Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Geography • অধ্যায় 4
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

আবহাওয়া ও জলবায়ু

আবহাওয়া ও জলবায়ু হলো পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক একাদশ শ্রেণির প্রাকৃতিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত মৌলিক ও তাত্ত্বিক একক, যা পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী বায়বীয় আবরণের ভৌত ও তাপীয় গতিবিজ্ঞানকে সুসংবদ্ধভাবে ব্যাখ্যা করে। বায়ুমণ্ডল হলো বিভিন্ন গ্যাসের একটি পরিবর্তনশীল যান্ত্রিক মিশ্রণ, যেখানে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের মতো স্থায়ী উপাদান ছাড়াও জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উষ্ণতা হ্রাসের হারের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডল ট্রপোস্ফিয়ার (ক্ষুব্ধমণ্ডল), স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (ওজোন স্তরযুক্ত শান্তমণ্ডল), মেসোস্ফিয়ার ও আয়নোস্ফিয়ারের মতো সমকেন্দ্রিক স্তরে বিন্যস্ত। সৌরশক্তি দ্বারা বায়ুমণ্ডল গতিশীল হয়, যেখানে সৌর ধ্রুবক দ্বারা আগত রশ্মি পরিমাপিত হয় এবং তাপ বাজেটের মাধ্যমে গ্রহীয় অ্যালবেডো ও পার্থিব দীর্ঘতরঙ্গ বিকিরণের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক তাপীয় ভারসাম্য রক্ষিত হয়। অক্ষাংশভিত্তিক তাপীয় পার্থক্যের ফলে ভূপৃষ্ঠে সাতটি স্থায়ী চাপ বলয় এবং হ্যাডলি, ফেরেল ও পোলার সেলের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিকোশী বায়বীয় সঞ্চালন গড়ে ওঠে। এই বায়ুপ্রবাহ, করিওলিস বল এবং উচ্চমণ্ডলীয় জেট স্ট্রিম বায়ুপুঞ্জ সৃষ্টি, সীমান্ত গঠন, ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত এবং ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু বলয়সমূহের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মানব সমাজের অস্তিত্ব, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, বিমান চলাচল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন, বৃষ্টিপাতের বণ্টন এবং বিরতি সরাসরি কৃষিকাজ ও খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতিপ্রবল ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (যেমন আমফান, ইয়াস, আয়লা) এবং তার সাথে ধেয়ে আসা প্রলয়ঙ্কারী জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় সুন্দরবন ও মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নদীবাঁধ ধ্বংস করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন করে তোলে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের তিস্তা উপত্যকার হিমবাহের দ্রুত গলন, উত্তরবঙ্গের হড়পা বান এবং সুন্দরবনের সমুদ্রপৃষ্ঠের ক্রমবর্ধমান উত্থানের মতো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়াগুলির গভীর জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও উল্লম্ব তা...
2 ২. সৌর বিকিরণ, পৃথিবীর তাপ বাজেট ও...
3 ৩. বায়ুচাপ বলয়, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ...
4 ৪. বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা, ঘনীভবন ও...
5 ৫. বায়ুপুঞ্জ, সীমান্ত, ঘূর্ণবাত ও...
6 ৬. ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণি...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও উল্লম্ব তাপীয় স্তরবিন্যাস

বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক উপাদান: স্থায়ী গ্যাস, পরিবর্তনশীল উপাদান ও অ্যারোসল

পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূপৃষ্ঠকে চাদরের মতো বেষ্টন করে থাকা বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন বায়বীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠে শুষ্ক বায়ুর প্রধান রাসায়নিক উপাদানসমূহ নিম্নরূপ:

বায়ুর উপাদান আয়তনভিত্তিক শতকরা হার (%) ভৌগোলিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব
নাইট্রোজেন ($N_2$) ৭৮.০৮% নিষ্ক্রিয় গ্যাস যা অক্সিজেনের দহন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে; মাটিতে ব্যাকটিরিয়া দ্বারা শোষিত হয়ে উদ্ভিদ প্রোটিন তৈরি করে।
অক্সিজেন ($O_2$) ২০.৯৫% প্রাণীকুলের শ্বসনকার্যের প্রধান ধারক এবং দহনের সহায়ক; শিলার জারণ বা অক্সিডেশন আবহবিকারে অংশ নেয়।
আর্গন ($Ar$) ০.৯৩% বায়ুমণ্ডলের প্রধান নিষ্ক্রিয় নোবেল গ্যাস, যা ভূত্বকের তেজস্ক্রিয় পটাশিয়াম ক্ষয় থেকে উৎপন্ন।
কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) ০.০৪১% (~৪২০ পিপিএম) উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের কাঁচামাল; প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস যা সৌর ক্ষুদ্রতরঙ্গ প্রবেশ করতে দেয় কিন্তু পার্থিব দীর্ঘতরঙ্গ বিকিরণ শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়।
জলীয় বাষ্প ($H_2O$) ০.০২% থেকে ৪% অত্যন্ত পরিবর্তনশীল; নিম্ন ট্রপোস্ফিয়ারে সীমাবদ্ধ; সমস্ত মেঘ, বৃষ্টি, শিশির ও ঝড়ের মূল উৎস এবং লীনতাপের আধার।
ধূলিকণা ও অ্যারোসল (Aerosols) পরিবর্তনশীল অনুপাত লবণকণা, ভস্ম ও ধোঁয়া জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের জন্য অপরিহার্য ঘনীভবন কেন্দ্র (Hygroscopic Nuclei) হিসেবে কাজ করে; আকাশকে নীল দেখায় এবং গোধূলি সৃষ্টি করে।
উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে উল্লম্ব স্তরবিন্যাস

উষ্ণতার পরিবর্তন এবং ভৌত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে উল্লম্বভাবে পাঁচটি প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়:

  • ১. ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধমণ্ডল (Troposphere): বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন ও ঘন স্তর। নিরক্ষরেখায় এর উচ্চতা প্রায় ১৮ কিমি এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি (গড় উচ্চতা ১২ কিমি)। সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ভরের ৭৫% এবং জলীয় বাষ্পের প্রায় ৯৯% এই স্তরে থাকে। এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা কমতে থাকে, যাকে স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার (Normal Lapse Rate) বলে; এর মান প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫°C (বা প্রতি ১৬৫ মিটারে ১°C)। মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত সমস্ত আবহাওয়াগত গোলযোগ এই স্তরে ঘটে বলে একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে। এর ঊর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ (Tropopause) বলে (উষ্ণতা প্রায় -৮০°C)।
  • ২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল (Stratosphere): ট্রপোপজের ওপর থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। নিচের অংশে উষ্ণতা স্থির (-৫৬°C) থাকে, কিন্তু ওপরের দিকে বৃদ্ধি পেয়ে স্ট্র্যাটোপজে ০°C হয়। এই স্তরের ১৫ থেকে ৩৫ কিমির মধ্যে ওজোন স্তর (Ozonosphere) অবস্থিত, যা সূর্যের অতিবেগুনি ক্ষতিকারক রশ্মি (UV-B, UV-C) শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণাহীন শান্ত পরিবেশের কারণে এই স্তর দিয়ে দ্রুতগামী জেট বিমান চলাচল করে।
  • ৩. মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere): স্ট্র্যাটোপজের ওপর ৫০ কিমি থেকে ৮০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং এর শীর্ষে অবস্থিত মেসোপজে বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -১০০°C নথিবদ্ধ হয়। মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে মেরু অঞ্চলে নৈশদ্যুতি মেঘ (Noctilucent clouds) গঠিত হয়।
  • ৪. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার (Thermosphere / Ionosphere): ৮০ কিমি থেকে ৪০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। অতিবেগুনি রশ্মি ও এক্স-রশ্মির প্রভাবে গ্যাসীয় অণুগুলো আয়নে বিশ্লিষ্ট থাকে। উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ১,৫০০°C ছাড়িয়ে যায়। আয়নিত স্তরের বিভিন্ন স্তর (D, E ও F বা অ্যাপেলটন স্তর) ভূপৃষ্ঠের বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেয়। সৌরবায়ুর সাথে সংঘর্ষে এখানে আকাশে চমৎকার আলোকচ্ছটা বা মেরুপ্রভা (সুমেরু প্রভা ও কুমেরু প্রভা) সৃষ্টি হয়।
  • ৫. এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Exosphere): ৪০০ কিমি থেকে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের প্রান্তিক স্তর, যেখানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম প্রাধান্য পায় এবং গ্যাসীয় অণু মহাশূন্যে বিলীন হয়। এর ওপরে ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়যুক্ত চৌম্বকমণ্ডল অবস্থান করে।

২. সৌর বিকিরণ, পৃথিবীর তাপ বাজেট ও উষ্ণতার বণ্টন

আগত সৌর বিকিরণ (Insolation) ও সৌর ধ্রুবক (Solar Constant)

সূর্য হলো পৃথিবীর সমস্ত শক্তি ও উষ্ণতার আদি উৎস। সূর্য থেকে যে শক্তি ক্ষুদ্রতরঙ্গের (Shortwave) মাধ্যমে আলোক ও উত্তাপ রূপে সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিমি গতিতে পৃথিবীতে পৌঁছায়, তাকে আগত সৌর বিকিরণ (Insolation) বলে। সূর্য থেকে প্রতি মিনিটে প্রতি বর্গ সেন্টিমিটার সমতল পৃষ্ঠে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ এসে পৌঁছায়, তাকে সৌর ধ্রুবক (Solar Constant) বলে। এর গড় মান ১.৯৪ থেকে ২.০ ক্যালোরি/বর্গ সেমি/মিনিট (১৩৬১ ওয়াট/বর্গ মিটার)।

সৌর বিকিরণের তারতম্যের কারণসমূহ
  • ১. সূর্যরশ্মির আপতন কোণ (Angle of Incidence): নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে কম ক্ষেত্রফলে তীব্র উত্তাপ প্রদান করে ($ ext{শক্তি} \propto \sin heta$); কিন্তু মেরুর দিকে রশ্মি তির্যকভাবে পড়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার ফলে তীব্রতা কমে যায়।
  • ২. দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য (Photoperiod): পৃথিবীর অক্ষের ২৩.৫° হেলানো অবস্থানের কারণে গ্রীষ্মকালে দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ অধিক সময় ধরে সৌর বিকিরণ গ্রহণ করে।
  • ৩. সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব: ৩ জানুয়ারি অনুসুর অবস্থানে (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) পৃথিবী অপসূর অবস্থানের (৪ জুলাই, ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) চেয়ে প্রায় ৭% বেশি তাপ পায়।
  • ৪. বায়ুমণ্ডলের স্বচ্ছতা: মেঘ, কুয়াশা ও ধূলিকণা সৌরশক্তিকে বাধা দেয়।
পৃথিবীর তাপ বাজেট (Earth's Heat Budget)

পৃথিবী সামগ্রিকভাবে উত্তপ্ত বা শীতল না হয়ে তাপের এক গতিশীল ভারসাম্য বজায় রাখে। আগত ১০০ একক সৌর বিকিরণের বণ্টন:

তাপ বাজেটের অংশ একক পরিমাণ ভৌত প্রক্রিয়া ও বণ্টন
অ্যালবেডো (Planetary Albedo) ৩৫ একক ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে মহাশূন্যে সরাসরি প্রতিফলিত হয়: ২৭ একক মেঘের ওপরিতল থেকে, ৬ একক বায়বীয় কণার বিচ্ছুরণে এবং ২ একক বরফাবৃত ভূপৃষ্ঠ থেকে।
বায়ুমণ্ডল কর্তৃক শোষণ ১৪ একক ওজোন, জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা ও গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা সরাসরি শোষিত হয়।
ভূপৃষ্ঠ কর্তৃক কার্যকর শোষণ ৫১ একক স্থলভাগ ও জলভাগ কর্তৃক শোষিত: ১৭ একক প্রত্যক্ষ সূর্যরশ্মি থেকে এবং ৩৪ একক আকাশ থেকে বিচ্ছুরিত সৌর বিকিরণ থেকে। মোট কার্যকর শোষণ = ১৪ + ৫১ = ৬৫ একক।
পার্থিব দীর্ঘতরঙ্গ বিকিরণ (মহাশূন্যে প্রত্যাবর্তন) ৬৫ একক ফেরত ১৭ একক ভূপৃষ্ঠ থেকে সরাসরি বায়ুমণ্ডলীয় জানলা দিয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়; ৪৮ একক বায়ুমণ্ডলে স্থানান্তরিত হয় (৯ একক পরিচলন-বিক্ষোভ, ১৯ একক ঘনীভবনের লীনতাপ, ২০ একক বিকিরণ)। বায়ুমণ্ডল নিজের ১৪ একক ও ভূপৃষ্ঠের ৪৮ একক মিলিয়ে মোট ৬২ একক মহাশূন্যে পাঠায়। মোট বহির্গামী = ১৭ + ৪৮ = ৬৫ একক।
আবহাওয়াগত ঘটনা: উষ্ণতার বৈপরীত্য (Inversion of Temperature)
সাধারণ নিয়মের বিপরীতে যখন উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর উষ্ণতা হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে উষ্ণতার বৈপরীত্য বলে। এর আদর্শ শর্তসমূহ: (১) দীর্ঘ শীতকালীন রাত্রি, (২) মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ, (৩) স্থির শান্ত বাতাস, (৪) শুষ্ক বায়ু ও বরফাবৃত মাটি। পার্বত্য উপত্যকায় রাতে পাহাড়ের ঢাল থেকে ভারী ও অতিশীতল বাতাস মহাকর্ষের টানে নিচে উপত্যকার তলদেশে জমা হয়, একে ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind) বলে। এর ফলে উপত্যকার তলদেশে জমাট বাঁধা শীত ও তুষারপাত ঘটে কিন্তু ওপরের ঢালে উষ্ণতা বেশি থাকে। তাই দার্জিলিং ও হিমাচলের পাহাড়ি অঞ্চলে উপত্যকার তলায় বসতি না করে মাঝামাঝি ঢালে চা বাগান ও আপেল বাগান গড়ে ওঠে।

৩. বায়ুচাপ বলয়, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও উচ্চমণ্ডলীয় জেট স্ট্রিম

বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টিকারী বলসমূহ

ভূপৃষ্ঠের ওপর একক ক্ষেত্রফলে বায়ুমণ্ডলের ভর যে নিম্নমুখী ভার প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুচাপ (Atmospheric Pressure) বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর আদর্শ চাপ হলো ১০১৩.২৫ মিলিবার বা হেক্টোপাসকাল (৭৬০ মিমি পারদস্তম্ভ)। বায়ুপ্রবাহ চারটি মৌলিক বলের সমন্বয়ে ঘটে:

  • ১. চাপ ঢাল বল (Pressure Gradient Force): দুটি স্থানের মধ্যে চাপের পার্থক্যের কারণে সমচাপ রেখার সাথে সমকোণে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়।
  • ২. করিওলিস বল (Coriolis Force) ও ফেরেলের সূত্র: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে যে বিক্ষেপক বল সৃষ্টি হয় তাকে করিওলিস বল বলে ($F_c = 2\Omega v \sin\phi$)। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। নিরক্ষরেখায় করিওলিস বল শূন্য এবং মেরুতে সর্বাধিক।
  • ৩. ঘর্ষণ বল: ভূপৃষ্ঠের সাথে ঘর্ষণে বায়ুর গতি কমে যায়।
  • ৪. জিওস্ট্রফিক বায়ু (Geostrophic Wind): মুক্ত বায়ুমণ্ডলে যখন চাপ ঢাল বল এবং করিওলিস বল পরস্পরের সমান ও বিপরীতমুখী হয়, তখন বায়ু সমচাপ রেখার সমান্তরালে প্রবাহিত হয়।
পৃথিবীর সাতটি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় (Pressure Belts)
চাপ বলয় অবস্থান ও উৎপত্তির কারণ বায়ুর গতিপ্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (Doldrums / ITCZ) ৫° উত্তর থেকে ৫° দক্ষিণ (তাপজনিত কারণে গঠিত) সারা বছর লম্ব সূর্যরশ্মিতে বাতাস উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে ওঠে; অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ স্তব্ধ থাকে বলে একে নিরক্ষীয় শান্তবলয় (Doldrums) বলে; উভয় গোলার্ধের আয়ন বায়ু এখানে মিলিত হয়ে আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ বলয় (ITCZ) সৃষ্টি করে।
উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (Horse Latitudes) উভয় গোলার্ধে ২৫° থেকে ৩৫° (গতিজনিত কারণে গঠিত) নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে ঊর্ধ্বগামী বাতাস শীতল ও ভারী হয়ে করিওলিস বলের টানে ৩০°-৩৫° অক্ষাংশে নিচে নেমে আসে। শান্ত ও মেঘমুক্ত আবহাওয়া থাকে। একে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) বলা হয়। পৃথিবীর উষ্ণ মরুভূমিগুলো এই বলয়ে অবস্থিত।
উপমেরু নিম্নচাপ বলয় উভয় গোলার্ধে ৬০° থেকে ৬৫° (গতিজনিত কারণে গঠিত) পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে বাতাস বাইরে ছিটকে যায় এবং উষ্ণ পশ্চিমা বায়ু ও শীতল মেরু বায়ু মিলিত হয়ে ঊর্ধ্বগামী ঘূর্ণবাত সৃষ্টি করে।
মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় উভয় মেরুতে ৮০° থেকে ৯০° (তাপজনিত কারণে গঠিত) চরম ঠান্ডার কারণে বাতাস সর্বদা সংকুচিত, ভারী ও শীতল হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে অধোগমন করে স্থায়ী উচ্চচাপ গড়ে তোলে।
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও জেট স্ট্রিম (Jet Streams)
  • আয়ন বায়ু (Trade Winds): উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু। প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে বাণিজ্যের সহায়ক ছিল বলে এর নাম বাণিজ্য বায়ু বা ট্রেড উইন্ড।
  • পশ্চিমা বায়ু (Westerlies): উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয় (উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে)। দক্ষিণ গোলার্ধে বিস্তীর্ণ জলভাগে বাধাহীনভাবে প্রবল গতিতে বয়ে চলে বলে নাবিকরা এদের গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties - ৪০°S), ক্রুদ্ধ পঞ্চাশা (Furious Fifties - ৫০°S) এবং ভয়ঙ্কর ষাট (Screaming Sixties - ৬০°S) নাম দিয়েছেন।
  • মেরু বায়ু (Polar Easterlies): মেরু উচ্চচাপ থেকে উপমেরু নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত শীতল ও বিধ্বংসী ঝড়ো বাতাস।
  • জেট স্ট্রিম (Jet Streams): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবিষ্কৃত উর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে (৯-১৪ কিমি উচ্চতায়) পশ্চিম থেকে পূর্বে সর্পিল গতিতে প্রবাহিত সংকীর্ণ ও অত্যন্ত দ্রুতগামী ($১৫০-৪০০ ext{ কিমি/ঘণ্টা}$) জিওস্ট্রফিক বায়ুপ্রবাহকে জেট স্ট্রিম বলে। এর মৌসুমী স্থান পরিবর্তন ভারতের মৌসুমি বায়ুর বিস্ফোরণ (Burst of Monsoon) নিয়ন্ত্রণ করে। মে-জুন মাসে উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট হিমালয়ের উত্তরে সরে গেলে তিব্বতের ওপর পূর্বালী জেট অবস্থান নেয় এবং ভারতে বর্ষার আগমন ঘটে।

৪. বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা, ঘনীভবন ও বৃষ্টিপাতের গতিবিজ্ঞান

বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও তার পরিমাপ

বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত জলীয় বাষ্পকে আর্দ্রতা বলে। আর্দ্রতা পরিমাপের তিনটি রূপ:

  • ১. পরম আর্দ্রতা (Absolute Humidity): প্রতি ঘনমিটার আয়তনের বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের প্রকৃত ওজন ($ ext{গ্রাম/ঘনমিটার}$)।
  • ২. বিশেষ আর্দ্রতা (Specific Humidity): প্রতি কিলোগ্রাম বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ভর ($ ext{গ্রাম/কিলোগ্রাম}$)। এটি উচ্চতা পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না।
  • ৩. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity / RH): কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে উপস্থিত প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণের সাথে ঐ তাপমাত্রায় ঐ বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে শতকরা হিসেবে প্রকাশ করা হয়: $$RH = rac{ ext{প্রকৃত বাষ্প চাপ}}{ ext{সম্পৃক্ত বাষ্প চাপ}} imes ১০০\%$$ যখন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হয়, তখন বাতাস সম্পৃক্ত হয় এবং ঐ তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলে।
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া (Adiabatic Process) ও বায়ুমণ্ডলের স্থিতিশীলতা

বায়ুপুঞ্জ ওপরের দিকে উঠলে চারপাশের চাপ কমে যাওয়ায় প্রসারিত হয় এবং কোনো তাপ গ্রহণ বা বর্জন ছাড়াই অভ্যন্তরীণ কার্য করার ফলে শীতল হয়:

  • শুষ্ক রুদ্ধতাপীয় হ্রাসের হার (DALR): অসম্পৃক্ত বায়ুপুঞ্জ উপরে উঠলে প্রতি ১০০০ মিটারে প্রায় ৯.৮°C (বা ১০°C/কিমি) হারে শীতল হয়।
  • আর্দ্র রুদ্ধতাপীয় হ্রাসের হার (SALR): ঘনীভবন শুরু হলে লীনতাপ মুক্ত হয়, যা প্রসারণজনিত শীতলীকরণকে কিছুটা প্রতিহত করে। ফলে আর্দ্র বায়ুর ক্ষেত্রে শীতলীকরণের হার কমে ৫°C থেকে ৬°C প্রতি ১০০০ মিটারে দাঁড়ায়।
মেঘের শ্রেণিবিভাগ ও বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ
  • মেঘের প্রকারভেদ (Luke Howard, 1803):
    • উঁচু মেঘ (>৬০০০ মি): সিরাস (পালকের মতো শুভ্র বরফকণা), সিরোস্ট্র্যাটাস (সূর্য ও চাঁদের চারপাশে বলয় বা Halo তৈরি করে), সিরোকিউমুলাস (ম্যাকারেল আকাশ)।
    • মাঝারি মেঘ (২০০০-৬০০০ মি): অল্টোস্ট্র্যাটাস, অল্টোকিউমুলাস।
    • নিচু মেঘ (০-২০০০ মি): স্ট্র্যাটোসিউমুলাস, স্ট্র্যাটাস (ধূসর কুয়াশার মতো স্তর), নিম্বোস্ট্র্যাটাস (অবিশ্রান্ত বৃষ্টি সৃষ্টিকারী কালো মেঘ)।
    • উল্লম্ব মেঘ: কিউমুলাস এবং কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus)। কিউমুলোনিম্বাস হলো পর্বতের মতো সুবিশাল বজ্রগর্ভ মেঘ যার চূড়ায় অ্যানভিল বা নেহাই-এর মতো ছড়ানো সিরাস শীর্ষ থাকে; এর থেকে প্রবল ঝড়বৃষ্টি, মেঘভাঙা বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি হয়।
  • বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
    • ১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall): তীব্র সৌরতাপে আর্দ্র বাতাস সোজা উপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে প্রতিদিন অপরাহ্ণে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ যে বৃষ্টি ঘটায় (নিরক্ষীয় অঞ্চলের চার ঘটিকার বৃষ্টি বা 4 o'clock rain)।
    • ২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall): জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে ঢাল বেয়ে উপরে উঠে প্রতিবাত ঢালে (Windward Slope) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল এবং চেরাপুঞ্জি-মৌসিনরাম)। কিন্তু পর্বত অতিক্রম করে যখন বাতাস বিপরীত অনুবাত ঢালে (Leeward Slope) নিচে নামে, তখন তা সংকুচিত ও উষ্ণ হয়ে যাওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং বৃষ্টি হয় না; এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain-Shadow Area) বলে (যেমন—পুনে ও শিলং)।
    • ৩. ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত (Cyclonic Rainfall): নিম্নচাপ কেন্দ্রে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঘূর্ণায়মান হয়ে ওপরে উঠে অথবা দুই বিপরীতধর্মী বায়ুপুঞ্জের সীমান্ত বরাবর উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর ওপরে উঠে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

৫. বায়ুপুঞ্জ, সীমান্ত, ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত

বায়ুপুঞ্জ (Air Masses) ও সীমান্ত (Fronts)

বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত যে সুবিশাল সমজাতীয় বায়ুস্তরের মধ্যে উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও ঘনত্বের অনুভূমিক সমতা বজায় থাকে, তাকে বায়ুপুঞ্জ (Air Mass) বলে। প্রধান প্রকারভেদ: মহাদেশীয় মেরুদেশীয় ($cP$), সামুদ্রিক মেরুদেশীয় ($mP$), মহাদেশীয় ক্রান্তীয় ($cT$), এবং সামুদ্রিক ক্রান্তীয় ($mT$)।

দুটি ভিন্ন তাপমাত্রা ও ঘনত্বের বায়ুপুঞ্জ মুখোমুখি হলে তাদের সংযোগস্থলে যে ঢালু বিচ্ছিন্নকরণ তল গঠিত হয়, তাকে সীমান্ত (Front) বলে। সীমান্ত চার প্রকার: শীতল সীমান্ত (ভারী ঠান্ডা বাতাস উষ্ণ বাতাসকে খাড়াভাবে ঠেলে তোলে), উষ্ণ সীমান্ত (উষ্ণ বাতাস ধীরে ধীরে শীতল বায়ুর ওপর চড়ে যায়), অন্তর্ধৃত বা অক্লুডেড সীমান্ত (দ্রুতগামী শীতল সীমান্ত উষ্ণ সীমান্তকে ধরে ফেলে সম্পূর্ণ বায়ুকে ওপরে তুলে দেয়), এবং স্থির সীমান্ত।

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বনাম নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত
তুলনার বিষয় ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত (Temperate Cyclone)
উৎপত্তি অঞ্চল ও কারণ উষ্ণ ক্রান্তীয় সমুদ্রে ($৫^\circ ext{ থেকে }২০^\circ ext{ N & S}$) যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৭°C-এর বেশি থাকে। করিওলিস বল না থাকায় নিরক্ষরেখায় ($০^\circ-৫^\circ$) এটি সৃষ্টি হতে পারে না। নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের ($৩৫^\circ ext{ থেকে }৬৫^\circ ext{ N & S}$) মেরু সীমান্ত অঞ্চলে বিপরীতধর্মী বায়ুপুঞ্জের সংঘর্ষে ডাইনামিক কারণে গঠিত।
শক্তির প্রধান উৎস সমুদ্র থেকে সরবরাহকৃত জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের লীনতাপ। স্থলভাগে প্রবেশ করলে (Landfall) লীনতাপের জোগান বন্ধ হয়ে দ্রুত ধ্বংস হয়। তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য শক্তির গতিশক্তিতে রূপান্তর। স্থল ও জল উভয় মাধ্যমেই টিকে থাকে।
গঠনগত বৈশিষ্ট্য বৃত্তাকার নিরেট সমচাপ রেখা; কোনো সীমান্ত থাকে না; কেন্দ্রে ১০-৩০ কিমি ব্যাসযুক্ত মেঘহীন শান্ত ঘূর্ণবাতের চক্ষু (Eye) থাকে, যার চারপাশের চক্ষু প্রাচীরে চরম ধ্বংসাত্মক ঝড় ($১৫০-২৫০ ext{ কিমি/ঘণ্টা}$) হয়। 'V' আকৃতির অসম সমচাপ রেখা; স্পষ্ট শীতল ও উষ্ণ সীমান্ত বর্তমান; কেন্দ্রে কোনো চক্ষু থাকে না; বিস্তৃত ব্যাস ($১০০০-২০০০ ext{ কিমি}$)।
আঞ্চলিক নাম ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ক্যারিবিয়ান সাগরে হারিকেন, চীন সাগরে ও জাপানে টাইফুন, অস্ট্রেলিয়ায় উইলি-উইলি। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (ভারতের উত্তর-পশ্চিমে শীতকালীন বৃষ্টি ঘটায়)।
প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone)

যখন কোনো উচ্চচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে সমচাপ রেখাগুলি বিস্তৃত থাকে এবং কেন্দ্র থেকে বাতাস ঘড়ির কাঁটার দিকে (উত্তর গোলার্ধে) বাইরের দিকে চক্রাকারে বেরিয়ে যায়, তখন তাকে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে। এর কেন্দ্রে বাতাস উপর থেকে নিচে নেমে আসে বলে কোনো মেঘ সৃষ্টি হয় না এবং বাতাস শান্ত, শুষ্ক ও আকাশ সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে।

৬. ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ ও বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন

ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ (১৮৮৪, ১৯১৮, ১৯৩৬)

বিশ্ববিখ্যাত রুশ-জার্মান জলবায়ুবিদ ভ্লাদিমির কোপেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী আলফঁস দ্য ক্যান্ডোল-এর উদ্ভিজ্জ মণ্ডলের ওপর ভিত্তি করে মাসিক ও বার্ষিক গড় উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ভিত্তিতে বিশ্বের জলবায়ুর পরিমাণগত ও প্রায়োগিক শ্রেণিবিভাগ প্রস্তুত করেন। তিনি বিশ্ব জলবায়ুকে পাঁচটি প্রধান ইংরেজি বড় হরফের (A, B, C, D, E) গ্রুপে বিভক্ত করেন:

জলবায়ু গ্রুপ নির্ণায়ক উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য উপবিভাগ ও পৃথিবীর প্রধান ভৌগোলিক অঞ্চল
A: ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু (Megathermal) শীতলতম মাসের গড় উষ্ণতা $\ge ১৮^\circ ext{C}$। কোনো শীতকাল নেই; সারা বছর উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল। • Af (নিরক্ষীয় চিরহরিৎ বৃষ্টি অরণ্য): সারা বছর সমবর্ষণ; শুষ্কতম মাসে বৃষ্টিপাত $\ge ৬০ ext{ মিমি}$ (আমাজন, কঙ্গো)।
• Am (ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু): স্বল্পস্থায়ী শুষ্ক ঋতু এবং বর্ষাকালে ভারী মৌসুমি বৃষ্টি (ভারত, বাংলাদেশ, উপকূলীয় পশ্চিমবঙ্গ)।
• Aw (ক্রান্তীয় সাভানা জলবায়ু): শীতকাল শুষ্ক ($w = ext{winter dry}$) (সুদান, দাক্ষিণাত্যের মালভূমি)।
B: শুষ্ক জলবায়ু (Xerophytic) বার্ষিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবনের হার অনেক বেশি ($PET > P$)। • BWh (উষ্ণ মরু জলবায়ু): গড় বার্ষিক উষ্ণতা $\ge ১৮^\circ ext{C}$ (সাহারা, থর)।
• BWk (নাতিশীতোষ্ণ শীতল মরু): গোবি মরুভূমি, প্যাটাগোনিয়া।
• BSh (আধা-শুষ্ক প্রান্তর বা স্টেপ): স্বল্প ঘাসযুক্ত প্রান্তর।
C: উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু (Mesothermal) শীতলতম মাসের গড় উষ্ণতা $-৩^\circ ext{C}$ থেকে $১৮^\circ ext{C}$-এর মধ্যে; উষ্ণতম মাস $> ১০^\circ ext{C}$। চারটি স্পষ্ট ঋতু। • Cs (ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু): গ্রীষ্মকাল শুষ্ক, শীতকালে বৃষ্টি ($s = ext{summer dry}$) (ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ক্যালিফোর্নিয়া)।
• Cwa (আর্দ্র উপক্রান্তীয় / চীন দেশীয়): শুষ্ক শীত এবং আর্দ্র গরম গ্রীষ্ম (গাঙ্গেয় সমভূমি, উত্তরবঙ্গ)।
• Cfb (পশ্চিম ইউরোপীয় সামুদ্রিক): সারা বছর নিয়মিত বৃষ্টি ও মৃদু গ্রীষ্ম।
D: শীতল তুষার অরণ্য জলবায়ু (Microthermal) শীতলতম মাসের গড় উষ্ণতা $< -৩^\circ ext{C}$; উষ্ণতম মাস $> ১০^\circ ext{C}$। দীর্ঘস্থায়ী বরফাবৃত শীত। কেবল উত্তর গোলার্ধে সীমাবদ্ধ। • Df (তৈগা বা সরলবর্গীয় বনভূমি): সাইবেরিয়া ও কানাডার সুবিশাল পাইন, ফার ও বার্চ অরণ্য।
E: মেরু জলবায়ু (Hekistothermal) উষ্ণতম মাসের গড় উষ্ণতাও $< ১০^\circ ext{C}$। বৃক্ষহীন বরফাবৃত অঞ্চল। • ET (তুন্দ্রা জলবায়ু): উষ্ণতম মাস ০° থেকে ১০°C; শৈবাল, লাইকেন, পারমাফ্রস্ট।
• EF (চিরতুষার বা আইসক্যাপ): সারা বছর হিমাঙ্কের নিচে (গ্রিনল্যান্ড, অ্যান্টার্কটিকা)।
H: উচ্চ পার্বত্য জলবায়ু (Highland) উচ্চতার কারণে জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তিত হয় (হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ)। উল্লম্ব জলবায়ু অঞ্চল।
বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন ও পশ্চিমবঙ্গের বিপন্নতা

জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত দহন ও বনভূমির ধ্বংসের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ($CO_2$ প্রাক-শিল্পযুগের ২৮০ পিপিএম থেকে বেড়ে ৪২০ পিপিএম ছাড়িয়েছে)। এর ফলে অতিরিক্ত দীর্ঘতরঙ্গ অবলোহিত তাপ বিকিরণ আটকে পড়ে ১৮৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.১°C বৃদ্ধি পেয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ওপর প্রত্যক্ষ মারাত্মক প্রভাব:

  • ১. সুন্দরবনের দ্বীপভূমির নিমজ্জন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বঙ্গোপসাগরের জলতল বার্ষিক প্রায় ৩.৭ মিমি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের ঘোড়ামারা, মৌসুনি ও সাগর দ্বীপের উপকূল ভাঙন তীব্র হয়েছে, ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে এবং কৃষিজমিতে নোনা জল ঢুকে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
  • ২. বঙ্গোপসাগরে সুপারসাইক্লোনের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি: সমুদ্রজলের উষ্ণতা ২৯°-৩০°C-এর বেশি হওয়ায় ঘনীভবনের অফুরন্ত লীনতাপ শক্তি নিয়ে ভয়াবহ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (আয়লা ২০০৯, আমফান ২০২০, ইয়াস ২০২১) আছড়ে পড়ছে এবং সুন্দরবনের মাটির বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে।
  • ৩. হিমালয়ের হিমবাহ ক্ষয় ও হড়পা বান: উত্তরবঙ্গ ও সিকিম হিমালয়ের হিমবাহ (যেমন তিস্তা নদীর উৎস জেমু হিমবাহ) দ্রুত পশ্চাদপসরণ করছে, ফলে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা (GLOF) এবং তিস্তা ও তোর্ষা নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

আপেক্ষিক আর্দ্রতার সূত্র
RH = (প্রকৃত জলীয় বাষ্প চাপ / সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প চাপ) * ১০০%
করিওলিস বলের সমীকরণ
$$F_c = 2 * Ω * v * sin(φ)$$
জিওস্ট্রফিক বায়ু ভারসাম্য
$$v_g = (1 / (2 * ρ * Ω * sin(φ))) * (ΔP / Δn)$$

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
বায়ুমণ্ডলের উল্লম্ব স্তরবিন্যাস আলোচনা করো। ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধমণ্ডল এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলা হয় কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণতা ও ভৌত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে প্রধানত পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়: ১. ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere): ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন ও ঘন স্তর (গড় উচ্চতা ১২ কিমি)। সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ৭৫% ভর এবং প্রায় ৯৯% জলীয় বাষ্প এই স্তরে থাকে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৫°C হারে তাপমাত্রা কমে (স্বাভাবিক ল্যাপস রেট)। সমস্ত প্রকার মেঘ, বৃষ্টিপাত, কুয়াশা, ঝড়ঝঞ্ঝা ও বজ্রপাত এই স্তরে ঘটে বলে একে 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' বলা হয়। ২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere): ট্রপোপজের ওপর ১২ থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর। এখানে জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা বা পরিচলন মেঘ না থাকায় আবহাওয়া সর্বদা শান্ত থাকে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে না; তাই একে 'শান্তমণ্ডল' বলে। শান্ত বায়ুমণ্ডলের জন্য দ্রুতগামী জেট বিমান এই স্তর দিয়ে চলাচল করে। এই স্তরের ১৫-৩৫ কিমির মধ্যে ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্যের মারাত্মক ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। ৩. মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere): ৫০ থেকে ৮০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর, যার মেসোপজে বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (-১০০°C) হয়। মহাকাশ থেকে আগত উল্কা এখানে পুড়ে ছাই হয়।
উদাহরণ 2
সৌর ধ্রুবক (Solar Constant) কাকে বলে? সূর্যরশ্মির আপতন কোণ কীভাবে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সূর্য থেকে গড় দূরত্বে বায়ুমণ্ডলের বহিঃসীমায় সূর্যরশ্মির সাথে লম্বভাবে অবস্থিত প্রতি বর্গ সেন্টিমিটার ক্ষেত্রফলে প্রতি মিনিটে যে পরিমাণ সৌরশক্তি এসে পৌঁছায়, তাকে সৌর ধ্রুবক বলে। এর মান প্রায় ১.৯৪ থেকে ২.০ ক্যালোরি/বর্গ সেমি/মিনিট (১৩৬১ ওয়াট/বর্গ মিটার)। সূর্যরশ্মির আপতন কোণ উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের প্রধান কারণ: ১. উত্তপ্ত অঞ্চলের বিস্তার: নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে (৯০° কোণে) পড়ে বলে কম স্থানে কেন্দ্রীভূত হয়ে প্রবল তাপ সৃষ্টি করে। মেরুর দিকে রশ্মি তির্যকভাবে পড়ায় একই পরিমাণ তাপ অনেক বড় জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তাপের তীব্রতা কমে যায়। ২. বায়ুমণ্ডলের পথ অতিক্রম: তির্যক রশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘতর পথ ভেদ করে আসতে হয়, যার ফলে ধূলিকণা ও গ্যাসে অধিক প্রতিফলন, শোষণ ও বিচ্ছুরণ ঘটে ভূপৃষ্ঠ কম উত্তপ্ত হয়।
উদাহরণ 3
পৃথিবীর তাপ বাজেট (Heat Budget) বলতে কী বোঝো? আগত ১০০ একক সৌর বিকিরণ কীভাবে শূন্যে প্রত্যাবর্তিত হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
পৃথিবী সূর্য থেকে যে পরিমাণ সৌরশক্তি গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক সমপরিমাণ তাপ মহাশূন্যে ফিরিয়ে দিয়ে সার্বিক গড় তাপমাত্রা স্থির রাখে, তাকে পৃথিবীর তাপ বাজেট বলে। আগত ১০০ একক সৌর বিকিরণের ভারসাম্য হিসাব: ১. অ্যালবেডো (৩৫ একক অপচয়): ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত না হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়—২৭ একক মেঘের দ্বারা প্রতিফলিত, ৬ একক বাতাসে বিচ্ছুরিত এবং ২ একক মাটি ও বরফ দ্বারা প্রতিফলিত। ২. কার্যকর শোষণ (৬৫ একক): বায়ুমণ্ডল সরাসরি শোষণ করে ১৪ একক এবং ভূপৃষ্ঠ শোষণ করে ৫১ একক (১৭ একক প্রত্যক্ষ সৌররশ্মি + ৩৪ একক বিচ্ছুরিত আলো)। ৩. পার্থিব বিকিরণের মাধ্যমে ৬৫ একক প্রত্যাবর্তন: • ভূপৃষ্ঠ তার ৫১ এককের মধ্যে ১৭ একক সরাসরি বায়ুমণ্ডলীয় জানলা দিয়ে মহাশূন্যে বিকিরণ করে। • বাকি ৩৪ একক বায়ুমণ্ডলে পাঠায় (৯ একক পরিচলন, ১৯ একক ঘনীভবনের লীনতাপ এবং ৬ একক বিকিরণ শোষণ)। • বায়ুমণ্ডল নিজের ১৪ একক এবং ভূপৃষ্ঠের ৪৮ একক মিলিয়ে মোট ৬২ একক মহাশূন্যে বিকিরণ করে দেয়। মোট প্রত্যাবর্তিত তাপ = ১৭ (ভূপৃষ্ঠ) + ৪৮ (বায়ুমণ্ডল) = ৬৫ একক। ফলে গৃহীত ৬৫ একক ও প্রত্যাবর্তিত ৬৫ একক সমান হয়ে নিখুঁত তাপসাম্য বজায় থাকে।
উদাহরণ 4
ফেরেলের সূত্রটি লেখো। আয়ন বায়ু এবং পশ্চিমা বায়ুর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
আমেরিকান আবহবিদ উইলিয়াম ফেরেল ১৮৫৫ সালে প্রমাণ করেন যে পৃথিবীর আবর্তনজনিত করিওলিস বলের প্রভাবে গতিশীল বায়ু ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটিই ফেরেলের সূত্র। আয়ন বায়ু ও পশ্চিমা বায়ুর পার্থক্য: ১. প্রবাহ অঞ্চল: আয়ন বায়ু উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (৩০°-৩৫°) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়; অন্যদিকে পশ্চিমা বায়ু উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের (৬০°-৬৫°) দিকে প্রবাহিত হয়। ২. গতি ও প্রকৃতি: আয়ন বায়ু তুলনামূলকভাবে শান্ত ও নিয়মিত গতিতে বয়ে চলে; কিন্তু পশ্চিমা বায়ু (বিশেষত দক্ষিণ গোলার্ধের উন্মুক্ত সমুদ্রে—গর্জনশীল চল্লিশা ও ক্রুদ্ধ পঞ্চাশায়) প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করে।
উদাহরণ 5
একটি আদর্শ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের গঠন চিত্রসহ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘূর্ণবাতের প্রভাব ভয়াবহ হয় কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত হলো উষ্ণ সমুদ্রে (উষ্ণতা > ২৭°C) উৎপন্ন একটি বিধ্বংসী চক্রাকার নিম্নচাপ ব্যবস্থা। এর প্রধান গঠনগত অংশসমূহ: ১. ঘূর্ণবাতের চক্ষু (Eye): ঘূর্ণবাতের একেবারে কেন্দ্রে ১০ থেকে ৩০ কিমি ব্যাসবিশিষ্ট শান্ত, বৃত্তাকার অঞ্চল যেখানে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ থাকে, বাতাস উপর থেকে নিচে নেমে আসে এবং আকাশ সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত ও বাতাস গতিহীন থাকে। ২. চক্ষু প্রাচীর (Eyewall): চক্ষুকে ঘিরে থাকা কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সুবিশাল বৃত্তাকার প্রাচীর। এটি ঘূর্ণবাতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অংশ, যেখানে প্রচণ্ড গতিবেগে (১৫০-২৫০ কিমি/ঘণ্টা) ঝড়ো বাতাস ঘোরে এবং মুষলধারে প্রবল বর্ষণ ও বজ্রপাত ঘটে। ৩. সর্পিল বৃষ্টি বলয় (Spiral Rainbands): চক্ষু প্রাচীর থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকা কুণ্ডলাকার মেঘের বলয় যা থেকে কয়েকশত কিমি পর্যন্ত দমকা ঝড়বৃষ্টি হয়। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ভয়াবহতার কারণ: ১. ফানেল আকৃতির বঙ্গোপসাগর: উত্তরের দিকে সংকীর্ণ হয়ে আসা বঙ্গোপসাগরের খাঁজ ঝড়ের জলরাশিকে আটকে রেখে বিশাল ৩ থেকে ৭ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) তৈরি করে। ২. সুন্দরবনের নিচু ভৌগোলিক অবস্থান: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় সুন্দরবন সমতল দ্বীপগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১-২ মিটার উঁচু, যা সহজেই নোনা জলে প্লাবিত হয়। ৩. মাটির ভঙ্গুর নদীবাঁধ: প্রবল ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসে কাঁচা মাটির বাঁধ ভেঙে নোনা জল কৃষি জমিতে প্রবেশ করে জনপদ ধ্বংস করে দেয় (যেমন আমফান ও ইয়াস)।
উদাহরণ 6
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি কী? তাঁর দ্বারা নির্ধারিত পাঁচটি প্রধান জলবায়ু গ্রুপের নাম লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ মূলত উদ্ভিজ্জ মণ্ডলের ওপর ভিত্তি করে মাসিক ও বার্ষিক গড় উষ্ণতা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি প্রায়োগিক পদ্ধতি। পাঁচটি প্রধান গ্রুপ হলো: ১. A গ্রুপ (ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু / Megathermal): শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১৮°C বা তার বেশি; চিরগ্রীষ্মকালীন অঞ্চল (Af, Am, Aw)। ২. B গ্রুপ (শুষ্ক জলবায়ু / Xerophytic): বৃষ্টিপাতের চেয়ে বাষ্পীভবন বেশি; মরুভূমি ও প্রান্তর (BW, BS)। ৩. C গ্রুপ (উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু / Mesothermal): শীতলতম মাসের উষ্ণতা -৩°C থেকে ১৮°C-এর মধ্যে (ভূমধ্যসাগরীয় Cs, চীন দেশীয় Cwa)। ৪. D গ্রুপ (শীতল তুষার অরণ্য জলবায়ু / Microthermal): শীতলতম মাসের উষ্ণতা -৩°C-এর কম (তৈগা Df)। ৫. E গ্রুপ (মেরু জলবায়ু / Hekistothermal): উষ্ণতম মাসের উষ্ণতাও ১০°C-এর নিচে; তুন্দ্রা (ET) ও চিরতুষার (EF)।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

স্বাভাবিক ল্যাপস রেট এবং রুদ্ধতাপীয় ল্যাপস রেটকে এক মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

গ্রিনহাউস প্রভাবকে সামগ্রিকভাবে কেবল ক্ষতিকর ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

সাইক্লোন এবং টর্নেডোকে একই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

আবহাওয়া, জলবায়ু ও বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস, তাপ বাজেট, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ বলয় এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের গঠন ১. বায়ুমণ্ডলের উল্লম্ব স্তরবিন্যাস (Thermal Structure) পৃথিবীর তাপ বাজেট (Heat Budget): ১০০ একক = ৩৫ একক অ্যালবেডো + ৬৫ একক শোষণ Ionosphere / Thermosphere [80 - 400 km] Aurora Borealis & Australis • D, E, F Kennelly-Heaviside Radio Layers +1500°C Mesopause Mesosphere [50 - 80 km] (মেসোস্ফিয়ার) Coldest Layer (-100°C) • Meteoroids Burn Up / Ablation • Noctilucent Clouds -100°C Stratopause Stratosphere [12 - 50 km] (শান্তমণ্ডল) Ozonosphere (15-35 km): Absorbs Lethal UV-B & UV-C 0°C Supersonic Jets Tropopause (-56°C) Troposphere [0 - 12 km] (ক্ষুব্ধমণ্ডল) 75% Mass • All Weather (Clouds, Rain, Storms) • Normal Lapse Rate 6.5°C/km +15°C EARTH'S HEAT BUDGET (100 SOLAR SHORTWAVE UNITS) 35 Units Lost (Albedo) • 27 from Clouds • 6 Scattered by Air • 2 Surface Reflection 14 Units Absorbed • Ozone absorption • Water vapor & dust • Clouds direct heat 51 Units Absorbed • 17 Direct Sun • 34 Diffuse Sky Reradiated = 65 Units ২. চাপ বলয় ও নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (Planetary Winds & Cells) হ্যাডলি সেল • ফেরেল সেল • পোলার সেল • জেট স্ট্রিম 90° N: North Polar High (উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয়) Polar Cell Polar Easterlies (মেরু পূর্বালী বায়ু) 60°-65° N: Sub-Polar Low (উপমেরু নিম্নচাপ বলয়) Polar Front / Jet South-Westerlies (দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু) • Ferrel Cell 30°-35° N: Sub-Tropical High (Horse Latitudes / অশ্ব অক্ষাংশ) Hadley Cell NE Trade Winds (উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু) 0°-5°: EQUATORIAL LOW (Doldrums / ITCZ নিরক্ষীয় শান্তবলয়) Thermal Low Southern Hemisphere: SE Trades • Roaring Forties (40°S) • Furious Fifties (50°S) Ferrel's Law: Winds deflect Right in North, Left in South (Coriolis Effect) TROPICAL CYCLONE ARCHITECTURE (ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের গঠন) EYE Calm EYEWALL • Ocean SST > 27°C • Latent heat engine • Bay of Bengal Surges • Clockwise in S / Anti in N কোপেন: A (ক্রান্তীয়), B (শুষ্ক), C (উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ), D (শীতল তুষার), E (মেরু) A: Tropical Humid (ক্রান্তীয়) Af (Rainforest), Am (Monsoon), Aw B: Dry Arid (শুষ্ক জলবায়ু) BWh (Desert), BSh (Steppe) C: Warm Temperate (উষ্ণ) Cs (Mediterranean), Cwa, Cfa D: Cold Snow Forest Df (Taiga / Boreal Coniferous) E: Polar Climate (মেরু) ET (Tundra), EF (Ice Cap)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. বায়ুমণ্ডল নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%), অক্সিজেন (২০.৯৫%), আর্গন (০.৯৩%), গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড (০.০৪%) ও জলীয় বাষ্প দ্বারা গঠিত।
মূল বিষয় 2
২. উল্লম্ব স্তরবিন্যাসে বায়ুমণ্ডল ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (ওজোন স্তরযুক্ত), মেসোস্ফিয়ার, আয়নোস্ফিয়ার এবং এক্সোস্ফিয়ারে বিভক্ত।
মূল বিষয় 3
৩. ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিক ল্যাপস রেট অনুযায়ী প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৫°C (১৬৫ মিটারে ১°C) হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়।
মূল বিষয় 4
৪. বায়ুমণ্ডলের বহিঃসীমায় প্রাপ্ত সৌরশক্তিকে সৌর ধ্রুবক বলে, যার গড় মান ১.৯৪ থেকে ২.০ ক্যালোরি/বর্গ সেমি/মিনিট (১৩৬১ ওয়াট/বর্গ মিটার)।
মূল বিষয় 5
৫. পৃথিবীর তাপ বাজেটে ১০০ একক আগত সৌর বিকিরণের মধ্যে ৩৫ একক অ্যালবেডো হিসেবে প্রতিফলিত হয় এবং ৬৫ একক শোষিত ও সমপরিমাণ বিকিরিত হয়ে তাপসমতা রক্ষা করে।
মূল বিষয় 6
৬. পৃথিবীতে সাতটি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় রয়েছে এবং হ্যাডলি, ফেরেল ও পোলার কোষীয় সঞ্চালনের মাধ্যমে বিশ্ব বায়বীয় সংবহন সম্পন্ন হয়।
মূল বিষয় 7
৭. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু) করিওলিস বলের দ্বারা ফেরেলের সূত্র মেনে উভয় গোলার্ধে যথাক্রমে ডান ও বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
মূল বিষয় 8
৮. ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারের দ্রুতগামী সর্পিল জেট স্ট্রিম বায়ুর প্রবাহ ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর সূচনা ও বিস্ফোরণকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
মূল বিষয় 9
৯. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত উষ্ণ সমুদ্রে (উষ্ণতা > ২৭°C) ঘনীভবনের লীনতাপে শক্তি লাভ করে গঠিত হয় এবং কেন্দ্রে মেঘহীন শান্ত চক্ষু ও চারপাশে বিধ্বংসী চক্ষু প্রাচীর থাকে।
মূল বিষয় 10
১০. ভ্লাদিমির কোপেন উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং উদ্ভিজ্জের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশ্ব জলবায়ুকে পাঁচটি প্রধান গ্রুপে (A, B, C, D, E) বিভক্ত করেন।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা বাড়ে কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কারণ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B ও UV-C) শোষণ করে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত করে।
2
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের ক্ষণস্থায়ী অবস্থা; আর জলবায়ু হলো কোনো বিস্তৃত অঞ্চলের অন্তত ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক গড় অবস্থা।
3
উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়কে 'অশ্ব অক্ষাংশ' কেন বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে ঘোড়া নিয়ে বাণিজ্যে যাওয়ার সময় এই শান্ত বাতাসহীন উচ্চচাপ বলয়ে জাহাজ আটকে পড়লে পানীয় জল বাঁচাতে ঘোড়াগুলোকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতো।
4
পাহাড়ি উপত্যকায় কীভাবে উষ্ণতার বৈপরীত্য ঘটে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: শীতের রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণে পাহাড়ের ঢালের ভারী ঠান্ডা বাতাস ক্যাটাবেটিক বায়ু রূপে উপত্যকার তলদেশে জমা হয়ে নীচের অংশ শীতল করে এবং উষ্ণ বাতাস ওপরে উঠে বৈপরীত্য ঘটায়।
5
স্থলভাগে প্রবেশ করলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ধ্বংস হয়ে যায় কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কারণ স্থলভাগে প্রবেশ করলেই সমুদ্রের জলীয় বাষ্প সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে ঘূর্ণবাতের মূল শক্তির উৎস ঘনীভবনের লীনতাপ নির্গমন বন্ধ হয়ে যায় এবং মাটির ঘর্ষণে শক্তি হারায়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Geography — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: শাস্ত্র রূপে ভূগোল অধ্যায় 2: পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায় 3: ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায় 4: আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায় 5: সমস্থিতি তত্ত্ব অধ্যায় 6: বারিমণ্ডল অধ্যায় 7: মানব ভূগোলের পরিধি ও বিষয়বস্তু অধ্যায় 8: অর্থনৈতিক ভূগোল অধ্যায় 9: Secondary Activities - Industry অধ্যায় 10: তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 11: চতুর্থ স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 12: পঞ্চম স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 13: এক নজরে ভারত অধ্যায় 14: ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায় 15: ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায় 16: ভারতের জলবায়ু অধ্যায় 17: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও অরণ্য অধ্যায় 18: ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।