শাসনব্যবস্থার বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণিবিন্যাসের সূচনা করেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পলিটিক্স (Politics) গ্রন্থে। তিনি দুটি প্রধান মাপকাঠির ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে শ্রেণিবদ্ধ করেন: (১) শাসকের সংখ্যা (একক ব্যক্তি, স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি বা বহুসংখ্যক ব্যক্তি), এবং (২) শাসনের উদ্দেশ্য (স্বাভাবিক বা জনকল্যাণমূলক শাসন বনাম বিকৃত বা স্বার্থান্বেষী শাসন)।
| শাসকের সংখ্যা | স্বাভাবিক রূপ (জনকল্যাণকামী) | বিকৃত রূপ (স্বার্থান্বেষী) |
|---|---|---|
| একজনের শাসন | রাজতন্ত্র (Monarchy): প্রজাবৎসল একক রাজার ন্যায়পরায়ণ শাসন। | স্বৈরতন্ত্র (Tyranny): বলপ্রয়োগকারী স্বেচ্ছাচারী শাসকের শোষণমূলক শাসন। |
| কয়েকজনের শাসন | অভিজাততন্ত্র (Aristocracy): সমাজের গুণী, প্রজ্ঞাবান ও নিঃস্বার্থ ব্যক্তিদের শাসন। | ধনিকতন্ত্র বা স্বল্পজনতন্ত্র (Oligarchy): মুষ্টিমেয় বিত্তশালীদের স্বার্থপর শাসন। |
| বহুজনের শাসন | পলিটি বা মধ্যবিত্তের শাসন (Polity): সাংবিধানিক আইনভিত্তিক সর্বোত্তম বাস্তব শাসন। | গণতন্ত্র বা জনতাতন্ত্র (Democracy): অ্যারিস্টটলের মতে বিশৃঙ্খল দরিদ্র জনতার অবিবেচক শাসন। |
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টিফেন লিকক (Stephen Leacock) এবং লর্ড ব্রাইস (Lord Bryce) শাসনব্যবস্থাকে তিনটি প্রাতিষ্ঠানিক মাপকাঠিতে ভাগ করেছেন: (ক) সার্বভৌম ক্ষমতার বণ্টন অনুসারে: গণতান্ত্রিক বনাম একনায়কতান্ত্রিক; (খ) কেন্দ্র ও আঞ্চলিক সরকারের ক্ষমতা বিভাজন অনুসারে: এককেন্দ্রিক বনাম যুক্তরাষ্ট্রীয়; এবং (গ) শাসন ও আইনবিভাগের সম্পর্ক অনুসারে: সংসদীয় বনাম রাষ্ট্রপতি শাসিত।