Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Political Science • অধ্যায় 11
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

মৌলিক অধিকারসমূহ

ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশে (ধারা ১২ থেকে ৩৫) সন্নিবিষ্ট মৌলিক অধিকারসমূহ হলো ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র এবং একে যথার্থভাবেই ভারতের 'ম্যাগনা কার্টা' (Magna Carta of India) আখ্যা দেওয়া হয়। মার্কিন সংবিধানের বিল অফ রাইটস এবং ভারতের ঐতিহাসিক জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রেরণা থেকে গৃহীত এই অধিকারগুলি রাষ্ট্রের যেকোনো স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সাম্যের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। মূল সংবিধানে মোট সাতটি মৌলিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তির অধিকারকে বাদ দেওয়ায় বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকরা ছয়টি গুচ্ছে বিন্যস্ত মৌলিক অধিকার ভোগ করেন: সাম্যের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার। সংবিধানের ৩২ নং ধারা অনুসারে, যা ড. বি আর আম্বেদকরের ভাষায় 'সংবিধানের হৃদয় ও আত্মা', এই অধিকারগুলি লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্ট পাঁচটি মৌলিক পরোয়ানা বা রিট জারির মাধ্যমে তা সরাসরি বলবৎ করে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল পাঠ্যসূচির বিষয় নয়, বরং একজন সচেতন ও সক্রিয় নাগরিক হয়ে ওঠার অপরিহার্য শর্ত। এটি স্পষ্ট করে কীভাবে গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের নিছক শাসনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় সুরক্ষিত রাখে। মেনকা গান্ধী মামলা (১৯৭৮)-এর মতো ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের ব্যাপক প্রসার, গোপনীয়তার অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে রিট আবেদনের পদ্ধতি জানা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিককে অপরাজেয় শক্তি জোগায়।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. মৌলিক অধিকারের ঐতিহাসিক ভিত্তি ও...
2 ২. সাম্যের অধিকার: ধারা ১৪ থেকে ১৮
3 ৩. স্বাধীনতার অধিকার: ধারা ১৯ থেকে...
4 ৪. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার ও ধর্মীয়...
5 ৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকার এ...
6 ৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার:...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. মৌলিক অধিকারের ঐতিহাসিক ভিত্তি ও 'রাষ্ট্রের' সংজ্ঞা (ধারা ১২ ও ১৩)

ম্যাগনা কার্টা থেকে ভারতীয় সংবিধান: অধিকারের উৎস ও সুরক্ষা বলয়

ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারের ধারণাটি ইংল্যান্ডের ম্যাগনা কার্টা (১২১৫), ফরাসি বিপ্লবের মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র (১৭৮৯), মার্কিন সংবিধানের অধিকারের বিল (Bill of Rights, ১৭৯১) এবং জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR, ১৯৪৮)-এর গভীর আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত। ঔপনিবেশিক ভারতে ১৯২৮ সালের নেহরু রিপোর্ট এবং ১৯৩১ সালের করাচি প্রস্তাবে মৌলিক অধিকারের দাবি সোচ্চারভাবে উত্থাপিত হয়েছিল।

ধারা ১২ ও ১৩-এর সাংবিধানিক তাৎপর্য:
  • ধারা ১২ ('রাষ্ট্রের' সংজ্ঞা): কার বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করা যায় তা এই ধারায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর আওতায় পড়ে: (১) ভারত সরকার ও সংসদ, (২) রাজ্য সরকার ও রাজ্য আইনসভা, (৩) সমস্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (পৌরসভা, পঞ্চায়েত, জেলা বোর্ড), এবং (৪) ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য বিধিবদ্ধ সংস্থা (যেমন এলআইসি, ওএনজিসি, সেল প্রভৃতি)।
  • ধারা ১৩ (মৌলিক অধিকার বিরোধী আইন বাতিল): এটি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) প্রধান উৎস। ধারা ১৩(১) অনুযায়ী সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বেকার যে সকল আইন মৌলিক অধিকারের বিরোধী তা বাতিল গণ্য হবে (আংশিক গ্রহণ নীতি বা Doctrine of Eclipse)। ধারা ১৩(২) অনুযায়ী রাষ্ট্র এমন কোনো আইন তৈরি করতে পারবে না যা মৌলিক অধিকারকে হরণ বা খর্ব করে; করলে তা বাতিল হবে।
  • মৌলিক কাঠামো নীতি (কেশববানন্দ ভারতী মামলা, ১৯৭৩): সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে সংসদ ৩৬৮ ধারায় সংবিধান সংশোধন করতে পারলেও সংবিধানের 'মৌলিক কাঠামো' (Basic Structure)-কে আঘাত করতে পারে না।

২. সাম্যের অধিকার: ধারা ১৪ থেকে ১৮

আইনের শাসন, সামাজিক সমতা এবং বিশেষাধিকারের অবসান

সাম্যের অধিকার (ধারা ১৪–১৮) হলো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভ, যা বংশমর্যাদা বা সামাজিক স্তরবিন্যাসের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা দিতে অস্বীকার করে।

ধারাসাংবিধানিক বিধান ও ব্যাখ্যা
ধারা ১৪আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সমান আইনি সুরক্ষা: আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলে সমান (ব্রিটিশ ধারণা)। একই সাথে সমপরিস্থিতিতে সকলকে সমভাবে রক্ষা করার নীতি (মার্কিন ইতিবাচক ধারণা)। এতে যুক্তিসঙ্গত শ্রেণিবিন্যাস (Reasonable Classification) অনুমোদিত।
ধারা ১৫বৈষম্যমূলক আচরণের নিষিদ্ধকরণ: কেবল ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করতে পারবে না। তবে নারী, শিশু এবং অনুন্নত ও তপশিলি শ্রেণীর জন্য বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে।
ধারা ১৬সরকারি চাকুরিতে সমান সুযোগ: সরকারি নিয়োগ বা পদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। অনগ্রসর শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য উপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের স্বার্থে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ধারা ১৭অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ: অস্পৃশ্যতা প্রথাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি এক চরম অধিকার যা নাগরিক অধিকার রক্ষা আইন (১৯৫৫) দ্বারা সুরক্ষিত।
ধারা ১৮খেতাব বা পদবী বিলোপ: সামরিক ও শিক্ষাগত কৃতিত্ব ব্যতীত রাষ্ট্র কোনো নাগরিক বা বিদেশীকে কোনো বিশেষ উপাধি (যেমন রায়বাহাদুর, নাইটহুড) দিতে পারবে না। ভারতরত্ন বা পদ্ম পুরস্কার খেতাব নয়, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

৩. স্বাধীনতার অধিকার: ধারা ১৯ থেকে ২২

গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, জীবনের অধিকার ও সোনালী ত্রিকোণ

স্বাধীনতার অধিকার (ধারা ১৯–২২) মুক্ত নাগরিক জীবনের চাবিকাঠি। ধারা ১৯(১) ভারতীয় নাগরিকদের ৬টি মৌলিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে:

  • ১৯(১)(ক): বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা (সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার এর অন্তর্ভুক্ত)।
  • ১৯(১)(খ): শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা।
  • ১৯(১)(গ): সমিতি বা ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার (সমবায় সমিতি ২০১১ সালের ৯৭তম সংশোধনী অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত)।
  • ১৯(১)(ঘ): ভারতের সমগ্র ভূখণ্ডে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতা।
  • ১৯(১)(ঙ): ভারতের যেকোনো অঞ্চলে বসবাস ও স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের স্বাধীনতা।
  • ১৯(১)(ছ): যেকোনো বৃত্তি অবলম্বন বা ব্যবসা-বাণিজ্য করার স্বাধীনতা। [১৯(১)(চ) সম্পত্তির স্বাধীনতা বিলুপ্ত]।
ধারা ২০, ২১, ২১ক ও ২২-এর সুরক্ষা বলয়:
  • ধারা ২০: অপরাধের ক্ষেত্রে সুরক্ষার তিনটি দিক: (১) কোনো ভূতাপেক্ষ ফৌজদারি আইন করা যাবে না (No ex-post facto law), (২) একই অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তি দেওয়া যাবে না (Double Jeopardy), (৩) নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না (Self-Incrimination)।
  • ধারা ২১ (জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সংরক্ষণ): 'আইন নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তাঁর জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।' ঐতিহাসিক মেনকা গান্ধী মামলায় (১৯৭৮) সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে পদ্ধতিটিকে অবশ্যই 'ন্যায়সঙ্গত, পক্ষপাতহীন ও যুক্তিগ্রাহ্য' (Just, fair, and reasonable) হতে হবে। ধারা ১৪, ১৯ ও ২১ মিলে গড়ে উঠেছে অধিকারের 'সোনালী ত্রিকোণ' (Golden Triangle)। ধারা ২১-এর মধ্যে গোপনীয়তার অধিকার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মানবিক মর্যাদার অধিকার অন্তর্ভুক্ত।
  • ধারা ২১ক (শিক্ষার অধিকার): ২০০২ সালের ৮৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সমস্ত শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার করা হয়েছে।
  • ধারা ২২: গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে আইনি পরামর্শ নেওয়া এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার অধিকার। এছাড়া নিবর্তনমূলক আটক (Preventive Detention)-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ মাস বিনা বিচারে আটক রাখার শর্তাবলী বর্ণিত।

৪. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা (ধারা ২৩–২৮)

মানব মর্যাদার সংরক্ষণ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি

শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (ধারা ২৩–২৪): দুর্বল মানুষের শ্রম ও দেহ শোষণ বন্ধে এই অধিকার কঠোর সাংবিধানিক ঢাল:

  • ধারা ২৩: মানুষ ক্রয়-বিক্রয় (মানব পাচার), বলপূর্বক বেগার খাটানো (Begar) এবং দাসপ্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  • ধারা ২৪: ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের কোনো কলকারখানা, খনি বা বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (ধারা ২৫–২৮): ভারতীয় সংবিধান কোনো রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেনি; এটি সকল ধর্মের প্রতি সমমর্যাদা (সর্বধর্ম সমন্বয়) প্রদান করে:

ধারাধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক রূপরেখা
ধারা ২৫সকল নাগরিকের বিবেকের স্বাধীনতা এবং অবাধে ধর্মবিশ্বাস গ্রহণ, ধর্মাচরণ ও ধর্মপ্রচারের অধিকার। তবে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ নিষিদ্ধ এবং এটি শান্তি ও জনস্বাস্থ্যের অধীন।
ধারা ২৬ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নিজস্ব ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনের অধিকার।
ধারা ২৭নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের প্রচার বা পোষণের জন্য কাউকে কর দিতে বাধ্য করা যাবে না। রাষ্ট্র করের টাকা কোনো ধর্মের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারে না।
ধারা ২৮সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে ধর্মশিক্ষা গ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকার এবং সম্পত্তির অধিকারের বিলোপ

সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা এবং ৪৪তম সংশোধনীর পরিবর্তন

বহুত্ববাদী ভারতীয় সমাজে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির নিজস্ব আত্মপরিচয় টিকিয়ে রাখতে ধারা ২৯ ও ৩০ সাংবিধানিক কবচ প্রদান করে:

সংখ্যালঘু সুরক্ষার মূল ধারা দুটি:
  • ধারা ২৯ (সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা): ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাসকারী নাগরিকদের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মৌলিক অধিকার রয়েছে। সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবল ধর্ম, জাতি বা ভাষার কারণে কাউকে ভর্তিতে অস্বীকার করা যাবে না।
  • ধারা ৩০ (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার): ধর্মীয় বা ভাষাগত সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সরকারি অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না।

সম্পত্তির অধিকারের বর্তমান রূপরেখা: আদি সংবিধানে ধারা ১৯(১)(চ) এবং ধারা ৩১-এ সম্পত্তির অধিকার একটি মৌলিক অধিকার ছিল। কিন্তু জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ, ভূমি সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা রূপায়ণে এটি বিচারবিভাগ ও সরকারের মধ্যে বারবার সংঘাতের সৃষ্টি করে। ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকারের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১২শ অংশের ধারা ৩০০ক (Article 300A)-তে কেবল একটি সাধারণ আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে বৈধ আইন ছাড়া কাউকে সম্পত্তিচ্যুত করা যায় না ঠিকই, কিন্তু সম্পত্তির জন্য ৩২ নং ধারায় সুপ্রিম কোর্টে রিট করা যায় না।

৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার: ধারা ৩২ ও ৫টি লেখ বা রিট

সংবিধানের হৃদয় ও আত্মা: ৫টি সাংবিধানিক পরোয়ানা বা রিট

বিচার বিভাগীয় সুরক্ষাহীন অধিকার কাগুজে প্রতিশ্রুতির বেশি কিছু নয়। ধারা ৩২ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার নিশ্চয়তা দেয়। গণপরিষদে ড. বি আর আম্বেদকর ঘোষণা করেছিলেন: 'যদি আমাকে সংবিধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ধারার নাম করতে বলা হয় যার অনুপস্থিতিতে সংবিধান নিষ্ফল হয়ে পড়বে, তবে আমি এই ৩২ নং ধারা ছাড়া অন্য কোনো ধারার নাম করতে পারি না। এটি সংবিধানের আত্মা এবং এর হৃদয়।'

রিট বা লেখআক্ষরিক অর্থ ও প্রয়োগ
১. বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus)'দেহটিকে হাজির করো': কোনো ব্যক্তিকে বেআইনি বা অন্যায়ভাবে আটক রাখা হলে আদালত আটককারী কর্তৃপক্ষকে সশরীরে আদালতে হাজির করার আদেশ দেয়। আটক বেআইনি প্রমাণিত হলে আদালত বন্দীকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দেয়।
২. পরমাদেশ (Mandamus)'আমরা আদেশ দিচ্ছি': কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা তার আইনানুগ জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বা অস্বীকার করলে আদালত তাকে সেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়।
৩. প্রতিষেধ (Prohibition)'স্থগিত বা নিষেধ করা': উচ্চ আদালত কোনো নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে তার নিজস্ব এক্তিয়ার বহির্ভূত কোনো মামলার বিচার চালাতে নিষেধ করে স্থগিতাদেশ দেয়।
৪. উৎপ্রেষণ (Certiorari)'জ্ঞাত হওয়া বা তলব করা': নিম্ন আদালত এক্তিয়ারবহির্ভূত বা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘন করে রায় দিলে উচ্চ আদালত সেই রায় বাতিল (Quash) করে এবং নথি তলব করে নিজের অধীনে নেয়।
৫. অধিকার পৃচ্ছা (Quo-Warranto)'কোন অধিকারে': কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে কোনো সরকারি পদ দখল করে রাখলে আদালত তার দাবির বৈধতা জানতে এই রিট জারি করে। যোগ্য না হলে তাকে পদচ্যুত করা হয়।

তুলনা: সুপ্রিম কোর্ট কেবল মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য ৩২ ধারায় রিট জারি করতে পারে; অপরপক্ষে ২২৬ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ আইনি অধিকার বলবৎ করতেও রিট জারি করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধারা, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সূত্র

আইনের শাসনের সমীকরণ (ধারা ১৪)
সাম্যের অধিকার = আইনের দৃষ্টিতে সমতা (ব্রিটিশ নেতিবাচক রূপ) + সমান আইনি সুরক্ষা (মার্কিন ইতিবাচক রূপ)
স্বাধীনতার সোনালী ত্রিকোণ (Golden Triangle)
সার্বজনীন ব্যক্তিস্বাধীনতা = ধারা ১৪ (সাম্য) + ধারা ১৯ (স্বাধীনতা) + ধারা ২১ (ন্যায়সঙ্গত জীবনের অধিকার)
সাংবিধানিক প্রতিকারের সূত্র (ধারা ৩২)
অধিকারের কার্যকর বলবৎকরণ = সুপ্রিম কোর্টে প্রত্যক্ষ আবেদন + ৫টি মৌলিক রিট (লেখ)

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
প্রশ্ন ১: ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নং ধারায় বর্ণিত পাঁচটি সাংবিধানিক লেখ বা রিটের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নং ধারায় সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য নিম্নলিখিত পাঁচটি লেখ বা রিট জারি করতে পারে: ১. বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus): আক্ষরিক অর্থ 'দেহটিকে হাজির করো'। কোনো নাগরিককে বেআইনিভাবে আটক রাখা হলে আদালত আটককারী কর্তৃপক্ষকে বন্দীকে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেয় এবং আটক বেআইনি হলে তাৎক্ষণিক মুক্তি দেয়। ২. পরমাদেশ (Mandamus): আক্ষরিক অর্থ 'আমরা আদেশ দিচ্ছি'। কোনো সরকারি আধিকারিক বা সংস্থা আইননির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আদালত তাকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে এই রিট জারি করে। ৩. প্রতিষেধ (Prohibition): আক্ষরিক অর্থ 'নিষেধ করা'। নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল নিজের এক্তিয়ার অতিক্রম করে বিচারকার্য পরিচালনা করলে উচ্চ আদালত তা বন্ধ করতে এই স্থগিতাদেশমূলক রিট জারি করে। ৪. উৎপ্রেষণ (Certiorari): আক্ষরিক অর্থ 'বিশেষভাবে অবগত হওয়া'। নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল ভুল বা এক্তিয়ারবহির্ভূত রায় দিলে উচ্চ আদালত সেই রায় বাতিল করে নথিপত্র নিজের আদালতে তলব করে। ৫. অধিকার পৃচ্ছা (Quo-Warranto): আক্ষরিক অর্থ 'কোন অধিকারে'। কোনো ব্যক্তি অন্যায় বা বেআইনিভাবে কোনো সরকারি পদ দাবি বা দখল করে থাকলে আদালত তার দাবির আইনি ভিত্তি জানতে চায় এবং পদমুক্ত করে।
উদাহরণ 2
প্রশ্ন ২: মেনকা গান্ধী বনাম ভারত সরকার (১৯৭৮) মামলার গুরুত্ব ও ধারা ২১-এর বিবর্তন ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
মেনকা গান্ধী মামলা (১৯৭৮) ভারতীয় সাংবিধানিক আইনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী বাঁক: ১. পদ্ধতিগত অন্ধত্ব থেকে সার্বিক ন্যায়বিচারে উত্তরণ: ১৯৫০ সালের এ.কে. গোপালন মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে পার্লামেন্ট যেকোনো আইন পাস করলেই নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায়। কিন্তু মেনকা গান্ধী মামলায় আদালত রায় দেয় যে ধারা ২১-এর আওতায় কেবল আইনানুগ পদ্ধতি থাকলেই হবে না, সেই পদ্ধতিকে অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত, পক্ষপাতহীন ও যুক্তিসঙ্গত (Just, fair, and reasonable) হতে হবে। এটি কার্যত মার্কিন 'Due Process of Law'-এর সমতুল্য। ২. মৌলিক অধিকারের সোনালী ত্রিকোণ: আদালত ঘোষণা করে যে ধারা ১৪ (সাম্য), ধারা ১৯ (স্বাধীনতা) এবং ধারা ২১ (জীবন) বিচ্ছিন্ন নয়। ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণকারী যেকোনো আইনকে ১৪ ও ১৯ নং ধারার যুক্তিসঙ্গততার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে। ৩. জীবনের অধিকারের সম্প্রসারণ: এই রায়ের পর থেকে ধারা ২১ নিছক বেঁচে থাকার অধিকার নয়, বরং মানবিক মর্যাদার সাথে বাঁচার অধিকার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, শিক্ষার অধিকার, দ্রুত বিচার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের ছত্রছায়া হিসেবে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ 3
প্রশ্ন ৩: ধারা ১৪-তে বর্ণিত 'আইনের দৃষ্টিতে সমতা' এবং 'আইন কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার'-এর পার্থক্য নির্দেশ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

সংবিধানের ১৪ নং ধারায় দুটি ভিন্ন অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হয়েছে:

১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (Equality before the law):

  • উৎস: ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এ.ভি. ডাইসির 'আইনের শাসন' তত্ত্ব থেকে গৃহীত।
  • প্রকৃতি: এটি একটি নেতিবাচক ধারণা, যার অর্থ সমাজে কারও কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। পদমর্যাদা বা সম্পদ নির্বিশেষে দেশের সাধারণ আদালতে সকলেই সাধারণ আইনের অধীন।

২. আইন কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার (Equal protection of the laws):

  • উৎস: মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী থেকে গৃহীত।
  • প্রকৃতি: এটি একটি ইতিবাচক ধারণা। এর অর্থ সমান পরিস্থিতিতে থাকা সমস্ত ব্যক্তি সমান আইনি সুরক্ষা পাবে। বৈষম্য দূর করতে পিছিয়ে পড়া নারী, শিশু বা অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য রাষ্ট্র যুক্তিসঙ্গত শ্রেণিবিন্যাস (Reasonable Classification) করে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে।
উদাহরণ 4
প্রশ্ন ৪: ভারতীয় সংবিধানে সম্পত্তির অধিকারের বর্তমান আইনি ও সাংবিধানিক মর্যাদা কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ভারতীয় সংবিধানে সম্পত্তির অধিকারের মর্যাদা মৌলিক অধিকার থেকে সাধারণ অধিকারে রূপান্তরিত হয়েছে: ১. ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৫০ সালে সংবিধানের ধারা ১৯(১)(চ) এবং ধারা ৩১-এর অধীনে সম্পত্তির অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ এবং সমাজতান্ত্রিক ভূমি সংস্কার আইনের বিরুদ্ধে ভূস্বামীরা বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় প্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতেন। ২. ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী, ১৯৭৮: মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন জনতা সরকার ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ধারা ১৯(১)(চ) এবং ধারা ৩১-কে মৌলিক অধিকারের তৃতীয় অংশ থেকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেয়। ৩. বর্তমান অবস্থান: সম্পত্তির অধিকার এখন সংবিধানের ১২শ অংশের ধারা ৩০০ক (Article 300A)-তে কেবল একটি সাধারণ আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার। বৈধ আইনানুগ কর্তৃত্ব ছাড়া রাষ্ট্র কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না ঠিকই, কিন্তু সম্পত্তির বিরোধের জন্য নাগরিক ধারা ৩২ প্রয়োগ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার রিট আবেদন করতে পারবে না।
উদাহরণ 5
প্রশ্ন ৫: ভারতীয় সংবিধানের ধারা ১৯(১)(ক) বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিধি এবং এর যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধগুলি কী কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ধারা ১৯(১)(ক) ভারতীয় নাগরিকদের অবাধ বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়: ১. পরিধি: মৌখিক, লিখিত, মুদ্রণ বা যে কোনো মাধ্যমে নিজের বা অন্যের মতামত প্রচারের অধিকার এর অন্তর্ভুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, তথ্যের অধিকার (RTI), নীরব থাকার অধিকার এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অধিকার এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ২. ধারা ১৯(২)-এর অধীনে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ: এই স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়। সংসদ নিম্নলিখিত আটটি সাংবিধানিক কারণে এর ওপর যুক্তিসঙ্গত সীমা নির্ধারণ করতে পারে: (ক) ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, (খ) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, (গ) বন্ধুত্বপূর্ণ বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক, (ঘ) জনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষা, (ঙ) শালীনতা বা নৈতিকতা বজায় রাখা, (চ) আদালত অবমাননা রোধ, (ছ) মানহানি প্রতিরোধ, (জ) কোনো অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া বন্ধ করা।
উদাহরণ 6
প্রশ্ন ৬: মৌলিক অধিকার বলবতের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের (ধারা ৩২) এবং হাইকোর্টের (ধারা ২২৬) রিট জারির ক্ষমতার তুলনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের লেখ জারির ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ তুলনা নিম্নে প্রদত্ত হলো: ১. অধিকারের ক্ষেত্র: সুপ্রিম কোর্ট ধারা ৩২-এর অধীনে কেবল তৃতীয় অংশে বর্ণিত মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্যই রিট জারি করতে পারে। কিন্তু হাইকোর্ট ধারা ২২৬-এর অধীনে মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি যেকোনো সাধারণ আইনি অধিকারের জন্যও রিট জারি করতে পারে। ফলে হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার অপেক্ষাকৃত ব্যাপক। ২. ভৌগোলিক সীমানা: সুপ্রিম কোর্ট সমগ্র ভারতের ভূখণ্ডে রিট কার্যকর করতে পারে। হাইকোর্ট কেবল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে বা যেখানে ঘটনার উৎপত্তি সেখানে রিট জারি করতে পারে। ৩. প্রতিকারের প্রকৃতি: ধারা ৩২ নিজেই একটি মৌলিক অধিকার, ফলে সংক্ষুব্ধ নাগরিক গেলে সুপ্রিম কোর্ট বিচার করতে বাধ্য। কিন্তু ধারা ২২৬ হাইকোর্টের একটি সাংবিধানিক সুবিচারমূলক ক্ষমতা; উপযুক্ত বিকল্প আইনি প্রতিকার থাকলে হাইকোর্ট চাইলে রিট প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে মৌলিক অধিকারগুলি নিরঙ্কুশ এবং এদের ওপর রাষ্ট্র কোনো বিধিনিষেধ চাপাতে পারে না।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মৌলিক অধিকার অবাধ নয়; জাতীয় ঐক্য, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং অপরের অধিকার রক্ষার স্বার্থে সংবিধানে রাষ্ট্রকে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ ভুল ধারণা

সম্পত্তির অধিকারকে এখনো একটি মৌলিক অধিকার বলে বিশ্বাস করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর পর সম্পত্তির অধিকার আর মৌলিক অধিকার নয়; এটি বর্তমানে ধারা ৩০০ক-এর আওতায় কেবল একটি সাধারণ সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে সুপ্রিম কোর্টের রিট জারির ক্ষমতা হাইকোর্টের চেয়ে অধিকতর ব্যাপক।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রকৃতপক্ষে রিটের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এক্তিয়ার (ধারা ২২৬) সুপ্রিম কোর্টের (ধারা ৩২) চেয়েও ব্যাপক; কারণ হাইকোর্ট মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ আইনি অধিকারের জন্যও রিট জারি করতে পারে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

তৃতীয় অংশ • ধারা ১২-৩৫ ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারসমূহ সংবিধানের চালিকাশক্তি: নাগরিক স্বাধীনতার ছয়টি মৌলিক স্তম্ভ ও সাংবিধানিক প্রতিকার = ১. সাম্যের অধিকার ধারা ১৪ - ১৮ আইনের দৃষ্টিতে সমতা, বৈষম্যহীনতা ও পদব ী বিলোপ ★ ২. স্বাধীনতার অধিকার ধারা ১৯ - ২২ ৬টি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, জীবন ও ব্ যক্তিস্বাধীনতা (ধারা ২১) 🛡 ৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার ধারা ২৩ - ২৪ বেগার শ্রম, মানব পাচার ও শিশুশ্রমের চিরতরে নিষিদ্ধকরণ ☸ ৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার ধারা ২৫ - ২৮ বিবেকের স্বাধীনতা, ধর্মাচরণ, ধর্মপ্র চার ও করমুক্তির অধিকার 📖 ৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা অধিকার ধারা ২৯ - ৩০ সংখ্যালঘুদের ভাষা, লিপি ও নিজস্ব শিক ্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ⚖ ৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধান ধারা ৩২ (হৃদয় ও আত্মা) সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ৫টি মৌলিক পরোয় ানা বা লেখ জারি ধারা ৩২ ও ২২৬-এর ৫টি সাংবিধানিক লেখ (Writs): বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus) পরমাদেশ (Mandamus) প্রতিষেধ (Prohibition) উৎপ্রেষণ (Certiorari) অধিকার পৃচ্ছা (Quo-Warranto)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশে (ধারা ১২ থেকে ৩৫) মৌলিক অধিকারসমূহ বিধিবদ্ধ আছে, যাকে ভারতের ম্যাগনা কার্টা বলা হয়।
মূল বিষয় 2
২. ধারা ১২ মৌলিক অধিকার যাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য সেই 'রাষ্ট্রের' বিস্তারিত সংজ্ঞা প্রদান করে।
মূল বিষয় 3
৩. ধারা ১৩ বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ভিত্তি স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যেকোনো আইনকে অবৈধ ঘোষণা করা যায়।
মূল বিষয় 4
৪. সাম্যের অধিকার (ধারা ১৪–১৮) আইনের চোখে সমতা, বৈষম্যহীনতা, সরকারি নিয়োগে সমান সুযোগ, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও পদবী বিলোপ নিশ্চিত করে।
মূল বিষয় 5
৫. ধারা ১৯(১) বাকস্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন, চলাচল, বসবাস এবং পেশা গ্রহণের ছয়টি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা প্রদান করে।
মূল বিষয় 6
৬. ধারা ২১ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে; ১৯৭৮ সালের মেনকা গান্ধী মামলায় এটি বিস্তৃত ও ন্যায়সঙ্গত কার্যপদ্ধতির মর্যাদা পায়।
মূল বিষয় 7
৭. ২০০২ সালের ৮৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে ধারা ২১ক যোগ করে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার করা হয়েছে।
মূল বিষয় 8
৮. ধারা ২৩ ও ২৪ অনুযায়ী বলপূর্বক বেগার শ্রম, মানব পাচার এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মূল বিষয় 9
৯. ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর দ্বারা সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ধারা ৩০০ক-তে সাধারণ আইনি অধিকারে পরিণত করা হয়েছে।
মূল বিষয় 10
১০. ধারা ৩২ হলো সংবিধানের 'হৃদয় ও আত্মা', যার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট ৫টি রিট (বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ, পরমাদেশ, প্রতিষেধ, উৎপ্রেষণ, অধিকার পৃচ্ছা) দ্বারা অধিকার রক্ষা করে।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

মৌলিক অধিকারসমূহ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।