এশিয়া হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও সর্বাধিক জনবহুল মহাদেশ। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ৩০% অংশ (আয়তন প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার) এবং বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৬০% (৪৭০ কোটিরও বেশি মানুষ) এই এক মহাদেশেই বসবাস করে। এটি বৈচিত্র্য ও চরম বৈপরীত্যের এক অনন্য লীলাভূমি—যেখানে পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ থেকে গভীরতম হ্রদ এবং শীতলতম তুষারপ্রান্তর থেকে শুষ্কতম মরুভূমি সবই পাশাপাশি অবস্থান করছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
এশিয়া মহাদেশ দক্ষিণে ১০° দক্ষিণ অক্ষাংশ (ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহ) থেকে উত্তরে ৮১° উত্তর অক্ষাংশ এবং পশ্চিমে ২৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে পূর্বে ১৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর; পশ্চিমে ইউরাল পর্বত, ইউরাল নদী ও কাস্পিয়ান সাগর এশিয়াকে ইউরোপ থেকে এবং সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর এশিয়াকে আফ্রিকা থেকে পৃথক করেছে। উত্তর-পূর্বে বেরিং প্রণালী এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে।
চরমতম উচ্চতা: মাউন্ট এভারেস্ট
হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু। নেপালে একে 'সাগরমাথা' এবং তিব্বতে 'চোমোলাংমা' (বিশ্বের জননী) বলা হয়।
চরমতম নিম্নভূমি: মৃত সাগর (Dead Sea)
পশ্চিম এশিয়ার জর্ডান ও ইজরায়েলের সীমান্তে অবস্থিত মৃত সাগর (Dead Sea) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩০ মিটার নিচে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম উন্মুক্ত স্থলভাগ। এর জলের লবণাক্ততা প্রায় ৩৪% হওয়ায় কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী এতে বাঁচতে পারে না এবং মানুষ না সাঁতার জেনেও ভেসে থাকে।
গভীরতম ও বৃহত্তম জলাশয়
রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদ (Lake Baikal) পৃথিবীর গভীরতম মিষ্টি জলের হ্রদ (গভীরতা ১,৬৪২ মিটার), যা বিশ্বের মোট তরল মিষ্টি জলের ২০% ধারণ করে। অন্যদিকে কাশ্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) পৃথিবীর বৃহত্তম অন্তর্দেশীয় লবণাক্ত জলের হ্রদ (আয়তন প্রায় ৩ লক্ষ ৭১ হাজার বর্গকিমি)।
জলবায়ুগত চরম বৈপরীত্য
ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরাম (Mawsynram) পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান (বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১১,৮৭২ মিমি); অন্যদিকে সাইবেরিয়ার ভেরখোয়ানস্ক ও ওয়াইমিয়াকন উত্তর গোলার্ধের শীতলতম জনবসতিপূর্ণ স্থান (তাপমাত্রা -৬৭°C-এর নিচে নামে), এবং ইরানের দস্ত-ই-লুত মরুভূমিতে তাপমাত্রা ৫০°C ছাড়িয়ে যায়।