Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Environment & Science (পরিবেশ ও বিজ্ঞান) • অধ্যায় 3
আনুমানিক সময়: 50 মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "পরিবেশ ও বিজ্ঞান"-এর তৃতীয় অধ্যায় "পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া"। এই অধ্যায়ে পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন, মূল কণিকাসমূহ (প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন), পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা, যোজ্যতা ও ক্রিস-ক্রস সংকেত লিখন, চারটি মৌলিক রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং ভরের নিত্যতা সূত্র সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

লোহার পেরেকে কেন লালচে মরিচা ধরে, অথচ হাজার বছরের পুরনো সোনার গহনা অবিকৃত থাকে?

খোলা বাতাসে আর্দ্রতার উপস্থিতিতে লোহার পরমাণু দ্রুত অক্সিজেন ও জলের অণুর সঙ্গে ইলেকট্রন বিনিময় করে বাদামী-লালচে মরিচা (হাইড্রেটেড ফেরিক অক্সাইড) গঠন করে। পক্ষান্তরে, সোনার পরমাণুর বহিঃস্থ ইলেকট্রন অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকায় সোনা সাধারণ অবস্থায় কোনো মৌলের সাথেই বিক্রিয়া করে না। সমস্ত পদার্থের এই বৈচিত্র্যময় আচরণের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন, যোজ্যতা এবং ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মধ্যে!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "পরিবেশ ও বিজ্ঞান"-এর তৃতীয় অধ্যায় "পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া"। এই অধ্যায়ে পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন, মূল কণিকাসমূহ (প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন), পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা, যোজ্যতা ও ক্রিস-ক্রস সংকেত লিখন, চারটি মৌলিক রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং ভরের নিত্যতা সূত্র সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পদার্থের তিনটি ভৌত অবস্থা (কঠিন, তরল, গ্যাসীয়) ও তাদের আণবিক ব্যবধান।
  • মৌলিক পদার্থ, যৌগিক পদার্থ ও মিশ্র পদার্থের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য।
  • বহুল ব্যবহৃত মৌলসমূহের রাসায়নিক প্রতীক ($H, O, C, N, Na, Fe, Cu, Cl, Ca$ ইত্যাদি)।
  • ধনাত্মক ও ঋণাত্মক তড়িদাধান এবং বিপরীতধর্মী আধানের আকর্ষণ ধর্ম।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • পরমাণুর তিনটি মূল অব-পারমাণবিক কণা (প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন)-এর আধান, আপেক্ষিক ভর ও অবস্থান নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা।
  • পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$), ভরসংখ্যা ($A$) ও নিউট্রন সংখ্যা ($N = A - Z$) গণনা করা।
  • মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতা প্রয়োগ করে ক্রিস-ক্রস পদ্ধতিতে নির্ভুল রাসায়নিক সংকেত গঠন করা।
  • রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহকে চারটি মৌলিক শ্রেণিতে (প্রত্যক্ষ সংযোগ, বিয়োজন, প্রতিস্থাপন ও বিনিময়) শ্রেণিভুক্ত করা।
  • ভরের নিত্যতা সূত্র উপলব্ধি করে রাসায়নিক সমীকরণের যথাযথ সমতাবিধান (Balancing) সম্পন্ন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ধারণা ১: ডাল্টনের পরমাণুবাদ ও পরমাণ...
2 ধারণা ২: পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$), ভর...
3 ধারণা ৩: অণু, ক্যাটায়ন, অ্যানায়ন...
4 ধারণা ৪: যোজ্যতা ও ক্রিস-ক্রস পদ্ধত...
5 ধারণা ৫: রাসায়নিক সমীকরণ, বিক্রিয়...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

ধারণা ১: ডাল্টনের পরমাণুবাদ ও পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন (Anatomy of the Atom)

ধাপ ১
মৌলিক সংজ্ঞা ও অব-পারমাণবিক কণা

পরমাণু (Atom): পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য অংশ (ডাল্টনের মতে), যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। আধুনিক পারমাণবিক তত্ত্ব অনুযায়ী পরমাণু বিভাজ্য এবং মূলত তিনটি স্থায়ী অব-পারমাণবিক কণা দিয়ে গঠিত: প্রোটন (ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা, ভর $\approx 1.673 \times 10^{-24}\text{ g}$), নিউট্রন (নিস্তড়িৎ কণা, ভর $\approx 1.675 \times 10^{-24}\text{ g}$) এবং ইলেকট্রন (ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা, ভর $\approx 9.109 \times 10^{-28}\text{ g}$)।

ধাপ ২
নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রন মহল

রাদারফোর্ডের বিখ্যাত আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে পরমাণুর কেন্দ্রে একটি অতি ক্ষুদ্র, ধনাত্মক আধানযুক্ত এবং ভারী অংশ রয়েছে যাকে নিউক্লিয়াস (Nucleus) বলে। পরমাণুর সমস্ত প্রোটন ও নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। নিউক্লিয়াসের বাইরে বিপুল পরিমাণ ফাঁকা স্থানে বিভিন্ন নির্দিষ্ট বৃত্তাকার কক্ষপথে ঋণাত্মক ইলেকট্রনসমূহ তীব্র বেগে আবর্তন করে।

ধাপ ৩
কণিকাসমূহের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য
কণিকাআবিষ্কারকপ্রকৃত আধান (C)আপেক্ষিক আধানআপেক্ষিক ভর (amu)অবস্থান
প্রোটন ($p^+$)গোল্ডস্টাইন / রাদারফোর্ড$+1.602 \times 10^{-19}$$+1$$1$নিউক্লিয়াসের ভেতর
নিউট্রন ($n^0$)জেমস চ্যাডউইক (১৯৩২)$0$ (নিস্তড়িৎ)$0$$1$নিউক্লিয়াসের ভেতর
ইলেকট্রন ($e^-$)জে. জে. থমসন (১৮৯৭)$-1.602 \times 10^{-19}$$-1$$\frac{1}{1837}$নিউক্লিয়াসের বাইরে
ধাপ ৪
পরীক্ষকের সতর্কতা ও সাধারণ ফাঁদ

সতর্কতা: অনেক শিক্ষার্থী মনে করে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে অথবা ভরসংখ্যায় ইলেকট্রনের ভর যোগ করে। মনে রাখবে: ইলেকট্রন সর্বদা নিউক্লিয়াসের বাইরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে এবং এর ভর এতই নগণ্য (প্রোটনের মাত্র ১/১৮৩৭ অংশ) যে পরমাণুর সামগ্রিক ভর পুরোপুরি নিউক্লিয়াসে নিহিত থাকে।

ধাপ ৫
বাস্তব বিজ্ঞান ও বিশ্বজগৎ

মহাবিশ্বের সমস্ত দৃশ্যমান বস্তু — পর্বত, সমুদ্র, মানবদেহ থেকে শুরু করে দূরবর্তী নক্ষত্র পর্যন্ত — মূলত এই মাত্র তিনটি কণা (প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন)-এর বিভিন্ন সংখ্যার বিন্যাস দ্বারা তৈরি। আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রোটন ও নিউট্রন আরও ক্ষুদ্র কণা কোয়ার্ক (Quarks) দিয়ে গঠিত!

ধারণা ২: পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$), ভরসংখ্যা ($A$) ও আইসোটোপ

ধাপ ১
পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$) ও ভরসংখ্যা ($A$)

পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$): কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট প্রোটন সংখ্যাকে তার পারমাণবিক সংখ্যা বলে ($Z = p$)। এটি মৌলের মৌলিক পরিচয় বহন করে।
ভরসংখ্যা ($A$): পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বলে ($A = p + n = Z + N$)। অতএব নিউট্রন সংখ্যা $N = A - Z$।

ধাপ ২
ইলেকট্রন বিন্যাসের মূল নিয়ম

বোর-বারি নিয়ম অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারপাশের কক্ষপথগুলিকে যথাক্রমে $K, L, M, N$ ইত্যাদি নামে চিহ্নিত করা হয়। যেকোনো কক্ষপথে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা $2n^2$ (যেখানে $n$ কক্ষপথ ক্রমিক):
• $K$ কক্ষপথ ($n=1$): সর্বোচ্চ $2(1)^2 = 2$টি ইলেকট্রন।
• $L$ কক্ষপথ ($n=2$): সর্বোচ্চ $2(2)^2 = 8$টি ইলেকট্রন।
• $M$ কক্ষপথ ($n=3$): সর্বোচ্চ $2(3)^2 = 18$টি ইলেকট্রন। তবে সর্ববহিঃস্থ কক্ষে ৮টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।

ধাপ ৩
ধাপে ধাপে উদাহরণ ও গণনা

ক্লোরিন পরমাণুর সংকেত $_{17}^{35}\text{Cl}$:
১. প্রোটন সংখ্যা $Z = 17$ এবং নিস্তড়িৎ হওয়ায় ইলেকট্রন সংখ্যা $= 17$।
২. ভরসংখ্যা $A = 35$, সুতরাং নিউট্রন সংখ্যা $N = 35 - 17 = 18$।
৩. ইলেকট্রন বিন্যাস: K কক্ষে ২টি, L কক্ষে ৮টি এবং অবশিষ্ট ৭টি M কক্ষে (বিন্যাস: ২, ৮, ৭)। বহিঃস্থ কক্ষে ৭টি ইলেকট্রন থাকায় অষ্টক পূরণে ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ক্লোরাইড আয়ন ($\text{Cl}^-$) গঠন করে।

ধাপ ৪
আইসোটোপ বনাম আইসোবার ফাঁদ

ফাঁদ: আইসোটোপ ও আইসোবারের মধ্যে বিভ্রান্তি ঘটে।
• আইসোটোপ (Isotopes): প্রোটন সংখ্যা ($Z$) সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ($A$) ভিন্ন (যেমন হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম $_1^1\text{H}$, ভারী হাইড্রোজেন বা ডয়টেরিয়াম $_1^2\text{H}$ এবং ট্রিটিয়াম $_1^3\text{H}$)।
• আইসোবার (Isobars): ভরসংখ্যা ($A$) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$) ভিন্ন (যেমন $_{18}^{40}\text{Ar}$ এবং $_{20}^{40}\text{Ca}$)।

ধাপ ৫
বোর্ড পরীক্ষার উচ্চফলনশীল তথ্য

ডয়টেরিয়াম দ্বারা গঠিত জলকে ভারী জল (Heavy Water, $\text{D}_2\text{O}$) বলা হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিউট্রনের গতি হ্রাস করার জন্য মডারেটর (Moderator) হিসেবে অপরিহার্য। ট্রিটিয়াম হলো একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ।

ধারণা ৩: অণু, ক্যাটায়ন, অ্যানায়ন ও মূলক (Molecules, Ions & Radicals)

ধাপ ১
অণু ও আয়নের উৎপত্তি

অণু (Molecule): দুই বা ততোধিক পরমাণু রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে পদার্থের স্বাধীন অস্তিত্বশীল ক্ষুদ্রতম কণা গঠন করে (মৌলের অণু: $\text{O}_2, \text{N}_2$; যৌগের অণু: $\text{H}_2\text{O}, \text{CO}_2$)।
আয়ন (Ion): নিস্তড়িৎ পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করলে ধনাত্মক আধানযুক্ত ক্যাটায়ন ($M^{n+}$) এবং গ্রহণ করলে ঋণাত্মক আধানযুক্ত অ্যানায়ন ($X^{m-}$) উৎপন্ন হয়।

ধাপ ২
নিষ্ক্রিয় গ্যাস ও অষ্টক সূত্র (Octet Rule)

হিলিয়াম ($2$), নিয়ন ($2, 8$) ও আর্গন ($2, 8, 8$)-এর মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলির সর্ববহিঃস্থ কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকায় এরা স্থিতিশীল ও নিষ্ক্রিয়। অন্যান্য পরমাণু রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো সর্ববহিঃস্থ কক্ষে ৮টি (বা হিলিয়ামের ক্ষেত্রে ২টি) ইলেকট্রন লাভের চেষ্টা করে, যাকে অষ্টক সূত্র (Octet Rule) বলে।

ধাপ ৩
যৌগমূলক বা রেডিক্যাল (Radicals)

একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু একত্রিত হয়ে একটি একক কণার মতো আচরণ করে এবং নির্দিষ্ট তড়িদাধান বহন করে, তাদের যৌগমূলক (Radical) বলে:
• একযোজী মূলক (Valency 1): হাইড্রোক্সাইড ($\text{OH}^-$), নাইট্রেট ($\text{NO}_3^-$), বাইকার্বোনেট ($\text{HCO}_3^-$), অ্যামোনিয়াম ($\text{NH}_4^+$)।
• দ্বিযোজী মূলক (Valency 2): সালফেট ($\text{SO}_4^{2-}$), কার্বনেট ($\text{CO}_3^{2-}$), সালফাইট ($\text{SO}_3^{2-}$)।
• ত্রিযোজী মূলক (Valency 3): ফসফেট ($\text{PO}_4^{3-}$)।

ধাপ ৪
আয়ন গঠনের মারাত্মক ভুল ধারণা

সাধারণ ভুল: ক্যাটায়ন গঠনে প্রোটন বৃদ্ধি পায় এবং অ্যানায়ন গঠনে প্রোটন কমে — এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা! রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রন সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে; কেবল বহিঃস্থ কক্ষের ইলেকট্রন বর্জন বা গ্রহণের ফলেই যথাক্রমে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আধানের সৃষ্টি হয়।

ধাপ ৫
দৈনন্দিন জীবনে আয়নের ভূমিকা

আমাদের শরীরে স্নায়ু সংবেদন পরিবাহী হিসেবে সোডিয়াম আয়ন ($\text{Na}^+$) ও পটাশিয়াম আয়ন ($\text{K}^+$) কাজ করে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে এই আয়নগুলি বেরিয়ে যায়, ফলে ক্লান্তি দূর করতে খাবার স্যালাইন (ORS) বা ইলেক্ট্রোলাইট দ্রবণ পান করা হয়।

ধারণা ৪: যোজ্যতা ও ক্রিস-ক্রস পদ্ধতিতে রাসায়নিক সংকেত গঠন

ধাপ ১
যোজ্যতার মৌলিক সংজ্ঞা ও তাৎপর্য

একটি মৌলের পরমাণু অপর একটি মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার সামর্থ্য বা মিলন ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা (Valency) বলে। সাধারণত একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলি যুক্ত হতে পারে, অথবা ক্লোরিনের যতগুলি পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে, তাকে ওই মৌলের যোজ্যতা ধরা হয়। যেমন $\text{HCl}$-এ ক্লোরিনের যোজ্যতা ১, $\text{H}_2\text{O}$-তে অক্সিজেনের যোজ্যতা ২, এবং $\text{NH}_3$-তে নাইট্রোজেনের যোজ্যতা ৩।

ধাপ ২
ক্রিস-ক্রস পদ্ধতি (Criss-Cross Method)

যৌগের সংকেত লেখার বৈজ্ঞানিক নিয়ম:
১. ক্যাটায়ন বা ধাতুর প্রতীক বামে এবং অ্যানায়ন বা অধাতুর প্রতীক ডানে লেখো।
২. তাদের নিজস্ব যোজ্যতা উপরে ডানপাশে লেখো।
৩. যোজ্যাতাদ্বয়কে আড়াআড়িভাবে (ক্রিস-ক্রস) বিনিময় করে পদচিহ্ন (Subscript) হিসেবে লেখো।
৪. যদি যোজ্যতার কোনো সাধারণ গুণনীয়ক থাকে তবে তা দিয়ে ভাগ করে লঘিষ্ঠ রূপ দিতে হয় (যেমন $\text{Ca}_2\text{O}_2 \implies \text{CaO}$)।

ধাপ ৩
ধাপে ধাপে সংকেত গঠনের উদাহরণ

• অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড: প্রতীক $\text{Al}$ (যোজ্যতা ৩), $\text{O}$ (যোজ্যতা ২)। আড়াআড়ি বিনিময় করলে সংকেত হয় $\text{Al}_2\text{O}_3$।
• ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড: প্রতীক $\text{Mg}$ (যোজ্যতা ২), $\text{Cl}$ (যোজ্যতা ১)। বিনিময় করলে সংকেত হয় $\text{MgCl}_2$।
• সোডিয়াম কার্বনেট: প্রতীক $\text{Na}$ (যোজ্যতা ১), $\text{CO}_3$ (যোজ্যতা ২)। বিনিময় করলে সংকেত হয় $\text{Na}_2\text{CO}_3$।

ধাপ ৪
বন্ধনী ব্যবহারের পরীক্ষক সতর্কতা

সতর্কতা: যৌগমূলকের সংখ্যা এক হলে বন্ধনী দেওয়া নিষিদ্ধ (যেমন $\text{NaOH}$, কিন্তু $(\text{NaOH})$ বা $\text{Na(OH)}$ নয়)। তবে যৌগমূলকের সংখ্যা ২ বা ততোধিক হলে পুরো মূলকটিকে বন্ধনীতে রেখে পদচিহ্ন লিখতে হবে (যেমন $\text{Ca(OH)}_2, \text{Al}_2(\text{SO}_4)_3, (\text{NH}_4)_2\text{SO}_4$)। বন্ধনী না দিলে সংকেত সম্পূর্ণ ভুল বলে গণ্য হবে।

ধাপ ৫
পরিবর্তনশীল যোজ্যতা (Variable Valency)

কিছু ধাতব মৌল একাধিক যোজ্যতা প্রদর্শন করে:
• লোহা ($\text{Fe}$): কম যোজ্যতা ২ (ফেরাস, যেমন $\text{FeCl}_2$) এবং বেশি যোজ্যতা ৩ (ফেরিক, যেমন $\text{FeCl}_3$)।
• তামা ($\text{Cu}$): কম যোজ্যতা ১ (কিউপ্রাস, $\text{Cu}_2\text{O}$) এবং বেশি যোজ্যতা ২ (কিউপ্রিক, $\text{CuO}$)।
কম যোজ্যতায় "-আস (-ous)" এবং বেশি যোজ্যতায় "-ইক (-ic)" প্রত্যয় যুক্ত হয়।

ধারণা ৫: রাসায়নিক সমীকরণ, বিক্রিয়ার প্রকারভেদ ও ভরের সংরক্ষণ সূত্র

ধাপ ১
রাসায়নিক বিক্রিয়া ও সমীকরণের রূপ

যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট নতুন পদার্থে রূপান্তরিত হয়, তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reaction) বলে। বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পদার্থকে বিক্রিয়ক (Reactants) এবং উৎপন্ন পদার্থকে বিক্রিয়াজাত পদার্থ (Products) বলে। তীরচিহ্ন ($\to$) দ্বারা বিক্রিয়ার অভিমুখ এবং গ্যাস নির্গমন ($\uparrow$) ও অধঃক্ষেপণ ($\downarrow$) চিহ্ন দ্বারা ভৌত পরিবর্তন নির্দেশ করা হয়।

ধাপ ২
চারটি মৌলিক বিক্রিয়া শ্রেণিবিভাগ
বিক্রিয়ার শ্রেণিসাধারণ রূপপ্রকৃত উদাহরণবৈশিষ্ট্য
১. প্রত্যক্ষ সংযোগ (Synthesis)$A + B \to AB$$2\text{Mg} + \text{O}_2 \to 2\text{MgO}$একাধিক পদার্থ যুক্ত হয়ে একটি যৌগ গঠন করে
২. বিয়োজন (Decomposition)$AB \to A + B$$2\text{H}_2\text{O}_2 \to 2\text{H}_2\text{O} + \text{O}_2\uparrow$একটি যৌগ ভেঙে একাধিক সরল পদার্থ গঠন করে
৩. প্রতিস্থাপন (Displacement)$A + BC \to AC + B$$\text{Zn} + \text{CuSO}_4 \to \text{ZnSO}_4 + \text{Cu}$অধিক সক্রিয় মৌল কম সক্রিয় মৌলকে সরিয়ে দেয়
৪. বিনিময় (Double Displacement)$AB + CD \to AD + CB$$\text{AgNO}_3 + \text{NaCl} \to \text{AgCl}\downarrow + \text{NaNO}_3$দুটি যৌগের মূলক বা আয়নগুলির পারস্পরিক বিনিময় ঘটে
ধাপ ৩
ভরের নিত্যতা সূত্র ও সমতাবিধান

বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে (Antoine Lavoisier) ১৭৮৯ সালে প্রমাণ করেন যে যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থসমূহের মোট ভর বিক্রিয়কসমূহের মোট ভরের সমান হয়। পরমাণু কখনো ধ্বংস বা সৃষ্টি হয় না, কেবল পুনর্বিন্যস্ত হয়। তাই রাসায়নিক সমীকরণের উভয় পাশে প্রতিটি মৌলের পরমাণু সংখ্যা সমান করার পদ্ধতিকে সমতাবিধান (Balancing) বলে।
যেমন: $\text{H}_2 + \text{O}_2 \to \text{H}_2\text{O}$ সমীকরণটিতে উভয় পাশে সমতা আনলে দাঁড়ায়: $$2\text{H}_2 + \text{O}_2 \to 2\text{H}_2\text{O}$$ (বামে ৪টি H ও ২টি O; ডানে ৪টি H ও ২টি O)।

ধাপ ৪
সমতাবিধানের মারাত্মক ভুল

ফাঁদ: সমতাবিধানের সময় কোনো যৌগের ভেতরের পদচিহ্ন বা সংকেত বদলানো চরম ভুল। যেমন অক্সিজেনের সংখ্যা মেলাতে গিয়ে $\text{H}_2\text{O}$-কে $\text{H}_2\text{O}_2$ লিখলে জলের জায়গায় হাইড্রোজেন পারক্সাইড তৈরি হয়! সমতাবিধান করতে হবে কেবলমাত্র যৌগের বামপাশে সহগ (যেমন ২, ৩ ইত্যাদি) বসিয়ে।

ধাপ ৫
বাস্তব জীবনে রাসায়নিক বিক্রিয়া

আমাদের বেঁচে থাকার মূল ভিত্তি হলো দুটি প্রধান রাসায়নিক বিক্রিয়া: উদ্ভিদদেহে সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) ($6\text{CO}_2 + 6\text{H}_2\text{O} \xrightarrow{h\nu} \text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6 + 6\text{O}_2$) এবং জীবদেহে শ্বসন (Respiration) ($ \text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6 + 6\text{O}_2 \to 6\text{CO}_2 + 6\text{H}_2\text{O} + \text{শক্তি}$)। এগুলি সবই সমতাবিধানকৃত মৌলিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার নিখুঁত উদাহরণ।

গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সমীকরণ, বিক্রিয়া ও সূত্র

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number)
$$Z = p$$
নিস্তড়িৎ পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা সর্বদা সমান থাকে। এটি মৌলের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের মূল ভিত্তি।
ভরসংখ্যা সমীকরণ (Mass Number)
$$A = Z + N = p + n$$
ইলেকট্রনের ভর নগণ্য হওয়ায় পরমাণুর সমস্ত ভর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টির সমান।
মৌলের প্রতীকী রূপ (Nuclide Notation)
$$_Z^A\text{X}$$
উদাহরণ: সোডিয়াম $_{11}^{23}\text{Na}$, যেখানে প্রোটন = ১১, ইলেকট্রন = ১১ এবং নিউট্রন = ২৩ - ১১ = ১২।
ক্রিস-ক্রস সংকেত সূত্র (Criss-Cross Rule)
$$\text{A}^x + \text{B}^y \implies \text{A}_y\text{B}_x$$
যোজ্যতা দুটি বিনিময় হয়ে মৌলের ডানপাশে নিচে পদচিহ্ন (Subscript) হিসেবে বসে।
ভরের নিত্যতা সূত্র (Conservation of Mass)
$$\sum m_{\text{reactants}} = \sum m_{\text{products}}$$
ল্যাভয়সিয়ের সূত্র: সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভরের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই, কেবল রূপান্তর ঘটে।
গুরুত্বপূর্ণ যৌগমূলক ও যোজ্যতা (Radicals & Valency)
$$\text{OH}^-(1),\; \text{NO}_3^-(1),\; \text{SO}_4^{2-}(2),\; \text{CO}_3^{2-}(2),\; \text{NH}_4^+(1)$$
যৌগে মূলকের সংখ্যা একাধিক হলে অবশ্যই বন্ধনী ব্যবহার করতে হবে; যেমন $\text{Ca(OH)}_2$।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
সোডিয়াম পরমাণুর সংকেত $_{11}^{23}\text{Na}$ এবং ক্লোরিন পরমাণুর সংকেত $_{17}^{35}\text{Cl}$। প্রতিটি পরমাণুর প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করো এবং সোডিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস দেখাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

• সোডিয়াম ($_{11}^{23}\text{Na}$):
পারমাণবিক সংখ্যা $Z = 11$, অতএব প্রোটন সংখ্যা = ১১ এবং নিস্তড়িৎ হওয়ায় ইলেকট্রন সংখ্যা = ১১।
ভরসংখ্যা $A = 23$। সুতরাং নিউট্রন সংখ্যা ($N$) = $A - Z = 23 - 11 = 12$।
ইলেকট্রন বিন্যাস: K-কক্ষে ২টি, L-কক্ষে ৮টি এবং M-কক্ষে ১টি (বিন্যাস: ২, ৮, ১)।

• ক্লোরিন ($_{17}^{35}\text{Cl}$):
পারমাণবিক সংখ্যা $Z = 17$, সুতরাং প্রোটন = ১৭, ইলেকট্রন = ১৭।
ভরসংখ্যা $A = 35$, সুতরাং নিউট্রন সংখ্যা = $35 - 17 = 18$।
ইলেকট্রন বিন্যাস: K-কক্ষে ২টি, L-কক্ষে ৮টি, M-কক্ষে ৭টি (বিন্যাস: ২, ৮, ৭)।

উত্তর: সোডিয়ামে ১১টি প্রোটন, ১১টি ইলেকট্রন, ১২টি নিউট্রন; ক্লোরিনে ১৭টি প্রোটন, ১৭টি ইলেকট্রন ও ১৮টি নিউট্রন রয়েছে।

উদাহরণ 2
যোজ্যতা ও ক্রিস-ক্রস পদ্ধতি ব্যবহার করে নিচের যৌগগুলির সঠিক রাসায়নিক সংকেত লেখো:
(ক) অ্যালুমিনিয়াম সালফেট
(খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
(গ) ফেরিক অক্সাইড (যেখানে লোহার যোজ্যতা ৩)।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

• (ক) অ্যালুমিনিয়াম সালফেট:
অ্যালুমিনিয়াম ক্যাটায়ন: $\text{Al}^{3+}$ (যোজ্যতা = ৩); সালফেট মূলক: $\text{SO}_4^{2-}$ (যোজ্যতা = ২)।
ক্রিস-ক্রস নিয়মে যোজ্যতা বিনিময় করলে: $\text{Al}$ পাবে ২ এবং $\text{SO}_4$ পাবে ৩।
অতএব সংকেত: $\text{Al}_2(\text{SO}_4)_3$।

• (খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড:
ক্যালসিয়াম: $\text{Ca}^{2+}$ (যোজ্যতা = ২); হাইড্রোক্সাইড মূলক: $\text{OH}^-$ (যোজ্যতা = ১)।
যোজ্যতা বিনিময় করলে: $\text{Ca}$ পাবে ১ এবং $\text{OH}$ পাবে ২।
অতএব সংকেত: $\text{Ca(OH)}_2$ (কলিচুন বা স্লেকড লাইম)।

• (গ) ফেরিক অক্সাইড:
ফেরিক লোহা: $\text{Fe}^{3+}$ (যোজ্যতা = ৩); অক্সিজেন: $\text{O}^{2-}$ (যোজ্যতা = ২)।
যোজ্যতা বিনিময় করলে: $\text{Fe}$ পাবে ২ এবং $\text{O}$ পাবে ৩।
অতএব সংকেত: $\text{Fe}_2\text{O}_3$ (মরিচার প্রধান উপাদান)।

উদাহরণ 3
নিচের সমীকরণগুলির সমতাবিধান (Balancing) সম্পন্ন করো এবং প্রতিটি বিক্রিয়া কোন শ্রেণির তা চিহ্নিত করো:
(ক) $\text{Fe} + \text{CuSO}_4 \to \text{FeSO}_4 + \text{Cu}$
(খ) $\text{KClO}_3 \to \text{KCl} + \text{O}_2$
(গ) $\text{BaCl}_2 + \text{Na}_2\text{SO}_4 \to \text{BaSO}_4 + \text{NaCl}$
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

• (ক) লোহা ও তুঁতের বিক্রিয়া:
সমীকরণ: $\text{Fe} + \text{CuSO}_4 \to \text{FeSO}_4 + \text{Cu}$
উভয় পক্ষে প্রতিটি পরমাণুর সংখ্যা ইতিমধ্যে সমান (Fe:১, Cu:১, S:১, O:৪)। সমীকরণটি স্বতঃ-সমতাবিধানকৃত।
শ্রেণি: প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Displacement Reaction) — লোহা তামা অপেক্ষা অধিক সক্রিয় হওয়ায় কপার সালফেট দ্রবণ থেকে তামাকে প্রতিস্থাপিত করেছে।

• (খ) পটাশিয়াম ক্লোরেটের বিয়োজন:
অসমকৃত রূপ: $\text{KClO}_3 \to \text{KCl} + \text{O}_2$
অক্সিজেন পরমাণু বামে ৩টি ও ডানে ২টি। উভয়ের ল.সা.গু = ৬। সুতরাং বামে ২ এবং ডানে ৩ গুণ করতে হবে:
সমতাবিধানকৃত রূপ:

$$2\text{KClO}_3 \to 2\text{KCl} + 3\text{O}_2\uparrow$$


শ্রেণি: বিয়োজন বিক্রিয়া (Decomposition Reaction) — একটি জটিল যৌগ ভেঙে দুটি সরল পদার্থ উৎপন্ন হয়েছে।

• (গ) বেরিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম সালফেট:
ডানপাশে Na ও Cl-এর সংখ্যা ২ করার জন্য $\text{NaCl}$-এর আগে ২ বসাতে হবে:
সমতাবিধানকৃত রূপ:

$$\text{BaCl}_2 + \text{Na}_2\text{SO}_4 \to \text{BaSO}_4\downarrow + 2\text{NaCl}$$


শ্রেণি: বিনিময় বিক্রিয়া (Double Displacement / Precipitation Reaction) — আয়নগুলির পারস্পরিক বিনিময়ে অদ্রবণীয় সাদা বেরিয়াম সালফেটের অধঃক্ষেপ পড়ে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যার মধ্যে বিভ্রান্তি এবং ইলেকট্রনের ভরকে ভরসংখ্যায় যোগ করে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পারমাণবিক সংখ্যা ($Z$) হলো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যা (বা নিস্তড়িৎ পরমাণুর ইলেকট্রন সংখ্যা)। ভরসংখ্যা ($A$) হলো কেবলমাত্র নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা ($A = p + n$)। ইলেকট্রনের ভর এতই নগণ্য (প্রোটনের ভরের ১/১৮৩৭ অংশ) যে ভরসংখ্যা গণনায় ইলেকট্রন গণনা করা হয় না।

সাধারণ ভুল ধারণা

যৌগমূলকের সংখ্যা একাধিক হলে সংকেতে বন্ধনী না দেওয়া (যেমন $\text{CaOH}_2$ লেখা)।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

যৌগমূলক হলো একাধিক পরমাণুর একটি অবিভাজ্য গুচ্ছ। যখন একাধিক মূলক প্রয়োজন হয়, তখন পুরো মূলকটিকে বন্ধনীতে রেখে পদচিহ্ন লিখতে হয়; যেমন $\text{Ca(OH)}_2$। $\text{CaOH}_2$ লিখলে বোঝায় কেবল হাইড্রোজেনের ২টি পরমাণু আছে, যা সম্পূর্ণ ভুল।

সাধারণ ভুল ধারণা

রাসায়নিক সমীকরণের সমতাবিধান করতে গিয়ে মৌলের সংকেত বা সাবস্ক্রিপ্ট বদলে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সমতাবিধানের সময় কেবল অণুর আগের সহগ (Coefficient) পরিবর্তন করা যায়, মৌলের নিজস্ব সংকেত বা সাবস্ক্রিপ্ট বদলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! যেমন $2\text{H}_2 + \text{O}_2 \to 2\text{H}_2\text{O}$ লিখতে হবে; অক্সিজেন মেলাতে গিয়ে জলকে $\text{H}_2\text{O}_2$ (হাইড্রোজেন পারক্সাইড) লেখা সম্পূর্ণ ভুল।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

পরমাণুর গঠন, যোজ্যতা ও রাসায়নিক বিক্রিয়া ১. পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন (p⁺, n⁰, e⁻) 11p,12n সোডিয়াম পরমাণু (₁₁²³Na: ২, ৮, ১) • নিউক্লিয়াস (p⁺ + n⁰) • K-কক্ষ (২e⁻), L-কক্ষ (৮e⁻) • M-কক্ষ (১e⁻) Z = 11, A = 23, N = A - Z = 12 ২. যোজ্যতা ও ক্রিস-ক্রস সূত্র Al Al যোজ্যতা ৩ O O যোজ্যতা ২ 2 3 Criss-Cross: Al₂O₃ অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড: Al₂O₃ Valencies cross over to become subscripts ৩. ৪টি মূল রাসায়নিক বিক্রিয়া 1. প্রত্যক্ষ সংযোগ: 2Mg + O₂ → 2MgO 2. বিয়োজন: CaCO₃ → CaO + CO₂↑ 3. প্রতিস্থাপন: Fe + CuSO₄ → FeSO₄ + Cu 4. বিনিময়: NaCl + AgNO₃ → AgCl↓ + NaNO₃ ৪. ভরের নিত্যতা ও সমতাবিধান 2H₂ + O₂ (4g + 32g = 36g) 2H₂O (36g Water) বিক্রিয়কের মোট ভর = উৎপন্ন পদার্থের মোট ভর 2H₂ + O₂ → 2H₂O (৪H ও ২O উভয় দিকে)
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।