Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Business Studies • অধ্যায় 7
আনুমানিক সময়: 180 minutes
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের উৎসসমূহ

অর্থসংস্থান হলো যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগের জীবনীশক্তি ও মূল চালিকাশক্তি। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, দৈনন্দিন পরিচালনা, আধুনিকীকরণ, সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার প্রতিটি পদক্ষেপে অর্থের নিরবচ্ছিন্ন জোগান অপরিহার্য। সমকালীন বাণিজ্যিক বাস্তবতায় কোনো একক অর্থসংস্থান উৎস কোম্পানির সমস্ত আর্থিক প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না; দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং ঋণগত কর সুবিধার ভারসাম্য বজায় রাখতে মূলধন কাঠামোকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির কারবার শিক্ষা পাঠ্যক্রমের সপ্তম অধ্যায়: 'ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের উৎসসমূহ' (Sources of Business Finance) একটি বিস্তৃত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এই অধ্যায়ে স্থায়ী মূলধন (জমি, কারখানা ও যন্ত্রপাতিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ) এবং কার্যকরী মূলধনের (দৈনন্দিন পরিচালন চক্রের ঘূর্ণায়মান তরল অর্থ) মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তহবিলের উৎসগুলির ত্রিমুখী শ্রেণিবিভাগ অনুধাবন করে: সময়কালের ভিত্তিতে (স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী), মালিকানার ভিত্তিতে (মালিকানা তহবিল যেমন সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার ও মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ বনাম ঋণকৃত তহবিল যেমন ডিবেঞ্চার, ঋণপত্র, জনসাধারণের আমানত ও বাণিজ্যিক ঋণ), এবং উৎপত্তির ভিত্তিতে (অভ্যন্তরীণ বনাম বাহ্যিক)। এছাড়াও বিশেষায়িত উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (IFCI, IDBI, SIDBI, WBFC), আধুনিক বিকল্প অর্থসংস্থান পদ্ধতি (বাণিজ্যিক ঋণ, ফ্যাক্টরিং, ইজারা ও বাণিজ্যিক দলিল বা CP), এবং আন্তর্জাতিক মূলধন মাধ্যম (ADR, GDR, FCCB) পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের সর্বোত্তম আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

কখনো কি ভেবে দেখেছো পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ কারখানাগুলি কীভাবে শত শত কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে, কিংবা কোম্পানিগুলি ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বাণিজ্যিক দলিল ও আন্তর্জাতিক GDR কেন ইস্যু করে? জেনে নাও করপোরেট অর্থসংস্থানের আসল রূপরেখা।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

যেকোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা যতই প্রতিশ্রুতিশীল বা যুগান্তকারী হোক না কেন, পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী অর্থসংস্থান ব্যতীত তা কেবলই তাত্ত্বিক কল্পনা মাত্র। প্রয়োজনীয় মূলধনের ভুল পূর্বাভাস, চড়া সুদের ঋণ নিয়ে অত্যধিক ঋণগ্রস্ত হওয়া কিংবা নতুন শেয়ার ইস্যু করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মালিকানা নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করা একটি লাভজনক সংস্থাকেও দেউলিয়া করে দিতে পারে। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী, ভবিষ্যৎ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আর্থিক বিশ্লেষক এবং নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের কলাকৌশল আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি ব্যাখ্যা করে কেন আধুনিক স্টার্টআপগুলি প্রাথমিকভাবে নিজস্ব সঞ্চয় ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ওপর নির্ভর করে, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলের ভারী শিল্প কারখানাগুলি কীভাবে ঋণপত্রের সুদের কর সুবিধা (Kd = i * (1 - t)) কাজে লাগিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বৃদ্ধি করে, এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলি কেন দেশীয় ব্যাংকের পরিবর্তে গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ (GDR) ও বাণিজ্যিক দলিল (CP) ব্যবহার করে স্বল্প সুদে আন্তর্জাতিক মূলধন সংগ্রহ করে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • ব্যবসায়িক সংগঠনের বিভিন্ন রূপ (একমালিকানা, অংশীদারি, যৌথ মূলধনী কোম্পানি) সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।
  • আর্থিক বিবরণী (ব্যালেন্স শিট, লাভ-ক্ষতির হিসাব, সম্পদ ও দায়) সম্পর্কে মৌলিক পরিচয়।
  • সুদ, লভ্যাংশ এবং কোম্পানির কর ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারা এবং স্থায়ী ও কার্যকরী মূলধনের নিয়ামকসমূহ বিশ্লেষণ করা।
  • সময়কাল, মালিকানা ও উৎপত্তির ভিত্তিতে অর্থসংস্থানের বিভিন্ন উৎসের তুলনামূলক শ্রেণিবিভাগ করা।
  • সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার এবং মুনাফার পুনর্বিনিয়োগের আইনি ও আর্থিক বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা।
  • কর-পরবর্তী ঋণের ব্যয় Kd = i * (1 - t) গণনা করা এবং ডিবেঞ্চারের কর সুবিধার কারণ ব্যাখ্যা করা।
  • বাণিজ্যিক ঋণ, ফ্যাক্টরিং (দায়যুক্ত ও দায়মুক্ত), ইজারা অর্থসংস্থান এবং বাণিজ্যিক দলিলের পরিচালন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা।
  • আন্তর্জাতিক মূলধন মাধ্যম (ADR, GDR, FCCB) মূল্যায়ন করে প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোত্তম অর্থসংস্থান কাঠামো নির্বাচন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 মডিউল ১: ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের ধ...
2 মডিউল ২: মালিকানা তহবিল — সাধারণ শে...
3 মডিউল ৩: ঋণকৃত তহবিল — ঋণপত্র (ডিবে...
4 মডিউল ৪: বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায...
5 মডিউল ৫: স্বল্পমেয়াদী ও আধুনিক বিক...
6 মডিউল ৬: আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থানের...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

মডিউল ১: ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের ধারণা, প্রকৃতি ও তাৎপর্য

১.১ ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের অর্থ ও মৌলিক প্রকৃতি

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়িক অর্থসংস্থান (Business Finance) বলতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, দৈনন্দিন পরিচালনা, আধুনিকীকরণ, সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক বহুমুখীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল ও ঋণসুবিধা প্রাপ্তি এবং তার দক্ষ ও মিতব্যয়ী ব্যবহারকে বোঝায়। অর্থসংস্থানকে প্রায়শই "কারবারের জীবনীশক্তি ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা" হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ নদীয়া জেলার একটি ক্ষুদ্র তাঁত শিল্প থেকে শুরু করে দুর্গাপুরের একটি বিশাল ইস্পাত কারখানা—কোনো ব্যবসাই সময়োপযোগী ও পর্যাপ্ত তরল অর্থ ব্যতীত কাঁচামাল ক্রয় করতে, শ্রমিকের মজুরি মেটাতে কিংবা সরকারি কর পরিশোধ করতে পারে না।

ব্যবসায়িক তহবিলের প্রয়োজনীয়তাকে প্রধানত দুটি কার্যকরী ধারায় বিভক্ত করা হয়:

  • স্থায়ী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা (Fixed Capital Requirements): স্থায়ী ও টেকসই সম্পত্তি যেমন জমি, কারখানা ভবন, ভারী যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, পেটেন্ট ও সফ্টওয়্যার পরিকাঠামো ক্রয়ের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদী মূলধনের প্রয়োজন হয়, তাকে স্থায়ী মূলধন বলে। এই অর্থ কারবারে প্রায় স্থায়ীভাবে আবদ্ধ থাকে এবং কারবার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সহজে প্রত্যাহার করা যায় না।
  • কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা (Working Capital Requirements): কারবারের দৈনন্দিন ঘূর্ণায়মান পরিচালন চক্র সচল রাখার জন্য যে স্বল্পমেয়াদী তরল তহবিলের প্রয়োজন হয়, তাকে কার্যকরী মূলধন বলে। কাঁচামাল ক্রয়, মজুরি ও বেতন প্রদান, বিদ্যুৎ ও পরিবহন বিল পরিশোধ, দেনাদারদের বাকিতে পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ দেওয়া এবং ন্যূনতম নগদ তহবিল সংরক্ষণের জন্য এটি অপরিহার্য।
১.২ স্থায়ী মূলধন বনাম কার্যকরী মূলধনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
তুলনার ভিত্তিস্থায়ী মূলধন (Fixed Capital)কার্যকরী মূলধন (Working Capital)
মূল উদ্দেশ্যস্থায়ী উৎপাদনশীল সম্পত্তি অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন ক্ষমতা সৃষ্টি।দৈনন্দিন পরিচালন চক্র নির্বাহ এবং চলতি সম্পদে আবর্তন সৃষ্টি।
বিনিয়োগের সময়কালদীর্ঘমেয়াদী সময়কাল (> ৫ থেকে ২৫+ বছর); প্রায় স্থায়ী বিনিয়োগ।স্বল্পমেয়াদী সময়কাল (< ১ বছর বা একটি পরিচালন চক্রের মেয়াদ)।
তারল্য ও প্রত্যাহারযোগ্যতাঅত্যন্ত কম তারল্য; ব্যবসায়িক ক্ষতি ছাড়া সহজে প্রত্যাহার করা অসম্ভব।উচ্চ তারল্য; নগদ থেকে কাঁচামাল, মজুদ পণ্য, দেনাদার হয়ে পুনরায় নগদে রূপান্তরিত হয়।
প্রধান অর্থসংস্থান উৎসসাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার, ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার), সঞ্চিত মুনাফা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদী ঋণ।বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদী ঋণ (ক্যাশ ক্রেডিট, ওভারড্রাফ্ট), বাণিজ্যিক ঋণ, ফ্যাক্টরিং, বাণিজ্যিক দলিল (CP)।
প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান১. কারবারের প্রকৃতি: ভারী উৎপাদনকারী কারখানায় বিপুল স্থায়ী মূলধন বনাম খুচরা ব্যবসায়ে অল্প স্থায়ী মূলধন।
২. কাজের পরিমাপ: বৃহৎ পরিসরে স্বয়ংক্রিয় কারখানায় বেশি মূলধন প্রয়োজন।
৩. উৎপাদন কৌশল: মূলধন-নিবিড় প্রযুক্তিতে শ্রম-নিবিড় কৌশলের চেয়ে বেশি স্থায়ী মূলধন লাগে।
৪. সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণ: নতুন পণ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত কারখানার প্রয়োজন হয়।
১. পরিচালন চক্রের দৈর্ঘ্য: দীর্ঘ রূপান্তর চক্রে বেশি কার্যকরী মূলধন আটকে থাকে।
২. ঋণ সংক্রান্ত নীতি: গ্রাহকদের উদার বাকিতে বিক্রির সুবিধা দিলে দেনাদারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
৩. ঋতুগত প্রভাব: উৎসবের মরশুমে (যেমন বাংলায় দুর্গাপূজা) অতিরিক্ত চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়।
৪. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: কাঁচামালের জোগানে অনিশ্চয়তা থাকলে বেশি বাফার স্টক রাখতে হয়।
১.৩ অর্থসংস্থানের উৎসসমূহের ত্রিমুখী শ্রেণিবিভাগ

আর্থিক ব্যবস্থাপকগণ মূলধন সংগ্রহের উৎসসমূহকে তিনটি সুনির্দিষ্ট ভিত্তির ওপর শ্রেণিবিভাগ করেন:

  • ১. সময়কালের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Basis of Period):
    • দীর্ঘমেয়াদী উৎস (> ৫ বছর): স্থায়ী সম্পত্তি অর্জন ও কারখানা প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ, বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ।
    • মধ্যমমেয়াদী উৎস (১ থেকে ৫ বছর): যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণ ও যানবাহন ক্রয়ে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: বাণিজ্যিক ব্যাংকের মেয়াদী ঋণ, জনসাধারণের আমানত, ইজারা অর্থসংস্থান।
    • স্বল্পমেয়াদী উৎস (< ১ বছর): চলতি মূলধনের ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: বাণিজ্যিক ঋণ, ফ্যাক্টরিং, ব্যাংক ওভারড্রাফ্ট, ক্যাশ ক্রেডিট, বাণিজ্যিক দলিল (CP)।
  • ২. মালিকানার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Basis of Ownership):
    • মালিকানা তহবিল (Owner's Funds): উদ্যোক্তা বা শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা প্রদত্ত মূলধন অথবা কোম্পানির সঞ্চিত মুনাফা। এটি স্থায়ী মূলধন, কোনো নির্দিষ্ট লভ্যাংশ প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না, সম্পত্তিতে কোনো বন্ধক সৃষ্টি করে না এবং ভোটাধিকার প্রদান করে। উদাহরণ: সাধারণ শেয়ার মূলধন, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার মূলধন, সঞ্চিত মুনাফা (মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ)।
    • ঋণকৃত তহবিল (Borrowed Funds): বহিরাগত ঋণদাতা, ব্যাংক এবং জনসাধারণের কাছ থেকে সংগৃহীত ঋণ। নির্দিষ্ট হারে বাধ্যতামূলক সুদ প্রদান করতে হয় (লাভ হোক বা ক্ষতি), সম্পত্তিতে বন্ধক সৃষ্টি করে, পরিশোধে অগ্রাধিকার থাকে, কিন্তু কোনো ভোটাধিকার থাকে না। উদাহরণ: ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার), ব্যাংক ঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ, জনসাধারণের আমানত, বাণিজ্যিক ঋণ।
  • ৩. উৎপত্তির ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Basis of Generation / Origin):
    • অভ্যন্তরীণ উৎস (Internal Sources): কারবারের চলমান বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্য থেকেই সৃষ্ট তহবিল। উদাহরণ: মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ (Retained Earnings), অবচয় সঞ্চিতি তহবিল (Depreciation Reserves)।
    • বাহ্যিক উৎস (External Sources): কারবারের বাইরের বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, জনসাধারণের থেকে সংগৃহীত মূলধন। উদাহরণ: নতুন শেয়ার বা ডিবেঞ্চার বিলি, ব্যাংক ঋণ, জনসাধারণের আমানত, ফ্যাক্টরিং।
আর্থিক সামঞ্জস্যের সুবর্ণ নীতি (Matching / Hedging Principle): একটি বিচক্ষণ কোম্পানি কখনই স্বল্পমেয়াদী ঋণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় করে না। দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সম্পদে সর্বদা দীর্ঘমেয়াদী মূলধন (শেয়ার, সংরক্ষিত মুনাফা, ডিবেঞ্চার) নিয়োগ করতে হবে এবং চলতি প্রয়োজনের জন্য স্বল্পমেয়াদী ঋণ গ্রহণ করতে হবে।

মডিউল ২: মালিকানা তহবিল — সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার ও মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ

২.১ সাধারণ শেয়ার (Equity Shares / সমতা অংশ)

সাধারণ শেয়ার (Equity Shares) হলো যৌথ মূলধনী কোম্পানির সবচেয়ে মৌলিক ও ঝুঁকি বহনকারী প্রাথমিক মালিকানা মূলধন। সাধারণ শেয়ারের ক্রেতারা হলেন কোম্পানির প্রকৃত আইনি মালিক। এই শেয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

  • অবশিষ্ট দাবির অধিকারী (Residual Claimants): সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা সমস্ত পরিচালন ব্যয়, সুদ, কর এবং অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের লভ্যাংশ মেটানোর পর অবশিষ্ট মুনাফার ওপর দাবিদার হন। কোম্পানি ক্ষতির সম্মুখীন হলে তারা কোনো লভ্যাংশ পান না।
  • স্থায়ী মূলধন (Permanent Capital): কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৬৮ অনুসারে শেয়ার বাইব্যাক বা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বিলোপসাধন ব্যতিরেকে সাধারণ শেয়ার মূলধন কারবারের জীবদ্দশায় কখনোই ফেরত দেওয়া যায় না।
  • গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও ভোটাধিকার: কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪৭ অনুযায়ী সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার (এক শেয়ার, এক ভোট) ভোগ করেন। তারা পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করেন এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভোট দেন।
  • নির্দিষ্ট আর্থিক বোঝার অনুপস্থিতি: লভ্যাংশ প্রদান বাধ্যতামূলক নয় এবং শেয়ার বিলির জন্য কোম্পানির কোনো সম্পত্তিতে বন্ধক সৃষ্টি করতে হয় না।

সুবিধাসমূহ: ঋণ পরিশোধের কোনো তাড়া নেই; মন্দার সময় নগদ অর্থ সংকটের ঝুঁকি কমায়; কোম্পানির ঋণ গ্রহণের ভিত্তি বা ক্রেডিট সক্ষমতা বৃদ্ধি করে; সম্পত্তিতে কোনো দায় সৃষ্টি করে না।

সীমাবদ্ধতাসমূহ: শেয়ার ইস্যু ও অবলিখনের খরচ অত্যন্ত বেশি; নতুন শেয়ার ইস্যু করলে বর্তমান মালিকদের ভোটাধিকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পায় (Dilution of Control); বাজার মূল্যের তীব্র ওঠানামার ঝুঁকি থাকে; লভ্যাংশ কর-পূর্ব আয় থেকে বাদ যায় না (কর সুবিধা নেই)।

২.২ অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার (Preference Shares / পূর্বাधिकार অংশ)

অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার হলো শেয়ার ও ঋণের মিশ্র বৈশিষ্ট্যের একটি বিশেষ আর্থিক দলিল। কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪৩ অনুযায়ী এই শেয়ারের মালিকরা দুটি বিশেষ আইনি অগ্রাধিকার ভোগ করেন:

  1. লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার: সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেওয়ার পূর্বে অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের একটি নির্দিষ্ট হারে (যেমন ৯% প্রেফারেন্স শেয়ার) লভ্যাংশ প্রদান করতে হয়।
  2. মূলধন ফেরতে অগ্রাধিকার: কোম্পানি অবলুপ্ত হলে পাওনাদারদের ঋণ মেটানোর পর এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন ফেরত দেওয়ার পূর্বে অগ্রাধিকার শেয়ারের মূলধন ফেরত দেওয়া হয়।

সাধারণত অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের কোনো সাধারণ ভোটাধিকার থাকে না। তবে কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪৭(২) অনুযায়ী, টানা দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে যদি অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ অপরিশোধিত থাকে, তবে তারা কোম্পানির সমস্ত প্রস্তাবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মতো ভোটাধিকার লাভ করেন।

অগ্রাধিকার শেয়ারের প্রকারভেদ (Types of Preference Shares)
শ্রেণিবিভাগের ভিত্তিপ্রকার কপ্রকার খ
লভ্যাংশ সঞ্চিতিসঞ্চিত (Cumulative): মুনাফার অভাবে বকেয়া লভ্যাংশ জমা থাকে এবং ভবিষ্যৎ মুনাফা থেকে আগে পরিশোধ করতে হয়।অসঞ্চিত (Non-Cumulative): কেবল চলতি বছরের মুনাফা থেকেই লভ্যাংশ দেওয়া হয়; মুনাফা না থাকলে বকেয়া লভ্যাংশ বাতিল হয়।
উদ্বৃত্ত মুনাফায় অংশগ্রহণঅংশগ্রহণকারী (Participating): সাধারণ শেয়ারের লভ্যাংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত মুনাফায় ভাগ পাওয়ার অধিকার থাকে।অনংশগ্রহণকারী (Non-Participating): কেবল তাদের নির্ধারিত নির্দিষ্ট হারের লভ্যাংশটুকুই পায়, উদ্বৃত্ত মুনাফায় কোনো ভাগ পায় না।
রূপান্তরযোগ্যতারূপান্তরযোগ্য (Convertible): একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরিত করা যায়।অরূপান্তরযোগ্য (Non-Convertible): সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা যায় না।
পরিশোধের শর্তপরিশোধ্য (Redeemable): একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর (সর্বোচ্চ ২০ বছর, পরিকাঠামো প্রকল্পে ৩০ বছর) কোম্পানি মূলধন ফেরত দেয়।অপরিশোধ্য (Irredeemable): কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৫৫ অনুযায়ী ভারতে অপরিশোধ্য শেয়ার বিলি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
২.৩ মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ বা সঞ্চিত আয় (Retained Earnings / Ploughing Back of Profits)

মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ (Ploughing Back of Profits) হলো কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে ভবিষ্যতের সম্প্রসারণ, আধুনিকীকরণ ও আপৎকালীন আর্থিক সঞ্চয় হিসেবে কারবারে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়। এটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ স্ব-অর্থসংস্থান (Internal Self-Financing) নামেও পরিচিত।

সুবিধাসমূহ:

  • শূন্য নির্গমন ব্যয় (Zero Flotation Cost): প্রসপেক্টাস ছাপানো, দালালি, অবলিখন কমিশন বা আইনি নথিপত্রের কোনো ব্যয় নেই।
  • কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বোঝা নেই: সুদ পরিশোধের কোনো আইনি তাগিদ বা বাধ্যতামূলক লভ্যাংশ প্রদানের দায় নেই।
  • ব্যবস্থাপকীয় স্বাধীনতা: বাইরের পাওনাদার বা ব্যাংকের কোনো শর্তাবলী থাকে না এবং ভোটাধিকারের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
  • আর্থিক নিরাপত্তা বলয়: অর্থনৈতিক মন্দার সময় কোম্পানিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে রাখে।

অসুবিধা ও ঝুঁকি: অত্যধিক মুনাফা সঞ্চয় করলে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় (একে Dividend Starvation বলে); ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনিয়ন্ত্রিত তহবিলের অপচয় ঘটিয়ে অলাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারে; মূলধনের অতিরিক্ত স্ফীতি (Over-capitalization) ঘটতে পারে।

মডিউল ৩: ঋণকৃত তহবিল — ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার), বন্ড ও জনসাধারণের আমানত

৩.১ ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার (Debentures & Bonds)

ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার (Debenture) হলো কোম্পানির সাধারণ সিলের (Common Seal) অধীনে ইস্যু করা একটি লিখিত আইনি দলিল, যার মাধ্যমে কোম্পানি ঋণ গ্রহণের স্বীকৃতি দেয় এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখে আসল অর্থ ফেরত ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্ধারিত হারে সুদ পরিশোধের নিঃশর্ত প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

প্রধান আর্থিক ও আইনি বৈশিষ্ট্য:

  • পাওনাদারের মর্যাদা: ডিবেঞ্চারধারীরা কোম্পানির পাওনাদার (Creditors), মালিক নন। সাধারণ সভায় তাদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না এবং তারা পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।
  • সুদের বাধ্যতামূলক চার্জ: ডিবেঞ্চারের সুদ হলো মুনাফার ওপর চার্জ (Charge against Profit); কোম্পানি লাভ করুক বা ব্যাপক লোকসান করুক, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখে সুদ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
  • সুদের কর সুবিধা (Tax Shield Advantage): ভারতীয় আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা ৩৬ অনুসারে ঋণের ওপর প্রদত্ত সুদ ব্যবসায়িক পরিচালন ব্যয় হিসেবে করযোগ্য আয় থেকে সম্পূর্ণ বাদ যায়। ফলে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। কর-পরবর্তী ঋণের কার্যকর ব্যয় নির্ণয়ের সূত্র হলো:$$\text{Cost of Debt } (K_d) = i \times (1 - t)$$যেখানে $i$ হলো চুক্তিবদ্ধ সুদের হার এবং $t$ হলো করের হার। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি কোম্পানি ১০% সুদে ঋণপত্র ছাড়ে এবং কোম্পানির করের হার ৩০% হয়, তবে কোম্পানির কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যয় হয় মাত্র $১০\% \times (১ - ০.৩০) = ৭.০\%$। বিপরীতপক্ষে, শেয়ারের লভ্যাংশ কর-পরবর্তী মুনাফা থেকে দেওয়া হয়, ফলে তাতে কোনো কর সুবিধা পাওয়া যায় না।
  • সম্পত্তিতে বন্ধক (Charge on Assets): অধিকাংশ ডিবেঞ্চার কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তিতে নির্দিষ্ট বন্ধক (Fixed Charge) বা চলতি সম্পত্তিতে ভাসমান বন্ধক (Floating Charge) দ্বারা সুরক্ষিত থাকে।
ডিবেঞ্চারের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Debentures)
  • নিরাপত্তার ভিত্তিতে: সুরক্ষিত ডিবেঞ্চার (Secured Debentures) (কোম্পানির সম্পত্তিতে বন্ধক থাকে) বনাম অসুরক্ষিত ডিবেঞ্চার (Unsecured Debentures) (সম্পত্তিতে কোনো বন্ধক থাকে না, কেবল কোম্পানির সুনামের ওপর নির্ভর করে)।
  • পরিশোধের ভিত্তিতে: পরিশোধ্য ডিবেঞ্চার (Redeemable) (নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে পরিশোধিত হয়) বনাম অপরিশোধ্য ডিবেঞ্চার (Irredeemable) (কোম্পানির অবলুপ্তির পূর্বে আসল ফেরত দেওয়া হয় না; আধুনিক আইনে এটি প্রায় নিষিদ্ধ)।
  • নথিবদ্ধকরণের ভিত্তিতে: নথিবদ্ধ ডিবেঞ্চার (Registered) (মালিকের নাম কোম্পানির খাতায় লেখা থাকে; সুদ সরাসরি নথিবদ্ধ ব্যক্তির নামে যায়) বনাম ধারক ডিবেঞ্চার (Bearer) (হস্তান্তরযোগ্য দলিল, যার হাতে থাকে তিনিই মালিক; কুপনের মাধ্যমে সুদ তোলা যায়)।
  • রূপান্তরযোগ্যতার ভিত্তিতে: সম্পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য ডিবেঞ্চার (FCD) (পুরো অর্থ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরিত হয়), আংশিক রূপান্তরযোগ্য (PCD) (একটি অংশ শেয়ারে রূপান্তর হয় এবং বাকি অংশ নগদে শোধ হয়), এবং অরূপান্তরযোগ্য ডিবেঞ্চার (NCD) (শেয়ারে রূপান্তর হয় না, সম্পূর্ণ আসল নগদে ফেরত দেওয়া হয়)।
৩.২ জনসাধারণের আমানত (Public Deposits)

জনসাধারণের আমানত (Public Deposits) বলতে কোম্পানি কর্তৃক জনসাধারণের কাছ থেকে সরাসরি আমন্ত্রিত অসুরক্ষিত স্বল্প ও মধ্যমমেয়াদী আমানতকে বোঝায়, যা কার্যকরী মূলধন বা স্বল্পমেয়াদী সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী (Sections 73 to 76):

  • মেয়াদকাল: জনসাধারণের আমানত সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের (৩ বছর) জন্য গ্রহণ করা যায়। ৬ মাসের কম বা ৩৬ মাসের বেশি মেয়াদের আমানত গ্রহণ আইনত নিষিদ্ধ।
  • যোগ্য কোম্পানির মানদণ্ড: কেবল সেইসব পাবলিক কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করতে পারে যাদের নিট মূল্য (Net Worth) ন্যূনতম ₹১০০ কোটি অথবা বার্ষিক লেনদেন (Turnover) ন্যূনতম ₹৫০০ কোটি।
  • সংগ্রহের সর্বোচ্চ আইনি সীমা: যোগ্য পাবলিক কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে তাদের পরিশোধিত শেয়ার মূলধন, মুক্ত সঞ্চিতি ও সিকিউরিটিজ প্রিমিয়ামের সমষ্টির সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করতে পারে (সদস্যদের কাছ থেকে আরও ১০% সহ মোট ৩৫%)।
  • আমানত পরিশোধ সঞ্চিতি তহবিল: পরবর্তী আর্থিক বছরে যে পরিমাণ আমানত পরিপক্ক হবে, তার অন্তত ২০% একটি তফসিলি ব্যাংকে পৃথক আমানত পরিশোধ সঞ্চিতি অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করতে হয়।

সুবিধাসমূহ: ব্যাংক ঋণের চেয়ে সুদের হার কিছুটা কম; কোনো সম্পত্তিতে বন্ধক সৃষ্টি করতে হয় না; ভোটাধিকার খর্ব হয় না; কাগজপত্রের ঝামেলা তুলনামূলকভাবে কম।

সীমাবদ্ধতাসমূহ: নতুন অপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পক্ষে আমানত সংগ্রহ অসম্ভব; অর্থনৈতিক সংকটে দ্রুত প্রত্যাহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে; মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩ বছর হওয়ায় স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করা যায় না।

মডিউল ৪: বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান

৪.১ বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রদত্ত ঋণসুবিধাসমূহ

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি (যেমন স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, HDFC ব্যাংক, ICICI ব্যাংক) ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যে স্বল্প ও মধ্যমমেয়াদী ঋণ জোগানের প্রধান ভরসা। ব্যাংকগুলি বিভিন্ন বিশেষায়িত ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে:

  • মেয়াদী ঋণ (Term Loans): মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদে (৩ থেকে ১০ বছর) যন্ত্রপাতি ক্রয় বা কারখানা সংস্কারের জন্য মঞ্জুর করা হয়। কিস্তিতে (ইকুইটেড কোয়ার্টারলি ইন্সটলমেন্ট) আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হয়।
  • ক্যাশ ক্রেডিট (Cash Credit - CC): চলতি সম্পত্তি (কাঁচামালের মজুদ, দেনাদারদের বিল) হাইপোথেকেশনের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত চলমান ঋণসুবিধা। ঋণগ্রহীতা সীমার মধ্যে প্রয়োজনমতো টাকা তুলতে পারে এবং কেবল ব্যবহৃত পরিমাণের ওপর সুদ দিতে হয়।
  • ব্যাংক ওভারড্রাফ্ট (Bank Overdraft - OD): চলতি হিসাবধারী (Current Account) ব্যবসায়ীদের তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের অতিরিক্ত একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। এটি তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট মেটায়।
  • বাণিজ্যিক বিল বাট্টাকরণ (Discounting of Bills of Exchange): মেয়াদপূর্তির পূর্বেই বাণিজ্যিক বিল ব্যাংকে জমা দিয়ে কিছুটা কমিশন বাদ দিয়ে নগদ টাকা তুলে নেওয়া যায়, যা সরবরাহকারীর অর্থ আটকে থাকা রোধ করে।
  • অ-তহবিল ভিত্তিক সুবিধা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য লেটার অব ক্রেডিট (Letter of Credit - LC) এবং চুক্তির নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি (Bank Guarantee) প্রদান।
৪.২ বিশেষায়িত উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (DFIs)

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির দীর্ঘমেয়াদী মূলধন প্রদানের ক্ষমতা ও পরিকাঠামো গঠনের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই ভারী শিল্প, পরিকাঠামো এবং অনগ্রসর অঞ্চলে শিল্পায়নের লক্ষ্যে ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারগুলি বিশেষায়িত উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (Development Financial Institutions) গড়ে তোলে।

প্রতিষ্ঠানের নামপ্রতিষ্ঠা সালমূল দায়িত্ব ও কার্যাবলী
IFCI (Industrial Finance Corporation of India)১৯৪৮ভারতের প্রথম DFI। বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী মেয়াদী ঋণ প্রদান এবং শেয়ার ও ডিবেঞ্চারের অবলিখন (Underwriting) করে।
IDBI (Industrial Development Bank of India)১৯৬৪ভারতের শিল্প অর্থসংস্থানের শীর্ষ সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে পুনরর্থসংস্থান যোগাত।
SIDBI (Small Industries Development Bank of India)১৯৯০ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (MSME) খাতের উন্নয়ন, প্রসার ও অর্থসংস্থানের জাতীয় শীর্ষ ব্যাংক।
WBFC (West Bengal Financial Corporation)১৯৫৪SFC আইন, ১৯৫১-এর অধীনে গঠিত। পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী মেয়াদী ঋণ প্রদান করে।

সুবিধাসমূহ: শেয়ার বাজার মন্দা থাকলেও ১০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পাওয়া যায়; প্রকল্প মূল্যায়ন ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়; প্রকল্প নির্মাণকালীন কিস্তি পরিশোধে অবকাশকালীন সময় (Moratorium) প্রদান করে।

সীমাবদ্ধতাসমূহ: আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও আমলাতান্ত্রিক বিলম্বযুক্ত; প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কোম্পানির বোর্ডে মনোনীত পরিচালক (Nominee Director) বসায়, যা উদ্যোক্তার পরিচালন স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।

মডিউল ৫: স্বল্পমেয়াদী ও আধুনিক বিকল্প অর্থসংস্থান

৫.১ বাণিজ্যিক ঋণ (Trade Credit / বাণিজ্য ঋণ)

বাণিজ্যিক ঋণ (Trade Credit) হলো এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত স্বল্পমেয়াদী ঋণসুবিধা, যেখানে বিক্রেতা বা সরবরাহকারী ক্রেতাকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ পরিশোধ না করেই পণ্য ও সেবা ক্রয়ের সুযোগ দেন। আর্থিক বিবরণীতে একে বিবিধ পাওনাদার (Sundry Creditors) বা প্রদেয় বিল (Trade Payables) হিসেবে দেখানো হয়।

বাণিজ্যিক ঋণের শর্তাবলী সাধারণত "2/10 net 30" আকারে প্রকাশ করা হয়, যার অর্থ ৩০ দিনের ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে, তবে ক্রেতা যদি ১০ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করে তবে সে ২% নগদ বাট্টা (Cash Discount) পাবে।

নগদ বাট্টা হাতছাড়া করার লুকানো সুযোগ ব্যয়: যদিও বাণিজ্য ঋণকে অনেকে নিখরচায় ঋণ মনে করেন, কিন্তু নগদ বাট্টা ত্যাগ করার বার্ষিক সুযোগ ব্যয় অত্যন্ত চড়া। বার্ষিক ব্যয়ের সূত্রটি হলো:$$\text{Annualized Cost} = \left( \frac{\text{Discount } \%}{১০০ - \text{Discount } \%} \right) \times \left( \frac{৩৬৫}{\text{Credit Period} - \text{Discount Period}} \right)$$শর্ত ২/১০ নেট ৩০-এর ক্ষেত্রে বার্ষিক ব্যয় = $(২ / ৯৮) \times (৩৬৫ / ২০) = ০.০২০৪ \times ১৮.২৫ = ৩৭.২৪\%$ বার্ষিক! সুতরাং নগদ বাট্টা হাতছাড়া করলে বাণিজ্য ঋণ ব্যাংক ঋণের চেয়েও অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়।

৫.২ ফ্যাক্টরিং (Factoring)

ফ্যাক্টরিং হলো একটি আধুনিক আর্থিক পরিষেবা, যেখানে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তার বকেয়া দেনাদারদের বিল (Accounts Receivable / Invoices) একটি বিশেষায়িত আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বা ফ্যাক্টরের (Factor) কাছে বাট্টায় বিক্রি করে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সংগ্রহ করে। ভারতে SBI Global Factors এবং Canbank Factors অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টরিং সংস্থা।

কার্যপদ্ধতি:

  1. প্রতিষ্ঠানটি বাকিতে পণ্য বিক্রি করে এবং সেই ইনভয়েসটি ফ্যাক্টরের নিকট পাঠায়।
  2. ফ্যাক্টর ইনভয়েসের মোট মূল্যের ৮০% থেকে ৯০% অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে অগ্রিম হিসেবে কোম্পানিকে প্রদান করে।
  3. ফ্যাক্টর দেনাদারদের খতিয়ান সংরক্ষণ করে এবং মেয়াদপূর্তিতে দেনাদারদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা আদায় করে।
  4. দেনাদার সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করলে ফ্যাক্টর বাকি ১০% থেকে ২০% সংরক্ষিত অর্থ থেকে নিজস্ব কমিশন ও সুদের অর্থ কেটে নিয়ে অবশিষ্ট টাকা কোম্পানিকে ফেরত দেয়।

দায়যুক্ত বনাম দায়মুক্ত ফ্যাক্টরিং (Recourse vs Non-Recourse):

  • দায়যুক্ত ফ্যাক্টরিং (Recourse Factoring): দেনাদার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ বা দেউলিয়া হলে অনাদায়ী ঋণের (Bad Debt) সমস্ত ঝুঁকি মূল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হয়। কোম্পানিকে ফ্যাক্টরের অগ্রিম অর্থ ফেরত দিতে হয়।
  • দায়মুক্ত ফ্যাক্টরিং (Non-Recourse Factoring): গ্রাহকের ঋণখেলাপি বা দেউলিয়া হওয়ার সমস্ত ঝুঁকি ফ্যাক্টর নিজেই বহন করে। দেনাদার টাকা না দিলে ফ্যাক্টর কোম্পানির কাছ থেকে কোনো অর্থ দাবি করতে পারে না।
৫.৩ ইজারা অর্থসংস্থান (Lease Financing)

ইজারা অর্থসংস্থান (Lease Financing) হলো এমন একটি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির আইনি মালিক (যাকে লেসর / Lessor বলা হয়) অন্য একটি বাণিজ্যিক পক্ষকে (যাকে লেসি / Lessee বলা হয়) নির্দিষ্ট সময় ধরে পর্যায়ক্রমিক অর্থ বা ইজারা ভাড়ার (Lease Rentals) বিনিময়ে সম্পত্তিটি ব্যবহারের অধিকার প্রদান করেন।

  • পরিচালন ইজারা (Operating Lease): স্বল্পমেয়াদী এবং বাতিলযোগ্য ইজারা চুক্তি। চুক্তির মেয়াদ সম্পত্তির অর্থনৈতিক জীবনের সম্পূর্ণ অংশ কভার করে না। লেসর নিজেই সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা ও প্রযুক্তিগত মেরামতের দায়িত্ব বহন করেন। কম্পিউটার, বিমান ও পরিবহন যানের মতো দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি জনপ্রিয়।
  • আর্থিক বা মূলধনী ইজারা (Financial / Capital Lease): দীর্ঘমেয়াদী এবং অবাতিলযোগ্য চুক্তি, যা সম্পত্তির সমগ্র অর্থনৈতিক কর্মজীবনের প্রায় সমান। লেসি নিজেই সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমার ব্যয় বহন করেন। এটি কার্যত ঋণ নিয়ে সম্পত্তি ক্রয়ের সমতুল্য।

মূল সুবিধা: বিপুল মূলধন অগ্রিম বিনিয়োগ না করেই ১০০% অর্থসংস্থানে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায়; ইজারা ভাড়া সম্পূর্ণ আয়কর ছাড়ের আওতাভুক্ত ব্যবসায়িক ব্যয়।

৫.৪ বাণিজ্যিক দলিল (Commercial Paper - CP)

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) কর্তৃক ১৯৯০ সালে প্রবর্তিত বাণিজ্যিক দলিল (Commercial Paper) হলো শীর্ষমানের ক্রেডিট রেটিংপ্রাপ্ত করপোরেট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বল্পমেয়াদী কার্যকরী মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রমিসরি নোটের আকারে ইস্যু করা একটি অসুরক্ষিত মুদ্রা বাজার দলিল।

বৈশিষ্ট্যবিধিবদ্ধ বিবরণ (RBI নির্দেশিকা)
মেয়াদকালসর্বনিম্ন ৭ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ বছর (৩৬৫ দিন) পর্যন্ত হতে পারে।
মূল্যের একক (Denomination)ন্যূনতম ₹৫ লক্ষ এবং এর গুণিতকে ইস্যু করা হয়।
মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতিলিখিত মূল্যের ওপর বাট্টায় (Discount) বিক্রি হয় এবং মেয়াদপূর্তিতে সমমূল্যে (Par) পরিশোধিত হয়।
ইস্যু করার যোগ্যতাকোম্পানির দৃশ্যমান নিট মূল্য ন্যূনতম ₹৪ কোটি হতে হবে, ব্যাংকের কার্যকরী ঋণ অনুমোদিত থাকতে হবে, এবং SEBI অনুমোদিত রেটিং এজেন্সি থেকে ন্যূনতম A2/P2 রেটিং থাকতে হবে।

মডিউল ৬: আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থানের উৎস ও সর্বোত্তম অর্থসংস্থান নির্বাচন

৬.১ আন্তর্জাতিক মূলধন মাধ্যম: GDR, ADR ও FCCB

বিশ্বায়নের যুগে ভারতীয় বাণিজ্যিক সংস্থাসমূহ আন্তর্জাতিক অর্থবাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা মূলধন সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন উন্নত ডিপোজিটরি রসিদ ও বন্ড ব্যবহার করে থাকে:

  • গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ (Global Depository Receipts - GDR):

    GDR হলো বিদেশের কোনো আন্তর্জাতিক ডিপোজিটরি ব্যাংক (যেমন ডয়েচে ব্যাংক বা সিটি ব্যাংক) কর্তৃক ইস্যু করা মার্কিন ডলার মূল্যের একটি হস্তান্তরযোগ্য আর্থিক দলিল, যা দেশীয় কোম্পানির অন্তর্নিহিত সাধারণ শেয়ারের প্রতিনিধিত্ব করে। GDR প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপীয় স্টক এক্সচেঞ্জে (যেমন লুক্সেমবার্গ স্টক এক্সচেঞ্জ ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ) তালিকাভুক্ত ও লেনদেন হয়। GDR ধারকরা বৈদেশিক মুদ্রায় লভ্যাংশ পান, কিন্তু ভারতীয় কোম্পানিতে তাদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।

  • আমেরিকান ডিপোজিটরি রসিদ (American Depository Receipts - ADR):

    ADR হলো একটি মার্কিন ডিপোজিটরি ব্যাংক কর্তৃক মার্কিন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা ডলার মূল্যের সিকিউরিটি, যা অ-মার্কিন বিদেশি কোম্পানির শেয়ারের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি বিশেষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে (যেমন New York Stock Exchange - NYSE বা NASDAQ) তালিকাভুক্ত ও কেনাবেচা হয়। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা দেশীয় মুদ্রার জটিলতা ছাড়াই বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে এটি ইস্যু করতে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Securities and Exchange Commission (SEC)-এর কঠোর নিয়মাবলী ও হিসাবরক্ষণ নীতি মানতে হয়।

  • বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরযোগ্য বন্ড (Foreign Currency Convertible Bonds - FCCB):

    FCCB হলো ভারতীয় কোম্পানি কর্তৃক বৈদেশিক মুদ্রায় ইস্যু করা একটি বিশেষ বন্ড, যার ওপর একটি নির্দিষ্ট সুদের হার থাকে এবং বিনিয়োগকারীকে মেয়াদপূর্তির পূর্বে একটি পূর্বনির্ধারিত মূল্যে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের অধিকার প্রদান করা হয়। শেয়ারের দাম বাড়লে বিনিয়োগকারীরা বন্ডকে শেয়ারে রূপান্তর করে নেয়, ফলে কোম্পানিকে আসল অর্থ ফেরত দিতে হয় না। কিন্তু শেয়ারের দাম কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা রূপান্তর না করে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা দাবি করে, যা কোম্পানির ওপর বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র চাপ সৃষ্টি করে।

ADR বনাম GDR-এর তুলনামূলক ছক
তুলনার দিকআমেরিকান ডিপোজিটরি রসিদ (ADR)গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ (GDR)
বাজারের পরিধিশুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য।সমগ্র ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্মুক্ত।
শেয়ার বাজারNYSE, NASDAQ, AMEX-এ তালিকাভুক্ত।লুক্সেমবার্গ ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়িমার্কিন SEC এবং US GAAP-এর কঠোর নিয়ম মানতে হয়।তুলনামূলকভাবে নমনীয় ও কম ব্যয়বহুল আইনি প্রক্রিয়া।
বিনিয়োগকারী শ্রেণীমার্কিন প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারী।ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।
৬.২ অর্থসংস্থানের উৎস নির্বাচনের মৌলিক মানদণ্ড

একটি আদর্শ মূলধন কাঠামো গড়ে তুলতে আর্থিক ব্যবস্থাপককে সাতটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বিশ্লেষণ করতে হয়:

  1. মূলধন সংগ্রহের ব্যয় (Cost of Capital): ইস্যু করার প্রাথমিক খরচ (দালালি, অবলিখন, আইনি ব্যয়) এবং পরবর্তী নিয়মিত পরিশোধের দায় (সুদ বনাম লভ্যাংশ)। কর সুবিধার কারণে ঋণ মূলধন সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ($K_d = i(1-t)$)।
  2. আর্থিক ঝুঁকি (Financial Risk): ঋণ মূলধনে নির্দিষ্ট সুদ ও আসল ফেরতের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে। ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে ঋণ খেলাপি হয়ে কোম্পানি দেউলিয়া হতে পারে। সাধারণ শেয়ারে আর্থিক ঝুঁকি শূন্য।
  3. নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখা (Dilution of Control): নতুন সাধারণ শেয়ার ছাড়লে পরিচালনায় বর্তমান মালিকদের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়। ডিবেঞ্চার, অগ্রাধিকার শেয়ার ও ব্যাংক ঋণে কোনো ভোটাধিকার না থাকায় নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
  4. উদ্দেশ্য ও সময়কাল (Matching Principle): স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী শেয়ার বা বন্ড ব্যবহার করতে হবে; সাময়িক চলতি মূলধনের জন্য বাণিজ্যিক ঋণ বা ক্যাশ ক্রেডিট নিতে হবে।
  5. নমনীয়তা ও আইনি বিধিনিষেধ: প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণে লভ্যাংশ বণ্টন বা নতুন বিনিয়োগের ওপর কঠোর শর্তাবলী থাকে। সঞ্চিত মুনাফায় কোনো বিধিনিষেধ থাকে না।
  6. কর সুবিধা (Tax Advantage): করপোরেট করের হার বেশি হলে ঋণের সুদ করযোগ্য আয় থেকে বাদ যাওয়ায় ঋণ গ্রহণ লাভজনক।
  7. শেয়ার বাজারের পরিস্থিতি: শেয়ার বাজার তেজি (Bullish) থাকলে প্রিমিয়ামে সাধারণ শেয়ার ইস্যু করা সহজ হয়; বাজার মন্দা (Bearish) থাকলে সুরক্ষিত ডিবেঞ্চার বা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূত্র ও বাণিজ্যিক নীতিমালা

কর-পরবর্তী কার্যকর ঋণ ব্যয়ের সূত্র (Kd)
Kd = i * (1 - t)
নিট কার্যকরী মূলধন (NWC) নির্ণয়ের সূত্র
NWC = Current Assets - Current Liabilities
বাণিজ্যিক ঋণে বাট্টা ত্যাগের বার্ষিক সুযোগ ব্যয়
Annualized Cost = [Discount % / (100 - Discount %)] * [365 / (Credit Period - Discount Period)]

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে অবস্থিত বেঙ্গল মেটালওয়ার্কস লিমিটেডের ব্লাস্ট ফার্নেস আধুনিকীকরণের জন্য ₹৫০,০০,০০০ টাকার প্রয়োজন। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ দুটি বিকল্প আর্থিক প্রস্তাব বিবেচনা করছে:
• বিকল্প ১: সমমূল্যে ১২% অরূপান্তরযোগ্য ডিবেঞ্চার ইস্যু করা।
• বিকল্প ২: সমমূল্যে ১২% অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার ইস্যু করা।
কোম্পানির করপোরেট করের হার ৩০%। নির্ণয় করো: (ক) প্রতিটি বিকল্পে বার্ষিক নিট নগদ বহির্গমন, (খ) কার্যকর মূলধন ব্যয় ($K_d$ বনাম $K_p$), এবং (গ) ব্যয়ের দিক থেকে পরিচালনা পর্ষদকে সর্বোত্তম বিকল্পটি সুপারিশ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপে ধাপে সমাধান:

অংশ (ক): বার্ষিক নগদ বহির্গমন ও কর সুবিধা:
১. বিকল্প ১ (ডিবেঞ্চার):
• বার্ষিক সুদের পরিমাণ = $১২\% \times ₹৫০,০০,০০০ = ₹৬,০০,০০০$।
• আয়কর আইনের ধারা ৩৬ অনুযায়ী ডিবেঞ্চারের সুদ করযোগ্য আয় থেকে বাদ যায়, ফলে কর বাঁচে:
$$\text{কর সাশ্রয় (Tax Shield)} = \text{সুদ} \times \text{করের হার} = ₹৬,০০,০০০ \times ৩০\% = ₹১,৮০,০০০$$
• কোম্পানির প্রকৃত বার্ষিক নগদ বহির্গমন = $₹৬,০০,০০০ - ₹১,৮০,০০০ = ₹৪,২০,০০০$।

২. বিকল্প ২ (অগ্রাধিকার শেয়ার):
• বার্ষিক অগ্রাধিকার লভ্যাংশ = $১২\% \times ₹৫০,০০,০০০ = ₹৬,০০,০০০$।
• লভ্যাংশ কর-পরবর্তী নিট লাভ (PAT) থেকে দেওয়া হয়, ফলে এতে কোনো কর সুবিধা পাওয়া যায় না।
• নিট বার্ষিক নগদ বহির্গমন = ₹৬,০০,০০০।

অংশ (খ): কার্যকর মূলধন ব্যয় নির্ণয়:
• কর-পরবর্তী কার্যকর ঋণ ব্যয় ($K_d$):
$$K_d = i \times (১ - t) = ১২\% \times (১ - ০.৩০) = ১২\% \times ০.৭০ = ৮.৪০\%$$
• অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় ($K_p$):
$$K_p = \text{লভ্যাংশের হার} = ১২.০০\%$$

অংশ (গ): আর্থিক সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ:
আর্থিক দিক থেকে বিকল্প ১ (ডিবেঞ্চার) গ্রহণ করা অত্যন্ত লাভজনক। এর ফলে বেঙ্গল মেটালওয়ার্কস লিমিটেডের বছরে ₹১,৮০,০০০ টাকা নগদ কর সাশ্রয় হবে (কার্যকর ব্যয় মাত্র ৮.৪% বনাম ১২.০%), যা মূলধন ব্যয় কমিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বৃদ্ধি করবে।
উদাহরণ 2
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় অবস্থিত একটি পাটকলের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের আর্থিক বিবরণী থেকে নিম্নলিখিত তথ্য পাওয়া গেছে:
• কাঁচামালের মজুদ: ₹২৪,০০,০০০
• আংশিক প্রস্তুত পণ্য (WIP): ₹১৬,০০,০০০
• সমাপ্ত পণ্যের মজুদ: ₹৩০,০০,০০০
• ব্যবসায়িক দেনাদার: ₹৪৫,০০,০০০
• নগদ ও ব্যাংক উদ্বৃত্ত: ₹১০,০০,০০০
• ব্যবসায়িক পাওনাদার: ₹৩৫,০০,০০০
• বকেয়া কারখানা মজুরি: ₹৫,০০,০০০
নির্ণয় করো: (ক) মোট চলতি সম্পদ (মোট কার্যকরী মূলধন), (খ) মোট চলতি দায়, (গ) নিট কার্যকরী মূলধন (NWC), এবং (ঘ) একটি উৎপাদনশীল কারখানার জন্য ঋণাত্মক নিট কার্যকরী মূলধনের বিপদ ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপে ধাপে গাণিতিক সমাধান:

অংশ (ক): মোট চলতি সম্পদ নির্ণয়:
$$\text{চলতি সম্পদ (CA)} = \text{কাঁচামাল} + \text{WIP} + \text{সমাপ্ত পণ্য} + \text{দেনাদার} + \text{নগদ}$$
$$\text{CA} = ₹২৪,০০,০০০ + ₹১৬,০০,০০০ + ₹৩০,০০,০০০ + ₹৪৫,০০,০০০ + ₹১০,০০,০০০ = ₹১,২৫,০০,০০০\text{ (₹১.২৫ কোটি)}$$

অংশ (খ): মোট চলতি দায় নির্ণয়:
$$\text{চলতি দায় (CL)} = \text{পাওনাদার} + \text{বকেয়া মজুরি}$$
$$\text{CL} = ₹৩৫,০০,০০০ + ₹৫,০০,০০০ = ₹৪০,০০,০০০\text{ (₹৪০ লক্ষ)}$$

অংশ (গ): নিট কার্যকরী মূলধন (NWC):
$$\text{নিট কার্যকরী মূলধন (NWC)} = \text{চলতি সম্পদ} - \text{চলতি দায়}$$
$$\text{NWC} = ₹১,২৫,০০,০০০ - ₹৪০,০০,০০০ = ₹৮৫,০০,০০০\text{ (₹৮৫ লক্ষ)}$$

অংশ (ঘ): তাৎপর্য:
ধনাত্মক নিট কার্যকরী মূলধন (₹৮৫ লক্ষ) প্রমাণ করে যে কারখানার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং চলতি সম্পদের একটি বড় অংশ স্থায়ী দীর্ঘমেয়াদী তহবিল দ্বারা পরিচালিত। যদি NWC ঋণাত্মক হতো (CL > CA), তবে কারখানাকে দৈনন্দিন পাওনা মেটাতে হিমশিম খেতে হতো, যার ফলে সরবরাহকারীরা কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিত এবং উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে যেত।
উদাহরণ 3
শিলিগুড়ির একটি স্যানিটারি ওয়্যার পরিবেশক কারখানা থেকে ₹১০,০০,০০০ টাকার পণ্য বাকিতে ক্রয় করে। ঋণের শর্তাবলী ছিল '3/15 net 45'। ১৫তম দিনে পরিবেশকের নিকট পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই। সে ভাবছে নগদ বাট্টা ত্যাগ করে ৪৫তম দিনে টাকা শোধ করবে, নাকি স্থানীয় ব্যাংক থেকে বার্ষিক ১৪% সুদে ঋণ নিয়ে ১৫তম দিনেই বিল মিটিয়ে দেবে। গণনা করো: (ক) নগদ বাট্টা হাতছাড়া করার বার্ষিক শতকরা সুযোগ ব্যয়, এবং (খ) পরিবেশককে সবচেয়ে লাভজনক আর্থিক সিদ্ধান্তটি জানাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
গাণিতিক বিশ্লেষণ:

অংশ (ক): নগদ বাট্টা ত্যাগের বার্ষিক সুযোগ ব্যয়ের সূত্র:
$$\text{বার্ষিক ব্যয়} = \left( \frac{\text{বাট্টার } \%}{১০০ - \text{বাট্টার } \%} \right) \times \left( \frac{৩৬৫}{\text{ঋণের মোট দিন} - \text{বাট্টার দিন}} \right)$$
প্রদত্ত মানসমূহ:
• বাট্টার হার = ৩%
• বাট্টার মেয়াদ = ১৫ দিন
• ঋণের মোট মেয়াদ = ৪৫ দিন
• বাড়তি ঋণ ভোগের দিন = $৪৫ - ১৫ = ৩০\text{ দিন}$

মান বসিয়ে:
$$\text{ব্যয়} = \left( \frac{৩}{১০০ - ৩} \right) \times \left( \frac{৩৬৫}{৩০} \right) = \left( \frac{৩}{৯৭} \right) \times ১২.১৬৬৭$$
$$\text{ব্যয়} = ০.০৩০৯২৮ \times ১২.১৬৬৭ = ০.৩৭৬৩ = ৩৭.৬৩\%\text{ বার্ষিক}$$

অংশ (খ): ব্যবসায়িক পরামর্শ:
• বাট্টা ছেড়ে ৩০ দিন অতিরিক্ত সময় নেওয়ার কার্যকর বার্ষিক ব্যয় হলো ৩৭.৬৩%।
• যদি পরিবেশক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৪% সুদে ৩০ দিনের জন্য ঋণ নেয়, তবে তার ব্যাংক সুদ দিতে হবে মাত্র:
$$\text{ব্যাংক সুদ} = ১৪\% \times \left( \frac{৩০}{৩৬৫} \right) \times ₹৯,৭০,০০০ = ₹১১,১৬২$$
• অথচ সে ৩% নগদ বাট্টা গ্রহণ করে সরাসরি ₹৩০,০০০ সাশ্রয় করছে!
• সিদ্ধান্ত: পরিবেশকের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক থেকে ১৪% সুদে ঋণ নিয়ে ১৫তম দিনেই বিল পরিশোধ করা, যার ফলে তার নিট লাভ হবে $₹৩০,০০০ - ₹১১,১৬২ = ₹১৮,৮৩৮$ টাকা।
উদাহরণ 4
হাওড়ার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা অটোমোবাইল সংস্থাকে ৯০ দিনের বাকিতে ₹২০,০০,০০০ টাকার যন্ত্রাংশ বিক্রি করেছে। তহবিলের টান পড়ায় কারখানাটি তাদের ইনভয়েস একটি ফ্যাক্টরিং সংস্থাকে দেয়। ফ্যাক্টরের শর্তাবলী নিম্নরূপ:
• অগ্রিম প্রদানের হার: ইনভয়েস মূল্যের ৮৫% তাৎক্ষণিক প্রদান।
• ফ্যাক্টরিং কমিশন: ইনভয়েস মূল্যের ২.০%।
• অগ্রিমের ওপর বার্ষিক সুদ: ৯০ দিনের জন্য বার্ষিক ১২%।
• সংরক্ষিত তহবিল (Reserve): চূড়ান্ত আদায় পর্যন্ত ১৫% অর্থ আটকে রাখা।
গণনা করো: (ক) ফ্যাক্টরের নিকট থেকে প্রাপ্য মোট প্রাথমিক অগ্রিম, (খ) কমিশন ও সুদের মোট কর্তন, (গ) কারখানার প্রাপ্ত তাৎক্ষণিক নিট নগদ অর্থ, এবং (ঘ) দেনাদার অর্থ শোধ করার পর কারখানা আর কত টাকা পাবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপে ধাপে সমাধান:

অংশ (ক): মোট অগ্রিম ও সংরক্ষিত তহবিল:
• ইনভয়েসের মোট মূল্য = ₹২০,০০,০০০।
• অনুমোদিত অগ্রিম (৮৫%) = $৮৫\% \times ₹২০,০০,০০০ = ₹১৭,০০,০০০$।
• সংরক্ষিত তহবিল (১৫%) = $১৫\% \times ₹২০,০০,০০০ = ₹৩,০০,০০০$।

অংশ (খ): ফ্যাক্টরের ফি ও কর্তন:
১. ফ্যাক্টরিং কমিশন (মোট মূল্যের ২%):
$$\text{কমিশন} = ২\% \times ₹২০,০০,০০০ = ₹৪০,০০০$$
২. অগ্রিমের ওপর সুদ (₹১৭,০০,০০০-এর ওপর ৯০ দিনের জন্য ১২%):
$$\text{সুদ} = ₹১৭,০০,০০০ \times ১২\% \times \left( \frac{৯০}{৩৬৫} \right) = ₹১৭,০০,০০০ \times ০.১২ \times ০.২৪৬৫৭৫ = ₹৫০,৩০১$$
• মোট কর্তন = $₹৪০,০০০ + ₹৫০,৩০১ = ₹৯০,৩০১$।

অংশ (গ): কারখানা কর্তৃক প্রাপ্ত তাৎক্ষণিক নিট নগদ:
$$\text{নিট নগদ অগ্রিম} = \text{অনুমোদিত অগ্রিম} - \text{মোট কর্তন} = ₹১৭,০০,০০০ - ₹৯০,৩০১ = ₹১৬,০৯,৬৯৯$$

অংশ (ঘ): মেয়াদান্তে চূড়ান্ত অর্থ প্রাপ্তি:
৯০ দিন পর ক্রেতা দেনাদার ফ্যাক্টরকে পুরো ₹২০,০০,০০০ পরিশোধ করলে ফ্যাক্টর আটকে রাখা সংরক্ষিত তহবিল ₹৩,০০,০০০ কারখানাটিকে ফেরত দেবে। কারখানাটির মোট প্রাপ্ত নগদ দাঁড়াবে $₹১৬,০৯,৬৯৯ + ₹৩,০০,০০০ = ₹১৯,০৯,৬৯৯$ টাকা।
উদাহরণ 5
কলকাতা ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামক একটি পাবলিক কোম্পানির ২০২৪ সালের ৩১ মার্চের নিরীক্ষিত ব্যালেন্স শিট থেকে নিম্নরূপ তথ্য পাওয়া গেছে:
• পরিশোধিত সাধারণ শেয়ার মূলধন: ₹৬০ কোটি
• মুক্ত সঞ্চিতি (Free Reserves): ₹৩০ কোটি
• সিকিউরিটিজ প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্ট: ₹১০ কোটি
• ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বার্ষিক টার্নওভার: ₹৫৫০ কোটি
• দৃশ্যমান নিট সম্পদ (Net Worth): ₹১০০ কোটি
মূল্যায়ন করো: (ক) কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৭৬ অনুযায়ী কোম্পানিটি কি সাধারণ জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের যোগ্য? (খ) সাধারণ জনসাধারণের কাছ থেকে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ কত টাকা আমানত সংগ্রহ করতে পারবে? এবং (গ) জনসাধারণের আমানতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অনুমোদিত মেয়াদ কত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
আইনি বিশ্লেষণ ও গাণিতিক সমাধান:

অংশ (ক): আমানত সংগ্রহের আইনি যোগ্যতা (Section 76):
কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৭৬ অনুসারে একটি পাবলিক কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের যোগ্য হয় যদি তার:
১. নিট সম্পদ $\ge ₹১০০\text{ কোটি}$ (কোম্পানির নিট সম্পদ ₹১০০ কোটি $\rightarrow$ শর্ত পূরণ হয়েছে), অথবা
২. বার্ষিক টার্নওভার $\ge ₹৫০০\text{ কোটি}$ (কোম্পানির টার্নওভার ₹৫৫০ কোটি $\rightarrow$ শর্ত পূরণ হয়েছে)।
উপসংহার: উভয় মানদণ্ড পূরণ করায় কোম্পানিটি আইনত একটি যোগ্য পাবলিক কোম্পানি।

অংশ (খ): আমানত সংগ্রহের সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সীমা:
• মূল ভিত্তি = পরিশোধিত মূলধন + মুক্ত সঞ্চিতি + সিকিউরিটিজ প্রিমিয়াম
$$\text{ভিত্তি} = ₹৬০\text{ কোটি} + ₹৩০\text{ কোটি} + ₹১০\text{ কোটি} = ₹১০০\text{ কোটি}$$
• সাধারণ জনসাধারণের থেকে আমানত গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা হলো মূল ভিত্তির ২৫%:
$$\text{সর্বোচ্চ সীমা} = ২৫\% \times ₹১০০\text{ কোটি} = ₹২৫\text{ কোটি}$$
(উল্লেখ্য, কোম্পানির নিজস্ব সদস্যদের থেকে অতিরিক্ত ১০% সহ মোট সীমা ৩৫ কোটি টাকা)।

অংশ (গ): মেয়াদের আইনি বিধিনিষেধ:
• সর্বনিম্ন অনুমোদিত মেয়াদ: ৬ মাস।
• সর্বোচ্চ অনুমোদিত মেয়াদ: ৩৬ মাস (৩ বছর)।
কোনো অবস্থাতেই ৬ মাসের কম বা ৩৬ মাসের বেশি মেয়াদের জন্য আমানত গ্রহণ করা যাবে না।
উদাহরণ 6
সল্টলেক সেক্টর ৫-এ অবস্থিত মেডিওবায়ো অ্যানালিটিক্স লিমিটেড ইউরোপে নতুন বায়োটেকনোলজি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং একটি পেটেন্ট অধিগ্রহণের জন্য মার্কিন $৫০ মিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করতে চায়। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের NASDAQ-এ ADR ইস্যু করবেন নাকি লুক্সেমবার্গ স্টক এক্সচেঞ্জে GDR ইস্যু করবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। বিশ্লেষণ করো: (ক) আইনি বাধ্যবাধকতা ও খরচের পার্থক্য, (খ) লক্ষ্য বিনিয়োগকারী শ্রেণি, এবং (গ) দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূলধন সংগ্রহের জন্য কোনটি অধিক যুক্তিযুক্ত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
তুলনামূলক কৌশলগত মূল্যায়ন:

অংশ (ক): আইনি বাধ্যবাধকতা ও খরচের পার্থক্য:
• আমেরিকান ডিপোজিটরি রসিদ (ADR): মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত করতে হয়। মার্কিন SEC-এর তীব্র নজরদারি, কঠোর হিসাবরক্ষণ নীতি (US GAAP বা IFRS সমবায়) এবং ব্যয়বহুল সর্বেন্স-অক্সলে অ্যাক্ট (SOX) পরিপালন করতে হয়, যার আইনি ও অডিট খরচ অত্যন্ত চড়া।
• গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ (GDR): ইউরোপীয় স্টক এক্সচেঞ্জে (লুক্সেমবার্গ বা লন্ডন) তালিকাভুক্ত হয়। নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ তুলনামূলক নমনীয়, হিসাবের সমন্বয় সহজ এবং আইনি ব্যয় ADR-এর তুলনায় অনেক কম।

অংশ (খ): লক্ষ্য বিনিয়োগকারী শ্রেণি:
• ADR মূলত মার্কিন সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (পেনশন ফান্ড, হেজ ফান্ড) টার্গেট করে।
• GDR সমগ্র ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ বহুজাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য করে ইস্যু করা হয়।

অংশ (গ): চূড়ান্ত সুপারিশ:
যেহেতু সংস্থাটির তহবিলের মূল প্রয়োজন ইউরোপীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও জুরিখের পেটেন্ট ক্রয়, এবং সংস্থাটি কম আইনি জটিলতা, কম খরচ ও দ্রুত কার্যকারিতা চায়, তাই লুক্সেমবার্গ স্টক এক্সচেঞ্জে GDR (গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ) ইস্যু করাই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ডিবেঞ্চারের সুদ এবং অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ করের ক্ষেত্রে একই রকম বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ডিবেঞ্চারের সুদ কর-পূর্ব আয় থেকে বাদ যায় এবং কর সাশ্রয় (Kd = i * (1 - t)) সৃষ্টি করে; কিন্তু অগ্রাধিকার লভ্যাংশ কর-পরবর্তী মুনাফা (PAT) থেকে দেওয়া হয়, ফলে এতে কোনো কর সুবিধা মেলে না।

সাধারণ ভুল ধারণা

মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ সম্পূর্ণ অর্থহীন বা নিখরচায় তহবিল মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঞ্চিত মুনাফায় কোনো প্রত্যক্ষ ইস্যু খরচ না থাকলেও এর একটি প্রচ্ছন্ন সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) রয়েছে, যা শেয়ারহোল্ডারদের বিকল্প আয়ের সুযোগ হারানোর সমান।

সাধারণ ভুল ধারণা

ADR এবং GDR-কে একই বাজারে কেনাবেচা হওয়া সিকিউরিটি মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ADR কেবলমাত্র মার্কিন শেয়ার বাজারে (NYSE, NASDAQ) লেনদেন হয়; আর GDR প্রধানত ইউরোপীয় বাজারে (লন্ডন, লুক্সেমবার্গ) লেনদেন হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

যেকোনো নতুন ক্ষুদ্র ব্যবসা বা স্টার্টআপ বাণিজ্যিক দলিল (CP) ছাড়তে পারে বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

বাণিজ্যিক দলিল হলো অসুরক্ষিত অর্থবাজারের দলিল, যা কেবলমাত্র শীর্ষ ক্রেডিট রেটিংপ্রাপ্ত (A2/P2) এবং ন্যূনতম ₹৪ কোটি নিট সম্পদযুক্ত প্রতিষ্ঠিত করপোরেটরাই ইস্যু করতে পারে।

করপোরেট অর্থসংস্থানের স্থাপত্য: শ্রেণিবিভাগ, মূল স্তম্ভ ও আন্তর্জাতিক উৎসসমূহ

ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের উৎসসমূহ (Sources of Business Finance) মেয়াদ ও মালিকানাভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ | ইকুইটি বনাম ঋণ | আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থান (ADR/GDR) ১. তহবিলের শ্রেণিবিভাগ ⏳ মেয়াদ অনুযায়ী (Time Horizon) Long-Term: Shares, Debentures (>5 yrs) Medium-Term: Public Deposits (1-5 yrs) Short-Term: Trade Credit, CP (<1 yr) 👑 মালিকানা অনুযায়ী (Ownership) Owner's Funds: Equity & Retained Borrowed Funds: Debentures & Loans 🌱 উৎস অনুযায়ী (Origin) Internal Generation: Ploughing Back of Profits, Reserves External Generation: Capital Market, Banks ২. মূলধন কাঠামোর মূল স্তম্ভ 📈 ইকুইটি শেয়ার (Equity) Permanent Risk Capital (No redemption) Voting Rights & Residual Ownership Discretionary Dividends (Profit-linked) 📜 ডিবেঞ্চার / ঋণপত্র (Debt) Fixed Interest Charge (Mandatory) Tax-Deductible Interest (Tax Shield) No Voting Rights / Asset Mortgage 🏦 পুঞ্জীভূত মুনাফা (Retained Profits) Zero Flotation / Underwriting Cost No Dilution of Control / Independence Enhances Equity Market Capitalization ৩. আন্তর্জাতিক তহবিল ও নির্বাচন 🌐 ADR ও GDR ADR (American Depository Receipt): Issued to US citizens; traded on NYSE/NASDAQ GDR (Global Depository Receipt): Traded on European bourses (London/Luxembourg) 💳 FCCB ও বহুজাতিক ঋণ FCCB (Foreign Currency Convertible Bonds) ECB (External Commercial Borrowings) Factoring & Lease Financing Instruments ⚖️ উৎস নির্বাচনের নির্ধারক 1. Cost of Capital (Flotation vs Interest) 2. Financial Risk (Solvency & Default) 3. Control Dilution (Voting Rights Protection) 4. Tax Shield (Debt Interest Tax Benefit)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ব্যবসায়িক অর্থসংস্থান হলো কারবারের মূল চালিকাশক্তি যা স্থায়ী ও কার্যকরী মূলধনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। স্থায়ী মূলধন দীর্ঘমেয়াদী অচল সম্পদে বিনিয়োগিত হয় এবং কারবারের প্রকৃতি, উৎপাদনের পরিমাপ ও প্রযুক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে; অপরপক্ষে কার্যকরী মূলধন দৈনন্দিন পরিচালন চক্রকে সচল রাখে এবং উৎপাদন চক্রের দৈর্ঘ্য, মজুদ পণ্যের আবর্তন ও ঋণের মেয়াদের ওপর নির্ভরশীল। তহবিলের উৎসসমূহ সময়কাল (স্বল্প, মধ্যম, দীর্ঘমেয়াদী), মালিকানা (মালিকানা তহবিল বনাম ঋণকৃত তহবিল) এবং উৎপত্তি (অভ্যন্তরীণ বনাম বাহ্যিক) অনুসারে শ্রেণিবদ্ধ। মালিকানা তহবিলের মধ্যে সাধারণ শেয়ার স্থায়ী ঝুঁকি বহনকারী মূলধন ও ভোটাধিকার প্রদান করে, অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরতে অগ্রাধিকার দেয় কিন্তু ভোটাধিকার দেয় না (ধারা ৫৫ অনুসারে অপরিশোধ্য অগ্রাধিকার শেয়ার নিষিদ্ধ), এবং মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ হলো স্ব-অর্থসংস্থানের সবচেয়ে মিতব্যয়ী অভ্যন্তরীণ উৎস। ঋণকৃত তহবিলের ক্ষেত্রে ডিবেঞ্চার বা ঋণপত্র কর-ছাড়ের অনন্য সুবিধা (Kd = i * (1 - t)) প্রদান করে, জনসাধারণের আমানত নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে মধ্যমমেয়াদী অর্থ জোগায়, এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কার্যকরী ঋণ সরবরাহ করে। শিল্পায়নে গতি আনতে IFCI, IDBI, SIDBI ও WBFC দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক মূলধন যোগায়। আধুনিক বিকল্প অর্থসংস্থানের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত বাণিজ্যিক ঋণ, ফ্যাক্টরিং (দায়যুক্ত ও দায়মুক্ত), ইজারা অর্থসংস্থান (পরিচালন ও আর্থিক ইজারা) এবং বাণিজ্যিক দলিল (CP - ৭ দিন থেকে ১ বছর, ₹৫ লক্ষের গুণিতক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ADR (মার্কিন বাজার), GDR (ইউরোপীয় বাজার) এবং FCCB (রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক ঋণ) বিশ্ববাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে সহায়ক। সর্বোত্তম অর্থসংস্থান নির্বাচনে ব্যয়, আর্থিক ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রণ বিলোপ, জামানত এবং পরিচালন নমনীয়তার বিজ্ঞানসম্মত সমন্বয় প্রয়োজন।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উদ্দেশ্য, সময়কাল এবং অর্থসংস্থান উৎসের ভিত্তিতে স্থায়ী মূলধন ও কার্যকরী মূলধনের পার্থক্য নির্দেশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. উদ্দেশ্য: স্থায়ী মূলধন অচল উৎপাদনশীল সম্পত্তি (জমি, কারখানা, ভারী যন্ত্রপাতি) অর্জন করে দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন ক্ষমতা সৃষ্টি করে। কার্যকরী মূলধন চলতি সম্পদ (কাঁচামাল, দেনাদার, মজুত) ও দৈনন্দিন খরচ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ২. সময়কাল: স্থায়ী মূলধন দীর্ঘমেয়াদে (> ৫ থেকে ২৫+ বছর) স্থায়ীভাবে আবদ্ধ থাকে। কার্যকরী মূলধন স্বল্পমেয়াদে (< ১ বছর) ক্রমাগত আবর্তিত হয়। ৩. অর্থসংস্থান উৎস: স্থায়ী মূলধনের জন্য সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকার শেয়ার, ডিবেঞ্চার, সংরক্ষিত তহবিল ও মেয়াদী ঋণ ব্যবহার করা হয়। কার্যকরী মূলধনের জন্য ক্যাশ ক্রেডিট, বাণিজ্যিক ঋণ, ফ্যাক্টরিং ও বাণিজ্যিক দলিল (CP) ব্যবহৃত হয়।
স্থায়ী উৎপাদন পরিকাঠামো এবং আবর্তনশীল পরিচালন তারল্যের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
2
মুনাফার পুনর্বিনিয়োগকে কেন 'স্ব-অর্থসংস্থান' বলা হয় এবং এটি কেন সম্পূর্ণ নিখরচায় তহবিল নয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. স্ব-অর্থসংস্থান: অর্জিত নিট মুনাফা বাইরে বণ্টন না করে কারবারে রেখে দেওয়া হয়। এতে কোনো অবলিখন খরচ নেই, নতুন ঋণ তৈরি হয় না, কোনো জামানত লাগে না এবং ভোটাধিকার হাতছাড়া হয় না। তাই এটি অভ্যন্তরীণ স্ব-অর্থসংস্থান। ২. সুযোগ ব্যয়: এতে দৃশ্যত কোনো নগদ খরচ নেই ঠিকই, কিন্তু এর একটি প্রচ্ছন্ন সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) রয়েছে। এই মুনাফা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে দিলে তারা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করে যে রিটার্ন পেতে পারতেন, কোম্পানি সেই বিকল্প উপার্জনের সুযোগটি ব্যবহার করছে।
প্রত্যক্ষ নগদ ব্যয়ের অভাব এবং পরোক্ষ বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয়ের ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
3
আইনি মর্যাদা, আয়ের নিশ্চয়তা এবং নিয়ন্ত্রণাধিকারের দিক থেকে সাধারণ শেয়ার ও ডিবেঞ্চারের তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. আইনি মর্যাদা: সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির যৌথ আইনি মালিক। ডিবেঞ্চারধারীরা হলেন কোম্পানির বহিরাগত পাওনাদার (Creditors)। ২. আয়ের নিশ্চয়তা: শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফা সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল লভ্যাংশ পান (ক্ষতি হলে শূন্য)। ডিবেঞ্চারধারীরা চুক্তিবদ্ধ নির্দিষ্ট হারে সুদ পান, যা লাভ হোক বা ক্ষতি কোম্পানি দিতে বাধ্য। ৩. নিয়ন্ত্রণাধিকার: শেয়ারহোল্ডাররা সাধারণ সভায় গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার (এক শেয়ার এক ভোট) ভোগ করেন এবং পর্ষদ নির্বাচন করেন। ডিবেঞ্চারধারীদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।
মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বনাম পাওনাদার ও সুদের আইনি অবস্থানের বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করো।
4
ফ্যাক্টরিংয়ের কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করো এবং দায়যুক্ত ও দায়মুক্ত ফ্যাক্টরিংয়ের পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. কার্যপদ্ধতি: কোম্পানি তার বাকিতে বিক্রির বিল বা ইনভয়েস একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (ফ্যাক্টর) হস্তান্তর করে। ফ্যাক্টর তাৎক্ষণিকভাবে ৮০% থেকে ৯০% নগদ অগ্রিম দেয় এবং দেনাদারের থেকে টাকা আদায়ের দায়িত্ব নেয়। আদায় শেষে নিজস্ব ফি কেটে বাকি টাকা কোম্পানিকে বুঝিয়ে দেয়। ২. দায়যুক্ত ফ্যাক্টরিং (Recourse): দেনাদার টাকা না দিলে বা দেউলিয়া হলে অনাদায়ী ঋণের ক্ষতি মূল বিক্রেতা কোম্পানিকে বহন করতে হয় এবং ফ্যাক্টরের অগ্রিম টাকা ফেরত দিতে হয়। ৩. দায়মুক্ত ফ্যাক্টরিং (Non-Recourse): অনাদায়ী ঋণের সম্পূর্ণ দায়ভার ফ্যাক্টর নিজের কাঁধে তুলে নেয়; দেনাদার ব্যর্থ হলেও কোম্পানিকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না।
দেনাদার ঋণখেলাপি হলে আর্থিক ঝুঁকি কার কাঁধে বর্তায় তা চিহ্নিত করো।
5
আমেরিকান ডিপোজিটরি রসিদ (ADR) ও গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ (GDR) কী? এদের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১. ধারণা: ADR এবং GDR হলো বৈদেশিক ডিপোজিটরি ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা ডলার মূল্যের হস্তান্তরযোগ্য সিকিউরিটি, যা ভারতীয় কোম্পানির শেয়ারের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহজে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। ২. প্রধান পার্থক্য: • লেনদেনের বাজার: ADR কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে (NYSE, NASDAQ) কেনাবেচা হয়। অপরদিকে GDR ইউরোপীয় ও বিশ্ববাজারে (লন্ডন, লুক্সেমবার্গ স্টক এক্সচেঞ্জ) লেনদেন হয়। • আইনি কড়াকড়ি: ADR-এর ক্ষেত্রে মার্কিন SEC-এর অত্যন্ত কঠোর হিসাব ও আইনি মানদণ্ড মানতে হয়। GDR-এর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নিয়মাবলী অনেক বেশি নমনীয় ও সাশ্রয়ী।
ভৌগোলিক বাজার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি কাঠামোর পার্থক্যের ওপর জোর দাও।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ব্যবসায়িক অর্থসংস্থানের উৎসসমূহ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।