ভৌতবিজ্ঞানে বাইরে থেকে যা প্রয়োগ করে কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল বা গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন ঘটানো হয় বা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়, তাকে বল (Force) বলে।
- স্পর্শ বল (Contact Force): দুটি বস্তুর প্রত্যক্ষ ভৌত সংযোগের মাধ্যমে ক্রিয়াশীল বল—যেমন পেশীয় বল, প্রতিক্রিয়া বল এবং ঘর্ষণ বল (Frictional Force) যা সর্বদা সংস্পর্শে থাকা তলদ্বয়ের আপেক্ষিক গতিকে বাধা দেয়।
- স্পর্শহীন বল (Action-at-a-Distance Force): কোনো প্রত্যক্ষ শারীরিক সংযোগ ছাড়াই শূন্যস্থানের মধ্য দিয়ে দূর থেকে ক্রিয়াশীল বল—যেমন মহাকর্ষ বল (সকল ভরের মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ), স্থির তড়িৎ বল (আধানের মধ্যে আকর্ষণ/বিকর্ষণ) এবং চৌম্বক বল (চৌম্বক মেরুদ্বয়ের মধ্যে বল)।
কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত অসমান বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে প্রযুক্ত হয় ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে:
$$\mathbf{F = m \cdot a} \quad (\text{বল} = \text{ভর} \times \text{ত্বরণ})$$
- SI একক: নিউটন (N)। $১\text{ kg}$ ভরের বস্তুতে $১\text{ m/s}^2$ ত্বরণ সৃষ্টি করতে যে পরিমাণ বলের প্রয়োজন হয়, তাকে $১\text{ N}$ বলে।
- CGS একক: ডাইন (dyne)। $১\text{ g}$ ভরের বস্তুতে $১\text{ cm/s}^2$ ত্বরণ সৃষ্টিকারী বল।
- একক রূপান্তর: $১\text{ N} = ১\text{ kg} \times ১\text{ m/s}^2 = ১০^৩\text{ g} \times ১০^২\text{ cm/s}^2 = \mathbf{১০^৫\text{ ডাইন}}$।
বিজ্ঞানের ভাষায় ভর ও ভার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি রাশি:
| তুলনার বিষয় | ভর (Mass, $m$) | ভার বা ওজন (Weight, $W$) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | বস্তুর মধ্যে উপস্থিত মোট জড় পদার্থের পরিমাণ | পৃথিবী যে বল দ্বারা বস্তুকে তার কেন্দ্রের দিকে টানে ($W = mg$) |
| রাশির প্রকৃতি | স্কেলার রাশি (কেবল মান আছে) | ভেক্টর রাশি (মান ও অভিমুখ দুইই আছে, অভিমুখ পৃথিবীর কেন্দ্রাভিমুখী) |
| পরিবর্তনশীলতা | মহাবিশ্বের সর্বত্র ধ্রুবক ও অপরিবর্তনীয় | স্থানভেদে $g$-এর পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয় (চাঁদে ওজন পৃথিবীর $\frac{১}{৬}$ ভাগ) |
| পরিমাপক যন্ত্র | সাধারণ তুলাযন্ত্র (Common Balance) | স্প্রিং তুলাযন্ত্র (Spring Balance) |
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু বা কণা একে অপরকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান কণা দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক:
$$\mathbf{F = G \frac{m_1 m_2}{r^2}}$$
- সার্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক ($G$): একক দূরত্বের ব্যবধানে রাখা দুটি একক ভরের বস্তুর পারস্পরিক আকর্ষণ বল। SI পদ্ধতিতে $\mathbf{G = ৬.৬৭৩ \times ১০^{-১১}\text{ N}\cdot\text{m}^২/\text{kg}^২}$ এবং CGS-এ $৬.৬৭৩ \times ১০^{-৮}\text{ dyn}\cdot\text{cm}^২/\text{g}^২$।
- বস্তু দুটির মধ্যবর্তী মাধ্যম, উষ্ণতা বা রাসায়নিক গঠনের ওপর $G$-এর মান নির্ভর করে না বলে একে সার্বজনীন ধ্রুবক বলে।
কোনো তলের একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে (বা ঘাতকে) চাপ (Pressure) বলে:
$$\mathbf{P = \frac{\text{লম্ব বল (ঘাত)}}{\text{ক্ষেত্রফল}} = \frac{F}{A}}$$
- একক: SI একক পাস্কাল (Pascal, Pa), যেখানে $১\text{ Pa} = ১\text{ N/m}^২$। CGS একক $\text{dyne/cm}^২$ ($১\text{ Pa} = ১০\text{ dyne/cm}^২$)।
- ব্যস্তানুপাতিক প্রভাব ($P \propto \frac{১}{A}$): বল স্থির থাকলে ক্ষেত্রফল যত কমবে, চাপ তত বাড়বে। এই কারণেই পেরেকের ডগা তীক্ষ্ণ করা হয় যাতে অল্প শক্তিতেই কাঠে প্রবেশ করে; ধারালো ছুরি দিয়ে ফল সহজে কাটা যায়; অন্যদিকে ভারী লরির চাকা চওড়া করা হয় যাতে রাস্তার ওপর চাপ কমে যায়।