মূলের আণুবীক্ষণিক গঠন ও অঞ্চলসমূহ (Microscopic Root Zones)
ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদের অবরোহী অক্ষই হলো মূল। শীর্ষদেশ থেকে ওপরের দিকে মূলের প্রধান ৪টি সুস্পষ্ট অঞ্চল থাকে:
• ১. মূলত্র অঞ্চল (Root Cap): মূলের নরম বর্ধিষ্ণু অগ্রভাগকে মাটির কণার ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে টুুপির মতো অংশ। জলজ উদ্ভিদে মূলত্রের বদলে মূলথলি (Root Pocket) থাকে (যেমন: কচুরিপানা, টোপাপানা)।
• ২. বর্ধনশীল বা কোষবিভাজন অঞ্চল (Meristematic Zone): মূলত্রের ঠিক পেছনে থাকা সক্রিয় ভাজক কলা যা নিরন্তর বিভাজিত হয়ে মূলকে দীর্ঘ করে।
• ৩. দীর্ঘীভবন অঞ্চল (Elongation Zone): এই অঞ্চলের কোষগুলো আকারে লম্বা হয়ে মূলকে মাটির গভীরে প্রবেশ করায়।
• ৪. মূলরোম ও স্থায়ী অঞ্চল (Root Hair & Mature Zone): অসংখ্য এককোষী রোম উৎপন্ন হয়ে কৈশিক জল ও খনিজ লবণ শোষণের জন্য তলীয় ক্ষেত্রফল শতগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মূলের বিশেষ জৈবিক রূপান্তর (Adaptive Root Modifications)
সাধারণ কাজ (আবদ্ধকরণ ও শোষণ) ছাড়াও বিশেষ কাজের জন্য মূল রূপান্তরিত হয়:
• শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophore): সুন্দরবনের লবণাক্ত ও জলমগ্ন কাদামাটিতে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকায় সুন্দরী ও গরান গাছের শাখা-মূল অভিকর্ষের বিপরীতে খাড়াভাবে মাটির ওপর উঠে আসে। এদের গায়ে থাকা ক্ষুদ্র শ্বাসছিদ্র (লেন্টিসেল) দিয়ে সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন শোষিত হয়।
• স্তম্ভমূল (Prop Root): বটগাছের অনুভূমিক ভারী শাখা থেকে খাড়া নিচে নেমে মাটিতে প্রোথিত হয় এবং স্তম্ভ বা পিলারের মতো গাছকে ভারসাম্য ও ভারবহন শক্তি দেয়।
• ঠেসূল (Stilt Root): কেয়া ও ভুট্টার কান্ডের গোড়ার দিকের পর্ব থেকে তীর্যকভাবে নির্গত হয়ে মাটিতে ঢুকে কাণ্ডকে ঠেস দিয়ে মজবুত রাখে।
• সঞ্চয়ী মূল: শালগমাকার (শালগম), মূলাকার (মুলা) ও শঙ্কবাকার (গাজর) মূল খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়।
কাণ্ডের রূপান্তর — ভূনিম্নস্থ ও বায়বীয় অভিযোজন (Stem Modifications)
ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে সৃষ্ট পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুলযুক্ত বায়বীয় অক্ষ হলো কাণ্ড। প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম ও খাদ্য সঞ্চয়ে কাণ্ড পরিবর্তিত হয়:
• স্ফীতকন্দ (Tuber): আলুর ভূনিম্নস্থ শাখার অগ্রভাগ শ্বেতসার সঞ্চয় করে গোল হয়। আলুর গায়ে পর্ব ও চোখ (মুকুল) থাকে যা থেকে নতুন চারা গজায়।
• গ্রন্থিকাণ্ড বা রাইজোম (Rhizome): আদা ও হলুদের মাটির নিচে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মাংসল কাণ্ড, যার স্পষ্ট পর্ব, পর্বমধ্য ও শল্কপত্র থাকে।
• কন্দ বা বাল্ব (Bulb): পেঁয়াজ ও রসুনের অত্যন্ত সংকুচিত ডিস্ক আকৃতির কাণ্ড যার চারপাশ রসালো শল্কপত্রে আবৃত থাকে।
• শাখাকণ্টক ও শাখা-আকর্ষ: বেলের কাঁটা হলো রূপান্তরিত কাক্ষিক মুকুল যা আত্মরক্ষায় সাহায্য করে; ঝিঙে ও প্যাশনফ্লাওয়ারের স্পর্শকাতর স্প্রিং-এর মতো আকর্ষ দুর্বল কাণ্ডকে ওপরে উঠতে সাহায্য করে।
বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ (Scientific Field Observations)
• আলু ও মিষ্টি আলুর পার্থক্য: সাধারণ গোল আলু হলো কাণ্ড কারণ এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল (চোখ) বিদ্যমান। কিন্তু মিষ্টি আলু হলো একটি সঞ্চয়ী অস্থানিক মূল, যার কোনো পর্ব বা চোখ থাকে না।
• ম্যানগ্রোভ মৃত্তিকায় গ্যাসের অভাব: ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাত্র $১ ext{ mg/L}$-এর কম হওয়ায় শ্বাসমূলের লেনটিসেল ছাড়া গাছের মূলতন্ত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পচে মারা যেত।
বোর্ড পরীক্ষার সতর্কবার্তা (Examiner Trap & Essential Fix)
পরীক্ষার সতর্কতা: মটর গাছের আকর্ষ আর ঝিঙে গাছের আকর্ষ এক নয়! মটর গাছের আকর্ষ হলো পাতার রূপান্তরিত ফলক (Leaf Tendril), আর ঝিঙে বা বুনো আঙুরের আকর্ষ হলো কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন কাণ্ডের রূপান্তর (Stem Tendril)। পরীক্ষায় প্রশ্নটি সতর্কভাবে পড়ে উত্তর লিখবে!