আমাদের পায়ের নিচে যে কঠিন ভূত্বক রয়েছে, তা এক বিশাল শিলাভাণ্ডার। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূত্বকের প্রায় ৯৮% অংশ মাত্র আটটি মৌলিক উপাদান দ্বারা গঠিত (অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম)। এই উপাদানগুলি মিলিত হয়ে খনিজ এবং খনিজের পুঞ্জীভবনে শিলা সৃষ্টি করে।
খনিজ ও শিলার সংজ্ঞা
নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও অভ্যন্তরীণ স্ফটিক কাঠামোযুক্ত প্রাকৃতিক অজৈব উপাদান হলো খনিজ (Mineral)। অন্যদিকে এক বা একাধিক খনিজের প্রাকৃতিক সংমিশ্রণে গঠিত হয় কঠিন শিলা (Rock)।
একক খনিজ ও বহু খনিজ শিলা
চুনাপাথর ও মার্বেল কেবল ক্যালসাইট খনিজ দিয়ে গঠিত (একক খনিজ শিলা)। পক্ষান্তরে গ্রানাইট কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার ও অভ্রের সংমিশ্রণে গঠিত (বহু খনিজ শিলা)।
আগ্নেয় শিলা (প্রাথমিক শিলা)
ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা বা লাভা জমাট বেঁধে তৈরি প্রথম শিলা। এটি স্ফটিকাকার, অত্যন্ত কঠিন এবং এতে কোনো স্তর বা জীবাশ্ম থাকে না।
পাললিক শিলা (স্তরীভূত শিলা)
আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শিলাচূর্ণ নদী, বায়ু দ্বারা পরিবাহিত হয়ে জলাশয়ে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম (Fossils) পাওয়া যায়।
রূপান্তরিত শিলা (কেলাসিত শিলা)
ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড উত্তাপ (২০০°-৮০০°C) ও চাপের প্রভাবে পূর্ববর্তী আগ্নেয় বা পাললিক শিলার ভৌত ও রাসায়নিক গুণ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে এই শিলা জন্ম নেয়।