Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Political Science • অধ্যায় 5
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

সংবিধান প্রণয়ন ও দর্শন

ভারতের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস আধুনিক বিশ্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার অধীনে গঠিত গণপরিষদ দেশের প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক এবং বিদগ্ধ আইনজ্ঞদের ঐতিহাসিক সম্মেলনে পরিণত হয়। দীর্ঘ দুই বছর, এগারো মাস ও আঠারো দিনের গভীর আলাপ-আলোচনা, বিতর্ক ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সভাপতিত্বে এবং খসড়া কমিটির সভাপতি ড. বি. আর. আম্বেদকরের অনন্য নেতৃত্বে স্বাধীন ভারতের এই সর্বোচ্চ দলিলটি রচিত হয়। এই সংবিধানের শীর্ষভাগে স্থাপিত হয়েছে প্রস্তাবনা—যা ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের আত্মিক দর্শন ও নৈতিক পথপ্রদর্শক। জনগণের সার্বভৌমিকতা, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং সৌভ্রাতৃত্বের আদর্শে দীপ্ত এই প্রস্তাবনা একটি শোষণমুক্ত ও কল্যাণকামী আধুনিক ভারত গঠনের সুমহান শপথ ঘোষণা করে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ভারতের জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ অনুধাবনের জন্য সংবিধান প্রণয়ন ও এর দর্শনের পাঠ অপরিহার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি স্পষ্ট করে তোলে যে গণপরিষদের বিতর্কগুলি কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা ছিল না, বরং ধর্মীয় বিভাজন, বর্ণবৈষম্য, দারিদ্র্য এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে এক সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্যের বন্ধনে বাঁধার বাস্তবমুখী সমাধান ছিল। জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক 'উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব' থেকে শুরু করে ১৯৭৩ সালের যুগান্তকারী কেশবানন্দ ভারতী মামলায় প্রস্তাবনাকে সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতির বিচারিক অভিযাত্রা আধুনিক গণতান্ত্রিক সুশাসনের মূল দিকদর্শন প্রদান করে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. গণপরিষদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও...
2 ২. গণপরিষদের গঠন, অধিবেশন ও ঐতিহাসি...
3 ৩. উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব (Objective...
4 ৪. খসড়া কমিটি ও সংবিধান প্রণয়নের...
5 ৫. প্রস্তাবনার দর্শন: সার্বভৌম, সমা...
6 ৬. সাংবিধানিক লক্ষ্যসমূহ ও প্রস্তাব...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. গণপরিষদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দাবি

গণপরিষদ গঠনের পটভূমি ও ব্রিটিশ সরকারের স্বীকৃতি

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণের বাইরে ভারতীয়দের দ্বারা নিজেদের সংবিধান রচনার ঐতিহাসিক দাবিটি ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি প্রধানতম আদর্শ ছিল। এর ঐতিহাসিক বিবর্তন নিম্নোক্ত পর্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়:

সালব্যক্তি / প্রস্তাবঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অবদান
১৯৩৪এম. এন. রায় (M.N. Roy)বিপ্লবী ও চিন্তাবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায় ভারতে প্রথম একটি গণপরিষদ গঠনের সুস্পষ্ট ধারণা উপস্থাপন করেন।
১৯৩৫জাতীয় কংগ্রেসভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বাধীন গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান রচনার দাবি জানায়।
১৯৩৮জওহরলাল নেহরুঘোষণা করেন যে স্বাধীন ভারতের সংবিধান কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ ছাড়া সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত গণপরিষদ দ্বারাই রচিত হতে হবে।
১৯৪০আগস্ট অফার (August Offer)ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো নীতিগতভাবে স্বীকার করে যে সংবিধান প্রণয়ন মূলত ভারতীয়দের নিজস্ব দায়িত্ব।
১৯৪২ক্রিপস মিশন (Cripps Mission)স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস যুদ্ধোত্তর ভারতে সংবিধান সভার খসড়া প্রস্তাব আনেন, যা কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়ই প্রত্যাখ্যান করে।
১৯৪৬ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনালর্ড পেথিক-লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ. ভি. আলেকজান্ডারের সমন্বয়ে গঠিত মিশন ভারতীয় গণপরিষদের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করে।

২. গণপরিষদের গঠন, অধিবেশন ও ঐতিহাসিক রূপরেখা

গণপরিষদের গঠনকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন

ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনানুসারে অবিভক্ত ভারতের গণপরিষদের মোট আসন সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছিল ৩৮৯টি (ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলো থেকে ২৯৬টি এবং দেশীয় রাজ্যগুলো থেকে ৯৩টি আসন)। জনসংখ্যার অনুপাতে (প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় ১টি আসন) আসন বণ্টন করা হয়। প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচিত সদস্যদের একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

ঐতিহাসিক সূচনা ও কার্যপ্রণালী:
  • প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন (৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬): নতুন দিল্লির কনস্টিটিউশন হলে (বর্তমান সংসদের সেন্ট্রাল হল) গণপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম লীগ এই অধিবেশন বর্জন করে। ফরাসি প্রথানুযায়ী সভার প্রবীণতম সদস্য ড. সচ্চিদানন্দ সিংহ অস্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।
  • স্থায়ী সভাপতি নির্বাচন (১১ ডিসেম্বর ১৯৪৬): ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সর্বসম্মতিক্রমে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন হরেন্দ্র কুমার মুখোপাধ্যায় (H.C. Mukherjee) এবং ভি. টি. কৃষ্ণমাচারী।
  • সাংবিধানিক উপদেষ্টা: বিশিষ্ট আইনজ্ঞ স্যার বি. এন. রাউ (Sir B.N. Rau) গণপরিষদের সাংবিধানিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন সংবিধান পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেন।
  • মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ও দেশভাগের প্রভাব (৩ জুন ১৯৪৭): দেশভাগের ফলে মুসলিম লীগের সদস্যরা পৃথক হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা ৩৮৯ থেকে কমে ২৯৯ জনে দাঁড়ায় (প্রাদেশিক সদস্য ২২৯ এবং দেশীয় রাজ্যের সদস্য ৭০ জন)।

৩. উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব (Objectives Resolution): সংবিধানের দার্শনিক ভিত্তি

জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক প্রস্তাব (১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৬)

১৯৪৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু গণপরিষদে ঐতিহাসিক 'উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব' (Objectives Resolution) উত্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবটিই ছিল ভারতের ভাবি সংবিধানের আত্মিক ভিত্তিপ্রস্তর এবং এটিই পরবর্তীকালে সামান্য মার্জিত রূপ ধারণ করে বর্তমান সংবিধানের প্রস্তাবনায় (Preamble) পরিণত হয়।

উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাবের মূল ঘোষণাসমূহ:
  • স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র: ভারতকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা।
  • জনগণের সার্বভৌমিকতা: স্বাধীন ভারতের যাবতীয় ক্ষমতার চরম উৎস হিসেবে ভারতের জনগণকে স্বীকৃতি প্রদান।
  • সামগ্রিক ন্যায়বিচার: সকল নাগরিকের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুদৃঢ় অঙ্গীকার।
  • মৌলিক স্বাধীনতা ও সমতা: চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্মাচরণ, পেশা ও সমিতির স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে সমান সুযোগের অধিকার।
  • সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা: সংখ্যালঘু, অনগ্রসর ও জনজাতি সম্প্রদায় এবং দলিত শ্রেণীর স্বার্থের জন্য পর্যাপ্ত সাংবিধানিক রক্ষাকবচ প্রদান।
  • বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ: আন্তর্জাতিক শান্তি ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় করার সক্রিয় প্রয়াস।

৪. খসড়া কমিটি ও সংবিধান প্রণয়নের চূড়ান্ত পর্ব

ড. বি. আর. আম্বেদকরের অনন্য ভূমিকা ও খসড়া কমিটি

গণপরিষদের গঠিত ২২টি কমিটির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল খসড়া কমিটি (Drafting Committee), যা ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট গঠিত হয়। বিশ্ববরেণ্য আইনবেত্তা ও সমাজ সংস্কারক ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁকে ভারতের সংবিধানের প্রধান রূপকার বা জনক (Father of the Indian Constitution) এবং আধুনিক মনু বলে অভিহিত করা হয়।

ক্র.নংসদস্যের নামবিশেষ মর্যাদা ও অবদান
১ড. বি. আর. আম্বেদকরসভাপতি; সংবিধানের মূল স্থাপত্যকার ও দলিত মুক্তি আন্দোলনের দিশারী।
২এন. গোপালস্বামী আয়েঙ্গারবিশিষ্ট কূটনীতিক ও কাশ্মীর বিষয়ক সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ।
৩আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আইয়ারমাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল ও প্রখ্যাত আইনবিদ।
৪ড. কে. এম. মুন্সীবিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও আইনজীবী।
৫সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লাআসামের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান।
৬এন. মাধব রাওবি. এল. মিত্তারের অসুস্থতাজনিত পদত্যাগের পর স্থান পান।
৭টি. টি. কৃষ্ণমাচারী১৯৪৮ সালে ডি. পি. খৈতানের মৃত্যুর পর সদস্য মনোনীত হন।
সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকরের ঐতিহাসিক দিনপঞ্জি:

সংবিধান রচনার কাজে গণপরিষদের মোট সময় লেগেছিল ঠিক ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন। এই সময়কালে মোট ১১টি অধিবেশনে ১৬৫ দিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় (যা ভারতে 'সংবিধান দিবস' বা Law Day হিসেবে পালিত হয়)। উপস্থিত ২৮৪ জন সদস্য সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। নাগরিকতা ও নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু জরুরি ধারা তাৎক্ষণিকভাবে চালু হয় এবং অবশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে কার্যকর হয় (১৯৩০ সালের লাহোর কংগ্রেসের ঐতিহাসিক পূর্ণ স্বরাজ দিবসকে চিরস্মরণীয় রাখতে এই দিনটি প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে নির্বাচিত হয়)।

৫. প্রস্তাবনার দর্শন: সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র

প্রস্তাবনায় ঘোষিত ভারতীয় রাষ্ট্রের চরিত্র

প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ এন. এ. পালকিওয়ালা প্রস্তাবনাকে 'সংবিধানের পরিচয়পত্র' (Identity Card of the Constitution) বলে অভিহিত করেছেন। প্রস্তাবনার মূল বাণী শুরু হয়েছে: 'আমরা ভারতের জনগণ...' (We, The People of India) শব্দগুচ্ছ দিয়ে, যা নিশ্চিত করে যে সংবিধানের সকল কর্তৃত্বের উৎস ভারতের সাধারণ নাগরিক।

রাষ্ট্রের স্বরূপ নির্দেশক পাঁচটি মূল স্তম্ভ:
  1. সার্বভৌম (Sovereign): ভারত সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র; অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব চরম এবং বহিরাগত কোনো বৈদেশিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশাধীনে ভারত আবদ্ধ নয়।
  2. সমাজতান্ত্রিক (Socialist): ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনী দ্বারা যুক্ত হয়। ভারতীয় সমাজতন্ত্র হলো গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র—মিশ্র অর্থনীতির মাধ্যমে দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও বৈষম্য দূরীকরণ (সুপ্রিম কোর্টের মতে এটি মার্কসবাদ ও গান্ধীবাদ-এর অপূর্ব মিলন যা মূলত গান্ধীবাদের দিকে বেশি ঝুঁকে রয়েছে)।
  3. ধর্মনিরপেক্ষ (Secular): ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংশোধনী দ্বারা যুক্ত হয়। এর অর্থ 'সর্বধর্ম সমভাব'—কোনো রাষ্ট্রধর্ম থাকবে না; রাষ্ট্র সকল ধর্মকে সমদৃষ্টিতে দেখবে এবং সকল নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে (ধারা ২৫-২৮)।
  4. গণতান্ত্রিক (Democratic): প্রাপ্তবয়স্কের সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা, যেখানে সরকার আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে।
  5. প্রজাতন্ত্র (Republic): রাষ্ট্রের শীর্ষ পদমর্যাদাধারী ব্যক্তি (ভারতের রাষ্ট্রপতি) বংশানুক্রমিক কোনো রাজা বা রানী নন, বরং তিনি জনগণের দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ের (৫ বছর) জন্য পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।

৬. সাংবিধানিক লক্ষ্যসমূহ ও প্রস্তাবনার আইনগত মর্যাদা

আদর্শিক লক্ষ্য ও প্রস্তাবনা সম্পর্কিত বিচারিক সিদ্ধান্ত

সংবিধানের প্রস্তাবনায় চারটি সুমহান লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে:

সাংবিধানিক লক্ষ্যনির্দিষ্ট ক্ষেত্রসমূহসাংবিধানিক প্রতিফলন
ন্যায়বিচার (Justice)সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকঅস্পৃশ্যতা দূরীকরণ (ধারা ১৭), সমান কাজে সমান বেতন (ধারা ৩৯ঘ), প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার (ধারা ৩২৬)। রুশ বিপ্লব (১৯১৭) থেকে অনুপ্রাণিত।
স্বাধীনতা (Liberty)চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনা১৯ নম্বর ধারার ৬টি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এবং ২৫-২৮ ধারার ধর্মীয় স্বাধীনতা। ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯) থেকে গৃহীত।
সাম্য (Equality)মর্যাদা ও সুযোগের সমতাআইনের দৃষ্টিতে সমতা (ধারা ১৪), বৈষম্যহীনতা (ধারা ১৫), সরকারি চাকুরিতে সমসুযোগ (ধারা ১৬)।
সৌভ্রাতৃত্ব (Fraternity)ব্যক্তির মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতিএকক ভারতীয় নাগরিকতা ও ৫১(ক) ধারার মৌলিক কর্তব্য। ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংশোধনে 'সংহতি' (Integrity) শব্দটি যুক্ত হয়।
প্রস্তাবনা কি সংবিধানের অংশ? বিচারিক রায়সমূহ:
  • বেরুবাড়ি ইউনিয়ন মামলা (১৯৬০): সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে প্রস্তাবনা সংবিধানের অংশ নয়; এটি নিছক সংবিধান প্রণেতাদের উদ্দেশ্য উপলব্ধির চাবিকাঠি মাত্র।
  • কেশবানন্দ ভারতী মামলা (১৯৭৩): বেরুবাড়ি মামলার রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের ১৩ বিচারপতির বেঞ্চ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে প্রস্তাবনা সংবিধানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ৩৬৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রস্তাবনা সংশোধন করা যায়, তবে এর 'মৌলিক কাঠামো' বিনষ্ট করা যাবে না।
  • এলআইসি অব ইন্ডিয়া মামলা (১৯৯৫): সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় অভিমত ব্যক্ত করে যে প্রস্তাবনা সংবিধানের এক অত্যন্ত অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
  • আদালতে বলবৎযোগ্যতা: প্রস্তাবনা সরাসরি আদালতের দ্বারা বলবৎযোগ্য (non-justiciable) নয়, কিন্তু সংবিধানের কোনো জটিল অনুচ্ছেদের সঠিক অর্থ নির্ধারণে আদালত প্রস্তাবনার আলো গ্রহণ করে।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধারা, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সূত্র

প্রস্তাবনার ক্ষমতার উৎস নীতি
সার্বভৌম ক্ষমতার চরম উৎস = আমরা ভারতের জনগণ (জনগণের সার্বভৌমিকতা)
প্রস্তাবনায় বর্ণিত রাষ্ট্রের স্বরূপ (১৯৭৬-এর পর)
রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি = সার্বভৌম + সমাজতান্ত্রিক + ধর্মনিরপেক্ষ + গণতান্ত্রিক + প্রজাতন্ত্র
সাংবিধানিক লক্ষ্য চতুষ্টয়
মূল লক্ষ্য = ন্যায়বিচার (সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক) + স্বাধীনতা (৫টি) + সাম্য (২টি) + সৌভ্রাতৃত্ব (মর্যাদা ও সংহতি)

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ভারতীয় গণপরিষদ গঠনে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার (১৯৪৬) ভূমিকা আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ভারতে গণপরিষদ গঠনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে: ১. দ্বৈত গণপরিষদের দাবি বর্জন: মুসলিম লীগের দুটি পৃথক গণপরিষদের দাবি নাকচ করে অবিভক্ত ভারতের জন্য একটিমাত্র গণপরিষদ গঠনের নির্দেশ দেয়। ২. আসন সংখ্যা নির্ধারণ: গণপরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৩৮৯টি নির্দিষ্ট করে (ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশ থেকে ২৯৬টি এবং দেশীয় রাজ্য থেকে ৯৩টি আসন)। ৩. প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন: জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বণ্টন করে প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের মাধ্যমে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে, যার ভিত্তিতে ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদের কাজ শুরু হয়।
উদাহরণ 2
উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব (Objectives Resolution) কী? কে এটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন এবং এর তাৎপর্য কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. পরিচয়: ১৯৪৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু গণপরিষদে উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ২. বিষয়বস্তু: এতে ভারতকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয় এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, সমতা ও স্বাধীনতার ভিত্তি ঘোষিত হয়। ৩. তাৎপর্য: এই প্রস্তাবটিই ছিল ভারতীয় সংবিধানের নৈতিক ও দার্শনিক ভিত্তিপ্রস্তর। পরবর্তীকালে এটিই মার্জিত রূপ ধারণ করে বর্তমান সংবিধানের প্রস্তাবনায় পরিণত হয়।
উদাহরণ 3
গণপরিষদের খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন? সংবিধান প্রণয়নে তাঁর বিশেষ ভূমিকা উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (Dr. B.R. Ambedkar)। তাঁকে 'ভারতের সংবিধানের জনক' বলা হয় কারণ: ১. তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক রীতিনীতি ও বি. এন. রাউ-এর প্রাথমিক খসড়া পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ২. ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ ও ৮টি তফসিল সংবলিত জটিল সাংবিধানিক ধারাগুলো গণপরিষদের প্রতিটি তর্কে যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। ৩. দলিত, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করে সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তৈরি করেন।
উদাহরণ 4
১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে প্রস্তাবনায় কোন কোন শব্দ যুক্ত হয়? তাদের অর্থ লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
৪২তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তাবনায় তিনটি নতুন শব্দ যুক্ত হয়: ১. সমাজতান্ত্রিক (Socialist): এর দ্বারা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র নির্দেশ করা হয়, যেখানে মিশ্র অর্থনীতির মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্য গৃহীত হয়। ২. ধর্মনিরপেক্ষ (Secular): এর অর্থ 'সর্বধর্ম সমভাব'—রাষ্ট্রের কোনো সরকারি ধর্ম থাকবে না; রাষ্ট্র সকল ধর্মকে সমান মর্যাদা ও সুরক্ষা দেবে। ৩. সংহতি (and Integrity): জাতীয় ঐক্যের সাথে 'সংহতি' শব্দটি যুক্ত করে ভারতের ভৌগোলিক ও আত্মিক অখণ্ডতাকে সুদৃঢ় করা হয়।
উদাহরণ 5
প্রস্তাবনা কি ভারতীয় সংবিধানের অংশ? বেরুবাড়ি এবং কেশবানন্দ ভারতী মামলার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. বেরুবাড়ি ইউনিয়ন মামলা (১৯৬০): সুপ্রিম কোর্ট অভিমত দেয় যে প্রস্তাবনা সংবিধানের রচয়িতাদের মনোভাব বোঝার চাবিকাঠি হলেও এটি সংবিধানের অংশ নয় এবং এটি থেকে সরকার কোনো ক্ষমতা পায় না। ২. কেশবানন্দ ভারতী মামলা (১৯৭৩): সুপ্রিম কোর্ট বেরুবাড়ি মামলার রায় বাতিল করে রায় দেয় যে প্রস্তাবনা সংবিধানের এক অত্যন্ত অবিচ্ছেদ্য অংশ (Integral Part)। অন্যান্য অনুচ্ছেদের মতো এটিও গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। ৩. সংশোধনের যোগ্যতা: ৩৬৮ নম্বর ধারায় প্রস্তাবনা সংশোধন করা যায়, তবে এর 'মৌলিক কাঠামো' কখনো নষ্ট করা যাবে না।
উদাহরণ 6
প্রস্তাবনার শুরুর শব্দগুচ্ছ 'আমরা ভারতের জনগণ...' কী নির্দেশ করে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রস্তাবনার শুরুতে 'আমরা ভারতের জনগণ...' (We, The People of India) কথাটি নিম্নলিখিত গভীর সাংবিধানিক তাৎপর্য বহন করে: ১. চরম সার্বভৌমিকতা: ভারতের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের চরম ও আসল উৎস হলো ভারতের সাধারণ জনগণ, কোনো বহিরাগত ব্রিটিশ রাজশক্তি বা রাজা নন। ২. গণতান্ত্রিক বৈধতা: জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারাই এই সংবিধান রচিত ও গৃহীত হয়েছে। ৩. অখণ্ড জাতীয় ঐক্য: জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ভাষা নির্বিশেষে সমগ্র ভারতবাসী একটি অবিভাজ্য জনসমষ্টি হিসেবে এই সর্বোচ্চ বিধানকে নিজেদের ওপর অর্পণ করেছে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে 'সমাজতান্ত্রিক' ও 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দ দুটি মূল ১৯৪৯ সালের সংবিধানে ছিল।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

শব্দ দুটি মূল সংবিধানে ছিল না; ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনী দ্বারা এগুলি প্রস্তাবনায় যুক্ত হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

প্রস্তাবনাকে মৌলিক অধিকারের ন্যায় সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রস্তাবনা সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য (non-justiciable) নয়; তবে এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলোর গভীর তাৎপর্য বিশ্লেষণে আদালতের প্রধান সহায়ক।

সাধারণ ভুল ধারণা

২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এর মধ্যে বিভ্রান্ত হওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ হলো সংবিধান গ্রহণের তারিখ (সংবিধান দিবস); ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ হলো সংবিধান কার্যকরের তারিখ (প্রজাতন্ত্র দিবস)।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

সংবিধান প্রণয়ন ও দর্শন: গণপরিষদ ও প্রস্তাবনার মূল স্তম্ভ ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান • ক্যাবিনেট মিশন • খসড়া কমিটি • প্রস্তাবনা ও মৌলিক আদর্শ গণপরিষদের ঐতিহাসিক বিকাশ ক্যাবিনেট মিশন ১৯৪৬ • গণপরিষদ অধিবেশন • প্রথম অধিবেশন: ৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬ (অস্থায়ী সভাপতি সচ্চিদানন্দ সিংহ) • স্থায়ী সভাপতি: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (১১ ডিসেম্বর ১৯৪৬) • উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব (Objectives Resolution): নেহরু (১৩ ডিসে ১৯৪৬) • সময়কাল: ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন (১১টি অধিবেশন, ১৬৫ দিন) খসড়া কমিটি ও সংবিধানের রূপকার ড. বি. আর. আম্বেদকর ও ৭ সদস্য • সভাপতি: ড. বি. আর. আম্বেদকর (সংবিধানের প্রধান রূপকার) • সাংবিধানিক উপদেষ্টা: স্যার বি. এন. রাউ (B.N. Rau) • গ্রহণ: ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ (সংবিধান দিবস / Samvidhan Divas) • কার্যকর: ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ (পূর্ণ স্বরাজ দিবসের ঐতিহাসিক স্মারক) প্রস্তাবনার রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি জনগণের সার্বভৌম কর্তৃত্ব ★ 'আমরা ভারতের জনগণ'—সার্বভৌম ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ • সার্বভৌম (Sovereign): অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পূর্ণ স্বাধীনতা • সমাজতান্ত্রিক (Socialist) ও ধর্মনিরপেক্ষ (Secular) [৪২তম সংশোধন, ১৯৭৬] • গণতান্ত্রিক (Democratic) ও প্রজাতন্ত্র (Republic): নির্বাচিত সরকার সাংবিধানিক লক্ষ্য ও আইনগত মর্যাদা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্ব ১. ন্যায়বিচার: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ২. স্বাধীনতা: চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস ও ধর্মপালন ৩. সাম্য: পদমর্যাদা ও সুযোগের সমতা • ৪. সৌভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় সংহতি ⚖ কেশবানন্দ ভারতী (১৯৭৩): প্রস্তাবনা সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনানুসারে ৩৮৯ সদস্য বিশিষ্ট ভারতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল।
মূল বিষয় 2
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ড. সচ্চিদানন্দ সিংহের অস্থায়ী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
মূল বিষয় 3
১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ স্থায়ী সভাপতি এবং স্যার বি. এন. রাউ সাংবিধানিক উপদেষ্টা হন।
মূল বিষয় 4
পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ১৯৪৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি গৃহীত হয়।
মূল বিষয় 5
ড. বি. আর. আম্বেদকরের সভাপতিত্বে ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট ৭ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠিত হয়।
মূল বিষয় 6
ঠিক ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিনে সংবিধান রচিত হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গৃহীত হয় (সংবিধান দিবস)।
মূল বিষয় 7
১৯৩০ সালের পূর্ণ স্বরাজ দিবসকে স্মরণে রেখে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সংবিধান পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হয়।
মূল বিষয় 8
প্রস্তাবনা ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে।
মূল বিষয় 9
১৯৭৬ সালের ৪২তম সংশোধনে প্রস্তাবনায় 'সমাজতান্ত্রিক', 'ধর্মনিরপেক্ষ' এবং 'সংহতি' শব্দগুলি যুক্ত হয়।
মূল বিষয় 10
১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতী মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবনাকে সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ঘোষণা করে।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

সংবিধান প্রণয়ন ও দর্শন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।