Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Political Science • অধ্যায় 12
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব

নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিক সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র, যার মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা বৈধ রাজনৈতিক কর্তৃত্বে রূপান্তরিত হয়। ভারতের মতো বিশাল বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের প্রয়োগ বাস্তবে অসম্ভব; তাই সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের (ধারা ৩২৬) ভিত্তিতে নিয়মিত, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হয়। ভারতীয় সংবিধানের পঞ্চদশ অংশে (ধারা ৩২৪ থেকে ৩২৯) সংসদ, রাজ্য আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি পদে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা—ভারতের নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে সরল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতি (FPTP) এবং সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (PR) তুলনামূলক বিশ্লেষণ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা, এবং ইভিএম, ভিভিপ্যাট, নোটা ও রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন রোধে গৃহীত বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্কার বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের স্বরূপ অনুধাবন করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর কার্যপদ্ধতি বোঝার একটি মৌলিক সোপান। এটি ব্যাখ্যা করে কীভাবে জনগণের ভোট আইনসভার আসনে রূপান্তরিত হয় এবং কেন ভারত সরকারে স্থায়িত্ব আনার লক্ষ্যে লোকসভায় সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতি গ্রহণ করলেও রাজ্যসভা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সমানুপাতিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। নির্বাচনী ত্রুটি, পেশীশক্তি ও অর্থের প্রভাব এবং সুপ্রিম কোর্টের সংস্কারমূলক রায়গুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা একজন নাগরিককে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সচেতন ও নির্ভীক করে তোলে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. গণতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্ব: সার্বজন...
2 ২. সরল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতি (F...
3 ৩. সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (...
4 ৪. ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI): সাং...
5 ৫. আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) ও...
6 ৬. ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার সমস্য...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. গণতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্ব: সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ও ভোটাধিকারের ব্যাপ্তি

গণতান্ত্রিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সার্বভৌমত্ব। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রে যেখানে নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন সভায় (ইক্লেসিয়া) অংশ নিয়ে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র পরিচালনা করত, সেখানে আধুনিক সুবিশাল জনসংখ্যার জাতিরাষ্ট্রে তা অসম্ভব। ফলে নাগরিকরা নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র পরিচালনা করে।

সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার (সংবিধানের ধারা ৩২৬):
  • সাংবিধানিক নিশ্চয়তা: ধারা ৩২৬ ঘোষণা করে যে লোকসভা ও প্রতিটি রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো নাগরিককে ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গের কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
  • স্বাধীনোত্তর ভারতের সাহসিক পদক্ষেপ: ১৯৫০ সালে যখন ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ নিরক্ষর ও চরম দরিদ্র ছিলেন, তখন বহু পশ্চিমা পণ্ডিত সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার সফল হবে না। কিন্তু ভারতীয় ভোটাররা প্রমাণ করেছেন রাজনৈতিক বিচক্ষণতা সাক্ষরতার ওপর নির্ভর করে না।
  • ৬১তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৮৮: প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে সংবিধানের ৩২৬ নং ধারা সংশোধন করে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়, যা কোটি কোটি ভারতীয় যুবককে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শামিল করে।
  • এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য: ড. আম্বেদকরের মতে, প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ভারতের রাজনৈতিক সাম্যের মূল ভিত্তি যেখানে একজন কোটিপতির ভোটের যা মূল্য, একজন দরিদ্র দিনমজুরের ভোটের মূল্যও ঠিক তাই।

২. সরল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতি (FPTP): স্বরূপ, গুণ ও ত্রুটি

ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট বা সাধারণ আপেক্ষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবস্থা

ভারতে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির সাধারণ নির্বাচনে সরল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতি বা First-Past-The-Post (FPTP) ব্যবহৃত হয়। এটিকে আপেক্ষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতিও বলা হয়।

কাঠামোগত দিকপদ্ধতির নিয়ম ও কার্যপ্রণালী
একক সদস্য নির্বাচনী কেন্দ্রসমগ্র দেশকে (লোকসভার ক্ষেত্রে ৫৪৩টি) অথবা রাজ্যকে ভৌগোলিক সীমানায় ছোট ছোট একক সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রে বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে মাত্র একজন প্রার্থী নির্বাচিত হন।
জয়ের মাপকাঠি (Plurality)প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যে প্রার্থী সর্বাধিক বৈধ ভোট পান তিনিই বিজয়ী ঘোষিত হন। মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি (পরম সংখ্যাগরিষ্ঠতা) পাওয়ার কোনো আবশ্যকতা নেই।
ভারতে গ্রহণের কারণগণপরিষদ এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছিল কারণ: (১) সাধারণ গ্রামীণ ভোটারের পক্ষে এটি অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল, (২) স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে এটি স্থায়ী সরকার গঠন সহজতর করে, (৩) ভোটার ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক যোগাযোগ বজায় থাকে।
প্রধান ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতাভোটের শতাংশ ও প্রাপ্ত আসনের মধ্যে তীব্র বৈষম্য দেখা দেয়। কোনো দল মাত্র ৩৫-৪০% ভোট পেয়েই ৬০-৭০% আসন জিতে একচ্ছত্র সরকার গঠন করতে পারে (কৃত্রিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা)। পরাজিত প্রার্থীদের পেছনে দেওয়া লক্ষ লক্ষ ভোট সম্পূর্ণ নষ্ট বা অপচয় হয়।

৩. সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (PR): একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট ও তালিকা ব্যবস্থা

জনমত ও আসনের নিখুঁত প্রতিফলন: একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট ব্যবস্থা

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation - PR) হলো এমন একটি নির্বাচনী দর্শন যার উদ্দেশ্য হলো আইনসভায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্ত আসনের অনুপাতকে তাদের মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতের সাথে নিখুঁতভাবে মেলানো, যাতে কোনো ভোট নষ্ট না হয়।

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রকারভেদ ও প্রয়োগ:
  • তালিকা পদ্ধতি (List System): ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং ভোটাররা কোনো ব্যক্তিকে নয়, দলকে ভোট দেন। দলীয় প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ অনুপাতে তালিকা থেকে ক্রমানুসারে আসন বণ্টিত হয়।
  • একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট পদ্ধতি (Single Transferable Vote - STV): টমাস হেয়ার প্রবর্তিত (হেয়ার ব্যবস্থা)। এখানে বহু-সদস্যের কেন্দ্র থাকে এবং ভোটার পছন্দের ক্রমানুসারে (১ম পছন্দ, ২য় পছন্দ, ৩য় পছন্দ) ভোট দেন। জয়ী হতে প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী কোটা অর্জন করতে হয়: কোটা = [মোট বৈধ ভোট / (আসন সংখ্যা + ১)] + ১। উদ্বৃত্ত ভোট ও বাতিল প্রার্থীদের ভোট পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী হস্তান্তর করা হয়।
  • ভারতে কোথায় ব্যবহৃত হয়: ভারতের সংবিধানে পরোক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়: (১) ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (ধারা ৫৫), (২) উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন (ধারা ৬৬), (৩) রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচন (ধারা ৮০), এবং (৪) রাজ্য বিধান পরিষদের নির্বাচন।
  • সুবিধা ও অসুবিধা: সুবিধা হলো আইনসভায় সমস্ত সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র দলের সঠিক প্রতিফলন ঘটে। অসুবিধা হলো ভোটগণনা অত্যন্ত জটিল, এটি বহুদলীয় ভঙ্গুর জোট সরকারের জন্ম দিতে পারে এবং প্রার্থীর সাথে ভোটারের সরাসরি যোগাযোগ থাকে না।

৪. ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI): সাংবিধানিক মর্যাদা, গঠন ও ক্ষমতা

ধারা ৩২৪: ভারতীয় গণতন্ত্রের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পাহারাদার

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে সংবিধানের ধারা ৩২৪ অনুসারে সংসদ, রাজ্য আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির সমস্ত নির্বাচন পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র দায়িত্ব একটি স্থায়ী ও স্বাধীন সংস্থা—ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সাংবিধানিক স্তম্ভআইনি ও ব্যবহারিক রূপরেখা
কমিশনের গঠন ও বহু-সদস্য রূপশুরুতে এক সদস্যবিশিষ্ট (কেবল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) হলেও ১৯৯৩ সালের অক্টোবর থেকে এটি স্থায়ীভাবে একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং দুইজন নির্বাচন কমিশনার (ECs) নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের সংস্থায় পরিণত হয়েছে। তিনজনেরই ক্ষমতা ও বেতন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমতুল্য এবং সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে হয়।
পদচ্যুতির বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষাধারা ৩২৪(৫) অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যায় (সংসদের উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার ভিত্তিতে ইমপিচমেন্ট), সেই একই জটিল পদ্ধতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদচ্যুত করতে পারেন না। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ ছাড়া সরানো যায় না।
প্রধান প্রশাসনিক কার্যাবলী(১) নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নিয়মিত সংশোধন, (২) সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের কাজ সমন্বয়, (৩) নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা ও তদারকি, (৪) রাজনৈতিক দলগুলিকে জাতীয় ও রাজ্য দলের স্বীকৃতি প্রদান এবং নির্দিষ্ট দলীয় প্রতীক বরাদ্দকরণ।
আধা-বিচার বিভাগীয় ও পরামর্শমূলক ক্ষমতারাজনৈতিক দলের ভাঙন ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিরোধে আদালতের মতো রায় প্রদান করে। ১০৩ ও ১৯২ ধারা অনুযায়ী সংসদ বা বিধানসভার সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালকে বাধ্যতামূলক পরামর্শ দেয়।

৫. আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) ও নির্বাচন তদারকি

নির্বাচনী প্রচারণায় সমসুযোগ ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষা

আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct - MCC) হলো রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি নির্দেশনাবলী, যার উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনী প্রচারকে পরিচ্ছন্ন, ন্যায়সঙ্গত ও অনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার মুহূর্ত থেকেই এই আচরণবিধি কার্যকর হয়।

আদর্শ আচরণবিধির প্রধান প্রধান বিধিনিষেধ:
  • ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ: মন্ত্রীরা বা শাসকদল সরকারি যানবাহন, ডাকবাংলো বা বিমান নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করতে পারেন না। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর সরকার নতুন কোনো নীতি, আর্থিক অনুদান বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারে না যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।
  • সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় আবেদনের নিষেধাজ্ঞা: জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে ভোট প্রার্থনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মন্দির, মসজিদ, গির্জা প্রভৃতি ধর্মীয় স্থানকে প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
  • ঘুষ ও অনৈতিক সুবিধা দান বন্ধ: ভোটারদের নগদ অর্থ, উপহার বা মদ বিতরণ করা কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার চালানো যায় না।
  • ৪৮ ঘণ্টার নির্বাচনী নীরবতা (Silence Period): ভোটগ্রহণ সমাপ্তির নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে সমস্ত প্রকাশ্য সভা, মাইক ও সমাবেশ বন্ধ রাখা আইনত বাধ্যতামূলক।

আদর্শ আচরণবিধি সংসদের কোনো বিধিবদ্ধ আইন না হলেও, সুপ্রিম কোর্ট বারবার রায় দিয়েছে যে সংবিধানের ধারা ৩২৪ প্রদত্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী যে কোনো প্রার্থী বা নেতার প্রচার নিষিদ্ধ করতে পারে।

৬. ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার সমস্যা ও সংস্কারসমূহ

৪টি 'ম' (4Ms): অর্থ, পেশীশক্তি, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিডিয়ার চ্যালেঞ্জ

ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম হলেও এটি এখনও চারটি কাঠামোগত ব্যাধি বা 4Ms দ্বারা আক্রান্ত: (১) Money Power (অর্থশক্তি): বেহিসাবি কালো টাকার লেনদেন ও ভোট কেনাবেচা, (২) Muscle Power (পেশীশক্তি): রাজনীতিতে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ ও ভীতি প্রদর্শন, (৩) Misuse of Machinery: সরকারি আমলাতন্ত্র ও পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার, এবং (৪) Media Manipulation: পেইড নিউজ, ভুয়ো খবর ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক প্রচার।

সংস্কারের দিকপ্রযুক্তিগত ও সাংবিধানিক সাফল্য
ইভিএম ও ভিভিপ্যাট (EVM & VVPAT)২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে সমগ্র ভারতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) প্রবর্তিত হয়, যা ব্যালট পেপারের ভোট বাতিল ও বুথ দখল নির্মূল করেছে। VVPAT (Voter Verifiable Paper Audit Trail)-এর মাধ্যমে ভোটার কাঁচের পেছনে ৭ সেকেন্ডের জন্য কাগজের স্লিপে দেখতে পান তাঁর ভোটটি সঠিক প্রতীকেই পড়েছে।
নোটা বিকল্প (NOTA - ২০১৩)PUCL বনাম ভারত সরকার (২০১৩) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইভিএম মেশিনে 'None of the Above' (NOTA) বা 'উপরের কাউকে নয়' বোতাম চালু করা হয়। এর মাধ্যমে ভোটার সমস্ত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যানের গণতান্ত্রিক অধিকার পায়।
প্রার্থীদের অপরাধ ও সম্পত্তির হলফনামাসুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের (ADR মামলা, ২০০২ ও ২০০৩) ভিত্তিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে অপরাধের ইতিহাস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ঋণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার হলফনামা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ধারা ১৯(১)(ক)-এর অধীনে ভোটারের জানার অধিকার নিশ্চিত করে।
কমিটির সুপারিশসমূহদীনেশ গোস্বামী কমিটি (১৯৯০), ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত কমিটি (১৯৯৮) সরকারি অর্থায়নে নির্বাচন পরিচালনা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী রাজনীতিকদের চিরতরে নির্বাচনে অযোগ্য করার সুপারিশ পেশ করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধারা, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সূত্র

ড্রুপ কোটা সূত্র (একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট ব্যবস্থা)
জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোটা = [মোট বৈধ প্রদত্ত ভোট / (শূন্য আসন সংখ্যা + ১)] + ১
FPTP জয়ের সূত্র (Plurality Rule)
নির্বাচনী জয় = প্রার্থীর ভোট > অন্য যেকোনো একক প্রার্থীর ভোট (৫০% পরম সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন নেই)
ভোটাধিকারের সাংবিধানিক শর্ত (ধারা ৩২৬)
ভোটাধিকার = ভারতীয় নাগরিকত্ব + বয়স ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব - আইনি অযোগ্যতা

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
প্রশ্ন ১: ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (FPTP) পদ্ধতি এবং সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (PR) মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য নির্দেশ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (FPTP) এবং সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থার তিনটি প্রধান পার্থক্য নিম্নরূপ: ১. নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রকৃতি: FPTP পদ্ধতিতে সমগ্র দেশকে বা রাজ্যকে একক সদস্যবিশিষ্ট বহু ছোট ছোট ভৌগোলিক কেন্দ্রে ভাগ করা হয়। কিন্তু PR পদ্ধতিতে বৃহৎ বহু-সদস্যের কেন্দ্র থাকে অথবা সমগ্র দেশটাই একটি একক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে (যেমন ইসরায়েল বা নেদারল্যান্ডস)। ২. জয়ের শর্ত: FPTP পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে যিনি সর্বাধিক ভোট পান (আপেক্ষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা Plurality) তিনিই জয়ী হন, মোট ভোটের ৫০% পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু PR পদ্ধতিতে দলীয় প্রাপ্ত মোট ভোটের শতাংশের সুনির্দিষ্ট অনুপাতে আসন বণ্টিত হয় অথবা প্রার্থীকে নির্দিষ্ট কোটা ভোট অর্জন করতে হয়। ৩. ভোট ও আসনের অনুপাত: FPTP পদ্ধতিতে ভোট ও প্রাপ্ত আসনের মধ্যে প্রায়শই আকাশ-পাতাল অমিল থাকে; পরাজিত প্রার্থীর সমস্ত ভোট নষ্ট হয়। PR পদ্ধতিতে কোনো ভোট নষ্ট হয় না এবং জনমতের সঠিক প্রতিফলন আইনসভায় নিশ্চিত হয়।
উদাহরণ 2
প্রশ্ন ২: ভারতের নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা, গঠন এবং অপসারণের পদ্ধতি আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সংবিধানের ধারা ৩২৪ অনুযায়ী ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: ১. সাংবিধানিক মর্যাদা: ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি স্থায়ী, স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ, যার হাতে সংসদ, রাজ্য আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি পদের সমস্ত নির্বাচনের তত্ত্বাবধান, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা ন্যস্ত। ২. গঠন: মূলত এক সদস্যের হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে এটি একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং দুইজন নির্বাচন কমিশনার (ECs) নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের সংস্থায় পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকেরই মর্যাদা, কার্যকাল ও বেতন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমতুল্য এবং যে কোনো মতপার্থক্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত হয়। ৩. অপসারণের পদ্ধতি: নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য ধারা ৩২৪(৫) অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রাষ্ট্রপতির খেয়ালখুশিমতো অপসারণ করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে (সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের ভিত্তিতে ইমপিচমেন্ট) সরানো যায়, কেবল সেই একই পদ্ধতিতে তাঁকে অপসারণ করা সম্ভব।
উদাহরণ 3
প্রশ্ন ৩: ভারত কেন লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমানুপাতিক পদ্ধতির পরিবর্তে FPTP পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সংবিধান সভার প্রণেতারা গভীর চিন্তাভাবনার পর প্রধানত তিনটি কারণে লোকসভা ও বিধানসভায় FPTP পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন: ১. সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্যতা: স্বাধীনতার সময় ভারতের সাধারণ মানুষের অধিকাংশই ছিলেন নিরক্ষর। FPTP ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ: ভোটার নির্দিষ্ট প্রতীকের পাশে ভোট দেবেন এবং সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিজয়ী হবেন। সমানুপাতিক পদ্ধতির জটিল অগ্রাধিকার ভিত্তিক হিসাব সাধারণ ভোটারের পক্ষে বোঝা অসম্ভব ছিল। ২. সরকারের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব: একটি নবীন গণতন্ত্রে সংসদীয় শাসন চালাতে আইনসভায় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থায়িত্ব অপরিহার্য ছিল। FPTP ব্যবস্থা বৃহৎ দলগুলিকে অতিরিক্ত আসন দিয়ে স্পষ্ট সরকার গঠনে সহায়তা করে, পক্ষান্তরে সমানুপাতিক পদ্ধতি দুর্বল ও ভঙ্গুর কোয়ালিশন সরকার তৈরি করে। ৩. ভোটার ও জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ যোগসূত্র: FPTP ব্যবস্থায় প্রতিটি সংসদীয় এলাকার নিজস্ব একজন স্পষ্ট বিধায়ক বা সাংসদ থাকেন যাঁর কাছে স্থানীয় মানুষ সমস্যা নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু তালিকাভিত্তিক সমানুপাতিক পদ্ধতিতে ভোটার দলকে ভোট দেয়, ফলে ব্যক্তিপ্রতিনিধির কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না।
উদাহরণ 4
প্রশ্ন ৪: আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কী? এর আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) ভারতীয় নির্বাচনের এক অনন্য নৈতিক ও প্রশাসনিক দিক: ১. ধারণা: এটি রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক সম্মতিতে গৃহীত একটি আচরণবিধি যা নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ক্ষমতাসীন সরকারকে নির্দিষ্ট কিছু নৈতিক সীমা ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে বাধ্য করে। ২. প্রয়োগের সময়: নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সাথে সাথে এটি সক্রিয় হয় এবং ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। ৩. মূল বিধিনিষেধ: এর মাধ্যমে শাসকদলের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রচারের কাজে ব্যবহার, নতুন সরকারি অনুদান বা প্রকল্পের ঘোষণা করা, জাতি ও ধর্মের নামে ভোট প্রার্থনা করা এবং ভোট কিনতে অর্থ বিতরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। ৪. আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি: এটি সংসদের কোনো আইন নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছে যে সংবিধানের ৩২৪ ধারার অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করার যে চরম দায়িত্ব কমিশনকে দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে আচরণবিধি কার্যকর করতে কমিশন যে কোনো প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
উদাহরণ 5
প্রশ্ন ৫: ১৯৮৮ সালের ৬১তম সংবিধান সংশোধনীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
৬১তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৮৮, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক: ১. ভোটাধিকারের বয়স হ্রাস: এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধারা ৩২৬ সংশোধন করে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়। ২. যুবসমাজের ক্ষমতায়ন: এর ফলে দেশের কোটি কোটি তরুণ ও যুব সম্প্রদায় তাঁদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার লাভ করেন। দেশ পরিচালনায় যুবকদের রাজনৈতিক মতামত ও নেতৃত্ব প্রদানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। ৩. গণতন্ত্রের গভীরতা বৃদ্ধি: এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় গণতন্ত্রের ভোটার ভিত্তি বিপুলভাবে প্রসারিত হয় এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র আরও বেশি প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও যুবশক্তির প্রতিবিম্বে পরিণত হয়।
উদাহরণ 6
প্রশ্ন ৬: ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার প্রধান দুর্বলতাগুলি (4Ms) কী কী? এই সমস্যা সমাধানে কী কী সংস্কার গৃহীত হয়েছে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলিকে সংক্ষেপে 4Ms বলা হয়:

১. প্রধান দুর্বলতাসমূহ (4Ms):

  • Money Power (অর্থশক্তি): কালো টাকার অবাধ প্রবাহ ও অর্থের জোরে ভোট কেনার চেষ্টা।
  • Muscle Power (পেশীশক্তি): নির্বাচনে অপরাধীদের দাপট, ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাস।
  • Misuse of Machinery: পুলিশ ও সরকারি প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা।
  • Media Manipulation: সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ও সংবাদমাধ্যমে পেইড নিউজ।

২. গৃহীত প্রধান সংস্কারসমূহ:

  • ইভিএম ও ভিভিপ্যাট প্রবর্তন: ব্যালট পেপার জালিয়াতি ও রিগিং দূর করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ডিজিটাল ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • অপরাধ ও সম্পদের হলফনামা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রার্থীদের ফৌজদারি মামলার বিবরণ ও আর্থিক সম্পদের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • নোটা (NOTA) বোতাম: অযোগ্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ প্রকাশের সাংবিধানিক বিকল্প দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে লোকসভা নির্বাচনে জিততে হলে কোনো প্রার্থীকে মোট ভোটের অন্তত ৫০% পেতেই হবে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

FPTP পদ্ধতিতে পরম সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন নেই; প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে কেবল এক ভোট বেশি পেলেও (আপেক্ষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা Plurality) প্রার্থী জয়ী ঘোষিত হন।

সাধারণ ভুল ধারণা

ধারণা করা যে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি সংসদের একটি বিধিবদ্ধ লিখিত আইন।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

আচরণবিধি কোনো আইন নয়; এটি দলগুলির ঐকমত্যে গড়ে ওঠা নৈতিক নিয়মাবলী যা কমিশন ধারা ৩২৪-এর সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে কার্যকর করে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভোটদানের বয়স এখনো ২১ বছর আছে বলে বিভ্রান্ত হওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

১৯৮৮ সালের ৬১তম সংবিধান সংশোধনীর পর থেকে ভোটদানের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

সংবিধানের পঞ্চদশ অংশ • ধারা ৩২৪-৩২৯ নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক সংহতি: নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী সংস্কার ✓ সরল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (FPTP) লোকসভা ও বিধানসভা • একক সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী কেন্দ্র • সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী জয়ী (Plurality) • সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান • ভোটার ও জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ যোগসূত্র Merit: Decisive Mandate Simple, swift & stable administration ⚖ সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR-STV) রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভা • একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট বা তালিকা পদ্ধতি • নির্দিষ্ট কোটা ভোট অর্জন বাধ্যতামূলক • ভোট শতাংশের অনুপাতে আসন বণ্টন • সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র দলের যথাযথ প্রতিফলন Merit: Democratic Inclusivity Every vote counts; no wasted ballots 🏛 ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সংবিধানের ধারা ৩২৪ (স্বাধীন কর্তৃপক্ষ) • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও দুই কমিশনার • নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংশোধন • আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কঠোর প্রয়োগ • দলীয় স্বীকৃতি ও প্রতীক বরাদ্দকরণ Constitutional Mandate Superintendence, direction & control ভারতে প্রধান নির্বাচনী সংস্কারের মাইলফলক: ইভিএম ও ভিভিপ্যাট (EVM & VVPAT) নোটা বিকল্প (NOTA - ২০১৩) ভোটাধিকার বয়স ২১ থেকে ১৮ (৬১তম সংশোধনী) অপরাধী ও সম্পত্তির হলফনামা প্রকাশ

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের (ধারা ৩২৬) ভিত্তিতে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র পরিচালিত হয়।
মূল বিষয় 2
২. ১৯৮৮ সালের ৬১তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।
মূল বিষয় 3
৩. লোকসভা ও বিধানসভায় ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (FPTP) বা সরল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যেখানে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী জয়ী হন।
মূল বিষয় 4
৪. ভারতে সহজবোধ্যতা ও সরকারের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করতে সাধারণ নির্বাচনে FPTP পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মূল বিষয় 5
৫. সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে দলগুলির ভোট শতাংশের নিখুঁত অনুপাতে আইনসভার আসন বণ্টিত হয়।
মূল বিষয় 6
৬. ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচনে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটসহ সমানুপাতিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
মূল বিষয় 7
৭. সংবিধানের ধারা ৩২৪ অনুসারে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের তদারকি ও পরিচালনার জন্য ভারতের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত।
মূল বিষয় 8
৮. ১৯৯৩ সাল থেকে নির্বাচন কমিশন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুইজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে গঠিত একটি তিন সদস্যের সংস্থা।
মূল বিষয় 9
৯. নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কার্যকর হয় যা সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার ও সাম্প্রদায়িক প্রচার নিষিদ্ধ করে।
মূল বিষয় 10
১০. ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিক সংস্কারের মধ্যে ইভিএম, ভিভিপ্যাট, ২০১৩ সালের নোটা (NOTA) এবং প্রার্থীদের অপরাধ ও সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।