Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • History & Environment (অতীত ও ঐতিহ্য) • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

নগর, বণিক ও বাণিজ্য

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "অতীত ও ঐতিহ্য" পাঠ্যক্রমের ষষ্ঠ অধ্যায় "নগর, বণিক ও বাণিজ্য"। এই অধ্যায়ে মধ্যযুগীয় ভারতীয় নগরায়ণের কারণ, দিল্লির সাতটি ঐতিহাসিক শহর ও শাহজাহানাবাদের নগর পরিকল্পনা, যাযাবর বাঞ্জারা বণিকদের তান্ডা কাফেলা, সরাফ ও হুন্ডি ব্যাংকিং ব্যবস্থা, এবং সরস্বতী নদী পলি ভরাটে সপ্তগ্রামের পতন ও হুগলির উত্থানসহ ইউরোপীয় কুঠির ইতিহাস বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন—কীভাবে নগদ টাকা ছাড়াই মধ্যযুগে দূর-দূরান্তে বাণিজ্য চলত?

আজকের দিনে আমরা এটিএম কার্ড বা অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পাঠিয়ে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে জিনিসপত্র কেনাবেচা করি। কিন্তু মধ্যযুগে যখন রেলপথ, আধুনিক ব্যাংক কিংবা ইন্টারনেট ছিল না, তখন কীভাবে বণিকরা হাজার হাজার মণ শস্য বা রেশম বস্ত্র সুদূর গুজরাট থেকে বাংলায় আনতেন? ডাকাতদের উপদ্রব সত্ত্বেও কীভাবে নগদ টাকা সঙ্গে না নিয়ে শুধু এক টুকরো কাগজের ভরসায় লক্ষ টাকার লেনদেন হতো? সপ্তম শ্রেণির এই অধ্যায়ে আমরা আবিষ্কার করব মধ্যযুগীয় ভারতের সমৃদ্ধ নগরজীবন, দিল্লির সাতটি শহরের রোমাঞ্চকর উত্থান, যাযাবর বাঞ্জারা বণিকদের কাফেলা এবং আদি ব্যাংকিং ব্যবস্থা ‘হুন্ডি’-র অজানা ইতিহাস।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

মধ্যযুগীয় ভারতের অর্থনীতি ও নগরায়ণ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বর্তমান ভারতের একাধিক প্রধান মহানগর (যেমন দিল্লি ও হুগলি অঞ্চল), গ্রামীণ-নগর বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক, ধাতব মুদ্রা ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং ঋণপত্র (হুন্ডি)-র ভিত্তি এই পর্বেই স্থাপিত হয়েছিল। WBBSE সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস পরীক্ষার জন্য এই অধ্যায়ের প্রশাসনিক নীতি, শহরের গঠন ও বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • দিল্লি সুলতানি ও মুঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক বিস্তার ও শাসনকালের সাধারণ ধারণা।
  • কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজ ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনের মাধ্যমে নগর গড়ে ওঠার প্রাথমিক জ্ঞান।
  • মধ্যযুগের ভারতের ভৌগোলিক মানচিত্র ও প্রধান নদীগুলির (যমুনা, সরস্বতী, গঙ্গা) অবস্থান।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • মধ্যযুগীয় ভারতের শহরগুলির উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ত্রিস্তরীয় শ্রেণিবিভাগ বিশ্লেষণ করা।
  • দিল্লির সাতটি শহরের বিবর্তন ও শাহজাহানাবাদের অনন্য নগর পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা।
  • যাযাবর বাঞ্জারা বণিকদের তান্ডা কাফেলা ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রভাব চিহ্নিত করা।
  • মুদ্রা ব্যবস্থা, সরাফদের ভূমিকা ও ‘হুন্ডি’ ঋণপত্রের আধুনিক ব্যাংকিং তাৎপর্য অনুধাবন করা।
  • সরস্বতী নদীর পলি ভরাটে সপ্তগ্রামের পতন ও হুগলিতে ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কুঠির উত্থান ব্যাখ্যা করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. মধ্যযুগীয় ভারতের নগরায়ণ ও শহরে...
2 ২. দিল্লি শহরের ঐতিহাসিক বিবর্তন ও...
3 ৩. বণিক সম্প্রদায়, অভ্যন্তরীণ বাণি...
4 ৪. কারুশিল্প, রাজকীয় কারখানা, মুদ্...
5 ৫. বাংলার সামুদ্রিক বন্দর (সপ্তগ্রা...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. মধ্যযুগীয় ভারতের নগরায়ণ ও শহরের শ্রেণিবিভাগ

Foundation মধ্যযুগে (ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতক) ভারতে কৃষির বিস্তার, উদ্বৃত্ত উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাণিজ্যের প্রসারের ফলে অভূতপূর্ব নগরায়ণ ঘটেছিল। শহরগুলি কেবল মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল ছিল না, বরং রাজনৈতিক শাসন, ধর্মচর্চা এবং অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের জীবন্ত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগীয় শহরগুলিকে তাদের প্রধান কার্যকারিতার ভিত্তিতে প্রধানত তিনটি ধারায় বিভক্ত করা যায়: প্রশাসনিক নগর, ধর্মীয় বা তীর্থ নগর, এবং বাণিজ্যিক ও বন্দর নগর।

Chronology সুলতানি আমলে কুতবউদ্দিন আইবক ও ইলতুৎমিশের হাত ধরে রাজধানী হিসেবে দিল্লির বিস্তার ঘটে। পরবর্তীকালে আলাউদ্দিন খলজি সামরিক প্রয়োজনে সিরি শহর এবং গিয়াসউদ্দিন তুঘলক দুর্ভেদ্য তুঘলকাবাদ নগর স্থাপন করেন। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে মুঘল আমলে আগ্রা ও ফতেহপুর সিক্রি প্রধান রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রে পরিণত হয়। সপ্তদশ শতকে সম্রাট শাহজাহান যমুনা তীরে শাহজাহানাবাদ প্রতিষ্ঠা করে মধ্যযুগীয় নগর পরিকল্পনাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন।

Mechanism শহরগুলির গঠনপ্রকৃতি তাদের অর্থনৈতিক উৎসের ওপর নির্ভর করত:

  • প্রশাসনিক নগর (Administrative Capitals): দিল্লি, আগ্রা, ফতেহপুর সিক্রি, লাহোর ও দৌলতাবাদ। এখানে শাসক, রাজদরবার, সেনাবাহিনী, অভিজাত ও সরকারি আমলারা বাস করতেন। তাদের বিপুল ভোগবিলাসের চাহিদা মেটাতে দূরদূরান্ত থেকে কারিগর ও ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় জমাতেন।
  • ধর্মীয় ও তীর্থ নগর (Pilgrimage Centers): বারাণসী, মথুরা, পুরী, কাঞ্চীপুরম এবং আজমির (খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ)। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর আগমনের কারণে ধর্মীয় স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে মন্দির/দরগাহ ট্রাস্ট, বাজার, সরাইখানা ও হস্তশিল্পের বিশাল বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠত।
  • বাণিজ্যিক ও বন্দর নগর (Commercial Emporiums & Ports): পশ্চিম উপকূলের সুরাট, ক্যাম্বে (খাম্বাত) ও কালিকট; পূর্ব উপকূলের মাসুলিপত্তনম; এবং বাংলার সপ্তগ্রাম ও হুগলি। সুরাটকে বলা হতো ‘বাব-উল-মক্কা’ (মক্কার সিংহদ্বার), কারণ এখান থেকেই হজের জাহাজ এবং পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যতরী যাত্রা করত।

Synthesis একটি শহরের চরিত্র সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারত। যেমন আজমির ছিল চৌহান রাজাদের রাজনৈতিক রাজধানী, কিন্তু খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটি সর্বভারতীয় সুফি তীর্থ ও প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়। একইভাবে আগ্রা ছিল সামরিক ঘাঁটি, যা আকবর ও জাহাঙ্গীরের আমলে সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

Impact মধ্যযুগীয় শহরগুলি গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিল। গ্রামীণ উদ্বৃত্ত ফসল ও কাঁচামাল শহরে আসত এবং শহরের উৎপাদিত বিলাসবহুল শিল্পপণ্য ও ধাতব সামগ্রী দূরদেশে রপ্তানি হতো। শহরগুলির উত্থান ভারতকে বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করেছিল।

২. দিল্লি শহরের ঐতিহাসিক বিবর্তন ও শাহজাহানাবাদ

Foundation দিল্লি শুধু একটি শহর নয়, ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা বহু শহরের সমষ্টি। প্রচলিত ঐতিহাসিক মতানুসারে বর্তমান দিল্লি গড়ে উঠেছে কমপক্ষে সাতটি প্রধান ঐতিহাসিক শহরের ধ্বংসাবশেষের ওপর। রাজপুত তোমরদের লালকোট ও চৌহানদের কিলা রাই পিথোরা থেকে শুরু করে সপ্তদশ শতকের শাহজাহানাবাদ পর্যন্ত দিল্লির ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।

Chronology সুলতানি আমলে কুতুব চত্বরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কুতুব-দিল্লি। ১২৯৬–১৩১৬ খ্রিস্টাব্দে মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে আলাউদ্দিন খলজি নির্মাণ করেন সুরক্ষিত শহর ‘সিরি’ এবং বিখ্যাত জলাধার ‘হাউজ-ই-আলাই’ (হাউজ খাস)। এরপর গিয়াসউদ্দিন তুঘলক পাথুরে টিলায় গড়েন ‘তুঘলকাবাদ’, মহম্মদ বিন তুঘলক নির্মাণ করেন ‘জাহানপনাহ’ (বিশ্বের আশ্রয়), এবং ফিরোজ শাহ তুঘলক যমুনার তীরে গড়ে তোলেন সুরম্য ‘ফিরোজাবাদ’ (ফিরোজ শাহ কোটলা)। মুঘল আমলে হুমায়ুনের দীনপনাহ ও শের শাহের শেরগড়ের পর ১৬৩৯–১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে শাহজাহান তৈরি করেন প্রাচীরবেষ্টিত রাজধানী ‘শাহজাহানাবাদ’।

Mechanism শাহজাহানাবাদের নগর পরিকল্পনা ছিল মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন:

  • লালকেল্লা (Qila-i-Mubarak): লাল বেলেপাথরে নির্মিত রাজপ্রাসাদ ও প্রশাসনিক দুর্গ, যেখানে দেওয়ান-ই-আম ও দেওয়ান-ই-খাস অবস্থিত ছিল।
  • জামা মসজিদ: ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও উন্মুক্ত মসজিদ, যা এক বিশাল বেদির ওপর নির্মিত হয়ে সমগ্র নগরীর ওপর আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব রক্ষা করত।
  • চাঁদনি চক বাজার: শাহজাহানের বিদুষী কন্যা রাজকুমারী জাহানারা বেগমের পরিকল্পনায় নির্মিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি চক ও বাজার। এই চকের মাঝখান দিয়ে একটি সুন্দর খাল প্রবাহিত হতো, যার স্বচ্ছ জলে চাঁদের আলো প্রতিফলিত হয়ে অপূর্ব রূপ সৃষ্টি করত।
  • হাভেলি বনাম মকান: ধনী অভিজাত ও মনসবদাররা থাকতেন চারপাশ প্রাচীরবেষ্টিত সুবিশাল প্রাসাদতুল্য ‘হাভেলি’-তে, যার ভেতরে ফোয়ারা, বাগান ও জেনানা মহল থাকত। অন্যদিকে কারিগর, সাধারণ সৈনিক ও দিনমজুররা থাকতেন মাটির দেওয়াল ও খড়ের ছাউনিযুক্ত সাধারণ ‘মকান’ বা বস্তিতে।
  • জল সরবরাহ ব্যবস্থা: যমুনা নদী ও পশ্চিম যমুনা খাল থেকে জল এনে ‘নহর-ই-বেহেশত’ (স্বর্গের নদী) খালের মাধ্যমে কেল্লার ভেতরে ফোয়ারা ও বাগানগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহ করা হতো।

Synthesis শাহজাহানাবাদে মধ্যযুগীয় রাজকীয় শৌর্য ও নাগরিক অর্থনীতির এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। কেল্লার চারপাশের প্রধান ফটকগুলি (লাহোরি গেট, দিল্লি গেট, কাশ্মীরি গেট) দিয়ে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পণ্য শহরে প্রবেশ করত।

Impact শাহজাহানাবাদ শুধু মুঘল সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিল না, এটি সমগ্র এশিয়ার অন্যতম জনবহুল ও সাংস্কৃতিক রাজধানীতে পরিণত হয়, যা উর্দু ভাষা ও গঙ্গা-যমুনী তেহজিবের জন্মভূমি ছিল।

৩. বণিক সম্প্রদায়, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও বাঞ্জারা কাফেলা

Foundation মধ্যযুগীয় ভারতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল ছিল বিভিন্ন স্তরের বণিক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নিরলস প্রচেষ্টায়। স্থানীয় গ্রামীণ হাট থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান আঞ্চলিক শহর এবং আন্তর্জাতিক বন্দর পর্যন্ত এক সুবিস্তৃত বাণিজ্যিক জাল বিস্তার লাভ করেছিল। পণ্য পরিবহণে নৌপথ ও স্থলপথ উভয়ই ব্যবহৃত হতো।

Chronology সুলতানি আমলে আলাউদ্দিন খলজি বাজারদর নিয়ন্ত্রণের জন্য দিল্লির বাইরে থেকে শস্য আনা বাধ্যতামূলক করেন। সপ্তদশ শতকে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এবং ইউরোপীয় পর্যটক পিটার মান্ডি যাযাবর বণিক বাঞ্জারাদের বিপুল পরিবহণ শক্তির প্রত্যক্ষ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে দাক্ষিণাত্যের দীর্ঘ সামরিক অভিযানে বাঞ্জারারাই মুঘল বাহিনীর খাদ্য সরবরাহের প্রধান জীবনরেখা ছিল।

Mechanism বাণিজ্য পরিচালনায় বিভিন্ন বণিক দলের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল:

  • বাঞ্জারা (Banjaras): যাযাবর উপজাতীয় শস্য ব্যবসায়ী। তারা হাজার হাজার বলদ নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শস্য ও নুন পরিবহণ করত। বাঞ্জারাদের পরিবার, বলদ ও তাঁবুসহ পুরো কাফেলাকে বলা হতো ‘তান্ডা’ (Tanda)। একেকটি তান্ডায় ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ বলদ থাকত। তারা যেখানে শস্য সস্তা সেখান থেকে কিনে চড়া দামে শহরের মান্ডিতে বিক্রি করত।
  • আঞ্চলিক বণিক গোষ্ঠী: উত্তর ভারতে মুলতানি ও পাঞ্জাবি খত্রী; পশ্চিম ভারতে গুজরাটের হিন্দু বনিয়া ও মুসলিম বোহরা বণিক; দক্ষিণ ভারতে চেট্টিয়ার ও কোমাটি সম্প্রদায়; এবং রাজস্থানে মারোয়াড়ি ও ওসওয়াল দল।
  • অভ্যন্তরীণ বাজার কাঠামো: গ্রামীণ পর্যায়ে সপ্তাহে ১–২ দিন বসত ‘হাট’ (গ্রামীণ বাজার)। মাঝারি শহরে ছিল স্থায়ী পাইকারি আড়ত বা ‘মান্ডি’ এবং সাধারণ খুচরো বাজার ‘চক’ ও ‘গঞ্জ’। পণ্যের পাইকারি কারবারিরা সরাসরি উৎপাদক বা দালালের কাছ থেকে কিনে খুচরো দোকানে সরবরাহ করত।

Synthesis বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুলতান ও মুঘল শাসকরা রাজপথের দুধারে সরাইখানা (যাত্রীদের পান্থনিবাস), গভীর কূপ খনন এবং ছায়াদার বৃক্ষরোপণ করতেন। শের শাহ প্রবর্তিত ঐতিহাসিক সড়ক-ই-আজম (গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড) বাংলা থেকে পাঞ্জাব ও পেশোয়ার পর্যন্ত বাণিজ্য সংযোগ সুগম করেছিল।

Impact বণিক সম্প্রদায়ের এই কার্যকর নেটওয়ার্কের ফলেই কোনো অঞ্চলে খরা বা দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে অন্য অঞ্চল থেকে দ্রুত খাদ্যশস্য সরবরাহ করা সম্ভব হতো এবং শহরগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় থাকত।

৪. কারুশিল্প, রাজকীয় কারখানা, মুদ্রা ও হুন্ডি ঋণ ব্যবস্থা

Foundation মধ্যযুগীয় ভারতের শহরগুলি শুধু ভোগবাদী কেন্দ্র ছিল না, সেগুলি ছিল উচ্চমানের শিল্প উৎপাদনের প্রধান হাব। বস্ত্রশিল্প, ধাতুশিল্প, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ ও জাহাজ নির্মাণে ভারতীয় কারিগররা বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এই বিপুল অর্থনৈতিক উৎপাদনকে গতিশীল রাখতে গড়ে উঠেছিল উন্নত মুদ্রা ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং ঋণকাঠামো।

Chronology সুলতানি আমলে ইলতুৎমিশ রূপোর ‘টঙ্কা’ ও তামার ‘জিতল’ মুদ্রা প্রবর্তন করেন। শের শাহ সুরির আমলে খাঁটি রূপোর ‘রুপিয়া’ (১৭৮ গ্রেন) এবং তামার ‘দাম’ চালু হয়, যা আকবর আরও পরিশীলিত করেন। সপ্তদশ শতকে সরাফদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ‘হুন্ডি’ ব্যবস্থা সমগ্র এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান বিনিময় মাধ্যমে পরিণত হয়।

Mechanism উৎপাদন ও আর্থিক লেনদেনের প্রধান প্রতিষ্ঠানসমূহ:

  • রাজকীয় কারখানা (Royal Karkhanas): সুলতান ও মুঘল সম্রাটদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বৃহৎ রাষ্ট্রীয় কর্মশালা। এখানে রেশম বয়ন, জরি ও জরদৌজি সূচিকর্ম, অস্ত্রশস্ত্র, বহুমূল্য কার্পেট এবং সুগন্ধি তৈরি হতো। দেশের শ্রেষ্ঠ কারিগররা এখানে নিয়মিত মাসিক বেতনে কাজ করতেন।
  • বিখ্যাত শিল্পকেন্দ্র: ঢাকার সূক্ষ্ম মসলিন ও তাঁতবস্ত্র; গুজরাটের আহমেদাবাদ ও সুরাটের জরি ও পাটোলা সিল্ক; কর্নাটকের বিদার শহরের ‘বিডরি শিল্প’ (দস্তা ও তামার ওপর রূপোর তার খোদাই করে তৈরি অপূর্ব পাত্র ও অলঙ্কার); কাশ্মীরের শাল ও পশমনা বস্ত্র।
  • মুদ্রা ব্যবস্থা ও সরাফ (Sarrafs / Shroffs): মুঘল আমলে সোনা (মোহর/আশরফি), রূপো (রুপিয়া) ও তামা (দাম)-র ত্রৈধাতব মুদ্রা প্রচলিত ছিল। ‘সরাফ’রা ছিলেন বিশেষ মুদ্রা পরীক্ষক ও মানিচেঞ্জার। তারা বিভিন্ন টাঁকশালের মুদ্রার ধাতব বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতেন, কমিশন নিয়ে মুদ্রা ভাঙিয়ে দিতেন এবং আধুনিক ব্যাংকের মতো আমানত গ্রহণ ও ঋণ দিতেন।
  • হুন্ডি ব্যবস্থা (Hundi / Bill of Exchange): এটি ছিল একটি মধ্যযুগীয় ক্রেডিট নোট বা বিনিময়পত্র। একজন ব্যবসায়ী কোনো শহরে সরাফের কাছে নগদ টাকা জমা দিয়ে একটি হুন্ডি বা লিখিত ঋণপত্র নিতেন। এরপর দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্য শহরে পৌঁছে সেখানকার স্থানীয় সরাফের শাখায় সেই হুন্ডি দেখিয়ে সামান্য কমিশন বা বাট্টা (Discount) কেটে পুরো নগদ অর্থ তুলে নিতে পারতেন। ফলে ডাকাত বা চোরের ভয়ে রাস্তায় ভারী সোনা-রূপো বহন করার ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর হতো।
  • দাদন প্রথা (Dadni System): মধ্যস্বত্বভোগী দালাল বা ব্যবসায়ীরা গ্রাম ও শহরের দরিদ্র তাঁতি ও কারিগরদের কাঁচামাল কেনার জন্য অগ্রিম অর্থ (দাদন) দিত। চুক্তির শর্তানুসারে কারিগররা উৎপাদিত পণ্য বাজারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে সেই ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য থাকত।

Synthesis হুন্ডি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সুরাট বা আগ্রায় কাটা হুন্ডি সুদূর পারস্যের ইস্পাহান, বসরা কিংবা কায়রোর বাজারেও সমাদৃত হতো, যা ভারতীয় ব্যবসায়িক দলগুলির আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে।

Impact উন্নত আর্থিক ও ব্যাংকিং সুবিধার ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ সম্পদ দ্রুত স্থানান্তরিত হতে পারত এবং বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি উৎপাদন মধ্যযুগীয় ভারতের হস্তশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

৫. বাংলার সামুদ্রিক বন্দর (সপ্তগ্রাম থেকে হুগলি) ও ইউরোপীয় কুঠি

Foundation বাংলা বরাবরই ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান কৃষি ও বস্ত্রশিল্পের কেন্দ্র। গঙ্গা, পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবিধৌত এই ভূখণ্ড অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য এবং বঙ্গোপসাগরীয় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে নেতৃত্ব দিত। ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতকে বাংলার বন্দর ব্যবস্থা এক যুগান্তকারী ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।

Chronology প্রাচীনকাল ও সুলতানি আমলে ভাগীরথী ও সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত ‘সপ্তগ্রাম’ (সাতগাঁও) ছিল দক্ষিণবঙ্গের প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দর। পর্তুগিজরা একে বলত ‘পোর্তো পিকেনো’ (Porto Pequeno বা ছোট বন্দর), অন্যদিকে পূর্ব বাংলার চট্টগ্রামকে বলা হতো ‘পোর্তো গ্রান্দে’ (Porto Grande বা বড় বন্দর)। ষোড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সরস্বতী নদীতে পলি জমে নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেলে সপ্তগ্রামের বন্দর হিসেবে মৃত্যু ঘটে এবং তার বাণিজ্যিক প্রতিপত্তি দ্রুত হুগলিতে স্থানান্তরিত হয়।

Mechanism বাংলার বাণিজ্য ও ইউরোপীয় বণিকদের বিস্তার:

  • সপ্তগ্রামের পতন ও হুগলির উত্থান: সরস্বতী নদী শুকিয়ে যাওয়ায় সমুদ্রগামী ভারী বাণিজ্যিক জাহাজ আর সপ্তগ্রামে ঢুকতে পারছিল না। ১৫৭৯–৮০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবরের সনদের ভিত্তিতে পর্তুগিজরা গভীর জলের হুগলি নদীর তীরে বন্দর ও বসতি গড়ে তোলে। খুব দ্রুত হুগলি বাংলার প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রে রূপ নেয়।
  • পর্তুগিজ নৌআধিপত্য ও কার্টাজ ব্যবস্থা: পর্তুগিজরা জলদস্যুবৃত্তি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের পাশাপাশি সাগরে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত। তারা ‘কার্টাজ’ (Cartaz) নামের নৌবাণিজ্য ছাড়পত্র চালু করে। কোনো ভারতীয় বা এশীয় জাহাজ পর্তুগিজদের কাছ থেকে চড়া দামে এই কার্টাজ না কিনে সমুদ্রে নামলে পর্তুগিজ নৌবহর সেই জাহাজ বাজেয়াপ্ত করত ও নাবিকদের বন্দি করত। ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সুবাদার কাসিম খান হুগলি আক্রমণ করে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন।
  • ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কুঠি (Factories): সপ্তদশ শতকে একে একে অন্যান্য ইউরোপীয় কোম্পানি বাংলায় এসে ঘাটি গাড়ে:
    • ওলন্দাজ বা ডাচ: চুঁচুড়া (Chinsurah - ফোর্ট গুস্তাভাস)।
    • ফরাসি: চন্দননগর (Chandannagar - ফোর্ট ডি'অর্লিয়েন্স)।
    • ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি: হুগলি, কাশিমবাজার ও পরবর্তীকালে ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নকের উদ্যোগে সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর নিয়ে কলকাতা নগরীর ভিত্তি স্থাপন।
    • দিনেমার বা ডেনিশ: শ্রীরামপুর।
  • কুঠির প্রকৃত স্বরূপ: ইউরোপীয় ‘কুঠি’ বা ফ্যাক্টরিগুলি কোনো আধুনিক উৎপাদন কারখানা ছিল না। এগুলি ছিল সুরক্ষিত প্রশাসনিক দুর্গ, গুদামঘর ও আবাসিক ভবন। এখানে ভারতীয় তাঁতি ও কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বস্ত্র, রেশম, চাল, চিনি ও শোরা (গানপাউডার তৈরির উপাদান) ইউরোপে জাহাজে পাঠানোর আগে সংরক্ষণ করা হতো।

Synthesis সপ্তদশ শতকের শেষভাগে ভাগীরথী-হুগলি নদী অববাহিকায় ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কুঠিগুলির সারি এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর তৈরি করে, যা বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ অর্থনীতিকে ক্রমশ বৈশ্বিক পুঁজিবাদের অধীনস্থ করতে শুরু করে।

Impact ইউরোপীয় কোম্পানিগুলির এই বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাই পরবর্তীকালে অষ্টাদশ শতকে পলাশীর যুদ্ধ ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রেক্ষাপট রচনা করেছিল।

গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিভাষা, সময়কাল ও প্রশাসনিক নীতি

দিল্লি শহরের ঐতিহাসিক বিবর্তন (সাতটি শহর)
১. লালকোট/কিলা রাই পিথোরা ২. সিরি ৩. তুঘলকাবাদ ৪. জাহানপনাহ ৫. ফিরোজাবাদ ৬. দীনপনাহ/শেরগড় ৭. শাহজাহানাবাদ
ত্রয়োদশ শতকের সুলতানি দুর্গনগরী থেকে সপ্তদশ শতকের প্রাচীরবেষ্টিত মুঘল রাজধানী (১৬৩৯–৪৮ খ্রি.)
শাহজাহানাবাদ ছিল যমুনা তীরের পরিকল্পিত নগরী, যেখানে লালকেল্লা, জামা মসজিদ, চাঁদনি চক বাজার ও অভিজাতদের হাভেলি অবস্থিত ছিল।
মধ্যযুগীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান: হুন্ডি ঋণ ব্যবস্থা
হুন্ডি (ক্রেডিট নোট / বিনিময়পত্র) + সরাফ (মুদ্রা পরীক্ষক ও ব্যাংকার)
নগদ সোনা-রূপো বহন ছাড়া দূরদূরান্তের শহরে কমিশন বাট্টায় (Discount) অর্থ খালাস ব্যবস্থা
পথের ডাকাতি ও চুরির ঝুঁকি এড়াতে ভারতীয় বণিকরা দেশজুড়ে এই প্রাচীন ব্যাংকিং ক্রেডিট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতেন।
মুঘল ত্রৈধাতব মুদ্রা মান কাঠামো
১ মোহর / আশরফি (স্বর্ণ) ≈ ১০ রূপোর রুপিয়া (১৭৮ গ্রেন) = ৪০০ তামার দাম (৩৮০ গ্রেন)
শের শাহ প্রবর্তিত ও আকবর দ্বারা সুবিন্যস্ত খাঁটি ত্রিধাতব মুদ্রা অনুপাত
রুপোর রুপিয়াই ছিল সমগ্র মুঘল সাম্রাজ্যের মানক হিসাবনিকাশ ও রাজস্ব আদায়ের প্রধান সরকারি মুদ্রা।
বাঞ্জারা শস্য পরিবহণ কাফেলা (তান্ডা)
১টি তান্ডা (Tanda) = ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ বলদের শস্যবাহী কাফেলা
কৃষিপল্লি থেকে শহরের পাইকারি আড়ত ও সেনাবাহিনীর শিবিরে খাদ্যশস্য সরবরাহকারী যাযাবর বণিক দল
ইউরোপীয় পর্যটক পিটার মান্ডি ও সম্রাট জাহাঙ্গীর বাঞ্জারাদের সুসংগঠিত শস্য পরিবহণের প্রত্যক্ষ বিবরণ দিয়েছেন।
বাংলার বন্দর স্থানান্তর: সপ্তগ্রাম থেকে হুগলি
সপ্তগ্রাম (সরস্বতী নদী পলি ভরাটে নাব্যতাহীন) হুগলি (গভীর জলের প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দর)
১৫৭৯-৮০ সালে আকবরের সনদে পর্তুগিজ বাণিজ্য ঘাঁটি স্থাপন ও ১৬৩২ সালে মুঘল পুনর্দখল
পর্তুগিজদের কাছে সপ্তগ্রাম ছিল 'পোর্তো পিকেনো' (ছোট বন্দর) এবং চট্টগ্রামের নাম ছিল 'পোর্তো গ্রান্দে' (বড় বন্দর)।
ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কুঠি ও কার্টাজ পারমিট ব্যবস্থা
কুঠি (সংরক্ষিত গুদাম ও দুর্গ) + কার্টাজ (পর্তুগিজ সমুদ্র বাণিজ্য ছাড়পত্র)
চুঁচুড়া (ওলন্দাজ), চন্দননগর (ফরাসি), কলকাতা ও হুগলি (ইংরেজ), শ্রীরামপুর (দিনেমার)
ইউরোপীয় কুঠিগুলি পণ্য উৎপাদনের কারখানা ছিল না, বরং বস্ত্র, রেশম ও শোরা সংরক্ষণের সুরক্ষিত গুদামঘর ছিল।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
মধ্যযুগে সমৃদ্ধ বন্দর হিসেবে সপ্তগ্রামের পতন ঘটে কেন এবং হুগলি কীভাবে প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সপ্তগ্রামের পতন ও হুগলির উত্থানের কারণসমূহ: ১. ভৌগোলিক কারণ (নদীর নাব্যতা হ্রাস): সপ্তগ্রাম ছিল সরস্বতী ও ভাগীরথী নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সরস্বতী নদীতে বিপুল পরিমাণ পলি জমতে শুরু করে এবং নদীটির মোহনা শুকিয়ে যায়। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার গভীর ড্রাফটের ভারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলি আর সপ্তগ্রামের জেটিতে পৌঁছাতে পারত না। ২. হুগলির অনুকূল অবস্থান: ভাগীরথী-হুগলি নদীর মূল ধারাটি ছিল অত্যন্ত গভীর ও সারা বছর নাব্য। ফলে সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ সহজেই হুগলি বন্দরে নোঙর করতে পারত। ৩. পর্তুগিজদের আগমন ও মুঘল সনদ: ১৫৭৯–৮০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবরের রাজকীয় সনদের অনুমতি নিয়ে পর্তুগিজ বণিকরা হুগলিতে বাণিজ্য কেন্দ্র ও বসতি স্থাপন করে। পর্তুগিজদের আগমনের পর বাংলার সুতিবস্ত্র, রেশম ও শোরার বাণিজ্য পুরোপুরি হুগলিমুখী হয় এবং সপ্তগ্রাম তার পূর্বের গৌরব হারিয়ে নিছক একটি পল্লীতে পরিণত হয়।
উদাহরণ 2
মধ্যযুগীয় ভারতে 'হুন্ডি' (Hundi) ব্যবস্থা কীভাবে দূরপাল্লার বাণিজ্যকে নিরাপদ ও গতিশীল করেছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
হুন্ডি ছিল মধ্যযুগীয় ভারতের সরাফ (মুদ্রা পরীক্ষক ও ব্যাংকার) সম্প্রদায়ের দ্বারা উদ্ভাবিত একটি অনন্য আর্থিক ঋণপত্র বা বিনিময়পত্র (Bill of Exchange)। ১. নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি দূরীকরণ: মধ্যযুগে সড়কপথে ডাকাত, চোর ও সামন্ত প্রভুদের বেআইনি শুল্ক আদায়ের প্রবল ভয় থাকত। ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ভারী সোনা বা রূপোর মুদ্রা সঙ্গে না নিয়ে স্থানীয় সরাফের কাছে টাকা জমা দিয়ে একটি হুন্ডি বা প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করতেন। ২. নগদ অর্থ খালাস: গন্তব্য শহরে পৌঁছে সেই ব্যবসায়ী সেখানকার সংশ্লিষ্ট সরাফ বা তার প্রতিনিধির কাছে হুন্ডি জমা দিতেন। সরাফ সামান্য কিছু কমিশন বা বাট্টা (Discount) কেটে ব্যবসায়ীকে স্থানীয় মুদ্রায় পুরো অর্থ পরিশোধ করে দিত। ৩. আন্তর্জাতিক পরিধি: এই ব্যবস্থা এতই বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় ছিল যে ভারতের বাইরে পারস্যের ইস্পাহান, বসরা এবং মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যকেন্দ্রগুলিতেও ভারতীয় সরাফদের হুন্ডি সহজেই ভাঙানো যেত। ফলে এটি বাণিজ্যিক লেনদেনকে অত্যন্ত দ্রুত, নিরাপদ ও গতিশীল করে তুলেছিল।
উদাহরণ 3
সুলতানি আমলের দুর্গনগরীর তুলনায় মুঘল রাজধানী শাহজাহানাবাদের নগর বিন্যাস কীভাবে পৃথক ও উন্নত ছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সুলতানি আমলের নগর ও শাহজাহানাবাদের তুলনামূলক পার্থক্য: ১. উদ্দেশ্য ও বিন্যাস: সুলতানি আমলের নগরগুলি (যেমন—সিরি, তুঘলকাবাদ) ছিল মূলত মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকানোর জন্য নির্মিত সামরিক দুর্গনগরী (Garrison Towns)। সেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও পাথুরে প্রাচীর প্রাধান্য পেত। অন্যদিকে শাহজাহানাবাদ ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক মহানগর। ২. রাজপ্রাসাদ ও সাধারণ বসতির ভারসাম্য: শাহজাহানাবাদে যমুনার তীরে লালকেল্লা নির্মাণ করা হয়, কিন্তু নগরের কেন্দ্রস্থলে জনসাধারণের জন্য জামা মসজিদ এবং কেনাবেচার জন্য রাজকুমারী জাহানারার পরিকল্পিত নান্দনিক ‘চাঁদনি চক’ বাজার তৈরি করা হয়। ৩. নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও জল সরবরাহ: কেল্লার ভেতর ও শহরের পথঘাট দিয়ে ‘নহর-ই-বেহেশত’ (স্বর্গের খাল) প্রবাহিত করে সার্বক্ষণিক পরিশ্রুত জলের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া অভিজাতদের সুরম্য হাভেলি এবং সাধারণ মানুষের বাসস্থানের পৃথক এলাকা চিহ্নিত থাকলেও নগরটি একটি প্রাণবন্ত সামাজিক মিশ্রণের সৃষ্টি করেছিল।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুল ধারণা: মধ্যযুগীয় রাজকীয় "কারখানা" (Karkhana) ছিল আধুনিক যুগের কয়লা বা বাষ্পচালিত যান্ত্রিক শিল্প কারখানার মতো।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সংশোধন: মধ্যযুগীয় কারখানা কোনো আধুনিক যান্ত্রিক কারখানা ছিল না। এটি ছিল সম্রাট বা রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হস্তশিল্পের বৃহৎ কর্মশালা, যেখানে দেশের শ্রেষ্ঠ তাঁতি, সূচিশিল্পী ও ধাতুশিল্পীরা হাতে তৈরি বিলাসবহুল রেশম বস্ত্র, জরির কাজ, কার্পেট, অস্ত্র ও সুগন্ধি তৈরি করতেন।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুল ধারণা: ইউরোপীয় বণিকদের বাংলায় স্থাপিত "কুঠি" (Factories) ছিল পণ্য তৈরির কারখানা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সংশোধন: ইউরোপীয়দের কুঠি বা ফ্যাক্টরিগুলি কোনো উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না। এগুলি ছিল সুরক্ষিত গুদামঘর (Warehouses), কর্মচারীদের থাকার কোয়ার্টার ও প্রশাসনিক দপ্তর। ইউরোপীয় ফ্যাক্টররা স্থানীয় তাঁতি ও চাষিদের কাছ থেকে সংগৃহীত বস্ত্র, শোরা ও রেশম এখানে মজুত করত জাহাজে তোলার আগে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুল ধারণা: ব্রিটিশদের আগমনের পূর্বে ভারতে কোনো আধুনিক ব্যাংকিং, ঋণ কিংবা সংগঠিত আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা ছিল না।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সংশোধন: ব্রিটিশ আগমনের বহু শতক আগেই ভারতে সরাফ (Shroffs) সম্প্রদায়ের মাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালী আদি-ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। তারা মুদ্রা পরীক্ষা করত, সুদে ঋণ দিত এবং 'হুন্ডি' (বিনিময় ঋণপত্র)-র মাধ্যমে নগদ অর্থ বহন ছাড়াই হাজার হাজার মাইল দূরে নিরাপদে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন সম্পন্ন করত।

মধ্যযুগীয় ভারতের নগর, বণিক ও বাণিজ্য পরিকাঠামো মডেল

নগর, বণিক ও বাণিজ্য: মধ্যযুগীয় ভারতীয় অর্থনীতির রূপরেখা ডব্লিউবিবিএসই সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস • অধ্যায় ৬ ধারণাগত মডেল ১. মধ্যযুগীয় শহরের শ্রেণিবিভাগ প্রশাসনিক, ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রশাসনিক রাজধানী দিল্লি, আগ্রা, ফতেহপুর সিক্রি, দৌলতাবাদ ধর্মীয় ও তীর্থ নগর বারাণসী, পুরী, আজমির (চিশতি দরগাহ) আন্তর্জাতিক বন্দর সুরাট (বাব-উল-মক্কা), কালিকট, সপ্তগ্রাম, হুগলি ২. দিল্লির বিবর্তন ও শাহজাহানাবাদ সাতটি ঐতিহাসিক শহর ও মুঘল রাজধানী সুলতানি আমলের শহর কিলোকরি, সিরি, তুঘলকাবাদ, ফিরোজাবাদ শাহজাহানাবাদ (১৬৩৯-৪৮) লালকেল্লা, জামা মসজিদ, চাঁদনি চক বাজার নগর বিন্যাস ও জল সরবরাহ হাভেলি (ধনী), মাটির মকান ও নহর-ই-বেহেশত ৩. বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাঞ্জারা কাফেলা, সরাফ ও হুন্ডি ব্যবস্থা যাযাবর বণিক (বাঞ্জারা) তান্ডা কাফেলা (১০,০০০-২০,০০০ বলদের দল) হুন্ডি (বিনিময় ঋণপত্র) নগদ টাকা বহন ছাড়া দূরপাল্লার নিরাপদ লেনদেন সরাফ ও দাদন প্রথা মুদ্রা যাচাইকারী ব্যাঙ্কার ও অগ্রিম ঋণ বণ্টন ৪. বাংলার বন্দর ও ইউরোপীয় বণিক সপ্তগ্রামের পতন, হুগলির উত্থান ও কুঠি সপ্তগ্রাম থেকে হুগলি সরস্বতী নদীতে পলি জমার কারণে বাণিজ্য স্থানান্তর পর্তুগিজ ও কার্টাজ পোর্তো পিকেনো ও সাগরে বাণিজ্যের ছাড়পত্র ইউরোপীয় বাণিজ্য কুঠি ইংরেজ, ওলন্দাজ (চুঁচুড়া) ও ফরাসি (চন্দননগর) WBBSE VII

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
মধ্যযুগীয় ভারতের শহরগুলি প্রধানত তিনটি ধারায় বিভক্ত ছিল: প্রশাসনিক রাজধানী, তীর্থ ও ধর্মীয় কেন্দ্র, এবং বাণিজ্যিক বন্দর।
মূল বিষয় 2
দিল্লি শহরের বিকাশ ঘটেছিল সাতটি প্রধান ঐতিহাসিক নগরের মাধ্যমে, যার শ্রেষ্ঠ শিখর ছিল শাহজাহানের প্রাচীরবেষ্টিত রাজধানী শাহজাহানাবাদ (১৬৩৯-৪৮)।
মূল বিষয় 3
শাহজাহানাবাদের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল লালকেল্লা, জামা মসজিদ, জাহানারার চাঁদনি চক বাজার, অভিজাতদের হাভেলি এবং নহর-ই-বেহেশত খাল।
মূল বিষয় 4
বাঞ্জারা ছিল যাযাবর উপজাতীয় শস্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, যারা ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ বলদের তান্ডা কাফেলায় করে দূরদূরান্তে খাদ্যশস্য পরিবহণ করত।
মূল বিষয় 5
মুঘল আমলে সোনা (মোহর), রূপো (রুপিয়া) ও তামা (দাম)-র খাঁটি ত্রিধাতব মুদ্রা ব্যবস্থা চালু ছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিল।
মূল বিষয় 6
সরাফরা ছিলেন মুদ্রা পরীক্ষক ও আদি-ব্যাংকার, এবং হুন্ডি ছিল নগদ অর্থ বহন না করে দূরবর্তী শহরে ঋণপত্র ভাঙানোর নিরাপদ ব্যাংকিং মাধ্যম।
মূল বিষয় 7
সরস্বতী নদীতে পলি জমে নাব্যতা নষ্ট হওয়ায় প্রাচীন বন্দর সপ্তগ্রামের পতন ঘটে এবং পর্তুগিজদের হাত ধরে গভীর জলের হুগলি প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দরে পরিণত হয়।
মূল বিষয় 8
ইউরোপীয় বণিকদের কুঠিগুলি কোনো পণ্য তৈরির কারখানা ছিল না, বরং স্থানীয় পণ্য ইউরোপে রপ্তানির জন্য তৈরি সুরক্ষিত গুদামঘর ও বাণিজ্যিক দপ্তর ছিল।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
মধ্যযুগীয় ভারতের শহরগুলিকে তাদের প্রধান কাজের ভিত্তিতে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় এবং কী কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মধ্যযুগীয় ভারতের শহরগুলিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: (১) প্রশাসনিক নগর বা রাজধানী (যেমন—দিল্লি, আগ্রা, ফতেহপুর সিক্রি), (২) ধর্মীয় ও তীর্থ নগর (যেমন—বারাণসী, পুরী, আজমির), এবং (৩) বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক বন্দর নগর (যেমন—সুরাট, কালিকট, সপ্তগ্রাম, হুগলি)।
রাজনৈতিক ক্ষমতা, দেবস্থান ও সমুদ্র বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রগুলি মনে করুন।
2
শাহজাহানাবাদের চাঁদনি চক বাজারটির পরিকল্পনা কে করেছিলেন এবং এর বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: শাহজাহানাবাদের চাঁদনি চক বাজারটির পরিকল্পনা করেছিলেন সম্রাট শাহজাহানের বিদুষী কন্যা রাজকুমারী জাহানারা বেগম। এর বিশেষত্ব ছিল এটি একটি সুন্দর অর্ধচন্দ্রাকৃতি চক ছিল, যার মাঝখান দিয়ে যমুনা থেকে আনা একটি স্বচ্ছ জলের খাল প্রবাহিত হতো। চাঁদের আলোতে খালের জল চকচক করত বলেই এর নাম হয়েছিল চাঁদনি চক।
শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও যমুনার নহর-ই-বেহেশতের জলের কথা ভাবুন।
3
বাঞ্জারা কারা ছিল এবং তাদের 'তান্ডা' (Tanda) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: বাঞ্জারা ছিল যাযাবর উপজাতীয় শস্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, যারা এক স্থান থেকে শস্য সস্তায় কিনে দেশের দূরদূরান্তের শহর ও বাজারে গিয়ে বিক্রি করত। বাঞ্জারাদের পরিবার, তাঁবু, স্ত্রী-পুত্র এবং ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ মালবাহী বলদসহ সমগ্র চলমান কাফেলাকে বলা হতো 'তান্ডা'।
পিটার মান্ডির বিবরণে বর্ণিত যাযাবর বলদের বিশাল শস্য কাফেলা।
4
মধ্যযুগে 'সরাফ' (Sarraf) কারা ছিলেন এবং তাদের প্রধান কাজ কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: সরাফরা ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের মুদ্রা পরীক্ষক, মানিচেঞ্জার এবং আদি-ব্যাংকার। তাদের প্রধান কাজ ছিল বিভিন্ন টাঁকশাল থেকে নির্গত মুদ্রার ধাতব খাঁটিত্ব পরীক্ষা করা, এক মুদ্রা বদলে অন্য মুদ্রা দেওয়া, ব্যবসায়ীদের আমানত গচ্ছিত রাখা এবং দূরপাল্লার বাণিজ্যের জন্য 'হুন্ডি' (ঋণ বিনিময়পত্র) জারি ও ভাঙানো।
মুদ্রার বিশুদ্ধতা যাচাইকারী ও আধুনিক ব্যাংকের প্রাচীন রূপ।
5
পর্তুগিজদের প্রবর্তিত 'কার্টাজ' (Cartaz) ব্যবস্থা কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কার্টাজ ছিল ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পর্তুগিজদের দ্বারা বাধ্যতামূলকভাবে আরোপিত এক ধরনের নৌবাণিজ্য ছাড়পত্র বা পারমিট। পর্তুগিজদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে এই ছাড়পত্র না কিনলে তারা ভারতীয় বা অন্য যে কোনো এশীয় বাণিজ্য জাহাজ সাগরে বাজেয়াপ্ত করত ও নাবিকদের বন্দি করত।
সমুদ্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে পর্তুগিজদের নৌ-ছাড়পত্র।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

নগর, বণিক ও বাণিজ্য অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।