Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Geography & Environment (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় 4
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভূমিরূপ

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পৃথিবীর প্রধান তিনটি ভূমিরূপ—পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির উৎপত্তি, শ্রেণিবিভাগ, বৈশিষ্ট্য এবং মানবজীবনে এদের বহুমুখী প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

তোমরা কি জানো, তিব্বত মালভূমি এত উঁচুতে অবস্থিত (গড় উচ্চতা ৪,৫০০ মিটারের বেশি) যে একে "পৃথিবীর ছাদ" বলা হয়? কিংবা আমাদের ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির ধাপগুলোকে কেন সুইডিশ শব্দ "ট্র্যাপ" বলা হয়? এই অধ্যায়ে উন্মোচিত হবে পৃথিবীর ভূ-প্রকৃতির অসাধারণ সব রহস্য!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

আমরা যে ভূত্বকের ওপর বসবাস করি, তা সর্বত্র সমতল নয়। কোথাও আকাশচুম্বী বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ, কোথাও টেবিলের মতো খাড়া ঢালযুক্ত মালভূমি, আবার কোথাও দিগন্তবিস্তৃত উর্বর পলল সমভূমি। এই ভূমিরূপ কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং মানুষের পেশা, কৃষি, শিল্প ও জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে—তা জানা ভূগোল শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন (ভূত্বক, গুরুমণ্ডল, কেন্দ্রস্থল) এবং শিলা ও খনিজের প্রাথমিক ধারণা।
  • সৌরশক্তি, আবহবিকার ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাধারণ নিয়মাবলি সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান।
  • পাত সংস্থান তত্ত্ব এবং টেকটনিক পাতের পারস্পরিক চলনের সাধারণ ধারণা।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়ার উৎপত্তি ও কার্যপদ্ধতির মূল পার্থক্য ব্যাখ্যা করা।
  • ভঙ্গিল, স্তূপ, আগ্নেয় ও ক্ষয়জাত পর্বতের উৎপত্তি এবং উদাহরণ বিশ্লেষণ করা।
  • তিব্বত মালভূমি ("পৃথিবীর ছাদ") ও ডেকান ট্র্যাপ লাভা মালভূমির গঠন বোঝা।
  • পলিগঠিত সমভূমি ও লোয়েস সমভূমির গঠন এবং কৃষিভিত্তিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা।
  • মানবজীবনে ভূমিরূপের বহুমুখী প্রভাব ও অর্থনৈতিক অভিযোজন মূল্যায়ন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া: অন্ত...
2 ২. পর্বত: উৎপত্তি, শ্রেণিবিভাগ ও বৈ...
3 ৩. মালভূমি: বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ ও...
4 ৪. সমভূমি: গঠন, বিভিন্ন রূপ ও বৈশ্ব...
5 ৫. মানবজীবনে ভূমিরূপের প্রভাব ও অর্...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া: অন্তর্জাত ও বহির্জাত শক্তি

পৃথিবীর উপরিতল সর্বত্র মসৃণ বা একরকম নয়। কোথাও রয়েছে সুউচ্চ শৃঙ্গ, কোথাও মালভূমি, আবার কোথাও সমতল ভূমি। ভূ-পৃষ্ঠের এই বৈচিত্র্যময় রূপকেই ভূমিরূপ (Landform) বলা হয়। পৃথিবীর এই ভূমিরূপসমূহ প্রধানত দুটি বিপরীতধর্মী প্রাকৃতিক শক্তির পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে: (১) ভূ-অভ্যন্তরীণ বা অন্তর্জাত শক্তি এবং (২) ভূপৃষ্ঠস্থ বা বহির্জাত শক্তি।

১

অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenic Processes) ও ভূ-আন্দোলন

পৃথিবীর অভ্যন্তরে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ভাঙ্গন ও ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত তাপের কারণে গুরুমণ্ডলের অ্যাসথেনোস্ফিয়ারে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়। এই অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের পাতগুলি সঞ্চালিত হয়। অন্তর্জাত প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান রূপ:

  • ধীর ভূ-আলোড়ন (Slow Movements): কোটি কোটি বছর ধরে শান্তভাবে ঘটে। এটি আবার দুই প্রকার—গিরিজনি আলোড়ন (Orogenic movement, যা অনুভূমিকভাবে পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ ফেলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে) এবং মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic movement, যা উল্লম্বভাবে কাজ করে মহাদেশের উত্থান বা নিমজ্জন ঘটায়)।
  • আকস্মিক ভূ-আলোড়ন (Sudden Movements): অতি দ্রুত কয়েক সেকেন্ড বা ঘণ্টার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়; যেমন—ভূমিকম্প (Earthquake) এবং অগ্ন্যুৎপাত (Volcanism)।
২

বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenic Processes) ও সমতাকরণ

সৌরশক্তি ও পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে। বায়ুপ্রবাহ, নদী, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ ও আবহবিকার হলো প্রধান বহির্জাত শক্তি। এরা উচ্চস্থানকে ক্ষয় করে নিচু করে (অবরোহণ বা Degradation) এবং ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ নিচু জায়গায় জমা করে ভরাট করে (আরোহণ বা Aggradation)। এই দুইয়ের যৌথ ফলাফলকে পর্যায়ন বা সমতাকরণ (Gradation) বলা হয়।

৩

উচ্চতামূলক ভূমিরূপ শ্রেণিবিভাগ (Hypsometric Classification)

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, ভূমির ঢাল ও বন্ধুরতার ভিত্তিতে ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপকে প্রধান তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:

  • পর্বত (Mountain): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটারের বেশি উচ্চতাযুক্ত, খাড়া ঢাল ও সূচালো শৃঙ্গ বিশিষ্ট সুবিস্তৃত শিলাময় উচ্চভূমি।
  • মালভূমি (Plateau): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৩০০ থেকে ৯০০ মিটার উঁচু, চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত এবং শীর্ষদেশ চওড়া ও প্রায় সমতল শিলাময় অঞ্চল (টেবিল ল্যান্ড)।
  • সমভূমি (Plain): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের কম উচ্চতায় অবস্থিত প্রায় সমতল বা মৃদু তরঙ্গায়িত বিস্তীর্ণ ভূমিভাগ।
৪

পাত সংস্থান তত্ত্ব ও ভূমিরূপের রূপান্তর (Plate Tectonics)

বিজ্ঞানী পিচো ও মরগানের পাত সংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী সমগ্র ভূতৃক কতগুলি বড় ও ছোট শক্ত ও চলমান পাতের সমন্বয়ে গঠিত। দুটি পাতের পরস্পরের অভিমুখে চলন (অভিসারী পাত সীমানা) ঘটলে সেখানে শিলাস্তরে সংনমন বলের কারণে ভঙ্গিল পর্বতমালা গড়ে ওঠে। বিপরীতমুখী চলনে (প্রতিসারী পাত সীমানা) ভূত্বকে ফাটল ও গ্রস্ত উপত্যকা তৈরি হয়।

৫

পরীক্ষার্থী সংকেত ও সারসংক্ষেপ

পরীক্ষায় প্রায়ই অন্তর্জাত ও বহির্জাত শক্তির পার্থক্য আসে। মনে রাখবে: অন্তর্জাত শক্তি ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি করে বৈচিত্র্য আনে (Primary Landforms), আর বহির্জাত শক্তি ক্ষয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিকে মসৃণ ও সমতল করতে সচেষ্ট থাকে (Secondary Landforms)।

২. পর্বত: উৎপত্তি, শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য

পর্বত হলো ভূপৃষ্ঠের সর্বাধিক দৃশ্যমান ও চিত্তাকর্ষক ভূমিরূপ। সাধারণত ৩০০ থেকে ৯০০ মিটারের উচ্চতাকে 'পাহাড়' (Hill) বলা হয়, কিন্তু উচ্চতা ৯০০ বা ১০০০ মিটারের অধিক হলে তাকে পর্বত (Mountain) আখ্যা দেওয়া হয়। উৎপত্তির ভৌগোলিক প্রক্রিয়া অনুসারে পর্বতকে প্রধান চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

১

ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains): সংকোচন ও ভাঁজের খেলা

পার্শ্ববর্তী দুটি ভূখণ্ডের চলনে টেথিসের মতো অগভীর সমুদ্র বা মহীখাতে (Geosyncline) সঞ্চিত পাললিক শিলাস্তরে প্রবল অনুভূমিক পার্শ্বচাপ বা সংনমন বল (Compressive Force) প্রযুক্ত হয়। ফলে শিলাস্তর কুঁচকে গিয়ে বা ভাঁজ হয়ে সুউচ্চ ভঙ্গিল পর্বত গঠন করে। ভাঁজের উর্ধ্বমুখী অংশকে উর্ধ্বভঙ্গ (Anticline) এবং অধোমুখী অংশকে অধোভঙ্গ (Syncline) বলে।

  • নবীন ভঙ্গিল পর্বত (Young Fold Mountains): টার্শিয়ারি যুগে (প্রায় ৬-৭ কোটি বছর আগে) গঠিত। এদের শৃঙ্গগুলি সুউচ্চ, চোখা ও বরফাবৃত, এবং এখনও পাতের সঞ্চালনের কারণে উচ্চতা বাড়ছে। উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ।
  • প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত (Old Fold Mountains): প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান বা প্যালিয়োজোয়িক যুগে (প্রায় ২৫-৫০ কোটি বছর আগে) গঠিত। দীর্ঘকাল ক্ষয়কার্যের ফলে এদের উচ্চতা হ্রাস পেয়েছে এবং শৃঙ্গগুলি গোলাকার রূপ নিয়েছে। উদাহরণ: ভারতের আরাবল্লী (বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন পর্বত), উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান, রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা।
২

স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা (Block Mountains & Rift Valleys)

ভূ-আলোড়নের ফলে যখন ভূত্বকে টান বল (Tensional Force) বা সংনমন বলের সৃষ্টি হয়, তখন শিলাস্তরে সমান্তরাল ফাটল বা চ্যুতি (Fault) তৈরি হয়। দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূখণ্ড ভূ-আলোড়নের চাপে ওপরে উঠে গেলে কিংবা দুপাশের ভূখণ্ড নিচে বসে গিয়ে মধ্যভাগের অংশ উঁচু হয়ে যে পর্বত গঠিত হয়, তাকে স্তূপ পর্বত বা হর্স্ট (Horst / Block Mountain) বলে। এর শিখরদেশ চ্যাপ্টা এবং পার্শ্বঢাল অত্যন্ত খাড়া হয়।

বিপরীতভাবে, দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ যদি বসে গিয়ে দীর্ঘ খাড়া ঢালযুক্ত অবনমিত সংকীর্ণ উপত্যকা তৈরি করে, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বা গ্রাবেন (Rift Valley / Graben) বলা হয়।

  • উদাহরণ: জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট ও ফ্রান্সের ভোজ পর্বতের মাঝে রাইন নদীর গ্রস্ত উপত্যকা। ভারতে বিন্ধ্য ও সাতপুরা স্তূপ পর্বতের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নর্মদা নদীর গ্রস্ত উপত্যকা।
৩

আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountains)

ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশে থাকা গলিত ম্যাগমা, বাষ্প, গ্যাস এবং ছাই ভূত্বকের দুর্বল ফাটল বা আগ্নেয় নালী (Vent) দিয়ে প্রবল বেগে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয় (Lava Eruption)। ক্রমাগত লাভা ও ভস্ম নির্গত হয়ে জ্বালামুখের চারপাশে শঙ্কু আকারে (Conical Shape) স্তরে স্তরে জমা হয়ে যে পর্বত সৃষ্টি হয়, তাকে আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain) বলে।

  • সক্রিয় আগ্নেয়গিরি: ইতালির ভিসুভিয়াস ও মাউন্ট এটনা, ভারতের আন্দামানের ব্যারেন দ্বীপ।
  • সুপ্ত আগ্নেয়গিরি: জাপানের পরম সুন্দর ফুজিয়ামা (Mt. Fuji), হাওয়াই দ্বীপের মৌনা লোয়া।
  • মৃত আগ্নেয়গিরি: মায়ানমারের মাউন্ট পোপা, আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো।
৪

ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত (Residual / Relict Mountains)

বহু কোটি বছর ধরে সূর্যতাপ, বৃষ্টিপাত, নদী, বায়ু প্রভৃতির অবিরাম ক্ষয়কাজের ফলে কোনো প্রাচীন উচ্চ পর্বত বা মালভূমির নরম শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অপসারিত হয়। কিন্তু মধ্যস্থিত কঠিন শিলাস্তরগুলি ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ায় বিচ্ছিন্ন খাড়া পাহাড়ের মতো টিকে থাকে। এদের ক্ষয়জাত পর্বত (Residual Mountain) বলে। উদাহরণ: ভারতের আরাবল্লী, বিহারের পরেশনাথ ও রাজমহল পাহাড়, এবং ওড়িশার নীলগিরি।

৫

পর্বতের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্বত মেঘ আটকে বৃষ্টিপাত ঘটায় (শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত), নদনদীর প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে, পাহাড়ি খরস্রোতা নদীতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করে এবং কাঠ, রবার, ভেষজ ঔষধ ও মূল্যবান খনিজের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। দার্জিলিং, সিমলা, মানালির মতো পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

৩. মালভূমি: বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ ও বৈশ্বিক বিস্তৃতি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ থেকে ৯০০ মিটার উচ্চে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ভূভাগ, যার চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত কিন্তু উপরিভাগ টেবিলের মতো প্রায় সমতল বা সামান্য তরঙ্গায়িত, তাকে মালভূমি (Plateau) বলা হয়। এর রূপটি একটি বিশালাকার ডাইনিং টেবিলের সদৃশ হওয়ায় মালভূমিকে ভূগোলে টেবিল ল্যান্ড (Tableland) বলা হয়।

১

মালভূমির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • উচ্চতা ও বন্ধুরতা: উচ্চতা সাধারণতঃ ৩০০-৯০০ মিটারের মধ্যে হলেও কিছু ব্যতিক্রমী মালভূমি (যেমন তিব্বত মালভূমি) পর্বততুল্য উচ্চতা লাভ করে।
  • শীর্ষভাগ ও পার্শ্বঢাল: মালভূমির ওপরের অংশ পর্বতের মতো চোখা শৃঙ্গযুক্ত নয়, বরং চ্যাপ্টা ও বন্ধুর; অথচ প্রান্তভাগ প্রায় উল্লম্ব দেওয়ালের মতো খাড়া খাদে নেমে যায় (Escarpments)।
  • জলপ্রপাতের প্রাচুর্য: মালভূমির খাড়া কিনারা বেয়ে নদী যখন নিচে সমভূমিতে নেমে আসে, তখন চোখ ধাঁধানো জলপ্রপাত সৃষ্টি করে। উদাহরণ: ছোটনাগপুর মালভূমির হুড্রু, জোনা ও দশম জলপ্রপাত।
২

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau) ও পৃথিবীর ছাদ

যেসব মালভূমি চারদিক থেকে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী দ্বারা বেষ্টিত ও সুরক্ষিত থাকে, তাদের পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে। মহাদেশীয় পাতের ধাক্কায় ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময় মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রচণ্ড চাপে ওপরে উঠে গিয়ে এদের জন্ম দেয়।

  • তিব্বত মালভূমি (Tibetan Plateau): দক্ষিণে হিমালয় ও উত্তরে কুনলুন পর্বতমালার মাঝে অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা ৪,৫০০ মিটারের বেশি এবং আয়তন প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি। এর বিপুল উচ্চতার কারণে একে "পৃথিবীর ছাদ" (Roof of the World) বলা হয়।
  • অন্যান্য উদাহরণ: তুরস্কের আনাতোলিয়া মালভূমি, ইরানের মালভূমি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতবেষ্টিত বলিভিয়া মালভূমি।
৩

লাভা মালভূমি ও ডেকান ট্র্যাপ (Lava Plateau & Deccan Trap)

ভূত্বকের গভীর ফাটল বা বিদার নালী দিয়ে কোনো বিস্ফোরণ ছাড়া ভূগর্ভস্থ ক্ষারীয় ব্যাসাল্ট লাভা তরল আকারে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। এই লাভা অনুভূমিক স্তরে স্তরে জমা হয়ে শীতল ও কঠিন হয়ে বিশালাকার লাভা মালভূমি গঠন করে।

ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশের একাংশ জুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গকিমি এলাকায় সুবিস্তৃত দাক্ষিণাত্য মালভূমি (Deccan Plateau) একটি আদর্শ লাভা মালভূমি। আনুমানিক ৬ কোটি বছর আগে ক্রেটাসিয়াস যুগে বিদার অগ্ন্যুৎপাতের লাভা ধাপে ধাপে সঞ্চিত হয়ে এটি তৈরি হয়েছে। দূর থেকে এই মালভূমির পার্শ্বঢাল সিঁড়ির মতো দেখায় বলে একে ডেকান ট্র্যাপ (Deccan Trap) বলা হয় (সুইডিশ শব্দ 'Trap' বা 'Trappa' অর্থ সিঁড়ির ধাপ)। এই ব্যাসাল্ট শিলা আবহবিকারগ্রস্ত হয়ে উর্বর কালো রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা তৈরি করেছে যা কার্পাস বা তুলো চাষের স্বর্গরাজ্য।

৪

মহাদেশীয় মালভূমি ও পাদদেশীয় মালভূমি (Continental & Piedmont Plateaus)

  • মহাদেশীয় মালভূমি বা শিল্ড অঞ্চল (Shields): মহীভাবক ভূ-আলোড়নে প্রাচীন প্রি-ক্যাম্ব্রিয়ান শিলাগঠিত বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড সমুদ্র থেকে সটান উপরে উঠে গিয়ে গঠিত হয়। যেমন—কানাডিয়ান শিল্ড, আরব মালভূমি, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মালভূমি।
  • পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau): উচ্চ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত মালভূমি, যার একদিকে থাকে সুউচ্চ পর্বতমালা এবং অন্যদিক সমভূমি বা সাগরে মিশে যায়। উদাহরণ: উত্তর আমেরিকার পিডমন্ট মালভূমি এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া মালভূমি।
৫

খনিজের ভাণ্ডার হিসেবে মালভূমির অর্থনৈতিক গুরুত্ব

মালভূমি অঞ্চল প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত হওয়ায় এরা হলো "খনিজের রত্নভাণ্ডার" (Storehouse of Minerals)। ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমিতে কয়লা, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও অভ্রের প্রাচুর্যের কারণে একে "ভারতের রূঢ়" (Ruhr of India) বলা হয়। এছাড়াও মালভূমির খাড়া ঢালে গড়ে উঠেছে বহু জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

৪. সমভূমি: গঠন, বিভিন্ন রূপ ও বৈশ্বিক গুরুত্ব

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের কম উচ্চতায় অবস্থিত প্রায় সমতল কিংবা মৃদু তরঙ্গায়িত বিস্তৃত ভূখণ্ডকে সমভূমি (Plain) বলা হয়। পৃথিবীর মোট ভূভাগের অর্ধেকেরও বেশি সমভূমি দ্বারা আবৃত। পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষ এই সমভূমিতেই বসবাস করে। সমভূমি প্রধানত সঞ্চয় ও ক্ষয় কাজের মাধ্যমে গঠিত হয়।

১

পলিগঠিত সমভূমি বা সঞ্চয়জাত সমভূমি (Alluvial Depositional Plains)

নদী, বাতাস কিংবা হিমবাহ দূরদূরান্ত থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত পলি, বালি ও কাদা বহন করে এনে কোনো নিচু নিম্নভূমিতে হাজার হাজার বছর ধরে স্তরে স্তরে জমা করে যে উর্বর সমতল ভূমি গড়ে তোলে, তাকে পলিগঠিত সমভূমি বলে। নদী দ্বারা গঠিত সমভূমি বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক বিস্তৃত:

  • প্লাবন সমভূমি (Floodplain): বর্ষাকালে নদীর দুকূল উপচে বন্যা দেখা দিলে তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সূক্ষ্ম পলি সঞ্চিত হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়।
  • বদ্বীপ সমভূমি (Delta Plain): মোহনায় নদীর গতিবেগ শূন্য হয়ে গেলে পলি জমে জমে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা ($\Delta$) বা বাংলা 'ব'-এর মতো বদ্বীপ সমভূমি গড়ে তোলে; যেমন—গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (বিশ্বের বৃহত্তম)।
  • অন্যান্য বৈশ্বিক উদাহরণ: ভারতের সিন্ধু ও গঙ্গা সমভূমি, চিনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং সমভূমি, মিশরের নীল নদ সমভূমি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি-মিসৌরি সমভূমি।
২

লোয়েস সমভূমি (Loess Plains): মরুভূমির উপহার

মরুভূমি বা শুষ্ক অঞ্চলের অতি সূক্ষ্ম হলুদ বর্ণের কোয়ার্টজ ও ফেল্ডস্পার সমৃদ্ধ ধূলিকণা শক্তিশালী ঝোড়ো বাতাস দ্বারা শত শত কিলোমিটার দূরে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে কোনো দূরবর্তী নিচু তৃণভূমিতে পতিত ও সঞ্চিত হয়। কোটি কোটি বছর ধরে এই ধূলিকণা জমে জমে যে হলুদ রঙের সূক্ষ্ম সমভূমি গঠিত হয়, তাকে লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) বলে (জার্মান শব্দ 'Loess' এর অর্থ আলগা বা ভঙ্গুর মাটি)।

বিশ্ববিখ্যাত উদাহরণ: মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে উড়ে আসা ধূলিকণা চিনের শানসি ও শেনসি অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে বিস্তীর্ণ চিনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকায় লোয়েস মালভূমি ও সমভূমি গঠন করেছে। এই ধূলিকণার রঙ হলুদ হওয়ায় হোয়াংহো নদীর জলও ঘোলাটে হলুদ হয়ে গেছে, যার কারণে নদীটির নাম 'পীত নদী' (Yellow River)।

৩

উপকূলীয় সমভূমি (Coastal Plains)

সমুদ্রের ঢেউ ও সামুদ্রিক তরঙ্গের সঞ্চয়কার্যের ফলে কিংবা সমুদ্রবক্ষ থেকে অগভীর উপকূলীয় ভূখণ্ডের সামান্য উত্থানের মাধ্যমে উপকূল রেখা বরাবর যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ সমভূমি গড়ে ওঠে, তাকে উপকূলীয় সমভূমি বলে। ভারতের উপদ্বীপীয় অংশের দুপাশে রয়েছে উর্বর পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি (উড়িষ্যা, অন্ধ্র ও তামিলনাড়ু উপকূল) এবং পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি (কোঙ্কণ ও মালাবার উপকূল)।

৪

ক্ষয়জাত সমভূমি ও সমপ্রায় ভূমি (Peneplain & Monadnock)

উচ্চ মালভূমি বা পাহাড়ি অঞ্চল কোটি কোটি বছর ধরে বৃষ্টিপাত, বায়ু ও নদীর নিরবচ্ছিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে ধীরে ধীরে ক্ষয় পেতে পেতে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়। ভৌগোলিক উইলিয়াম মরিস ডেভিস একে সমপ্রায় ভূমি বা পেনিপ্লেন (Peneplain) নামে অভিহিত করেছেন। সমপ্রায় ভূমির মাঝে মাঝে কিছু কঠিন শিলাগঠিত অনুচ্চ গোলাকার ঢিবি ক্ষয় প্রতিরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকে, যাদের মোনাডনক (Monadnock) বলা হয় (যেমন রাঁচি মালভূমির কাছে দেখা যায়)।

৫

সমভূমি: মানব সভ্যতার আঁতুড়ঘর (Cradle of Civilizations)

পৃথিবীর প্রায় সব প্রাচীন সভ্যতা—যেমন হরপ্পা ও সিন্ধু সভ্যতা (সিন্ধু নদ), মেসোপটেমীয় সভ্যতা (টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস), মিশরীয় সভ্যতা (নীল নদ) এবং চিনা সভ্যতা (হোয়াংহো নদী)—সমভূমিতেই গড়ে উঠেছিল। সমতল ভূমিতে রাস্তাঘাট, রেলপথ নির্মাণ সহজ, মাটি অত্যন্ত উর্বর ও জলসেচ সুবিধাজনক হওয়ায় কৃষি উৎপাদন প্রচুর হয়। ফলে সমভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল।

৫. মানবজীবনে ভূমিরূপের প্রভাব ও অর্থনৈতিক অভিযোজন

ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের জীবিকা, অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, ঘরবাড়ির কাঠামো ও সাংস্কৃতিক আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য কীভাবে মানবজীবনে প্রত্যক্ষ রূপরেখা তৈরি করে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।

১

পার্বত্য জনজীবন: প্রতিকূলতা ও বেঁচে থাকার লড়াই

  • কৃষি ও ধাপ চাষ (Terrace Farming): খাড়া পাহাড়ি ঢালে মাটি ধরে রাখা অসম্ভব। তাই পর্বতের ঢাল কেটে কেটে সিঁড়ির মতো ধাপ বানিয়ে পাহাড়ি মানুষ ধান, গম, ভুট্টার চাষ করে। একে ধাপ চাষ (Terrace Cultivation) বলে। এছাড়াও ঢালু জমিতে জল জমে থাকে না বলে চা, কফি এবং আপেল, কমলালেবু প্রভৃতি বাগিচা ফসল চমৎকার ফলে।
  • পশুপালন ও ট্রান্সহিউম্যান্স (Transhumance): গ্রীষ্মকালে পাহাড়ের ওপরের নরম তৃণভূমিতে (যেমন কাশ্মীরের 'বার্গ') পশুদের চরানো হয় এবং শীতকালে প্রচণ্ড বরফ পড়লে পশুদের নিয়ে উপত্যকার নিচে নেমে আসা হয়। এই ঋতুভিত্তিক পশুপালকদের পরিযানকে ট্রান্সহিউম্যান্স বলে (যেমন ভুটিয়া, গুজ্জর উপজাতি)।
  • বিপদ ও ঝুঁকি: ভূমিকম্প, আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টি (Cloudburst), ভূমিধস (Landslide) ও হিমবাহের গলন পাহাড়ি জীবনের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
২

মালভূমি জনজীবন: খনিজ সম্পদ ও শিল্পায়ন

  • শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান: মালভূমি অঞ্চল খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় লৌহ-ইস্পাত শিল্প, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মালভূমিকে ঘিরেই গড়ে ওঠে। জামশেদপুর, রৌরকেল্লা, দুর্গাপুর এর আদর্শ নিদর্শন।
  • কৃষির সীমাবদ্ধতা ও সমাধান: মালভূমির মাটি প্রায়শই অগভীর ও অনুর্বর লাল মাটি। কিন্তু লাভা গঠিত কৃষ্ণমৃত্তিকায় (ব্যাসাল্ট শিলাজাত) কার্পাস, জোয়ার, বাজরা ও তৈলবীজ বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয়। মালভূমির নদীগুলির ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।
৩

সমভূমি জনজীবন: সমৃদ্ধি, নগরায়ন ও আধুনিক যোগাযোগ

  • শস্যভাণ্ডার (Granary): পলিমাটির অতুলনীয় উর্বরতা এবং ভূগর্ভস্থ মিষ্টি জলের সহজলভ্যতার জন্য সমভূমি হলো দেশের খাদ্যভাণ্ডার। ধান, গম, পাট, আখ, শাকসবজির নিবিড় চাষাবাদ সম্ভব হয়।
  • সুগম পরিবহন নেটওয়ার্ক: পর্বত বা মালভূমির মতো ব্রিজ বা টানেল নির্মাণের বিপুল ব্যয়ের প্রয়োজন সমভূমিতে হয় না। মসৃণ জাতীয় সড়ক, চতুর্মুখী রেলপথ ও বিমানবন্দর দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
  • মেগাসিটি ও জনসংখ্যা বিস্ফোরণ: পৃথিবীর অধিকাংশ জনবহুল মহানগরী—কলকাতা, ঢাকা, দিল্লি, টোকিও, সাংহাই, লন্ডন, নিউইয়র্ক—সমভূমিতেই অবস্থিত। তবে অতি-নগরায়নের কারণে সমভূমিতে নদীদূষণ ও বায়ুপ্রদূষণ বর্তমানে তীব্র পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে।
৪

তিনটি প্রধান ভূমিরূপের তুলনামূলক সারসংক্ষেপ ছক

বৈশিষ্ট্যপর্বত (Mountain)মালভূমি (Plateau)সমভূমি (Plain)
উচ্চতা৯০০ মিটারের অধিক৩০০ থেকে ৯০০ মিটার৩০০ মিটারের কম
শীর্ষদেশচোখা শৃঙ্গ ও খাড়া ঢালচ্যাপ্টা টেবিল সদৃশ ও খাড়া কিনারাসমতল বা মৃদু তরঙ্গায়িত
প্রধান শক্তিঅভিসারী পাত ধাক্কা, সঞ্চয়বিদার লাভা নির্গমন, উত্থাননদী ও বাতাসের পলি সঞ্চয়
অর্থনীতিপর্যটন, বনজ কাঠ, ধাপ চাষখনিজ উত্তোলন, ভারী শিল্পনিবিড় শস্য কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য
জনঘনত্বঅত্যন্ত বিরলমাঝারি বা মিশ্রসর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ
৫

টেকসই উন্নয়ন ও ভূমিরূপ সংরক্ষণ (Sustainable Adaptation)

পাহাড়ে অতিরিক্ত বন উজাড় বন্ধ করে বৃক্ষরোপণ, মালভূমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খনি সংস্কার এবং সমভূমিতে প্লাস্টিক ও রাসায়নিক সার নিয়ন্ত্রণ করলেই কেবল এই বহুমুখী প্রাকৃতিক সম্পদকে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির উচ্চতামিতি (Hypsometry)
উচ্চতা মানদণ্ড: পর্বত > ৯০০ মি | মালভূমি ৩০০–৯০০ মি | সমভূমি < ৩০০ মি
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতাভিত্তিক সর্বজনীন ভৌগোলিক মানদণ্ড।
ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি প্রক্রিয়া (Orogeny)
সংনমন বল: পাত ১ → [পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ] ← পাত ২ ⇒ ভঙ্গিল পর্বত
অনুভূমিক পার্শ্বচাপে পাললিক শিলায় উর্ধ্বভঙ্গ ও অধোভঙ্গ সৃষ্টি।
স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা (Faulting)
টান বল ও চ্যুতি: হর্স্ট (স্তূপ পর্বত) — গ্রাবেন (গ্রস্ত উপত্যকা)
সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের ভূখণ্ড বসে যাওয়া বা উঠে যাওয়ার ফল।
ডেকান ট্র্যাপ ব্যুৎপত্তি (Lava Step)
ব্যাখ্যা: সুইডিশ শব্দ "Trappa" (সিঁড়ির ধাপ) + দাক্ষিণাত্য লাভা বিস্তার
ব্যাসাল্ট লাভার স্তরীভূত সঞ্চয় ও ধাপযুক্ত ভূমিরূপ।
পলল সমভূমি পর্যায়ক্রম (Fluvial Plain)
পর্যায়ন: নদী অববাহিকা + পলি/কাদা সঞ্চয় ⇒ উর্বর পলি সমভূমি
প্লাবনভূমি ও বদ্বীপের যৌথ সঞ্চয়জাত সমৃদ্ধ সমতল ভূমি।
লোয়েস ও পীত মৃত্তিকা সঞ্চয় (Loess Plain)
বাতাসের বহন: গোবি মরুভূমির ধূলিকণা + বায়ুপ্রবাহ ⇒ হোয়াংহো লোয়েস সমভূমি
বায়ুবাহিত অতি সূক্ষ্ম হলুদ বর্ণের কোয়ার্টজ ধূলিকণার দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ভৌগোলিক প্রয়োগ ১: হিমালয় পর্বতমালাকে কেন "নবীন ভঙ্গিল পর্বত" বলা হয় এবং এর উচ্চতা এখনও কেন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
১) উৎপত্তিকাল: ভূ-তাত্ত্বিক সময়সারণি অনুসারে হিমালয় পর্বতমালা গঠিত হয়েছে আজ থেকে মাত্র প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি বছর আগে টার্শিয়ারি যুগে, যা পৃথিবীর ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাসের নিরিখে অত্যন্ত নবীন।
২) টেকটনিক কারণ: ভারতীয় পাত (Indian Plate) প্রতি বছর প্রায় ৪-৫ সেমি হারে উত্তর দিকে ইউরেশীয় পাতের (Eurasian Plate) নিচে প্রবিষ্ট হচ্ছে। এই চলমান সংনমন বলের কারণে টেথিস সাগরের পাললিক শিলায় সৃষ্ট হিমালয়ের শীর্ষদেশ এখনও প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে উঁচুতে উঠছে (যেমন মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপ ৮৮৪৮.৮৬ মি)। তাই হিমালয় নবীন ভঙ্গিল পর্বত।
উদাহরণ 2
ভৌগোলিক প্রয়োগ ২: তিব্বত মালভূমি পর্বতের চেয়েও উঁচু হওয়া সত্ত্বেও তাকে পর্বত না বলে "মালভূমি" বলা হয় কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
বিশ্লেষণ ও বৈশিষ্ট্য বিচার:
১) ভূমির গঠন: পর্বতের মূল শর্ত হলো তার চূড়া চোখা বা তীক্ষ্ণ শৃঙ্গযুক্ত হতে হবে এবং ঢাল অত্যন্ত খাড়া হবে।
২) টেবিল ল্যান্ড রূপ: তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা ৪,৫০০ মিটারের বেশি হলেও এর উপরিভাগ পর্বতের মতো সূচালো নয়; বরং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় সমতল বা মৃদু ঢেউ খেলানো টেবিলের মতো। চারপাশের কিনারাই কেবল খাড়া ঢালে নেমে গেছে। এই সমতল টেবিল-সদৃশ ভূমিরূপগত বৈশিষ্ট্যের জন্য একে পর্বত না বলে পর্বত-বেষ্টিত মালভূমি বা "পৃথিবীর ছাদ" বলা হয়।
উদাহরণ 3
ভৌগোলিক প্রয়োগ ৩: ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলকে "ভারতের রূঢ়" (Ruhr of India) কেন বলা হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
তুলনামূলক সমীক্ষা:
জার্মানির রাইন নদীর উপনদী 'রূঢ়' অববাহিকা যেমন কয়লা, লোহা ও ধাতব খনিজে সমৃদ্ধ এবং ইউরোপের প্রধান ভারী শিল্পাঞ্চল, ঠিক তেমনি ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে দেশের সর্বাধিক উন্নতমানের কয়লা (ঝরিয়া, রানিগঞ্জ), আকরিক লোহা (সিংহভূম, ময়ূরভঞ্জ), বক্সাইট, তামা ও অভ্র সঞ্চিত রয়েছে। এই বিপুল খনিজ প্রাচুর্য ও শিল্পায়নের সাদৃশ্যের কারণেই ছোটনাগপুরকে "ভারতের রূঢ়" বলা হয়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুল ধারণা: সব উচ্চভূমিই পর্বত, আর সব নিচু ভূমিই সমভূমি।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: শুধু উচ্চতা দেখে ভূমিরূপ নির্ধারণ করা যায় না; শীর্ষদেশের আকৃতি ও ভূমির ঢাল প্রধান বিবেচ্য। যেমন—তিব্বতের উচ্চতা ৪৫০০ মিটার হলেও শীর্ষদেশ চ্যাপ্টা হওয়ায় তা মালভূমি, আবার ৫০০ মিটার উচ্চতার খাড়া চোখা চূড়া হলো পাহাড়।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুল ধারণা: আরাবল্লী পর্বতমালা চিরকালই একটি নিচু ক্ষয়জাত পাহাড় হিসেবে ছিল।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: আরাবল্লী আসলে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন "ভঙ্গিল পর্বত", যা প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল। কোটি কোটি বছর ধরে রোদ, জল ও বাতাসের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষয়কার্যের ফলে এটি আজকের ক্ষয়জাত অবশিষ্ট পর্বতে রূপান্তরিত হয়েছে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভুল ধারণা: ডেকান ট্র্যাপ একটি একক বিস্ফোরণজাত পর্বতের নাম।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: ডেকান ট্র্যাপ কোনো পর্বত নয়, এটি ভারতের দাক্ষিণাত্যের একটি সুবিস্তৃত লাভা মালভূমি। শান্ত বিদার অগ্ন্যুৎপাতের লাভা স্তরে স্তরে জমে সিঁড়ির ধাপের মতো আকৃতি নেওয়ায় সুইডিশ শব্দ "Trappa" থেকে একে ডেকান ট্র্যাপ বলা হয়।

৪-কোয়াড্রন্ট ভৌগোলিক মডেল: প্রধান ভূমিরূপ ও প্রক্রিয়া

ভূমিরূপের শ্রেণিবিভাগ ও ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ১. ভূ-অভ্যন্তরীণ ও বহির্জাত শক্তি এন্ডোজেনিক পাত সঞ্চালন বনাম এক্সোজেনিক ক্ষয় অন্তর্জাত শক্তি (ভূ-আন্দোলন, ভূমিকম্প) বহির্জাত শক্তি (নদী, বায়ু, হিমবাহ) ২. পর্বতের প্রকারভেদ ও গঠন ভঙ্গিল পর্বত, স্তূপ পর্বত ও আগ্নেয় পর্বত ভঙ্গিল পর্বত (হিমালয়, আল্পস) স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা (ব্ল্যাক ফরেস্ট, নর্মদা) আগ্নেয় পর্বত (ফুজিয়ামা, ভিসুভিয়াস) ৩. মালভূমি ও টেবিল ল্যান্ড তিব্বত (পৃথিবীর ছাদ), ডেকান ট্র্যাপ ও মহাদেশীয় শিল্ড পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (তিব্বত > ৪৫০০ মি) Step-like 'Trap' লাভা মালভূমি / ডেকান ট্র্যাপ (সিঁড়ির ধাপ) ৪. সমভূমি ও জনবসতির কেন্দ্র পলিগঠিত সমভূমি, প্লাবনভূমি ও লোয়েস সমভূমি পলল সমভূমি (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা) সভ্যতার আঁতুড়ঘর ও উর্বর শস্যভাণ্ডার

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
পৃথিবীর ভূমিরূপ প্রধানত অন্তর্জাত শক্তি (ভূমিকম্প, পাত চলন) ও বহির্জাত শক্তির (নদী, বায়ু, হিমবাহের পর্যায়ন) ঘাত-প্রতিঘাতে সৃষ্টি হয়।
মূল বিষয় 2
উচ্চতা মানদণ্ড: পর্বত > ৯০০ মিটার (চোখা চূড়া), মালভূমি ৩০০-৯০০ মিটার (চ্যাপ্টা শীর্ষ), সমভূমি < ৩০০ মিটার (সমতল ভূমি)।
মূল বিষয় 3
ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয় অনুভূমিক সংনমন বলে পাললিক শিলার ভাঁজে (হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ)।
মূল বিষয় 4
স্তূপ পর্বত (Horst) ও গ্রস্ত উপত্যকা (Graben) সৃষ্টি হয় টান বল ও সমান্তরাল চ্যুতির ফলে (ব্ল্যাক ফরেস্ট ও রাইন উপত্যকা, বিন্ধ্য-সাতপুরা ও নর্মদা উপত্যকা)।
মূল বিষয় 5
আগ্নেয় পর্বত লাভা ও ছাই সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকারে গড়ে ওঠে (ফুজিয়ামা, ভিসুভিয়াস, কিলিমাঞ্জারো)।
মূল বিষয় 6
তিব্বত মালভূমিকে "পৃথিবীর ছাদ" বলা হয় এর বিপুল গড় উচ্চতার (> ৪৫০০ মি) জন্য; দাক্ষিণাত্যের সিঁড়ি ধাপের মতো লাভা মালভূমিকে "ডেকান ট্র্যাপ" বলে।
মূল বিষয় 7
খনিজের প্রাচুর্যের কারণে মালভূমি অঞ্চলকে "খনিজ ভাণ্ডার" এবং ছোটনাগপুরকে "ভারতের রূঢ়" বলা হয়।
মূল বিষয় 8
উর্বর পলিমাটি ও সহজ যোগাযোগের কারণে সমভূমি হলো "মানব সভ্যতার আঁতুড়ঘর" ও সর্বাধিক জনবহুল অঞ্চল।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
১. অন্তর্জাত প্রক্রিয়া এবং বহির্জাত প্রক্রিয়ার মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১) অন্তর্জাত শক্তি ভূ-অভ্যন্তর থেকে উৎপন্ন হয় (যেমন ভূমিকম্প, পাত চলন) এবং এটি ভূমিভাগের প্রাথমিক উত্থান ঘটায়। ২) বহির্জাত শক্তি সৌরশক্তি ও অভিকর্ষজ শক্তিতে ভূপৃষ্ঠের ওপরে সক্রিয় থাকে (যেমন নদী, বায়ু) এবং এটি ক্ষয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিকে সমতল করে।
একটি শক্তি ভূমি উঁচু করে, অন্যটি ক্ষয় করে সমতল করতে চায়।
2
২. নবীন ভঙ্গিল পর্বত এবং প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের দুটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১) নবীন ভঙ্গিল পর্বত টার্শিয়ারি যুগে গঠিত, শৃঙ্গগুলি তীক্ষ্ণ, সুউচ্চ ও বরফাবৃত (যেমন হিমালয়)। ২) প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান বা প্যালিয়োজোয়িক যুগে গঠিত, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ের কারণে শীর্ষদেশ গোলাকার ও উচ্চতা হ্রাসপ্রাপ্ত (যেমন আরাবল্লী)।
বয়স, শৃঙ্গের আকৃতি ও বর্তমান উচ্চতার হ্রাস-বৃদ্ধি লক্ষ্য করো।
3
৩. গ্রস্ত উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়? ভারতের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ভূ-আলোড়নের টান বলের প্রভাবে ভূত্বকে সমান্তরাল চ্যুতি তৈরি হলে দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূখণ্ড নিচে বসে গিয়ে যে দীর্ঘ খাড়া ঢালযুক্ত অবনমিত উপত্যকা তৈরি করে, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) বলে। ভারতে বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী নর্মদা নদীর উপত্যকা একটি আদর্শ গ্রস্ত উপত্যকা।
সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ বসে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি মনে করো।
4
৪. চিনের হোয়াংহো নদী অববাহিকার লোয়েস সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি অঞ্চল থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম হলুদ বর্ণের কোয়ার্টজ ধূলিকণা প্রবল বাতাসের সাহায্যে শত শত মাইল দূরবর্তী চিনের হোয়াংহো নদী অববাহিকায় উড়ে এসে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত হয়ে এই বিখ্যাত লোয়েস সমভূমি গঠন করেছে।
গোবি মরুভূমি থেকে বায়ুবাহিত ধূলিকণা সঞ্চয়ের কথা ভাবো।
5
৫. পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের চাষাবাদের প্রধান পদ্ধতিটির নাম কী এবং কেন তা অনুসরণ করা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলের প্রধান চাষের পদ্ধতি হলো "ধাপ চাষ" (Terrace Cultivation)। খাড়া পাহাড়ি ঢালে সরাসরি জল ও মাটি ধরে রাখা যায় না বলে ঢাল কেটে কেটে সিঁড়ির মতো সমান ধাপ তৈরি করে মাটি ও জল আটকে ফসল ফলানো হয়।
সিঁড়ির মতো ধাপে মাটি ক্ষয় রোধের কৌশল।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।