মাটি হলো পৃথিবীর স্থলভাগের সবচেয়ে অমূল্য পাতলা সজীব ত্বক। এটি কেবল ধূলিকণার সমষ্টি নয়, বরং কোটি কোটি জীবিত অণুজীব, কেঁচো, জল, বাতাস ও হিউমাসের এক গতিশীল জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র। প্রাকৃতিকভাবে এক ইঞ্চি উর্বর শীর্ষ মৃত্তিকা (Topsoil) গঠিত হতে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ বছর সময় লাগে। অথচ মানবজাতির অবিবেচক কার্যকলাপের কারণে এই মহামূল্যবান সম্পদ আজ মারাত্মকভাবে দূষিত ও বিনষ্ট হচ্ছে।
মাটি দূষণের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা
বিভিন্ন ক্ষতিকারক কঠিন, তরল ও রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ মাটিতে সঞ্চিত হয়ে মাটির স্বাভাবিক ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণমান নষ্ট করলে এবং তা উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে উঠলে তাকে মাটি দূষণ (Soil Pollution) বলে।
আদর্শ উর্বর মাটির অনুপাত
একটি স্বাস্থ্যকর পরিণত মাটির মোট আয়তনের প্রায় ৪৫% খনিজ কণা, ৫% জৈব উপাদান বা হিউমাস, ২৫% মাটির জল এবং ২৫% মাটির বায়ু থাকা আবশ্যক। দূষণের ফলে এই ভারসাম্যে চরম বিপর্যয় ঘটে।
মৃত্তিকা ক্ষয় বনাম মাটি দূষণ
বায়ু ও জলের প্রবাহে মাটির ওপরের উর্বর স্তর অপসারিত হওয়া হলো মৃত্তিকা ক্ষয় (Soil Erosion)। অন্যদিকে মাটিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ও অপচনশীল বর্জ্য মিশে উর্বরতা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়া হলো মাটি দূষণ।
অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ
মানব ইতিহাসের সময়সীমার বিচারে মাটি একটি অনবায়নযোগ্য সম্পদ। একবার এক হেক্টর জমির উর্বর শীর্ষ মৃত্তিকা বিষাক্ত বা ধ্বংস হয়ে গেলে জীবদ্দশায় তা পুনরায় প্রাকৃতিক উপায়ে ফিরে পাওয়া অসম্ভব।
সপ্তম শ্রেণির ভূগোলে প্রাসঙ্গিকতা
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পরিবেশ সুরক্ষায় মাটির স্বাস্থ্য ও জৈব কৃষির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা মৃত্তিকা সংরক্ষণে সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠে।