Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Business Studies • অধ্যায় 3
আনুমানিক সময়: ২৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

সরকারি, বেসরকারি ও বিশ্বজনীন উদ্যোগ

আধুনিক অর্থনৈতিক পরিচালন ব্যবস্থায় কোনো দেশই সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদী বাজার বা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় না; বরং একটি গতিশীল মিশ্র অর্থনৈতিক কাঠামোর অধীনে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির কারবার শিক্ষা পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত তৃতীয় অধ্যায় 'সরকারি, বেসরকারি ও বিশ্বজনীন উদ্যোগ' (Public, Private and Global Enterprises)-এ সরকারি উদ্যোগের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, বহুদেশীয় সংস্থা (MNC), যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) বিস্তারিত ও বিশ্লেষণমূলক রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এই অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভারতের সরকারি ক্ষেত্রের ঐতিহাসিক বিবর্তন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শেখে—১৯৫৬ সালের শিল্পনীতি প্রস্তাবের 'অর্থনীতির চালিকাশক্তি' (Commanding Heights) হিসেবে ভারী ও বুনিয়াদি শিল্পের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৯৯১ সালের নয়া অর্থনৈতিক নীতির (LPG - উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও বিশ্বায়ন) মাধ্যমে বিলগ্নিকরণ (Disinvestment), নবরত্ন ও মহারত্ন স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা এবং সমঝোতা স্মারক (MoU) চালুর প্রেক্ষাপট। পাঠ্যক্রমে সরকারি উদ্যোগের তিনটি মৌলিক রূপের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে: সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগীয় সংস্থা (যেমন ভারতীয় রেল ও ডাক বিভাগ), সংসদের বিশেষ আইন দ্বারা গঠিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (যেমন এলআইসি, আরবিআই এবং পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন - ডিভিসি), এবং কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী নিবন্ধিত সরকারি কোম্পানি (যেমন সেল, ভেল ও কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড)। এছাড়া বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশ্বজনীন উদ্যোগের (MNCs) ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব এবং বর্তমান যুগে পরিকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি যৌথ উদ্যোগ ও পিপিপি (যেমন BOT মডেল) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়।

দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC): স্বাধীন ভারতের প্রথম নদী উপত্যকা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (১৯৪৮)

১৯৪৩ সালের বিধ্বংসী বন্যায় বাংলার দামোদর নদের রুদ্ররূপে হাজার হাজার একর কৃষিজমি প্লাবিত হয়, গ্রাম ভেসে যায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতার সাথে জিটি রোড ও রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাংলাকে "দামোদরের অভিশাপ" থেকে মুক্ত করতে স্বাধীন ভারতের প্রথম নেতৃত্ব ও ড. বি. আর. আম্বেদকর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি ভ্যালি অথরিটি (TVA)-র আদলে একটি অনন্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা গ্রহণ করেন। তারা বুঝেছিলেন, সাধারণ সরকারি দপ্তরের লাল ফিতের ফাঁসে বা ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে দুই রাজ্যের (বাংলা ও বিহার) সীমানা পেরিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। ফলে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর ১৯৪৮ সালের ৭ জুলাই স্বাধীন ভারতের গণপরিষদ একটি বিশেষ আইন পাস করে: "দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন আইন (১৯৪৮ সালের ১৪ নম্বর আইন)"। এভাবেই জন্ম নেয় স্বাধীন ভারতের প্রথম সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ডিভিসি—যার নিজস্ব আইনি সত্ত্বা, দুই রাজ্যের সীমানাজুড়ে কর্তৃত্ব এবং মাইথন, পাঞ্চেত, তিলাইয়া বাঁধ নির্মাণের আর্থিক স্বাধীনতা ছিল। এটি প্রমাণ করেছিল কীভাবে সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসন একটি জাতিকে গড়ে তোলে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

সরকারি, বেসরকারি ও বিশ্বজনীন উদ্যোগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং সংসদীয় জবাবদিহিতা বোঝা ভবিষ্যৎ কমার্স শিক্ষার্থী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কোম্পানি সেক্রেটারি, আইনজীবী ও সরকারি প্রশাসকদের জন্য অপরিহার্য। ভারতের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো, কয়লা খনি, রেল পরিবহন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রিত হয় সরকারি উদ্যোগের দ্বারা, যা বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। একই সাথে বহুদেশীয় সংস্থা ও পিপিপি প্রকল্প কোটি কোটি টাকার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসছে। এই অধ্যায়টি আয়ত্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় বিলগ্নিকরণ নীতি, কোম্পানি আইনের প্রয়োগ, যৌথ উদ্যোগের আইনি চুক্তি এবং মিশ্র অর্থনীতিতে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি খাতের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • মিশ্র অর্থনীতির প্রাথমিক ধারণা যেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন লাভজনক ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ পাশাপাশি অবস্থান করে।
  • ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রাথমিক রূপসমূহ: একমালিকানা, অংশীদারি ও যৌথ মূলধনী কোম্পানি সম্পর্কে ধারণা।
  • মৌলিক বাণিজ্যিক ও আইনি পরিভাষা: পৃথক আইনি সত্ত্বা, সীমিত ও অসীম দায় এবং কোম্পানি নিবন্ধন।
  • সরকারি অর্থব্যবস্থার প্রাথমিক ধারণা: সরকারি বাজেট, রাজস্ব আয়, সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ ও সিএজি (CAG) অডিট।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করা এবং ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারি ক্ষেত্রের পরিবর্তিত ভূমিকা বিশ্লেষণ করা।
  • বিভাগীয় সংস্থার ধারণা, বাজেটীয় অর্থায়ন, আমলাতান্ত্রিক পরিচালনা, সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা করা।
  • সংসদের বিশেষ আইন দ্বারা গঠিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থার পৃথক আইনি সত্ত্বা, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ও বাস্তব দৃষ্টান্ত (এলআইসি, ডিভিসি) মূল্যায়ন করা।
  • কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী সরকারি কোম্পানির সংজ্ঞা প্রদান করা এবং 'সংসদীয় জবাবদিহিতা এড়ানোর' সমস্যার পর্যালোচনা করা।
  • বিশ্বজনীন উদ্যোগের (MNC) বৈশিষ্ট্য, প্রযুক্তির হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা।
  • যৌথ উদ্যোগ (চুক্তিভিত্তিক ও মূলধনভিত্তিক) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP - BOT মডেল) কৌশলগত গুরুত্ব ও ঝুঁকি বণ্টন প্রণালী ব্যাখ্যা করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 মডিউল ১: মিশ্র অর্থনীতি ও ভারতে সরক...
2 মডিউল ২: বিভাগীয় সংস্থা (Departmen...
3 মডিউল ৩: সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (Statuto...
4 মডিউল ৪: সরকারি কোম্পানি (Governmen...
5 মডিউল ৫: বিশ্বজনীন উদ্যোগ বা বহুদেশ...
6 মডিউল ৬: যৌথ উদ্যোগ (JV) ও সরকারি-ব...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

মডিউল ১: মিশ্র অর্থনীতি ও ভারতে সরকারি ক্ষেত্রের পরিবর্তিত ভূমিকা

১.১ মিশ্র অর্থনীতিতে বেসরকারি বনাম সরকারি ক্ষেত্র

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যার মাধ্যমে একটি সমাজ উৎপাদন পরিচালনা করে এবং সম্পদ বণ্টন করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা (Mixed Economy) গ্রহণ করে, যেখানে ব্যক্তি খাতের মুনাফা অর্জন ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্রীয় খাতের সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নের সমন্বয় ঘটানো হয়।

  • বেসরকারি ক্ষেত্র (Private Sector): যেসব কারবার ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে গড়ে ওঠে, সেগুলিকে বেসরকারি ক্ষেত্র বলা হয়। এর মূল চালিকাশক্তি হলো মুনাফা অর্জন ও মূলধন বৃদ্ধি। উদাহরণ: একমালিকানা, অংশীদারি কারবার, হিন্দু যৌথ পরিবার কারবার, সমবায় সমিতি এবং টাটা, রিলায়েন্স বা ইনফোসিসের মতো প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • সরকারি ক্ষেত্র (Public Sector): যেসব উদ্যোগ কেন্দ্র সরকার, এক বা একাধিক রাজ্য সরকার অথবা যৌথভাবে উভয় সরকারের প্রত্যক্ষ মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেগুলিকে সরকারি ক্ষেত্র বলে। এর মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মৌলিক পরিষেবা প্রদান। উদাহরণ: ভারতীয় রেল, সেইল (SAIL), কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ইত্যাদি।
১.২ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫৬ সালের শিল্পনীতি প্রস্তাব (IPR 1956)

স্বাধীনতার সময় ভারতে চরম দারিদ্র্য, মূলধনের অভাব এবং ভারী শিল্প ও পরিকাঠামোর শোচনীয় দৈন্যদশা ছিল। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশের নির্দেশনায় দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ১৯৫৬ সালের শিল্পনীতি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই নীতিতে সরকারি ক্ষেত্রকে "অর্থনীতির সর্বোচ্চ শিখরে" (Commanding Heights of the Economy) স্থাপন করা হয়।

সেই যুগে সরকারি ক্ষেত্রের প্রধান দায়িত্ব ছিল:

  • মৌলিক ও ভারী পরিকাঠামো নির্মাণ: ইস্পাত কারখানা (দুর্গাপুর, ভিলাই, রৌরকেল্লা), ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, বাঁধ ও রেললাইন তৈরিতে বিপুল মূলধন ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো, যা তৎকালীন বেসরকারি ব্যবসায়ীদের পক্ষে যোগান দেওয়া অসম্ভব ছিল।
  • সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন: পশ্চাৎপদ ও আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে (যেমন দুর্গাপুর, বোকারো) কারখানা স্থাপন করে রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা।
  • অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন রোধ: দেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, তেল ও আর্থিক সম্পদ যাতে গুটিকয়েক ধনী শিল্পপতির কবলে না চলে যায়, তা নিশ্চিত করা।
  • আমদানি প্রতিস্থাপন ও আত্মনির্ভরতা: বিদেশি মুদ্রার সঙ্কট কাটাতে দেশেই ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করা।
১.৩ ঐতিহাসিক মোড়: ১৯৯১ সালের নয়া অর্থনৈতিক নীতি (LPG সংস্কার)

চার দশক ধরে সরকারি ক্ষেত্র বিশাল শিল্পভিত্তি তৈরি করলেও সময়ের সাথে সাথে এটি অদক্ষতা, অতিরিক্ত কর্মচারী, আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতের ফাঁস, দুর্নীতি ও লাগাতার আর্থিক ক্ষতির কবলে পড়ে। ১৯৯১ সালে ভারতের তীব্র বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মুখে শুরু হয় উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও বিশ্বায়ন (LPG) সংস্কার।

১৯৯১ সালের সংস্কারে সরকারি ক্ষেত্রের ভূমিকা ঢেলে সাজানো হয়:

  • সংরক্ষিত শিল্পের সংখ্যা হ্রাস: ১৯৫৬ সালে যে ১৭টি শিল্প শুধু সরকারি ক্ষেত্রের জন্য সংরক্ষিত ছিল, ১৯৯১ সালে তা কমিয়ে ৮টি করা হয় এবং বর্তমানে মাত্র ২টি কৌশলগত ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে: (১) পরমাণু শক্তি ও নির্দিষ্ট তেজস্ক্রিয় খনিজ, এবং (২) রেল পরিবহন পরিচালনা।
  • বিলগ্নিকরণ (Disinvestment): সরকারি উদ্যোগগুলির কিছু অংশের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে সরকারের রাজকোষীয় ঘাটতি কমানো এবং বাজারে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা তৈরি করা হয়।
  • রুগ্ণ উদ্যোগ পুনর্গঠন: লোকসানে চলা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিআইএফআর (BIFR)-এ পাঠানো হয় এবং কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছাবসর প্রকল্প (VRS) চালু হয়।
  • সমঝোতা স্মারক (MoU) ও পরিচালন স্বায়ত্তশাসন: লাভজনক সরকারি সংস্থাগুলিকে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করতে তাদের মহারত্ন (Maharatna) (যেমন কোল ইন্ডিয়া, ওএনজিসি, সেইল), নবরত্ন (Navratna) এবং মিনিরত্ন মর্যাদা দেওয়া হয়, যার ফলে তাদের পরিচালনা পর্ষদ মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়াই কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মডিউল ২: বিভাগীয় সংস্থা (Departmental Undertakings)

২.১ অর্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক গঠন

বিভাগীয় সংস্থা হলো সরকারি উদ্যোগের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী ও সবচেয়ে প্রত্যক্ষ সাংগঠনিক রূপ। এই ব্যবস্থায় উদ্যোগটিকে কোনো স্বতন্ত্র কোম্পানি হিসেবে তৈরি করা হয় না; বরং এটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিভাগ বা শাখা হিসেবে গঠিত ও পরিচালিত হয়।

ভারতে এর সেরা উদাহরণ হলো ভারতীয় রেল (Indian Railways) (রেল মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে বোর্ডের অধীন), ডাক বিভাগ (India Post) (যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন), দূরদর্শন ও আকাশবাণী (অতীতে) এবং সামরিক অস্ত্র কারখানা (অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি)।

২.২ প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
  • মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারিত অংশ: এই সংস্থা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ দায়িত্বে থাকে। একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এর চূড়ান্ত নির্বাহী প্রধান এবং তার অধীনে প্রশাসনিক সচিবরা (IAS) এটি পরিচালনা করেন।
  • বাজেটীয় অর্থায়ন (Budgetary Financing): এর নিজস্ব কোনো মূলধন কাঠামো বা স্বাধীন ঋণ গ্রহণের অধিকার থাকে না। সংসদের বাৎসরিক সরকারি বাজেট থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে এর যাবতীয় ব্যয় মেটানো হয়।
  • সরকারি কোষাগারে আয় জমা: এই সংস্থার যাবতীয় আয় বা টিকিট বিক্রির অর্থ সরাসরি ভারতের সঞ্চিত তহবিল (Consolidated Fund of India)-এ জমা করতে হয়; সংস্থাটি নিজের ইচ্ছামতো এই অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করতে পারে না।
  • কর্মীরা সরকারি কর্মচারী: এখানে কর্মরত সকল আধিকারিক ও কর্মচারী সরকারি কর্মচারী (Civil Servants) হিসেবে গণ্য হন। তাদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি ইউপিএসসি (UPSC) বা এসএসসি (SSC) এবং কেন্দ্রীয় আচরণবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • পৃথক আইনগত সত্ত্বার অভাব: বিভাগীয় সংস্থার ভারত সরকার থেকে আলাদা কোনো আইনি সত্ত্বা নেই। এটি নিজস্ব নামে সম্পত্তি কিনতে বা আদালতে মামলা করতে পারে না; এর বিরুদ্ধে বা এর পক্ষে সংবিধানের ৩০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরাসরি রাষ্ট্রপতির নামে মামলা করতে হয়।
  • সংসদীয় জবাবদিহিতা ও সিএজি অডিট: এটি সরাসরি সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ। সংসদের প্রশ্নোত্তরের সময় যেকোনো সাংসদ এর কাজ নিয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে পারেন। এর হিসাব নিরীক্ষা করে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা পরীক্ষক (CAG)।
২.৩ সুবিধা বা গুণাবলি
বিভাগীয় সংস্থার উপযোগিতা:
  1. সর্বোচ্চ সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ: জনগণের করের টাকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকে এবং আইনসভার মাধ্যমে পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
  2. জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: প্রতিরক্ষা, রেল ও পারমাণবিক ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য এটি আদর্শ।
  3. সরকারি আয়ের উৎস: অর্জিত যাবতীয় রাজস্ব সরাসরি রাজকোষে জমা হয়ে সরকারের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়।
  4. কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা: কড়া সরকারি অডিট নিয়মের কারণে তহবিল তছরুপের সুযোগ কম থাকে।
২.৪ অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
  • আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতের ফাঁস: প্রতিটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের জন্য ফাইল চালাচালি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।
  • রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: দৈনন্দিন কার্যকলাপে মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং ভোট ব্যাংকের চাপে ভাড়া বাড়াতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
  • পেশাদারিত্বের অভাব: সাধারণ প্রশাসনিক আমলারা বাণিজ্যিক দক্ষতার অভাব সত্ত্বেও এর শীর্ষ পদে বসেন এবং ঘনঘন বদলি হওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
  • ভোক্তা অসন্তোষ: কোনো বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা বা লাভের সরাসরি অনুপ্রেরণা না থাকায় গ্রাহক সেবার মান প্রায়শই নিম্নমানের হয়।

মডিউল ৩: সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Corporations)

৩.১ ধারণা ও বিশেষ আইন দ্বারা সৃষ্টি

সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (বা পাবলিক কর্পোরেশন) হলো এমন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যা কেন্দ্রীয় সংসদ বা রাজ্য আইনসভায় পাস হওয়া একটি বিশেষ আইন (Special Act) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ আইনেই সংস্থার উদ্দেশ্য, ক্ষমতা, অধিকার, মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পর্ক এবং আর্থিক নিয়মাবলি পরিষ্কারভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে।

ভারতের প্রধান সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসমূহ:

  • দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC): ডিভিসি আইন, ১৯৪৮-এর অধীনে গঠিত, যা বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  • ভারতীয় জীবন বিমা নিগম (LIC): এলআইসি আইন, ১৯৫৬-এর মাধ্যমে ২৪৫টি বেসরকারি বিমা সংস্থাকে জাতীয়করণ করে গঠিত।
  • ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI): ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক আইন, ১৯৩৪-এর অধীনে দেশের শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে গঠিত।
  • ভারতীয় স্টেট ব্যাংক (SBI): এসবিআই আইন, ১৯৫৫-এর মাধ্যমে গঠিত।
  • ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (FCI): ফুড কর্পোরেশন আইন, ১৯৬৪-এর অধীনে খাদ্যশস্য ক্রয় ও মজুতের উদ্দেশ্যে গঠিত।
৩.২ মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
  • পৃথক আইনগত সত্ত্বা (Separate Legal Entity): বিভাগীয় সংস্থার বিপরীতে সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনত পৃথক ও স্বাধীন অস্তিত্ব রয়েছে। এর নিজস্ব সিলমোহর রয়েছে, এটি নিজের নামে চুক্তি করতে পারে, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে এবং আদালতে মামলা করতে বা মামলার সম্মুখীন হতে পারে।
  • আর্থিক স্বায়ত্তশাসন: যদিও সরকার প্রাথমিক মূলধন যোগায়, তবুও এই সংস্থা নিজের অর্জিত রাজস্ব নিজস্ব অ্যাকাউন্টে রাখতে পারে, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে ব্যবহার করতে পারে এবং খোলা বাজার বা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
  • স্বাধীন কর্মী নীতি: সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারী নন। সংস্থাটি নিজস্ব চাকরিবিধি, বেতন কাঠামো ও পদোন্নতির নিয়ম নির্ধারণ করে। সংবিধানের ৩১১ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
  • পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত: এটি সরকার মনোনীত দক্ষ ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) দ্বারা পরিচালিত হয়।
  • সরকারি বাজেটীয় অডিট মুক্ত: এর দৈনন্দিন খরচ সাধারণ সরকারি ট্রেজারি নিয়মের অধীন নয়। তবে বাৎসরিক অডিট রিপোর্ট সংসদে পেশ করা বাধ্যতামূলক।
৩.৩ সুবিধা বা গুণাবলি
  • উচ্চ পরিচালন স্বায়ত্তশাসন: সরকারি লাল ফিতের ফাঁস থেকে মুক্ত হয়ে দ্রুত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করা যায়।
  • রাজনৈতিক দলীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি: ক্ষমতা আইনের দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ায় মন্ত্রীরা প্রাত্যহিক কাজে সরাসরি নাক গলাতে পারেন না।
  • পেশাদার কর্মী নিয়োগ: বাজারভিত্তিক আকর্ষণীয় বেতন দিয়ে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিবিদ ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা যায়।
  • আর্থিক আত্মনির্ভরশীলতা: নিজের আয়ে চলার তাগিদ সংস্থাকে মিতব্যয়ী ও লাভজনক হতে উৎসাহিত করে।
৩.৪ ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা
  • পরোক্ষ সরকারি হস্তক্ষেপ: তাত্ত্বিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত হলেও পর্ষদ সদস্য নিয়োগ ও বড় ঋণের জন্য সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় আমলারা গোপনে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
  • আইন সংশোধনের জটিলতা: সংস্থার কর্মপরিধি বা ক্ষমতা পরিবর্তন করতে হলে সংসদে আইন সংশোধন বিল পাস করতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।
  • জনসেবা ও মুনাফার দ্বন্দ্ব: একদিকে লাভ করার চাপ অন্যদিকে জনকল্যাণমূলক সেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সংস্থাকে প্রায়ই আর্থিক সংকটে ফেলে।

মডিউল ৪: সরকারি কোম্পানি (Government Companies — ধারা ২(৪৫))

৪.১ কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী সংজ্ঞা

আধুনিক ভারতে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় রূপ হলো সরকারি কোম্পানি। কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী:

"সরকারি কোম্পানি বলতে এমন যে-কোনো কোম্পানিকে বোঝায় যার পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের (Paid-up Share Capital) অন্তত ৫১ শতাংশ (51%) নিয়ন্ত্রিত হয়:
  • কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা, অথবা
  • যেকোনো এক বা একাধিক রাজ্য সরকার দ্বারা, অথবা
  • যৌথভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক বা একাধিক রাজ্য সরকার দ্বারা,
এবং এর মধ্যে এমন কোনো কোম্পানিও অন্তর্ভুক্ত যা এই ধরনের সরকারি কোম্পানির অধীনস্থ কোনো সহায়ক কোম্পানি (Subsidiary Company)।"

ভারতের খ্যাতনামা সরকারি কোম্পানি: স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (SAIL), ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (BHEL), ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL), কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (CIL) (সদর দপ্তর কলকাতায় অবস্থিত), এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিগম (ONGC)।

৪.২ প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
  • কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধন: সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মতো এর জন্য সংসদে বিশেষ আইন পাস করতে হয় না। এটি সাধারণ যৌথ মূলধনী কোম্পানির মতোই কোম্পানি আইনের অধীনে স্মারকলিপি (MoA) ও পরিমেল নিয়মাবলি (AoA) রেজিস্টার অব কোম্পানিজের (RoC) কাছে জমা দিয়ে গঠিত হয়।
  • পৃথক আইনি সত্ত্বা: সরকারের থেকে এর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ স্বাধীন। রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের নামে শেয়ার কেনা হলেও কোম্পানি নিজের নামে সম্পত্তি রাখে ও ব্যবসা চালায়।
  • পরিচালনা পর্ষদ: সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে সরকার কর্তৃক মনোনীত ডিরেক্টর এবং স্বাধীন ডিরেক্টরদের নিয়ে গঠিত বোর্ড কোম্পানি পরিচালনা করে।
  • সিএজি (CAG) নিরীক্ষা: এর সংবিধিবদ্ধ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অডিটরকে নিয়োগ করে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা পরীক্ষক (CAG)। সিএজি নিজস্ব সম্পূরক অডিটও পরিচালনা করতে পারে এবং এই বার্ষিক রিপোর্ট সংসদে পেশ করতে হয়।
  • কর্মীদের অবস্থান: এর কর্মীরা কোম্পানির নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হন; তারা সিভিল সার্ভেন্ট বা সরকারি কর্মচারী নন।
৪.৩ সুবিধা বা গুণাবলি
  • সহজ গঠন পদ্ধতি: সংসদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নিছক সরকারি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দ্রুত এই কোম্পানি নিবন্ধন করা যায়।
  • সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক নমনীয়তা: সাধারণ কোম্পানি আইন মেনে চলার কারণে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মূলধন বৃদ্ধি, যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণ বা নতুন সহায়ক কোম্পানি খোলা সম্ভব হয়।
  • শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি: সরকার ৫১% শেয়ার নিজের হাতে রেখে বাকি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ডের কাছে বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলতে পারে।
  • পেশাদারি ব্যবস্থাপনা: দক্ষ বেসরকারি কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ নিয়োগ করে আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশলে পরিচালনা করা যায়।
৪.৪ সীমাবদ্ধতা ও "সংসদীয় জবাবদিহিতা এড়ানোর" সমালোচনা
  • সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ ফাঁকি দেওয়া (Escape from Parliamentary Scrutiny): সমালোচকদের মতে, সরকারি কোম্পানি গঠন করে সরকার আসলে সংসদের সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণকে পাশ কাটায়। সংসদে কোনো প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রীরা প্রায়ই উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন এটি একটি স্বাধীন কর্পোরেট বডির অভ্যন্তরীণ বিষয়।
  • সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডারের একনায়কতন্ত্র: কাগজে-কলমে বোর্ড স্বাধীন হলেও সরকারের হাতে ৫১% বা তদূর্ধ্ব শেয়ার থাকায় মন্ত্রকের ইচ্ছাই শেষ কথা হয়, ফলে বোর্ডের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ থাকে।
  • আমলাদের আধিপত্য: বহু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ শিল্পপতিদের বদলে সিনিয়র আইএএস (IAS) অফিসারদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে বসানো হয়, যা বাণিজ্যিক উদ্যোগকে ব্যাহত করে।
৪.৫ তিনটি সরকারি উদ্যোগের তুলনামূলক ছক
পার্থক্যসূচক ভিত্তিবিভাগীয় সংস্থাসংবিধিবদ্ধ সংস্থাসরকারি কোম্পানি
১. গঠন পদ্ধতিমন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক আদেশে।সংসদ বা বিধানসভার বিশেষ আইনে।কোম্পানি আইন ২০১৩ (ধারা ২(৪৫)) দ্বারা নিবন্ধিত।
২. আইনি সত্ত্বাপৃথক কোনো আইনি সত্ত্বা নেই।আইন দ্বারা সৃষ্ট পৃথক আইনি সত্ত্বা।আইন দ্বারা স্বীকৃত পৃথক কর্পোরেট সত্ত্বা।
৩. অর্থায়নের উৎস১০০% বার্ষিক সরকারি বাজেট বরাদ্দ।প্রাথমিক সরকারি অনুদান ও নিজস্ব রাজস্ব।শেয়ার মূলধন (≥৫১% সরকার) ও বাজার ঋণ।
৪. পরিচালনাসরকারি আমলা ও মন্ত্রী দ্বারা।বিশেষ আইনের নির্দেশনায় গঠিত পর্ষদ।কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা।
৫. কর্মীদের পদমর্যাদাসরকারি কর্মচারী (Civil Servants)।কর্পোরেশনের নিজস্ব কর্মী (সরকারি নন)।কোম্পানির চাকরিবিধির অধীন কর্মী।
৬. প্রধান উদাহরণভারতীয় রেল, ভারতীয় ডাক বিভাগ।LIC, RBI, DVC, SBI।SAIL, BHEL, কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড।

মডিউল ৫: বিশ্বজনীন উদ্যোগ বা বহুদেশীয় সংস্থা (Multinational Corporations — MNCs)

৫.১ বহুদেশীয় সংস্থার ধারণা ও বৈশ্বিক রূপরেখা

একটি বিশ্বজনীন উদ্যোগ বা বহুদেশীয় সংস্থা (MNC) হলো এমন একটি বিশালাকার কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যা তার নিজস্ব গৃহদেশ (Home Country) ছাড়াও বিশ্বের একাধিক আয়োজক দেশে (Host Countries) উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।

বহুদেশীয় সংস্থার প্রধান সদর দপ্তর (Headquarters) থাকে একটি নির্দিষ্ট দেশে (যেমন আমেরিকা, জাপান, জার্মানি বা যুক্তরাজ্য), কিন্তু তার শত শত শাখা বা সহায়ক কোম্পানি অন্যান্য দেশে বিস্তৃত থাকে (যেমন অ্যাপল, মাইক্রোসফট, ইউনিলিভার, নেসলে, স্যামসাং, টয়োটা ও গুগল)।

৫.২ প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
  • বিশাল মূলধন ও আর্থিক ক্ষমতা: বহুদেশীয় সংস্থাগুলির আর্থিক সম্পদ এতটাই বিশাল যে অনেক সময় তাদের বাৎসরিক আয় বহু উন্নয়নশীল দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) চেয়েও বেশি হয়। তারা আন্তর্জাতিক শেয়ার ও বন্ড বাজার থেকে সহজেই হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে।
  • আন্তর্জাতিক শাখা ও সহায়ক কোম্পানি: তারা পৃথিবীর নানা দেশে স্থানীয় কোম্পানি গঠন করে সরাসরি কারখানা বসায়, যাতে কাঁচামাল ও শ্রমিক সস্তায় পাওয়া যায় এবং শুল্ক বাধা এড়ানো যায়।
  • কেন্দ্রীভূত পরিচালন নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় দৈনন্দিন কাজ স্থানীয় ম্যানেজাররা পরিচালনা করলেও মূল কৌশলগত নীতি—যেমন ব্র্যান্ডিং, দাম নির্ধারণ, বড় বিনিয়োগ ও শীর্ষ আধিকারিক নিয়োগ—সরাসরি প্রধান কার্যালয় (HQ) থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • উন্নত ও পেটেন্ট প্রযুক্তি: আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কারখানা, পেটেন্টযুক্ত ফর্মুলা ও উন্নত সফটওয়্যারের অধিকারী হওয়ায় তারা অতি কম খরচে উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারে।
  • গবেষণা ও পণ্য উদ্ভাবন (R&D): এরা প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও গবেষণায় ব্যয় করে বাজারে নিজেদের একাধিপত্য বজায় রাখে।
  • আক্রমণাত্মক বিপণন ও গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং: বিশ্বমানের বিজ্ঞাপন ও সেলিব্রিটি প্রচারের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে একনিষ্ঠ ভোক্তা সমাজ তৈরি করে।
৫.৩ উন্নয়নশীল দেশের ওপর বহুদেশীয় সংস্থার দ্বিমুখী প্রভাব
ইতিবাচক দিক বা সুফলসমূহ (আয়োজক দেশের জন্য):
  • প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI): উন্নয়নশীল দেশে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা এনে কারখানার পরিকাঠামো তৈরি করে, যা দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি ঘটায়।
  • উন্নত প্রযুক্তির হস্তান্তর: আধুনিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পরিচালন পদ্ধতি স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
  • বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি: প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ ও পরিচালকদের জন্য উচ্চ বেতনের চাকরির পাশাপাশি পরিবহন ও প্যাকিং শিল্পে লাখ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
  • রপ্তানি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: স্থানীয় কারখানায় তৈরি পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশের আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যে উন্নতি ঘটে।
  • স্থানীয় প্রতিযোগিতার উন্নয়ন: বহুজাতিক সংস্থার সাথে টিকতে গিয়ে স্থানীয় কোম্পানিগুলিও নিজেদের পণ্যের মান বাড়াতে বাধ্য হয়।
নেতিবাচক দিক বা সমালোচনাসমূহ:
  • বিদেশি মুদ্রার নির্গমন (Capital Drain): মুনাফা, ডিভিডেন্ড, রয়্যালটি ও পেটেন্ট ফির নামে এরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে নিজেদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।
  • দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ধ্বংস: অসীম আর্থিক ক্ষমতা ও চটকদার বিজ্ঞাপনের জোরে এরা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ছোট শিল্পগুলিকে ধ্বংস করে দেয়।
  • বাতিল বা অনুপযুক্ত প্রযুক্তি চাপিয়ে দেওয়া: বহু সময় উন্নত দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হওয়া দূষণকারী ও সেকেলে প্রযুক্তি উন্নয়নশীল দেশে পাচার করা হয়।
  • সামাজিক অগ্রাধিকারের অবহেলা: গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য বা মৌলিক খাদ্যের চেয়ে এরা শহুরে ধনীদের জন্য চিপস, নরম পানীয় বা বিলাসবহুল পণ্যের ব্যবসায় জোর দেয়।
  • সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ: অতীতে বহু বহুজাতিক সংস্থা তাদের স্বার্থে উন্নয়নশীল দেশের কর ও শ্রম আইন বদলাতে অনৈতিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছে।

মডিউল ৬: যৌথ উদ্যোগ (JV) ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP)

৬.১ যৌথ উদ্যোগের (Joint Venture) ধারণা ও গুরুত্ব

যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) হলো এমন একটি কৌশলগত বাণিজ্যিক ব্যবস্থা যেখানে দুই বা ততোধিক স্বাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা পরিচালনার জন্য পারস্পরিক মূলধন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, পরিচালন দক্ষতা ও ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

বিদেশি বহুদেশীয় সংস্থাগুলির পক্ষে ভারতের মতো বিশাল বাজারে প্রবেশের জন্য স্থানীয় কোনো অভিজ্ঞ ভারতীয় কোম্পানির সাথে হাত মিলিয়ে যৌথ উদ্যোগ গঠন করাই সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ।

৬.২ যৌথ উদ্যোগের দুটি প্রধান রূপ
  • ১. চুক্তিভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ (Contractual Joint Venture - CJV): যেখানে পক্ষগুলি কোনো নতুন কোম্পানি গঠন করে না; বরং একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো কাজ একসাথে সম্পন্ন করে (যেমন যৌথভাবে কোনো সেতু নির্মাণ বা বাণিজ্যিক বিমানের অংশ তৈরি)। উভয়েই নিজ নিজ স্বাধীন সত্ত্বা বজায় রাখে এবং চুক্তি অনুযায়ী লাভ বা রাজস্ব ভাগ করে নেয়।
  • ২. মূলধনভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ (Equity-Based Joint Venture - EJV): যেখানে দুই বা ততোধিক অংশীদার মিলে কোম্পানি আইনের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নতুন কোম্পানি নিগমবদ্ধ করে এবং নির্দিষ্ট অনুপাতে (যেমন ৫০:৫০ বা ৫১:৪৯) তার শেয়ার মূলধন ক্রয় করে। ভারতের বিখ্যাত উদাহরণসমূহ:
    • মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড: ভারত সরকার ও জাপানের সুজুকি মোটর কর্পোরেশনের মধ্যকার ঐতিহাসিক মূলধনভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ।
    • ভিস্তারা (টাটা এসআইএ এয়ারলাইন্স): টাটা সন্স (৫১%) এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স (৪৯%)-এর মধ্যকার এয়ারলাইন্স উদ্যোগ।
    • ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস: ভারতের ডিআরডিও (৫০.৫%) ও রাশিয়ার এনপিওএম (৪৯.৫%)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সংস্থা।
৬.৩ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (Public-Private Partnership — PPP)

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) হলো কোনো জনস্বার্থমূলক পরিকাঠামো নির্মাণ, পুনর্গঠন বা পরিচালনার জন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ (কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার) এবং এক বা একাধিক বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি (সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের) আইনি চুক্তি।

এই ব্যবস্থায় সরকারি কর্তৃপক্ষ জমির বন্দোবস্ত ও আইনি ছাড়পত্র নিশ্চিত করে এবং বেসরকারি ক্ষেত্র তার নিজস্ব প্রযুক্তি, দ্রুত নির্মাণ ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক অর্থায়ন বিনিয়োগ করে। এর বিনিময়ে বেসরকারি সংস্থাটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল বা শুল্ক আদায়ের অধিকার পায়।

৬.৪ পিপিপি-র প্রধান পরিচালন মডেল
  • BOT (Build-Operate-Transfer): বেসরকারি সংস্থাটি নিজস্ব অর্থে রাস্তা বা সেতু তৈরি করে (Build), নির্দিষ্ট বছর টোল আদায় করে লাভসহ ব্যয় পুনরুদ্ধার করে (Operate), এবং চুক্তি শেষে পরিকাঠামোটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেয় (Transfer)।
  • BOOT (Build-Own-Operate-Transfer): BOT-এর মতোই, তবে চুক্তি চলাকালীন সম্পত্তির আইনি মালিকানাও বেসরকারি সংস্থার হাতে থাকে।
  • DBFOT (Design-Build-Finance-Operate-Transfer): যেখানে নকশা তৈরি, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা ও হস্তান্তর—সবই বেসরকারি দল করে।
  • পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বাস্তব দৃষ্টান্ত: কলকাতা ও দিল্লির আধুনিক বিমানবন্দর টার্মিনাল, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, দ্বিতীয় হুগলি সেতুর (বিদ্যাসাগর সেতু) আধুনিক টোল প্লাজা পরিচালনা এবং জেলা হাসপাতালের আধুনিক ডায়াগনস্টিক পরিষেবা।
৬.৫ পিপিপিতে ঝুঁকি বণ্টনের সুবর্ণ নীতি (Optimal Risk Allocation)

পিপিপি প্রকল্পের সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো: "যে পক্ষ যে ঝুঁকি সবচেয়ে কম খরচে ও দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে পারে, তাকে সেই ঝুঁকির দায়িত্ব দিতে হবে।"

  • সরকারের দায়িত্বের ঝুঁকি: জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও বন দপ্তরের আইনি ছাড়পত্র, রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং কর কাঠামোর নিরাপত্তা।
  • বেসরকারি সংস্থার দায়িত্বের ঝুঁকি: ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সঠিক সময়ে নির্মাণ সম্পন্ন করা, খরচ বৃদ্ধি রোধ, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ।

গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূত্র ও বাণিজ্যিক নীতিমালা

সরকারি কোম্পানির আইনগত শর্ত (ধারা ২(৪৫))
প্রত্যক্ষ সরকারি পরিশোধিত শেয়ার (কেন্দ্রীয় সরকার + রাজ্য সরকারসমূহ) ≥ মোট পরিশোধিত মূলধনের ৫১%
সরকারি উদ্যোগের স্বায়ত্তশাসন বনাম সংসদীয় নিয়ন্ত্রণের অনুপাত
পরিচালন স্বায়ত্তশাসন ∝ ১ / প্রত্যক্ষ সংসদীয় হস্তক্ষেপ
পিপিপিতে আদর্শ ঝুঁকি বণ্টনের নীতি
ঝুঁকি_i → সেই পক্ষের কাছে অর্পণ করা হবে যে সবচেয়ে কম ব্যয়ে ঝুঁকি_i মোকাবিলায় সক্ষম

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও সুরক্ষিত কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে চায়। একই সাথে সরকার বেসরকারি গাড়ি প্রস্তুতকারকদের সাথে পাল্লা দিতে একটি বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক বাস তৈরির কারখানা স্থাপন করতে চায়। কারবার শিক্ষার কাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই দুটি উদ্যোগের জন্য উপযুক্ত সরকারি সাংগঠনিক রূপ সুপারিশ করুন এবং যুক্তি দিন।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক:
সুপারিশকৃত রূপ: বিভাগীয় সংস্থা (Departmental Undertaking)।
যুক্তি: প্রতিরক্ষা যোগাযোগে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। এটি সরাসরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হবে, বিশ্বাসযোগ্য সরকারি কর্মীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের অর্থে চলবে। এখানে বাণিজ্যিক মুনাফা অপ্রাসঙ্গিক এবং সরাসরি সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে।

২. বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক বাস কারখানা:
সুপারিশকৃত রূপ: সরকারি কোম্পানি (Government Company) (কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী)।
যুক্তি: বাণিজ্যিক বাস উৎপাদন একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজার, যেখানে দ্রুত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত সমঝোতা এবং আধুনিক বিপণন দরকার। সরকারি কোম্পানি আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত পূর্ণ পরিচালন স্বাধীনতা দেয় এবং বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে।
উদাহরণ 2
হিন্দুস্তান হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং মোট পরিশোধিত ইকুইটি শেয়ার মূলধন ৮০ কোটি টাকা। শেয়ার বণ্টনের হিসাব নিম্নরূপ: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ২৮ কোটি টাকা; পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে ১৪ কোটি টাকা; লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (সংবিধিবদ্ধ সংস্থা)-এর হাতে ৬ কোটি টাকা; এবং সাধারণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩২ কোটি টাকা। কোম্পানি আইন ২০১৩-এর বিধান অনুযায়ী সংস্থাটি কি সরকারি কোম্পানি হিসেবে গণ্য হবে? গণনা ও যুক্তি সহ বিশ্লেষণ করুন।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
আইনগত বিধান: কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী, যে কোম্পানির মোট পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের অন্তত ৫১ শতাংশ (51%) কেন্দ্রীয় সরকার, কোনো রাজ্য সরকার বা উভয় সরকার যৌথভাবে ধারণ করে, তাকে সরকারি কোম্পানি বলে।

শেয়ারের হিসাব:
মোট পরিশোধিত শেয়ার মূলধন = ৮০ কোটি টাকা।
১. কেন্দ্রীয় সরকারের শেয়ার = ২৮ কোটি টাকা।
২. পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শেয়ার = ১৪ কোটি টাকা।
মোট প্রত্যক্ষ সরকারি শেয়ার = ২৮ + ১৪ = ৪২ কোটি টাকা।
(উল্লেখ্য: এলআইসি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, এটি ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী সরাসরি সরকার নয়; তবে শুধু সরাসরি সরকারি শেয়ার দিয়েই হিসাব করা যথেষ্ট)।

শতাংশের হিসাব:
সরকারি শেয়ারের শতকরা হার = (৪২ কোটি / ৮০ কোটি) × ১০০ = ৫২.৫%।

উপসংহার: যেহেতু কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মোট শেয়ারের পরিমাণ ৫২.৫%, যা সংবিধিবদ্ধ ন্যূনতম সীমা ৫১%-এর চেয়ে বেশি, তাই হিন্দুস্তান হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড আইনত একটি সরকারি কোম্পানি।
উদাহরণ 3
নিম্নলিখিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিভাগীয় সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি কোম্পানিতে শ্রেণিবিন্যাস করুন: (ক) ভারতীয় রেল, (খ) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন, (গ) কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড, (ঘ) ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, (ঙ) ভারতীয় ডাক বিভাগ, এবং (চ) ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (BHEL)।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
শ্রেণিবিন্যাস:
  • (ক) ভারতীয় রেল: বিভাগীয় সংস্থা (সরাসরি রেল মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ, বাজেট থেকে অর্থায়ন)।
  • (খ) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC): সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (সংসদের বিশেষ আইন: ডিভিসি আইন ১৯৪৮ দ্বারা গঠিত)।
  • (গ) কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (CIL): সরকারি কোম্পানি (কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত এবং সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন; মহারত্ন সংস্থা)।
  • (ঘ) ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI): সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক আইন ১৯৩৪ দ্বারা সৃষ্ট)।
  • (ঙ) ভারতীয় ডাক বিভাগ: বিভাগীয় সংস্থা (যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডাক বিভাগের অন্তর্গত)।
  • (চ) ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (BHEL): সরকারি কোম্পানি (কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত প্রকৌশল সংস্থা)।
উদাহরণ 4
একটি বিশ্বখ্যাত ঠান্ডা পানীয় প্রস্তুতকারী বহুজাতিক সংস্থা ভারতে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং উন্নত স্বয়ংক্রিয় কারখানা স্থাপন করেছে। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ফলের রস প্রস্তুতকারক ব্যবসায়ীদের একটি সমিতি বহুজাতিক সংস্থার প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। কারবার শিক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংঘাতের উভয় দিক বিচার করুন।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
বহুজাতিক সংস্থার অনুকূলে যুক্তি (সুফল):
১. এফডিআই বিনিয়োগ: ৫,০০০ কোটি টাকার বিদেশি মূলধন দেশে আসছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটায়।
২. প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিকাঠামো: আধুনিক কোল্ড-স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা ফল বিক্রির ভালো দাম পায়।
৩. কর্মসংস্থান: কারখানায় প্রত্যক্ষ চাকরি ছাড়াও পরিবহন, প্যাকেজিং ও বিপণনে বিপুল পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পের আশঙ্কা (কুফল):
১. অসম প্রতিযোগিতা: বহুজাতিকের কোটি টাকার বিজ্ঞাপন ও কম দামে বিক্রির ক্ষমতার সামনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দেউলিয়া হতে পারে।
২. মুদ্রা নির্গমন: মুনাফা ও রয়্যালটির নামে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাবে।

সমাধান: নিষেধাজ্ঞা জারি না করে সরকার প্রতিযোগিতা কমিশনের (CCI) মাধ্যমে নজরদারি রাখবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আধুনিকীকরণ ও আর্থিক ঋণ দিয়ে সাহায্য করবে।
উদাহরণ 5
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীর সাথে সমুদ্রবন্দরকে যুক্ত করতে ১২০ কিমি দীর্ঘ ছয় লেনের আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে খরচ হবে ৪,০০০ কোটি টাকা। সরকারের বাজেটে এত টাকা না থাকায় পিপিপি-র BOT মডেল কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা পর্যায়ক্রমিকভাবে ব্যাখ্যা করুন।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
BOT মডেলের মাধ্যমে সমাধান:
১. চুক্তি সম্পাদন: রাজ্য সরকার একটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে একটি বেসরকারি পরিকাঠামো সংস্থার সাথে ২৫ বছরের জন্য চুক্তি করে।
২. নির্মাণ (Build): বেসরকারি সংস্থাটি নিজস্ব মূলধন ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ৪,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে আধুনিক ছয় লেনের রাস্তা নির্মাণ করে। সরকার জমি ও ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করে।
৩. পরিচালনা (Operate): পরবর্তী ২২ বছর বেসরকারি সংস্থা রাস্তাটি নিখুঁতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং যাতায়াতকারী গাড়ির থেকে টোল আদায় করে খরচ ও মুনাফা তুলে নেয়।
৪. হস্তান্তর (Transfer): চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সম্পূর্ণ নিখুঁত অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়েটি সরকারের মালিকানায় বিনা খরচে হস্তান্তর করা হয়।

মূল সুবিধা: সরকারের রাজকোষে কোনো আর্থিক চাপ না ফেলেই রাজ্যবাসী দ্রুত একটি বিশ্বমানের এক্সপ্রেসওয়ে পায়।
উদাহরণ 6
একটি ভারতীয় ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তার ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক ফর্মুলা নিয়ে একটি জার্মান বহুজাতিক সংস্থার সাথে কাজ করতে চায়, যাদের বিশ্বমানের গবেষণাগার ও আন্তর্জাতিক ওষুধ বিপণন লাইসেন্স রয়েছে। তাদের এই সহযোগিতা (ক) চুক্তিভিত্তিক বনাম (খ) মূলধনভিত্তিক যৌথ উদ্যোগে কীভাবে রূপ পাবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) চুক্তিভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ (CJV) হলে:
১. কোনো নতুন কোম্পানি গঠিত হবে না। উভয় প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ অস্তিত্ব বজায় রাখবে।
২. একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থা কাঁচামাল দেবে এবং জার্মান সংস্থা ইউরোপের ল্যাবে পরীক্ষা করে ওষুধ বিক্রি করবে।
৩. লাভ বা রয়্যালটি চুক্তিতে উল্লিখিত শতাংশ হারে ভাগ হবে। কাজ শেষে চুক্তি আপনাআপনি বাতিল হবে।

(খ) মূলধনভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ (EJV) হলে:
১. কোম্পানি আইনের অধীনে উভয় পক্ষ মিলে একটি নতুন কোম্পানি (যেমন "ইন্দো-জার্মান হার্বাল লিমিটেড") নিগমবদ্ধ করবে।
২. ৫০:৫০ বা অন্য কোনো অনুপাতে উভয়ের মূলধন জমা হবে এবং যৌথ ডিরেক্টর বোর্ড কোম্পানি চালাবে।
৩. কোম্পানির অর্জিত লাভ বার্ষিক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে উভয়ের শেয়ার অনুযায়ী বণ্টিত হবে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

কোল ইন্ডিয়া বা সেইলের কর্মীদের সরকারি কর্মচারী মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

শুধুমাত্র ভারতীয় রেল বা ডাক বিভাগের কর্মীরা সরকারি কর্মচারী। সরকারি কোম্পানির কর্মীরা কোম্পানির নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হন।

সাধারণ ভুল ধারণা

সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও সরকারি কোম্পানিকে একই ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সংবিধিবদ্ধ সংস্থা সংসদের বিশেষ আইনে তৈরি হয় (যেমন ডিভিসি বা এলআইসি)। সরকারি কোম্পানি সাধারণ কোম্পানি আইনের ২(৪৫) ধারায় গঠিত হয় (যেমন সেল বা ভেল)।

সাধারণ ভুল ধারণা

সরকারের ৫০% শেয়ার থাকলে তাকে সরকারি কোম্পানি মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

৫০% শেয়ার যথেষ্ট নয়; ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী "ন্যূনতম ৫১%" শেয়ার থাকতে হবে।

সরকারি, বেসরকারি ও বিশ্বজনীন উদ্যোগ: বিভাগীয় সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি কোম্পানি ও পিপিপি

কারবার শিক্ষা: সরকারি, বেসরকারি ও বিশ্বজনীন উদ্যোগের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা ১. সরকারি উদ্যোগের তিনটি প্রধান রূপ 1. বিভাগীয় সংস্থা (Departmental Undertaking) মন্ত্রণালয়ের অধীন • সরকারি বাজেট • রেল ও ডাক বিভাগ • Direct ministerial control & civil servants • No separate legal entity; direct treasury funding Strict parliamentary questions & audit 2. সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Corporation) সংসদের বিশেষ আইন • পৃথক আইনগত সত্ত্বা • LIC, RBI, DVC • Created by Parliamentary / Legislature Act • Independent budget; staff are not civil servants Separate legal entity with commercial powers 3. সরকারি কোম্পানি (Government Company) কোম্পানি আইন ২০১৩ (ধারা ২(৪৫): ≥৫১% সরকারি মূলধন) • SAIL, BHEL, CIL • Incorporated under Companies Act 2013 • Shares held in name of President / Governor Maharatna, Navratna & Miniratna autonomy ২. স্বায়ত্তশাসন ও দায়বদ্ধতার তুলনা সংসদীয় দায়বদ্ধতা ও অডিট (CAG) Parliamentary Oversight: বিভাগীয়: ১০০% পূর্ণ দায়বদ্ধতা | কোম্পানি: সিএজি অডিট ও সংসদীয় প্রতিবেদন • Standing Committees & Committee on Public Undertakings (COPU) • Constitutional audit by Comptroller & Auditor General (CAG) • Ministers directly answer questions in Parliament পরিচালন স্বাধীনতা (Operational Autonomy) HIGH AUTONOMY উচ্চ স্বায়ত্তশাসন: সরকারি কোম্পানি ও সংবিধিবদ্ধ কর্পোরেশন Commercial decisions, independent salary structures MoU system guarantees strategic operational independence LOW AUTONOMY সীমিত স্বাধীনতা: বিভাগীয় সংস্থায় সরকারি আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ Civil service regulations, treasury surrender of funds Political interference and routine administrative delays ৩. বিশ্বজনীন উদ্যোগ, JV ও পিপিপি (PPP) A Multinational Corporations (MNCs) বহুদেশীয় সংস্থা (MNC): বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি • HQ in home country; operations in multiple host nations • Aggressive marketing, product R&D, global brand power B Joint Ventures (JVs) যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture): যৌথ ঝুঁকি ও বিদেশি সহযোগিতা • Contractual (CJV) vs Equity-based (EJV) • Examples: Maruti Suzuki, Vistara, BrahMos Aerospace C Public-Private Partnership (PPP) পিপিপি মডেল (PPP): সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (BOT / BOOT) • Models: BOT, BOOT, DBFOT & Hybrid Annuity • Airports, Metro rails, highways, deep-sea ports Public interest + Private financial & tech efficiency "মিশ্র অর্থনীতিতে পরিকাঠামো ও জনকল্যাণের মেলবন্ধনই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি"

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ভারতে মিশ্র অর্থনৈতিক কাঠামো প্রচলিত, যেখানে লাভমুখী বেসরকারি ক্ষেত্র এবং জনকল্যাণকামী সরকারি ক্ষেত্র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে।
মূল বিষয় 2
১৯৫৬ সালের শিল্পনীতি প্রস্তাবের অধীনে ভারী শিল্প ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য সরকারি ক্ষেত্রকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করা হয়।
মূল বিষয় 3
১৯৯১ সালের নয়া অর্থনৈতিক নীতি (LPG)-এর মাধ্যমে সংরক্ষিত শিল্পের সংখ্যা কমিয়ে ২টিতে নামিয়ে আনা হয় এবং বিলগ্নিকরণ ও স্বায়ত্তশাসন (মহারত্ন/নবরত্ন) চালু হয়।
মূল বিষয় 4
সরকারি উদ্যোগের তিনটি প্রধান রূপ: বিভাগীয় সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি কোম্পানি।
মূল বিষয় 5
বিভাগীয় সংস্থা (ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ) সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন, সরকারি বাজেটের অর্থে চলে, কোনো পৃথক আইনি সত্ত্বা নেই এবং কর্মীরা সরকারি কর্মচারী।
মূল বিষয় 6
সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (LIC, RBI, DVC) সংসদের বিশেষ আইনে গঠিত হয়, এদের পৃথক আইনি সত্ত্বা ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন থাকে এবং কর্মীরা সরকারি কর্মচারী নন।
মূল বিষয় 7
কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুযায়ী সরকার অন্তত ৫১% পরিশোধিত শেয়ারের মালিক হলে তাকে সরকারি কোম্পানি বলে (যেমন SAIL, BHEL, কোল ইন্ডিয়া)।
মূল বিষয় 8
সরকারি কোম্পানিতে সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক নমনীয়তা থাকে, তবে এটি সংসদীয় নিয়ন্ত্রণকে কিছুটা হালকা করে দেওয়ার সমালোচনার মুখে পড়ে।
মূল বিষয় 9
বহুদেশীয় সংস্থা (MNC) গৃহদেশের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে একাধিক দেশে ব্যবসা করে; এরা প্রচুর মূলধন ও প্রযুক্তি আনলেও দেশীয় ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষতি করতে পারে।
মূল বিষয় 10
যৌথ উদ্যোগ (চুক্তিভিত্তিক বা মূলধনভিত্তিক) দুটি স্বতন্ত্র সংস্থাকে মূলধন ও প্রযুক্তি একত্র করতে সাহায্য করে (যেমন মারুতি সুজুকি ও ভিস্তারা)।
মূল বিষয় 11
পিপিপি (PPP) মডেলে BOT ও DBFOT ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি দক্ষতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণের মেলবন্ধনে মেগা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুসারে সরকারি কোম্পানির নির্দিষ্ট সংজ্ঞাটি কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কোম্পানি আইন ২০১৩-এর ধারা ২(৪৫) অনুসারে, সরকারি কোম্পানি হলো এমন যেকোনো কোম্পানি যার পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের অন্তত ৫১ শতাংশ (51%) কেন্দ্রীয় সরকার, কোনো এক বা একাধিক রাজ্য সরকার, অথবা যৌথভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ধারণ করে, এবং এই ধরনের কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি বা সহায়ক কোম্পানিও এর আওতাভুক্ত।
মনে রাখবেন মূল মাপকাঠি: পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানায় থাকতে হবে।
2
আইনি মর্যাদা এবং কর্মীদের অবস্থানের ভিত্তিতে বিভাগীয় সংস্থা ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মধ্যে দুটি পার্থক্য লিখুন।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. আইনি মর্যাদা: বিভাগীয় সংস্থার সরকার থেকে পৃথক কোনো আইনি সত্ত্বা নেই (সরকারের অংশ), কিন্তু সংবিধিবদ্ধ সংস্থার সংসদের বিশেষ আইন দ্বারা সৃষ্ট পৃথক ও স্বাধীন আইনি সত্ত্বা থাকে। ২. কর্মীদের অবস্থান: বিভাগীয় সংস্থার কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারী (Civil Servants), পক্ষান্তরে সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মীরা কর্পোরেশনের নিজস্ব চাকরিবিধির অধীন কর্মী, তারা সরকারি কর্মচারী নন।
রেল কর্মচারীদের সরকারি মর্যাদা বনাম এলআইসি কর্মীদের কর্পোরেট চুক্তির কথা ভাবুন।
3
পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অর্থনীতিতে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ডিভিসি (DVC) হলো স্বাধীন ভারতের প্রথম সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Corporation), যা ১৯৪৮ সালের ৭ জুলাই ডিভিসি আইন দ্বারা গঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি ভ্যালি অথরিটির আদলে বাংলা ও বিহারের দামোদর নদের বিধ্বংসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এটি গঠিত হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৪৮ সালে গণপরিষদে পাস হওয়া প্রথম নদী উপত্যকা কর্পোরেশনের কথা স্মরণ করুন।
4
মূলধনভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ (EJV) এবং চুক্তিভিত্তিক যৌথ উদ্যোগের (CJV) মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মূলধনভিত্তিক যৌথ উদ্যোগে পক্ষগুলি কোম্পানি আইনের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নতুন কোম্পানি নিগমবদ্ধ করে এবং তার শেয়ার মূলধন ভাগ করে নেয় (যেমন ভিস্তারা)। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক যৌথ উদ্যোগে কোনো নতুন কোম্পানি গঠিত হয় না; পক্ষগুলি শুধুমাত্র একটি চুক্তির ভিত্তিতে নিজ নিজ সত্ত্বা বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করে।
রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজের কাছে নতুন কোম্পানি নিবন্ধিত হচ্ছে কি না তা দেখুন।
5
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (PPP) বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার (BOT) মডেল কীভাবে কাজ করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: BOT মডেলে বেসরকারি সংস্থা নিজস্ব অর্থায়নে কোনো পরিকাঠামো (যেমন টোল রাস্তা) নির্মাণ করে (Build), নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য টোল আদায় করে বিনিয়োগ ও মুনাফা তুলে নেয় (Operate), এবং চুক্তির মেয়াদ শেষে পরিকাঠামোটি অক্ষত অবস্থায় বিনামূল্যে সরকারের কাছে হস্তান্তর করে (Transfer)।
তিনটি ইংরেজি শব্দের অর্থ আলাদা করে ভাবুন: নির্মাণ, পরিচালনা, হস্তান্তর।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

সরকারি, বেসরকারি ও বিশ্বজনীন উদ্যোগ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।