বিপর্যয় ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে তিনটি মূল ধারণার মধ্যে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক পার্থক্য নির্দেশ করা হয়:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Natural Hazard): যে কোনো বিপজ্জনক প্রাকৃতিক বা ভৌত ঘটনা যা মানুষ ও জীবজগতের ওপর আঘাত হানার বা জীবনহানি ও সম্পত্তি ধ্বংস করার সম্ভাব্য ক্ষমতা রাখে (যেমন—জনমানবহীন সাগরের বুকে সৃষ্ট কোনো শক্তিশালী সাইক্লোন বা মরুভূমিতে সংঘটিত ভূমিকম্প)।
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Natural Disaster): কোনো বিপজ্জনক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যখন জনবসতিপূর্ণ কোনো অঞ্চলে আঘাত হেনে ব্যাপক প্রাণহানি, বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ও সামগ্রিক পরিবেশ ধ্বংস সাধন করে, যার অভিঘাত সামলানো স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের নিজস্ব ক্ষমতার অতীত হয়ে পড়ে।
- সুভেদ্যতা বা ঝুঁকিগ্রাহ্যতা (Vulnerability): কোনো মানব সম্প্রদায় বা পরিকাঠামোর দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা বা দুর্বলতা। সুভেদ্যতার প্রকারভেদ:
- ভৌত সুভেদ্যতা (Physical Vulnerability): নদীর প্লাবনভূমিতে বসতি স্থাপন, খাড়া পাহাড়ি ঢালে বাড়ি তৈরি বা মাটির কাঁচা বাড়ি।
- আর্থ-সামাজিক সুভেদ্যতা (Socio-Economic): দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, সতর্কবার্তা পাওয়ার অভাব ও সামাজিক সুরক্ষাহীনতা।
- পরিবেশগত সুভেদ্যতা (Environmental): ম্যানগ্রোভ ধ্বংস, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলাভূমি ভরাট।
$$\text{বিপর্যয় ঝুঁকি (Risk)} = \frac{\text{দুর্যোগ (Hazard)} \times \text{সুভেদ্যতা (Vulnerability)}}{\text{মোকাবিলা করার ক্ষমতা (Capacity)}}$$ তাৎপর্য: চরম কোনো প্রাকৃতিক ঘটনাও মহা-বিপর্যয়ে পরিণত হবে না যদি স্থানীয় সমাজের দুর্বলতা কম থাকে এবং বৈজ্ঞানিক পূর্বসতর্কতা ও মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়।
| বিপর্যয়ের শ্রেণি | ভৌত কার্যকারণ ও প্রক্রিয়া | ভারতে প্রধান উদাহরণসমূহ |
|---|---|---|
| ১. ভূ-গাঠনিক / পার্থিব | ভূত্বকীয় পাতের সংঘর্ষ, চ্যুতি বরাবর শিলার আকস্মিক স্থানচ্যুতি ও ভূকম্পীয় তরঙ্গের উৎপত্তি। | ভূমিকম্প (লাতুর ১৯৯৩, ভুজ ২০০১, কাশ্মীর ২০০৫), সুনামি (২৬ ডিসেম্বর ২০০৪ ভারত মহাসাগরীয় সুনামি)। |
| ২. জলবায়ু ও আবহাওয়াগত | মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত রূপ, নিম্নচাপ বলয়, সাগরের উষ্ণতার স্থানান্তর ও আর্দ্রতার সংকট। | ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (আম্ফান ২০২০, ইয়াস ২০২১), বন্যা (গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা অববাহিকা), খরা (মারাঠওয়াড়া, পুরুলিয়া), তাপপ্রবাহ। |
| ৩. ভূরূপতাত্ত্বিক / ঢালু ভূমির বিপর্যয় | অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে পর্বতের খাড়া ঢাল বরাবর শিলা ও মাটির দ্রুত নিম্নাভিমুখী পতন বা স্খলন। | হিমালয়ের ভূমিধস (দার্জিলিং-কালিম্পং জাতীয় সড়ক ১০), পশ্চিমঘাট পর্বতের ধস (ওয়েনাড়), কাদার স্রোত, হিমবাহের তুষারধস। |