Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • History & Environment (অতীত ও ঐতিহ্য) • অধ্যায় 9
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

আজকের ভারত: সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "অতীত ও ঐতিহ্য" পাঠ্যক্রমের নবম ও সমাপনী অধ্যায় "আজকের ভারত: সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন"। এই অধ্যায়ে অতীতের রাজতান্ত্রিক শাসন থেকে আধুনিক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ভারতের উত্তরণ, ফারসি শব্দ "সরকার"-এর অর্থ, এথেন্সের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র থেকে ভারতীয় প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রের বিকাশ, গণপরিষদ ও ডঃ বি. আর. আম্বেদকর কর্তৃক সংবিধান রচনা, সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ (আইন, শাসন ও বিচার), এবং পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পৌর স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন—মধ্যযুগের বাদশাহদের মতো আজকের ভারতে কোনো রাজা নেই কেন, আর আমরা কীভাবে আমাদের নিজেদের শাসক নির্বাচন করি?

মুঘল সম্রাট আকবর বা সুলতান আলাউদ্দিন খলজির আমলে একজন রাজাই ছিলেন সমস্ত ক্ষমতার উৎস—তাঁর কথাই ছিল আইন, তাঁর নির্দেশেই চলত বিচার এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানই সিংহাসনে বসতেন। সাধারণ মানুষ তখন ছিলেন ‘প্রজা’, যাঁদের শাসনের ক্ষেত্রে কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার ছিল না। কিন্তু আজকের ভারতে কি কোনো রাজা আছেন? একেবারেই না! আজ আমরা বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমের ক্যাপ্টেন নির্বাচন করার মতোই নিজের ভোট দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচন করি। দেশের সর্বময় কর্তৃত্ব কোনো রাজবংশের নয়, বরং দেশের সংবিধান ও সাধারণ নাগরিকদের হাতে ন্যস্ত। কীভাবে ভারত একটি প্রাচীন রাজতান্ত্রিক দেশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হলো, এবং কীভাবে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও ড্রেনের ব্যবস্থা আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরিচালনা করেন—সেই রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও নাগরিক ব্যবস্থা আমরা আবিষ্কার করব এই অধ্যায়ে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

প্রাচীন ও মধ্যযুগের রাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যগুলির ইতিহাস অধ্যয়নের পর আজকের গণতান্ত্রিক ভারতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বাঁচার জন্য এই অধ্যায়টি অপরিহার্য। নিজের মৌলিক অধিকার রক্ষা, ভোটদানের গুরুত্ব উপলব্ধি, এবং নিজের এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত বা পৌরসভার নাগরিক পরিষেবাগুলি কীভাবে পরিচালিত হয় তা বোঝার বাস্তব ভিত্তি তৈরি করে এই পাঠ।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতে রাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদী শাসনকাঠামোর প্রাথমিক ধারণা।
  • ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পটভূমি।
  • একটি দেশের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য আইন, নিয়মশৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্বের প্রয়োজনীয়তার সাধারণ বোধ।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • সরকার শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিরূপণ করা।
  • গণতন্ত্রের উৎস, এথেন্সে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং আব্রাহাম লিংকনের সংজ্ঞার আলোকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র ব্যাখ্যা করা।
  • ভারতীয় সংবিধান রচনার প্রেক্ষাপট, গণপরিষদ, ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা এবং প্রজাতন্ত্রের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা।
  • কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো এবং আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের পারস্পরিক ভারসাম্য মূল্যায়ন করা।
  • পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা (গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ) ও পৌরসভা/পৌরনিগমের কার্যাবলি ও স্বায়ত্তশাসন স্পষ্ট করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. সরকার কী ও শাসনব্যবস্থার ঐতিহাসি...
2 ২. গণতন্ত্রের ধারণা: গ্রিক উৎস, প্র...
3 ৩. ভারতের সংবিধান রচনা, গণপরিষদ ও গ...
4 ৪. সরকারের গঠন: যুক্তরাষ্ট্রীয় পরি...
5 ৫. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন: পশ্চিমবঙ...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. সরকার কী ও শাসনব্যবস্থার ঐতিহাসিক রূপান্তর

Foundation মানব সভ্যতার আদিকাল থেকেই সমাজ পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থার প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে। ‘সরকার’ শব্দটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত পরিচিত। ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে ‘সরকার’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ফারসি শব্দ ‘সর’ (যার অর্থ মাথা বা প্রধান) এবং ‘কার’ (যার অর্থ কাজ বা কর্তা) যুক্ত হয়ে ‘সরকার’ শব্দের উৎপত্তি, যার সাধারণ অর্থ হলো শাসনকর্তা বা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ডের শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রজাদের নিরাপত্তা প্রদান, কর সংগ্রহ এবং উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ কাজ করে, তাকেই সরকার বলা হয়।

Chronology ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে সরকারের রূপ ও চরিত্র পরিবর্তিত হয়েছে:

  1. প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র (Monarchy): মৌর্য, গুপ্ত, সুলতানি বা মুঘল যুগে শাসন ক্ষমতা এক ব্যক্তি অর্থাৎ রাজা, সুলতান বা বাদশাহের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকত। রাজপদ ছিল বংশানুক্রমিক। রাজার ইচ্ছাই ছিল আইন এবং প্রজাদের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিল না।
  2. ঔপনিবেশিক ও একনায়কতান্ত্রিক শাসন (Colonialism & Autocracy): আঠারো ও উনিশ শতকে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ব্রিটিশ রাজের ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম হয়, যেখানে ভারতবাসীর কোনো সার্বভৌম অধিকার ছিল না। বিশ্বের বহু দেশে একনায়কতন্ত্র বা সামরিক শাসনও দেখা গেছে যেখানে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শাসন চলে।
  3. আধুনিক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (Modern Democratic Republic): ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি নিজস্ব সংবিধান কার্যকর করে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

Mechanism সরকার প্রধানত তিনটি মৌলিক দায়িত্ব পালন করে:

  • আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ: দেশের নাগরিক ও সমাজের কল্যাণে উপযুক্ত আইন তৈরি করা এবং তা প্রয়োগ করা।
  • অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বহিরাক্রমণ প্রতিরোধ: পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সেনাবাহিনী (স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী)-র মাধ্যমে দেশের সীমানা সুরক্ষিত রাখা।
  • জনকল্যাণমূলক কার্যসূচি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, পানীয় জল, জাতীয় সড়ক, রেলপথ, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সরবরাহ করা।

Synthesis মধ্যযুগের রাজতন্ত্রে প্রজারা ছিলেন কেবল করদাতা ও আদেশ পালনকারী। কিন্তু আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় জনগণ কেবল আদেশ পালনকারী নন, বরং তাঁরাই হলেন সমস্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। এই রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হলো ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সংবিধান’।

Impact সরকারের ধারণা ব্যক্তিমানুষের বিচ্ছিন্ন অস্তিত্বকে একটি সুশৃঙ্খল জাতীয় জীবনে রূপ দেয়। সরকার ছাড়া আধুনিক সভ্য সমাজের অস্তিত্ব অসম্ভব, কারণ সরকারই সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন কায়েম রাখে।

২. গণতন্ত্রের ধারণা: গ্রিক উৎস, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন

Foundation ‘গণতন্ত্র’ আধুনিক বিশ্বের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। ইংরেজি ‘Democracy’ শব্দটির মূল উৎস প্রাচীন গ্রিক ভাষা। গ্রিক শব্দ ‘ডেমোস’ (Demos), যার অর্থ জনগণ, এবং ‘ক্রাতোস’ (Kratos), যার অর্থ ক্ষমতা বা শাসন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘ডেমোক্রাসিয়া’ (Demokratia), যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘জনগণের শাসন’। অর্থাৎ যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা কোনো রাজা বা অভিজাত শ্রেণির হাতে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সমগ্র জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতন্ত্র বলা হয়।

Chronology গণতন্ত্রের ধারণার ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ অত্যন্ত চমকপ্রদ:

  • প্রাচীন এথেন্সের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy): খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ ও পঞ্চম শতকে প্রাচীন গ্রিসের নগর-রাষ্ট্র এথেন্সে (Athens) প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয়। এথেন্সে নগরীর মুক্ত নাগরিকরা একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে (Agora) সমবেত হয়ে নিজেরাই সরাসরি ভোট দিয়ে আইন প্রণয়ন ও যুদ্ধ-শান্তির সিদ্ধান্ত নিতেন। তবে এই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে নারী, ক্রীতদাস এবং বহিরাগতদের ভোটাধিকার ছিল না।
  • আধুনিক পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Indirect or Representative Democracy): প্রাচীন এথেন্স ছিল ক্ষুদ্র নগর-রাষ্ট্র, কিন্তু আধুনিক ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল আয়তন ও কোটি কোটি জনসংখ্যার দেশে সমস্ত নাগরিকের এক জায়গায় জড়ো হয়ে আইন তৈরি করা ভৌগোলিকভাবে অসম্ভব। তাই আধুনিক যুগে নাগরিকরা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (যেমন ভারতে ৫ বছর) জন্য নিজেদের মধ্য থেকে গোপন ব্যালট বা ইভিএমের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইনসভায় বসে দেশ পরিচালনা করেন।

Mechanism আমেরিকার বিখ্যাত রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln) ১৮৬৩ সালে গেটিসবার্গের ঐতিহাসিক ভাষণে গণতন্ত্রের এক চিরন্তন ও অবিস্মরণীয় সংজ্ঞা দিয়েছিলেন: "Democracy is government of the people, by the people, for the people"—অর্থাৎ "গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের কল্যাণের জন্য গঠিত।" গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভগুলি হলো:

  • সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার: জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের একটি করে সমান মূল্যবান ভোটদানের অধিকার রয়েছে।
  • আইনের অনুশাসন (Rule of Law): দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ দিনমজুর—সবাই আইনের চোখে সমান; কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
  • বহুদলীয় ব্যবস্থা ও নিয়মিত নির্বাচন: একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিরপেক্ষ নির্বাচন।
  • মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্যের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত থাকা।

Synthesis প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কেবল ক্ষুদ্র ভৌগোলিক অঞ্চলে সম্ভব ছিল, কিন্তু প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বিশাল বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রে সফলভাবে গণতন্ত্রকে কার্যকর করেছে। ভারতে ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধিদের ভুল কাজের জন্য পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করেন।

Impact গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, এটি একটি জীবনবোধ ও সংস্কৃতি। এটি প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করে, পরমতসহিষ্ণুতা শেখায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর নিশ্চিত করে।

৩. ভারতের সংবিধান রচনা, গণপরিষদ ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র

Foundation যে কোনো দেশ বা সংস্থা পরিচালনার জন্য কতগুলি মৌলিক আইন ও নিয়মের প্রয়োজন হয়। একটি দেশ কীভাবে শাসিত হবে, সরকারের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা কী হবে এবং দেশের নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য কী—তা যে মৌলিক বিধিবদ্ধ নীতিমালায় লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে সংবিধান (Constitution) বলা হয়। সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ বা মৌলিক আইন (Supreme Law of the Land)। সরকারের সমস্ত শাখা সংবিধানের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য।

Chronology ভারতীয় সংবিধান রচনার ইতিহাস এক গৌরবময় জাতীয় সংগ্রাম:

  • গণপরিষদ গঠন (Constituent Assembly, 1946): ভারতের জন্য সংবিধান রচনার লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে গণপরিষদ গঠিত হয়। গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ (যিনি পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন)।
  • খসড়া কমিটি ও বাবাসাহেব আম্বেদকর (Drafting Committee): সংবিধানের মূল কাঠামো তৈরি করার জন্য ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট একটি সাত সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়। এই খসড়া কমিটির সুযোগ্য সভাপতি ছিলেন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও সমাজসংস্কারক ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (Dr. B. R. Ambedkar)। গভীর নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার জন্য তাঁকে ‘ভারতীয় সংবিধানের জনক’ (Father of the Indian Constitution) বলা হয়।
  • সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকরী হওয়া: গণপরিষদে দীর্ঘ ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিতর্ক ও আলোচনার পর ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। তাই প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর দিনটি দেশজুড়ে ‘জাতীয় সংবিধান দিবস’ (Constitution Day) হিসেবে পালিত হয়। এরপর ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি এই সংবিধান দেশজুড়ে পূর্ণ কার্যকর হয়। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি সাড়ম্বরে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ (Republic Day) উদযাপিত হয়।

Mechanism সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতকে একটি ‘সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’ (Sovereign, Socialist, Secular, Democratic Republic) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে:

  • সার্বভৌম (Sovereign): ভারত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে সম্পূর্ণ স্বাধীন; কোনো বিদেশি শক্তি ভারতের ওপর খবরদারি করতে পারে না।
  • সমাজতান্ত্রিক (Socialist): দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ কোনো বিশেষ ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত না রেখে জনকল্যাণে ব্যবহার করা।
  • ধর্মনিরপেক্ষ (Secular): রাষ্ট্রের কোনো নিজস্ব ধর্ম নেই; রাষ্ট্র সব ধর্মকে সমান চোখে দেখে এবং প্রতিটি নাগরিকের ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে।
  • গণতান্ত্রিক (Democratic): জনগণ নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সরকার গঠন করে।
  • প্রজাতন্ত্র (Republic): দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান (রাষ্ট্রপতি) কোনো বংশানুক্রমিক রাজা বা রানি নন; তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সাধারণ নাগরিক।

Synthesis ব্রিটেন একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও সেখানে রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য রয়েছে (বংশানুক্রমিক রাজা/রানি রাষ্ট্রপ্রধান)। কিন্তু ভারত কেবল গণতন্ত্র নয়, ভারত একটি ‘প্রজাতন্ত্র’, কারণ এখানে সর্বোচ্চ পদটি দেশের যে কোনো নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত।

Impact ভারতীয় সংবিধান হলো বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান। এটি শত বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতকে এক শক্তিশালী অখণ্ড জাতিতে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

৪. সরকারের গঠন: যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ও তিনটি প্রধান অঙ্গ

Foundation বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ জনসংখ্যার কারণে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা (Federal Structure) গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতা এক কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত না রেখে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে সাংবিধানিকভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। ভারতে দ্বিস্তরীয় সরকারি কাঠামো রয়েছে: সমগ্র দেশের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সরকার (নয়াদিল্লিতে অবস্থিত) এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জন্য পৃথক পৃথক রাজ্য সরকার (যেমন পশ্চিমবঙ্গের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতায় অবস্থিত)।

Chronology সংবিধানের সপ্তম তফসিলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে:

  • কেন্দ্রীয় তালিকা (Union List): দেশের নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, পরমাণু শক্তি, রেলওয়ে, ডাক ও তার, মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা—এই সমস্ত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে কেন্দ্রীয় সরকার।
  • রাজ্য তালিকা (State List): পুলিশ প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য, হাসপাতাল, কারাগার, কৃষি ও সেচ—এই সমস্ত আঞ্চলিক জনকল্যাণমূলক বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে রাজ্য সরকার।
  • যৌথ তালিকা (Concurrent List): শিক্ষা, বনভূমি, বিদ্যুৎ, বিবাহ ও দেওয়ানি বিধি—যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই আইন তৈরি করতে পারে (বিরোধ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় আইন প্রাধান্য পায়)।

Mechanism সুষ্ঠুভাবে শাসন পরিচালনার জন্য সরকারের ক্ষমতাকে তিনটি স্বতন্ত্র অঙ্গে বিভক্ত করা হয়েছে, যাকে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলা হয়:

  1. আইন বিভাগ (Legislature): নতুন আইন তৈরি করা এবং পুরনো আইন সংশোধন করাই আইন বিভাগের কাজ। কেন্দ্রে আইনসভা হলো সংসদ বা পার্লামেন্ট, যা রাষ্ট্রপতি এবং দুটি কক্ষ—লোকসভা (জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কক্ষ) ও রাজ্যসভা (রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত স্থায়ী কক্ষ)—নিয়ে গঠিত। রাজ্যে আইনসভা হলো বিধানসভা (Legislative Assembly)।
  2. শাসন বিভাগ (Executive): আইনসভার তৈরি করা আইন কার্যকর করা এবং দেশ পরিচালনা করাই শাসন বিভাগের কাজ। কেন্দ্রে শাসন বিভাগের শীর্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং স্থায়ী সরকারি আমলাতন্ত্র (IAS, IPS প্রভৃতি)। রাজ্যে শীর্ষে রয়েছেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য মন্ত্রিসভা।
  3. বিচার বিভাগ (Judiciary): আইনের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া, সংবিধান রক্ষা করা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে বিচার করা বিচার বিভাগের কাজ। ভারতে একটি একক ও অবিভাজ্য বিচারব্যবস্থা রয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court), যা নয়াদিল্লিতে অবস্থিত। প্রতিটি রাজ্যে রয়েছে হাইকোর্ট (High Court) (কলকাতায় অবস্থিত কলকাতা হাইকোর্ট হলো ভারতের প্রাচীনতম হাইকোর্ট, ১৮৬২ খ্রিঃ প্রতিষ্ঠিত), এবং জেলা স্তরে রয়েছে জেলা ও দায়রা জজের আদালত।

Synthesis সরকারের তিনটি অঙ্গ একে অপরের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে (Checks and Balances)। সংসদ কোনো অসাংবিধানিক আইন পাস করলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে বাতিল করে দিতে পারে। অন্যদিকে বিচারকদের আচরণ সংসদে আলোচিত হতে পারে।

Impact স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান রোধ করে এবং ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করে।

৫. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন: পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পৌর প্রশাসন

Foundation একটি বিশাল দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট ছোট সমস্যা (যেমন একটি টিউবওয়েল মেরামত, গ্রামের কাঁচা রাস্তা বাঁধানো বা ড্রেন পরিষ্কার করা) দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার বা কলকাতার রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রতিদিন সরাসরি দেখাশোনা করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় মানুষদের সমস্যা স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সমাধান করার যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, তাকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন (Local Self-Government) বলা হয়। ‘স্বায়ত্তশাসন’ কথাটির অর্থ হলো ‘নিজের শাসন’ (স্বীয় শাসন)। এটি গণতন্ত্রের তৃণমূল স্তর।

Chronology স্বাধীন ভারতে মহাত্মা গান্ধীর ‘গ্রাম স্বরাজ’-এর আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে সংবিধানের ৭৩তম ও ৭৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রামীণ ও নগর স্বায়ত্তশাসনকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এই ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পথিকৃৎ। ১৯৭৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন অনুসারে ১৯৭৮ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম নিয়মতান্ত্রিক দলীয় প্রতীকে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু হয় এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Mechanism স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত: গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন (পঞ্চায়েত) এবং নগর স্বায়ত্তশাসন (পৌরসভা):

ক) গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন: ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা (3-Tier Panchayati Raj):

  • ১. গ্রাম পঞ্চায়েত (গ্রাম স্তর / ভিত্তি স্তর): কয়েকটি গ্রাম বা মৌজা নিয়ে একটি গ্রাম পঞ্চায়েত গঠিত হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান এবং একজনকে উপ-প্রধান নির্বাচন করেন। পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রতিটি বুথ বা ওয়ার্ডের ভোটারদের নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম সংসদ, যা বছরে দু’বার বসে স্থানীয় বাজেট ও কাজের সামাজিক নিরীক্ষা (Social Audit) করে। কাজ: পানীয় জলের নলকূপ বসানো, গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, পথবাতি, ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) তদারকি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচ্ছন্নতা।
  • ২. পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক স্তর / মধ্যবর্তী স্তর): একটি সমগ্র ডেভেলপমেন্ট ব্লক বা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি গঠিত হয়। নির্বাচিত সদস্যদের প্রধান হলেন সভাপতি এবং সহ-প্রধান হলেন সহ-সভাপতি। এই স্তরের সরকারি কার্যনির্বাহী প্রধান হলেন বিডিও (Block Development Officer - BDO)। কাজ: ব্লকের অন্তর্গত একাধিক পঞ্চায়েতের কাজের সমন্বয়, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা, কৃষি ঋণ ও ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থার বিস্তার।
  • ৩. জেলা পরিষদ (জেলা স্তর / শীর্ষ স্তর): সমগ্র জেলার গ্রামীণ এলাকার জন্য জেলা পরিষদ হলো সর্বোচ্চ পঞ্চায়েত সংস্থা। নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাধিপতি ও একজন সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হন। জেলা পরিষদের সরকারি কার্যনির্বাহী আধিকারিক হলেন স্বয়ং জেলাশাসক (District Magistrate - DM)। কাজ: জেলা স্তরের সড়ক ও সেতু নির্মাণ, মাধ্যমিক স্তরের জনস্বাস্থ্য, জেলা পর্যায়ের সেচ পরিকল্পনা ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন তহবিল বণ্টন। (ব্যতিক্রম: দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন - GTA এবং শিলিগুড়ি মহকুমার জন্য শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ রয়েছে)।

খ) নগর স্বায়ত্তশাসন: পৌরসভা ও পৌরনিগম (Urban Local Governance):
  • পৌরসভা (Municipality / Pourasabha): ছোট ও মাঝারি শহরের শাসনভার পৌরসভার হাতে থাকে। শহরকে কয়েকটি আঞ্চলিক ভাগে ভাগ করা হয়, যাকে ওয়ার্ড (Ward) বলা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নাগরিকরা ভোট দিয়ে একজন কাউন্সিলর (Councillor) নির্বাচন করেন। নির্বাচিত কাউন্সিলররা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে পৌরপ্রধান (Chairman) ও একজনকে উপ-পৌরপ্রধান নির্বাচন করেন।
  • পৌরনিগম (Municipal Corporation / Pouranigam): কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, চন্দননগর, বিধাননগরের মতো জনবহুল মহানগরে পৌরনিগম থাকে। পৌরনিগমের নির্বাচিত প্রধানকে বলা হয় মেয়র (Mayor) এবং তাঁর সহায়ক পরিষদকে বলা হয় মেয়র পরিষদ (Mayor-in-Council)।
  • পৌরসভার প্রধান কার্যাবলি: পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশিনালা পরিষ্কার ও বর্জ্য নিষ্কাশন, শহরের রাস্তা ও আলো রক্ষণাবেক্ষণ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শংসাপত্র প্রদান, এবং মহামারি প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচি।

Synthesis পঞ্চায়েত ও পৌরসভা উভয় ক্ষেত্রেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং ভোটারদের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর। পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পঞ্চায়েতের আসনগুলিতে ৫০% আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, পাশাপাশি তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতি (ST)-দের জন্যও আনুপাতিক সংরক্ষণ রয়েছে।

Impact পঞ্চায়েত ও পৌরসভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের শাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে। এটি আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় জনগণের দাবি-দাওয়া দ্রুত মেটাতে সাহায্য করে, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।

গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিভাষা, সময়কাল ও প্রশাসনিক নীতি

গণতন্ত্রের ব্যুৎপত্তি ও মৌলিক নীতি
Demos (জনগণ) + Kratos (শাসন/ক্ষমতা) = Demokratia (জনগণের শাসন)
আব্রাহাম লিংকনের নীতি জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য
প্রাচীন এথেন্সের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র থেকে আধুনিক ভারতের পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
ভারতীয় সংবিধানের ঐতিহাসিক কালপঞ্জি
১৯৪৬ গণপরিষদ গঠন (সভাপতি: ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ)
খসড়া কমিটি সভাপতি: বাবাসাহেব ডঃ বি. আর. আম্বেদকর
২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সংবিধান গৃহীত (সংবিধান দিবস)
২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সংবিধান কার্যকর ও প্রজাতন্ত্র দিবস
দীর্ঘ ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন ধরে আলোচনার পর বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান রচিত হয়।
সরকারের ৩টি বিভাগ ও ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ
আইন বিভাগ (Legislature) সংসদ (লোকসভা + রাজ্যসভা) ও বিধানসভা — আইন প্রণয়ন
শাসন বিভাগ (Executive) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও আমলাতন্ত্র — আইন কার্যকর
বিচার বিভাগ (Judiciary) সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট — সংবিধান রক্ষা ও নিরপেক্ষ বিচার
সরকারের তিনটি অঙ্গ পরস্পরের ওপর নজরদারি (Checks and Balances) বজায় রেখে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে।
পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা
১. গ্রাম পঞ্চায়েত (গ্রাম) প্রধান ও উপ-প্রধান • গ্রাম সংসদ প্রত্যক্ষ নিরীক্ষা
২. পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক) সভাপতি ও বিডিও (BDO - নির্বাহী আধিকারিক)
৩. জেলা পরিষদ (জেলা) সভাধিপতি ও জেলাশাসক (DM - কার্যনির্বাহী প্রধান)
পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন ১৯৭৩ অনুসারে পরিচালিত; প্রতি ৫ বছর অন্তর নির্বাচন হয়।
পৌর স্বায়ত্তশাসন: পৌরসভা বনাম পৌরনিগম
পৌরসভা (ছোট/মাঝারি শহর) ওয়ার্ড কাউন্সিলর + পৌরপ্রধান (Chairman)
পৌরনিগম (মহানগর) ওয়ার্ড কাউন্সিলর + মেয়র (Mayor)
প্রধান পরিষেবা পানীয় জল, বর্জ্য নিষ্কাশন, আলো, স্বাস্থ্য ও জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র
কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল, শিলিগুড়িতে পৌরনিগম; অন্যান্য শহরে পৌরসভা কার্যকর।
গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার ও নির্বাচন পরিমাপক
ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর (সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার)
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বয়স ২১ বছর (পঞ্চায়েত ও পৌরসভা)
কার্যকাল ৫ বছর
মহিলা সংরক্ষণ পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতে ৫০% আসন সংরক্ষিত
স্বাধীন রাজ্য নির্বাচন কমিশন (State Election Commission) স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে মূল পার্থক্য কী? ভারতকে কেন একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলা হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. রাজতন্ত্র বনাম প্রজাতন্ত্রের পার্থক্য:
• রাজতন্ত্র (Monarchy): যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান হলেন বংশানুক্রমিক কোনো রাজা, রানি বা বাদশাহ। রাজার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে তাঁর সন্তান সিংহাসনে বসেন (যেমন মধ্যযুগীয় মুঘল সাম্রাজ্য বা প্রাচীন মৌর্য সাম্রাজ্য)।
• প্রজাতন্ত্র (Republic): যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান কোনো বংশানুক্রমিক শাসক নন; তিনি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সাধারণ নাগরিক।

২. ভারতকে কেন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলা হয়?
ভারতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদটি বংশানুক্রমিক নয়; তিনি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হন। দেশের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক যোগ্য নাগরিক এই সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে পারেন। উপরন্তু, দেশের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই ভারতকে একটি ‘গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’ (Democratic Republic) বলা হয়।
উদাহরণ 2
পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে? গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘গ্রাম সংসদ’-এর গুরুত্ব কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কাঠামো:
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা তিনটি স্তরে বিভক্ত:
• ভিত্তি বা গ্রাম স্তর: গ্রাম পঞ্চায়েত — প্রধান ও উপ-প্রধান দ্বারা পরিচালিত।
• মধ্যবর্তী বা ব্লক স্তর: পঞ্চায়েত সমিতি — নির্বাচিত সভাপতি ও সরকারি বিডিও (BDO) দ্বারা পরিচালিত।
• শীর্ষ বা জেলা স্তর: জেলা পরিষদ — নির্বাচিত সভাধিপতি ও সরকারি জেলাশাসক (DM) দ্বারা পরিচালিত।

২. গ্রাম সংসদের গুরুত্ব:
গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি নির্বাচনী বুথ বা ওয়ার্ডের সমস্ত ভোটারদের নিয়ে ‘গ্রাম সংসদ’ গঠিত হয়। বছরে অন্তত দু’বার গ্রাম সংসদের সভা বসে। এখানে গ্রামবাসীরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রামের কোন রাস্তা আগে মেরামত হবে, কোথায় নলকূপ বসবে তা স্থির করেন এবং পঞ্চায়েতের ব্যয়ের হিসাবের নিরীক্ষা (Social Audit) করেন। এটি গ্রামীণ নাগরিকদের সরাসরি শাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক মাধ্যম।
উদাহরণ 3
পৌরসভা (Municipality) ও পৌরনিগম (Municipal Corporation)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো। একটি পৌরসভার প্রধান প্রধান নাগরিক দায়িত্বগুলি কী কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. পৌরসভা বনাম পৌরনিগমের পার্থক্য:
• পৌরসভা: তুলনামূলকভাবে ছোট ও মাঝারি শহরের নাগরিক প্রশাসনের জন্য পৌরসভা গঠিত হয়। পৌরসভার প্রধানকে পৌরপ্রধান (Chairman) বলা হয়।
• পৌরনিগম: কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল বা শিলিগুড়ির মতো অতি জনবহুল বৃহৎ মহানগরের জন্য পৌরনিগম গঠিত হয়। পৌরনিগমের প্রধানকে মেয়র (Mayor) বলা হয়।

২. পৌরসভার প্রধান নাগরিক দায়িত্ব:
• শহরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ করা।
• ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা পরিষ্কার রাখা এবং কঠিন বর্জ্য ও আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ করা।
• শহরের রাস্তাঘাট তৈরি, মেরামত এবং রাতের পথবাতি (Street Lighting) জ্বালানো।
• বিনামূল্যে টিকাকরণ, মশা নিধন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা বজায় রাখা।
• জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে সরকারি সার্টিফিকেট প্রদান করা।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন ১৫ আগস্ট ও ২৬ জানুয়ারি একই কারণে উদযাপিত হয় অথবা দুটিই স্বাধীনতা দিবস।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল, তাই এটি স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। অন্যদিকে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের নিজস্ব সংবিধান কার্যকর হয়েছিল এবং ভারত একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, তাই এই দিনটি হলো প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day)।

সাধারণ ভুল ধারণা

একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে ভোট দেওয়ার বয়স এবং পঞ্চায়েত বা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়স একই (১৮ বছর)।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: ভারতে ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স হলো ১৮ বছর (সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার)। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত বা পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২১ বছর।

সাধারণ ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন ব্রিটেন ও ভারত দুটিই হুবহু একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কারণ দুটিতেই সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রী আছেন।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: ভারত ও ব্রিটেন উভয়েই সংসদীয় গণতন্ত্র হলেও ব্রিটেন একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) কারণ তাদের রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমিক রাজা বা রানি। পক্ষান্তরে ভারত একটি প্রজাতন্ত্র (Republic) কারণ ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি) জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

আজকের ভারত: সরকার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন পরিকাঠামো

আজকের ভারত: সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন পরিকাঠামো পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস (অতীত ও ঐতিহ্য) • অধ্যায় ৯ ১. শাসনব্যবস্থার বিবর্তন ও গণতন্ত্রের ধারণা • ব্যুৎপত্তি: ফারসি 'সরকার' (প্রধান/শাসক) এবং গ্রিক 'ডেমোক্রাসি' (Demokratia) • 'ডেমোস' (জনগণ) + 'ক্রাতোস' (শাসন/ক্ষমতা) = জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শাসন • প্রাচীন এথেন্সে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র → আধুনিক যুগে প্রতিনিধিত্বমূলক পরোক্ষ গণতন্ত্র • আব্রাহাম লিংকনের নীতি: 'জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য' 🏛️ রাজতন্ত্র → একনায়কতন্ত্র → সাংবিধানিক গণতন্ত্র ২. ভারতীয় সংবিধান ও সরকারের ৩টি প্রধান বিভাগ • ১৯৪৬ সালে গণপরিষদ গঠন; খসড়া কমিটির সভাপতি: ডঃ বি. আর. আম্বেদকর • গৃহীত: ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ (সংবিধান দিবস) • কার্যকর: ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ (প্রজাতন্ত্র দিবস) • প্রজাতন্ত্র: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান (রাষ্ট্রপতি) নির্বাচিত নাগরিক, বংশানুক্রমিক নন • সরকারের ৩টি অঙ্গ: আইন বিভাগ (সংসদ) ↔ শাসন বিভাগ ↔ স্বাধীন বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) 📜 ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ৩. পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা • পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন ১৯৭৩ (১৯৭৮ থেকে কার্যকর ত্রিস্তর কাঠামো) • স্তর ১ (গ্রাম স্তর): গ্রাম পঞ্চায়েত → প্রধান এবং গ্রাম সংসদ দ্বারা প্রত্যক্ষ নিরীক্ষা • স্তর ২ (ব্লক স্তর): পঞ্চায়েত সমিতি → সভাপতি এবং বিডিও (BDO - নির্বাহী আধিকারিক) • স্তর ৩ (জেলা স্তর): জেলা পরিষদ → সভাধিপতি এবং জেলাশাসক (DM - কার্যনির্বাহী) 🌾 ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও তৃণমূল স্তরের গ্রামীণ গণতন্ত্র ৪. নগর স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাপকাঠি • শহর: পৌরসভা → প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও পৌরপ্রধান (চেয়ারম্যান) • মহানগর: পৌরনিগম (কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল ইত্যাদি) → মেয়র ও মেয়র পরিষদ • সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার: ভোটারের বয়স ১৮+ বছর • কার্যকাল: ৫ বছর • নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বয়স: ২১+ বছর • পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতে ৫০% মহিলা সংরক্ষণ 🗳️ পৌর নাগরিক পরিষেবা ও সার্বজনীন ভোটাধিকার TARGETEXAMS • WBBSE সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস ও পৌরবিজ্ঞান

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
‘সরকার’ শব্দটি এসেছে ফারসি শব্দ ‘সর’ (মাথা/প্রধান) এবং ‘কার’ (কাজ/কর্তা) থেকে, যার অর্থ শাসনকর্তা বা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
মূল বিষয় 2
ইংরেজি ‘Democracy’ শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘Demos’ (জনগণ) এবং ‘Kratos’ (ক্ষমতা/শাসন) থেকে, যার অর্থ জনগণের শাসন।
মূল বিষয় 3
আমেরিকার রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের মতে, গণতন্ত্র হলো "জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের কল্যাণের জন্য গঠিত।"
মূল বিষয় 4
ভারতের সংবিধান রচনা করেন ‘গণপরিষদ’ (সভাপতি: ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ); এর খসড়া কমিটির সভাপতি বাবাসাহেব ডঃ বি. আর. আম্বেদকরকে ‘ভারতীয় সংবিধানের জনক’ বলা হয়।
মূল বিষয় 5
১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় (সংবিধান দিবস) এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি এটি পূর্ণ কার্যকর হয় (প্রজাতন্ত্র দিবস)।
মূল বিষয় 6
ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীয় তালিকা, রাজ্য তালিকা ও যৌথ তালিকায় বিভক্ত; সরকারের তিনটি স্বাধীন অঙ্গ হলো আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
মূল বিষয় 7
পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা রয়েছে: গ্রাম পঞ্চায়েত (গ্রাম), পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক) এবং জেলা পরিষদ (জেলা)।
মূল বিষয় 8
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষিত রয়েছে এবং ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
১. ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সরকার’ শব্দ দুটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ‘সরকার’ শব্দটি ফারসি শব্দ ‘সর’ (মাথা বা প্রধান) এবং ‘কার’ (কাজ বা কর্তা) থেকে এসেছে, যার অর্থ শাসনকর্তা বা রাষ্ট্রপ্রধান। ‘গণতন্ত্র’ শব্দের ইংরেজি ‘Democracy’ এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘Demos’ (জনগণ) এবং ‘Kratos’ (শাসন বা ক্ষমতা) থেকে, যার অর্থ হলো জনগণের শাসন।
ফারসি ও গ্রিক ভাষার শব্দমূল মনে রাখবে।
2
২. ডঃ বি. আর. আম্বেদকরকে কেন ‘ভারতীয় সংবিধানের জনক’ বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: স্বাধীন ভারতের সংবিধানের খসড়া রচনার জন্য গঠিত ‘খসড়া কমিটি’ (Drafting Committee)-র সুযোগ্য সভাপতি ছিলেন বাবাসাহেব ডঃ বি. আর. আম্বেদকর। তাঁর অসাধারণ আইনি পাণ্ডিত্য, দূরদর্শিতা এবং বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনার মাধ্যমে ভারতের জটিল সামাজিক কাঠামোর উপযোগী সংবিধান রচনায় প্রধান নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাঁকে ‘ভারতীয় সংবিধানের জনক’ বলা হয়।
খসড়া কমিটির সভাপতির ভূমিকা এবং সাংবিধানিক রূপরেখা প্রণয়নের কথা উল্লেখ করবে।
3
৩. সরকারের তিনটি বিভাগ কী কী এবং এদের প্রধান কাজ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: সরকারের তিনটি বিভাগ হলো:
১) আইন বিভাগ (Legislature): নতুন আইন তৈরি করা এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা (যেমন সংসদ ও বিধানসভা)।
২) শাসন বিভাগ (Executive): আইনসভার তৈরি করা আইন কার্যকর করা এবং দেশ পরিচালনা করা (যেমন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও আমলারা)।
৩) বিচার বিভাগ (Judiciary): আইনের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া, নাগরিক অধিকার রক্ষা করা এবং সংবিধানের মর্যাদা অটুট রাখা (যেমন সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট)।
আইন তৈরি, কার্যকর করা এবং বিচারের তিনটি পৃথক কাজের কথা লিখবে।
4
৪. পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনের তিনটি স্তরের নাম ও তাদের নির্বাচিত প্রধানদের পদবী কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা হলো:
১) গ্রাম পঞ্চায়েত (গ্রাম স্তর): নির্বাচিত প্রধান হলেন ‘প্রধান’ (সহকারী হলেন উপ-প্রধান)।
২) পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক স্তর): নির্বাচিত প্রধান হলেন ‘সভাপতি’ (সহকারী হলেন সহ-সভাপতি; নির্বাহী আধিকারিক বিডিও)।
৩) জেলা পরিষদ (জেলা স্তর): নির্বাচিত প্রধান হলেন ‘সভাধিপতি’ (সহকারী হলেন সহ-সভাধিপতি; নির্বাহী আধিকারিক জেলাশাসক)।
গ্রাম $ o$ ব্লক $ o$ জেলা ক্রমানুসারে মনে রাখবে।
5
৫. পৌরসভা ও পৌরনিগমের নির্বাচিত প্রধানদের কী বলা হয় এবং ভোটদানের ন্যূনতম বয়স কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পৌরসভার (Municipality) নির্বাচিত প্রধানকে বলা হয় পৌরপ্রধান (Chairman) এবং পৌরনিগমের (Municipal Corporation) নির্বাচিত প্রধানকে বলা হয় মেয়র (Mayor)। ভারতে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স হলো ১৮ বছর।
চেয়ারম্যান ও মেয়র পদের পার্থক্য এবং প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের বয়স মনে রাখবে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

আজকের ভারত: সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।