Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • History & Environment (অতীত ও ঐতিহ্য) • অধ্যায় 4
আনুমানিক সময়: 50 মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

দিল্লি সুলতানি: তুর্ক-আফগান শাসন

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "অতীত ও ঐতিহ্য" পাঠ্যপুস্তকের চতুর্থ অধ্যায় "দিল্লি সুলতানি: তুর্ক-আফগান শাসন (১২০৬–১৫২৬ খ্রি.)"। এই অধ্যায়ে ১২০৬ সালে কুতবউদ্দিন আইবক কর্তৃক মামলুক বা দাস বংশের মাধ্যমে দিল্লি সুলতানির সূচনা, শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ কর্তৃক খলিফার অনুমোদন লাভ ও বন্দেগান-ই-চিহিলগানি (চল্লিশ চক্র) গঠন, মধ্যযুগের একমাত্র স্বাধীন মুসলিম নারী শাসক সুলতানা রাজিয়ার বীরত্বগাথা ও মর্মান্তিক পতন, গিয়াসউদ্দিন বলবানের রাজতান্ত্রিক দৈবস্বত্ব নীতি, সিজদা-পাইবস প্রথা ও রক্ত-লৌহ নীতি, খলজি বিপ্লব, আলাউদ্দিন খলজির সাম্রাজ্য বিস্তার (মালিক কাফুরের দাক্ষিণাত্য অভিযান), সামরিক সংস্কার (দাগ ও হুলিয়া), বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও রেশন প্রথা (শাহনা-ই-মান্ডি ও দেওয়ান-ই-রিয়াসাত), তুঘলক বংশে মহম্মদ বিন তুঘলকের অভিনব কিন্তু ব্যর্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা (দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর, প্রতীকী তাম্রমুদ্রা প্রচলন, দোয়াবে করবৃদ্ধি ও দেওয়ান-ই-কোহি), মরক্কোর পর্যটক ইবন বতুতার বিবরণ, ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমূলক সংস্কার ও ৪টি শাস্ত্রীয় কর, ইকতা প্রথা ও উদ্বৃত্ত রাজস্ব (ফওয়াজিল), সৈয়দ ও লোদি বংশের শাসন এবং অবশেষে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের কামান ও তুলঘুমা রণকৌশলের কাছে ইব্রাহিম লোদির পরাজয়ের মাধ্যমে ৩২০ বছরের সুলতানি সাম্রাজ্যের অবসান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচিত হয়েছে।

কীভাবে একজন ক্রীতদাস দিল্লির সম্রাট হলেন, আর কেন এক পরাক্রমশালী সুলতান সমস্ত খাদ্যদ্রব্য ও কাপড়ের দাম রাজার হুকুমে স্থির করে দিয়েছিলেন?

ভাবুন তো এমন এক রোমাঞ্চকর ইতিহাসের কথা, যেখানে মধ্য এশিয়ার বাজার থেকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হওয়া মানুষরাই নিজেদের বাহুবল ও বুদ্ধির জোরে ভারতবর্ষের সার্বভৌম অধিপতি 'সুলতান' বনে গিয়েছিলেন! এই সাম্রাজ্যেই একজন সুলতান—আলাউদ্দিন খলজি—গুপ্তচর লাগিয়ে রাজধানীর বাজারে গম, চাল, চিনি এমনকি ঘোড়ার দাম পাই-পয়সা পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছিলেন; ওজনে এক ছটাক কম দিলে দোকানদারের শরীর থেকে সমান ওজনের মাংস কেটে নেওয়ার কঠোর ফরমান ছিল! আবার আরেক ক্ষণজন্মা প্রতিভাবান সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলক তামার পয়সাকে রুপোর সমান ঘোষণা করে এবং আস্ত রাজধানী দিল্লি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে পাহাড়ে সরিয়ে নিয়ে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

দিল্লি সুলতানি ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নবদিগন্তের সূচনা করেছিল। এটি কেবল যুদ্ধজয় নয়, বরং কেন্দ্রীয় করব্যবস্থা (ইকতা), সামরিক আধুনিকায়ন (দাগ ও হুলিয়া), বাজার নিয়ন্ত্রণ, নগরায়ণ এবং হিন্দু-মুসলিম সমন্বয়মূলক এক সমৃদ্ধ ইন্দো-ইসলামিক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে মহান মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিস্থাপন করেছিল।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • দ্বাদশ শতকে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.) এবং মুহম্মদ ঘোরির ভারত অভিযানের জ্ঞান।
  • ভারতের মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ও আঞ্চলিক রাজবংশসমূহের পটভূমি।
  • মুদ্রাব্যবস্থা, বাণিজ্যপথ ও মধ্যযুগীয় প্রশাসনিক পরিভাষার প্রাথমিক ধারণা।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • দিল্লি সুলতানির পাঁচটি রাজবংশের কালানুক্রম ও প্রধান সুলতানদের শাসনকাল ব্যাখ্যা করা।
  • ইলতুৎমিশ, রাজিয়া ও বলবানের রাজতান্ত্রিক সুদৃঢ়করণ কৌশল এবং চল্লিশ চক্রের ভূমিকা মূল্যায়ন করা।
  • আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, দাগ-হুলিয়া এবং ৫০% রাজস্ব আদায়ের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করা।
  • মহম্মদ বিন তুঘলকের তিনটি উচ্চাভিলাষী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পটভূমি এবং ফিরোজ শাহের সংস্কারসমূহ নিরূপণ করা।
  • ইকতা ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী এবং ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিচার করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠা, মামলু...
2 ২. খলজি বংশ, আলাউদ্দিন খলজির দিগ্বি...
3 ৩. তুঘলক বংশ: মহম্মদ বিন তুঘলকের বৈ...
4 ৪. সুলতানি শাসনকাঠামো: সুলতানের ক্ষ...
5 ৫. সৈয়দ ও লোদি বংশ, তৈমুরের আক্রমণ...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠা, মামলুক বংশ এবং ইলতুৎমিশ, রাজিয়া ও বলবানের অবদান

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মুহম্মদ ঘোরির মৃত্যুর পর উত্তর ভারতে কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছিল না। কীভাবে একজন সাধারণ দাস বা মামলুক দিল্লির বুকে ৩২০ বছর স্থায়ী এক পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের বীজ বপন করেছিলেন?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠা ও মামলুক বংশ (১২০৬–১২৯০ খ্রি.):
আরবি শব্দ 'মামলুক' (Mamluk) অর্থ 'ক্রীতদাস'। সুলতান কুতবউদ্দিন আইবক ছিলেন মুহম্মদ ঘোরির বিশ্বস্ত তুর্কি দাস সেনাপতি। ১২০৬ সালে তিনি লাহোরে স্বাধীন দিল্লি সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রচুর দান করতেন বলে তাঁকে 'লাখবখশ' (Lakhbaksh) বা লক্ষ্যদাতা বলা হতো। তিনি দিল্লির কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং ১২১০ সালে চৌগান (পোলো) খেলতে গিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে মারা যান।

শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ (১২১১–১২৩৬ খ্রি.) — সুলতানির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা:
১. ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে সুলতান হিসেবে স্বীকৃতিপত্র (মনসুর) ও সম্মানসূচক পোশাক (খিলয়াত) লাভ করে নিজের শাসনকে বৈধতা দেন।
২. শাসনকাজ পরিচালনার জন্য ৪০ জন অনুগত তুর্কি ক্রীতদাস আমীরকে নিয়ে গড়ে তোলেন 'বন্দেগান-ই-চিহিলগানি' বা 'চল্লিশ চক্র' (Turkan-i-Chahalgani)।
৩. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিশুদ্ধ রুপোর 'টঙ্কা' (Tanka - ১৭৫ গ্রেন) এবং তামার 'জিতল' (Jital) মুদ্রা চালু করেন। মঙ্গোল বীর চেঙ্গিজ খানের আক্রমণ থেকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে দিল্লিকে রক্ষা করেন।

সুলতানা রাজিয়া (১২৩৬–১২৪০ খ্রি.) — প্রথম নারী শাসক:
ইলতুৎমিশ যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁর কন্যা রাজিয়াকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। রাজিয়া ছিলেন দিল্লি সুলতানির একমাত্র নারী শাসক। তিনি পর্দা প্রথা বর্জন করে পুরুষদের মতো কুবা (পোশাক) ও কুলাহ (টুপি) পরে প্রকাশ্য দরবারে বসতেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতেন। কিন্তু গোঁড়া তুর্কি আমীর ও চল্লিশ চক্র নারী শাসন মেনে নিতে না পেরে ষড়যন্ত্র করে ভাতিন্ডার শাসক আলতুনিয়ার সাথে সংঘাতে তাঁকে হত্যা করে।

গিয়াসউদ্দিন বলবান (১২৬৬–১২৮৭ খ্রি.) — কঠোর রাজতান্ত্রিক সুদৃঢ়করণ:
বলবান চল্লিশ চক্রের উদ্ধত ক্ষমতা চূর্ণ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন সুলতান ঈশ্বরের প্রতিনিধি বা 'নিয়াবত-ই-খুদাই' এবং ঈশ্বরের ছায়া বা 'জিল-ই-ইলাহি'। রাজদরবারে গাম্ভীর্য প্রতিষ্ঠা করতে তিনি পারস্যের অনুকরণে 'সিজদা' (Sijdah - সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত) এবং 'পাইবস' (Paibos - সুলতানের পদযুগল চুম্বন) প্রথা বাধ্যতামূলক করেন। মেওয়াতি দস্যু দমন এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তিনি প্রয়োগ করেন নির্মম 'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy)।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

সমকালীন ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানির 'তারিখ-ই-ফিরোজশাহী' এবং মিনহাজ-উস-সিরাজের 'তবকাত-ই-নাসিরি' গ্রন্থে রাজিয়ার অনন্য প্রশাসনিক দূরদর্শিতা এবং বলবানের রাজদরবারের পিনপতন নীরবতার বিস্তারিত সাক্ষ্য পাওয়া যায়।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

মামলুক যুগ প্রমাণ করে যে মধ্যযুগে বংশমর্যাদার চেয়ে ব্যক্তিগত শৌর্য ও সামরিক দক্ষতাই ক্ষমতার আসল ভিত্তি ছিল। তবে তুর্কি অভিজাতদের চক্রান্ত দিল্লির সিংহাসনকে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল রেখেছিল, যা বলবানের কঠোর স্বৈরতান্ত্রিক নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: কুতবউদ্দিন লাখবখশ নামে পরিচিত ছিলেন; ইলতুৎমিশ রূপার টঙ্কা ও তামার জিতল চালু করেন এবং খলিফার মনসুর পান; রাজিয়া ছিলেন একমাত্র নারী সুলতান; বলবান সিজদা ও পাইবস প্রথা চালু করেন এবং চল্লিশ চক্র ধ্বংস করেন।

২. খলজি বংশ, আলাউদ্দিন খলজির দিগ্বিজয়, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক সংস্কার

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

মঙ্গোল আক্রমণের লাগাতার হুমকি মোকাবিলা করতে এবং গোটা ভারত জয় করতে বিশাল সেনাবাহিনীর খরচ জোগাড় করা কীভাবে সম্ভব? আলাউদ্দিন খলজি অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কীভাবে এই অসাধ্য সাধন করেছিলেন?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

খলজি বিপ্লব ও আলাউদ্দিন খলজি (১২৯৬–১৩১৬ খ্রি.):
১২৯০ সালে জালালউদ্দিন খলজি মামলুকদের হটিয়ে খলজি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইলবারি তুর্কিদের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দেয় বলে ইতিহাসে 'খলজি বিপ্লব' নামে পরিচিত। ১২৯৬ সালে সিংহাসনে বসেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আলাউদ্দিন খলজি। নিজেকে তিনি 'দ্বিতীয় আলেকজান্ডার' বা 'সিকান্দর-ই-সানি' উপাধিতে ভূষিত করেন।

সাম্রাজ্য বিস্তার ও দাক্ষিণাত্য নীতি:
আলাউদ্দিন উত্তর ভারতের গুজরাট, রণথম্ভোর, মেবার (চিতোর জয় ও রানি পদ্মিনীর উপাখ্যান), মালব অধিকার করেন। তাঁর সুদক্ষ সেনাপতি মালিক কাফুর দক্ষিণ ভারতের দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল, দ্বারসমুদ্র ও মাদুরাই জয় করেন। আলাউদ্দিন দক্ষিণ ভারতকে সরাসরি সাম্রাজ্যভুক্ত না করে করদ রাজ্যে পরিণত করেন এবং বিপুল ধনরত্ন নিয়ে ফিরে আসেন।

সামরিক সংস্কার (Military Reforms):
১. স্থায়ী সেনাবাহিনী: সৈন্যদের নগদ অর্থে নিয়মিত বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
২. দাগ (Dagh) ও হুলিয়া/চেহরা (Chehra): সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি রোধে উন্নত জাতের রাজকীয় ঘোড়ার গায়ে গরম লোহার সিলমোহর মারা (দাগ) এবং প্রতিটি সৈন্যের শারীরিক চেহারার লিখিত বিবরণ নথিভুক্ত রাখার (হুলিয়া) ব্যবস্থা করেন।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতি (Market Control Regulations):
সৈন্যদের কম বেতনে যাতে ভালো জীবনযাত্রা বজায় রাখা যায়, সেজন্য তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেন:
• দিল্লিতে ৪টি পৃথক বাজার প্রতিষ্ঠা: (ক) খাদ্যশস্যের বাজার, (খ) বহুমূল্য বস্ত্র, চিনি ও ঘি-এর বাজার (সরাই-ই-আদল), (গ) ঘোড়া, গবাদি পশু ও দাস-দাসীর বাজার, (ঘ) সাধারণ পণ্যের বাজার।
• বাজার তদারকির জন্য 'শাহনা-ই-মান্ডি' ও 'দেওয়ান-ই-রিয়াসাত' নামক উচ্চপদস্থ কর্মচারী এবং 'মুনহি' বা গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়।
• ওজনে কম দিলে সমপরিমাণ মাংস কেটে নেওয়ার বিধান ছিল। দুর্ভিক্ষের সময় জনগণের জন্য চাল-গমের রেশনিং ব্যবস্থা (Rationing System) চালু ছিল।

ভূমি রাজস্ব সংস্কার:
তিনি জমি জরিপ (বিসওয়া পদ্ধতিতে) করিয়ে উৎপন্ন ফসলের ৫০% (অর্ধেক) রাজস্ব বা 'খারাজ' হিসেবে আদায় করেন। মধ্যস্বত্বভোগী খুত, মুকাদ্দম ও চৌধুরীদের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

আমীর খসরুর 'খাজাইন-উল-ফুতুহ' এবং জিয়াউদ্দিন বারানির বিবরণ অনুযায়ী, আলাউদ্দিনের সমগ্র শাসনকালে চরম দুর্ভিক্ষের মধ্যেও দিল্লিতে এক কড়াও জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

আলাউদ্দিনের বাজার নিয়ন্ত্রণ কোনো আধুনিক সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না; এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি বিশাল সেনাবহরকে অল্প খরচে বাঁচিয়ে রাখার কঠোর সামরিক-অর্থনৈতিক কৌশল। কঠোর বলপ্রয়োগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁর মৃত্যুর পরেই এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: আলাউদ্দিন খলজিকে সিকান্দর-ই-সানি বলা হতো। তিনি দাগ ও হুলিয়া প্রথা এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণ (শাহনা-ই-মান্ডি) প্রবর্তন করেন। তাঁর সেনাপতি ছিলেন মালিক কাফুর। তিনি ৫০% খারাজ আদায় করতেন।

৩. তুঘলক বংশ: মহম্মদ বিন তুঘলকের বৈপ্লবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফিরোজ শাহের জনকল্যাণ

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

একই সুলতান গভীর দর্শনের অনুরাগী, চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী, অথচ সমকালীন ঐতিহাসিকরা তাঁকে 'পাগলা রাজা' বা স্ববিরোধী চরিত্রের মানুষ আখ্যা দিলেন কেন? তাঁর পরিকল্পনাগুলো কি আসলেই অবাস্তব ছিল, নাকি সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

তুঘলক বংশ (১৩২০–১৪১৪ খ্রি.) ও মহম্মদ বিন তুঘলক (১৩২৫–১৩৫১ খ্রি.):
গিয়াসউদ্দিন তুঘলক এই বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পুত্র জুনা খান ১৩২৫ সালে মহম্মদ বিন তুঘলক নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন অসামান্য জ্ঞানী, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী। কিন্তু বাস্তববোধের অভাব ও চরম অধৈর্যতার কারণে তাঁর পরিকল্পনাগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়:

তিনটি প্রধান ঐতিহাসিক পরীক্ষা:
১. রাজধানী স্থানান্তর (১৩২৭ খ্রি.): সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল থেকে দক্ষিণ ভারত নিয়ন্ত্রণ এবং মঙ্গোল আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ১০০০ কিমি দূরে মহারাষ্ট্রের দেবগিরিতে সরিয়ে নেন এবং নাম দেন 'দৌলতাবাদ' (Daulatabad)। কিন্তু দীর্ঘ পথযাত্রায় গ্রীষ্মের দাবদাহে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারত শাসন অসম্ভব বুঝে তিনি পুনরায় সবাইকে দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
২. প্রতীকী তাম্রমুদ্রার প্রচলন (১৩২৯–১৩৩০ খ্রি.): রাজকোষে রুপোর ঘাটতি মেটাতে তিনি চিনের কুবলাই খাঁ এবং পারস্যের কাইখাতুর অনুকরণে ব্রোঞ্জ বা তামার প্রতীকী মুদ্রা চালু করেন, যার সরকারি মূল্য ছিল খাঁটি রূপার টঙ্কার সমান। কিন্তু রাজকীয় টাকশালের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নিরাপত্তা না থাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে জাল মুদ্রা তৈরি হতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে তিনি সব তামার মুদ্রা রাজকোষে জমা নিয়ে পরিবর্তে খাঁটি রুপোর টঙ্কা ফেরত দেন, যার ফলে রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে।
৩. দোয়াব অঞ্চলে করবৃদ্ধি: গঙ্গা-যমুনা দোয়াবের উর্বর জমিতে তিনি রাজস্ব বৃদ্ধি করেন। দুর্ভাগ্যবশত ঠিক সেই বছরেই সেখানে ভয়াবহ খরা ও দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। কৃষকরা বিদ্রোহ করলে তিনি কঠোর দমননীতি চালান। তবে পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি 'দেওয়ান-ই-কোহি' নামক কৃষি বিভাগ স্থাপন করেন এবং কৃষকদের কৃষিঋণ (তাকাভি বা সোন্ধার) প্রদান করেন।

ইবন বতুতা (Ibn Battuta): মরক্কোর পরিব্রাজক ইবন বতুতা ১৩৩৩ সালে ভারতে আসেন। মহম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে দিল্লির প্রধান 'কাজি' (বিচারক) পদে নিযুক্ত করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত 'কিতাব-উর-রেহলা' (Rihla) তুঘলক যুগের অমূল্য দলিল।

ফিরোজ শাহ তুঘলক (১৩৫১–১৩৮৮ খ্রি.) — কল্যাণকামী সুলতান:
ফিরোজ শাহ উলেমা ও অভিজাতদের তুষ্ট করতে ইকতা প্রথা এবং সেনাবাহিনীর পদকে বংশানুক্রমিক করেন। তিনি ২৪টি অনৈসলামিক কর বা 'আবওয়াব' বাতিল করে কেবল ৪টি শাস্ত্রীয় কর বহাল রাখেন: (ক) খারাজ, (খ) খামস (যুদ্ধের লুটের ১/৫ অংশ), (গ) জিজিয়া (অমুসলিমদের সুরক্ষাকর), এবং (ঘ) জাকাত (ধনীদের ধর্মীয় দান)। তিনি সেচের জন্য যমুনা ও শতদ্রু নদী থেকে খাল খনন করান (হক-ই-শরব জলকর), দার-উল-শাফা (বিনামূল্যে চিকিৎসালয়), কর্মসংস্থান দপ্তর এবং ফিরোজাবাদ, জৌনপুর ও হিসার শহর স্থাপন করেন।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা এবং দৌলতাবাদ দুর্গের স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ তুঘলক যুগের উচ্চাভিলাষ ও প্রকৌশল দক্ষতার অকাট্য বাস্তব প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

মহম্মদ বিন তুঘলক কোনো পাগল ছিলেন না; প্রতীকী মুদ্রা বা ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দুতে রাজধানী স্থানান্তরের ধারণা ছিল আধুনিক অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত চিন্তার সমতুল্য। তবে তাঁর ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং প্রজাদের মানসিক প্রস্তুতির অভাব। অপরপক্ষে ফিরোজ শাহের বংশানুক্রমিক পদপ্রদান সামরিক দক্ষতাকে ধ্বংস করে সাম্রাজ্যের পতন ডেকে আনে।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: মহম্মদ বিন তুঘলক দৌলতাবাদে রাজধানী সরান এবং প্রতীকী তামার মুদ্রা চালু করেন। ইবন বতুতা মরক্কো থেকে এসে কাজি নিযুক্ত হন। ফিরোজ শাহ ৪টি শাস্ত্রীয় কর বহাল রাখেন এবং খাল খনন করান।

৪. সুলতানি শাসনকাঠামো: সুলতানের ক্ষমতা, ইকতা প্রথা ও প্রশাসনিক অমাত্যবর্গ

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

গোটা উপমহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত এক বিশাল সাম্রাজ্য মধ্যযুগে কীভাবে কোনো আধুনিক কম্পিউটার বা দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত হতো? রাজস্ব ও সামরিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সুলতানরা কোন প্রশাসনিক নকশা তৈরি করেছিলেন?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

সুলতানের ক্ষমতা ও মর্যাদা:
সুলতান ছিলেন সাম্রাজ্যের সর্বময় কর্তা—প্রধান আইনপ্রণেতা, প্রধান সেনাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক। তাত্ত্বিকভাবে সুলতানরা বাগদাদ বা মিশরের খলিফাকে ইসলামের ধর্মীয় প্রধান মেনে নিজেদের তাঁর ডেপুটি হিসেবে প্রচার করতেন।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক দপ্তরসমূহ (The Central Ministries):
সুলতানকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিশিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত মজলিস-ই-খালওয়াত ছিল। চারটি প্রধান কেন্দ্রীয় দপ্তর ছিল:
১. দেওয়ান-ই-ওয়াজিরাত (Diwan-i-Wizarat): প্রধানমন্ত্রী বা উজিরের নেতৃত্বাধীন অর্থ ও রাজস্ব দপ্তর।
২. দেওয়ান-ই-আরিজ (Diwan-i-Arz): সেনাপ্রধান (আরিজ-ই-মালিক)-এর অধীনে সামরিক দপ্তর, সৈন্যভর্তি ও রসদ তদারক করত।
৩. দেওয়ান-ই-ইনশা (Diwan-i-Insha): রাজকীয় চিঠিপত্র, ফরমান ও যোগাযোগ দপ্তর।
৪. দেওয়ান-ই-রিসালাত (Diwan-i-Risalat): ধর্মীয় বিষয়, দান-ধ্যান ও বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত দপ্তর।
বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন 'কাজি-উল-কুজাত' এবং প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন 'বারিদ-ই-মালিক'।

ইকতা ব্যবস্থা (The Iqta System):
সুলতানি শাসনের মেরুদণ্ড ছিল ইকতা প্রথা। দূরবর্তী প্রদেশগুলোকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করা হতো, যাদের বলা হতো 'ইকতা' (Iqta)। ইকতার শাসনকর্তাদের বলা হতো 'ইকতাদার' (Iqtadar), 'মুক্তি' (Muqti) বা 'ওয়ালি' (Wali)।
• ইকতাদারের দায়িত্ব: নিজের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কৃষক ও প্রজাদের থেকে রাজস্ব আদায় করা, এবং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈন্যের সেনাবহর লালন-পালন করা যা সুলতানের প্রয়োজনে যুদ্ধে পাঠাতে হবে।
• ফওয়াজিল (Fawazil): আদায়কৃত রাজস্ব থেকে নিজের বেতন এবং সৈন্যদলের ভরণপোষণের খরচ বাদ দেওয়ার পর যে অতিরিক্ত অর্থ উদ্বৃত্ত থাকত, তা কেন্দ্রীয় রাজকোষে পাঠাতে হতো। এই উদ্বৃত্ত রাজস্বকে বলা হতো 'ফওয়াজিল'।
সুলতানরা নিয়মিত ইকতাদারদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করতেন যাতে তাঁরা স্থানীয়ভাবে স্বাধীন সামন্তপ্রভুতে পরিণত হতে না পারেন (যদিও ফিরোজ তুঘলক এটিকে বংশানুক্রমিক করে দিয়ে চরম ভুল করেছিলেন)।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

সুলতানি আমলের বিভিন্ন পরোয়ানা, রাজকীয় অনুদানপত্র এবং জিয়াউদ্দিন বারানির প্রশাসনিক গ্রন্থ 'ফতোয়া-ই-জাহান্দারি'-তে দেওয়ানদের কর্মপরিধি ও ইকতাদারদের বাৎসরিক অডিট পরীক্ষার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

ইকতা ব্যবস্থা প্রাচীন সামন্ততান্ত্রিক ভূস্বামী প্রথার চেয়ে অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত ও উন্নত ছিল। এটি নগদ টাকার অভাব সত্ত্বেও দূরবর্তী অঞ্চল থেকে কর আদায় এবং এক বিশাল সেনাবহর বজায় রাখার অসাধারণ উপায় ছিল।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: উজির ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান (দেওয়ান-ই-ওয়াজিরাত)। সামরিক দপ্তর ছিল দেওয়ান-ই-আরিজ। ইকতাদাররা কর আদায় করত এবং খরচ বাদে উদ্বৃত্ত রাজস্ব (ফওয়াজিল) কেন্দ্রে পাঠাত।

৫. সৈয়দ ও লোদি বংশ, তৈমুরের আক্রমণ এবং পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রি.)

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

৩২০ বছর ধরে রাজত্ব করা দিল্লি সুলতানির পতন কীভাবে মাত্র একদিনের কয়েক ঘণ্টার যুদ্ধে সম্পন্ন হয়ে গেল? একটি বিশাল ১ লক্ষ সৈন্যের বাহিনীকে বাবর কীভাবে মাত্র ১২ হাজার সৈন্য দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

তৈমুর লঙের ভারত আক্রমণ (১৩৯৮ খ্রি.):
তুঘলক সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদের দুর্বল শাসনের সময় মধ্য এশিয়ার সমরখন্দের দিগ্বিজয়ী শাসক তৈমুর লঙ দিল্লি আক্রমণ করেন। তিনি দিল্লিতে ভয়াবহ গণহত্যা ও লুণ্ঠন চালান। এই আক্রমণ তুঘলক বংশ ও সুলতানির মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়।

সৈয়দ বংশ (১৪১৪–১৪৫১ খ্রি.):
তৈমুরের ভারত ত্যাগের পর তাঁর প্রতিনিধি খিজির খাঁ সৈয়দ বংশের পত্তন করেন। তাঁরা নিজেদের মহানবী (সা.)-এর বংশধর বলে দাবি করতেন। এই বংশের মোট চারজন শাসক ছিলেন (খিজির খাঁ, মুবারক শাহ, মহম্মদ শাহ, আলাউদ্দিন আলম শাহ)।

লোদি বংশ (১৪৫১–১৫২৬ খ্রি.) — প্রথম আফগান রাজবংশ:
১. বাহলুল লোদি (১৪৫১–১৪৮৯ খ্রি.): তিনি লোদি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন প্রথম আফগান সুলতান। তিনি আফগান সর্দারদের নিজের সমান মর্যাদা দিতেন এবং তাঁদের সাথে মাটিতে গালিচায় বসতেন।
২. সিকান্দার লোদি (১৪৮৯–১৫১৭ খ্রি.): তিনি ১৫০৪ সালে ঐতিহাসিক আগ্রা শহর প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তিনি জমি পরিমাপের জন্য 'গজ-ই-সিকান্দারি' (Gaz-i-Sikandari) স্কেল প্রবর্তন করেন। তিনি গুলরুখ ছদ্মনামে ফারসি কবিতা লিখতেন।
৩. ইব্রাহিম লোদি (১৫১৭–১৫২৬ খ্রি.): তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদ্ধত ও সন্দেহবাতিক। তিনি স্বাধীনচেতা আফগান অভিজাতদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তাঁদের ক্ষুব্ধ করেন। পাঞ্জাবের গভর্নর দৌলত খাঁ লোদি এবং ইব্রাহিমের পিতৃব্য আলম খাঁ লোদি কাবুলের শাসক জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর-কে ভারত আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (২১ এপ্রিল ১৫২৬ খ্রি.):
হরিয়ানার পানিপথের প্রান্তরে বাবরের মুঘল বাহিনী এবং ইব্রাহিম লোদির বিশাল সেনাদলের মধ্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়:
• বাবরের রণকৌশল: বাবর তুর্কি ও অটোমান সামরিক কৌশল 'তুলঘুমা' (Tulughma - শত্রুকে দুপাশ থেকে ঘিরে ফেলা) এবং 'রুমি বা উসমানীয় পদ্ধতি' (রজ্জু দিয়ে শত শত গরুর গাড়ি বেঁধে তার আড়ালে কামান সাজানো) প্রয়োগ করেন। ওস্তাদ আলি ও মুস্তাফা ছিলেন তাঁর প্রধান গোলন্দাজ।
• ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সমরাঙ্গনে আগ্নেয়াস্ত্র ও কামানের বিধ্বংসী সফল প্রয়োগ ঘটে। লোদির শত শত রণহস্তী কামানের গোলার বিকট গর্জনে ভয় পেয়ে উল্টো নিজেদের পদাতিক সৈন্যদেরই পদদলিত করে।
• ইব্রাহিম লোদি যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো লড়াই করে নিহত হন (তিনিই একমাত্র সুলতান যিনি রণক্ষেত্রে প্রাণ হারান)। এই যুদ্ধের মাধ্যমে দিল্লি সুলতানির চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং ভারতবর্ষে মহান মুঘল সাম্রাজ্যের গৌরবোজ্জ্বল সূচনা হয়।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

বাবরের আত্মজীবনী 'বাবরনামা' (Tuzuk-i-Baburi)-তে পানিপথের ময়দানের যুদ্ধসজ্জা, তোপখানার বিন্যাস এবং কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লোদির বিশাল বাহিনী ধূলিসাৎ হয়েছিল তার নিখুঁত ডায়াগ্রামভিত্তিক বর্ণনা রয়েছে।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

পানিপথের যুদ্ধ প্রমাণ করে যে মধ্যযুগে নিছক সেনাসংখ্যা বা হস্তীবাহিনী জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। উন্নত সামরিক প্রযুক্তি (কামান ও বন্দুক), গতিশীল অশ্বারোহী এবং সুসংহত রণকৌশলই আধুনিক যুগের প্রবেশদ্বার খুলে দিয়েছিল।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: ১৩৯৮ সালে তৈমুর লং ভারত আক্রমণ করেন। সিকান্দার লোদি আগ্রা শহর প্রতিষ্ঠা করেন ও গজ-ই-সিকান্দারি চালু করেন। ১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিভাষা, সময়কাল ও প্রশাসনিক নীতি

দিল্লি সুলতানির কালপরিক্রমা ও ৫টি প্রধান রাজবংশ
মামলুক (১২০৬–৯০) খলজি (১২৯০–১৩২০) তুঘলক (১৩২০–১৪১৪) সৈয়দ (১৪১৪–৫১) লোদি (১৪৫১–১৫২৬)
মোট ব্যাপ্তিকাল: ৩২০ বছর (৩২ দশকব্যাপী তুর্ক-আফগান শাসন)
১২০৬ সালে কুতবউদ্দিন আইবক প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদির পরাজয়ে এই যুগের সমাপ্তি ঘটে।
আলাউদ্দিনের ভূমি রাজস্বের পরিমাপ মান (খারাজ)
৫০% (½ অংশ) জমির উৎপন্ন মোট ফসলের বাধ্যতামূলক রাজস্ব
পরিমাপের একক: বিসওয়া (বাস্তব জমি জরিপ ভিত্তি)
অনুমানের বদলে বাস্তব জমি জরিপ (বিসওয়া) করিয়ে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক সরাসরি রাষ্ট্রের জন্য আদায় করা হতো, মধ্যস্বত্বভোগীদের ক্ষমতা দমন করে।
মুদ্রা অনুপাত ও তুঘলকের প্রতীকী তাম্রমুদ্রা
১টি রুপোর টঙ্কা (১৭৫ গ্রেন) = ৪৮টি তামার জিতল
মহম্মদ তুঘলকের প্রতীকী ব্রোঞ্জ মুদ্রা: রুপোর সমমূল্য ধার্য (জাল মুদ্রার কারণে ব্যর্থ)
ইলতুৎমিশ খাঁটি রৌপ্যমুদ্রা ও তামার অনুপাত সুনির্দিষ্ট করেন। মহম্মদ তুঘলকের প্রতীকী মুদ্রা রাজকীয় টাঁকশালের সুরক্ষার অভাবে ঘরে ঘরে জাল হতে থাকে।
ইকতা উদ্বৃত্ত রাজস্ব সমীকরণ (ফওয়াজিল)
ফওয়াজিল = প্রদেশের সংগৃহীত মোট রাজস্ব – (সেনাবাহিনীর ব্যয় + ইকতাদারের ব্যক্তিগত ভাতা)
কেন্দ্রীয় হিসাব পরীক্ষক দপ্তর: দিওয়ান-ই-ওয়াজিরাত
প্রাদেশিক সামরিক গভর্নররা যাবতীয় প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় রাজকোষে পাঠাতে আইনত বাধ্য ছিলেন।
ফিরোজ শাহ তুঘলকের ৪টি শাস্ত্রীয় কর কাঠামো
খারাজ (১০% কৃষি কর) খামস (⅕ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশ) জিজিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর) যাকাত (২.৫% মুসলিম দান কর)
২৪টি অতিরিক্ত বেআইনি কর (আবওয়াব) সম্পূর্ণ বাতিল করেন
উলেমাদের সমর্থন পেতে ফিরোজ শাহ শরিয়ত অনুমোদিত চারটি কর ছাড়া বাকি সমস্ত প্রচলিত অতিরিক্ত কর বা আবওয়াব মকুব করে দেন।
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬) রণকৌশলগত প্রযুক্তি
তোপখানা (কামান ও বারুদ) + তুলুগমা (পাশ্ববর্তী আক্রমণ কৌশল) + ম্যাচলক বন্দুক
লোদির প্রথাগত হস্তীবাহিনী ও তীরন্দাজদের বিরুদ্ধে বাবরের আধুনিক প্রযুক্তিগত বিজয়
উস্তাদ আলি ও মুস্তাফার পরিচালিত আধুনিক কামান ও রুমি ব্যূহরচনা লোদির বিশৃঙ্খল ১ লক্ষ সেনাদলকে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় চূর্ণ করে দেয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ইলতুৎমিশকে কেন দিল্লি সুলতানির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা (Real Founder) বলা হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ইলতুৎমিশের কৃতিত্ব ও সুলতানির ভিত্তি স্থাপন:
১. আইনি বৈধতা: ১২২৯ সালে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার থেকে 'মনসুর' (স্বীকৃতিপত্র) লাভ করে তিনি দিল্লিকে একটি সার্বভৌম ইসলামিক সালতানাতে রূপ দেন।
২. অভ্যন্তরীণ ঐক্য: কুতবউদ্দিন কেবল ৪ বছর শাসন করেছিলেন এবং সাম্রাজ্যের কোনো স্থায়ী ভিত্তি দিতে পারেননি। ইলতুৎমিশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী কুবাচা ও ইয়ালদুজকে পরাস্ত করে সাম্রাজ্য সুসংহত করেন।
৩. মুদ্রা ও প্রশাসনিক কাঠামো: তিনি প্রথম বিশুদ্ধ রূপার 'টঙ্কা' ও তামার 'জিতল' চালু করে অর্থনীতি মজবুত করেন এবং অনুগত 'চল্লিশ চক্র' গঠন করে প্রশাসন সুরক্ষিত করেন।
৪. মঙ্গোল বিপদ রক্ষা: চেঙ্গিজ খানের আক্রমণ থেকে কূটনৈতিক দূরদর্শিতার সাথে দিল্লিকে রক্ষা করেন।
উদাহরণ 2
আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য এবং কার্যপদ্ধতি কী ছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
আলাউদ্দিনের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক কৌশল:
১. প্রধান উদ্দেশ্য: আলাউদ্দিনের লক্ষ্য ছিল অল্প বেতনে একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবহরকে দিল্লির মতো রাজধানীতে বাঁচিয়ে রাখা এবং সৈন্যদের জীবনধারণ সহজ করা যাতে তারা মঙ্গোল আক্রমণ ঠেকাতে ও ভারত বিজয়ে মনোনিবেশ করতে পারে।
২. কার্যপদ্ধতি: খাদ্যশস্য, বহুমূল্য কাপড়, চিনি, তেল, ঘোড়া ও পশুর জন্য ৪টি পৃথক বিশেষ বাজার তৈরি করা হয়। শাহনা-ই-মান্ডি ও দেওয়ান-ই-রিয়াসাত নামক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মুনহি (গুপ্তচর) দ্বারা প্রতিটি পণ্যের সরকার নির্ধারিত দাম তদারকি করা হতো। ওজনে কম দিলে সমপরিমাণ মাংস কেটে নেওয়ার ফরমান ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু ছিল।
উদাহরণ 3
মহম্মদ বিন তুঘলকের প্রতীকী তাম্রমুদ্রা প্রচলনের পরিকল্পনা কেন চূড়ান্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রতীকী মুদ্রা ব্যর্থতার কারণসমূহ:
১. টাকশালের নিরাপত্তার অভাব: রাজকীয় সিলমোহর বা মুদ্রায় কোনো বিশেষ গোপন নিরাপত্তা চিহ্ন ছিল না। ফলে কামার, স্বর্ণকার থেকে শুরু করে সাধারণ প্রজারা ঘরে ঘরে জাল তামার মুদ্রা তৈরি করতে শুরু করে।
২. বিদেশি বাণিজ্যে অচলাবস্থা: বিদেশি ব্যবসায়ীরা তামার মুদ্রা নিতে অস্বীকার করে এবং কেবল সোনা বা রূপা দাবি করে।
৩. ব্যাড মানি ড্রাইভস আউট গুড মানি: প্রজারা খাঁটি রূপার মুদ্রা লুকিয়ে রেখে জাল তামার মুদ্রা দিয়ে সমস্ত রাষ্ট্রীয় খাজনা পরিশোধ করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সুলতান তামার মুদ্রা প্রত্যাহার করে সমমূল্যের রূপোর মুদ্রা ফেরত দেন, যার ফলে রাজকোষ সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যায়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে কুতবউদ্দিন আইবক সম্পূর্ণ কুতুব মিনারটি একাই তৈরি করেছিলেন।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কুতবউদ্দিন আইবক ১১৯৯ সালে সুফি সন্ত খাজা কুতবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর স্মরণে শুধুমাত্র প্রথম তলাটি নির্মাণ করেছিলেন। এরপর শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ আরও তিনটি তলা যোগ করে এর নির্মাণ সমাপ্ত করেন, এবং ফিরোজ শাহ তুঘলক ক্ষতিগ্রস্ত ওপরের অংশ মেরামত করান।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে মালিক কাফুর দক্ষিণ ভারতের সমস্ত রাজ্য দখল করে দিল্লি সুলতানির সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

আলাউদ্দিন খলজি দক্ষিণ ভারতকে কখনোই সরাসরি দিল্লির অন্তর্ভুক্ত করেননি। তিনি কেবল দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল ও মাদুরাইয়ের রাজাদের বশ্যতা স্বীকার করিয়ে বাৎসরিক কর ও বিপুল সোনাদানা নিয়ে দিল্লিতে ফিরে আসেন। এটি ছিল পরোক্ষ করদ নীতি।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে সুলতানি আমলের 'ইকতা' ছিল বংশানুক্রমিক ব্যক্তিগত জমিদারি সম্পত্তি।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ইকতা কোনো স্থায়ী বা বংশানুক্রমিক সম্পত্তি ছিল না; এটি ছিল নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাজস্ব আদায় ও সৈন্য পোষার সরকারি প্রশাসনিক দায়িত্ব। সুলতানরা নিয়মিত ইকতাদারদের বদলি করতেন। ফিরোজ তুঘলকের আগে পর্যন্ত ইকতা বংশানুক্রমিক ছিল না।

দিল্লি সুলতানি: রাজবংশপরিক্রমা, আলাউদ্দিনের সংস্কার, তুঘলকের পরীক্ষা ও ইকতা কাঠামো (Visual Model)

THE DELHI SULTANATE: TURKO-AFGHAN RULE (1206 – 1526 CE) WBBSE CLASS 7 HISTORY • 5 DYNASTIES • ILTUTMISH • RAZIA • BALBAN • ALAUDDIN KHALJI • TUGHLAQS • PANIPAT 1526 1. Dynastic Chronology (5 Dynasties • 320 Years) 1. Mamluk / Slave (1206–1290 CE): Aibak • Iltutmish (Tanka/Jital) • Razia • Balban 2. Khalji Dynasty (1290–1320 CE): Alauddin Khalji: Market reforms, Dagh/Huliya, 50% tax 3. Tughlaq Dynasty (1320–1414 CE): Muhammad bin Tughlaq (Daulatabad, Token) • Firoz 4. Sayyid Dynasty (1414–1451 CE): Khizr Khan (Post-Timur invasion stabilization) 5. Lodi Dynasty (1451–1526 CE): First Afghan Dynasty • Sikandar (Agra) • Ibrahim Lodi 2. Central Government Ministries & Iqta System SULTAN & THE CALIPH • Absolute autocrat; commander-in-chief • Investiture from Caliph (Manshur & Khilat) Key Central Ministries • Wazir: Finance & Prime Minister • Diwan-i-Arz: Army & recruitment The Iqta System (ইকতা ব্যবস্থা) • Definition: Empire divided into revenue provinces called Iqtas granted to military commanders (Muqti / Iqtadar). • Duties: Collect local agrarian revenue; maintain a ready standing army contingent for the Sultan. • Fawazil: Surplus revenue after deducting troops' expenses remitted to central treasury. • Balban appointed Khwaja (accountant) to audit; Firoz Tughlaq made Iqtas hereditary. Primary Taxes: Kharaj (land tax), Jizya (Zimmis), Zakat (charity), Khams (1/5th booty) 3. Alauddin Khalji's Market Control & Standing Army Market Price Regulation • Fixed Maximum Prices: Wheat 7.5 Jitals/maund; Sugar, Cloth • Three Markets: 1. Mandi (Food grains) 2. Sarai-i-Adl (Cloth & luxury) 3. Horses, cattle & slaves • Officers: Shahna-i-Mandi, Barids & Munhiyans (secret spies) Government granaries for famines Military & Revenue Reforms • First Standing Army: Paid directly in cash (234 Tankas/yr) • Dagh & Huliya: - Dagh: Royal branding of horses - Huliya/Chehra: Descriptive soldier roll • Zabita (Measurement): Kharaj fixed at 50% (half) of produce • Defeated multiple Mongol invasions; Malik Kafur conquered South India 4. Tughlaq Projects & Panipat 1526 Muhammad bin Tughlaq (1325–1351 CE) • Visionary Experiments • 1327 CE Capital Shift: Delhi to Daulatabad (Devagiri) to command South; reverse trek caused misery. • Token Currency (1330 CE): Bronze/copper coins equated to silver Tanka; widespread forgery collapsed it. Doab tax during famine $ o$ Agricultural loans (Sondhar/Taccavi) & Diwan-i-Kohi Firoz Shah Tughlaq (1351–1388 CE) • Welfare State • Constructed extensive irrigation canals (Yamuna & Sutlej); founded cities (Firozabad, Jaunpur, Hissar). Free hospitals (Dar-ul-Shifa); charity bureau (Diwan-i-Khairat); abolished non-Sharia cesses. 21 April 1526: First Battle of Panipat • Sunset of Sultanate • Babur used field artillery (Topkhana) & Tulughma tactics to defeat Ibrahim Lodi (Sultanate ended; Mughal era began).

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১২০৬ সালে কুতবউদ্দিন আইবক দিল্লি সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন; ইলতুৎমিশ ১২২৯ সালে খলিফার স্বীকৃতি পেয়ে একে সুদৃঢ় করেন।
মূল বিষয় 2
ইলতুৎমিশ বিশুদ্ধ রৌপ্যমুদ্রা টঙ্কা (১৭৫ গ্রেন) ও তামার জিতল চালু করেন এবং বন্দেগান-ই-চিহিলগানি (চল্লিশ চক্র) গঠন করেন।
মূল বিষয় 3
সুলতানা রাজিয়া ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের একমাত্র স্বাধীন নারী সুলতান যিনি পুরুষের পোশাকে প্রকাশ্যে দরবার পরিচালনা করতেন।
মূল বিষয় 4
গিয়াসউদ্দিন বলবান চল্লিশ চক্র ধ্বংস করেন এবং ঐশ্বরিক রাজতন্ত্রের দাবিতে সিজদা ও পাইবস প্রথা এবং রক্ত-লৌহ নীতি প্রবর্তন করেন।
মূল বিষয় 5
আলাউদ্দিন খলজি নিজেকে সিকান্দর-ই-সানি বলতেন; তিনি দাগ ও হুলিয়া প্রথা, ৪টি পৃথক বাজার ও শাহনা-ই-মান্ডি চালু করেন।
মূল বিষয় 6
মহম্মদ বিন তুঘলক দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর এবং প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েন।
মূল বিষয় 7
ইবন বতুতা মরক্কো থেকে তুঘলক আমলে ভারতে এসে দিল্লির কাজি নিযুক্ত হন এবং তাঁর ভ্রমণগ্রন্থ কিতাব-উর-রেহলা রচনা করেন।
মূল বিষয় 8
১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর কামানের সাহায্যে ইব্রাহিম লোদিকে পরাস্ত করে মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে কোন সুলতান প্রথম দিল্লি শাসনের আইনি স্বীকৃতিপত্র (মনসুর) লাভ করেন এবং কত সালে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের খলিফার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপত্র (মনসুর) এবং খিলাতের পোশাক লাভ করেন।
তিনি টঙ্কা ও জিতল মুদ্রা চালু করেছিলেন।
2
সেনাবাহিনীতে ঘোড়া বদল ও ভুয়ো সৈন্য প্রতিরোধে আলাউদ্দিন খলজি কোন দুটি বিশেষ সামরিক প্রথা চালু করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: তিনি উৎকৃষ্ট রাজকীয় ঘোড়ার গায়ে গরম লোহার সিলমোহর মারার 'দাগ' (Dagh) এবং প্রতিটি সৈন্যের দৈহিক বিবরণ লিখে রাখার 'হুলিয়া' বা 'চেহরা' (Chehra) প্রথা চালু করেন।
একটি ছিল ঘোড়ার জন্য এবং অন্যটি ছিল সৈন্যের চেহারার বর্ণনার জন্য।
3
মহম্মদ বিন তুঘলকের আমলে ভারতে আসা বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবন বতুতা কোন দেশের নাগরিক ছিলেন এবং তাঁর গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ইবন বতুতা ছিলেন উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর নাগরিক এবং তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থের নাম 'কিতাব-উর-রেহলা' (বা সংক্ষেপে রেহলা)।
তিনি মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহর থেকে এসেছিলেন এবং দিল্লির কাজি পদে নিযুক্ত ছিলেন।
4
সুলতানি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় 'ইকতা' বলতে কী বোঝায় এবং 'ফওয়াজিল' কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ইকতা হলো রাজস্ব আদায় ও সেনা ভরণপোষণের জন্য বন্টনকৃত প্রদেশ বা ভূখণ্ড। ইকতাদাররা স্থানীয় ব্যয় ও সেনা খরচ বাদ দিয়ে যে অতিরিক্ত রাজস্ব কেন্দ্রীয় কোষাগারে পাঠাতেন, তাকে 'ফওয়াজিল' বলা হতো।
এটি ছিল রাজস্বের উদ্বৃত্ত অংশ।
5
১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর কোন দুটি প্রধান সমরাস্ত্র ও রণকৌশল ব্যবহার করে ইব্রাহিম লোদির বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: বাবর আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বা বারুদের কামান (তোপখানা) এবং তুর্কি-অটোমান কৌশল 'তুলঘুমা' (শত্রুকে দুপাশ থেকে ঘিরে ফেলা) ও উসমানীয় রুমি পদ্ধতি (গাড়ির ব্যারিকেড) ব্যবহার করেছিলেন।
এতে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিশেষ অটোমান যুদ্ধপদ্ধতির সমন্বয় ঘটেছিল।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

দিল্লি সুলতানি: তুর্ক-আফগান শাসন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।