ভারতের বর্তমান ভূপ্রকৃতি কোটি কোটি বছরের ভূ-অভ্যন্তরীণ টেকটনিক আলোড়ন এবং বহির্জাত ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের সামগ্রিক ফসল। শিলাগঠন, বয়স ও ভূ-গাঠনিক স্থিতিশীলতার বিচারে ভারতকে তিনটি প্রধান ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়:
উপদ্বীপীয় ভারত হলো প্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বিশ্বের প্রাচীনতম ভূত্বকীয় খণ্ডগুলির (Craton) অন্যতম:
- আর্কিয়ান যুগের শিলা: প্রধানত প্রাচীন আর্কিয়ান নাইস, গ্রানাইট এবং রূপান্তরিত ধারওয়ার শিলা দ্বারা গঠিত (বয়স ২৫০ থেকে ৩৫০ কোটি বছর)।
- ভূ-গাঠনিক স্থায়িত্ব: ক্যাম্ব্রিয়ান যুগের পর থেকে এটি মূলত দৃঢ় ও স্থিতিশীল ভূখণ্ড হিসেবে বিরাজ করছে। কোনো ব্যাপক অনুভূমিক ভাঁজ আলোড়ন এখানে ঘটেনি; কেবল উল্লম্ব মহীভাবক আলোড়নের ফলে ফাটল ও চ্যুতি উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে (যেমন নর্মদা, তাপ্তি ও দামোদর নদীর গ্রস্ত উপত্যকা)।
- দাক্ষিণাত্যের ট্র্যাপ (Deccan Traps): মেসোজোয়িক যুগের শেষভাগে (ক্রিটেশিয়াস যুগ) ভূত্বকের ফাটল দিয়ে নিঃসারী ক্ষারীয় ব্যাসাল্ট লাভা উদগিরণ হয়ে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গ কিমি অঞ্চল লাভা মালভূমিতে পরিণত হয়। এই লাভা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উর্বর কালো বা রেগুর মৃত্তিকা তৈরি করেছে।
- বিচ্ছিন্ন অংশ: মেঘালয় (শিলং) মালভূমি ও কার্বি আংলং এবং রাজস্থান এই প্রাচীন উপদ্বীপীয় ব্লকেরই অংশ, যা মালদা গ্যাপ বা গারো-রাজমহল চ্যুতি দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
উপদ্বীপের সম্পূর্ণ বিপরীতে হিমালয় একটি নবীন, নমনীয় এবং ভূ-গাঠনিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ভঙ্গিল পর্বতমালা:
- টেথিস সাগরের পাললিক সঞ্চয়: টারশিয়ারি যুগে প্রায় ৫-৬ কোটি বছর আগে ভারতীয় পাত এবং ইউরেশীয় পাতের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে মধ্যবর্তী প্রাচীন টেথিস ভূ-সমেত সাগরের পাললিক শিলা সংকুচিত ও উত্থিত হয়ে হিমালয় সৃষ্টি হয়।
- সক্রিয় ভূকম্পনশীলতা: তীব্র ভাঁজ, শায়িত ভাঁজ, চ্যুতি এবং ন্যাপ (Nappe) গঠনের আধিক্য রয়েছে। পাত সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত থাকায় হিমালয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অঞ্চলটি তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ।
উত্থিত হিমালয় এবং দক্ষিণস্থ প্রাচীন উপদ্বীপীয় শিল্ডের মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটি গভীর ভূ-অভিনত বা অবনমিত খাত (Foredeep Depression) সৃষ্টি হয়েছিল। প্লাইস্টোসিন ও সাম্প্রতিক হোলোসিন উপযুগে হিমালয় ও উপদ্বীপ থেকে প্রবাহিত নদনদীগুলি বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চয় করে ১,০০০ থেকে ২,০০০ মিটার গভীর এই সুবিশাল সমভূমি গড়ে তুলেছে।