ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারের ধারণাটি ইংল্যান্ডের ম্যাগনা কার্টা (১২১৫), ফরাসি বিপ্লবের মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র (১৭৮৯), মার্কিন সংবিধানের অধিকারের বিল (Bill of Rights, ১৭৯১) এবং জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR, ১৯৪৮)-এর গভীর আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত। ঔপনিবেশিক ভারতে ১৯২৮ সালের নেহরু রিপোর্ট এবং ১৯৩১ সালের করাচি প্রস্তাবে মৌলিক অধিকারের দাবি সোচ্চারভাবে উত্থাপিত হয়েছিল।
- ধারা ১২ ('রাষ্ট্রের' সংজ্ঞা): কার বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করা যায় তা এই ধারায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর আওতায় পড়ে: (১) ভারত সরকার ও সংসদ, (২) রাজ্য সরকার ও রাজ্য আইনসভা, (৩) সমস্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (পৌরসভা, পঞ্চায়েত, জেলা বোর্ড), এবং (৪) ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য বিধিবদ্ধ সংস্থা (যেমন এলআইসি, ওএনজিসি, সেল প্রভৃতি)।
- ধারা ১৩ (মৌলিক অধিকার বিরোধী আইন বাতিল): এটি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) প্রধান উৎস। ধারা ১৩(১) অনুযায়ী সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বেকার যে সকল আইন মৌলিক অধিকারের বিরোধী তা বাতিল গণ্য হবে (আংশিক গ্রহণ নীতি বা Doctrine of Eclipse)। ধারা ১৩(২) অনুযায়ী রাষ্ট্র এমন কোনো আইন তৈরি করতে পারবে না যা মৌলিক অধিকারকে হরণ বা খর্ব করে; করলে তা বাতিল হবে।
- মৌলিক কাঠামো নীতি (কেশববানন্দ ভারতী মামলা, ১৯৭৩): সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে সংসদ ৩৬৮ ধারায় সংবিধান সংশোধন করতে পারলেও সংবিধানের 'মৌলিক কাঠামো' (Basic Structure)-কে আঘাত করতে পারে না।