Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 9 • Mathematics • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: ৭৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

Properties of Parallelogram

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নবম শ্রেণির গণিত প্রকাশ পাঠ্যক্রমের প্রথম অধ্যায় বাস্তব সংখ্যা (Real Numbers)-এর সম্পূর্ণ প্রামাণ্য ও বিস্তারিত পাঠ্য রূপরেখা। এই অধ্যায়ে স্বাভাবিক সংখ্যা, অখণ্ড সংখ্যা, পূর্ণসংখ্যা ও মূলদ সংখ্যার গাণিতিক ক্রমবিকাশ এবং বাস্তব সংখ্যার নিরেট কাঠামো বিশদভাবে বিন্যস্ত হয়েছে। মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্মের প্রয়োগে দুটি সংখ্যার মাঝে অসংখ্য মূলদ সংখ্যা নির্ণয়ের গাণিতিক পদ্ধতি এখানে বিস্তারিত দেখানো হয়েছে। দশমিক বিস্তারের ক্ষেত্রে লঘিষ্ঠ ভগ্নাংশের হর বিশ্লেষণ করে সসীম দশমিক বনাম অসীম আবৃত্ত দশমিক সনাক্তকরণের শর্ত এবং বিশুদ্ধ ও মিশ্র আবৃত্ত দশমিককে বীজগণিতীয় সমীকরণ ও সংক্ষিপ্ত সূত্রের মাধ্যমে p/q মূলদ ভগ্নাংশে রূপান্তরের নিখুঁত পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। পিথাগোরাসের শিষ্যদের দ্বারা অমূলদ সংখ্যা আবিষ্কারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বিপরীত যুক্তি বা অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতির সাহায্যে রুট ২ ও মিশ্র করণীর অমূলদত্বের অকাট্য চিরায়ত প্রমাণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেদেকিন্ড-ক্যান্টর স্বতঃসিদ্ধের ভিত্তিতে সংখ্যাচিত্রে রুট ২ স্থাপন, থিওডোরাসের সর্পিল এবং ধনাত্মক দশমিক সংখ্যার বর্গমূল যেমন রুট ৯.৩-এর জ্যামিতিক অঙ্কন ও প্রতিপাদন সন্নিবেশিত হয়েছে। পরিশেষে বাস্তব সংখ্যার ক্ষেত্র স্বীকার্য, মূলদ ও অমূলদ সংখ্যার প্রক্রিয়াকরণ আচরণ, দ্বিঘাত করণীর প্রকারভেদ, অনুবন্ধী বা পূরক করণী এবং হরের করণী নিরসনের আধুনিক গাণিতিক কৌশল এই সমগ্র অধ্যয়নে প্রাঞ্জলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

গণনার ঊষালগ্নে মানুষ যখন নুড়িপাথর বা কাঠি দিয়ে পশুর সংখ্যা গুনত, তখন থেকেই স্বাভাবিক সংখ্যার জন্ম। কিন্তু কোনো কিছু না থাকাকে কীভাবে সংখ্যায় প্রকাশ করা যায়? প্রাচীন ভারতীয় গণিতজ্ঞ আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের হাত ধরে শূন্যের আবির্ভাবে পূর্ণ হলো অখণ্ড সংখ্যা। ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভ-ক্ষতি, ঋণ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের গভীরতা মাপতে গিয়ে মানুষ আবিষ্কার করল ঋণাত্মক সংখ্যা—তৈরি হলো পূর্ণসংখ্যার পরিমণ্ডল। কিন্তু রুটি ভাগাভাগি বা জমি পরিমাপের মতো বাস্তব প্রয়োজনে ভগ্নাংশের জন্ম হলো, যার হাত ধরে এলো মূলদ সংখ্যা। প্রাচীন গ্রিসের ক্রোটন নগরে পিথাগোরাস ও তাঁর শিষ্যরা বিশ্বাস করতেন—মহাবিশ্বের প্রতিটি রহস্য ও দূরত্ব কেবল দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে প্রকাশ করা যায়। কিন্তু এই সর্বগ্রাসী বিশ্বাসে চরম আঘাত হেনে পিথাগোরাসেরই শিষ্য হিপ্পাসাস প্রমাণ করলেন একক বাহুবিশিষ্ট বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য এমন এক সংখ্যা যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার ভগ্নাংশে প্রকাশ করা অসম্ভব! আবিষ্কৃত হলো অমূলদ সংখ্যার রহস্যময় অপার জগত। পরবর্তীতে রিচার্ড দেদেকিন্ড ও গেয়র্গ ক্যান্টরের স্বতঃসিদ্ধের ওপর দাঁড়িয়ে মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা এক সুতোয় গাঁথা হয়ে তৈরি করল অবিচ্ছিন্ন বাস্তব সংখ্যার জগৎ—যা সংখ্যারেখার প্রতিটি বিন্দুর ওপর অনন্যভাবে বিরাজমান।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

বাস্তব সংখ্যার অধ্যায়টি কেবল নবম শ্রেণির গণিতের প্রথম অধ্যায় নয়, এটি সমগ্র আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর। উচ্চতর শ্রেণিতে ক্যালকুলাস, স্থানাঙ্ক জ্যামিতি, বীজগণিত কিংবা পদার্থবিদ্যার গতিবিদ্যা ও কোয়ান্টাম তত্ত্ব পড়তে গেলে বাস্তব সংখ্যা ব্যবস্থা ও তার অবিচ্ছিন্নতা ধর্ম অনুধাবন করা অপরিহার্য। দৈনন্দিন জীবনে ব্যাংকিং গণনা, সুদের হিসাব, জমির পরিমাপ থেকে শুরু করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে দশমিক ও ফ্লোটিং পয়েন্টের নির্ভুল হিসাব বাস্তব সংখ্যার যুক্তিনির্ভর নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অমূলদ সংখ্যা আবিষ্কার ও অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রমাণ মানব মস্তিষ্কের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার এক অনন্য বিকাশ ঘটায়। এছাড়া দ্বিঘাত করণী নিরসন ও সংখ্যাচিত্রে অমূলদ সংখ্যার জ্যামিতিক স্থাপন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যামিতি ও বীজগণিতের গভীর মেলবন্ধন তৈরি করে, যা যেকোনো সর্বভারতীয় ও রাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের প্রধান চাবিকাঠি।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পাটিগণিতের মৌলিক প্রক্রিয়া—যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং ল.সা.গু ও গ.সা.গু নির্ণয়ের সুস্পষ্ট ধারণা (পূর্ববর্তী ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি)।
  • সাধারণ ভগ্নাংশ ও দশমিক ভগ্নাংশের পারস্পরিক রূপান্তর এবং সাধারণ সমীকরণ সমাধানের প্রাথমিক বীজগাণিতিক দক্ষতা।
  • জ্যামিতিক অঙ্কন সরঞ্জাম—স্কেল, চাঁদা ও কাঁটাকম্পাসের সঠিক ব্যবহার এবং সমকোণী ত্রিভুজে পিথাগোরাসের উপপাদ্যের প্রাথমিক পরিচয়।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • বাস্তব সংখ্যার ক্রমবিকাশের ধারা অনুসারে স্বাভাবিক সংখ্যা (N), অখণ্ড সংখ্যা (W), পূর্ণসংখ্যা (Z) এবং মূলদ সংখ্যা (Q)-এর সংজ্ঞা, প্রতীকী রূপ ও পারস্পরিক অন্তর্ভুক্তি সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারা।
  • মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম (Density Property) বিশদভাবে বিশ্লেষণ করতে পারা এবং যেকোনো দুটি বাস্তব বা মূলদ সংখ্যার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সাধারণ ব্যবধান সূত্র d = (b - a)/(n + ১) প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট সংখ্যক মূলদ সংখ্যা নির্ণয় করতে পারা।
  • ভাগ না করেই কোনো মূলদ ভগ্নাংশের হর q = ২^m × ৫^n আকারের কি না তা বিশ্লেষণ করে সসীম দশমিক বা অসীম আবৃত্ত দশমিকের চরিত্র নির্ভুলভাবে সনাক্ত করতে পারা।
  • বিশুদ্ধ ও মিশ্র আবৃত্ত দশমিক সংখ্যাকে বীজগণিতীয় সমীকরণ পদ্ধতি ও সংক্ষিপ্ত সূত্রের সাহায্যে p/q মূলদ আকারে রূপান্তর করতে পারা।
  • অমূলদ সংখ্যার সংজ্ঞা ও অসীম অনাবৃত্ত দশমিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারা এবং অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতি (Proof by Contradiction)-র সাহায্যে √২, √৩, √৫ ও মিশ্র আকারের অমূলদত্ব অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে পারা।
  • দেদেকিন্ড-ক্যান্টর স্বতঃসিদ্ধ ব্যাখ্যা করতে পারা এবং পিথাগোরাসের উপপাদ্য ও থিওডোরাসের সর্পিলের মাধ্যমে সংখ্যারেখায় √২, √৩, √৫ ইত্যাদি বিন্দু স্থাপন করতে পারা।
  • ধনাত্মক বাস্তব দশমিক সংখ্যার বর্গমূল √x (যেমন: √৯.৩, √৪.৫) জ্যামিতিক পদ্ধতিতে অঙ্কন করতে পারা এবং সমকোণী ত্রিভুজের জ্যামিতিক উপপাদ্যের সাহায্যে BD = √x প্রতিপাদন করতে পারা।
  • বাস্তব সংখ্যার ক্ষেত্র স্বীকার্য (Field Axioms), মূলদ-অমূলদের প্রক্রিয়াকরণ নীতি এবং দ্বিঘাত করণীর প্রকারভেদ, সদৃশ-অসদৃশ করণী, অনুবন্ধী করণী ও হরের করণী নিরসন দক্ষতা অর্জন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 মডিউল ১: বাস্তব সংখ্যার ক্রমবিকাশ,...
2 মডিউল ২: দশমিক বিস্তার ও ভগ্নাংশে র...
3 মডিউল ৩: অমূলদ সংখ্যার ধারণা (Q') ও...
4 মডিউল ৪: সংখ্যাচিত্রে অমূলদ সংখ্যার...
5 মডিউল ৫: বাস্তব সংখ্যার ধর্মাবলি (R...
6 মডিউল ৬: দ্বিঘাত করণী ও করণী নিরসন...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

মডিউল ১: বাস্তব সংখ্যার ক্রমবিকাশ, শ্রেণিবিন্যাস ও মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম (Hierarchy & Density Property)

১.১ সংখ্যার ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ ও শ্রেণিবিন্যাস (Development & Hierarchy)

মানব সভ্যতার ঊষালগ্নে গণনার প্রয়োজনেই প্রথম সংখ্যার ধারণা সূচিত হয়। আদিম মানুষ পশুর সংখ্যা বা শস্যের পরিমাণ মনে রাখতে দাগ কেটে বা নুড়িপাথর গুনে যে সংখ্যার জন্ম দিয়েছিল, তা-ই হলো স্বাভাবিক সংখ্যা। পর্যায়ক্রমে গণিতের বিকাশ ও মানবীয় চাহিদার পরিপ্রক্ষিতে সংখ্যার পরিধি সম্প্রসারিত হতে থাকে:

১. স্বাভাবিক সংখ্যা (Natural Numbers - ℕ):
গণনার কাজে ব্যবহৃত ১ থেকে শুরু করে অনির্দিষ্ট ধনাত্মক সংখ্যাগুলিকে স্বাভাবিক সংখ্যা বলে।
প্রতীক: ℕ = {১, ২, ৩, ৪, ৫, ...}
বৈশিষ্ট্য: ক্ষুদ্রতম স্বাভাবিক সংখ্যা হলো ১, কিন্তু কোনো বৃহত্তম স্বাভাবিক সংখ্যা নেই। স্বাভাবিক সংখ্যা সেটের উপাদানগুলি বিচ্ছিন্ন (Discrete)।

২. অখণ্ড সংখ্যা (Whole Numbers - 𝕎):
স্বাভাবিক সংখ্যাগুলির সঙ্গে শূন্য (০) অন্তর্ভুক্ত করলে যে সংখ্যার দল গঠিত হয়, তাকে অখণ্ড সংখ্যা বলে। ভারতীয় গণিতবিদ আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের হাত ধরে শূন্যের বৈজ্ঞানিক ব্যবহারে গণিতে বিপ্লব সূচিত হয়।
প্রতীক: 𝕎 = {০, ১, ২, ৩, ৪, ...} = ℕ ∪ {০}
বৈশিষ্ট্য: ক্ষুদ্রতম অখণ্ড সংখ্যা হলো ০। সকল স্বাভাবিক সংখ্যাই অখণ্ড সংখ্যা, কিন্তু সকল অখণ্ড সংখ্যা স্বাভাবিক সংখ্যা নয় (কারণ ০ স্বাভাবিক সংখ্যা নয়)।

৩. পূর্ণসংখ্যা (Integers - ℤ):
সকল অখণ্ড সংখ্যার সাথে ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যা (-১, -২, -৩, ...) যোগ করে যে সেট গঠিত হয়, তাকে পূর্ণসংখ্যা বলে। প্রতীক ℤ এসেছে জার্মান শব্দ 'Zahlen' (যার অর্থ 'গণনা করা') থেকে।
প্রতীক: ℤ = {..., -৪, -৩, -২, -১, ০, ১, ২, ৩, ৪, ...}
শ্রেণিবিভাগ:

  • ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যা (Positive Integers, ℤ⁺): {১, ২, ৩, ৪, ...} (যা মূলত স্বাভাবিক সংখ্যা ℕ)।
  • ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যা (Negative Integers, ℤ⁻): {-১, -২, -৩, -৪, ...}।
  • নিরপেক্ষ পূর্ণসংখ্যা: শূন্য (০) ধনাত্মকও নয়, ঋণাত্মকও নয়।

৪. মূলদ সংখ্যা (Rational Numbers - ℚ):
যে সমস্ত সংখ্যাকে p/q আকারে প্রকাশ করা যায়, যেখানে p ও q উভয়ই পূর্ণসংখ্যা, q ≠ ০ এবং p ও q পরস্পর মৌলিক [অর্থাৎ গ.সা.গু(p, q) = ১], তাদের মূলদ সংখ্যা বলে। প্রতীক ℚ এসেছে ইংরেজি 'Quotient' (ভাগফল) থেকে।
গাণিতিক রূপ: ℚ = { p/q : p, q ∈ ℤ, q ≠ 0 এবং গ.সা.গু(p, q) = ১ }
উদাহরণ: ৩/৫, -৭/২, ৪/১ = ৪, ০/১ = ০ (শূন্য একটি মূলদ সংখ্যা)।
লক্ষ্য করো: প্রতিটি পূর্ণসংখ্যা z-কে z/১ আকারে লেখা যায়, সুতরাং সকল পূর্ণসংখ্যাই মূলদ সংখ্যা।

গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্তি সম্পর্ক (Subset Relation):
স্বাভাবিক সংখ্যা ⊂ অখণ্ড সংখ্যা ⊂ পূর্ণসংখ্যা ⊂ মূলদ সংখ্যা ⊂ বাস্তব সংখ্যা
গাণিতিক চিহ্নে: ℕ ⊂ 𝕎 ⊂ ℤ ⊂ ℚ ⊂ ℝ
১.২ মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম (Density Property of Rational Numbers)

স্বাভাবিক সংখ্যা বা পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে দুটি পরপর সংখ্যার মাঝে কোনো পূর্ণসংখ্যা থাকে না (যেমন ২ ও ৩-এর মাঝে কোনো পূর্ণসংখ্যা নেই)—একে সংখ্যার বিচ্ছিন্ন ধর্ম (Discrete Nature) বলে। কিন্তু মূলদ সংখ্যার জগৎ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব উপপাদ্য (Density Theorem):
"যেকোনো দুটি অসমান বাস্তব বা মূলদ সংখ্যার মধ্যে অসংখ্য (অনন্ত) মূলদ সংখ্যা বিদ্যমান।" একেই মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম (Density Property) বলা হয়।

দুটি মূলদ সংখ্যার মধ্যবর্তী মূলদ সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতিসমূহ:
ধরি দুটি প্রদত্ত মূলদ সংখ্যা a এবং b, যেখানে a < b। এদের মাঝে নির্দিষ্ট সংখ্যক মূলদ সংখ্যা নির্ণয়ের দুটি প্রতিষ্ঠিত গাণিতিক পদ্ধতি রয়েছে:

পদ্ধতি ১: সমদ্বিখণ্ডক বা গড় পদ্ধতি (Mean Method):
যেকোনো দুটি সংখ্যা a ও b-এর গড় হলো q₁ = (a + b) / ২, যা সর্বদা a ও b-এর ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে (a < q₁ < b)। পুনরায় a ও q₁-এর মাঝে q₂ = (a + q₁) / ২ এবং q₁ ও b-এর মাঝে q₃ = (q₁ + b) / ২ নির্ণয় করা যায়। এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইচ্ছামতো যত খুশি মূলদ সংখ্যা পাওয়া সম্ভব।

পদ্ধতি ২: সাধারণ ব্যবধান পদ্ধতি (Common Difference Method - বোর্ডের আদর্শ পদ্ধতি):
ধরি a ও b-এর মধ্যে n-সংখ্যক মূলদ সংখ্যা সন্নিবেশ করতে হবে (যেখানে a < b)।
প্রথমে সাধারণ ব্যবধান d নির্ণয় করতে হবে:
d = (b - a) / (n + ১)
তাহলে মধ্যবর্তী n-সংখ্যক ক্রমিক মূলদ সংখ্যাগুলি হবে:
(a + d), (a + ২d), (a + ৩d), ..., (a + nd)
যেখানে স্পষ্টভাবে: a < (a + d) < (a + ২d) < ... < (a + nd) < b।

সংখ্যার সেট প্রতীক উপাদানসমূহ ক্ষুদ্রতম উপাদান ঘনত্ব ধর্ম (Density)
স্বাভাবিক সংখ্যা ℕ {১, ২, ৩, ৪, ৫, ...} ১ নেই (বিচ্ছিন্ন)
অখণ্ড সংখ্যা 𝕎 {০, ১, ২, ৩, ৪, ...} ০ নেই (বিচ্ছিন্ন)
পূর্ণসংখ্যা ℤ {..., -২, -১, ০, ১, ২, ...} নেই নেই (বিচ্ছিন্ন)
মূলদ সংখ্যা ℚ p/q (p, q ∈ ℤ, q ≠ ০) নেই বিদ্যমান (অসীম ঘন)

মডিউল ২: দশমিক বিস্তার ও ভগ্নাংশে রূপান্তর (Decimal Expansions & Conversions)

২.১ সসীম দশমিক সংখ্যা ও তার আবশ্যিক শর্ত (Terminating Decimals)

যেকোনো মূলদ সংখ্যা p/q-কে দশমিকে বিস্তার করলে তার দশমিক বিন্দুর পর নির্দিষ্ট সংখ্যক অঙ্কের পর ভাগ প্রক্রিয়াটি মিলে যায় এবং ভাগশেষ শূন্য (০) হয়, তাকে সসীম দশমিক সংখ্যা (Terminating Decimal) বলে। যেমন: ১/২ = ০.৫, ৩/৪ = ০.৭৫, ৩/৮ = ০.৩৭৫।

সসীম দশমিকের মৌলিক নির্ণায়ক উপপাদ্য (Fundamental Theorem of Terminating Decimals):
কোনো মূলদ সংখ্যা p/q যদি লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশিত থাকে [অর্থাৎ গ.সা.গু(p, q) = ১] এবং তার হর q-কে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করলে যদি শুধুমাত্র ২ অথবা শুধুমাত্র ৫ অথবা উভয় মৌলিক উৎপাদক (২ ও ৫) থাকে, তবে এবং কেবল তবেই তার দশমিক বিস্তার সসীম হবে।
বীজগাণিতিক শর্ত: q = ২^m × ৫^n (যেখানে m এবং n হলো যেকোনো অঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যা {০, ১, ২, ৩, ...})।

এই উপপাদ্যের অন্তর্নিহিত গাণিতিক যুক্তি:
আমাদের দশমিক সংখ্যা ব্যবস্থার ভিত্তি (Base) হলো ১০। আর ১০-এর একমাত্র মৌলিক উৎপাদক দুটি হলো ২ এবং ৫ (১০ = ২ × ৫)। সুতরাং হরে যদি কেবল ২ এবং ৫ থাকে, তবে লব ও হরকে উপযুক্ত ২ বা ৫-এর ঘাত দ্বারা গুণ করে হরকে সহজেই ১০-এর কোনো পূর্ণবর্গ বা ঘাত (১০, ১০০, ১০০০ ইত্যাদি)-এ রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়, ফলে ভাগশেষ নিশ্চিতভাবেই শূন্য হয়ে যায়।
উদাহরণসমূহ:

  • ৩/৮ = ৩/(২^৩) = (৩ × ৫^৩)/(২^৩ × ৫^৩) = (৩ × ১২৫)/১০০০ = ৩৭৫/১০০০ = ০.৩৭৫ (সসীম)।
  • ৭/২৫ = ৭/(৫^২) = (৭ × ২^২)/(৫^২ × ২^২) = ২৮/১০০ = ০.২৮ (সসীম)।
  • ১৩/৪০ = ১৩/(২^৩ × ৫^১) = (১৩ × ৫^২)/(২^৩ × ৫^৩) = ৩২৫/১০০০ = ০.৩২৫ (সসীম)।

২.২ অসীম আবৃত্ত দশমিক সংখ্যা (Non-terminating Recurring Decimals)

লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশিত কোনো মূলদ ভগ্নাংশ p/q-এর হর q-এ যদি ২ ও ৫ ব্যতীত অন্য কোনো মৌলিক উৎপাদক (যেমন ৩, ৭, ১১, ১৩ ইত্যাদি) উপস্থিত থাকে, তবে ভাগ প্রক্রিয়াটি কখনোই নিঃশেষে বিভাজ্য হবে না (ভাগশেষ কখনোই শূন্য হবে না)। এক্ষেত্রে দশমিক বিন্দুর পর এক বা একাধিক অঙ্ক ক্রমান্বয়ে নির্দিষ্ট পর্যায় মেনে আবর্তিত হতে থাকবে। একে অসীম আবৃত্ত বা পৌনঃপুনিক দশমিক সংখ্যা (Non-terminating Periodic / Recurring Decimal) বলে।

আবৃত্ত দশমিক সংখ্যা প্রধানত দুই প্রকার:

  1. বিশুদ্ধ আবৃত্ত দশমিক (Pure Recurring Decimal):
    যে আবৃত্ত দশমিক সংখ্যায় দশমিক বিন্দুর ঠিক পর থেকেই পৌনঃপুনিক বা আবৃত্ত অঙ্ক শুরু হয়, তাকে বিশুদ্ধ আবৃত্ত দশমিক বলে।
    উদাহরণ: ১/৩ = ০.৩৩৩... = ০.৩̅ (বা ০.৩̇); ২/৭ = ০.২৮৫৭১৪২৮৫৭১৪... = ০.২̅৮৫৭১৪̅।
  2. মিশ্র আবৃত্ত দশমিক (Mixed Recurring Decimal):
    যে আবৃত্ত দশমিক সংখ্যায় দশমিক বিন্দুর পর অন্তত একটি বা একাধিক অনাবৃত্ত অঙ্ক থাকার পর আবৃত্ত অঙ্ক শুরু হয়, তাকে মিশ্র আবৃত্ত দশমিক বলে।
    উদাহরণ: ১/৬ = ০.১৬৬৬... = ০.১৬̅ (এখানে ১ অনাবৃত্ত, ৬ আবৃত্ত); ৭/৩০ = ০.২৩৩৩... = ০.২৩̅ (২ অনাবৃত্ত, ৩ আবৃত্ত); ১১/৪৫ = ০.২৪৪... = ০.২৪̅।

২.৩ আবৃত্ত দশমিককে p/q মূলদ ভগ্নাংশে রূপান্তরের বীজগাণিতিক প্রতিপাদন ও সংক্ষিপ্ত সূত্র

১. বিশুদ্ধ আবৃত্ত দশমিকের বীজগাণিতিক প্রমাণ:
ধরি, x = ০.৩̅ = ০.৩৩৩... -------- (সমীকরণ ১)
যেহেতু ১টি অঙ্ক আবর্তিত হচ্ছে, তাই উভয়পক্ষকে ১০ দ্বারা গুণ করি:
১০x = ৩.৩৩৩... = ৩.৩̅ -------- (সমীকরণ ২)
সমীকরণ (২) থেকে সমীকরণ (১) বিয়োগ করে পাই:
১০x - x = ৩.৩৩৩... - ০.৩৩৩...
⟹ ৯x = ৩
⟹ x = ৩ / ৯ = ১ / ৩ (লঘিষ্ঠ আকার, প্রমাণিত)।

২. মিশ্র আবৃত্ত দশমিকের বীজগাণিতিক প্রমাণ:
ধরি, x = ০.২৩̅৪ = ০.২৩৪৩৪৩৪... -------- (সমীকরণ ১)
প্রথমে দশমিক বিন্দুর পর অনাবৃত্ত অঙ্ক ১টি (২)। তাই অনাবৃত্ত অংশকে দশমিকের বাঁয়ে আনতে উভয়পক্ষকে ১০ দিয়ে গুণ করি:
১০x = ২.৩৪̅ = ২.৩৪৩৪৩৪... -------- (সমীকরণ ২)
এখন আবৃত্ত অংশে ২টি অঙ্ক (৩ এবং ৪)। তাই সমীকরণ (২)-এর উভয়পক্ষকে ১০০ দিয়ে গুণ করি:
১০০০x = ২৩৪.৩৪̅ = ২৩৪.৩৪৩৪৩৪... -------- (সমীকরণ ৩)
এখন সমীকরণ (৩) থেকে সমীকরণ (২) বিয়োগ করি:
১০০০x - ১০x = ২৩৪.৩৪̅ - ২.৩৪̅
⟹ ৯৯০x = ২৩২
⟹ x = ২৩২ / ৯৯০ = ১১৬ / ৪৯৫ (লঘিষ্ঠ মূলদ রূপ)।

বোর্ডের শর্টকাট সূত্র (Master Conversion Rule):
ভগ্নাংশের লব = (দশমিক ও পৌনঃপুনিক চিহ্ন বর্জন করে সম্পূর্ণ সংখ্যা) - (পৌনঃপুনিক ছাড়া অনাবৃত্ত অংশের সম্পূর্ণ সংখ্যা)
ভগ্নাংশের হর = যতগুলি আবৃত্ত অঙ্ক আছে ততগুলি ৯, এবং তার ঠিক ডানে দশমিক বিন্দুর পরের অনাবৃত্ত অঙ্কের সংখ্যার সমান সংখ্যক ০।
যেমন ০.২৩̅৪-এর ক্ষেত্রে: লব = ২৩৪ - ২ = ২৩২; হর = দুটি ৯ ও একটি ০ = ৯৯০। ভগ্নাংশ = ২৩২/৯৯০ = ১১৬/৪৯৫।

মডিউল ৩: অমূলদ সংখ্যার ধারণা (Q') ও অমূলদত্বের চিরায়ত প্রমাণ (Irrational Numbers & Proofs)

৩.১ অমূলদ সংখ্যার সংজ্ঞা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Concept & History)

যে সকল বাস্তব সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার ভগ্নাংশ অর্থাৎ p/q আকারে প্রকাশ করা যায় না (যেখানে p ও q পূর্ণসংখ্যা এবং q ≠ ০), তাদের অমূলদ সংখ্যা (Irrational Numbers, প্রতীক: ℚ' বা ℝ \ ℚ) বলা হয়।

দশমিক বিস্তারের অনন্য বৈশিষ্ট্য:
অমূলদ সংখ্যার দশমিক বিস্তার সর্বদা অসীম এবং অনাবৃত্ত (Non-terminating and Non-recurring)। এদের দশমিকের পর অঙ্কগুলি কখনোই শেষ হয় না এবং কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রম মেনে আবর্তিতও হয় না।
উদাহরণ:

  • ০.১০১০০১০০০১০০০০১... (এখানে ১-এর পর ক্রমান্বয়ে শূন্যের সংখ্যা একটি করে বাড়ছে, কোনো পৌনঃপুনিক নেই)।
  • ০.২০২২০০২২২... বা ০.১২৩৪৫৬৭৮৯১০১১১২...
  • পূর্ণবর্গ নয় এমন যেকোনো স্বাভাবিক সংখ্যার বর্গমূল: √২ ≈ ১.৪১৪২১৩৫৬..., √৩ ≈ ১.৭৩২০৫০৮..., √৫ ≈ ২.২৩৬০৬৮...
  • বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত পাই (π) ≈ ৩.১৪১৫৯২৬৫... (লক্ষ্য করো: ২২/৭ একটি মূলদ সংখ্যা যা π-এর আসন্ন মান মাত্র, প্রকৃত π অমূলদ)।
  • ইউলীয় সংখ্যা e ≈ ২.৭১৮২৮...

ঐতিহাসিক পটভূমি ও হিপ্পাসাসের আত্মত্যাগ:
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গ্রিক দার্শনিক ও গণিতবিদ পিথাগোরাস এবং তাঁর গোপন বিদ্যায়তনের শিষ্যরা বিশ্বাস করতেন যে মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু ও দূরত্বের সম্পর্ক দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে প্রকাশযোগ্য। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে পিথাগোরাসের শিষ্য হিপ্পাসাস (Hippasus of Metapontum) জ্যামিতিক অঙ্কন করতে গিয়ে আবিষ্কার করেন যে ১ একক বাহুবিশিষ্ট একটি বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য (√২) এমন এক সংখ্যা যাকে কোনো পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে প্রকাশ করা অসম্ভব! এই সত্য পিথাগোরীয় মতবাদের মূল ভিত্তি কাঁপিয়ে দেয়। কথিত আছে, এই গোপন সত্য প্রকাশের অপরাধে পিথাগোরাসের অনুগামীরা হিপ্পাসাসকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। তবে সত্যকে দমিয়ে রাখা যায়নি—অমূলদ সংখ্যার আবিষ্কার বিশ্ব গণিতকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেয়।

৩.২ অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতিতে (Proof by Contradiction) অমূলদত্বের চিরায়ত প্রমাণ

গণিতে কোনো বিবৃতিকে সত্য প্রমাণ করার এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও দার্শনিক পদ্ধতি হলো অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতি বা বিপরীত যুক্তি (Proof by Contradiction / Reductio ad absurdum)। এই পদ্ধতিতে যা প্রমাণ করতে হবে, প্রথমে তার সম্পূর্ণ বিপরীতটি সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। তারপর নির্ভুল গাণিতিক যুক্তিজাল বিস্তার করে দেখা হয় যে এই অনুমানের ফলে এমন একটি সিদ্ধান্ত আসে যা পূর্বপ্রতিষ্ঠিত কোনো সত্য বা স্বতঃসিদ্ধের পরিপন্থী (Contradiction)। ফলে বাধ্য হয়ে স্বীকার করতে হয় যে প্রাথমিক অনুমানটি অসত্য ছিল, অর্থাৎ মূল বিবৃতিটিই সত্য।

চিরায়ত উপপাদ্য ১: প্রমাণ করো যে √২ একটি অমূলদ সংখ্যা।

প্রমাণ:
ধাপ ১ (বিপরীত অনুমান): যদি সম্ভব হয় ধরি, √২ একটি মূলদ সংখ্যা।
ধাপ ২ (সংজ্ঞা প্রয়োগ): যেহেতু √২ মূলদ, সুতরাং আমরা দুটি পূর্ণসংখ্যা p ও q (q ≠ ০) পেতে পারি যাতে:
√২ = p / q
আমরা ধরে নিতে পারি যে p এবং q পরস্পর মৌলিক পূর্ণসংখ্যা [অর্থাৎ গ.সা.গু(p, q) = ১], অর্থাৎ p/q হলো এর লঘিষ্ঠ আকার (১ ব্যতীত অন্য কোনো সাধারণ গুণনীয়ক নেই)।
ধাপ ৩ (বর্গীকরণ): উভয়পক্ষকে বর্গ করে পাই:
(√২)^২ = (p / q)^২
⟹ ২ = p^২ / q^২
⟹ p^২ = ২q^২ -------- (সমীকরণ ১)
ধাপ ৪ (p-এর বিভাজ্যতা): সমীকরণ (১) থেকে স্পষ্ট যে p^২ হলো ২-এর গুণিতক, অর্থাৎ p^২ সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য।
আমরা জানি, কোনো মৌলিক সংখ্যা যদি কোনো পূর্ণসংখ্যার বর্গকে ভাগ করে, তবে তা সেই সংখ্যাটিকেও ভাগ করবে। যেহেতু ২ একটি মৌলিক সংখ্যা এবং p^২ সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য, সুতরাং p সংখ্যাটিও ২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।
ধাপ ৫ (ধ্রুবক প্রতিস্থাপন): যেহেতু p সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য, তাই আমরা লিখতে পারি:
p = ২k (যেখানে k হলো একটি পূর্ণসংখ্যা)।
ধাপ ৬ (সমীকরণ ১-এ মান বসানো): সমীকরণ (১)-এ p = ২k বসিয়ে পাই:
(২k)^২ = ২q^২
⟹ ৪k^২ = ২q^২
উভয়পক্ষকে ২ দ্বারা ভাগ করে পাই:
২k^২ = q^২ বা, q^২ = ২k^২ -------- (সমীকরণ ২)
ধাপ ৭ (q-এর বিভাজ্যতা): সমীকরণ (২) নির্দেশ করে যে q^২ সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য। অতএব, পূর্বের যুক্তিতে q সংখ্যাটিও ২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।
ধাপ ৮ (স্ববিরোধিতা ও উপসংহার): ধাপ ৪ এবং ধাপ ৭ থেকে দেখা যাচ্ছে যে p এবং q উভয় সংখ্যাই ২ দ্বারা বিভাজ্য। অর্থাৎ p ও q-এর অন্তত একটি সাধারণ গুণনীয়ক হলো ২।
কিন্তু এটি আমাদের ধাপ ২-এর প্রাথমিক স্বীকার্য—"p ও q পরস্পর মৌলিক অর্থাৎ এদের ১ ব্যতীত কোনো সাধারণ গুণনীয়ক নেই"—এর সম্পূর্ণ বিরোধী ও পরিপন্থী!
সুতরাং আমাদের প্রাথমিক অনুমান—"√২ একটি মূলদ সংখ্যা"—সত্য নয়।
অতএব, √২ একটি অমূলদ সংখ্যা। (প্রমাণিত)

উপপাদ্য ২: প্রমাণ করো যে ৩ + ২√৫ একটি অমূলদ সংখ্যা (যেখানে √৫ অমূলদ):
ধরি বিপরীতক্রমে, ৩ + ২√৫ একটি মূলদ সংখ্যা = r (যেখানে r ∈ ℚ)।
তাহলে,
২√৫ = r - ৩
⟹ √৫ = (r - ৩) / ২
যেহেতু r মূলদ এবং ৩ ও ২ মূলদ সংখ্যা, সুতরাং বীজগণিতের নিয়মে (r - ৩)/২ একটি মূলদ সংখ্যা হবে।
কিন্তু এর অর্থ দাঁড়ায় √৫ একটি মূলদ সংখ্যা—যা সর্বজনবিদিত সত্যের (√৫ অমূলদ) সম্পূর্ণ পরিপন্থী!
সুতরাং আমাদের অনুমান অসত্য ছিল। অতএব, ৩ + ২√৫ একটি অমূলদ সংখ্যা (প্রমাণিত)।

৩.৩ দুটি মূলদ সংখ্যার মাঝে অমূলদ সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি

ধরি ১/৭ এবং ২/৭ দুটি মূলদ সংখ্যা। এদের মাঝে অমূলদ সংখ্যা নির্ণয় করতে হলে প্রথমে এদের দশমিক বিস্তার দেখে নিতে হয়:
১/৭ = ০.১৪২৮৫৭১৪২৮৫৭... = ০.১̅৪২৮৫৭̅
২/৭ = ০.২৮৫৭১৪২৮৫৭১৪... = ০.২̅৮৫৭১৪̅
এখন ০.১৪২৮৫৭... এবং ০.২৮৫৭১৪...-এর মাঝে একটি অসীম অনাবৃত্ত দশমিক বিস্তার রচনা করলেই তা একটি অমূলদ সংখ্যা হবে।
যেমন: ০.১৫০১৫০০১৫০০০১৫০০০০১... বা ০.২০০২০০০০২...। এদের মান ১/৭ ও ২/৭-এর অন্তর্বর্তী এবং এরা নিশ্চিতভাবেই অমূলদ সংখ্যা।

মডিউল ৪: সংখ্যাচিত্রে অমূলদ সংখ্যার অবস্থান ও জ্যামিতিক অঙ্কন (Geometric Construction on Number Line)

৪.১ দেদেকিন্ড-ক্যান্টর স্বতঃসিদ্ধ ও বাস্তব সংখ্যারেখা (Dedekind-Cantor Axiom)

বাস্তব সংখ্যা এবং জ্যামিতিক সরলরেখার মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ১৯ শতকের দুই মহান জার্মান গণিতবিদ রিচার্ড দেদেকিন্ড (Richard Dedekind) এবং গেয়র্গ ক্যান্টর (Georg Cantor) এক যুগান্তকারী স্বতঃসিদ্ধ উপস্থাপন করেন:

দেদেকিন্ড-ক্যান্টর স্বতঃসিদ্ধ (Dedekind-Cantor Axiom):
"একটি নির্দিষ্ট সংখ্যারেখার প্রতিটি বিন্দু একটি এবং কেবল একটিই নির্দিষ্ট বাস্তব সংখ্যা নির্দেশ করে এবং বিপরীতক্রমে প্রতিটি বাস্তব সংখ্যার জন্য সংখ্যারেখায় একটি এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট অনন্য বিন্দু বর্তমান থাকে।"
অর্থাৎ বাস্তব সংখ্যা সেট (ℝ) এবং সংখ্যারেখার জ্যামিতিক বিন্দুসমূহের মধ্যে একটি এক-এক ও সমাপক (One-to-one and Onto Bijection) সম্পর্ক বিদ্যমান।

অবিচ্ছিন্নতার ধারণা (Completeness of the Continuum):
যদি সংখ্যারেখার ওপর কেবল মূলদ সংখ্যাগুলিকে বসানো হতো, তবে সংখ্যারেখায় অসংখ্য 'ছিদ্র' বা ফাঁকা জায়গা থেকে যেত (যেমন √২, √৩, √৫, π ইত্যাদি বিন্দুগুলির স্থান ফাঁকা থাকত)। অমূলদ সংখ্যাগুলি সেই সমস্ত ফাঁকা স্থান নিখুঁতভাবে পূর্ণ করে সংখ্যারেখাকে এক অবিচ্ছিন্ন ও নিরেট (Continuous Continuum) রূপ দান করে।

৪.২ পিথাগোরাসের উপপাদ্য প্রয়োগে সংখ্যাচিত্রে √২ স্থাপন

পিথাগোরাসের উপপাদ্য: সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজ = √(ভূমি^২ + লম্ব^২)।
যদি ভূমি = ১ একক এবং লম্ব = ১ একক হয়, তবে অতিভুজ = √(১^২ + ১^২) = √(১ + ১) = √২ একক।

অঙ্কন প্রণালী (Step-by-Step Construction):

  1. একটি সরলরেখা এঁকে তার ওপর শূন্যবিন্দুকে মূলবিন্দু O এবং ১ একক দৈর্ঘ্যের বিন্দুকে A চিহ্নিত করি (OA = ১ একক)।
  2. A বিন্দুতে চাঁদা বা পেনসিল কম্পাসের সাহায্যে OA-এর ওপর ৯০° কোণ এঁকে একটি লম্ব রেখাংশ টানি এবং স্কেল দিয়ে মেপে তার ওপর AB = ১ একক কেটে নিই।
  3. O এবং B বিন্দু স্কেল দিয়ে যুক্ত করি। ফলে ΔOAB একটি সমকোণী ত্রিভুজ গঠিত হলো।
  4. পিথাগোরাসের উপপাদ্যানুসারে: OB = √(OA^২ + AB^২) = √(১^২ + ১^২) = √২ একক।
  5. এখন কাঁটাকম্পাসের কাঁটা O বিন্দুতে বসিয়ে এবং পেনসিলের মুখ B বিন্দুতে রেখে OB-এর সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে সংখ্যারেখার ওপর একটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করি।
  6. বৃত্তচাপটি সংখ্যারেখাকে যে বিন্দুতে ছেদ করে, তার নাম দিই P। এই P বিন্দুই হলো সংখ্যারেখায় √২-এর সঠিক জ্যামিতিক অবস্থান (OP = √২ একক ≈ ১.৪১৪ একক)।

৪.৩ থিওডোরাসের সর্পিল (Spiral of Theodorus): √৩, √৪, √৫ স্থাপন

প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদ থিওডোরাস (Theodorus of Cyrene) ক্রমিক সমকোণী ত্রিভুজ অঙ্কনের মাধ্যমে যে কোনো স্বাভাবিক সংখ্যার বর্গমূল নির্ণয়ের এক অপূর্ব পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা থিওডোরাসের সর্পিল বা শামুক-কুণ্ডলী নামে পরিচিত:

  • √৩ স্থাপন: সমকোণী ত্রিভুজ OAB-এর অতিভুজ OB (যার দৈর্ঘ্য √২)-এর ওপর B বিন্দুতে OB-এর ওপর লম্বভাবে BC = ১ একক আঁকি। O এবং C যুক্ত করি। সমকোণী ত্রিভুজ OBC-তে অতিভুজ OC = √(OB^২ + BC^২) = √((√২)^২ + ১^২) = √(২ + ১) = √৩ একক। O-কে কেন্দ্র করে OC ব্যাসার্ধ নিয়ে বৃত্তচাপ টানলে সংখ্যারেখায় √৩ পাওয়া যায়।
  • √৪ = ২ স্থাপন: OC-এর ওপর C বিন্দুতে লম্ব CD = ১ একক আঁকলে OD = √((√৩)^২ + ১^২) = √(৩ + ১) = √৪ = ২ একক।
  • √৫ স্থাপন: OD-এর ওপর D বিন্দুতে লম্ব DE = ১ একক আঁকলে OE = √(২^২ + ১^২) = √(৪ + ১) = √৫ একক।
৪.৪ ধনাত্মক বাস্তব দশমিক সংখ্যার বর্গমূল √x (যেমন: √৯.৩, √৪.৫) জ্যামিতিক পদ্ধতিতে অঙ্কন ও প্রতিপাদন

যেকোনো ধনাত্মক বাস্তব সংখ্যা x (যেমন ৯.৩, ৪.৫ ইত্যাদি)-এর বর্গমূল √x জ্যামিতিক স্কেল ও কম্পাসের সাহায্যে অর্ধবৃত্ত অঙ্কন পদ্ধতির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে নির্ণয় ও সংখ্যারেখায় স্থাপন করা যায়।

অঙ্কন প্রণালী (Construction Steps for √x):

  1. একটি সোজা রেখা টেনে তার ওপর স্কেলের সাহায্যে AB = x একক (যেমন ৯.৩ সেমি) রেখাংশ নিই।
  2. B বিন্দু থেকে রেখাটিকে একই সরলরেখায় আরও ১ একক বাড়িয়ে C বিন্দু পর্যন্ত টানি (BC = ১ সেমি)। ফলে সমগ্র রেখাংশটির দৈর্ঘ্য হলো AC = x + ১ একক (যেমন ৯.৩ + ১ = ১০.৩ সেমি)।
  3. AC রেখাংশের লম্ব সমদ্বিখণ্ডক অঙ্কন করে তার মধ্যবিন্দু M নির্ণয় করি।
  4. M বিন্দুকে কেন্দ্র করে MA (বা MC) ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি অর্ধবৃত্ত অঙ্কন করি। অর্ধবৃত্তের ব্যাসার্ধ R = (x + ১) / ২ একক।
  5. B বিন্দুতে AC রেখাংশের ওপর একটি খাড়া লম্ব অঙ্কন করি, যা অর্ধবৃত্তের পরিধিকে D বিন্দুতে ছেদ করে।
  6. এই BD রেখাংশের দৈর্ঘ্যই হলো অবিকল √x একক (অর্থাৎ √৯.৩ সেমি)।
  7. এখন B বিন্দুকে মূলবিন্দু (০) ধরে সংখ্যারেখা কল্পনা করে কাঁটাকম্পাসের সাহায্যে BD-এর সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তচাপ টানলে তা সংখ্যারেখাকে যে বিন্দুতে ছেদ করে, তা-ই হলো √x-এর অবস্থান।

জ্যামিতিক উপপাদ্য দ্বারা BD = √x-এর অকাট্য প্রতিপাদন (Rigorous Proof):

M এবং D বিন্দু যুক্ত করি। ফলে ΔMBD একটি সমকোণী ত্রিভুজ গঠিত হলো, যার ∠MBD = ৯০°।
১. সমকোণী ত্রিভুজ ΔMBD-এর অতিভুজ MD হলো অর্ধবৃত্তটির ব্যাসার্ধ:
MD = AC / ২ = (x + ১) / ২ একক
২. সমকোণী ত্রিভুজটির ভূমি MB = MC - BC:
MB = (x + ১) / ২ - ১ = (x + ১ - ২) / ২ = (x - ১) / ২ একক
৩. এখন সমকোণী ত্রিভুজ ΔMBD-তে পিথাগোরাসের উপপাদ্য প্রয়োগ করে পাই:
BD^২ = MD^২ - MB^২
⟹ BD^২ = [ (x + ১) / ২ ]^২ - [ (x - ১) / ২ ]^২
⟹ BD^২ = [ (x + ১)^২ - (x - ১)^২ ] / ৪
আমরা জানি বীজগণিতের অতিপরিচিত সূত্র: (a + b)^২ - (a - b)^২ = ৪ab। এখানে a = x এবং b = ১ বসিয়ে পাই:
⟹ BD^২ = (৪ · x · ১) / ৪ = ৪x / ৪ = x
উভয়পক্ষের ধনাত্মক বর্গমূল নিয়ে পাই:
BD = √x (প্রমাণিত)।
সুতরাং জ্যামিতিক অঙ্কনে প্রাপ্ত লম্ব রেখাংশ BD-এর পরিমাপ নিখুঁতভাবে প্রদত্ত সংখ্যা x-এর বর্গমূল নির্দেশ করে।

মডিউল ৫: বাস্তব সংখ্যার ধর্মাবলি (R = Q ∪ Q') ও ক্ষেত্র স্বীকার্য (Properties & Field Axioms)

৫.১ বাস্তব সংখ্যার সেট ও ক্ষেত্র স্বীকার্য (Field Axioms of Real Numbers)

সমস্ত মূলদ সংখ্যা (ℚ) এবং সমস্ত অমূলদ সংখ্যা (ℚ')-এর সামগ্রিক সংযোগে গঠিত পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা সেটকে বাস্তব সংখ্যা (Real Numbers, প্রতীক: ℝ) বলে।
গাণিতিক সূত্রে: ℝ = ℚ ∪ ℚ' এবং ℚ ∩ ℚ' = ∅ (মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা সম্পূর্ণ পরস্পরছেদী সেট)।

বাস্তব সংখ্যার সেট ℝ দুটি মৌলিক দ্বি-পদ প্রক্রিয়া—যোগ (+) এবং গুণ (·)-এর সাপেক্ষে একটি সম্পূর্ণ ক্ষেত্র (Field) গঠন করে। বাস্তব সংখ্যার ক্ষেত্র স্বীকার্যগুলি নিম্নরূপ:

স্বীকার্যের নাম যোগ প্রক্রিয়ার সাপেক্ষে (+) গুণ প্রক্রিয়ার সাপেক্ষে (·)
১. আবদ্ধতা নিয়ম (Closure Law) a, b ∈ ℝ হলে (a + b) ∈ ℝ a, b ∈ ℝ হলে (a · b) ∈ ℝ
২. বিনিময় নিয়ম (Commutative Law) a + b = b + a a · b = b · a
৩. সংযোগ নিয়ম (Associative Law) (a + b) + c = a + (b + c) (a · b) · c = a · (b · c)
৪. একসম উপাদান (Identity Element) শূন্য (০): a + ০ = ০ + a = a এক (১): a · ১ = ১ · a = a
৫. বিপরীত উপাদান (Inverse Element) যোগের বিপরীত (-a): a + (-a) = ০ গুণের বিপরীত (১/a, a ≠ ০): a · (১/a) = ১
৬. বণ্টন নিয়ম (Distributive Law) a · (b + c) = a · b + a · c এবং (b + c) · a = b · a + c · a
৫.২ মূলদ ও অমূলদ সংখ্যার বীজগাণিতিক প্রক্রিয়াকরণ ধর্ম (Algebraic Operations)

মূলদ ও অমূলদ সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট গাণিতিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়:

১. মূলদ ও অমূলদ সংখ্যার পারস্পরিক ক্রিয়া:

  • একটি মূলদ সংখ্যা ও একটি অমূলদ সংখ্যার যোগফল সর্বদা অমূলদ সংখ্যা হয়। (যেমন: ৩ + √২ অমূলদ)।
  • একটি মূলদ সংখ্যা থেকে একটি অমূলদ সংখ্যার বিয়োগফল সর্বদা অমূলদ সংখ্যা হয়। (যেমন: ৫ - √৩ অমূলদ)।
  • একটি অশূন্য মূলদ সংখ্যা ও একটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল সর্বদা অমূলদ সংখ্যা হয়। (যেমন: ৪ × √৫ = ৪√৫ অমূলদ; কিন্তু ০ × √৫ = ০ যা মূলদ)।
  • একটি অমূলদ সংখ্যাকে অশূন্য মূলদ সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল সর্বদা অমূলদ সংখ্যা হয়। (যেমন: √৬ / ২ অমূলদ)।

২. দুটি অমূলদ সংখ্যার পারস্পরিক ক্রিয়া (চরম গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা):
দুটি অমূলদ সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ বা ভাগ সর্বদা অমূলদ নাও হতে পারে; ক্ষেত্রবিশেষে তারা মূলদ কিংবা অমূলদ উভয়ই হতে পারে।

প্রক্রিয়ার ধরন ফলাফল মূলদ (Rational) হওয়ার উদাহরণ ফলাফল অমূলদ (Irrational) হওয়ার উদাহরণ
যোগফল (+) (২ + √৩) + (২ - √৩) = ৪ (মূলদ) √২ + √৩ = √২ + √৩ (অমূলদ)
বিয়োগফল (-) (৫ + √৭) - √৭ = ৫ (মূলদ) √৫ - √২ = √৫ - √২ (অমূলদ)
গুণফল (×) √৩ × √৩ = ৩ অথবা (৩ + √২)(৩ - √২) = ৯ - ২ = ৭ (মূলদ) √২ × √৩ = √৬ (অমূলদ)
ভাগফল (÷) √১২ / √৩ = √(১২/৩) = √৪ = ২ (মূলদ) √১৫ / √২ = √(১৫/২) (অমূলদ)

মডিউল ৬: দ্বিঘাত করণী ও করণী নিরসন (Quadratic Surds & Rationalization)

৬.১ দ্বিঘাত করণীর সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ (Concept of Quadratic Surds)

যদি a একটি ধনাত্মক মূলদ সংখ্যা হয় কিন্তু কোনো মূলদ সংখ্যার পূর্ণবর্গ নয়, তবে ±√a আকারের অমূলদ সংখ্যাকে দ্বিঘাত করণী (Quadratic Surd) বলে।
যেমন: √২, √৩, √৫, √৭ দ্বিঘাত করণী; কিন্তু √৪ = ২ বা √৯ = ৩ করণী নয়, কারণ ৪ ও ৯ পূর্ণবর্গ সংখ্যা।

করণীর প্রকারভেদ:

  • ১. শুদ্ধ দ্বিঘাত করণী (Pure Quadratic Surd): যে দ্বিঘাত করণীর মূলদ সহগ ১ বা -১ হয়, তাকে শুদ্ধ দ্বিঘাত করণী বলে। যেমন: √৩, -√৫, √৮ = ২√২, √১২ = ২√৩।
  • ২. মিশ্র দ্বিঘাত করণী (Mixed Quadratic Surd): কোনো মূলদ সংখ্যা এবং একটি শুদ্ধ দ্বিঘাত করণীর বীজগণিতীয় সমষ্টি বা অন্তরকে মিশ্র দ্বিঘাত করণী বলে। অর্থাৎ এর সাধারণ আকার a ± √b (যেখানে a মূলদ এবং √b শুদ্ধ করণী)। যেমন: ৩ + √৫, ২ - ৩√৭।
  • ৩. সদৃশ করণী (Similar Surds): দুই বা ততোধিক করণীকে সরলতম বা লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করলে যদি তাদের অমূলদ বা করণী অংশ হুবহু একই হয়, তবে তাদের সদৃশ করণী বলে।
    যেমন: √৮ = ২√২, √১৮ = ৩√২, √৩২ = ৪√২, √৫০ = ৫√২—এদের প্রত্যেকেরই করণী অংশ হলো √২, সুতরাং এরা সদৃশ করণী। একমাত্র সদৃশ করণীগুলির মধ্যেই বীজগণিতীয় যোগ ও বিয়োগ সম্ভব (যেমন ২√২ + ৩√২ = ৫√২)।
  • ৪. অসদৃশ করণী (Dissimilar Surds): সরলতম আকারে প্রকাশ করার পর যদি করণী অংশ ভিন্ন হয়, তবে তাদের অসদৃশ করণী বলে। যেমন: √১২ = ২√৩ এবং √১৮ = ৩√২। এদের সাধারণ যোগ-বিয়োগ সম্ভব নয়।

৬.২ করণী নিরসন ও অনুবন্ধী করণী (Rationalization & Conjugate Surds)

করণী নিরসক উৎপাদক (Rationalizing Factor):
কোনো করণীযুক্ত রাশিকে যে উপযুক্ত করণীযুক্ত রাশি দ্বারা গুণ করলে গুণফলটি সম্পূর্ণ করণীমুক্ত একটি মূলদ সংখ্যায় পরিণত হয়, সেই গুণকটিকে প্রথম রাশির করণী নিরসক উৎপাদক বলে।
যেমন: √৫-এর করণী নিরসক উৎপাদক হলো √৫ (যেহেতু √৫ × √৫ = ৫)।
আবার (২ + √৩)-এর করণী নিরসক উৎপাদক হলো (২ - √৩), কারণ (২ + √৩)(২ - √৩) = ২^২ - (√৩)^২ = ৪ - ৩ = ১ (মূলদ)।

অনুবন্ধী বা পূরক করণী (Conjugate Surd):
কোনো মিশ্র দ্বিঘাত করণী (a + √b)-এর করণী নিরসক উৎপাদক (a - √b)-কে তার অনুবন্ধী বা পূরক করণী বলা হয় যদি এবং কেবল যদি তাদের যোগফল এবং গুণফল উভয়ই মূলদ সংখ্যা হয়।

যাচাইকরণ:
১. যোগফল = (a + √b) + (a - √b) = ২a [যা সম্পূর্ণ মূলদ সংখ্যা]।
২. গুণফল = (a + √b)(a - √b) = a^২ - (√b)^২ = a^২ - b [যা সম্পূর্ণ মূলদ সংখ্যা]।
গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সতর্কতা: (-a + √b)-ও (a + √b)-এর একটি করণী নিরসক উৎপাদক, কিন্তু এটি অনুবন্ধী করণী নয়! কারণ এদের যোগফল (a + √b) + (-a + √b) = ২√b, যা অমূলদ থেকে যায়। সুতরাং মনে রাখতে হবে: "সকল অনুবন্ধী করণীই করণী নিরসক উৎপাদক, কিন্তু সকল করণী নিরসক উৎপাদক অনুবন্ধী করণী নয়।"
৬.৩ হরের করণী নিরসন ও মানের তুলনা (Rationalization of Denominator & Comparison)

হরের করণী নিরসন (Rationalizing the Denominator):
কোনো ভগ্নাংশের হরে করণী থাকলে হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত জটিল হয়। হরের করণী নিরসক অনুবন্ধী উৎপাদক দিয়ে ভগ্নাংশের লব ও হর উভয়কে গুণ করে হরকে মূলদ সংখ্যায় রূপান্তর করার কৌশলকে হরের করণী নিরসন বলে।
যেমন: ১ / (√৩ - √২) = [১ × (√৩ + √২)] / [(√৩ - √২)(√৩ + √২)] = (√৩ + √২) / (৩ - ২) = √৩ + √২।

একাধিক করণীর মানের তুলনা (Comparing Surds):
যদি দুটি করণীর মানের তুলনা করতে হয়, তবে তাদের সমঘাতী সূচকে রূপান্তর করতে হয় অথবা বর্গ করে তুলনা করা হয়।
উদাহরণ: (√৫ + √৩) এবং (√৬ + √২)-এর মধ্যে কোনটি বৃহত্তর?
(√৫ + √৩)^২ = ৫ + ৩ + ২√(১৫) = ৮ + ২√১৫
(√৬ + √২)^২ = ৬ + ২ + ২√(১২) = ৮ + ২√১২
যেহেতু ১৫ > ১২, সুতরাং ২√১৫ > ২√১২। অতএব (৮ + ২√১৫) > (৮ + ২√১২)।
সুতরাং (√৫ + √৩) > (√৬ + √২)।

গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক সূত্র, অভেদ ও উপপাদ্য

মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব নির্ণায়ক সূত্র (Density Formula)
a < b এবং n হলো নির্ণেয় মূলদ সংখ্যার সংখ্যা
গড় পদ্ধতিতেও (a + b)/২ প্রয়োগ করে মধ্যবর্তী সংখ্যা নির্ণয় করা যায়।
সসীম দশমিকের হর নির্ণায়ক শর্ত (Terminating Decimal Rule)
m, n ∈ {০, ১, ২, ৩, ...} (অঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যা)
হর বিশ্লেষণ করার পূর্বে অবশ্যই লব ও হর কাটাকাটি করে ভগ্নাংশটিকে লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করতে হবে।
বিশুদ্ধ আবৃত্ত দশমিকের মূলদ রূপান্তর নীতি
লব = আবৃত্ত অঙ্কসমূহ; হর = যতগুলি আবৃত্ত অঙ্ক ততগুলি ৯
যেমন: ০.৩̅ = ৩/৯ = ১/৩; ০.২৭̅ = ২৭/৯৯ = ৩/১১।
মিশ্র আবৃত্ত দশমিকের মাস্টার রূপান্তর সূত্র
লব = সম্পূর্ণ সংখ্যা - অনাবৃত্ত সংখ্যা; হর = ৯...৯ ০...০
যেমন ০.১৬̅ = (১৬ - ১)/৯০ = ১৫/৯০ = ১/৬।
পিথাগোরাসের উপপাদ্য ও কর্ণের অমূলদ দৈর্ঘ্য
ভূমি = ১ একক, লম্ব = ১ একক হলে অতিভুজ = √২ একক
হিপ্পাসাস এই কর্ণের দৈর্ঘ্য হিসেব করতে গিয়েই প্রথম অমূলদ সংখ্যা আবিষ্কার করেন।
জ্যামিতিক পদ্ধতিতে √x প্রতিপাদন সমীকরণ
ব্যাস AC = x + ১, ব্যাসার্ধ MD = (x+১)/২, ভূমি MB = (x-১)/২
অঙ্কনে AB = x সেমি এবং BC = ১ সেমি নিয়ে সম্পূর্ণ AC-এর লম্ব সমদ্বিখণ্ডক আঁকতে হয়।
ক্ষেত্র স্বীকার্য: একসম ও বিপরীত উপাদানের অস্তিত্ব
০ হলো যোগের একসম, ১ হলো গুণের একসম; a ≠ ০ হলে ১/a গুণের বিপরীত
শূন্যের কোনো গুণন বিপরীত (১/০) নেই, কারণ শূন্য দ্বারা ভাগ অসংজ্ঞাত।
অনুবন্ধী করণীর গুণফল ও হরের করণী নিরসন সূত্র
a^২ - b সর্বদা একটি মূলদ সংখ্যা
(a + √b)-এর অনুবন্ধী করণী হলো (a - √b); এদের যোগফল ও গুণফল উভয়ই মূলদ।
অমূলদ সংখ্যার দ্বিপদ প্রক্রিয়াকরণ ফলাফল নীতি
দুটি অমূলদ সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ বা ভাগ মূলদ বা অমূলদ উভয়ই হতে পারে
(৩ + √৫) + (৩ - √৫) = ৬ (মূলদ)।
করণীর সমঘাতী রূপান্তর ও সূচক সমতা সূত্র
ঘাত n এবং m হলে ল.সা.গু L নিয়ে a^(L/n) এবং b^(L/m) দ্বারা মানের তুলনা
যেমন √২ = ২^(১/২) = ২^(৩/৬) = ⁶√৮ এবং ∛৩ = ৩^(১/৩) = ৩^(২/৬) = ⁶√৯; সুতরাং ∛৩ > √২।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম কাকে বলে? ৩/৫ এবং ৪/৫-এর মধ্যবর্তী ৪টি মূলদ সংখ্যা সাধারণ ব্যবধান পদ্ধতি প্রয়োগ করে নির্ণয় করো এবং দেখাও যে তারা ৩/৫ ও ৪/৫-এর অন্তর্বর্তী।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম (Density Property):
যেকোনো দুটি অসমান বাস্তব বা মূলদ সংখ্যার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অসংখ্য (অনন্ত) মূলদ সংখ্যা অবস্থান করে। সংখ্যার এই অনন্য বৈশিষ্ট্যকে মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম বলা হয়।

২. গাণিতিক সমাধান:
প্রদত্ত মূলদ সংখ্যা দুটি হলো a = ৩/৫ এবং b = ৪/৫।
এখানে স্পষ্টতই a < b (যেহেতু ৩/৫ < ৪/৫)।
আমাদের নির্ণয় করতে হবে n = ৪ টি মূলদ সংখ্যা।

সাধারণ ব্যবধান d নির্ণয়ের সূত্রানুসারে:
d = (b - a) / (n + ১)
d = (৪/৫ - ৩/৫) / (৪ + ১)
d = (১/৫) / ৫ = ১ / (৫ × ৫) = ১ / ২৫

অতএব মধ্যবর্তী ৪টি ক্রমিক মূলদ সংখ্যা হবে:
  • প্রথম সংখ্যা: a + d = ৩/৫ + ১/২৫ = (১৫ + ১) / ২৫ = ১৬ / ২৫
  • দ্বিতীয় সংখ্যা: a + ২d = ৩/৫ + ২/২৫ = (১৫ + ২) / ২৫ = ১৭ / ২৫
  • তৃতীয় সংখ্যা: a + ৩d = ৩/৫ + ৩/২৫ = (১৫ + ৩) / ২৫ = ১৮ / ২৫
  • চতুর্থ সংখ্যা: a + ৪d = ৩/৫ + ৪/২৫ = (১৫ + ৪) / ২৫ = ১৯ / ২৫

৩. তুলনামূলক যাচাই:
মূল সংখ্যা দুটিকে ২৫ হরে রূপান্তর করলে পাই: ৩/৫ = ১৫/২৫ এবং ৪/৫ = ২০/২৫।
সুতরাং স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে:
১৫/২৫ < ১৬/২৫ < ১৭/২৫ < ১৮/২৫ < ১৯/২৫ < ২০/২৫
অর্থাৎ ৩/৫ < ১৬/২৫ < ১৭/২৫ < ১৮/২৫ < ১৯/২৫ < ৪/৫।

উত্তর: ৩/৫ এবং ৪/৫-এর মধ্যবর্তী ৪টি মূলদ সংখ্যা হলো ১৬/২৫, ১৭/২৫, ১৮/২৫ এবং ১৯/২৫।
উদাহরণ 2
০.১২̅৭ মিশ্র আবৃত্ত দশমিক সংখ্যাটিকে বীজগণিতীয় সমীকরণ গঠন করে p/q মূলদ ভগ্নাংশে রূপান্তর করো। অতঃপর সংক্ষিপ্ত সূত্রের সাহায্যে ফলাফলটি যাচাই করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. বীজগণিতীয় সমীকরণ পদ্ধতিতে রূপান্তর:
ধরি প্রদত্ত সংখ্যাটি হলো x:
x = ০.১২৭২৭২৭... = ০.১২̅৭ -------- (সমীকরণ ১)

এখানে দশমিক বিন্দুর পর অনাবৃত্ত অঙ্ক ১টি (১)। অনাবৃত্ত অংশকে দশমিকের বাঁয়ে আনতে সমীকরণ (১)-এর উভয়পক্ষকে ১০ দ্বারা গুণ করে পাই:
১০x = ১.২৭২৭২৭... = ১.২̅৭ -------- (সমীকরণ ২)

এখন আবৃত্ত অংশে ২টি অঙ্ক আবর্তিত হচ্ছে (২ এবং ৭)। আবৃত্ত অংশকে দশমিকের বাঁয়ে নিয়ে আসার জন্য সমীকরণ (২)-এর উভয়পক্ষকে ১০০ দ্বারা গুণ করে পাই:
১০০০x = ১২৭.২৭২৭২৭... = ১২৭.২̅৭ -------- (সমীকরণ ৩)

এখন সমীকরণ (৩) থেকে সমীকরণ (২) বিয়োগ করে পাই:
১০০০x - ১০x = (১২৭.২̅৭) - (১.২̅৭)
⟹ ৯৯০x = ১২৭ - ১
⟹ ৯৯০x = ১২৬
⟹ x = ১২৬ / ৯৯০

লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করতে লব ও হরকে ১৮ দিয়ে ভাগ করি (১২৬ ও ৯৯০-এর গ.সা.গু ১৮):
১২৬ ÷ ১৮ = ৭
৯৯০ ÷ ১৮ = ৫৫
⟹ x = ৭ / ৫৫

২. সংক্ষিপ্ত সূত্রের সাহায্যে যাচাইকরণ:
সংক্ষিপ্ত সূত্রানুসারে:
লব = (সম্পূর্ণ সংখ্যা) - (অনাবৃত্ত অংশ) = ১২৭ - ১ = ১২৬
হর = (আবৃত্ত অঙ্কের সমান সংখ্যক ৯ এবং অনাবৃত্ত অঙ্কের সমান সংখ্যক ০) = ৯৯০ (যেহেতু ২টি আবৃত্ত অঙ্ক তাই দুটি ৯, ১টি অনাবৃত্ত অঙ্ক তাই একটি ০)।
অতএব ভগ্নাংশ = ১২৬ / ৯৯০ = ৭ / ৫৫।

উত্তর: ০.১২̅৭ সংখ্যাটির লঘিষ্ঠ মূলদ রূপ হলো ৭/৫৫। উভয় পদ্ধতির ফলাফল সম্পূর্ণ অভিন্ন।
উদাহরণ 3
অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতি (Proof by Contradiction)-র সাহায্যে প্রমাণ করো যে √২ একটি অমূলদ সংখ্যা। এর সাহায্যে দেখাও যে ৩ + ২√২ সংখ্যাটিও একটি অমূলদ সংখ্যা।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. প্রথম অংশ: √২ একটি অমূলদ সংখ্যা তার প্রমাণ:
যদি সম্ভব হয় ধরি, √২ একটি মূলদ সংখ্যা।
সুতরাং মূলদ সংখ্যার সংজ্ঞার্থ অনুসারে এমন দুটি পূর্ণসংখ্যা p ও q (q ≠ ০) বিদ্যমান থাকবে যাতে:
√২ = p / q
আমরা ধরে নিই p ও q পরস্পর মৌলিক [অর্থাৎ গ.সা.গু(p, q) = ১], অর্থাৎ ভগ্নাংশটি লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশিত।

উভয়পক্ষকে বর্গ করে পাই:
২ = p^২ / q^২ ⟹ p^২ = ২q^২ -------- (সমীকরণ ১)

যেহেতু ২q^২ সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য, সুতরাং p^২ অবশ্যই ২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।
পাটিগণিতের মৌলিক উপপাদ্য অনুসারে, ২ একটি মৌলিক সংখ্যা এবং তা p^২-কে ভাগ করে, অতএব p সংখ্যাটিও ২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।

যেহেতু p সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য, তাই আমরা লিখতে পারি:
p = ২k (যেখানে k একটি পূর্ণসংখ্যা)।

এখন সমীকরণ (১)-এ p = ২k বসিয়ে পাই:
(২k)^২ = ২q^২
⟹ ৪k^২ = ২q^২
উভয়পক্ষকে ২ দ্বারা ভাগ করে পাই:
q^২ = ২k^২ -------- (সমীকরণ ২)

সমীকরণ (২) থেকে স্পষ্ট যে q^২ সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য, সুতরাং q সংখ্যাটিও ২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।

স্ববিরোধিতা: উপরোক্ত বিশ্লেষণ নির্দেশ করে যে p এবং q উভয় সংখ্যাই ২ দ্বারা বিভাজ্য। অর্থাৎ p ও q-এর ১ ব্যতীত অন্তত একটি সাধারণ গুণনীয়ক হলো ২। কিন্তু এটি আমাদের প্রাথমিক স্বীকার্যের (p ও q পরস্পর মৌলিক) সম্পূর্ণ পরিপন্থী!
অতএব, আমাদের প্রাথমিক অনুমান অসত্য ছিল। সুতরাং √২ একটি অমূলদ সংখ্যা। (প্রমাণিত)

২. দ্বিতীয় অংশ: ৩ + ২√২ একটি অমূলদ সংখ্যা তার প্রমাণ:
যদি সম্ভব হয় ধরি, ৩ + ২√২ একটি মূলদ সংখ্যা = r (যেখানে r ∈ ℚ)।
তাহলে,
২√২ = r - ৩
⟹ √২ = (r - ৩) / ২

যেহেতু r একটি মূলদ সংখ্যা এবং ৩ ও ২ মূলদ সংখ্যা, সুতরাং মূলদ সংখ্যার আবদ্ধতা ও ভাগ প্রক্রিয়া অনুসারে (r - ৩) / ২ নিশ্চিতভাবেই একটি মূলদ সংখ্যা হবে।
কিন্তু এর অর্থ দাঁড়ায় √২ একটি মূলদ সংখ্যা—যা প্রথম অংশে প্রমাণিত সত্যের (√২ অমূলদ) সম্পূর্ণ বিরোধী!
অতএব আমাদের অনুমান ভ্রান্ত ছিল।
সুতরাং ৩ + ২√২ একটি অমূলদ সংখ্যা। (প্রমাণিত)
উদাহরণ 4
জ্যামিতিক পদ্ধতিতে সংখ্যাচিত্রে √৯.৩-এর মান নির্ণয় করে স্থাপন করো। পিথাগোরাসের উপপাদ্য প্রয়োগ করে জ্যামিতিক প্রমাণের সাহায্যে দেখাও যে অঙ্কিত রেখাংশের দৈর্ঘ্য সত্যই √৯.৩ একক।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. জ্যামিতিক অঙ্কন প্রণালী (Construction Steps):
  • একটি সরলরেখা টেনে তার ওপর স্কেলের সাহায্যে AB = ৯.৩ সেমি রেখাংশ আঁকি।
  • B বিন্দু থেকে রেখাটিকে একই দিকে আরও BC = ১ সেমি বাড়িয়ে নিই। ফলে সম্পূর্ণ রেখাংশ AC = ৯.৩ + ১ = ১০.৩ সেমি হলো।
  • AC রেখাংশের ওপর পেনসিল কম্পাস দিয়ে লম্ব সমদ্বিখণ্ডক অঙ্কন করে মধ্যবিন্দু M নির্ণয় করি।
  • M-কে কেন্দ্র করে MA (বা MC) ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি অর্ধবৃত্ত অঙ্কন করি। এখানে অর্ধবৃত্তের ব্যাসার্ধ R = ১০.৩ / ২ = ৫.১৫ সেমি।
  • B বিন্দুতে AC রেখাংশের ওপর চাঁদা বা কম্পাসের সাহায্যে একটি লম্ব অঙ্কন করি, যা অর্ধবৃত্তকে D বিন্দুতে ছেদ করে। এই BD রেখাংশটির দৈর্ঘ্যই হলো √৯.৩।
  • B বিন্দুকে মূলবিন্দু (০) বিবেচনা করে সংখ্যারেখা চিহ্নিত করি এবং কাঁটাকম্পাস দিয়ে BD-এর সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তচাপ টানলে তা সংখ্যারেখাকে যে P বিন্দুতে ছেদ করে, সেই P বিন্দুই হলো √৯.৩-এর সঠিক অবস্থান।

২. জ্যামিতিক উপপাদ্য দ্বারা BD = √৯.৩-এর প্রমাণ:
কেন্দ্রবিন্দু M এবং পরিধিস্থ বিন্দু D স্কেল দিয়ে যুক্ত করি। ফলে ΔMBD একটি সমকোণী ত্রিভুজ গঠিত হলো, যার ∠MBD = ৯০°।

সমকোণী ত্রিভুজ ΔMBD-তে:
১. অতিভুজ MD = অর্ধবৃত্তের ব্যাসার্ধ = AC / ২ = (৯.৩ + ১) / ২ = ১০.৩ / ২ = ৫.১৫ সেমি।
২. ভূমি MB = MC - BC = ৫.১৫ - ১ = ৪.১৫ সেমি।
[বিকল্পভাবে: MB = (৯.৩ - ১) / ২ = ৮.৩ / ২ = ৪.১৫ সেমি]।

এখন সমকোণী ত্রিভুজ ΔMBD-তে পিথাগোরাসের উপপাদ্য প্রয়োগ করে পাই:
BD^২ = MD^২ - MB^২
⟹ BD^২ = (৫.১৫)^২ - (৪.১৫)^২

বীজগণিতের a^২ - b^২ = (a + b)(a - b) সূত্র প্রয়োগ করে পাই:
⟹ BD^২ = (৫.১৫ + ৪.১৫) × (৫.১৫ - ৪.১৫)
⟹ BD^২ = ৯.৩ × ১ = ৯.৩

উভয়পক্ষের বর্গমূল গ্রহণ করে পাই:
BD = √৯.৩ সেমি (প্রমাণিত)।

স্কেল দিয়ে মেপে দেখা যাবে BD-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.০৫ সেমি, যা √৯.৩-এর প্রায়োগিক আসন্ন মান।
উদাহরণ 5
এমন দুটি অমূলদ সংখ্যা লেখো যাদের: (ক) যোগফল একটি মূলদ সংখ্যা, (খ) বিয়োগফল একটি মূলদ সংখ্যা, (গ) গুণফল একটি মূলদ সংখ্যা, (ঘ) ভাগফল একটি মূলদ সংখ্যা। প্রতিটি ক্ষেত্রে গাণিতিক যুক্তি দাও। 'দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল সর্বদা অমূলদ'—এই উক্তিটি কি সত্য? ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. চারটি ক্ষেত্রে অমূলদ সংখ্যার উদাহরণ ও যুক্তি:

(ক) যোগফল একটি মূলদ সংখ্যা:
ধরি প্রথম অমূলদ সংখ্যাটি হলো (৩ + √৫) এবং দ্বিতীয় অমূলদ সংখ্যাটি হলো (৩ - √৫)।
এদের যোগফল = (৩ + √৫) + (৩ - √৫) = ৩ + ৩ + (√৫ - √৫) = ৬।
যেহেতু ৬ = ৬/১ একটি পূর্ণসংখ্যা, সুতরাং এদের যোগফল একটি মূলদ সংখ্যা।

(খ) বিয়োগফল একটি মূলদ সংখ্যা:
ধরি প্রথম অমূলদ সংখ্যাটি হলো (৭ + √২) এবং দ্বিতীয় অমূলদ সংখ্যাটি হলো √২।
এদের বিয়োগফল = (৭ + √২) - √২ = ৭।
যেহেতু ৭ একটি স্বাভাবিক ও মূলদ সংখ্যা, সুতরাং এদের বিয়োগফল একটি মূলদ সংখ্যা।

(গ) গুণফল একটি মূলদ সংখ্যা:
ধরি প্রথম অমূলদ সংখ্যাটি হলো √৩ এবং দ্বিতীয় অমূলদ সংখ্যাটি হলো √৩।
এদের গুণফল = √৩ × √৩ = (√৩)^২ = ৩ (মূলদ সংখ্যা)।
[বিকল্প মিশ্র উদাহরণ: (২ + √৩) এবং (২ - √৩) গুণ করলে হয় ২^২ - (√৩)^২ = ৪ - ৩ = ১ যা মূলদ]।

(ঘ) ভাগফল একটি মূলদ সংখ্যা:
ধরি প্রথম অমূলদ সংখ্যাটি হলো √১৮ এবং দ্বিতীয় অমূলদ সংখ্যাটি হলো √২।
এদের ভাগফল = √১৮ / √২ = √(১৮ / ২) = √৯ = ৩।
যেহেতু ৩ একটি পূর্ণসংখ্যা, সুতরাং এদের ভাগফল একটি মূলদ সংখ্যা।

২. 'দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল সর্বদা অমূলদ'—উক্তিটির বিচার:
উক্তিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভ্রান্ত।
ব্যাখ্যা: দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল মূলদ অথবা অমূলদ উভয়ই হতে পারে:
  • যদি অমূলদ দুটি পরস্পর করণী নিরসক হয় (যেমন √৫ এবং √৫), তবে গুণফল √৫ × √৫ = ৫ (মূলদ)।
  • আবার যদি অসদৃশ অমূলদ হয় (যেমন √২ এবং √৩), তবে গুণফল √২ × √৩ = √৬ (অমূলদ)।
অতএব, দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল সর্বদা অমূলদ হয় না—পরিস্থিতিভেদে তা মূলদ বা অমূলদ যেকোনোটি হতে পারে।
উদাহরণ 6
যদি x = ২ + √৩ হয়, তবে নির্ণয় করো: (ক) ১/x, (খ) x + ১/x, (গ) x^২ + ১/x^২, এবং (ঘ) x^৩ + ১/x^৩। এছাড়াও দেখাও যে ১/(√২ + ১) + ১/(√৩ + √২) + ১/(√৪ + √৩) = ১।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. প্রথম অংশ: x = ২ + √৩ সংক্রান্ত মান নির্ণয়:

(ক) ১/x-এর মান:
১ / x = ১ / (২ + √৩)
হরের অনুবন্ধী করণী (২ - √৩) দিয়ে লব ও হরকে গুণ করে পাই:
১ / x = [ ১ × (২ - √৩) ] / [ (২ + √৩)(২ - √৩) ]
= (২ - √৩) / [ ২^২ - (√৩)^২ ]
= (২ - √৩) / (৪ - ৩) = (২ - √৩) / ১ = ২ - √৩।
অতএব, ১/x = ২ - √৩।

(খ) x + ১/x-এর মান:
x + ১/x = (২ + √৩) + (২ - √৩) = ২ + ২ + (√৩ - √৩) = ৪।
অতএব, x + ১/x = ৪।

(গ) x^২ + ১/x^২-এর মান:
আমরা জানি বীজগণিতের সূত্র: a^২ + b^২ = (a + b)^২ - ২ab।
x^২ + ১/x^২ = (x + ১/x)^২ - ২ · x · (১/x)
= (৪)^২ - ২(১) = ১৬ - ২ = ১৪।
অতএব, x^২ + ১/x^২ = ১৪।

(ঘ) x^৩ + ১/x^৩-এর মান:
আমরা জানি বীজগণিতের সূত্র: a^৩ + b^৩ = (a + b)^৩ - ৩ab(a + b)।
x^৩ + ১/x^৩ = (x + ১/x)^৩ - ৩ · x · (১/x) · (x + ১/x)
= (৪)^৩ - ৩(১)(৪) = ৬৪ - ১২ = ৫২।
অতএব, x^৩ + ১/x^৩ = ৫২।

২. দ্বিতীয় অংশ: প্রমাণ যে ১/(√২ + ১) + ১/(√৩ + √২) + ১/(√৪ + √৩) = ১:
বামপক্ষের প্রতিটি পদের হরের করণী নিরসন করি:
১. প্রথম পদ: ১ / (√২ + ১) = (√২ - ১) / [(√২ + ১)(√২ - ১)] = (√২ - ১) / (২ - ১) = √২ - ১
২. দ্বিতীয় পদ: ১ / (√৩ + √২) = (√৩ - √২) / [(√৩ + √২)(√৩ - √২)] = (√৩ - √২) / (৩ - ২) = √৩ - √২
৩. তৃতীয় পদ: ১ / (√৪ + √৩) = (√৪ - √৩) / [(√৪ + √৩)(√৪ - √৩)] = (√৪ - √৩) / (৪ - ৩) = √৪ - √৩

এখন পদ তিনটি যোগ করে পাই:
বামপক্ষ = (√২ - ১) + (√৩ - √২) + (√৪ - √৩)
ব্র্যাকেট তুলে পদগুলি সাজিয়ে পাই:
= √২ - ১ + √৩ - √২ + √৪ - √৩
বিপরীত পদগুলি কেটে গিয়ে অবশিষ্ট থাকে:
= -১ + √৪
আমরা জানি √৪ = ২।
= -১ + ২ = ১ = ডানপক্ষ (প্রমাণিত)।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

শূন্য (০) কে মূলদ সংখ্যা না মনে করা বা অমূলদ ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

শূন্য (০) একটি নিশ্চিত মূলদ সংখ্যা। কারণ শূন্যকে ০/১, ০/২, ০/-৫ ইত্যাদি p/q আকারে লেখা যায়, যেখানে p = ০, q = ১ উভয়ই পূর্ণসংখ্যা এবং হর q ≠ ০।

সাধারণ ভুল ধারণা

পাই (π) কে মূলদ সংখ্যা মনে করা কারণ এর মান ২২/৭ ধরা হয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

২২/৭ একটি মূলদ সংখ্যা (দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত), কিন্তু এটি π-এর প্রকৃত মান নয়; এটি গণনার সুবিধার্থে গৃহীত একটি নিকটবর্তী আসন্ন মান মাত্র। বৃত্তের প্রকৃত পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত π একটি অমূলদ ও তুরীয় (Transcendental) সংখ্যা, যার দশমিক বিস্তার অসীম এবং অনাবৃত্ত।

সাধারণ ভুল ধারণা

মিশ্র আবৃত্ত দশমিকের হরে শূন্যের সংখ্যা নির্ধারণে দশমিকের আগের অঙ্ক গণনা করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সংক্ষিপ্ত সূত্রানুসারে হরে শূন্যের সংখ্যা কেবল দশমিক বিন্দুর ডানদিকের অনাবৃত্ত অঙ্কের সংখ্যার সমান হবে। দশমিকের বাঁয়ে থাকা পূর্ণসংখ্যা অংশের জন্য হরে কোনো শূন্য বসে না। যেমন ২.৩৪̅ = (২৩৪ - ২৩)/৯০ = ২১১/৯০।

সাধারণ ভুল ধারণা

'দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল সর্বদা অমূলদ'—এই অন্ধ বিশ্বাস পোষণ করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল মূলদ বা অমূলদ উভয়ই হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: √৩ এবং √৩ দুটিই অমূলদ, কিন্তু তাদের গুণফল √৩ × √৩ = ৩, যা সম্পূর্ণ মূলদ সংখ্যা। একইভাবে (২ + √৫)(২ - √৫) = ৪ - ৫ = -১ (মূলদ)।

সাধারণ ভুল ধারণা

জ্যামিতিক পদ্ধতিতে √x অঙ্কনে মধ্যবিন্দু নির্বাচনে ভুল রেখাংশ নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মধ্যবিন্দু M নির্ণয় করতে হবে সম্পূর্ণ বর্ধিত রেখাংশ AC = (x + ১)-এর, কেবল AB-এর নয়। ফলে অর্ধবৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে (x + ১)/২, তবেই সমকোণী ত্রিভুজের পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুসারে লম্ব BD = √x প্রমাণিত হবে।

সাধারণ ভুল ধারণা

করণী নিরসক উৎপাদক এবং অনুবন্ধী করণীকে সমার্থক মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

(-√৫ + √২) রাশিটি (√৫ + √২)-এর করণী নিরসক উৎপাদক ঠিকই (কারণ গুণফল মূলদ), কিন্তু এটি অনুবন্ধী করণী নয়। কারণ অনুবন্ধী করণী হতে হলে যোগফল এবং গুণফল উভয়কেই মূলদ হতে হবে। এদের যোগফল ২√২ (অমূলদ)। সঠিক অনুবন্ধী হলো (√৫ - √২)।

সাধারণ ভুল ধারণা

সসীম দশমিকের হর শর্ত যাচাইয়ে লঘিষ্ঠ আকার না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কোনো মূলদ ভগ্নাংশের দশমিক বিস্তার পরীক্ষার প্রথম ও অলঙ্ঘনীয় শর্ত হলো ভগ্নাংশটিকে লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করা। ৬/১৫-কে ৩ দিয়ে কাটাকাটি করলে লঘিষ্ঠ রূপ হয় ২/৫। এখানে হর হলো ৫ = ৫^১, অর্থাৎ ২^০ × ৫^১ আকারের। সুতরাং এর দশমিক বিস্তার নিশ্চিতভাবেই সসীম (০.৪)।

সাধারণ ভুল ধারণা

বর্গমূল চিহ্নের মধ্যে যোগ থাকলে আলাদা করে নেওয়া: √(a + b) = √a + √b ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

বর্গমূল যোগ বা বিয়োগের ওপর বণ্টিত হয় না: √(a + b) ≠ √a + √b। সঠিক পদ্ধতি: আগে যোগ সম্পন্ন করতে হবে, তারপর বর্গমূল: √(৯ + ১৬) = √২৫ = ৫। ৭ এবং ৫ কখনোই সমান নয়।

বাস্তব সংখ্যা: গাণিতিক শ্রেণিবিন্যাস, ধর্ম ও সংখ্যাচিত্রে জ্যামিতিক অঙ্কন

বাস্তব সংখ্যা: গাণিতিক শ্রেণিবিন্যাস ও সংখ্যাচিত্র (WBBSE নবম শ্রেণি গণিত প্রকাশ) বাস্তব সংখ্যার পরিবার • মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা • দশমিক বিস্তার • সংখ্যাচিত্রে অমূলদ সংখ্যার জ্যামিতিক অঙ্কন ১. বাস্তব সংখ্যার পরিবার ও সম্পর্ক (Real Number System) N ⊂ W ⊂ Z ⊂ Q স্বাভাবিক সংখ্যা (N): {১, ২, ৩, ...} ⊂ অখণ্ড সংখ্যা (W): {০, ১, ২, ...} পূর্ণসংখ্যা (Z): {... -২, -১, ০, ১, ২ ...} ⊂ মূলদ সংখ্যা (Q): p/q আকার (q ≠ ০) অমূলদ সংখ্যা (Q'): p/q আকারে প্রকাশ করা যায় না (যেমন: √২, √৩, π) বাস্তব সংখ্যা (R) = মূলদ সংখ্যা (Q) ∪ অমূলদ সংখ্যা (Q') [ঘনত্ব ধর্ম বিদ্যমান] ২. দশমিক বিস্তার ও রূপান্তর নীতি (Decimal Expansions) q = 2^m · 5^n সসীম দশমিক (Terminating): হর q = ২^m × ৫^n আকারের হলে (যেমন: ৩/৮ = ০.৩৭৫) অসীম আবৃত্ত দশমিক (Recurring): হর q-এ ২ ও ৫ ব্যতীত মৌলিক উৎপাদক থাকলে অসীম অনাবৃত্ত দশমিক (Non-recurring): সর্বদা অমূলদ সংখ্যা (যেমন: ০.১০১০০১০০০১...) আবৃত্ত দশমিককে p/q ভগ্নাংশে রূপান্তর: x = ০.৩̅ ⟹ ১০x = ৩.৩̅ ⟹ ৯x = ৩ ⟹ x = ১/৩ ৩. সংখ্যাচিত্রে অমূলদ সংখ্যার স্থাপন (Number Line Construction) 1² + 1² = (√2)² পীথাগোরাসের উপপাদ্য প্রয়োগ: অতিভুজ^২ = ভূমি^২ + লম্ব^২ √২ স্থাপন: ভূমি = ১ একক, লম্ব = ১ একক ⟹ অতিভুজ = √(১^২ + ১^২) = √২ থিওডোরাসের সর্পিল (Spiral): √২ এর ওপর ১ একক লম্ব টেনে √৩, √৪, √৫ গঠন জ্যামিতিক পদ্ধতিতে √x নির্ণয়: ব্যাস (x+১), ব্যাসার্ধ (x+১)/২ ⟹ জ্যামিতিক লম্ব = √x ৪. করণী ও অনুবন্ধী করণী (Surds & Conjugates) (a+√b)(a-√b) দ্বিঘাত করণী: √a (যেখানে a ধনাত্মক মূলদ সংখ্যা কিন্তু পূর্ণবর্গ নয়) সদৃশ করণী বনাম অসদৃশ করণী: √৮ = ২√২ এবং √১৮ = ৩√২ (সদৃশ করণী) অনুবন্ধী বা পূরক করণী (Conjugate): (a + √b) এর অনুবন্ধী (a - √b) করণী নিরসন: (a + √b)(a - √b) = a^২ - b [যা সম্পূর্ণ মূলদ সংখ্যা] দেদেকিন্ড-ক্যান্টর স্বতঃসিদ্ধ: সংখ্যাচিত্রের প্রতিটি বিন্দু একটি নির্দিষ্ট বাস্তব সংখ্যা এবং প্রতিটি বাস্তব সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু নির্দেশ করে

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. সংখ্যার ক্রমবিকাশ ও অন্তর্ভুক্তি: স্বাভাবিক সংখ্যা ℕ = {১, ২, ৩, ...}, অখণ্ড সংখ্যা 𝕎 = {০, ১, ২, ...}, পূর্ণসংখ্যা ℤ = {..., -১, ০, ১, ...} এবং মূলদ সংখ্যা ℚ = {p/q : p, q ∈ ℤ, q ≠ ০, গ.সা.গু(p, q) = ১}। এদের পারস্পরিক অন্তর্ভুক্তি সম্পর্ক: ℕ ⊂ 𝕎 ⊂ ℤ ⊂ ℚ ⊂ ℝ। শূন্য (০) একটি অখণ্ড, পূর্ণ ও মূলদ সংখ্যা।
মূল বিষয় 2
২. মূলদ সংখ্যার ঘনত্ব ধর্ম (Density Property): যেকোনো দুটি বাস্তব বা মূলদ সংখ্যার মাঝে অনন্ত সংখ্যক মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা বিদ্যমান। দুটি সংখ্যা a ও b (a < b)-এর মাঝে n-সংখ্যক মূলদ সংখ্যা সন্নিবেশের সাধারণ ব্যবধান সূত্র: d = (b - a)/(n + ১) এবং সংখ্যাগুলি a + d, a + ২d, ..., a + nd।
মূল বিষয় 3
৩. সসীম দশমিকের আবশ্যিক শর্ত: কোনো লঘিষ্ঠ মূলদ ভগ্নাংশ p/q-এর হর q-কে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করলে যদি হর q = ২^m × ৫^n আকারের হয় (যেখানে m, n অঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যা), তবে তার দশমিক বিস্তার সসীম হবে। অন্যথায় ২ ও ৫ ব্যতীত অন্য কোনো মৌলিক উৎপাদক থাকলে তা অসীম আবৃত্ত হবে।
মূল বিষয় 4
৪. আবৃত্ত দশমিকের মূলদ রূপান্তর: বিশুদ্ধ আবৃত্ত দশমিকের ক্ষেত্রে হর হয় পৌনঃপুনিক অঙ্কের সমান ৯ (যেমন ০.৩̅ = ৩/৯ = ১/৩)। মিশ্র আবৃত্ত দশমিকের রূপান্তর সূত্র: লব = (সম্পূর্ণ সংখ্যা - অনাবৃত্ত অংশ), হর = (যতগুলি আবৃত্ত ততগুলি ৯ এবং দশমিকের পরের যতগুলি অনাবৃত্ত ততগুলি ০)।
মূল বিষয় 5
৫. অমূলদ সংখ্যা ও অনিষ্টাপত্তি প্রমাণ: যে সংখ্যাকে p/q আকারে প্রকাশ করা যায় না এবং যার দশমিক বিস্তার অসীম অনাবৃত্ত (Non-terminating Non-recurring), তাকে অমূলদ সংখ্যা (ℚ') বলে। হিপ্পাসাস আবিষ্কৃত √২-এর অমূলদত্ব অনিষ্টাপত্তি পদ্ধতিতে (p^২ = ২q^২ ⟹ p ও q উভয়ই ২ দ্বারা বিভাজ্য ⟹ পরস্পর মৌলিকত্বের স্ববিরোধিতা) প্রমাণিত হয়।
মূল বিষয় 6
৬. সংখ্যাচিত্রে জ্যামিতিক অঙ্কন: দেদেকিন্ড-ক্যান্টর স্বতঃসিদ্ধ অনুসারে সংখ্যারেখার প্রতিটি বিন্দু একটি অনন্য বাস্তব সংখ্যা নির্দেশ করে। পিথাগোরাসের উপপাদ্য দিয়ে ভূমি ১ ও লম্ব ১ এঁকে √২ এবং থিওডোরাসের সর্পিল দিয়ে √৩, √৪, √৫ স্থাপন করা যায়। অর্ধবৃত্ত অঙ্কন পদ্ধতিতে AC = x + ১ ব্যাস নিয়ে লম্ব BD = √x (যেমন √৯.৩) অঙ্কন ও প্রতিপাদন করা হয়।
মূল বিষয় 7
৭. বাস্তব সংখ্যার ক্ষেত্র স্বীকার্য ও প্রক্রিয়া: বাস্তব সংখ্যা সেট ℝ = ℚ ∪ ℚ' যোগ ও গুণের সাপেক্ষে আবদ্ধতা, বিনিময়, সংযোগ ও বণ্টন নিয়ম মেনে চলে। যোগের একসম ০, গুণের একসম ১; যোগের বিপরীত -a, গুণের বিপরীত ১/a (a ≠ ০)। মূলদ + অমূলদ = অমূলদ; কিন্তু দুটি অমূলদ সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ বা ভাগ মূলদ বা অমূলদ উভয়ই হতে পারে।
মূল বিষয় 8
৮. দ্বিঘাত করণী ও হরের করণী নিরসন: a পূর্ণবর্গ না হলে ±√a হলো দ্বিঘাত করণী। (a + √b)-এর অনুবন্ধী করণী (a - √b), যাদের যোগফল ও গুণফল উভয়ই মূলদ। ভগ্নাংশের লব ও হরকে হরের অনুবন্ধী করণী দিয়ে গুণ করে হরের করণী নিরসন করা হয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
০.৪৭̅ (৪ অনাবৃত্ত, ৭ আবৃত্ত) সংখ্যাটিকে লঘিষ্ঠ p/q মূলদ ভগ্নাংশে প্রকাশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: লব = সম্পূর্ণ সংখ্যা - অনাবৃত্ত অংশ = ৪৭ - ৪ = ৪৩। হর = ১টি আবৃত্ত অঙ্কের জন্য ৯ এবং দশমিকের পর ১টি অনাবৃত্ত অঙ্কের জন্য ০ = ৯০। সুতরাং নির্ণেয় ভগ্নাংশ = ৪৩/৯০।
মিশ্র পৌনঃপুনিকের রূপান্তর সূত্র (৪৭ - ৪)/৯০ প্রয়োগ করো।
2
১/৩ এবং ১/২-এর মধ্যবর্তী ৩টি মূলদ সংখ্যা সাধারণ ব্যবধান সূত্রে নির্ণয় করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: a = ১/৩ = ৮/২৪, b = ১/২ = ১২/২৪। d = (১/২ - ১/৩)/(৩ + ১) = (১/৬)/৪ = ১/২৪। মধ্যবর্তী ৩টি সংখ্যা: ৮/২৪ + ১/২৪ = ৯/২৪ (বা ৩/৮), ৮/২৪ + ২/২৪ = ১০/২৪ (বা ৫/১২), এবং ৮/২৪ + ৩/২৪ = ১১/২৪।
d = (b - a)/(n + ১) সূত্র প্রয়োগ করে সমহরবিশিষ্ট ভগ্নাংশে রূপান্তর করো।
3
ভাগ না করে বলো: ৪১/২৫০ ভগ্নাংশটি সসীম দশমিক নাকি অসীম আবৃত্ত দশমিক? দশমিকের পর কত ঘর পর্যন্ত এর বিস্তার থাকবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: হর ২৫০ = ২ × ১২৫ = ২^১ × ৫^৩। হর ২^m × ৫^n আকারের হওয়ায় এর দশমিক বিস্তার সসীম হবে। যেহেতু ৫-এর সর্বোচ্চ ঘাত ৩, তাই দশমিকের পর ৩ ঘর পর্যন্ত বিস্তার থাকবে (৪১/২৫০ = ১৬৪/১০০০ = ০.১৬৪)।
২৫০-কে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করো এবং ৫-এর সর্বোচ্চ ঘাত লক্ষ্য করো।
4
(৩ + √২) এবং (৩ - √২) সংখ্যা দুটির যোগফল ও গুণফল নির্ণয় করে বলো তারা কী ধরনের সংখ্যা।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: যোগফল = (৩ + √২) + (৩ - √২) = ৬ (মূলদ সংখ্যা)। গুণফল = (৩ + √২)(৩ - √২) = ৩^২ - (√২)^২ = ৯ - ২ = ৭ (মূলদ সংখ্যা)। অতএব দুটি অমূলদ সংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও এদের যোগফল ও গুণফল উভয়ই মূলদ সংখ্যা।
অনুবন্ধী করণীর ধর্ম এবং a^২ - b^২ সূত্র প্রয়োগ করো।
5
জ্যামিতিক পদ্ধতিতে সংখ্যাচিত্রে √৫.৪ অঙ্কন করতে হলে অর্ধবৃত্তটির ব্যাস ও ব্যাসার্ধ কত সেন্টিমিটার নিতে হবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ব্যাস AC = x + ১ = ৫.৪ + ১ = ৬.৪ সেমি। ব্যাসার্ধ R = AC / ২ = ৬.৪ / ২ = ৩.২ সেমি।
ব্যাস = (x + ১) এবং ব্যাসার্ধ = (x + ১)/২ সূত্র মনে করো।
6
১ / (৩ - ২√২)-এর হরকে করণীমুক্ত করে সরলতম মান নির্ণয় করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: হরের অনুবন্ধী করণী (৩ + ২√২) দিয়ে লব ও হরকে গুণ করে পাই: [১ × (৩ + ২√২)] / [(৩ - ২√২)(৩ + ২√২)] = (৩ + ২√২) / [৩^২ - (২√২)^২] = (৩ + ২√২) / (৯ - ৮) = ৩ + ২√২।
(৩ - ২√২)-এর অনুবন্ধী করণী (৩ + ২√২) দিয়ে গুণ করো।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

Properties of Parallelogram অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।