Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Computer Science • অধ্যায় 5
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আধুনিক ডিজিটাল সভ্যতার মেরুদণ্ড স্বরূপ যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি স্বায়ত্তশাসিত কম্পিউটিং ডিভাইসকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে নির্বিঘ্নে ডেটা আদান-প্রদান এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্স ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। সহজ কথায়, একাধিক স্বায়ত্তশাসিত কম্পিউটারের মধ্যে নির্দিষ্ট ট্রান্সমিশন মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন প্রোটোকল মেনে সংযোগ স্থাপনই হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির কম্পিউটার সায়েন্সের সাম্প্রতিক পাঠ্যক্রম অনুসারে এই অধ্যায়ে নেটওয়ার্কের ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ (PAN, LAN, MAN, WAN), মাধ্যম বা ট্রান্সমিশন মিডিয়া (টুইস্টেড পেয়ার, কোঅ্যাক্সিয়াল, অপটিক্যাল ফাইবার এবং ওয়্যারলেস রেডিও, মাইক্রোওয়েভ ও ইনফ্রারেড), নেটওয়ার্কের জ্যামিতিক টপোলজি (বাস, স্টার, রিং, মেশ ও ট্রি), নেটওয়ার্ক সংযোগকারী হার্ডওয়্যার ডিভাইস (হাব, সুইচ, রাউটার, ব্রিজ ও গেটওয়ে), তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক মডেল (ISO-OSI ৭-স্তর রেফারেন্স মডেল এবং TCP/IP ৪-স্তর প্রোটোকল স্যুট), IPv4 অ্যাড্রেসিং ও সাবনেটিং গণনা এবং ইন্টারনেটের প্রধান অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার প্রোটোকল (HTTP, HTTPS, FTP, DNS, SMTP, DHCP) অত্যন্ত গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিচ্ছিন্ন কোনো কম্পিউটার কল্পনা করা অসম্ভব। ক্লাউড কম্পিউটিং, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, ই-কমার্স, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন শিক্ষা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার সিকিউরিটি—সবকিছুর ভিত্তি হলো শক্তিশালী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং আর্কিটেকচার। কীভাবে একটি ডেটা প্যাকেট তৈরি হয়, কীভাবে তা সমুদ্রের তলদেশের অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের মধ্য দিয়ে আলোর গতিতে পরিবাহিত হয়ে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায় এবং কীভাবে রাউটার সবচেয়ে দ্রুততম পথ বেছে নেয়—তা জানা প্রতিটি কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে থিওরিটিক্যাল প্রশ্ন, টপোলজি অঙ্কন, OSI স্তরের কাজ এবং IP অ্যাড্রেসের হিসেব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে, যা ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লাউড কম্পিউটিং ও নেটওয়ার্ক প্রকৌশলের ভিত্তি মজবুত করে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রাথমিক ধার...
2 ট্রান্সমিশন মিডিয়া: গাইডেড (তারযুক...
3 নেটওয়ার্ক টপোলজি: গঠন, তারের সংখ্য...
4 নেটওয়ার্ক কানেক্টিং ডিভাইস: হাব, স...
5 রেফারেন্স মডেল: OSI ৭-লেয়ার এবং TC...
6 IPv4 অ্যাড্রেসিং, সাবনেটিং, সুইচিং...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রাথমিক ধারণা, আর্কিটেকচার ও ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ

১.১ কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সংজ্ঞা ও মূল উদ্দেশ্য

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো একাধিক স্বায়ত্তশাসিত (autonomous) কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পরস্পরের সাথে এমন এক সংযোগ ব্যবস্থা, যা তারযুক্ত (guided) বা তারবিহীন (unguided) মাধ্যমের সাহায্যে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী (প্রোটোকল) অনুসরণ করে পারস্পরিক ডেটা বিনিময় ও সংস্থান (resource) ভাগাভাগি করতে পারে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্যগুলি হলো:

  • রিসোর্স শেয়ারিং (Resource Sharing): নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার ফলে ব্যয়বহুল প্রিন্টার, স্ক্যানার, অপটিক্যাল স্টোরেজ বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্লাউড সার্ভার একাধিক ব্যবহারকারী একসাথে ভাগ করে ব্যবহার করতে পারে।
  • উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা ও রিডানড্যান্সি (High Reliability): গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা ডেটাবেস নেটওয়ার্কের একাধিক সার্ভারে কপি (replicate) করে রাখা যায়। কোনো একটি কম্পিউটার বিকল হলেও কাজ বন্ধ হয় না।
  • খরচ কমানো (Cost Reduction): প্রতিটি কর্মীর জন্য আলাদা আলাদা হার্ডওয়্যার ও লাইসেন্সকৃত সফটওয়্যার না কিনে কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়।
  • দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ (High-Speed Communication): ইমেইল, মেসেজিং, ভয়েস কল ও ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে নিমেষে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।
  • লোড শেয়ারিং ও ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং (Load Balancing): বড় কোনো জটিল গাণিতিক সমস্যা বা প্রক্রিয়াকরণকে নেটওয়ার্কভুক্ত একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে ভাগ করে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
১.২ নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার: ক্লায়েন্ট-সার্ভার বনাম পিয়ার-টু-পিয়ার

কম্পিউটারগুলির ভূমিকা ও কার্যকারিতার ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক মূলত দুই ধরনের আর্কিটেকচারে বিভক্ত:

বৈশিষ্ট্যক্লায়েন্ট-সার্ভার (Client-Server)পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer / P2P)
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেন্দ্রীভূত (Centralized) সার্ভার দ্বারা সমস্ত সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত হয়।বিকেন্দ্রীভূত (Decentralized); কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না।
ভূমিকাক্লায়েন্ট রিকোয়েস্ট পাঠায়, ডেডিকেটেড সার্ভার সেই রিকোয়েস্ট প্রসেস করে সেবা দেয়।প্রতিটি নোড একই সাথে ক্লায়েন্ট ও সার্ভার উভয় হিসেবে কাজ করে (সমান মর্যাদা)।
ডেটা নিরাপত্তা ও ব্যাকআপঅত্যন্ত উচ্চ; কেন্দ্রীয় সার্ভারেই সমস্ত ডেটার ব্যাকআপ ও অ্যাক্সেস কন্ট্রোল থাকে।কম; প্রতিটি কম্পিউটারকে নিজের ডেটা ব্যাকআপ ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়।
খরচ ও বাস্তবায়নউচ্চমানের সার্ভার ও দক্ষ নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর প্রয়োজন হওয়ায় ব্যয়বহুল।কম ব্যয়বহুল এবং খুব সহজেই ছোট পরিসরে বাস্তবায়ন করা যায়।
স্কেলেবিলিটিসহজেই নতুন ক্লায়েন্ট নোড যুক্ত করে সম্প্রসারণ করা যায়।নোডের সংখ্যা ১০-১২ ছাড়িয়ে গেলে নেটওয়ার্কের গতি কমে ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
বাস্তব উদাহরণওয়েব ব্রাউজিং (HTTP/Web Server), ব্যাঙ্কিং ডেটাবেস, ইমেইল সিস্টেম।BitTorrent ফাইল শেয়ারিং, ছোট অফিস বা বাড়িতে হোম ল্যান।
১.৩ ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুযায়ী নেটওয়ার্কের শ্রেণিবিভাগ

কভারেজ এরিয়া বা ভৌগোলিক সীমার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রধানত চার ভাগে বিভক্ত:

  • PAN (Personal Area Network): একক ব্যক্তির চারপাশে সাধারণত ১ থেকে ১০ মিটারের মধ্যে গঠিত ক্ষুদ্র নেটওয়ার্ক। এটি মূলত ব্লুটুথ, Zigbee বা USB কেবলের সাহায্যে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ওয়্যারলেস হেডফোন ও স্মার্টওয়াচের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। ডেটা ট্রান্সমিশন রেট সাধারণত ১-৩ Mbps।
  • LAN (Local Area Network): একটি নির্দিষ্ট কক্ষ, বাড়ি, অফিস ভবন বা স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ (সাধারণত ১০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত)। উচ্চ গতিসম্পন্ন টুইস্টেড পেয়ার কেবল (Cat6) বা Wi-Fi (IEEE 802.11) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ট্রান্সমিশন রেট ১০০ Mbps থেকে ১০ Gbps পর্যন্ত হতে পারে। এর মালিকানা ব্যক্তিগত বা একক প্রাতিষ্ঠানিক এবং ডেটা ট্রান্সমিশনে ভুলের হার (error rate) অত্যন্ত কম।
  • MAN (Metropolitan Area Network): একটি সম্পূর্ণ শহর বা পৌর এলাকার বিস্তৃতিতে গঠিত নেটওয়ার্ক (পরিসর ৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার)। যেমন—শহরের কেবল টিভি নেটওয়ার্ক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সব শাখার আন্তঃসংযোগ। এটি একাধিক LAN-কে অপটিক্যাল ফাইবার বা মাইক্রোওয়েভ লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত করে।
  • WAN (Wide Area Network): ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সমগ্র দেশ, মহাদেশ বা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক (১০০ কিমি থেকে হাজার হাজার কিমি)। এর সর্বোত্তম উদাহরণ হলো ইন্টারনেট (Internet)। এতে সাবমেরিন অপটিক্যাল ফাইবার কেবল, ভূ-উপগ্রহ (Satellite) লিঙ্ক ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেলিফোন ব্যাকবোন ব্যবহৃত হয়। এর মালিকানা কোনো একক ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে থাকে না এবং এতে ডেটা ট্রান্সফার রেট ও ত্রুটির সম্ভাবনা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।

ট্রান্সমিশন মিডিয়া: গাইডেড (তারযুক্ত) ও আনগাইডেড (তারবিহীন) মাধ্যম

২.১ গাইডেড ট্রান্সমিশন মিডিয়া (Guided Media)

গাইডেড মিডিয়াতে সংকেত একটি নির্দিষ্ট ভৌত তার বা নালীর মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পরিবাহিত হয়। প্রধান তিন প্রকার গাইডেড মিডিয়া নিচে বিশদ আলোচিত হলো:

  • টুইস্টেড পেয়ার কেবল (Twisted Pair Cable):
    • গঠন: দুটি পৃথকভাবে অন্তরীত (insulated) তামার তারকে একে অপরের সাথে সর্পিলাকারে পেঁচিয়ে রাখা হয়। তার দুটিকে পেঁচানোর মূল কারণ হলো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স (EMI) এবং নিকটবর্তী তারের ক্রসটক (Crosstalk) প্রশমিত করা।
    • প্রকারভেদ: ১. UTP (Unshielded Twisted Pair)—তারের চারপাশে কোনো ধাতব আবরণ থাকে না, সাধারণ অফিসের ল্যানে সর্বাধিক ব্যবহৃত (যেমন Cat5e, Cat6)। ২. STP (Shielded Twisted Pair)—প্রতিটি জোড়া বা সম্পূর্ণ কেবলের ওপর ধাতব ফয়েলের অতিরিক্ত সুরক্ষা থাকে, যা শিল্পক্ষেত্রে তীব্র নয়েজ প্রতিরোধ করে।
    • সংযোগকারী: এতে ৮-পিনের RJ-45 (Registered Jack-45) কানেক্টর ব্যবহার করা হয়। সর্বাধিক অনুমোদিত দৈর্ঘ্য রিমিটার ছাড়াই ১০০ মিটার।
  • কোঅ্যাক্সিয়াল কেবল (Coaxial Cable):
    • গঠন: এর কেন্দ্রে একটি শক্ত তামার পরিবাহী তার (Core Conductor) থাকে, যা একটি ডাই-ইলেকট্রিক প্লাস্টিক ইনসুলেটর দিয়ে ঘেরা থাকে। তার ওপরে বোনা তামার জালের একটি শিল্ড (Outer Mesh Conductor) থাকে যা গ্রাউন্ডিং ও EMI ব্লকার হিসেবে কাজ করে এবং সবার বাইরে শক্ত পিভিসি জ্যাকেট থাকে।
    • বৈশিষ্ট্য: টুইস্টেড পেয়ারের চেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথ এবং নয়েজ সহনশীলতা প্রদান করে। কেবল টিভি নেটওয়ার্ক ও পুরোনো বাস টপোলজি ইথারনেটে ব্যবহৃত হয়। সংযোগকারী হিসেবে BNC (Bayonet Neill-Concelman) কানেক্টর ও T-কানেক্টর ব্যবহৃত হয়।
  • অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (Optical Fiber Cable - OFC):
    • গঠন: এটি অতি সূক্ষ্ম বিশুদ্ধ কাচ (সিলিকা) বা প্লাস্টিকের তৈরি তন্তু। এর কেন্দ্রভাগকে বলা হয় কোর (Core) এবং কোরের চারপাশের স্তরকে বলা হয় ক্ল্যাডিং (Cladding)। কোরের প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index, $n_1$) সর্বদা ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরাঙ্ক ($n_2$) অপেক্ষা বেশি রাখা হয় ($n_1 > n_2$)।
    • মূল নীতি: পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection - TIR)। আলোকরশ্মি যখন কোরের মধ্য দিয়ে সংকট কোণের ($ heta_c = \sin^{-1}(n_2 / n_1)$) চেয়ে বেশি কোণে ক্ল্যাডিংয়ের সাথে আপতিত হয়, তখন তা প্রতিসৃত না হয়ে কোরের মধ্যেই বারবার প্রতিফলিত হয়ে আলোর গতিতে কোটি কোটি কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
    • সুবিধা: কোনো প্রকার বৈদ্যুতিক সংকেত না থাকার কারণে এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স (EMI) থেকে ১০০% মুক্ত। অত্যন্ত উচ্চ ব্যান্ডউইথ (Gbps থেকে Tbps), সংকেত ক্ষয় (Attenuation) নগণ্য এবং দূরপাল্লার টেলিযোগাযোগ ও সাবমেরিন কেবলে অপরিহার্য।
২.২ আনগাইডেড ট্রান্সমিশন মিডিয়া (Unguided Wireless Media)

তারবিহীন যোগাযোগে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের মাধ্যমে খোলা মহাশূন্যে ডেটা সঞ্চালিত হয়:

  • রেডিও ওয়েভ (Radio Waves, 3 KHz - 1 GHz): ওমনি-ডিরেকশনাল (Omni-directional), অর্থাৎ সব দিকে সমানভাবে ছড়ায়। দেয়াল ভেদ করার চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে। FM রেডিও, টেলিভিশন সম্প্রচার ও সেলুলার মোবাইলে ব্যবহৃত হয়।
  • মাইক্রোওয়েভ (Microwave, 1 GHz - 300 GHz): ইউনি-ডিরেকশনাল (Uni-directional) এবং দৃষ্টিরেখা বরাবর (Line-of-Sight) চলে। তরঙ্গের উচ্চ কম্পাঙ্কের কারণে এটি কোনো পাহাড় বা দেয়াল ভেদ করতে পারে না, তাই প্রতি ৩০-৫০ কিলোমিটার অন্তর রিলে টাওয়ার বা রিমিটার বসাতে হয়। উপগ্রহ যোগাযোগ (Satellite Communication) এবং দীর্ঘ দূরত্বের টেলিকমে ব্যবহৃত হয়।
  • ইনফ্রারেড (Infrared, 300 GHz - 400 THz): অতি স্বল্প দূরত্বের দৃষ্টিরেখা যোগাযোগ। কোনো শক্ত বাধা বা দেয়াল ভেদ করতে পারে না, যা নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক। টেলিভিশন রিমোট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস মাউস ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

নেটওয়ার্ক টপোলজি: গঠন, তারের সংখ্যা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ

৩.১ টপোলজির ধারণা ও শ্রেণিবিন্যাস

নেটওয়ার্ক টপোলজি বলতে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নোড (কম্পিউটার/ডিভাইস) এবং তাদের সংযোগকারী লিঙ্কগুলির জ্যামিতিক বিন্যাস বা নকশাকে বোঝায়। এটি প্রধানত পাঁচ প্রকার:

  • বাস টপোলজি (Bus Topology):
    • গঠন: একটিমাত্র দীর্ঘ প্রধান ব্যাকবোন তারের (Trunk Cable) সাথে ড্রপ লাইনের সাহায্যে সমস্ত নোড রৈখিকভাবে যুক্ত থাকে। প্রধান কেবলের দুই প্রান্তে সিগন্যাল রিফ্লেকশন রোধ করার জন্য ৫০-ওহম টার্মিনেটর (Terminator) লাগানো থাকে।
    • সুবিধা: বাস্তবায়ন অত্যন্ত সহজ এবং খুব কম তারের প্রয়োজন হয়। ছোট নেটওয়ার্কে সাশ্রয়ী।
    • অসুবিধা: প্রধান ব্যাকবোন তার কোনো এক জায়গায় ছিঁড়ে গেলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। ফল্ট বা ত্রুটি নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন। একই সাথে একাধিক নোড ডেটা পাঠালে ভারী কলিশন হয়।
  • স্টার টপোলজি (Star Topology):
    • গঠন: প্রতিটি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলার বা নেটওয়ার্ক ডিভাইসের (সুইচ বা হাব) সাথে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট পৃথক কেবলের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে ল্যান গঠনে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ও মান্য টপোলজি।
    • সুবিধা: কোনো একক কম্পিউটারের তার ছিঁড়ে গেলে বাকি নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ সচল থাকে। নতুন ডিভাইস সহজে যোগ বা অপসারণ করা যায়। ফল্ট আইসোলেশন ও ট্রাবলশুটিং অত্যন্ত সহজ।
    • অসুবিধা: কেন্দ্রীয় সুইচ বা হাবটি যদি খারাপ হয়ে যায়, তবে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে (Single Point of Failure)। বাস টপোলজির তুলনায় তারের খরচ বেশি।
    • তারের প্রয়োজন: $N$ সংখ্যক নোডের জন্য ঠিক $N$ টি পৃথক কেবল প্রয়োজন।
  • রিং টপোলজি (Ring Topology):
    • গঠন: প্রতিটি নোড তার ঠিক পার্শ্ববর্তী দুটি নোডের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বদ্ধ বৃত্তাকার লুপ তৈরি করে। ডেটা সর্বদা একটি নির্দিষ্ট দিকে (একমুখী বা unidirectional) বৃত্তাকারে ঘোরে। সংঘাত এড়াতে 'টোকেন' (Token) নামক ছোট ডেটা ফ্রেম ব্যবহৃত হয়।
    • সুবিধা: কোনো কেন্দ্রীয় কনসেন্ট্রেটরের প্রয়োজন হয় না এবং প্রতিটি নোড ডেটা প্রেরণে সমান সুযোগ পায় (কলিশন নেই)।
    • অসুবিধা: বৃত্তের যেকোনো একটি নোড বা কেবল অকেজো হলে সমস্ত লুপের ডেটা সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাবলশুটিং জটিল।
  • মেশ টপোলজি (Mesh Topology):
    • গঠন: একটি সম্পূর্ণ মেশ (Full Mesh) নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অপর প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি ডেডিকেটেড পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট লিঙ্কের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।
    • লিঙ্ক গণনার সূত্র: $N$ সংখ্যক নোড থাকলে প্রয়োজনীয় মোট ভৌত লিঙ্কের সংখ্যা = $L = \frac{N(N - 1)}{2}$ এবং প্রতিটি নোডে পোর্ট সংখ্যা = $N - 1$।
    • সুবিধা: সর্বোচ্চ রিডানড্যান্সি ও নির্ভরযোগ্যতা। একটি বা একাধিক লিঙ্ক কেটে গেলেও বিকল্প অসংখ্য পাথ দিয়ে ডেটা চলাচল বজায় থাকে। গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা শতভাগ কারণ লাইন কারো সাথে শেয়ার হয় না।
    • অসুবিধা: বিপুল পরিমাণ তার ও পোর্টের প্রয়োজন হওয়ায় এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং স্থাপন ও পরিচালনা করা জটিল। সাধারণত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, সামরিক ও ব্যাঙ্কিং ব্যাকবোনে ব্যবহৃত হয়।
  • ট্রি টপোলজি (Tree Topology):
    • গঠন: এটি মূলত একাধিক স্টার টপোলজির একটি স্তরভিত্তিক (Hierarchical) বা বৃক্ষসদৃশ সমন্বয়। শীর্ষ স্তরে একটি রুট নোড (সেন্ট্রাল সুইচ) থাকে যা শাখা-প্রশাখার মতো সেকেন্ডারি সুইচগুলির সাথে যুক্ত থাকে।
    • সুবিধা: বৃহৎ বিদ্যালয়, কলেজ বা বহুতল কর্পোরেট অফিসে ডিপার্টমেন্টাল নেটওয়ার্ক আলাদা রাখতে এটি আদর্শ। সহজে সম্প্রসারণযোগ্য।
    • অসুবিধা: রুট সুইচ বা প্রধান ট্রাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অধীনস্থ সম্পূর্ণ শাখা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নেটওয়ার্ক কানেক্টিং ডিভাইস: হাব, সুইচ, রাউটার, ব্রিজ ও গেটওয়ে

৪.১ ডিভাইসের অবস্থান ও কার্যপদ্ধতি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বিভিন্ন সেগমেন্ট ও ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। নিচে তাদের স্তরভিত্তিক আলোচনা দেওয়া হলো:

  • রিপিটার (Repeater - Layer 1 Physical):
    • এটি একটি ২-পোর্টের ভৌত স্তরের ডিভাইস যা তারের দৈর্ঘ্য বেশি হলে সংকেতের দুর্বলতা (Attenuation) দূর করতে ব্যবহৃত হয়। এটি দুর্বল সিগন্যাল গ্রহণ করে, নয়েজ দূর করে এবং সিগন্যালটিকে মূল শক্তিতে পুনরুজ্জীবিত (Regenerate) করে অপর প্রান্তে পাঠিয়ে দেয়। রিপিটার কোনো ফিল্টারিং বা অ্যাড্রেস যাচাই করতে পারে না।
  • হাব (Hub - Layer 1 Physical):
    • হাব হলো একটি মাল্টিপোর্ট রিপিটার। এটি অত্যন্ত নির্বোধ বা অমেধাবী (Dumb Device)। কোনো একটি পোর্ট দিয়ে কোনো ফ্রেম বা বিট প্রবেশ করলে হাব কোনো MAC বা IP ঠিকানা না দেখে বাকি সমস্ত পোর্টে তা অন্ধভাবে সম্প্রচার (Broadcast) করে দেয়।
    • সীমাবদ্ধতা: হাবের সাথে যুক্ত সমস্ত ডিভাইস একটিমাত্র একক কলিশন ডোমেন (Single Collision Domain) এবং একক ব্রডকাস্ট ডোমেন শেয়ার করে। একই সাথে একাধিক নোড কথা বলতে গেলে সংকেতের সংঘর্ষ বা কলিশন ঘটে, যার ফলে নেটওয়ার্কের গতি কমে যায়। আধুনিক ল্যানে হাব সম্পূর্ণ বর্জিত।
  • ব্রিজ (Bridge - Layer 2 Data Link):
    • ব্রিজ হলো একটি ২-পোর্টের বুদ্ধিমান ডিভাইস যা একটি বৃহৎ ল্যানকে দুটি পৃথক ফিজিক্যাল সেগমেন্টে বিভক্ত করে। এটি ফ্রেমের গন্তব্য MAC অ্যাড্রেস পরীক্ষা করে ফিল্টারিং করতে পারে। ফলে এক সেগমেন্টের লোকাল ট্র্যাফিক অপর সেগমেন্টে গিয়ে কলিশন বাড়ায় না।
  • সুইচ (Switch - Layer 2 Data Link):
    • সুইচ হলো একটি আধুনিক মাল্টিপোর্ট ব্রিজ (Multiport Bridge)। সুইচ একটি অভ্যন্তরীণ MAC অ্যাড্রেস টেবিল (CAM Table) সংরক্ষণ করে। যখনই কোনো নোড ফ্রেম পাঠায়, সুইচ প্রেরকের সোর্স MAC অ্যাড্রেস থেকে শেখে এবং ফ্রেমের ডেসটিনেশন MAC অ্যাড্রেস দেখে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট টার্গেট পোর্টে ফ্রেমটি ইউনিকাস্ট (Unicast) করে পাঠায়।
    • সবচেয়ে বড় সুবিধা: সুইচের প্রতিটি পোর্ট নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কলিশন ডোমেন (Isolated Collision Domain) গঠন করে। ফলে পোর্টের মধ্যে পূর্ণ গতিতে (Full Duplex) ডেটা আদান-প্রদান হয় এবং কোনো কলিশন ঘটে না। তবে সুইচ সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কে একটিমাত্র ব্রডকাস্ট ডোমেন বজায় রাখে।
  • রাউটার (Router - Layer 3 Network Layer):
    • রাউটার হলো একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমান নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা দুটি ভিন্ন সাবনেটওয়ার্ক বা ভিন্ন নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচারের (যেমন আপনার হোম ল্যান এবং গ্লোবাল ইন্টারনেট) মধ্যে সংযোগ ঘটায়।
    • কার্যপদ্ধতি: রাউটার লজিক্যাল IP অ্যাড্রেস এবং রাউটিং টেবিল (Routing Table) বিশ্লেষণ করে প্যাকেটের জন্য সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও দ্রুততম পথ (Routing Algorithm যেমন OSPF, BGP) নির্বাচন করে।
    • ডোমেন নিয়ন্ত্রণ: রাউটার ব্রডকাস্ট ডোমেনকে ভেঙে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে (Router isolates broadcast domains)। এটি লেয়ার ২ ব্রডকাস্ট ফ্রেমকে অন্য নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে দেয় না, যা ইন্টারনেটকে ব্রডকাস্ট ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • গেটওয়ে (Gateway - All OSI Layers 1-7):
    • গেটওয়ে হলো প্রোটোকল কনভার্টার (Protocol Converter)। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আর্কিটেকচার ও ভিন্ন প্রোটোকল স্যুট ব্যবহারকারী দুটি ভিন্নধর্মী নেটওয়ার্কের মধ্যে অনুবাদক হিসেবে কাজ করে সংযোগ স্থাপন করে (যেমন TCP/IP নেটওয়ার্কের সাথে SNA বা IPX/SPX নেটওয়ার্কের সংযোগ)।

রেফারেন্স মডেল: OSI ৭-লেয়ার এবং TCP/IP ৪-লেয়ার আর্কিটেকচার

৫.১ ISO-OSI ৭-লেয়ার রেফারেন্স মডেল

১৯৮৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (ISO) ওপেন সিস্টেমস ইন্টারকানেকশন (OSI) মডেল প্রবর্তন করে। এটি একটি আদর্শ তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক যা ৭টি স্তরে বিভক্ত (নিচ থেকে উপরে ১ থেকে ৭):

  • ১. ফিজিক্যাল লেয়ার (Physical Layer): কাঁচা বিট স্ট্রিম (০ এবং ১)-কে বৈদ্যুতিক সংকেত, আলোক স্পন্দন বা রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর করে ট্রান্সমিশন মিডিয়ায় পাঠায়। ভোল্টেজ, পিনের বিন্যাস, ডাটা রেট এবং তারের টাইপ নিয়ন্ত্রণ করে। PDU: Bits.
  • ২. ডেটা লিঙ্ক লেয়ার (Data Link Layer): ফিজিক্যাল লেয়ারের ত্রুটিমুক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করে। বিটগুলিকে যুক্ত করে ফ্রেম (Frame) গঠন করে। ডিভাইসের ভৌত MAC অ্যাড্রেস যোগ করে, ফ্লো কন্ট্রোল ও এরর ডিটেকশন (CRC চেকসাম) সম্পাদন করে। দুটি সাব-লেয়ারে বিভক্ত: LLC (802.2) এবং MAC (802.3/802.11)। PDU: Frame.
  • ৩. নেটওয়ার্ক লেয়ার (Network Layer): সোর্স হোস্ট থেকে ডেস্টিনেশন হোস্টে প্যাকেট (Packet) পাঠানোর দায়িত্ব পালন করে। লজিক্যাল IPv4/IPv6 অ্যাড্রেসিং এবং সর্বোত্তম পাথ নির্বাচনের জন্য রাউটিং (Routing) পরিচালনা করে। প্রধান প্রোটোকল: IP, ICMP, ARP, IGMP. PDU: Packet.
  • ৪. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Transport Layer): এন্ড-টু-এন্ড (End-to-End) বা প্রসেস-টু-প্রসেস বিশ্বস্ত ডেটা ডেলিভারি নিশ্চিত করে। পোর্ট নম্বর (Port Number) ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসকে চিহ্নিত করে। বৃহৎ ডেটাকে সেগমেন্টে (Segment) ভাগ করে এবং গন্তব্যে পুনর্গঠন করে। প্রধান প্রোটোকল: TCP (নির্ভরযোগ্য, সংযোগমুখী) এবং UDP (দ্রুত, সংযোগহীন)। PDU: Segment / Datagram.
  • ৫. সেশন লেয়ার (Session Layer): দুটি ডিভাইসের অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে যোগাযোগ অধিবেশন বা সেশন প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও সমাপ্ত করে। ডেটা প্রবাহে চেকপয়েন্ট ও সিঙ্ক্রোনাইজেশন প্রদান করে যাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে শুরু থেকে ফাইল পাঠাতে না হয়।
  • ৬. প্রেজেন্টেশন লেয়ার (Presentation Layer): ডেটার ফরম্যাট ও উপস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। এর প্রধান তিনটি কাজ হলো: অনুবাদ (Translation/Encoding - যেমন ASCII থেকে EBCDIC), এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশন (Encryption/Decryption - SSL/TLS নিরাপত্তা) এবং কম্প্রেশন (Data Compression - ডেটার আকার হ্রাস)।
  • ৭. অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার (Application Layer): ব্যবহারকারী ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাথে নেটওয়ার্ক সার্ভিসের সরাসরি সংযোগকারী ইন্টারফেস প্রদান করে। প্রধান প্রোটোকল: HTTP, HTTPS, FTP, SMTP, DNS, Telnet. PDU: Data / Message.
৫.২ TCP/IP প্রোটোকল স্যুট বনাম OSI মডেল

OSI একটি তাত্ত্বিক আদর্শ হলেও ইন্টারনেটের ব্যবহারিক রূপায়ন হলো ৪-স্তরের TCP/IP আর্কিটেকচার:

স্তর নংOSI মডেল (৭টি স্তর)TCP/IP মডেল (৪টি স্তর)সংশ্লিষ্ট প্রোটোকলসমূহ
৪অ্যাপ্লিকেশন, প্রেজেন্টেশন, সেশনঅ্যাপ্লিকেশন লেয়ার (Application)HTTP, HTTPS, FTP, SMTP, DNS, DHCP, Telnet, SSH
৩
২
৩ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Transport)ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Host-to-Host)TCP (Transmission Control Protocol), UDP (User Datagram Protocol)
২নেটওয়ার্ক লেয়ার (Network)ইন্টারনেট লেয়ার (Internet)IP (IPv4, IPv6), ICMP, ARP, RARP
১ডেটা লিঙ্ক ও ফিজিক্যাল লেয়ারনেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস লেয়ার (Network Access)Ethernet (IEEE 802.3), Wi-Fi (IEEE 802.11), MAC, PPP
০

IPv4 অ্যাড্রেসিং, সাবনেটিং, সুইচিং এবং ইন্টারনেট অ্যাপ্লিকেশন প্রোটোকল

৬.১ IPv4 অ্যাড্রেসিং ও ক্লাসভিত্তিক বিভাজন

IPv4 অ্যাড্রেস হলো একটি ৩২-বিট লজিক্যাল বাইনারি ঠিকানা যা ইন্টারনেটে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসকে অনন্যভাবে শনাক্ত করে। সুবিধার্থে একে ৮-বিট করে ৪টি ভাগে (অক্টেট) বিভক্ত করে ডটেড ডেসিমেল নোটেটনে (Dotted Decimal Notation) লেখা হয় (যেমন: 192.168.1.1)।

ঐতিহ্যগত ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিংয়ে মোট ৩২ বিটকে নেটওয়ার্ক আইডি (NetID) ও হোস্ট আইডিতে (HostID) ভাগ করে ৫টি ক্লাসে সাজানো হয়েছে:

ক্লাসপ্রথম অক্টেটের রেঞ্জডিফল্ট সাবনেট মাস্কনেটওয়ার্ক বিট / হোস্ট বিটব্যবহারের ক্ষেত্র
Class A1.0.0.0 থেকে 126.255.255.255255.0.0.0 (/8)NetID: 8, HostID: 24বিশাল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান (প্রতি নেটওয়ার্কে $2^{24}-2 = 16,777,214$ হোস্ট)।
Class B128.0.0.0 থেকে 191.255.255.255255.255.0.0 (/16)NetID: 16, HostID: 16মাঝারি আকারের বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্পোরেশন ($2^{16}-2 = 65,534$ হোস্ট)।
Class C192.0.0.0 থেকে 223.255.255.255255.255.255.0 (/24)NetID: 24, HostID: 8ছোট লোকাল ল্যান বা সাধারণ অফিস ($2^8-2 = 254$ হোস্ট)।
Class D224.0.0.0 থেকে 239.255.255.255প্রযোজ্য নয়সম্পূর্ণ ঠিকানা গ্রুপে বরাদ্দমাল্টিকাস্টিং (Multicasting - ভিডিও কনফারেন্সিং)।
Class E240.0.0.0 থেকে 255.255.255.255প্রযোজ্য নয়সংরক্ষিতভবিষ্যতের গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক কাজের জন্য সংরক্ষিত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: 127.0.0.1 ঠিকানাটি কোনো নেটওয়ার্কে বরাদ্দ হয় না, এটি লুপব্যাক অ্যাড্রেস (Loopback Address) হিসেবে নিজের কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার স্ট্যাক পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৬.২ ব্যবহারযোগ্য হোস্ট ও প্রাইভেট IP অ্যাড্রেস

কোনো সাবনেটে $H$ সংখ্যক হোস্ট বিট বরাদ্দ থাকলে সর্বদা দুটি ঠিকানা সংরক্ষিত থাকে:

  • সমস্ত হোস্ট বিট 0 হলে তা সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের পরিচয় বহন করে (Network ID)।
  • সমস্ত হোস্ট বিট 1 হলে তা ওই নেটওয়ার্কের ব্রডকাস্টের জন্য বরাদ্দ থাকে (Directed Broadcast Address)।
  • অতএব, যেকোনো নেটওয়ার্কে কার্যকর ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা = $2^H - 2$।

প্রাইভেট IP ব্লক (RFC 1918): বিশ্বব্যাপী IPv4 ঠিকানার ঘাটতি মেটাতে কিছু ঠিকানাকে লোকাল ব্যবহারের জন্য ফ্রি রাখা হয়েছে যা ইন্টারনেটে সরাসরি রাউটিং হয় না:

  • Class A: 10.0.0.0 থেকে 10.255.255.255 (মাস্ক /8)
  • Class B: 172.16.0.0 থেকে 172.31.255.255 (মাস্ক /12)
  • Class C: 192.168.0.0 থেকে 192.168.255.255 (মাস্ক /16 - আমাদের বাড়ির ওয়াই-ফাই রাউটারে ব্যবহৃত)
৬.৩ সুইচিং প্রযুক্তি: সার্কিট সুইচিং বনাম প্যাকেট সুইচিং

নেটওয়ার্কে উৎস থেকে গন্তব্যে ডেটা প্রেরণের জন্য প্রধানত দুটি কৌশল ব্যবহৃত হয়:

  • সার্কিট সুইচিং (Circuit Switching): ডেটা পাঠানোর পূর্বে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে একটি অবিচ্ছিন্ন, স্থির ভৌত সংযোগ পথ (Dedicated Physical Circuit) তৈরি করা হয়। সম্পূর্ণ কথোপকথন চলাকালীন ওই পথটি কেবল তাদের জন্যই সংরক্ষিত থাকে। উদাহরণ: ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ডলাইন টেলিফোন নেটওয়ার্ক (PSTN)। এতে গ্যারান্টিযুক্ত ব্যান্ডউইথ পাওয়া যায় কিন্তু লাইন অব্যবহৃত থাকলেও কেউ ব্যবহার করতে পারে না বলে সংস্থান অপচয় হয়।
  • প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching): আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি। এতে মূল বার্তাকে ছোট ছোট নির্দিষ্ট আকারের প্যাকেটে (Packets) ভাগ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা থাকে। প্যাকেটগুলি রাউটার দ্বারা স্টোর-অ্যান্ড-ফরোয়ার্ড নীতিতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়ে অগ্রসর হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। গন্তব্যে ট্রান্সপোর্ট লেয়ার সিকোয়েন্স নম্বর অনুযায়ী পুনরায় এদের সাজিয়ে মূল বার্তা উদ্ধার করে। এতে লাইনের সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৬.৪ প্রধান অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার প্রোটোকলসমূহ
  • HTTP (Hypertext Transfer Protocol, Port 80): ক্লায়েন্ট ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভারের মধ্যে অসংরক্ষিত প্লেইন টেক্সট এইচটিএমএল ওয়েবপেজ স্থানান্তরের ভিত্তি।
  • HTTPS (Hypertext Transfer Protocol Secure, Port 443): SSL/TLS প্রোটোকল দ্বারা ডেটাকে উচ্চমাত্রায় এনক্রিপ্ট করে নিরাপদভাবে ওয়েব আদান-প্রদান নিশ্চিত করে (অনলাইন পেমেন্ট ও লগইনে ব্যবহৃত)।
  • FTP (File Transfer Protocol, Ports 20 & 21): দুটি কম্পিউটারের মধ্যে দূরবর্তী ফাইল আপলোড ও ডাউনলোডের মান্য প্রোটোকল। পোর্ট ২১-এ কমান্ড/কন্ট্রোল এবং পোর্ট ২০-এ ডেটা স্থানান্তরিত হয়।
  • SMTP (Simple Mail Transfer Protocol, Port 25): একটি ডিভাইস থেকে মেল সার্ভারে অথবা এক মেল সার্ভার থেকে অন্য মেল সার্ভারে ইমেইল পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত পুশ (Push) প্রোটোকল।
  • DNS (Domain Name System, Port 53 UDP/TCP): আলফানিউমেরিক ডোমেন নামকে ৩২-বিট IP ঠিকানায় রূপান্তর করে।
  • DHCP (Dynamic Host Configuration Protocol, Ports 67 & 68 UDP): নেটওয়ার্কে যুক্ত যেকোনো নতুন কম্পিউটারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাইনামিক IP অ্যাড্রেস, সাবনেট মাস্ক ও ডিফল্ট গেটওয়ে বরাদ্দ করে।

প্রোগ্রামিং সিনট্যাক্স, কমান্ড ও অনুবাদক নীতি

মেশ টপোলজির প্রয়োজনীয় ভৌত লিঙ্কের সূত্র
$$L = \frac{N(N - 1)}{2}$$
সাবনেটে ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা গণনার সূত্র
$$\text{Usable Hosts} = 2^H - 2$$
সাবনেট সংখ্যা গণনার সূত্র
$$\text{Subnets} = 2^S$$
অপটিক্যাল ফাইবারের সংকট কোণের সূত্র (Snell's Law)
$$\theta_c = \sin^{-1}\left(\frac{n_2}{n_1}\right)$$
প্রসারণ বিলম্ব (Propagation Delay) সূত্র
$$\text{Propagation Delay} (T_p) = \frac{\text{Distance}}{\text{Propagation Speed}}$$
ব্যান্ডউইথ-ডিলে প্রোডাক্ট (BDP)
$$\text{BDP} = \text{Bandwidth (bps)} \times \text{Round Trip Time (RTT seconds)}$$

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
একটি প্রতিষ্ঠানে ৮টি কম্পিউটার সম্পূর্ণ মেশ (Full Mesh) টপোলজিতে যুক্ত করতে হবে। মোট কতগুলি ভৌত তার (কমিউনিকেশন লিঙ্ক) প্রয়োজন হবে এবং প্রতিটি কম্পিউটারে কতগুলি নেটওয়ার্ক পোর্ট থাকতে হবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: সূত্র নির্ধারণ
মেশ টপোলজিতে $N$ সংখ্যক নোডের জন্য প্রয়োজনীয় মোট দ্বিমুখী লিঙ্কের সূত্র হলো:
$$L = \frac{N(N - 1)}{2}$$
এবং প্রতিটি নোডের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস পোর্টের সংখ্যা $= N - 1$।
ধাপ ২: মান বসিয়ে গণনা
এখানে মোট কম্পিউটার সংখ্যা $N = 8$।
অতএব প্রয়োজনীয় লিঙ্কের সংখ্যা:
$$L = \frac{8 \times (8 - 1)}{2} = \frac{8 \times 7}{2} = \frac{56}{2} = 28$$ টি কেবল।
প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় পোর্ট $= 8 - 1 = 7$ টি।
উত্তর:
মোট ২৮টি ফিজিক্যাল কেবলের প্রয়োজন হবে এবং প্রতিটি কম্পিউটারে ৭টি করে ডেডিকেটেড পোর্ট থাকতে হবে।
উদাহরণ 2
একটি কম্পিউটারের IP অ্যাড্রেস হলো 192.168.10.45 এবং সাবনেট মাস্ক হলো 255.255.255.0। এটি কোন ক্লাসের অন্তর্গত? এই নেটওয়ার্কের Network ID, Directed Broadcast Address এবং মোট ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা কত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: ক্লাস নির্ধারণ
IP অ্যাড্রেসের প্রথম অক্টেট হলো ১৯২ (192)।
যেহেতু ১৯২ থেকে ২২৩ পর্যন্ত মান Class C-এর অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি একটি Class C নেটওয়ার্ক।
ধাপ ২: NetID ও HostID পৃথকীকরণ
সাবনেট মাস্ক 255.255.255.0 নির্দেশ করে প্রথম ৩টি অক্টেট (২৪ বিট) হলো নেটওয়ার্ক অংশ এবং শেষ ১টি অক্টেট (৮ বিট) হলো হোস্ট অংশ ($H = 8$)।
অতএব Network ID (হোস্ট অংশ 0 করে): 192.168.10.0।
ধাপ ৩: ব্রডকাস্ট ঠিকানা ও হোস্ট সংখ্যা নির্ণয়
হোস্ট অংশের সমস্ত বিট 1 (দশমিকে ২৫৫) করলে পাওয়া যায়:
Directed Broadcast Address: 192.168.10.255।
ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা $= 2^H - 2 = 2^8 - 2 = 256 - 2 = 254$ টি।
ব্যবহারযোগ্য হোস্ট আইপি রেঞ্জ: 192.168.10.1 থেকে 192.168.10.254।
উদাহরণ 3
একটি অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের কোরের প্রতিসরাঙ্ক (n1) হলো 1.50 এবং ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরাঙ্ক (n2) হলো 1.40। এই ফাইবারের সংকট কোণ (Critical Angle) কত এবং পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: সূত্র নির্বাচন
স্নেলের সূত্রানুযায়ী সংকট কোণ:
$$\theta_c = \sin^{-1}\left(\frac{n_2}{n_1}\right)$$
যেখানে কোরের প্রতিসরাঙ্ক $n_1 = 1.50$ এবং ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরাঙ্ক $n_2 = 1.40$।
ধাপ ২: গাণিতিক হিসাব
$$\frac{n_2}{n_1} = \frac{1.40}{1.50} = \frac{14}{15} \approx 0.9333$$
$$\theta_c = \sin^{-1}(0.9333) \approx 68.96^\circ$$ বা প্রায় $69^\circ$।
ধাপ ৩: পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত
১. আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম (কোর, $n_1 = 1.50$) থেকে হালকা মাধ্যমে (ক্ল্যাডিং, $n_2 = 1.40$) প্রবেশের চেষ্টা করতে হবে।
২. কোর-ক্ল্যাডিং সংযোগস্থলে আলোকরশ্মির আপতন কোণকে অবশ্যই সংকট কোণ ($68.96^\circ$) অপেক্ষা বৃহত্তর হতে হবে।
উদাহরণ 4
একটি ছোট কোম্পানি তাদের Class C নেটওয়ার্ক 192.168.5.0-কে সাবনেট করতে চায় যাতে অন্তত ৪টি সমান সাবনেট তৈরি করা যায়। প্রতি সাবনেটে সাবনেট মাস্ক কত হবে এবং প্রতিটি সাবনেটে কতগুলি করে ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটার যুক্ত করা যাবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: ধার করা সাবনেট বিট নির্ণয়
আমরা জানি সাবনেট সংখ্যা $= 2^S \ge 4$।
যেহেতু $2^2 = 4$, সুতরাং আমাদের হোস্ট অংশ থেকে ঠিক $S = 2$ টি বিট নেটওয়ার্কের জন্য ধার করতে হবে।
ধাপ ২: নতুন সাবনেট মাস্ক গঠন
Class C-এর স্বাভাবিক নেটওয়ার্ক বিট ছিল ২৪। নতুন নেটওয়ার্ক দৈর্ঘ্য $= 24 + 2 = 26$ বিট (/26)।
চতুর্থ অক্টেটের প্রথম দুটি বিট ১ হবে: $11000000_2 = 128 + 64 = 192$।
অতএব নতুন সাবনেট মাস্ক হলো: 255.255.255.192।
ধাপ ৩: অবশিষ্ট হোস্ট বিট ও হোস্ট সংখ্যা গণনা
মোট হোস্ট বিট ছিল ৮। ধার নেওয়ার পর অবশিষ্ট হোস্ট বিট $H = 8 - 2 = 6$।
প্রতিটি সাবনেটে ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা $= 2^H - 2 = 2^6 - 2 = 64 - 2 = 62$ টি কম্পিউটার।
উদাহরণ 5
একটি 100 Mbps ইথারনেট লিঙ্কের রাউন্ড ট্রিপ টাইম (RTT) হলো 20 মিলিসেকেন্ড। এই লিঙ্কের ব্যান্ডউইথ-ডিলে প্রোডাক্ট (Bandwidth-Delay Product) গণনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: একক রূপান্তর
ব্যান্ডউইথ $B = 100\text{ Mbps} = 100 \times 10^6\text{ bits/second} = 10^8\text{ bps}$।
বিলম্ব সময় $RTT = 20\text{ ms} = 20 \times 10^{-3}\text{ seconds} = 0.02\text{ seconds}$।
ধাপ ২: BDP সূত্র প্রয়োগ
$$BDP = \text{Bandwidth} \times RTT = (10^8\text{ bps}) \times (0.02\text{ s}) = 2,000,000\text{ bits}$$
বাইটে রূপান্তর করতে ৮ দিয়ে ভাগ করি:
$$\text{BDP in Bytes} = \frac{2,000,000}{8} = 250,000\text{ Bytes} = 250\text{ KB}$$।
সিদ্ধান্ত:
এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ডেটা পৌঁছানোর সময় এক মুহূর্তে এই লিঙ্কে সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোবাইট ডেটা সঞ্চালিত হতে পারে।
উদাহরণ 6
ধরা যাক একটি প্যাকেট সোর্স কম্পিউটার A থেকে ডেস্টিনেশন সার্ভার B-তে যাওয়ার পথে ৩টি রাউটারের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এই নেটওয়ার্ক পথে মোট হপ কাউন্ট (Hop Count) কত এবং প্রতিটি হপে কোন OSI লেয়ারে আইপি হেডার প্রক্রিয়াকৃত হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: পাথ বিশ্লেষণ
পাথটি নিম্নরূপ: $\text{Host A} \to \text{Router 1} \to \text{Router 2} \to \text{Router 3} \to \text{Host B}$।
এখানে ইন্টারমিডিয়েট রাউটারের সংখ্যা ৩টি।
ধাপ ২: হপ কাউন্ট গণনা
হপ কাউন্ট হলো ডেটা প্যাকেট গন্তব্যে পৌঁছাতে মোট কতগুলি নেটওয়ার্ক ডিভাইস (রাউটার) অতিক্রম করে।
এখানে Host A থেকে Router 1 (হপ ১) $\to$ Router 2 (হপ ২) $\to$ Router 3 (হপ ৩) $\to$ Host B।
সুতরাং মোট হপ কাউন্ট = ৩ (৩টি ইন্টারমিডিয়েট রাউটার পেরিয়েছে)।
ধাপ ৩: লেয়ার প্রসেসিং
প্রতিটি রাউটারে প্যাকেটটি ফিজিক্যাল লেয়ারে গ্রহণ করা হয়, ডেটা লিঙ্ক লেয়ারে ফ্রেমের MAC ডিক্যাপসুলেট করা হয়, এবং Layer 3 (Network Layer)-এ ডেস্টিনেশন IP অ্যাড্রেস ও TTL (Time to Live) পরীক্ষা করা হয়। TTL-এর মান ১ কমিয়ে নতুন MAC ফ্রেম তৈরি করে পরবর্তী লিঙ্কে ফরোয়ার্ড করা হয়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

সুইচ ও হাবকে একই যন্ত্র মনে করা এবং এদের কাজ গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

হাব লেয়ার ১ ডিভাইস যা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমস্ত পোর্টে অন্ধভাবে ব্রডকাস্ট করে এবং কলিশন ঘটায়। সুইচ লেয়ার ২ বুদ্ধিমান ডিভাইস যা MAC টেবিল দেখে নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা ফরোয়ার্ড করে এবং প্রতিটি পোর্টে পৃথক কলিশন ডোমেন তৈরি করে।

সাধারণ ভুল ধারণা

হোস্ট সংখ্যা গণনার সময় $2^H$ লিখে ২ বিয়োগ করতে ভুলে যাওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সর্বদা $2^H - 2$ হবে। কারণ হোস্ট অংশের সমস্ত ০ হলো Network ID এবং সমস্ত ১ হলো Broadcast ID; এই দুটি ঠিকানা কোনো ডিভাইসে বরাদ্দ করা যায় না।

সাধারণ ভুল ধারণা

OSI মডেলের লেয়ারের ক্রম ভুল লেখা (উপর থেকে নিচে নাকি নিচ থেকে উপরে)।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মান্য নিয়ম অনুসারে লেয়ার ১ হলো সর্বদা Physical Layer এবং লেয়ার ৭ হলো Application Layer (মনে রাখার কৌশল: Please Do Not Throw Sausage Pizza Away - P-D-N-T-S-P-A)।

সাধারণ ভুল ধারণা

MAC অ্যাড্রেস ও IP অ্যাড্রেসকে একই ধরণের ঠিকানা বিবেচনা করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

MAC হলো ৪৮-বিটের অপরিবর্তনীয় হার্ডওয়্যার ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস (NIC-তে পোড়ানো থাকে)। আর IP হলো ৩২-বিটের লজিক্যাল অ্যাড্রেস যা নেটওয়ার্কের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যেতে পারে।

সাধারণ ভুল ধারণা

বাস টপোলজির টার্মিনেটরের কাজ সম্পর্কে অস্পষ্টতা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

টার্মিনেটরের কাজ তারের শেষ প্রান্তে সিগন্যাল শোষণ করা যাতে সিগন্যাল রিফ্লেকশন (প্রতিধ্বনি) ঘটে অন্য সিগন্যালের সাথে সংঘাত বা কলিশন না সৃষ্টি করে।

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক একাধিক স্বায়ত্তশাসিত ডিভাইসকে সংযুক্ত করে সম্পদ শেয়ারিং ও ডেটা আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। ভৌগোলিক পরিধি অনুসারে নেটওয়ার্ক PAN, LAN, MAN এবং WAN-এ বিভক্ত। ডেটা পরিবহনে টুইস্টেড পেয়ার, কোঅ্যাক্সিয়াল ও অপটিক্যাল ফাইবার (পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতি) অথবা তারবিহীন তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। জ্যামিতিক টপোলজিগুলির মধ্যে স্টার ল্যানের আধুনিক মান্য রূপ এবং মেশ টপোলজি N(N-1)/2 লিঙ্কের সাহায্যে সর্বোচ্চ নির্ভরতা দেয়। কানেক্টিং ডিভাইস হিসেবে হাব লেয়ার ১-এ, সুইচ লেয়ার ২-এ (কলিশন ডোমেন পৃথক করে) এবং রাউটার লেয়ার ৩-এ (ব্রডকাস্ট ডোমেন পৃথক করে) কাজ করে। তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে OSI ৭-স্তর এবং ব্যবহারিক রূপায়নে TCP/IP ৪-স্তর মডেল ব্যবহৃত হয়। ৩২-বিট IPv4 অ্যাড্রেসিংয়ে সাবনেটে ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা 2^H - 2 এবং ইন্টারনেট প্যাকেট সুইচিংয়ে HTTP, HTTPS, FTP, DNS ও SMTP প্রোটোকলের সাহায্যে পরিচালিত হয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
একটি ছোট কম্পিউটার ল্যাবে ১০টি কম্পিউটারকে একটি কেন্দ্রীয় সুইচের সাথে সংযুক্ত করা হলো। এটি কোন টপোলজি? এই নেটওয়ার্কে মোট কতটি তার লাগবে এবং কেন্দ্রীয় সুইচটি নষ্ট হলে কী ঘটবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: এটি একটি স্টার টপোলজি (Star Topology)। এতে ১০টি কম্পিউটারের জন্য ঠিক ১০টি পৃথক তার লাগবে। যেহেতু সুইচ হলো কেন্দ্রীয় নিয়ামক, তাই কেন্দ্রীয় সুইচটি বিকল হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে পড়বে (Single Point of Failure)।
2
অপটিক্যাল ফাইবার তারে সংকেত কীভাবে পরিবাহিত হয়? বৈদ্যুতিক তারের তুলনায় এর দুটি প্রধান সুবিধা লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবার তারে বৈদ্যুতিক সংকেতের বদলে অতি বিশুদ্ধ কাচের কোরের মধ্য দিয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (TIR) প্রক্রিয়ায় আলোর স্পন্দন আকারে ডেটা পরিবাহিত হয়। দুটি সুবিধা: ১. এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স (EMI) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ২. এর ব্যান্ডউইথ বা ডেটা পরিবহনের গতি সাধারণ তারের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
3
MAC অ্যাড্রেস ও IP অ্যাড্রেসের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. MAC অ্যাড্রেস ৪৮-বিটের ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস যা প্রস্তুতকারক কর্তৃক NIC-তে পোড়ানো থাকে; আর IP অ্যাড্রেস ৩২-বিটের লজিক্যাল অ্যাড্রেস যা নেটওয়ার্কে ডিভাইস সংযুক্ত হলে বরাদ্দ হয়। ২. MAC লেয়ার ২-এ ব্যবহৃত হয়, IP লেয়ার ৩-এ ব্যবহৃত হয়। ৩. MAC ঠিকানা ডিভাইসের অবস্থান বদলালে অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু IP ঠিকানা নেটওয়ার্ক পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যায়।
4
কোনো নেটওয়ার্কে রাউটার ব্যবহারের প্রধান দুটি সুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. রাউটার একাধিক সম্ভাব্য পথের মধ্য থেকে প্যাকেট প্রেরণের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম ও সংক্ষিপ্ত পথ (Routing) নির্বাচন করতে পারে। ২. রাউটার ব্রডকাস্ট ডোমেনকে ভেঙে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্রডকাস্ট ট্র্যাফিক আটকে নেটওয়ার্কের কর্মক্ষমতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
5
একটি Class B নেটওয়ার্কে হোস্ট বিটের সংখ্যা ১৬। এই নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ কতগুলি কার্যকর কম্পিউটার যুক্ত করা সম্ভব?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: Class B নেটওয়ার্কে হোস্ট বিট H = 16। অতএব মোট কার্যকর ব্যবহারযোগ্য হোস্ট সংখ্যা = 2^16 - 2 = 65,536 - 2 = 65,534 টি কম্পিউটার।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।