=৫, C=৪০ রিলেশন ম্যাট্রিক্স নমুনা [Roll_No | Name | Marks] ১০১ | অনন্যা | ৯২ → টাপল ১ ১০২ | সৌরভ | ৮৭ → টাপল ২ ডিগ্রি = ৩, কার্ডিনালিটি = ২ কি ও অখণ্ডতা RDBMS-এ কি (Keys) অনন্যতা ও টেবিলের সম্পর্ক প্রাইমারি কি (PK) • প্রতি রেকর্ডকে স্বতন্ত্রভাবে চেনে • UNIQUE ও NOT NULL আবশ্যক • যেমন: Roll_No, Student_ID ক্যান্ডিডেট ও অল্টারনেট • ক্যান্ডিডেট: PK হওয়ার যোগ্য সব ফিল্ড • ১টি ফিল্ড PK হিসেবে নির্বাচিত হয় • বাকি যোগ্য ফিল্ড = অল্টারনেট কি ফরেন কি (Foreign Key) • অন্য টেবিলের PK-কে নির্দেশ করে • রেফারেন্সিয়াল অখণ্ডতা রক্ষা করে • একাধিক টেবিলকে যুক্ত করে অখণ্ডতার শর্তসমূহ • Entity Integrity: PK ফাঁকা নয় • Domain Integrity: সঠিক বৈধ মান • Referential: অনাথ রেকর্ড রোধ করে ডেটাবেসকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখে অ্যাক্সেস ও এসকিউএল MS Access ও SQL GUI অবজেক্ট ও কোয়েরি ভাষা অ্যাক্সেসের ৪টি প্রধান অবজেক্ট • Tables: কাঁচা উপাত্ত জমা রাখে • Queries: শর্তাধীন তথ্য খোঁজা • Forms (GUI স্ক্রিন) ও Reports (ছাপানো) অ্যাক্সেস ডেটা টাইপ • Short Text (২৫৫ অক্ষর পর্যন্ত) • Number, Date/Time, Currency • AutoNumber (স্বয়ংক্রিয় ক্রম) SQL কমান্ডের প্রকারভেদ • DDL: গঠন তৈরি (CREATE, ALTER) • DML: ডেটা নিয়ে কাজ (SELECT) • DML: INSERT, UPDATE, DELETE এসকিউএল কোয়েরি বিন্যাস SELECT * FROM Students WHERE Grade = 'A'; INSERT INTO Students VALUES(...); UPDATE / DELETE শর্ত সাপেক্ষে WBBSE Class 8 Computer Science • অধ্যায় ২: ডেটাবেসের পরিচিতি • সম্পূর্ণ আর্কিটেকচারাল গাইড

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. ডেটা বনাম তথ্য: ডেটা হলো অপরিশোধিত ও অসংগঠিত কাঁচা সত্য বা সংখ্যা (যেমন বিচ্ছিন্ন নম্বর), আর তথ্য হলো প্রক্রিয়াজাত অর্থপূর্ণ ডেটা যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে (যেমন রেজাল্ট কার্ড)।
মূল বিষয় 2
২. ফ্ল্যাট-ফাইল সিস্টেমের দুর্বলতা: চিরাচরিত ফাইল সিস্টেমে তথ্যের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি (Redundancy), তথ্যের অসঙ্গতি (Inconsistency), নিরাপত্তার অভাব এবং একাধিক ব্যবহারকারীর তথ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মূল বিষয় 3
৩. ডেটাবেস ও ডিবিএমএস: ডেটাবেস হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উপাত্তের সুসংগঠিত রূপ। DBMS হলো এমন এক সিস্টেম সফটওয়্যার যা ডেটাবেস তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন MySQL, Oracle, MS Access, SQLite)।
মূল বিষয় 4
৪. ডঃ ই এফ কডের রিলেশনাল মডেল (১৯৭০): রিলেশনাল মডেলে ডেটাকে দ্বিমাত্রিক ছক বা সারণির (Relation) মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। সারণির সারিকে টাপল (রেকর্ড) এবং কলামকে অ্যাট্রিবিউট (ফিল্ড) বলে।
মূল বিষয় 5
৫. ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটি: একটি টেবিলের কলামের মোট সংখ্যাকে ডিগ্রি (Degree) এবং সারির মোট সংখ্যাকে কার্ডিনালিটি (Cardinality) বলে।
মূল বিষয় 6
৬. রিলেশনাল কি (Keys): প্রতিটি রেকর্ডকে অনন্যভাবে চেনার জন্য প্রাইমারি কি প্রয়োজন (যা সর্বদা UNIQUE এবং NOT NULL)। যোগ্য ফিল্ডগুলি ক্যান্ডিডেট কি এবং অনির্বাচিত ক্যান্ডিডেট কি হলো অল্টারনেট কি। দুটি টেবিলকে যুক্ত করতে চাইল্ড টেবিলে ফরেন কি ব্যবহৃত হয় যা রেফারেন্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বজায় রাখে।
মূল বিষয় 7
৭. মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস আর্কিটেকচার: অ্যাক্সেসে মূলত ৪টি অবজেক্ট থাকে—টেবিল (ডেটা সংরক্ষণ), কোয়েরি (শর্তানুযায়ী খোঁজা), ফর্ম (GUI এন্ট্রি পর্দা) এবং রিপোর্ট (ছাপানোর উপযোগী আউটপুট)। প্রয়োজনীয় ডেটা টাইপ হলো Short Text, Number, Date/Time, Currency, AutoNumber ইত্যাদি।
মূল বিষয় 8
৮. এসকিউএল-এর মূল কমান্ড: এসকিউএল কমান্ডকে DDL (কাঠামো: CREATE, ALTER, DROP) এবং DML (রেকর্ড: SELECT, INSERT, UPDATE, DELETE)-এ ভাগ করা হয়। এর সাহায্যে সুনির্দিষ্ট ডেটা পরিচালনা করা সম্ভব।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
একটি রিলেশনাল ডেটাবেসে প্রাইমারি কি-র মান কখনো NULL (ফাঁকা) হতে পারে না কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: এনটিটি ইন্টিগ্রিটি নীতি অনুযায়ী একটি টেবিলের প্রতিটি রেকর্ডকে অনন্যভাবে চিহ্নিত করতে হয়। প্রাইমারি কি ফাঁকা বা NULL থাকলে সেই রেকর্ডটির নিজস্ব কোনো সুনির্দিষ্ট পরিচয় থাকে না, ফলে ডেটাবেস ইঞ্জিন সেই রেকর্ডটিকে ভবিষ্যতে নির্ভুলভাবে খুঁজতে, বদলাতে বা অন্য টেবিলের সাথে যুক্ত করতে পারে না।
ভেবে দেখো যদি কোনো ছাত্রের ভর্তি নম্বর বা রোল নম্বরই না থাকে তবে তার রেজাল্ট কীভাবে বের করা যাবে।
2
একটি সারণিতে ৪টি কলাম এবং ২৫টি সারি থাকলে তার ডিগ্রি ও কার্ডিনালিটি কত? ২টি কলাম মুছে দিলে এবং ৫টি নতুন সারি যোগ করলে সেগুলি কত হবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রাথমিকভাবে ডিগ্রি = ৪ (কলামের সংখ্যা) এবং কার্ডিনালিটি = ২৫ (সারির সংখ্যা)। ২টি কলাম মুছে দিলে নতুন ডিগ্রি হবে ৪ - ২ = ২। ৫টি নতুন সারি যোগ করলে নতুন কার্ডিনালিটি হবে ২৫ + ৫ = ৩০।
মনে রাখবে: ডিগ্রি কলাম সংখ্যা আর কার্ডিনালিটি সারির সংখ্যা।
3
ক্যান্ডিডেট কি, প্রাইমারি কি এবং অল্টারনেট কি-র মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: রেকর্ডকে অনন্যভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম সমস্ত ফিল্ডকে ক্যান্ডিডেট কি বলে। ডেটাবেস ডিজাইনার এদের মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে প্রাইমারি কি হিসেবে বেছে নেন। বাকি যে ক্যান্ডিডেট কি-গুলি প্রাইমারি কি হতে পারল না, তাদের অল্টারনেট কি বলে (অল্টারনেট কি = ক্যান্ডিডেট কি - প্রাইমারি কি)।
নির্বাচনের কথা ভাবো: যোগ্য সবাই ক্যান্ডিডেট কি, বিজয়ী প্রাইমারি কি এবং অন্যরা অল্টারনেট কি।
4
মাইক্রোসফট অ্যাক্সেসে ফর্ম (Forms) এবং রিপোর্ট (Reports)-এর কাজের মূল পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ফর্ম হলো ব্যবহারকারী-বান্ধব একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ গ্রাফিক্যাল পর্দা যা দিয়ে সহজে টেবিলে নতুন তথ্য ইনপুট বা এন্ট্রি করা এবং এডিট করা যায়। অপরদিকে রিপোর্ট হলো কোনো ইন্টারঅ্যাক্টিভ পর্দা নয়, এটি তথ্যকে পরিপাটি ও সুন্দরভাবে সাজিয়ে কাগজে প্রিন্ট বা ছাপানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
একটি হলো ইনপুট পর্দা; অন্যটি হলো ছাপার উপযোগী আউটপুট নথি।
5
এসকিউএল UPDATE বা DELETE কমান্ডে WHERE শর্ত না দিলে কী মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: WHERE শর্ত নির্দিষ্ট করে দেয় কোন কোন সারির ওপর কাজটি হবে। WHERE না দিলে UPDATE কমান্ড টেবিলের সমস্ত রেকর্ডের মান একলহমায় বদলে দেবে এবং DELETE কমান্ড টেবিলের সমস্ত ছাত্রের রেকর্ড চিরতরে মুছে ফেলবে।
WHERE না থাকলে শর্তের ফিল্টার কী অবস্থায় পৌঁছায় তা চিন্তা করো।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।