Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Computer Science • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

কম্পিউটার নৈতিকতা ও সাইবার নীতি

কম্পিউটার নৈতিকতা ও সাইবার আইন আধুনিক ডিজিটাল সমাজ ও প্রযুক্তিভিত্তিক সভ্যতার এক অপরিহার্য দিকদর্শন। তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশ একদিকে যেমন যোগাযোগ, শিক্ষা ও ব্যবসাকে বিশ্বজনীন করেছে, অন্যদিকে তেমনি বৌদ্ধিক সম্পত্তির সুরক্ষা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির কম্পিউটার সায়েন্সের সর্বশেষ পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এই অধ্যায়ে ডিজিটাল জগতের নৈতিক অনুশাসন, বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (IPR—কপিরাইট, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও ট্রেড সিক্রেট), প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তি এবং সফটওয়্যার পাইরেসি প্রতিরোধ, সফটওয়্যারের বিতরণ ও লাইসেন্সিং মডেল (মালিকানাধীন বনাম মুক্ত সোর্স বা FOSS, GNU GPL ও ক্রিয়েটিভ কমন্স), সাইবার অপরাধের শ্রেণিবিভাগ ও ম্যালওয়্যার আক্রমণ (ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, র‍্যানসমওয়্যার ও ফিশিং), ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০ (IT Act 2000 ও 2008 সংশোধনী) এর প্রধান ধারা ও দণ্ডবিধি, ডিজিটাল পদচিহ্ন (Active vs Passive Footprint), তথ্যের গোপনীয়তা ও সিআইএ ট্রায়াড এবং পরিবেশগত বিপন্নতা রোধে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-Waste) ব্যবস্থাপনা ও গ্রিন কম্পিউটিংয়ের বৈজ্ঞানিক রূপরেখা অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে প্রযুক্তি শুধুমাত্র কারিগরি কোডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিটি প্রোগ্রামার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক আচরণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি অননুমোদিত কোড বা ম্যালওয়্যার নিমেষে একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে, আর অসাবধানতাবশত কারও ব্যক্তিগত তথ্য বা বৌদ্ধিক সৃষ্টি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জনের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল, সচেতন ও নিরাপদ ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এই অধ্যায়ের জ্ঞান অনস্বীকার্য। ভারতীয় আইটি আইনের বিভিন্ন ধারা, সাইবার ক্রাইম থেকে আত্মরক্ষার কৌশল এবং ই-বর্জ্য নিষ্পত্তির নিয়মাবলী জানা কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাস্তব জীবনের জন্য এক অনন্য হাতিয়ার।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 কম্পিউটার নৈতিকতার ভিত্তি, ডিজিটাল...
2 বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (IPR), প্লে...
3 সফটওয়্যার লাইসেন্সিং মডেল: মালিকান...
4 সাইবার অপরাধের শ্রেণিবিভাগ, ম্যালওয...
5 ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act 2...
6 ডেটা গোপনীয়তা, ডিজিটাল পদচিহ্ন, ই-...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

কম্পিউটার নৈতিকতার ভিত্তি, ডিজিটাল সমাজ ও নেটিকেট (Netiquette)

১.১ ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা

কম্পিউটার নৈতিকতা (Computer Ethics) হলো দর্শনশাস্ত্রের সেই বিশেষ শাখা যা কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক দায়িত্ব, সামাজিক প্রভাব ও আইনি আচরণবিধি বিচার বিশ্লেষণ করে। যেহেতু সাইবার জগতের বিস্তৃতি সীমানাহীন এবং সেখানে ব্যবহারকারীর ভৌগোলিক অবস্থান গোপন থাকে, তাই প্রচলিত সমাজের তুলনায় ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধ বা নীতিহীনতার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।

কম্পিউটার পেশাদার ও ব্যবহারকারীদের প্রধান নৈতিক দায়িত্বগুলি হলো:

  • ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা (Respect for Privacy): অন্য ব্যক্তির অনুমতি ব্যতীত তার গোপন ডেটা, ছবি বা ফাইলে উঁকিঝুঁকি না দেওয়া এবং বাণিজ্যিক লাভের জন্য তা বিক্রি না করা।
  • সততা ও স্বচ্ছতা (Honesty & Integrity): সফটওয়্যারে কোনো গোপন ক্ষতিকর উপাদান (যেমন ট্রোজান বা স্পাইওয়্যার) যুক্ত না করা এবং অ্যালগরিদমের সঠিক ফলাফল প্রকাশ করা।
  • ন্যায়পরায়ণতা ও পক্ষপাতহীনতা (Fairness): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সফটওয়্যার তৈরিতে যাতে কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণের প্রতি পক্ষপাতিত্ব সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা।
  • সামাজিক কল্যাণ ও সুরক্ষা (Social Responsibility): এমন কোনো প্রযুক্তি বিকাশ না করা যা মানবসমাজের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতিসাধন করে।
১.২ কম্পিউটার নীতিশাস্ত্রের দশটি অনুশাসন (Ten Commandments of Computer Ethics)

১৯৯২ সালে কম্পিউটার এথিক্স ইনস্টিটিউট (CEI) বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য দশটি মৌলিক অনুশাসন প্রণয়ন করে:

  1. অন্য ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার করবে না।
  2. অন্যের কম্পিউটারের কাজে অযথা হস্তক্ষেপ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না।
  3. অন্যের ব্যক্তিগত ফাইল বা নথিপত্রে অনুমতি ছাড়া উঁকিঝুঁকি দেবে না।
  4. চুরি করার অসৎ উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার করবে না।
  5. অনলাইনে মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না।
  6. যে বাণিজ্যিক সফটওয়্যারের জন্য তুমি অর্থ দাওনি, তা অননুমোদিতভাবে কপি বা ব্যবহার করবে না।
  7. অন্যের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সংস্থান অনুমতি ও পারিশ্রমিক ছাড়া ব্যবহার করবে না।
  8. অন্যের বুদ্ধিপ্রসূত মেধার সৃষ্টি বা কোড নিজের বলে দাবি করবে না।
  9. তুমি যে সফটওয়্যার বানাচ্ছ বা যে সিস্টেম পরিচালনা করছ, তার সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকবে।
  10. সর্বদা এমনভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করবে যাতে তোমার সহমানুষের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়।
১.৩ নেটিকেট (Netiquette): সাইবার জগতের শিষ্টাচার

নেটিকেট (Network + Etiquette) হলো ইন্টারনেটে ভদ্র, রুচিশীল ও শালীন যোগাযোগের কিছু সার্বজনীন নিয়মাবলী:

নেটিকেটের মূল ক্ষেত্রউচিত আচরণ (Do's)নিষিদ্ধ বা অনুচিত আচরণ (Don'ts)
শব্দচয়ন ও লেখার ধরনস্পষ্ট ভাষা, শালীন শব্দ ও পরিমিত ভাব বজায় রেখে মন্তব্য করা।সব অক্ষর বড় হাতের (ALL CAPS) লিখে চিৎকার বা রাগ প্রকাশ করা, অথবা অশালীন গালিগালাজ করা।
ব্যান্ডউইথ সচেতনতাপ্রয়োজনীয় তথ্য সংক্ষেপে পাঠানো, বড় ফাইল ক্লাউড লিংকের মাধ্যমে শেয়ার করা।একসাথে শত শত লোককে অপ্রয়োজনীয় বিশাল সাইজের ফাইল পাঠিয়ে মেলবক্স ভর্তি করে দেওয়া (Spamming)।
অন্যের ব্যক্তিগত তথ্যকারও কোনো ছবি বা ইমেল ফরোয়ার্ড করার আগে তার পূর্বানুমতি গ্রহণ করা।অনুমতি ছাড়া অন্যের ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা বা পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়া (Doxxing)।
বিতর্ক ও মতবিরোধগঠনমূলক যুক্তি দিয়ে আলোচনা করা, প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা।ব্যক্তিগত আক্রমণ, ট্রোলিং, সাইবার উৎপীড়ন বা তথাকথিত ফ্লেম ওয়ার (Flame War) সৃষ্টি করা।
ইমেল শিষ্টাচারযথাযথ বিষয় (Subject Line) উল্লেখ করা, স্পষ্ট সম্ভাষণ ও নিজের পরিচয় দেওয়া।ফাঁকা সাবজেক্ট লাইন রাখা, ভুয়া লটারি বা চমকপ্রদ মিথ্যা বার্তা পাঠানো।

বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (IPR), প্লেজিয়ারিজম ও সফটওয়্যার পাইরেসি

২.১ বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকারের (IPR) ধারণা ও প্রকারভেদ

বৌদ্ধিক সম্পত্তি (Intellectual Property) বলতে বোঝায় মানুষের মেধার মৌলিক উদ্ভাবন—যেমন কোনো সফটওয়্যার অ্যালগরিদম, উপন্যাস, গান, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি বা ব্র্যান্ডের লোগো। এই ধরনের সৃষ্টিকে রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করার অধিকারকে বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (IPR) বলে।

কম্পিউটার সায়েন্সে আইপিআর-এর প্রধান চারটি শাখা রয়েছে:

  • কপিরাইট (Copyright):
    • আওতা: কোনো ভাবনার নির্দিষ্ট লিখিত প্রকাশকে এটি সুরক্ষা দেয়, ভাবনার মূল তত্ত্বকে নয়। কম্পিউটার সফটওয়্যারের সোর্স কোড ও অবজেক্ট কোড ভারতীয় কপিরাইট আইন ১৯৫৭ অনুসারে 'সাহিত্যকর্ম' (Literary Work) হিসেবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
    • মেয়াদ: ভারতে রচয়িতার জীবিতকাল এবং তার মৃত্যুর পর আরও ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকে।
    • লঙ্ঘন: অন্যের লিখিত সফটওয়্যার হুবহু কপি করা বা অননুমোদিতভাবে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
  • পেটেন্ট (Patent):
    • আওতা: নতুন, পূর্বে কখনো ব্যবহৃত না হওয়া কোনো কার্যকরী বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন বা প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াকে পেটেন্ট সুরক্ষা দেয়। কোনো সফটওয়্যার যদি কোনো বাস্তব হার্ডওয়্যারের সাথে মিলিত হয়ে প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যার বাস্তব সমাধান করে, তবে তা পেটেন্টযোগ্য হতে পারে।
    • মেয়াদ: পেটেন্ট আবেদনের তারিখ থেকে কঠোরভাবে ২০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে।
  • ট্রেডমার্ক (Trademark):
    • আওতা: কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার বা সেবাকে স্বতন্ত্রভাবে শনাক্ত করার প্রতীক, নাম বা লোগো (যেমন: অ্যাপলের কাটা আপেল, উইন্ডোজের চার রঙের লোগো, গুগলের প্রতীক)। একে ™ বা ® দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
    • মেয়াদ: ১০ বছরের জন্য মঞ্জুর হয় এবং নিয়মিত ফি প্রদান করে আজীবন নবায়নযোগ্য।
  • ট্রেড সিক্রেট (Trade Secret):
    • আওতা: কোনো কোম্পানির অত্যন্ত গোপন ও মূল্যবান বাণিজ্যিক তথ্য বা অ্যালগরিদম যা বাজারে তাকে বাড়তি সুবিধা দেয় (যেমন গুগলের পেজর‍্যাঙ্ক অ্যালগরিদমের কোড বা কোকা-কোলার গোপন ফর্মুলা)।
    • মেয়াদ: যতক্ষণ পর্যন্ত কোম্পানি গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে, ততক্ষণ এটি চিরস্থায়ী থাকে।
২.২ প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism / সাহিত্যিক বা কারিগরি চৌর্যবৃত্তি)

প্লেজিয়ারিজম হলো অন্য কোনো ব্যক্তির লিখিত কোড, গবেষণাপত্র, চিন্তা বা বক্তব্যকে তার অনুমতি বা যথাযথ কৃতজ্ঞতা স্বীকার (Citation) না করে নিজের মৌলিক সৃষ্টি বলে প্রকাশ করার অসদুপায়।

  • সরাসরি কোড চুরি (Direct Plagiarism): ইন্টারনেটের কোনো ওয়েবসাইট বা সহপাঠীর প্রোজেক্ট থেকে হুবহু সোর্স কোড কপি করে নিজের প্রোজেক্টে চালিয়ে দেওয়া।
  • প্যারাফ্রেজিং বা ছদ্মবেশী প্লেজিয়ারিজম: কোডের আসল লজিক একই রেখে কেবল চলক বা ভেরিয়েবলের নাম ও কমেন্ট পরিবর্তন করে নিজের বলে দাবি করা। আধুনিক অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম টুল (যেমন MOSS, Turnitin) সিনট্যাক্স ট্রি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহজেই এই প্রতারণা ধরে ফেলে।
  • প্রতিরোধের উপায়: প্রোজেক্টে ব্যবহৃত সমস্ত তৃতীয় পক্ষের লাইব্রেরি ও উৎসের স্পষ্ট উল্লেখ বা রেফারেন্স (IEEE, ACM ফরম্যাটে) প্রদান করা।
২.৩ সফটওয়্যার পাইরেসি: ধরন ও ক্ষতিকর প্রভাব

সফটওয়্যার পাইরেসি হলো কপিরাইটযুক্ত বাণিজ্যিক সফটওয়্যার বিনা অনুমতিতে বা লাইসেন্স ফি না দিয়ে অবৈধভাবে কপি করা, ব্যবহার করা বা বিক্রি করা।

পাইরেসির প্রকারভেদকাজের ধরনবাস্তব উদাহরণ
সফটলিফটিং (Softlifting)একটি একক লাইসেন্স কিনে বন্ধুদের মধ্যে তা একাধিক কম্পিউটারে ইনস্টল করে ব্যবহার করা।একটি উইন্ডোজের লাইসেন্স কিনে বাড়ির ৫টি ল্যাপটপে চালানো।
ক্লায়েন্ট-সার্ভার ওভারইউজনেটওয়ার্কে অনুমোদিত ব্যবহারকারী সংখ্যার চেয়ে বেশি ডিভাইসকে একই সাথে সফটওয়্যার ব্যবহার করতে দেওয়া।১০ জন ব্যবহারকারীর লাইসেন্স নিয়ে ৫০ জনের অফিসে সফটওয়্যার চালানো।
হার্ড ডিস্ক লোডিংকম্পিউটার মেরামতি বা বিক্রেতারা ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে নতুন পিসিতে পাইরেটেড সফটওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া।দোকান থেকে ল্যাপটপ কেনার সময় পাইরেটেড ফটোশপ বা উইন্ডোজ ফ্রি ইনস্টল করে দেওয়া।
জালিয়াতি (Counterfeiting)অরিজিনাল ডিস্ক ও প্যাকেজিংয়ের মতো হুবহু নকল বাক্স ও ডিস্ক বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা।আসল ডিভিডির মতো দেখতে নকল সফটওয়্যারের প্যাকেজ বাজারে কম দামে বিক্রি করা।
অনলাইন ক্র্যাকিং ও টরেন্টসফটওয়্যারের কপি প্রটেকশন বা সিকিউরিটি লক বাইপাস করে ইন্টারনেটে 'ক্র্যাক' বা 'কী-জেন' ফাইল ছড়ানো।টরেন্ট ওয়েবসাইট থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের দামি সফটওয়্যার ফ্রিতে ডাউনলোড করা।

সফটওয়্যার লাইসেন্সিং মডেল: মালিকানাধীন বনাম FOSS, GPL ও ক্রিয়েটিভ কমন্স

৩.১ সফটওয়্যার বিতরণ ও লাইসেন্সের প্রকারভেদ

সফটওয়্যার লাইসেন্স হলো গ্রাহক ও সফটওয়্যার প্রস্তুতকারকের মধ্যবর্তী একটি আইনি চুক্তিপত্র, যা নির্ধারণ করে ব্যবহারকারী সফটওয়্যারটি কীভাবে ব্যবহার, পরিবর্তন বা বিতরণ করতে পারবে।

  • মালিকানাধীন বাণিজ্যিক সফটওয়্যার (Proprietary Software):
    • সফটওয়্যারটি কেবল এক্সিকিউটেবল বাইনারি কোড (.exe) আকারে বিতরণ করা হয়; মানুষের বোধগম্য সোর্স কোড সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়।
    • ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ফি দিয়ে 'এন্ড ইউজার লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট' (EULA) শর্তসাপেক্ষে কেবল ব্যবহারের অধিকার কেনে, সফটওয়্যারের মালিকানা নয়। কোড পরিবর্তন বা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদাহরণ: Microsoft Windows, Adobe Photoshop, Oracle.
  • ফ্রিওয়্যার (Freeware):
    • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য পাওয়া যায়, কিন্তু এর সোর্স কোড উন্মুক্ত নয় এবং পরিবর্তনের সুযোগ নেই। উদাহরণ: Adobe Acrobat Reader, Skype.
  • শেয়ারওয়্যার (Shareware):
    • মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন ৩০ দিন) জন্য ফ্রি দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হলে পূর্ণ সুবিধা পেতে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। উদাহরণ: WinRAR.
  • পাবলিক ডোমেন সফটওয়্যার (Public Domain):
    • যে সফটওয়্যারের প্রণেতা স্বেচ্ছায় সমস্ত কপিরাইট ত্যাগ করেছেন। যেকোনো ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে তা ব্যবহার, বিক্রি বা পরিবর্তন করতে পারে। যেমন: SQLite-এর মূল কোড।
৩.২ ফ্রি অ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যার (FOSS) ও চারটি স্বাধীনতা

১৯৮৫ সালে রিচার্ড স্টলম্যান 'ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন' (FSF) প্রতিষ্ঠা করে FOSS আন্দোলনের সূচনা করেন। এখানে 'Free' কথাটি বিনামূল্যে পাওয়ার অর্থ বোঝায় না, বরং ব্যবহারকারীর স্বাধীনতার (যেমন বাকস্বাধীনতা বা 'libre') প্রতীক।

ফ্রি সফটওয়্যার হতে গেলে ব্যবহারকারীকে ৪টি অবিচ্ছেদ্য স্বাধীনতা (Freedoms 0 to 3) দিতে হবে:

  • স্বাধীনতা ০ (Freedom 0): যেকোনো উদ্দেশ্যে সফটওয়্যারটি চালানোর স্বাধীনতা।
  • স্বাধীনতা ১ (Freedom 1): প্রোগ্রামটির সোর্স কোড পরীক্ষা করে নিজের প্রয়োজনমতো পরিবর্তন ও পরিমার্জন করার স্বাধীনতা (সোর্স কোড প্রাপ্তি আবশ্যক)।
  • স্বাধীনতা ২ (Freedom 2): প্রতিবেশীর সাহায্যে সফটওয়্যারটির অবিকল অনুলিপি পুনঃবিতরণ করার স্বাধীনতা।
  • স্বাধীনতা ৩ (Freedom 3): প্রোগ্রামটি উন্নত করে সেই পরিবর্তিত সংস্করণ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা।
৩.৩ কপিলেফট (GPL) বনাম পারমিশিভ বনাম ক্রিয়েটিভ কমন্স
লাইসেন্স গ্রুপমূল নীতিবাধ্যবাধকতাপরিচিত উদাহরণ
কপিলেফট (GNU GPL)উন্মুক্ততার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।জিপিএল কোড ব্যবহার করে কোনো পরিবর্তিত সফটওয়্যার তৈরি করলে সেই নতুন সফটওয়্যারটিও বাধ্যতামূলকভাবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও জিপিএল লাইসেন্সভুক্ত হতে হবে।Linux Kernel, GNU Utilities, Git.
পারমিশিভ লাইসেন্স (Permissive)ন্যূনতম বিধিনিষেধ, বাণিজ্যিক স্বাধীনতা।ব্যবহারকারী কোড পরিমার্জন করে চাইলে তা বন্ধ করে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক মালিকানাধীন সফটওয়্যার হিসেবেও বিক্রি করতে পারে।MIT License, Apache 2.0, BSD License.
ক্রিয়েটিভ কমন্স (Creative Commons - CC)শিক্ষামূলক ও শিল্পকর্মের জন্য উন্মুক্ত লাইসেন্স।চারটি শর্তের সমন্বয়: Attribution (BY), Non-Commercial (NC), No-Derivatives (ND), এবং Share-Alike (SA)।উইকিপিডিয়া (CC BY-SA), ওপেন এক্সেস জার্নাল।

সাইবার অপরাধের শ্রেণিবিভাগ, ম্যালওয়্যার ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

৪.১ সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধের ধারণা

সাইবার অপরাধ (Cyber Crime) হলো এমন যেকোনো বেআইনি বা অসামাজিক কার্যকলাপ যেখানে কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস অপরাধ সংঘটনের প্রধান হাতিয়ার, লক্ষ্যবস্তু বা অপরাধের প্রমাণের ভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪.২ হ্যাকারের শ্রেণিবিভাগ: হোয়াইট হ্যাট বনাম ব্ল্যাক হ্যাট

হ্যাকিং বলতে কোনো কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাব্যবস্থা অন্বেষণ ও প্রবেশাধিকার অর্জনকে বোঝায়। উদ্দেশ্য ও আইনি অনুমোদনের ভিত্তিতে হ্যাকাররা প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত:

  • হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার (White Hat / Ethical Hacker): অনুমোদিত ও নৈতিক পেশাদার যারা কোনো প্রতিষ্ঠানের লিখিত অনুমতি নিয়ে তাদের সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে সুরক্ষা মজবুত করেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ পেশা।
  • ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার (Black Hat / Cracker): কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যের সিস্টেম হ্যাক করে অর্থ চুরি, ডেটা ধ্বংস, গোপনীয় তথ্য ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেইল করার মতো মারাত্মক অপরাধ করে। এরা দণ্ডনীয় অপরাধী।
  • গ্রে হ্যাট হ্যাকার (Grey Hat): এদের ক্ষতিকর ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্য থাকে না, তবে এরা অনুমতি ছাড়াই সিস্টেমের ফাঁকফোকর খোঁজে এবং পরে তা মেরামত করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা বা পারিশ্রমিক দাবি করে।
৪.৩ ম্যালওয়্যার (ক্ষতিকর সফটওয়্যার) পরিবারের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ম্যালওয়্যার (Malware) হলো যেকোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার কোড যা সিস্টেমে ক্ষতিসাধন বা অনুমতি ছাড়া গোপন নজরদারির জন্য তৈরি হয়।

ম্যালওয়্যারের নামআক্রমণ ও বিস্তার পদ্ধতিক্ষতিকর প্রভাব
কম্পিউটার ভাইরাস (Virus)পরজীবী প্রকৃতির; নিজে নিজে চলতে পারে না। কোনো বৈধ এক্সিকিউটেবল ফাইলের (.exe) সাথে যুক্ত থাকে। ব্যবহারকারী ফাইলটি চালালেই সক্রিয় হয়।ফাইল বিনষ্ট করে, মেমরি পূর্ণ করে বা অপারেটিং সিস্টেম ক্র্যাশ করে।
কম্পিউটার ওয়ার্ম (Worm)সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রোগ্রাম; মানুষের সাহায্য বা কোনো হোস্ট ফাইলের প্রয়োজন হয় না। নেটওয়ার্ক সকেট ও পোর্টের দুর্বলতা খুঁজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারদিকে ছড়ায়।প্রচণ্ড নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক সৃষ্টি করে ইন্টারনেটের গতি থামিয়ে দেয় এবং সার্ভার অকেজো করে (যেমন: WannaCry)।
ট্রোজান হর্স (Trojan Horse)বাইরে থেকে দেখতে কোনো আকর্ষণীয় কাজের সফটওয়্যার বা গেমের মতো ছদ্মবেশ ধারণ করে, ব্যবহারকারীকে ভুলিয়ে ইনস্টল করায়।সিস্টেমের মধ্যে পেছনের গোপন দরজা (Backdoor) খুলে দেয় যার মাধ্যমে দূর থেকে পাসওয়ার্ড ও ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ চুরি হয়।
র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware)ফিশিং ইমেল বা ম্যালিশিয়াস লিংকের মাধ্যমে প্রবেশ করে হার্ড ড্রাইভের সমস্ত ফাইল অতি শক্তিশালী এনক্রিপশন দিয়ে লক করে দেয়।স্ক্রিনে হুমকি প্রদর্শিত হয় এবং বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে ফাইল ডিক্রিপ্ট করা হয় না।
স্পাইওয়্যার ও কিলগার (Spyware)সিস্টেমে লুকিয়ে থেকে ব্যবহারকারীর প্রতিটি কিবোর্ড টাইপিং (Keystrokes), ব্রাউজিং ইতিহাস ও পাসওয়ার্ড রেকর্ড করে গোপন সার্ভারে পাঠায়।ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর এবং ব্যক্তিগত গোপন চ্যাট চুরি করে।
৪.৪ সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মানবিক প্রতারণা

সিস্টেমের ত্রুটির বদলে মানুষের সরলতা বা ভয়কে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করাকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলে:

  • ফিশিং (Phishing): বিশ্বস্ত কোনো ব্যাংকের নাম করে ভুয়া মেইল পাঠিয়ে জাল লিংকে ক্লিক করিয়ে ব্যবহারকারীর ব্যাংক একাউন্টের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া।
  • ভিশিং (Vishing) ও স্মিশিং (Smishing): ফোনে ব্যাংক ম্যানেজার সেজে ওটিপি চাওয়া (ভয়েস ফিশিং) এবং এসএমএস পাঠিয়ে প্রতারণা করা।
  • স্পুফিং (Spoofing): ইমেলের প্রেরকের ঠিকানা বা আইপি অ্যাড্রেস জাল করে অন্য কারও ছদ্মবেশ ধারণ করা।
  • পরিচয় চুরি (Identity Theft) ও সাইবার উৎপীড়ন (Cyberbullying): অন্যের আধার বা ছবি ব্যবহার করে জাল সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলা, ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল বা হুমকি দেওয়া।

ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act 2000/2008) ও ডিজিটাল ফরেনসিক্স

৫.১ ভারতীয় আইটি আইন ২০০০-এর ইতিহাস ও উদ্দেশ্য

২০০০ সালের ৯ জুন ভারতের সংসদে পাস হওয়া এবং ১৭ অক্টোবর ২০০০ থেকে কার্যকর হওয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০ (IT Act 2000) হলো ভারতে সাইবার অপরাধ দমন ও ডিজিটাল লেনদেনের আইনি স্বীকৃতির মূল ভিত্তি। ২০০৮ সালে এক যুগান্তকারী সংশোধনের মাধ্যমে এতে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।

এই আইনের প্রধান লক্ষ্যগুলি হলো:

  • ইলেকট্রনিক কমার্স (ই-কমার্স) এবং ডিজিটাল নথিকে প্রথাগত কাগজের দলিলের সমান আইনি বৈধতা দেওয়া।
  • ডিজিটাল স্বাক্ষর (Digital Signature)-কে আইনি স্বীকৃতি প্রদান করা।
  • কম্পিউটার সংক্রান্ত অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা।
  • ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) ও সাক্ষ্য আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল তথ্যকে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য করা।
৫.২ আইটি আইনের প্রধান শাস্তিমূলক ধারাসমূহ (WBCHSE পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ)
আইনের ধারাঅপরাধের বিবরণনির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি
ধারা ৪৩অননুমোদিত ক্ষতিপূরণ: অনুমতি ছাড়া অন্যের কম্পিউটারে প্রবেশ, ডেটা ডাউনলোড, ভাইরাস ঢুকিয়ে দেওয়া বা কার্যক্ষমতা নষ্ট করা।দেওয়ানি দায়: ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
ধারা ৬৫সোর্স কোড নষ্ট বা গোপন করা: আইনানুযায়ী সংরক্ষিত কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সোর্স কোড ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন বা ধ্বংস করা।সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড, অথবা ₹২,০০,০০০ জরিমানা, বা উভয়ই।
ধারা ৬৬কম্পিউটার সম্পর্কিত অপরাধ (হ্যাকিং): অসৎ বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ধারা ৪৩-এর কোনো কাজ করা।সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড, অথবা ₹৫,০০,০০০ জরিমানা, বা উভয়ই।
ধারা ৬৬সি (66C)পরিচয় চুরি (Identity Theft): অন্যের পাসওয়ার্ড, ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর বা ইউনিক আইডেন্টিটি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা।সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ₹১,০০,০০০ জরিমানা।
ধারা ৬৬ডি (66D)ছদ্মবেশে প্রতারণা (Cheating by Personation): কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ছদ্মবেশে প্রতারণা করা (যেমন ফিশিং জালিয়াতি)।সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ₹১,০০,০০০ জরিমানা।
ধারা ৬৬ই (66E)ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন: কারও অনুমতি ছাড়া তার একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও তোলা ও প্রকাশ করা।সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড, অথবা ₹২,০০,০০০ জরিমানা, বা উভয়ই।
ধারা ৬৭অশ্লীল তথ্য প্রচার: ইন্টারনেটে কুরুচিপূর্ণ বা যৌন উদ্দীপক উপাদান প্রচার করা।১ম অপরাধে ৩ বছর জেল ও ৫ লাখ জরিমানা; পুনরাবৃত্তিতে ৫ বছর জেল ও ১০ লাখ জরিমানা।
ধারা ৭২গোপনীয়তা ভঙ্গের শাস্তি: কোনো সরকারি কর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক ইলেকট্রনিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা না করা।সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, অথবা ₹১,০০,০০০ জরিমানা, বা উভয়ই।
৫.৩ CERT-In ও ডিজিটাল ফরেনসিক্সের ভূমিকা

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭০বি ধারা অনুসারে ভারত সরকার CERT-In (Indian Computer Emergency Response Team) গঠন করেছে। এটি ভারতের প্রধান জাতীয় সংস্থা যা যেকোনো সাইবার হামলা মোকাবিলা, নিরাপত্তা সতর্কতা প্রদান ও ব্যাংক-টেলিকমের সাইবার সুরক্ষার নীতি নির্ধারণ করে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধের পর ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে ডিজিটাল ফরেনসিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডেটা গোপনীয়তা, ডিজিটাল পদচিহ্ন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রিন কম্পিউটিং

৬.১ ডিজিটাল পদচিহ্ন: সক্রিয় বনাম নিষ্ক্রিয় পদচিহ্ন

ডিজিটাল পদচিহ্ন (Digital Footprint) হলো ইন্টারনেটে চলাফেরা করার সময় একজন ব্যবহারকারী নিজের অজান্তে বা সচেতনভাবে যে তথ্যের স্থায়ী ছাপ রেখে যান। এটি মূলত দুই প্রকার:

  • সক্রিয় ডিজিটাল পদচিহ্ন (Active Footprint): ব্যবহারকারী যখন নিজে সচেতনভাবে কোনো ডেটা ইন্টারনেটে আপলোড বা শেয়ার করেন। যেমন—ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া, ব্লগে কমেন্ট করা, কাউকে ইমেল পাঠানো বা কোনো ফর্ম পূরণ করা।
  • নিষ্ক্রিয় ডিজিটাল পদচিহ্ন (Passive Footprint): ব্যবহারকারীর প্রত্যক্ষ অজান্তে পেছনের পটভূমিতে যে তথ্য সংগৃহীত হয়। যেমন—ওয়েব ব্রাউজার দ্বারা স্টোর হওয়া ট্র্যাকিং কুকিজ, সার্ভারের আইপি অ্যাড্রেস লগ, ডিভাইসের জিপিএস অবস্থান বা ক্যানভাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট।
  • পদচিহ্ন সুরক্ষার উপায়: নিয়মিত ব্রাউজিং হিস্ট্রি ও কুকিজ মুছে ফেলা, প্রাইভেট ব্রাউজিং বা ইনকগনিটো মোড ব্যবহার, অ্যান্টি-ট্র্যাকার ব্যবহার এবং মোবাইল অ্যাপগুলিকে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি (যেমন সার্বক্ষণিক লোকেশন বা কন্টাক্ট অ্যাক্সেস) না দেওয়া।
৬.২ সিআইএ ট্রায়াড (CIA Triad) ও তথ্যের নিরাপত্তা

তথ্য নিরাপত্তার সর্বজনীন মৌলিক মানদণ্ড হলো CIA Triad:

  • Confidentiality (গোপনীয়তা): নিশ্চিত করা যে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিই তথ্য দেখতে পারবেন। এটি শক্তিশালী এনক্রিপশন ও পাসওয়ার্ড সুরক্ষার সাহায্যে অর্জিত হয়।
  • Integrity (অখণ্ডতা): নিশ্চিত করা যে প্রেরিত তথ্যে পথিমধ্যে কোনো অননুমোদিত বিকৃতি বা পরিবর্তন ঘটেনি। হ্যাশিং (SHA-256) ও ডিজিটাল সিগনেচার দ্বারা এটি রক্ষা করা হয়।
  • Availability (সহজলভ্যতা): নিশ্চিত করা যে বৈধ ব্যবহারকারী যখনই চাইবেন তখনই নিরবচ্ছিন্নভাবে ডেটা পাবেন। ব্যাকআপ সার্ভার ও ডিডিওএস প্রতিরোধক ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়।
৬.৩ ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-Waste): বিষাক্ত উপাদানের প্রাণঘাতী প্রভাব

ই-বর্জ্য (Electronic Waste) বলতে বোঝায় বাতিল, অকেজো বা অপ্রচলিত কম্পিউটার, মোবাইল, ব্যাটারি, সিআরটি মনিটর ও প্রিন্টারকে। সাধারণ আবর্জনার মতো মাটিতে ফেললে এর মধ্যস্থিত বিষাক্ত ধাতু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ঘটায়:

বিষাক্ত ধাতুইলেকট্রনিক্সের উৎসমানবদেহ ও প্রকৃতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব
সিসা (Lead - Pb)সিআরটি মনিটরের কাচ, সার্কিট বোর্ডের সোল্ডারিং তার।শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে, মানবদেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে এবং ভূগর্ভস্থ জলে মিশে কিডনি অকেজো করে।
পারদ (Mercury - Hg)পুরনো এলসিডি স্ক্রিনের ব্যাকলাইট, সুইচ ও রিলে।জলের মাছের শরীরে বায়ো-অ্যাকিউমুলেশন ঘটায়; মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট ও স্নায়বিক মিনামাটা রোগ সৃষ্টি করে।
ক্যাডমিয়াম (Cadmium - Cd)রিচার্জেবল নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি, চিপ রেজিস্টর।কিডনির নেফ্রন নষ্ট করে এবং হাড়ের মজ্জা নরম ও ভঙ্গুর করে ভয়াবহ ইতাই-ইতাই রোগ ঘটায়।
বেরিলিয়াম ও প্লাস্টিক বিষমাদারবোর্ডের কানেক্টর ও প্লাস্টিকের ফায়ার-রিটার্ডেন্ট কেসিং।আগুনে পোড়ালে মারাত্মক ক্যানসার সৃষ্টিকারী ডাইঅক্সিন গ্যাস ছড়ায় ও ফুসফুসে বেরিলিওসিস ঘটায়।
৬.৪ ৩-আর নীতি (3R Directive) ও গ্রিন কম্পিউটিং

ই-বর্জ্যের পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে আমাদের Reduce, Reuse, Recycle (৩-আর) নীতি এবং গ্রিন কম্পিউটিং অনুসরণ করতে হবে:

  • Reduce (ব্যবহার কমানো): সামান্য পুরনো হলেই ডিভাইস না বদলে বিদ্যমান যন্ত্রের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেড করে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা।
  • Reuse (পুনর্ব্যবহার): পুরনো কার্যকর কম্পিউটার বাতিল না করে কোনো পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে দান করা অথবা হোম স্টোরেজ সার্ভার হিসেবে কাজে লাগানো।
  • Recycle (বৈজ্ঞানিক পুনর্ব্যবহার): বাতিল ইলেকট্রনিক্স কোনো অবস্থাতেই সাধারণ ডাষ্টবিনে বা খোলা স্থানে না ফেলে কেবল সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সার্টিফায়েড ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং সংস্থায় জমা দেওয়া।
  • গ্রিন কম্পিউটিংয়ের কৌশলসমূহ:
    • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী Energy Star মান্যতাসম্পন্ন প্রসেসর ও মনিটর ব্যবহার করা।
    • সার্ভার ভার্চুয়ালাইজেশন প্রয়োগ করে একাধিক সার্ভারকে একটিমাত্র ফিজিক্যাল মেশিনে চালানো যাতে বিদ্যুৎ ও এসির খরচ কমে।
    • কম্পিউটারে অটোমেটিক স্লিপ মোড ও পাওয়ার সেভিং অপশন চালু রাখা।

প্রোগ্রামিং সিনট্যাক্স, কমান্ড ও অনুবাদক নীতি

পাসওয়ার্ড এন্ট্রপি (নিরাপত্তা শক্তি) গণনার সূত্র
$$E = L \times \log_2(R)$$
সিআইএ ট্রায়াড নিরাপত্তা নীতি
$$\text{System Security} = C \land I \land A$$
আইটি অ্যাক্ট ধারা ৬৬-এর শাস্তির নীতি
$$\text{Penalty}_{\text{Sec 66}} = \le 3\text{ Years Prison} \lor \le ₹5,00,000\text{ Fine}$$
ই-বর্জ্য ভর সংরক্ষণ সমীকরণ
$$M_{\text{Total}} = M_{\text{Precious}} + M_{\text{Base}} + M_{\text{Toxic}} + M_{\text{Plastics}}$$
গ্রিন ডেটা সেন্টার শক্তি দক্ষতা (PUE)
$$\text{PUE} = \frac{\text{Total Facility Energy}}{\text{IT Equipment Energy}}$$
ক্রিয়েটিভ কমন্স শর্তের সমন্বয় সূত্র
$$\text{License} = \text{BY} \lor (\text{BY} \land \text{SA}) \lor (\text{BY} \land \text{NC})$$

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
কেস স্টাডি: মুক্ত সোর্স লাইসেন্স লঙ্ঘন—একটি সফটওয়্যার স্টার্টআপ 'টেকনোভা' তাদের বাণিজ্যিক পে-রোল অ্যাপ্লিকেশনে GNU General Public License v3 (GPLv3) লাইসেন্সযুক্ত একটি উন্মুক্ত ডেটাবেস ড্রাইভার ব্যবহার করেছে। তারা সফটওয়্যারটি বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে কিন্তু মূল সোর্স কোড দিতে অস্বীকার করেছে। টেকনোভা কি কোনো আইন বা আইপিআর লঙ্ঘন করেছে? এর আইনি ফলাফল কী হতে পারে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: লাইসেন্সের শর্ত বিশ্লেষণ
GNU GPLv3 হলো একটি শক্তিশালী কপিলেফট (Copyleft) লাইসেন্স। এর মূল শর্ত হলো, যদি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাপ্লিকেশনে জিপিএল কোড যুক্ত করে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিতরণ করে, তবে সম্পূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনটির সোর্স কোডও বাধ্যতামূলকভাবে জিপিএল লাইসেন্সে উন্মুক্ত করতে হবে।
ধাপ ২: স্টার্টআপের ভুল শনাক্তকরণ
টেকনোভা জিপিএল ড্রাইভারের কোড নিজেদের বাণিজ্যিক অ্যাপে যুক্ত করেও গ্রাহকদের সোর্স কোড দেখতে দেয়নি। এটি জিপিএল লাইসেন্স শর্ত এবং মূল রচয়িতার কপিরাইটের সরাসরি লঙ্ঘন।
ধাপ ৩: আইনি পরিণতি ও সমাধান
মূল সফটওয়্যার নির্মাতারা আদালতে টেকনোভার বাণিজ্যিক বিক্রয়ের ওপর স্থগিতাদেশ (Injunction) আনতে পারেন এবং কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য বিশাল ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। এই সংকট থেকে বাঁচতে টেকনোভাকে হয় নিজেদের সম্পূর্ণ কোড উন্মুক্ত করতে হবে, অথবা জিপিএল ড্রাইভার সরিয়ে কোনো পারমিশিভ লাইসেন্সযুক্ত (যেমন MIT বা Apache) ড্রাইভার ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ 2
কেস স্টাডি: সাইবার অপরাধ ও ভারতীয় আইটি আইন—রোহন নামে এক ব্যক্তি একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের হুবহু নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ২০০০ জন গ্রাহককে প্রতারণামূলক ইমেল পাঠাল। ৪০ জন গ্রাহক বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের অ্যাকাউন্টের গোপন পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেললে রোহন তাদের একাউন্ট থেকে মোট ৩,৫০,০০০ টাকা চুরি করে। রোহন কোন কোন সাইবার অপরাধ করেছে এবং ভারতীয় আইটি আইন ২০০০-এর কোন কোন ধারায় তার শাস্তি হবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: কৃত সাইবার অপরাধসমূহ চিহ্নিতকরণ
১. ফিশিং (Phishing): নকল ব্যাংক ওয়েবসাইট তৈরি করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা।
২. ছদ্মবেশে প্রতারণা: ব্যাংকের মিথ্যা পরিচয় ধারণ করা।
৩. পরিচয় চুরি (Identity Theft): গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড চুরি ও ব্যবহার।
৪. হ্যাকিং ও আর্থিক চুরি: অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ও অর্থ আত্মসাৎ।
ধাপ ২: ভারতীয় আইটি আইন ২০০০-এর প্রযোজ্য ধারাসমূহ
  • ধারা ৬৬ডি (66D): কম্পিউটার যন্ত্রের মাধ্যমে ছদ্মবেশে প্রতারণার জন্য শাস্তি (সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল ও ₹১ লাখ জরিমানা)।
  • ধারা ৬৬সি (66C): অন্যের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরিচয় চুরির শাস্তি (সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল ও ₹১ লাখ জরিমানা)।
  • ধারা ৬৬ (66): অসৎ উদ্দেশ্যে হ্যাকিং ও কম্পিউটার অপরাধ (সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল ও ₹৫ লাখ জরিমানা)।
  • ধারা ৪৩ (43): অননুমোদিত ডেটা চুরি ও অর্থ আত্মসাতের জন্য ভুক্তভোগীদের পূর্ণ দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ প্রদান।
সিদ্ধান্ত:
আইটি আইনের ৬৬, ৬৬সি, ৬৬ডি ধারার পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ধারা ৪২০ (প্রতারণা)-র অধীনে রোহনকে ৩ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও বিপুল অঙ্কের জরিমানা ভোগ করতে হবে।
উদাহরণ 3
কেস স্টাডি: র‍্যানসমওয়্যার হানা ও ডেটা ব্ল্যাকমেইল—একটি শহরের একটি বড় হাসপাতালের সম্পূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেমে আচমকা 'CryptoLock' নামক র‍্যানসমওয়্যার সংক্রমণ ঘটে সমস্ত রোগীর প্রেসক্রিপশন ও অপারেশনের ফাইল এনক্রিপ্ট হয়ে গেল। আক্রমণকারীরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৫ বিটকয়েন (প্রায় আড়াই কোটি টাকা) মুক্তিপণ দাবি করল। হাসপাতালের সাইবার দুর্বলতা এবং সংকট মোকাবিলার সঠিক পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: হাসপাতালের নিরাপত্তা ত্রুটি
১. ব্যাকডেটেড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার ও সময়মতো সিকিউরিটি প্যাচ আপডেট না করা।
২. হাসপাতাল নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সেগমেন্টেশন না থাকা, যার ফলে একটি কম্পিউটার থেকে সমস্ত ওয়ার্ডে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়েছে।
৩. কোনো বিচ্ছিন্ন বা অফলাইন ব্যাকআপ (Air-gapped Immutable Backup) না রাখা।
ধাপ ২: মুক্তিপণ দেওয়ার আইনি ও নৈতিক দিক
পুলিশ ও CERT-In সর্বদা মুক্তিপণ দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করে, কারণ অর্থ দিলেও ডিক্রিপশন কি পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না এবং এর ফলে অপরাধীরা আরও বেশি উৎসাহিত হয়।
ধাপ ৩: করণীয় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
১. সমস্ত সংক্রামিত কম্পিউটার অবিলম্বে লোকাল ল্যান ও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
২. জাতীয় সাইবার সংস্থা CERT-In এবং রাজ্য সাইবার সেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করা।
৩. আন্তর্জাতিক 'No More Ransom' রিপোজিটরিতে ওই ম্যালওয়্যারের ফ্রি ডিক্রিপশন টুল আছে কিনা পরীক্ষা করা।
৪. সিস্টেমে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করা এবং নতুন ও সুরক্ষিত সিস্টেম থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার করা।
উদাহরণ 4
কেস স্টাডি: সাইবার স্কোয়াটিং (Cybersquatting)—টার্গেট এক্সামস নামক একটি নামকরা শিক্ষা পোর্টালের জনপ্রিয়তা দেখে এক ব্যক্তি পূর্বাহ্ণেই 'targetexams-official.com' নামক ডোমেন নাম রেজিস্টার করে রাখল। পরে সে টার্গেট এক্সামস কর্তৃপক্ষের কাছে এই ডোমেনটি হস্তান্তরের জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করল। এটি কি আইনসঙ্গত? এর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: অপরাধের শ্রেণিবিভাগ
এটি স্পষ্টত সাইবার স্কোয়াটিং (Cybersquatting বা Domain Squatting)-এর অপরাধ। অন্যের প্রতিষ্ঠিত ট্রেডমার্ক বা বাণিজ্যিক সুনামের সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ডোমেন নাম দখল করে রেখে ব্ল্যাকমেইল করাই হলো এই অপরাধের উদ্দেশ্য।
ধাপ ২: আইনি মূল্যায়ন
উক্ত ব্যক্তির ওই নামের ওপর কোনো মৌলিক আইনি অধিকার বা বাণিজ্যিক ট্রেডমার্ক নেই। অন্যায্য আর্থিক সুবিধা দাবি করার ঘটনাটি সরাসরি প্রমাণ করে যে ডোমেনটি অসৎ উদ্দেশ্যে (Bad Faith) কেনা হয়েছে।
ধাপ ৩: আইনি প্রতিকার
টার্গেট এক্সামস সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (WIPO) আর্বিট্রেশন অ্যান্ড মেডিয়েশন সেন্টারে UDRP (Uniform Domain-Name Dispute-Resolution Policy) বিধিমালার অধীনে অভিযোগ জানাতে পারে। ডোমেনটিতে অসৎ উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলে আর্বিট্রেশন প্যানেল অবিলম্বে ওই ব্যক্তির কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ডোমেন নামটির মালিকানা আসল ট্রেডমার্কধারীকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেবে।
উদাহরণ 5
কেস স্টাডি: নিষ্ক্রিয় ডিজিটাল পদচিহ্ন ও বিজ্ঞাপন নজরদারি—এক শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে 'Best Engineering Colleges in West Bengal' লিখে সার্চ করার পর লক্ষ করল যে পরবর্তী কয়েকদিন ধরে সে যে সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদ সাইটেই ঢুকছে, সেখানেই বিভিন্ন বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চটকদার বিজ্ঞাপন ভেসে উঠছে। পেছনের কারিগরি কারণটি ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: কারিগরি কারণ শনাক্তকরণ
এই ঘটনাটি ঘটেছে নিষ্ক্রিয় ডিজিটাল পদচিহ্ন (Passive Digital Footprint) এবং তৃতীয় পক্ষের ট্র্যাকিং কুকিজ (Third-Party Tracking Cookies)-এর কারণে।
ধাপ ২: ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে
১. শিক্ষার্থী যখন সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজাখুঁজি করছিল, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক তার ব্রাউজারে একটি অনন্য ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দেয়।
২. শিক্ষার্থীর সার্চ কিওয়ার্ড, ব্রাউজারের ধরন ও ভৌগোলিক আইপি অ্যাড্রেসের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন সংস্থার সেন্ট্রাল সার্ভারে একটি প্রেফারেন্স প্রোফাইল তৈরি হয়।
৩. শিক্ষার্থী যখন অন্য কোনো ওয়েবসাইটে যায় যেখানে ওই একই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের কোড রয়েছে, তখন কুকি মিলিয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর পছন্দের সাথে মানানসই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়।
ধাপ ৩: সুরক্ষার উপায়
ব্রাউজার সেটিংসে গিয়ে 'Block Third-Party Cookies' সক্রিয় করা, ট্র্যাকার ব্লকার এক্সটেনশন ব্যবহার করা এবং মাঝে মাঝে ব্রাউজিং ক্যাশে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা।
উদাহরণ 6
গাণিতিক কেস স্টাডি: ই-বর্জ্য দূষণ ও ভারী ধাতুর ক্ষতি—একটি বিদ্যালয় তাদের কম্পিউটার ল্যাবের ৫০টি পুরনো সিআরটি (CRT) মনিটর বাতিল করল। প্রতিটি সিআরটি মনিটরের কাচে প্রায় ১.৮ কেজি বিষাক্ত সিসা (Lead - Pb) থাকে। বিদ্যালয়টি যদি এগুলোকে বৈজ্ঞানিক রিসাইক্লিং না করে সাধারণ আবর্জনার ভ্যাটে ফেলে দেয়, তবে পরিবেশে কত কেজি বিষাক্ত সিসা নির্গত হবে এবং এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: মোট নির্গত সিসার পরিমাণ গণনা
বাতিল মনিটরের সংখ্যা $= 50$ টি।
প্রতি মনিটরে সিসার পরিমাণ $= 1.8\text{ kg}$।
$$\text{Total Lead} = 50 \times 1.8\text{ kg} = 90\text{ kg}$$ বিষাক্ত সিসা।
ধাপ ২: পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
সাধারণ আবর্জনার ভ্যাটে বৃষ্টির জল ও জৈব অ্যাসিডের প্রভাবে সিআরটি কাচ ভেঙে এই ৯০ কেজি সিসা মাটিতে মিশবে এবং ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের স্তরে (Aquifer) প্রবেশ করবে। পানীয় জলে অতি সামান্য সিসা প্রবেশ করলেই শিশুদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পায়, স্নায়ুতন্ত্র নষ্ট হয় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ধাপ ৩: সংবিধিবদ্ধ সমাধান
ভারতীয় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ম অনুসারে, বিদ্যালয় কোনো অবস্থাতেই এগুলো ভাঙারিওয়ালা বা সাধারণ ডাস্টবিনে ফেলতে পারে না। এগুলোকে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত কোনো রেজিস্টার্ড ই-বর্জ্য রিসাইক্লারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যারা বৈজ্ঞানিক ফার্নেসে গলিয়ে কাচ ও সিসা পৃথক করে পুনর্ব্যবহার করবে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ফ্রিওয়্যার এবং ফ্রি সফটওয়্যারকে (FOSS) একই জিনিস মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ফ্রিওয়্যার কেবল বিনামূল্যে পাওয়া যায় কিন্তু সোর্স কোড বন্ধ ও পরিবর্তন নিষিদ্ধ। অন্যদিকে FOSS ব্যবহারকারীকে সোর্স কোড দেখা, পরিবর্তন ও পুনঃবিতরণের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

ইনকগনিটো বা প্রাইভেট ব্রাউজিং মোড অন করলে ইন্টারনেটে পরিচয় ১০০% গোপন থাকে ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রাইভেট মোড কেবল নিজের কম্পিউটারে হিস্ট্রি বা কুকিজ জমা হতে দেয় না। কিন্তু ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) বা গন্তব্য ওয়েবসাইটের কাছে আপনার আইপি ঠিকানা ও ভিজিট স্পষ্ট দেখা যায়।

সাধারণ ভুল ধারণা

হ্যাকিং মানেই বেআইনি কাজ ও অপরাধ বলে ধরে নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অনুমোদিত এথিক্যাল হ্যাকিং (হোয়াইট হ্যাট) সম্পূর্ণ বৈধ এবং সাইবার সুরক্ষার জন্য এক অপরিহার্য পেশা। কেবল অনুমতি ছাড়া অপরাধমূলক হ্যাকিং (ব্ল্যাক হ্যাট) বেআইনি।

সাধারণ ভুল ধারণা

কম্পিউটার ভাইরাস ও ওয়ার্মকে অভিন্ন মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ভাইরাস কোনো হোস্ট ফাইলের সাথে যুক্ত থাকে এবং ব্যবহারকারী ফাইলটি চালালে তবেই ছড়ায়। ওয়ার্ম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নেটওয়ার্কের ফাঁক দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারণ ভুল ধারণা

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ডিলিট করলেই ডিজিটাল পদচিহ্ন মুছে যায় বলে ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

একবার অনলাইনে কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে সার্চ ইঞ্জিনের ক্যাশে, আর্কাইভ সার্ভারে বা অন্যের স্ক্রিনশটে তা সংরক্ষিত থাকতে পারে, তাই সহজে স্থায়ী পদচিহ্ন মোছা যায় না।

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
কম্পিউটার নৈতিকতা ডিজিটাল সমাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের ন্যায়সঙ্গত, দায়িত্বশীল ও মানবিক অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করে। বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (IPR) কপিরাইট, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও ট্রেড সিক্রেটের মাধ্যমে মানবিক মেধার সৃষ্টিকে সুরক্ষা দেয় এবং প্লেজিয়ারিজম ও সফটওয়্যার পাইরেসি প্রতিরোধ করে। সফটওয়্যার লাইসেন্সিং মডেল বাণিজ্যিক মালিকানাধীন সফটওয়্যারের সাথে মুক্ত সোর্স সফটওয়্যারকে (FOSS) পৃথক করে, যেখানে কপিলেফট (GNU GPL) পরিমার্জিত কোডের উন্মুক্ততা চিরকাল রক্ষা করে। সাইবার অপরাধের আওতায় ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এবং ম্যালওয়্যারসমূহ (ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, র‍্যানসমওয়্যার ও ফিশিং) আলোচনা করা হয়েছে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০ (IT Act 2000) ধারা ৪৩, ৬৫, ৬৬, ৬৬সি, ৬৬ডি, ৬৬ই ও ৭২-এর মাধ্যমে সাইবার অপরাধের কঠোর দণ্ডবিধি নির্ধারণ করেছে। ডিজিটাল পদচিহ্ন নিয়ন্ত্রণ ও সিআইএ ট্রায়াড ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে, এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-Waste) ব্যবস্থাপনা বিষাক্ত ধাতু (সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম) দূষণ রোধ করে ৩-আর নীতি ও গ্রিন কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে টেকসই ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলে।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
ফ্রিওয়্যার (Freeware) এবং ফ্রি অ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের (FOSS) মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো। উভয়ের একটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. ফ্রিওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও এর সোর্স কোড বন্ধ থাকে এবং ব্যবহারকারী তা পরিবর্তন করতে পারে না (যেমন Adobe Acrobat Reader)। ২. FOSS-এ ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ সোর্স কোড দেওয়া হয় এবং কোড পরিবর্তন ও অবাধে পুনঃবিতরণের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে (যেমন Linux OS, Python)।
2
বিস্তারের দিক থেকে কম্পিউটার ভাইরাস ও কম্পিউটার ওয়ার্মের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস পরজীবী প্রকৃতির, এটি নিজে একা ছড়াতে পারে না; কোনো বৈধ হোস্ট ফাইলে যুক্ত থাকে এবং ব্যবহারকারী সেই ফাইলটি চালালে তবেই ছড়ায়। অন্যদিকে কম্পিউটার ওয়ার্ম সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রোগ্রাম, যা নেটওয়ার্কের ফাঁকফোকর দিয়ে কোনো মানবিক সাহায্য বা হোস্ট ফাইল ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
3
ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০-এর ধারা ৬৬সি এবং ধারা ৬৬ডি-তে কী ধরনের অপরাধের জন্য কী শাস্তির বিধান রয়েছে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ধারা ৬৬সি-তে অন্যের পাসওয়ার্ড বা ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর অপব্যবহার করে পরিচয় চুরির (Identity Theft) জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ধারা ৬৬ডি-তে কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা করার (যেমন ফিশিং জালিয়াতি) জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
4
নিষ্ক্রিয় ডিজিটাল পদচিহ্ন (Passive Digital Footprint) কাকে বলে? এটি সৃষ্টির দুটি কারিগরি মাধ্যম উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারীর প্রত্যক্ষ অজান্তে এবং ইচ্ছাকৃত অংশগ্রহণ ছাড়া পটভূমিতে তার সম্পর্কে যে তথ্যের ছাপ জমা হয়, তাকে নিষ্ক্রিয় ডিজিটাল পদচিহ্ন বলে। দুটি কারিগরি মাধ্যম: ১. বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির তৃতীয় পক্ষের ট্র্যাকিং কুকিজ (Third-Party Cookies), এবং ২. ওয়েব সার্ভারের অ্যাক্সেস লগ যেখানে ব্যবহারকারীর আইপি ও ব্রাউজারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিপিবদ্ধ হয়।
5
বাতিল কম্পিউটারে উপস্থিত দুটি বিষাক্ত ধাতুর নাম লেখো এবং মানবদেহে তাদের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. সিসা (Lead - Pb): সিআরটি কাচ ও সার্কিট বোর্ডে থাকে; মানবদেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিশুদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস করে। ২. পারদ (Mercury - Hg): এলসিডি স্ক্রিনের ব্যাকলাইটে থাকে; স্নায়বিক বৈকল্য ও ইন্দ্রিয় অবশ করে মিনামাটা রোগ সৃষ্টি করে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।