চিরাচরিত অর্থনীতিতে কয়লা, লোহা বা বনভূমিকে কেবল জড় প্রাকৃতিক পদার্থ হিসেবে দেখা হতো। ১৯৩৩ সালে (পুনর্মুদ্রিত ১৯৫১) মার্কিন সম্পদ অর্থনীতিবিদ এরিখ ওয়াল্টার জিমারম্যান (Erich Walter Zimmermann) তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ World Resources and Industries-এ সম্পদের আধুনিক ও গতিশীল সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠা করেন:
"সম্পদ কোনো বস্তু বা পদার্থকে নির্দেশ করে না, বরং কোনো বস্তু বা পদার্থ যে কাজ সম্পন্ন করে বা যে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে অর্থাৎ মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতাকেই নির্দেশ করে... সম্পদ কোনো স্থির পদার্থ নয়, সম্পদ সৃষ্টি হয় (Resources are not, they become)।"
- কার্যকারিতা (Functionality): কোনো বস্তুর নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন বা মানুষের অভাব পূরণ করার সক্রিয় ক্ষমতা।
- উপযোগিতা (Operability / Utility): মানুষের সার্বিক কল্যাণে বস্তুটিকে বাস্তব প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবহার করার যোগ্যতা।
জিমারম্যানের মতে, সম্পদ হলো তিনটি মৌলিক উপাদানের গতিশীল মিথস্ক্রিয়ার ফল:
- প্রকৃতি (Nature): কাঁচামাল ও পরিবেশগত পটভূমি প্রদান করে—মৃত্তিকা, জল, খনিজ, সূর্যকিরণ ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ।
- মানুষ (Man): ভোক্তা ও স্রষ্টা উভয়ই; মানুষের চাহিদা ও দৈহিক-মানসিক শ্রম সম্পদ সৃষ্টির উৎস।
- সংস্কৃতি (Culture): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান, শিক্ষা, মূলধন ও সমাজ ব্যবস্থা, যা প্রকৃতির সুপ্ত কাঁচামালকে কার্যকর সম্পদে রূপান্তরিত করে।
- নিরপেক্ষ উপাদান (Neutral Stuff): প্রকৃতির যে সমস্ত উপাদান মানুষের কোনো কল্যাণ বা ক্ষতি সাধন করে না, কারণ মানুষের বর্তমান প্রযুক্তি বা জ্ঞানে তার উপযোগিতা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি (যেমন ফিশন আবিষ্কারের আগে ইউরেনিয়াম, অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগে খনিজ তেল বা বিদ্যুৎ আবিষ্কারের আগে জলপ্রপাত)।
- প্রতিরোধক বা বাধা (Resistance): প্রকৃতির যে উপাদান বা প্রতিকূল অবস্থা মানুষের সম্পদ সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করে এবং জীবনহানি বা ক্ষয়ক্ষতি ঘটায় (যেমন ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত জলাভূমি, খরা, বন্যা, ভূমিকম্প, মরুভূমির অনুর্বরতা ও মেরু অঞ্চলের বরফ)। সংস্কৃতির কাজ হলো প্রতিরোধককে পরাস্ত করে তাকে সম্পদে পরিণত করা।
- মায়া স্তূপ (Phantom Pile): জিমারম্যান সম্পদকে একটি সীমাবদ্ধ স্তূপ হিসেবে ভাবাকে 'মায়া স্তূপ' বলেছেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন সম্পদ জন্ম নেয়, তাই সম্পদ অফুরন্ত সম্ভাবনাময়।
| শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি | সম্পদের প্রকারভেদ | মৌলিক বৈশিষ্ট্য | প্রাসঙ্গিক উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| স্থায়িত্ব বা পুনর্ভব ক্ষমতা | প্রবহমান (অফুরন্ত) বনাম গচ্ছিত (অপুনর্ভব) | প্রবহমান সম্পদ ব্যবহারের সাথে কমে না; গচ্ছিত সম্পদ ব্যবহারের ফলে নিঃশেষিত হয়ে যায়। | সৌরশক্তি, জলপ্রবাহ বনাম রানিগঞ্জের কয়লা, খনিজ তেল |
| প্রাপ্তিস্থান বা বিস্তৃতি | সর্বত্র লভ্য বনাম স্থানিক সম্পদ | সর্বত্র লভ্য সব জায়গায় পাওয়া যায়; স্থানিক সম্পদ নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ। | বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন বনাম গ্রিনল্যান্ডের ক্রায়োলাইট, তামা |
| উৎপত্তিগত ভিত্তি | জৈব বনাম অজৈব সম্পদ | জৈব সম্পদ জীবমণ্ডল থেকে উৎপন্ন হয়; অজৈব সম্পদ নির্জীব রাসায়নিক উপাদান। | অরণ্য, মৎস্য, গবাদি পশু বনাম শিলা, লোহা, ভূগর্ভস্থ জল |