Foundation পৃথিবী একটি বিশাল অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)। কোনো গোলাকার বস্তুর কোনো শুরু বা শেষ বিন্দু থাকে না, কোনো প্রান্ত বা কোণও থাকে না। ফলে এর পৃষ্ঠে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অবস্থান নির্দেশ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে একটি প্রাকৃতিক অক্ষ বা মেরুদণ্ড রয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে কল্পিত যে রেখার চারদিকে পৃথিবী লাটিমের মতো বনবন করে ঘুরছে, তাকে মেরুরেখা বা অক্ষ (Earth's Axis) বলে। এই অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দুকে উত্তর মেরু (North Pole, ৯০°উঃ) এবং দক্ষিণ প্রান্তবিন্দুকে দক্ষিণ মেরু (South Pole, ৯০°দঃ) বলা হয়। এই দুই মেরু থেকেই পৃথিবীর অবস্থান নির্ণয়ের সমস্ত পরিমাপ শুরু হয়।
Scientific Phenomenon দুই মেরুবিন্দু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত যে কাল্পনিক পূর্ণবৃত্ত পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি সমান গোলার্ধে বিভক্ত করেছে, তাকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা (Equator, ০°) বলে। নিরক্ষরেখা হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অক্ষবৃত্ত বা মহাবৃত্ত (Great Circle), যার পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের অংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ দিকের অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।
Mechanism অক্ষাংশ ও অক্ষরেখার সংজ্ঞা ও পরিমাপ:
- অক্ষাংশ (Latitude): পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষীয় তলের সাপেক্ষে ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান উত্তর বা দক্ষিণে যে কৌণিক দূরত্ব তৈরি করে, তাকে সেই স্থানের অক্ষাংশ বলে। এটি ডিগ্রি (°), মিনিট (′) ও সেকেন্ড (″)-এ মাপা হয়। নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০° এবং মেরুদ্বয়ের অক্ষাংশ ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ।
- সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা (Parallels of Latitude): একই অক্ষাংশযুক্ত স্থানগুলিকে যুক্ত করে নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে যে কাল্পনিক বৃত্তগুলি অঙ্কন করা হয়েছে, তাদের সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা বলে।
Analysis অক্ষরেখার প্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- পরস্পর সমান্তরাল: প্রতিটি অক্ষরেখা অপরটির সাথে সম্পূর্ণ সমান্তরাল; এরা কখনোই একে অপরকে স্পর্শ বা ছেদ করে না।
- পূর্ণবৃত্ত: প্রতিটি অক্ষরেখাই একটি সম্পূর্ণ বৃত্ত।
- পরিধির হ্রাস: নিরক্ষরেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায়, অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ ছোট হতে থাকে। ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছে এরা আর বৃত্ত থাকে না, কেবল একটি বিন্দুতে পরিণত হয়।
- রৈখিক দূরত্ব: ভূপৃষ্ঠে প্রতি ১° অক্ষাংশের রৈখিক ব্যবধান প্রায় ১১১ কিলোমিটার (১১১.১৩ কিমি)।
- মোট সংখ্যা: ১° ব্যবধানে উত্তর গোলার্ধে ৮৯টি এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ৮৯টি এবং নিরক্ষরেখা ১টি—মোট ১৭৯টি পূর্ণ অক্ষবৃত্ত রয়েছে (মেরু দুটি বিন্দু হওয়ায় বৃত্ত ধরলে ১৭৯টি, আর বিন্দু ধরে মোট অক্ষের মান ১৮১টি)।
- গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাসমূহ: নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তিরেখা (২৩½° উত্তর), মকরক্রান্তিরেখা (২৩½° দক্ষিণ), সুমেরুবৃত্ত (৬৬½° উত্তর) এবং কুমেরুবৃত্ত (৬৬½° দক্ষিণ)।
Application অক্ষাংশের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীকে উষ্ণমণ্ডল (০°-২৩½°), নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (২৩½°-৬৬½°) ও হিমমণ্ডলে (৬৬½°-৯০°) ভাগ করা হয়। কোনো স্থানের অক্ষাংশ জানা থাকলে সেখানকার জলবায়ু ও ঋতু সহজেই বোঝা যায়।