ইংরেজি Constitution শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন ক্রিয়াপদ 'Constituere' থেকে, যার অর্থ প্রতিষ্ঠা করা, গঠন করা বা কোনো ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। আধুনিক আইনশাস্ত্রে সংবিধান কেবল আইনসভার তৈরি কোনো সাধারণ আইন নয়; এটি হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন (Supreme Law of the Land / lex superior) বা প্রখ্যাত আইনবিদ হ্যান্স কেলসেনের ভাষায় গ্রুন্ডনর্ম (Grundnorm)।
- অ্যারিস্টটলের সংজ্ঞা (Politics): অ্যারিস্টটলের মতে, 'সংবিধান হলো রাষ্ট্রের পদমর্যাদাসমূহের এমন এক বিন্যাস যার দ্বারা সেই পদসমূহের বণ্টনপদ্ধতি নির্ধারিত হয়, সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান নির্দিষ্ট হয় এবং সমগ্র রাজনৈতিক সমাজ ও তার সদস্যদের পরম লক্ষ্য স্থিরীকৃত হয়।'
- লর্ড জেমস ব্রাইসের সংজ্ঞা (Studies in History and Jurisprudence): লর্ড ব্রাইস সংবিধানের সংজ্ঞায় বলেছেন, 'সংবিধান হলো লিখিত ও অলিখিত এমন কতকগুলো আইন ও প্রথার সমষ্টি যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের জীবন পরিচালিত হয় এবং সার্বভৌম ক্ষমতা অভ্যাসগতভাবে প্রয়োগ করা হয়।'
- এ. ভি. ডাইসির সংজ্ঞা (The Law of the Constitution): প্রখ্যাত ব্রিটিশ আইনবিদ ডাইসির মতে, 'যেসব নিয়ম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার বণ্টন ও প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের সমষ্টিকেই সংবিধান বলা হয়।'
- কে. সি. হোয়্যারের সংজ্ঞা (Modern Constitutions): রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কে. সি. হোয়্যার উল্লেখ করেছেন, 'সংবিধান হলো সেই সমস্ত নিয়মের সংকলন যা সরকারকে প্রতিষ্ঠা করে, তার কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারের শাসনকার্য পরিচালনা করে।'
- টমাস পেইনের বিশ্লেষণ (Rights of Man, 1791): পেইন দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, 'সংবিধান সরকারের কোনো সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের এমন এক সক্রিয় পদক্ষেপ যার দ্বারা সরকার গঠিত হয়; আর সংবিধানবিহীন সরকার হলো অধিকারবিহীন ক্ষমতার অপব্যবহার।'
| পার্থক্যের ভিত্তি | সাংবিধানিক আইন (সর্বোচ্চ মৌলিক আইন) | সাধারণ আইন (আইনসভার বিধি) |
|---|---|---|
| উৎস ও প্রণেতা | সার্বভৌম গণপরিষদ বা জনগণের মৌলিক সার্বভৌম ক্ষমতা দ্বারা প্রণীত ও গৃহীত। | সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার অধীনে নিয়মিত আইনসভা (সংসদ বা বিধানসভা) কর্তৃক প্রণীত। |
| মর্যাদা ও প্রাধান্য | সর্বোচ্চ আইন (Lex Superior); রাষ্ট্রের সকল সাধারণ আইনের বৈধতার উৎস। | সংবিধানের অধীনস্থ; সংবিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো সাধারণ আইন বাতিলযোগ্য (ধারা ১৩)। |
| সংশোধন পদ্ধতি | বিশেষ ও জটিল সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশোধিত হয় (যেমন ধারা ৩৬৮)। | আইনসভার সাধারণ সংখ্যাধিক্যের ভোটে সহজে পাস, সংশোধন বা বাতিল করা যায়। |