ভারতের মূল সংবিধানে একটি প্রস্তাবনা সহ ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ (Parts) এবং ৮টি তফসিল (Schedules) অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী বিভিন্ন সংশোধনের ফলে বর্তমান সংবিধানে অনুচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭০-এর বেশি, অংশ ২৫টি এবং তফসিল ১২টি। এটি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বৃহত্তম লিখিত সংবিধান।
- ভৌগোলিক বিশালতা ও বৈচিত্র্য: উপমহাদেশের সুবিশাল আকার, অগনিত ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জনজাতির বৈচিত্র্য এবং অনগ্রসর অঞ্চলের সুরক্ষার জন্য সংবিধানে প্রচুর বিশেষ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের গভীর প্রভাব: ব্রিটিশ প্রণীত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল। ভারতীয় সংবিধান প্রণেতাগণ এর প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ধারাগুলোর সিংহভাগই সরাসরি গ্রহণ করেছিলেন।
- কেন্দ্র ও রাজ্যের জন্য একক সংবিধান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের জন্য আলাদা কোনো সংবিধান নেই। সমগ্র দেশের কেন্দ্র ও প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের শাসন কাঠামো একই সংবিধানে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- আইনজ্ঞদের আধিক্য: গণপরিষদে ড. আম্বেদকর, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আইয়ার প্রমুখ বিশিষ্ট আইনজীবীদের প্রাধান্য ছিল। তাঁরা ভবিষ্যতে কোনো শাসনতান্ত্রিক বা আইনি জটিলতা যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির লিখিত সমাধান বিধিবদ্ধ করেছিলেন।