Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি 7 • Geography & Environment (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় 1
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

পৃথিবীর পরিক্রমণ

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির "আমাদের পৃথিবী" পাঠ্যক্রমের প্রথম অধ্যায় "পৃথিবীর পরিক্রমণ"। এই অধ্যায়ে পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি (বার্ষিক গতি), উপবৃত্তাকার কক্ষপথ, অনুসূর ও অপসূর অবস্থান, পৃথিবীর অক্ষের স্থায়ী হেলানো নতি (৬৬½°), রবিমার্গ ও সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি, বিষুব (মহাবিষুব ও জলবিষুব), সংক্রান্তি (কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তি), দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি, ঋতু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক কারণ, এবং মেরু অঞ্চলের বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা যেমন নিশীথ সূর্যের দেশ (হ্যামারফেস্ট বন্দর), ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত, এবং সুমেরুপ্রভা ও কুমেরুপ্রভা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

জানুয়ারি মাসে পৃথিবী যখন সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে, তখন আমাদের বাংলায় প্রচণ্ড শীত পড়ে কেন?

আমরা অনেকেই হয়তো ভাবি—যখন পৃথিবী সূর্যের খুব কাছে চলে যায় তখন গ্রীষ্মকাল হয়, আর যখন পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে চলে যায় তখন শীতকাল হয়! কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রতি বছর ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে কাছে থাকে (মাত্র ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি দূরে, যাকে ‘অনুসূর’ বলা হয়)? অথচ সেই জানুয়ারি মাসেই আমাদের পশ্চিমবঙ্গ ও সমগ্র উত্তর ভারতে কনকনে শীত অনুভূত হয়! আবার উল্টোদিকে ৪ জুলাই পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি দূরে, যাকে ‘অপসূর’ বলা হয়), অথচ জুলাই মাসে ভারতে চরম গরম ও আর্দ্র বর্ষাকাল থাকে! দূরত্ব যদি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করত, তবে জানুয়ারিতে আমাদের তীব্র গরমে পুড়ে যাওয়ার কথা ছিল! কেন এমন উল্টো ঘটনা ঘটে? কারণ তাপমাত্রা ও ঋতু পরিবর্তন সূর্যের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে পৃথিবীর অক্ষের ৬৬½° স্থায়ী হেলানো কোণ এবং সূর্যরশ্মির পতনকোণের ওপর। কীভাবে এই মহাজাগতিক জ্যামিতি আমাদের ঋতুচক্র ও মেরুদেশের অদ্ভুত রাত পরিচালনা করে—চলুন তা উন্মোচন করি!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ঋতু পরিবর্তন কেন হয়, মে-জুন মাসে বাংলায় যখন প্রচণ্ড দাবদাহ তখন অস্ট্রেলিয়ায় কেন কনকনে শীত, এবং পৃথিবীর যে স্থানে আমরা বাস করি তার জলবায়ু কীভাবে মহাজাগতিক গতির ওপর নির্ভর করে—তা বোঝার জন্য এই অধ্যায়টি ভূগোলের ভিত্তিপ্রস্তর। বাস্তব জীবনে কৃষিচক্র, বর্ষপঞ্জি তৈরি, এমনকি বিমান চালনা ও মহাকাশ গবেষণার জন্য পরিক্রমণ গতির ধারণা অপরিহার্য।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • পৃথিবীর আকৃতি (অভিগত গোলক / জিঅয়েড) এবং আহ্নিক গতির (নিজ অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় আবর্তন, যার ফলে দিন ও রাত হয়) প্রাথমিক ধারণা।
  • গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা (নিরক্ষরেখা ০°, কর্কটক্রান্তি ২৩½°উঃ, মকরক্রান্তি ২৩½°দঃ, সুমেরুবৃত্ত ৬৬½°উঃ, কুমেরুবৃত্ত ৬৬½°দঃ) ও দ্রাঘিমারেখার পরিচিতি।
  • সূর্যকে কেন্দ্র করে সৌরজগতের গ্রহগুলির ঘূর্ণন এবং মহাকর্ষ বলের প্রাথমিক ধারণা।

শিখন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল

  • পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ গতির মধ্যে পার্থক্য এবং পরিক্রমণ সময়কাল (৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড) ও অধিবর্ষ (Leap Year) নির্ণয়ের গাণিতিক নিয়ম ব্যাখ্যা করা।
  • পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং অনুসূর (৩ জানুয়ারি - ১৪.৭ কোটি কিমি) ও অপসূর (৪ জুলাই - ১৫.২ কোটি কিমি) অবস্থানের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা।
  • কক্ষতলের সাথে পৃথিবীর অক্ষের ৬৬½° স্থায়ী হেলানো নতি এবং ধ্রুবতারামুখী অক্ষীয় স্থায়িত্ব কীভাবে ঋতু পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি তা প্রমাণ করা।
  • মহাবিষুব (২১ মার্চ), কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন), জলবিষুব (২৩ সেপ্টেম্বর) ও মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর)-র সময় সূর্যরশ্মির পতনকোণ ও দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের তারতম্য নিরূপণ করা।
  • নিশীথ সূর্যের দেশ (নরওয়ের হ্যামারফেস্ট), মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত, এবং মেরুজ্যোতি (অরোরা)-র ভৌগোলিক কারণ অনুধাবন করা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. পরিক্রমণ গতি, পরিক্রমণ বেগ ও অধি...
2 ২. উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: অনুসূর ও অপস...
3 ৩. পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান ও...
4 ৪. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি (রবিমার...
5 ৫. সূর্যরশ্মির পতনকোণ, নিশীথ সূর্যে...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. পরিক্রমণ গতি, পরিক্রমণ বেগ ও অধিবর্ষের বৈজ্ঞানিক নিয়ম

Foundation পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারদিকেও অবিরাম ঘুরে চলেছে। নিজের মেরুদণ্ডের চারদিকে ঘোরার এই গতিকে বলা হয় ‘আহ্নিক গতি’ (দৈনিক আবর্তন) এবং সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার গতিকে বলা হয় ‘পরিক্রমণ গতি’ বা ‘বার্ষিক গতি’ (Revolution of the Earth)। যে নির্দিষ্ট পথে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তাকে কক্ষপথ (Orbit) এবং কক্ষপথটি যে কাল্পনিক সমতলে অবস্থিত তাকে কক্ষতল (Orbital Plane) বলে। পৃথিবীর কক্ষপথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিলোমিটার।

Scientific Phenomenon পরিক্রমণকালে পৃথিবী মহাকাশে স্থির নয়; এটি প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে। মহাকাশে পৃথিবীর গড় পরিক্রমণ বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি (ঘণ্টায় প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজার কিমি বা ১,০৭,০০০ কিমি/ঘণ্টা)। সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা বা ৩৬৫¼ দিন)। এই নির্দিষ্ট সময়কালকে এক সৌর বছর (Solar Year) বা বার্ষিক কাল বলা হয়।

Mechanism সাধারণ আন্তর্জাতিক গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিতে ১ বছর ধরা হয় নিখুঁত ৩৬৫ দিনে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (প্রায় ৬ ঘণ্টা) সময় গণনা থেকে বাদ পড়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য প্রতি চার বছর অন্তর (৪ × ৬ = ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন) অতিরিক্ত ১ দিন যোগ করে সেই বছরটিকে ৩৬৬ দিন গণনা করা হয়। এই বিশেষ বছরটিকে বলা হয় অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year)। অধিবর্ষের অতিরিক্ত দিনটি প্রতি চার বছর পর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যোগ করা হয় (ফেব্রুয়ারি মাস তখন ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিন হয়)।

Analysis লিপ ইয়ার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক নিয়ম রয়েছে:

  1. যে কোনো সাধারণ খ্রিস্টীয় সালকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে যদি কোনো ভাগশেষ না থাকে (নিঃশেষে বিভাজ্য হয়), তবে সেই বছরটি অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার হয় (যেমন: ২০২৪, ২০২৮)।
  2. কিন্তু যে সকল বছরের শেষে দুটি শূন্য থাকে (অর্থাৎ শতবর্ষ বা Century Years, যেমন: ১৮০০, ১৯০০, ২০০০, ২১০০), সেগুলিকে কেবল ৪ দিয়ে ভাগ করলে চলে না; সেগুলিকে অবশ্যই ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে। এর কারণ হলো ৩৬৫ দিনের অতিরিক্ত সময়টি ঠিক ৬ ঘণ্টা নয়, বরং ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড—অর্থাৎ ৬ ঘণ্টার চেয়ে ১১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড কম! প্রতি চার বছরে ৪৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড বেশি যোগ হয়ে যায়, যা ৪০০ বছরে প্রায় ৩ দিনের অতিরিক্ত হিসেবে জমা হয়। এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৬০০ বা ২০০০ সাল লিপ ইয়ার ছিল (৪০০ দিয়ে বিভাজ্য), কিন্তু ১৮০০, ১৯০০ বা ২১০০ সাল লিপ ইয়ার নয়।

Application লিপ ইয়ারের এই বৈজ্ঞানিক সামঞ্জস্য না থাকলে প্রতি ১০০ বছরে ঋতুচক্র প্রায় ২৪ দিন পিছিয়ে যেত। কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বর্ষাকাল চলে আসত এপ্রিল বা মে মাসে, যার ফলে মানব সভ্যতার কৃষিচক্র, বৃষ্টিপাতের সময়কাল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত।

২. উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: অনুসূর ও অপসূর অবস্থান

Foundation জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলার তাঁর গ্রহদের গতি সংক্রান্ত প্রথম সূত্রে প্রমাণ করেন যে, সৌরজগতের কোনো গ্রহের কক্ষপথই নিখুঁত গোলাকার বা বৃত্তাকার নয়। পৃথিবীর কক্ষপথটিও বৃত্তাকার নয়, বরং কিছুটা ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার (Elliptical Orbit)। এই উপবৃত্তের কেন্দ্রে নয়, বরং দুটি নাভিবিন্দুর (Foci) একটিতে সূর্য অবস্থান করে।

Scientific Phenomenon কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ার কারণে সারা বছর ধরে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না। সারা বছরে এই দূরত্বের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে:

  • সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে গড় দূরত্ব হলো ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিলোমিটার (প্রায় ১৫ কোটি কিমি), যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট বা ১ AU (Astronomical Unit) বলা হয়।
  • অনুসূর অবস্থান (Perihelion): প্রতি বছর ৩ জানুয়ারি সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব সবচেয়ে কমে যায়। এই দিন দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার (১৪৭ মিলিয়ন কিমি)। গ্রিক শব্দ ‘Peri’ (নিকট) এবং ‘Helios’ (সূর্য) থেকে ‘পেরিহেলিয়ন’ কথাটি এসেছে।
  • অপসূর অবস্থান (Aphelion): প্রতি বছর ৪ জুলাই সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। এই দিন দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিলোমিটার (১৫২ মিলিয়ন কিমি)। গ্রিক শব্দ ‘Apo’ (দূরবর্তী) এবং ‘Helios’ (সূর্য) থেকে ‘অ্যাফেলিয়ন’ কথাটি এসেছে।

Mechanism কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে, গ্রহগুলি যখন সূর্যের নিকটবর্তী হয় তখন তাদের মহাকর্ষীয় টানের কারণে পরিক্রমণ গতি কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং যখন দূরে সরে যায় তখন গতি হ্রাস পায়। তাই অনুসূর অবস্থানে (৩ জানুয়ারি) পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ সামান্য বেড়ে হয় প্রায় ৩০.৩ কিমি/সেকেন্ড এবং অপসূর অবস্থানে (৪ জুলাই) বেগ সামান্য কমে হয় প্রায় ২৯.৩ কিমি/সেকেন্ড।

Analysis পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও ভ্রান্ত ধারণা নিরসন: ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে, তবুও আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ও সমগ্র উত্তর গোলার্ধে তখন তীব্র শীতকাল থাকে কেন? আর ৪ জুলাই সবচেয়ে দূরে থাকা সত্ত্বেও তখন গরম থাকে কেন?
বৈজ্ঞানিক সত্য হলো—অনুসূর ও অপসূর অবস্থানের দূরত্বের পার্থক্য মাত্র ৫০ লক্ষ কিলোমিটার (মোট দূরত্বের মাত্র ৩%)। এই সামান্য দূরত্বের হ্রাস-বৃদ্ধি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। ঋতু পরিবর্তনের আসল কারণ সূর্যের দূরত্ব নয়, বরং পৃথিবীর অক্ষের ৬৬½° হেলানো অবস্থান এবং সূর্যরশ্মির পতনকোণ! ৩ জানুয়ারি দূরত্ব কম হলেও উত্তর গোলার্ধ সূর্যের বিপরীত দিকে হেলে থাকে, ফলে সেখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তীর্যকভাবে পড়ে এবং দিন ছোট হয়। তাই অনুসূর অবস্থান সত্ত্বেও উত্তর গোলার্ধে তখন শীতকাল বিরাজ করে।

Application যদিও অনুসূর ও অপসূর সরাসরি ঋতু পরিবর্তন ঘটায় না, তবে পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগের পরিবর্তনের কারণে উত্তর গোলার্ধের শীতকালের স্থায়িত্ব (প্রায় ৮৯ দিন) গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্বের (প্রায় ৯৩ দিন) চেয়ে প্রায় ৪ দিন কম হয়।

৩. পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান ও ধ্রুবতারামুখী অক্ষীয় স্থায়িত্ব

Foundation পৃথিবী যে কল্পিত দণ্ডটির ওপর ভিত্তি করে নিজের অক্ষে লাটিমের মতো বনবন করে ঘুরছে, তাকে মেরুরেখা বা পৃথিবীর অক্ষ (Earth's Axis) বলা হয়। এই অক্ষের দুই প্রান্তবিন্দু হলো উত্তর মেরু (North Pole, ৯০°উঃ) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole, ৯০°দঃ)। পৃথিবী তার কক্ষতলে সোজা উল্লম্বভাবে দাঁড়িয়ে ঘোরে না; এটি একটি নির্দিষ্ট কোণে হেলে অবস্থান করে।

Scientific Phenomenon পৃথিবীর মেরুদণ্ড বা অক্ষটি তার কক্ষতলের (Orbital Plane) সঙ্গে সর্বদা ৬৬½° (৬৬ ডিগ্রি ৩০ মিনিট) কোণে হেলে থাকে। অর্থাৎ, কক্ষতলের ওপর অঙ্কিত উল্লম্ব বা লম্ব রেখার সাথে পৃথিবীর অক্ষের কৌণিক দূরত্ব হলো ২৩½° (২৩ ডিগ্রি ৩০ মিনিট) কোণ (কারণ ৯০° - ৬৬½° = ২৩½°)। নিরক্ষীয় তলটি তার কক্ষতলের সাথে ২৩½° কোণে অবস্থান করে।

Mechanism পরিক্রমণকালে পৃথিবীর অক্ষের এই হেলানো ভাব কখনোই পরিবর্তিত হয় না। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় কক্ষপথের প্রতিটি বিন্দুতে পৃথিবীর অক্ষটি নিজের পূর্ববর্তী অবস্থানের সাথে সম্পূর্ণ সমান্তরাল (Parallelism of Axis) থাকে। একে পৃথিবীর ‘অক্ষের সমান্তরালতা’ বলা হয়। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর উত্তর মেরু অক্ষটি সর্বদা সুদূর মহাকাশে একটি নির্দিষ্ট নক্ষত্র—ধ্রুবতারা (Polaris / Pole Star)-র দিকে মুখ করে থাকে। একে ধ্রুবমুখিতা বলা হয়।

Analysis এই স্থায়ী ৬৬½° অক্ষীয় হেলানো নতি এবং ধ্রুবমুখিতার ফলেই পরিক্রমণকালে বছরের এক সময় পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে থাকে। আবার বছরের অপর সময় বিপরীতভাবে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে যায়। যে গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, সেখানে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে এবং দিন দীর্ঘ হয়—ফলে সেখানে গ্রীষ্মকাল হয়। অপরদিকে যে গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে থাকে, সেখানে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে এবং দিন ছোট হয়—ফলে সেখানে শীতকাল হয়।

Application যদি পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে হেলে না থেকে সম্পূর্ণ ৯০° উল্লম্ব থাকত, তবে সারা বছর পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে দিন ও রাত ঠিক ১২ ঘণ্টা করে হতো, সূর্যরশ্মির পতনকোণের কোনো সাময়িক পরিবর্তন হতো না এবং পৃথিবীতে কোনো ঋতু পরিবর্তনই হতো না! চিরকাল একই স্থানে একই আবহাওয়া স্থায়ী হয়ে যেত।

৪. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি (রবিমার্গ): বিষুব ও সংক্রান্তি

Foundation বাস্তবপক্ষে সূর্য স্থির এবং পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে তাকালে আমাদের মনে হয় যেন সূর্য সারা বছর ধরে আকাশের একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পথে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে স্থান পরিবর্তন করছে। পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির কারণে আকাশে সূর্যের এই কাল্পনিক পরিক্রমণ পথকে রবিমার্গ (Ecliptic) এবং এই গতিকে সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি (Apparent Annual Motion of the Sun) বলা হয়।

Scientific Phenomenon আপাত বার্ষিক গতিতে সূর্যের অবস্থান কর্কটক্রান্তিরেখা (২৩½°উঃ) থেকে মকরক্রান্তিরেখার (২৩½°দঃ) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সূর্যের এই উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ চক্রটি নিম্নরূপ:

  • উত্তরায়ণ (Uttarayan): ২২ ডিসেম্বর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ছয় মাস সূর্য ক্রমশ উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ২১ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তিরেখায় পৌঁছালে উত্তরায়ণের সমাপ্তি ঘটে।
  • দক্ষিণায়ণ (Dakshinayan): ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরবর্তী ছয় মাস সূর্য ক্রমশ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তিরেখায় পৌঁছালে দক্ষিণায়ণের সমাপ্তি ঘটে।

Mechanism ঋতু পরিবর্তনের বার্ষিক চক্রে চারটি প্রধান ভৌগোলিক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  1. ২১ মার্চ — মহাবিষুব (Vernal Equinox): এই দিন সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) ওপর ঠিক লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে ছায়াবৃত্ত সমস্ত সমাক্ষরেখাকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে এবং সমগ্র পৃথিবীতে দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত) হয়। উত্তর গোলার্ধে এই সময় বসন্তকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।
  2. ২১ জুন — কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice): এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তিরেখার (২৩½°উঃ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তর গোলার্ধ সূর্যের সবচেয়ে কাছে ঝুঁকে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে দীর্ঘ এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয় (কলকাতায় দিন প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট)। সুমেরুবৃত্তে (৬৬½°উঃ) ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর — জলবিষুব বা শারদীয় বিষুব (Autumnal Equinox): ২১ মার্চের মতো এই দিনও সূর্য পুনরায় নিরক্ষরেখার (০°) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। পুনরায় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা করে) হয়। উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল (শরতের দুর্গাপূজার সময়) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
  4. ২২ ডিসেম্বর — মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice): এই দিন সূর্য মকরক্রান্তিরেখার (২৩½°দঃ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয় (গ্রীষ্মকাল)। বিপরীতভাবে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোট এবং রাত সবচেয়ে দীর্ঘ হয় (শীতকাল)। কুমেরুবৃত্তে (৬৬½°দঃ) ২৪ ঘণ্টাই সূর্যের আলো দেখা যায়।

Analysis ‘বিষুব’ কথাটির সংস্কৃত অর্থ হলো ‘সমান’ (দিন ও রাতের সমান দৈর্ঘ্য)। লাতিন শব্দ ‘Solstice’ এসেছে ‘Sol’ (সূর্য) এবং ‘Sistere’ (স্থির হওয়া) থেকে—কারণ সংক্রান্তির দিন সূর্য তার সর্বোচ্চ উত্তর বা দক্ষিণ সীমায় পৌঁছে সাময়িকভাবে থমকে দাঁড়ায় এবং তারপর বিপরীত অভিমুখে ফিরতে শুরু করে।

Application ২২ ডিসেম্বর যখন উত্তর গোলার্ধে কনকনে শীতের আমেজে বড়দিন (Christmas) পালিত হয়, তখন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রখর গ্রীষ্মকাল থাকে। সেখানে মানুষ সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কেটে ও আইসক্রিম খেয়ে গ্রীষ্মকালীন বড়দিন উদযাপন করে! এটি ঋতু বৈপরীত্যের এক অসাধারণ বাস্তব উদাহরণ।

৫. সূর্যরশ্মির পতনকোণ, নিশীথ সূর্যের দেশ ও মেরুজ্যোতি (অরোরা)

Foundation কোনো অঞ্চলে বায়ুমণ্ডল কতটা উত্তপ্ত হবে তা প্রধানত দুটি প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে: (১) সূর্যরশ্মির পতনকোণ (Angle of Incidence of Sun's Rays) এবং (২) দিনের দৈর্ঘ্যের স্থায়িত্ব (Duration of Daylight)। এই দুইয়ের যৌথ প্রভাবকে বলা হয় সৌর বিকিরণ বা ইনসোলেশন (Insolation - Incoming Solar Radiation)।

Scientific Phenomenon সূর্যরশ্মির পতনকোণ দুই ধরনের হয়:

  • লম্ব রশ্মি (Vertical Rays - ৯০° কোণ): সূর্যরশ্মি যখন সোজা উল্লম্বভাবে পড়ে, তখন তা ভূপৃষ্ঠের খুব অল্প এলাকার মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং বায়ুমণ্ডলের পাতলা স্তর ভেদ করে আসে। ফলে ধূলিকণা ও মেঘ দ্বারা তাপ কম শোষিত ও বিচ্ছুরিত হয় এবং ভূপৃষ্ঠ প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়। নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে এটি ঘটে।
  • তীর্যক রশ্মি (Oblique / Slanting Rays - <৯০° কোণ): সূর্যরশ্মি যখন বাঁকা বা তীর্যকভাবে পড়ে, তখন একই পরিমাণ তাপ ভূপৃষ্ঠের অনেক বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলের অনেক পুরু স্তর ভেদ করতে হয়। ফলে বায়ুমণ্ডলীয় শোষণ ও বিচ্ছুরণে বেশিরভাগ উত্তাপ নষ্ট হয়ে যায় এবং ভূপৃষ্ঠে মৃদু উত্তাপ পৌঁছায়। মেরু অঞ্চলে এবং শীতকালে এটি ঘটে।

Mechanism পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের ফলে মেরু অঞ্চলগুলিতে কয়েকটি অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক ঘটনা ঘটে:

  1. নিশীথ সূর্যের দেশ (Land of the Midnight Sun): নরওয়ের উত্তরাংশে অবস্থিত হ্যামারফেস্ট বন্দর (Hammerfest Port, ৭০°৩৯′ উত্তর অক্ষাংশ) সুমেরুবৃত্তের মধ্যে অবস্থিত। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস এখানে সূর্য কখনোই দিগন্তের নিচে অস্ত যায় না। গভীর মধ্যরাত্রিতেও দিগন্তে লালচে সূর্য দৃশ্যমান থাকে। তাই নরওয়েকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয়।
  2. মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত: ২১ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকার কারণে উত্তর মেরুতে (৯০°উঃ) টানা ৬ মাস শুধুই দিন থাকে এবং সূর্য অস্ত যায় না। একই সময়ে বিপরীত দক্ষিণ মেরুতে (৯০°দঃ) টানা ৬ মাস সম্পূর্ণ অন্ধকার রাত্রি চলে। আবার ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত দক্ষিণ মেরুতে একটানা ৬ মাস দিন থাকে এবং উত্তর মেরুতে চলে একটানা ৬ মাসের দীর্ঘ রাত।
  3. মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora): একটানা ছয় মাসের দীর্ঘ মেরু রাত্রিতে যখন আকাশ ঘন অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখন মেরু আকাশের বায়ুমণ্ডলে এক অদ্ভুত স্বর্গীয় রঙিন আলোর খেলা দেখা যায়। সূর্য থেকে ছুটে আসা তড়িদাহত সৌরকণা (Solar Wind) যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে (আয়নোস্ফিয়ারে) নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের অণুর সাথে সংঘর্ষ ঘটায়, তখন এই বিচ্ছুরিত আলোকচ্ছটা সৃষ্টি হয়। উত্তর মেরু অঞ্চলে এই জ্যোতিকে বলা হয় সুমেরুপ্রভা (Aurora Borealis) এবং দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে একে বলা হয় কুমেরুপ্রভা (Aurora Australis)।

Analysis একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বিশ্লেষণ: উত্তর মেরুতে গ্রীষ্মকালে একটানা ৬ মাস দিন থাকা সত্ত্বেও সেখানকার বরফ গলে না কেন? কারণ মেরু অঞ্চলে সূর্যের রশ্মি সর্বদা চরম তীর্যকভাবে পড়ে (দিগন্তের ওপর সূর্যের সর্বোচ্চ উন্নতি কোণ মাত্র ২৩½°)। উপরন্তু, বরফ ও তুষারাবৃত সাদা মেরুভূমি আগত সূর্যতাপের প্রায় ৮০-৮৫% অংশ কোনো শোষণ ছাড়াই মহাকাশে প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয় (উচ্চ অ্যালবেডো প্রভাব - High Albedo Effect)। ফলে ৬ মাস অবিরাম সূর্য থাকলেও তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচেই থাকে।

Application সূর্যরশ্মির পতনকোণের এই বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করেই সমগ্র পৃথিবীকে তিনটি প্রধান তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়েছে: (১) উষ্ণমণ্ডল (০° থেকে ২৩½° উত্তর ও দক্ষিণ), (২) নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (২৩½° থেকে ৬৬½° উত্তর ও দক্ষিণ), এবং (৩) হিমমণ্ডল (৬৬½° থেকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ)। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের সংযোগস্থলে (কর্কটক্রান্তিরেখার উভয় পাশে) অবস্থিত।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

পরিক্রমণ গতি ও অধিবর্ষ (Leap Year) পরিমাপক
পরিক্রমণ বেগ ~৩০ কিমি/সেকেন্ড (১,০৭,০০০ কিমি/ঘণ্টা)
পরিক্রমণ কাল ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (~৩৬৫¼ দিন)
সাধারণ বছর ৩৬৫ দিন (উদ্বৃত্ত ~৬ ঘণ্টা সঞ্চিত হয়)
অধিবর্ষ (Leap Year) ৩৬৬ দিন (প্রতি ৪ বছরে ফেব্রুয়ারি ২৯ দিন; শতবর্ষ ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য)
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতি ৪ বছরে অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন যোগ করে সময়ের সমতা রক্ষা করা হয়।
অনুসূর বনাম অপসূর অবস্থান (দূরত্বের হ্রাস-বৃদ্ধি)
অনুসূর (Perihelion) — ৩ জানুয়ারি দূরত্ব সর্বনিম্ন: ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি (বেগ সর্বাধিক: ৩০.৩ কিমি/সেকেন্ড)
অপসূর (Aphelion) — ৪ জুলাই দূরত্ব সর্বাধিক: ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি (বেগ সর্বনিম্ন: ২৯.৩ কিমি/সেকেন্ড)
গড় দূরত্ব ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিমি (১ AU)
বৈজ্ঞানিক সত্য দূরত্বের ৩% পরিবর্তন ঋতু তৈরি করে না; অক্ষীয় নতিই ঋতু নিয়ন্ত্রণ করে!
উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একটি নাভিতে সূর্য অবস্থান করার কারণে এই দূরত্বের পার্থক্য ঘটে।
পৃথিবীর অক্ষীয় নতি ও ধ্রুবমুখিতা
কক্ষতলের সাথে অক্ষের কোণ ৬৬½° (স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় নতি)
উল্লম্বের সাথে অক্ষের কোণ ২৩½° (অক্ষের সমান্তরালতা)
ধ্রুবমুখিতা উত্তর মেরু অক্ষ সর্বদা দূর আকাশের ধ্রুবতারার (Polaris) দিকে নির্দেশিত
কক্ষপথের পরিধি প্রায় ৯৬ কোটি কিমি
অক্ষ যদি হেলে না থাকত (৯০° উল্লম্ব হতো), তবে পৃথিবীতে কখনোই কোনো ঋতু পরিবর্তন হতো না।
বিষুব ও সংক্রান্তির কালপঞ্জি (ঋতুচক্র)
২১ মার্চ — মহাবিষুব নিরক্ষরেখায় (০°) লম্ব সূর্যরশ্মি • বিশ্বজুড়ে ১২ ঘণ্টা দিন / ১২ ঘণ্টা রাত
২১ জুন — কর্কটসংক্রান্তি কর্কটক্রান্তিরেখায় (২৩½°উঃ) লম্ব রশ্মি • উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন
২৩ সেপ্টেম্বর — জলবিষুব নিরক্ষরেখায় (০°) লম্ব সূর্যরশ্মি • বিশ্বজুড়ে ১২ ঘণ্টা দিন / ১২ ঘণ্টা রাত
২২ ডিসেম্বর — মকরসংক্রান্তি মকরক্রান্তিরেখায় (২৩½°দঃ) লম্ব রশ্মি • উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন
বিষুব মানে সমান দিন-রাত; সংক্রান্তি মানে সূর্যের অবস্থানের চরম উত্তর বা দক্ষিণ সীমা।
সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি (রবিমার্গ)
রবিমার্গ (Ecliptic) মহাকাশে সূর্যের পরিভ্রমণের আপাত বৃত্তাকার গতিপথ
উত্তরায়ন (Uttarayan) ২২ ডিসেম্বর থেকে ২১ জুন (সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গতি)
দক্ষিণায়ন (Dakshinayan) ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর (সূর্যের দক্ষিণমুখী আপাত গতি)
সূর্যের বিচরণ সীমা ২৩½° উত্তর (কর্কটক্রান্তি) থেকে ২৩½° দক্ষিণ (মকরক্রান্তি)
পৃথিবীর পরিক্রমণ ও অক্ষীয় নতির ফলেই ভূপৃষ্ঠের দর্শকের কাছে সূর্যের এই আপাত সঞ্চালন অনুভূত হয়।
সূর্যরশ্মির পতনকোণ ও মেরুদেশীয় বিস্ময়
লম্ব রশ্মি (৯০°) ক্ষুদ্র এলাকায় কেন্দ্রীভূত • বায়ুমণ্ডলের পাতলা স্তর • তীব্র উত্তাপ (গ্রীষ্ম)
তীর্যক রশ্মি (<৯০°) বৃহৎ এলাকায় বিস্তৃত • বায়ুমণ্ডলের পুরু স্তর • মৃদু উত্তাপ (শীত)
নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর (মে থেকে জুলাই মধ্যরাতেও সূর্য দৃশ্যমান)
মেরুজ্যোতি (Aurora) সুমেরুপ্রভা (Aurora Borealis - উত্তর) ও কুমেরুপ্রভা (Aurora Australis - দক্ষিণ)
মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন থাকা সত্ত্বেও তীর্যক রশ্মি ও বরফের উচ্চ অ্যালবেডোর কারণে বরফ গলে না।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে (অনুসূর অবস্থানে) থাকা সত্ত্বেও আমাদের পশ্চিমবঙ্গ ও সমগ্র উত্তর ভারতে তীব্র শীত পড়ে কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. দূরত্বের প্রভাবের অসারতা:
অনুসূর (৩ জানুয়ারি - ১৪.৭ কোটি কিমি) ও অপসূর (৪ জুলাই - ১৫.২ কোটি কিমি) অবস্থানের মধ্যে দূরত্বের পার্থক্য মাত্র ৫০ লক্ষ কিমি, যা সূর্য-পৃথিবীর গড় দূরত্বের মাত্র ৩%। এই সামান্য পরিবর্তন বৈশ্বিক তাপমাত্রায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে না।

২. অক্ষীয় নতি ও পতনকোণের আসল কারণ:
পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬½° কোণে হেলে থাকার কারণে জানুয়ারি মাসে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে বিপরীত দিকে হেলে থাকে। ফলে:
• উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তীর্যকভাবে পড়ে, যার ফলে তাপ বৃহৎ এলাকায় ছড়িয়ে গিয়ে তীব্রতা হারিয়ে ফেলে।
• দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়; দিনের বেলায় অর্জিত সামান্য উত্তাপ দীর্ঘ রাত্রিতে মহাশূন্যে বিকিরিত হয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে যায়।
অতএব, সূর্যের নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও তীর্যক রশ্মি ও ক্ষুদ্র দিনের কারণে জানুয়ারি মাসে আমাদের এখানে তীব্র শীত অনুভূত হয়।
উদাহরণ 2
অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) কেন গণনা করা হয়? ২০০০ সাল কেন অধিবর্ষ ছিল, কিন্তু ১৯০০ এবং ২১০০ সাল কেন অধিবর্ষ নয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. লিপ ইয়ারের কারণ:
পৃথিবীর সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ পরিক্রমণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কিন্তু সাধারণ ক্যালেন্ডার বছর গণনা করা হয় ৩৬৫ দিনে। ফলে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় উদ্বৃত্ত থাকে। ৪ বছরে এই উদ্বৃত্ত হয় ৪ × ৬ = ২৪ ঘণ্টা বা ১ পূর্ণ দিন। এই দিনটিকে প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে যোগ করে ৩৬৬ দিনের অধিবর্ষ তৈরি করা হয়।

২. শতবর্ষের বিশেষ নিয়ম:
উদ্বৃত্ত সময়টি নিখুঁত ৬ ঘণ্টা নয়; এটি ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড—অর্থাৎ ৬ ঘণ্টার চেয়ে ১১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড কম। প্রতি ৪ বছরে ৪৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড অতিরিক্ত গণনা করা হয়ে যায়, যা ৪০০ বছরে প্রায় ৩ দিনের অতিরিক্ত হিসেবে দাঁড়ায়!
এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য নিয়ম করা হয় যে, শতবর্ষগুলি (Century Years) কেবল ৪ দিয়ে নয়, ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে।
• ২০০০ সাল ৪০০ দিয়ে সম্পূর্ণ বিভাজ্য ($2000 \div 400 = 5$), তাই ২০০০ সাল ছিল একটি লিপ ইয়ার।
• ১৯০০ এবং ২১০০ সাল ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয় ($1900 \div 400 = 4.75$), তাই এগুলি লিপ ইয়ার নয়।
উদাহরণ 3
২১ জুন কর্কটসংক্রান্তি ও ২২ ডিসেম্বর মকরসংক্রান্তির মধ্যে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের বৈপরীত্য ব্যাখ্যা করো। অস্ট্রেলিয়ায় কেন গ্রীষ্মকালে বড়দিন পালিত হয়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. ২১ জুন (কর্কটসংক্রান্তি) বনাম ২২ ডিসেম্বর (মকরসংক্রান্তি):
• ২১ জুন: সূর্য কর্কটক্রান্তিরেখায় (২৩½°উঃ) লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয় (কলকাতায় দিন ১৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট)। সুমেরুবৃত্তে (৬৬½°উঃ) ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল।
• ২২ ডিসেম্বর: সূর্য মকরক্রান্তিরেখায় (২৩½°দঃ) লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়। বিপরীতে উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত হয়। উত্তর গোলার্ধে শীত ও দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল।

২. অস্ট্রেলিয়ায় গ্রীষ্মকালে বড়দিন:
অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। ২৫ ডিসেম্বর যখন বড়দিন উদযাপিত হয়, তখন ২২ ডিসেম্বরের মকরসংক্রান্তির প্রভাবে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। সূর্যরশ্মি সেখানে প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন দীর্ঘ হয়। ফলে ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় প্রচণ্ড উত্তাপ ও গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন গ্রীষ্মকাল হয় কারণ পৃথিবী সূর্যের কাছে থাকে, আর শীতকাল হয় কারণ পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে সরে যায়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: ঋতু পরিবর্তন দূরত্বের ওপর নির্ভর করে না। ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে (অনুসূর) থাকে, তবুও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল চলে। ঋতু পরিবর্তনের আসল কারণ হলো পৃথিবীর অক্ষের ৬৬½° স্থায়ী হেলানো নতি এবং তার ফলে সূর্যরশ্মির পতনকোণ ও দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন।

সাধারণ ভুল ধারণা

একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো যে ৪ দিয়ে বিভাজ্য যে কোনো সালই লিপ ইয়ার, তাই ১৯০০ বা ২১০০ সালও লিপ ইয়ার হবে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: যে সকল সালের শেষে দুটি শূন্য থাকে (শতবর্ষ), সেগুলি লিপ ইয়ার হতে গেলে অবশ্যই ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে। ১৯০০ বা ২১০০ সাল ৪ দিয়ে বিভাজ্য হলেও ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয়, তাই এগুলি সাধারণ ৩৬৫ দিনের বছর।

সাধারণ ভুল ধারণা

শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ‘বিষুব’ (Equinox) এবং ‘সংক্রান্তি’ (Solstice)-কে গুলিয়ে ফেলে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সঠিক তথ্য: বিষুব (২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর) হলো সেই দিন যখন নিরক্ষরেখায় সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা) হয়। অপরদিকে সংক্রান্তি (২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর) হলো সেই দিন যখন সূর্য কর্কটক্রান্তি বা মকরক্রান্তিতে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের বৈষম্য সবচেয়ে চরম হয়।

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি ও ঋতুচক্র পরিকাঠামো

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি ও ঋতুচক্র পরিকাঠামো পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সপ্তম শ্রেণি ভূগোল (আমাদের পৃথিবী) • অধ্যায় ১ ১. পরিক্রমণ গতি ও অক্ষীয় হেলানো অবস্থান • উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: প্রায় ৯৬ কোটি কিমি দৈর্ঘ্য; পরিক্রমণ বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি • পরিক্রমণ কাল: ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (~৩৬৫¼ দিন); প্রতি ৪ বছরে অধিবর্ষ (৩৬৬ দিন) • অক্ষের নতি: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে সর্বদা ৬৬½° কোণে (উল্লম্বের সাথে ২৩½° কোণে) হেলে থাকে • ধ্রুবমুখিতা: পৃথিবীর উত্তর মেরু অক্ষ সর্বদা দূর আকাশে ধ্রুবতারার (Polaris) দিকে মুখ করে থাকে 🌍 উপবৃত্তাকার কক্ষতল • ৬৬½° স্থায়ী নতি • ৩৬৫¼ দিন ২. অনুসূর ও অপসূর অবস্থান (দূরত্বের হ্রাস-বৃদ্ধি) • অনুসূর অবস্থান (Perihelion) — ৩ জানুয়ারি: সূর্য-পৃথিবী দূরত্ব সর্বনিম্ন (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) • অপসূর অবস্থান (Aphelion) — ৪ জুলাই: সূর্য-পৃথিবী দূরত্ব সর্বাধিক (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) • গড় দূরত্ব: প্রায় ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিমি (১ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক বা ১ AU) • বৈজ্ঞানিক সত্য: দূরত্বের তারতম্য ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ নয়; অক্ষের নতিই ঋতু ঘটায়! ☀️ ৩ জানুয়ারি (১৪.৭ কোটি কিমি) বনাম ৪ জুলাই (১৫.২ কোটি কিমি) ৩. বিষুব ও সংক্রান্তি (ঋতু পরিবর্তনের কালপঞ্জি) • ২১ মার্চ: মহাবিষুব (Vernal Equinox) — নিরক্ষরেখায় লম্ব সূর্যরশ্মি; সর্বত্র সমান দিন-রাত (১২ ঘণ্টা) • ২১ জুন: কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice) — কর্কটক্রান্তিরেখায় (২৩½°উঃ) লম্ব রশ্মি; উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন • ২৩ সেপ্টেম্বর: জলবিষুব (Autumnal Equinox) — পুনরায় নিরক্ষরেখায় লম্ব রশ্মি; সর্বত্র সমান দিন-রাত • ২২ ডিসেম্বর: মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice) — মকরক্রান্তিরেখায় (২৩½°দঃ) লম্ব রশ্মি; উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন 🍂 বিষুব (২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর) • সংক্রান্তি (২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর) ৪. সূর্যরশ্মির পতনকোণ ও মেরুদেশীয় বিস্ময় • পতনকোণের প্রভাব: লম্ব রশ্মি ক্ষুদ্র এলাকায় তীব্র তাপ দেয়; তির্যক রশ্মি বৃহৎ এলাকায় বিস্তৃত হয়ে কম তাপ দেয় • নিশীথ সূর্যের দেশ: নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত মধ্যরাতেও সূর্য দেখা যায় • মেরু প্রদেশে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত: উত্তর মেরুতে ২১ মার্চ–২৩ সেপ্টেম্বর দিন; দক্ষিণ মেরুতে রাত • মেরুজ্যোতি (Aurora): দীর্ঘ মেরু রাত্রিতে সুমেরুপ্রভা (Borealis) ও কুমেরুপ্রভা (Australis)-র রঙিন আলোর ছটা 🌌 সূর্যরশ্মির পতনকোণ • নিশীথ সূর্য • সুমেরু ও কুমেরুপ্রভা TARGETEXAMS • WBBSE সপ্তম শ্রেণি ভূগোল (আমাদের পৃথিবী)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি এবং মোট কক্ষপথের পরিধি প্রায় ৯৬ কোটি কিলোমিটার।
মূল বিষয় 2
সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (~৩৬৫¼ দিন), যাকে এক সৌর বছর বলে।
মূল বিষয় 3
উদ্বৃত্ত প্রায় ৬ ঘণ্টার ভারসাম্য রাখতে প্রতি ৪ বছর অন্তর ৩৬৬ দিনের অধিবর্ষ (Leap Year) গণনা করা হয়; শতবর্ষগুলিকে ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হয়।
মূল বিষয় 4
উপবৃত্তাকার কক্ষপথের জন্য ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে (অনুসূর - ১৪.৭ কোটি কিমি) এবং ৪ জুলাই সবচেয়ে দূরে থাকে (অপসূর - ১৫.২ কোটি কিমি)।
মূল বিষয় 5
পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সাথে সর্বদা ৬৬½° কোণে এবং উল্লম্বের সাথে ২৩½° কোণে হেলে থাকে এবং সর্বদা ধ্রুবতারার দিকে নির্দেশিত থাকে।
মূল বিষয় 6
২১ মার্চ (মহাবিষুব) ও ২৩ সেপ্টেম্বর (জলবিষুব) নিরক্ষরেখায় লম্ব সূর্যরশ্মির কারণে বিশ্বজুড়ে দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা দিন / ১২ ঘণ্টা রাত) হয়।
মূল বিষয় 7
২১ জুন (কর্কটসংক্রান্তি) উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও গ্রীষ্মকাল; ২২ ডিসেম্বর (মকরসংক্রান্তি) দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন এবং উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও শীতকাল।
মূল বিষয় 8
নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয়; মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত থাকে এবং আয়নোস্ফিয়ারে মেরুজ্যোতি (অরোরা) সৃষ্টি হয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
১. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার কাকে বলে? একটি শতবর্ষ লিপ ইয়ার কিনা তা কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ কাল ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। বর্ষপঞ্জিতে ৩৬৫ দিন ধরায় প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা উদ্বৃত্ত থাকে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে ১ দিন যোগ করে ৩৬৬ দিনের বছর গণনা করা হয়, একে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার বলে। শতবর্ষের ক্ষেত্রে সালটিকে অবশ্যই ৪০০ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য হতে হয় (যেমন ২০০০ সাল লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু ১৯০০ বা ২১০০ সাল নয়)।
৩৬৫¼ দিন, প্রতি ৪ বছরে ১ অতিরিক্ত দিন এবং ৪০০ দিয়ে বিভাজ্যতার নিয়ম উল্লেখ করবে।
2
২. অনুসূর ও অপসূর অবস্থানের মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ১) তারিখ ও দূরত্ব: ৩ জানুয়ারি অনুসূর অবস্থানে সূর্য-পৃথিবী দূরত্ব সবচেয়ে কমে যায় (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি); পক্ষান্তরে ৪ জুলাই অপসূর অবস্থানে এই দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)।
২) পরিক্রমণ বেগ: কেপলারের নিয়ম অনুসারে অনুসূর অবস্থানে পৃথিবীর গতি সামান্য বৃদ্ধি পায় (৩০.৩ কিমি/সেকেন্ড); অপসূর অবস্থানে গতি সামান্য হ্রাস পায় (২৯.৩ কিমি/সেকেন্ড)।
৩ জানুয়ারি বনাম ৪ জুলাই এবং ১৪.৭ কোটি কিমি বনাম ১৫.২ কোটি কিমি মনে রাখবে।
3
৩. পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে? এই নতি ঋতু পরিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সাথে সর্বদা ৬৬½° কোণে (এবং উল্লম্বের সাথে ২৩½° কোণে) হেলে থাকে। এই হেলানো অবস্থানের কারণে পরিক্রমণকালে বছরের ছয় মাস উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে (ফলে সেখানে লম্ব রশ্মি, দীর্ঘ দিন ও গ্রীষ্মকাল হয়) এবং বাকি ছয় মাস দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে (ফলে সেখানে গ্রীষ্মকাল ও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হয়)।
৬৬½° কোণ এবং গোলার্ধের পর্যায়ক্রমিক সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকার কথা লিখবে।
4
৪. মহাবিষুব ও জলবিষুব কোন কোন তারিখে ঘটে? এই দিনগুলিতে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কেমন হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ২১ মার্চ মহাবিষুব (Vernal Equinox) এবং ২৩ সেপ্টেম্বর জলবিষুব (Autumnal Equinox) ঘটে। এই দুই দিন সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর ঠিক লম্বভাবে কিরণ দেয়, যার ফলে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান—অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা দিন এবং ১২ ঘণ্টা রাত হয়।
২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর এবং সর্বত্র ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত মনে রাখবে।
5
৫. ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ কাকে এবং কেন বলা হয়? মেরুজ্যোতি কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: নরওয়ের উত্তরাংশের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয়। কারণ সুমেরুবৃত্তের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাই পর্যন্ত গভীর মধ্যরাত্রিতেও সূর্য অস্ত না গিয়ে আকাশে দেখা যায়। আর দীর্ঘ ছয় মাসের মেরু রাত্রিতে আয়নোস্ফিয়ারে সৌরকণার সাথে গ্যাসের সংঘর্ষে আকাশে যে অপরূপ রঙিন আলোর বিচ্ছুরণ দেখা যায়, তাকে মেরুজ্যোতি বা অরোরা (উত্তর মেরুতে সুমেরুপ্রভা ও দক্ষিণ মেরুতে কুমেরুপ্রভা) বলে।
নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর এবং মধ্যরাত্রির সূর্য ও সুমেরুপ্রভার কারণ উল্লেখ করবে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।