Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Geography • অধ্যায় 3
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া

ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া হলো এমন সমস্ত প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক ক্রিয়াকলাপ যা ভূতাত্ত্বিক সময়কাল ধরে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপ সৃষ্টি, রূপান্তর ও পরিবর্তনের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়ী। পৃথিবীর উপরিভাগের বৈচিত্র্যময় বন্ধুরতা মূলত দুটি বিপরীতধর্মী শক্তির অন্তর্দ্বন্দ্বে গড়ে ওঠে: অন্তর্জাত প্রক্রিয়া এবং বহির্জাত প্রক্রিয়া। অন্তর্জাত প্রক্রিয়া পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয়জনিত তাপ, আদিম তাপ ও গুরুমণ্ডলের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে সৃষ্ট পরিচলন স্রোতের দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী ও ধীর পটল বিরূপণ আলোড়ন (মহীভাবক উল্লম্ব আলোড়ন ও গিরিজনি অনুভূমিক সংকোচন-টান বল) এবং আকস্মিক বিধ্বংসী আলোড়ন (অগ্নুৎপাত ও ভূমিকম্প) রূপে প্রকাশিত হয়ে নতুন পর্বত, মালভূমি ও চ্যুতি উপত্যকা সৃষ্টি করে। বিপরীতভাবে, বহির্জাত প্রক্রিয়া সৌরশক্তি ও অভিকর্ষজ বল দ্বারা চালিত হয়ে আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয়, নদী, বায়ু ও হিমবাহের মাধ্যমে পর্যায়ীকরণ কার্য সম্পাদন করে। যেখানে অবরোহণের মাধ্যমে উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অবনমিত হয় এবং আরোহণের মাধ্যমে নিচু অববাহিকা পলিসঞ্চয়ে ভরাট হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ বা ক্ষয়ের শেষ সীমার সাপেক্ষে একটি গতিশীল ভূ-ভারসাম্য অর্জনের চেষ্টা করে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়াগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান পরিবেশগত ভূতত্ত্ব, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপরিহার্য। টেকটনিক পাত সীমানা ও চ্যুতি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি অনুধাবন করে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য অগ্নুৎপাতের পূর্বাভাস প্রদান করা সম্ভব হয়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরভাগে অবস্থিত নবীন ভঙ্গিল হিমালয় পর্বতমালাভুক্ত দার্জিলিং ও কালিম্পং পার্বত্য অঞ্চলে শিলার আবহবিকার, ঢাল ভারসাম্য এবং পুঞ্জিত ক্ষয়ের গতিবিধি বোঝা জাতীয় সড়ক ও রেলপথের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং ভয়াবহ বর্ষাকালীন ভূমিধস নিয়ন্ত্রণের জন্য জীবন-মরণ প্রশ্নের মতো। এছাড়াও, রাসায়নিক ও যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলেই কৃষির মেরুদণ্ড মৃত্তিকা স্তর গঠিত হয়, বক্সাইট ও ল্যাটেরাইটের মতো মূল্যবান ধাতব খনিজের গৌণ সঞ্চয় ঘটে এবং ভূগর্ভস্থ জলধারণকারী রেগোলিথ স্তরের সৃষ্টি হয়।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়ার স্বরূপ...
2 ২. পটল বিরূপণ: মহীভাবক ও গিরিজনি আল...
3 ৩. মহীসঞ্চরণ তত্ত্ব ও আধুনিক পাত সং...
4 ৪. অগ্নুৎপাত ও ভূমিকম্প: আকস্মিক অন...
5 ৫. বহির্জাত প্রক্রিয়া: যান্ত্রিক,...
6 ৬. পুঞ্জিত ক্ষয় ও ঢাল সঞ্চালন: দার...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়ার স্বরূপ ও পর্যায়ীকরণের ধারণা

ভূরূপ গঠনকারী শক্তির শ্রেণিবিভাগ

ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনকারী সমস্ত ভূতাত্ত্বিক শক্তিকে তাদের উৎসের ভিত্তিতে প্রধান দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:

তুলনার বিষয় অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenic Processes) বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenic Processes)
শক্তির উৎস ভূ-অভ্যন্তরের তেজস্ক্রিয় ক্ষয়জনিত তাপ, আদিম তাপ ও অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের পরিচলন স্রোত। সৌর বিকিরণ তাপ ও পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল।
কার্যক্ষেত্রের দিক ভূ-অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠের দিকে উল্লম্ব (ব্যাসার্ধ বরাবর) বা অনুভূমিক (স্পর্শক বরাবর) অভিমুখী। সরাসরি উন্মুক্ত শিলাপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের সংযোগস্থলে নিম্নমুখী ও পার্শ্বমুখী।
ভূমিরূপ গঠনের ভূমিকা গঠনমূলক / বৈষম্য সৃষ্টিকারী: মহাদেশ, ভঙ্গিল পর্বত, স্তূপ পর্বত ও লাভা মালভূমির মতো প্রাথমিক বন্ধুরতা সৃষ্টি করে। ধ্বংসাত্মক / সমতলকারী: পর্যায়ীকরণের মাধ্যমে উঁচু ভূভাগ ক্ষয় করে এবং নিচু ভূভাগ ভরাট করে সমতলপৃষ্ঠ গড়ে তোলে।
কাজের গতি অধিকাংশই অত্যন্ত ধীরগতির পটল বিরূপণ (লক্ষ লক্ষ বছর ব্যাপী), মাঝে মাঝে আকস্মিক আলোড়ন (ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত)। নিরবচ্ছিন্ন আবহবিকার ও ঋতুভিত্তিক দ্রুত ক্ষয়-পরিবহন-সঞ্চয়।
পর্যায়ীকরণের ত্রিমুখী ধারণা (Concept of Gradation)

১৯০৪ সালে ভূতত্ত্ববিদ চেম্বারলিন ও স্যালিসবারি অসম ভূপৃষ্ঠকে একটি সাধারণ সমতলে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ীকরণ (Gradation) নামে অভিহিত করেন। পর্যায়ীকরণ হলো দুটি বিপরীত প্রক্রিয়ার সমষ্টি:

  • ১. অবরোহণ (Degradation): আবহবিকার (স্থির শিলাচূর্ণীকরণ), পুঞ্জিত ক্ষয় (মাধ্যাকর্ষণজনিত নিম্নগমন) এবং ক্ষয়কারী মাধ্যমের (নদী, হিমবাহ, বায়ু) সম্মিলিত ক্রিয়ায় উঁচু ভূমিভাগের ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অবনমিত হওয়াকে অবরোহণ বা নগ্নীভবন (Denudation) বলে।
  • ২. আরোহণ (Aggradation): অবরোহণের ফলে সৃষ্ট পলল ও শিলাচূর্ণ ক্ষয়কারী শক্তি দ্বারা পরিবাহিত হয়ে হ্রদ, নদী উপত্যকা বা সমুদ্রের নিচু অবনমিত অংশে সঞ্চিত হয়ে ভূভাগকে উঁচু করার প্রক্রিয়াকে আরোহণ বলে।
  • পর্যায়ীকরণ সূত্র: $ ext{পর্যায়ীকরণ} = ext{অবরোহণ} + ext{আরোহণ}$।
ভূতাত্ত্বিক মাইলফলক: ক্ষয়ের শেষ সীমা (Base Level of Erosion)
১৮৭৫ সালে আমেরিকান ভূতত্ত্ববিদ জন ওয়েসলি পাওয়েল (J.W. Powell) কলোরাডো গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গবেষণাকালে প্রথম 'ক্ষয়ের শেষ সীমা' ধারণাটি প্রবর্তন করেন। নদী বা ক্ষয়কারী মাধ্যম যে সর্বনিম্ন তল পর্যন্ত ভূভাগকে ক্ষয় করতে পারে, তাকে ক্ষয়ের শেষ সীমা বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ (Sea Level) হলো ক্ষয়ের প্রধান বা চরম সীমা (Grand Base Level)। কোনো হ্রদ বা কঠিন শিলাস্তর সাময়িক বা স্থানীয় ক্ষয়ের শেষ সীমা হিসেবে কাজ করতে পারে।

২. পটল বিরূপণ: মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়ন, ভঙ্গিল ও চ্যুতি ভূমিরূপ

পটল বিরূপণ আলোড়ন (Diastrophism)

ভূ-অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপের প্রভাবে ভূত্বকের শিলাস্তরে যে অতি ধীর ও দীর্ঘমেয়াদী বক্রতা, অবনমন, উত্থান বা স্থানচ্যুতি ঘটে, তাকে সামগ্রিকভাবে পটল বিরূপণ (Diastrophism) বলে। আলোড়নের অভিমুখ অনুযায়ী এটি দুই প্রকার:

ক. মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Forces — মহাদেশ গঠনকারী)

গ্রিক শব্দ 'Epeiros' (মহাদেশ) থেকে উৎপন্ন। এটি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর উল্লম্বভাবে (Vertical) কার্যকর হয়। এর ফলে শিলাস্তরে কোনো প্রবল ভাঁজ বা চ্যুতি ছাড়াই বিশাল মহাদেশীয় ভূভাগ গঠিত বা স্থানান্তরিত হয়:

  • উত্থান (Emergence): মহাদেশীয় ভূভাগ বা সমুদ্রতট সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে উঠে আসা (যেমন—আন্দামান নিকোবর ও কাথিয়াওয়াড় উপকূলের উত্থিত প্রবাল প্রাচীর)।
  • নিমজ্জন (Submergence): সমুদ্র উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ স্থলভাগ জলের নিচে বসে যাওয়া (যেমন—গুজরাটের দ্বারকা উপকূলের নিমজ্জিত প্রাচীন ভূখণ্ড ও সুন্দরবনের নিমজ্জিত বনভূমি)।
খ. গিরিজনি আলোড়ন (Orogenic Forces — পর্বত নির্মাণকারী)

গ্রিক শব্দ 'Oros' (পর্বত) থেকে উৎপন্ন। এটি ভূত্বকের স্পর্শক বরাবর অনুভূমিকভাবে (Horizontal / Tangential) কার্যকর হয়। এর দ্বারা দুটি প্রধান পীড়ন বল সৃষ্টি হয়:

  • সংনমন বল (Compressional Force): পরস্পরের মুখোমুখি ক্রিয়াশীল অনুভূমিক চাপে শিলাস্তর সংকুচিত হয়ে ঢেউয়ের মতো বেঁকে ভঙ্গিল পর্বত (যেমন—হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ, রকি) সৃষ্টি করে।
  • টান বল (Tensional Force): বিপরীতমুখী অনুভূমিক টানের ফলে শিলাস্তরে টান ধরে ফাটল ও চ্যুতি (Fault) গঠিত হয়।
গ. ভাঁজের গঠন ও প্রকারভেদ (Folding)

পার্শ্বীয় সংনমন চাপের ফলে পাললিক শিলাস্তরে সৃষ্ট তরঙ্গায়িত ঢেউকে ভাঁজ (Fold) বলে। ভাঁজের প্রধান অঙ্গসমূহ:

  • ঊর্ধ্বভঙ্গ (Anticline): উত্তল আকৃতির ভাঁজ যার বাহু দুটি মধ্যস্থ অক্ষীয় তল থেকে দুদিকে বিপরীত দিকে ঢালু হয়ে প্রসারিত হয়। এর কেন্দ্রে প্রাচীনতম শিলা উন্মুক্ত থাকে।
  • অধোভঙ্গ (Syncline): অবতল আকৃতির দ্রোণীর মতো ভাঁজ যার বাহু দুটি কেন্দ্রমুখী ঢালু হয়ে মিলিত হয়। এর কেন্দ্রে নবীনতম শিলা অবস্থান করে।
  • বাহু (Limbs): ভাঁজের শীর্ষ ও দ্রোণীর মধ্যবর্তী ঢালু শিলাস্তর।
  • অক্ষতল (Axial Plane): যে কাল্পনিক তল ভাঁজটিকে প্রতিসম বা অপ্রতিসম দুটি অর্ধাংশে বিভক্ত করে।
ভাঁজের প্রকার গঠনগত বৈশিষ্ট্য পীড়নের মাত্রা
সমপ্রতিসম ভাঁজ (Symmetrical) উভয় বাহুর নতি কোণ সমান এবং অক্ষতল সম্পূর্ণ উল্লম্ব ($90^\circ$)। উভয় পাশ থেকে সমান ও সুষম সংনমন বল।
অপ্রতিসম ভাঁজ (Asymmetrical) একটি বাহুর নতি মৃদু এবং অপর বাহুর নতি খাড়া; অক্ষতল তির্যকভাবে হেলে থাকে। একপাশের সংনমন বল অপেক্ষাকৃত বেশি শক্তিশালী।
সমপ্রবণ ভাঁজ (Isoclinal) উভয় বাহু একই দিকে সমকোণে বা প্রায় সমান্তরালভাবে হেলে থাকে। অত্যধিক তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী একমুখী সংকোচন।
শায়িত ভাঁজ (Recumbent) অক্ষতল এবং উভয় বাহু উল্টে গিয়ে অনুভূমিক সমতলের প্রায় সমান্তরালে শায়িত থাকে। চরম মাত্রার একমুখী পার্শ্বীয় ধাক্কা।
ন্যাপ (Nappe / Overthrust) শায়িত ভাঁজের নিচের বাহু চরম টানে ছিঁড়ে গিয়ে থ্রাস্ট তল বরাবর কয়েক কিলোমিটার দূরে নবীন শিলার উপর চড়ে যায়। হিমালয় ও আল্পস পর্বতের মতো চরম গিরিজনি আলোড়ন (যেমন—গাড়োয়াল হিমালয়ের ক্রোল ন্যাপ)।
ঘ. চ্যুতি ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ (Faulting)

ভূত্বকীয় টানের বা সংকোচনের ফলে শিলাস্তরে ফাটল সৃষ্টির পর যখন ফাটলের দুপাশের শিলাখণ্ড পরস্পর আপেক্ষিকভাবে স্থানচ্যুত হয়, তাকে চ্যুতি (Fault) বলে। চ্যুতির প্রধান উপাদান: চ্যুতি তল (Fault Plane), ঝুলন্ত প্রাচীর (Hanging Wall), পদ প্রাচীর (Footwall), উল্লম্ব চ্যুতি (Throw) এবং অনুভূমিক চ্যুতি (Heave)।

  • সাধারণ চ্যুতি (Normal Fault): টান বলের প্রভাবে গঠিত হয়; ঝুলন্ত প্রাচীর পদ প্রাচীরের সাপেক্ষে নিচের দিকে নেমে যায়।
  • বিপরীত চ্যুতি (Reverse / Thrust Fault): সংনমন বলের প্রভাবে গঠিত হয়; ঝুলন্ত প্রাচীর পদ প্রাচীরের উপর উঠে যায়। চ্যুতি কোণ ৪৫ ডিগ্রির কম হলে তাকে নতি চ্যুতি বা থ্রাস্ট (Thrust) বলে।
  • স্তূপ পর্বত (Horst / Block Mountain): দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূখণ্ড ভূ-আলোড়নের চাপে উপরে উঠে গেলে অথবা পাশের ভূখণ্ড নিচে বসে গেলে মধ্যবর্তী খাড়া ঢালযুক্ত উঁচু ভূভাগকে স্তূপ পর্বত বলে (যেমন—ভারতের সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট ও ফ্রান্সের ভোজ পর্বত)।
  • গ্রস্ত উপত্যকা (Graben / Rift Valley): দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ ভূ-ত্বকীয় টানের ফলে নিচে বসে গিয়ে যে দীর্ঘ, সংকীর্ণ খাড়া দেওয়ালযুক্ত উপত্যকা গড়ে তোলে, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে (যেমন—আফ্রিকার গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি, ইউরোপের রাইন নদী উপত্যকা এবং ভারতের নর্মদা ও তাপ্তি নদী উপত্যকা)।

৩. মহীসঞ্চরণ তত্ত্ব ও আধুনিক পাত সংস্থান তত্ত্ব

আলফ্রেড ভেগনারের মহীসঞ্চরণ মতবাদ (১৯১২)

জার্মান জলবায়ুবিদ ও ভূ-পদার্থবিদ আলফ্রেড লোথার ভেগনার (Alfred Wegener) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Die Entstehung der Kontinente und Ozeane-এ প্রকাশ করেন যে প্রায় ২০ কোটি বছর পূর্বে (মেসোজোয়িক যুগ) পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একত্রে সংযুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড আদিম অতিমহাদেশ গঠন করেছিল, যার নাম প্যানজিয়া (Pangaea)। প্যানজিয়াকে বেষ্টন করে ছিল এক সুবিশাল আদিম মহাসাগর, যার নাম প্যানথালাসা (Panthalassa)। মেসোজোয়িক যুগে প্যানজিয়া দ্বিখণ্ডিত হয়:

  • লরেশিয়া বা অঙ্গারাল্যান্ড: উত্তর গোলার্ধে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও সাইবেরিয়া/এশিয়া।
  • গন্ডোয়ানাল্যান্ড: দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, উপদ্বীপীয় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা।
  • উভয়ের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থান করত সংকীর্ণ পূর্ব-পশ্চিম বিস্তৃত অগভীর সমুদ্র টেথিস (Tethys Sea)।
ভেগনারের সপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণসমূহ
  • ১. জিগ-স ফিট (Jig-saw Fit): দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল (ব্রাজিলের স্ফীত অংশ) এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল (গিনি উপসাগর) পরস্পরের সাথে কাঠের ধাঁধার টুকরোর মতো নিখুঁতভাবে মিলে যায়। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে স্যার এডওয়ার্ড বুলার্ড ৫০০ ফ্যাদম সমুদ্রতলের গভীরতায় কম্পিউটার ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এই মিল প্রমাণ করেন।
  • ২. জীবাশ্মের সামঞ্জস্য (Paleontological Evidence):
    • গ্লসোপটেরিস (Glossopteris): জিহ্বা আকৃতির ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের অবিকল এক জীবাশ্ম ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও অ্যান্টার্কটিকায় পাওয়া যায়।
    • মেসোসরাস (Mesosaurus): মিষ্টি জলের ছোট সাঁতারু সরীসৃপের জীবাশ্ম কেবল পূর্ব দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার সমসাময়িক পারমিয়ান শিলাস্তরে মেলে। লবণাক্ত মহাসাগর পার হওয়া এদের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
    • লিস্ট্রোসরাস (Lystrosaurus): ডাঙায় বসবাসকারী তৃণভোজী সরীসৃপের জীবাশ্ম ভারত, আফ্রিকা ও অ্যান্টার্কটিকায় আবিষ্কৃত হয়েছে।
  • ৩. হিমবাহ টিলাইট সঞ্চয় (Paleoclimatic Evidence): পার্মো-কার্বনিফেরাস যুগের হিমবাহজাত পাথুরে কাদামাটির স্তর (তালচির টিলাইট) ক্রান্তীয় ভারত, মধ্য আফ্রিকা, মাদাগাস্কার ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত হয়, যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলগুলি পূর্বে দক্ষিণ মেরুর নিকটে হিমশীতল অঞ্চলে একত্রিত ছিল।
  • ৪. ভূতাত্ত্বিক গঠনের ধারাবাহিকতা: উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান পর্বতের শিলাগঠন ও বয়স ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ক্যালেন্ডোনিয়ান পর্বতের সাথে হুবহু মিলে যায়।
আধুনিক পাত সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonics Theory)

১৯৬০-এর দশকে ড্যান ম্যাকেঞ্জি, রবার্ট পার্কার, ডব্লিউ. জেসন মর্গ্যান এবং জাভিয়ের ল্য পিঁশো (Xavier Le Pichon) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাত সংস্থান তত্ত্ব ভেগনারের সঞ্চরণ মতবাদকে আধুনিক ভূ-পদার্থবিদ্যার শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। এই তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর কঠিন বহিঃত্বক বা শিলামণ্ডল (Lithosphere) প্রায় ১০০-১৫০ কিমি পুরু কতগুলি অনমনীয় খণ্ডে বিভক্ত, যাদের পাত (Plates) বলা হয়। এই পাতগুলি নিচের সান্দ্র প্লাস্টিক অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান।

পরিচালন চালিকাশক্তি: ১৯২৮ সালে আর্থার হোমস (Arthur Holmes) প্রস্তাবিত গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোত (Mantle Convection Currents) পাতগুলির সঞ্চালনের মূল চালিকাশক্তি। তেজস্ক্রিয় তাপের প্রভাবে সৃষ্ট পরিচলন কোষের উর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী টানে পাতগুলি প্রতি বছর ১ থেকে ১০ সেমি হারে স্থানান্তরিত হয়।

পাত সীমানা আপেক্ষিক গতি ও ভূতাত্ত্বিক ক্রিয়া সৃষ্ট ভূমিরূপ ও উদাহরণ
প্রতিসারী / গঠনকারী পাত সীমানা (Divergent) দুটি পাত বিপরীত দিকে দূরে সরে যায়। শূন্যস্থানে ভূ-গর্ভস্থ ক্ষারীয় ব্যাসল্ট ম্যাগমা উঠে এসে নতুন মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠন করে (সমুদ্রবক্ষ বিস্তার)। মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরা, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় শৈলশিরা ও গ্রেট আফ্রিকান রিফ্ট ভ্যালি। অগভীর ভূমিকম্প ও বিদার অগ্নুৎপাত।
অভিসারী / ধ্বংসাত্মক পাত সীমানা (Convergent) দুটি পাত পরস্পরের মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অপেক্ষাকৃত ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে সাবডাকশন জোনে (Subduction Zone) অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে প্রবেশ করে গলে বিনষ্ট হয়। • মহাসাগরীয়-মহাদেশীয়: মারিয়ানা খাত, পেরু-চিলি খাত ও আন্দিজ ভঙ্গিল পর্বতমালা।
• মহাদেশীয়-মহাদেশীয়: ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে হিমালয় পর্বতমালার উত্থান (এখানে সাবডাকশন হয় না, কেবল শিলাস্তর দুমড়ে ভাঁজ তৈরি হয়)।
নিরপেক্ষ / সংরক্ষণশীল পাত সীমানা (Transform) দুটি পাত পরস্পরকে পাশ কাটিয়ে অনুভূমিকভাবে পিছলে এগিয়ে যায়। এখানে কোনো ভূত্বক সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না। ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রেয়াস চ্যুতি (San Andreas Fault)। তীব্র অগভীর বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়, কিন্তু অগ্নুৎপাত ঘটে না।

৪. অগ্নুৎপাত ও ভূমিকম্প: আকস্মিক অন্তর্জাত আলোড়ন

অগ্নুৎপাত (Volcanism): উদ্‌বেধী ও নিঃসারী ভূমিরূপ

ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত গলিত তরল শিলাকে ম্যাগমা (Magma) বলে, যা বাষ্প ও গ্যাসের চাপে ভূত্বকের কোনো দুর্বল ফাটল বা গহ্বর দিয়ে বাইরে নির্গত হলে তাকে লাভা (Lava) বলা হয়। লাভা বাইরে জমাট বাঁধলে নিঃসারী ভূমিরূপ এবং ভূ-অভ্যন্তরেই শীতল হয়ে কঠিন হলে উদ্‌বেধী ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়:

ক. উদ্‌বেধী প্লুটোনিক আগ্নেয় ভূমিরূপ (Intrusive Landforms)
  • ব্যাথোলিথ (Batholith): ভূ-ত্বকের অতল গভীরে গঠিত সুবিশাল গম্বুজাকৃতির গ্রানাইট শিলার ম্যাগমা গহ্বর। পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হলে এটি উন্মুক্ত হয় (যেমন—রাঁচির গ্রানাইট ব্যাথোলিথ)।
  • ল্যাকোলিথ (Laccolith): ব্যাঙের ছাতা বা উত্তল লেন্সের মতো উত্তল ছাদ ও সমতল তলদেশযুক্ত ম্যাগমা সঞ্চয়।
  • লোপোলিথ (Lopolith): ওপরের শিলাস্তরের চাপে অগভীর বাটির মতো বা অবতল থালার মতো অবনমিত ম্যাগমা কাঠামো।
  • ফ্যাকোলিথ (Phacolith): ভাঁজযুক্ত শিলার ঊর্ধ্বভঙ্গের চূড়ায় বা অধোভঙ্গের দ্রোণীতে সঞ্চিত লেন্স আকৃতির ম্যাগমা।
  • সিল (Sill): পাললিক শিলার সমান্তরাল স্তরবিন্যাসের ফাঁকে অনুভূমিকভাবে শীতল ও জমাটবদ্ধ ম্যাগমা স্তর।
  • ডাইক (Dyke): পাললিক শিলাস্তরের স্তরকে ছেদ করে উল্লম্বভাবে দেওয়ালের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাগমা শিরা (মহারাষ্ট্রের ডেকান ট্র্যাপে অজস্র ডাইক দেখা যায়)।
খ. নিঃসারী আগ্নেয় ভূমিরূপ (Extrusive Landforms)
  • শিল্ড আগ্নেয়গিরি (Shield Volcano): ক্ষারীয় অত্যন্ত তরল ব্যাসল্ট লাভা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হওয়া মৃদু ঢালযুক্ত সুবিশাল শঙ্কু (যেমন—হাওয়াই দ্বীপের মৌনা লোয়া ও কিলাউয়া)।
  • মিশ্র শঙ্কু বা স্ট্র্যাটোভলক্যানো (Composite Volcano): অত্যন্ত সান্দ্র অ্যাসিডিক লাভা এবং ছাই-ভস্ম ও পাইরোক্লাস্টের পর্যায়ক্রমিক স্তরে গঠিত খাড়া শঙ্কু (যেমন—জাপানের মাউন্ট ফুজি, ইতালির ভিসুভিয়াস)।
  • ক্যালডেরা (Caldera): ভয়াবহ বিস্ফোরণে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ উড়ে গিয়ে বা অভ্যন্তরীণ ম্যাগমা শূন্যতার ফলে ধসে গঠিত দানবীয় বৃত্তাকার গহ্বর (যেমন—ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া, আমেরিকার ক্রেটার লেক)।
  • লাভা মালভূমি (Lava Plateau): শান্ত বিদার অগ্নুৎপাতে নির্গত ক্ষারীয় লাভা লক্ষ লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধাপে ধাপে গড়ে তোলা সমতল মালভূমি (যেমন—ভারতের দাক্ষিণাত্যের ডেকান ট্র্যাপ)।
ভূমিকম্প (Earthquakes): কেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও ভূকম্পীয় তরঙ্গ

ভূত্বকের অভ্যন্তরে যে বিন্দুতে স্থিতিস্থাপক শিলাচ্যুতি ও শক্তির আকস্মিক মুক্তি ঘটে, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus / Hypocenter) বলে। কেন্দ্র থেকে ঠিক উল্লম্ব রেখায় ভূপৃষ্ঠের উপরিস্থ নিকটতম বিন্দুটিকে উপকেন্দ্র (Epicenter) বলে, যেখানে প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয় এবং সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

  • ভূকম্পীয় তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ:
    • ১. P-তরঙ্গ (Primary / অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ): সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে চলে (কণার কম্পন তরঙ্গ গতির সমান্তরালে)। গতিবেগ সবচেয়ে বেশি ($৬–১৩ ext{ কিমি/সেকেন্ড}$)। কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় তিন মাধ্যমে গমন করতে পারে।
    • ২. S-তরঙ্গ (Secondary / তির্যক তরঙ্গ): আলোক তরঙ্গের মতো ওঠানামা করে (কণার কম্পন তরঙ্গ গতির সমকোণে)। গতিবেগ কম ($৩.৫–৭ ext{ কিমি/সেকেন্ড}$)। কেবল কঠিনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে; তরলে সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়।
    • ৩. L-তরঙ্গ (Surface / পৃষ্ঠ তরঙ্গ): লাভ ও র‍্যালে তরঙ্গ। ভূপৃষ্ঠ বরাবর দীর্ঘ পথ পরিভ্রমণ করে। গতিবেগ সবচেয়ে কম হলেও এর ধ্বংসলীলা সর্বাধিক।
  • পরিমাপক স্কেল:
    • রিখটার স্কেল (১৯৩৫): চার্লস রিখটার উদ্ভাবিত লগারিদমিক স্কেল যা ভূমিকম্পে নির্গত মোট শক্তির পরিমাণ পরিমাপ করে। স্কেলের প্রতিটি পূর্ণ সংখ্যার বৃদ্ধিতে শক্তির পরিমাণ প্রায় ৩১.৬ গুণ বৃদ্ধি পায়।
    • মার্সেলি স্কেল (MMI): ভূমিকম্পে সৃষ্ট দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতার রোমান হরফে (I থেকে XII) গুণগত পরিমাপক।

৫. বহির্জাত প্রক্রিয়া: যান্ত্রিক, রাসায়নিক ও জৈব আবহবিকার

আবহবিকারের স্বরূপ (Weathering)

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান (উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ু) এবং রাসায়নিক দ্রাবকের ক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহের স্বস্থানে (In-situ) যান্ত্রিক চূর্ণভবন ও রাসায়নিক বিয়োজন ঘটার প্রক্রিয়াকে আবহবিকার (Weathering) বলে। আবহবিকারে বিচূর্ণীকৃত শিলাখণ্ড অপসারিত হয় না; বরং ভূপৃষ্ঠে শিথিল শিলাচূর্ণের এক আবরণ তৈরি করে, যাকে রেগোলিথ (Regolith) বলে।

ক. যান্ত্রিক আবহবিকার (Mechanical Weathering)

উষ্ণ শুষ্ক মরু অঞ্চল এবং উচ্চ পার্বত্য নাতিশীতোষ্ণ ও মেরু জলবায়ুতে যান্ত্রিক আবহবিকার প্রধান ভূমিকা পালন করে:

  • ১. শল্কমোচন (Exfoliation / পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো): গ্রানাইটের মতো সমসত্ত্ব শিলা তাপের কুপরিবাহী। দিনের তীব্র রোদে বাইরের পৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয় এবং রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হয়। কিন্তু ভেতরের অংশে কোনো সংকোচন-প্রসারণ হয় না। এই তাপীয় বৈষম্যের ফলে শিলার গায়ে গোলাকার সমান্তরাল ফাটল ধরে এবং পেঁয়াজের খোসার মতো স্তরে স্তরে বাইরের খোলা উঠে গিয়ে গোলাকার এক্সফোলিয়েশন ডোম বা গম্বুজ সৃষ্টি করে (যেমন—ছোটনাগপুর ও রাঁচির গ্রানাইট পাহাড়)।
  • ২. পিণ্ড বিশ্লিষ্টকরণ (Block Disintegration): সমকোণী উলম্ব ও অনুভূমিক ফাটলযুক্ত শিলায় তাপীয় টানের ফলে শিলাখণ্ডগুলো চৌকো ব্লকের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
  • ৩. কণিকাময় বিশ্লিষ্টকরণ (Granular Disintegration): গ্রানাইট বা বেলেপাথরের মতো বিষমসত্ত্ব শিলায় কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার ও মাইকার তাপগ্রাহিতা ভিন্ন হওয়ায় দানায় দানায় টান ধরে শিলা ভেঙে বালুকণায় পরিণত হয়।
  • ৪. তুহিন খণ্ডীকরণ (Frost Wedging / Gelifraction): উচ্চ পার্বত্য ও শীতল অঞ্চলে দিনের বেলায় শিলার ফাটলে জল জমে। রাতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ($0^\circ ext{C}$) নিচে নামলে জল জমে বরফে পরিণত হয়। বরফে রূপান্তরের সময় আয়তন প্রায় ৯% বৃদ্ধি পাওয়ায় ফাটলের গায়ে প্রতি বর্গ সেমিতে ২০০০ কেজির বেশি চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিলা ফেটে তীক্ষ্ণ কৌণিক খণ্ডে পরিণত হয়ে পাহাড়ের পাদদেশে সঞ্চিত হয়, যাকে স্ক্রি (Scree) বা ট্যালাস (Talus) বলে।
খ. রাসায়নিক আবহবিকার (Chemical Weathering)

উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয়-উপক্রান্তীয় অঞ্চলে জলের প্রাচুর্যের কারণে রাসায়নিক বিক্রিয়া তীব্র হয়:

  • ১. অঙ্গারযোজন বা কার্বোনেশন (Carbonation): বৃষ্টির জলের সাথে বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইড মিশে মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি হয়: $$H_2O + CO_2 ightleftharpoons H_2CO_3$$ এই কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথরের অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে অতি দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাই-কার্বনেটে পরিণত করে ক্ষয় সাধন করে: $$CaCO_3 + H_2CO_3 o Ca(HCO_3)_2$$ এর প্রভাবে কাস্ট অঞ্চলে গুহা, সিঙ্কহোল ও স্ট্যালাকটাইট গড়ে ওঠে।
  • ২. জারণ বা অক্সিডেশন (Oxidation): জলে দ্রবীভূত বায়বীয় অক্সিজেনের সাথে শিলার লোহার যৌগসমূহের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শিলায় মরিচা ধরে: $$4Fe + 3O_2 + 6H_2O o 2Fe_2O_3 \cdot 3H_2O \quad ext{(হলুদ-বাদামি লিমোনাইট)}$$ এর ফলে মূল শিলাটি দুর্বল হয়ে সহজেই ভেঙে পড়ে।
  • ৩. জলযোজন বা হাইড্রেশন (Hydration): খনিজের কেলাসের মধ্যে সরাসরি জল অণু রাসায়নিকভাবে শোষিত হলে আয়তন ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং অভ্যন্তরীণ চাপে শিলা ফেটে যায় (যেমন—অ্যানহাইড্রাইট জলে ভিজে জিপসামে রূপান্তর: $CaSO_4 + 2H_2O o CaSO_4 \cdot 2H_2O$)।
  • ৪. আর্দ্র বিশ্লেষণ বা হাইড্রোলাইসিস (Hydrolysis): জলের হাইড্রোজেন ($H^+$) এবং হাইড্রোক্সিল ($OH^-$) আয়নের সাথে শিলা খনিজের বিক্রিয়া। যেমন পটাশিয়াম ফেল্ডস্পার বিশ্লেষিত হয়ে কাউলিনাইট মৃত্তিকায় পরিণত হয়।
গ. জৈব আবহবিকার (Biological Weathering)
  • যান্ত্রিক: উদ্ভিদের শিকড় শিলার ফাটলে প্রবেশ করে ক্রমশ মোটা হয়ে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে শিলাস্তরকে ফাটিয়ে দেয়। কেঁচো, ইঁদুর ও উইপোকা শিলায় গর্ত খুঁড়ে শিলাকে চূর্ণ করে।
  • রাসায়নিক: শিলার গায়ে জন্মানো লাইকেন ও মস জাতীয় উদ্ভিদ অক্সালিক ও সাইট্রিক জৈব অ্যাসিড ক্ষরণ করে শিলার খনিজ বিয়োজিত করে।

৬. পুঞ্জিত ক্ষয় ও ঢাল সঞ্চালন: দার্জিলিং ও কালিম্পং পর্বতে ভূমিধস বিপর্যয়

পুঞ্জিত ক্ষয়ের স্বরূপ ও প্রক্রিয়া (Mass Wasting)

আবহবিকারগ্রস্ত শিলাচূর্ণ ও রেগোলিথ কোনো পরিবাহী মাধ্যম (যেমন নদী বা বাতাস) ছাড়াই কেবল পৃথিবীর অভিকর্ষজ টানে (Gravitational Force) খাড়া ঢাল বরাবর নিচের দিকে নেমে আসার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে পুঞ্জিত ক্ষয় (Mass Wasting বা Mass Movement) বলে। ঢালের প্রতিরোধক বলের চেয়ে যখন নিম্নমুখী স্পর্শক বল ($ au = ho g h \sin heta$) বেশি হয়, তখন পুঞ্জিত ক্ষয় ঘটে।

পুঞ্জিত ক্ষয়ের ধরন গতিবেগ ও আর্দ্রতার দশা বৈশিষ্ট্য ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ
মৃত্তিকা সরন (Soil Creep) অত্যন্ত মন্থর ($mm ext{ থেকে }cm/ ext{বছর}$); শুষ্ক বা ঈষৎ আর্দ্র। ঢাল বরাবর মাটির অতি ধীর অদৃশ্যমান নিম্নগমন। প্রমাণ: হেলে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি, বেঁকে যাওয়া গাছের গুঁড়ি ও রেললাইন স্থানচ্যুতি।
সলিফ্লাকশন (Solifluction) মন্থর ($cm ext{ থেকে }m/ ext{বছর}$); অতিপৃক্ত জলীয় কাদা। মেরু ও তুন্দ্রা অঞ্চলের পারমাফ্রস্টের (চিরহিমায়িত তল) ওপর গ্রীষ্মকালে বরফগলা জলে কর্দমাক্ত মাটি ঢাল বেয়ে নেমে আসা।
স্লাম্প বা চক্রাকার ধস (Slump) মাঝারি থেকে দ্রুত; সান্দ্র কাদামাটি। অবতল বা চামচের মতো তল বরাবর মাটির অখণ্ড স্তূপের পিছলে নেমে আসা ও ওপরের অংশে অর্ধচন্দ্রাকার খাড়া দাগ তৈরি হওয়া।
কর্দমপ্রবাহ (Mudflow) অতি দ্রুত ($km/ ext{ঘণ্টা}$); জলকাদার তীব্র স্রোত। মেঘভাঙা প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ের উপত্যকা দিয়ে ঘন কাদা ও শিলার মিশ্রণ প্রবল তোড়ে নেমে এসে জনপদ ভাসিয়ে দেয়।
শিলাপাত (Rockfall) মুহূর্তের মধ্যে মুক্ত পতন ($>১০০ ext{ কিমি/ঘণ্টা}$)। খাড়া পাহাড়ের ফাটল থেকে শিলাখণ্ড মুক্তভাবে শূন্যে আছড়ে পড়ে তলদেশে ট্যালাস তৈরি করে।
পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের কারণ ও প্রতিকার

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ভাগে তিস্তা নদীর উভয় তীরবর্তী দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় প্রতি বর্ষায় ভয়াবহ ভূমিধস (Landslide) ঘটে। এর প্রধান কারণসমূহ:

  • ১. শিলাগঠনগত দুর্বলতা: এই অঞ্চল নবীন ভঙ্গিল হিমালয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে শিলাসমূহ (ডালিং ও দার্জিলিং নিস) প্রচণ্ড টেকটনিক চাপে চূর্ণবিচূর্ণ, ফাটলযুক্ত ও ভঙ্গুর।
  • ২. অতিবৃষ্টির প্রকোপ: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বছরে ৩০০০ থেকে ৪০০০ মিমি অতিবৃষ্টিপাত ঘটে। অতিরিক্ত জল প্রবেশ করায় মাটির রন্ধ্রে হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং ঘর্ষণ বল শূন্য হয়ে মাটি পিছলে যায়।
  • ৩. অবৈজ্ঞানিক মানবীয় হস্তক্ষেপ: জাতীয় সড়ক (NH-10) সম্প্রসারণের জন্য খাড়া পাহাড়ের পাদদেশ নির্বিচারে কাটা (Toe-cutting), বহুতল ভবন নির্মাণ, চা-বাগান সম্প্রসারণে বন উজাড় এবং পাহাড়ি ঢালে সঠিক নিকাশি ব্যবস্থার অভাব।
  • প্রকৌশলগত প্রতিকার: নিকাশি নালা তৈরি করে বৃষ্টির জল দ্রুত অপসারণ, পাহাড়ের গায়ে উইপ-হোলযুক্ত কংক্রিটের গার্ডওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ, তারের জালের খাঁচায় পাথর ভরা গ্যাবিয়ন দেওয়াল স্থাপন, এবং ভেটিভার ঘাস ও গভীর মূলযুক্ত বাঁশ রোপণের মাধ্যমে জৈব-প্রকৌশল প্রয়োগ।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

পর্যায়ীকরণের সমীকরণ
পর্যায়ীকরণ = অবরোহণ (আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়ীভবন) + আরোহণ (পলল সঞ্চয়)
কুলম্বের ঢাল স্থায়িত্ব সূত্র
s = c + σ * tan(φ)
কার্বোনেশন বিক্রিয়া সমীকরণ
CaCO3 + H2O + CO2 ⇌ Ca(HCO3)2

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়ার মধ্যে শক্তির উৎস, কার্যকারিতার অভিমুখ এবং ভূমিরূপ গঠনের ভিত্তিতে পার্থক্য নিরূপণ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়া হলো ভূপৃষ্ঠের গঠন ও পরিবর্তনের দুটি প্রধান পরিপূরক শক্তি: ১. শক্তির উৎস: অন্তর্জাত প্রক্রিয়া পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ শক্তি দ্বারা চালিত হয়—প্রধানত তেজস্ক্রিয় পদার্থের (ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ইত্যাদি) ক্ষয়জনিত তাপ, পৃথিবীর আদিম তাপ এবং গুরুমণ্ডলের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে সৃষ্ট পরিচলন স্রোত। অপরপক্ষে, বহির্জাত প্রক্রিয়া বাহ্যিক শক্তির দ্বারা চালিত হয়—যার মূল উৎস সূর্যরশ্মির তাপ এবং পৃথিবীর অভিকর্ষজ টান। ২. কার্যকারিতার অভিমুখ: অন্তর্জাত শক্তি ভূ-অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠের দিকে কার্যকর হয়। এটি উল্লম্বভাবে (মহীভাবক আলোড়ন রূপে উত্থান বা নিমজ্জন) অথবা অনুভূমিকভাবে (গিরিজনি আলোড়ন রূপে পার্শ্বীয় সংকোচন বা টান) ক্রিয়াশীল থাকে। বহির্জাত শক্তি সরাসরি উন্মুক্ত শিলাস্তরে অনুভূমিক ও নিম্নমুখী দিকে ক্রিয়া করে। ৩. ভূমিরূপ গঠনে ভূমিকা: অন্তর্জাত প্রক্রিয়া গঠনমূলক ও প্রাথমিক বন্ধুরতা সৃষ্টিকারী—এটি ভঙ্গিল পর্বত (হিমালয়), স্তূপ পর্বত (সাতপুরা), লাভা মালভূমি (দাক্ষিণাত্য) ও গ্রস্ত উপত্যকা গঠন করে ভূ-পৃষ্ঠে বৈচিত্র্য আনে। বিপরীতে, বহির্জাত প্রক্রিয়া ধ্বংসাত্মক ও সমতলকারী—এটি অবরোহণের মাধ্যমে উঁচু ভূমি ক্ষয় করে এবং আরোহণের মাধ্যমে নিচু খাদ ভরাট করে একটি সাধারণ ক্ষয়ের শেষ সীমা বা সমুদ্রপৃষ্ঠের সমতলে ভূমিরূপকে রূপান্তর করতে চায়।
উদাহরণ 2
'ক্ষয়ের শেষ সীমা' (Base Level of Erosion) বলতে কী বোঝো? এই ধারণার প্রবক্তা কে এবং ক্ষয়ের পরম সীমা কোনটি?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
নদী বা যেকোনো ক্ষয়কারী প্রাকৃতিক মাধ্যম যে সর্বনিম্ন তল পর্যন্ত কোনো ভূভাগকে উল্লম্বভাবে ক্ষয় করতে পারে, তাকে ক্ষয়ের শেষ সীমা বলে। এই তলের নিচে নদী আর উপত্যকাকে গভীর করতে পারে না। ১৮৭৫ সালে বিখ্যাত আমেরিকান ভূতত্ত্ববিদ জন ওয়েসলি পাওয়েল (J.W. Powell) কলোরাডো নদী ও গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন অঞ্চল পর্যালোচনাকালে প্রথম এই ধারণার প্রবর্তন করেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ (Mean Sea Level) হলো ক্ষয়ের চরম বা পরম শেষ সীমা (Grand Base Level), কারণ নদীগুলো সমুদ্রে এসে পতিত হয় এবং সমুদ্রতলের নিচে উপত্যকা ক্ষয় করতে পারে না।
উদাহরণ 3
ভাঁজের প্রধান অঙ্গসমূহ উল্লেখ করো। সমপ্রতিসম ভাঁজ, অপ্রতিসম ভাঁজ এবং শায়িত ভাঁজের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পার্শ্বীয় সংনমন চাপের ফলে পাললিক শিলাস্তরে যে তরঙ্গায়িত ঢেউ তৈরি হয় তাকে ভাঁজ বলে। ভাঁজের প্রধান অঙ্গগুলি হলো: • ঊর্ধ্বভঙ্গ (Anticline): উত্তল খাঁজযুক্ত উঁচু অংশ যার বাহু দুটি দুপাশে হেলে থাকে। • অধোভঙ্গ (Syncline): অবতল খাঁজযুক্ত দ্রোণীর মতো অংশ যেখানে বাহু দুটি ভেতরে মিলিত হয়। • বাহু (Limbs): ঊর্ধ্বভঙ্গ ও অধোভঙ্গের সংযোগকারী ঢালু শিলাস্তর। • অক্ষতল (Axial Plane): যে কাল্পনিক তল ভাঁজটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করে। তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য: ১. সমপ্রতিসম ভাঁজ: উভয় দিক থেকে সমান ও অভিন্ন সংনমন বল কার্যকর হলে এটি সৃষ্টি হয়। এর উভয় বাহুর ঢাল বা নতি কোণ হুবহু সমান হয় এবং অক্ষতল সম্পূর্ণ উল্লম্ব (৯০°) থাকে। ২. অপ্রতিসম ভাঁজ: একদিক থেকে সংনমন বল অপেক্ষাকৃত বেশি শক্তিশালী হলে এটি সৃষ্টি হয়। এর একটি বাহুর ঢাল মৃদু হলেও অন্য বাহুর ঢাল খাড়া হয় এবং অক্ষতল তির্যকভাবে হেলে থাকে। ৩. শায়িত ভাঁজ (Recumbent Fold): চরম একমুখী পার্শ্বীয় ঠেলা বা বল কার্যকর হলে অক্ষতল উল্টে গিয়ে সম্পূর্ণ মাটির সমান্তরালে অনুভূমিকভাবে (প্রায় ০°) শায়িত অবস্থায় থাকে।
উদাহরণ 4
স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা কীভাবে উৎপত্তি লাভ করে? ভারতের একটি করে উদাহরণ দাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
টানজনিত ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরে সৃষ্ট সমান্তরাল স্বাভাবিক চ্যুতির মাধ্যমে স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়: • স্তূপ পর্বত (Horst): দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ প্রবল অভ্যন্তরীণ চাপে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের চেয়ে উপরে উঠে গেলে অথবা দুপাশের অংশ নিচে বসে গেলে মধ্যবর্তী খাড়া উঁচু ভূভাগটি স্তূপ পর্বত হিসেবে অবস্থান করে। উদাহরণ: ভারতের মধ্যভাগের সাতপুরা পর্বতমালা। • গ্রস্ত উপত্যকা (Graben): দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ টানের কারণে নিচের দিকে বসে গিয়ে যে দীর্ঘ, গভীর ও খাড়া পার্শ্বযুক্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে। উদাহরণ: বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী নর্মদা নদীর গ্রস্ত উপত্যকা এবং তাপ্তি নদী উপত্যকা।
উদাহরণ 5
আলফ্রেড ভেগনারের মহীসঞ্চরণ তত্ত্বটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। এই তত্ত্বের সপক্ষে যেকোনো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড লোথার ভেগনার মহীসঞ্চরণ তত্ত্বে প্রস্তাব করেন যে মেসোজোয়িক যুগের পূর্বে সমস্ত মহাদেশ একত্রে সংযুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড আদিম মহাদেশ 'প্যানজিয়া' গঠন করেছিল, যা 'প্যানথালাসা' নামক মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। প্রায় ২০ কোটি বছর পূর্বে প্যানজিয়া ভেঙে উত্তরে লরেশিয়া এবং দক্ষিণে গন্ডোয়ানাল্যান্ডে বিভক্ত হয় এবং এদের মাঝে টেথিস সাগরের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই ভূখণ্ডগুলি বিচ্ছিন্নভাবে সঞ্চারিত হয়ে বর্তমান মহাদেশীয় রূপ লাভ করেছে। সপক্ষে তিনটি প্রধান প্রমাণ: ১. উপকূলীয় সামঞ্জস্য (Jig-saw Fit): দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব আটলান্টিক উপকূলের স্ফীত অংশ আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের খাঁজের সাথে হুবহু মিলে যায়, যা এদের অতীত সংযুক্তির অকাট্য প্রমাণ। ২. জীবাশ্মের প্রমাণ: 'গ্লসোপটেরিস' নামক ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের জীবাশ্ম এবং মিষ্টি জলের সাঁতারু সরীসৃপ 'মেসোসরাস'-এর অবিকল জীবাশ্ম দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার শিলাস্তরে পাওয়া গেছে, যা স্থলভাগগুলির অবিচ্ছিন্নতা ছাড়া ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। ৩. হিমবাহ টিলাইটের উপস্থিতি: কার্বনিফেরাস যুগের হিমবাহবাহিত সঞ্চয় (তালচির টিলাইট) ক্রান্তীয় ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলগুলি এককালে দক্ষিণ মেরুর নিকটবর্তী হিমমণ্ডলীয় অবস্থানে সংযুক্ত ছিল।
উদাহরণ 6
শল্কমোচন (Exfoliation) কী? গ্রানাইট শিলায় কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি কার্যকরী হয় তা ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
শল্কমোচন (Exfoliation বা পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো আবহবিকার) হলো এমন একটি যান্ত্রিক আবহবিকার যার মাধ্যমে তাপের অসম পরিচালনের দরুন সমসত্ত্ব শিলার বহিরাবরণ পেঁয়াজের খোসার মতো স্তরে স্তরে খসে পড়ে এবং শিলাটি গোলাকার গম্বুজের রূপ ধারণ করে। কার্যকরী হওয়ার কৌশল: ১. তাপের কুপরিবাহিতা ও প্রসারণ: গ্রানাইট মূলত কোয়ার্টজ ও ফেল্ডস্পার দ্বারা গঠিত নিরেট শিলা, যা তাপের অত্যন্ত কুপরিবাহী। উষ্ণ শুষ্ক মরু বা মালভূমি অঞ্চলে দিনে প্রচণ্ড সৌরতাপে শিলার উপরিভাগ তীব্রভাবে উত্তপ্ত হয়ে আয়তনে প্রসারিত হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ শিলাস্তর শীতলই থেকে যায়। ২. অসম সংকোচন ও ফাটল সৃষ্টি: রাতের বেলা আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শিলার বাইরের খোলা সংকুচিত হয়, কিন্তু ভেতরের অংশে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না। দিনের পর দিন এই বিপরীতমুখী সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলার বহিরাবরণ ও অন্তরাবরণের মাঝে প্রবল টান বলের সৃষ্টি হয়। ৩. খোলসমোচন ও গম্বুজ গঠন: শিলার সহ্যসীমা অতিক্রম করলে পৃষ্ঠতলের সমান্তরালে গোলাকার ফাটল তৈরি হয় এবং শিলাস্তর পেঁয়াজের খোসার মতো আলগা হয়ে খুলে পড়ে। এর ফলে অবশেষ হিসেবে মসৃণ গোলাকার 'শল্কমোচন গম্বুজ' (Exfoliation Dome) সৃষ্টি হয়, যার বহু নিদর্শন ছোটনাগপুর ও রাঁচির গ্রানাইট অঞ্চলে দেখা যায়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

আবহবিকার এবং ক্ষয়ীভবনকে একই প্রক্রিয়া মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

স্বাভাবিক চ্যুতি সংনমন বলের প্রভাবে গঠিত হয় বলে ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

ভেগনারের মহীসঞ্চরণ ও আধুনিক পাত সংস্থানকে অভিন্ন মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পর্যায়ীকরণ অন্তর্জাত আলোড়ন (পাত সংস্থান, ভঙ্গিল ও চ্যুতি) এবং বহির্জাত আবহবিকার ও পুঞ্জিত ক্ষয় ১. অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenic Forces) মহীভাবক (উল্লম্ব) • গিরিজনি (অনুভূমিক পীড়ন) • আকস্মিক (ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত) A. FOLDING (পীড়নজনিত ভঙ্গিল গঠন) ঊর্ধ্বভঙ্গ (Anticline) অধোভঙ্গ (Syncline) Horizontal Compression (পার্শ্বীয় সংনমন) B. FAULTING (টানজনিত চ্যুতি ও স্তূপ) স্তূপ পর্বত (Horst) গ্রস্ত উপত্যকা (Graben) Normal Fault / Horst & Graben Tensional Stress (টান ও চ্যুতি ভৃগু) C. PLATE TECTONICS & CONVECTION (পাত সংস্থান ও পরিচলন) Continental Lithosphere (SIAL) Fold Mountain Volcano Oceanic Crust (SIMA) Subduction Zone (Trench) Mantle Asthenosphere (পরিচলন স্রোত) ২. বহির্জাত প্রক্রিয়া ও পর্যায়ীকরণ (Exogenic / Gradation) অবরোহণ (ক্ষয় ও আবহবিকার) + আরোহণ (সঞ্চয়) = ক্ষয়ের শেষ সীমা (Base Level) Sea Level (সমুদ্রপৃষ্ঠ) Base Level of Erosion DEGRADATION (অবরোহণ) Weathering + Mass Wasting + Erosion AGGRADATION (আরোহণ) Deposition of Sediments Gradation = Dynamic Equilibrium between degradation of highs and aggradation of lows Mechanical • Thermal Expansion • Exfoliation (শল্কমোচন) • Frost Wedging (তুহিন) • Block Disintegration Produces Scree / Talus Chemical • Oxidation (জারণ/মরিচা) • Carbonation (অঙ্গারযোজন) • Hydration (জলযোজন) • Hydrolysis (আর্দ্র বিশ্লেষণ) Active in Humid Tropics Mass Wasting • Soil Creep (মৃত্তিকা সরন) • Solifluction (সলিফ্লাকশন) • Landslide (ভূমিধস) • Mudflow & Rockfall Driven by Gravity মূল ভূতাত্ত্বিক সূত্র ও ধারণাসমূহ Isostasy (সমস্থিতি) Airy (Roots) vs Pratt (Density) Continental Drift (মহীসঞ্চরণ) Wegener (1912) Pangaea & Tethys Base Level (ক্ষয়ের শেষ সীমা) J.W. Powell (1875) Sea Level Limit Plate Tectonics (পাত সংস্থান) Convection Cells & Lithosphere

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ অন্তর্জাত শক্তি এবং বহিঃস্থ সৌর-চালিত বহির্জাত শক্তির ক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপ সৃষ্টি ও পরিবর্তন ঘটায়।
মূল বিষয় 2
  1. অন্তর্জাত আলোড়ন তেজস্ক্রিয় তাপ ও অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের পরিচলন স্রোত দ্বারা চালিত হয়ে ধীর পটল বিরূপণ এবং আকস্মিক ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত সৃষ্টি করে।
মূল বিষয় 3
৩. বহির্জাত প্রক্রিয়া সৌরশক্তি ও অভিকর্ষজ টানে আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং নদী-হিমবাহ-বায়ুর মাধ্যমে পর্যায়ীকরণ কার্য সম্পাদন করে।
মূল বিষয় 4
৪. পর্যায়ীকরণ হলো একটি দ্বিমুখী গতিশীল প্রক্রিয়া: অবরোহণের মাধ্যমে উঁচু ভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং আরোহণের মাধ্যমে নিচু অববাহিকা পললে ভরাট হয়।
মূল বিষয় 5
৫. ১৮৭৫ সালে জন ওয়েসলি পাওয়েল ক্ষয়ের শেষ সীমা ধারণা দেন, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠ ক্ষয়ের চরম ও অন্তিম সীমা হিসেবে কাজ করে।
মূল বিষয় 6
৬. পটল বিরূপণ উল্লম্ব মহীভাবক আলোড়ন (উত্থান ও নিমজ্জন) এবং অনুভূমিক গিরিজনি আলোড়নে (সংনমন ও টান) বিভক্ত।
মূল বিষয় 7
৭. পার্শ্বীয় সংনমনে ভঙ্গিল পর্বত (ঊর্ধ্বভঙ্গ, অধোভঙ্গ, শায়িত ভাঁজ, ন্যাপ) এবং অনুভূমিক টানের ফলে চ্যুতি, স্তূপ পর্বত (সাতপুরা) ও গ্রস্ত উপত্যকা (নর্মদা) গঠিত হয়।
মূল বিষয় 8
৮. আলফ্রেড ভেগনার মহীসঞ্চরণ তত্ত্বে প্যানজিয়া ও গন্ডোয়ানাল্যান্ড বিভাজনের ধারণা দেন, যা আধুনিক পাত সংস্থান তত্ত্বে পরিচলন স্রোতের সাহায্যে ব্যাখ্যাত।
মূল বিষয় 9
৯. আবহবিকার হলো শিলার স্বস্থানে স্থির চূর্ণীভবন ও বিয়োজন, যা যান্ত্রিক (শল্কমোচন, তুহিন), রাসায়নিক (কার্বোনেশন, জারণ) এবং জৈব প্রকারে বিভক্ত।
মূল বিষয় 10
১০. পুঞ্জিত ক্ষয় অভিকর্ষজ টানে ঢাল বরাবর ঘটে (মৃত্তিকা সরন, সলিফ্লাকশন, ভূমিধস), যা উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং হিমালয় অঞ্চলে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ভয়াবহ বিপর্যয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: আবহবিকার হলো স্বস্থানে শিলার বিশ্লিষ্টকরণ যেখানে শিলাচূর্ণ স্থানান্তরিত হয় না; কিন্তু ক্ষয়ীভবনে জল, বাতাস বা হিমবাহের মতো গতিশীল শক্তির মাধ্যমে শিলাচূর্ণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয়।
2
নদী কেন ক্ষয়ের শেষ সীমার নিচে উপত্যকা ক্ষয় করতে পারে না?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠে পৌঁছানোর পর নদীর গতিশক্তি ও ঢালের নতি শূন্য হয়ে যায়, ফলে জলপ্রবাহের নিম্নমুখী উল্লম্ব ক্ষয় করার কোনো ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকে না।
3
ঊর্ধ্বভঙ্গ ও অধোভঙ্গের পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ঊর্ধ্বভঙ্গ হলো উত্তল ভাঁজ যার বাহু দুটি দুদিকে বিপরীত মুখে ঢালু এবং কেন্দ্রে প্রাচীন শিলা থাকে; অধোভঙ্গ হলো অবতল দ্রোণী যার বাহু দুটি কেন্দ্রমুখী ঢালু এবং কেন্দ্রে নবীন শিলা থাকে।
4
বিশ্বের এবং ভারতের দুটি প্রধান গ্রস্ত উপত্যকার নাম লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: বিশ্ব: আফ্রিকার গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি এবং ইউরোপের রাইন নদীর গ্রস্ত উপত্যকা। ভারত: নর্মদা নদী উপত্যকা এবং তাপ্তি নদী উপত্যকা।
5
উচ্চ পর্বতগাত্রে তুহিন খণ্ডীকরণ কীভাবে শিলা চূর্ণ করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ফাটলে জমে থাকা জল রাতে জমে বরফে পরিণত হলে তার আয়তন প্রায় ৯% বৃদ্ধি পায়, যা ফাটলের দেওয়ালে ২০০০ কেজির বেশি চাপ সৃষ্টি করে শিলা ফাটিয়ে ট্যালাস গঠন করে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Geography — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: শাস্ত্র রূপে ভূগোল অধ্যায় 2: পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায় 3: ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায় 4: আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায় 5: সমস্থিতি তত্ত্ব অধ্যায় 6: বারিমণ্ডল অধ্যায় 7: মানব ভূগোলের পরিধি ও বিষয়বস্তু অধ্যায় 8: অর্থনৈতিক ভূগোল অধ্যায় 9: Secondary Activities - Industry অধ্যায় 10: তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 11: চতুর্থ স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 12: পঞ্চম স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 13: এক নজরে ভারত অধ্যায় 14: ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায় 15: ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায় 16: ভারতের জলবায়ু অধ্যায় 17: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও অরণ্য অধ্যায় 18: ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।