Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Political Science • অধ্যায় 3
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

নাগরিকতা

নাগরিকতা হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনগত বন্ধন। ল্যাটিন শব্দ সিভিটাস থেকে উদ্ভূত নাগরিকতা ধারণাটি একটি রাজনৈতিক সমাজের পূর্ণাঙ্গ এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন সদস্যপদকে নির্দেশ করে, যার মধ্যে নাগরিকের পৌর, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শনে একজন নাগরিক নিছক কোনো প্রজা বা আজ্ঞাবহ সত্তা নন, বরং তিনি রাষ্ট্রীয় শাসন প্রক্রিয়ার এক সক্রিয় অংশীদার। এই অধ্যায়ে অ্যারিস্টটল, হ্যারল্ড ল্যাস্কি ও টি. এইচ. মার্শালের নাগরিকতা তত্ত্ব, নাগরিক ও বিদেশীর মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য, রক্তের সম্পর্ক ও জন্মস্থান নীতির মাধ্যমে নাগরিকতা অর্জন এবং আইনসম্মত দেশীয়করণ, নাগরিকতা বিলোপ ও বঞ্চনার পদ্ধতি, এবং লর্ড ব্রাইস নির্দেশিত সুনাগরিকের তিনটি প্রধান গুণাবলী ও তিনটি বিধ্বংসী অন্তরায় বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা অনুধাবনের জন্য নাগরিকতার পাঠ অপরিহার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে যে কেন বাক-স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সরকারি চাকুরির সমসুযোগ কেবল নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, অথচ জীবনের অধিকার ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার মতো মৌলিক মানবিক সুরক্ষাসমূহ বিদেশী নাগরিকদেরও প্রদান করা হয়। বর্তমান বিশ্বায়ন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উদ্বাস্তু সমস্যার প্রেক্ষাপটে নাগরিকতা হীনতা, দেশীয়করণ আইন এবং জাতীয় নিরাপত্তার সাথে ব্যক্তি স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলি রাষ্ট্রচিন্তায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. নাগরিকতার অর্থ, সংজ্ঞা ও ঐতিহাসি...
2 ২. নাগরিক বনাম বিদেশী: তুলনামূলক আই...
3 ৩. নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি: সহজাত ও...
4 ৪. নাগরিকতা বিলোপ ও অবসানের পদ্ধতি
5 ৫. সুনাগরিকের গুণাবলী ও প্রধান অন্ত...
6 ৬. একক নাগরিকতা বনাম দ্বৈত নাগরিকতা...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. নাগরিকতার অর্থ, সংজ্ঞা ও ঐতিহাসিক বিবর্তন

নাগরিকতার উৎপত্তি ও তাত্ত্বিক বিবর্তন

ইংরেজি Citizenship শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ 'Civis' (নাগরিক) এবং 'Civitas' (নগররাষ্ট্র) থেকে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করত, কেবল তাদেরই নাগরিক বলা হতো। তবে আধুনিক বৃহদায়তন জাতিরাষ্ট্রে নাগরিকতার ধারণা ব্যাপক সম্প্রসারিত ও গণতান্ত্রিক রূপ লাভ করেছে।

প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সংজ্ঞা:
  • অ্যারিস্টটলের সংজ্ঞা (Politics): অ্যারিস্টটলের মতে, 'যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিচারকার্য পরিচালনা এবং শাসক বা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার অধিকার ভোগ করে, সে-ই হলো নাগরিক।' তবে অ্যারিস্টটলের প্রাচীন গ্রিক নাগরিকতার ধারণা ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ ও বর্জনমূলক। তিনি নারী, ক্রীতদাস, বিদেশী (মেটিক্স) এবং কায়িক শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন, কারণ তাঁর মতে কায়িক পরিশ্রমে লিপ্ত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রচিন্তা ও সদগুণ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাশ (Leisure) পায় না।
  • হ্যারল্ড ল্যাস্কির সংজ্ঞা (A Grammar of Politics): আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড ল্যাস্কি নাগরিকতাকে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন, 'নাগরিকতা হলো জনকল্যাণে নিজের সুশিক্ষিত বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ' (Citizenship is the contribution of one's instructed judgment to the public good)। ল্যাস্কির দৃষ্টিতে নাগরিক নিছক আজ্ঞাবহ প্রজা নন, অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত প্রতিবাদ জানানো নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
  • টি. এইচ. মার্শালের ত্রিমাত্রিক বিবর্তন তত্ত্ব (Citizenship and Social Class, 1950): ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী মার্শাল দেখিয়েছেন যে আধুনিক নাগরিকতার অধিকার তিনটি শতাব্দী ধরে ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে:
শতাব্দীঅধিকারের রূপমূল বিষয়বস্তু ও রক্ষক প্রতিষ্ঠান
১৮শ শতাব্দীপৌর অধিকার (Civil Rights)ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং স্বাধীন আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার লাভের অধিকার।
১৯শ শতাব্দীরাজনৈতিক অধিকার (Political Rights)সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার এবং আইনসভা ও সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার।
২০শ শতাব্দীসামাজিক অধিকার (Social Rights)অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কাজের অধিকার, সার্বজনীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার অধিকার।

২. নাগরিক বনাম বিদেশী: তুলনামূলক আইনগত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

নাগরিক ও বিদেশীর মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য

কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকল ব্যক্তি কিন্তু সেই রাষ্ট্রের নাগরিক নন। রাষ্ট্রের স্থায়ী জনসংখ্যার মধ্যে আইনগত মর্যাদার ভিত্তিতে দুটি সুস্পষ্ট শ্রেণি বিদ্যমান: নাগরিক (Citizens) এবং বিদেশী (Aliens / Foreigners)।

আন্তর্জাতিক আইনে বিদেশীদের প্রকারভেদ:
  • মিত্রভাবাপন্ন বিদেশী (Alien Friends): যে সকল বিদেশী নাগরিক এমন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিবাসী যার সাথে আশ্রয়দাতা রাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
  • শত্রুভাবাপন্ন বিদেশী (Alien Enemies): যে সকল বিদেশী নাগরিকের মূল রাষ্ট্রের সাথে আশ্রয়দাতা রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘর্ষ চলমান। তাদের গতিবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং তারা ভারতীয় সংবিধানের ২২ নম্বর ধারার গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সুরক্ষা পায় না।
  • রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি (Stateless Persons) ও শরণার্থী (Refugees): যাদের কোনো রাষ্ট্রেরই আইনগত নাগরিকত্ব নেই বা যারা নিজ দেশে নিপীড়নের ভয়ে আশ্রয় প্রার্থী।
পার্থক্যের ভিত্তিনাগরিক (Citizens)বিদেশী (Aliens)
আনুগত্যের প্রকৃতিরাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী, মৌলিক এবং অবিভাজ্য আনুগত্য প্রকাশ করে।আবাসিক রাষ্ট্রটির ভূখণ্ডে অবস্থানকালীন কেবল স্থানীয় আইনের প্রতি সাময়িক আনুগত্য প্রদর্শন করে। মূল আনুগত্য থাকে নিজ রাষ্ট্রের প্রতি।
রাজনৈতিক অধিকারসম্পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে: ভোটদান, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, সাংবিধানিক পদ (রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি) লাভ।কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না; ভোটদান বা সরকারি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নেই।
ভারতীয় মৌলিক অধিকারসকল মৌলিক অধিকার ভোগ করে। বিশেষত ধারা ১৫, ১৬, ১৯, ২৯ ও ৩০ কেবল নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।সাধারণ আইনি ও মানবাধিকারমূলক সুরক্ষা পায় (যেমন ধারা ১৪, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫-২৮)। তবে ১৫, ১৬, ১৯, ২৯, ৩০ ভোগ করতে পারে না।
সামরিক বাধ্যবাধকতাপ্রয়োজনে রাষ্ট্র কর্তৃক বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগদান (Conscription) করতে বাধ্য।সামরিক বাহিনীতে কাজ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; তাদের কখনো সামরিক দায়িত্বে বাধ্য করা যায় না।
বহিষ্কার বা প্রত্যর্পণকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র তার নিজস্ব নাগরিককে কখনো দেশ থেকে বহিষ্কার বা নির্বাসিত করতে পারে না।আইনসম্মত কারণে সার্বভৌম রাষ্ট্র যেকোনো বিদেশীকে দেশ থেকে বহিষ্কার (Deportation) বা প্রত্যর্পণ করতে পারে।

৩. নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি: সহজাত ও আইনসম্মত (দেশীয়করণ)

নাগরিকতা অর্জনের বিভিন্ন বৈधानिक পদ্ধতি

পদ্ধতিগত দিক থেকে নাগরিককে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: সহজাত নাগরিক (Natural-Born Citizens) এবং আইনসম্মত বা অর্জিত নাগরিক (Naturalized Citizens)।

ক. জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকতা লাভ (সহজাত নাগরিক):
  • ১. রক্তের সম্পর্ক নীতি (Jus Sanguinis): এই নীতি অনুযায়ী সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয় তার পিতামাতার রক্তের সম্পর্ক বা নাগরিকতার ভিত্তিতে, সন্তান যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন। যেমন—জার্মানি, ইতালি ও ভারতের নাগরিকত্ব আইনের প্রাথমিক ভিত্তি।
  • ২. জন্মস্থান নীতি (Jus Soli): এই নীতি অনুসারে সন্তান কোন ভৌগোলিক ভূখণ্ডে ভূমিষ্ঠ হলো তার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকতা নির্ধারিত হয়, পিতামাতার নাগরিকতা যাই হোক না কেন। ব্রিটিশ সাধারণ আইন ও মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে এই নীতি স্বীকৃত।
  • আধুনিক সমন্বয়: বর্তমানে অধিকাংশ দেশ (ভারতসহ) এই দুই নীতির এক ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় ঘটিয়ে নাগরিকতা আইন প্রণয়ন করেছে।
খ. আইনসম্মত পদ্ধতি বা দেশীয়করণের মাধ্যমে অর্জন (Naturalization):

কোনো বিদেশী নাগরিক আবেদন জানিয়ে নির্দিষ্ট আইনি শর্তাবলী পূরণ করে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন:

  • দীর্ঘকালীন বসবাস (Residence): রাষ্ট্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট সময় (যেমন ভারতে ৫ থেকে ১২ বছর) সচ্চরিত্র বজায় রেখে বসবাস করা।
  • বিবাহ (Marriage): কোনো দেশের নাগরিককে বিবাহ করলে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব সহজে লাভ করা যায়।
  • সরকারি চাকুরি গ্রহণ: রাষ্ট্রের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বা বিশেষ সরকারি পদে নিয়োজিত হলে।
  • সম্পত্তি ক্রয় ও বিনিয়োগ: কোনো দেশে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় বা বৃহৎ বিনিয়োগের মাধ্যমে কিছু রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব মেলে।
  • দত্তক গ্রহণ (Adoption): কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক বিদেশী শিশুকে বৈধভাবে দত্তক গ্রহণ করা হলে শিশুটি দত্তক পিতামাতার নাগরিকত্ব লাভ করে।
  • নতুন ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্তি (Incorporation of Territory): কোনো নতুন ভূখণ্ড যখন অন্য রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন সেই অঞ্চলের সকল অধিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন (যেমন—১৯৬১ সালে গোয়া এবং ১৯৭৫ সালে সিকিম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলে সেখানকার অধিবাসীরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পান)।

৪. নাগরিকতা বিলোপ ও অবসানের পদ্ধতি

নাগরিকতা সমাপ্তি ও বঞ্চনার আইনগত ভিত্তি

আইনসম্মতভাবে নাগরিকতা যেমন অর্জন করা যায়, তেমনি নির্দিষ্ট আইনি পরিস্থিতিতে নাগরিকতার অবসান বা বিলোপ ঘটতে পারে। ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন ও আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে নাগরিকতা বিলোপের প্রধান তিনটি পথ স্বীকৃত:

বিলোপের পদ্ধতিকার্যপ্রণালীনির্দিষ্ট কারণ ও শর্তাবলী
১. স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ (Renunciation)স্বেচ্ছাকৃত ঘোষণাকোনো প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থমস্তিষ্ক নাগরিক যদি স্বেচ্ছায় অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য নিজের ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগের লিখিত ঘোষণা দাখিল করেন। তবে যুদ্ধ চলাকালীন এই আবেদন স্থগিত রাখার অধিকার রাষ্ট্রের থাকে।
২. স্বয়ংক্রিয় অবসান (Termination)আইনের প্রয়োগ দ্বারাকোনো নাগরিক যদি স্বেচ্ছায় অন্য কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তবে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় (ভারতীয় সংবিধানের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী একক নাগরিকতার নীতি)।
৩. বাধ্যতামূলক বঞ্চনা (Deprivation)সরকারি নির্দেশ দ্বারাপ্রতারণা বা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে দেশীয়করণ প্রাপ্তি, সংবিধানের প্রতি চরম আনুগত্যহীনতা প্রদর্শন, যুদ্ধকালে শত্রুপক্ষের সাথে অবৈধ বাণিজ্য বা গোপন যোগাযোগ রক্ষা, অথবা দেশীয়করণের ৫ বছরের মধ্যে ২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করলে রাষ্ট্র নাগরিকত্ব বাতিল করে দিতে পারে।

৫. সুনাগরিকের গুণাবলী ও প্রধান অন্তরায় (লর্ড ব্রাইসের বিশ্লেষণ)

লর্ড ব্রাইসের সুনাগরিকতা তত্ত্ব: সদগুণ ও বাধাসমূহ

গণতন্ত্রের সাফল্য কোনো কাগজের সংবিধান বা আইনের ওপর নয়, বরং নাগরিকদের চারিত্রিক উৎকর্ষের ওপর নির্ভর করে। প্রখ্যাত ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড জেমস ব্রাইস (Lord James Bryce) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The American Commonwealth' ও 'Modern Democracies'-এ সুনাগরিকের তিনটি আবশ্যক গুণাবলী এবং সুনাগরিকতার পথে তিনটি প্রধান অন্তরায় চিহ্নিত করেছেন।

লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের ৩টি অপরিহার্য গুণাবলী:
  1. বুদ্ধি (Intelligence): রাজনৈতিক সচেতনতা, সুস্থ বিচারবুদ্ধি এবং সাধারণ জ্ঞান। ভালো-মন্দ যাচাই করার ক্ষমতা, রাজনৈতিক মিথ্যা প্রচার ও উসকানি থেকে সত্যকে পৃথক করার সামর্থ্য এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রজ্ঞা।
  2. আত্মসংযম (Self-Control): ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থকে জনস্বার্থের অধীনস্থ করার মানসিকতা, আইনের প্রতি অবিচল আনুগত্য, বিরোধী মতামতের প্রতি সহনশীলতা এবং সংখ্যালঘুর অধিকারকে সম্মান জানানোর মানসিক সংযম।
  3. বিবেক ও কর্তব্যবোধ (Conscience): জনকল্যাণে আত্মোৎসর্গের নৈতিক চেতনা। ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য অনুধাবন, সততার সাথে কর প্রদান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সংকীর্ণ স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বৃহত্তর সমাজকল্যাণে অংশ নেওয়ার তাগিদ।
সুনাগরিকতার পথে লর্ড ব্রাইস নির্দেশিত ৩টি প্রধান অন্তরায়:
  1. অলসতা বা উদাসীনতা (Indolence / Apathy): এটি গণতন্ত্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক মরণব্যাধি। নাগরিকরা যখন রাজনীতি সম্পর্কে নির্লিপ্ত থাকে, ভোটদানে বিরত হয় এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসে না, তখন অসাধু ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।
  2. ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা (Selfishness): সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ, পারিবারিক লাভ, জাতিগত বা সম্প্রদায়গত স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া। যখন পদাধিকারী ও নাগরিকেরা জনকল্যাণকে ব্যক্তিগত অর্থোপার্জনের হাতিয়ার বানায়, তখন গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।
  3. অন্ধ দলীয় আনুগত্য (Party Spirit / Blind Partisanship): কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধ ও অযৌক্তিক সমর্থন, যা ন্যায়-অন্যায় ও সত্য-মিথ্যার বিচারকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। দলীয় সংকীর্ণতা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে এবং সমাজে হিংসাত্মক মেরুকরণ তৈরি করে।

৬. একক নাগরিকতা বনাম দ্বৈত নাগরিকতা: ভারতীয় সাংবিধানিক অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একক ও দ্বৈত নাগরিকতার বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় নাগরিকতার স্বরূপ দুই প্রকারের হতে পারে: একক নাগরিকতা (Single Citizenship) এবং দ্বৈত নাগরিকতা (Dual Citizenship)।

বৈশিষ্ট্যএকক নাগরিকতা (Single Citizenship)দ্বৈত নাগরিকতা (Dual Citizenship)
মূল ধারণাসমগ্র রাষ্ট্রে কেবল একটিমাত্র জাতীয় নাগরিকত্ব থাকে। অঙ্গরাজ্যের কোনো পৃথক নাগরিকত্ব থাকে না।ব্যক্তি একই সাথে কেন্দ্রীয় বা যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রের নাগরিক এবং নিজ অঙ্গরাজ্য বা ক্যান্টনের পৃথক নাগরিকত্ব ভোগ করে।
উদাহরণভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড।
ভারতের অবস্থান ও কারণভারত যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সংবিধান প্রণেতারা জাতীয় সংহতি রক্ষা, সংকীর্ণ প্রাদেশিকতা দমন এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বিচ্ছিন্নতাবাদ রোধে একক নাগরিকতা প্রবর্তন করেন। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র বা তামিলনাড়ুর বাসিন্দা সকলেই সমান ভারতীয় নাগরিক।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকরা ফেডারেল সরকারের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া বা টেক্সাস রাজ্যের নাগরিকত্বও ভোগ করে এবং অঙ্গরাজ্যের বিশেষ অধিকার ও করসুবিধা পায়।
প্রবাসী ভারতীয় কার্ড (OCI) সম্পর্কে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা:

ভারতীয় সংবিধানের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেকে Overseas Citizen of India (OCI) কার্ডকে ভুলবশত দ্বৈত নাগরিকত্ব মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে ওআইসি কার্ডধারীরা সাংবিধানিক নাগরিক নন; তাঁদের ভারতে ভোটদানের অধিকার নেই, কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না, রাষ্ট্রপতি বা বিচারপতির মতো সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করতে পারেন না এবং ভারতে কৃষিজমি কিনতে পারেন না। এটি মূলত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি আজীবন ভিসা সুবিধা মাত্র।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধারা, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সূত্র

টি. এইচ. মার্শালের নাগরিক অধিকারের স্তরবিন্যাস
পৌর অধিকার (১৮ শতক) + রাজনৈতিক অধিকার (১৯ শতক) + সামাজিক অধিকার (২০ শতক) = আধুনিক নাগরিকতা
লর্ড ব্রাইসের গণতান্ত্রিক শক্তির সমীকরণ
গণতান্ত্রিক উৎকর্ষ = (বুদ্ধি + আত্মসংযম + বিবেক) - (অলসতা + ব্যক্তিস্বার্থ + দলীয় সংকীর্ণতা)
ভারতের অনন্য নাগরিক অধিকারের সেট
কেবল ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার = {ধারা ১৫, ধারা ১৬, ধারা ১৯, ধারা ২৯, ধারা ৩০}

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
অ্যারিস্টটলের নাগরিকতার সংজ্ঞা উল্লেখ করো। তাঁর ধারণা কেন সংকীর্ণ ও বর্জনমূলক ছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অ্যারিস্টটল তাঁর 'পলিটিক্স' (Politics) গ্রন্থে বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শাসনকার্য পরিচালনার মতো দায়িত্বশীল পদমর্যাদায় অংশগ্রহণের অধিকারী, সে-ই হলো সেই রাষ্ট্রের প্রকৃত নাগরিক।' অ্যারিস্টটলের এই ধারণা অত্যন্ত সংকীর্ণ ও বর্জনমূলক ছিল কারণ: ১. তিনি নারীদের গৃহকর্মে সীমাবদ্ধ রেখে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। ২. ক্রীতদাসদের তিনি স্বাধীন যুক্তিহীন বিবেচনা করে নাগরিকত্ব দেননি। ৩. কায়িক শ্রমিক ও কৃষকদের বাদ দিয়েছিলেন এই যুক্তিতে যে নিরন্তর শারীরিক শ্রমে লিপ্ত থাকার কারণে রাষ্ট্রচিন্তা ও সুনাগরিকের সদগুণ চর্চার মতো প্রয়োজনীয় অবকাশ (Leisure) তাদের থাকে না।
উদাহরণ 2
আনুগত্য ও রাজনৈতিক অধিকারের ভিত্তিতে নাগরিক ও বিদেশীর পার্থক্য নির্দেশ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. আনুগত্যের ভিত্তিতে পার্থক্য: নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী, মৌলিক ও শর্তহীন আনুগত্য প্রদর্শন করে। পক্ষান্তরে, বিদেশী কেবল আশ্রয়দাতা দেশের ভূখণ্ডে বসবাসকালে স্থানীয় আইনের প্রতি সাময়িক আনুগত্য প্রদর্শন করে; তার মূল ও স্থায়ী আনুগত্য থাকে নিজ স্বদেশের প্রতি। ২. রাজনৈতিক অধিকারের ভিত্তিতে পার্থক্য: নাগরিকরা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে, যেমন ভোটদান, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং উচ্চ সাংবিধানিক পদ লাভ। বিদেশীরা কোনো প্রকার রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না।
উদাহরণ 3
রক্তের সম্পর্ক নীতি (Jus Sanguinis) এবং জন্মস্থান নীতির (Jus Soli) মধ্যকার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. রক্তের সম্পর্ক নীতি (Jus Sanguinis): এই নীতি অনুযায়ী সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয় তার পিতামাতার রক্তের সম্পর্ক বা নাগরিকতার ভিত্তিতে। সন্তান বিদেশের মাটিতে জন্মগ্রহণ করলেও পিতামাতার সূত্রে সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায়। ২. জন্মস্থান নীতি (Jus Soli): এই নীতি অনুসারে সন্তান কোন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে, তার ভিত্তিতে নাগরিকতা লাভ করে। পিতামাতার নাগরিকতা যাই হোক না কেন, সেই ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশু সেই রাষ্ট্রের নাগরিক হয় (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্দশ সংশোধনী)।
উদাহরণ 4
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের তিনটি প্রধান গুণাবলী কী কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
লর্ড ব্রাইস তাঁর 'Modern Democracies' গ্রন্থে সুনাগরিকের তিনটি প্রধান গুণাবলী উল্লেখ করেছেন: ১. বুদ্ধি (Intelligence): জনস্বার্থ বিষয়ক জটিল বিষয় অনুধাবনের ক্ষমতা, রাজনৈতিক মিথ্যাচার থেকে সত্যকে পৃথক করার বিচারবুদ্ধি এবং যুক্তিসঙ্গত ভোটদানের প্রজ্ঞা। ২. আত্মসংযম (Self-Control): ব্যক্তিস্বার্থকে সমষ্টিগত কল্যাণের অধীনস্থ করা, আইনের শাসন মেনে চলা এবং বিরোধী মতামতের প্রতি সহনশীলতা প্রকাশ। ৩. বিবেক ও কর্তব্যবোধ (Conscience): নৈতিক দায়িত্ববোধ, সততার সাথে কর প্রদান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ।
উদাহরণ 5
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অলসতা বা উদাসীনতা কীভাবে সুনাগরিকতার মারাত্মক অন্তরায় হয়ে ওঠে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
লর্ড ব্রাইস অলসতা বা রাজনৈতিক উদাসীনতাকে গণতন্ত্রের সবচেয়ে মারাত্মক শত্রু বলে চিহ্নিত করেছেন কারণ: ১. শিক্ষিত ও বিবেকবান নাগরিকরা যখন উদাসীন হয়ে ভোটদানে বিরত থাকে, তখন সংকীর্ণ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরা সহজে ক্ষমতায় চলে আসে। ২. জনগণের সচেতন নজরদারির অভাবে সরকারি প্রশাসন স্বৈরাচারী ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৩. 'অনবরত সতর্কতা ও সচেতনতাই স্বাধীনতার মূল্য'—এই মূলনীতি লঙ্ঘিত হলে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়।
উদাহরণ 6
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় সংবিধানে একক নাগরিকতা প্রবর্তনের মূল কারণ কী ছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও ড. বি. আর. আম্বেদকর ও গণপরিষদ একক নাগরিকতা প্রবর্তন করেছিলেন নিম্নলিখিত ঐতিহাসিক কারণে: ১. জাতীয় সংহতি রক্ষা: ১৯৪৭ সালের রক্তক্ষয়ী দেশভাগের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রতিরোধ করে অখণ্ড ভারতীয় জাতিসত্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে। ২. সর্বজনীন সমতা: কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিক যাতে যে কোনো অঙ্গরাজ্যে সমান অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা ও আইনি সমতা পায় তা নিশ্চিত করতে। ৩. প্রাদেশিক আনুগত্যের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে ভারতে বিদেশীরা কোনো মৌলিক অধিকার পায় না।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

বিদেশীরাও জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা (ধারা ২১) এবং আইনের চোখে সমতার (ধারা ১৪) মৌলিক অধিকার পান। কেবল রাজনৈতিক অধিকার ও বিশেষ কিছু ধারা (১৫, ১৬, ১৯, ২৯, ৩০) তাঁদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (OCI) কার্ডকে ভারতের দ্বৈত নাগরিকত্ব মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ভারতে সংবিধানের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ বেআইনি। ওআইসি হলো একটি ভিসা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সংক্রান্ত বিশেষ কার্ড, এতে ভোটাধিকার থাকে না।

সাধারণ ভুল ধারণা

জুস স্যাঙ্গুইনিস ও জুস সোলি গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

জুস স্যাঙ্গুইনিস হলো রক্তের সম্পর্ক বা বংশগতির নীতি; জুস সোলি হলো জন্মস্থান বা ভৌগোলিক ভূমির নীতি।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

নাগরিকতা: ধারণা, প্রকারভেদ ও সুনাগরিকতার উপাদান ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান • নাগরিক বনাম বিদেশী • অর্জন ও বিলোপ • সুনাগরিকের গুণাবলী নাগরিকতার ধারণা ও বিবর্তন ল্যাটিন 'Civitas' • ল্যাস্কি ও মার্শাল ১. পৌর অধিকার (১৮ শতক): ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার ২. রাজনৈতিক অধিকার (১৯ শতক): ভোটাধিকার ও সরকারে অংশগ্রহণ ৩. সামাজিক অধিকার (২০ শতক): শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা Civil (18th c.) → Political (19th c.) → Social Rights (20th c.) নাগরিক বনাম বিদেশী নাগরিক অধিকার ও বাধ্যবাধকতা • স্থায়ী আনুগত্য বনাম সাময়িক আনুগত্য • রাজনৈতিক অধিকার কেবল নাগরিকদের (ধারা ১৫, ১৬, ১৯, ২৯, ৩০) • বিদেশীদের মৌলিক মানবিক অধিকার (ধারা ১৪, ২০, ২১) • রাষ্ট্র কর্তৃক বহিষ্কার/প্রত্যর্পণ কেবল বিদেশীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অর্জন ও বিলোপের পদ্ধতি আইনসম্মত পদ্ধতি ও ধারা • অর্জন: রক্তের সম্পর্ক (Jus Sanguinis) ও জন্মস্থান (Jus Soli) • দেশীয়করণ, বিবাহ, সরকারি চাকরি ও নতুন ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্তি • বিলোপ: স্বেচ্ছায় ত্যাগ (Renunciation), বিদেশী নাগরিকতা গ্রহণ • রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও প্রতারণার কারণে বঞ্চনা (Deprivation) সুনাগরিকতা ও ব্রাইসের নীতি সুনাগরিকের ৩ গুণ ও ৩ অন্তরায় ★ ৩ গুণাবলী: ১. বুদ্ধি ২. আত্মসংযম ৩. বিবেক ও কর্তব্যবোধ ⚠ ৩ অন্তরায়: ১. অলসতা/উদাসীনতা ২. ব্যক্তিস্বার্থ ৩. অন্ধ দলীয় আনুগত্য • একক নাগরিকতা: ভারতীয় সংবিধানের জাতীয় সংহতির মূল স্তম্ভ Allegiance + Rights + Civic Duties = Constitutional Citizenship

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
নাগরিকতা হলো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক, যা অধিকার ও কর্তব্যের সমন্বয়ে গঠিত।
মূল বিষয় 2
অ্যারিস্টটল নাগরিককে বিচার ও শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলেও নারী ও শ্রমিকদের বাদ দিয়েছিলেন।
মূল বিষয় 3
হ্যারল্ড ল্যাস্কির মতে নাগরিকতা হলো জনকল্যাণে নিজের সুশিক্ষিত বিচারবুদ্ধির নৈতিক ও যুক্তিসঙ্গত প্রয়োগ।
মূল বিষয় 4
টি. এইচ. মার্শাল দেখিয়েছেন নাগরিকতা ১৮ শতকে পৌর, ১৯ শতকে রাজনৈতিক এবং ২০ শতকে সামাজিক অধিকার হিসেবে বিকশিত হয়েছে।
মূল বিষয় 5
নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য প্রদর্শন করে ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে; বিদেশীদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।
মূল বিষয় 6
ভারতীয় সংবিধানের ১৫, ১৬, ১৯, ২৯ ও ৩০ নম্বর ধারা কেবল নাগরিকদের জন্য, আর ১৪ ও ২১ নম্বর ধারা সকলের জন্য প্রযোজ্য।
মূল বিষয় 7
সহজাত নাগরিকতা রক্তের সম্পর্ক নীতি (Jus Sanguinis) এবং জন্মস্থান নীতির (Jus Soli) মাধ্যমে অর্জিত হয়।
মূল বিষয় 8
নাগরিকতার অবসান ঘটে স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ, বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণজনিত স্বয়ংক্রিয় বাতিল এবং রাষ্ট্রদ্রোহের কারণে বঞ্চনার মাধ্যমে।
মূল বিষয় 9
লর্ড ব্রাইস বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেককে সুনাগরিকের গুণ এবং অলসতা, স্বার্থপরতা ও দলীয় সংকীর্ণতাকে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মূল বিষয় 10
ভারত জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় রাখতে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিভাজন বর্জন করে একক নাগরিকতা প্রবর্তন করেছে।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

নাগরিকতা অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।