Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Geography & Environment (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: 55 মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

শিলা ও মাটি

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" (ভূগোল ও পরিবেশ) পাঠ্যক্রমের ষষ্ঠ অধ্যায় "শিলা ও মাটি"-তে স্বাগত। পৃথিবীর কঠিন ভূত্বক মূলত বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়ে গঠিত শিলা দ্বারা নির্মিত। এই অধ্যায়ে আগ্নেয় শিলা (গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট), স্তরীভূত পাললিক শিলা ও জীবাশ্ম এবং চরম তাপ-চাপে সৃষ্ট রূপান্তরিত শিলা (নিস, মার্বেল, স্লেট, কোয়ার্টজাইট)-এর উৎপত্তি, অবিরাম শিলাচক্র, আবহবিকার থেকে রেগোলিথ ও মাটি সৃষ্টির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া (ডকুচেভের সূত্র), মাটির স্তরবিন্যাস বা মৃত্তিকা পরিলেখ (A, B, C, R স্তর) এবং মাটির বুনট ও মৃত্তিকা ক্ষয়রোধের পদ্ধতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

🪨 কেন তাজমহল ঝকঝকে সাদা মার্বেলের, অথচ লালকেল্লা খসখসে লাল বেলেপাথরের?

আপনি কি জানেন—আগ্রার তাজমহল যে মার্বেল দিয়ে তৈরি এবং দিল্লির লালকেল্লা যে লাল বেলেপাথর দিয়ে তৈরি, তাদের জন্মের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন?

লাখো বছর আগে অগভীর সমুদ্রের তলদেশে জমা হওয়া সূক্ষ্ম কোয়ার্টজ বালুকণা জমে তৈরি হয়েছিল লাল বেলেপাথর (পাললিক শিলা)। অন্যদিকে, সামুদ্রিক ঝিনুক ও প্রবালের খোলস জমে গঠিত চুনাপাথর যখন ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড উত্তাপ ও চাপে সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে নতুন স্ফটিক তৈরি করে, তখনই জন্ম নেয় রূপসী মার্বেল (রূপান্তরিত শিলা)।

আবার আমরা যে নরম মাটিতে ধান চাষ করি, সেই মাটির জন্ম হয়েছে কঠিন পাথরের দীর্ঘ হাজার বছরের ক্ষয় থেকেই! শিলা কীভাবে মাটি হয়ে ওঠে এবং পাথর কীভাবে বদলে যায়—আসুন জেনে নিই ভূ-বিজ্ঞানের এই রোমাঞ্চকর রহস্য।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" (ভূগোল ও পরিবেশ) পাঠ্যক্রমের ষষ্ঠ অধ্যায় "শিলা ও মাটি"-তে স্বাগত। পৃথিবীর কঠিন ভূত্বক মূলত বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়ে গঠিত শিলা দ্বারা নির্মিত। এই অধ্যায়ে আগ্নেয় শিলা (গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট), স্তরীভূত পাললিক শিলা ও জীবাশ্ম এবং চরম তাপ-চাপে সৃষ্ট রূপান্তরিত শিলা (নিস, মার্বেল, স্লেট, কোয়ার্টজাইট)-এর উৎপত্তি, অবিরাম শিলাচক্র, আবহবিকার থেকে রেগোলিথ ও মাটি সৃষ্টির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া (ডকুচেভের সূত্র), মাটির স্তরবিন্যাস বা মৃত্তিকা পরিলেখ (A, B, C, R স্তর) এবং মাটির বুনট ও মৃত্তিকা ক্ষয়রোধের পদ্ধতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তরবিন্যাস (ভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল) সম্পর্কে সাধারণ ধারণা।
  • আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, গলিত ম্যাগমা ও লাভার মৌলিক পার্থক্য।
  • সূর্যের উত্তাপ, বৃষ্টিপাত ও বায়ুর প্রভাবে শিলার আবহবিকারের প্রাথমিক জ্ঞান।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • খনিজ ও শিলার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তিন প্রকার শিলার উৎপত্তিগত পার্থক্য ব্যাখ্যা করা।
  • পাতালিক গ্রানাইট ও নিঃসারী ব্যাসল্টের মধ্যে গঠনগত ও ব্যবহারিক তুলনা বিশ্লেষণ করা।
  • পাললিক শিলায় স্তরীভবন ও জীবাশ্ম সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা।
  • আগ্নেয় ও পাললিক শিলা কীভাবে রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয় তা শিলাচক্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করা।
  • ডকুচেভের সূত্রের সাহায্যে মাটি সৃষ্টির উপাদান, মাটির পরিলেখ (A, B, C, R) ও মাটির বুনট মূল্যায়ন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. খনিজ ও শিলার মৌলিক ধারণা এবং তিন...
2 ২. আগ্নেয় শিলা: ম্যাগমার শীতলীকরণ,...
3 ৩. পাললিক শিলা: স্তরীভবন, জীবাশ্ম ও...
4 ৪. রূপান্তরিত শিলা ও অবিরাম শিলাচক্...
5 ৫. মাটি সৃষ্টি, মৃত্তিকা পরিলেখ (A,...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. খনিজ ও শিলার মৌলিক ধারণা এবং তিন প্রধান শিলা পরিবার

আমাদের পায়ের নিচে যে কঠিন ভূত্বক রয়েছে, তা এক বিশাল শিলাভাণ্ডার। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূত্বকের প্রায় ৯৮% অংশ মাত্র আটটি মৌলিক উপাদান দ্বারা গঠিত (অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম)। এই উপাদানগুলি মিলিত হয়ে খনিজ এবং খনিজের পুঞ্জীভবনে শিলা সৃষ্টি করে।

1

খনিজ ও শিলার সংজ্ঞা

নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও অভ্যন্তরীণ স্ফটিক কাঠামোযুক্ত প্রাকৃতিক অজৈব উপাদান হলো খনিজ (Mineral)। অন্যদিকে এক বা একাধিক খনিজের প্রাকৃতিক সংমিশ্রণে গঠিত হয় কঠিন শিলা (Rock)।

2

একক খনিজ ও বহু খনিজ শিলা

চুনাপাথর ও মার্বেল কেবল ক্যালসাইট খনিজ দিয়ে গঠিত (একক খনিজ শিলা)। পক্ষান্তরে গ্রানাইট কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার ও অভ্রের সংমিশ্রণে গঠিত (বহু খনিজ শিলা)।

3

আগ্নেয় শিলা (প্রাথমিক শিলা)

ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা বা লাভা জমাট বেঁধে তৈরি প্রথম শিলা। এটি স্ফটিকাকার, অত্যন্ত কঠিন এবং এতে কোনো স্তর বা জীবাশ্ম থাকে না।

4

পাললিক শিলা (স্তরীভূত শিলা)

আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শিলাচূর্ণ নদী, বায়ু দ্বারা পরিবাহিত হয়ে জলাশয়ে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম (Fossils) পাওয়া যায়।

5

রূপান্তরিত শিলা (কেলাসিত শিলা)

ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড উত্তাপ (২০০°-৮০০°C) ও চাপের প্রভাবে পূর্ববর্তী আগ্নেয় বা পাললিক শিলার ভৌত ও রাসায়নিক গুণ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে এই শিলা জন্ম নেয়।

২. আগ্নেয় শিলা: ম্যাগমার শীতলীকরণ, পাতালিক গ্রানাইট ও নিঃসারী ব্যাসল্ট

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা। লাতিন শব্দ 'Ignis' (আগুন) থেকে এর উৎপত্তি। ভূ-অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা বা ভূপৃষ্ঠের লাভা শীতল হয়ে এই শিলা সৃষ্টি হয়।

1

ম্যাগমা বনাম লাভা ও শীতলীকরণ

ভূগর্ভের তরল গলিত শিলা হলো ম্যাগমা (Magma)। অগ্ন্যুৎপাতের সময় ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা (Lava) বলে। শীতলীকরণের হারের ওপর শিলার দানার আকার নির্ভর করে।

2

পাতালিক বা উদ্বেধী শিলা (গ্রানাইট)

ম্যাগমা ভূগর্ভের বহু গভীরে অত্যন্ত ধীর গতিতে শীতল হয়, ফলে খনিজের স্ফটিকগুলো বড় ও সুস্পষ্ট আকারের হয়। প্রধান উদাহরণ: গ্রানাইট (Granite) ও গ্যাব্রো।

3

নিঃসারী বা আগ্নেয় শিলা (ব্যাসল্ট)

লাভা ভূপৃষ্ঠে উন্মুক্ত বাতাস ও জলের সংস্পর্শে দ্রুত শীতল ও জমাট বাঁধে, ফলে এর স্ফটিকগুলো অতি সূক্ষ্ম বা আণুবীক্ষণিক হয়। প্রধান উদাহরণ: ব্যাসল্ট (Basalt), যা দাক্ষিণাত্যের ডেকান ট্র্যাপ তৈরি করেছে।

4

পিউমিস: জলে ভাসা অদ্ভুত শিলা

লাভা উদগীরণের সময় প্রচুর গ্যাসের বুদবুদ ভেতরে আটকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র তৈরি করে। ফলে পিউমিস (Pumice) পাথরের ঘনত্ব জলের চেয়ে কম হয় এবং এটি জলে ভেসে থাকে।

5

ব্যবহারিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

রেললাইনের নিচে শক্ত ব্যাসল্ট পাথর (ব্যালাস্ট) পাতা হয়; অন্যদিকে স্মৃতিস্তম্ভ, ভাস্কর্য ও গৃহনির্মাণে টেকসই পালিশযুক্ত গ্রানাইট ব্যবহৃত হয়।

৩. পাললিক শিলা: স্তরীভবন, জীবাশ্ম ও শিলীভবনের প্রক্রিয়া

পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) হলো প্রকৃতির ঐতিহাসিক দিনলিপি। লাতিন শব্দ 'Sedimentum' (থিতিয়ে পড়া) থেকে এর নামকরণ। নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের তলদেশে কোটি কোটি বছর ধরে পলি জমে এটি সৃষ্টি হয়।

1

পলি সঞ্চয়ন ও শিলীভবন (Lithification)

শিলাচূর্ণ ও বালিকণা স্তরে স্তরে জমা হওয়ার পর ওপরের স্তরের প্রবল চাপ এবং সিলিকা বা ক্যালসাইটের প্রাকৃতিক আঠালো সিমেন্টেশনের মাধ্যমে আলগা পলি কঠিন শিলায় রূপান্তরিত হয়।

2

স্তরীভবন ও বেডিং প্লেন

পাললিক শিলার প্রতিটি স্তর অনুভূমিক রেখা বরাবর পৃথক থাকে, যাকে বেডিং প্লেন (Bedding plane) বলে। এতে তরঙ্গের দাগ ও কাদার ফাটল সংরক্ষিত থাকে।

3

জীবাশ্মের সংরক্ষণ (Fossils)

পলি জমার সময় সামুদ্রিক প্রাণী বা উদ্ভিদের অবশেষ পলির নিচে চাপা পড়ে অক্সিজেনের অভাবে পচনমুক্ত থাকে এবং কালক্রমে খনিজ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পাথরে রূপান্তরিত হয়ে জীবাশ্ম (Fossils) তৈরি করে।

4

উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ

যান্ত্রিক উপায়ে গঠিত: বেলেপাথর ও কাদাশিলা; জৈব উপায়ে গঠিত: চুনাপাথর ও কয়লা; রাসায়নিক উপায়ে গঠিত: জিপসাম ও খনিজ লবণ।

5

স্থাপত্য ও শক্তি সম্পদ

দিল্লির লালকেল্লা ও আগ্রার দুর্গ লাল বেলেপাথরে নির্মিত; তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল জ্বালানি কয়লা এবং সিমেন্ট কারখানার কাঁচামাল চুনাপাথর—উভয়ই পাললিক শিলা।

৪. রূপান্তরিত শিলা ও অবিরাম শিলাচক্রের রূপান্তর ধারা

গ্রিক শব্দ 'Meta' (পরিবর্তন) এবং 'Morphe' (রূপ) থেকে রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) কথাটি এসেছে। চরম তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পূর্বের যেকোনো শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পুনর্বিন্যাস ঘটে।

1

রূপান্তরের চালিকাশক্তি

ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড উত্তাপ (২০০°-৮০০°C), পার্শ্বীয় ভূ-গাঠনিক চাপ এবং রাসায়নিকভাবে সক্রিয় উত্তপ্ত তরল ও বাষ্প খনিজের পুনঃকেলাসন (Recrystallization) ঘটায়।

2

পত্রায়ন ও ব্যান্ডিং (Foliation)

প্রচণ্ড একমুখী চাপে খনিজের স্ফটিকগুলো চ্যাপ্টা হয়ে পরস্পর সমান্তরাল পটি বা ব্যান্ডের আকারে সজ্জিত হয়। একে পত্রায়ন (Foliation) বলে, যা নিস ও স্লেট শিলায় স্পষ্ট দেখা যায়।

3

প্রধান প্রধান রূপান্তর সারণি

গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস, ব্যাসল্ট $\to$ অ্যাম্ফিবোলাইট, চুনাপাথর $\to$ মার্বেল, বেলেপাথর $\to$ কোয়ার্টজাইট, কাদাশিলা $\to$ স্লেট, এবং কয়লা $\to$ গ্রাফাইট ও হীরা।

4

অবিরাম শিলাচক্র (Rock Cycle)

ম্যাগমা $\to$ আগ্নেয় শিলা $\to$ ক্ষয় হয়ে পাললিক শিলা $\to$ তাপ-চাপে রূপান্তরিত শিলা $\to$ ভূগর্ভে গলে পুনরায় ম্যাগমা। এই অবিরাম রূপান্তরচক্রই হলো শিলাচক্র।

5

ঐতিহাসিক সৌধ ও শিল্প ব্যবহার

আগ্রার তাজমহল ও কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি; স্কুলের লেখার স্লেট ও ছাদের টালি তৈরিতে স্লেট ব্যবহৃত হয়।

৫. মাটি সৃষ্টি, মৃত্তিকা পরিলেখ (A, B, C, R) ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ

মাটি (Soil) হলো পৃথিবীর স্থলভাগের সবচেয়ে পাতলা অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব স্তর। কঠিন শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে রেগোলিথ তৈরি হয় এবং তার সাথে হিউমাস ও জলবায়ুর দীর্ঘ শতবর্ষের মিথস্ক্রিয়ায় উর্বর মাটি জন্ম নেয়।

1

রেগোলিথ থেকে মাটির সৃষ্টি

আবহবিকারের ফলে কঠিন ভিত্তি শিলা চূর্ণ হয়ে আলগা শিলাচূর্ণের স্তর রেগোলিথ (Regolith) তৈরি হয়। এতে হিউমাস, জল, বায়ু ও ব্যাকটিরিয়া যুক্ত হলে তা মাটিতে পরিণত হয়।

2

ডকুচেভের মাটি সৃষ্টির সমীকরণ

রাশিয়ান বিজ্ঞানী ডকুচেভ দেখান: $S = f(P, Cl, O, R, T)$ যেখানে $P$=আদি শিলা, $Cl$=জলবায়ু (সবচেয়ে সক্রিয়), $O$=জীবজগৎ ও হিউমাস, $R$=ভূ-প্রকৃতি, এবং $T$=সময়। ১ ইঞ্চি মাটি তৈরিতে ৫০০-১০০০ বছর লাগে।

3

মৃত্তিকা পরিলেখ ও স্তরসমূহ (Soil Horizons)

একটি পরিণত মাটির উল্লম্ব প্রস্থচ্ছেদে ৪টি স্তর দেখা যায়: A স্তর (শীর্ষ মৃত্তিকা, হিউমাস সমৃদ্ধ ও উদ্ভিদের মূল অঞ্চল), B স্তর (উপমৃত্তিকা, খনিজ সঞ্চয়ন), C স্তর (রেগোলিথ), এবং R স্তর (আদি কঠিন ভিত্তি শিলা)।

4

মাটির বুনট ও প্রকারভেদ

বালির ভাগ বেশি থাকলে বেলে মাটি (জল ধারণক্ষমতা কম); কাদার ভাগ বেশি হলে এঁটেল মাটি (আঠালো, জল জমে); এবং বালি ও কাদার সুষম অনুপাত ($pprox ৪০:৪০:২০$) থাকলে দোআঁশ মাটি (কৃষিকাজের পক্ষে শ্রেষ্ঠ)।

5

মৃত্তিকা ক্ষয়রোধ ও সংরক্ষণ

পাহাড়ের ঢালে ধাপ চাষ (Terrace farming) ও সমোন্নতি চাষ (Contour ploughing), শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু প্রতিরোধক বেষ্টনী (Shelter belts), এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ মৃত্তিকা ক্ষয়রোধের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপায়।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

শিলার ত্রি-স্তরীয় শ্রেণিবিভাগ (Three Rock Families)
আগ্নেয় শিলা (ম্যাগমা) | পাললিক শিলা (পলি ও জীবাশ্ম) | রূপান্তরিত শিলা (তাপ ও চাপ)
উৎপত্তি অনুসারে পৃথিবীর সমস্ত শিলা এই তিন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
শিলার রূপান্তরের মূল সূত্র (Metamorphic Transformation Law)
গ্রানাইট → নিস | চুনাপাথর → মার্বেল | বেলেপাথর → কোয়ার্টজাইট | কাদাশিলা → স্লেট
উচ্চ তাপমাত্রা (২০০°-৮০০°C) ও ভূ-চাপে খনিজের পুনর্গঠন ঘটে।
ডকুচেভের মাটি সৃষ্টির সমীকরণ (Dokuchaev Soil Equation)
S = f(P, Cl, O, R, T)
S=মৃত্তিকা, P=আদি শিলা, Cl=জলবায়ু, O=জীবজগৎ/হিউমাস, R=ভূ-প্রকৃতি, T=সময়।
মৃত্তিকা পরিলেখ স্তরবিন্যাস (Soil Profile Horizons)
A স্তর (শীর্ষমৃত্তিকা/হিউমাস) → B স্তর (উপমৃত্তিকা) → C স্তর (রেগোলিথ) → R স্তর (আদি শিলা)
পরিপক্ব মাটিতে এই চারটি স্তর সুস্পষ্টভাবে গঠিত থাকে।
মাটির কণার আকার ও বুনট সূচক (Soil Texture Index)
বেলে মাটি (বালি > ৮৫%) | এঁটেল মাটি (কাদা > ৫০%) | দোআঁশ মাটি (বালি ৪০% : পলি ৪০% : কাদা ২০%)
দোআঁশ মাটি কৃষিকাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও উর্বর।
মোহস কাঠিন্য মানক (Mohs Scale of Hardness)
ট্যাল্ক (১ - নরমতম) → জিপসাম (২) → ক্যালসাইট (৩) → ... → কোয়ার্টজ (৭) → হীরা (১০ - কঠিনতম)
খনিজের আপেক্ষিক কাঠিন্য পরিমাপের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক স্কেল।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট—উভয়ই আগ্নেয় শিলা হওয়া সত্ত্বেও এদের রঙ ও দানার আকারে পার্থক্য দেখা যায় কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ব্যাখ্যা:
১) দানার আকারের পার্থক্য: গ্রানাইট হলো পাতালিক শিলা, যা ভূগর্ভের বহু গভীরে অত্যন্ত ধীর গতিতে শীতল হয়। ফলে খনিজগুলোর স্ফটিক বড় ও সুস্পষ্ট হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়। অন্যদিকে ব্যাসল্ট হলো নিঃসারী শিলা, যা ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে উন্মুক্ত বাতাস ও জলের সংস্পর্শে দ্রুত শীতল হয়, ফলে এর দানাগুলো অতি সূক্ষ্ম হয়।
২) রঙের পার্থক্য: গ্রানাইটে হালকা রঙের কোয়ার্টজ ও ফেল্ডস্পার বেশি থাকে বলে এটি হালকা রঙের হয়; কিন্তু ব্যাসল্টে লোহা ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ ভারী খনিজ বেশি থাকে বলে এটি গাঢ় ধূসর বা কালো রঙের হয়।
উদাহরণ 2
আগ্নেয় বা রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায় না, কিন্তু পাললিক শিলায় জীবাশ্ম থাকে কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ব্যাখ্যা:
১) আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হয় ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা বা লাভা থেকে (তাপমাত্রা ১০০০°C-এর বেশি)। এই চরম তাপে কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের অবশেষ টিকে থাকা অসম্ভব, তৎক্ষণাৎ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
২) রূপান্তরিত শিলা গঠনের সময় শিলা পুনরায় প্রচণ্ড চাপ ও তাপে বিগলিত বা পুনর্গঠিত হয়, ফলে পূর্বের জীবাশ্ম থাকলে তা ধ্বংস হয়ে যায়।
৩) পক্ষান্তরে, পাললিক শিলা নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের জলে শান্ত পরিবেশে স্তরে স্তরে পলি জমে গঠিত হয়। পলি জমার সময় মৃত জীবদেহের দেহাবশেষ সেখানে স্বাভাবিকভাবে চাপা পড়ে অক্সিজেনের অভাবে পচনের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং কালক্রমে পাথরে পরিণত হয়ে জীবাশ্মে রূপ নেয়।
উদাহরণ 3
একটি অঞ্চলে ১০০ বছর ধরে বৃষ্টিপাত ও তাপে গ্রানাইট পাথর চূর্ণ হচ্ছে। এই চূর্ণ পাথরকে কি সরাসরি "মাটি" বলা যাবে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ব্যাখ্যা: না, একে সরাসরি মাটি বলা যাবে না।
কেবল পাথর চূর্ণ হয়ে যে আলগা শিলাচূর্ণের স্তর তৈরি হয়, তাকে বলা হয় রেগোলিথ (Regolith)। রেগোলিথ হলো মাটি তৈরির প্রাথমিক উপাদান মাত্র। মাটি হতে গেলে এই রেগোলিথের সঙ্গে শত শত বছর ধরে জলবায়ু, জল, বাতাস, উদ্ভিদের শিকড়, ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপে তৈরি জৈব অবশেষ বা হিউমাস (Humus) যুক্ত হতে হবে। হিউমাস এবং খনিজের সুষম সংমিশ্রণ ছাড়া রেগোলিথ উর্বর মাটিতে রূপান্তরিত হতে পারে না।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে পাথর মানেই মাটিহীন কঠিন বস্তু এবং সব পাথরেই কয়লার মতো আগুন জ্বলে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কয়লা হলো জৈব পাললিক শিলা যা দাহ্য, কিন্তু গ্রানাইট বা মার্বেল সম্পূর্ণ অজৈব খনিজের কঠিন স্ফটিক যা দাহ্য নয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভেবে নেওয়া যে চুনাপাথর ও মার্বেল সম্পূর্ণ আলাদা শিলা যাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মার্বেল আসলে চুনাপাথরেরই রূপান্তরিত রূপ। তাপ ও চাপে চুনাপাথরের ক্যালসাইট স্ফটিকগুলো ঘন হয়ে মার্বেলে পরিণত হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

রেগোলিথ এবং মাটিকে একই জিনিস মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

রেগোলিথে কোনো হিউমাস বা পুষ্টি উপাদান থাকে না, এটি মাটি তৈরির অপ্রস্তুত কাঁচামাল; কিন্তু মাটিতে হিউমাস ও পুষ্টিরস থাকে যা গাছকে বাঁচিয়ে রাখে।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে বেলে মাটিতে জল ঢাললে তা মাটির ভেতর থেকে যায়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

বেলে মাটির রন্ধ্রস্থান বড় হওয়ায় জল খুব দ্রুত চুইয়ে নিচে চলে যায়, তাই এর জলধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুলবশত পিউমিস পাথরকে ভারী পাথর মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পিউমিস এমন একটি বিশেষ আগ্নেয় শিলা যাতে গ্যাসের বুদবুদে ছিদ্র থাকায় এটি হালকা এবং জলে ভেসে থাকে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

🌍 শিলার শ্রেণিবিভাগ, ভূ-তাত্ত্বিক শিলাচক্র ও মাটির স্তরবিন্যাস WBBSE Class 7 Geography (আমাদের পৃথিবী) • TargetExams Gold Standard Chapter 6 Notes ১. তিন প্রকার শিলা ও শিলাচক্র আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার অবিরাম আবর্তন আগ্নেয় শিলা (প্রাথমিক) পাললিক শিলা (জীবাশ্ম) রূপান্তরিত শিলা (কেলাসিত) Magma ম্যাগমা Weathering • Lithification • Heat & Lithostatic Pressure • Melting ২. আগ্নেয় ও পাললিক শিলার উৎপত্তি পাতালিক গ্রানাইট, নিঃসারী ব্যাসল্ট ও জীবাশ্মযুক্ত স্তর Pluton: Granite Lava: Basalt পাতালিক: গ্রানাইট (বড় দানা) Sandstone (বেলেপাথর) Shale (কাদাশিলা) • Fossils 🐚 Limestone (চুনাপাথর) স্তরীভূত পাললিক শিলা ও জীবাশ্ম ৩. শিলার রূপান্তর প্রক্রিয়া তাপ ও চাপের প্রভাবে রূপান্তর: নিস, মার্বেল ও স্লেট গ্রানাইট → নিস (ব্যান্ডযুক্ত) চুনাপাথর → মার্বেল (তাজমহল) বেলেপাথর → কোয়ার্টজাইট (কঠিন) কাদাশিলা → স্লেট (লিখন ফলক) Metamorphism Drivers (রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি) 🔥 High Temperature (200°C - 800°C) + ⚙️ Directional & Lithostatic Pressure Mineral Recrystallization • Foliation (পত্রায়ণ) • Non-Porous Crystal Matrix ৪. মাটির স্তরবিন্যাস (মৃত্তিকা পরিলেখ) শীর্ষ মৃত্তিকা (হিউমাস), উপমৃত্তিকা, রেগোলিথ ও আদি শিলা A স্তর: শীর্ষ মৃত্তিকা (উর্বর হিউমাস) 🌱 Plant Root Zone B স্তর: উপমৃত্তিকা (সঞ্চিত খনিজ) Illuviation (সঞ্চয়) C স্তর: রেগোলিথ (ভাঙ্গা শিলাখণ্ড) Weathered Debris R স্তর: কঠিন আদি ভিত্তি শিলা Impermeable Rock মাটির বুনট: বেলে, এঁটেল ও দোআঁশ (Sand:Silt:Clay Ratio)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ভূত্বক বিভিন্ন খনিজের সংমিশ্রণে গঠিত শিলা দ্বারা নির্মিত; খনিজ হলো নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনযুক্ত অজৈব উপাদান।
মূল বিষয় 2
উৎপত্তি অনুসারে শিলা ৩ প্রকার: আগ্নেয় শিলা (প্রাথমিক), পাললিক শিলা (স্তরীভূত), এবং রূপান্তরিত শিলা।
মূল বিষয় 3
ধীরে শীতল হওয়া পাতালিক আগ্নেয় শিলা হলো গ্রানাইট (বড় দানা), এবং দ্রুত শীতল হওয়া নিঃসারী শিলা হলো ব্যাসল্ট (সূক্ষ্ম দানা)।
মূল বিষয় 4
একমাত্র পাললিক শিলাতেই স্তরীভবন রেখা এবং প্রাচীন জীবের জীবাশ্ম (Fossils) সংরক্ষিত থাকে।
মূল বিষয় 5
প্রচণ্ড তাপ ও চাপে গ্রানাইট নিসে, চুনাপাথর মার্বেলে, বেলেপাথর কোয়ার্টজাইটে এবং কাদাশিলা স্লেটে রূপান্তরিত হয়।
মূল বিষয় 6
শিলাচক্রের মাধ্যমে আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা কোটি কোটি বছর ধরে একে অন্যে চক্রাকারে পরিবর্তিত হচ্ছে।
মূল বিষয় 7
আবহবিকারের ফলে শিলাচূর্ণ রেগোলিথে পরিণত হয় এবং জলবায়ু ও হিউমাসের দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় মাটি সৃষ্টি হয়।
মূল বিষয় 8
পরিপক্ব মৃত্তিকা পরিলেখে A (শীর্ষমৃত্তিকা), B (উপমৃত্তিকা), C (রেগোলিথ) ও R (আদি শিলা) স্তর থাকে; দোআঁশ মাটি কৃষির পক্ষে শ্রেষ্ঠ।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
কোন আগ্নেয় শিলা জলে ভাসে এবং কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পিউমিস (Pumice) পাথর জলে ভাসে। লাভা উদগীরণের সময় লাভার মধ্যে প্রচুর গ্যাসের বুদবুদ আটকে গিয়ে ঝাঁঝরা ও অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র তৈরি করে। ফলে এর ঘনত্ব জলের ঘনত্বের চেয়ে কম হয়ে যায় এবং এটি সহজে জলে ভেসে থাকে।
2
দাক্ষিণাত্যের মালভূমির অধিকাংশ স্থান কালো রঙের মাটিতে গঠিত কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: দাক্ষিণাত্যের মালভূমি প্রাচীনকালে ভূগর্ভের ফাটল দিয়ে নির্গত লাভা জমে সৃষ্টি হয়েছিল, যা ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। দীর্ঘকাল ধরে এই ব্যাসল্ট শিলা আবহবিকারগ্রস্ত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে লোহাসমৃদ্ধ উর্বর কালো রঙের রেগুর বা কৃষ্ণমৃত্তিকা সৃষ্টি করেছে।
3
পাললিক শিলাকে স্তরীভূত শিলা বলা হয় কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: নদী, বায়ু বা হিমবাহের দ্বারা পরিবাহিত পলিকণা সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে বছরের পর বছর ধরে একটির ওপর আরেকটি অনুভূমিক স্তর হিসেবে জমা হয়। এই স্তরগুলো পরবর্তীকালে ওপরের চাপে জমে পাথরে পরিণত হলেও পূর্বের স্তরভেদ রেখা (Bedding plane) সুস্পষ্ট থেকে যায়, তাই একে স্তরীভূত শিলা বলে।
4
মাটির পরিলেখে কোন স্তরটি উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: A স্তর বা শীর্ষ মৃত্তিকা (Topsoil) উদ্ভিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই স্তরে সবচেয়ে বেশি জৈব পদার্থ ও উদ্ভিদের পচা পাতা-দেহাবশেষ থেকে তৈরি কালো রঙের হিউমাস (Humus) থাকে, যা মাটিতে জল ও পুষ্টি উপাদান ধরে রেখে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
5
বেলে, এঁটেল ও দোআঁশ মাটির মধ্যে কৃষিকাজের জন্য কোনটি সবচেয়ে আদর্শ এবং কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: দোআঁশ মাটি কৃষিকাজের জন্য সবচেয়ে আদর্শ। কারণ এতে প্রায় ৪০% বালি, ৪০% পলি এবং ২০% কাদার সুষম সংমিশ্রণ থাকে। ফলে এতে গাছের শিকড়ে বায়ু চলাচলের সুব্যবস্থা থাকে এবং অতিরিক্ত জল নিষ্কাশন ও প্রয়োজনীয় জলধারণ ক্ষমতা—উভয় গুণই পুরোপুরি বজায় থাকে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।