Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Economics • অধ্যায় 10
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

সহসম্বন্ধ

সহসম্বন্ধ (Correlation) হলো অর্থনৈতিক রাশিবিজ্ঞানের দ্বিচলক রাশিমালার একটি অত্যন্ত মৌলিক ও কেন্দ্রীয় পরিমাণগত ধারণা, যা দুই বা ততোধিক আন্তঃসম্পর্কিত চলকের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের দিক ও ঘনিষ্ঠতার মাত্রা বিজ্ঞানসম্মতভাবে নির্ণয় ও পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির অর্থনীতি পাঠ্যক্রমের পরিমাণগত অর্থনীতি ও রাশিবিজ্ঞান অংশের অন্তর্ভুক্ত এই অধ্যায়টি একচলক বিশ্লেষণ (কেন্দ্রীয় প্রবণতা ও বিস্তার পরিমাপ) থেকে আধুনিক দ্বিচলক অর্থনীতি বিশ্লেষণে উত্তরণের মূল ভিত্তি রচনা করে। বাস্তব অর্থনৈতিক জগতে কোনো অর্থনৈতিক চলক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বিরাজ করে না; বরং চলকসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে পারস্পরিক নির্ভরতায় আবদ্ধ থাকে: পণ্যের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে চাহিদার পরিবর্তন ঘটে, বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর কৃষিজ ফসলের উৎপাদন নির্ভরশীল হয়, পরিবারের আয় বৃদ্ধির সাথে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হারের ওঠানামার সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। সহসম্বন্ধ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে দুটি চলক একই দিকে পরিবর্তিত হচ্ছে (ধনাত্মক সহসম্বন্ধ), বিপরীতমুখী দিকে ধাবিত হচ্ছে (ঋণাত্মক সহসম্বন্ধ), নাকি তাদের মধ্যে কোনো রৈখিক সংযোগ অনুপস্থিত (শূন্য সহসম্বন্ধ)। পাঠ্যক্রমে গুণগত চিত্ররূপ হিসেবে বিক্ষোপ চিত্র (Scatter Diagram), পরিমাণগত পরামিতিক পরিমাপ হিসেবে কার্ল পিয়ার্সনের গুণ-পরিঘাত সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (r), এবং গুণগত বা ক্রমানুসারী বিশ্লেষণের জন্য চার্লস স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (R) বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। সর্বোপরি, এই অধ্যায়টি শিক্ষার্থীদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেয় যে সহসম্বন্ধ কখনই দুটি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্কের (Causation) প্রমাণ নয়, যা ভ্রান্ত বা অবাস্তব সহসম্বন্ধ (Spurious Correlation) পরিহার করতে অপরিহার্য।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

আধুনিক ফলিত অর্থনীতি, আর্থিক বাজার পরিচালনা এবং সরকারি নীতি প্রণয়নে সহসম্বন্ধ বিশ্লেষণ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবিদরা বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের পারস্পরিক সহসম্বন্ধ বিশ্লেষণ করে আর্থিক নীতি ও রাজস্ব নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) পলিসি রেপো রেটের সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির ঋণ বিতরণের সহসম্বন্ধ খতিয়ে দেখে মুদ্রানীতির সঞ্চালন গতি নির্ধারণ করে। আর্থিক অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ হ্যারি মার্কোউইৎসের 'আধুনিক পোর্টফোলিও তত্ত্ব' সম্পূর্ণরূপে বিভিন্ন শেয়ার ও বন্ডের সহসম্বন্ধ ম্যাট্রিক্সের ওপর প্রতিষ্ঠিত: পারস্পরিক ঋণাত্মক বা শূন্য সহসম্বন্ধযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি ন্যূনতম করে প্রত্যাশিত মুনাফা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একইভাবে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা পরিমাপ, প্রতিযোগী দ্রব্যের পারস্পরিক প্রভাব বিচার এবং বিপণন ব্যয়ের কার্যকারিতা যাচাইয়ে সহসম্বন্ধের জ্ঞান অপরিহার্য। একাদশ শ্রেণির অর্থনীতি শিক্ষার্থীদের জন্য সহসম্বন্ধের গাণিতিক সূত্রাবলী, বৈশিষ্ট্য এবং ফলাফল ব্যাখ্যার দক্ষতা অর্জন উচ্চতর ক্লাসের রিগ্রেশন বিশ্লেষণ, ইকোনোমেট্রিক্স এবং বাস্তব তথ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণার দ্বার উন্মোচন করে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 সহসম্বন্ধের তাত্ত্বিক ভিত্তি, সংজ্ঞ...
2 লেখচিত্র পদ্ধতি: বিক্ষোপ চিত্র (Sca...
3 কার্ল পিয়ার্সনের সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক...
4 পিয়ার্সনের সহগ r-এর মৌলিক গাণিতিক...
5 স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ গুণা...
6 বাস্তব অর্থনৈতিক প্রয়োগ, সীমাবদ্ধত...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

সহসম্বন্ধের তাত্ত্বিক ভিত্তি, সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিন্যাস

১. সহসম্বন্ধের অর্থ ও সংজ্ঞা

একচলক রাশিবিজ্ঞানে আমরা একটিমাত্র চলকের (যেমন জাতীয় আয়, শ্রমিকের মজুরি বা চালের দাম) বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করি। কিন্তু বাস্তব অর্থনৈতিক জীবনে চলকসমূহ কখনোই একক বা বিচ্ছিন্ন থাকে না। যখন দুটি চলক এমনভাবে সম্পর্কিত থাকে যে একটির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপর চলকটিতেও একটি নির্দিষ্ট বা নিয়মানুগ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, তখন চলক দুটিকে সহসম্বন্ধযুক্ত (Correlated) বলা হয়।

বিখ্যাত রাশিবিজ্ঞানীদের প্রদত্ত সংজ্ঞা:

  • ক্রক্সটন ও কাউডেন (Croxton & Cowden): "যখন দুটি চলকের সম্পর্ক পরিমাণগত প্রকৃতির হয়, তখন সেই সম্পর্ক আবিষ্কার ও পরিমাপ করার এবং একটি সংক্ষিপ্ত সূত্রে প্রকাশ করার রাশিবিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে সহসম্বন্ধ বলে।"
  • এ. এম. টাটল (A. M. Tuttle): "দুই বা ততোধিক চলকের মধ্যে সহ-পরিবর্তন (covariation) বিশ্লেষণকেই সহসম্বন্ধ বলা হয়।"
  • বডিংটন (Boddington): "যখন দুই বা ততোধিক রাশিমালার মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট সংযোগ বা সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, তখন তাদের মধ্যে সহসম্বন্ধ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।"
২. দ্বিচলক রাশিমালা (Bivariate Distribution)

একই পর্যবেক্ষণ এককের দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের যুগপৎ সংগৃহীত তথ্যকে (যেমন একজন ব্যক্তির উচ্চতা ও ওজন, দ্রব্যের মূল্য ও চাহিদার পরিমাণ, জমিতে সারের পরিমাণ ও ধান উৎপাদন) দ্বিচলক রাশিমালা বলা হয়। একে জোড়া মান হিসেবে $(x_1, y_1), (x_2, y_2), \dots, (x_n, y_n)$ আকারে প্রকাশ করা হয়।

৩. সহসম্বন্ধের সামগ্রিক শ্রেণিবিন্যাস

সহসম্বন্ধকে মূলত তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়:

শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি সহসম্বন্ধের প্রকার সম্পর্কের প্রকৃতি বাস্তব অর্থনৈতিক উদাহরণ
১. পরিবর্তনের দিক (Direction) ধনাত্মক বা প্রত্যক্ষ সহসম্বন্ধ (Positive Correlation) উভয় চলক একই দিকে পরিবর্তিত হয়: একটি বাড়লে অপরটিও বাড়ে, বা একটি কমলে অপরটিও কমে। দ্রব্যের মূল্য ও জোগানের পরিমাণ ($P \uparrow, Q_S \uparrow$); পরিবারের আয় ও ভোগব্যয় ($Y \uparrow, C \uparrow$); বিজ্ঞাপনী ব্যয় ও বিক্রয়লব্ধ আয়।
ঋণাত্মক বা বিপরীতমুখী সহসম্বন্ধ (Negative Correlation) চলক দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী অভিমুখে পরিবর্তিত হয়: একটি বাড়লে অপরটি কমে, এবং তদ্বিপরীত। দ্রব্যের মূল্য ও চাহিদার পরিমাণ ($P \uparrow, Q_D \downarrow$); শীতকালীন তাপমাত্রা ও গরম পোশাকের বিক্রয়; উৎপাদনের গতি ও পণ্য সরবরাহের সময়।
২. পরিবর্তনের অনুপাত (Ratio of Change) রৈখিক সহসম্বন্ধ (Linear Correlation) একটি চলকের পরিবর্তনের পরিমাণের সাথে অপর চলকের পরিবর্তনের অনুপাত সর্বদা নির্দিষ্ট বা ধ্রুবক থাকে। লেখচিত্রে বসালে বিন্দুগুলি একটি সরলরেখা গঠন করে ($Y = a + bX$)। কাঁচামালের স্থির মূল্যে ক্রয় (প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য মোট ব্যয় ঠিক ₹৫০ হারে বৃদ্ধি পাওয়া)।
বক্ররৈখিক বা অরৈখিক সহসম্বন্ধ (Curvilinear Correlation) চলকদ্বয়ের পরিবর্তনের অনুপাত স্থির থাকে না, পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। লেখচিত্রে বসালে বিন্দুগুলি বক্ররেখা সৃষ্টি করে। পরিবর্তনশীল অনুপাতের বিধি (শ্রম নিয়োগের সাথে মোট উৎপাদন প্রথমে দ্রুত বাড়ে, পরে হ্রাসমান হারে বাড়ে এবং শেষে হ্রাস পায়); আয় ও খাদ্য ব্যয়ের সম্পর্ক (এঞ্জেল রেখা)।
৩. চলকের সংখ্যা (Number of Variables) সরল সহসম্বন্ধ (Simple Correlation) কেবলমাত্র দুটি চলকের ($X$ ও $Y$) পারস্পরিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ। অর্থের জোগান ও পাইকারি মূল্যস্তরের পারস্পরিক সম্পর্ক।
বহুচলকীয় সহসম্বন্ধ (Multiple Correlation) একসঙ্গে তিন বা ততোধিক চলকের পারস্পরিক সম্পর্কের যুগপৎ বিশ্লেষণ। ধানের মোট ফলন ($Y$), বৃষ্টিপাত ($X_1$), সার প্রয়োগ ($X_2$) এবং উন্নত বীজের ($X_3$) যৌথ প্রভাব।
আংশিক সহসম্বন্ধ (Partial Correlation) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট চলকের প্রভাব স্থির রেখে যেকোনো দুটি নির্দিষ্ট চলকের সম্পর্ক পরিমাপ। সার প্রয়োগের মাত্রা ($X_2$) স্থির রেখে কেবল বৃষ্টিপাত ($X_1$) ও ফলনের ($Y$) সম্পর্ক নিরূপণ।
৪. সহসম্বন্ধ বনাম কার্যকর কারণ (Correlation vs. Causation)
সংসদীয় পরীক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা: সহসম্বন্ধ কখনই কার্যকর কারণ নির্দেশ করে না!
দুটি চলকের মধ্যে উচ্চ সহসম্বন্ধ থাকার অর্থ এই নয় যে তাদের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ গাণিতিক সহসম্বন্ধ নিম্নোক্ত চারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে সৃষ্টি হতে পারে:
  1. প্রত্যক্ষ কার্যকারণ সম্পর্ক: একটি চলকের পরিবর্তন সরাসরি অন্য চলকের পরিবর্তনের কারণ (যেমন অর্থের জোগান বৃদ্ধি সরাসরি মুদ্রাস্ফীতির কারণ)।
  2. পারস্পরিক বা দ্বিমুখী সম্পর্ক: দুটি চলক একে অপরকে প্রভাবিত করে (যেমন বাজারে মূল্য ও চাহিদার সাধারণ ভারসাম্য, বা আয় ও বিনিয়োগের গুণক-ত্বরক সম্পর্ক)।
  3. সাধারণ তৃতীয় চলকের প্রভাব (Lurking Variable): একটি সাধারণ বাহ্যিক চলকের প্রভাবে উভয় চলক যুগপৎ পরিবর্তিত হয় (যেমন তীব্র গ্রীষ্মের কারণে আইসক্রিমের বিক্রি এবং হাসপাতালে সানস্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা উভয়ই বৃদ্ধি পায়)।
  4. ভ্রান্ত বা অবাস্তব সহসম্বন্ধ (Spurious / Nonsense Correlation): সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন দুটি ঘটনার দীর্ঘকালীন যুগপৎ বৃদ্ধির ফলে কাকতালীয়ভাবে উচ্চ সহসম্বন্ধ দেখা যায় (যেমন ভারতের কোনো রাজ্যে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইউরোপে জনসংখ্যা বৃদ্ধি)। এটি অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অর্থহীন।

লেখচিত্র পদ্ধতি: বিক্ষোপ চিত্র (Scatter Diagram Method)

১. বিক্ষোপ চিত্রের ধারণা ও অঙ্কন পদ্ধতি

সহসম্বন্ধ অধ্যয়নের সবচেয়ে সহজ, দৃষ্টিগ্রাহ্য ও অ-গাণিতিক পদ্ধতি হলো বিক্ষোপ চিত্র (Scatter Diagram)। এতে জটিল কোনো গণনা ছাড়াই চোখে দেখে দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপরেখা ও দিক বোঝা যায়।

অঙ্কনের ধারাবাহিক ধাপসমূহ:

  1. স্বাধীন চলককে অনুভূমিক অক্ষে ($X$-অক্ষ) এবং নির্ভরশীল চলককে উল্লম্ব অক্ষে ($Y$-অক্ষ) স্থাপন করতে হবে।
  2. উভয় অক্ষে তথ্যের বিস্তার অনুযায়ী সুবিধাজনক ও সমানুপাতিক স্কেল বা পরিমাপ নির্ধারণ করতে হবে।
  3. প্রতিটি পর্যবেক্ষণ জোড়া $(x_i, y_i)$-কে ছক কাগজে একটি করে স্বতন্ত্র বিন্দু ($\bullet$) আকারে চিহ্নিত করতে হবে।
  4. ছক কাগজে অঙ্কিত বিন্দুসমূহের সামগ্রিক সমাবেশই হলো বিক্ষোপ চিত্র। বিন্দুগুলির বিস্তৃতি, ঝোঁক এবং আকৃতি দেখেই সহসম্বন্ধের প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়।
২. বিক্ষোপ চিত্রের বিভিন্ন রূপ ও ব্যাখ্যা
চিত্রের প্রকৃতি বিন্দুসমূহের অবস্থান ও বিন্যাস সহসম্বন্ধের মাত্রা ও রূপ সহগ মান ($r$)
সম্পূর্ণ ধনাত্মক সহসম্বন্ধ সমস্ত বিন্দু একটিমাত্র সরলরেখার ওপর অবস্থান করে যা নিচ-বাম কোণ থেকে ওপর-ডান কোণের দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। নিখুঁত প্রত্যক্ষ সম্পর্ক $$r = +1$$
উচ্চমাত্রার ধনাত্মক সহসম্বন্ধ বিন্দুগুলি কোনো একক সরলরেখায় থাকে না, তবে ওপর-ডানমুখী একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ পটির (band) মধ্যে ঘনসন্নিবিষ্ট থাকে। দৃঢ় ধনাত্মক সম্পর্ক $$+0.75 \le r < +1$$
নিম্নমাত্রার ধনাত্মক সহসম্বন্ধ বিন্দুগুলির ওপরের দিকে সামান্য ঝোঁক লক্ষ করা যায়, কিন্তু বিন্দুগুলি অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত ও ছড়ানো-ছিটানো থাকে। দুর্বল ধনাত্মক সম্পর্ক $$0 < r < +0.25$$
সম্পূর্ণ ঋণাত্মক সহসম্বন্ধ সমস্ত বিন্দু একটিমাত্র সরলরেখার ওপর অবস্থান করে যা ওপর-বাম কোণ থেকে নিচ-ডান কোণের দিকে নিম্নগামী হয়। নিখুঁত বিপরীতমুখী সম্পর্ক $$r = -1$$
উচ্চমাত্রার ঋণাত্মক সহসম্বন্ধ বিন্দুগুলি ওপর-বাম থেকে নিচ-ডানমুখী একটি সংকীর্ণ নিম্নগামী পটিতে ঘনভাবে অবস্থান করে। দৃঢ় ঋণাত্মক সম্পর্ক $$-1 < r \le -0.75$$
সহসম্বন্ধহীন বা শূন্য সহসম্বন্ধ বিন্দুগুলি কোনো নির্দিষ্ট রেখা বা দিকে পুঞ্জীভূত না হয়ে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলভাবে বৃত্তাকার বা সমতল মেঘের মতো ছড়িয়ে থাকে। রৈখিক সহসম্বন্ধের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি $$r = 0$$
বক্ররৈখিক সম্পর্ক বিন্দুগুলি একটি সুস্পষ্ট বক্ররেখা (যেমন উল্টানো U-আকৃতির অধিবৃত্ত) অনুসরণ করে। যদিও সুদৃঢ় গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে, রৈখিক সহগ শূন্য হয়। অরৈখিক সহসম্বন্ধ $$r \approx 0 \text{ (রৈখিক)}$$
৩. বিক্ষোপ চিত্রের গুণাবলী ও সীমাবদ্ধতা
  • সুবিধাসমূহ:
    • অত্যন্ত সহজ ও দৃষ্টিগ্রাহ্য; গাণিতিক হিসাব-নিকাশ না জেনেই যে কেউ এটি বুঝতে পারেন।
    • সম্পর্কটি রৈখিক নাকি বক্ররৈখিক, এবং ধনাত্মক নাকি ঋণাত্মক—তা এক নজরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
    • চরম বিষম মান (Extreme Outliers) সহজেই শনাক্ত করা যায়।
  • সীমাবদ্ধতাসমূহ:
    • এটি কেবলমাত্র গুণগত চিত্র তুলে ধরে; সহসম্বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট গাণিতিক মান প্রদান করতে পারে না।
    • ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষকের ওপর নির্ভরশীল; বিভিন্ন ব্যক্তি একই বিক্ষোপ চিত্রকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
    • একসঙ্গে দুইয়ের অধিক চলকের জটিল সম্পর্ক পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

কার্ল পিয়ার্সনের সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (Karl Pearson's Product-Moment r)

১. তাত্ত্বিক ভিত্তি ও গাণিতিক সংজ্ঞা

১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত ব্রিটিশ জীবপরিসংখ্যানবিদ কার্ল পিয়ার্সন দুটি পরিমাণগত চলকের মধ্যকার রৈখিক সম্পর্কের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে বিজ্ঞানসম্মত গাণিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, তাকে গুণ-পরিঘাত সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (Product-Moment Correlation Coefficient) বা সংক্ষেপে $r$ বলা হয়।

পিয়ার্সন $r$-কে সংজ্ঞায়িত করেছেন দুটি চলকের মধ্যকার সহ-ভেদাঙ্ক (Covariance) এবং তাদের পৃথক পরিমিত ব্যবধানের (Standard Deviations) গুণফলের অনুপাত হিসেবে:

$$r = \frac{\text{Cov}(X, Y)}{\sigma_X \cdot \sigma_Y}$$

যেখানে:

  • $\text{Cov}(X, Y) = \frac{1}{N}\sum (X - \bar{X})(Y - \bar{Y}) = \frac{\sum xy}{N}$ (যেখানে $x = X - \bar{X}$ এবং $y = Y - \bar{Y}$)
  • $\sigma_X = \sqrt{\frac{1}{N}\sum (X - \bar{X})^2} = \sqrt{\frac{\sum x^2}{N}}$
  • $\sigma_Y = \sqrt{\frac{1}{N}\sum (Y - \bar{Y})^2} = \sqrt{\frac{\sum y^2}{N}}$

উক্ত মানগুলি সূত্রে বসালে $N$ পদটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং প্রধান ব্যবহারিক সূত্রটি পাওয়া যায়:

$$r = \frac{\sum (X - \bar{X})(Y - \bar{Y})}{\sqrt{\sum (X - \bar{X})^2} \cdot \sqrt{\sum (Y - \bar{Y})^2}} = \frac{\sum xy}{\sqrt{\sum x^2 \cdot \sum y^2}}$$
২. উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সমাধান পদ্ধতিসমূহ
পদ্ধতির নাম প্রয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র গাণিতিক সূত্র
প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct Method) যখন $\bar{X}$ এবং $\bar{Y}$ উভয়ের মানই পূর্ণসংখ্যা হয় (কোনো ভগ্নাংশ থাকে না)। $$r = \frac{\sum xy}{\sqrt{\sum x^2 \cdot \sum y^2}}$$
যেখানে $x = X - \bar{X},\, y = Y - \bar{Y}$
কল্পিত গড় বা পরোক্ষ পদ্ধতি (Short-cut Method) যখন প্রকৃত গড় ভগ্নাংশ হয়; এতে দশমিকের জটিল গণনা সম্পূর্ণ এড়ানো যায়। $$r = \frac{N\sum d_x d_y - (\sum d_x)(\sum d_y)}{\sqrt{N\sum d_x^2 - (\sum d_x)^2} \cdot \sqrt{N\sum d_y^2 - (\sum d_y)^2}}$$
যেখানে $d_x = X - A_x,\, d_y = Y - A_y$ ($A_x, A_y$ কল্পিত গড়)।
ধাপ-বিচ্যুতি পদ্ধতি (Step-Deviation Method) যখন চলকের মানগুলির মধ্যে নির্দিষ্ট সাধারণ গুণনীয়ক ($c_x, c_y$) থাকে, ফলে রাশিগুলি ছোট হয়ে যায়। $$r = \frac{N\sum u v - (\sum u)(\sum v)}{\sqrt{N\sum u^2 - (\sum u)^2} \cdot \sqrt{N\sum v^2 - (\sum v)^2}}$$
যেখানে $u = \frac{X - A_x}{c_x},\, v = \frac{Y - A_y}{c_y}$ ($c_x, c_y$ শ্রেণি স্কেল)।
৩. গণনার নির্ভুলতা যাচাইয়ের নিয়মাবলী
পরীক্ষার অপরিহার্য সতর্কবার্তা:
  • প্রত্যক্ষ পদ্ধতিতে গড় থেকে বিচ্যুতির যোগফল সর্বদা শূন্য হতে হবে: $\sum x = 0$ এবং $\sum y = 0$। এটি না মিললে গড় গণনায় ভুল হয়েছে!
  • কল্পিত গড় পদ্ধতিতে $\sum d_x^2$ এবং $(\sum d_x)^2$-এর পার্থক্য সর্বদা মনে রাখতে হবে। প্রথমটি প্রতিটি বিচ্যুতির বর্গের যোগফল, আর দ্বিতীয়টি সকল বিচ্যুতির মোট যোগফলের বর্গ।
  • হরের বর্গমূলের ভিতরের মান কখনোই ঋণাত্মক হতে পারে না। ঋণাত্মক মান এলে গণনায় ভুল নিশ্চিত।

পিয়ার্সনের সহগ r-এর মৌলিক গাণিতিক বৈশিষ্ট্য ও ফলাফল ব্যাখ্যা

১. কার্ল পিয়ার্সনের r-এর পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পিয়ার্সনের সহগের বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত তাত্ত্বিক প্রশ্ন প্রায়শই আসে:

বৈশিষ্ট্য ১: সহগের মান সর্বদা -১ থেকে +১ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ

সহসম্বন্ধ গুণাঙ্কের মান কখনোই $-1$-এর কম বা $+1$-এর বেশি হতে পারে না:

$$-1 \le r \le +1 \quad \text{অথবা} \quad |r| \le 1$$

প্রমাণ যুক্তি: কশি-শোয়ার্জ অসমতা (Cauchy-Schwarz Inequality) অনুসারে, $[\sum (x-\bar{x})(y-\bar{y})]^2 \le [\sum (x-\bar{x})^2][\sum (y-\bar{y})^2]$। এর ফলে $r^2 \le 1$, যা প্রমাণ করে $-1 \le r \le +1$। কোনো ছাত্রছাত্রীর হিসেবে $r = 1.35$ বা $r = -1.2$ এলে বুঝতে হবে গণনায় ভুল হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য ২: মূলবিন্দু ও মাপনী পরিবর্তন নিরপেক্ষতা (Change of Origin & Scale Invariance)

চলকগুলির সাথে কোনো ধ্রুবক যোগ বা বিয়োগ করলে (মূলবিন্দু পরিবর্তন) অথবা কোনো সাধারণ গুণনীয়ক দ্বারা গুণ বা ভাগ করলে (মাপনী পরিবর্তন) সহসম্বন্ধ গুণাঙ্কের মানে কোনো পরিবর্তন হয় না।

যদি $U = \frac{X - a}{h}$ এবং $V = \frac{Y - b}{k}$ হয়, তবে:

$$r_{UV} = \left( \frac{h \cdot k}{|h \cdot k|} \right) r_{XY}$$
  • যদি $h$ এবং $k$ উভয়ের চিহ্ন একই হয় (উভয়ই ধনাত্মক বা উভয়ই ঋণাত্মক), তবে $r_{UV} = r_{XY}$।
  • যদি $h$ এবং $k$-এর চিহ্ন পরস্পর বিপরীত হয় (একটি ধনাত্মক এবং অন্যটি ঋণাত্মক), তবে $r_{UV} = -r_{XY}$।
বৈশিষ্ট্য ৩: বিশুদ্ধ এককহীন সংখ্যা (Dimensionless Pure Number)

$r$ হলো সহ-ভেদাঙ্ক ও পরিমিত ব্যবধানের গুণফলের অনুপাত। ফলে লব ও হরের পরিমাপের এককসমূহ (যেমন কেজি, টাকা, মিটার) সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায়। এটি একটি বিশুদ্ধ সংখ্যা হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন এককে মাপা সম্পর্কের মধ্যেও সরাসরি তুলনা করা যায়।

বৈশিষ্ট্য ৪: চলকদ্বয়ের অবস্থানের প্রতিসাম্য (Symmetry)

সহসম্বন্ধ চলক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিসম: $r_{XY} = r_{YX}$। দ্রব্যের মূল্য ও চাহিদার মধ্যকার সহসম্বন্ধ এবং চাহিদা ও মূল্যের মধ্যকার সহসম্বন্ধ গাণিতিকভাবে সম্পূর্ণ অভিন্ন।

বৈশিষ্ট্য ৫: রৈখিক সীমাবদ্ধতা ($r = 0$ মানে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীনতা নয়)

$r = 0$ কেবল রৈখিক সম্পর্কের অভাব নির্দেশ করে। চলক দুটির মধ্যে নিখুঁত বক্ররৈখিক সম্পর্ক (যেমন $Y = X^2$) থাকলেও পিয়ার্সনের রৈখিক সহগ $r = 0$ হতে পারে।

২. সহসম্বন্ধের মাত্রার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা স্কেল
সহগের বিস্তৃতি ($r$) সম্পর্কের গুণগত ব্যাখ্যা অর্থনৈতিক তাৎপর্য
$$r = +1$$সম্পূর্ণ ধনাত্মক সহসম্বন্ধউভয় চলক নিখুঁত একই অনুপাতে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
$$+0.75 \le r < +1$$উচ্চমাত্রার ধনাত্মক সহসম্বন্ধচলকদ্বয়ের মধ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান।
$$+0.25 \le r < +0.75$$মাঝারি মাত্রার ধনাত্মক সহসম্বন্ধঅর্থনৈতিক চলকে সাধারণ প্রত্যক্ষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
$$0 < r < +0.25$$নিম্নমাত্রার ধনাত্মক সহসম্বন্ধখুবই দুর্বল প্রত্যক্ষ সম্পর্ক; পূর্বাভাসের অনুপযুক্ত।
$$r = 0$$সহসম্বন্ধ অনুপস্থিত / শূন্যচলকদ্বয়ের মধ্যে কোনো রৈখিক সংযোগ নেই।
$$-0.25 < r < 0$$নিম্নমাত্রার ঋণাত্মক সহসম্বন্ধদুর্বল বিপরীতমুখী প্রবণতা।
$$-0.75 < r \le -0.25$$মাঝারি মাত্রার ঋণাত্মক সহসম্বন্ধউল্লেখযোগ্য বিপরীত সম্পর্ক (যেমন মূল্যের সাথে চাহিদা)।
$$-1 < r \le -0.75$$উচ্চমাত্রার ঋণাত্মক সহসম্বন্ধঅত্যন্ত শক্তিশালী বিপরীতমুখী আচরণ।
$$r = -1$$সম্পূর্ণ ঋণাত্মক সহসম্বন্ধনিখুঁত সমানুপাতিক বিপরীতমুখী পরিবর্তন।
৩. সম্ভাব্য ভুল বা সম্ভাব্যতা ভ্রান্তি (Probable Error - PE)

নমুনা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক সমগ্রকের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য সম্ভাব্যতা ভ্রান্তি ($PE_r$) নির্ণয় করা হয়:

$$PE_r = 0.6745 \times \frac{1 - r^2}{\sqrt{N}} \qquad \text{এবং} \qquad SE_r = \frac{1 - r^2}{\sqrt{N}}$$

সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম:

  • যদি $r < PE_r$ হয়, তবে সহসম্বন্ধটি তাৎপর্যপূর্ণ নয় (Insignificant)।
  • যদি $r > 6 \times PE_r$ হয়, তবে সহসম্বন্ধটি নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ (Highly Significant)।

স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (Spearman's Rank Correlation)

১. ক্রম সহসম্বন্ধের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের বহু বিষয়কে সরাসরি সংখ্যায় বা ভৌত এককে মাপা যায় না (যেমন সততা, মেধা, সৌন্দর্য, প্রশাসনিক দক্ষতা, গ্রাহকের পছন্দ ইত্যাদি)। কিন্তু যেকোনো প্রতিযোগিতায় বা নিরীক্ষায় ব্যক্তিদের মেধার ভিত্তিতে ক্রমানুসারে (১ম, ২য়, ৩য়...) সাজানো যায়।

১৯০৪ সালে ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী ও রাশিবিজ্ঞানী চার্লস এডওয়ার্ড স্পিয়ারম্যান এই জাতীয় ক্রমানুসারী তথ্যের সহসম্বন্ধ পরিমাপের জন্য যে অপরামিতিক (non-parametric) পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, তাকে স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (Rank Correlation Coefficient) বা $R$ (বা $\rho$) বলা হয়।

২. ক্ষেত্র ১: যখন ক্রম বা পদমর্যাদা স্বতন্ত্র (কোনো টাই নেই)

যখন রাশিমালার প্রতিটি এককের ক্রম আলাদা ও স্বতন্ত্র হয়, তখন সূত্রটি হলো:

$$R = 1 - \frac{6 \sum D^2}{N(N^2 - 1)}$$

যেখানে:

  • $D = R_1 - R_2$ হলো দুটি বিষয়ে একই প্রার্থীর ক্রমদ্বয়ের পার্থক্য।
  • $\sum D^2$ হলো ক্রম পার্থক্যের বর্গের সমষ্টি।
  • $N$ হলো মোট পর্যবেক্ষণ বা প্রার্থীর সংখ্যা।
স্বয়ংক্রিয় যাচাই পরীক্ষা:
ক্রম পার্থক্যের বীজগাণিতিক যোগফল সর্বদা শূন্য হতে বাধ্য: $$\sum D = \sum (R_1 - R_2) \equiv 0$$ যদি ছকের গণনায় $\sum D \neq 0$ হয়, তবে ক্রম নির্ধারণ বা বিয়োগফলে নিশ্চিত ভুল রয়েছে!
৩. ক্ষেত্র ২: সমমান বা টাই ক্রমের ক্ষেত্রে (Tied / Repeated Ranks)

যখন কোনো রাশিমালার দুই বা ততোধিক মান সমান হয়, তখন তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণে গড় ক্রম নিয়ম (Average Rank Rule) প্রয়োগ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, দুটি মান সমান হয়ে যৌথভাবে ৩য় ও ৪র্থ স্থানে থাকলে তাদের গড় ক্রম হবে $\frac{3+4}{2} = 3.5$। এর পরবর্তী মানটি সরাসরি ৫ম স্থান পাবে।

টাই-এর কারণে প্রতিটি সমমানের দলের জন্য একটি সংশোধন পদ $\frac{m(m^2-1)}{12}$ যোগ করতে হয় (যেখানে $m$ হলো একটি নির্দিষ্ট মানের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা):

$$R = 1 - \frac{6 \left[ \sum D^2 + \sum \frac{m_i(m_i^2 - 1)}{12} \right]}{N(N^2 - 1)}$$

যদি একটি সংখ্যা ৩ বার পুনরাবৃত্ত হয় ($m=3$), তবে সংশোধন মান হবে $\frac{3(9-1)}{12} = \frac{24}{12} = 2.0$।

৪. তুলনামূলক বিশ্লেষণ: কার্ল পিয়ার্সন বনাম স্পিয়ারম্যান
তুলনার বিষয় কার্ল পিয়ার্সনের সহগ ($r$) স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহগ ($R$)
তথ্যের প্রকৃতিপরিমাণগত সংখ্যাসূচক তথ্য (টাকা, কেজি, মিটার)।গুণগত বৈশিষ্ট্য বা ক্রমানুসারী পদমর্যাদা।
সমগ্রকের বিন্যাসদ্বিচলক পরিমিত (Bivariate Normal) বিন্যাস আবশ্যক।কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাসের অনুমান প্রয়োজন নেই (অপরামিতিক)।
বিষম মানের প্রভাবচরম মান (Outliers) দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।চরম মানের প্রভাবমুক্ত কারণ মানগুলিকে ক্রমে রূপান্তর করা হয়।
সম্পর্কের ধরনশুধুমাত্র রৈখিক সম্পর্ক পরিমাপ করে।যেকোনো একমুখী (Monotonic) সম্পর্ক পরিমাপ করতে পারে।

বাস্তব অর্থনৈতিক প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও ভ্রান্ত সহসম্বন্ধের ফাঁদ

১. ফলিত অর্থনীতিতে সহসম্বন্ধের প্রায়োগিক গুরুত্ব

অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ, বাজার বিশ্লেষণ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে সহসম্বন্ধের ভূমিকা ব্যাপক:

  • চাহিদা বিধি ও মূল্য স্থিতিস্থাপকতা: পণ্যের মূল্য ও চাহিদার মধ্যকার ঋণাত্মক সহসম্বন্ধ ($r < 0$) নিশ্চিত করে দ্রব্যটি স্বাভাবিক। বিশেষ ক্ষেত্রে গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে এই সহসম্বন্ধ ধনাত্মক হতে পারে।
  • কেইনসীয় ভোগ অপেক্ষক: জন মেনার্ড কেইনসের মতে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেলে ভোগব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। ভারতীয় সামষ্টিক অর্থনীতিতে আয় ও ভোগের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ ধনাত্মক সহসম্বন্ধ ($r > +0.90$) দেখা যায়।
  • ফিলিপস রেখা (Phillips Curve): বেকারত্বের হার এবং মজুরি মুদ্রাস্ফীতির মধ্যকার ঐতিহাসিক ঋণাত্মক সহসম্বন্ধ নীতি নির্ধারকদের কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের ঝুঁকি হ্রাস: আর্থিক বিনিয়োগে যদি দুটি কোম্পানির শেয়ারের আয়ের মধ্যে ঋণাত্মক বা শূন্য সহসম্বন্ধ থাকে, তবে তাদের একত্রে যুক্ত করলে সার্বিক বিনিয়োগ ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়।
২. সহসম্বন্ধের সীমাবদ্ধতা ও ভ্রান্ত সহসম্বন্ধের ফাঁদ
  1. ভ্রান্ত বা অবাস্তব সহসম্বন্ধ (Spurious Correlation): কালীন সারির ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি দুটিই স্বাধীনভাবে বাড়তে পারে। তাদের মধ্যে উচ্চ $r$ থাকলেও তাদের একটি অপরটির কারণ নয়।
  2. তৃতীয় প্রভাবক চলক (Confounding Factor): সমুদ্রে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা এবং নরম পানীয় বিক্রির মধ্যে গ্রীষ্মকালে ধনাত্মক সহসম্বন্ধ দেখা যায়। এটি তৃতীয় চলক—উষ্ণ আবহাওয়ার সাধারণ প্রভাব।
  3. অরৈখিকতাকে ভুলভাবে শূন্য মনে করা: ল্যাফার রেখায় (কর হার ও রাজস্ব আয়) বা উৎপাদনের তিনটি স্তরে চলকদ্বয়ের নিখুঁত সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক রৈখিক সহসম্বন্ধ $r = 0$ আসতে পারে।
  4. পরিসরের সংকোচন (Restriction of Range): কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে তথ্য সীমাবদ্ধ রাখলে সহসম্বন্ধের মান কৃত্রিমভাবে কম প্রদর্শিত হতে পারে।
৩. সহসম্বন্ধ পদ্ধতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কাঠামো

ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি বাছাইয়ের নিয়ম:

  • সংখ্যাসূচক পরিমাণগত তথ্য এবং রৈখিক সম্পর্ক? $\rightarrow$ কার্ল পিয়ার্সনের প্রত্যক্ষ বা কল্পিত গড় পদ্ধতি ($r$)।
  • গুণগত বৈশিষ্ট্য (সৌন্দর্য, মেধা, সততা) বা ক্রম তথ্য? $\rightarrow$ স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ ($R$)।
  • প্রাথমিক দৃষ্টিগ্রাহ্য মূল্যায়ন বা বিষম মান চিহ্নিতকরণ? $\rightarrow$ বিক্ষোপ চিত্র (Scatter Diagram)।

গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূত্র ও বাণিজ্যিক নীতিমালা

কার্ল পিয়ার্সনের সহসম্বন্ধ গুণাঙ্কের সূত্রাবলী
স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধের সূত্রাবলী
সম্ভাব্যতা ভ্রান্তি ও তাৎপর্য বিচার

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: গড়দ্বয়ের মান নির্ণয় ($ar{X}$ ও $ar{Y}$)
জোড়ার সংখ্যা ($N$) = ৫।
$$\sum X = ৫৬ + ৪২ + ৩৬ + ৪৭ + ৪৯ = ২৩০ \implies ar{X} = rac{২৩০}{৫} = ৪৬$$ $$\sum Y = ১৪৭ + ১২৫ + ১১৮ + ১২৮ + ১৪২ = ৬৬০ \implies ar{Y} = rac{৬৬০}{৫} = ১৩২$$ উভয় গড়ই নিখুঁত পূর্ণসংখ্যা, তাই প্রত্যক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করা সর্বোত্তম।

ধাপ ২: প্রত্যক্ষ গণনার সারণি
ব্যক্তি $X$ $x = X - ৪৬$ $x^2$ $Y$ $y = Y - ১৩২$ $y^2$ $xy$
১৫৬+১০১০০১৪৭+১৫২২৫১৫০
২৪২-৪১৬১২৫-৭৪৯২৮
৩৩৬-১০১০০১১৮-১৪১৯৬১৪০
৪৪৭+১১১২৮-৪১৬-৪
৫৪৯+৩৯১৪২+১০১০০৩০
মোট $\sum X = ২৩০$ $\sum x = ০$ $\sum x^2 = ২২৬$ $\sum Y = ৬৬০$ $\sum y = ০$ $\sum y^2 = ৫৮৬$ $\sum xy = ৩৪৪$
ধাপ ৩: পিয়ার্সনের সূত্রে মান বসানো $$r = rac{\sum xy}{\sqrt{\sum x^2 \cdot \sum y^2}} = rac{৩৪৪}{\sqrt{২২৬ \cdot ৫৮৬}} = rac{৩৪৪}{\sqrt{১৩২৪৩৬}} = rac{৩৪৪}{৩৬৩.৯১৭} pprox +০.৯৪৫২$$
অর্থনৈতিক ও পরিসংখ্যানগত ব্যাখ্যা:
সহসম্বন্ধ গুণাঙ্কের মান +০.৯৫, যা প্রমাণ করে ব্যক্তির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে রক্তচাপ বৃদ্ধির অত্যন্ত শক্তিশালী বা উচ্চমাত্রার ধনাত্মক রৈখিক সহসম্বন্ধ বিদ্যমান।
উদাহরণ 2
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: কল্পিত গড় নির্বাচন ($A_x, A_y$)
ধরি $A_x = ১৪$ এবং $A_y = ৩০$। মোট পর্যবেক্ষণ সংখ্যা $N = ৬$।

ধাপ ২: কল্পিত বিচ্যুতির সারণি
ক্রমাঙ্ক $X$ $d_x = X - ১৪$ $d_x^2$ $Y$ $d_y = Y - ৩০$ $d_y^2$ $d_x d_y$
১১০-৪১৬৪০+১০১০০-৪০
২১২-২৪৩৮+৮৬৪-১৬
৩১৪০০৩২+২৪০
৪১৬+২৪২৮-২৪-৪
৫১৮+৪১৬২৫-৫২৫-২০
৬২০+৬৩৬২০-১০১০০-৬০
মোট - $\sum d_x = ৬$ $\sum d_x^2 = ৭৬$ - $\sum d_y = ৩$ $\sum d_y^2 = ২৯৭$ $\sum d_x d_y = -১৪০$
ধাপ ৩: সূত্রে মান প্রয়োগ $$r = rac{N\sum d_x d_y - (\sum d_x)(\sum d_y)}{\sqrt{N\sum d_x^2 - (\sum d_x)^2} \cdot \sqrt{N\sum d_y^2 - (\sum d_y)^2}}$$ $$r = rac{৬(-১৪০) - (৬)(৩)}{\sqrt{৬(৭৬) - (৬)^২} \cdot \sqrt{৬(২৯৭) - (৩)^২}} = rac{-৮৪০ - ১৮}{\sqrt{৪৫৬ - ৩৬} \cdot \sqrt{১৭৮২ - ৯}}$$ $$r = rac{-৮৫৮}{\sqrt{৪২০} \cdot \sqrt{১৭৭৩}} = rac{-৮৫৮}{২০.৪৯৪ imes ৪২.১০৭} = rac{-৮৫৮}{৮৬২.৯৪} pprox -০.৯৯৪$$
ফলাফল ব্যাখ্যা:
সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক হলো -০.৯৯, যা মূল্য ও চাহিদার মধ্যকার প্রায় নিখুঁত বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক সম্পর্ক প্রমাণ করে এবং চাহিদা বিধিকে সমর্থন করে।
উদাহরণ 3
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: সাধারণ মাপনী নির্ধারণ
$X$-এর জন্য $A_x = ৩০০$, শ্রেণি ব্যবধান $c_x = ১০০ \implies u = rac{X - ৩০০}{১০০}$
$Y$-এর জন্য $A_y = ৪৫$, শ্রেণি ব্যবধান $c_y = ৫ \implies v = rac{Y - ৪৫}{৫}$
জোড়ার সংখ্যা $N = ৫$।

ধাপ ২: ধাপ-বিচ্যুতি সারণি
একক $X$ $u$ $u^2$ $Y$ $v$ $v^2$ $uv$
১১০০-২৪২০-৫২৫১০
২২০০-১১৩৫-২৪২
৩৩০০০০৪৫০০০
৪৪০০+১১৫০+১১১
৫৫০০+২৪৭০+৫২৫১০
মোট - $\sum u = ০$ $\sum u^2 = ১০$ - $\sum v = -১$ $\sum v^2 = ৫৫$ $\sum uv = ২৩$
ধাপ ৩: গণনা সম্পাদন $$r = rac{৫(২৩) - (০)(-১)}{\sqrt{৫(১০) - (০)^২} \cdot \sqrt{৫(৫৫) - (-১)^২}} = rac{১১৫}{\sqrt{৫০} \cdot \sqrt{২৭৪}} = rac{১১৫}{৭.০৭১ imes ১৬.৫৫৩} pprox +০.৯৮২৫$$
ফলাফল ব্যাখ্যা:
স্কেল রূপান্তর নিরপেক্ষ হওয়ায় $r_{XY} = r_{uv} = \mathbf{+০.৯৮}$। উৎপাদন বৃদ্ধি কারখানার মুনাফাকে অত্যন্ত জোরালোভাবে ইতিবাচক প্রভাবিত করে।
উদাহরণ 4
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: প্রদত্ত তথ্যের বিচার
বিচারকদের দ্বারা সরাসরি ক্রম প্রদান করা হয়েছে ($R_1$ ও $R_2$) এবং কোনো ক্রম পুনরাবৃত্ত হয়নি ($N = ৮$)।

ধাপ ২: পার্থক্য সারণি প্রস্তুত
প্রতিযোগী বিচারক ক ($R_1$) বিচারক খ ($R_2$) $D = R_1 - R_2$ $D^2$
১৫৬-১১
২২১+১১
৩৮৫+৩৯
৪১২-১১
৫৪৪০০
৬৬৭-১১
৭৩৮-৫২৫
৮৭৩+৪১৬
মোট - - $\sum D = ০$ (যাচাইকৃত) $\sum D^2 = ৫৪$
ধাপ ৩: সূত্রে মান প্রয়োগ $$R = 1 - rac{6 \sum D^2}{N(N^2 - 1)} = 1 - rac{৬ imes ৫৪}{৮(৮^২ - ১)} = 1 - rac{৩২৪}{৮(৬৩)} = 1 - rac{৩২৪}{৫০৪} = 1 - ০.৬৪২৯ = +০.৩৫৭১$$
ফলাফল ব্যাখ্যা:
ক্রম সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক হলো +০.৩৬, যা নির্দেশ করে বিচারকদ্বয়ের শিল্পরুচির মধ্যে মাঝারি ধরনের ধনাত্মক সম্মতি রয়েছে।
উদাহরণ 5
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: গড় ক্রম নিয়মে পদমর্যাদা নির্ধারণ
অর্থনীতিতে ($X$): ৮০ (১ম), ৭৫ (২য়), ৬৮ (৩য়), ৬৪ ও ৬৪ (৪র্থ ও ৫ম যৌথ), ৫০ (৬ষ্ঠ)।
৬৪-এর টাই ক্রম = $ rac{৪+৫}{২} = ৪.৫$ (এখানে $m_1 = ২$)।

রাশিবিজ্ঞানে ($Y$): ৫২ (১ম), ৪৮ (২য়), ৪০ ও ৪০ (৩য় ও ৪র্থ যৌথ), ৩৫ (৫ম), ৩০ (৬ষ্ঠ)।
৪০-এর টাই ক্রম = $ rac{৩+৪}{২} = ৩.৫$ (এখানে $m_2 = ২$)।

ধাপ ২: পার্থক্য সারণি
ছাত্র অর্থনীতি ($X$) ক্রম $R_1$ রাশিবিজ্ঞান ($Y$) ক্রম $R_2$ $D = R_1 - R_2$ $D^2$
১৬৮৩৪০৩.৫-০.৫০.২৫
২৬৪৪.৫৪০৩.৫+১.০১.০০
৩৭৫২৪৮২.০০.০০.০০
৪৫০৬৩০৬.০০.০০.০০
৫৬৪৪.৫৩৫৫.০-০.৫০.২৫
৬৮০১৫২১.০০.০০.০০
মোট - - - - $\sum D = ০$ $\sum D^2 = ১.৫০$
ধাপ ৩: সংশোধন পদ ও সূত্র প্রয়োগ $X$-এর জন্য সংশোধন ($m_1 = ২$): $ rac{২(৪-১)}{১২} = ০.৫$
$Y$-এর জন্য সংশোধন ($m_2 = ২$): $ rac{২(৪-১)}{১২} = ০.৫$
সংশোধিত সমষ্টি = $১.৫০ + ০.৫ + ০.৫ = ২.৫০$ $$R = 1 - rac{৬(২.৫০)}{৬(৩৬ - ১)} = 1 - rac{১৫}{২১০} = 1 - ০.০৭১৪ = +০.৯২৮৬ pprox +০.৯৩$$
ফলাফল ব্যাখ্যা:
ক্রম সহসম্বন্ধের মান +০.৯৩, যা প্রমাণ করে অর্থনীতিতে ভালো ফল করা ছাত্ররা রাশিবিজ্ঞানেও অত্যন্ত উচ্চ পারদর্শিতা দেখিয়েছে।
উদাহরণ 6
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অংশ (ক): চলকের রৈখিক রূপান্তরের প্রভাব
এখানে, $$U = - rac{১}{৫}X + ২০ \implies h = -৫$$ $$V = rac{১}{১০}Y + ৫ \implies k = +১০$$ যেহেতু $h$ ঋণাত্মক এবং $k$ ধনাত্মক, অর্থাৎ স্কেল দুটির চিহ্ন পরস্পর বিপরীত ($h \cdot k = -৫০ < ০$), তাই সহসম্বন্ধ গুণাঙ্কের চিহ্ন পরিবর্তিত হবে: $$r_{UV} = -r_{XY} = -(+০.৮০) = -০.৮০$$
অংশ (খ): সম্ভাব্য ভুল ($PE_r$) ও তাৎপর্য পরীক্ষা
প্রদত্ত $r = ০.৮০ \implies r^2 = ০.৬৪$, এবং $N = ৬৪ \implies \sqrt{N} = ৮$।

১. প্রমাণ ভ্রান্তি ($SE_r$): $$SE_r = rac{১ - r^২}{\sqrt{N}} = rac{১ - ০.৬৪}{৮} = rac{০.৩৬}{৮} = ০.০৪৫$$
২. সম্ভাব্যতা ভ্রান্তি ($PE_r$): $$PE_r = ০.৬৭৪৫ imes SE_r = ০.৬৭৪৫ imes ০.০৪৫ pprox ০.০৩০৩৫$$
৩. তাৎপর্য যাচাই: $$৬ imes PE_r = ৬ imes ০.০৩০৩৫ = ০.১৮২১$$ যেহেতু $r = ০.৮০ > ৬ imes PE_r$ ($০.৮০ > ০.১৮২১$), তাই প্রাপ্ত সহসম্বন্ধ গুণাঙ্কটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ (Highly Significant) এবং সমগ্রকের প্রকৃত সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

কল্পিত গড় পদ্ধতিতে $(\sum d_x)^2$ এবং $\sum d_x^2$-কে একই মনে করে ভুল গণনা করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

$\sum d_x^2$ হলো প্রতিটি বিচ্যুতির বর্গের যোগফল। অন্যদিকে $(\sum d_x)^2$ হলো সব বিচ্যুতির সাধারণ যোগফলকে শেষে বর্গ করা। এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাশি।

সাধারণ ভুল ধারণা

r = 0 এলে ধরে নেওয়া যে চলক দুটির মধ্যে কোনো প্রকার সম্পর্কই নেই।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

r = 0 কেবল রৈখিক সম্পর্কের অভাব নির্দেশ করে। চলকদ্বয়ের মধ্যে নিখুঁত বক্ররৈখিক কার্যকরী সম্পর্ক (যেমন $Y = X^2$) থাকলেও পিয়ার্সনের রৈখিক সহগ শূন্য হতে পারে।

সাধারণ ভুল ধারণা

স্পিয়ারম্যানের পদ্ধতিতে টাই ক্রম থাকলে সাধারণ সূত্র ব্যবহার করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

টাই ক্রম থাকলে অবশ্যই গড় ক্রম নির্ধারণ করতে হবে এবং প্রতিটি সমমানের দলের জন্য $\frac{m(m^2-1)}{12}$ সংশোধন পদ যুক্ত করে সংশোধিত সূত্র ব্যবহার করতে হবে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

r WBCHSE একাদশ শ্রেণি • পরিমাণগত অর্থনীতি: সহসম্বন্ধের সামগ্রিক বিশ্লেষণ বিক্ষোপ চিত্র, কার্ল পিয়ার্সনের গুণ-পরিঘাত সহগ (r) এবং স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ (R) ১. বিক্ষোপ চিত্র ও সহসম্বন্ধের প্রকারভেদ (Scatter Diagrams) সম্পূর্ণ ধনাত্মক (r = +1) সম্পূর্ণ ঋণাত্মক (r = -1) রৈখিক সহসম্বন্ধহীন (r = 0) বক্ররৈখিক সম্পর্ক (r = 0) মূল বৈশিষ্ট্য: • মূলবিন্দু ও স্কেল পরিবর্তন নিরপেক্ষ (Shift & Scale Invariant) • বিশুদ্ধ এককহীন সংখ্যা; সর্বদা -1 ≤ r ≤ +1 সীমার মধ্যে আবদ্ধ • চলকদ্বয়ের অবস্থান প্রতিসম: r(X,Y) = r(Y,X) ২. কার্ল পিয়ার্সনের সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (Karl Pearson's r) সহ-ভেদাঙ্ক ও পরিমিত ব্যবধানের অনুপাত: r = Cov(X,Y) / (σx · σy) = Σ(x-x̄)(y-ȳ) / √[Σ(x-x̄)² · Σ(y-ȳ)²] সহসম্বন্ধের মাত্রার বিস্তার স্কেল [-1 থেকে +1]: -1.0 সম্পূর্ণ ঋণাত্মক (-1.0) -0.5 মাঝারি ঋণাত্মক (-0.5) 0.0 শূন্য সহসম্বন্ধ (0.0) +0.5 মাঝারি ধনাত্মক (+0.5) +1.0 সম্পূর্ণ ধনাত্মক (+1.0) Direct: r = Σxy / √(Σx²·Σy²) Short-Cut: Assumed Mean dx, dy ৩. স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ ও অর্থনৈতিক প্রয়োগ (Spearman's Rank Correlation) স্বতন্ত্র ক্রমের ক্ষেত্রে: R = 1 - [6·ΣD² / N(N²-1)] টাই বা সমমানের ক্ষেত্রে: R = 1 - 6·[ΣD² + Σ(m³-m)/12] / N(N²-1) যাচাই পরীক্ষা: ক্রম পার্থক্যের যোগফল সর্বদা শূন্য (ΣD ≡ 0) অর্থনৈতিক প্রয়োগ ও সতর্কতা: • গুণগত চলক (সৌন্দর্য, সততা, মেধা) বিশ্লেষণে স্পিয়ারম্যানের ক্রম পদ্ধতি আদর্শ • মূল্য ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্ক (ঋণাত্মক r) এবং আয় ও ভোগের সম্পর্ক (ধনাত্মক r) সতর্কতা: সহসম্বন্ধ কখনই কার্যকর কারণ নির্দেশ করে না (Correlation ≠ Causation) TargetExams Academic Series • WBCHSE Quantitative Statistics • Bivariate Data & Correlation Analysis

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. সহসম্বন্ধ হলো অর্থনৈতিক রাশিবিজ্ঞানের একটি দ্বিচলক পদ্ধতি, যা দুই বা ততোধিক চলকের পারস্পরিক সম্পর্কের দিক ও ঘনিষ্ঠতার মাত্রা পরিমাপ করে।
মূল বিষয় 2
২. সহসম্বন্ধের প্রকারভেদ: পরিবর্তনের দিক অনুসারে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক; পরিবর্তনের অনুপাত অনুসারে রৈখিক ও বক্ররৈখিক; চলকের সংখ্যা অনুসারে সরল, বহুচলকীয় ও আংশিক।
মূল বিষয় 3
৩. সহসম্বন্ধ কখনই কার্যকর কারণ নির্দেশ করে না। উচ্চ সহসম্বন্ধ প্রত্যক্ষ কারণ, দ্বিমুখী প্রভাব, সাধারণ তৃতীয় কারণ অথবা কাকতালীয় অবাস্তব সহসম্বন্ধের কারণেও হতে পারে।
মূল বিষয় 4
৪. বিক্ষোপ চিত্র হলো দ্বিচলক তথ্যের প্রাথমিক লেখচিত্ররূপ; এটি কোনো গাণিতিক মান না দিলেও সম্পর্কের দিক, ঘনিষ্ঠতা ও বক্রতা স্পষ্ট ফুটিয়ে তোলে।
মূল বিষয় 5
৫. কার্ল পিয়ার্সনের গুণ-পরিঘাত সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (r) হলো চলকদ্বয়ের সহ-ভেদাঙ্ক এবং তাদের পরিমিত ব্যবধানের গুণফলের অনুপাত: r = Cov(X, Y) / (σx · σy)।
মূল বিষয় 6
৬. পিয়ার্সনের r সর্বদা -১ থেকে +১ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে (-১ ≤ r ≤ +১)। +১ হলো সম্পূর্ণ ধনাত্মক, -১ সম্পূর্ণ ঋণাত্মক এবং ০ হলো রৈখিক সম্পর্কের অনুপস্থিতি।
মূল বিষয় 7
৭. পিয়ার্সনের r মূলবিন্দু ও স্কেল পরিবর্তন নিরপেক্ষ, তবে স্কেল গুণকের বিপরীত চিহ্নে r-এর বীজগাণিতিক চিহ্ন পরিবর্তিত হয়। এটি একটি বিশুদ্ধ এককহীন সংখ্যা।
মূল বিষয় 8
৮. স্পিয়ারম্যানের ক্রম সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক (R) গুণগত বৈশিষ্ট্য ও মেধা তালিকায় ব্যবহৃত হয়: R = 1 - [6ΣD² / N(N² - 1)]।
মূল বিষয় 9
৯. ক্রম গণনায় টাই থাকলে গড় ক্রম বরাদ্দ করা হয় এবং প্রতিটি সমমানের জন্য m(m² - 1)/12 সংশোধন পদ ΣD²-এর সাথে যুক্ত করতে হয়।
মূল বিষয় 10
১০. সম্ভাব্য ভুলের ভিত্তিতে তাৎপর্য যাচাই করা হয়: r > 6 × PE_r হলে সহসম্বন্ধটি নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে PE_r = 0.6745(1 - r²) / √N।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

সহসম্বন্ধ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।