শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট — প্রধান জ্বালানি শক্তি
শর্করা (Carbohydrates): কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত ($1:2:1$ অনুপাতে) জৈব যৌগ যা মানবদেহের কোষীয় শ্বসনে প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• প্রকারভেদ: সরল শর্করা (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ) ও জটিল শর্করা (শ্বেতসার, সেলুলোজ)।
• উৎস: ভাত, রুটি, আলু, ভুট্টা, চিনি, কলা ও মধু।
• ক্যালরি মান: প্রতি $১\text{ গ্রাম}$ শর্করা সম্পূর্ণ জারিত হয়ে প্রায় $৪\text{ kcal}$ ($১৬.৭\text{ kJ}$) শক্তি সরবরাহ করে। গ্লুকোজ রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে দ্রুততম শক্তি জোগায়।
প্রোটিন — দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ
প্রোটিন (Proteins): কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে সালফার দ্বারা গঠিত পলিমার, যা মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল।
• শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা: নতুন কোষ গঠন, দেহের সার্বিক বৃদ্ধি, ক্ষতস্থান নিরাময়, রক্তে হিমোগ্লোবিন, অ্যান্টিবডি ও বিভিন্ন পাচক উৎসেচক সংশ্লেষ।
• উৎস: প্রথম শ্রেণির প্রোটিন (প্রাণিজ - মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা) যাতে সমস্ত অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে; দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন (উদ্ভিজ্জ - মসুর ডাল, সয়াবিন, বাদাম)।
• ক্যালরি মান: প্রতি $১\text{ গ্রাম}$ প্রোটিন থেকে $৪\text{ kcal}$ ($১৬.৭\text{ kJ}$) শক্তি উৎপন্ন হয়।
লিপিড বা ফ্যাট — দীর্ঘমেয়াদী শক্তি ও তাপ সংরক্ষণ
লিপিড/স্নেহপদার্থ (Lipids/Fats): ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসেরলের এস্টার যৌগ।
• কাজ: সর্বাধিক ঘনীভূত শক্তির সঞ্চয় ভাণ্ডার; ত্বকের নিচে অ্যাডিপোজ কলায় জমা থেকে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে (তাপ কুপরিবাহী হিসেবে); মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের আবরণ গঠন করে এবং স্নেহ-দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) শোষণে সাহায্য করে।
• উৎস: উদ্ভিজ্জ তেল (সর্ষের তেল, সূর্যমুখী তেল), ঘি, মাখন, বাদাম, মাছের তেল।
• ক্যালরি মান: প্রতি $১\text{ গ্রাম}$ ফ্যাট জারণে সর্বাধিক $৯\text{ kcal}$ ($৩৭.৭\text{ kJ}$) শক্তি নির্গত হয়।
প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি (PEM) — কোয়াশিওরকর বনাম ম্যারাসমাস
উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের অপর্যাপ্ত খাদ্যাভ্যাসে দুটি মারাত্মক অপুষ্টিজনিত রোগ দেখা দেয়:
• কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের খাদ্যে শক্তির জোগান থাকলেও প্রোটিনের চরম ঘাটতিতে হয়। লক্ষণ: হাত ও পা অত্যন্ত রোগা ও সরু হয়ে যায়, কিন্তু পেটে জল জমে পেট বিশ্রীভাবে ফুলে ওঠে (Pot belly), মুখে শোথ বা পানি জমে চাঁদের মতো দেখায় (Moon face), ত্বক আঁশের মতো খসখসে হয় এবং চুলের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে লালচে-বাদামী হয়ে যায়।
• ম্যারাসমাস (Marasmus): সাধারণত ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের খাদ্যে প্রোটিন ও ক্যালরি উভয়ের চরম অভাবে হয়। লক্ষণ: দেহের সঞ্চিত সমস্ত ফ্যাট ও পেশি ক্ষয়ে গিয়ে শিশু কঙ্কালসার হয়ে পড়ে, পাঁজরের হাড় স্পষ্ট গোনা যায়, চামড়া কুঁচকে ঝুলে পড়ে এবং মুখের চেহারা বুড়ো মানুষের মতো (Old man look) দেখায়। এতে কোনো শোথ থাকে না।
ক্যালরি মান ও দৈনিক সুষম খাদ্য বণ্টন
একজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বৃদ্ধি ও সক্রিয়তার জন্য দৈনিক প্রায় $২০০০ - ২২০০\text{ kcal}$ শক্তি প্রয়োজন। সুষম খাদ্য (Balanced Diet)-এর নিয়ম অনুযায়ী এই মোট শক্তির:
• ৫০% - ৬০% আসা উচিত জটিল শর্করা (শ্বেতসার) থেকে,
• ২০% - ৩০% স্নেহপদার্থ (স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট) থেকে, এবং
• ১০% - ১৫% প্রোটিন থেকে।