Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Environment & Science (পরিবেশ ও বিজ্ঞান) • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: 50 মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যপ্রণালী

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "পরিবেশ ও বিজ্ঞান"-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ ও প্রাণী শারীরস্থান বিষয়ক অধ্যায় "পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যপদ্ধতি"। এই অধ্যায়ে উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজের বৈচিত্র্যময় গঠন, শ্বাসমূল, ঠেসূল ও স্তম্ভমূলের অভিযোজন, পাতার শিরাবিন্যাস ও পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া, রসের উৎস্রোত, ফুলের ৪টি স্তবক ও পরাগমিলনের বিভিন্ন মাধ্যম (বায়ু, পতঙ্গ, জল, পাখি), উদ্ভিদের চলন (ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলন) এবং জলচর মৎস্য ও খেচর পক্ষীর বিশেষ শারীরিক অভিযোজন সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

জলাভূমির নরম কাদায় সুন্দরী গাছ কীভাবে শ্বাস নেয়, আর দুর্বল লতানে গাছ কীভাবে আকাশে ওঠে?

সুন্দরবনের শ্বাসরুদ্ধকর কাদাজমিতে মাটিতে বাতাসের অক্সিজেন প্রায় থাকেই না। সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্দরী ও গরান গাছ মাটির নিচ থেকে উল্টোদিকে খাড়া হয়ে মাটির ওপর ছুঁচোলো শিকড় (শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর) তুলে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়! অন্যদিকে, মটর বা ঝিঙে গাছের কাণ্ড এতই নরম ও দুর্বল যে নিজে দাঁড়াতে পারে না; অথচ তারা বিশেষ স্পর্শকাতর আকর্ষ তৈরি করে অন্য শক্ত অবলম্বনকে পেঁচিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে ১৫-২০ ফুট ওপরে উঠে সূর্যালোক দখল করে নেয়! প্রকৃতির এই অবিশ্বাস্য গঠনগত বৈচিত্র্য ও জীবনধারণের কৌশল কীভাবে কাজ করে, তা জানার সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিশা দেবে এই অধ্যায়।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "পরিবেশ ও বিজ্ঞান"-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ ও প্রাণী শারীরস্থান বিষয়ক অধ্যায় "পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যপদ্ধতি"। এই অধ্যায়ে উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজের বৈচিত্র্যময় গঠন, শ্বাসমূল, ঠেসূল ও স্তম্ভমূলের অভিযোজন, পাতার শিরাবিন্যাস ও পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া, রসের উৎস্রোত, ফুলের ৪টি স্তবক ও পরাগমিলনের বিভিন্ন মাধ্যম (বায়ু, পতঙ্গ, জল, পাখি), উদ্ভিদের চলন (ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলন) এবং জলচর মৎস্য ও খেচর পক্ষীর বিশেষ শারীরিক অভিযোজন সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের গঠনগত বৈচ...
2 ২. পাতার গঠন, শিরাবিন্যাস ও বাষ্পমো...
3 ৩. ফুল, পরাগমিলন, ফল ও বীজ সৃষ্টি (...
4 ৪. উদ্ভিদের চলন — ট্রপিক ও ন্যাস্টি...
5 ৫. প্রাণীদের গঠনগত বৈচিত্র্য, গমন ও...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের গঠনগত বৈচিত্র্য ও রূপান্তর (Root & Stem Anatomy and Modifications)

Step 1
মূলের আণুবীক্ষণিক গঠন ও অঞ্চলসমূহ (Microscopic Root Zones)

ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদের অবরোহী অক্ষই হলো মূল। শীর্ষদেশ থেকে ওপরের দিকে মূলের প্রধান ৪টি সুস্পষ্ট অঞ্চল থাকে:
• ১. মূলত্র অঞ্চল (Root Cap): মূলের নরম বর্ধিষ্ণু অগ্রভাগকে মাটির কণার ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে টুুপির মতো অংশ। জলজ উদ্ভিদে মূলত্রের বদলে মূলথলি (Root Pocket) থাকে (যেমন: কচুরিপানা, টোপাপানা)।
• ২. বর্ধনশীল বা কোষবিভাজন অঞ্চল (Meristematic Zone): মূলত্রের ঠিক পেছনে থাকা সক্রিয় ভাজক কলা যা নিরন্তর বিভাজিত হয়ে মূলকে দীর্ঘ করে।
• ৩. দীর্ঘীভবন অঞ্চল (Elongation Zone): এই অঞ্চলের কোষগুলো আকারে লম্বা হয়ে মূলকে মাটির গভীরে প্রবেশ করায়।
• ৪. মূলরোম ও স্থায়ী অঞ্চল (Root Hair & Mature Zone): অসংখ্য এককোষী রোম উৎপন্ন হয়ে কৈশিক জল ও খনিজ লবণ শোষণের জন্য তলীয় ক্ষেত্রফল শতগুণ বাড়িয়ে দেয়।

Step 2
মূলের বিশেষ জৈবিক রূপান্তর (Adaptive Root Modifications)

সাধারণ কাজ (আবদ্ধকরণ ও শোষণ) ছাড়াও বিশেষ কাজের জন্য মূল রূপান্তরিত হয়:
• শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophore): সুন্দরবনের লবণাক্ত ও জলমগ্ন কাদামাটিতে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকায় সুন্দরী ও গরান গাছের শাখা-মূল অভিকর্ষের বিপরীতে খাড়াভাবে মাটির ওপর উঠে আসে। এদের গায়ে থাকা ক্ষুদ্র শ্বাসছিদ্র (লেন্টিসেল) দিয়ে সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন শোষিত হয়।
• স্তম্ভমূল (Prop Root): বটগাছের অনুভূমিক ভারী শাখা থেকে খাড়া নিচে নেমে মাটিতে প্রোথিত হয় এবং স্তম্ভ বা পিলারের মতো গাছকে ভারসাম্য ও ভারবহন শক্তি দেয়।
• ঠেসূল (Stilt Root): কেয়া ও ভুট্টার কান্ডের গোড়ার দিকের পর্ব থেকে তীর্যকভাবে নির্গত হয়ে মাটিতে ঢুকে কাণ্ডকে ঠেস দিয়ে মজবুত রাখে।
• সঞ্চয়ী মূল: শালগমাকার (শালগম), মূলাকার (মুলা) ও শঙ্কবাকার (গাজর) মূল খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়।

Step 3
কাণ্ডের রূপান্তর — ভূনিম্নস্থ ও বায়বীয় অভিযোজন (Stem Modifications)

ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে সৃষ্ট পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুলযুক্ত বায়বীয় অক্ষ হলো কাণ্ড। প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম ও খাদ্য সঞ্চয়ে কাণ্ড পরিবর্তিত হয়:
• স্ফীতকন্দ (Tuber): আলুর ভূনিম্নস্থ শাখার অগ্রভাগ শ্বেতসার সঞ্চয় করে গোল হয়। আলুর গায়ে পর্ব ও চোখ (মুকুল) থাকে যা থেকে নতুন চারা গজায়।
• গ্রন্থিকাণ্ড বা রাইজোম (Rhizome): আদা ও হলুদের মাটির নিচে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মাংসল কাণ্ড, যার স্পষ্ট পর্ব, পর্বমধ্য ও শল্কপত্র থাকে।
• কন্দ বা বাল্ব (Bulb): পেঁয়াজ ও রসুনের অত্যন্ত সংকুচিত ডিস্ক আকৃতির কাণ্ড যার চারপাশ রসালো শল্কপত্রে আবৃত থাকে।
• শাখাকণ্টক ও শাখা-আকর্ষ: বেলের কাঁটা হলো রূপান্তরিত কাক্ষিক মুকুল যা আত্মরক্ষায় সাহায্য করে; ঝিঙে ও প্যাশনফ্লাওয়ারের স্পর্শকাতর স্প্রিং-এর মতো আকর্ষ দুর্বল কাণ্ডকে ওপরে উঠতে সাহায্য করে।

Step 4
বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ (Scientific Field Observations)

• আলু ও মিষ্টি আলুর পার্থক্য: সাধারণ গোল আলু হলো কাণ্ড কারণ এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল (চোখ) বিদ্যমান। কিন্তু মিষ্টি আলু হলো একটি সঞ্চয়ী অস্থানিক মূল, যার কোনো পর্ব বা চোখ থাকে না।
• ম্যানগ্রোভ মৃত্তিকায় গ্যাসের অভাব: ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাত্র $১ ext{ mg/L}$-এর কম হওয়ায় শ্বাসমূলের লেনটিসেল ছাড়া গাছের মূলতন্ত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পচে মারা যেত।

Step 5
বোর্ড পরীক্ষার সতর্কবার্তা (Examiner Trap & Essential Fix)

পরীক্ষার সতর্কতা: মটর গাছের আকর্ষ আর ঝিঙে গাছের আকর্ষ এক নয়! মটর গাছের আকর্ষ হলো পাতার রূপান্তরিত ফলক (Leaf Tendril), আর ঝিঙে বা বুনো আঙুরের আকর্ষ হলো কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন কাণ্ডের রূপান্তর (Stem Tendril)। পরীক্ষায় প্রশ্নটি সতর্কভাবে পড়ে উত্তর লিখবে!

২. পাতার গঠন, শিরাবিন্যাস ও বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া (Leaf Anatomy, Venation & Transpiration)

Step 1
একটি আদর্শ পাতার প্রধান অঙ্গসমূহ (Parts of a Typical Leaf)

একটি পূর্ণাঙ্গ পাতায় ৩টি প্রধান অংশ লক্ষ্য করা যায়:
• ১. পত্রমূল (Leaf Base): কাণ্ডের পর্বের সঙ্গে যুক্ত পাতার গোড়ার অংশ; এর দুপাশে উপপত্র (Stipule) বা স্ফীত পত্রমূল (Pulvinus) থাকতে পারে।
• ২. পত্রবৃন্ত (Petiole): পত্রফলককে আলো ও বাতাসের অনুকূলে ধরে রাখা সরু দণ্ড যা জল ও খাদ্য পরিবহনের সেতু।
• ৩. পত্রফলক (Lamina): পাতার চ্যাপ্টা প্রসারিত সবুজ ফলক যাতে সালোকসংশ্লেষ ঘটে। পত্রফলক অবিভক্ত হলে একক পত্র (যেমন: আম, বট) এবং খণ্ডে বিভক্ত হলে যৌগিক পত্র (যেমন: নিম, গোলাপ, তেঁতুল)।

Step 2
পাতার শিরাবিন্যাসের প্রকারভেদ (Types of Venation)

পত্রফলকে শিরা ও উপশিরার বিস্তারকে শিরাবিন্যাস বলে:
• জালিকা শিরাবিন্যাস (Reticulate Venation): প্রধান মধ্যশিরা থেকে শাখা-উপশিরা জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য (যেমন: আম, অশ্বত্থ, জবা, বট)।
• সমান্তরাল শিরাবিন্যাস (Parallel Venation): প্রধান শিরাগুলো ফলকের সমান্তরালে পাশাপাশি অবস্থান করে, কোনো জটিল জাল তৈরি করে না। এটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য (যেমন: ধান, গম, কলা, বাঁশ, ঘাস)।

Step 3
পত্ররন্ধ্রের গঠন ও বাষ্পমোচনের শারীরবৃত্তীয় কলাকৌশল (Stomatal Mechanism & Transpiration)

• পত্ররন্ধ্রের গঠন: দুটি বৃক্কাকার বা অর্ধচন্দ্রাকার রক্ষীকোষ (Guard Cells) দ্বারা বেষ্টিত আণুবীক্ষণিক ছিদ্রই পত্ররন্ধ্র। রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা।
• খোলা ও বন্ধের কৌশল: দিনের বেলায় কোষে পটাসিয়াম আয়ন ($K^+$) ও চিনির ঘনত্ব বাড়লে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জল ঢুকে রক্ষীকোষ স্ফীত (Turgid) হয়, ফলে বাঁকা হয়ে ছিদ্রটি উন্মুক্ত হয়। রাতে জল বেরিয়ে কোষ শিথিল (Flaccid) হলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।
• বাষ্পমোচন (Transpiration): উদ্ভিদদেহের অতিরিক্ত জল পাতার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে জলীয় বাষ্প আকারে বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের মোট বাষ্পমোচনের ৯০-৯৫% সম্পন্ন হয় পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে।

Step 4
বাষ্পমোচন টান ও রসের উৎস্রোত (Transpiration Pull & Ascent of Sap)

পাতার মেসোফিল কোষে ক্রমাগত বাষ্পমোচনের ফলে এক তীব্র চোষণ টান (Suction Pull) সৃষ্টি হয়। এই টান জাইলেম বাহিকা বরাবর পানির অবিচ্ছিন্ন জলস্তম্ভকে মূলরোম থেকে ১০০ ফুট উঁচু বৃক্ষের ডগা পর্যন্ত টেনে তোলে। একে ডিকসন ও জলির সংসক্তি-টান মতবাদ (Cohesion-Tension Theory) বলে।

Step 5
বোর্ড পরীক্ষার সতর্কবার্তা (Why Transpiration is a Necessary Evil)

কার্টিসের পর্যবেক্ষণ: বিজ্ঞানী কার্টিস বাষ্পমোচনকে "অপরিহার্য ক্ষতিকর পদ্ধতি" (Necessary Evil) বলেছেন। কারণ একদিকে এটি রসের উৎস্রোত ঘটায় ও পাতা ঠাণ্ডা রাখে (সুফল); কিন্তু তীব্র গ্রীষ্মে অতিরিক্ত বাষ্পমোচনে গাছ নেতিয়ে পড়ে (Wilting) ও জলের ঘাটতিতে কোষের মৃত্যু হতে পারে (কুফল)।

৩. ফুল, পরাগমিলন, ফল ও বীজ সৃষ্টি (Flower Morphology, Pollination & Fruit Formation)

Step 1
একটি আদর্শ ফুলের ৪টি স্তবক (Four Whorls of a Flower)

পুষ্পাক্ষের (Thalamus) ওপর বিন্যস্ত প্রজনন অঙ্গ ফুল। একটি সম্পূর্ণ ফুলের ৪টি স্তবক থাকে:
• ১. বৃতি (Calyx): সর্ববহিস্থ স্তবক; সবুজ বৃত্যংশ দ্বারা গঠিত যা কুঁড়ি অবস্থায় ফুলকে রক্ষা করে ও সালোকসংশ্লেষ চালায়।
• ২. দলমণ্ডল (Corolla): দ্বিতীয় স্তবক; উজ্জ্বল রঙিন ও সুগন্ধযুক্ত পাপড়ি দ্বারা গঠিত যা কীটপতঙ্গকে পরাগমিলনে আকৃষ্ট করে।
• ৩. পুংকেশর চক্র (Androecium): তৃতীয় পুং-জনন স্তবক; পুংদণ্ড ও পরাগধানী নিয়ে গঠিত যার ভেতরে হলুদ পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।
• ৪. গর্ভকেশর চক্র (Gynoecium): কেন্দ্রস্থ স্ত্রী-জনন স্তবক; গর্ভাশয় (ডিম্বাশয়), গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড নিয়ে গঠিত। গর্ভাশয়ে ডিম্বক থাকে।
যে ফুলে চারটি স্তবকই উপস্থিত তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে (যেমন: জবা, মটর, ধুতুরা)।

Step 2
পরাগমিলন: স্ব-পরাগমিলন বনাম ইতর-পরাগমিলন (Self vs Cross Pollination)

পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো পরাগমিলন:
• স্ব-পরাগমিলন (Self-pollination): একই ফুলের অথবা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে পরাগমিলন ঘটে (যেমন: মটর, ধান, টমেটো)। এতে প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে এবং কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না; তবে নতুন বৈচিত্র্য আসে না।
• ইতর-পরাগমিলন (Cross-pollination): একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগমিলন ঘটে (যেমন: আম, পেঁপে, শিমুল)। এতে জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়, নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন সবল বীজের জন্ম হয়।

Step 3
পরাগমিলনের বাহক ও ফুলের অভিযোজন (Pollination Vectors)

• বায়ুপরাগী ফুল (Anemophily): ধান, গম, ভুট্টা। ফুল ছোট, বর্ণহীন, গন্ধহীন; পরাগরেণু অতি হালকা ও শুষ্ক যাতে বাতাসে ওড়ে; গর্ভমুণ্ড পালকের মতো যাতে উড়ন্ত পরাগরেণু সহজে আটকে যায়।
• পতঙ্গপরাগী ফুল (Entomophily): আম, জবা, গোলাপ। ফুল উজ্জ্বল রঙিন, সুমিষ্ট গন্ধ ও মিষ্টি মকরন্দযুক্ত (Nectar); পরাগরেণু আঠালো যাতে পতঙ্গের পায়ে আটকে যায়।
• জলপরাগী ফুল (Hydrophily): পাতাঝাঁঝি, হাইড্রিলা। পরাগরেণুর গায়ে মোমের মতো আবরণ থাকে যা জলে পচন রোধ করে।
• পক্ষীপরাগী ফুল (Ornithophily): শিমুল, পলাশ, মাদার। ফুল উজ্জ্বল লাল বা কমলা রঙের, বৃহৎ ও প্রচুর পাতলা মকরন্দ ধারণ করে।

Step 4
নিষেক থেকে ফল ও বীজের রূপান্তর (Fertilization & Fruit Formation)

পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালী তৈরি করে ডিম্বকে প্রবেশ করে এবং শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর মিলন (নিষেক) ঘটায়:
• নিষেকের পর ডিম্বাশয় (Ovary) স্ফীত হয়ে ফলে (Fruit) রূপান্তরিত হয়।
• ডিম্বাশয়ের ভেতরে থাকা ডিম্বক (Ovule) পরিপক্ব হয়ে বীজে (Seed) রূপান্তরিত হয়।
• ডিম্বাশয় প্রাচীর ফলের ত্বকে (Pericarp) পরিণত হয় এবং বৃত্তি ও দলমণ্ডল ঝরে পড়ে।

Step 5
বোর্ড পরীক্ষার সতর্কবার্তা (প্রকৃত ফল বনাম অপ্রকৃত ফল)

পরীক্ষার ফাঁদ: শুধু ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন ফলকে প্রকৃত ফল (True Fruit) বলে (যেমন: আম, লিচু, জাম)। কিন্তু ডিম্বাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ যেমন পুষ্পাক্ষ স্ফীত হয়ে ফলে পরিণত হলে তাকে অপ্রকৃত ফল (False Fruit) বলে (যেমন: আপেল, কাজুবাদাম, চালতা)। পরীক্ষায় আপেলকে কখনোই প্রকৃত ফল লিখবে না!

৪. উদ্ভিদের চলন — ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলন (Plant Movements: Tropic & Nastic)

Step 1
উদ্ভিদের চলনের মৌলিক প্রকৃতি (Nature of Plant Movements)

প্রাণীদের মতো উদ্ভিদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত (গমন) হতে পারে না। তবে পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপক (আলো, উষ্ণতা, মাধ্যাকর্ষণ, স্পর্শ, রাসায়নিক পদার্থ)-এর প্রভাবে নির্দিষ্ট অঙ্গের বক্রতা সঞ্চালন ঘটিয়ে উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। এই প্রকার প্রতিক্রিয়াশীল সঞ্চালনকে উদ্ভিদের চলন বলে। উদ্ভিদের বক্রচলন মূলত দুই প্রকার: ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলন।

Step 2
ট্রপিক চলন বা দিকমুখী চলন (Tropic Movements)

উদ্দীপকের উৎসের অভিমুখ অনুসারে উদ্ভিদের অঙ্গের যে বৃদ্ধিজ বক্রচলন ঘটে তাকে ট্রপিক চলন বলে:
• ১. আলোকবৃত্তি (Phototropism): কাণ্ড আলোর উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায় (অনুকূল আলোকবৃত্তি), আর মূল আলোর বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায় (প্রতিকূল আলোকবৃত্তি)।
• ২. অভিকর্ষবৃত্তি (Geotropism): মূল পৃথিবীর কেন্দ্র তথা অভিকর্ষের দিকে বৃদ্ধি পায় (অনুকূল অভিকর্ষবৃত্তি); কাণ্ড অভিকর্ষের বিপরীতে ওপরে ওঠে (প্রতিকূল অভিকর্ষবৃত্তি); কিন্তু সুন্দরবনের শ্বাসমূল অভিকর্ষের বিপরীতে খাড়া ওপরের দিকে উঠে প্রতিকূল অভিকর্ষবৃত্তি প্রদর্শন করে।
• ৩. জলবৃত্তি (Hydrotropism): মূল সর্বদা মাটির নিচে জলের উৎসের সন্ধানে বৃদ্ধি পায় (অনুকূল জলবৃত্তি)।

Step 3
অক্সিন হরমোনের ভূমিকা ও চলন নিয়ন্ত্রণ (Hormonal Mechanism)

ফটোট্রপিক চলনে কান্ডের শীর্ষে উৎপন্ন অক্সিন (IAA) হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একদিক থেকে আলো পড়লে অক্সিন আলোকোজ্জ্বল অংশ থেকে সরে গিয়ে কাণ্ডের অন্ধকারাচ্ছন্ন বা ছায়াযুক্ত অংশে জমা হয়। ছায়াযুক্ত অংশে অতিরিক্ত অক্সিনের প্রভাবে কোষগুলো দ্রুত দীর্ঘাকায় হয়ে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে কাণ্ডটি সরাসরি আলোর দিকে বেঁকে যায়।

Step 4
ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্ত চলন (Nastic Movements)

উদ্দীপকের উৎসের দিক বিবেচনা না করে উদ্দীপকের তীব্রতা (Intensity) অনুসারে যে চলন ঘটে তাকে ন্যাস্টিক চলন বলে:
• সিসমোন্যাস্টিক চলন (স্পর্শব্যাপ্তি): লজ্জাবতী লতার (*Mimosa pudica*) পাতায় স্পর্শ করলেই পাতার গোড়ার পালভিনাস (পত্রমূল স্ফীতি) কোষ থেকে জল ও পটাশিয়াম আয়ন বেরিয়ে যায়। ফলে কোষের স্ফীতিচাপ (Turgor Pressure) দ্রুত হ্রাস পায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সম্পূর্ণ পাতাটি নুয়ে পড়ে।
• ফোটোন্যাস্টিক চলন (আলোকব্যাপ্তি): পদ্ম ও সূর্যমুখী ফুল তীব্র আলোয় প্রস্ফুটিত হয় এবং অন্ধকারের তীব্রতা কমলে বুজে যায়।
• থার্মোন্যাস্টিক চলন (তাপব্যাপ্তি): টিউলিপ ফুল অধিক তাপে ফোটে এবং ঠাণ্ডায় বন্ধ হয়ে যায়।

Step 5
বোর্ড পরীক্ষার সতর্কবার্তা (ট্রপিক বনাম ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য)

সংক্ষিপ্ত স্মারক: ট্রপিক চলন উদ্দীপকের অভিমুখ (Direction) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি স্থায়ী বৃদ্ধিজ প্রক্রিয়া। পক্ষান্তরে, ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা (Intensity) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি ক্ষণস্থায়ী রসস্ফীতিজনিত (Turgor variation) পরিবর্তন।

৫. প্রাণীদের গঠনগত বৈচিত্র্য, গমন ও অভিযোজন (Animal Morphology, Locomotion & Adaptations)

Step 1
জলচর অভিযোজন — রুই/কাতলা মাছের গঠন (Aquatic Adaptation of Fish)

জলের মধ্যে প্রতিরোধহীন সাঁতার ও জীবনযাপনের জন্য অস্থিময় মাছে অনন্য অঙ্গসংস্থান দেখা যায়:
• মাকু আকৃতির দেহ (Streamlined Body): দুই প্রান্ত সরু এবং মধ্যভাগ চওড়া হওয়ায় জলের হাইড্রোডাইনামিক ঘর্ষণ সর্বনিম্ন হয়।
• পাখনা (Fins): মোট ৭টি পাখনা থাকে। জোড় পাখনা (বক্ষ ও শ্রোণী পাখনা) ভারসাম্য রক্ষা ও ওপর-নিচে নামতে সাহায্য করে; পুচ্ছ পাখনা (Caudal Fin) জলের ওপর আঘাত করে মূল চালিকাশক্তি জোগায় ও নৌকার হালের মতো দিক পরিবর্তন করে।
• মায়োটোম পেশি (Myotome Muscles): মেরুদণ্ডের দুপাশে '<' আকৃতির মায়োটোম পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন-প্রসারণে দেহ তরঙ্গের মতো আন্দোলিত হয়ে দ্রুত সম্মুখে ধাবিত হয়।
• পটকা (Air Bladder): হাইড্রোস্ট্যাটিক প্লবতা অঙ্গ। অগ্র প্রকোষ্ঠের লাল গ্রন্থি (Red Gland) গ্যাস তৈরি করলে মাছের ঘনত্ব কমে এবং মাছ ভেসে ওঠে; পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের রেটিয়া মিরাবিলিয়া গ্যাস শোষণ করলে মাছের ঘনত্ব বাড়ে ও মাছ জলে ডুবে যায়।
• ফুলকা ও স্পর্শেন্দ্রিয় রেখা: ফুলকা দ্বারা জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন শোষণ করে এবং পার্শ্বরেখা দ্বারা জলের চাপ, তরঙ্গ ও গভীরতা অনুভব করে।

Step 2
খেচর বা উড্ডয়ন অভিযোজন — পায়রা ও পাখির গঠন (Avian Volant Adaptations)

মাধ্যাকর্ষণ জয় করে আকাশে ওড়ার জন্য পাখির দেহে সুনির্দিষ্ট রূপান্তর ঘটেছে:
• অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত: পাখির দুটি সামনের পা শক্তিশালী পালকযুক্ত ডানায় (Wings) রূপান্তরিত যা বায়ুকে কেটে প্লবতা তৈরি করে।
• বায়ুগহ্বরযুক্ত অস্থি (Pneumatic Bones): পাখির দীর্ঘ অস্থিগুলো ভেতর থেকে ফাঁপা ও বায়ুগহ্বরযুক্ত, যা অস্থিমজ্জাহীন হওয়ায় কঙ্কালের ওজন নাটকীয়ভাবে কমে যায় অথচ হাড় অত্যন্ত মজবুত থাকে।
• উড্ডয়ন পেশি (Pectoral Flight Muscles): বক্ষদেশের স্টার্নামে থাকা শক্তিশালী পেক্টোরালিস মেজর (ডানা নিচে নামায়) এবং পেক্টোরালিস মাইনর (ডানা ওপরে তোলে) পেশি পাখির দেহের মোট ওজনের প্রায় ২০-২৫% দখল করে থাকে।
• বায়ুথলি (Air Sacs) ও দ্বি-শ্বসন: ফুসফুসের সাথে যুক্ত ৯টি পাতলা বায়ুথলি থাকে যা ওড়ার সময় ফুসফুসে অনবরত অক্সিজেন সরবরাহ করে দ্বি-শ্বসন (Double Respiration) ঘটায় এবং দেহকে হালকা রাখে।
• ভার হ্রাসকরণ: দাঁতের বদলে হালকা শিং-এর মতো চঞ্চু (Beak), মূত্রথলি অনুপস্থিত (অর্ধকঠিন ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ), এবং স্ত্রীদেহে একটিমাত্র কার্যকর বাম ডিম্বাশয় থাকে।

Step 3
কেঁচোর গমন ও শারীরবৃত্তীয় কৌশল (Locomotion in Earthworm)

কেঁচোর কোনো অস্থিকঙ্কাল নেই; দেহ গহ্বরের তরল দিয়ে গঠিত উদস্থিতিক কঙ্কাল (Hydrostatic Skeleton) থাকে। এর গমন পদ্ধতি:
• চামড়ার মধ্যে থাকা 'S' আকৃতির কাইটিনময় সূক্ষ্ম কাঁটা যাকে সিটা (Setae) বলে, তা মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।
• দেহের বৃত্তাকার পেশি (Circular Muscle) সংকুচিত হলে দেহ লম্বা ও সরু হয়ে সামনের দিকে এগোয়; এরপর অগ্রভাগের সিটা মাটিতে গেঁথে অনুদৈর্ঘ্য পেশি (Longitudinal Muscle) সংকুচিত করলে পেছনের দেহখণ্ডক টেনে সামনে চলে আসে।

Step 4
তুলনামূলক অভিযোজন ম্যাট্রিক্স (Adaptive Comparison Matrix)

• মাছ: মাধ্যম = জল; চ্যালেঞ্জ = ঘর্ষণ ও প্লবতা; সমাধান = মাকু দেহ, ৭টি পাখনা, পটকা ও ফুলকা।
• পাখি: মাধ্যম = বাতাস; challenge = মাধ্যাকর্ষণ ও শক্তির ঘাটতি; সমাধান = ডানা, নিউম্যাটিক অস্থি, পেক্টোরাল পেশি ও দ্বি-শ্বসন।
• কেঁচো: মাধ্যম = মাটির ভেতর; চ্যালেঞ্জ = মাটি খোঁড়া ও ঘর্ষণ; সমাধান = সিটা, বৃত্তাকার-অনুদৈর্ঘ্য পেশিজোড় ও মিউকাস ক্ষরণ।

Step 5
বোর্ড পরীক্ষার সতর্কবার্তা (বায়ুথলি বনাম ফুসফুসের কাজ)

গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ: পাখির বায়ুথলিতে কোনো রক্তজালক থাকে না, তাই বায়ুথলিতে কখনোই সরাসরি গ্যাস বিনিময় ঘটে না! বায়ুথলি শুধু অতিরিক্ত বাতাস জমা রাখে এবং কামারের হাপরের মতো ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস পাম্প করে। পরীক্ষায় গ্যাস বিনিময় অঙ্গ হিসেবে ফুসফুসের নামই লিখতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সমীকরণ, বিক্রিয়া ও সূত্র

বাষ্পমোচন টান ও রসের উৎস্রোতের সম্পর্ক
$$বাষ্পমোচন টান {সূর্যতাপ × বায়ুপ্রবাহ}{বায়ুর আর্দ্রতা}$$
পাতার মেসোফিল কোষে সৃষ্ট চোষণ বল জাইলেম বাহিকা দিয়ে মাটি থেকে জলকে শীর্ষে টেনে তোলে।
একটি আদর্শ সম্পূর্ণ ফুলের গঠনগত সূত্র
$$আদর্শ ফুল = বৃতি + দলমণ্ডল + পুংকেশর + গর্ভকেশর$$
চারটি স্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পূর্ণ ফুল বলা হয় (যেমন: কুমড়ো ফুল)।
পত্ররন্ধ্রীয় রসস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সমীকরণ
$$রক্ষীকোষ স্ফীত ⇒ রন্ধ্র উন্মুক্ত; শিথিল ⇒ রন্ধ্র বন্ধ$$
গাছের বাষ্পমোচন হার ও সালোকসংশ্লেষে গ্যাস বিনিময় নিয়ন্ত্রণকারী মূল ভৌতিক প্রক্রিয়া।
অক্সিন-নিয়ন্ত্রিত ফোটোট্রপিক বক্রতা নীতি
$$অন্ধকার অংশে অক্সিন বৃদ্ধি ⇒ কোষ দীর্ঘীভবন ⇒ আলোর দিকে বক্রতা$$
একপার্শ্বীয় আলোকের প্রভাবে উদ্ভিদের কাণ্ড সবসময় আলোর দিকে বেঁকে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
মাছের পটকার প্লবতা ভারসাম্য সূত্র
$$পটকায় গ্যাস বৃদ্ধি ⇒ আয়তন ⇒ ঘনত্ব ⇒ মাছ ভেসে ওঠে$$
মাছ শক্তি খরচ না করেই জলের যে-কোনো নির্দিষ্ট স্তরে স্থির হয়ে ভাসতে পারে।
পাখির উড্ডয়ন পেশির শারীরিক অনুপাত
$$পেক্টোরাল উড্ডয়ন পেশি ≈ দেহের মোট ওজনের ২০\% - ২৫\%$$
পাখির বায়বীয় উড্ডয়নে ডানার শক্তিশালী সঞ্চালনে প্রয়োজনীয় বিপুল পেশিশক্তি সরবরাহ করে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
সুন্দরবনের সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল কেন অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপরে খাড়া হয়ে উঠে আসে? এর শারীরবৃত্তীয় তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

• কারণ: সুন্দরবনের মাটি অত্যন্ত লবণাক্ত, ঘন কাদাময় ও সর্বক্ষণ জোয়ারের নোনা জলে প্লাবিত থাকে। ফলে মাটিতে কণার ফাঁকে বাতাস বা মুক্ত অক্সিজেন প্রায় অনুপস্থিত থাকে। সাধারণ শিকড় মাটির নিচে থাকলে অক্সিজেনের অভাবে কোষীয় শ্বসন বন্ধ হয়ে পচে যেত।
• শারীরবৃত্তীয় কৌশল: অক্সিজেন সংগ্রহের তাগিদে সুন্দরী ও গরান গাছের শাখা-মূল পৃথিবীর অভিকর্ষের প্রতিকূলে (ঋণাত্মক অভিকর্ষবৃত্তি) মাটির নিচ থেকে খাড়া ওপরের দিকে বায়ুমণ্ডলে উঠে আসে।
• তাৎপর্য: শ্বাসমূলের গায়ে অসংখ্য আণুবীক্ষণিক শ্বাসছিদ্র বা লেন্টিসেল (Lenticel) থাকে, যার সাহায্যে উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় অক্সিজেন গ্রহণ করে মূলতন্ত্রের কোষীয় শ্বসন বজায় রাখে।

উদাহরণ 2
একটি সম্পূর্ণ ফুল ও অসম্পূর্ণ ফুলের মধ্যে প্রধান গঠনগত পার্থক্য কী? জবা ও কুমড়ো ফুলের স্তবক বিন্যাস বিশ্লেষণ করে উদাহরণ দাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

• পার্থক্য: যে ফুলে পুষ্পাক্ষের ওপর চারটি স্তবকই (বৃতি, দলমণ্ডল, পুংকেশর ও গর্ভকেশর) উপস্থিত থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। পক্ষান্তরে, যে ফুলে এই চারটি স্তবকের এক বা একাধিক স্তবক অনুপস্থিত থাকে, তাকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে।
• জবা ফুল: জবা ফুলে একই সাথে সবুজ বৃতি, উজ্জ্বল লাল পাপড়িযুক্ত দলমণ্ডল, বহু পুংকেশর এবং পাঁচটি গর্ভমুণ্ডযুক্ত গর্ভকেশর উপস্থিত থাকে। তাই জবা একটি আদর্শ সম্পূর্ণ ফুল ও উভলিঙ্গ ফুল।
• কুমড়ো ফুল: কুমড়ো ফুলে বৃতি ও দলমণ্ডল থাকলেও একই ফুলে পুংকেশর ও গর্ভকেশর একসঙ্গে থাকে না। পুরুষ কুমড়ো ফুলে কেবল পুংকেশর থাকে (স্ত্রী স্তবক নেই) এবং স্ত্রী কুমড়ো ফুলে কেবল গর্ভকেশর থাকে (পুং স্তবক নেই)। সুতরাং কুমড়ো একটি অসম্পূর্ণ ও একলিঙ্গ ফুল।

উদাহরণ 3
পাখির ফাঁপা অস্থি (নিউম্যাটিক অস্থি) ও বায়ুথলি উড্ডয়নে কীভাবে সহায়তা করে? এদের অভিযোজনগত গুরুত্ব লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

• নিউম্যাটিক অস্থির গুরুত্ব: পাখির দীর্ঘ অস্থিগুলোর ভেতর সাধারণ প্রাণীদের মতো ভারী অস্থিমজ্জা (Bone marrow) থাকে না; বরং তাদের অস্থিগহ্বর বায়ুপূর্ণ ফাঁপা প্রকোষ্ঠে গঠিত। এর ফলে পাখির কঙ্কালের ওজন শতকরা প্রায় ৫০-৬০ ভাগ কমে যায়, কিন্তু কাঠামোগত শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। হালকা শরীর নিয়ে সহজেই বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকা সম্ভব হয়।
• বায়ুথলির গুরুত্ব: পাখির ফুসফুসের সাথে ৯টি পাতলা স্থিতিস্থাপক বায়ুথলি যুক্ত থাকে। ওড়ার সময় ডানা সঞ্চালনে প্রচুর শক্তির জন্য অবিরাম অক্সিজেনের দরকার হয়। শ্বাস গ্রহণ ও শ্বাস ত্যাগ—উভয় সময়েই বায়ুথলি ফুসফুসের মধ্য দিয়ে একমুখী সতেজ অক্সিজেনের প্রবাহ সচল রেখে দ্বি-শ্বসন (Double Respiration) নিশ্চিত করে এবং দেহের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ নির্গমন করে পাখিকে শীতল রাখে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

আলু এবং আদা মাটির নিচে থাকে বলে এদেরকে মূল মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

আলু এবং আদা মূল নয়, এরা রূপান্তরিত কাণ্ড! কারণ এদের দেহে স্পষ্ট পর্ব (Node), পর্বমধ্য (Internode), শল্কপত্র এবং কাক্ষিক মুকুল বা চোখ থাকে—যা মূলের ক্ষেত্রে কখনোই থাকে না।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে উদ্ভিদের বাষ্পমোচন শুধু গাছের ক্ষতি করে এবং জল নষ্ট করে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

বাষ্পমোচন না ঘটলে জাইলেম বাহিকায় চোষণ টান সৃষ্টি হতো না এবং সুউচ্চ গাছে রসের উৎস্রোত ও খনিজ পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেত। এছাড়া বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ গ্রহণ করে বাষ্পমোচন গাছের পাতা ও দেহকে তীব্র রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

সাধারণ ভুল ধারণা

পাখির বায়ুথলি গ্যাস বিনিময় করে বলে ভুল উত্তর লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

বায়ুথলি কোনো গ্যাস বিনিময় করে না কারণ এর গায়ে কোনো রক্তজালক থাকে না। গ্যাস বিনিময় কেবল ফুসফুসের রক্তজালকেই ঘটে; বায়ুথলি কেবল অতিরিক্ত বাতাস ধরে রেখে বাতাস সঞ্চালনে পাম্পের মতো কাজ করে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

LIVING COMPONENTS OF ENVIRONMENT: STRUCTURAL DIVERSITY & FUNCTIONAL PROCESSES 1. ROOT MICRO-ANATOMY & MODIFICATIONS Root Zones Maturation (Hairs) Elongation Zone Meristematic Zone Root Cap Pneumatophores (শ্বাসমূল): Sundari, Goran: Neg geotropic for oxygen in marsh Prop & Stilt Roots (স্তম্ভ ও ঠেসূল): Banyan (pillar support); Screwpine (stem base stilt) Storage Taproots: Fusiform (Radish), Conical (Carrot), Napiform (Turnip) 2. LEAF ANATOMY & TRANSPIRATIONAL PULL Stomatal Guard Cell Action Turgid: OPEN Flaccid: CLOSED Regulates Water Vapour & Gas Exchange Ascent of Sap (রসের উৎস্রোত): Root pressure + Xylem Cohesion + Transpirational Suction Pull Venation Types (শিরাবিন্যাস): • Reticulate: Mango, Peepal (Dicot) • Parallel: Grass, Banana, Rice (Monocot) 3. FLOWER MORPHOLOGY & POLLINATION BIOLOGY 4 Floral Whorls (স্তবক) 1. Calyx (বৃতি): Green sepal protection 2. Corolla (দলমণ্ডল): Bright petals 3. Androecium (পুংকেশর): Pollen sac 4. Gynoecium (গর্ভকেশর): Ovary & Ovule Ovary $ o$ Fruit; Ovule $ o$ Seed Pollination Vectors (পরাগমিলন): 🌪️ Wind (বায়ুপরাগী): Rice, Wheat 🐝 Insect (পতঙ্গপরাগী): Mango, China Rose 💧 Water (জলপরাগী): Hydrilla, Vallisneria 🐦 Bird (পক্ষীপরাগী): Palas, Shimul Cross-pollination creates genetic vigor 4. PLANT MOVEMENTS & ANIMAL ADAPTATIONS Plant Movements (চলন) • Phototropism: Stems bend to light • Geotropism: Roots bend to gravity • Hydrotropism: Roots seek moisture • Seismonasty: Mimosa leaves droop Auxin Hormone drives Tropisms Key Animal Adaptations: 🐟 Fish (মৎস্য): Streamlined shape, swim bladder, gills with operculum, lateral line 🦅 Bird (পক্ষী): Pneumatic hollow bones, air sacs, forelimbs modified into wings 🪱 Earthworm: Setae & muscles
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যপ্রণালী অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।