Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Geography • অধ্যায় 14
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি

ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ভূপ্রাকৃতিক রূপরেখা প্রায় তিনশত কোটি বছরের গতিশীল ভূ-তাত্ত্বিক বিবর্তন ও বিভিন্ন টেকটনিক প্রক্রিয়ার অপূর্ব সমন্বয়। শিলা গঠন, ভূ-গাঠনিক স্থিতিশীলতা এবং ভূতাত্ত্বিক যুগের ওপর ভিত্তি করে ভারতকে তিনটি প্রধান ভূতাত্ত্বিক বিভাগে বিভক্ত করা হয়: প্রাচীন ও অতি স্থিতিশীল উপদ্বীপীয় শিল্ড (যা প্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আর্কিয়ান নাইস ও গ্রানাইট দ্বারা গঠিত), নবীন টারশিয়ারি ভঙ্গিল হিমালয় পর্বতমালা ও সংলগ্ন শৈলশ্রেণী (যা ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে টেথিস সাগরের পাললিক শিলাস্তর উত্থিত হয়ে গঠিত) এবং মধ্যবর্তী সুবিশাল ইন্দো-গাঙ্গেয়-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি অববাহিকা (যা হিমালয়ের উত্থানের ফলে সৃষ্ট এক সুবিশাল অবনমিত খাত বা ফোরডিপে নদীর পলি সঞ্চিত হয়ে গঠিত)। ভূ-সংস্থান ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের নিরিখে ভারতকে পাঁচটি প্রধান প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়: উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল (হিমাদ্রি, হিমাচল ও শিবালিক সমন্বিত হিমালয়), উত্তর ভারতের সুবিশাল সমভূমি (ভাবর, তরাই, ভাঙ্গর ও খাদার সমন্বিত), উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল (মধ্য ভারতের উচ্চভূমি, ছোটনাগপুর মালভূমি, দাক্ষিণাত্যের ব্যাসাল্ট লাভা গঠিত ডেকান ট্র্যাপ, এবং পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা), উপকূলীয় সমভূমি (পশ্চিমের সংকীর্ণ নিমজ্জিত কয়ালযুক্ত উপকূল ও পূর্বের প্রশস্ত ব-দ্বীপযুক্ত উপকূল) এবং ভারতের দ্বীপপুঞ্জ (আগ্নেয় আন্দামান-নিকোবর এবং প্রবাল গঠিত লাক্ষাদ্বীপ)। পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতিতে এই বৈচিত্র্য উত্তরবঙ্গের সিঙ্গালেলা শৈলশিরার সান্দাকফু (৩,৬৩৬ মিটার) শৃঙ্গ থেকে শুরু করে পশ্চিমের লাল মাটির রাঢ় মালভূমি প্রান্ত এবং দক্ষিণে সুন্দরবনের সক্রিয় লবণাক্ত ম্যানগ্রোভ ব-দ্বীপ পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ভূপ্রকৃতির পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বণ্টন, জলবায়ুর আচরণ, কৃষিজ উৎপাদন এবং ভূ-গাঠনিক বিপদসমূহ অনুধাবনের প্রধান ভিত্তি। উত্তরের সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা ভারতকে মধ্য এশিয়ার তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে বাধা দিয়ে সারা দেশে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটায়। সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমির উর্বর পলিমাটি কোটি কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে উপদ্বীপীয় মালভূমি ও ছোটনাগপুরের প্রাচীন আর্কিয়ান শিলাস্তর কয়লা, আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানিজ ও তামার প্রধান খনির ভাণ্ডার। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি আরও নিবিড়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পশ্চিমবঙ্গেই উত্তরবঙ্গের হিমালয়ের হিমশীতল পরিবেশ, চা চাষের আদর্শ পাহাড়ি ঢাল, তিস্তা নদীর সংকীর্ণ গিরিখাত, পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়ার প্রাচীন ক্ষয়প্রাপ্ত অযোধ্যা ও সুশুনিয়া পাহাড় এবং দক্ষিণের বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল সুন্দরবনের ভূ-প্রাকৃতিক বিন্যাসকে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ১. ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং তিনটি...
2 ২. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল: হিমালয়ে...
3 ৩. উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল: ভূ-প্...
4 ৪. উপদ্বীপীয় মালভূমি: মধ্য ভারতের...
5 ৫. উপকূলীয় সমভূমি, থর মরুভূমি এবং...
6 ৬. পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি: উত্তরের...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

১. ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং তিনটি প্রধান ভূ-গাঠনিক বিভাগ

ভারতের ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন ও গঠনগত ভিত্তি

ভারতের বর্তমান ভূপ্রকৃতি কোটি কোটি বছরের ভূ-অভ্যন্তরীণ টেকটনিক আলোড়ন এবং বহির্জাত ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের সামগ্রিক ফসল। শিলাগঠন, বয়স ও ভূ-গাঠনিক স্থিতিশীলতার বিচারে ভারতকে তিনটি প্রধান ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়:

১. উপদ্বীপীয় শিল্ড বা ভূখণ্ড (The Peninsular Block):

উপদ্বীপীয় ভারত হলো প্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বিশ্বের প্রাচীনতম ভূত্বকীয় খণ্ডগুলির (Craton) অন্যতম:

  • আর্কিয়ান যুগের শিলা: প্রধানত প্রাচীন আর্কিয়ান নাইস, গ্রানাইট এবং রূপান্তরিত ধারওয়ার শিলা দ্বারা গঠিত (বয়স ২৫০ থেকে ৩৫০ কোটি বছর)।
  • ভূ-গাঠনিক স্থায়িত্ব: ক্যাম্ব্রিয়ান যুগের পর থেকে এটি মূলত দৃঢ় ও স্থিতিশীল ভূখণ্ড হিসেবে বিরাজ করছে। কোনো ব্যাপক অনুভূমিক ভাঁজ আলোড়ন এখানে ঘটেনি; কেবল উল্লম্ব মহীভাবক আলোড়নের ফলে ফাটল ও চ্যুতি উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে (যেমন নর্মদা, তাপ্তি ও দামোদর নদীর গ্রস্ত উপত্যকা)।
  • দাক্ষিণাত্যের ট্র্যাপ (Deccan Traps): মেসোজোয়িক যুগের শেষভাগে (ক্রিটেশিয়াস যুগ) ভূত্বকের ফাটল দিয়ে নিঃসারী ক্ষারীয় ব্যাসাল্ট লাভা উদগিরণ হয়ে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গ কিমি অঞ্চল লাভা মালভূমিতে পরিণত হয়। এই লাভা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উর্বর কালো বা রেগুর মৃত্তিকা তৈরি করেছে।
  • বিচ্ছিন্ন অংশ: মেঘালয় (শিলং) মালভূমি ও কার্বি আংলং এবং রাজস্থান এই প্রাচীন উপদ্বীপীয় ব্লকেরই অংশ, যা মালদা গ্যাপ বা গারো-রাজমহল চ্যুতি দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
২. হিমালয় ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল (The Extra-Peninsular Region):

উপদ্বীপের সম্পূর্ণ বিপরীতে হিমালয় একটি নবীন, নমনীয় এবং ভূ-গাঠনিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ভঙ্গিল পর্বতমালা:

  • টেথিস সাগরের পাললিক সঞ্চয়: টারশিয়ারি যুগে প্রায় ৫-৬ কোটি বছর আগে ভারতীয় পাত এবং ইউরেশীয় পাতের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে মধ্যবর্তী প্রাচীন টেথিস ভূ-সমেত সাগরের পাললিক শিলা সংকুচিত ও উত্থিত হয়ে হিমালয় সৃষ্টি হয়।
  • সক্রিয় ভূকম্পনশীলতা: তীব্র ভাঁজ, শায়িত ভাঁজ, চ্যুতি এবং ন্যাপ (Nappe) গঠনের আধিক্য রয়েছে। পাত সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত থাকায় হিমালয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অঞ্চলটি তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ।
৩. সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি (The Indo-Gangetic Foredeep):

উত্থিত হিমালয় এবং দক্ষিণস্থ প্রাচীন উপদ্বীপীয় শিল্ডের মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটি গভীর ভূ-অভিনত বা অবনমিত খাত (Foredeep Depression) সৃষ্টি হয়েছিল। প্লাইস্টোসিন ও সাম্প্রতিক হোলোসিন উপযুগে হিমালয় ও উপদ্বীপ থেকে প্রবাহিত নদনদীগুলি বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চয় করে ১,০০০ থেকে ২,০০০ মিটার গভীর এই সুবিশাল সমভূমি গড়ে তুলেছে।

২. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল: হিমালয়ের অনুদৈর্ঘ্য ও আঞ্চলিক শ্রেণিবিভাগ

হিমালয় পর্বত প্রাচীরের বিস্তার ও গঠন

উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা পশ্চিমে জম্মু ও কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত (৮,১২৬ মি) থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারওয়া (৭,৭৮২ মি) পর্যন্ত প্রায় ২,৪০০ কিমি দীর্ঘ ধনুকাকার বা উত্তল আকারে বিস্তৃত। এর প্রস্থ কাশ্মীরে প্রায় ৪০০ কিমি এবং অরুণাচল প্রদেশে প্রায় ১৫০ কিমি।

হিমালয়ের চারটি প্রধান অনুদৈর্ঘ্য পর্বতশ্রেণী (উত্তর থেকে দক্ষিণ)
পর্বতশ্রেণী গড় উচ্চতা ভূতাত্ত্বিক ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রধান শৃঙ্গ ও গিরিপথ
১. ট্রান্স বা তিব্বতীয় হিমালয় ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ মি হিমাদ্রির উত্তরে অবস্থিত; প্রাচীন টেথিসের জীবাশ্মযুক্ত শিলায় গঠিত; কারাকোরাম, লাদাখ ও জাস্কর পর্বতশ্রেণী। কে-২ বা গডউইন অস্টিন (৮,৬১১ মি - পৃথিবীর ২য় উচ্চতম শৃঙ্গ); সিয়াচেন হিমবাহ (৭৬ কিমি)।
২. উচ্চ বা অভ্যন্তরস্থ হিমালয় (হিমাদ্রি) গড় উচ্চতা ৬,১০০ মি সর্বাধিক উচ্চ, তুষারাবৃত ও অবিচ্ছিন্ন পর্বতপ্রাচীর; কেন্দ্রীয় অংশ আর্কিয়ান গ্রানাইট ও রূপান্তরিত শিলায় গঠিত। মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি), কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মি), নন্দাদেবী; জোজি লা, শিপকি লা, নাথু লা গিরিপথ।
৩. মধ্য বা নিম্ন হিমালয় (হিমাচল) ৩,৭০০ থেকে ৪,৫০০ মি খাড়া ও বন্ধুর শৈলশ্রেণী এবং মনোরম অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকা; পীরপাঞ্জাল (দীর্ঘতম শ্রেণী), ধৌলাধর, নাগটিব্বা ও মহাভারত লেখ। বিখ্যাত শৈলশহর: সিমলা, মুসৌরি, নৈনিতাল, দার্জিলিং; কাশ্মীর উপত্যকা ও কাংড়া উপত্যকা।
৪. বহিঃহিমালয় বা উপহিমালয় (শিবালিক) ৯০০ থেকে ১,১০০ মি সর্বকনিষ্ঠ পর্বতমালার পাদদেশীয় অংশ; শিথিল টারশিয়ারি যুগের বালুকাপাথর, নুড়ি ও কাদার স্তর দ্বারা গঠিত। চ্যাপ্টা তলদেশযুক্ত অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকা: পশ্চিমে দুন (দেরাদুন, কোটলিদুন) এবং পূর্বে দুয়ার (জলপাইগুড়ি/আসাম)।
পূর্বাচল বা পূর্বের পাহাড়সমূহ (Purvanchal)

অরুণাচল প্রদেশের দিহাং গিরিখাতের পর হিমালয় হঠাৎ দক্ষিণমুখী তীব্র বাঁক নিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে পূর্বাচল নামে পরিচিত হয়েছে: পাটকই বুম, নাগা পাহাড় (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সারামতি, ৩,৮২৬ মি), মণিপুর পাহাড় এবং মিজো পাহাড় (নীল পর্বত বা ব্লু মাউন্টেন, ২,১৫৭ মি)।

৩. উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল: ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ ও বৈশিষ্ট্য

সমভূমির বিস্তার ও উৎপত্তি

সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থার দীর্ঘকালীন পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত এই সমভূমি পশ্চিমে সিন্ধু ব-দ্বীপ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৩,২০০ কিমি দীর্ঘ এবং ১৫০ থেকে ৩০০ কিমি চওড়া। এটি প্রায় ৭.৮ লক্ষ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃষিভিত্তিক সমভূমি।

উত্তর থেকে দক্ষিণে সমভূমির রূপতাত্ত্বিক বিভাগ
  • ১. ভাবর (Bhabar):
    শিবালিক পর্বতের পাদদেশে সংলগ্ন ৮ থেকে ১০ কিমি প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ ভূ-ভাগ। তীব্র স্রোতে নেমে আসা নদীগুলি এখানে স্থূল নুড়ি, পাথর ও বোল্ডার সঞ্চয় করে। এই শিলাস্তরের প্রবেশ্যতা অত্যধিক বেশি হওয়ায় ছোট ছোট পাহাড়ি নদীগুলি ভূগর্ভে অদৃশ্য হয়ে যায়।
  • 2. তরাই (Tarai):
    ভাবর অঞ্চলের দক্ষিণে অবস্থিত ১০ থেকে ২০ কিমি প্রশস্ত একটি সমতল ভূমি। ভাবরে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নদীগুলি এখানে পুনরায় ভূ-পৃষ্ঠে আবির্ভূত হয়। ফলে অঞ্চলটি স্যাঁতসেঁতে, জলমগ্ন, কর্দমাক্ত ও ঘন অরণ্যে আবৃত হয়ে থাকে। পূর্বে ম্যালেরিয়াপ্রবণ থাকলেও বর্তমানে বনভূমি কেটে চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
  • ৩. ভাঙ্গর (Bhangar):
    নদীর সাধারণ বন্যা প্লাবিত সমভূমির ঊর্ধ্বে অবস্থিত প্রাচীন পলিমাটি গঠিত উচ্চতর নদীমঞ্চ বা ভূখণ্ড। এই মাটিতে চুনযুক্ত ক্যালসিয়াম কার্বনেটের জমাট বাঁধা কাঁকর বা কঙ্কর (Kankar) দেখা যায়।
  • ৪. খাদার (Khadar):
    নদীর প্লাবনভূমিতে প্রতি বছর বর্ষার বন্যায় সঞ্চিত নবীন উর্বর পলিস্তরযুক্ত নিম্নাঞ্চল। এটি অত্যন্ত উর্বর, সূক্ষ্ম কাদা ও বালুকা মিশ্রিত এবং নিবিড় কৃষিকাজের জন্য আদর্শ; পাঞ্জাবে একে স্থানীয়ভাবে বেট (Bet) বলা হয়।
উত্তর ভারতের সমভূমির আঞ্চলিক ভাগ
  1. পাঞ্জাব-হরিয়ানা সমভূমি: সিন্ধুর পাঁচ উপনদীর মধ্যবর্তী উর্বর দোয়াব (Doab) অঞ্চল (বাড়ি দোয়াব, রেচনা দোয়াব প্রভৃতি)।
  2. গঙ্গা সমভূমি: সবচেয়ে বৃহৎ অংশ (~৩.৭৫ লক্ষ বর্গ কিমি); উচ্চ গঙ্গা সমভূমি, মধ্য গঙ্গা সমভূমি এবং নিম্ন গঙ্গা সমভূমি (পশ্চিমবঙ্গ ও সুন্দরবন ব-দ্বীপ)।
  3. ব্রহ্মপুত্র সমভূমি (আসাম উপত্যকা): হিমালয় ও মেঘালয় মালভূমির মাঝে অবস্থিত সংকীর্ণ নদী সমভূমি; বিনুনি রূপ জলনির্গম প্রণালী এবং বিশ্বের বৃহত্তম নদীদ্বীপ মাজুলি (Majuli) এখানে অবস্থিত।

৪. উপদ্বীপীয় মালভূমি: মধ্য ভারতের উচ্চভূমি, ডেকান ট্র্যাপ এবং ঘাট পর্বতমালা

উপদ্বীপীয় মালভূমির ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

গড়ে ৬০০ থেকে ৯০০ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন উপদ্বীপীয় মালভূমি হলো একটি সুবিশাল প্রাচীন ত্রিভুজাকার ভূখণ্ড। এর উত্তর-পশ্চিমে আরাবল্লী, উত্তর-পূর্বে রাজমহল পাহাড়, পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা অবস্থিত।

মালভূমির প্রধান উপবিভাগসমূহ
  • মধ্য ভারতের উচ্চভূমি (The Central Highlands):
    • মালব মালভূমি: লাভা গঠিত মৃদু তরঙ্গায়িত মালভূমি, যা চম্বল ও সিন্ধ নদীর খাঁদ (Ravines) দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত।
    • বুন্দেলখণ্ড ও বাঘেলখণ্ড: গ্রানাইট ও নাইস শিলায় গঠিত প্রাচীন বন্ধুর উচ্চভূমি।
    • ছোটনাগপুর মালভূমি: ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত ভারতের খনিজ ভাণ্ডার (কয়লা, লোহা, অভ্র)। দামোদর নদী এই মালভূমির ওপর দিয়ে চ্যুতি উপত্যকায় প্রবাহিত; সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পরেশনাথ পাহাড় (১,৩৬৫ মি)।
  • দাক্ষিণাত্যের মালভূমি (Deccan Plateau):
    • মহারাষ্ট্রের ডেকান ট্র্যাপ: ক্রিটেশিয়াস যুগে নিঃসারী ব্যাসাল্ট লাভা দিয়ে গঠিত ধাপযুক্ত সিড়ির মতো মালভূমি; উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুরের প্রধান ক্ষেত্র।
    • কর্ণাটক মালভূমি: দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: পশ্চিমের উঁচু ঢেউখেলানো পাহাড় ও অরণ্যযুক্ত অংশ হলো মালনাদ (Malnad) এবং পূর্বে অবস্থিত সমতল বা মৃদু তরঙ্গায়িত শুষ্ক নিম্নভূমি হলো ময়দান (Maidan)। বাবা বুদান পাহাড়ের মুল্লায়ানগিরি (১,৯৩০ মি) এর সর্বোচ্চ অংশ।
    • তেলেঙ্গানা মালভূমি: আর্কিয়ান শিলায় গঠিত প্রাচীন ক্ষয়প্রাপ্ত সমপ্রায় ভূমি।
পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালার তুলনামূলক আলোচনা
তুলনামূলক মানদণ্ড পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (সহ্যাদ্রি) পূর্বঘাট পর্বতমালা (মলয়াদ্রি)
ধারাবাহিকতা অবিচ্ছিন্ন ও খাড়া ঢালযুক্ত প্রাচীর; কেবল কয়েকটি গিরিপথ দিয়ে যাতায়াত সম্ভব। বিচ্ছিন্ন ও অত্যন্ত ভগ্ন; পূর্ববাহিনী নদীগুলি (মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা) দ্বারা দ্বিখণ্ডিত।
গড় উচ্চতা অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি: ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মিটার। অপেক্ষাকৃত কম: প্রায় ৬০০ মিটার।
সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আনাইমুদি (২,৬৯৫ মি) (আন্নামালাই পাহাড়, দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ); দোদাবেত্তা (২,৬৩৭ মি, নীলগিরি)। আরমাকোন্ডা বা জিন্দাগাড়া (১,৬৯০ মি) (অন্ধ্রপ্রদেশ); মহেন্দ্রগিরি (১,৫০১ মি, ওড়িশা)।
প্রধান গিরিপথ থলঘাট (মুম্বই-নাসিক), ভোরঘাট (মুম্বই-পুনে), পালঘাট (কেরালা-তামিলনাড়ু)। নদী উপত্যকা দ্বারা বিভক্ত হওয়ায় কোনো প্রধান অবিচ্ছিন্ন গিরিপথ নেই।
সংযোগস্থল পশ্চিমঘাট এবং পূর্বঘাট পর্বতমালা দক্ষিণে নীলগিরি পাহাড়ে মিলিত হয়েছে।

৫. উপকূলীয় সমভূমি, থর মরুভূমি এবং ভারতের দ্বীপপুঞ্জ

ভারতের উপকূলীয় সমভূমি

উপদ্বীপীয় মালভূমির দুই প্রান্তে অবস্থিত উপকূলভূমি দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক চরিত্রে বিভক্ত:

  • পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি (নিমজ্জিত উপকূল):
    পশ্চিমঘাট ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ (১০ থেকে ৫০ কিমি) ভূভাগ। তীব্র সমুদ্র তরঙ্গ ও খাড়া ঢালের জন্য এখানে ব-দ্বীপ গঠিত হয়নি, নদীগুলি মোহনায় খাঁড়ি (Estuary) তৈরি করেছে:
    • কচ্ছ ও কাথিয়াওয়াড় উপকূল: লবণাক্ত কচ্ছের রণ ও গির পাহাড়।
    • কোঙ্কণ উপকূল: মহারাষ্ট্র ও গোয়ার বন্ধুর পাথুরে উপকূল।
    • কন্নড় উপকূল: কর্ণাটকের উপকূলভাগ।
    • মালাবার উপকূল: কেরালার বালুকাময় সৈকত ও অগভীর লবণাক্ত উপহ্রদ বা কয়াল (Kayal) (যেমন ভেম্বানাদ হ্রদ এবং অষ্টমুদি হ্রদ)।
  • পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি (উত্থিত উপকূল):
    পূর্বঘাট ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী ৮০ থেকে ১৫০ কিমি প্রশস্ত পলিগঠিত সমভূমি। মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদী এখানে সুবিশাল উর্বর ব-দ্বীপ গঠন করেছে। এর দুটি অংশ: উত্তরে উত্তর সরকার উপকূল এবং দক্ষিণে করমণ্ডল উপকূল। প্রধান উপহ্রদ: ওড়িশার চিল্কা হ্রদ (ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন) ও পুলিকট হ্রদ।
ভারতের মরু অঞ্চল (থর মরুভূমি / মরুস্থলী)

আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে রাজস্থান ও গুজরাটে বিস্তৃত শুষ্ক মরুভূমি:

  • মরু ভূরূপ: চলমান অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি বা বারখান (Barchan) এবং অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি (সিফ)।
  • অন্তর্বাহিনী নদী ও প্লায়া: একমাত্র প্রধান ক্ষণস্থায়ী নদী হলো লুনী, যা কচ্ছের রণে পতিত হয়েছে। লবণাক্ত প্লায়া হ্রদকে ধান্দ (Dhand) বলে (যেমন সম্বর হ্রদ)।
ভারতের প্রধান দ্বীপপুঞ্জসমূহ
দ্বীপপুঞ্জ ভূতাত্ত্বিক উৎপত্তি প্রধান দ্বীপ ও বৈশিষ্ট্য প্রধান চ্যানেল ও প্রণালী
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (বঙ্গোপসাগর) টারশিয়ারি আরাকান ইয়োমা পর্বতের নিমজ্জিত শিখর; আগ্নেয় উদ্ভব। প্রায় ৫৭২টি দ্বীপ; ব্যারেন দ্বীপ (দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি); নারকোন্ডাম (সুপ্ত আগ্নেয়গিরি); স্যাডেল পিক (৭৩২ মি)। ১০° চ্যানেল লিটল আন্দামান ও কার নিকোবরকে পৃথক করেছে; ডানকান প্যাসেজ।
লাক্ষাদ্বীপ (আরব সাগর) সম্পূর্ণভাবে প্রবাল কীট নির্মিত প্রবাল প্রাচীর ও অ্যাটল (Atoll)। ৩৬টি ক্ষুদ্র দ্বীপ (আয়তন ৩২ বর্গ কিমি); কাভারাত্তি প্রশাসনিক রাজধানী; মিনিকয় বৃহত্তম ও দক্ষিণতম দ্বীপ। ৮° চ্যানেল মিনিকয়কে মালদ্বীপ থেকে এবং ৯° চ্যানেল মিনিকয়কে মূল দ্বীপপুঞ্জ থেকে পৃথক করেছে।

৬. পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি: উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, পশ্চিমের মালভূমি এবং সমভূমি

পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রাকৃতিক ত্রিধার রূপরেখা

পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। রাজ্যটিকে প্রধান তিনটি প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়:

১. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল (দার্জিলিং হিমালয়)

দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলা নিয়ে গঠিত পূর্ব হিমালয়ের অংশ। গভীর তিস্তা গিরিখাত দ্বারা এটি দুটি ভাগে বিভক্ত:

  • তিস্তার পশ্চিম ভাগ: এখানে সিঙ্গালেলা শৈলশিরা ও দার্জিলিং শৈলশিরা অবস্থিত:
    • সান্দাকফু (৩,৬৩৬ মি): পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, যেখান থেকে মাউন্ট এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্ঘার অপার্থিব দৃশ্য দেখা যায়।
    • ফালুট (৩,৬০০ মি): নেপাল, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মিলন বিন্দুতে অবস্থিত শৈলশৃঙ্গ।
    • সবরগ্রাম (৩,৫৪৩ মি) এবং টংলু (৩,০৩৬ মি)।
    • টাইগার হিল (২,৫৭৩ মি) এবং ভারতের উচ্চতম রেলওয়ে স্টেশন ঘুম (২,২৫৮ মি)।
  • তিস্তার পূর্ব ভাগ: কালিম্পং শৈলশিরা (দুরপিনদাঁড়া, দেওলো পাহাড় - ১,৭০৪ মি) এবং আলিপুরদুয়ারের বক্সা-জয়ন্তী পাহাড়।
২. পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল

ছোটনাগপুর মালভূমির পূর্বদিকের মৃদু ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ পুরুলিয়া জেলা এবং বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমের পশ্চিমাংশে বিস্তৃত:

  • ক্ষয়জাত মোনাডনক ও অবশিষ্ট পাহাড়:
    • অযোধ্যা পাহাড় (পুরুলিয়া): সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গোরগাবুরু (৬৭৭ মি), যা পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিন্দু।
    • পাঞ্চেত পাহাড় ও বাঘমুন্ডি পাহাড় (পুরুলিয়া)।
    • বিহারীনাথ (৪৫২ মি) এবং সুশুনিয়া (৪৪২ মি) পাহাড় (বাঁকুড়া জেলা)।
    • মামা-ভাগ্নে পাহাড় (বীরভূম জেলা)।
৩. সমভূমি অঞ্চল

পশ্চিমবঙ্গের ৮০% এলাকা সমভূমির অন্তর্গত, যা পাঁচটি ভাগে বিভক্ত:

  1. তরাই ও ডুয়ার্স সমভূমি: তিস্তা, তোর্ষা ও জলঢাকা বাহিত নুড়ি-পলি গঠিত ডুয়ার্স অঞ্চল (চা বাগিচার জন্য বিখ্যাত)।
  2. উত্তরবঙ্গের সমভূমি: প্রাচীন পলিগঠিত মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি (Barind) এবং নদী উপত্যকার দিয়ার ও তাল অঞ্চল।
  3. রাঢ় সমভূমি (Rarh Plain): মালভূমির পূর্বে অবস্থিত ল্যাটেরাইট মিশ্রিত লাল মাটির মৃদু ঢেউখেলানো ভূমি (বীরভূম, বর্ধমান, মেদিনীপুর)।
  4. উপকূলীয় বালিয়াড়ি সমভূমি: পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা ও কাঁথি সংলগ্ন সামুদ্রিক বালিয়াড়ি অঞ্চল।
  5. ব-দ্বীপ সমভূমি: মৃতপ্রায় ব-দ্বীপ (নদিয়া/মুর্শিদাবাদ), পরিণত ব-দ্বীপ এবং সক্রিয় ব-দ্বীপ (দক্ষিণের সুন্দরবন, যা জোয়ার-ভাটা প্লাবিত লবণাক্ত ম্যানগ্রোভ অরণ্যে আবৃত)।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

ট্রান্স হিমালয় (কে-২, ৮,৬১১ মি) > হিমাদ্রি (এভারেস্ট, ৮,৮৪৮.৮৬ মি) > হিমাচল (৩,৭০০-৪,৫০০ মি) > শিবালিক (৯০০-১,১০০ মি)
শিবালিক পাদদেশ → ভাবর (৮-১০ কিমি) → তরাই (১০-২০ কিমি) → ভাঙ্গর (উচ্চভূমি) → খাদার (প্লাবনভূমি)
এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি) > কে-২ (৮,৬১১ মি) > কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মি) • সান্দাকফু (পশ্চিমবঙ্গ, ৩,৬৩৬ মি) • আনাইমুদি (দক্ষিণ ভারত, ২,৬৯৫ মি)

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ভূতাত্ত্বিক গঠনের ভিত্তিতে ভারতের উপদ্বীপীয় শিল্ড এবং হিমালয় পর্বতমালার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর:
তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য উপদ্বীপীয় শিল্ড (Peninsular Shield) হিমালয় পর্বতমালা (Himalayas)
উৎপত্তি ও বয়স প্রাচীন প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান শিলা দ্বারা গঠিত গন্ডোয়ানা ভূখণ্ডের অংশ (বয়স ২৫০-৩৫০ কোটি বছর)। নবীন টারশিয়ারি যুগে পাত সংঘাতের ফলে সৃষ্টি (বয়স প্রায় ৫-৬ কোটি বছর)।
ভূ-গাঠনিক স্থায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ় ও স্থিতিশীল; প্রধানত উল্লম্ব চ্যুতি ও গ্রস্ত উপত্যকা (নর্মদা) সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত নমনীয় ও অস্থিতিশীল; তীব্র ভাঁজ ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
শিলা গঠন আর্কিয়ান যুগের গ্রানাইট, নাইস ও ক্রিটেশিয়াস ব্যাসাল্ট লাভা শিলা (ডেকান ট্র্যাপ)। টেথিস সাগরের পাললিক শিলাস্তর ও কেন্দ্রীয় গ্রানাইট দ্বারা গঠিত।
উদাহরণ 2
উত্তর ভারতের সমভূমির ভাবর, তরাই, ভাঙ্গর ও খাদার অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর:
  • ভাবর: শিবালিকের পাদদেশে ৮-১০ কিমি চওড়া নুড়ি-পাথরের প্রবেশ্য অঞ্চল; এখানে পাহাড়ি নদনদী ভূগর্ভে অদৃশ্য হয়ে যায়।
  • তরাই: ভাবরের দক্ষিণে ১০-২০ কিমি প্রশস্ত আর্দ্র ও জলাভূমিময় অঞ্চল; এখানে নদীগুলি পুনরায় ভূ-পৃষ্ঠে আবির্ভূত হয়ে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করে।
  • ভাঙ্গর: বন্যার সীমার ঊর্ধ্বে অবস্থিত প্রাচীন পলিমাটি গঠিত অনুর্বর নদীমঞ্চ; এখানে চুনযুক্ত কঙ্কর (Kankar) দেখা যায়।
  • খাদার: নদী তীরবর্তী নিম্ন প্লাবনভূমিতে প্রতি বছর বন্যায় গঠিত অত্যন্ত উর্বর নবীন পলিমাটি অঞ্চল; কৃষিকাজের জন্য সর্বাধিক উপযোগী।
উদাহরণ 3
ধারাবাহিকতা, গড় উচ্চতা এবং নদী ব্যবস্থার ভিত্তিতে পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালার তুলনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর:
১. ধারাবাহিকতা:
পশ্চিমঘাট (সহ্যাদ্রি) একটি অবিচ্ছিন্ন খাড়া শৈলপ্রাচীর, যা কেবল থলঘাট, ভোরঘাট বা পালঘাটের মতো গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করা যায়। পূর্বঘাট অত্যন্ত ভগ্ন এবং পূর্ববাহিনী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন।

২. গড় উচ্চতা:
পশ্চিমঘাটের গড় উচ্চতা অনেক বেশি (১,০০০-১,৫০০ মি; সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আনাইমুদি, ২,৬৯৫ মি)। পূর্বঘাট অপেক্ষাকৃত নিচু (গড় ৬০০ মি; সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আরমাকোন্ডা, ১,৬৯০ মি)।

৩. নদী ব্যবস্থার প্রভাব:
পশ্চিমঘাট প্রধান জলবিভাজিকা হিসেবে কাজ করে; যেখান থেকে গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী উৎপন্ন হয়ে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং পূর্বঘাটকে গভীরভাবে ক্ষয় করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
উদাহরণ 4
পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য নির্দেশ করো। 'কয়াল' কী এবং এর গুরুত্ব লেখো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর:
১. উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য:
• পশ্চিম উপকূল: সংকীর্ণ (১০-৫০ কিমি), নিমজ্জিত উপকূল; তীব্র স্রোতের কারণে মোহনায় ব-দ্বীপ নেই, খাঁড়ি গড়ে উঠেছে।
• পূর্ব উপকূল: প্রশস্ত (৮০-১৫০ কিমি), উত্থিত উপকূল; বৃহৎ নদীগুলির (মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী) উর্বর ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।

2. কয়াল (Kayal):
কেরালার মালাবার উপকূলে বালিয়াড়ি দ্বারা অবরুদ্ধ অগভীর লবণাক্ত উপহ্রদ বা ব্যাকওয়াটার্সকে স্থানীয় ভাষায় 'কয়াল' বলে (যেমন ভেম্বানাদ হ্রদ)।
গুরুত্ব: কয়ালগুলি অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন, মৎস্য শিকার, নারিকেল ছোবড়া প্রক্রিয়াকরণ এবং বিখ্যাত নৌকাবাইচ (বল্লমকালী) পর্যটনের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
উদাহরণ 5
সান্দাকফু ও সিঙ্গালেলা শৈলশিরার উল্লেখসহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর:
১. অবস্থান ও সীমানা:
দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা নিয়ে গঠিত পূর্ব হিমালয়ের এই অঞ্চলটি গভীর তিস্তা গিরিখাত দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিম ভাগে বিভক্ত।

২. সিঙ্গালেলা শৈলশিরা ও সান্দাকফু:
• তিস্তার পশ্চিমে নেপাল সীমান্ত বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে সিঙ্গালেলা শৈলশিরা প্রসারিত।
• এই শৈলশিরার সর্বোচ্চ অংশ সান্দাকফু (৩,৬৩৬ মি), যা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এখান থেকে বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ হলো ফালুট (৩,৬০০ মি), সবরগ্রাম ও টংলু। সংলগ্ন দার্জিলিং শৈলশিরায় টাইগার হিল (২,৫৭৩ মি) এবং ঘুম (২,২৫৮ মি - ভারতের উচ্চতম স্টেশন) অবস্থিত।
উদাহরণ 6
দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমি বা ডেকান ট্র্যাপের উৎপত্তি, ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
উত্তর:
১. ভূতাত্ত্বিক উৎপত্তি:
মেসোজোয়িক যুগের ক্রিটেশিয়াস উপযুগে (প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে) ভূত্বকের ফাটল দিয়ে নিঃসারী লাভা নির্গত হয়ে মহারাষ্ট্র ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে ডেকান ট্র্যাপ সৃষ্টি করে।

২. ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:
• ব্যাসাল্ট লাভা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত মালভূমি গঠন করেছে ('ট্র্যাপ' শব্দের অর্থ সুইডিশ ভাষায় সিঁড়ি)।
• মালভূমির উপরিভাগ চ্যাপ্টা ও টেবিলের মতো সমতল এবং উচ্চতা ৪০০ থেকে ১,০০০ মিটার।

৩. অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
• রেগুর বা কালো মাটি: ক্ষয়প্রাপ্ত ব্যাসাল্ট লাভা থেকে চুন ও লোহাসমৃদ্ধ আর্দ্রতাদারী উর্বর রেগুর মৃত্তিকা তৈরি হয়েছে, যা তুলা, আখ ও তৈলবীজ চাষের জন্য শ্রেষ্ঠ।
• খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ: অবক্ষয়ের ফলে কিছু অঞ্চলে বক্সাইট আকরিক পাওয়া যায় (কোলহাপুর)।
• জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: পশ্চিমঘাটের খাড়া ঢাল থেকে নেমে আসা নদীতে কয়নার মতো বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ভাঙ্গর এবং খাদারকে বিপরীতভাবে গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ভাঙ্গর হলো প্রাচীন পলিমাটি গঠিত উঁচু অনুর্বর জমি যাতে কঙ্কর থাকে; আর খাদার হলো প্রতি বছর বন্যায় গঠিত অত্যন্ত উর্বর নবীন পলিমাটি।

সাধারণ ভুল ধারণা

মেঘালয় মালভূমিকে হিমালয় পর্বতমালার অংশ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মেঘালয় (শিলং) মালভূমি ভূতাত্ত্বিকভাবে প্রাচীন প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান উপদ্বীপীয় শিল্ডের অংশ, যা মালদা গ্যাপ দ্বারা ছোটনাগপুর থেকে বিচ্ছিন্ন।

সাধারণ ভুল ধারণা

দোদাবেত্তাকে দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

দোদাবেত্তা (২,৬৩৭ মি) নীলগিরি পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, কিন্তু সমগ্র দক্ষিণ ভারত ও পশ্চিমঘাটের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো আনাইমুদি (২,৬৯৫ মি)।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল একাদশ শ্রেণি • ভারতের আঞ্চলিক ভূগোল ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও প্রধান ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ উপদ্বীপীয় শিল্ড • নবীন ভঙ্গিল হিমালয় • ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি • উপকূলীয় সমভূমি ও দ্বীপপুঞ্জ ১. ভারতের তিনটি প্রধান ভূতাত্ত্বিক বিভাগ উপদ্বীপীয় শিল্ড (Peninsular Block) • প্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূখণ্ড • আর্কিয়ান নাইস ও গ্রানাইট & স্থিতিশীল ভূখণ্ড • দাক্ষিণাত্যের ট্র্যাপ হিমালয় পর্বতমালা (Young Folded Belt) • নবীন টারশিয়ারি ভঙ্গিল পর্বতমালা • টেথিস সাগরের উত্থান • তীব্র ভাঁজ, চ্যুতি ও ভূমিকম্পপ্রবণ সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি (Indo-Gangetic Basin) • প্লাইস্টোসিন ফোরডিপ অববাহিকা • ১,০০০-২,০০০ মিটার গভীর পলিস্তর • বিশ্বের উর্বরতম কৃষিভূমি WB পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি ও কৌশলগত শৃঙ্গ • সান্দাকফু (৩৬৩৬ মি - পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ) • সিঙ্গালেলা শৈলশিরা • অযোধ্যা পাহাড় (গোরগাবুরু ৬৭৭ মি) ২. ভারতের প্রধান ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ ও ভূ-সংস্থান [A] The Northern Mountain Complex (Himalayas) • হিমালয়ের অনুদৈর্ঘ্য বিভাগ: হিমাদ্রি (৬১০০ মি) > হিমাচল (৩৭০০-৪৫০০ মি) > শিবালিক (৯০০-১১০০ মি) • উপত্যকা রূপতত্ত্ব: দুন (দেরাদুন) • দুয়ার (জলপাইগুড়ি/আসাম) • টেরাই ও ভাবর অঞ্চল [B] Northern Great Plains Geomorphology • সমভূমির স্তরবিন্যাস: ভাবর (নুড়ি-পাথর) > তরাই (জলাভূমি) > ভাঙ্গর (প্রাচীন পলি) > খাদার (নবীন পলি) • Punjab (Doabs) • Ganga Plains (Upper, Middle, Lower/Sundarbans) • Assam Valley [C] Peninsular Plateau & Ghats Architecture • উপদ্বীপীয় মালভূমি: পশ্চিমঘাট (আনাইমুদি ২৬৯৫ মি) • পূর্বঘাট (আরমাকোন্ডা ১৬৯০ মি) • নীলগিরি সংযোগ • Western Ghats: Continuous scarp, Thal Ghat, Bhor Ghat, Palghat Gap • Eastern Ghats: Dissected, Mahendragiri (1,501 m), Arma Konda (1,690 m) [D] Coastal Plains & Island Archipelagos • West Coast: Narrow, submerged, Kayals / Backwaters (Vembanad Lake) • East Coast: Broad, emergent, Deltas (Mahanadi, Godavari, Krishna, Kaveri), Chilika Lake • দ্বীপপুঞ্জ: আন্দামান-নিকোবর (আগ্নেয় উদ্ভব, ব্যfeatures ব্যরেন দ্বীপ) • লাক্ষাদ্বীপ (প্রবাল অ্যাটল) • Channels: 10° Channel (Andaman-Nicobar) • 8° Channel (Minicoy-Maldives)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ভারতের ভূতাত্ত্বিক কাঠামো তিনটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত: প্রাচীন উপদ্বীপীয় শিল্ড, নবীন ভঙ্গিল হিমালয় এবং ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি।
মূল বিষয় 2
উপদ্বীপীয় ভূখণ্ড প্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূমির অংশ, যা আর্কিয়ান শিলা এবং ক্রিটেশিয়াস যুগের ব্যাসাল্ট ডেকান ট্র্যাপ লাভা দ্বারা গঠিত।
মূল বিষয় 3
টারশিয়ারি যুগে ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের সংঘাতের ফলে টেথিস সাগরের পলিস্তরে ভাঁজ পড়ে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়।
মূল বিষয় 4
হিমালয় পর্বতমালা চারটি প্রধান অনুদৈর্ঘ্য সমান্তরাল শ্রেণীতে বিভক্ত: ট্রান্স হিমালয় (কে-২), হিমাদ্রি (এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা), হিমাচল এবং শিবালিক।
মূল বিষয় 5
উত্তর ভারতের সমভূমি উত্তর থেকে দক্ষিণে ভাবর (নুড়ি স্তর), তরাই (জলাভূমি), ভাঙ্গর (প্রাচীন পলি ও কঙ্কর) এবং খাদার (উর্বর নবীন পলি) অঞ্চলে বিন্যস্ত।
মূল বিষয় 6
উপদ্বীপীয় মালভূমি পশ্চিমঘাট (অবিচ্ছিন্ন, আনাইমুদি ২,৬৯৫ মি) এবং পূর্বঘাট (ভগ্ন, আরমাকোন্ডা ১,৬৯০ মি) দ্বারা সীমাবদ্ধ, যা নীলগিরিতে মিলিত হয়েছে।
মূল বিষয় 7
পশ্চিম উপকূল সংকীর্ণ ও নিমজ্জিত (মালাবার কয়ালযুক্ত), অন্যদিকে পূর্ব উপকূল প্রশস্ত ও উত্থিত (উর্বর ব-দ্বীপ ও চিল্কা হ্রদযুক্ত)।
মূল বিষয় 8
ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে আন্দামান-নিকোবর আগ্নেয় ও নিমজ্জিত পর্বতের চূড়া (ব্যারেন সক্রিয় আগ্নেয়গিরি), আর লাক্ষাদ্বীপ প্রবাল অ্যাটল দ্বারা গঠিত।
মূল বিষয় 9
পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু (৩,৬৩৬ মি) সিঙ্গালেলা শৈলশিরায় অবস্থিত এবং পশ্চিম মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গোরগাবুরু (৬৭৭ মি)।
মূল বিষয় 10
পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি ডুয়ার্স, বরেন্দ্রভূমি, লালমাটির রাঢ় সমভূমি, কাঁথির বালিয়াড়ি এবং দক্ষিণের সক্রিয় সুন্দরবন ব-দ্বীপে বিস্তৃত।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Geography — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: শাস্ত্র রূপে ভূগোল অধ্যায় 2: পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায় 3: ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায় 4: আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায় 5: সমস্থিতি তত্ত্ব অধ্যায় 6: বারিমণ্ডল অধ্যায় 7: মানব ভূগোলের পরিধি ও বিষয়বস্তু অধ্যায় 8: অর্থনৈতিক ভূগোল অধ্যায় 9: Secondary Activities - Industry অধ্যায় 10: তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 11: চতুর্থ স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 12: পঞ্চম স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 13: এক নজরে ভারত অধ্যায় 14: ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায় 15: ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায় 16: ভারতের জলবায়ু অধ্যায় 17: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও অরণ্য অধ্যায় 18: ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।