Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Political Science • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

ভারতের সংবিধান হলো আধুনিক বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বিশদ ও অভিনব এক গণতান্ত্রিক স্থাপত্য। ১৯৪৯ সালে গৃহীত এই সর্বোচ্চ দলিলটি পৃথিবীর যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘতম লিখিত সংবিধানের গৌরব ধারণ করে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংবিধানের ইতিবাচক উপাদান গ্রহণ করে ভারতীয় বাস্তবতার উপযোগী করে এক অপূর্ব জীবন্ত দলিলে রূপান্তরিত হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এর মধ্যে রয়েছে এক সুদৃঢ় এককেন্দ্রিক প্রবণতা—যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয় বা সমবায় যুক্তরাষ্ট্ৰবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে এতে ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থার দায়িত্বশীলতার সাথে মার্কিন স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, মৌলিক কর্তব্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার এবং স্বশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত ভারতীয় সংবিধানের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ এই অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ভারতের মতো সুবিশাল বহুভাষিক, বহুসাংস্কৃতিক এবং বহুধা-বিভক্ত সমাজ কীভাবে এক অখণ্ড গণতান্ত্রিক আইনের শাসনে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, তা অনুধাবনের জন্য সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহের পাঠ অপরিহার্য। এটি শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ধারণা দেয় যে কেন ভারতের কেন্দ্র সরকারকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে এবং কেন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের বিপরীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনা মৌলিক অধিকার রক্ষায় রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবিধানের গতিশীল চরিত্র এবং পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে অভিযোজনের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান: ক...
2 ২. বহু বিচিত্র আন্তর্জাতিক উৎসের অপ...
3 ৩. রূপগত যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু আত্মায...
4 ৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: সার্বভৌমত্ব ও...
5 ৫. একক সমন্বিত বিচার বিভাগ, অধিকার...
6 ৬. ধর্মনিরপেক্ষতা, সার্বজনীন ভোটাধি...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান: কারণ ও রূপরেখা

ভারতীয় সংবিধানের অসামান্য কলেবর ও গঠনের কারণসমূহ

ভারতের মূল সংবিধানে একটি প্রস্তাবনা সহ ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ (Parts) এবং ৮টি তফসিল (Schedules) অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী বিভিন্ন সংশোধনের ফলে বর্তমান সংবিধানে অনুচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭০-এর বেশি, অংশ ২৫টি এবং তফসিল ১২টি। এটি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বৃহত্তম লিখিত সংবিধান।

সংবিধানের এই বিশাল আকারের পেছনে প্রধান চারটি কারণ:
  1. ভৌগোলিক বিশালতা ও বৈচিত্র্য: উপমহাদেশের সুবিশাল আকার, অগনিত ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জনজাতির বৈচিত্র্য এবং অনগ্রসর অঞ্চলের সুরক্ষার জন্য সংবিধানে প্রচুর বিশেষ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে।
  2. ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের গভীর প্রভাব: ব্রিটিশ প্রণীত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল। ভারতীয় সংবিধান প্রণেতাগণ এর প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ধারাগুলোর সিংহভাগই সরাসরি গ্রহণ করেছিলেন।
  3. কেন্দ্র ও রাজ্যের জন্য একক সংবিধান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের জন্য আলাদা কোনো সংবিধান নেই। সমগ্র দেশের কেন্দ্র ও প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের শাসন কাঠামো একই সংবিধানে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
  4. আইনজ্ঞদের আধিক্য: গণপরিষদে ড. আম্বেদকর, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আইয়ার প্রমুখ বিশিষ্ট আইনজীবীদের প্রাধান্য ছিল। তাঁরা ভবিষ্যতে কোনো শাসনতান্ত্রিক বা আইনি জটিলতা যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির লিখিত সমাধান বিধিবদ্ধ করেছিলেন।

২. বহু বিচিত্র আন্তর্জাতিক উৎসের অপূর্ব সমন্বয় (Global Sources)

বিভিন্ন দেশের সংবিধান থেকে উপাদানের সৃজনশীল গ্রহণ ও ভারতীয়করণ

ড. বি. আর. আম্বেদকর গর্বভরে বলেছিলেন যে ভারতীয় সংবিধান তৈরি হয়েছে 'বিশ্বের সকল জ্ঞাত সংবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর'। এটি কোনো অন্ধ অনুকরণ ছিল না; প্রতিটি নীতিকে ভারতের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গ্রহণ করা হয়েছে:

উৎস দেশ / আইনসংবিধানে গৃহীত মূল উপাদানসমূহ
ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাজ্যপালের পদ, বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, জরুরি অবস্থার বিধান এবং প্রশাসনিক বিস্তারিত রূপরেখা (সংবিধানের অর্ধেকের বেশি অংশ)।
ব্রিটিশ সংবিধান (যুক্তরাজ্য)সংসদীয় শাসনব্যবস্থা, আইনের অনুশাসন, একক নাগরিকতা, আইন প্রণয়ন পদ্ধতি, মন্ত্রীসভা ব্যবস্থা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও রিট জারির ক্ষমতা।
মার্কিন সংবিধান (USA)মৌলিক অধিকার (Part III), স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review), রাষ্ট্রপতির ইমপিচমেন্ট ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা।
আইরিশ সংবিধান (আয়ারল্যান্ড)রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (DPSP), রাজ্যসভায় ১২ জন বিশিষ্ট সদস্যের মনোনয়ন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি।
কানাডার সংবিধানশক্তিশালী কেন্দ্র বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, কেন্দ্রের হাতে অবশিষ্ট ক্ষমতা (Residuary Powers) অর্পণ, রাজ্যপাল নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শদান এলাকা।
অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানযৌথ তালিকা (Concurrent List), আন্তঃরাজ্য অবাধ বাণিজ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংসদের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশন (ধারা ১০৮)।
জার্মানির ভাইমার সংবিধানজাতীয় জরুরি অবস্থা চলাকালীন মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার বিধান (ধারা ৩৫৮ ও ৩৫৯)।
সোভিয়েত সংবিধান (USSR)মৌলিক কর্তব্য (অংশ ৪ক, ধারা ৫১ক) এবং প্রস্তাবনায় ন্যায়বিচারের (সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক) আদর্শ।
ফরাসি সংবিধান (ফ্রান্স)প্রজাতন্ত্রের ধারণা এবং প্রস্তাবনায় স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের মহান আদর্শ।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধানসংবিধান সংশোধন পদ্ধতি (ধারা ৩৬৮) এবং রাজ্যসভার সদস্যদের নির্বাচন পদ্ধতি।

৩. রূপগত যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু আত্মায় এককেন্দ্রিক (আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো)

ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্ৰীয় ব্যবস্থার অনন্য চরিত্র

ভারতীয় সংবিধানের ১ নম্বর ধারায় ভারতকে 'যুক্তরাষ্ট্র' (Federation) না বলে 'রাজ্যসমূহের ইউনিয়ন' (Union of States) বলা হয়েছে। এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো—ভারতীয় ইউনিয়ন কোনো অঙ্গরাজ্যের পারস্পরিক চুক্তির ফল নয় এবং কোনো রাজ্যের ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো অধিকার নেই। ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে:

যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যসমূহএককেন্দ্রিক বা ঐক্যকামী প্রবণতাসমূহ
১. দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার)।১. অত্যন্ত শক্তিশালী কেন্দ্র সরকার।
২. লিখিত ও সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল সংবিধান।২. কেন্দ্র ও রাজ্যের জন্য একক অখণ্ড সংবিধান।
৩. সপ্তম তফসিলে তিন তালিকার মাধ্যমে ক্ষমতা বণ্টন।৩. একক নাগরিকতা (অঙ্গরাজ্যের কোনো নাগরিকত্ব নেই)।
৪. অনমনীয় সংবিধান (যুক্তরাষ্ট্রীয় বিষয়ে)।৪. একক সমন্বিত বিচার ব্যবস্থা (সুপ্রিম কোর্ট শীর্ষে)।
৫. স্বাধীন বিচার বিভাগ (বিবাদ মীমাংসার জন্য)।৫. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রাজ্যপাল নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ।
৬. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (লোকসভা ও রাজ্যসভা)।৬. সর্বভারতীয় প্রশাসনিক কৃত্যক (IAS, IPS)।
৭. সংবিধানের চরম প্রাধান্য।৭. জরুরি অবস্থা (ধারা ৩৫২, ৩৫৬, ৩৬০)—যা কাঠামোকে এককেন্দ্রিক করে।
তাত্ত্বিকদের মূল্যায়ন:
  • কে. সি. হোয়্যার: ভারতীয় শাসনব্যবস্থাকে 'আধা-যুক্তরাষ্ট্র' (Quasi-Federal) বলেছেন—অর্থাৎ এটি মূলত এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র যার সাথে কিছু যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্য যুক্ত।
  • গ্র্যানভিল অস্টিন: একে 'সহযোগী বা সমবায় যুক্তরাষ্ট্ৰবাদ' (Co-operative Federalism) আখ্যা দিয়েছেন।
  • ড. বি. আর. আম্বেদকর: স্পষ্ট করে বলেন, ভারতীয় সংবিধান স্বাভাবিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে এককেন্দ্রিক রূপ ধারণ করার মতো নমনীয়তায় গঠিত।

৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: সার্বভৌমত্ব ও বিচারিক পর্যালোচনার সমন্বয়

ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থা ও ক্ষমতার ভারসাম্য

মার্কিন রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থার বিপরীতে ভারত ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় গণতন্ত্র গ্রহণ করেছে, কারণ এটি আইনসভা ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুষম সমন্বয় ও যৌথ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে।

সংসদীয় ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • নামসর্বস্ব ও প্রকৃত শাসক: ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন নামসর্বস্ব সাংবিধানিক প্রধান; পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভা হলেন প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী।
  • যৌথ দায়িত্বশীলতা (ধারা ৭৫(৩)): কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা তাদের প্রতিটি কাজের জন্য লোকসভার নিকট যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকে। লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে সমগ্র মন্ত্রীসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
  • আইনসভার সদস্যপদ: মন্ত্রী হতে গেলে সংসদের যেকোনো একটি কক্ষের সদস্য হতে হয় (অথবা ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচিত হতে হয়)।
  • লোকসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বেই লোকসভা ভেঙে দিতে পারেন।
ব্রিটিশ সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন বিচারিক প্রাধান্য-এর সমন্বয়:

ব্রিটেনে পার্লামেন্ট সার্বভৌম ও চরম ক্ষমতার অধিকারী, সেখানে কোনো আদালত পার্লামেন্টের আইন বাতিল করতে পারে না। পক্ষান্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় প্রাধান্য এত বেশি যে সুপ্রিম কোর্টকে তৃতীয় আইনসভা বলা হয়। ভারত উভয় চরমপন্থা বর্জন করে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় ঘটিয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট যেমন বিচারিক পর্যালোচনার (Judicial Review) মাধ্যমে সংসদের অসাংবিধানিক আইন বাতিল করতে পারে, তেমনি সংসদও ৩৬৮ নম্বর ধারায় সংবিধান সংশোধন করে ত্রুটি সংশোধন করতে পারে—তবে সংবিধানের 'মৌলিক কাঠামো' অক্ষুণ্ণ রেখে।

৫. একক সমন্বিত বিচার বিভাগ, অধিকার ও কর্তব্য

সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব এবং অধিকারের ভারসাম্য

যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা হলেও ভারতে কোনো দ্বৈত বিচার ব্যবস্থা নেই। ভারতের রয়েছে একটি একক সমন্বিত বিচার বিভাগীয় পিরামিড, যার শীর্ষে রয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী স্তরে রাজ্যের হাইকোর্ট এবং নিম্নস্তরে অধস্তন আদালতসমূহ। এটি একই সাথে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য উভয় আইন প্রয়োগ করে।

সাংবিধানিক স্তম্ভমূল রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য
বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিচারকদের কার্যকালের নিরাপত্তা, সংসদীয় ইমপিচমেন্ট ছাড়া অপসারণ অসম্ভব, সুপ্রিম কোর্টের ব্যয় ভারতের সঞ্চিত তহবিল (Consolidated Fund) থেকে নির্বাহ, অবসরের পর ওকালতি নিষিদ্ধ এবং আদালত অবমাননার শাস্তিদানের ক্ষমতা।
মৌলিক অধিকার (Part III)১২ থেকে ৩৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের ৬টি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে যা আদালতের দ্বারা সরাসরি বলবৎযোগ্য। ৩২ নম্বর ধারায় সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকারকে আম্বেদকর 'সংবিধানের হৃদয় ও আত্মা' বলেছেন।
নির্দেশমূলক নীতি (Part IV)৩৬ থেকে ৫১ অনুচ্ছেদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এগুলি আদালতে বলবৎযোগ্য নয় কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দিশা। গ্র্যানভিল অস্টিন মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতিকে 'সংবিধানের বিবেক' বলেছেন।
মৌলিক কর্তব্য (Part IVA)১৯৭৬ সালে ৪২তম সংশোধনে শরণ সিং কমিটির সুপারিশে ৫১ক ধারায় ১০টি মৌলিক কর্তব্য যুক্ত হয় (পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৮৬তম সংশোধনে ১১তম কর্তব্য যুক্ত হয়)।

৬. ধর্মনিরপেক্ষতা, সার্বজনীন ভোটাধিকার, স্বাধীন সংস্থা ও ত্রিস্তরীয় শাসন

ভারতীয় সংবিধানের আধুনিক গণতান্ত্রিক রক্ষাকবচসমূহ

ভারতীয় সংবিধানের আরও কতগুলো তাৎপর্যপূর্ণ মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে:

অনন্য গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র: ভারতের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই; ২৫-২৮ নম্বর ধারায় প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না।
  • সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার (ধারা ৩২৬): সম্পত্তি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব সকল নাগরিককে ভোটাধিকার প্রদান। ১৯৮৮ সালের ৬১তম সংবিধান সংশোধনী দ্বারা ভোটদানের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।
  • স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান: গণতন্ত্রের নিরপেক্ষতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য কতগুলো স্বাধীন সাংবিধানিক রক্ষক সৃষ্টি করা হয়েছে—যেমন ভারতের নির্বাচন কমিশন (ধারা ৩২৪), ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা-নিরীক্ষক / CAG (ধারা ১৪৮), এবং ইউপিএসসি ও রাজ্য পিএসসি (ধারা ৩১৫-৩২৩)।
  • ত্রিস্তরীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন: ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চায়েত রাজ ও পৌরসভাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের পর তৃতীয় স্তরের তৃণমূল স্বশাসন প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
  • জরুরি অবস্থার ত্রিধারা: জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষায় রাষ্ট্রপতির তিন ধরনের জরুরি ক্ষমতার বিধান—জাতীয় জরুরি অবস্থা (ধারা ৩৫২), রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থা (ধারা ৩৫৬), এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (ধারা ৩৬০)।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধারা, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সূত্র

ভারতীয় শাসনব্যবস্থার রূপসূত্র
শাসন ব্যবস্থা = স্বাভাবিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় + সংকটকালে এককেন্দ্রিক = আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয়
সংবিধানের বিবেক সমীকরণ
সংবিধানের বিবেক = মৌলিক অধিকার (অংশ ৩) + নির্দেশমূলক নীতি (অংশ ৪)
গণতান্ত্রিক ক্ষমতার ভারসাম্য
ভারসাম্য = ব্রিটিশ সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ⇄ মার্কিন বিচারিক পর্যালোচনা

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ভারতীয় সংবিধানকে কেন বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান বলা হয়? এর বৃহৎ আকারের পেছনে চারটি কারণ উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
মূল সংবিধানে ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ এবং ৮টি তফসিল ছিল, যা পৃথিবীর যেকোনো সংবিধানের চেয়ে দীর্ঘতম। চারটি প্রধান কারণ: ১. ভৌগোলিক বিশালতা ও বৈচিত্র্য: বহু ভাষা, ধর্ম, অনুন্নত জনজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণে বিস্তারিত অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হয়। ২. ১৯৩৫ সালের আইনের প্রভাব: বিশাল ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রশাসনিক কাঠামো সরাসরি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ৩. একক সংবিধান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অঙ্গরাজ্যের পৃথক সংবিধান নেই; সমগ্র দেশের শাসনব্যবস্থা একক দলিলে বিধিবদ্ধ। ৪. গণপরিষদে আইনজ্ঞদের আধিক্য: ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিরসনে আইনজীবীরা প্রতিটি বিষয়ে বিশদ বিধান রচনা করেন।
উদাহরণ 2
কে. সি. হোয়্যার ভারতীয় সংবিধানকে 'আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয়' (Quasi-Federal) বলেছেন কেন? দুটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ও দুটি এককেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্য লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
কে. সি. হোয়্যার ভারতীয় সংবিধানকে 'আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয়' বলেছেন কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাহ্যিক রূপ থাকলেও এর মূল চরিত্রে কেন্দ্রমুখী বা এককেন্দ্রিক প্রবণতা অত্যন্ত প্রবল। দুটি যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্য: ১. কেন্দ্র ও রাজ্যের দ্বৈত সরকার এবং ৭ম তফসিলে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বণ্টন। ২. লিখিত ও সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল সংবিধান। দুটি এককেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্য: ১. অত্যন্ত শক্তিশালী কেন্দ্র এবং সংকটকালে ধারা ৩৫২ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এককেন্দ্রিকে রূপান্তরিত হওয়া। ২. সমগ্র দেশে একক নাগরিকতা এবং একক সমন্বিত বিচার বিভাগ।
উদাহরণ 3
ব্রিটিশ সংবিধান ও মার্কিন সংবিধান থেকে ভারতীয় সংবিধানে গৃহীত চারটি করে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ব্রিটিশ সংবিধান থেকে গৃহীত উপাদান: ১. সংসদীয় গণতন্ত্র বা মন্ত্রীসভা চালিত সরকার। ২. আইনের অনুশাসন (Rule of Law)। ৩. আইন প্রণয়ন পদ্ধতি ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। ৪. একক নাগরিকতা এবং রিট (Writ) জারির ক্ষমতা। মার্কিন সংবিধান থেকে গৃহীত উপাদান: ১. মৌলিক অধিকারের অধ্যায় (Bill of Rights)। ২. স্বাধীন বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review)। ৩. রাষ্ট্রপতির ইমপিচমেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ পদ্ধতি। ৪. উপ-রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা।
উদাহরণ 4
ভারতীয় সংবিধান কীভাবে ব্রিটিশ সংসদীয় সার্বভৌমত্ব এবং মার্কিন বিচারিক প্রাধান্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. ব্রিটেনের মতো নয়: ব্রিটেনে সংসদ সার্বভৌম; কোনো আদালত পার্লামেন্টের আইন বাতিল করতে পারে না। কিন্তু ভারতে সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সংসদের অসাংবিধানিক আইন বাতিল করতে পারে। ২. আমেরিকার মতো নয়: আমেরিকায় সুপ্রিম কোর্টের প্রাধান্য চরম এবং সংবিধান সংশোধন অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু ভারতে সংসদ ৩৬৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংবিধানের বিরাট অংশ সংশোধন করে গণতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। ৩. সমন্বয়: ১৯৭৩ সালের মৌলিক কাঠামো তত্ত্বের মাধ্যমে আদালত ও সংসদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে—সংসদ সংশোধন করবে, তবে সংবিধানের গণতান্ত্রিক আত্মাকে নষ্ট করতে পারবে না।
উদাহরণ 5
ভারতীয় সংবিধানে 'একক সমন্বিত ও স্বাধীন বিচার বিভাগ' বলতে কী বোঝায়?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১. একক সমন্বিত বিচার ব্যবস্থা: সমগ্র ভারতে আদালতের একক পিরামিডাকার কাঠামো বিদ্যমান—শীর্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মাঝে হাইকোর্ট এবং নিম্নে অধস্তন আদালত। আমেরিকার মতো কেন্দ্র ও রাজ্যের আলাদা আদালত নেই; একই আদালত কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় আইন কার্যকর করে। ২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচারকদের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তাঁদের নির্দিষ্ট মেয়াদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, ইমপিচমেন্ট ছাড়া অপসারণ অসম্ভব, বেতন সঞ্চিত তহবিল থেকে দেওয়া হয় এবং অবসরের পর ওকালতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উদাহরণ 6
১৯৯২ সালের ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে কীভাবে ভারতে ত্রিস্তরীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
মূল সংবিধানে কেবল কেন্দ্র ও রাজ্য—এই দুই স্তরের শাসনব্যবস্থা ছিল। ৭৩ ও ৭৪তম সংশোধনীর তাৎপর্য: ১. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সংবিধানে ৯ম অংশ (পঞ্চায়েত) ও ৯ক অংশ (পৌরসভা) যুক্ত করে স্থানীয় সরকারকে তৃতীয় স্তরের সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়। ২. তৃণমূল গণতন্ত্র: প্রতি ৫ বছর অন্তর নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয় এবং মহিলাদের জন্য ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) আসন সংরক্ষণ করা হয়। ৩. ক্ষমতা হস্তান্তর: ১১শ ও ১২শ তফসিলের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের স্থানীয় উন্নয়নমূলক কার্যাবলীর দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ভাবা যে আমেরিকার মতো ভারতেও কেন্দ্র ও রাজ্যের আলাদা আদালত ব্যবস্থা রয়েছে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ভারতে একটিমাত্র একক সমন্বিত আদালত পিরামিড রয়েছে; হাইকোর্ট একই সাথে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইন কার্যকর করে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রকৃত শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করেন বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

রাষ্ট্রপতি হলেন নিয়মতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রধান; প্রকৃত শাসন ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভা পরিচালনা করে।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে নির্দেশমূলক নীতি অমান্য করলে সরকার বা আদালতের বিরুদ্ধে রিট করা যায়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

নির্দেশমূলক নীতি (DPSP) আদালতে বলবৎযোগ্য নয়; এগুলি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ও নীতিগত নির্দেশিকা।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ: অনন্য গণতান্ত্রিক স্থাপত্য ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান • দীর্ঘতম লিখিত রূপ • উৎস সংকলন • আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত রূপ ও উৎস ৩৯৫ অনুচ্ছেদ, ৮ তফসিল (মূলত) • বিশ্ব সংবিধানের নির্যাস • ভারত শাসন আইন ১৯৩৫: যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, বিচার বিভাগ ও জরুরি অবস্থা • ব্রিটেন: সংসদীয় ব্যবস্থা, আইনের শাসন ও একক নাগরিকতা • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা • আয়ারল্যান্ড: নির্দেশমূলক নীতি • অস্ট্রেলিয়া: যৌথ তালিকা যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক সমন্বয় কে. সি. হোয়্যার: আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয় (Quasi-Federal) • যুক্তরাষ্ট্রীয় স্তম্ভ: কেন্দ্র ও রাজ্য দ্বৈত সরকার, ক্ষমতার ত্রি-তালিকা • এককেন্দ্রিক প্রবণতা: শক্তিশালী কেন্দ্র, একক সমন্বিত বিচার ব্যবস্থা • ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (IAS/IPS), রাজ্যপাল নিয়োগ ও জরুরি ব্যবস্থা • গ্র্যানভিল অস্টিন: সমবায় যুক্তরাষ্ট্ৰবাদ (Co-operative Federalism) ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থা সংসদীয় সার্বভৌমত্ব বনাম বিচার বিভাগীয় প্রাধান্য • নামসর্বস্ব প্রধান (রাষ্ট্রপতি) বনাম প্রকৃত কার্যনির্বাহী (প্রধানমন্ত্রী) • আইনসভার নিকট মন্ত্রীসভার যৌথ দায়বদ্ধতা (ধারা ৭৫(৩)) • ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন বিচারিক পর্যালোচনার অপূর্ব মেলবন্ধন • সুপ্রিম কোর্ট: সংবিধানের চরম অভিভাবক ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষক অধিকার, কর্তব্য ও ধর্মনিরপেক্ষতা কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শন ১. মৌলিক অধিকার (অংশ ৩ - আদালতের দ্বারা বলবৎযোগ্য) ২. নির্দেশমূলক নীতি (অংশ ৪ - কল্যাণকামী সমাজ গঠনের ভিত্তি) ৩. মৌলিক কর্তব্য (ধারা ৫১ক) • ৪. সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার (ধারা ৩২৬) ★ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র: সর্বধর্ম সমভাব (ধারা ২৫-২৮), কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ভারতের সংবিধান হলো বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান, যাতে মূলত ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ ও ৮টি তফসিল ছিল।
মূল বিষয় 2
এটি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিবাচক সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার এক অনুপম সংকলন।
মূল বিষয় 3
সংবিধানের ১ নম্বর ধারায় ভারতকে 'রাজ্যসমূহের ইউনিয়ন' বলে ঘোষণা করা হয়েছে, যা চিরন্তন অখণ্ডতার প্রতীক।
মূল বিষয় 4
কে. সি. হোয়্যারের মতে এটি 'আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয়', যেখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে শক্তিশালী কেন্দ্রের সমন্বয় ঘটেছে।
মূল বিষয় 5
ভারত ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় গণতন্ত্র গ্রহণ করেছে, যেখানে মন্ত্রীসভা লোকসভার নিকট যৌথভাবে দায়বদ্ধ (ধারা ৭৫(৩))।
মূল বিষয় 6
ব্রিটিশ সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন বিচারিক প্রাধান্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে বিচারিক পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মূল বিষয় 7
ভারতে একটি একক সমন্বিত ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা রয়েছে যার শীর্ষে অবস্থান করে সুপ্রিম কোর্ট।
মূল বিষয় 8
সংবিধানে বলবৎযোগ্য মৌলিক অধিকার (অংশ ৩) এবং কল্যাণকামী রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতির (অংশ ৪) ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।
মূল বিষয় 9
নির্বাচন কমিশন, সিএজি, এবং ইউপিএসসি-র মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার অভিভাবক।
মূল বিষয় 10
৭৩ ও ৭৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চায়েত ও পৌরসভাকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারতে অনন্য ত্রিস্তরীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।