অর্থনৈতিক সমীক্ষা বা সুমারির মাধ্যমে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্যকে অশোধিত তথ্য বা কাঁচা তথ্য (Raw Data) বলা হয়। এই কাঁচা তথ্য অত্যন্ত বিশৃঙ্খল এবং এলোমেলোভাবে সংগৃহীত থাকে। এই অবস্থায় তথ্যের তিনটি প্রধান ত্রুটি থাকে: এটি থেকে কোনো সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, এটি অতিরিক্ত স্থান দখল করে এবং এর সাহায্যে কোনো তুলনা বা গাণিতিক পরিমাপ সম্ভব হয় না। তথ্যের সংগঠন (Organisation of Data) বলতে বোঝায় অশোধিত তথ্যকে একটি সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত ও অর্থপূর্ণ রূপ প্রদান করা যাতে তথ্যের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যগুলি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
তথ্যের সংগঠনের প্রথম মৌলিক পদক্ষেপ হল শ্রেণিবিন্যাস (Classification):
"তথ্যের বিভিন্ন অংশের পারস্পরিক সাদৃশ্য ও সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তাদের বিভিন্ন দল বা শ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।" — হোরাস সেক্রিস্ট
শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল:
- জটিল তথ্যরাশিকে সরল ও সংক্ষিপ্ত করা: হাজার হাজার তথ্যকে কয়েকটি সমসত্ত্ব শ্রেণিতে সংক্ষেপিত করে সহজে বোঝার উপযোগী করে তোলা।
- সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য স্পষ্ট করা: অভিন্ন গুণবিশিষ্ট তথ্যকে একদিকে এবং পৃথক বৈশিষ্ট্যের তথ্যকে অন্যদিকে বিভক্ত করা (যেমন শিক্ষিত ও অশিক্ষিত শ্রমিকদের পৃথকীকরণ)।
- সহজ তুলনা সম্ভব করা: বিভিন্ন অঞ্চল, বছর বা গোষ্ঠীর মধ্যে তুলনা করার উপযুক্ত ভিত্তি তৈরি করা।
- সারণীকরণের ভিত্তি প্রস্তুত করা: তথ্যকে পরবর্তী ধাপে সারণিবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুত করা।
- ব্যাপকতা বা সর্বগ্রাহিতা (Exhaustiveness): সংগৃহীত প্রতিটি তথ্যের জন্য কোনো না কোনো শ্রেণিতে নিশ্চিত স্থান থাকতে হবে।
- পারস্পরিক বর্জনশীলতা (Mutual Exclusivity): শ্রেণিগুলি এমন হতে হবে যাতে একটি তথ্য কেবল একটিমাত্র শ্রেণিতেই স্থান পায়, একাধিক শ্রেণিতে নয়।
- স্থায়িত্ব (Stability): সম্পূর্ণ অনুসন্ধান জুড়ে শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি অপরিবর্তিত থাকতে হবে।
- নমনীয়তা (Flexibility): নতুন তথ্য যুক্ত করার প্রয়োজন হলে শ্রেণিবিন্যাস কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনার সুযোগ থাকা উচিত।
- সমসত্ত্বতা (Homogeneity): একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত সমস্ত তথ্য পরস্পর সমজাতীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে।
| শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি | মূল নীতি ও সংজ্ঞা | অর্থনৈতিক উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. কালক্রমিক শ্রেণিবিন্যাস (Chronological) | সময়ের ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে (বছর, মাস, দশক) তথ্য শ্রেণিবদ্ধ করা। | ১৯৫১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ভারতের জনগণনা; পশ্চিমবঙ্গের বাৎসরিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের হিসাব। |
| ২. স্থানিক বা ভৌগোলিক (Geographical) | ভৌগোলিক বা এলাকাভিত্তিক অবস্থানের ভিত্তিতে (দেশ, রাজ্য, জেলা, গ্রাম/শহর) তথ্য শ্রেণিবদ্ধ করা। | ভারতের রাজ্যভিত্তিক মাথাপিছু আয়; পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক পাট উৎপাদনের তালিকা। |
| ৩. গুণবাচক শ্রেণিবিন্যাস (Qualitative) | পরিমাপ করা যায় না এমন গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের (লিঙ্গ, বর্ণ, সাক্ষরতা, পেশা) ভিত্তিতে বিন্যাস।
|
কারখানার শ্রমিকদের লিঙ্গ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাসস্থানের ভিত্তিতে বিন্যাস। |
| ৪. পরিমাণবাচক শ্রেণিবিন্যাস (Quantitative) | সংখ্যার সাহায্যে পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক চলের (আয়, ব্যয়, উৎপাদন, উচ্চতা, নম্বর) ভিত্তিতে বিন্যাস। | শ্রমিকদের মজুরির ভিত্তিতে শ্রেণি গঠন (যেমন ১০,০০০–১৫,০০০ টাকা, ১৫,০০০–২০,০০০ টাকা)। |
- বিচ্ছিন্ন চলক (Discrete Variable): যে চলকের মান নির্দিষ্ট ও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে বা পূর্ণসংখ্যায় বাড়ে এবং ভগ্নাংশ মান গ্রহণ করতে পারে না (যেমন পরিবারে সদস্য সংখ্যা, কারখানায় দৈনিক অনুপস্থিতির সংখ্যা, বইয়ের মুদ্রণ প্রমাদ)।
- অবিচ্ছিন্ন চলক (Continuous Variable): যে চলক একটি নির্দিষ্ট বিস্তারের মধ্যে যেকোনো বাস্তব মান (ভগ্নাংশ ও দশমিক সহ) গ্রহণ করতে সক্ষম (যেমন শ্রমিকের মজুরি, দেহের ওজন, তাপমাত্রা, কৃষি ফলন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ)।