গণতান্ত্রিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সার্বভৌমত্ব। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রে যেখানে নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন সভায় (ইক্লেসিয়া) অংশ নিয়ে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র পরিচালনা করত, সেখানে আধুনিক সুবিশাল জনসংখ্যার জাতিরাষ্ট্রে তা অসম্ভব। ফলে নাগরিকরা নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র পরিচালনা করে।
- সাংবিধানিক নিশ্চয়তা: ধারা ৩২৬ ঘোষণা করে যে লোকসভা ও প্রতিটি রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো নাগরিককে ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গের কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
- স্বাধীনোত্তর ভারতের সাহসিক পদক্ষেপ: ১৯৫০ সালে যখন ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ নিরক্ষর ও চরম দরিদ্র ছিলেন, তখন বহু পশ্চিমা পণ্ডিত সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার সফল হবে না। কিন্তু ভারতীয় ভোটাররা প্রমাণ করেছেন রাজনৈতিক বিচক্ষণতা সাক্ষরতার ওপর নির্ভর করে না।
- ৬১তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৮৮: প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে সংবিধানের ৩২৬ নং ধারা সংশোধন করে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়, যা কোটি কোটি ভারতীয় যুবককে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শামিল করে।
- এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য: ড. আম্বেদকরের মতে, প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ভারতের রাজনৈতিক সাম্যের মূল ভিত্তি যেখানে একজন কোটিপতির ভোটের যা মূল্য, একজন দরিদ্র দিনমজুরের ভোটের মূল্যও ঠিক তাই।