Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Geography & Environment (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় 2
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" পাঠ্যক্রমের দ্বিতীয় অধ্যায় "ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়"। এই অধ্যায়ে গোলকাকার পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা, সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য ও পরিমাপ (নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি, সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত), মূলমধ্যরেখা ও দ্রাঘিমারেখার প্রকৃতি, অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পরস্পর ছেদনে গঠিত ভূ-জালক (Geographic Grid), দ্রাঘিমার পার্থক্যে স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময় (IST) গণনার গাণিতিক সূত্র, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর আঁকাবাঁকা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL), এবং আধুনিক উপগ্রহভিত্তিক গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS)-এর কার্যপদ্ধতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচিত হয়েছে।

অসীম সমুদ্রে যখন কোনো মাইলফলক বা দিকচিহ্ন থাকে না, তখন নাবিকেরা কীভাবে নিজেদের নিখুঁত অবস্থান খুঁজে পান?

একটি সমতল খেলার মাঠে বা শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপনি সহজেই বলতে পারেন—‘আমি অমুক মোড় থেকে ২০০ মিটার উত্তরে আছি’। কিন্তু অতল আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে যেখানে চারদিকে হাজার মাইল পর্যন্ত শুধুই জল আর মাথার ওপর খোলা আকাশ, সেখানে কোনো সাইনবোর্ড বা মাইলফলক থাকে না! আবার আধুনিক বিমানের পাইলট ঘন মেঘের ভেতর দিয়ে ওড়ার সময় কীভাবে বোঝেন তিনি ঠিক কলকাতার ওপরে আছেন নাকি ঢাকার ওপরে? এমনকি আপনি যখন স্মার্টফোনে ওলা-উবার বুক করেন, তখন চালক কীভাবে আপনার বাড়ির দরজায় নিখুঁতভাবে এসে পৌঁছায়? এই সবকিছুর পেছনে কাজ করছে মানুষের তৈরি এক জাদুকরী কাল্পনিক জ্যামিতিক জাল—‘ভূ-জালক’ বা Geographic Grid। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ কীভাবে পৃথিবীকে একটি নিখুঁত গাণিতিক ছকে বেঁধেছে এবং কীভাবে লন্ডনে বসে ভারতের সময় নিখুঁত হিসাব করা যায়—চলুন তা জেনে নিই!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

একটি গোলকের কোনো প্রান্ত বা কোণ থাকে না; তাই বিশাল পৃথিবীতে কোনো জাহাজ, বিমান, শহর বা একটি নির্দিষ্ট বাড়ির সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের জালক বোঝা অপরিহার্য। স্মার্টফোনে Google Maps বা সুইগি-জোম্যাটোর ডেলিভারি ট্র্যাক করা, বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক সময়সূচি নির্ধারণ, এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সরাসরি সম্প্রচারের সময় হিসাব করার বাস্তব ভিত্তি গড়ে তোলে এই অধ্যায়।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পৃথিবীর অভিগত গোলক (জিঅয়েড) আকৃতি এবং নিজ অক্ষে আবর্তন গতির প্রাথমিক জ্ঞান।
  • কোণ পরিমাপের মৌলিক ধারণা (ডিগ্রি °, মিনিট ′ এবং সেকেন্ড ″) এবং একটি পূর্ণবৃত্তের ৩৬০° কৌণিক পরিমাপ।
  • চারটি প্রধান দিক (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম) এবং পৃথিবীর গোলার্ধের সাধারণ পরিচিতি।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সংজ্ঞা, জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা।
  • পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ পরিমাপের নিয়ম এবং ১° দূরত্বের রৈখিক মান (প্রায় ১১১ কিমি) বিশ্লেষণ করা।
  • ভূ-জালকের (Geographic Grid) সাহায্যে যে কোনো স্থানের পরম অবস্থান (স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ) চিহ্নিত করা।
  • আবর্তন গতির ভিত্তিতে দ্রাঘিমা ও সময়ের সম্পর্ক (১° = ৪ মিনিট, ১′ = ৪ সেকেন্ড) প্রয়োগ করে গাণিতিক সমস্যা ও ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST) নির্ণয় করা।
  • আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার (IDL) ১৮০° দ্রাঘিমায় আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণ এবং আধুনিক GPS ট্রাইলেটারেশন ব্যবস্থার গুরুত্ব মূল্যায়ন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. অবস্থান নির্ণয়ের ভিত্তি: মেরুরে...
2 ২. মূলমধ্যরেখা ও দ্রাঘিমারেখা: বৈশি...
3 ৩. ভূ-জালক (Geographic Grid) ও স্থা...
4 ৪. দ্রাঘিমা ও সময় গণনার গাণিতিক নি...
5 ৫. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার (IDL) আঁ...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. অবস্থান নির্ণয়ের ভিত্তি: মেরুরেখা, নিরক্ষরেখা ও সমাক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য

Foundation পৃথিবী একটি বিশাল অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)। কোনো গোলাকার বস্তুর কোনো শুরু বা শেষ বিন্দু থাকে না, কোনো প্রান্ত বা কোণও থাকে না। ফলে এর পৃষ্ঠে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অবস্থান নির্দেশ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে একটি প্রাকৃতিক অক্ষ বা মেরুদণ্ড রয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে কল্পিত যে রেখার চারদিকে পৃথিবী লাটিমের মতো বনবন করে ঘুরছে, তাকে মেরুরেখা বা অক্ষ (Earth's Axis) বলে। এই অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দুকে উত্তর মেরু (North Pole, ৯০°উঃ) এবং দক্ষিণ প্রান্তবিন্দুকে দক্ষিণ মেরু (South Pole, ৯০°দঃ) বলা হয়। এই দুই মেরু থেকেই পৃথিবীর অবস্থান নির্ণয়ের সমস্ত পরিমাপ শুরু হয়।

Scientific Phenomenon দুই মেরুবিন্দু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত যে কাল্পনিক পূর্ণবৃত্ত পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি সমান গোলার্ধে বিভক্ত করেছে, তাকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা (Equator, ০°) বলে। নিরক্ষরেখা হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অক্ষবৃত্ত বা মহাবৃত্ত (Great Circle), যার পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের অংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ দিকের অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।

Mechanism অক্ষাংশ ও অক্ষরেখার সংজ্ঞা ও পরিমাপ:

  • অক্ষাংশ (Latitude): পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষীয় তলের সাপেক্ষে ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান উত্তর বা দক্ষিণে যে কৌণিক দূরত্ব তৈরি করে, তাকে সেই স্থানের অক্ষাংশ বলে। এটি ডিগ্রি (°), মিনিট (′) ও সেকেন্ড (″)-এ মাপা হয়। নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০° এবং মেরুদ্বয়ের অক্ষাংশ ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ।
  • সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা (Parallels of Latitude): একই অক্ষাংশযুক্ত স্থানগুলিকে যুক্ত করে নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে যে কাল্পনিক বৃত্তগুলি অঙ্কন করা হয়েছে, তাদের সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা বলে।

Analysis অক্ষরেখার প্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. পরস্পর সমান্তরাল: প্রতিটি অক্ষরেখা অপরটির সাথে সম্পূর্ণ সমান্তরাল; এরা কখনোই একে অপরকে স্পর্শ বা ছেদ করে না।
  2. পূর্ণবৃত্ত: প্রতিটি অক্ষরেখাই একটি সম্পূর্ণ বৃত্ত।
  3. পরিধির হ্রাস: নিরক্ষরেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায়, অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ ছোট হতে থাকে। ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছে এরা আর বৃত্ত থাকে না, কেবল একটি বিন্দুতে পরিণত হয়।
  4. রৈখিক দূরত্ব: ভূপৃষ্ঠে প্রতি ১° অক্ষাংশের রৈখিক ব্যবধান প্রায় ১১১ কিলোমিটার (১১১.১৩ কিমি)।
  5. মোট সংখ্যা: ১° ব্যবধানে উত্তর গোলার্ধে ৮৯টি এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ৮৯টি এবং নিরক্ষরেখা ১টি—মোট ১৭৯টি পূর্ণ অক্ষবৃত্ত রয়েছে (মেরু দুটি বিন্দু হওয়ায় বৃত্ত ধরলে ১৭৯টি, আর বিন্দু ধরে মোট অক্ষের মান ১৮১টি)।
  6. গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাসমূহ: নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তিরেখা (২৩½° উত্তর), মকরক্রান্তিরেখা (২৩½° দক্ষিণ), সুমেরুবৃত্ত (৬৬½° উত্তর) এবং কুমেরুবৃত্ত (৬৬½° দক্ষিণ)।

Application অক্ষাংশের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীকে উষ্ণমণ্ডল (০°-২৩½°), নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (২৩½°-৬৬½°) ও হিমমণ্ডলে (৬৬½°-৯০°) ভাগ করা হয়। কোনো স্থানের অক্ষাংশ জানা থাকলে সেখানকার জলবায়ু ও ঋতু সহজেই বোঝা যায়।

২. মূলমধ্যরেখা ও দ্রাঘিমারেখা: বৈশিষ্ট্য, অর্ধবৃত্ত ও মহাবৃত্তের ধারণা

Foundation কেবল অক্ষরেখা দিয়ে কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান জানা অসম্ভব। ধরা যাক আপনাকে বলা হলো একটি জাহাজ ২৩½° উত্তর অক্ষরেখায় আছে। কিন্তু কর্কটক্রান্তিরেখা তো সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত—জাহাজটি ভারত মহাসাগরে, প্রশান্ত মহাসাগরে নাকি আটলান্টিক মহাসাগরে আছে তা কীভাবে বুঝবেন? এই সমস্যার সমাধানের জন্য অক্ষরেখার সাথে উল্লম্বভাবে ছেদকারী উত্তর-দক্ষিণ রেখার প্রয়োজন হয়।

Scientific Phenomenon উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কাল্পনিক উল্লম্ব রেখাগুলিকে দ্রাঘিমারেখা বা মধ্যরেখা (Meridians of Longitude) বলা হয়। ১৮৮৪ সালে আন্তর্জাতিক সম্মতিক্রমে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের কাছে গ্রিনিচ নামক স্থানে অবস্থিত ব্রিটিশ রাজকীয় মানমন্দিরের (Royal Astronomical Observatory at Greenwich) ওপর দিয়ে প্রসারিত দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিকভাবে মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian, ০°) হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মূলমধ্যরেখা পৃথিবীকে পূর্ব গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধে বিভক্ত করেছে।

Mechanism দ্রাঘিমাংশ ও দ্রাঘিমারেখার বৈশিষ্ট্য:

  • দ্রাঘিমাংশ (Longitude): মূলমধ্যরেখার সাপেক্ষে নিরক্ষরেখার সমতলে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ বলে (০° থেকে ১৮০° পূর্ব ও ০° থেকে ১৮০° পশ্চিম)।
  • অর্ধবৃত্তাকার গঠন: প্রতিটি দ্রাঘিমারেখাই একটি অর্ধবৃত্ত (Semi-circle)। এরা উত্তর মেরু থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ মেরুতে শেষ হয়। প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান (প্রায় ২০,০০০ কিমি)।
  • মেরু অভিসরণ: দ্রাঘিমারেখাগুলি সমান্তরাল নয়। নিরক্ষরেখায় এদের মধ্যকার পারস্পরিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১১১.৩২ কিমি); নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে অগ্রসর হলে দূরত্ব কমতে থাকে এবং উভয় মেরুবিন্দুতে সবকটি দ্রাঘিমারেখা এক বিন্দুতে মিলিত হয় (দূরত্ব ০ কিমি)।
  • মোট সংখ্যা: মূলমধ্যরেখা (০°) থেকে পূর্বে ১৮০টি এবং পশ্চিমে ১৮০টি দ্রাঘিমারেখা রয়েছে। তবে ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা দুটি পৃথক রেখা নয়, এরা একটিই সাধারণ রেখা। সুতরাং মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা হলো ৩৬০টি ($১ + ১৭৯ + ১৭৯ + ১ = ৩৬০$)।

Analysis মহাবৃত্তের ধারণা (Great Circle): যেকোনো দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখা যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণবৃত্ত গঠন করে, যা পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে এবং পৃথিবীকে দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করে। তাই পরস্পর বিপরীত দুটি দ্রাঘিমারেখার সমষ্টি সর্বদা ১৮০° হয় এবং তারা একত্রে একটি মহাবৃত্ত (Great Circle) গঠন করে। যেমন: ০° মূলমধ্যরেখা এবং ১৮০° দ্রাঘিমারেখা মিলে একটি মহাবৃত্ত তৈরি করে; একইভাবে ২০° পূর্ব ও ১৬০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা মিলেও একটি মহাবৃত্ত তৈরি করে। মহাবৃত্তের পথই হলো পৃথিবীর দুই প্রান্তের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম আকাশপথ (Shortest Route), যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে জ্বালানি ও সময় বাঁচায়।

Application দ্রাঘিমারেখাকে ইংরেজিতে ‘Meridian’ বলা হয়, যা লাতিন শব্দ ‘Meridies’ (যার অর্থ Midday বা মধ্যাহ্ন) থেকে এসেছে। একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত সমস্ত স্থানে মধ্যাহ্ন সূর্য একই সময়ে ঠিক মাথার ওপর আসে, তাই এদের ‘মধ্যরেখা’ বলা হয়।

৩. ভূ-জালক (Geographic Grid) ও স্থানাঙ্কের সাহায্যে নির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয়

Foundation পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত অক্ষরেখা এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্রাঘিমারেখা যখন পৃথিবীর গ্লোব বা মানচিত্রের ওপর পরস্পরকে লম্বভাবে বা সমকোণে (৯০°) ছেদ করে, তখন একটি বর্গাকার বা আয়তাকার জালের সৃষ্টি হয়। এই কাল্পনিক জালকে ভূ-জালক বা ভৌগোলিক গ্রিড (Geographic Grid / Earth's Grid) বলা হয়। গ্রিক পণ্ডিত এরাটোস্থেনিস ও হিপ্পারকার্স প্রাচীনকালে প্রথম এই গ্রিড ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

Scientific Phenomenon ভূ-জালকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—ভূপৃষ্ঠের যে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অক্ষরেখা এবং একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখাই পরস্পরকে ছেদ করতে পারে। এই ছেদবিন্দুর মানকেই বলা হয় সেই স্থানের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক বা কোঅর্ডিনেটস (Geographical Coordinates)। স্থানাঙ্ক হলো পৃথিবীর বুকে প্রতিটি স্থানের এক অনন্য ও অপরিবর্তনীয় ডিজিটাল ঠিকানা।

Mechanism স্থানাঙ্ক প্রকাশের আন্তর্জাতিক নিয়ম:
যেকোনো স্থানের সঠিক অবস্থান বোঝাতে প্রথমে তার অক্ষাংশ (উত্তর বা দক্ষিণ) এবং পরে তার দ্রাঘিমাংশ (পূর্ব বা পশ্চিম) লিখতে হয়। সূক্ষ্ম পরিমাপের জন্য প্রতি ডিগ্রি (১°)-কে ৬০টি সমান ভাগে ভাগ করা হয়, যাকে মিনিট (′) বলে ($১° = ৬০′$); এবং প্রতি মিনিটকে আরও ৬০টি ভাগে ভাগ করা হয়, যাকে সেকেন্ড (″) বলে ($১′ = ৬০″$)।

  • পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা (Kolkata): ২২°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°২২′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ছেদবিন্দুতে অবস্থিত। এর অর্থ কলকাতা নিরক্ষরেখার উত্তরে ২২ ডিগ্রি ৩৪ মিনিট কৌণিক দূরত্বে এবং মূলমধ্যরেখার পূর্বে ৮৮ ডিগ্রি ২২ মিনিট কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত।
  • ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি (New Delhi): ২৮°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৭°১৩′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
  • যুক্তরাজ্যের লন্ডন (London): ৫১°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ০°০৭′ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ।
  • মিশরের কায়রো (Cairo): ৩০°০৩′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৩১°১৪′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

Analysis ভূ-জালক কীভাবে নৌ ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে? সমুদ্রে কোনো ভৌত পথ থাকে না। কিন্তু জাহাজের কম্পাস ও জাইরোস্কোপের সাহায্যে যখন ক্যাপ্টেন তাঁর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ জানতে পারেন, তখন তিনি বিশাল মহাসাগরে নিজের সঠিক অবস্থান এবং গন্তব্যের দূরত্ব কয়েক মিটারের নির্ভুলতায় গণনা করতে পারেন।

Application বর্তমান আধুনিক যুগে কম্পিউটারাইজড জিআইএস (Geographic Information System) এবং ডিজিটাল মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে এই ভৌগোলিক গ্রিড ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

৪. দ্রাঘিমা ও সময় গণনার গাণিতিক নিয়ম: স্থানীয় সময় বনাম ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST)

Foundation পৃথিবীর আহ্নিক গতির সাথে দ্রাঘিমারেখার সম্পর্ক সরাসরি গাণিতিক। পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে ২৪ ঘণ্টায় একবার সম্পূর্ণ অর্থাৎ ৩৬০° আবর্তন করে। এখান থেকেই দ্রাঘিমা ও সময় গণনার মূল সূত্র তৈরি হয়।

Scientific Phenomenon সময়ের রূপান্তর সূত্র:

  1. ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবী ঘোরে = ৩৬০° দ্রাঘিমা।
  2. ১ ঘণ্টায় (৬০ মিনিটে) পৃথিবী ঘোরে = $৩৬০° \div ২৪ = ১৫°$ দ্রাঘিমা।
  3. সুতরাং, ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় = $৬০ \div ১৫ = ৪$ মিনিট।
  4. আবার, ১° = ৬০′ (মিনিট অব আর্ক)। অতএব, ৬০′ দ্রাঘিমার জন্য সময় লাগে ৪ মিনিট বা ২৪০ সেকেন্ড।
  5. সুতরাং, ১′ (কৌণিক মিনিট) দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় = $২৪০ \div ৬০ = ৪$ সেকেন্ড।

Mechanism দিকচিহ্নের অপরিবর্তনীয় নিয়ম:
যেহেতু পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, তাই পূর্ব দিকের স্থানগুলিতে আগে সূর্যোদয় হয় এবং তাদের ঘড়ির সময় এগিয়ে থাকে। আর পশ্চিম দিকের স্থানগুলিতে পরে সূর্যোদয় হয় এবং তাদের সময় পিছিয়ে থাকে।
• পূর্বে গেলে: প্রতি ১° দ্রাঘিমায় ৪ মিনিট সময় যোগ (+) করতে হয়।
• পশ্চিমে গেলে: প্রতি ১° দ্রাঘিমায় ৪ মিনিট সময় বিয়োগ (-) করতে হয়।

স্থানীয় সময় বনাম প্রমাণ সময়:

  • স্থানীয় সময় (Local Time): কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় সূর্য যখন ঠিক মধ্যাহ্নে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়, তখন সেখানে ঘড়িতে দুপুর ১২:০০ বাজিয়ে যে সময় গণনা করা হয়, তাকে সেই দ্রাঘিমার স্থানীয় সময় বলে। প্রতিটি পৃথক দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময় আলাদা হয়।
  • প্রমাণ সময় (Standard Time): একটি দেশের বিভিন্ন স্থানের স্থানীয় সময় আলাদা হলে রেলগাড়ি, বিমান চলাচল, অফিস ও বেতার সম্প্রচারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই কোনো দেশের ঠিক মাঝামাঝি অংশের একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে সমগ্র দেশের জন্য সার্বজনীন সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়। একে সেই দেশের প্রমাণ সময় বলে।

Analysis ভারতীয় প্রমাণ সময় (Indian Standard Time - IST):
ভারতের দ্রাঘিমাংশের বিস্তার পশ্চিমে গুজরাটের গুহার মোতি (৬৮°৭′ পূর্ব) থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের কিবিথু (৯৭°২৫′ পূর্ব) পর্যন্ত প্রায় ৩০° দ্রাঘিমা ($৯৭° - ৬৮° pprox ২৯°১৮′$)। এর ফলে অরুণাচল প্রদেশে যখন সূর্য ওঠে, তার প্রায় ২ ঘণ্টা পর ($৩০ imes ৪ = ১২০$ মিনিট) গুজরাটে সূর্যোদয় হয়!
এই বিশাল সময়ের ব্যবধান মেটাতে ভারত সরকার প্রয়াগরাজের (পূর্বতন এলাহাবাদ ও মির্জাপুর) ওপর দিয়ে প্রসারিত ৮২°৩০′ পূর্ব (৮২.৫° পূর্ব) দ্রাঘিমারেখাকে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রমাণ মধ্যরেখা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
লন্ডনের গ্রিনিচ মূলমধ্যরেখা (০°) থেকে ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার (৮২°৩০′ পূর্ব) সময়ের পার্থক্য:
$৮২.৫ imes ৪ = ৩৩০$ মিনিট = ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
যেহেতু ভারত গ্রিনিচের পূর্বে অবস্থিত, তাই ভারতীয় প্রমাণ সময় গ্রিনিচ সময় অপেক্ষা ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে ($ ext{IST} = ext{GMT} + ৫:৩০$)। গ্রিনিচে যখন দুপুর ১২টা বাজে, ভারতে তখন সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিট বাজে।

Application রাশিয়ার পূর্ব-পশ্চিমে বিশাল বিস্তারের কারণে সেখানে ১১টি পৃথক সময় অঞ্চল (Time Zones) রয়েছে; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৬টি সময় অঞ্চল। কিন্তু ভারত একটিমাত্র সময় অঞ্চল (IST) ব্যবহার করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

৫. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার (IDL) আঁকাবাঁকা গতিপথ ও আধুনিক GPS প্রযুক্তি

Foundation গ্রিনিচ থেকে পূর্ব দিকে গেলে প্রতি ১৫° দ্রাঘিমায় ১ ঘণ্টা যোগ হয় এবং পশ্চিম দিকে গেলে ১ ঘণ্টা বিয়োগ হয়। এর ফলে গ্রিনিচের ঠিক বিপরীতে ১৮০° দ্রাঘিমারেখায় পৌঁছালে পূর্ব দিক থেকে সময় ১২ ঘণ্টা এগিয়ে যায় এবং পশ্চিম দিক থেকে ১২ ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। এই দুই হিসেবের মধ্যে ঠিক ($১২ + ১২ = ২৪$) ঘণ্টা বা এক পূর্ণ দিনের গরমিল সৃষ্টি হয়! এই ক্যালেন্ডার ও তারিখের গোলযোগ মেটাতে ১৮৮৪ সালে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line - IDL) নির্ধারিত হয়।

Scientific Phenomenon আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপর দিয়ে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে বিস্তৃত। তবে এই রেখাটি সম্পূর্ণ সোজা নয়; এটি কয়েকটি স্থানে বিশেষভাবে আঁকাবাঁকা (Zigzag) করা হয়েছে।

Mechanism আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণ:
যদি এই রেখাটি সাইবেরিয়ার স্থলভাগ বা ফিজি, টোঙ্গা ও অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে সোজা টেনে দেওয়া হতো, তবে একই দেশের এক ভাগে হতো রবিবার এবং অন্য ভাগে হতো সোমবার! বিদ্যালয়, ব্যাংক, সরকারি অফিস ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম বিভ্রান্তি ঘটত। তাই কোনো ভূখণ্ড বা দ্বীপপুঞ্জকে দ্বিধাবিভক্ত না করে সমগ্র দেশকে একই ক্যালেন্ডার দিনের অধীনে রাখার জন্য জলভাগের ওপর দিয়ে রেখাটিকে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে:

  1. উত্তর অংশে সাইবেরিয়ার পূর্ব প্রান্তকে রক্ষা করতে পূর্বে বেরিং প্রণালীর মধ্য দিয়ে বাঁকানো হয়েছে।
  2. অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জকে আমেরিকার আলাস্কার সাথে এক রাখার জন্য পশ্চিমে বাঁকানো হয়েছে।
  3. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ফিজি, টোঙ্গা ও কিরিবাতি দ্বীপগুলিকে নিউজিল্যান্ডের সাথে একই দিনে রাখার জন্য পূর্ব দিকে বাঁকানো হয়েছে।

Analysis তারিখ পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক নিয়ম:

  • পশ্চিম দিকে অতিক্রম করলে (আমেরিকা থেকে এশিয়া/অস্ট্রেলিয়ার দিকে): তারিখ ১ দিন এগিয়ে নিতে হয় (+১ দিন যোগ)। যেমন: রবিবার থাকলে তা সোমবার হয়ে যায়।
  • পূর্ব দিকে অতিক্রম করলে (এশিয়া/অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকার দিকে): তারিখ ১ দিন কমিয়ে নিতে হয় (-১ দিন বিয়োগ)। যেমন: সোমবার থাকলে তা রবিবার হয়ে যায় (যাত্রী একই দিন দু’বার উপভোগ করেন!)।

Application গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS):
আধুনিক যুগে অবস্থান নির্ণয়ের সবচেয়ে বৈপ্লবিক প্রযুক্তি হলো GPS (Global Positioning System)। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ব্যবস্থায় পৃথিবীর প্রায় ২০,২০০ কিমি ওপরে মহাকাশে ২৪টিরও বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ প্রতিনিয়ত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।
ভূপৃষ্ঠে যেকোনো স্থানের অবস্থান বের করতে কমপক্ষে ৪টি উপগ্রহের সংকেত গ্রহণ করা হয়। একে গাণিতিক ভাষায় ট্রাইলেটারেশন (Trilateration) বলা হয়। উপগ্রহ থেকে বেতার তরঙ্গ পৌঁছানোর সময়ের পার্থক্য পরিমাপ করে জিপিএস রিসিভার বা আপনার স্মার্টফোন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনার নিখুঁত অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা এবং নিখুঁত সময় স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলে। বিমান চালনা, সামুদ্রিক জাহাজ পরিচালনা, যুদ্ধবিমান পরিচালনা, দুর্যোগে উদ্ধারকাজ এবং আমাদের দৈনন্দিন ওলা, উবার বা ডেলিভারি অ্যাপ সম্পূর্ণরূপে এই GPS প্রযুক্তির সাহায্যেই পরিচালিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা পরিমাপক (Parallels of Latitude)
নিরক্ষরেখা (০°) সর্ববৃহৎ মহাবৃত্ত (পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)
অক্ষাংশের সীমা ০° থেকে ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ (কৌণিক দূরত্ব)
মোট অক্ষরেখা ১৭৯টি পূর্ণবৃত্ত (১° ব্যবধানে; মেরুদ্বয় কেবল বিন্দু)
১° অক্ষাংশের রৈখিক মান প্রায় ১১১ কিলোমিটার (১১১.১৩ কিমি)
অক্ষরেখাগুলি পরস্পরের পূর্ণ সমান্তরাল এবং মেরুর দিকে পরিধি ক্রমশ সংকুচিত হয়।
দ্রাঘিমারেখা বা মধ্যরেখা পরিমাপক (Meridians of Longitude)
মূলমধ্যরেখা (০°) যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে প্রসারিত
দ্রাঘিমার সীমা ০° থেকে ১৮০° পূর্ব এবং ০° থেকে ১৮০° পশ্চিম
মোট দ্রাঘিমারেখা ৩৬০টি অর্ধবৃত্ত (উভয় মেরুতে মিলিত হয়)
ব্যবধানে পরিবর্তন নিরক্ষরেখায় ১১১.৩২ কিমি ⟹ মেরুবিন্দুতে ০ কিমি
যেকোনো দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখা (সমষ্টি ১৮০°) মিলে একটি পূর্ণ মহাবৃত্ত গঠন করে।
দ্রাঘিমা ও সময় রূপান্তর সূত্র (Longitude-Time Mathematics)
২৪ ঘণ্টা আবর্তন ৩৬০° ⟹ ১ ঘণ্টা = ১৫° দ্রাঘিমা
১° দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান
১′ দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪ সেকেন্ড সময়ের ব্যবধান
দিকচিহ্ন নিয়ম পূর্ব দিকে গেলে যোগ (+) • পশ্চিম দিকে গেলে বিয়োগ (-)
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে বলে পূর্বের দ্রাঘিমায় সূর্যোদয় আগে ঘটে।
ভারতীয় প্রমাণ সময় (Indian Standard Time - IST)
ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা ৮২°৩০′ পূর্ব (৮২.৫° পূর্ব - প্রয়াগরাজ / মির্জাপুর)
গ্রিনিচ মান সময় (GMT) ০° দ্রাঘিমা (লন্ডন)
সময়ের ব্যবধান ৮২.৫ × ৪ = ৩৩০ মিনিট = ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে
সম্পর্ক IST = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
ভারতের দ্রাঘিমা বিস্তার প্রায় ৩০° হওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ২ ঘণ্টার ব্যবধান দূর করতে এটি গৃহীত।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line - IDL)
অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর প্রায় ১৮০° দ্রাঘিমারেখা
গতিপথের ধরন আঁকাবাঁকা (বেরিং প্রণালী, অ্যালুশিয়ান, ফিজি-কিরিবাতিতে বাঁক)
পশ্চিমগামী জাহাজ +১ দিন যোগ (রবিবার ⟹ সোমবার)
পূর্বগামী জাহাজ -১ দিন বিয়োগ (সোমবার ⟹ রবিবার)
একই দেশে দুটি পৃথক বার ও তারিখ এড়ানোর জন্য স্থলভাগ পরিহার করে রেখাটি জলভাগে বাঁকানো।
ভূ-জালক ও GPS ট্রাইলেটারেশন (Geographic Grid & GPS)
ভূ-জালক (Grid) অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ৯০° সমকোণে ছেদনে গঠিত জাল
স্থানাঙ্ক (Coordinates) অনন্য ডিজিটাল ঠিকানা (যেমন কলকাতা: ২২°৩৪′উঃ, ৮৮°২২′পূঃ)
GPS ব্যবস্থা মহাকাশে ২৪+ কৃত্রিম উপগ্রহ (উচ্চতা প্রায় ২০,২০০ কিমি)
ট্রাইলেটারেশন কমপক্ষে ৪টি উপগ্রহের সংকেতে নিখুঁত 3D অবস্থান ও সময়
আধুনিক স্মার্টফোন, গুগল ম্যাপস, বিমান ও সমুদ্র পরিবহন GPS প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
গ্রিনিচে (০°) যখন সোমবার দুপুর ১২:০০ বাজে, তখন কলকাতার (৮৮°৩০′ পূর্ব) স্থানীয় সময় ও বার কত হবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধাপ ১: দ্রাঘিমার পার্থক্য নির্ণয়:
গ্রিনিচের দ্রাঘিমা = ০°
কলকাতার দ্রাঘিমা = ৮৮°৩০′ পূর্ব
দ্রাঘিমার পার্থক্য = $৮৮°৩০′ - ০° = ৮৮°৩০′$

ধাপ ২: সময়ের পার্থক্য গণনা:
আমরা জানি, ১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য = ৪ মিনিট
অতএব, ৮৮° দ্রাঘিমার জন্য পার্থক্য = $৮৮ imes ৪ = ৩৫২$ মিনিট
আবার, ১′ দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য = ৪ সেকেন্ড
অতএব, ৩০′ দ্রাঘিমার জন্য পার্থক্য = $৩০ imes ৪ = ১২০$ সেকেন্ড = ২ মিনিট
মোট সময়ের পার্থক্য = $৩৫২ + ২ = ৩৫৪$ মিনিট = ৫ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট।

ধাপ ৩: স্থানীয় সময় ও বার নির্ধারণ:
যেহেতু কলকাতা গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত, তাই কলকাতার সময় গ্রিনিচের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকবে (যোগ হবে)।
কলকাতার সময় = দুপুর ১২:০০ + ৫ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট = সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিট (সোমবার)।
উদাহরণ 2
ভারতে প্রমাণ সময় হিসেবে ৮২°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখাকে কেন নির্বাচন করা হয়েছে? অরুণাচল প্রদেশ ও গুজরাটের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. ৮২°৩০′ পূর্ব নির্বাচনের কারণ:
ভারতের দ্রাঘিমাংশের বিস্তার পশ্চিমে গুজরাটের ৬৮°৭′ পূর্ব থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের ৯৭°২৫′ পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৩০° দ্রাঘিমা। যদি প্রতিটি স্থান নিজস্ব স্থানীয় সময় ব্যবহার করত, তবে একই দেশে ট্রেনের সময়সূচি, অফিস ও ব্যাংকের কাজে চরম বিশৃঙ্খলা ঘটত। তাই সমগ্র ভারতের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থিত প্রয়াগরাজের ৮২°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখাকে ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST) হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

২. অরুণাচল প্রদেশ ও গুজরাটের সময়ের ব্যবধান:
দ্রাঘিমার বিস্তার = প্রায় ৩০°
সময়ের পার্থক্য = $৩০ imes ৪ = ১২০$ মিনিট = প্রায় ২ ঘণ্টা।
অতএব, অরুণাচল প্রদেশে যখন ভোর ৫টায় সূর্যোদয় হয়, তখন গুজরাটে সকাল ৭টার কাছাকাছি সময়ে সূর্য দেখা যায়। তবে প্রমাণ ঘড়িতে সারা ভারতে একই সময় বাজে।
উদাহরণ 3
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL) ১৮০° দ্রাঘিমায় সোজা না হয়ে আঁকাবাঁকা কেন? একটি জাহাজ সোমবার সকাল ১০টায় এশিয়া থেকে আমেরিকা অভিমুখে এই রেখা অতিক্রম করলে জাহাজের লগে কী বার ও তারিখ লেখা হবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. তারিখ রেখা আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণ:
১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি সাইবেরিয়ার পূর্ব প্রান্ত এবং প্রশান্ত মহাসাগরের ফিজি, টোঙ্গা, কিরিবাতি প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে গিয়েছে। রেখাটি সোজা টানলে একই দেশের এক অংশে হতো রবিবার এবং অন্য অংশে সোমবার। নাগরিকদের এমন বিভ্রাট থেকে বাঁচাতে স্থলভাগকে পরিহার করে সমগ্র দেশকে একই দিনে রাখার জন্য রেখাটিকে সমুদ্রের ওপর দিয়ে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২. জাহাজ অতিক্রমের হিসাব:
জাহাজটি এশিয়া থেকে আমেরিকার দিকে যাচ্ছে (অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করছে)।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে, পশ্চিম থেকে পূর্বে অতিক্রম করলে ১ দিন বিয়োগ করতে হয় (-১ দিন)।
অতএব, অতিক্রম করার পর জাহাজের লগবুকে পুনরায় রবিবার সকাল ১০:০০ টা গণনা করা হবে (যাত্রীরা একই দিন দু’বার উপভোগ করবেন)।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন অক্ষরেখা এবং দ্রাঘিমারেখা উভয়ই পূর্ণবৃত্ত এবং এদের দৈর্ঘ্য সমান।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: অক্ষরেখাগুলি হলো পরস্পরের সমান্তরাল পূর্ণবৃত্ত এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে এদের আকার ক্রমশ ছোট হয়। অপরদিকে দ্রাঘিমারেখাগুলি হলো অর্ধবৃত্ত, এরা সমান্তরাল নয় (মেরুতে মিলিত হয়) এবং প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য পরস্পরের সমান (প্রায় ২০,০০০ কিমি)।

সাধারণ ভুল ধারণা

সময় গণনার সময় পূর্ব দিকে গেলে বিয়োগ এবং পশ্চিম দিকে গেলে যোগ করে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে। তাই পূর্বের স্থানগুলিতে সূর্য আগে ওঠে এবং সময় এগিয়ে থাকে। মনে রাখবেন: পূর্বে গেলে সময় যোগ (+), পশ্চিমে গেলে সময় বিয়োগ (-)।

সাধারণ ভুল ধারণা

একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করলে ঘড়ির ঘণ্টা বা মিনিট বদলে যায়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করলে স্থানীয় ঘড়ির ঘণ্টা বা মিনিটের কোনো পরিবর্তন হয় না; কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ ও বারটি পূর্ণ ২৪ ঘণ্টা (১ দিন) এগিয়ে বা পিছিয়ে যায়।

ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় পরিকাঠামো

🌐 ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় পরিকাঠামো পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণি ভূগোল (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় ২ ১. সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা (Parallels of Latitude) • নিরক্ষরেখা (০°): পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে বিভক্তকারী সর্ববৃহৎ মহাবৃত্ত • অক্ষাংশ: পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখার সাপেক্ষে উত্তর বা দক্ষিণে কৌণিক দূরত্ব (০°-৯০°) • বৈশিষ্ট্য: ১৭৯টি পূর্ণবৃত্ত, পরস্পরের সমান্তরাল; মেরুর দিকে পরিধি কমে বিন্দুতে রূপ নেয় • প্রধান অক্ষরেখা: কর্কট ও মকরক্রান্তি (২৩½°), সুমেরু ও কুমেরুবৃত্ত (৬৬½°); ১° অক্ষাংশ ≈ ১১১ কিমি নিরক্ষরেখা (০°) • পূর্ণবৃত্ত • সমান্তরাল • ১° ≈ ১১১ কিমি ২. দ্রাঘিমারেখা বা মধ্যরেখা (Meridians of Longitude) • মূলমধ্যরেখা (০°): যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে প্রসারিত রেখা • বৈশিষ্ট্য: ৩৬০টি সমান দৈর্ঘ্যের অর্ধবৃত্ত (প্রায় ২০,০০০ কিমি) যা উভয় মেরুতে মিলিত হয় • দূরত্ব: নিরক্ষরেখায় ব্যবধান সর্বাধিক (১১১.৩২ কিমি); মেরু বিন্দুতে ব্যবধান ০ কিমি • মহাবৃত্ত: পরস্পর বিপরীত দুটি দ্রাঘিমারেখা (যেমন ০° ও ১৮০°) একত্রে পূর্ণ মহাবৃত্ত গঠন করে গ্রিনিচ (০°) • অর্ধবৃত্ত • মেরুতে মিলন • ৩৬০টি রেখা ৩. দ্রাঘিমা ও সময় গণনার গাণিতিক সূত্র (Time & Longitude) • আবর্তন গতি: ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° ⟹ ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের ব্যবধান ৪ মিনিট • কৌণিক মিনিট: ১' (মিনিট অব আর্ক) পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ সেকেন্ড • দিকচিহ্ন সূত্র: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে ⟹ পূর্বের স্থান এগিয়ে (+), পশ্চিম পিছিয়ে (-) • ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST): ৮২°৩০' পূর্ব (প্রয়াগরাজ) ⟹ গ্রিনিচ সময় অপেক্ষা ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে ১° = ৪ মিনিট • ১' = ৪ সেকেন্ড • IST = GMT + ৫:৩০ ৪. ভূ-জালক, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও GPS • ভূ-জালক (Grid): অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ৯০° সমকোণে পরস্পর ছেদকারী জাল • পরম অবস্থান: সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক (যেমন কলকাতার অবস্থান ২২°৩৪' উত্তর, ৮৮°২২' পূর্ব) • আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা: ১৮০° দ্রাঘিমায় আঁকাবাঁকা রেখা; পশ্চিম গেলে +১ দিন, পূর্ব গেলে -১ দিন • GPS (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম): ২৪+ কৃত্রিম উপগ্রহ; ৪টি উপগ্রহের সাহায্যে সঠিক ত্রিমাত্রিক অবস্থান ভূ-জালক • ১৮০° তারিখ রেখা • আধুনিক GPS ট্রাইলেটারেশন TARGETEXAMS • WBBSE সপ্তম শ্রেণি ভূগোল (আমাদের পৃথিবী)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
পৃথিবীর প্রাকৃতিক মেরুরেখার দুই প্রান্তবিন্দু হলো উত্তর মেরু (৯০°উঃ) এবং দক্ষিণ মেরু (৯০°দঃ)।
মূল বিষয় 2
নিরক্ষরেখা (০°) হলো সর্ববৃহৎ অক্ষরেখা বা মহাবৃত্ত (পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি), যা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে।
মূল বিষয় 3
সমাক্ষরেখাগুলি পূর্ণবৃত্ত, পরস্পরের সমান্তরাল এবং ১° ব্যবধানে মোট ১৭৯টি পূর্ণ বৃত্তাকার অক্ষরেখা রয়েছে (১° অক্ষাংশ ≈ ১১১ কিমি)।
মূল বিষয় 4
যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে প্রসারিত মূলমধ্যরেখা (০°) পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে বিভক্ত করেছে; মোট দ্রাঘিমারেখা ৩৬০টি।
মূল বিষয় 5
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ৯০° কোণে পরস্পর ছেদনে ভূ-জালক (Geographic Grid) গঠিত হয়, যা প্রতিটি স্থানের অনন্য স্থানাঙ্ক তৈরি করে।
মূল বিষয় 6
পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট এবং ১′ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড হয়।
মূল বিষয় 7
ভারতের কেন্দ্রীয় দ্রাঘিমা ৮২°৩০′ পূর্ব (প্রয়াগরাজ); ভারতীয় প্রমাণ সময় গ্রিনিচ সময় অপেক্ষা ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে (IST = GMT + ৫:৩০)।
মূল বিষয় 8
১৮০° দ্রাঘিমায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL) জলভাগের ওপর আঁকাবাঁকা; আধুনিক GPS প্রযুক্তি ৪টি কৃত্রিম উপগ্রহের ট্রাইলেটারেশনের মাধ্যমে সঠিক অবস্থান জানায়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
১. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য নির্দেশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১) আকৃতি: প্রতিটি অক্ষরেখা একটি পূর্ণবৃত্ত; কিন্তু প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা একটি অর্ধবৃত্ত।
২) সমান্তরালতা: অক্ষরেখাগুলি পরস্পরের সমান্তরাল এবং কখনোই মিলিত হয় না; কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলি সমান্তরাল নয়, এরা উভয় মেরুতে এক বিন্দুতে মিলিত হয়।
৩) দৈর্ঘ্য: নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ কমে যায়; কিন্তু প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান (প্রায় ২০,০০০ কিমি)।
আকৃতি, সমান্তরালতা ও পরিধির দৈর্ঘ্য মনে রাখবে।
2
২. গ্রিনিচের সাপেক্ষে ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST) কত এগিয়ে এবং কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা হলো ৮২°৩০′ পূর্ব (৮২.৫° পূর্ব)। ১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের ব্যবধান হয় ৪ মিনিট। অতএব ৮২.৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য = $৮২.৫ imes ৪ = ৩৩০$ মিনিট = ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। যেহেতু ভারত গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত, তাই ভারতীয় প্রমাণ সময় গ্রিনিচ সময় থেকে ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে ($ ext{IST} = ext{GMT} + ৫:৩০$)।
৮২°৩০′ পূর্ব এবং ১° = ৪ মিনিট সূত্রটি লিখবে।
3
৩. ভূ-জালক (Geographic Grid) কাকে বলে? এর সাহায্যে কীভাবে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত অক্ষরেখা এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্রাঘিমারেখা গ্লোব বা মানচিত্রের ওপর পরস্পরকে ৯০° সমকোণে ছেদ করে যে জালের মতো কাঠামো তৈরি করে, তাকে ভূ-জালক বা ভৌগোলিক গ্রিড বলে। ভূ-জালকের একটি নির্দিষ্ট ছেদবিন্দুতে কেবল একটি নির্দিষ্ট অক্ষরেখা ও একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখা মিলিত হয়। এই ছেদবিন্দুর মানই হলো সেই স্থানের স্থানাঙ্ক (যেমন কলকাতা: ২২°৩৪′উঃ, ৮৮°২২′পূঃ)।
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সমকোণী ছেদন ও স্থানাঙ্কের কথা উল্লেখ করবে।
4
৪. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL) ১৮০° দ্রাঘিমায় সম্পূর্ণ সোজা না করে আঁকাবাঁকা করা হয়েছে কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি সাইবেরিয়ার পূর্ব প্রান্ত, আলাস্কার অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ফিজি, টোঙ্গা ও কিরিবাতি দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে গেছে। রেখাটি সোজা টানলে একই দেশ বা দ্বীপপুঞ্জের এক অংশে এক তারিখ ও অন্য অংশে পরবর্তী তারিখ হতো, যার ফলে প্রশাসন ও জনজীবনে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। এই বিভ্রান্তি এড়াতে স্থলভাগ পরিহার করে সমুদ্রের ওপর দিয়ে রেখাটিকে আঁকাবাঁকা করা হয়েছে।
একই দেশে দুটি পৃথক বার ও তারিখ এড়ানোর কারণ লিখবে।
5
৫. GPS কী এবং এটি কীভাবে ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: GPS (Global Positioning System বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) হলো কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক বিশ্বব্যাপী অবস্থান নির্ণয়ের আধুনিক প্রযুক্তি। মহাকাশে ঘূর্ণায়মান ২৪টিরও বেশি উপগ্রহ থেকে প্রেরিত সংকেত ভূপৃষ্ঠের জিপিএস রিসিভার গ্রহণ করে। কমপক্ষে ৪টি উপগ্রহের সংকেত বিশ্লেষণ করে ট্রাইলেটারেশন জ্যামিতিক পদ্ধতিতে রিসিভারটি মুহূর্তের মধ্যে ব্যবহারকারীর অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা ও নিখুঁত সময় নির্ণয় করে।
২৪+ কৃত্রিম উপগ্রহ এবং ৪টি উপগ্রহের ট্রাইলেটারেশনের কথা লিখবে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।