Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Economics • অধ্যায় 9
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

বিস্তার পরিমাপ

বিস্তার পরিমাপ (Measures of Dispersion) হলো অর্থনৈতিক রাশিবিজ্ঞানের অন্যতম সর্বপ্রধান পরিমাণগত স্তম্ভ, যার মাধ্যমে কোনো রাশিমালার একটি কেন্দ্রীয় বা গড় মানের চারিপাশে অবস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিগত মানসমূহের বিস্তৃতি, ছড়ানোর মাত্রা বা বিষমতার মাত্রা বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিমাপ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির অর্থনীতি পাঠ্যক্রমের পরিমাণগত অর্থনীতি ও রাশিবিজ্ঞান অংশের অন্তর্ভুক্ত এই অধ্যায়টি কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপের (যৌগিক গড়, মধ্যমা ও সংখ্যাগুরু মান) সীমাবদ্ধতা দূর করে রাশিমালার অভ্যন্তরীণ গঠনকে পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করে। কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ কেবল একটি রাশিমালার মধ্যবর্তী অবস্থান বা কেন্দ্রবিন্দুকে নির্দেশ করে, কিন্তু সেই কেন্দ্রের চারিপাশে পর্যবেক্ষণগুলি কতটা নিবিড়ভাবে জমাটবদ্ধ হয়ে আছে নাকি দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে রয়েছে—সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, দুটি ভিন্ন কারখানার ৫ জন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি যদি যথাক্রমে (৫০, ৫০, ৫০, ৫০, ৫০) এবং (১০, ২০, ৫০, ৮০, ৯০) টাকা হয়, তবে উভয় কারখানারই গড় মজুরি ৫০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও প্রথম কারখানায় মজুরির কোনো বিস্তার বা বৈষম্য নেই, অথচ দ্বিতীয় কারখানায় চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অস্থিরতা বিদ্যমান। এই কারণে রাশিবিজ্ঞানে বিস্তারকে 'দ্বিতীয় ক্রমের গড়' (Averages of the second order) বলা হয়। এই পাঠ্যক্রমে মূল তথ্যের ভৌত এককে প্রকাশিত 'পরম বিস্তার' এবং এককহীন অনুপাত হিসেবে তুলনামূলক বিশ্লেষণের উপযোগী 'আপেক্ষিক বিস্তার বা বিস্তার গুণাঙ্ক' বিশদভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে। অধ্যায়টিতে অবস্থানগত পরিমাপ হিসেবে প্রসার (Range) ও চতুর্থক বিচ্যুতি (Quartile Deviation), বিচ্যুতির সাধারণ গড় হিসেবে গড় বিচ্যুতি (Mean Deviation), এবং ১৮৯৩ সালে কার্ল পিয়ার্সন কর্তৃক উদ্ভাবিত বিস্তার পরিমাপের সর্বোৎকৃষ্ট বিজ্ঞানসম্মত আদর্শ মাপ সমক বিচ্যুতি (Standard Deviation, σ) ও ভেদমান (Variance, σ²), ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের মাপক বিভেদাঙ্ক (CV), এবং জাতীয় আয় ও ধনসম্পদের বণ্টন বৈষম্য প্রদর্শনের জন্য লরেঞ্জ বক্ররেখা (Lorenz Curve) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ফলিত অর্থনীতি, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিল্পজাত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক বাজারের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বিস্তার পরিমাপ অর্থনৈতিক ঝুঁকি, স্থিতিশীলতা এবং বৈষম্যের প্রকৃতি নির্ণয়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কেবল মাথাপিছু আয়ের (গড় আয়) ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা যায় না; কারণ উচ্চ জাতীয় গড় আয়ের আড়ালেও দেশের বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনাহার ও প্রান্তিকতা লুকিয়ে থাকতে পারে যদি জাতীয় আয়ের বিস্তার অত্যন্ত অসম হয়। অর্থনীতিবিদরা বিস্তার পরিমাপ ও লরেঞ্জ রেখার সাহায্যে জিনি সহগ (Gini Coefficient) নির্ণয় করে জাতীয় আয় বৈষম্য নিরূপণ করেন এবং প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করেন। আর্থিক অর্থনীতিতে আধুনিক পোর্টফোলিও তত্ত্বে শেয়ার বাজারের ঝুঁকি ও মূল্যের অস্থিরতা (Volatility) পরিমাপের সার্বজনীন মাপকাঠি হলো সমক বিচ্যুতি (σ): অধিক সমক বিচ্যুতি মানে অধিক ঝুঁকি। একইভাবে শিল্প কারখানায় পণ্যের আদর্শ মান বজায় রাখতে এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণে (Statistical Quality Control) বিস্তারের পরিমাপ অপরিহার্য। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিস্তারের গাণিতিক সূত্র, বৈশিষ্ট্য এবং অর্থনৈতিক প্রয়োগের দক্ষতা অর্জন পরবর্তী স্তরে সহসম্বন্ধ, নির্ভরণ (Regression) এবং অর্থমিতীয় বিশ্লেষণের মৌলিক ভিত তৈরি করে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 বিস্তারের তাত্ত্বিক ভিত্তি, অর্থ ও...
2 অবস্থানগত পরিমাপ: প্রসার (Range) ও...
3 গড় বিচ্যুতি (Mean Deviation) ও মধ্...
4 কার্ল পিয়ার্সনের সমক বিচ্যুতি (Sta...
5 সমক বিচ্যুতির গাণিতিক বৈশিষ্ট্য ও স...
6 বিভেদাঙ্ক (CV), লরেঞ্জ বক্ররেখা ও অ...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

বিস্তারের তাত্ত্বিক ভিত্তি, অর্থ ও পরিমাপের উদ্দেশ্য

১. কেন্দ্রীয় প্রবণতার সীমাবদ্ধতা ও বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপসমূহ (যৌগিক গড়, মধ্যমা, সংখ্যাগুরু মান) একটি রাশিমালার সামগ্রিক চরিত্রকে একটিমাত্র প্রতিনিধিত্বমূলক সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করে। কিন্তু শুধুমাত্র গড়ের সাহায্যে কোনো রাশিমালার সম্পূর্ণ রূপ বোঝা অসম্ভব। গড় মান কেবল কেন্দ্রটির অবস্থান নির্দেশ করে, তথ্যের ছড়ানোর মাত্রা জানায় না।

একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। ধরা যাক তিনটি ভিন্ন কারখানায় ৫ জন করে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি (টাকায়) নিম্নরূপ:

  • ক কারখানা: ৫০, ৫০, ৫০, ৫০, ৫০ $\implies \text{গড় } (\bar{X}) = ₹৫০$
  • খ কারখানা: ৪৫, ৪৮, ৫০, ৫২, ৫৫ $\implies \text{গড় } (\bar{X}) = ₹৫০$
  • গ কারখানা: ১০, ২০, ৫০, ৮০, ৯০ $\implies \text{গড় } (\bar{X}) = ₹৫০$

উভয় কারখানার গড় মজুরি হুবহু সমান (₹৫০)। কিন্তু 'ক' কারখানায় মজুরির কোনো তারতম্য নেই (পরিপূর্ণ সমসত্ত্বতা); 'খ' কারখানায় সামান্য ব্যবধান রয়েছে (উচ্চ স্থিতিশীলতা); আর 'গ' কারখানায় চরম ব্যবধান ও বৈষম্য বিদ্যমান। তথ্যের এই তারতম্য বা ছড়ানোর মাত্রাকেই রাশিবিজ্ঞানে বিস্তার বা অপকিরণ (Dispersion) বলা হয়।

২. প্রখ্যাত রাশিবিজ্ঞানীদের প্রদত্ত সংজ্ঞা
  • আর্থার এল. বোলি (A. L. Bowley): "বিস্তার হলো রাশিমালার অন্তর্গত পদসমূহের পরিবর্তনের পরিমাপ।"
  • ব্রুকস ও ডিক (Brooks & Dick): "একটি কেন্দ্রীয় মানের চারিপাশে চলকের মানসমূহের ছড়িয়ে পড়ার বা পরিবর্তনের মাত্রাই হলো বিস্তার।"
  • সিম্পসন ও কাফকা (Simpson & Kafka): "একটি গড়ের চারিপাশে রাশি তথ্যের পুঞ্জের বিক্ষিপ্ততার পরিমাপকে বিস্তার পরিমাপ বলা হয়।"

যেহেতু কেন্দ্রীয় প্রবণতা হলো মূল তথ্যের প্রত্যক্ষ গড় (প্রথম ক্রমের গড়), তাই বিস্তারের পরিমাপকে—যা গড় থেকে দূরত্বের গড় বোঝায়—রাশিবিজ্ঞানে দ্বিতীয় ক্রমের গড় (Averages of the second order) বলা হয়।

৩. বিস্তার পরিমাপের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ
  1. গড় মানের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই: যদি বিস্তার কম হয়, তবে গড় মানটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল। বিস্তার খুব বেশি হলে গড় মানটি অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর হয়।
  2. স্থায়িত্ব বা সমসত্ত্বতার তুলনা: দুই বা ততোধিক রাশিমালার মধ্যে কোনটি বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ, সুসংগত বা ধারাবাহিক তা তুলনা করা (যেমন দুই ক্রিকেটারের স্কোরের ধারাবাহিকতা বা দুটি উৎপাদন ইউনিটের মান তুলনা)।
  3. উৎপাদন ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনশীলতা নিয়ন্ত্রণ: শিল্প কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের নিখুঁত মান বজায় রাখতে বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা।
  4. উচ্চতর পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের ভিত্তি: সহসম্বন্ধ, নির্ভরণ, নমুনা তত্ত্ব এবং অর্থনৈতিক সূচক সংখ্যা গণনায় বিস্তার হলো প্রধান উপাদান।
৪. পরম বিস্তার বনাম আপেক্ষিক বিস্তার (বিস্তার গুণাঙ্ক)
তুলনার ভিত্তি পরম বিস্তার (Absolute Dispersion) আপেক্ষিক বিস্তার বা বিস্তার গুণাঙ্ক (Relative Dispersion)
সংজ্ঞা যে পরিমাপ মূল তথ্যের পরিমাপের ভৌত এককে প্রকাশিত বিচ্যুতির বাস্তব মান তুলে ধরে। কেন্দ্রীয় গড়ের সাপেক্ষে বিচ্যুতির মানকে খাঁটি এককহীন অনুপাত বা শতকরা হারে প্রকাশ করে।
পরিমাপের একক মূল তথ্যের এককে ব্যক্ত হয়: টাকা, কিলোগ্রাম, মিটার, কুইন্টাল। বিশুদ্ধ এককহীন সংখ্যা বা শতকরা মান (যেমন ০.২৫ বা ২৫%)।
তুলনার উপযোগিতা ভিন্ন এককযুক্ত (যেমন উচ্চতা বনাম ওজন) বা ব্যাপকভাবে ভিন্ন গড়যুক্ত দুটি রাশিমালার মধ্যে তুলনা করতে পারে না। যেকোনো ভিন্ন এককযুক্ত বা ভিন্ন স্কেলের রাশিমালার তুলনামূলক বিশ্লেষণে আদর্শ।
প্রধান পরিমাপসমূহ প্রসার, চতুর্থক বিচ্যুতি, গড় বিচ্যুতি, সমক বিচ্যুতি। প্রসার গুণাঙ্ক, চতুর্থক বিচ্যুতি গুণাঙ্ক, গড় বিচ্যুতি গুণাঙ্ক, বিভেদাঙ্ক (CV)।
৫. ইউল-এর মতে আদর্শ বিস্তার পরিমাপের বৈশিষ্ট্যসমূহ

রাশিবিজ্ঞানী জি. উদনি ইউল (G. Udny Yule)-এর মতে একটি আদর্শ বিস্তার পরিমাপের ছয়টি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক:

  1. এটি একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্রের দ্বারা দৃঢ়ভাবে সংজ্ঞায়িত হতে হবে।
  2. এটি রাশিমালার সকল পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হতে হবে।
  3. এটি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে বোধগম্য হতে হবে।
  4. এর গণনা পদ্ধতি সহজ ও সরল হতে হবে।
  5. এটি আরও উচ্চতর বীজগণিতীয় প্রয়োগের উপযোগী হতে হবে (যেমন যৌথ সমক বিচ্যুতি নির্ণয়)।
  6. এটি নমুনার ওঠানামা দ্বারা সবচেয়ে কম প্রভাবিত হতে হবে (নমুনাগত স্থায়িত্ব)।

অবস্থানগত পরিমাপ: প্রসার (Range) ও চতুর্থক বিচ্যুতি (QD)

১. প্রসার (Range): সংজ্ঞা ও গাণিতিক রূপ

বিস্তারের সবচেয়ে সহজ ও প্রাথমিক পরিমাপ হলো প্রসার (Range)। কোনো রাশিমালার সর্বোচ্চ মান এবং সর্বনিম্ন মানের পরম পার্থক্যকেই প্রসার বলা হয়।

$$\text{পরম প্রসার (Range)} = L - S$$ $$\text{প্রসার গুণাঙ্ক (Coefficient of Range)} = \frac{L - S}{L + S}$$

যেখানে $L$ হলো সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ (Largest value) এবং $S$ হলো সর্বনিম্ন পর্যবেক্ষণ (Smallest value)।

  • অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিবদ্ধ রাশিমালার ক্ষেত্রে: সর্বোচ্চ শ্রেণির ঊর্ধ্বসীমা থেকে সর্বনিম্ন শ্রেণির নিম্নসীমা বিয়োগ করে প্রসার নির্ণয় করা হয় (অথবা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শ্রেণির মধ্যবিন্দুর পার্থক্য দ্বারা)।

মূল্যায়ন:

  • সুবিধা: গণনা করা ও বোঝা অত্যন্ত সহজ; আবহাওয়ার দৈনিক তাপমাত্রা প্রকাশে (সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন) এবং কারখানায় মান নিয়ন্ত্রণ চার্টে বহুল ব্যবহৃত।
  • সীমাবদ্ধতা: চরম বিষম মান (Outliers) দ্বারা চরমভাবে প্রভাবিত; রাশিমালার অভ্যন্তরীণ ৯৮% তথ্য সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে; মুক্ত-প্রান্তযুক্ত (Open-ended) শ্রেণিতে প্রসার নির্ণয় করা অসম্ভব।
২. চতুর্থক বিচ্যুতি বা অর্ধ-আন্তঃচতুর্থক বিস্তার (Quartile Deviation)

প্রসার চরম মানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই ত্রুটি দূর করতে চতুর্থক (Quartiles) ভিত্তিক বিস্তার পরিমাপ করা হয়। চতুর্থক রাশিমালার তথ্যকে চারটি সমান ভাগে বিভক্ত করে: $Q_1$ (প্রথম বা নিম্ন চতুর্থক, ২৫তম শতক), $Q_2$ (মধ্যমা, ৫০তম শতক), এবং $Q_3$ (তৃতীয় বা উচ্চ চতুর্থক, ৭৫তম শতক)।

$$\text{আন্তঃচতুর্থক বিস্তার (Interquartile Range - IQR)} = Q_3 - Q_1$$ $$\text{চতুর্থক বিচ্যুতি (Quartile Deviation - QD)} = \frac{Q_3 - Q_1}{2}$$ $$\text{চতুর্থক বিচ্যুতি গুণাঙ্ক (Coefficient of QD)} = \frac{Q_3 - Q_1}{Q_3 + Q_1}$$

রাশিমালার মধ্যবর্তী ৫০% তথ্যের বিস্তারকে আন্তঃচতুর্থক বিস্তার বলা হয়, এবং তার অর্ধেককে চতুর্থক বিচ্যুতি (QD) বা অর্ধ-আন্তঃচতুর্থক বিস্তার বলা হয়।

৩. অবিচ্ছিন্ন রাশিমালার ক্ষেত্রে চতুর্থক নির্ণয়ের ধাপ
  1. প্রথমে ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যা ($c.f.$) সারণি তৈরি করতে হবে।
  2. নিম্ন চতুর্থক শ্রেণির অবস্থান $\frac{N}{4}$ এবং উচ্চ চতুর্থক শ্রেণির অবস্থান $\frac{3N}{4}$ দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।
  3. নিম্নোক্ত অন্তঃপ্রক্ষেপণ সূত্রদ্বয় প্রয়োগ করতে হবে: $$Q_1 = L_1 + \frac{\frac{N}{4} - c.f.}{f_1} \times i_1$$ $$Q_3 = L_3 + \frac{\frac{3N}{4} - c.f.}{f_3} \times i_3$$ যেখানে $L$ হলো চতুর্থক শ্রেণির নিম্নসীমা, $c.f.$ হলো পূর্ববর্তী শ্রেণির ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যা, $f$ হলো সেই শ্রেণির সাধারণ পরিসংখ্যা, এবং $i$ হলো শ্রেণি ব্যবধান।
৪. চতুর্থক বিচ্যুতির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
  • সুবিধাসমূহ:
    • এটি চরম মান দ্বারা একেবারেই প্রভাবিত হয় না, কারণ এটি প্রান্তীয় ২৫% নিম্ন এবং ২৫% উচ্চ মান বর্জন করে কেবল মধ্যবর্তী ৫০% তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
    • মুক্ত-প্রান্ত শ্রেণিযুক্ত (Open-ended classes) বিন্যাসের ক্ষেত্রে এটি নিখুঁতভাবে গণনা করা যায়, কারণ $Q_1$ ও $Q_3$ মধ্যবর্তী অংশে অবস্থান করে।
  • সীমাবদ্ধতাসমূহ:
    • রাশিমালার মোট ৫০% মান (প্রথম এক-চতুর্থাংশ ও শেষ এক-চতুর্থাংশ) সম্পূর্ণ বর্জন করে।
    • এটি বীজগণিতীয় প্রক্রিয়ার উপযোগী নয়; একাধিক দলের যৌথ চতুর্থক বিচ্যুতি নির্ণয় করা যায় না।

গড় বিচ্যুতি (Mean Deviation) ও মধ্যমা ভিত্তিক ন্যূনতম মান বৈশিষ্ট্য

১. তাত্ত্বিক ধারণা ও সংজ্ঞা

গড় বিচ্যুতি (Mean Deviation বা Average Deviation) হলো কোনো রাশিমালার একটি নির্দিষ্ট গড় (যৌগিক গড়, মধ্যমা বা সংখ্যাগুরু মান) থেকে পদগুলির বিচ্যুতির পরম মানের (চিহ্ন বর্জন করে) সমান্তরীয় গড়।

বীজগণিতের নিয়মে সমান্তরীয় গড় থেকে বিচ্যুতির যোগফল সর্বদা শূন্য হয়: $\sum (X - \bar{X}) = 0$। ফলে চিহ্নের বিবেচনা বজায় রাখলে গড় বিস্তার মাপা যায় না। এই কারণে গড় বিচ্যুতির ক্ষেত্রে চিহ্নের ধনাত্মক বা ঋণাত্মক রূপ সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কেবল পরম বিচ্যুতি $|d|$ গ্রহণ করা হয়।

২. বিভিন্ন রাশিমালার গাণিতিক সূত্রাবলী
রাশিমালার ধরন যৌগিক গড় থেকে গড় বিচ্যুতি ($MD_{\bar{X}}$) মধ্যমা থেকে গড় বিচ্যুতি ($MD_M$)
সরল / ব্যক্তিগত শ্রেণি $$MD_{\bar{X}} = \frac{\sum |X - \bar{X}|}{N}$$ $$MD_M = \frac{\sum |X - M|}{N}$$
অবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন শ্রেণি $$MD_{\bar{X}} = \frac{\sum f |X - \bar{X}|}{N}$$
(অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিতে $X$ হলো মধ্যবিন্দু)
$$MD_M = \frac{\sum f |X - M|}{N}$$
৩. গড় বিচ্যুতি গুণাঙ্ক (Coefficient of Mean Deviation)

আপেক্ষিক তুলনা করার জন্য গড় বিচ্যুতিকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় গড় দিয়ে ভাগ করা হয়:

$$\text{গড় থেকে বিচ্যুতি গুণাঙ্ক} = \frac{MD_{\bar{X}}}{\bar{X}} \qquad \text{এবং} \qquad \text{মধ্যমা থেকে বিচ্যুতি গুণাঙ্ক} = \frac{MD_M}{M}$$
৪. মধ্যমা ভিত্তিক গড় বিচ্যুতির ন্যূনতম মান সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপপাদ্য:
কোনো রাশিমালার পদগুলি থেকে বিচ্যুতির পরম মানের সমষ্টি তখনই সর্বনিম্ন বা ক্ষুদ্রতম হয়, যখন বিচ্যুতিগুলি মধ্যমা (Median) থেকে পরিমাপ করা হয়: $$\sum |X - M| < \sum |X - A| \quad (A \neq M)$$ ফলে মধ্যমা সাপেক্ষে নির্ণীত গড় বিচ্যুতি সর্বদা যৌগিক গড় সাপেক্ষে নির্ণীত বিচ্যুতির চেয়ে কম বা সমান হয় ($MD_M \le MD_{\bar{X}}$)। তাই তাত্ত্বিক দিক থেকে গড় বিচ্যুতি সর্বদা মধ্যমা থেকেই নির্ণয় করা সর্বোত্তম।
৫. গড় বিচ্যুতির সুবিধা ও ত্রুটি
  • সুবিধাসমূহ: রাশিমালার প্রতিটি মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; সহজে বোধগম্য; সমক বিচ্যুতির তুলনায় চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত হয়।
  • সীমাবদ্ধতাসমূহ: সবচেয়ে বড় গাণিতিক ত্রুটি হলো কৃত্রিমভাবে বীজগণিতীয় চিহ্ন (+ ও -) বর্জন করা। ফলে এটি উচ্চতর বীজগণিতীয় গণনার অনুপযুক্ত।

কার্ল পিয়ার্সনের সমক বিচ্যুতি (Standard Deviation, σ) ও ভেদমান (σ²)

১. সমক বিচ্যুতির উৎপত্তি ও বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা

১৮৯৩ সালে প্রখ্যাত ব্রিটিশ রাশিবিজ্ঞানী কার্ল পিয়ার্সন গড় বিচ্যুতির গাণিতিক ত্রুটি (চিহ্ন বর্জন) দূর করার জন্য বিস্তার পরিমাপের যে সর্বোৎকৃষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, তাকে সম্যক বা সমক বিচ্যুতি (Standard Deviation) বলা হয়। একে গ্রিক ছোট হাতের অক্ষর সিগমা ($\sigma$) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

সংজ্ঞা: কোনো রাশিমালার অন্তর্ভুক্ত পদগুলির তাদের যৌগিক গড় থেকে গৃহীত বিচ্যুতির বর্গের সমান্তরীয় গড়ের ধনাত্মক বর্গমূলকে সমক বিচ্যুতি বলে।

$$\sigma = \sqrt{\frac{\sum (X - \bar{X})^2}{N}} = \sqrt{\frac{\sum x^2}{N}}$$

বিচ্যুতির বর্গের গড়ের বর্গমূল হওয়ায় একে ঐতিহাসিকভাবে Root-Mean-Square Deviation বলা হয়।

সমক বিচ্যুতির বর্গকে বলা হয় ভেদমান বা ভেদক (Variance):

$$\text{ভেদমান (Variance)} = \sigma^2 = \frac{\sum (X - \bar{X})^2}{N}$$
২. উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সমাধান পদ্ধতিসমূহ
পদ্ধতির নাম প্রয়োগের ক্ষেত্র সমক বিচ্যুতির সূত্র
প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct Method) যখন প্রকৃত যৌগিক গড় $\bar{X}$ নিখুঁত পূর্ণসংখ্যা হয়। $$\sigma = \sqrt{\frac{\sum f(X - \bar{X})^2}{N}} = \sqrt{\frac{\sum f x^2}{N}}$$
কল্পিত গড় বা পরোক্ষ পদ্ধতি (Short-cut Method) যখন প্রকৃত গড় ভগ্নাংশ হয়; দশমিকের জটিল বর্গ এড়াতে কল্পিত গড় $A$ ধরা হয়। $$\sigma = \sqrt{\frac{\sum f d^2}{N} - \left(\frac{\sum f d}{N}\right)^2} \quad (d = X - A)$$
ধাপ-বিচ্যুতি পদ্ধতি (Step-Deviation Method) অবিচ্ছিন্ন রাশিমালার সমান শ্রেণি ব্যবধান $c$ থাকলে পদগুলিকে ছোট করার জন্য। $$\sigma = c \times \sqrt{\frac{\sum f d'^2}{N} - \left(\frac{\sum f d'}{N}\right)^2} \quad \left(d' = \frac{X - A}{c}\right)$$
৩. কল্পিত গড় পদ্ধতির সাধারণ ভুল সংক্রান্ত সতর্কতা
পরীক্ষার অত্যন্ত সাধারণ বিভ্রান্তি:
সূত্রে $\frac{\sum f d^2}{N}$ এবং $\left(\frac{\sum f d}{N}\right)^2$ পদ দুটির পার্থক্য সতর্কতার সঙ্গে মনে রাখবে:
  • প্রথম পদ $\frac{\sum f d^2}{N}$-এ প্রতিটি বিচ্যুতির বর্গ করে $f$ দিয়ে গুণ করে যোগ করা হয়।
  • দ্বিতীয় পদ $\left(\frac{\sum f d}{N}\right)^2$-এ বিচ্যুতি ও পরিসংখ্যার গুণফলের মোট সমষ্টিকে $N$ দিয়ে ভাগ করে শেষে বর্গ করা হয়।
  • বিয়োগফলের কারণে প্রথম পদটি সর্বদা দ্বিতীয় পদের সমান বা বড় হয়। বর্গমূলের ভেতরে ঋণাত্মক সংখ্যা এলে গণনায় ভুল নিশ্চিত।

সমক বিচ্যুতির গাণিতিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক বণ্টনের নিয়মাবলী

১. সমক বিচ্যুতির মৌলিক গাণিতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

সমক বিচ্যুতির অনন্য গাণিতিক বৈশিষ্ট্যাবলী উচ্চতর রাশিবিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এটিকে শীর্ষস্থান দিয়েছে:

বৈশিষ্ট্য ১: বিচ্যুতির বর্গের সমষ্টির ন্যূনতম মান

কোনো রাশিমালার পদগুলি থেকে বিচ্যুতির বর্গের সমষ্টি তখনই ন্যূনতম হয় যখন বিচ্যুতিগুলি যৌগিক গড় থেকে নেওয়া হয়:

$$\sum (X - \bar{X})^2 < \sum (X - A)^2 \quad (A \neq \bar{X})$$
বৈশিষ্ট্য ২: মূলবিন্দু পরিবর্তন নিরপেক্ষ (Invariance to Origin)

রাশিমালার প্রতিটি পদের সাথে কোনো ধ্রুবক সংখ্যা যোগ বা বিয়োগ করলে সমক বিচ্যুতি বা ভেদমানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না:

$$\sigma(X \pm a) = \sigma(X)$$
বৈশিষ্ট্য ৩: মাপনী পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল (Dependence on Scale)

প্রতিটি পদকে কোনো ধ্রুবক $c$ দ্বারা গুণ বা ভাগ করলে সমক বিচ্যুতিও সেই সংখ্যার পরম মান দ্বারা গুণিত বা ভাগিত হয়:

$$\sigma(c \cdot X) = |c| \cdot \sigma(X)$$
বৈশিষ্ট্য ৪: যৌথ সমক বিচ্যুতি (Combined Standard Deviation)

যদি দুটি দলের আকার যথাক্রমে $N_1, N_2$, গড় $\bar{X}_1, \bar{X}_2$ এবং সমক বিচ্যুতি $\sigma_1, \sigma_2$ হয়, তবে সংযুক্ত দলের সমক বিচ্যুতি $\sigma_{12}$ হবে:

$$\sigma_{12} = \sqrt{\frac{N_1(\sigma_1^2 + d_1^2) + N_2(\sigma_2^2 + d_2^2)}{N_1 + N_2}}$$

যেখানে যৌথ গড় $\bar{X}_{12} = \frac{N_1\bar{X}_1 + N_2\bar{X}_2}{N_1 + N_2}$, এবং $d_1 = \bar{X}_1 - \bar{X}_{12}, d_2 = \bar{X}_2 - \bar{X}_{12}$।

২. স্বাভাবিক বা পরিমিত বণ্টনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতালব্ধ নিয়মসমূহ

একটি প্রতিসম স্বাভাবিক বণ্টনের ক্ষেত্রে বিস্তার পরিমাপগুলির মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক সম্পর্ক বিরাজ করে:

$$QD = \frac{2}{3} \sigma = ০.৬৭৪৫ \sigma \qquad \text{এবং} \qquad MD = \frac{4}{5} \sigma = ০.৭৯৭৯ \sigma$$ $$৬ \cdot QD \approx ৫ \cdot MD \approx ৪ \cdot \sigma$$ $$\text{অনুপাত: } QD : MD : \sigma = ১০ : ১২ : ১৫$$

স্বাভাবিক বণ্টনে ক্ষেত্রফলের বিস্তৃতি:

  • $\bar{X} \pm ১\sigma$ সীমার মধ্যে মোট তথ্যের প্রায় ৬৮.২৭% অবস্থান করে।
  • $\bar{X} \pm ২\sigma$ সীমার মধ্যে মোট তথ্যের প্রায় ৯৫.৪৫% অবস্থান করে।
  • $\bar{X} \pm ৩\sigma$ সীমার মধ্যে মোট তথ্যের প্রায় ৯৯.৭৩% অবস্থান করে (কার্যত সমগ্র রাশিমালার তথ্য)।
  • $\bar{X} \pm ১ QD$ সীমার মধ্যে রাশিমালার ঠিক ৫০.০০% তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।

বিভেদাঙ্ক (CV), লরেঞ্জ বক্ররেখা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য পরিমাপ

১. কার্ল পিয়ার্সনের বিভেদাঙ্ক বা ব্যবধানাঙ্ক (Coefficient of Variation - CV)

ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপের এককযুক্ত অথবা ব্যাপকভাবে অসদৃশ গড়যুক্ত দুই বা ততোধিক রাশিমালার মধ্যে তথ্যের তারতম্য, ধারাবাহিকতা বা স্থায়িত্বের তুলনা করতে সমক বিচ্যুতির শতকরা আপেক্ষিক পরিমাপ বিভেদাঙ্ক (CV) ব্যবহার করা হয়:

$$CV = \frac{\sigma}{\bar{X}} \times ১০০ \%$$
২. ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়ম
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধানের সিদ্ধান্ত কাঠামো:
  • CV বেশি হলে: চলকের মানগুলিতে অধিক পরিবর্তনশীলতা, কম স্থায়িত্ব, কম ধারাবাহিকতা বা কম সমসত্ত্বতা নির্দেশ করে।
  • CV কম হলে: চলকের মানগুলিতে কম পরিবর্তনশীলতা, অধিক স্থায়িত্ব, অধিক ধারাবাহিকতা বা অধিক সমসত্ত্বতা নির্দেশ করে।
  • পরীক্ষার প্রয়োগ: প্রশ্নে যদি জানতে চাওয়া হয়: "কোন খেলোয়াড় বেশি ধারাবাহিক?" বা "কোন কারখানায় মজুরির বণ্টন বেশি সুষম?"—তবে উভয়ের CV বের করতে হবে। যেটির CV কম, সেটিই অধিক ধারাবাহিক বা সুষম!
৩. লেখচিত্র পদ্ধতি: লরেঞ্জ বক্ররেখা (Lorenz Curve)

১৯০৫ সালে মার্কিন অর্থনৈতিক রাশিবিজ্ঞানী ম্যাক্স ও. লরেঞ্জ জাতীয় আয়, সম্পদ বা মুনাফার বণ্টন বৈষম্য পরিমাপ ও প্রদর্শনের জন্য যে সঞ্চয়ী শতকরা লেখচিত্র পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, তাকে লরেঞ্জ বক্ররেখা বলা হয়।

অঙ্কন পদ্ধতি:

  1. পরিসংখ্যা (ব্যক্তির সংখ্যা) এবং চলকের মানকে (মোট আয়) ক্রমযৌগিক শতকরা হারে (০% থেকে ১০০%) রূপান্তরিত করা হয়।
  2. অনুভূমিক অক্ষে ($X$-অক্ষ) ক্রমযৌগিক জনসংখ্যার শতকরা হার (০-১০০%) এবং উল্লম্ব অক্ষে ($Y$-অক্ষ) ক্রমযৌগিক আয়ের শতকরা হার (০-১০০%) স্থাপন করা হয়।
  3. $(০, ০)$ বিন্দু থেকে $(১০০, ১০০)$ বিন্দু পর্যন্ত একটি ৪৫° কোণের তির্যক সরলরেখা টানা হয়। একে পরম সমতা রেখা (Line of Equal Distribution) বলা হয়। এই রেখায় মোট জনসংখ্যার ২০% লোক মোট আয়ের ২০% পায়, ৫০% লোক ৫০% পায়।
  4. প্রদত্ত তথ্যের ক্রমযৌগিক শতকরা স্থানাঙ্কগুলি স্থাপন করে একটি মসৃণ বক্ররেখা অঙ্কন করা হয়। এটিই লরেঞ্জ বক্ররেখা।
৪. অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা ও জিনি সহগ (Gini Coefficient)
  • বাস্তব অর্থনীতিতে আয় বণ্টনে বৈষম্য থাকার কারণে লরেঞ্জ বক্ররেখাটি সর্বদা ৪৫° সমতা রেখার নিচে অবস্থান করে ধনুকের মতো বেঁকে থাকে।
  • দূরত্বের নীতি: লরেঞ্জ বক্ররেখা ৪৫° সমতা রেখা থেকে যত দূরে সরে যাবে, সমাজে আয় ও ধনসম্পদের বৈষম্য তত বৃদ্ধি পাবে। রেখাটি সমতা রেখার যত কাছে থাকবে, সমাজ তত বেশি সমতাভিত্তিক হবে।
  • জিনি সহগ (Gini Coefficient): সমতা রেখা ও লরেঞ্জ রেখার মধ্যবর্তী ক্ষেত্রফল এবং সমতা রেখার নিচের মোট ক্ষেত্রফলের অনুপাতকে জিনি সহগ বলে। জিনি সহগের মান ০ হলে পূর্ণ সমতা এবং ১ হলে চরম বৈষম্য বোঝায়।

গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূত্র ও বাণিজ্যিক নীতিমালা

প্রসার ও চতুর্থক বিচ্যুতির সূত্রাবলী
গড় বিচ্যুতি ও সমক বিচ্যুতির সূত্রাবলী
বিভেদাঙ্ক ও যৌথ সমক বিচ্যুতি

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অংশ (ক): ব্যক্তিগত শ্রেণি
মানগুলিকে সাজালে পাই: ১১০, ১২০, ১৫০, ১৭০, ১৮০, ২০০, ২৫০।
সর্বোচ্চ মান ($L$) = ₹২৫০, সর্বনিম্ন মান ($S$) = ₹১১০।
$$\text{পরম প্রসার (Range)} = L - S = ২৫০ - ১১০ = ₹১৪০$$ $$\text{প্রসার গুণাঙ্ক} = \frac{L - S}{L + S} = \frac{২৫০ - ১১০}{২৫০ + ১১০} = \frac{১৪০}{৩৬০} = ০.৩৮৮৯ \approx ০.৩৯$$
অংশ (খ): অবিচ্ছিন্ন শ্রেণি
সর্বোচ্চ শ্রেণির ঊর্ধ্বসীমা ($L$) = ৬০।
সর্বনিম্ন শ্রেণির নিম্নসীমা ($S$) = ১০।
$$\text{পরম প্রসার} = L - S = ৬০ - ১০ = ৫০ \text{ নম্বর}$$ $$\text{প্রসার গুণাঙ্ক} = \frac{L - S}{L + S} = \frac{৬০ - ১০}{৬০ + ১০} = \frac{৫০}{৭০} = ০.৭১৪৩ \approx ০.৭১$$
উদাহরণ 2
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যা সারণি
মজুরি (₹) পরিসংখ্যা ($f$) ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যা ($c.f.$)
৩০-৪০৬৬
৪০-৫০১০১৬
৫০-৬০১৮৩৪
৬০-৭০১০৪৪
৭০-৮০৬৫০
মোট $N = ৫০$ -
ধাপ ২: প্রথম চতুর্থক ($Q_1$) নির্ণয়
$$\frac{N}{4} = \frac{৫০}{৪} = ১২.৫ \text{ তম পদ}$$ ১২.৫ পদটি ১৬ ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং $Q_1$ শ্রেণি হলো ৪০-৫০।
এখানে $L_1 = ৪০$, $c.f. = ৬$, $f_1 = ১০$, $i = ১০$। $$Q_1 = L_1 + \frac{\frac{N}{4} - c.f.}{f_1} \times i = ৪০ + \frac{১২.৫ - ৬}{১০} \times ১০ = ৪০ + ৬.৫ = ₹৪৬.৫০$$
ধাপ ৩: তৃতীয় চতুর্থক ($Q_3$) নির্ণয়
$$\frac{3N}{4} = \frac{৩(৫০)}{৪} = ৩৭.৫ \text{ তম পদ}$$ ৩৭.৫ পদটি ৪৪ ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যার মধ্যে রয়েছে, সুতরাং $Q_3$ শ্রেণি হলো ৬০-৭০।
এখানে $L_3 = ৬০$, $c.f. = ৩৪$, $f_3 = ১০$, $i = ১০$। $$Q_3 = L_3 + \frac{\frac{3N}{4} - c.f.}{f_3} \times i = ৬০ + \frac{৩৭.৫ - ৩৪}{১০} \times ১০ = ৬০ + ৩.৫ = ₹৬৩.৫০$$
ধাপ ৪: চতুর্থক বিচ্যুতি ও গুণাঙ্ক গণনা
$$\text{চতুর্থক বিচ্যুতি (QD)} = \frac{Q_3 - Q_1}{2} = \frac{৬৩.৫০ - ৪৬.৫০}{২} = \frac{১৭.০০}{২} = ₹৮.৫০$$ $$\text{চতুর্থক বিচ্যুতি গুণাঙ্ক} = \frac{Q_3 - Q_1}{Q_3 + Q_1} = \frac{৬৩.৫০ - ৪৬.৫০}{৬৩.৫০ + ৪৬.৫০} = \frac{১৭}{১১০} = ০.১৫৪৫ \approx ০.১৫৫$$
উদাহরণ 3
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: গড় ও মধ্যমা নির্ণয়
মোট পরিসংখ্যা $N = ১ + ৪ + ৬ + ৪ + ১ = ১৬$।
$$\sum fX = (২)(১) + (৪)(৪) + (৬)(৬) + (৮)(৪) + (১০)(১) = ২ + ১৬ + ৩৬ + ৩২ + ১০ = ৯৬$$ $$ar{X} = rac{\sum fX}{N} = rac{৯৬}{১৬} = ৬$$ মধ্যমার জন্য: $ rac{N}{2} = rac{১৬}{২} = ৮$ তম পদ। ক্রমযৌগিক পরিসংখ্যা ১, ৫, ১১, ১৫, ১৬। ৮তম পদটি ১১-এর মধ্যে পড়ে, যার সংশ্লিষ্ট $X = ৬$। সুতরাং $ ext{মধ্যমা } M = ৬$।
যেহেতু বিন্যাসটি সম্পূর্ণ প্রতিসম, তাই $ar{X} = M = ৬$।

ধাপ ২: বিচ্যুতি সারণি
$X$ $f$ $|X - ৬|$ $f|X - ৬|$
২১৪৪
৪৪২৮
৬৬০০
৮৪২৮
১০১৪৪
মোট $N = ১৬$ - $\sum f|X - ৬| = ২৪$
ধাপ ৩: গড় বিচ্যুতি ও গুণাঙ্ক $$MD_{ar{X}} = MD_M = rac{\sum f|X - ৬|}{N} = rac{২৪}{১৬} = ১.৫$$ $$ ext{গড় বিচ্যুতি গুণাঙ্ক} = rac{MD}{ar{X}} = rac{১.৫}{৬} = ০.২৫$$
উদাহরণ 4
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পদ্ধতি ১: প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (প্রকৃত গড় থেকে)
মোট পদসংখ্যা $N = ৫$।
$$\sum X = ৮ + ১২ + ১৩ + ১৫ + ২২ = ৭০ \implies ar{X} = rac{৭০}{৫} = ১৪$$ প্রকৃত গড় থেকে বিচ্যুতি $x = X - ১৪$:
  • $X = ৮: x = -৬ \implies x^2 = ৩৬$
  • $X = ১২: x = -২ \implies x^2 = ৪$
  • $X = ১৩: x = -১ \implies x^2 = ১$
  • $X = ১৫: x = +১ \implies x^2 = ১$
  • $X = ২২: x = +৮ \implies x^2 = ৬৪$
$$\sum x^2 = ৩৬ + ৪ + ১ + ১ + ৬৪ = ১০৬$$ $$\sigma = \sqrt{ rac{\sum x^2}{N}} = \sqrt{ rac{১০৬}{৫}} = \sqrt{২১.২} pprox ৪.৬০৪$$ $$ ext{ভেদমান } (\sigma^2) = ২১.২০$$
পদ্ধতি ২: কল্পিত গড় পদ্ধতি ($A = ১৩$ ধরে)
বিচ্যুতি $d = X - ১৩$:
  • $X = ৮: d = -৫ \implies d^2 = ২৫$
  • $X = ১২: d = -১ \implies d^2 = ১$
  • $X = ১৩: d = ০ \implies d^2 = ০$
  • $X = ১৫: d = +২ \implies d^2 = ৪$
  • $X = ২২: d = +৯ \implies d^2 = ৮১$
$$\sum d = -৫ - ১ + ০ + ২ + ৯ = +৫, \qquad \sum d^2 = ২৫ + ১ + ০ + ৪ + ৮১ = ১১১$$ কল্পিত গড়ের সূত্রে মান বসিয়ে: $$\sigma = \sqrt{ rac{\sum d^2}{N} - \left( rac{\sum d}{N} ight)^2} = \sqrt{ rac{১১১}{৫} - \left( rac{৫}{৫} ight)^2} = \sqrt{২২.২ - ১} = \sqrt{২১.২} pprox ৪.৬০৪$$ $$ ext{ভেদমান } (\sigma^2) = ২১.২০$$ উভয় পদ্ধতিতে একই ফলাফল আসায় গণনার নির্ভুলতা প্রমাণিত হলো।
উদাহরণ 5
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: মধ্যবিন্দু ও ধাপ-বিচ্যুতি সারণি
ধরি কল্পিত গড় $A = ২৫$ এবং শ্রেণি ব্যবধান $c = ১০$।
ধাপ-বিচ্যুতি $d' = rac{m - ২৫}{১০}$।

ধাপ ২: গণনা সারণি
শ্রেণি মধ্যবিন্দু ($m$) $f$ $d'$ $f d'$ $d'^2$ $f d'^2$
০-১০৫২-২-৪৪৮
১০-২০১৫৫-১-৫১৫
২০-৩০২৫৮০০০০
৩০-৪০৩৫৩+১+৩১৩
৪০-৫০৪৫২+২+৪৪৮
মোট - $N = ২০$ - $\sum f d' = -২$ - $\sum f d'^2 = ২৪$
ধাপ ৩: যৌগিক গড় ($ar{X}$) নির্ণয় $$ar{X} = A + \left( rac{\sum f d'}{N} ight) imes c = ২৫ + \left( rac{-২}{২০} ight) imes ১০ = ২৫ - ১.০ = ₹২৪.০০$$
ধাপ ৪: সমক বিচ্যুতি ($\sigma$) নির্ণয় $$\sigma = c imes \sqrt{ rac{\sum f d'^2}{N} - \left( rac{\sum f d'}{N} ight)^2} = ১০ imes \sqrt{ rac{২৪}{২০} - \left( rac{-২}{২০} ight)^2}$$ $$\sigma = ১০ imes \sqrt{১.২০ - (-০.১)^২} = ১০ imes \sqrt{১.২০ - ০.০১} = ১০ imes \sqrt{১.১৯} = ১০ imes ১.০৯০৮৭ = ₹১০.৯১$$
ধাপ ৫: বিভেদাঙ্ক ($CV$) নির্ণয় $$CV = rac{\sigma}{ar{X}} imes ১০০ = rac{১০.৯১}{২৪.০০} imes ১০০ = ৪৫.৪৬\%$$
উদাহরণ 6
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অংশ (ক): বিভেদাঙ্কের সাহায্যে ধারাবাহিকতা বিচার
ইউনিট ক-এর জন্য: $$CV_A = rac{\sigma_1}{ar{X}_1} imes ১০০ = rac{৯}{১৮৬} imes ১০০ = ৪.৮৩৯\%$$ ইউনিট খ-এর জন্য: $$CV_B = rac{\sigma_2}{ar{X}_2} imes ১০০ = rac{১০}{১৭৫} imes ১০০ = ৫.৭১৪\%$$ সিদ্ধান্ত: যেহেতু $CV_A < CV_B$ (৪.৮৪% < ৫.৭১%), অর্থাৎ ইউনিট ক-এর বিভেদাঙ্ক কম, সুতরাং ইউনিট ক-এর মজুরি কাঠামোতে অধিক ধারাবাহিকতা ও সুষম বণ্টন পরিলক্ষিত হয়।

অংশ (খ): যৌথ গড় ও যৌথ সমক বিচ্যুতি
১. যৌথ গড় ($ar{X}_{12}$): $$ar{X}_{12} = rac{N_1 ar{X}_1 + N_2 ar{X}_2}{N_1 + N_2} = rac{৫০০(১৮৬) + ৬০০(১৭৫)}{৫০০ + ৬০০} = rac{৯৩০০০ + ১০৫০০০}{১১০০} = rac{১৯৮০০০}{১১০০} = ₹১৮০.০০$$
২. যৌথ গড় থেকে বিচ্যুতি: $$d_1 = ar{X}_1 - ar{X}_{12} = ১৮৬ - ১৮০ = +৬ \implies d_1^2 = ৩৬$$ $$d_2 = ar{X}_2 - ar{X}_{12} = ১৭৫ - ১৮০ = -৫ \implies d_2^2 = ২৫$$
৩. যৌথ সমক বিচ্যুতি ($\sigma_{12}$): $$\sigma_{12} = \sqrt{ rac{N_1(\sigma_1^2 + d_1^2) + N_2(\sigma_2^2 + d_2^2)}{N_1 + N_2}}$$ $$\sigma_{12} = \sqrt{ rac{৫০০(৯^২ + ৩৬) + ৬০০(১০^২ + ২৫)}{১১০০}} = \sqrt{ rac{৫০০(৮১ + ৩৬) + ৬০০(১০০ + ২৫)}{১১০০}}$$ $$\sigma_{12} = \sqrt{ rac{৫০০(১১৭) + ৬০০(১২৫)}{১১০০}} = \sqrt{ rac{৫৮৫০০ + ৭৫০০০}{১১০০}} = \sqrt{ rac{১৩৩৫০০}{১১০০}} = \sqrt{১২১.৩৬৩৬} pprox ₹১১.০২$$ যৌথ গড় হলো ₹১৮০.০০ এবং যৌথ সমক বিচ্যুতি হলো ₹১১.০২।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

কল্পিত গড় সূত্রে (Σfd / N)² এবং Σfd² / N-কে একই মনে করে ভুল বিয়োগ করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

Σfd² / N হলো প্রতিটি d-এর বর্গ করে f দিয়ে গুণ করে গড় নেওয়া। কিন্তু (Σfd / N)² হলো গড় বিচ্যুতিকে শেষে বর্গ করা। প্রথম পদটি সর্বদা দ্বিতীয়টির চেয়ে বড় হবে।

সাধারণ ভুল ধারণা

বিভেদাঙ্ক (CV) বেশি হলে বেশি ধারাবাহিক বলে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

CV বেশি হওয়ার অর্থ হলো অধিক বিষমতা ও কম ধারাবাহিকতা। যে দল বা কারখানার CV কম, সেটিই সর্বদা অধিক ধারাবাহিক ও সুষম।

সাধারণ ভুল ধারণা

প্রতিটি মানের সাথে কোনো সংখ্যা যোগ করলে সমক বিচ্যুতিও বৃদ্ধি পায় মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সমক বিচ্যুতি মূলবিন্দু পরিবর্তন নিরপেক্ষ: σ(X ± a) = σ(X)। সংখ্যা যোগ বা বিয়োগ করলে সমক বিচ্যুতির কোনো পরিবর্তন হয় না।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

σ WBCHSE একাদশ শ্রেণি • পরিমাণগত অর্থনীতি: বিস্তার পরিমাপের সামগ্রিক রূপরেখা প্রসার, চতুর্থক বিচ্যুতি (QD), গড় বিচ্যুতি (MD), সমক বিচ্যুতি (σ), বিভেদাঙ্ক (CV) ও লরেঞ্জ রেখা ১. বিস্তারের ধারণা: সমান গড় অথচ ভিন্ন বিস্তার গড় x̄ = ৫০ শ্রেণি ক: নিম্ন বিস্তার (উচ্চ সমসত্ত্বতা) শ্রেণি খ: উচ্চ বিস্তার (অধিক বিষমতা) • কেন্দ্রীয় প্রবণতা কেবল কেন্দ্রের মান দেয়; তথ্যের বিস্তৃতি বা ছড়ানোর মাত্রা জানায় না। ২. সমক বিচ্যুতি (σ) ও স্বাভাবিক বণ্টন বিন্যাস Karl Pearson's Root-Mean-Square Deviation (σ): σ = √[Σ(X - x̄)² / N] = √[Σd²/N - (Σd/N)²] বিস্তার পরিমাপের অভিজ্ঞতালব্ধ সম্পর্ক: ৬ QD ≈ ৫ MD ≈ ৪ σ (চতুর্থক : গড় : সমক বিচ্যুতি = ১০ : ১২ : ১৫) Empirical Rule in Symmetrical Normal Distributions: স্বাভাবিক বণ্টনের বিস্তার: x̄ ± ১σ = ৬৮.২৭% | x̄ ± ২σ = ৯৫.৪৫% | x̄ ± ৩σ = ৯৯.৭৩% Independent of origin: σ(X ± a) = σ(X) | Scale dependent: σ(c·X) = |c|·σ(X) ৩. বিভেদাঙ্ক (CV) ও লরেঞ্জ বক্ররেখা (Lorenz Curve) বিভেদাঙ্ক (Coefficient of Variation): CV = (σ / x̄) × ১০০ % • CV বেশি ➔ অধিক পরিবর্তনশীল, কম স্থিতিশীল, কম নির্ভরযোগ্য • CV কম ➔ কম পরিবর্তনশীল, অধিক সমসত্ত্ব, অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ লরেঞ্জ বক্ররেখা (আয় বৈষম্য পরিমাপ): -- ৪৫° পরম সমতা রেখা (Line of Equality) __ লরেঞ্জ বক্ররেখা (বাস্তব আয় বণ্টন) বক্ররেখা যত দূরে বাঁকবে, বৈষম্য তত বেশি TargetExams Academic Series • WBCHSE Quantitative Statistics • Absolute & Relative Dispersion Analysis

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. বিস্তার পরিমাপ হলো কোনো রাশিমালার অন্তর্ভুক্ত পদগুলির তাদের কেন্দ্রীয় গড়ের চারিপাশে ছড়িয়ে পড়ার বা বিষমতার মাত্রা; একে 'দ্বিতীয় ক্রমের গড়' বলা হয়।
মূল বিষয় 2
২. কেন্দ্রীয় প্রবণতা কেবল রাশিমালার মধ্যবিন্দু দেখায়, কিন্তু তথ্যের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস বা সুষমতা প্রকাশ করতে পারে না। সমান গড়যুক্ত দুটি রাশিমালার বিস্তার সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
মূল বিষয় 3
৩. পরম বিস্তার মূল তথ্যের ভৌত এককে প্রকাশিত হয় (টাকা, কেজি), অন্যদিকে আপেক্ষিক বিস্তার বা বিস্তার গুণাঙ্ক খাঁটি এককহীন সংখ্যা হওয়ায় ভিন্ন রাশিমালার তুলনামূলক বিশ্লেষণে উপযোগী।
মূল বিষয় 4
৪. প্রসার হলো সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মানের পরম বিয়োগফল (L - S)। এটি অতি সহজ হলেও চরম বিষম মান দ্বারা মারাত্মকভাবে বিকৃত হয় এবং মুক্ত-প্রান্ত শ্রেণিতে অকার্যকর।
মূল বিষয় 5
৫. চতুর্থক বিচ্যুতি (QD = [Q3 - Q1] / 2) মধ্যবর্তী ৫০% তথ্যের বিস্তার নির্দেশ করে। এটি চরম মানের প্রভাবমুক্ত এবং মুক্ত-প্রান্ত শ্রেণিযুক্ত বণ্টনেও নির্ভুলভাবে গণনা করা যায়।
মূল বিষয় 6
৬. গড় বিচ্যুতি হলো কোনো গড় থেকে বিচ্যুতির পরম মানের সমান্তরীয় গড়। মধ্যমা থেকে বিচ্যুতি নিলে বিচ্যুতির পরম মানের সমষ্টি সর্বনিম্ন হয়: Σ|X - M| হলো ক্ষুদ্রতম।
মূল বিষয় 7
৭. সমক বিচ্যুতি (σ), যা ১৮৯৩ সালে কার্ল পিয়ার্সন উদ্ভাবন করেন, হলো যৌগিক গড় থেকে বিচ্যুতির বর্গের গড়ের ধনাত্মক বর্গমূল। এটি বিস্তার পরিমাপের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ মাপ।
মূল বিষয় 8
৮. সমক বিচ্যুতি মূলবিন্দু পরিবর্তন নিরপেক্ষ [σ(X ± a) = σ(X)], কিন্তু মাপনী পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল [σ(c · X) = |c| · σ(X)]।
মূল বিষয় 9
৯. কার্ল পিয়ার্সনের বিভেদাঙ্ক (CV = σ / X̄ × 100) ধারাবাহিকতা ও সমসত্ত্বতা মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়; যে রাশিমালার CV কম, সেটি অধিক ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য।
মূল বিষয় 10
১০. লরেঞ্জ বক্ররেখা হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রদর্শনের সঞ্চয়ী লেখচিত্র; ৪৫° পরম সমতা রেখা থেকে লরেঞ্জ বক্ররেখা যত দূরে ধনুকের মতো বেঁকে থাকবে, সমাজে আয় ও ধনসম্পদের বৈষম্য তত বেশি।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

বিস্তার পরিমাপ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।