Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Chemistry • অধ্যায় 5
আনুমানিক সময়: ৯০ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

States of Matter: Gases and Liquids

রসায়ন বিজ্ঞান হলো পদার্থের গঠন, উপাদান, ধর্ম এবং পারস্পরিক রূপান্তর সংক্রান্ত এক কেন্দ্রীয় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। একাদশ শ্রেণির এই প্রারম্ভিক অধ্যায়টি আধুনিক পরিমাণগত রসায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। এখানে শিক্ষার্থীরা পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক শ্রেণিবিন্যাস, আন্তর্জাতিক এসআই (SI) একক ব্যবস্থা, তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা এবং মাত্রা বিশ্লেষণের নিয়মাবলী সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা অর্জন করে। এরপর ঐতিহাসিক রাসায়নিক সংযোগ সূত্রাবলি যেমন ভরের সংরক্ষণ সূত্র, স্থিরানুপাত সূত্র, গুণানুপাত সূত্র, মিথোঽনুপাত সূত্র, গে-লুসাকের গ্যাসীয় আয়তন সূত্র এবং অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পের মাধ্যমে ডাল্টনের পরমাণুবাদের বিকাশ বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। অধ্যায়টির সর্বপ্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো মোল ধারণা (Mole Concept), যা পারমাণবিক ও আণবিক ভর, আইসোটোপীয় গড় ভর এবং প্রমাণ চাপ ও তাপমাত্রায় (STP) মোলার আয়তনের সাথে আণুবীক্ষণিক কণাসমূহকে সংযুক্ত করে। এছাড়াও শতকরা সংযুতি, স্থূল ও আণবিক সংকেত নির্ণয়, বাষ্পঘনত্ব, রাসায়নিক সমীকরণ ভিত্তিক স্টয়কিওমেট্রি, সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent) এবং দ্রবণের বিভিন্ন গাঢ়ত্ব একক যেমন মোলারিটি, মোলালিটি ও মোল ভগ্নাংশের গাণিতিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে উপস্থাপিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

স্টয়কিওমেট্রি ও মোল ধারণা সমগ্র রসায়নের সর্বজনীন কার্যপ্রণালী হিসেবে বিবেচিত হয়। ওষুধ শিল্পে জীবনদায়ী ওষুধ প্রস্তুত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিষাক্ত উপজাত এড়াতে সঠিক স্টয়কিওমেট্রিক অনুপাত ও সীমাস্থ বিকারক নির্ধারণ অপরিহার্য। পরিবেশ রসায়নে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বা পানীয় জলে ক্ষতিকারক ধাতব আয়নের উপস্থিতি পিপিএম বা মোলারিটি এককে হিসাব করা হয়। ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ও জৈবরসায়নে স্যালাইন দ্রবণ তৈরি, ইনজেকশনের মাত্রা এবং রক্তের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষায় দ্রবণের গাঢ়ত্ব গণনা জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে। ডব্লিউবিসিএইচএসই (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা, ডব্লিউবিজেইই (WBJEE) এবং জেইই/নিট (JEE/NEET) প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভৌত রসায়নের সমস্ত পরবর্তী অধ্যায় যেমন রাসায়নিক সাম্যাবস্থা, তাপগতিবিদ্যা, রেডক্স বিক্রিয়া এবং দ্রবণ রসায়নে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের জন্য এই অধ্যায়টি একান্ত অপরিহার্য।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • দশম শ্রেণি ভৌত বিজ্ঞান: মৌল ও যৌগের ধারণা, সংকেত লিখন, যোগ্যতা ও রাসায়নিক সমীকরণ সমতা বিধান
  • প্রাথমিক পাটিগণিত ও বীজগণিত: অনুপাত-সমানুপাত, শতকরা হিসাব এবং সূচকীয় রাশির ব্যবহার

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 মডিউল ১: রসায়নের পরিধি, পদার্থের শ...
2 মডিউল ২: রাসায়নিক সংযোগ সূত্রাবলি,...
3 মডিউল ৩: পারমাণবিক ভর, আণবিক ভর, সং...
4 মডিউল ৪: শতকরা সংযুতি, স্থূল সংকেত,...
5 মডিউল ৫: স্টয়কিওমেট্রি, রাসায়নিক...
6 মডিউল ৬: দ্রবণ ও দ্রবণের গাঢ়ত্ব প্...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

মডিউল ১: রসায়নের পরিধি, পদার্থের শ্রেণিবিন্যাস, এসআই একক ও তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা

রসায়ন বিজ্ঞান হলো পদার্থের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম এবং এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরের বিজ্ঞান। পদার্থের ভৌত অবস্থা অনুযায়ী পদার্থ মূলত তিন প্রকার: কঠিন (Solid), তরল (Liquid) এবং গ্যাসীয় (Gas)। রাসায়নিক সংযুতির ভিত্তিতে পদার্থকে বিশুদ্ধ পদার্থ এবং মিশ্রণে বিভক্ত করা হয়।

১. পদার্থের রাসায়নিক শ্রেণিবিন্যাস
  • বিশুদ্ধ পদার্থ (Pure Substances): যাদের উপাদান সর্বত্র নির্দিষ্ট রাসায়নিক ধর্ম বজায় রাখে।
    • মৌল (Elements): একই প্রকার পরমাণু দ্বারা গঠিত পদার্থ, যাদের সাধারণ ভৌত বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো সরলতর পদার্থে বিশ্লেষণ করা যায় না (যেমন: তামা, লোহা, হাইড্রোজেন, সোডিয়াম)।
    • যৌগ (Compounds): দুই বা ততোধিক মৌল নির্দিষ্ট ভরের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে গঠিত নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ (যেমন: জল $H_2O$, গ্লুকোজ $C_6H_{12}O_6$)।
  • মিশ্রণ (Mixtures): দুই বা ততোধিক পদার্থ যেকোনো অনুপাতে একত্রে মিশে গঠিত হয় এবং উপাদানের নিজস্ব ধর্ম অপরিবর্তিত থাকে।
    • সমসত্ত্ব মিশ্রণ (Homogeneous Mixture): উপাদানগুলি সর্বত্র সুষমভাবে বিন্যস্ত থাকে এবং খালি চোখে বা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পৃথক করা যায় না (যেমন: চিনির জলীয় দ্রবণ, বাতাস)।
    • অসমসত্ত্ব মিশ্রণ (Heterogeneous Mixture): উপাদানগুলি সুষমভাবে বণ্টিত থাকে না এবং বিভিন্ন অংশের সংযুতি ভিন্ন হয় (যেমন: বালু ও লোহার গুঁড়োর মিশ্রণ, ধোঁয়াশা)।
২. আন্তর্জাতিক এসআই (SI) মৌলিক এককসমূহ
রাশি (Physical Quantity)এককের নাম (Unit Name)প্রতীক (Symbol)সংজ্ঞা / প্রাসঙ্গিকতা
দৈর্ঘ্য (Length)মিটার (Meter)mশূন্যস্থানে আলো $1/299792458$ সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে।
ভর (Mass)কিলোগ্রাম (Kilogram)kgপ্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক $h = 6.62607015 \times 10^{-34}\text{ J}\cdot\text{s}$ এর সাপেক্ষে সংজ্ঞায়িত।
সময় (Time)সেকেন্ড (Second)sসিজিয়াম-১৩৩ ($^{133}\text{Cs}$) পরমাণুর ৯১৯২৬৩১৭৭০ টি স্পন্দনের কাল।
তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current)অ্যাম্পিয়ার (Ampere)Aপ্রাথমিক আধান $e = 1.602176634 \times 10^{-19}\text{ C}$ এর সাপেক্ষে নির্ধারিত।
তাপমাত্রা (Thermodynamic Temperature)কেলভিন (Kelvin)Kবোল্টজম্যান ধ্রুবক $k = 1.380649 \times 10^{-23}\text{ J/K}$ এর সাপেক্ষে নির্ধারিত।
পদার্থের পরিমাণ (Amount of Substance)মোল (Mole)mol$6.02214076 \times 10^{23}$ টি প্রাথমিক সত্তা বিশিষ্ট পরিমাণ।
দীপন প্রাবল্য (Luminous Intensity)ক্যান্ডেলা (Candela)cdনির্ধারিত কম্পাঙ্কের একবর্ণী বিকিরণ উৎস দ্বারা সংজ্ঞায়িত।
৩. পরিমাপে অনিশ্চয়তা ও তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা (Significant Figures)

যেকোনো বৈজ্ঞানিক পরিমাপে নিখুঁত মান পাওয়ার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যার নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়:

  • নিয়ম ১: সমস্ত অশূন্য অঙ্কই তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন: $285\text{ cm}$ সংখ্যাটিতে তিনটি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক আছে।
  • নিয়ম ২: দুটি অশূন্য অঙ্কের মধ্যবর্তী সকল শূন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন: $2.005\text{ g}$-এ চারটি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক বিদ্যমান।
  • নিয়ম ৩: প্রথম অশূন্য অঙ্কের পূর্বে অবস্থিত প্রাথমিক শূন্যগুলি তাৎপর্যপূর্ণ নয়; এগুলি কেবল দশমিকের স্থান নির্দেশ করে। যেমন: $0.03\text{ g}$-এ ১টি এবং $0.0052$-এ ২টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক রয়েছে।
  • নিয়ম ৪: দশমিক বিন্দুর ডানদিকে অবস্থিত প্রান্তীয় শূন্যগুলি তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন: $0.200\text{ g}$-এ ৩টি এবং $100.0$-এ ৪টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক আছে।
  • নিয়ম ৫: দশমিক বিন্দুবিহীন সংখ্যার প্রান্তীয় শূন্য তাৎপর্যপূর্ণ নাও হতে পারে। যেমন: $100$ সংখ্যাটিতে ১টি, ২টি বা ৩টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক হতে পারে। বৈজ্ঞানিক সংকেতে লিখলে এই দ্বিধা দূর হয়: $1 \times 10^2$ (১টি), $1.0 \times 10^2$ (২টি), $1.00 \times 10^2$ (৩টি)।
  • নিয়ম ৬: গণনা করা নির্দিষ্ট বস্তুর সংখ্যায় (যেমন: ২০টি ডিম বা ১৫টি পেনসিল) তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা অসীম (Infinite) ধরা হয় ($20 = 20.000...$)।
যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের নিয়ম:
  • যোগ বা বিয়োগের ক্ষেত্রে ফলাফলে দশমিকের পরে ততগুলিই অঙ্ক থাকবে যা প্রদত্ত সংখ্যাগুলির মধ্যে দশমিকের পর সর্বনিম্ন অঙ্কের সমান (যেমন: $18.0 + 1.012 = 19.012 \rightarrow 19.0$)।
  • গুণ বা ভাগের ক্ষেত্রে অন্তিম ফলাফলে মূল সংখ্যাগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যার সমান অঙ্ক রাখতে হবে (যেমন: $2.5 \times 1.25 = 3.125 \rightarrow 3.1$)।

মডিউল ২: রাসায়নিক সংযোগ সূত্রাবলি, ডাল্টনের পরমাণুবাদ ও অ্যাভোগাড্রো প্রকল্প

মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠনের সময় পাঁচটি মৌলিক প্রাকৃতিক সূত্র মেনে চলে, যা রাসায়নিক সংযোগ সূত্র নামে পরিচিত।

১. ভরের সংরক্ষণ সূত্র (Law of Conservation of Mass - ল্যাভয়সিয়ে, ১৭৮৯)

কোনো রাসায়নিক বা ভৌত পরিবর্তনের সময় পদার্থের মোট ভর সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে; ভর সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। অর্থাৎ, বিক্রিয়কসমূহের মোট ভর = উৎপন্ন পদার্থসমূহের মোট ভর।

উদাহরণ: $100\text{ g } CaCO_3$ উত্তপ্ত করলে $56\text{ g } CaO$ এবং $44\text{ g } CO_2$ উৎপন্ন হয়। মোট বিক্রিয়ক ($100\text{ g}$) = মোট বিক্রিয়াজাত পদার্থ ($56 + 44 = 100\text{ g}$)।

২. স্থিরানুপাত সূত্র (Law of Definite Proportions - প্রাউস্ট, ১৭৯৯)

একটি নির্দিষ্ট যৌগে উপস্থিত উপাদান মৌলসমূহ সর্বদা ভরের নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় অনুপাতে যুক্ত থাকে, যৌগটি যে উৎস থেকেই সংগৃহীত হোক বা যে পদ্ধতিতেই প্রস্তুত করা হোক না কেন।

উদাহরণ: নদী, বৃষ্টি, ভূগর্ভস্থ বা ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত বিশুদ্ধ জলে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত সর্বদা $1:8$ ($2\text{ g } H : 16\text{ g } O$)।

৩. গুণানুপাত সূত্র (Law of Multiple Proportions - ডাল্টন, ১৮০৩)

যখন দুটি মৌল পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে দুই বা ততোধিক ভিন্ন যৌগ গঠন করে, তখন একটি মৌলের নির্দিষ্ট ভরের সাথে অপর মৌলটির যে ভিন্ন ভিন্ন ভর যুক্ত হয়, সেই ভরগুলির অনুপাত ক্ষুদ্র পূর্ণসংখ্যার সরল অনুপাত হয়।

উদাহরণ: কার্বন ও অক্সিজেন দুটি যৌগ গঠন করে—কার্বন মনোক্সাইড ($CO$) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$)।

  • $CO$-তে: ১২ গ্রাম কার্বনের সাথে যুক্ত হয় ১৬ গ্রাম অক্সিজেন।
  • $CO_2$-তে: ১২ গ্রাম কার্বনের সাথে যুক্ত হয় ৩২ গ্রাম অক্সিজেন।
  • ১২ গ্রাম কার্বনের সাথে যুক্ত অক্সিজেনের ভরের অনুপাত $= 16 : 32 = 1 : 2$, যা একটি সরল অনুপাত।
৪. মিথোঽনুপাত বা তুল্যানুপাত সূত্র (Law of Reciprocal Proportions - রিখটার, ১৭৯২)

দুটি ভিন্ন মৌল পৃথকভাবে তৃতীয় একটি মৌলের নির্দিষ্ট ভরের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করলে, প্রথম মৌল দুটির ভরের অনুপাত যা হয়, তারা নিজেরা পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাদের ভরের অনুপাত সেই অনুপাতের সমান বা তার সরল গুণিতক বা উপগুণিতক হবে।

৫. গে-লুসাকের গ্যাসীয় আয়তন সূত্র (Gay-Lussac's Law of Gaseous Volumes, ১৮০৮)

একই উষ্ণতা ও চাপে গ্যাসীয় বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিক্রিয়ক গ্যাসগুলি তাদের আয়তনের সরল অনুপাতে বিক্রিয়া করে এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থ যদি গ্যাসীয় হয়, তবে বিক্রিয়ার শর্তাধীনে তার আয়তনও বিক্রিয়ক গ্যাসগুলির আয়তনের সাথে সরল অনুপাতে থাকে।

উদাহরণ: $H_2(g) + Cl_2(g) \rightarrow 2 HCl(g)$। এখানে ১ আয়তন হাইড্রোজেন + ১ আয়তন ক্লোরিন মিলে ২ আয়তন হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস তৈরি করে। আয়তনের অনুপাত $1 : 1 : 2$, যা একটি সরল অনুপাত।

৬. ডাল্টনের পরমাণুবাদ ও তার আধুনিক রূপান্তর

১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রকাশ করেন A New System of Chemical Philosophy।

  • মূল স্বীকার্য: পদার্থ অতি ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা পরমাণু দ্বারা গঠিত; একই মৌলের সমস্ত পরমাণুর ভর ও ধর্ম অভিন্ন; ভিন্ন মৌলের পরমাণু ভিন্ন ভর ও ধর্মের হয়; রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণু কেবল পুনর্বিন্যস্ত হয়।
  • আধুনিক সংশোধন: পরমাণু অবিভাজ্য নয় (ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রনে বিভক্ত); আইসোটোপের আবিষ্কারের ফলে একই মৌলের ভিন্ন ভরবিশিষ্ট পরমাণু পাওয়া যায় (যেমন: $^{35}Cl$ ও $^{37}Cl$); আইসোবারের ক্ষেত্রে ভিন্ন মৌলের পরমাণুর ভর এক হতে পারে ($^{40}Ar$ ও $^{40}Ca$); পরমাণুর ভর অবিনাশী নয় (আইনস্টাইনের ভর-শক্তি রূপান্তর $E = mc^2$)।
৭. অ্যাভোগাড্রো প্রকল্প (Avogadro's Hypothesis, ১৮১১)

বিবৃতি: একই উষ্ণতা ও চাপে সমআয়তন সকল গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু থাকে।

অ্যাভোগাড্রো প্রথম পরমাণু (মৌলের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে বা নাও পারে) এবং অণুর (পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীন অস্তিত্বশীল) মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করেন। অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পের মাধ্যমে গে-লুসাকের সূত্রের সাথে ডাল্টনের পরমাণুবাদের অসঙ্গতি দূর হয় এবং গ্যাসীয় মৌলের পারমাণবিকতা (যেমন হাইড্রোজেনের দ্বি-পারমাণবিকতা, $H_2$) প্রমাণ করা সম্ভব হয়।

মডিউল ৩: পারমাণবিক ভর, আণবিক ভর, সংকেত ভর ও মোল ধারণা

পরমাণু ও অণুর ভর অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় তাদের ভর প্রকাশের জন্য একটি আপেক্ষিক মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়। ১৯৬১ সালে আন্তর্জাতিক রসায়ন সংস্থা কার্বন-১২ ($^{12}C$) আইসোটোপকে প্রামাণ্য ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে।

১. পারমাণবিক ভর একক (Unified Atomic Mass Unit, u বা amu)

একটি কার্বন-১২ ($^{12}C$) পরমাণুর ভরের ঠিক $1/12$ অংশকে $1\text{ amu}$ বা $1\text{ u}$ বলে।

$$\text{1 u} = \frac{1}{12} \times \text{একটি }^{12}C \text{ পরমাণুর ভর} = \frac{1.992648 \times 10^{-23}\text{ g}}{12} \approx 1.66056 \times 10^{-24}\text{ g} = 1.66056 \times 10^{-27}\text{ kg}$$
২. আইসোটোপীয় গড় পারমাণবিক ভর (Average Atomic Mass)

প্রকৃতিতে অধিকাংশ মৌল একাধিক আইসোটোপের মিশ্রণ হিসেবে অবস্থান করে। তাই মৌলের পারমাণবিক ভর হলো তাদের প্রাকৃতিক প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে নির্ণীত গড় ভর:

$$A_{\text{avg}} = \sum_{i} (A_i \times x_i) = \frac{A_1 x_1 + A_2 x_2 + \dots + A_n x_n}{100}$$

যেখানে $A_i$ হলো $i$-তম আইসোটোপের পারমাণবিক ভর এবং $x_i$ হলো প্রকৃতিতে তার শতকরা প্রাচুর্যতা (Percentage Abundance)।

৩. আণবিক ভর ও সংকেত ভর (Molecular Mass & Formula Mass)
  • আণবিক ভর: কোনো অণুতে উপস্থিত সকল পরমাণুর পারমাণবিক ভরের সমষ্টিকে আণবিক ভর বলে। যেমন গ্লুকোজের ($C_6H_{12}O_6$) আণবিক ভর $= (6 \times 12.011) + (12 \times 1.008) + (6 \times 16.00) = 180.16\text{ u}$।
  • সংকেত ভর (Formula Mass): আয়নীয় যৌগে পৃথক একক অণুর কোনো অস্তিত্ব নেই; ত্রিমাত্রিক কেলাসে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নসমূহ ঘনসন্নিবিষ্ট থাকে। তাই আয়নীয় যৌগের ক্ষেত্রে আণবিক ভরের পরিবর্তে সংকেত ভর শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইডের ($NaCl$) সংকেত ভর $= 23.0 + 35.5 = 58.5\text{ u}$।
৪. মোল ধারণা (The Mole Concept) ও অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা

রসায়নে অতি ক্ষুদ্র কণা যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন বা ইলেকট্রন গণনার জন্য 'মোল' এককটি ব্যবহৃত হয়।

সংজ্ঞা: ঠিক ১২ গ্রাম কার্বন-১২ ($^{12}C$) আইসোটোপে যতগুলি পরমাণু বর্তমান থাকে, ঠিক ততগুলি মৌলিক সত্তা (পরমাণু, অণু বা আয়ন) যে পরিমাণ পদার্থে থাকে, তাকে ১ মোল বলে।

পরীক্ষামূলকভাবে নির্ণীত এই সংখ্যাকে অ্যাভোগাড্রো ধ্রুবক ($N_A$) বলা হয়:

$$N_A = 6.02214076 \times 10^{23}\text{ entities/mol} \approx 6.022 \times 10^{23}$$
৫. মোলার ভর ও STP-তে মোলার আয়তন
  • মোলার ভর ($M$): কোনো পদার্থের ১ মোলের গ্রাম এককে প্রকাশিত ভরকে তার মোলার ভর বলে। সংখ্যাগতভাবে মোলার ভর (g/mol) পদার্থের পারমাণবিক ভর বা আণবিক ভরের (u) সমান।
  • প্রমাণ চাপ ও তাপমাত্রা (STP): পুরনো নিয়মে $0^\circ\text{C}$ ($273.15\text{ K}$) এবং $1\text{ atm}$ চাপে যেকোনো আদর্শ গ্যাসের ১ মোলের মোলার আয়তন $= 22.4\text{ L}$ ($22400\text{ mL}$)। আধুনিক IUPAC আদর্শ শর্তে ($0^\circ\text{C}$ ও $1\text{ bar}$ চাপ) মোলার আয়তন $= 22.71\text{ L}$। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সাধারণত $22.4\text{ L}$ মানটিই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
মোল গণনার সর্বজনীন চক্র (The Master Mole Wheel): $$n = \frac{w}{M} = \frac{N}{N_A} = \frac{V_{\text{STP}}}{22.4\text{ L}}$$ যেখানে: $n =$ মোল সংখ্যা, $w =$ প্রদত্ত ভর (গ্রামে), $M =$ মোলার ভর (g/mol), $N =$ কণার সংখ্যা, $N_A = 6.022 \times 10^{23}$, $V_{\text{STP}} =$ গ্যাসীয় আয়তন (লিটারে)।

মডিউল ৪: শতকরা সংযুতি, স্থূল সংকেত, আণবিক সংকেত ও বাষ্পঘনত্ব

কোনো যৌগের গঠন সংকেত জানার প্রাথমিক ধাপ হলো তাতে উপস্থিত মৌলসমূহের শতকরা সংযুতি বিশ্লেষণ করা।

১. মৌলের শতকরা সংযুতি (Mass Percentage of Elements)

কোনো যৌগের ১০০ ভাগ ভরের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট মৌলের যত ভাগ ভর বর্তমান থাকে, তাকে ওই মৌলের শতকরা সংযুতি বলে:

$$\text{শতকরা সংযুতি (Mass \%)} = \frac{\text{যৌগে ওই মৌলটির মোট ভর}}{\text{যৌগের মোলার ভর}} \times 100$$

উদাহরণ: জলে ($H_2O$, $M = 18.02\text{ g/mol}$) হাইড্রোজেনের শতকরা ভর $= \frac{2 \times 1.008}{18.02} \times 100 = 11.18\%$ এবং অক্সিজেনের শতকরা ভর $= \frac{16.00}{18.02} \times 100 = 88.79\%$।

২. স্থূল সংকেত বনাম আণবিক সংকেত (Empirical vs Molecular Formula)
  • স্থূল সংকেত (Empirical Formula): যে সংকেতের সাহায্যে যৌগের অণুতে উপস্থিত বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহের সবচেয়ে সরলতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাত প্রকাশ পায়, তাকে স্থূল সংকেত বলে। যেমন গ্লুকোজের স্থূল সংকেত $CH_2O$।
  • আণবিক সংকেত (Molecular Formula): যে সংকেতের সাহায্যে যৌগের একটি অণুতে উপাদান মৌলসমূহের পরমাণুগুলির প্রকৃত সংখ্যা সঠিকভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে আণবিক সংকেত বলে। যেমন গ্লুকোজের আণবিক সংকেত $C_6H_{12}O_6$।
৩. স্থূল ও আণবিক সংকেতের মধ্যে সম্পর্ক
$$\text{আণবিক সংকেত} = (\text{স্থূল সংকেত})_n$$ $$n = \frac{\text{আণবিক ভর (Molecular Mass)}}{\text{স্থূল সংকেত ভর (Empirical Formula Mass)}}$$

যেখানে $n$ একটি ক্ষুদ্র পূর্ণসংখ্যা ($1, 2, 3, \dots$)। যদি $n = 1$ হয়, তবে স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেত একই হবে (যেমন: জল $H_2O$, মিথেন $CH_4$)।

৪. বাষ্পঘনত্ব (Vapor Density) ও আণবিক ভরের সম্পর্ক

একই উষ্ণতা ও চাপে নির্দিষ্ট আয়তনের কোনো গ্যাস বা বাষ্পের ভর, সমআয়তন হাইড্রোজেন গ্যাসের ভরের যত গুণ, সেই সংখ্যাকে গ্যাসটির বাষ্পঘনত্ব ($D$ বা $VD$) বলে:

$$\text{বাষ্পঘনত্ব } (VD) = \frac{\text{নির্দিষ্ট উষ্ণতা ও চাপে } V \text{ আয়তন গ্যাসের ভর}}{\text{একই উষ্ণতা ও চাপে } V \text{ আয়তন হাইড্রোজেন গ্যাসের ভর}}$$

অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পানুযায়ী সমআয়তন গ্যাসে অণুর সংখ্যা সমান ($N$ টি):

$$VD = \frac{N \times \text{১টি গ্যাসীয় অণুর ভর}}{N \times \text{১টি } H_2 \text{ অণুর ভর}} = \frac{\text{গ্যাসটির আণবিক ভর } (M)}{\text{হাইড্রোজেনের আণবিক ভর } (2)} = \frac{M}{2}$$ $$\therefore M = 2 \times VD$$

অর্থাৎ, যেকোনো গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্পঘনত্বের দ্বিগুণ।

৫. স্থূল সংকেত নির্ণয়ের নিয়মতান্ত্রিক ধাপ
  1. প্রদত্ত প্রতিটি মৌলের শতকরা পরিমাণকে তার পারমাণবিক ভর দিয়ে ভাগ করে আপেক্ষিক পরমাণু সংখ্যা (Relative Number of Atoms / Moles) নির্ণয় করুন।
  2. প্রাপ্ত আপেক্ষিক সংখ্যাগুলির মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, সেটি দিয়ে প্রত্যেকটিকে ভাগ করে সরল পরমাণু অনুপাত বের করুন।
  3. যদি সরল অনুপাত ভগ্নাংশ হয়, তবে উপযুক্ত ক্ষুদ্রতম পূর্ণসংখ্যা দিয়ে গুণ করে সবকটিকে পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে রূপান্তর করুন।
  4. চিহ্নগুলির নিচে এই পূর্ণসংখ্যাগুলি বসিয়ে স্থূল সংকেত লিখুন।

মডিউল ৫: স্টয়কিওমেট্রি, রাসায়নিক সমীকরণ, সীমাস্থ বিকারক ও বিক্রিয়ার শতকরা উৎপাদন

স্টয়কিওমেট্রি (Stoichiometry) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ থেকে—stoicheion (মৌল) এবং metron (পরিমাপ)। এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিক্রিয়ক ও উৎপন্ন পদার্থসমূহের ভরের ও পরিমাণের তুলনামূলক হিসাব সংক্রান্ত বিজ্ঞান।

১. সমতাকৃত রাসায়নিক সমীকরণ ও স্টয়কিওমেট্রিক সহগ

যেকোনো স্টয়কিওমেট্রিক গণনার পূর্বে রাসায়নিক সমীকরণটির সমতা বিধান (Balance) করা বাধ্যতামূলক। বিবেচনা করা যাক মিথেনের দহন বিক্রিয়া:

$$CH_4(g) + 2 O_2(g) \rightarrow CO_2(g) + 2 H_2O(l)$$

এই সমীকরণটি থেকে চারটি স্তরে তথ্য পাওয়া যায়:

  • মোল স্তর: ১ মোল $CH_4$ গ্যাস + ২ মোল $O_2$ গ্যাস $\rightarrow$ ১ মোল $CO_2$ গ্যাস + ২ মোল তরল $H_2O$।
  • কণা স্তর: ১টি $CH_4$ অণু + ২টি $O_2$ অণু $\rightarrow$ ১টি $CO_2$ অণু + ২টি $H_2O$ অণু।
  • ভর স্তর: $16\text{ g } CH_4 + (2 \times 32)\text{ g } O_2 = 80\text{ g}$ বিক্রিয়ক $\rightarrow 44\text{ g } CO_2 + (2 \times 18)\text{ g } H_2O = 80\text{ g}$ বিক্রিয়াজাত পদার্থ (ভরের সংরক্ষণ মান্য)।
  • আয়তন স্তর (STP-তে গ্যাস): $22.4\text{ L } CH_4 + (2 \times 22.4)\text{ L } O_2 \rightarrow 22.4\text{ L } CO_2$ ($H_2O$ তরল হওয়ায় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)।
২. সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent / Limiting Reactant)

বাস্তব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কসমূহ সর্বদা যথাযথ স্টয়কিওমেট্রিক অনুপাতে উপস্থিত নাও থাকতে পারে।

সংজ্ঞা: কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে বিক্রিয়কটি সর্বপ্রথম সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষিত হয়ে যায় এবং বিক্রিয়াটি সমাপ্ত করে উৎপন্ন পদার্থের সর্বাধিক পরিমাণ নির্ধারণ করে, তাকে সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent) বলে।

অপর বিক্রিয়ক যা বিক্রিয়া শেষে উদ্বৃত্ত থেকে যায়, তাকে অতিরিক্ত বিকারক (Excess Reagent) বলা হয়।

সীমাস্থ বিকারক চিহ্নিত করার অব্যর্থ কৌশল:
  1. প্রদত্ত প্রতিটি বিক্রিয়কের ভর থেকে তাদের মোল সংখ্যা ($n_i$) নির্ণয় করুন।
  2. প্রতিটি বিক্রিয়কের মোল সংখ্যাকে সমীকরণের নিজ নিজ স্টয়কিওমেট্রিক সহগ ($\nu_i$) দিয়ে ভাগ করুন: $\frac{n_i}{\nu_i}$।
  3. যে বিক্রিয়কের ক্ষেত্রে এই অনুপাত $\left(\frac{n_i}{\nu_i}\right)$ সর্বনিম্ন হবে, সেটিই কঠোরভাবে সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent)।
  4. উৎপন্ন পদার্থের পরিমাণ সর্বদা এই সীমাস্থ বিকারকের মোলের ভিত্তিতে হিসাব করতে হবে।
৩. বিক্রিয়ার তাত্ত্বিক উৎপাদন বনাম শতকরা উৎপাদন (% Yield)

রাসায়নিক পরীক্ষাগারে বিভিন্ন পার্শ্ব-বিক্রিয়া (Side reactions), অসম্পূর্ণ বিক্রিয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রত্যাশিত পরিমাণের চেয়ে বাস্তবে কম পদার্থ উৎপন্ন হয়।

  • তাত্ত্বিক উৎপাদন (Theoretical Yield): সীমাস্থ বিকারক সম্পূর্ণ বিক্রিয়া করলে সমীকরণ অনুযায়ী যে সর্বাধিক পরিমাণ বিক্রিয়াজাত পদার্থ উৎপন্ন হওয়ার কথা।
  • বাস্তব উৎপাদন (Actual Yield): গবেষণাগারে পরীক্ষা করে প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ পদার্থ পাওয়া যায়।
$$\text{শতকরা উৎপাদন (\% Yield)} = \frac{\text{বাস্তব উৎপাদন (Actual Yield)}}{\text{তাত্ত্বিক উৎপাদন (Theoretical Yield)}} \times 100$$

মডিউল ৬: দ্রবণ ও দ্রবণের গাঢ়ত্ব প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি

গবেষণাগারে বেশিরভাগ রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রবণীয় মাধ্যমে সংঘটিত হয়। কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবক বা দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রাবের পরিমাণকে দ্রবণের গাঢ়ত্ব (Concentration) বলে।

১. ভর শতকরা মাত্রা (Mass Percentage - % w/w)

১০০ গ্রাম দ্রবণে যত গ্রাম দ্রাব দ্রবীভূত থাকে তাকে ভর শতকরা মাত্রা বলে:

$$\text{Mass } \% = \frac{\text{দ্রাবের ভর (Mass of solute)}}{\text{দ্রবণের মোট ভর (Mass of solution)}} \times 100$$

দ্রবণের মোট ভর = দ্রাবের ভর + দ্রাবকের ভর। এটি তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না।

২. মোল ভগ্নাংশ (Mole Fraction - $x$)

কোনো দ্রবণে একটি নির্দিষ্ট উপাদানের মোল সংখ্যা এবং দ্রবণে উপস্থিত সমস্ত উপাদানের মোট মোল সংখ্যার অনুপাতকে ওই উপাদানের মোল ভগ্নাংশ বলে।

যদি দ্বি-উপাদান দ্রবণে দ্রাবের মোল সংখ্যা $n_B$ এবং দ্রাবকের মোল সংখ্যা $n_A$ হয়, তবে:

$$x_B = \frac{n_B}{n_A + n_B}, \quad x_A = \frac{n_A}{n_A + n_B}$$ $$\text{সর্বদা } x_A + x_B = 1$$

মোল ভগ্নাংশের কোনো একক নেই এবং এটি তাপমাত্রা নিরপেক্ষ।

৩. মোলারিটি (Molarity - $M$)

প্রতি ১ লিটার ($1000\text{ mL}$) দ্রবণে যত মোল দ্রাব দ্রবীভূত থাকে, তাকে ওই দ্রবণের মোলারিটি বলে:

$$M = \frac{\text{দ্রাবের মোল সংখ্যা } (n_B)}{\text{দ্রবণের আয়তন লিটারে } (V_L)} = \frac{w_B \times 1000}{M_B \times V_{\text{mL}}}$$

একক: $\text{mol/L}$ বা $\text{mol}\cdot\text{dm}^{-3}$ বা $\text{M}$ (Molar)।

তাপমাত্রার প্রভাব: তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তরলের আয়তন ($V$) প্রসারিত হয়। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে মোলারিটি হ্রাস পায় ($M \propto 1/V$)।

৪. মোলালিটি (Molality - $m$)

প্রতি ১ কিলোগ্রাম ($1000\text{ g}$) দ্রাবকে যত মোল দ্রাব দ্রবীভূত থাকে, তাকে ওই দ্রবণের মোলালিটি বলে:

$$m = \frac{\text{দ্রাবের মোল সংখ্যা } (n_B)}{\text{দ্রাবকের ভর কিলোগ্রামে } (W_A\text{ in kg})} = \frac{w_B \times 1000}{M_B \times w_A\text{ (in g)}}$$

একক: $\text{mol/kg}$ বা $m$ (molal)।

তাপমাত্রার সুবিধা: ভর তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। তাই মোলালিটি সম্পূর্ণরূপে তাপমাত্রা নিরপেক্ষ এবং ভৌত রসায়নে মোলারিটির চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য।

৫. লঘুকরণ সূত্র ও মিশ্রণের মোলারিটি
  • লঘুকরণ সূত্র (Dilution Formula): বিশুদ্ধ দ্রাবক যোগ করে কোনো দ্রবণের আয়তন পরিবর্তন করলে দ্রাবের মোল সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে: $$M_1 V_1 = M_2 V_2$$
  • একাধিক অ্যাসিড বা ক্ষারের মিশ্রণ: সমধর্মী দ্রবণ মেশালে মিশ্রণের মোলারিটি: $$M_{\text{mix}} = \frac{M_1 V_1 + M_2 V_2 + \dots}{V_1 + V_2 + \dots}$$

গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সমীকরণ, বিক্রিয়া ও সূত্র

মোল গণনার সর্বজনীন চক্র সূত্রাবলি (Master Mole Wheel Formula)
$$n = \frac{w}{M} = \frac{N}{N_A} = \frac{V_{\text{STP}}}{22.4\text{ L}}$$
আইসোটোপীয় গড় পারমাণবিক ভর (Average Atomic Mass)
$$A_{\text{avg}} = \sum_{i} (A_i \times f_i) = \frac{A_1 x_1 + A_2 x_2 + \dots + A_n x_n}{100}$$
বাষ্পঘনত্ব ও আণবিক ভরের সম্পর্ক (Vapor Density & Molecular Mass)
$$M = 2 \times VD$$
স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেতের রূপান্তর সমীকরণ (Empirical to Molecular Formula)
$$আণবিক সংকেত = (স্থূল সংকেত)_n, n = {আণবিক ভর}{স্থূল সংকেত ভর}$$
সীমাস্থ বিকারক অনুপাত ও বিক্রিয়ার শতকরা উৎপাদন (Limiting Reagent & % Yield)
$$\text{Reagent Ratio} = \frac{n_i}{\nu_i}, \quad \% \text{ Yield} = \frac{\text{Actual Yield}}{\text{Theoretical Yield}} \times 100$$
দ্রবণের গাঢ়ত্ব: মোলারিটি, মোলালিটি ও লঘুকরণ সূত্র (Solution Concentrations)
$$M = \frac{w_B \times 1000}{M_B \times V_{\text{mL}}}, \quad m = \frac{w_B \times 1000}{M_B \times w_A\text{ (g)}}, \quad M_1 V_1 = M_2 V_2$$

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
[২ নম্বর] (ক) $0.0025$ এবং (খ) $500.0$ সংখ্যা দুটিতে তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা কত? এবং বৈজ্ঞানিক সংকেতে $285000$-কে প্রকাশ করো যেখানে ৩টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক থাকবে।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ধাপ ১: তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কের নিয়মাবলি প্রয়োগ:

সংখ্যা (ক) $0.0025$: প্রথম অশূন্য অঙ্ক ২-এর বাঁদিকের শূন্যগুলি কেবল দশমিকের স্থান নির্দেশ করে, এরা তাৎপর্যপূর্ণ নয়। অতএব তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা = ২ (অঙ্ক দুটি হলো ২ এবং ৫)।

সংখ্যা (খ) $500.0$: দশমিকের পরে অবস্থিত প্রান্তীয় শূন্য এবং অশূন্য অঙ্কের মধ্যবর্তী শূন্যগুলি তাৎপর্যপূর্ণ। অতএব তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা = ৪ (৫, ০, ০, ০)।

ধাপ ২: $285000$ সংখ্যাটিকে ৩টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কে বৈজ্ঞানিক সংকেতে রূপান্তর:

বৈজ্ঞানিক সংকেতের সাধারণ রূপ $N \times 10^n$, যেখানে $1 \le N < 10$।

অতএব ৩টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কে মানটি হবে: $2.85 \times 10^5$।

চূড়ান্ত উত্তর: (ক) ২টি, (খ) ৪টি; এবং বৈজ্ঞানিক সংকেত = $2.85 \times 10^5$।

উদাহরণ 2
[৩ নম্বর] ক্লোরিনের দুটি প্রাকৃতিক আইসোটোপ $^{35}Cl$ ও $^{37}Cl$-এর পারমাণবিক ভর যথাক্রমে $34.9689\text{ u}$ এবং $36.9659\text{ u}$। প্রকৃতিতে এদের প্রাচুর্যতা যথাক্রমে $75.77\%$ এবং $24.23\%$। ক্লোরিনের গড় পারমাণবিক ভর গণনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ধাপ ১: আইসোটোপীয় গড় পারমাণবিক ভরের সূত্র:

$$A_{\text{avg}} = \frac{(A_1 \times x_1) + (A_2 \times x_2)}{100}$$

ধাপ ২: প্রদত্ত মানসমূহ প্রতিস্থাপন:

$$A_1 = 34.9689\text{ u}, \quad x_1 = 75.77\%$$

$$A_2 = 36.9659\text{ u}, \quad x_2 = 24.23\%$$

ধাপ ৩: গণনা সম্পাদন:

$$A_{\text{avg}} = \frac{(34.9689 \times 75.77) + (36.9659 \times 24.23)}{100}$$

$$A_{\text{avg}} = \frac{2649.5935 + 895.6838}{100} = \frac{3545.2773}{100} = 35.4528\text{ u} \approx 35.45\text{ u}$$

চূড়ান্ত উত্তর: প্রকৃতিতে ক্লোরিনের গড় পারমাণবিক ভর $35.45\text{ u}$।

উদাহরণ 3
[৩ নম্বর] একটি জৈব যৌগে কার্বন $40.0\%$, হাইড্রোজেন $6.67\%$ এবং অবশিষ্ট অক্সিজেন বর্তমান। যৌগটির বাষ্পঘনত্ব ৩০ হলে, যৌগটির স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেত নির্ণয় করো। (পারমাণবিক ভর: $C = 12, H = 1, O = 16$)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ধাপ ১: অক্সিজেনের শতকরা পরিমাণ নির্ণয়:

$$\% O = 100 - (40.0 + 6.67) = 100 - 46.67 = 53.33\%$$

ধাপ ২: মৌলগুলির আপেক্ষিক মোল সংখ্যা নির্ণয়:

মোল $C = \frac{40.0}{12} = 3.333$

মোল $H = \frac{6.67}{1} = 6.670$

মোল $O = \frac{53.33}{16} = 3.333$

ধাপ ৩: ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ($3.333$) দিয়ে ভাগ করে সরল অনুপাত নির্ণয়:

$$C = \frac{3.333}{3.333} = 1, \quad H = \frac{6.670}{3.333} \approx 2, \quad O = \frac{3.333}{3.333} = 1$$

অতএব যৌগের স্থূল সংকেত (Empirical Formula) = $CH_2O$।

ধাপ ৪: আণবিক ভর ও গুণিতক $n$ নির্ণয়:

স্থূল সংকেত ভর $= 12 + (2 \times 1) + 16 = 30\text{ g/mol}$

প্রদত্ত বাষ্পঘনত্ব $VD = 30$। অতএব আণবিক ভর $M = 2 \times VD = 2 \times 30 = 60\text{ g/mol}$।

$$n = \frac{\text{আণবিক ভর}}{\text{স্থূল সংকেত ভর}} = \frac{60}{30} = 2$$

ধাপ ৫: আণবিক সংকেত গঠন:

$$\text{আণবিক সংকেত} = (CH_2O)_2 = C_2H_4O_2 \text{ (অ্যাসিটিক অ্যাসিড)}$$

চূড়ান্ত উত্তর: যৌগটির স্থূল সংকেত $CH_2O$ এবং আণবিক সংকেত $C_2H_4O_2$।

উদাহরণ 4
[৪ নম্বর] $50.0\text{ kg } N_2(g)$ এবং $10.0\text{ kg } H_2(g)$ মিশ্রিত করে হেবার পদ্ধতিতে $NH_3(g)$ প্রস্তুত করা হলো। (ক) বিক্রিয়াটিতে সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent) চিহ্নিত করো, এবং (খ) সর্বাধিক কত কিলোগ্রাম $NH_3(g)$ উৎপন্ন হবে তা গণনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ধাপ ১: সমতাকৃত রাসায়নিক সমীকরণ:

$$N_2(g) + 3 H_2(g) \rightarrow 2 NH_3(g)$$

স্টয়কিওমেট্রিক অনুপাত: ১ মোল $N_2$ বিক্রিয়া করে ৩ মোল $H_2$-এর সাথে এবং ২ মোল $NH_3$ উৎপন্ন করে।

ধাপ ২: প্রদত্ত বিক্রিয়কসমূহের মোল সংখ্যা গণনা:

মোলার ভর: $N_2 = 28.02\text{ g/mol}$, $H_2 = 2.016\text{ g/mol}$, $NH_3 = 17.03\text{ g/mol}$।

$$n(N_2) = \frac{50.0 \times 10^3\text{ g}}{28.02\text{ g/mol}} = 17.84 \times 10^2\text{ mol} = 1784.4\text{ mol}$$

$$n(H_2) = \frac{10.0 \times 10^3\text{ g}}{2.016\text{ g/mol}} = 4.96 \times 10^3\text{ mol} = 4960.3\text{ mol}$$

ধাপ ৩: সীমাস্থ বিকারক নির্ধারণ (মোল / সহগ অনুপাত):

$$N_2 \text{-এর অনুপাত} = \frac{1784.4}{1} = 1784.4$$

$$H_2 \text{-এর অনুপাত} = \frac{4960.3}{3} = 1653.4$$

যেহেতু $H_2$-এর অনুপাত ($1653.4$) $N_2$-এর অনুপাতের ($1784.4$) চেয়ে কম, তাই হাইড্রোজেন ($H_2$) হলো সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent)।

ধাপ ৪: উৎপন্ন $NH_3$-এর পরিমাণ গণনা:

সমীকরণানুযায়ী, ৩ মোল $H_2$ থেকে উৎপন্ন হয় ২ মোল $NH_3$।

$$n(NH_3) = \frac{2}{3} \times n(H_2) = \frac{2}{3} \times 4960.3\text{ mol} = 3306.9\text{ mol}$$

উৎপন্ন $NH_3$-এর ভর $= 3306.9\text{ mol} \times 17.03\text{ g/mol} = 56316.5\text{ g} = 56.32\text{ kg}$।

চূড়ান্ত উত্তর: (ক) সীমাস্থ বিকারক হলো $H_2$; (খ) উৎপন্ন অ্যামোনিয়ার সর্বাধিক পরিমাণ $56.32\text{ kg}$।

উদাহরণ 5
[৪ নম্বর] একটি জলীয় দ্রবণে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ($NaOH$) দ্রবীভূত আছে। দ্রবণটিতে $NaOH$-এর ভর শতকরা মাত্রা $10\% (w/w)$ এবং দ্রবণের ঘনত্ব $1.10\text{ g/mL}$। দ্রবণটির (ক) মোলালিটি ($m$) এবং (খ) মোলারিটি ($M$) নির্ণয় করো। (মোলার ভর: $NaOH = 40\text{ g/mol}$)
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ধাপ ১: $10\% (w/w)$ দ্রবণের অর্থ বিশ্লেষণ:

১০০ গ্রাম দ্রবণে দ্রবীভূত $NaOH$ (দ্রাব)-এর ভর $w_B = 10\text{ g}$।

অতএব দ্রাবক জলের ভর $w_A = 100 - 10 = 90\text{ g} = 0.090\text{ kg}$।

দ্রাব $NaOH$-এর মোল সংখ্যা $n_B = \frac{w_B}{M_B} = \frac{10}{40} = 0.25\text{ mol}$।

ধাপ ২: (ক) মোলালিটি ($m$) গণনা:

$$m = \frac{\text{দ্রাবের মোল } (n_B)}{\text{দ্রাবকের ভর (kg)}} = \frac{0.25}{0.090\text{ kg}} = 2.778\text{ mol/kg} = 2.78\text{ m}$$

ধাপ ৩: (খ) মোলারিটি ($M$) গণনা:

১০০ গ্রাম দ্রবণের আয়তন $V = \frac{\text{ভর}}{\text{ঘনত্ব}} = \frac{100\text{ g}}{1.10\text{ g/mL}} = 90.91\text{ mL} = 0.09091\text{ L}$।

$$M = \frac{\text{দ্রাবের মোল } (n_B)}{\text{দ্রবণের আয়তন লিটারে } (V_L)} = \frac{0.25\text{ mol}}{0.09091\text{ L}} = 2.75\text{ mol/L} = 2.75\text{ M}$$

চূড়ান্ত উত্তর: (ক) দ্রবণটির মোলালিটি = $2.78\text{ m}$; (খ) দ্রবণটির মোলারিটি = $2.75\text{ M}$।

উদাহরণ 6
[৫ নম্বর] (ক) $2.4\text{ g}$ ম্যাগনেসিয়াম রিবনকে বায়ুতে সম্পূর্ণ দহন করলে প্রাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের ($MgO$) ভর কত হবে? (খ) $STP$-তে $4.48\text{ L } CO_2$ গ্যাসে কতগুলি $CO_2$ অণু ও মোট কতগুলি পরমাণু উপস্থিত আছে? (গ) মোলারিটি ও মোলালিটির মধ্যে কোনটি তাপমাত্রা নিরপেক্ষ এবং কেন? [২ + ২ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ধাপ ১: অংশ (ক) ম্যাগনেসিয়াম দহন গণনা:

সমতাকৃত সমীকরণ: $2 Mg(s) + O_2(g) \rightarrow 2 MgO(s)$

পারমাণবিক ভর: $Mg = 24.3\text{ g/mol}$, মোলার ভর: $MgO = 24.3 + 16.0 = 40.3\text{ g/mol}$।

সমীকরণানুযায়ী: $2 \times 24.3\text{ g } = 48.6\text{ g } Mg$ থেকে উৎপন্ন হয় $2 \times 40.3\text{ g } = 80.6\text{ g } MgO$।

অতএব $2.4\text{ g } Mg$ থেকে প্রাপ্ত $MgO = \frac{80.6 \times 2.4}{48.6} = 3.98\text{ g}$ (বা বিশুদ্ধ $24\text{ g/mol}$ ধরলে: $\frac{40 \times 2.4}{24} = 4.0\text{ g}$)।

ধাপ ২: অংশ (খ) $STP$-তে অণু ও পরমাণু সংখ্যা গণনা:

$$n(CO_2) = \frac{V_{\text{STP}}}{22.4\text{ L}} = \frac{4.48\text{ L}}{22.4\text{ L}} = 0.20\text{ mol}$$

$CO_2$ অণুর সংখ্যা $= n \times N_A = 0.20 \times 6.022 \times 10^{23} = 1.2044 \times 10^{23}$ টি অণু।

যেহেতু প্রতিটি $CO_2$ অণুতে ১টি কার্বন ও ২টি অক্সিজেন পরমাণু মিলিয়ে মোট ৩টি পরমাণু রয়েছে:

মোট পরমাণুর সংখ্যা $= 3 \times 1.2044 \times 10^{23} = 3.613 \times 10^{23}$ টি পরমাণু।

ধাপ ৩: অংশ (গ) মোলারিটি বনাম মোলালিটিতে তাপমাত্রার প্রভাব:

মোলালিটি ($m$) হলো তাপমাত্রা নিরপেক্ষ। কারণ মোলালিটি সংজ্ঞায়িত হয় দ্রাবকের ভর (কিলোগ্রামে) দ্বারা এবং ভর তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। পক্ষান্তরে মোলারিটি নির্ভর করে দ্রবণের আয়তনের ওপর, যা তাপমাত্রার সাথে প্রসারিত বা সংকুচিত হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: (ক) $MgO$-এর ভর = $3.98\text{ g}$ (বা $4.0\text{ g}$); (খ) $1.204 \times 10^{23}$ টি অণু এবং $3.613 \times 10^{23}$ টি পরমাণু; (গ) মোলালিটি তাপমাত্রা নিরপেক্ষ কারণ ভর তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

অনেক শিক্ষার্থী ভুলবশত $STP$-তে তরল বা কঠিন পদার্থের মোল বের করতে ২২.৪ লিটার দিয়ে ভাগ করে। উদাহরণস্বরূপ, $18\text{ mL}$ তরল জলের মোল বের করতে গিয়ে অনেকে ভুল করে $18 / 22400\text{ mol}$ লেখে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মনে রাখবেন, $22.4\text{ L/mol}$ মোলার আয়তন সূত্রটি কেবলমাত্র এবং কেবলমাত্র গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য! তরল জলের ঘনত্ব $1\text{ g/mL}$ হওয়ায় $18\text{ mL}$ জলের ভর $= 18\text{ g}$। জলের মোলার ভর $18\text{ g/mol}$ হওয়ায় $18\text{ mL}$ তরল জল মানে আসলে ঠিক $1\text{ mol}$ জল।

সাধারণ ভুল ধারণা

মোলালিটি ($m$) নির্ণয় করার সময় হর-এ (denominator) প্রায়ই অসাবধানতাবশত "দ্রবণের ভর" বসানো হয়, অথচ সংজ্ঞায় স্পষ্ট বলা আছে "দ্রাবকের ভর"। একইভাবে মোলারিটিতে হর-এ "দ্রবণের মোট আয়তন" থাকে, দ্রাবকের আয়তন নয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সবসময় সতর্ক থাকুন: মোলারিটি $M = \frac{\text{দ্রাবের মোল}}{\text{দ্রবণের আয়তন (L)}}$ এবং মোলালিটি $m = \frac{\text{দ্রাবের মোল}}{\text{দ্রাবকের ভর (kg)}}$। যদি ১০০ গ্রাম দ্রবণে ১০ গ্রাম দ্রাব থাকে, তবে দ্রাবকের ভর $= 100 - 10 = 90\text{ g} = 0.09\text{ kg}$ বসাতে হবে।

সাধারণ ভুল ধারণা

পরীক্ষায় যে বিক্রিয়কের গ্রাম এককে প্রদত্ত ভর সবচেয়ে কম থাকে, অনেক পরীক্ষার্থী ভুলবশত কোনো সমীকরণ হিসাব না করেই তাকে সরাসরি সীমাস্থ বিকারক হিসেবে চিহ্নিত করে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কোনো বিক্রিয়ক সীমাস্থ বিকারক হবে কিনা তা তার প্রদত্ত ভরের ওপর নয়, বরং প্রদত্ত মোল সংখ্যাকে সমীকরণের স্টয়কিওমেট্রিক সহগ দিয়ে ভাগ করার পর প্রাপ্ত মানের ওপর নির্ভর করে ($n_i / \nu_i$)। সর্বদা মোল বের করে সহগ দিয়ে ভাগ করে ক্ষুদ্রতম অনুপাতটি চিহ্নিত করুন।

সাধারণ ভুল ধারণা

দশমিক বিন্দুবিহীন পূর্ণসংখ্যার শেষে থাকা শূন্যগুলিকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ ধরে ফেলে। যেমন $5000$-এ ৪টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক আছে বলে বিভ্রান্ত হয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

দশমিক বিন্দু না থাকলে প্রান্তীয় শূন্যগুলি তাৎপর্যপূর্ণ নয়। $5000$-এ কেবল ১টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক আছে। কিন্তু $5000.$ (দশমিক বিন্দুসহ) বা $5000.0$-এ যথাক্রমে ৪টি ও ৫টি তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্ক থাকে। এই বিভ্রান্তি এড়াতে সর্বদা বৈজ্ঞানিক সংকেতে রূপান্তর করুন: $5 \times 10^3$ (১টি), $5.000 \times 10^3$ (৪টি)।

সাধারণ ভুল ধারণা

আণবিক সংকেত নির্ণয়ের প্রশ্নে বাষ্পঘনত্ব ($VD$) দেওয়া থাকলে অসাবধানী শিক্ষার্থীরা সেই মানটিকেই সরাসরি আণবিক ভর ($M$) ধরে $n$ গণনা করে, ফলে আণবিক সংকেতের মান ভুল আসে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সর্বদা মনে রাখবেন: আণবিক ভর $= ২ \times$ বাষ্পঘনত্ব ($M = 2 \times VD$)। প্রশ্নপত্রে বাষ্পঘনত্ব ৩০ দেওয়া থাকলে অবিলম্বে আণবিক ভর $= 2 \times 30 = 60\text{ g/mol}$ লিখে নিয়ে তারপর $n$ এর মান হিসাব করুন।

মোল চক্র, রাসায়নিক সংযোগ সূত্রাবলি, সংকেত নির্ণয় ও দ্রবণ স্টয়কিওমেট্রি আর্কিটেকচার

mol রসায়নের প্রাথমিক ধারণা — মোল তত্ত্ব, সংকেত ও স্টয়কিওমেট্রি WBCHSE একাদশ শ্রেণি রসায়ন • ইউনিট I: রসায়নের কয়েকটি প্রাথমিক ধারণা ১. সার্বিক মোল চক্র (The Mole Wheel) ভর (g), কণার সংখ্যা (NA) ও এসটিপিতে গ্যাসীয় আয়তন ১ মোল (1 MOLE) ভর w (গ্রামে) ÷M | ×M কণার সংখ্যা N ÷NA | ×NA আয়তন V (STP) ÷22.4 | ×22.4 Master Mole Equation: n = w/M = N/NA = V(L)/22.4 Fundamental Physical Constants: NA = 6.022 × 10²³ mol⁻¹ (Avogadro Constant) 1 u (amu) = 1.66056 × 10⁻²⁴ g = 1/NA g ২. রাসায়নিক সংযোগ সূত্র ও স্থূল সংকেত ভরের নিত্যতা, গুণানুপাত সূত্র, আণবিক ভর = ২ × বাষ্পঘনত্ব Laws of Chemical Combination: • ভরের সংরক্ষণ: বিক্রিয়ক ভর = উৎপন্ন ভর • গুণানুপাত সূত্র: সরল পূর্ণসংখ্যার অনুপাত • Gay-Lussac: Simple volume ratios of gases Empirical & Molecular Formulae: Mass % = (At. Mass × No. of atoms / M) × 100 আণবিক সংকেত = (স্থূল সংকেত)n n = Molar Mass / Empirical Formula Mass আণবিক ভর (M) = ২ × বাষ্পঘনত্ব (V.D.) Dalton's Theory vs Modern Concepts: • Atom is indivisible → Disproved by e⁻, p⁺, n⁰ • Same element atoms identical → Disproved (Isotopes) • Different element atoms differ → Isobars exist • Average At. Mass = Σ (Isotopic Mass × % Abundance) ৩. দ্রবণের গাঢ়ত্ব ও সীমাস্থ বিকারক মোলারিটি, মোলালিটি, মোল ভগ্নাংশ ও স্টয়কিওমেট্রিক অনুপাত Concentration Terms in Solutions: • মোলারিটি M = n/V (L) [উষ্ণতানির্ভর] M = (wB × 1000) / (MB × V_mL) • মোলালিটি m = n/W (kg) [উষ্ণতানিরপেক্ষ] m = (wB × 1000) / (MB × wA_grams) • মোল ভগ্নাংশ: xA + xB = ১ | M₁V₁ = M₂V₂ (Dilution) সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent): Reactant that is consumed first and limits yield. • Calculate: n / stoichiometric coefficient • Smallest value = Limiting Reagent (L.R.) Stoichiometry & Yield: aA + bB → cC + dD Moles: nA / a = nB / b = nC / c = nD / d % Yield = (Actual Yield / Theoretical Yield) × 100 TargetExams গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড স্টাডি মেটেরিয়াল • WBCHSE একাদশ শ্রেণি রসায়ন WBCHSE Class 11 • Chemistry Ch 1

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
যার নির্দিষ্ট ভর আছে এবং যা স্থান দখল করে তাকে পদার্থ বলে; রাসায়নিকভাবে পদার্থ মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থে বিভক্ত।
মূল বিষয় 2
এসআই পদ্ধতিতে সাতটি মূল ভৌত একক রয়েছে: মিটার (m), কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), অ্যাম্পিয়ার (A), কেলভিন (K), মোল (mol) এবং ক্যান্ডেলা (cd)।
মূল বিষয় 3
তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্কসংখ্যা পরিমাপের যথার্থতা প্রকাশ করে; সমস্ত অশূন্য অঙ্ক তাৎপর্যপূর্ণ এবং দুটি অশূন্য অঙ্কের মধ্যবর্তী শূন্য সর্বদা তাৎপর্যপূর্ণ।
মূল বিষয় 4
ভরের সংরক্ষণ সূত্রানুযায়ী কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভর সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না; বিক্রিয়কসমূহের মোট ভর উৎপন্ন পদার্থের মোট ভরের সমান হয়।
মূল বিষয় 5
ডাল্টনের গুণানুপাত সূত্রানুযায়ী দুটি মৌল পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একাধিক যৌগ গঠন করলে, একটি নির্দিষ্ট ভরের সাথে অপর মৌলটির যে ভিন্ন ভিন্ন ভর যুক্ত হয় তাদের অনুপাত সরল পূর্ণসংখ্যার হয়।
মূল বিষয় 6
অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পের মূল বক্তব্য: একই উষ্ণতা ও চাপে সমআয়তন সকল গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু বর্তমান থাকে।
মূল বিষয় 7
১ মোল পদার্থে ঠিক 6.02214076 x 10^23 টি কণা (অ্যাভোগাড্রো ধ্রুবক NA) থাকে; প্রমাণ উষ্ণতা ও চাপে (STP) যেকোনো আদর্শ গ্যাসের ১ মোলের আয়তন ২২.৪ লিটার।
মূল বিষয় 8
স্থূল সংকেত যৌগের পরমাণুসমূহের সরলতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাত প্রকাশ করে, আর আণবিক সংকেত = (স্থূল সংকেত)n, যেখানে n = আণবিক ভর / স্থূল সংকেত ভর।
মূল বিষয় 9
সীমাস্থ বিকারক (Limiting Reagent) হলো সেই বিক্রিয়ক যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ নিঃশেষিত হয় এবং উৎপন্ন পদার্থের সর্বোচ্চ তাত্ত্বিক পরিমাণকে সীমাবদ্ধ করে।
মূল বিষয় 10
মোলারিটি (M = দ্রব্যের মোল / দ্রবণের লিটার) তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে কারণ তাপমাত্রায় তরলের আয়তন পরিবর্তিত হয়; কিন্তু মোলালিটি (m = দ্রব্যের মোল / দ্রাবকের কেজি) ও মোল ভগ্নাংশ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
১ মোল ইলেকট্রনের মোট আধান কুলম্ব (C) এককে কত হবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১ মোল ইলেকট্রনের মোট আধান $= N_A \times e = (6.02214 \times 10^{23}) \times (1.60218 \times 10^{-19}\text{ C}) \approx 96485\text{ C}$। এই মানটিকে রসায়নে ১ ফ্যারাডে ($1\text{ F}$) বলা হয়।
১টি ইলেকট্রনের আধান $e = 1.6022 \times 10^{-19}\text{ C}$ এবং ১ মোলে কণার সংখ্যা $N_A = 6.022 \times 10^{23}$।
2
কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) এবং কার্বন মনোক্সাইড ($CO$) কোন রাসায়নিক সংযোগ সূত্রটির সত্যতা প্রমাণ করে এবং কীভাবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: যৌগ দুটি ডাল্টনের গুণানুপাত সূত্র (Law of Multiple Proportions) প্রমাণ করে। উভয় যৌগে ১২ ভাগ ভরের কার্বনের সাথে যুক্ত অক্সিজেনের ভরের অনুপাত যথাক্রমে $16 : 32 = 1 : 2$, যা একটি ক্ষুদ্র পূর্ণসংখ্যার সরল অনুপাত।
দুটি যৌগে একটি নির্দিষ্ট মৌলের (কার্বন) স্থির ভরের সাথে যুক্ত অপর মৌলের (অক্সিজেন) ভরের অনুপাত যাচাই করুন।
3
প্রমাণ উষ্ণতা ও চাপে (STP) $1\text{ L } O_2$ এবং $1\text{ L } O_3$ (ওজোন) গ্যাসের মধ্যে কোনটিতে অণুর সংখ্যা বেশি থাকবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পানুযায়ী একই উষ্ণতা ও চাপে সমআয়তন সকল গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু থাকে। সুতরাং $STP$-তে $1\text{ L } O_2$ এবং $1\text{ L } O_3$ গ্যাসে অণুর সংখ্যা একদম সমান থাকবে (যদিও পরমাণুর সংখ্যা আলাদা হবে, ওজোনে পরমাণু বেশি থাকবে)।
অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পের মূল বিবৃতিটি স্মরণ করুন।
4
মোলালিটি ও মোলারিটির মধ্যে তাপমাত্রার ওপর নির্ভরতা সংক্রান্ত মূল পার্থক্যটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মোলারিটি দ্রবণের আয়তনের ওপর সংজ্ঞায়িত হওয়ায় এটি তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল (তাপমাত্রা বাড়লে আয়তন বৃদ্ধি পায়, ফলে মোলারিটি হ্রাস পায়)। অপরদিকে মোলালিটি দ্রাবকের ভরের ওপর নির্ভরশীল এবং পদার্থের ভর তাপমাত্রা দ্বারা প্রভাবিত হয় না; তাই মোলালিটি সম্পূর্ণরূপে তাপমাত্রা নিরপেক্ষ।
উভয় এককের সংজ্ঞায় ব্যবহৃত আয়তন বনাম ভরের ভূমিকা বিবেচনা করো।
5
কোনো মৌলের পারমাণবিক ভর ভগ্নাংশ হতে পারে কেন? একটি বাস্তব উদাহরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রকৃতিতে অধিকাংশ মৌল ভিন্ন ভিন্ন ভরের একাধিক আইসোটোপের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়। মৌলের পারমাণবিক ভর হলো এই আইসোটোপগুলির ভরের ও প্রাকৃতিক প্রাচুর্যতার গড় মান। উদাহরণস্বরূপ ক্লোরিনের আইসোটোপদ্বয় $^{35}Cl$ ও $^{37}Cl$ প্রায় ৩:১ অনুপাতে থাকায় এর গড় পারমাণবিক ভর ভগ্নাংশ ($35.5\text{ u}$) হয়।
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত মৌলসমূহের আইসোটোপ ও তাদের প্রাচুর্যতার কথা চিন্তা করুন।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

States of Matter: Gases and Liquids অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।