ইংরেজি 'State' শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Status' থেকে। মধ্যযুগে রোমান আইনের অধীনে 'স্ট্যাটাস' বলতে কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টির সামাজিক প্রতিপত্তি, মর্যাদা বা অধিকারের বিশেষ অবস্থাকে বোঝানো হতো। পরবর্তীকালে ল্যাটিন বাক্যাংশ 'status rei publicae' বলতে জনসাধারণের সামাজিক ও রাজনৈতিক সার্বিক শৃঙ্খলার অবস্থাকে নির্দেশ করা শুরু হয়, যা কালক্রমে সার্বভৌম রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে 'রাষ্ট্র' অর্থে রূপ পরিগ্রহ করে।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বিভিন্ন সভ্যতায় রাজনৈতিক সংগঠনকে বোঝাতে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হতো:
- প্রাচীন গ্রিস: গ্রিক দার্শনিকগণ রাষ্ট্র বোঝাতে ব্যবহার করতেন 'পলিস' (Polis) বা ক্ষুদ্র 'নগর-রাষ্ট্র' (City-State)। গ্রিকদের কাছে পলিস কেবল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল নাগরিকদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সৎ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয়-সামাজিক মিলনক্ষেত্র।
- প্রাচীন রোম: রোমানরা ব্যবহার করত 'সিভিতাস' (Civitas - নাগরিক সমাজ) এবং 'রেস পাবলিকা' (Res Publica - সাধারণ সম্পত্তি বা কমনওয়েলথ)। রোমান চিন্তায় আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকারের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মধ্যযুগীয় ইউরোপ: টিউটনীয় উপজাতি ও সামন্ত প্রভুরা ব্যবহার করতেন 'ল্যান্ড' (Land), 'রিলম' (Realm) বা 'কিংডম' (Kingdom)—যেখানে সার্বভৌম সার্বজনীন আধুনিক রাষ্ট্রের কোনো ধারণাই ছিল না।
ইতালির রেনেসাঁস যুগের রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো মেকিয়াভেলি (Niccolò Machiavelli) তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য প্রিন্স' (The Prince, ১৫১৩)-এর প্রথম লাইনেই আধুনিক অর্থে ইতালীয় শব্দ 'lo stato' (রাষ্ট্র) সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন। তিনি লিখেছিলেন—"মানবজাতি অতীতে এবং বর্তমানে যেসব সর্বময় কর্তৃত্বে বাস করেছে এবং করছে, সেগুলি হলো রাষ্ট্র; যা হয় প্রজাতন্ত্র, না হয় রাজতন্ত্র।" মেকিয়াভেলিই রাষ্ট্রকে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় ও নৈতিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।