তথ্যপ্রযুক্তি (IT) হলো এমন এক সমন্বিত প্রযুক্তিগত শাখা যা উপাত্ত তৈরি, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্বব্যাপী তথ্য স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়। সহজ ভাষায়, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের (যেমন ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট) মেলবন্ধনই হলো আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি।
- উপাত্ত বা ডেটা (Data): অসংগঠিত, অপরিশোধিত ও বিচ্ছিন্ন কিছু কাঁচা তথ্য বা চিহ্ন যার নিজস্ব কোনো অর্থপূর্ণ তাৎপর্য থাকে না (যেমন:
95, 'কলকাতা', 101)। - তথ্য (Information): যখন এলোমেলো উপাত্তকে সুনির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে, প্রক্রিয়াকরণ করে অর্থবহ ও ব্যবহারোপযোগী রূপ দেওয়া হয়, তখন তাকে তথ্য বলে (যেমন: "কলকাতার ১০১ রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থী নবম শ্রেণির পরীক্ষায় ৯৫% নম্বর পেয়েছে")।
- হার্ডওয়্যার স্ট্যাক: কম্পিউটারের সমস্ত স্পর্শযোগ্য ও দৃশ্যমান যন্ত্রাংশ (যেমন: প্রসেসর/CPU, মেমোরি, ফাইবার অপটিক কেবল, রাউটার ইত্যাদি)।
- সফটওয়্যার স্ট্যাক: কম্পিউটারের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত প্রোগ্রামসমূহ এবং অপারেটিং সিস্টেম (Windows, Linux ইত্যাদি), যা হার্ডওয়্যারকে নির্দেশনা দেয়।
উপাত্ত সংগ্রহ (Data Capture) → ডিজিটাল সংরক্ষণ (Storage) → অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়াকরণ (Processing) → দূরবর্তী নেটওয়ার্কে সম্প্রচার (Transmission) → সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম তথ্য (Information)।
তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা (ITeS), যাকে ওয়েব-এনাবল্ড সার্ভিসেস বা দূরবর্তী পরিষেবাও বলা হয়, হলো এমন সব ব্যবসায়িক ও গ্রাহক পরিষেবা যা তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি, গুণমান ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অতীতে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিল তৈরি, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা হিসাব সংরক্ষণের জন্য শত শত কর্মচারীর শারীরিক উপস্থিতি ও কাগজের নথির প্রয়োজন হতো। কিন্তু আধুনিক উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ক্লাউড সিস্টেমের কল্যাণে এখন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অত্যন্ত কম খরচে ও দ্রুততার সাথে এই কাজগুলো দূরবর্তীভাবে (Remotely) সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে।