Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • History & Environment (অতীত ও ঐতিহ্য) • অধ্যায় 3
আনুমানিক সময়: 50 মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা: খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "অতীত ও ঐতিহ্য" পাঠ্যপুস্তকের তৃতীয় অধ্যায় "ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা: খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক"। এই অধ্যায়ে ভারতীয় সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা (সামন্ত স্তরবিন্যাস, নিষ্কর ব্রহ্মদেয় ও অগ্রহার ভূমিদান) এবং ইউরোপীয় সামন্ততন্ত্রের সাথে তার তুলনামূলক বিচার, পাল ও সেন যুগে বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, উৎপন্ন ফসল ও বিভিন্ন প্রকার কর (ভাগ, ভোগ, কর, হিরণ্য), চোল আমলে দক্ষিণ ভারতের গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন (উর, সভা, নগরম, নাড়ু ও মণ্ডলম) এবং উত্তরমেরুর লিপি, প্রাচীন বাঙালি সমাজের খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদ (প্রাকৃত-পৈঙ্গল কাব্যের বিবরণ), বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে বর্ণবিন্যাস ও উপজাতিসমূহের উদ্ভব, বাংলা ভাষার জন্ম এবং ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রাজদরবার থেকে প্রাচীন চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার, সন্ধ্যা ভাষা ও বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ, কৃষিনির্ভর লোকসংস্কৃতিতে ডাক ও খনার বচন, লক্ষণসেনের রাজসভায় জয়দেবের গীতগোবিন্দম্, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৌদ্ধ মহাবিহারসমূহ (নালন্দা, বিক্রমশীলা, সোমপুর, জগদ্দল), বীরভূমের চিকিৎসাশাস্ত্রবিদ চক্রপাণি দত্ত, তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম সংস্কারক অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের অবদান এবং বরেন্দ্রভূমির দুই দিকপাল ভাস্কর ধীমান ও বীতপালের প্রাচ্য শিল্পরীতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচিত হয়েছে।

প্রাচীনকালের রাজারা কেন কোনো কর না নিয়ে হাজার হাজার উর্বর গ্রাম পুরোহিত ও মন্দিরকে চিরকালের জন্য দান করে দিতেন?

ভাবুন তো এমন এক সমাজব্যবস্থার কথা, যেখানে রাজারা নগদ বেতনের বদলে সেনাপতি ও পণ্ডিতদের আস্ত এক একটি গ্রাম লিখে দিতেন! সেই জমিতে রাজারও কোনো ট্যাক্স নেওয়ার অধিকার থাকত না। এই নিষ্কর জমিদান প্রথা থেকেই জন্ম নিয়েছিল শক্তিশালী এক 'সামন্ত শ্রেণি'। আর সেই যুগেই বাংলার এক ক্ষণজন্মা পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর বরফে ঢাকা ভয়াল হিমালয় পর্বত পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে সুদূর তিব্বতে পৌঁছে সেখানকার লাখ লাখ মানুষের নয়নের মণি ও পূজনীয় বুদ্ধের সমতুল্য হয়ে উঠেছিলেন! একই সময়ে নেপালের রাজদরবারের জীর্ণ কোণে লুকিয়ে ছিল আমাদের বাংলা ভাষার প্রথম জন্মপত্রিকা—'চর্যাপদ'!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

এই অধ্যায়টি প্রাচীনকালের সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনকে জানার এক অনন্য দলিল। এখানে কেবল যুদ্ধবিগ্রহ নয়, বরং হাজার বছর আগে বাঙালিরা কী খেত, কীভাবে কথা বলত, কৃষি ও আবহাওয়া নিয়ে কী লোকবিশ্বাস ছিল এবং কেন গোটা এশিয়ার জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা বাংলায় এসে শিক্ষা নিত—তার জীবন্ত ছবি ফুটে উঠেছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রথম লিখিত রূপ চর্যাপদের জন্ম এই যুগেই হয়েছিল।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • ইতিহাসের সাহিত্যিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের প্রাথমিক জ্ঞান।
  • পাল ও সেন রাজবংশের সমসাময়িক কালপরিক্রমা (৮ম থেকে ১২শ শতক)।
  • ভারতের কৃষি, গ্রামীণ সমাজ ও ধর্মীয় ধারার মৌলিক ধারণা।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • ভারতীয় সামন্ত ব্যবস্থার স্তরবিন্যাস ও ইউরোপীয় সামন্ততন্ত্রের সাথে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করা।
  • পাল-সেন যুগের কর ব্যবস্থা (ভাগ, ভোগ, কর, হিরণ্য) এবং চোল স্বায়ত্তশাসনের (উর, সভা, নগরম) কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করা।
  • প্রাকৃত-পৈঙ্গল ও পুরাণ অবলম্বনে প্রাচীন বাঙালির খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও সামাজিক বর্ণবিন্যাস বর্ণনা করা।
  • চর্যাপদের আবিষ্কার, এর ভাষা ও গুরুত্ব এবং ডাক ও খনার বচনের লোকায়ত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা।
  • বৌদ্ধ মহাবিহারসমূহ, অতীশ দীপঙ্করের ঐতিহাসিক তিব্বত অভিযান এবং ধীমান ও বীতপালের প্রাচ্য শিল্পরীতির অবদান মূল্যায়ন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. ভারতীয় সামন্ত ব্যবস্থার স্তরবিন...
2 ২. কৃষি অর্থনীতি, কর ব্যবস্থা এবং দ...
3 ৩. প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবন, খাদ...
4 ৪. বাংলা ভাষার উৎপত্তি, চর্যাপদ, খন...
5 ৫. বিশিষ্ট পণ্ডিতগণ (অতীশ দীপঙ্কর,...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. ভারতীয় সামন্ত ব্যবস্থার স্তরবিন্যাস এবং ইউরোপীয় সামন্ততন্ত্রের সাথে তুলনা

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

প্রাচীন যুগে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত মন্থর ছিল। রাজধানী থেকে শত শত মাইল দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা ও কর আদায় নিয়ন্ত্রণ করতে রাজারা কোন অভিনব শাসনকাঠামো গড়ে তুলেছিলেন?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

সামন্ত ব্যবস্থার উৎপত্তি ও প্রকৃতি:
খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকে ভারতীয় রাজনীতি ও সমাজে এক বিশেষ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটে, যাকে বলা হয় সামন্ত ব্যবস্থা (Feudal System)। রাজারা নগদ অর্থে রাজকর্মচারীদের বেতন দিতে না পেরে অথবা ধর্মীয় পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে জমি দান করতেন।
• ব্রহ্মদেয় (Brahmadeya): ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের ধর্মীয় ও শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত সম্পূর্ণ নিষ্কর (ট্যাক্স-মুক্ত) কৃষিভূমি।
• অগ্রহার (Agrahara): মন্দির, মঠ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রদত্ত নিষ্কর গ্রাম ও ভূসম্পত্তি।

সামন্ত স্তরবিন্যাস (The Feudal Pyramid):
১. শীর্ষে অবস্থান করতেন সার্বভৌম রাজা বা সম্রাট।
২. রাজার নিচে থাকতেন মহাসামন্ত (বিশাল ভূখণ্ডের অধিকারী অধিপতি)।
৩. মহাসামন্তদের নিচে থাকতেন সামন্ত ও সামন্তপ্রধান।
৪. সর্বনিম্ন স্তরে ছিলেন ভোগিক, গ্রামিক ও সাধারণ কৃষক—যাঁরা কঠোর পরিশ্রম করে জমি চাষ করতেন এবং খাজনা দিতেন।
সামন্তদের দায়িত্ব: রাজার প্রয়োজনে যুদ্ধে সৈন্যদল ও সেনাপতি পাঠানো, রাজাকে বাৎসরিক নজরানা ও কর প্রদান করা, এবং রাজদরবারে উপস্থিত থেকে আনুগত্য প্রকাশ করা।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

পাল ও সেন যুগের শত শত তাম্রশাসনে জমিদানের বিস্তারিত সীমা, চতুঃসীমানা এবং রাজকর্মচারীদের সেই জমিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আদেশ স্পষ্টভাবে খোদাই করা আছে (সর্বকরপরিহার্য)।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

ইউরোপীয় সামন্ততন্ত্রের সাথে তুলনা:
ইউরোপে সামন্ততন্ত্রে একটি কঠোর পিরামিড কাঠামো ছিল—রাজা (King) → ডিউক বা লর্ড (Lord) → নাইট বা মধ্যযুগীয় যোদ্ধা (Knight) → ভূমিদাস বা সার্ফ (Serf)। ইউরোপে ভূমিদাসরা জমি এবং প্রভুর সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা থাকত, প্রভুর অনুমতি ছাড়া তারা জমি ছাড়তে বা বিয়ে করতে পারত না। কিন্তু ভারতে কৃষকরা ভূমিদাস ছিল না; তারা উৎপাদিত ফসলের ভাগ সামন্ত বা রাজাকে দিত, তবে বংশপরম্পরায় জমিতে তাদের অধিকার স্বীকৃত ছিল।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: ব্রহ্মদেয় হলো ব্রাহ্মণদের প্রদত্ত নিষ্কর জমি। সামন্ত ব্যবস্থায় রাজা, মহাসামন্ত, সামন্ত ও কৃষকদের নিয়ে এক স্তরবিন্যাস তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় কৃষকরা ইউরোপের সার্ফদের মতো ক্রীতদাস ছিল না।

২. কৃষি অর্থনীতি, কর ব্যবস্থা এবং দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় শাসন (উর, সভা ও নগরম)

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

মধ্যযুগীয় বাংলার কৃষকরা রাজাকে কী কী কর দিতেন? আর দক্ষিণ ভারতে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার জন্য গ্রামবাসীরা কীভাবে নিজস্ব গণতান্ত্রিক পরিষদ গঠন করত?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

পাল ও সেন যুগের কৃষি ও কর ব্যবস্থা:
প্রাচীন বাংলার অর্থনীতি ছিল সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর। নদীমাতৃক উর্বর পলিমাটিতে ধান, পাট, আখ, সরিষা, পান ও সুপারি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হতো। রাজারা প্রজাদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের কর আদায় করতেন:
১. ভাগ (Bhaga): উৎপন্ন ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬ অংশ), যা ছিল রাজার প্রধান শাস্ত্রীয় রাজস্ব।
২. ভোগ (Bhoga): প্রজাদের দ্বারা রাজাকে প্রদেয় দৈনন্দিন খাদ্যসামগ্রী—ফলমূল, শাকসবজি, ফুল ও জ্বালানি কাঠ।
৩. কর (Kara): বাৎসরিক নির্দিষ্ট খাজনা বা সম্পত্তি কর।
৪. হিরণ্য (Hiranya): শস্যের পরিবর্তে সরাসরি স্বর্ণ বা নগদ মুদ্রায় প্রদত্ত বিশেষ কর।
৫. উপরিকর: অতিরিক্ত ভূমি উপকর বা সেলামি।

দক্ষিণ ভারতে চোল স্বায়ত্তশাসন (Chola Village Assemblies):
চোল সাম্রাজ্যে প্রদেশকে বলা হতো মণ্ডলম, মণ্ডলম বিভক্ত ছিল বলনাড়ু ও নাড়ু (জেলা)-তে। গ্রামের স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত ও গণতান্ত্রিক:
• উর (Ur): সাধারণ গ্রামবাসীর পরিষদ। গ্রামের সমস্ত সাধারণ কৃষক ও বাসিন্দা এর সদস্য হতেন।
• সভা (Sabha): ব্রহ্মদেয় বা ব্রাহ্মণদের গ্রামের বিশেষ পরিষদ। এটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ছিল এবং বিভিন্ন কার্যনির্বাহী সমিতি বা 'ভারিয়াম' (Variyam)-এর মাধ্যমে কর আদায়, বিচার ও সেচব্যবস্থা তদারকি করত। লটারির মাধ্যমে (কুড়াবোলাই পদ্ধতি) সৎ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের সভার সদস্য নির্বাচিত করা হতো।
• নগরম (Nagaram): ব্যবসায়ী, বণিক ও কারিগরদের স্বার্থরক্ষাকারী পরিষদ। তারা হাট-বাজার ও বাণিজ্য তদারকি করত।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপট্টু জেলার উত্তরমেরুর শিলালিপি (Uttaramerur Inscription)-তে চোল রাজা প্রথম পরান্তকের আমলে সভার কার্যপ্রণালী, নির্বাচন বিধি, পদপ্রার্থীর বয়স (৩৫-৭০ বছর) ও সম্পত্তির যোগ্যতা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

উত্তর ভারতের কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্রের বিপরীতে চোলদের গ্রাম সংসদ প্রমাণ করে যে মধ্যযুগীয় ভারতে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের শিকড় কত গভীরে প্রোথিত ছিল। গ্রামের সেচখাল খনন ও কর নির্ধারণে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো অন্যায় হস্তক্ষেপ ছিল না।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: উৎপন্ন শস্যের ১/৬ অংশকে 'ভাগ' কর বলে। দক্ষিণ ভারতে চোলদের গ্রামীণ পরিষদ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল—সাধারণ চাষিদের 'উর', ব্রাহ্মণদের 'সভা' এবং বণিকদের 'নগরম'। উত্তরমেরুর লিপি এর প্রধান দলিল।

৩. প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবন, খাদ্যাভ্যাস, জাতিভেদ ও সমাজচিত্র

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

এক হাজার বছর আগের একজন সাধারণ বাঙালির সকালের থালায় কী খাবার থাকত? তখনকার সমাজব্যবস্থা ও পোশাক-পরিচ্ছদ কি আমাদের আজকের মতোই ছিল?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

বাঙালির চিরায়ত খাদ্যাভ্যাস:
প্রাচীন বাংলার সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, শাকপাতা ও মাছ। ত্রয়োদশ শতকের প্রাকৃত কাব্য 'প্রাকৃত-পৈঙ্গল' (Prakrita-Paingala)-এ এক বাঙালি গৃহস্থের সান্ধ্যভোজের অপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে:
"ওগ্‌গর ভত্তা রম্ভঅ পত্তা, গাইক ঘিত্তা দুগ্ধ সজুত্তা।
মাইনি মচ্ছা নালিচ গচ্ছা, দিজ্জই কন্তা খা পুন্নবন্তা।।"

(অর্থ: কলার পাতায় পরিবেশিত গরম সুগন্ধি চালের ভাত, গাওয়া ঘি, ঘন দুধ, মৌরলা মাছের ঝোল এবং নালতে শাক—পুণ্যবান স্বামী তা পরম সুখে ভক্ষণ করছেন)।
বাঙালিরা ইলিশ, রুই, চিতল, কাঁচকি ইত্যাদি মাছ খেতে ভালোবাসত। শুঁটকি মাছ, কাঁকড়া ও শামুকের প্রচলনও ছিল। মিষ্টির মধ্যে ক্ষীর, দই, পায়েস ও গুড়ের পিঠা ছিল জনপ্রিয়। আহারের শেষে সুপারি দিয়ে পান খাওয়ার রেওয়াজ ছিল সার্বজনীন।

পোশাক ও অলংকার:
পুরুষরা ধুতি ও উত্তরীয় চাদর পরতেন; মহিলারা শাড়ি ও ওড়না ব্যবহার করতেন। ধনী পুরুষরা সোনার কুণ্ডল ও আংটি এবং মহিলারা হাতে চুড়ি, শাঁখা, গলায় মুক্তার মালা ও পায়ে নূপুর পরতেন। কপালে চন্দন ও সিঁদুরের ব্যবহার প্রচলিত ছিল।

জাতিভেদ ও সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস:
পাল যুগে বৌদ্ধধর্মের কারণে সমাজে বর্ণভেদের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল থাকলেও, সেন আমলে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পুনরুত্থানের ফলে কঠোর জাতিভেদ প্রতিষ্ঠিত হয়। 'বৃহদ্ধর্ম পুরাণ' ও 'ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ'-এ বাংলাকে চার বর্ণের বাইরে বহু মিশ্র জাতি বা উপজাতিতে ভাগ করা হয়। শূদ্রদের তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছিল—উত্তম সংকর (করণ, অম্বষ্ঠ/বৈদ্য), মধ্যম সংকর এবং অধম সংকর (অন্ত্যজ অস্পৃশ্য গোষ্ঠী)। সমাজে নারীর সার্বিক স্বাধীনতা সীমিত ছিল এবং বাল্যবিবাহ ও সহমরণের মতো কুপ্রথা দেখা যেত।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারের পোড়ামাটির ফলকে (Terracotta plaques) ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উৎসব করা, শিকার করা, মাছ ধরা ও কুস্তির বহু জীবন্ত দৃশ্য খোদাই করা রয়েছে।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক ক্ষমতার বারবার হাতবদল হলেও বাঙালির মৌলিক সংস্কৃতি ও রসনাতৃপ্তি—ভাত, মাছ ও শাকের ঐতিহ্য—বিগত হাজার বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সেন যুগের অতিরিক্ত বর্ণবাদী বিধিনিষেধ সমাজকে বিভক্ত করেছিল, যা পরবর্তীতে বহিরাগত আক্রমণের সময় প্রতিরোধ ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ হয়।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: প্রাকৃত-পৈঙ্গলে কলার পাতায় গরম ভাত, ঘি ও মৌরলা মাছের উল্লেখ আছে। সেন আমলে বৃহদ্ধর্ম পুরাণের মাধ্যমে সমাজে কঠোর বর্ণভেদ ও উপজাতির সৃষ্টি হয়।

৪. বাংলা ভাষার উৎপত্তি, চর্যাপদ, খনার বচন ও সমকালীন সাহিত্য

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

আমরা যে মিষ্টি বাংলায় কথা বলি—এই ভাষার সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত নমুনাটি কোথায় এবং কীভাবে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল? খনার বচনের মতো কৃষিসংক্রান্ত প্রবাদগুলোই বা কীভাবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে টিকে রইল?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

বাংলা ভাষার জন্মকথা:
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা (সংস্কৃত) কালক্রমে বিবর্তিত হয়ে মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা (প্রাকৃত ও অপভ্রংশ) এবং পরবর্তীতে মাগধী অপভ্রংশ-অবহট্ঠের গর্ভ থেকে আনুমানিক খ্রিস্টীয় অষ্টম-দশম শতকে আদি-বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়।

চর্যাপদ (Charyapada) — বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন:
• আবিষ্কার: বিশিষ্ট প্রাচ্যবিদ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজদরবারের প্রাচীন গ্রন্থাগার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে চর্যাপদের তালপাতার পুঁথিটি উদ্ধার করেন। ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তিনি এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন।
• রচয়িতাগণ: চর্যাপদের পদকর্তাগণ ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য। লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, সরহপা প্রমুখ ২৪ জন পদকর্তা মোট ৪৬.৫টি পদ রচনা করেন (লুইপা প্রথম পদ রচনা করেন: "কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল...")।
• ভাষা: চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'আলো-আঁধারি ভাষা' বা 'সন্ধ্যা ভাষা' (Sandhya Bhasha)—কারণ এর একটি বাহ্যিক অর্থ এবং একটি গভীর আধ্যাত্মিক গুহ্য অর্থ রয়েছে। ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL) গ্রন্থে ব্যাকরণসম্মতভাবে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা।

ডাক ও খনার বচন (Folk Agrarian Proverbs):
সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত খনার বচন ছিল প্রাচীন বাংলার আবহাওয়া পূর্বাভাস ও কৃষিপদ্ধতির ছন্দোবদ্ধ লোকায়ত বিজ্ঞান। যেমন:
"ষোল চাষে মূলা, তার অর্ধেক তুলা। তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান।"
কিংবা বৃষ্টির পূর্বাভাস—"যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ।"

সংস্কৃত দরবারি সাহিত্য:
সেন যুগে সংস্কৃত সাহিত্যের চরম বিকাশ ঘটে। লক্ষণসেনের রাজকবি জয়দেব রচনা করেন বিশ্ববিখ্যাত বৈষ্ণব পদাবলী কাব্য 'গীতগোবিন্দম্'। কবি ধোয়ী রচনা করেন 'পবনদূত'। সন্ধ্যাকর নন্দী রচনা করেন 'রামচরিত'।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

চর্যাপদে তৎকালীন বাংলার নদী, নৌকা, ডোম-চণ্ডাল জনগোষ্ঠীর জীবন, শিকার ও তাঁত বোনার বাস্তব চিত্র রূপকের অন্তরালে জীবন্ত ফুটে উঠেছে।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

চর্যাপদ কেবল ধর্মীয় সংগীত নয়; এটি বাংলা ভাষা ও জাতির আত্মপরিচয়ের প্রথম সনদ। এক হাজার বছর আগের বাংলা শব্দ (যেমন: গাছ, ডাল, হরিণ, নদী, মাঝি, সাঁকো) আজও আমাদের ভাষায় প্রায় হুবহু ব্যবহৃত হয়।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। এর ভাষা সন্ধ্যা ভাষা (আদি বাংলা)। জয়দেব গীতগোবিন্দম্ এবং ধোয়ী পবনদূত রচনা করেন। খনার বচন ছিল কৃষি ও আবহাওয়ার লোকবিজ্ঞান।

৫. বিশিষ্ট পণ্ডিতগণ (অতীশ দীপঙ্কর, চক্রপাণি দত্ত), বৌদ্ধ মহাবিহার এবং প্রাচ্য শিল্পরীতি

পদক্ষেপ ১: 👁️ পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার

হাজার বছর আগে যখন ইউরোপের অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর ছিল, তখন বাংলার বিক্রমশীলা ও নালন্দায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দশ হাজার ছাত্র কীভাবে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করত? আর অতীশ দীপঙ্কর কীভাবে তিব্বতের জাতীয় পথপ্রদর্শক হলেন?

পদক্ষেপ ২: 🧠 মূল ধারণার অনুধাবন

আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাবিহারসমূহ (The Mahaviharas):
পাল রাজাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব ভারতে একাধিক আন্তর্জাতিক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল:
১. নালন্দা মহাবিহার: প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ১০,০০০ ছাত্র ও ১,৫০০ শিক্ষক এখানে ছিলেন। কঠিন দ্বারপণ্ডিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হতো। এর সুবিশাল পাঠাগারের নাম ছিল 'ধর্মগঞ্জ' (রত্নসাগর, রত্নোদধি ও রত্নরঞ্জক)।
২. বিক্রমশীলা মহাবিহার: পাল সম্রাট ধর্মপাল ভাগলপুরের কাছে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বজ্রযান বৌদ্ধধর্ম ও ব্যাকরণের প্রধান কেন্দ্র ছিল।
৩. সোমপুর মহাবিহার: ধর্মপাল কর্তৃক বরেন্দ্রের পাহাড়পুরে (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠিত সুবিশাল সঙ্ঘারাম।
৪. ওদণ্ডপুরী ও জগদ্দল মহাবিহার: যথাক্রমে গোপাল/ধর্মপাল ও রামপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র।

বাংলার দুই প্রাতঃস্মরণীয় পণ্ডিত:
• অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮২–১০৫৪ খ্রি.): ঢাকার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্ম। বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ। তিনি নালন্দা ও ওদণ্ডপুরীতে শিক্ষালাভ করে পরে সুবর্ণদ্বীপ (ইন্দোনেশিয়া) গিয়ে আচার্য ধর্মপালের কাছে ১২ বছর বৌদ্ধ দর্শন অধ্যয়ন করেন। দেশে ফিরে তিনি বিক্রমশীলা মহাবিহারের প্রধান আচার্য হন। তিব্বতের রাজার সনির্বন্ধ অনুরোধে প্রায় ৬০ বছর বয়সে তিনি দুর্লঙ্ঘ্য বরফাবৃত হিমালয় পর্বত অতিক্রম করে তিব্বতে যান। সেখানে তিনি বৌদ্ধধর্মের বিকৃতি দূর করে বিশুদ্ধ মহাযান ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং শতাধিক তিব্বতী গ্রন্থ রচনা ও অনুবাদ করেন। তিব্বতীরা তাঁকে বুদ্ধের পরেই সবচেয়ে পবিত্র 'বোধিসত্ত্ব' জ্ঞানে পূজা করে। লাসার কাছে তাঁর স্মৃতিমন্দির আজও বিদ্যমান।
• চক্রপাণি দত্ত: বীরভূমের ময়ূরেস্বরে জন্মগ্রহণকারী পাল যুগের সুবিখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত ও চিকিৎসক। তিনি 'চিকিৎসা-সংগ্রহ', 'আয়ুর্বেদ-দীপিকা' এবং 'দ্রব্যগুণ-সংগ্রহ' নামে আকর গ্রন্থ রচনা করেন। তিনিই প্রথম ভেষজ চিকিৎসায় পারদ ও লৌহভস্মের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

প্রাচ্য শিল্পরীতি (Eastern School of Medieval Art):
পাল যুগে বাংলায় ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের এক নিজস্ব ধারা গড়ে ওঠে, যা 'প্রাচ্য শিল্পরীতি' বা পাল শিল্প নামে খ্যাত। এর প্রধান প্রবক্তা ছিলেন বরেন্দ্র অঞ্চলের দুই পিতা-পুত্র ভাস্কর—ধীমান (Dhiman) ও তাঁর পুত্র বীতপাল (Vitapala)। তাঁদের বৈশিষ্ট্য ছিল:
১. মসৃণ ও চকচকে কষ্টিপাথর বা কালো ব্যাসল্ট পাথরে (Black Basalt) খোদাই করা দেবদেবীর সুদৃশ্য মূর্তি।
২. অষ্টধাতু ও ব্রোঞ্জের ঢালাই মূর্তি, যার শিল্পসৌকর্য সারা এশিয়ায় সমাদৃত হয়েছিল।
৩. পোড়ামাটির ফলকশিল্প (টেরাকোটা)—যা মন্দিরের গায়ে জনসাধারণের প্রাত্যহিক জীবনের নিখুঁত ছবি ফুটিয়ে তুলত।

পদক্ষেপ ৩: 🔍 প্রমাণের সাথে সংযোগ

তিব্বতের ঐতিহাসিক লামা তারানাথের গ্রন্থে ধীমান ও বীতপালের অসাধারণ শিল্পদক্ষতার বিশদ উল্লেখ রয়েছে। আজ কলকাতা ভারতীয় জাদুঘর, ঢাকা জাদুঘর ও নালন্দা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত পাল যুগের ব্রোঞ্জ ও কষ্টিপাথরের মূর্তি তাঁদের অমর প্রতিভার জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করছে।

পদক্ষেপ ৪: 💡 ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

দ্বাদশ শতকের শেষভাগে তুর্কি আক্রমণের ফলে নালন্দা, ওদণ্ডপুরী ও বিক্রমশীলার গ্রন্থাগারসমূহ ভস্মীভূত হয় এবং মহাবিহারগুলোর অবলুপ্তি ঘটে। কিন্তু তিব্বত ও নেপালের দুর্গম মঠে বাংলার পণ্ডিতদের নিয়ে যাওয়া পুঁথিসমূহ সংরক্ষিত থাকায় এই স্বর্ণযুগের জ্ঞানভাণ্ডার আজও মানবজাতির কাছে অক্ষয় হয়ে রয়েছে।

পদক্ষেপ ৫: 🎯 স্ব-মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ

মনে রাখুন: অতীশ দীপঙ্কর বিক্রমশীলার আচার্য ছিলেন এবং তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন। চক্রপাণি দত্ত ছিলেন আয়ুর্বেদ পণ্ডিত। বরেন্দ্রের ধীমান ও বীতপাল ছিলেন পাল যুগের প্রাচ্য শিল্পরীতির প্রধান ভাস্কর।

গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিভাষা, সময়কাল ও প্রশাসনিক নীতি

ব্রহ্মদেয় ভূমি অনুদানের বিশেষাধিকার
১০০% সম্পূর্ণ করমুক্তি (সর্ব-কর-পরিহার)
ব্রাহ্মণ, পন্ডিত ও বৌদ্ধ মহাবিহারকে প্রদত্ত বংশানুক্রমিক নিষ্কর জমি
ব্রাহ্মণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রদত্ত তাম্রশাসনযুক্ত জমির ওপর রাষ্ট্র কোনো কর আদায় করত না।
শাস্ত্রীয় কৃষি করের ত্রয়ী বিন্যাস (ভাগ, ভোগ ও কর)
ভাগ (১/৬ শস্য কর) ভোগ (ফল/ফুল/কাঠ সরবরাহ) কর (নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক কর)
গ্রামীণ কৃষকদের থেকে রাজকোষে প্রদেয় ঐতিহ্যবাহী তিন ধরনের কর
ভাগ ছিল উৎপন্ন ফসলের ষষ্ঠাংশ, ভোগ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং হিরণ্য ছিল নগদ অর্থে কর।
ভারতীয় সামন্ততান্ত্রিক ক্ষমতার স্তরবিন্যাস
মহারাজাধিরাজ (সার্বভৌম রাজা) মহাসামন্ত সামন্ত ভোগিক / রায়ত কৃষক
বিকেন্দ্রীভূত সামন্ততান্ত্রিক শাসনকাঠামো যেখানে স্থানীয় ভূস্বামীরা নিজস্ব সৈন্য রাখত
কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতার সুযোগে সামন্তপ্রভুরা স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত এবং রাজাকে সেনা সহায়তা দিত।
চোল গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন পরিষদসমূহ
উর (সাধারণ কৃষক সভা) সভা (ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের পরিষদ) নগরম (বণিক ও ব্যবসায়ীদের সভা)
স্থানীয় গ্রাম পরিষদ যা সেচব্যবস্থা, কর সংগ্রহ ও বিচার পরিচালনা করত
উত্তরমেরুর শিলালিপি থেকে চোল সাম্রাজ্যের স্বশাসিত গণতান্ত্রিক কার্যনির্বাহী কমিটি (ভারিয়াম)-র প্রমাণ মেলে।
চর্যাপদ: প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন
৪৬½টি পদ ২৪ জন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের রচিত গান
১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের পুথিশালা থেকে আবিষ্কার করেন
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকে রচিত সান্ধ্য বা আলো-আঁধারি ভাষার এই গানগুলি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম আদি রূপ।
নালন্দা ও বিক্রমশীলা মহাবিহারের শিক্ষা মান
দ্বারপণ্ডিতের কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা | ১০,০০০ ছাত্র : ১,৫০০ অধ্যাপক
চীন, তিব্বত ও কোরিয়া থেকে আগত বিদ্যার্থীদের আন্তর্জাতিক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র
আচার্য শীলভদ্র ও দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশ এই মহাবিহারের গৌরব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেন।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ভারতীয় সামন্ত ব্যবস্থায় "ব্রহ্মদেয়" ও "অগ্রহার" ব্যবস্থার তাৎপর্য কী ছিল এবং এটি কীভাবে সামন্তদের ক্ষমতার বিস্তার ঘটিয়েছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ব্রহ্মদেয় ও অগ্রহার ব্যবস্থার বিশ্লেষণ:
১. সংজ্ঞা: প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতে রাজারা ধর্মীয় পুণ্যলাভ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষির প্রসারের জন্য ব্রাহ্মণদের যে নিষ্কর ভূমিদান করতেন তাকে 'ব্রহ্মদেয়' এবং মন্দির, মঠ বা বৌদ্ধ বিহারকে প্রদত্ত নিষ্কর ভূমিকে 'অগ্রহার' বলা হতো।
২. বৈশিষ্ট্য: এই জমিতে কোনো প্রকার রাজকীয় রাজস্ব আদায় করা যেত না এবং রাজার বিচারক বা পুলিশ সেখানে প্রবেশ করতে পারত না।
৩. সামন্তদের উত্থান: বংশপরম্পরায় বিপুল ভূসম্পত্তি ও কৃষকদের ওপর খাজনা আদায়ের অধিকার ভোগ করায় এই ভূস্বামী ব্রাহ্মণ ও মঠাধ্যক্ষরা স্থানীয় শাসকে পরিণত হন। তাঁরা নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী রাখতেন এবং ক্রমে রাজার সমকক্ষ 'সামন্ত প্রভুতে' রূপান্তরিত হন, যা রাজকেন্দ্রিক ক্ষমতাকে দুর্বল করে বিকেন্দ্রীভূত সামন্ততন্ত্রের জন্ম দেয়।
উদাহরণ 2
চোল শাসনাধীনে দক্ষিণ ভারতের গ্রামীণ পরিষদ "উর", "সভা" ও "নগরম"-এর গঠন ও কার্যাবলীর পার্থক্য নির্দেশ করুন।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
চোল গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার পার্থক্য:
১. উর (Ur): এটি ছিল সাধারণ কৃষক ও অ-ব্রাহ্মণ অধিবাসীদের গ্রাম পরিষদ। কৃষি জমির সীমানা নির্ধারণ, সেচ ও সাধারণ বিবাদের নিষ্পত্তি ছিল উরের কাজ।
২. সভা (Sabha): এটি ছিল ব্রহ্মদেয় অর্থাৎ ব্রাহ্মণ পণ্ডিত অধ্যুষিত গ্রামের একচেটিয়া ও সুসংগঠিত পরিষদ। উত্তরমেরুর শিলালিপি অনুসারে, সভার সদস্যরা লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন কমিটি বা 'ভারিয়াম' (সেচ কমিটি, বাগান কমিটি, স্বর্ণ কমিটি) গঠন করে নিখুঁতভাবে গ্রাম পরিচালনা করতেন।
৩. নগরম (Nagaram): এটি ছিল বাণিজ্যিক শহর ও হাটের বণিক ও কারিগরদের পরিষদ। তাঁরা হাট-বাজারের শুল্ক, ওজন-পরিমাপ ও ব্যবসায়ী কাফেলার নিরাপত্তা তদারকি করতেন।
উদাহরণ 3
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান কে ছিলেন? তিব্বতের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য অবদানের মূল্যায়ন করুন।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অতীশ দীপঙ্কর ও তাঁর ঐতিহাসিক অবদান:
১. পরিচয়: অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮২–১০৫৪ খ্রি.) ছিলেন প্রাচীন বাংলার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক বিশ্ববিশ্রুত বৌদ্ধ পণ্ডিত, দার্শনিক ও বিক্রমশীলা মহাবিহারের প্রধান আচার্য।
২. তিব্বত যাত্রা: প্রায় ৬০ বছর বয়সে তিব্বতের রাজা ল্হা লামা ইয়েশে-ওদের আমন্ত্রণে তিনি দুর্গম বরফাবৃত হিমালয় পর্বত অতিক্রম করে তিব্বতে পৌঁছান।
৩. অবদান: তৎকালীন তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম বহু কুসংস্কার ও বিকৃত তান্ত্রিকতায় নিমজ্জিত ছিল। অতীশ সেখানে বিশুদ্ধ মহাযান মতবাদ প্রচার করেন, নতুন ধর্মীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং শতাধিক গ্রন্থ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন (যেমন: 'বোধিপথপ্রদীপ')।
৪. মর্যাদা: তাঁর সংস্কারমূলক কাজের জন্য তিব্বতীরা তাঁকে বুদ্ধের পরেই সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় 'বোধিসত্ত্ব' হিসেবে গণ্য করে এবং তিনি তিব্বতে দ্বিতীয় বুদ্ধ রূপে পূজিত হন।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে চর্যাপদ একটি আধুনিক বাংলা কবিতার বই।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

চর্যাপদ কোনো আধুনিক রচনা নয়; এটি খ্রিস্টীয় ৮ম থেকে ১২শ শতকের মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত এবং এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম ও আদি লিখিত রূপ।

সাধারণ ভুল ধারণা

ইউরোপের সার্ফ বা ভূমিদাসদের সাথে প্রাচীন বাংলার সাধারণ কৃষকদের এক করে দেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ইউরোপীয় সার্ফরা ছিল প্রভুর ক্রীতদাস যাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা জমি বিক্রির অধিকার ছিল না। পক্ষান্তরে, বাংলার কৃষকরা সামন্ত প্রভুকে ফসলের নির্ধারিত খাজনা দিত ঠিকই, কিন্তু তাদের বংশগত চাষের অধিকার স্বীকৃত ছিল এবং তারা মানুষ হিসেবে বিক্রি হতো না।

সাধারণ ভুল ধারণা

ধীমান ও বীতপালকে সেন যুগের সাহিত্যিক মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ধীমান ও বীতপাল সাহিত্যিক ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন পাল যুগের বরেন্দ্র অঞ্চলের সুবিখ্যাত ভাস্কর ও ধাতুশিল্পী, যাঁরা কালো কষ্টিপাথর ও ব্রোঞ্জের প্রতিমা নির্মাণে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি: সামন্ত ব্যবস্থা, কর, চর্যাপদ, অতীশ দীপঙ্কর ও প্রাচ্য শিল্পরীতি (Visual Model)

INDIAN SOCIETY, ECONOMY & CULTURE (7th – 12th CENTURY CE) WBBSE CLASS 7 HISTORY • FEUDALISM • AGRARIAN TAXATION • UR & SABHA • CHARYAPADA • ATISA DIPANKARA • DHIMAN & VITAPALA 1. The Indian Feudal Hierarchy (সামন্ত ব্যবস্থা) RAJA (KING) MAHASAMANTA SAMANTA / FEUDATORIES BHOGIKA / GRAMIKA Feudal Mechanics • Land Grants: Brahmadeya Tax-free land to Brahmins • Agrahara: Grants to temples • Samanta Duties: - Supply troops in wartime - Pay annual royal tribute - Attend imperial darbar European: King > Lord > Serf 2. Agrarian Economy & South Indian Governance Bengal Pala/Sena Taxes • Bhaga (ভাগ): 1/6th of grain harvest (King's customary agricultural share) • Bhoga (ভোগ): Fruits, flowers & fuel (Daily perishables gifted to king) • Kara (কর): Periodic property tax • Hiranya (হিরণ্য): Cash gold tax • Uparikara: Extra land surcharge Crops: Paddy, Betel, Sugarcane, Mustard Chola Local Self-Government • UR (উর): Assembly of common peasant farmers & village residents • SABHA (সভা): Exclusive assembly of learned Brahmin Brahmadeya holders • NAGARAM (নগরম): Guild council of traders, artisans & merchants • Nadu & Mandalam: District & Prov. Documented in Uttaramerur Inscriptions 3. Bengali Language, Charyapada & Agrarian Lore CHARYAPADA (চর্যাপদ) • Earliest Bengali Literature • Discovered in 1907 by Haraprasad Shastri at Nepal Royal Court Library. • 46.5 mystical verses in Sandhya Bhasha by Buddhist Siddhas (Luipa, Kanhapa, Sarahapa). Dak & Khana's Lore (খনার বচন) • Centuries of oral peasant wisdom • Monsoon predicting & weather • Optimal crop sowing cycles "ষোল চাষে মূলা, তার অর্ধেক তুলা..." Sena Court Literature • Jayadeva: Gita Govinda • Dhoyi: Pavanaduta • Sandhyakar Nandi: Ramacharita Pancharatna literary circle of Nadia 4. Mahaviharas, Atisa & Eastern School of Art Atisa Dipankara Srijnana (অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান • 982–1054 CE) • Born in Vajrayogini (Bikrampur, Bengal); Chancellor of Vikramashila Mahavihara. • Traveled to Tibet across high Himalayas; restored Buddhism; revered as a Bodhisattva. • Mahaviharas: Nalanda, Vikramashila, Somapura (Paharpur), Odantapuri, Jagaddala. Eastern School of Medieval Art (প্রাচ্য শিল্পরীতি) • Master artists of Varendra (Pala era): Dhiman (ধীমান) and his son Vitapala (বীতপাল). • Renowned for exquisite Kashtipathar (Black Basalt) stone carvings & bronze casting. • Somapura terracotta narrative plaques depicting daily folk life, animals & lore.

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতে "ব্রহ্মদেয়" ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায় এবং এই জমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও জীবিকার জন্য প্রদত্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত (নিষ্কর) কৃষিভূমিকে ব্রহ্মদেয় বলা হতো। এই জমিতে কোনো প্রকার রাজকীয় কর বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চলত না।
রাজারা তাম্রশাসনে খোদাই করে এই জমি স্থায়ীভাবে নিষ্কর করে দিতেন।
2
চোল আমলে দক্ষিণ ভারতের গ্রামীণ শাসনব্যবস্থায় "উর" এবং "সভা"-র মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: 'উর' ছিল সাধারণ করদাতা কৃষক ও গ্রামবাসীদের উন্মুক্ত পরিষদ, আর 'সভা' ছিল ব্রহ্মদেয় গ্রামের বিদগ্ধ ব্রাহ্মণ ভূম্যধিকারীদের বিশেষ পরিষদ।
উত্তরমেরুর শিলালিপিতে সভার নির্বাচন ও কার্যাবলীর বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
3
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন "চর্যাপদ" কে, কবে এবং কোথা থেকে আবিষ্কার করেছিলেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজদরবারের প্রাচীন গ্রন্থাগার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে চর্যাপদের তালপাতার পুঁথি উদ্ধার করেন।
১৯১৬ সালে এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
4
প্রাচীন বাংলার এক বাঙালি গৃহস্থের সান্ধ্যভোজের যে মনোরম বর্ণনা "প্রাকৃত-পৈঙ্গল" কাব্যে পাওয়া যায়, তার মূল খাদ্য উপাদানগুলো কী কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কলার পাতায় পরিবেশিত গরম সুগন্ধি ভাত, গাওয়া ঘি, ঘন দুধ, মৌরলা মাছ এবং নালতে শাক।
শ্লোকটিতে "ওগ্‌গর ভত্তা রম্ভঅ পত্তা, গাইক ঘিত্তা... মাইনি মচ্ছা নালিচ গচ্ছা" উল্লেখ রয়েছে।
5
পাল যুগের "প্রাচ্য শিল্পরীতি"-র প্রধান প্রবক্তা বরেন্দ্রভূমির পিতা-পুত্র ভাস্করের নাম কী এবং তাঁরা কী মাধ্যমে ভাস্কর্য তৈরি করতেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পিতা ধীমান (Dhiman) এবং পুত্র বীতপাল (Vitapala); তাঁরা মূলত কালো কষ্টিপাথর (Black Basalt) এবং ঢালাই ব্রোঞ্জ ও অষ্টধাতুতে সূক্ষ্ম দেবদেবীর মূর্তি নির্মাণ করতেন।
তিব্বতীয় ঐতিহাসিক লামা তারানাথের বিবরণীতে তাঁদের শিল্পনৈপুণ্যের প্রশংসা রয়েছে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা: খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।