Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Geography • অধ্যায় 2
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন

পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন একাদশ শ্রেণির প্রাকৃতিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত মৌলিক ও বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশক অধ্যায়। সৌরজগৎ তথা পৃথিবীর জন্মরহস্য উন্মোচনে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে ইমানুয়েল কান্টের বায়বীয় মতবাদ, পিয়ের-সাইমন লাপ্লাসের নীহারিকা মতবাদ এবং জেমস জিন্স ও হ্যারল্ড জেফ্রিসের জোয়ারীয় মতবাদ থেকে শুরু করে আধুনিক মহাজাগতিক বিগ ব্যাং তত্ত্ব পর্যন্ত বহু ধারণার বিকাশ ঘটেছে। ভূপৃষ্ঠের নিচে মানুষের প্রত্যক্ষ প্রবেশ অত্যন্ত সীমাবদ্ধ হওয়ায় পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা অনুধাবনের জন্য ভূকম্পীয় তরঙ্গের গতিপ্রকৃতিই প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। ভূমিকম্পের অনুদৈর্ঘ্য P-তরঙ্গ এবং তির্যক S-তরঙ্গের গতিবেগ ও ছায়াবলয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভূবিজ্ঞানীরা পৃথিবীকে সমকেন্দ্রিক স্তরে বিন্যস্ত করেছেন—মহাদেশীয় শিয়াল ও মহাসাগরীয় সিমা সমন্বিত ভূত্বক, নমনীয় অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার সমন্বিত গুরুমণ্ডল এবং তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও কঠিন নিফে দিয়ে গঠিত অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল, যা কনরাড, মোহো, রেপেত্তি, গুটেনবার্গ এবং লেহম্যান বিযুক্তি রেখা দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পৃথিবীর জন্ম ও ভূ-অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কিত সম্যক ধারণা আধুনিক ভূগতিবিদ্যা ও পাত সংস্থান তত্ত্বকে বোঝার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। গুরুমণ্ডলের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে চলমান পরিচলন স্রোতের কারণেই ভূত্বকের টেকটোনিক পাতগুলি সচল থাকে, যার ফলে মহাদেশীয় সঞ্চরণ, হিমালয়ের মতো নবীন ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি, ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের মতো ভয়াবহ ভূপ্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। এছাড়া তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে গলিত লোহা ও নিকেলের ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে ক্ষতিকর সৌরঝড় ও মহাজাগতিক তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে রক্ষা করে বায়ুমণ্ডল ও প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে খনিজ তেল, ভূ-তাপীয় শক্তি ও মূল্যবান ধাতুর অনুসন্ধান চালাতে অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রাচী...
2 ২. ভূ-তাত্ত্বিক সময়সারণী ও প্রধান...
3 ৩. ভূ-অভ্যন্তর জানার প্রত্যক্ষ ও পর...
4 ৪. ভূমিকম্প বিজ্ঞান (Seismology): ভ...
5 ৫. পৃথিবীর সমকেন্দ্রিক স্তরবিন্যাস:...
6 ৬. ভূ-অভ্যন্তরের বিযুক্তি রেখাসমূহ...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রাচীন ও আধুনিক মতবাদসমূহ

সৌরজগতের জন্মরহস্য: একতারকা, দ্বিতারকা ও আধুনিক বিশ্বতত্ত্ব

পৃথিবী ও সৌরজগতের সৃষ্টি কীভাবে হয়েছিল—এই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতির্বিদ ও গণিতজ্ঞগণ বিভিন্ন মতবাদ উপস্থাপন করেছেন, যা প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত:

ক. ইমানুয়েল কান্টের গ্যাসীয় বা বায়বীয় মতবাদ (Kant's Gaseous Hypothesis, ১৭৫৫)

ভিত্তি: নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট অনুমান করেন যে মহাশূন্যে আদিতে শীতল, স্থির ও কঠিন আদিম কণা (Primordial matter / Urstoff) বিক্ষিপ্ত ছিল। পারস্পরিক মহাকর্ষীয় আকর্ষণের ফলে কণাগুলি একে অপরের সাথে ধাক্কা খেতে শুরু করে। কান্টের মতে, এই সংঘর্ষের ফলে তাপ ও ঘূর্ণন গতির সৃষ্টি হয় এবং শীতল কণাগুলি একটি উত্তপ্ত, দ্রুত ঘূর্ণায়মান গ্যাসীয় নীহারিকায় রূপান্তরিত হয়, যা থেকে বলয় আকারে গ্রহসমূহ নির্গত হয়।

ত্রুটি: এই মতবাদ পদার্থবিজ্ঞানের কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি (Law of Conservation of Angular Momentum) লঙ্ঘন করে। স্থির কণার সংঘর্ষ থেকে কখনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘূর্ণন সৃষ্টি হতে পারে না।

খ. লাপ্লাসের নীহারিকা মতবাদ (Laplace's Nebular Hypothesis, ১৭৯৬)

মূল বক্তব্য: ফরাসি গণিতবিদ পিয়ের-সাইমন লাপ্লাস কান্টের ত্রুটি সংশোধন করে বলেন যে মহাকাশে আদি থেকেই একটি অতি উত্তপ্ত এবং ঘূর্ণায়মান আদিম গ্যাসীয় নীহারিকা বিদ্যমান ছিল। মহাশূন্যে বিকিরণের মাধ্যমে তাপ হারিয়ে নীহারিকাটি সংকুচিত হতে থাকে। কৌণিক ভরবেগের নিত্যতা অনুযায়ী ব্যাসার্ধ কমায় এর ঘূর্ণন গতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ঘূর্ণন বৃদ্ধির ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force) মধ্যাকর্ষণকে অতিক্রম করে যায় এবং পরপর কয়েকটি বৃত্তাকার গ্যাসীয় বলয় ছিটকে বেরিয়ে আসে। এই বলয়গুলি শীতল ও ঘনীভূত হয়ে একেকটি গ্রহে পরিণত হয় এবং কেন্দ্রীয় অবশিষ্ট অংশটি আজকের সূর্যে রূপ নেয়।

গ. জিন্স ও জেফ্রিসের জোয়ারীয় মতবাদ (Tidal Hypothesis, ১৯১৯/১৯২৯)

দ্বিতারকা মতবাদ: স্যার জেমস জিন্স ও হ্যারল্ড জেফ্রিস প্রস্তাব করেন যে আমাদের আদি সূর্যের নিকট দিয়ে মহাশূন্যে একটি বিশালাকার 'আগন্তুক নক্ষত্র' (Intruding Star) অগ্রসর হয়েছিল। সেই ভারী নক্ষত্রের প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় জোয়ারি টানে সূর্যের দেহ থেকে একটি বিশালাকার চুরুট বা মাকু আকৃতির (Spindle-shaped / Cigar-shaped) গ্যাসীয় শিখা (Filament) বেরিয়ে আসে। নক্ষত্রটি দূরে চলে গেলে এই শিখাটি সূর্যের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাকু আকৃতির শিখাটির মাঝের অংশ মোটা এবং দুই প্রান্ত সরু ছিল। তাই শিখাটি ঘনীভূত হয়ে বৃহস্পতি ও শনির মতো বিশালাকার কেন্দ্রীয় গ্রহ এবং বুধ, মঙ্গল, ইউরেনাস ও নেপচুনের মতো ক্ষুদ্রাকার প্রান্তীয় গ্রহের সৃষ্টি করেছে।

ঘ. আধুনিক তত্ত্ব: মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory)

বেলজিয়ান বিজ্ঞানী জর্জেস লেমেত্র (Georges Lemaître, ১৯২৭) এবং পরবর্তীতে এডউইন হাবল (Edwin Hubble, ১৯২৯)-এর পর্যবেক্ষণমূলক আবিষ্কার। প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর ও শক্তি একটি অসীম ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দুতে পুঞ্জীভূত ছিল। সেখানে এক প্রচণ্ড মহাবিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয়। প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে সৌর নীহারিকার সংকুচিত কুণ্ডলী থেকে আমাদের সূর্য ও পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।

২. ভূ-তাত্ত্বিক সময়সারণী ও প্রধান পর্বতায়ন যুগসমূহ

পৃথিবীর ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস ও পর্বত সৃষ্টির ধারা

পৃথিবীর ৪৬০ কোটি বছরের সুদীর্ঘ ভৌগোলিক ইতিহাসকে ভূ-তাত্ত্বিক সময়সারণী (Geological Time Scale)-র মাধ্যমে প্রধান চারটি মহাযুগ (Era), উপযুগ (Period) এবং যুগে (Epoch) ভাগ করা হয়:

মহাযুগ (Era) উপযুগ (Period) ও আনুমানিক কাল প্রধান ঘটনা ও জৈবিক বিবর্তন
প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান (Pre-Cambrian) ৪৬০ কোটি থেকে ৫৪ কোটি বছর পূর্ব পর্যন্ত (পৃথিবীর মোট বয়সের ৮৮%) পৃথিবীর শীতলীকরণ, প্রাচীনতম শিলা গঠন, এককোষী ব্যাকটেরিয়ার উৎপত্তি; লরেনশীয় বা চার্নিয়ান পর্বতায়ন।
প্যালিওজোয়িক (Paleozoic) ক্যাম্ব্রিয়ান, অর্ডোভিশিয়ান, সিলুরিয়ান, ডিভোনিয়ান, কার্বনিফেরাস, পারমিয়ান (৫৪ থেকে ২৫ কোটি বছর পূর্ব) সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী জীবের বিস্ফোরণ, উদ্ভিদের ডাঙ্গায় আগমন; মৎস্য যুগ (ডিভোনিয়ান); বিশাল কয়লা বনভূমি সৃষ্টি (কার্বনিফেরাস); ক্যালিডোনিয়ান ও হার্সিনিয়ান পর্বতায়ন।
মেসোজোয়িক (Mesozoic) ট্রায়াসিক, জুরাসিক, ক্রিটেসিয়াস (২৫ থেকে ৬.৬ কোটি বছর পূর্ব) সরীসৃপ ও ডাইনোসরের স্বর্ণযুগ; প্যানজিয়া মহাদেশের ভাঙন; ভারতের দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমি (ডেকান ট্র্যাপ) সৃষ্টি; উল্কাপাতে ডাইনোসর বিলুপ্তি।
সেনোজোয়িক (Cenozoic) টারশিয়ারি ও কোয়াটারনারি (৬.৬ কোটি বছর পূর্ব থেকে বর্তমান) স্তন্যপায়ী প্রাণীর যুগ; আলপাইন পর্বতায়ন (হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ, রকির উত্থান); হিমযুগ ও মানব সভ্যতার বিকাশ।
চারটি প্রধান পর্বতায়ন যুগ (Orogenies):
১. প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান পর্বতায়ন: প্রাচীনতম ক্ষয়প্রাপ্ত শিল্ড অঞ্চল (ভারতের আরাবল্লী পর্বত, কানাডিয়ান শিল্ড)।
২. ক্যালিডোনিয়ান পর্বতায়ন: স্কটল্যান্ডের উচ্চভূমি ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পর্বতমালা।
৩. হার্সিনিয়ান পর্বতায়ন: ইউরাল পর্বতমালা, তিয়েনশান, ভোজ ও ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত।
৪. আলপাইন পর্বতায়ন: বর্তমান পৃথিবীর তরুণ ভঙ্গিল পর্বত—হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ, রকি।

৩. ভূ-অভ্যন্তর জানার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎসসমূহ

গভীর ভূ-পদার্থবিদ্যা ও গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭১ কিলোমিটার। ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড উত্তাপ ও চাপের কারণে মানুষের পক্ষে সরাসরি গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করা অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণের ওপর নির্ভর করেন:

ক. প্রত্যক্ষ উৎস (Direct Sources)
  • গভীর খনি ও ড্রিলিং প্রকল্প: মানুষের খনন করা গভীরতম সোনার খনি দক্ষিণ আফ্রিকার পনেন ও তাওটোনা খনির গভীরতা প্রায় ৩.৯ থেকে ৪.০ কিমি। বিজ্ঞানীদের চালানো গভীরতম ড্রিলিং প্রকল্প রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের সুপারডিপ বোরহোল (Kola Superdeep Borehole), যার গভীরতা ১২,২৬২ মিটার (১২.২৬ কিমি)। ১৮০°C তাপমাত্রা ও নরম শিলাস্তরের কারণে এর নিচে খনন সম্ভব হয়নি, যা পৃথিবীর মোট ব্যাসার্ধের মাত্র ০.২%।
  • অগ্ন্যুৎপাতের ম্যাগমা ও জেনোলিথ: ভূপৃষ্ঠের নিচে প্রায় ১০০-২০০ কিমি গভীর থেকে উঠে আসা লাভা, ব্যাসল্ট ও ডায়মন্ডবাহী কিম্বারলাইট শিলা পরীক্ষা করে ম্যান্টলের খনিজ গঠন সরাসরি জানা যায়।
খ. পরোক্ষ উৎস (Indirect Sources)
  • উষ্ণতা বৃদ্ধির হার (Geothermal Gradient): উপরিভাগের ভূত্বকে প্রতি ৩২ মিটার গভীরে তাপমাত্রা গড়ে ১°C হারে বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৩০°C প্রতি কিমি)। তবে গভীর অভ্যন্তরে এই বৃদ্ধির হার হ্রাস পায়।
  • চাপ ও ঘনত্বের তারতম্য: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত গভীরে যাওয়া যায়, উপরিভাগের শিলার ওজনের কারণে চাপ বাড়তে থাকে। পৃথিবীর কেন্দ্রে চাপ প্রায় ৩৬ লক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। ভূত্বকীয় শিলার গড় ঘনত্ব ২.৭–৩.০ গ্রাম/ঘনসেমি হলেও সমগ্র পৃথিবীর গড় ঘনত্ব ৫.৫১৭ গ্রাম/ঘনসেমি। এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘনত্ব অতি উচ্চ (১০-১৩ গ্রাম/ঘনসেমি) এবং তা ভারী ধাতু দ্বারা গঠিত।
  • উল্কাপিণ্ড পরীক্ষা: মহাকাশ থেকে খসে পড়া উল্কাপিণ্ডগুলি সৌরজগতের একই আদি পদার্থ দিয়ে তৈরি। লোহা ও নিকেল সমৃদ্ধ উল্কার গঠন বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের ধাতব উপাদানের প্রমাণ পাওয়া যায়।
  • মহাকর্ষীয় অসঙ্গতি ও ভূ-চুম্বকত্ব: মহাকর্ষের মান ভূগর্ভের পদার্থের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রমাণ করে যে ভূ-অভ্যন্তরে একটি পরিবাহী তরল স্তরের অস্তিত্ব রয়েছে।

৪. ভূমিকম্প বিজ্ঞান (Seismology): ভূ-অভ্যন্তরের এক্স-রে

ভূমিকম্প তরঙ্গের আচরণ ও ছায়াবলয়ের রহস্য

ভূমিকম্প বিজ্ঞানের তরঙ্গ বিশ্লেষণই ভূ-অভ্যন্তরের স্তরবিন্যাস জানার সবচেয়ে নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:

ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ
  • দেহ তরঙ্গ (Body Waves): ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশের মধ্য দিয়ে সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
    • প্রাথমিক তরঙ্গ (P-তরঙ্গ / Primary Wave): অনুদৈর্ঘ্য বা সংকোচনশীল তরঙ্গ (কণাগুলি তরঙ্গের গতির সমান্তরালে কাঁপে)। সবচেয়ে দ্রুতগামী ($V_p pprox ৬ ext{ থেকে }১৩.৬ ext{ কিমি/সেকেন্ড}$)। এরা কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়—তিনটি মাধ্যমের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে পারে।
    • গৌণ তরঙ্গ (S-তরঙ্গ / Secondary Wave): তির্যক বা কৃন্তন তরঙ্গ (কণাগুলি তরঙ্গের গতির সাথে সমকোণে কাঁপে)। এদের বেগ কিছুটা কম ($V_s pprox ৩.৫ ext{ থেকে }৭.২ ext{ কিমি/সেকেন্ড}$)। এদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হলো—S-তরঙ্গ কেবল কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে; তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবলুপ্ত বা স্তব্ধ হয়ে যায়।
  • পৃষ্ঠ তরঙ্গ (Surface Waves / L-তরঙ্গ ও র্যালে তরঙ্গ): শুধুমাত্র ভূপৃষ্ঠের উপরিতল দিয়ে ধীরগতিতে গমন করে এবং বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতি চালায়।
ছায়াবলয় (Shadow Zones) ও তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের আবিষ্কার
তরঙ্গের ধরন ছায়াবলয়ের অবস্থান (উপকেন্দ্র থেকে কৌণিক দূরত্ব) বৈজ্ঞানিক কারণ ও ভূ-তাত্ত্বিক গুরুত্ব
P-তরঙ্গ ছায়াবলয় ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ১০৫° থেকে ১৪২° (বা ১৪৫°) পর্যন্ত। P-তরঙ্গ যখন গুরুমণ্ডল থেকে বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তরল মাধ্যমে এর বেগ আকস্মিকভাবে ১৩.৬ কিমি/সেকেন্ড থেকে ৮.১ কিমি/সেকেন্ডে নেমে যায়। ফলে তীব্র প্রতিসরণ (Refraction) ঘটে এবং ১০৫° থেকে ১৪২° অঞ্চলে সরাসরি কোনো P-তরঙ্গ পৌঁছাতে পারে না। ১৪২°-র পর প্রতিসরিত তরঙ্গ পুনরায় ধরা পড়ে।
S-তরঙ্গ ছায়াবলয় ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ১০৫° থেকে ১৮০° সমগ্র অঞ্চল। যেহেতু S-তরঙ্গ তরলে প্রবেশ করতে পারে না, তাই ২,৯০০ কিমি গভীরে গুটেনবার্গ সীমায় তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে পৌঁছে এই তরঙ্গ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। ১০৫° থেকে ১৮০° পর্যন্ত কোথাও S-তরঙ্গ ধরা না পড়ার ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে পৃথিবীর বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল সম্পূর্ণ তরল অবস্থায় রয়েছে।

৫. পৃথিবীর সমকেন্দ্রিক স্তরবিন্যাস: ভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল

রাসায়নিক ও যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রধান স্তরসমূহ

ভূবিজ্ঞানীরা রাসায়নিক গঠন ও ঘনত্বের তারতম্য অনুযায়ী পৃথিবীকে তিনটি প্রধান সমকেন্দ্রিক স্তরে ভাগ করেছেন:

১. ভূত্বক (Crust বা শিলামণ্ডল) [০ থেকে ৩০-৫০ কিমি]
  • পৃথিবীর মোট আয়তনের ১%-এরও কম এবং মোট ভরের মাত্র ০.৫% অধিকার করে আছে।
  • মহাদেশীয় ভূত্বক (শিয়াল / SIAL): সিলিকা ($SiO_2$) এবং অ্যালুমিনিয়াম ($Al_2O_3$) দ্বারা গঠিত হওয়ায় একে 'শিয়াল' বলা হয়। এটি মূলত অম্লধর্মী গ্র্যানাইট শিলায় গঠিত। গড় ঘনত্ব ২.৭ গ্রাম/ঘনসেমি। এর পুরুত্ব গড়ে ৩০-৫০ কিমি এবং হিমালয়ের মতো পর্বতের নিচে প্রায় ৭০-৭৫ কিমি।
  • মহাসাগরীয় ভূত্বক (সিমা / SIMA): সিলিকা ($SiO_2$) এবং ম্যাগনেসিয়াম ($MgO$) সমৃদ্ধ ভারী ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত। গড় ঘনত্ব ৩.০ গ্রাম/ঘনসেমি। এটি তুলনামূলক পাতলা, সমুদ্রের তলদেশে এর পুরুত্ব মাত্র ৫ থেকে ১০ কিমি।
২. গুরুমণ্ডল (Mantle বা মেসোস্ফিয়ার) [৫০ থেকে ২,৯০০ কিমি]
  • পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৮৩-৮৪% এবং মোট ভরের প্রায় ৬৭-৬৮% অধিকার করে আছে।
  • এটি প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ আল্ট্রামাফিক পেরিডোটাইট শিলা দ্বারা গঠিত। ঘনত্ব ৩.৩ থেকে ৫.৭ গ্রাম/ঘনসেমি।
  • অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere): ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের অন্তর্গত ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮০ থেকে ২০০ কিমি গভীরে অবস্থিত একটি আংশিক গলিত, নমনীয় ও সান্দ্র (Plastic) স্তর। এখানে ভূকম্পীয় তরঙ্গের গতি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় একে 'নিম্ন বেগ মণ্ডল' (Low Velocity Zone) বলে। এই স্তরের ওপরই কঠিন টেকটোনিক পাতগুলি ভেসে থাকে। অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের পরিচলন স্রোতই পাত সংস্থান এবং অগ্ন্যুৎপাতের লাভা সরবরাহের প্রধান উৎস।
  • ঐতিহাসিকভাবে গুরুমণ্ডলকে ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ ক্রোফেসিমা (Crofesima) এবং নিকেল, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ নিফেসিমা (Nifesima) স্তরে ভাগ করা হয়।
৩. কেন্দ্রমণ্ডল (Core বা সেন্ট্রোস্ফিয়ার / ব্যারিফিয়ার) [২,৯০০ থেকে ৬,৩৭১ কিমি]
  • পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ১৬% এবং ভরের প্রায় ৩২-৩৩%। এটি অত্যন্ত ঘন লোহা ও নিকেলের মিশ্রণ দ্বারা গঠিত হওয়ায় একে নিফে (NIFE) বলা হয়।
  • বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (Outer Core) [২,৯০০ থেকে ৫,১৫০ কিমি]: এটি সম্পূর্ণ গলিত বা তরল অবস্থায় রয়েছে। ঘনত্ব ৯.৯ থেকে ১২.২ গ্রাম/ঘনসেমি। তাপমাত্রা প্রায় ৪,০০০°C–৫,০০০°C। ঘূর্ণায়মান গলিত লোহার পরিচলন স্রোত জিওডায়নামো (Geodynamo) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর স্থায়ী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে।
  • অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল (Inner Core) [৫,১৫০ থেকে ৬,৩৭১ কিমি]: এটি কঠিন ধাতব স্ফটিকাকার অবস্থায় বিরাজমান। যদিও এখানকার তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার সমতুল্য (প্রায় ৫,০০০°C থেকে ৬,০০০°C), তবুও উপরিস্থিত সমস্ত স্তরের প্রচণ্ড lithostatic চাপ (প্রায় ৩৬ লক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ)-এর কারণে গলনাঙ্ক বৃদ্ধি পায় এবং এটি অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় আবদ্ধ থাকে। ঘনত্ব ১৩.০ থেকে ১৩.৬ গ্রাম/ঘনসেমি।

৬. ভূ-অভ্যন্তরের বিযুক্তি রেখাসমূহ (Seismic Discontinuities)

ঘনত্ব ও তরঙ্গের আকস্মিক পরিবর্তনের সীমানা নির্দেশক রেখাসমূহ

ভূ-অভ্যন্তরে যে সীমারেখা বরাবর শিলার ঘনত্ব, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বা তরঙ্গের গতিবেগের আকস্মিক উল্লম্ফন বা পতন ঘটে, তাকে বিযুক্তি রেখা (Discontinuity) বলা হয়:

বিযুক্তি রেখার নাম অবস্থান / পৃথকীকৃত স্তর গভীরতা আবিষ্কারক ও বৈশিষ্ট্য
১. কনরাড বিযুক্তি (Conrad Discontinuity) উপরি মহাদেশীয় ভূত্বক (শিয়াল) এবং নিম্ন মহাসাগরীয় ভূত্বক (সিমা)-র মাঝে। ১৫ থেকে ২০ কিমি ভিক্টর কনরাড (১৯২৫)। P-তরঙ্গের গতিবেগ ৬.০ থেকে বেড়ে ৬.৫ কিমি/সেকেন্ড হয়।
২. মোহো বা মোহোরোভিচিচ বিযুক্তি (Moho Discontinuity) সমগ্র ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের সংযোগস্থলে। ৩০ থেকে ৫০ কিমি (পর্বতে ৭০ কিমি, সমুদ্রে ৫ কিমি) আন্দ্রিয়া মোহোরোভিচিচ (১৯০৯)। P-তরঙ্গের বেগ ৬.৮ থেকে একলাফে বেড়ে ৮.১ কিমি/সেকেন্ডে পৌঁছায়।
৩. রেপেত্তি বিযুক্তি (Repetti Discontinuity) ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (ক্রোফেসিমা) এবং নিম্ন গুরুমণ্ডল (নিফেসিমা)-র মাঝে। ৭০০ থেকে ১,০০০ কিমি উইলিয়াম রেপেত্তি কর্তৃক আবিষ্কৃত ঘনত্ব বৃদ্ধির সন্ধিক্ষণ।
৪. গুটেনবার্গ বিযুক্তি (Gutenberg Discontinuity - CMB) কঠিন নিম্ন গুরুমণ্ডল এবং তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের সংযোগস্থলে। ২,৯০০ কিমি বেনো গুটেনবার্গ (১৯১৪)। এখানে S-তরঙ্গ সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে যায় এবং P-তরঙ্গের বেগ ১৩.৬ থেকে কমে ৮.১ কিমি/সেকেন্ডে নামে।
৫. লেহম্যান বিযুক্তি (Lehmann Discontinuity) তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল এবং কঠিন অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে। ৫,১৫০ কিমি ডেনিশ ভূকম্পবিদ ইঙ্গে লেহম্যান (১৯৩৬)। তরল থেকে কঠিনে প্রবেশের কারণে P-তরঙ্গের বেগ আবার বেড়ে ১১.২ কিমি/সেকেন্ড হয়।
মনে রাখার সহজ ছন্দ:
উপর থেকে নিচে ৫টি বিযুক্তি রেখা ক্রমানুসারে মনে রাখার কৌশল: কনরাড → মোহো → রেপেত্তি → গুটেনবার্গ → লেহম্যান (সংক্ষেপে: ক - মো - রে - গু - লে)।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

ভূ-অভ্যন্তরীণ উষ্ণতা বৃদ্ধি সমীকরণ
T_গভীরতা = T_পৃষ্ঠ + (গভীরতা মিটার / ৩২) °C
প্রাথমিক P-তরঙ্গের বেগ সমীকরণ
$$V_p = sqrt((K + (4/3)μ) / ρ)$$
গৌণ S-তরঙ্গের বেগ সমীকরণ
$$V_s = sqrt(μ / ρ)$$

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
১. লাপ্লাসের নীহারিকা মতবাদটি সংক্ষেপে আলোচনা করো। এই মতবাদের প্রধান বৈজ্ঞানিক ত্রুটিগুলি কী কী?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর: ফরাসি গণিতজ্ঞ পিয়ের-সাইমন লাপ্লাস ১৭৯৬ সালে তাঁর 'Exposition du Système du Monde' গ্রন্থে নীহারিকা মতবাদ উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, আদি মহাকাশে একটি বিশালাকার, উত্তপ্ত ও ঘূর্ণায়মান গ্যাসীয় নীহারিকা ছিল। শীতল মহাকাশে তাপ বিকিরণের ফলে নীহারিকাটি সংকুচিত হতে থাকে এবং কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি অনুযায়ী এর ঘূর্ণন গতি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বল মধ্যাকর্ষণকে ছাপিয়ে গেলে নীহারিকার নিরক্ষীয় অংশ থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক বৃত্তাকার গ্যাসীয় বলয় ছিটকে বের হয়ে আসে। এই বলয়গুলি শীতল ও ঘনীভূত হয়ে একেকটি গ্রহে রূপান্তরিত হয় এবং অবশিষ্ট অংশ সূর্য হিসেবে থাকে। প্রধান ত্রুটিসমূহ: ১. কৌণিক ভরবেগের বণ্টন: সৌরজগতের মোট ভরের ৯৯.৮% সূর্যের মধ্যে থাকলেও মোট কৌণিক ভরবেগের মাত্র ১.৫% সূর্যের রয়েছে, বাকি ৯৮.৫% গ্রহগুলির। লাপ্লাসের মতবাদ এই চরম অসামঞ্জস্যের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারে না। ২. বলয়ের ঘনীভবন: পদার্থবিজ্ঞানের গ্যাসীয় গতিতত্ত্ব অনুযায়ী গ্যাসীয় বলয় স্থানিক মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ার কথা, নিজে থেকে জমে একক গোলকাকার গ্রহ তৈরি হতে পারে না।
উদাহরণ 2
২. জিন্স ও জেফ্রিসের জোয়ারীয় মতবাদটি ব্যাখ্যা করো। এই মতবাদ কীভাবে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের আকারের তারতম্য ব্যাখ্যা করে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর: স্যার জেমস জিন্স (১৯১৯) এবং হ্যারল্ড জেফ্রিস (১৯২৯) জোয়ারীয় মতবাদ উপস্থাপন করেন। তাঁরা অনুমান করেন যে আদিম সূর্যের নিকটবর্তী হয়ে একটি বিশাল ভারী আগন্তুক নক্ষত্র ছুটে এসেছিল। নক্ষত্রটির শক্তিশালী জোয়ারীয় মহাকর্ষের কারণে সূর্যের গা থেকে একটি বিশাল জ্বলন্ত গ্যাসীয় শিখা বের হয়ে আসে। গ্রহসমূহের আকারের তারতম্যের ব্যাখ্যা: নক্ষত্রটি যখন সূর্যের সবচেয়ে কাছে এসেছিল তখন জোয়ার সবচেয়ে বেশি ছিল; ফলে নির্গত গ্যাসীয় ফিলামেন্টটি একটি চুরুট বা মাকুর আকার (Spindle-shaped) ধারণ করে, যার মাঝখানটি সবচেয়ে স্থূল এবং দুই প্রান্ত সরু ছিল। পরবর্তীতে আগন্তুক নক্ষত্রটি চলে গেলে এই মাকু আকৃতির গ্যাসীয় শিখাটি খণ্ড খণ্ড হয়ে ঘনীভূত হয়। এই কারণেই মধ্যবর্তী অংশের গ্রহগুলি (বৃহস্পতি ও শনি) বিশালাকার গ্যাসবহুল গ্রহ এবং দুই প্রান্তের গ্রহগুলি (বুধ, মঙ্গল ও ইউরেনাস, নেপচুন) আকারে ক্ষুদ্রতর হয়েছে।
উদাহরণ 3
৩. ভূমিকম্পের P ও S তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি আলোচনা করো। এই তরঙ্গগুলির আচরণ কীভাবে পৃথিবীর বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের তরল অবস্থা প্রমাণ করে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর: ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ (P-তরঙ্গ) হলো অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ যা কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ৬ থেকে ১৩.৬ কিমি/সেকেন্ড বেগে প্রবাহিত হতে পারে। গৌণ তরঙ্গ (S-তরঙ্গ) হলো তির্যক তরঙ্গ যার বেগ ৩.৫ থেকে ৭.২ কিমি/সেকেন্ড এবং এরা কেবলমাত্র কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে গমন করতে পারে; তরল মাধ্যমে কৃন্তন দৃঢ়তা (Shear modulus) শূন্য হওয়ায় S-তরঙ্গ তরলে বিলুপ্ত হয়ে যায়। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের তরল অবস্থার প্রমাণ: ১. S-তরঙ্গ ছায়াবলয়: ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ১০৫° দূরত্বের পর পৃথিবীর অপর প্রান্তে ১৮০° পর্যন্ত কোথাও কোনো সরাসরি S-তরঙ্গ রেকর্ড করা যায় না। ২,৯০০ কিমি গভীরে পৌঁছে S-তরঙ্গের এই আকস্মিক স্তব্ধতা প্রমাণ করে যে ম্যান্টলের নিচের বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল নিশ্চিতভাবে তরল গলিত অবস্থায় রয়েছে। ২. P-তরঙ্গ ছায়াবলয়: ২,৯০০ কিমি গভীরে P-তরঙ্গের বেগ ১৩.৬ কিমি/সেকেন্ড থেকে কমে ৮.১ কিমি/সেকেন্ডে নেমে আসে, যার ফলে তীব্র প্রতিসরণ ঘটে ১০৫° থেকে ১৪২° পর্যন্ত একটি ফাঁকা ছায়াবলয় তৈরি হয়।
উদাহরণ 4
৪. মহাদেশীয় ভূত্বক (শিয়াল) এবং মহাসাগরীয় ভূত্বকের (সিমা) তুলনামূলক আলোচনা করো। এদের মাঝে কোন বিযুক্তি রেখা অবস্থিত?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

উত্তর: ভূত্বকের দুটি স্তরের প্রধান বৈসাদৃশ্যগুলি হলো: ১. মহাদেশীয় ভূত্বক (শিয়াল / SIAL):

  • খনিজ উপাদান: সিলিকা ($SiO_2$) এবং অ্যালুমিনিয়াম ($Al_2O_3$) দ্বারা গঠিত গ্র্যানাইট শিলার প্রাধান্য।
  • ঘনত্ব: তুলনামূলক হালকা, গড় ঘনত্ব প্রায় ২.৭ গ্রাম/ঘনসেমি।
  • গভীরতা: বেশ পুরু, সমভূমিতে গড়ে ৩০-৫০ কিমি এবং হিমালয় বা আল্পসের মতো ভঙ্গিল পর্বতের নিচে প্রায় ৭০-৭৫ কিমি। ২. মহাসাগরীয় ভূত্বক (সিমা / SIMA):
  • খনিজ উপাদান: সিলিকা ($SiO_2$) এবং ম্যাগনেসিয়াম ($MgO$) দ্বারা গঠিত ভারী ব্যাসল্ট শিলার প্রাধান্য।
  • ঘনত্ব: বেশি ভারী, গড় ঘনত্ব প্রায় ৩.০ গ্রাম/ঘনসেমি।
  • গভীরতা: খুবই পাতলা, মহাসাগরের তলদেশে এর গভীরতা মাত্র ৫ থেকে ১০ কিমি। বিযুক্তি রেখা: উপরিভাগের শিয়াল এবং নিম্নভাগের সিমার সংযোগস্থলে ১৫ থেকে ২০ কিমি গভীরে 'কনরাড বিযুক্তি রেখা' (Conrad Discontinuity) অবস্থিত।
উদাহরণ 5
৫. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার কী? পাত সঞ্চালন এবং অগ্ন্যুৎপাতে এর ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর: গ্রিক শব্দ 'Asthenes' (যার অর্থ দুর্বল) থেকে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার কথাটি এসেছে। এটি ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের অন্তর্গত ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮০ থেকে ২০০ কিমি (সর্বোচ্চ ৪০০ কিমি) গভীরে অবস্থিত একটি আংশিক গলিত, নমনীয় ও সান্দ্র (Plastic) অঞ্চল। আংশিক গলনের কারণে এখানে ভূমিকম্প তরঙ্গের বেগ সামান্য কমে যায় বলে একে 'নিম্ন বেগ মণ্ডল' (Low Velocity Zone বা LVZ)-ও বলা হয়। ভূ-তাত্ত্বিক ভূমিকা: ১. পাত সঞ্চালন: ভূত্বক ও শক্ত ঊর্ধ্ব ম্যান্টল দ্বারা গঠিত শিলামণ্ডলের টেকটোনিক পাতগুলি তুলনামূলকভাবে ভারী ও শক্ত, যা সান্দ্র অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান অবস্থায় থাকে। ভূগর্ভস্থ তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয়ে সৃষ্ট পরিচলন স্রোত অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে পাতগুলিকে সঞ্চালিত করে। ২. অগ্ন্যুৎপাতের উৎস: এটিই ভূপৃষ্ঠের সমস্ত আগ্নেয়গিরির ব্যাসল্ট জাতীয় ক্ষারীয় ম্যাগমার প্রধান উৎস ভাণ্ডার।
উদাহরণ 6
৬. ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত ক্রমানুসারে পাঁচটি বিযুক্তি রেখার নাম, গভীরতা ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের পাঁচটি প্রধান বিযুক্তি রেখা হলো: ১. কনরাড বিযুক্তি (Conrad): গভীরতা ১৫-২০ কিমি; মহাদেশীয় ভূত্বক (শিয়াল) ও মহাসাগরীয় ভূত্বক (সিমা)-কে পৃথক করেছে। (আবিষ্কারক: ভিক্টর কনরাড, ১৯২৫)। ২. মোহোরোভিচিচ বা মোহো বিযুক্তি (Moho): গড় গভীরতা ৩০-৫০ কিমি (পর্বতে ৭০ কিমি); সমগ্র ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের সীমানা। এখানে P-তরঙ্গের বেগ ৬.৮ থেকে বেড়ে ৮.১ কিমি/সেকেন্ড হয়। (আবিষ্কারক: আন্দ্রিয়া মোহোরোভিচিচ, ১৯০৯)। ৩. রেপেত্তি বিযুক্তি (Repetti): গভীরতা প্রায় ৭০০-১,০০০ কিমি; ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (ক্রোফেসিমা) এবং নিম্ন গুরুমণ্ডল (নিফেসিমা)-র সংযোগস্থল। (আবিষ্কারক: উইলিয়াম রেপেত্তি)। ৪. গুটেনবার্গ বিযুক্তি (Gutenberg / CMB): গভীরতা ঠিক ২,৯০০ কিমি; কঠিন নিম্ন গুরুমণ্ডল ও তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের সীমানা। এখানে S-তরঙ্গ বিলুপ্ত হয়। (আবিষ্কারক: বেনো গুটেনবার্গ, ১৯১৪)। ৫. লেহম্যান বিযুক্তি (Lehmann): গভীরতা প্রায় ৫,১৫০ কিমি; তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও কঠিন অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের সীমানা। (আবিষ্কারক: ইঙ্গে লেহম্যান, ১৯৩৬)।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

পুরো গুরুমণ্ডলই তরল ফুটন্ত ম্যাগমা দ্বারা পূর্ণ বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

গুটেনবার্গ বিযুক্তি এবং মোহো বিযুক্তিকে গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

উত্তাপ বেশি হওয়ায় অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলও তরল বলে ভুল ভাবা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন ভূ-অভ্যন্তরীণ স্তরবিন্যাস, বিযুক্তি রেখাসমূহ ও ভূমিকম্প তরঙ্গ ছায়াবলয় ১. ভূত্বক (Crust) [০-৫০ কিমি] শিয়ালে (SIAL) মহাদেশীয় • সিমা (SIMA) মহাসাগরীয় ★ কনরাড বিযুক্তি (Conrad Discontinuity) • মোহো বিযুক্তি (Mohorovicic - Moho) ★ ২. গুরুমণ্ডল (Mantle) [৫০-২৯০০ কিমি] অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (৮০-২০০ কিমি) • মেসোস্ফিয়ার ★ রেপেত্তি বিযুক্তি (Repetti Discontinuity) ★ ▲ গুটেনবার্গ বিযুক্তি (Gutenberg Discontinuity - CMB) (2,900 km) ▲ ৩. বহিঃ-কেন্দ্রমণ্ডল (Outer Core) [২৯০০-৫১৫০ কিমি] তরল নিফে (NIFE) • ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র (Geodynamo) ★ লেহম্যান বিযুক্তি (Lehmann Discontinuity) (5,150 km) ★ ৪. অন্তঃ-কেন্দ্রমণ্ডল (Inner Core) [৫১৫০-৬৩৭১ কিমি] কঠিন নিফে (NIFE) • ৩৬ লক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ • ৬০০০°C উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদসমূহ • কান্টের গ্যাসীয় মতবাদ (১৭৫৫) • লাপ্লাসের নীহারিকা মতবাদ (১৭৯৬) • জিন্স-জেফ্রিসের জোয়ারীয় মতবাদ (১৯১৯) • আধুনিক বিগ ব্যাং তত্ত্ব (লেমেত্র ও হাবল) ভূমিকম্প তরঙ্গ ও ছায়াবলয় • P-তরঙ্গ: অনুদৈর্ঘ্য, কঠিন-তরল-গ্যাস সর্বত্র গমনশীল • S-তরঙ্গ: তির্যক, কেবল কঠিনে গমনশীল (তরলে স্তব্ধ) • P-তরঙ্গ ছায়াবলয়: ১০৫° থেকে ১৪২° • S-তরঙ্গ ছায়াবলয়: ১০৫° থেকে ১৮০° (বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল তরল) WBCHSE Class 11 Physical Geography • Seismological & Planetary Physics Knowledge Architecture

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
১. পৃথিবীর উৎপত্তির প্রাচীন মতবাদগুলিকে একতারকা (কান্ট ও লাপ্লাস), দ্বিতারকা (জিন্স-জেফ্রিস) এবং আধুনিক মহাবিশ্বতত্ত্বে (বিগ ব্যাং) ভাগ করা যায়।
মূল বিষয় 2
২. কান্টের বায়বীয় মতবাদ (১৭৫৫) স্থির আদিম কণার সংঘর্ষ থেকে ঘূর্ণন সৃষ্টির দাবি করায় কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘিত হয়।
মূল বিষয় 3
৩. লাপ্লাসের নীহারিকা মতবাদ (১৭৯৬) শীতল ও সংকুচিত ঘূর্ণায়মান আদি নীহারিকা থেকে ক্রমান্বয়ে বলয় বিচ্ছেদের মাধ্যমে গ্রহ সৃষ্টির কথা বলে।
মূল বিষয় 4
৪. জিন্স ও জেফ্রিসের জোয়ারীয় মতবাদ (১৯১৯) আগন্তুক নক্ষত্রের টানে নির্গত মাকু আকৃতির গ্যাসীয় শিখা দিয়ে বৃহদাকার ও ক্ষুদ্রাকার গ্রহের বণ্টন ব্যাখ্যা করে।
মূল বিষয় 5
৫. পৃথিবীর ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান, প্যালিওজোয়িক, মেসোজোয়িক এবং সেনোজোয়িক মহাযুগে বিভক্ত এবং চারটি প্রধান পর্বতায়ন সাক্ষী।
মূল বিষয় 6
৬. কোলা বোরহোল (১২.২৬ কিমি) সরাসরি নমুনা দিলেও, প্রতি ৩২ মিটারে ১°C উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং ভূকম্পীয় তরঙ্গই ভূ-অভ্যন্তর জানার প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস।
মূল বিষয় 7
৭. P-তরঙ্গ কঠিন-তরল-গ্যাস সর্বত্র গমনশীল, কিন্তু S-তরঙ্গ তরলে স্তব্ধ হওয়ায় ২,৯০০ কিমি গভীরের বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের তরল অবস্থা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
মূল বিষয় 8
৮. উপকেন্দ্র থেকে P-তরঙ্গ ছায়াবলয় ১০৫° থেকে ১৪২° (প্রতিসরণ) এবং S-তরঙ্গ ছায়াবলয় ১০৫° থেকে ১৮০° পর্যন্ত বিস্তৃত।
মূল বিষয় 9
৯. পৃথিবী তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত: ভূত্বক (শিয়াল ও সিমা), গুরুমণ্ডল (নমনীয় অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারসহ) এবং কেন্দ্রমণ্ডল (তরল বহিঃ ও কঠিন অন্তঃ নিফে)।
মূল বিষয় 10
১০. ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত পাঁচটি বিযুক্তি রেখা হলো—কনরাড, মোহো, রেপেত্তি, গুটেনবার্গ (২,৯০০ কিমি) এবং লেহম্যান (৫,১৫০ কিমি)।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
কান্টের বায়বীয় মতবাদের মূল বৈজ্ঞানিক ত্রুটি কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কান্ট দাবি করেছিলেন যে স্থির কণার পারস্পরিক আকর্ষণে সংঘর্ষ ঘটে ঘূর্ণন গতি সৃষ্টি হয়েছে, যা পদার্থবিজ্ঞানের কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি অনুযায়ী অসম্ভব।
2
তাপমাত্রা ৫,০০০°C থেকে ৬,০০০°C হওয়া সত্ত্বেও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল কেন কঠিন অবস্থায় থাকে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উপরিস্থিত সমস্ত শিলাস্তরের প্রায় ৩৬ লক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় প্রচণ্ড lithostatic চাপের কারণে লোহা ও নিকেলের গলনাঙ্ক অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, ফলে তা কঠিন স্ফটিক আকারে থাকে।
3
ভূত্বকের উষ্ণতা বৃদ্ধির গড় হার (Geothermal Gradient) কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ভূত্বকের উপরিভাগে প্রতি ৩২ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ১°C হারে বৃদ্ধি পায় (প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩০°C)।
4
উপকেন্দ্র থেকে কত ডিগ্রি কৌণিক দূরত্বে P-তরঙ্গ ছায়াবলয় তৈরি হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উপকেন্দ্র থেকে ১০৫° থেকে ১৪২° (বা ১৪৫°) কোণের মধ্যে P-তরঙ্গ ছায়াবলয় অবস্থান করে, কারণ তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে প্রবেশের সময় তরঙ্গের তীব্র প্রতিসরণ ঘটে।
5
কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান 'নিফে' (NIFE) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: NIFE হলো নিকেল (Ni) এবং লোহা বা ফেরাম (Fe)-এর সংকর, যা দিয়ে পৃথিবীর অত্যন্ত ঘন ধাতব কেন্দ্রমণ্ডল গঠিত।
6
ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের প্রধান চারটি পর্বতায়ন যুগের নাম লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: চারটি পর্বতায়ন যুগ হলো: (১) প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান পর্বতায়ন, (২) ক্যালিডোনিয়ান পর্বতায়ন, (৩) হার্সিনিয়ান পর্বতায়ন, এবং (৪) আলপাইন পর্বতায়ন।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Geography — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: শাস্ত্র রূপে ভূগোল অধ্যায় 2: পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায় 3: ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায় 4: আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায় 5: সমস্থিতি তত্ত্ব অধ্যায় 6: বারিমণ্ডল অধ্যায় 7: মানব ভূগোলের পরিধি ও বিষয়বস্তু অধ্যায় 8: অর্থনৈতিক ভূগোল অধ্যায় 9: Secondary Activities - Industry অধ্যায় 10: তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 11: চতুর্থ স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 12: পঞ্চম স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 13: এক নজরে ভারত অধ্যায় 14: ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায় 15: ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায় 16: ভারতের জলবায়ু অধ্যায় 17: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও অরণ্য অধ্যায় 18: ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।