Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Geography & Environment (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় 9
আনুমানিক সময়: 55 মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

এশিয়া মহাদেশ

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" (ভূগোল ও পরিবেশ) পাঠ্যক্রমের দ্বাদশ অধ্যায় "এশিয়া মহাদেশ" (Continent of Asia)-এ স্বাগত। এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম ও সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ মহাদেশ। এই অধ্যায়ে এশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা, চরম বৈশিষ্ট্যের মহাদেশ হিসেবে পরিচয় (উচ্চতম এভারেস্ট ৮,৮৪৮.৮৬ মি, গভীরতম মৃত সাগর -৪৩০ মি ও বৈকাল হ্রদ ১,৬৪২ মি, বৃহত্তম কাশ্পিয়ান সাগর, সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল মৌসিনরাম ও শীতলতম ওয়াইমিয়াকন), মধ্যভাগের পর্বতগ্রন্থি ব্যবস্থা (পামির গ্রন্থি বা পৃথিবীর ছাদ এবং সেখান থেকে নির্গত হিমালয়, কারাকোরাম, কুয়েনলুন, তিয়েন শান; তিব্বত মালভূমি বা তৃতীয় মেরু; এবং আর্মেনিয়ান গ্রন্থি ও আনাতোলিয়া-ইরান মালভূমি), উত্তরের সাইবেরিয়ার সমভূমি ও বসন্তকালীন ভাসুগান জলাভূমির বন্যা, প্রাচীন দক্ষিণ শিল্ড মালভূমি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় দ্বীপমালা (Ring of Fire), এশিয়ার প্রধান নদনদী (চীনের শস্যভাণ্ডার ইয়াংসিকিয়াং, চীনের দুঃখ হোয়াংহো, মেকং, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র, টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস), জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ (মৌসুমি, তৈগা, তুন্দ্রা, নিরক্ষীয়) এবং কোনো নিজস্ব খনিজ সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠা জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চলের বিস্ময়কর সাফল্যের ভৌগোলিক কারণ বিশদভাবে পরিবেশন করা হয়েছে।

🌏 এমন এক মহাদেশ—যেখানে না সাঁতার জেনেও সাগরে ভেসে থাকা যায় এবং যেখানে বরফের দেশে নদীর মুখ জমাট বেঁধে বন্যা হয়!

আপনি কি জানেন—আমাদের এশিয়া মহাদেশে এমন এক সাগর আছে যাতে কোনো মানুষ নামলে চাইলেও কোনোদিন ডুবতে পারবে না?

পশ্চিম এশিয়ার মৃত সাগরে (Dead Sea) জলের ঘনত্ব এত বেশি যে মানুষ খবরের কাগজ পড়তে পড়তে আরামে জলের ওপর ভেসে থাকে! আবার রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় এমন সব নদী আছে, যেখানে বসন্তকালে নদীর জল বরফ গলে বইতে গিয়ে মোহনায় জমাট বরফের ধাক্কা খেয়ে উল্টে বিশাল বনভূমিকে বন্যায় ভাসিয়ে দেয়!

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট থেকে সর্বনিম্ন মৃত সাগর, আর কোনো নিজস্ব লোহা-কয়লা না থাকা সত্ত্বেও বিশ্বসেরা গাড়ি তৈরি করা জাপানের বিস্ময়কর গল্প—আসুন জেনে নিই আমাদের এই গর্বের এশিয়া মহাদেশে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" (ভূগোল ও পরিবেশ) পাঠ্যক্রমের দ্বাদশ অধ্যায় "এশিয়া মহাদেশ" (Continent of Asia)-এ স্বাগত। এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম ও সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ মহাদেশ। এই অধ্যায়ে এশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা, চরম বৈশিষ্ট্যের মহাদেশ হিসেবে পরিচয় (উচ্চতম এভারেস্ট ৮,৮৪৮.৮৬ মি, গভীরতম মৃত সাগর -৪৩০ মি ও বৈকাল হ্রদ ১,৬৪২ মি, বৃহত্তম কাশ্পিয়ান সাগর, সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল মৌসিনরাম ও শীতলতম ওয়াইমিয়াকন), মধ্যভাগের পর্বতগ্রন্থি ব্যবস্থা (পামির গ্রন্থি বা পৃথিবীর ছাদ এবং সেখান থেকে নির্গত হিমালয়, কারাকোরাম, কুয়েনলুন, তিয়েন শান; তিব্বত মালভূমি বা তৃতীয় মেরু; এবং আর্মেনিয়ান গ্রন্থি ও আনাতোলিয়া-ইরান মালভূমি), উত্তরের সাইবেরিয়ার সমভূমি ও বসন্তকালীন ভাসুগান জলাভূমির বন্যা, প্রাচীন দক্ষিণ শিল্ড মালভূমি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় দ্বীপমালা (Ring of Fire), এশিয়ার প্রধান নদনদী (চীনের শস্যভাণ্ডার ইয়াংসিকিয়াং, চীনের দুঃখ হোয়াংহো, মেকং, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র, টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস), জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ (মৌসুমি, তৈগা, তুন্দ্রা, নিরক্ষীয়) এবং কোনো নিজস্ব খনিজ সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠা জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চলের বিস্ময়কর সাফল্যের ভৌগোলিক কারণ বিশদভাবে পরিবেশন করা হয়েছে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ ও পাঁচটি মহাসাগরের অবস্থান সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা।
  • ভঙ্গিল পর্বতমালা সৃষ্টিতে টেকটোনিক প্লেট সঞ্চালন ও পলি ভাঁজ খাওয়ার প্রাথমিক নিয়ম।
  • নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয়কাজ, বদ্বীপ সৃষ্টি এবং জলবায়ু অনুসারে উদ্ভিদের তারতম্য।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • মানচিত্রে এশিয়া মহাদেশের অবস্থান, মহাসাগরীয় সীমানা এবং চরম প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ চিহ্নিত ও ব্যাখ্যা করা।
  • পামির গ্রন্থি ও আর্মেনিয়ান গ্রন্থি থেকে নির্গত প্রধান প্রধান পর্বতশ্রেণী ও পর্বতবেষ্টিত মালভূমির অবস্থান বিশ্লেষণ করা।
  • সাইবেরিয়ার নদীগুলোতে বসন্তকালীন বন্যার অনন্য ভৌগোলিক কারণ ও ভাসুগান জলাভূমি সৃষ্টির কারণ প্রমাণ করা।
  • ইয়াংসিকিয়াং, হোয়াংহো ও মেসোপটেমিয়া নদী অববাহিকার অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করা।
  • কাঁচামাল ও খনিজের তীব্র অভাব সত্ত্বেও জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চলের বিশ্বজয়ের অনুকূল ভৌগোলিক উপাদানসমূহ ব্যাখ্যা করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. এশিয়া মহাদেশের অবস্থান, সীমানা...
2 ২. মধ্যভাগের পর্বতগ্রন্থি ব্যবস্থা:...
3 ৩. সাইবেরিয়ার সমভূমি, দক্ষিণের প্র...
4 ৪. এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নদী প্রণালী: ইয়...
5 ৫. জলবায়ু-উদ্ভিদ মণ্ডল ও জাপানের ক...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. এশিয়া মহাদেশের অবস্থান, সীমানা ও চরম বৈপরীত্যের মহাদেশ

এশিয়া হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও সর্বাধিক জনবহুল মহাদেশ। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ৩০% অংশ (আয়তন প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার) এবং বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৬০% (৪৭০ কোটিরও বেশি মানুষ) এই এক মহাদেশেই বসবাস করে। এটি বৈচিত্র্য ও চরম বৈপরীত্যের এক অনন্য লীলাভূমি—যেখানে পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ থেকে গভীরতম হ্রদ এবং শীতলতম তুষারপ্রান্তর থেকে শুষ্কতম মরুভূমি সবই পাশাপাশি অবস্থান করছে।

1

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

এশিয়া মহাদেশ দক্ষিণে ১০° দক্ষিণ অক্ষাংশ (ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহ) থেকে উত্তরে ৮১° উত্তর অক্ষাংশ এবং পশ্চিমে ২৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে পূর্বে ১৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর; পশ্চিমে ইউরাল পর্বত, ইউরাল নদী ও কাস্পিয়ান সাগর এশিয়াকে ইউরোপ থেকে এবং সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর এশিয়াকে আফ্রিকা থেকে পৃথক করেছে। উত্তর-পূর্বে বেরিং প্রণালী এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে।

2

চরমতম উচ্চতা: মাউন্ট এভারেস্ট

হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু। নেপালে একে 'সাগরমাথা' এবং তিব্বতে 'চোমোলাংমা' (বিশ্বের জননী) বলা হয়।

3

চরমতম নিম্নভূমি: মৃত সাগর (Dead Sea)

পশ্চিম এশিয়ার জর্ডান ও ইজরায়েলের সীমান্তে অবস্থিত মৃত সাগর (Dead Sea) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩০ মিটার নিচে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম উন্মুক্ত স্থলভাগ। এর জলের লবণাক্ততা প্রায় ৩৪% হওয়ায় কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী এতে বাঁচতে পারে না এবং মানুষ না সাঁতার জেনেও ভেসে থাকে।

4

গভীরতম ও বৃহত্তম জলাশয়

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদ (Lake Baikal) পৃথিবীর গভীরতম মিষ্টি জলের হ্রদ (গভীরতা ১,৬৪২ মিটার), যা বিশ্বের মোট তরল মিষ্টি জলের ২০% ধারণ করে। অন্যদিকে কাশ্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) পৃথিবীর বৃহত্তম অন্তর্দেশীয় লবণাক্ত জলের হ্রদ (আয়তন প্রায় ৩ লক্ষ ৭১ হাজার বর্গকিমি)।

5

জলবায়ুগত চরম বৈপরীত্য

ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরাম (Mawsynram) পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান (বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১১,৮৭২ মিমি); অন্যদিকে সাইবেরিয়ার ভেরখোয়ানস্ক ও ওয়াইমিয়াকন উত্তর গোলার্ধের শীতলতম জনবসতিপূর্ণ স্থান (তাপমাত্রা -৬৭°C-এর নিচে নামে), এবং ইরানের দস্ত-ই-লুত মরুভূমিতে তাপমাত্রা ৫০°C ছাড়িয়ে যায়।

২. মধ্যভাগের পর্বতগ্রন্থি ব্যবস্থা: পামির গ্রন্থি ও আর্মেনিয়ান গ্রন্থি

এশিয়া মহাদেশের ভূ-প্রকৃতির কেন্দ্রবিন্দু হলো সুবিশাল পর্বতগ্রন্থি ব্যবস্থা। মধ্য এশিয়ার পর্বতগ্রন্থিগুলো থেকে বিশালাকার ভঙ্গিল পর্বতমালা বিভিন্ন দিকে মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে মহাদেশটির মেরুদণ্ড তৈরি করেছে।

1

পামির গ্রন্থি: পৃথিবীর ছাদ (Roof of the World)

মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত অত্যন্ত উঁচু ও বিস্তৃত মালভূমি-সদৃশ পর্বতগ্রন্থি হলো পামির গ্রন্থি (Pamir Knot)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা প্রায় ৪,৮৭৫ মিটার হওয়ায় একে সার্থকভাবেই 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the World) বলা হয়।

2

পামির থেকে নির্গত পর্বতশ্রেণীসমূহ

১) দক্ষিণ-পূর্বে: হিমালয় পর্বতমালা (পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট) এবং কারাকোরাম (দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ K2 বা গডউইন অস্টিন, ৮,৬১১ মি ও সিয়াচেন হিমবাহ); ২) পূর্বে: কুয়েনলুন পর্বত; ৩) উত্তর-পূর্বে: তিয়েন শান ও আলতাই পর্বত; ৪) দক্ষিণ-পশ্চিমে: হিন্দুকুশ ও সুলেমান পর্বত।

3

তিব্বত মালভূমি: পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি

হিমালয় এবং কুয়েনলুন পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত তিব্বত মালভূমি (Tibetan Plateau)। গড় উচ্চতা ৪,৫০০ মিটারের বেশি এবং আয়তন প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি হওয়ায় এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও বৃহত্তম পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau)। একে 'তৃতীয় মেরু' (Third Pole) বলা হয় কারণ মেরু অঞ্চলের পর এখানেই সবচেয়ে বেশি বরফ জমা রয়েছে।

4

আর্মেনিয়ান গ্রন্থি ও পশ্চিম এশিয়ার পর্বতমালা

পামির গ্রন্থির পশ্চিমে রয়েছে আর্মেনিয়ান গ্রন্থি (Armenian Knot)। এখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে পন্টিক পর্বত এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে টরাস পর্বত বিস্তৃত হয়ে মধ্যস্থলে আনাতোলিয়া মালভূমি (তুরস্ক) সৃষ্টি করেছে। পূর্ব দিকে এলবুর্জ পর্বত ও জগ্রোস পর্বত বিস্তৃত হয়ে ইরান মালভূমিকে আবদ্ধ করেছে।

5

প্লেট টেকটোনিক ভূ-গাঠনিক তাৎপর্য

ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের প্রবল সংঘর্ষের ফলে প্রাচীন টেথিস সাগরের পলি ভাঁজ খেয়ে এই সুবিশাল আল্পাইন-হিমালয়ান ভঙ্গিল পর্বতবলয় তৈরি হয়েছে, যা আজও ভূমিকম্পপ্রবণ।

৩. সাইবেরিয়ার সমভূমি, দক্ষিণের প্রাচীন শিল্ড ও আগ্নেয় দ্বীপমালা

পর্বতময় মধ্য এশিয়া ছাড়াও এশিয়ার ভূ-প্রকৃতিকে আরও তিনটি বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়—উত্তরের সুবিশাল নিচু সমভূমি, দক্ষিণের প্রাচীন স্থিতিশীল মালভূমি বা শিল্ড অঞ্চল, এবং পূর্ব ও দক্ষিণের আগ্নেয় দ্বীপমালা।

1

উত্তরের সুবিশাল নিম্নভূমি (সাইবেরিয়ার সমভূমি)

ইউরাল পর্বত থেকে বেরিং প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি হলো সাইবেরিয়ার সমভূমি। এটি ওব, ইয়েনিসেই ও লেনা নদীর পলিসঞ্চয়ে গঠিত এক সুবিশাল নিচু জলাভূমিময় সমভূমি।

2

সাইবেরিয়ার নদীর বসন্তকালীন বিধ্বংসী বন্যা

ওব, ইয়েনিসেই ও লেনা নদীগুলো দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে বরফাবৃত উত্তর মহাসাগরে মিশেছে। বসন্তকালে নদীর উৎসের দক্ষিণ অংশ বরফ গলে জল প্লাবিত হয়, কিন্তু উত্তরের মোহনা তখনও শক্ত বরফে জমাট বেঁধে থাকে! ফলে নদীর জল সমুদ্রে ঢুকতে না পেরে উপচে দুই কূল প্লাবিত করে সুবিশাল ভাসুগান জলাভূমি (Vasyugan Swamp) তৈরি করে।

3

দক্ষিণের প্রাচীন শিল্ড মালভূমিসমূহ

মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত অতি প্রাচীন কঠিন প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান শিলা দ্বারা গঠিত তিনটি প্রধান ক্ষয়প্রাপ্ত স্থিতিশীল মালভূমি হলো: ১) আরব মালভূমি (মরুবেষ্টিত খনিজ তেল সমৃদ্ধ); ২) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি (ভারত) (লাভা গঠিত ডেকান ট্র্যাপ); ৩) শান ও ইউনান মালভূমি (মায়ানমার ও দক্ষিণ চীন)।

4

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় দ্বীপমালা (Ring of Fire)

এশিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত দ্বীপগুলো—জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া। এগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অভিসারী প্লেট সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় প্রবল ভূমিকম্পপ্রবণ এবং জীবন্ত আগ্নেয়গিরিময় (যেমন জাপানের ফুজিওয়ামা, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া)।

5

ঐতিহাসিক নদী উপত্যকা সমভূমি

নদীর পলি সঞ্চয়ে গঠিত অতি উর্বর সমভূমিগুলো হলো: চীনের ইয়াংসিকিয়াং ও হোয়াংহো অববাহিকা, ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি এবং ইরাকের মেসোপটেমিয়া সমভূমি।

৪. এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নদী প্রণালী: ইয়াংসিকিয়াং, হোয়াংহো ও মেসোপটেমিয়া

এশিয়াকে বলা হয় 'নদীমাতৃক মহাদেশ'। মধ্যভাগের তুষারাবৃত পর্বত ও মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে বিপুল জলরাশি নিয়ে নদীগুলো চারিদিকের মহাসাগরে পতিত হয়েছে এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাচীন সভ্যতাগুলোর জন্ম দিয়েছে।

1

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা: ইয়াংসিকিয়াং নদী

তিব্বতের মালভূমি থেকে উৎপন্ন ইয়াংসিকিয়াং বা চাং জিয়াং (Yangtze Kiang) এশিয়ার দীর্ঘতম নদী (দৈর্ঘ্য ৬,৩০০ কিমি, বিশ্বে তৃতীয়)। সাংহাই শহরের কাছে পূর্ব চীন সাগরে মিশেছে। এই নদীর অববাহিকা অতি উর্বর হওয়ায় একে 'চীনের শস্যভাণ্ডার' (Granary of China) বলা হয়। এখানে বিখ্যাত সান শিয়া জলবিদ্যুৎ বাঁধ (Three Gorges Dam) অবস্থিত।

2

হোয়াংহো নদী: চীনের দুঃখ (Sorrow of China)

তিব্বতের কুনলুন পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে পীত সাগরের বোহাই উপসাগরে পতিত হয়েছে হোয়াংহো নদী (Yellow River)। নদীটি উত্তর চীনের হলুদ রঙের লোয়েস সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর হলুদ পলি বহন করে। অতীতে নদীটি বারবার ভয়াবহ বন্যা ঘটিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করত ও লক্ষ লক্ষ মানুষ মারত বলে একে 'চীনের দুঃখ' (Sorrow of China) বলা হতো।

3

মেকং ও অন্যান্য পূর্ব এশীয় নদী

তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে চীন, মায়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত মেকং নদীকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার 'দানিউব নদী' বলা হয়। এছাড়া রাশিয়া-চীন সীমান্তের বিখ্যাত নদী হলো আমুর নদী।

4

ভারত মহাসাগরীয় অববাহিকার নদীসমূহ

হিমালয় থেকে উৎপন্ন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা বঙ্গোপসাগরে পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ (সুন্দরবন) তৈরি করেছে। তিব্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন সিন্ধু নদী পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পড়েছে।

5

মেসোপটেমিয়া ও অন্তর্বাহিনী নদীসমূহ

আর্মেনিয়ান গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদী দুটি ইরাকের ওপর দিয়ে মিলিত প্রবাহ শাত-ইল-আরব নামে পারস্য উপসাগরে পড়েছে। এই অববাহিকাতেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা। অন্যদিকে মধ্য এশিয়ার আমু দরিয়া ও সির দরিয়া নদী দুটি শুকিয়ে যাওয়া আরাল সাগরে মিশেছে।

৫. জলবায়ু-উদ্ভিদ মণ্ডল ও জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চলের বিস্ময়কর উত্থান

জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে এশিয়া মহাদেশ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উদ্ভিদের বলয়ে বিভক্ত। পাশাপাশি মহাদেশের পূর্ব প্রান্তে প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও খনিজ সম্পদের ঘাটতি সত্ত্বেও জাপান গড়ে তুলেছে বিশ্বের এক বিস্ময়কর শিল্প সাম্রাজ্য।

1

জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ মণ্ডলসমূহ

১) নিরক্ষীয় অঞ্চল (ইন্দোনেশিয়া): সারাবছর উষ্ণ ও আর্দ্র, পরিচলন বৃষ্টিপাত, চিরহরিৎ বৃষ্টি অরণ্য (মেহগনি, রবার, এবোনি); ২) মৌসুমি অঞ্চল (ভারত, বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া): গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বৃষ্টি, পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য (শাল, সেগুন, বাঁশ); ৩) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল (পশ্চিম এশিয়া উপকূল): শুষ্ক গ্রীষ্ম ও আর্দ্র শীতকাল, লেবু জাতীয় ফলের বাগান (জলপাই, আঙুর, কমলালেবু)।

2

তৈগা ও তুন্দ্রা বনভূমি

সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পৃথিবীর বৃহত্তম সরলবর্গীয় নরম কাঠের বনভূমি অবস্থিত, একে তৈগা (Taiga) বলা হয় (পাইন, ফার, স্প্রুস)। এটি কাঠ ও কাগজ শিল্পের প্রধান উৎস। আরও উত্তরে বরফাবৃত চিরহিমায়িত তুন্দ্রা (Tundra) অঞ্চলে শৈবাল ও লাইকেন জন্মায়।

3

জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চল: ভৌগোলিক অবস্থান

টোকিও উপসাগরের উপকূলে টোকিও, ইয়োকোহামা ও কাওয়াসাকি শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জাপানের সর্বপ্রধান কেইহিন শিল্পাঞ্চল (Keihin Industrial Region)। এটি জাপানের মোট শিল্পোৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

4

খনিজহীন দেশে শিল্প বিপ্লবের ভৌগোলিক কারণ

জাপানে পর্যাপ্ত লোহা আকরিক, কয়লা বা পেট্রোলিয়াম নেই। তা সত্ত্বেও কেইহিনের বিশ্বজয়ের প্রধান কারণ: ১) উন্নত গভীর প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় দিয়ে কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানির সুবিধা; ২) অত্যন্ত দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও পরিশ্রমী শ্রমিক; ৩) অত্যাধুনিক রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স ও উন্নত প্রযুক্তি; ৪) সস্তা জলবিদ্যুৎ ও পরমাণু শক্তি; ৫) সুবিশাল বিশ্বজোড়া বাজার।

5

কেইহিনের প্রধান প্রধান শিল্পসমূহ

অটোমোবাইল শিল্প (টয়োটা, হোন্ডা, নিসান), ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর (সোনি, প্যানাসনিক), নির্ভুল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি (ক্যামেরা, অপটিক্যাল লেন্স), আধুনিক জাহাজ নির্মাণ এবং পেট্রোকেমিক্যাল পরিশোধন শিল্প।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

এশিয়া মহাদেশের বৈশ্বিক মাত্রা সূত্র (Asia Global Dimension Law)
পৃথিবীর মোট স্থলভাগের ৩০% (৪.৪৪ কোটি বর্গকিমি) + বিশ্ব জনসংখ্যার ৬০% (৪৭০ কোটি+)
ক্ষেত্রফল এবং জনসংখ্যা উভয় মাপকাঠিতেই এশিয়া বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ একক মহাদেশ।
পামির পর্বতগ্রন্থি বিকিরণ সমীকরণ (Pamir Orogenic Knot Model)
পামির গ্রন্থি -> হিমালয় + কারাকোরাম + কুয়েনলুন + তিয়েন শান + হিন্দুকুশ => তিব্বত মালভূমি
মধ্য এশিয়ার এই পর্বতগ্রন্থিই সমগ্র এশিয়ার প্রধান জলবিভাজিকা ও নদীগুলোর উৎস।
আর্মেনিয়ান পর্বতগ্রন্থি ও আন্তঃপর্বত মালভূমি সূত্র
আর্মেনিয়ান গ্রন্থি -> পন্টিক ও টরাস (আনাতোলিয়া) + এলবুর্জ ও জগ্রোস (ইরান মালভূমি)
পশ্চিম এশিয়ার দুটি প্রধান পর্বতশ্রেণী বলয়ের মধ্যবর্তী পর্বতবেষ্টিত মালভূমি ব্যবস্থা।
সাইবেরিয়ার নদীর বসন্তকালীন বন্যা সমীকরণ (Siberian Spring Flood Dynamic)
দক্ষিণ উৎস বরফ গলে জলবৃদ্ধি + উত্তর মোহনা জমাট বরফে রুদ্ধ -> জলপ্রবাহ বাধা -> ভাসুগান জলাভূমির সৃষ্টি
ওব, ইয়েনিসেই ও লেনা নদীর ক্ষেত্রে প্রতি বসন্তকালে ঘটা অনন্য ভৌগোলিক বিপর্যয়।
এশিয়ার প্রধান নদী অববাহিকা বৈশিষ্ট্য সারণি (Great Asian River Matrix)
ইয়াংসিকিয়াং (৬,৩০০ কিমি, শস্যভাণ্ডার) vs হোয়াংহো (লোয়েস পলি, দুঃখ) vs মেকং (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাণ)
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার এই নদীগুলো এশিয়ার সভ্যতা ও কৃষির মূল ভিত্তি।
জাপানের কেইহিন বন্দরভিত্তিক শিল্পায়ন সূত্র (Keihin Industrial Core Model)
শূন্য নিজস্ব খনিজ + গভীর সমুদ্র বন্দর + দক্ষ শ্রমিক + অত্যাধুনিক প্রযুক্তি/রোবোটিক্স -> বিশ্বসেরা শিল্পশক্তি
কাঁচামালের ভৌগোলিক অভাবকে পরাভূত করে গড়ে ওঠা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্প বিস্ময়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
পামির গ্রন্থিকে কেন "পৃথিবীর ছাদ" (Roof of the World) বলা হয় এবং এখান থেকে নির্গত পর্বতশ্রেণীগুলোর নাম লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ভৌগোলিক বিশ্লেষণ:
১) মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তানে অবস্থিত পামির মালভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪,৮৭৫ মিটার। সমতল মালভূমিটির বিশাল বিস্তৃতি ও আকাশছোঁয়া উচ্চতার কারণে স্থানীয় মানুষ ও বিশ্ব ভূগোলবিদরা একে সার্থকভাবেই "পৃথিবীর ছাদ" (Roof of the World) আখ্যা দিয়েছেন।
২) এই পর্বতগ্রন্থিটি থেকে একাধিক সুবিশাল ভঙ্গিল পর্বতমালা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছে:
- দক্ষিণ-পূর্বে: হিমালয় পর্বতমালা (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট, ৮,৮৪৮.৮৬ মি)।
- পূর্বে: কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী (দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ K2 বা গডউইন অস্টিন, ৮,৬১১ মি) এবং কুয়েনলুন পর্বত।
- উত্তর-পূর্বে: তিয়েন শান পর্বত।
- দক্ষিণ-পশ্চিমে: হিন্দুকুশ পর্বত।
উদাহরণ 2
সাইবেরিয়ার নদীগুলোতে (ওব, ইয়েনিসেই, লেনা) প্রতি বছর বসন্তকালে কেন ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অনন্য জলবিজ্ঞান কারণ:
১) ওব, ইয়েনিসেই এবং লেনা নদীগুলোর উৎস দক্ষিণে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত, কিন্তু নদীগুলোর গতিপথ উত্তরমুখী হয়ে সম্পূর্ণ বরফাবৃত উত্তর মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে।
২) বসন্তকালে দক্ষিণের তাপমাত্রা বেড়ে বরফ দ্রুত গলতে শুরু করে এবং নদীর ওপরের অংশে বিপুল জলস্রোত তৈরি হয়।
৩) কিন্তু সুদূর উত্তরের মোহনা অঞ্চল মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় তখনও প্রায় শূন্যের নিচে ঠান্ডায় কঠিন বরফে নিশ্ছিদ্রভাবে জমাট বেঁধে থাকে।
৪) নদীর এই বিশাল জলরাশি বরফজমা মোহনা দিয়ে সমুদ্রে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে নদীর জল কূল ছাপিয়ে উল্টো দিকে বিস্তীর্ণ সমভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুবিশাল ভাসুগান জলাভূমি তৈরি করে।
উদাহরণ 3
ইয়াংসিকিয়াং নদী অববাহিকাকে কেন "চীনের শস্যভাণ্ডার" (Granary of China) বলা হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
কৃষি ও ভৌগোলিক গুরুত্ব:
১) ইয়াংসিকিয়াং (চাং জিয়াং) এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ($৬,৩০০\text{ কিমি}$)। এর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকায় নদীগঠিত গভীর, উর্বর পলিমাটির সুবিশাল সমভূমি রয়েছে।
২) অববাহিকাটিতে আর্দ্র উপক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বিরাজ করায় সারা বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতা থাকে, যা ধান চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
৩) অববাহিকায় প্রতি বছর আবর্তন পদ্ধতিতে বছরে দুই থেকে তিনবার উচ্চফলনশীল ধান, গম, তুলা, চা ও তৈলবীজ চাষ করা হয়।
৪) চীনের মোট খাদ্যশস্যের সিংহভাগ এবং অর্ধেকেরও বেশি ধান এই একটি নদী অববাহিকা থেকেই উৎপন্ন হয় বলে একে যথার্থই "চীনের শস্যভাণ্ডার" বলা হয়।
উদাহরণ 4
নিজস্ব মাটিতে আকরিক লোহা ও কয়লা না থাকা সত্ত্বেও জাপানের কেইহিন অঞ্চল কীভাবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্পাঞ্চলে পরিণত হলো?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
কেইহিনের সাফল্যের অনুকূল উপাদানসমূহ:
১) উন্নত গভীর প্রাকৃতিক বন্দর: টোকিও উপসাগরে অবস্থিত ইয়োকোহামা ও টোকিও গভীর বন্দর থাকায় অস্ট্রেলিয়া ও ভারত থেকে সস্তায় জলপথে আকরিক লোহা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানি করা যায়।
২) দক্ষ ও সুশৃঙ্খল মানবসম্পদ: জাপানের শ্রমিকরা বিশ্বখ্যাত শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিগত নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার জন্য পরিচিত।
৩) উচ্চ প্রযুক্তি ও অটোমেশন: জাপান বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবোটিক্স, কম্পিউটার চিপস ও অটোমেশন প্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োগ করে কম খরচে নিখুঁত মানের পণ্য তৈরি করে।
৪) সস্তা বিদ্যুৎ শক্তি: পাহাড়ি খরস্রোতা নদী থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ এবং আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন সস্তা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৫) বিশ্বজোড়া বাজার: জাপানের তৈরি টয়োটা গাড়ি বা সোনি ইলেকট্রনিক্সের গুণমানের জন্য সারা বিশ্বে বিশাল বাজার রয়েছে।
উদাহরণ 5
মৃত সাগরে (Dead Sea) কেন কোনো মানুষ ডুবে যায় না এবং একে "মৃত সাগর" বলা হয় কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
লবণাক্ততা ও প্লবতা ব্যাখ্যা:
১) পশ্চিম এশিয়ার জর্ডান ও ইজরায়েল সীমান্তে অবস্থিত মৃত সাগরের জলের লবণাক্ততা প্রায় ৩৪% (বা ৩৪২ ppt), যা সাধারণ সমুদ্রের জলের লবণাক্ততার (৩৫ ppt) তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি।
২) জলে অপরিমিত দ্রবীভূত লবণের কারণে জলের ঘনত্ব মানুষের শরীরের গড় ঘনত্বের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়। ফলে আর্কিমিডিসের সূত্রানুসারে জলের ঊর্ধ্বমুখী প্লবতা বল মানুষকে ভাসিয়ে রাখে এবং মানুষ না সাঁতার জেনেও আরামে জলের ওপর ভেসে থাকতে পারে।
৩) তীব্র বিষাক্ত লবণাক্ততা ও খনিজের কারণে এই হ্রদে কোনো মাছ, গাছপালা বা জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না; তাই একে মৃত সাগর (Dead Sea) বলা হয়।
উদাহরণ 6
তিব্বত মালভূমিকে কেন পৃথিবীর "তৃতীয় মেরু" (Third Pole) আখ্যা দেওয়া হয়েছে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ভৌগোলিক কারণ:
১) হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে অবস্থিত তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা ৪,৫০০ মিটারের বেশি এবং আয়তন প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি।
২) উত্তর মেরু (আর্কটিক) এবং দক্ষিণ মেরুর (অ্যান্টার্কটিকা) পর এই সুবিশাল মালভূমি ও সংলগ্ন হিমালয় পর্বতেই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বরফ ও হিমবাহের সঞ্চয় রয়েছে।
৩) এই বরফগলা জল থেকেই এশিয়ার প্রায় দশটি মহান জীবনদায়ী নদী—গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, ইয়াংসিকিয়াং, হোয়াংহো, মেকং ও সালউইন উৎপন্ন হয়েছে, যা এশিয়ার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জলের প্রধান উৎস।
উদাহরণ 7
হোয়াংহো নদীকে অতীতে কেন "চীনের দুঃখ" (Sorrow of China) বলা হতো?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক কারণ:
১) কুনলুন পর্বত থেকে উৎপন্ন হোয়াংহো নদী উত্তর চীনের নরম ও হালকা হলুদ রঙের লোয়েস মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
২) নদীটি জলের সাথে বিপুল পরিমাণে সূক্ষ্ম হলুদ লোয়েস কাদা পলি হিসেবে বহন করে নিচের সমভূমিতে নামিয়ে আনে, যার ফলে নদীর তলদেশ দ্রুত পলি জমে ভরাট হয়ে যায়।
৩) বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর তলদেশ উপচে নদীর দুই কূল ভয়াবহ প্লাবিত হতো। নদীটি অতীতে ২৬ বারেরও বেশি সম্পূর্ণ গতিপথ পরিবর্তন করেছিল এবং প্রতিটি বন্যায় লক্ষ লক্ষ কৃষক গৃহহীন হয়ে মারা যেত। এই অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞের কারণেই একে "চীনের দুঃখ" বলা হতো।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

পামির গ্রন্থি এবং আর্মেনিয়ান গ্রন্থিকে একটি করে একক পর্বতশৃঙ্গ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গ্রন্থি (Knot) কোনো শৃঙ্গ নয়; এটি হলো একটি উঁচু ভূ-গাঠনিক কেন্দ্র যেখানে বহু পর্বতমালা এসে পরস্পর মিলিত হয়েছে বা যেখান থেকে বিভিন্ন পর্বত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে সাইবেরিয়ার ওব, ইয়েনিসেই ও লেনা নদী দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগরে পড়েছে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাইবেরিয়ার তিনটি প্রধান নদীই উত্তর দিকে ঢালু হয়ে বরফাবৃত উত্তর মহাসাগরে (Arctic Ocean) পতিত হয়েছে।

সাধারণ ভুল ধারণা

মাউন্ট এভারেস্ট এবং K2 একই পর্বতমালায় অবস্থিত বলে ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি) অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালায়; অন্যদিকে K2 বা গডউইন অস্টিন (৮,৬১১ মি) অবস্থিত কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীতে।

সাধারণ ভুল ধারণা

গোবি মরুভূমিকে থর বা সাহারা মরুভূমির মতো চরম উষ্ণ বালুকাময় মরুভূমি মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গোবি হলো মধ্য এশিয়ার একটি নাতিশীতোষ্ণ শীতল মরুভূমি (Cold desert), যেখানে শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে -৪০°C-এ নেমে যায়।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে জাপানের মাটিতে প্রচুর লোহা ও কয়লা ছিল বলেই কেইহিন শিল্পাঞ্চল এত উন্নত হয়েছে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

জাপানের নিজস্ব খনিজ সম্পদ প্রায় শূন্য। জাপান প্রায় ১০০% আকরিক লোহা ও জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে সমুদ্রপথে আমদানি করে বন্দরভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে কেইহিন শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলেছে।

সাধারণ ভুল ধারণা

কাশ্পিয়ান সাগরকে একটি উন্মুক্ত মহাসাগরীয় অংশ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কাশ্পিয়ান সাগর প্রকৃতপক্ষে চারদিক স্থলবেষ্টিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অন্তর্দেশীয় লবণাক্ত জলের হ্রদ।

সাধারণ ভুল ধারণা

টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ভূমধ্যসাগরে মিশেছে বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ইরাকের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শাত-ইল-আরব নামে পারস্য উপসাগরে (Persian Gulf) পতিত হয়েছে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

🌏 এশিয়া মহাদেশ: ভূ-প্রাকৃতিক গঠন, পর্বত গ্রন্থি ও নদী অববাহিকা WBBSE Class 7 Geography (আমাদের পৃথিবী) • TargetExams Gold Standard Chapter 12 Notes ১. পামির ও আর্মেনিয়ান পর্বত গ্রন্থি পামির গ্রন্থি (পৃথিবীর ছাদ) থেকে বিকিরিত হিমালয়, কারাকোরাম ও তিয়েনশান Pamir Knot পামির গ্রন্থি Himalayas (হিমালয়) Karakoram (K2) Tian Shan (তিয়েনশান) Hindu Kush (হিন্দুকুশ) Armenian তিব্বত মালভূমি (>৪৫০০ মি) ২. এশিয়ার চরম ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি), মৃত সাগর (-৪৩০ মি) ও বৈকাল হ্রদ 🏔️ বিশ্বের উচ্চতম: এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি) 🌊 বিশ্বের নিম্নতম: মৃত সাগর (-৪৩০ মি) 💧 গভীরতম হ্রদ: বৈকাল (১,৬৪২ মি) 🗺️ বৃহত্তম অন্তর্দেশীয় জলভাগ: কাস্পিয়ান (371,000 sq km) ৩. প্রধান নদীপ্রণালী ও সাইবেরীয় সমভূমি ইয়াংসিকিয়াং (চিনের শস্যভাণ্ডার), হোয়াংহো ও উত্তরের ওব-ইয়েনিসেই 1 ইয়াংসিকিয়াং নদী (৬,৩০০ কিমি) ও সানশিয়া বাঁধ Granary of China • 6,300 km (Longest in Asia) • Three Gorges Hydroelectric 2 Hwang-Ho (Yellow River / চিনের দুঃখ) Carries Gobi Desert Loess Silt • Historical Avulsions & Floods 3 সাইবেরীয় নিম্নভূমি ও ওব-ইয়েনিসেই-লেনা North-Flowing Rivers • Mouths Frozen in Spring • Vasyugan Swamp ৪. জলবায়ু বলয় ও টোকিও-ইয়োকোহামা নিরক্ষীয়, মৌসুমি, তৈগা, তুন্দ্রা ও জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চল 🌦️ Monsoon Asia India, Bengal, SE Asia Summer Monsoons & Sal/Teak 🌲 Siberian Taiga & Tundra Coniferous Softwood Forests Pine, Fir, Spruce • Moss/Lichen ⚙️ জাপানের কেইহিন শিল্পবলয় (টোকিও-ইয়োকোহামা) Global Electronics, Automobile & High-Tech Engineering Giant Pacific Maritime Import-Export Hub • Overcoming Raw Material Scarcity

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
এশিয়াকে কেন "চরম বৈপরীত্যের মহাদেশ" (Continent of Extremes) বলা হয়? চারটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: এশিয়াতে ভৌগোলিক উচ্চতা, নিচুতা, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার চরমতম বৈপরীত্য দেখা যায় বলে একে চরম বৈপরীত্যের মহাদেশ বলা হয়। উদাহরণ:
১) উচ্চতার চরম রূপ: পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি) বনাম পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থলভাগ মৃত সাগর (-৪৩০ মি)।
২) বৃষ্টিপাতের চরম রূপ: পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান মৌসিনরাম (১১,৮৭২ মিমি) বনাম আরব ও থরের বৃষ্টিহীন শুষ্ক মরুভূমি।
৩) তাপমাত্রার চরম রূপ: সাইবেরিয়ার ওয়াইমিয়াকনের তীব্র শৈত্য (-৬৭°C) বনাম পশ্চিম এশিয়ার মরুভূমির প্রচণ্ড উত্তাপ (>৫০°C)।
৪) জলাশয়ের চরম রূপ: গভীরতম মিষ্টি জলের বৈকাল হ্রদ (১,৬৪২ মি) বনাম বৃহত্তম লবণাক্ত কাস্পিয়ান সাগর।
2
তিব্বত মালভূমিকে কেন "পর্বতবেষ্টিত মালভূমি" (Intermontane Plateau) বলা হয়? এর ভৌগোলিক গুরুত্ব কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: তিব্বত মালভূমিটি চারদিক থেকে আকাশছোঁয়া পর্বতশ্রেণী দিয়ে ঘেরা—দক্ষিণে হিমালয় পর্বতমালা এবং উত্তরে কুয়েনলুন পর্বতমালা। দুটি পর্বতমালার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবস্থিত হওয়ায় একে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলা হয়। এর গুরুত্ব হলো: গড় উচ্চতা ৪,৫০০ মিটারের বেশি হওয়ায় এটি মেরুদ্বয়ের বাইরে সবচেয়ে বড় বরফের ভাণ্ডার এবং এশিয়ার গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, ইয়াংসিকিয়াং ও মেকং নদীর প্রধান জলউৎস।
3
সাইবেরিয়ার সমভূমিতে ওব ও লেনা নদী কেন তাদের মোহনার দিকে বরফে জমে গিয়ে প্লাবন সৃষ্টি করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ওব ও লেনা নদীগুলো দক্ষিণ থেকে উত্তরে সাইবেরিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুমেরু মহাসাগরে পড়ে। শীতের শেষে বসন্ত ঋতু শুরু হলে দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ অংশে আগে উষ্ণতা ফিরে আসে এবং বরফ গলে বিপুল জলপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু উত্তর মোহনা তখনও মেরু অঞ্চলের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় নিশ্ছিদ্র বরফে জমে বন্ধ থাকে। সেই বরফের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে জল আটকে যায় এবং দুই কূল ছাপিয়ে বিস্তীর্ণ সাইবেরিয়ার সমভূমি বন্যায় প্লাবিত হয়।
4
হোয়াংহো নদীর জল হলুদ রঙের হয় কেন এবং এটি কেন নিজের গতিপথ ঘন ঘন পরিবর্তন করত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: হোয়াংহো নদী উত্তর চীনের অত্যন্ত মিহি, সূক্ষ্ম ও নরম হলুদ রঙের লোয়েস সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই সমভূমি থেকে নদী বিপুল পরিমাণে হলুদ রঙের লোয়েস মাটি বা পলি কেটে জলে মিশিয়ে নেয়, যার ফলে নদীর জল তীব্র হলুদ বর্ণ ধারণ করে। সমভূমিতে পৌঁছানোর পর এই বিপুল পলি নদীর তলদেশে থিতিয়ে নদীগর্ভকে উঁচু করে দিত। ফলে বর্ষার জল নদী ধারণ করতে না পেরে পাড় ভেঙে বারবার নতুন দিকে নতুন গতিপথ তৈরি করত।
5
জাপানের কেইহিন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার পেছনে ভৌগোলিক অবস্থান ও গভীর সমুদ্র বন্দরের ভূমিকা কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: জাপানের নিজস্ব কোনো আকরিক লোহা, কয়লা বা খনিজ তেল নেই। তাই কেইহিনের কারখানায় উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। টোকিও উপসাগরের উপকূলে গভীর প্রাকৃতিক বন্দর থাকায় বিশালাকার সুপারট্যাঙ্কার ও বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সরাসরি কারখানার জেটিতে এসে নোঙর করতে পারে। এর ফলে স্থলপথে পরিবহনের কোনো অতিরিক্ত ব্যয় হয় না এবং সমুদ্রপথে তৈরি গাড়ি ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরাসরি আমেরিকা ও ইউরোপে সস্তায় রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।