Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Geography • অধ্যায় 16
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভারতের জলবায়ু

ভারতের জলবায়ুকে সামগ্রিকভাবে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু (Tropical Monsoon Climate) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উত্তরে হিমালয় পর্বতমালার সুউচ্চ প্রাচীর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের সুবিশাল জলরাশির উপস্থিতির কারণে ভারতীয় উপমহাদেশ একটি স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জলবায়ুগত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর ঋতুভিত্তিক বিপরীতমুখী দিক পরিবর্তনের কারণে এদেশের আবহাওয়ায় অনন্য বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। একদিকে রাজস্থানের থর মরুভূমিতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, অন্যদিকে লাদাখের দ্রাস অঞ্চলে শীতকালীন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। একইভাবে মেঘালয়ের মৌসিনরাম ও চেরাপুঞ্জিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১,১৮৭ সেন্টিমিটার ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে, অথচ পশ্চিম রাজস্থানের জয়সলমীরে বার্ষিক বৃষ্টিপাত মাত্র ১০ সেন্টিমিটারের নিচে থাকে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) সমগ্র বছরকে চারটি প্রধান ঋতুতে বিভক্ত করেছে: শীতকাল, গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শরৎকাল বা মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনকাল। আধুনিক আবহাওয়াবিজ্ঞান অনুসারে মৌসুমি বায়ুর আগমন ও সক্রিয়তা কেবল স্থলভাগ ও জলভাগের তাপীয় পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং আন্তঃক্রান্তীয় অভিসারী অঞ্চল (ITCZ)-এর স্থানান্তর, তিব্বত মালভূমির তাপীয় প্রভাব, ক্রান্তীয় পূর্বালী ও উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিম এবং এল নিনো ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরু (IOD)-র মতো বৈশ্বিক ঘটনাবলীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়, উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সে অতিবৃষ্টি এবং বঙ্গোপসাগরের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় রাজ্যের আর্থ-সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ভারতের জলবায়ু এবং বিশেষ করে মৌসুমি বায়ুর ছন্দ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি। ভারতের কৃষি ব্যবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'মৌসুমি বায়ুর জুয়াখেলা' (Gamble on the Monsoon) বলা হয়, কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক শ্রমশক্তি সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল এবং খারিফ ফসলের ফলন সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। অপরদিকে শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার বৃষ্টি উত্তর ভারতের রবি গম চাষের জন্য অপরিহার্য। জলবিভাজিকা, নদী অববাহিকা এবং বন্যা ও খরা ব্যবস্থাপনার জন্য মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতি বোঝা অত্যন্ত জরুরি। সমসাময়িক যুগে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মৌসুমি বায়ুর চরিত্র অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, হিমালয়ে মেঘভাঙা বৃষ্টি বাড়ছে এবং সুন্দরবন অঞ্চলে বিধ্বংসী সুপার সাইক্লোনের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই পরিবেশ গঠনে এই অধ্যায়ের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ভারতের জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক ও বৈশিষ্...
2 মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তি ও বিভিন্ন তত্...
3 ভারতের চারটি প্রধান ঋতু (IMD শ্রেণী...
4 ভারতে বৃষ্টিপাতের স্থানিক বণ্টন ও প...
5 কোপেনের ভারতীয় জলবায়ুর শ্রেণীবিভা...
6 পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু, স্থানীয় বৈচি...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

ভারতের জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক ও বৈশিষ্ট্য

১. ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকসমূহ

ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রাকৃতিক গঠন এর জলবায়ুকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে:

  • অক্ষাংশগত বিস্তৃতি: কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৩০' উঃ) ভারতের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে আটটি রাজ্যের ওপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে ভারতের দক্ষিণাংশ ক্রান্তীয় মণ্ডলে অবস্থান করে, যেখানে সারাবছর উচ্চ তাপমাত্রা ও স্বল্প বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর দেখা যায়। উত্তরাংশ উপক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় চরমভাবাপন্ন মহাদেশীয় জলবায়ু অনুভূত হয় (গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম ও শীতে তীব্র ঠান্ডা)।
  • হিমালয় পর্বতমালার জলবায়ুগত ভূমিকা:
    • হিমালয় মধ্য এশিয়া ও সাইবেরিয়া থেকে আগত প্রচণ্ড শুষ্ক ও শীতল মেরু বায়ুকে ভারতে প্রবেশে বাধা দিয়ে দেশকে এক মারাত্মক শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে।
    • ভারত মহাসাগর থেকে আগত আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে আটকে দিয়ে সমগ্র উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্যাপক শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • ভূপ্রকৃতি ও উচ্চতার প্রভাব: পশ্চিমঘাট পর্বতের খাড়া পশ্চিম ঢালে আর্দ্র মৌসুমি বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত (>২৫০-৪০০ সেমি) ঘটায়, কিন্তু পর্বতের পূর্ব ঢালে নেমে বায়ু উষ্ণ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলের সৃষ্টি হয় (যেমন দাক্ষিণাত্য মালভূমি)। আবার আরাবল্লী পর্বত মৌসুমি বায়ুর প্রবাহের সমান্তরালে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না, ফলে রাজস্থান বৃষ্টিহীন থেকে যায়।
  • সমুদ্রের নৈকট্য (জলবায়ুর সমভাবাপন্নতা): উপদ্বীপীয় ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের প্রভাবের কারণে চরমভাবাপন্নতা দেখা যায় না; আবহাওয়া থাকে আর্দ্র ও আরামদায়ক (যেমন মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই)। বিপরীতে অভ্যন্তরভাগে সমুদ্রের প্রভাবহীনতার কারণে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু পরিলক্ষিত হয় (যেমন দিল্লি, অমৃতসর)।
  • উচ্চতা (স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার): প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা প্রায় ৬.৫° সে হারে হ্রাস পায়। তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শিলিগুড়ির তুলনায় দার্জিলিং (২,০৪২ মিটার) অনেক শীতল।
২. বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরের বায়ুপ্রবাহ ও মহাসাগরীয় সংযোগ (Teleconnections)
প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া / ঘটনা বায়ুপ্রবাহ ও মহাসাগরীয় প্রকৃতি ভারতীয় জলবায়ুর ওপর প্রভাব
উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিম (Subtropical Westerly Jet) উর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে ৯-১২ কিমি উচ্চতায় পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত তীব্র গতিসম্পন্ন সংকীর্ণ বায়ুপ্রবাহ। শীতকালে হিমালয় দ্বারা দুটি শাখায় বিভক্ত হয়; দক্ষিণ শাখাটি উত্তর ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে টেনে আনে। মে-জুনে এর আকস্মিক উত্তরমুখী স্থানান্তর বর্ষার বিস্ফোরণ ঘটায়।
ক্রান্তীয় পূর্বালী জেট স্ট্রিম (Tropical Easterly Jet) গ্রীষ্মকালে তিব্বত মালভূমির অত্যধিক উষ্ণতার কারণে উপদ্বীপীয় ভারতের ওপর (১৪° উঃ অক্ষাংশে) গঠিত পূর্বালী জেট। উপদ্বীপে উর্ধ্ব স্তরে বায়ুর অপসরণ ঘটিয়ে ভূপৃষ্ঠের নিম্নচাপকে শক্তিশালী করে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবাহকে তীব্র করে তোলে।
এল নিনো (El Niño) প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্যভাগে পেরু উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রজলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। ওয়াকার সঞ্চালনকে বিঘ্নিত করে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে ভারতে প্রায়শই মারাত্মক খরা দেখা দেয়।
লা নিনা (La Niña) প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রজলের অস্বাভাবিক শীতলতা। মৌসুমি বায়ুর প্রবাহকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে এবং ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যা ঘটায়।
ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরু (Indian Ocean Dipole - IOD) পশ্চিম ভারত মহাসাগর (আরব সাগর) ও পূর্ব ভারত মহাসাগরের (সুমাত্রা সংলগ্ন) সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য। ধনাত্মক IOD: আরব সাগরের জল উষ্ণ থাকে, যা ভারতীয় বর্ষাকে শক্তিশালী করে এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিহত করতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তি ও বিভিন্ন তত্ত্ব

১. মৌসুমি বায়ুর ঐতিহাসিক ও আধুনিক ধারণা

মৌসুম (Mausim) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ 'ঋতু'। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুপ্রবাহের গতিপথ সম্পূর্ণ উল্টো দিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়, তাকে মৌসুমি বায়ু (Monsoon) বলে। এর উৎপত্তি ব্যাখ্যায় প্রধান তিনটি তত্ত্ব বিদ্যমান:

২. চিরাচরিত তাপীয় তত্ত্ব (হ্যালি-র মতবাদ, ১৬৮৬)

বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালির মতে, মৌসুমি বায়ু হলো মূলত বৃহৎ আকারের সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর সমন্বয়:

  • গ্রীষ্মকাল: স্থলভাগ জলভাগের চেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হয়। মে-জুন মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (থর মরুভূমি ও পাঞ্জাব সমভূমি) গভীর তাপীয় নিম্নচাপ (৯৯৫ মিলিবার) সৃষ্টি হয়। তুলনামূলক শীতল ভারত মহাসাগরে উচ্চচাপ থাকে। ফলে আর্দ্র বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
  • শীতকাল: স্থলভাগ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে উচ্চচাপ কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগরে তুলনামূলক নিম্নচাপ বিরাজ করে। ফলে শীতল শুষ্ক বায়ু স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
  • সীমাবদ্ধতা: এই তত্ত্ব মৌসুমি বায়ুর আকস্মিক আগমন (বিস্ফোরণ), মৌসুমি বিরতি এবং বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্ব স্তরের বায়ুর গতিবিধি ব্যাখ্যা করতে পারে না।
৩. গতিশীল তত্ত্ব বা বায়ুপুঞ্জ মতবাদ (ফ্লোন-এর মতবাদ, ১৯৫১)

জার্মান আবহাওয়াবিদ হারম্যান ফ্লোনের মতে, মৌসুমি বায়ু কোনো স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ নয়, বরং সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর চাপবলয় ও নিয়ত বায়ুপ্রবাহের ঋতুভিত্তিক স্থানান্তরের ফল:

  • ITCZ-এর স্থানান্তর: গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরায়ণের সময় নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসারী অঞ্চল (ITCZ) উত্তর দিকে সরে এসে ২০°-২৫° উত্তর অক্ষাংশে গাঙ্গেয় সমভূমির ওপর অবস্থান নেয়। একে মৌসুমি খাত (Monsoon Trough) বলা হয়।
  • দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর কোরিওলিস বলের প্রভাবে ডানদিকে বেঁকে গিয়ে (ফেরেলের সূত্রানুসারে) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রূপে ভারতে প্রবেশ করে।
৪. জেট স্ট্রিম ও তিব্বত মালভূমি তত্ত্ব (আধুনিক মতবাদ)

আধুনিক আবহাওয়াবিজ্ঞানী (কোটেশ্বরম, ইন ও ফ্লোন) দেখিয়েছেন যে তিব্বত মালভূমি এবং জেট স্ট্রিম ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর প্রধান চালিকাশক্তি:

  1. তিব্বতের তাপীয় ইঞ্জিন (Tibetan Heat Engine): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৪,৫০০ মিটারের বেশি উঁচু এবং প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গ কিমি বিস্তৃত তিব্বত মালভূমি গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে মধ্য ট্রপোস্ফিয়ারে একটি সুবিশাল তাপীয় উনুন হিসেবে কাজ করে। এখানকার উত্তপ্ত বায়ু উপরে উঠে গিয়ে ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্ব স্তরে একটি উচ্চচাপ প্রতিঘূর্ণবাত তৈরি করে।
  2. ক্রান্তীয় পূর্বালী জেটের সৃষ্টি: তিব্বতের উর্ধ্ব স্তরের বায়ু অপসারিত হয়ে দক্ষিণ দিকে নেমে আসে এবং ভারতের উপদ্বীপীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ক্রান্তীয় পূর্বালী জেট স্ট্রিম হিসেবে ভারত মহাসাগরের মাদাগাস্কার সংলগ্ন মাসকারিন উচ্চচাপ অঞ্চলের দিকে নেমে যায়। এটি ভারত মহাসাগরের তলদেশ থেকে মৌসুমি বায়ুকে ভারতের দিকে সজোরে পাম্প করে।
  3. পশ্চিমা জেটের উত্তরমুখী স্থানান্তর: শীতকালে হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত পশ্চিমা জেট স্ট্রিম মে মাসের শেষে হঠাৎ হিমালয়ের উত্তরে সরে যায়। এর ফলে উত্তর ভারতের ওপর থেকে বায়ুর নিম্নগামী চাপ সরে যায় এবং নিমেষে 'বর্ষার বিস্ফোরণ' ঘটে।

ভারতের চারটি প্রধান ঋতু (IMD শ্রেণীবিভাগ)

১. শীতকাল (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)
  • আবহাওয়াগত অবস্থা: মেঘমুক্ত নির্মল আকাশ, শুষ্ক আবহাওয়া, মৃদু বাতাস এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য। উত্তর ভারতে জানুয়ারির গড় তাপমাত্রা ১০°-১৫° সে থাকে, যেখানে দক্ষিণ ভারতে তা ২৫° সে-র ওপরে থাকে।
  • পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbances): ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর ও পারস্য উপসাগর থেকে উৎপন্ন নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিমের দক্ষিণ শাখা দ্বারা পরিচালিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করে:
    • পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত ঘটায় (১৫-৫০ মিমি)।
    • পশ্চিম হিমালয়ে (জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড) ভারী তুষারপাত ঘটায়, যা নদীগুলোর হিমবাহকে পুনরুজ্জীবিত করে।
    • কৃষিগত গুরুত্ব: এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও উত্তর ভারতের রবি শস্য (বিশেষ করে গম, ছোলা ও সরিষা) উৎপাদনের জন্য অমৃততুল্য।
    • ঝঞ্ঝা কেটে যাওয়ার পর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা দেখা যায়।
২. গ্রীষ্মকাল (প্রাক-বর্ষা কাল: মার্চ থেকে মে)
  • তাপমাত্রার বৃদ্ধি: সূর্যের উত্তরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে মার্চে দাক্ষিণাত্যে (৩৮° সে), এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশে (৪২° সে) এবং মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (৪৫°-৪৮° সে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
  • লু (Loo): মে ও জুন মাসে দুপুরবেলা উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমি অঞ্চলে (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ) পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত অত্যন্ত উষ্ণ, শুষ্ক ও ধূলিময় বায়ুকে 'লু' বলে। এর তাপমাত্রা ৪৫°-৫০° সে পর্যন্ত পৌঁছায় এবং সানস্ট্রোক ঘটায়।
  • স্থানীয় পরিচলনজনিত ঝড়বৃষ্টি:
    • কালবৈশাখী (Nor'westers): এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বিহারে অপরাহ্ণে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। ছোটনাগপুর মালভূমির তীব্র গরমে সৃষ্ট নিম্নচাপের টানে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঢুকে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি করে। সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি করলেও এই বৃষ্টি আউশ ধান, বোরো ধান, পাট ও চা চাষের দারুণ উপকার করে (আসামে একে বরদৈছিলা বলে)।
    • আম্রবৃষ্টি (Mango Showers): কেরালা ও কর্ণাটকের প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত যা আম দ্রুত পাকতে সাহায্য করে।
    • চেরি ব্লসম বা কফি বৃষ্টি: কর্ণাটকে কফি ফুলের প্রস্ফুটনে সহায়ক বৃষ্টিপাত।
৩. বর্ষাকাল বা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি কাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর)

ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫-৮০% এই ঋতুতে ঘটে। জুনের শুরুতে কেরালা উপকূলে প্রবেশের পর এটি দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়:

  1. আরব সাগরীয় শাখা: এটি অত্যন্ত শক্তিশালী শাখা (বঙ্গোপসাগর শাখার চেয়ে ৩ গুণ বেশি আর্দ্রতা বহন করে):
    • প্রথম উপশাখা: পশ্চিমঘাট পর্বতে ধাক্কা খেয়ে পশ্চিম ঢালে ২৫০-৪০০ সেমি শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায় (মহাবালেশ্বরে >৬০০ সেমি)। পূর্ব ঢালে নেমে বায়ু বৃষ্টিহীন হয়ে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল সৃষ্টি করে (পুনেতে মাত্র ৭০ সেমি)।
    • দ্বিতীয় উপশাখা: নর্মদা ও তাপ্তি গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে মধ্য ভারতে প্রবেশ করে ছোটনাগপুর পর্যন্ত বৃষ্টি দেয়।
    • তৃতীয় উপশাখা: আরাবল্লী পর্বতের সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ায় কোনো বাধা না পেয়ে রাজস্থানকে বৃষ্টিহীন রেখে সোজা পাঞ্জাবে চলে যায়।
  2. বঙ্গোপসাগরীয় শাখা:
    • আরাকান ইয়োমা পাহাড়ে বাধা পেয়ে একটি শাখা উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘুরে গাঙ্গেয় সমভূমি ও পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে।
    • অন্য একটি শাখা মেঘালয় মালভূমির খাসি পাহাড়ের ফানেল আকৃতির উপত্যকায় অবরুদ্ধ হয়ে তীব্রভাবে উপরে উঠে পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান মৌসিনরাম (১,১৮৭ সেমি) ও চেরাপুঞ্জিতে অতিবৃষ্টি ঘটায়।
    • গাঙ্গেয় সমভূমি দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাওয়ার সময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে (কলকাতা ১৪৫ সেমি → পাটনা ১০৫ সেমি → দিল্লি ৬৫ সেমি)।
  3. মৌসুমি বিরতি (Monsoon Break): বর্ষাকালে মাঝে মাঝে এক বা একাধিক সপ্তাহ ধরে সমভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মৌসুমি খাত বা ট্রাফ হিমালয়ের পাদদেশে সরে গেলে সমভূমিতে খরা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
৪. শরৎকাল বা প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি কাল (অক্টোবর থেকে নভেম্বর)
  • মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন: সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে উত্তর ভারতে নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৌসুমি বায়ু উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে পিছু হটতে শুরু করে।
  • অক্টোবর হিট (October Heat): বর্ষার শেষে আকাশ মেঘমুক্ত হয় এবং সূর্যকিরণ প্রখর হয়। মাটি অতিরিক্ত ভেজা থাকায় বাতাসে আর্দ্রতা খুব বেশি থাকে। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিকর আবহাওয়াকে 'অক্টোবর হিট' বলে।
  • বঙ্গোপসাগরের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়: প্রত্যাবর্তনকারী ট্রাফের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ও মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, যা পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলে তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
  • করমণ্ডল উপকূলে বৃষ্টি: উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে শীতকালীন প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

ভারতে বৃষ্টিপাতের স্থানিক বণ্টন ও পরিবর্তনশীলতা

১. বৃষ্টিপাতের ভৌগোলিক অঞ্চলসমূহ

ভারতে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ১১৮ সেন্টিমিটার, তবে ভূপ্রকৃতি ও দূরত্বের কারণে এর স্থানিক বণ্টন অত্যন্ত অসম:

বৃষ্টিপাতের অঞ্চল বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ভৌগোলিক অঞ্চলসমূহ কৃষি ও উদ্ভিদের প্রকৃতি
অত্যধিক বৃষ্টিপাতের অঞ্চল ২০০ সেমি-র বেশি (১,২০০ সেমি পর্যন্ত) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল; উত্তর-পূর্ব ভারত (মেঘালয়, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ); উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল; আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি; ধান, চা, রবার, পাট ও মশলা চাষের প্রাধান্য; বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
মাঝারি বৃষ্টিপাতের অঞ্চল ১০০ সেমি থেকে ২০০ সেমি মধ্য ও নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি (বিহার, পশ্চিমবঙ্গ); ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল; পূর্ব মধ্যপ্রদেশ; পশ্চিমঘাটের পূর্ব ঢাল। আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য; ভারতের প্রধান শস্যভাণ্ডার (ধান, গম, ডাল, আখ, তৈলবীজ)।
স্বল্প বৃষ্টিপাতের অঞ্চল ৫০ সেমি থেকে ১০০ সেমি উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি (পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব); গুজরাট; পূর্ব রাজস্থান; দাক্ষিণাত্য মালভূমির বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল (মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা)। শুষ্ক পর্ণমোচী ও কাঁটাঝোপের অরণ্য; মিলেট (জোয়ার, বাজরা), তুলা, চিনাবাদাম; সেচনির্ভর চাষ।
অতি স্বল্প বা মরু অঞ্চল ৫০ সেমি-র কম (অনেক স্থানে < ১৫ সেমি) পশ্চিম রাজস্থান (থর মরুভূমি, জয়সলমীর); দক্ষিণ পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সীমান্ত; লাদাখের বৃষ্টিচ্ছায়া মালভূমি (শীতল মরুভূমি); কচ্ছ অঞ্চল। মরু উদ্ভিজ্জ, ক্যাকটাস ও বাবলা; যাযাবর পশুপালন ও খরা-সহনশীল ফসল; ইন্দিরা গান্ধী খালের সাহায্যে চাষাবাদ।
২. বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনশীলতা (Variability of Rainfall)

ভারতে বৃষ্টিপাতের একটি মারাত্মক বৈশিষ্ট্য হলো এর অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনশীলতা। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যেখানে যত কম, সেখানে বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা বা পরিবর্তনশীলতার গুণাঙ্ক (Coefficient of Variation) তত বেশি:

$$ ext{CV} = rac{\sigma}{ar{X}} imes 100$$

  • অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে (যেমন আসাম, কেরল) পরিবর্তনশীলতা ১৫-২০% এর কম, ফলে সেখানে সময়মতো বৃষ্টিপাত নিশ্চিত থাকে।
  • স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে (যেমন পশ্চিম রাজস্থান, মধ্য দাক্ষিণাত্য) পরিবর্তনশীলতা ৫০-৮০% ছাড়িয়ে যায়, যার ফলে সেখানে ঘনঘন মারাত্মক খরা দেখা দেয়।

কোপেনের ভারতীয় জলবায়ুর শ্রেণীবিভাগ

১. ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণীবিভাগ পদ্ধতি

ভ্লাদিমির কোপেন (১৯৩৬) মাসিক ও বার্ষিক গড় তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এবং প্রাকৃতিক উদ্ভিদের বিস্তৃতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিশ্ব জলবায়ুর সংকেতভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ করেন। ভারতের জন্য কোপেন ৮টি প্রধান জলবায়ু অঞ্চল চিহ্নিত করেছেন:

কোপেনের সংকেত জলবায়ুর বিবরণ ভারতের ভৌগোলিক বিস্তার আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য
Amw স্বল্প শুষ্ক শীতকালযুক্ত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু গোয়ার দক্ষিণে ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি (কোঙ্কণ ও মালাবার উপকূল)। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫০-৩০০ সেমি-র বেশি (প্রধানত জুন-সেপ্টেম্বর); শীতলতম মাসের উষ্ণতা ১৮° সে-র বেশি; শীতকাল সংক্ষিপ্ত ও শুষ্ক।
As শুষ্ক গ্রীষ্মকালযুক্ত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূল ও সংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল। গ্রীষ্মকাল শুষ্ক; মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫% শরৎ ও শীতকালে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ুতে ঘটে (অক্টোবর-ডিসেম্বর)।
Aw ক্রান্তীয় সাভানা জলবায়ু কর্কটক্রান্তি রেখার দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমির অধিকাংশ অঞ্চল। আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক শীতকাল; বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৭৫-১৫০ সেমি; সাভানা তৃণভূমি ও পর্ণমোচী বনভূমির বিস্তার।
BShw অর্ধ-শুষ্ক স্টেপ জলবায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতের বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল (মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা), পশ্চিম হরিয়ানা ও দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান। স্বল্প বৃষ্টিপাত (৩৫-৭৫ সেমি); সম্ভাব্য বাষ্পীভবন বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি; ছোট ঘাস ও কাঁটাঝোপ।
BWhw উষ্ণ মরু জলবায়ু পশ্চিম রাজস্থানের চরম মরু অঞ্চল (থর মরুভূমি: জয়সলমীর, বিকানের, বারমের) ও কচ্ছ। অতি স্বল্প বৃষ্টিপাত (<২৫ সেমি); গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম (>৪৮° সে); উচ্চ দৈনিক উষ্ণতার প্রসর; জেরোফাইট উদ্ভিদ।
Cwg শুষ্ক শীতকালযুক্ত নাতিশীতোষ্ণ মৌসুমি জলবায়ু (গাঙ্গেয় তাপমাত্রার বক্ররেখা) উত্তর ভারতের গাঙ্গেয় সমভূমি (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, ইউপি, বিহার), পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা। গ্রীষ্মের বৃষ্টির পূর্বেই মে-জুনে বছরের সর্বোচ্চ উষ্ণতা দেখা যায় ('g' দ্বারা গাঙ্গেয় তাপরেখা বোঝায়); শুষ্ক শীতকাল।
Dfc স্বল্প শীতল গ্রীষ্মকালযুক্ত শীতল আর্দ্র জলবায়ু সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ ও পূর্ব হিমালয়ের অংশবিশেষ। শীতকাল বরফাবৃত ও দীর্ঘ; গ্রীষ্মকাল সংক্ষিপ্ত ও শীতল; বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি।
E / ET মেরু বা তুন্দ্রা জলবায়ু জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের অতি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল (>৩,৫০০ মিটার)। উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রা ০° থেকে ১০° সে-র মধ্যে; দীর্ঘ তুষারাবৃত শীতকাল; বৃষ্টিপাত মূলত তুষার আকারে ঘটে।

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু, স্থানীয় বৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন

১. পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য

পশ্চিমবঙ্গ মূলত ক্রান্তীয় আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ু-র অন্তর্গত। তবে উত্তরে বরফাবৃত দার্জিলিং হিমালয় থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যন্ত ভূপ্রাকৃতিক পার্থক্যের কারণে রাজ্যে তিনটি স্বতন্ত্র উপ-জলবায়ু অঞ্চল লক্ষ্য করা যায়:

পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জলবায়ু অঞ্চল:
১. উত্তরের উপ-হিমালয় আর্দ্র অঞ্চল (দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার): আরামদায়ক গ্রীষ্ম, তীব্র শৈত্যপূর্ণ শীত এবং অতিভারী বর্ষা (>৩০০-৪০০ সেমি), যা ডুয়ার্সে প্রায়ই বন্যা ঘটায়।
২. পশ্চিমের রাঢ় ও মালভূমি উপ-আর্দ্র অঞ্চল (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম): চরমভাবাপন্ন জলবায়ু, তীব্র গ্রীষ্মকাল (>৪৪° সে), স্বল্প বৃষ্টিপাত (১০০-১২৫ সেমি) এবং খরাপ্রবণতা।
৩. দক্ষিণের বদ্বীপ ও উপকূলীয় সমভাবাপন্ন অঞ্চল (কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলী, পূর্ব মেদিনীপুর): নাতিশীতোষ্ণ সমভাবাপন্ন আবহাওয়া, সারাবছর উচ্চ আর্দ্রতা, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি।
২. কালবৈশাখী ঝড়ের ক্রিয়াকৌশল ও গুরুত্ব

চৈত্র ও বৈশাখ মাসে ছোটনাগপুর মালভূমির তীব্র গরমে গভীর স্থানীয় নিম্নচাপ তৈরি হলে বঙ্গোপসাগর থেকে ছুটে আসা আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে উর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারের শীতল বায়ুর সংঘর্ষে কালবৈশাখীর জন্ম হয়:

  • আকাশে সুবিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি হয় যা ১২-১৫ কিমি উঁচু পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
  • ঘণ্টায় ৬০-১০০ কিমি বেগে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দমকা ঝড় (ধুমকা) বয়ে আসে, সাথে থাকে প্রচণ্ড বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি।
  • তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৫° থেকে ১০° সে কমে গিয়ে দারুণ স্বস্তি এনে দেয়।
  • কৃষিগত সুফল: কালবৈশাখীর বৃষ্টি আউশ ও বোরো ধান চাষের জন্য, পাটের বৃদ্ধি ও জাগ দেওয়ার জন্য এবং উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের চা বাগানের নতুন কুঁড়ি গজানোর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
৩. সুন্দরবন ও পশ্চিমবঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চরম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে:

  • বঙ্গোপসাগরের সুপার সাইক্লোন: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিগত বছরগুলিতে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়েছে, যেমন আইলা (২০০৯), আমফান (২০২০), ইয়াস (২০২১) ও রেমাল (২০২৪)। ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে নদীর লবণাক্ত জল সুন্দরবনের মিষ্টি জলের চাষের জমিতে ঢুকে মাটিকে বছরের পর বছর অনুর্বর করে দিচ্ছে।
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি ও ভাঙন: সুন্দরবনে সমুদ্রের জলস্তর বিশ্ব গড়ের চেয়ে বেশি হারে (বার্ষিক ৩.১৪ মিমি) বাড়ছে, ফলে ঘোড়ামারা ও লোহাচড়ার মতো বহু দ্বীপ সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে মানুষ পরিবেশ উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
  • মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধস: একটানা স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিবর্তে আকস্মিক অতিভারী বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় কলকাতায় তীব্র জলযম ও দার্জিলিং-কালিম্পং-এর জাতীয় সড়ক ১০ (NH-10) বরাবর বারবার ভয়াবহ ভূমিধস নামছে।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার সূত্র (Normal Lapse Rate)
$$\Gamma = -\frac{\Delta T}{\Delta z} \approx 6.5^\circ\text{C} / 1000\text{ m}$$
আপেক্ষিক আর্দ্রতার সূত্র (Relative Humidity)
$$RH = \left( \frac{e}{e_s} \right) \times 100\%$$
কোপেনের শুষ্ক জলবায়ুর বৃষ্টিপাত সীমা (গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল)
r = 2t + 28

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর আগমন ও সক্রিয়তায় উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিম এবং ক্রান্তীয় পূর্বালী জেট স্ট্রিমের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে প্রবাহিত জেট স্ট্রিমসমূহ ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:

১. উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিমের (SWJ) ভূমিকা ও বর্ষার আগমন:

  • শীতকালে ও গ্রীষ্মের প্রথমার্ধে তিব্বত মালভূমির বাধার কারণে এই জেট স্ট্রিমটি দুটি শাখায় ভাগ হয়ে প্রবাহিত হয়। এর দক্ষিণ শাখাটি হিমালয়ের দক্ষিণে উত্তর ভারতের সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
  • এই জেট বায়ুর উপস্থিতির কারণে উত্তর ভারতের ওপর বায়ুর নিম্নমুখী চাপ ও প্রতিঘূর্ণবাতীয় অবস্থা বজায় থাকে, যা ভূপৃষ্ঠের নিম্নচাপকে পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে বাধা দেয়।
  • বর্ষার সূচনাবিন্দু: মে মাসের শেষে ও জুনের শুরুতে তিব্বত মালভূমি উত্তপ্ত হওয়ার সাথে সাথে এই পশ্চিমা জেট স্ট্রিমটি আকস্মিকভাবে হিমালয়ের উত্তরে তিব্বতের ওপরে সরে যায়। এর ফলে উত্তর ভারতের ওপর থেকে বায়ুর নিম্নমুখী চাপ অপসারিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ভূপৃষ্ঠে গভীর নিম্নচাপ কার্যকর হয়ে কেরল উপকূলে প্রচণ্ড গর্জনসহ 'বর্ষার বিস্ফোরণ' (Burst of Monsoon) ঘটায়।

২. ক্রান্তীয় পূর্বালী জেট স্ট্রিমের (TEJ) ভূমিকা:

  • গ্রীষ্মকালে তিব্বত মালভূমি প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে মধ্য ট্রপোস্ফিয়ারে তাপীয় ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। এখানকার উষ্ণ হালকা বায়ু উপরে উঠে ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্ব স্তরে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি করে।
  • এই অপসারিত বায়ু দক্ষিণ দিকে নেমে এসে ভারতের উপদ্বীপীয় অঞ্চলের ওপর (প্রায় ১৪° উত্তর অক্ষাংশে) ক্রান্তীয় পূর্বালী জেট স্ট্রিম রূপে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয় এবং ভারত মহাসাগরের মাসকারিন উচ্চচাপে গিয়ে নিমজ্জিত হয়।
  • এই জেট বায়ুটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের ওপর উর্ধ্বাকাশে বায়ুর অপসরণ ঘটিয়ে ভূপৃষ্ঠের বায়ুকে দ্রুত উপরে টানতে সাহায্য করে, যা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আর্দ্র বাতাসকে সমুদ্র থেকে ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে তীব্র গতিতে টেনে আনে।
উদাহরণ 2
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখার মধ্যে আর্দ্রতা, প্রবাহের গতিপথ ও বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের তুলনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতীয় উপদ্বীপে বাধা পেয়ে দুটি ভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়, যাদের মধ্যে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

১. আর্দ্রতার পরিমাণ ও বিস্তৃতি:

  • আরব সাগরীয় শাখা: এটি বঙ্গোপসাগর শাখার তুলনায় প্রায় ৩ গুণ বেশি শক্তিশালী ও বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প বহন করে, কারণ এটি উন্মুক্ত বিশাল ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে সরাসরি প্রবাহিত হয়ে আসে।
  • বঙ্গোপসাগরীয় শাখা: জলীয় বাষ্পের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও এটি ভূবেষ্টিত বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট সংকীর্ণ পথে পরিচালিত হয়।

২. প্রবাহের গতিপথ ও দিক:

  • আরব সাগরীয় শাখা: এটি সরাসরি পশ্চিম উপকূলের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় সমকোণে ধাক্কা খায়। এর একটি উপশাখা নর্মদা-তাপ্তি উপত্যকা দিয়ে মধ্য ভারতে এবং অপরটি আরাবল্লীর সমান্তরালে রাজস্থান হয়ে পাঞ্জাবে প্রবেশ করে।
  • বঙ্গোপসাগরীয় শাখা: এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মায়ানমারের আরাকান ইয়োমা পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে পশ্চিম দিকে বেঁকে গিয়ে গাঙ্গেয় সমভূমি ও আসামে প্রবেশ করে।

৩. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও চরিত্র:

  • আরব সাগরীয় শাখা: পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে ২৫০-৪০০ সেমি শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়, কিন্তু পর্বতের পূর্ব ঢাল অতিক্রম করে এটি শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং দাক্ষিণাত্যে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল তৈরি করে। রাজস্থানে কোনো শৈলশিরা আড়াআড়ি না থাকায় এটি কোনো বৃষ্টি না ঘটিয়ে চলে যায়।
  • বঙ্গোপসাগরীয় শাখা: মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের ফানেল আকৃতির খাদে আটকে গিয়ে মৌসিনরামে বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়। গাঙ্গেয় সমভূমিতে এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে অগ্রসর হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমে যায় (যেমন কলকাতায় ১৪৫ সেমি, কিন্তু দিল্লিতে মাত্র ৬৫ সেমি)।
উদাহরণ 3
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) কী? এর উৎপত্তি, গতিপথ এবং উত্তর ভারতের রবি শস্যের ওপর এর প্রভাব আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

১. পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংজ্ঞা ও উৎপত্তি: শীতকালে ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট এক ধরনের নাতিশীতোষ্ণ ও মৃদু ক্রান্তীয়-বহির্ভূত ঘূর্ণবাত যা পশ্চিম দিক থেকে ভারতে প্রবেশ করে, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) বলা হয়।

২. গতিপথ ও ভারতে আগমন:

  • বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে প্রবাহিত উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিমের দক্ষিণ শাখা এই ঘূর্ণবাতগুলিকে পশ্চিম এশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পার করে উত্তর-পশ্চিম ভারতে টেনে নিয়ে আসে।
  • ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এটি জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সক্রিয় থাকে।

৩. আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য:

  • পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আসার পূর্বে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং আকাশ মেঘলা হয়।
  • এরপর সমভূমি অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে অবিরাম মৃদু বৃষ্টিপাত (১৫-৫০ মিমি) এবং পশ্চিম হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী তুষারপাত ঘটে।
  • ঝঞ্ঝা কেটে যাওয়ার পর তীব্র উত্তর-পশ্চিমা শীতল বাতাস প্রবাহিত হয়ে উত্তর ভারতে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার সৃষ্টি করে।

৪. রবি শস্যের ওপর প্রভাব:

  • এই মৃদু শীতকালীন বৃষ্টিপাত উত্তর ভারতের রবি শস্যের (বিশেষত গম, ছোলা, যব ও সরিষা) অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
  • বৃষ্টির ফোঁটা মাটির গভীরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে আর্দ্রতা রক্ষা করে, যা সেচ ছাড়াই ফলন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • হিমালয়ে সঞ্চিত তুষার গ্রীষ্মকালে গলে গিয়ে সিন্ধু ও গঙ্গার মতো নিত্যবহ নদীগুলোতে সারাবছর জলের জোগান অক্ষুণ্ণ রাখে।
উদাহরণ 4
পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো এবং রাজ্যের কৃষিতে এর ভালো ও মন্দ প্রভাব উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

১. কালবৈশাখীর উৎপত্তি:

  • প্রাক-বর্ষার গ্রীষ্মকালে (চৈত্র ও বৈশাখ মাসে / এপ্রিল-মে) ছোটনাগপুর মালভূমির শিলাস্তর প্রচণ্ড রোদে উত্তপ্ত হয়ে স্থানীয়ভাবে একটি গভীর তাপীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি করে।
  • বঙ্গোপসাগর থেকে ছুটে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র দক্ষিণা বাতাস এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল বায়ুর সংযোগস্থলে বায়ুমণ্ডলে তীব্র অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়।
  • ফলে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী পরিচলন স্রোত তৈরি হয়ে আকাশে ১২-১৫ কিমি উচ্চতা বিশিষ্ট ঘন কালো কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের সৃষ্টি হয়।
  • এই মেঘ থেকে অপরাহ্ণে বা সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-১০০ কিমি বেগে তীব্র দমকা বাতাস, মুষলধারে বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টি নেমে আসে। একে কালবৈশাখী (বা Nor'wester) বলা হয়।

২. কৃষিতে সুফল:

  • এই বৃষ্টির পর তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৫°-১০° সে কমে গিয়ে দাবদাহ থেকে মুক্তি দেয়।
  • পশ্চিমবঙ্গের বদ্বীপ অঞ্চলে আউশ ধান বোনা এবং বোরো ধানের বৃদ্ধির জন্য এই জল অত্যন্ত কার্যকর।
  • দক্ষিণবঙ্গে পাটের বীজ বপন এবং কাঁচা পাটের প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য এটি অপরিহার্য আর্দ্রতা জোগায়।
  • উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স ও দার্জিলিং পাহাড়ের চা বাগানে নতুন কচি পাতা গজানোর জন্য কালবৈশাখী অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

৩. কৃষিতে কুফল:

  • কালবৈশাখীর সাথে তীব্র শিলাবৃষ্টি হলে তা পাকা বোরো ধানের শিষ ভেঙে দেয় এবং আম্রকাননে কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষতি করে।
  • প্রবল ঝড়ে বহু কাঁচা বাড়ি, পানের বরজ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উদাহরণ 5
কোপেনের জলবায়ু শ্রেণীবিভাগ অনুসারে 'Amw' এবং 'As' জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

ভ্লাদিমির কোপেন বিভিন্ন সাংকেতিক অক্ষরের সমন্বয়ে ভারতের বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছেন:

১. 'Amw' জলবায়ু (স্বল্প শুষ্ক শীতকালযুক্ত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু):

  • সংকেতের তাৎপর্য: 'A' = ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু (শীতলতম মাসের গড় উষ্ণতা ১৮° সে-র বেশি); 'm' = মৌসুমি প্রকৃতি (প্রচুর বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত); 'w' = শুষ্ক শীতকাল।
  • ভৌগোলিক বিস্তার: গোয়ার দক্ষিণ থেকে কেরালা পর্যন্ত ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি (কোঙ্কণ ও মালাবার উপকূল) এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
  • প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    • অত্যন্ত ভারী বার্ষিক বৃষ্টিপাত (২৫০ থেকে ৪০০ সেমি), যার সিংহভাগ জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা থেকে পাওয়া যায়।
    • শীতকাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং শুষ্ক (বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাসে ৬ সেমি-র কম)।
    • সারাবছর সমভাবাপন্ন উষ্ণ আবহাওয়া থাকে এবং বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর অত্যন্ত কম (২৪°-৩০° সে)।
    • এখানে চিরসবুজ ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্য ও মশলা চাষের প্রাধান্য দেখা যায়।

২. 'As' জলবায়ু (শুষ্ক গ্রীষ্মকালযুক্ত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু):

  • সংকেতের তাৎপর্য: 'A' = ক্রান্তীয় জলবায়ু; 's' = শুষ্ক গ্রীষ্মকাল (গ্রীষ্মের মাসগুলিতে বৃষ্টিপাত নগণ্য)।
  • ভৌগোলিক বিস্তার: তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূল এবং সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলভাগ।
  • প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    • ভারতের স্বাভাবিক নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ প্রদর্শন করে; এখানে জুন-সেপ্টেম্বর গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে, কারণ অঞ্চলটি পশ্চিমঘাটের গভীর বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে অবস্থিত।
    • মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫% শরৎ ও শীতকালে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে আসা উত্তর-পূর্ব প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে লাভ করে।
    • বার্ষিক বৃষ্টিপাতের গড় ১০০-১৫০ সেমি এবং এই সময় প্রায়ই ভয়াবহ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
উদাহরণ 6
'মৌসুমি বিরতি' (Monsoon Break) এবং 'অক্টোবর হিট' (October Heat) বলতে কী বোঝায়? এদের কারণ ও প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

১. মৌসুমি বিরতি (Monsoon Break):

  • সংজ্ঞা: বর্ষাকালে (জুলাই ও আগস্ট মাসে) যখন একটানা কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, তখন তাকে মৌসুমি বিরতি বা ছেদ বলা হয়।
  • কারণ: উত্তর ভারতের সমভূমির ওপর অবস্থানরত মৌসুমি খাত বা ট্রাফ (Monsoon Trough) কোনো কারণে তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে হিমালয়ের পাদদেশের দিকে চলে গেলে সমভূমিতে আর্দ্র বায়ুর প্রবেশ বাধা পায়।
  • প্রভাব: সমভূমিতে দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে জমিতে জলের অভাবে খারিফ ফসল (বিশেষত ধান) শুকিয়ে যেতে থাকে। অপরদিকে হিমালয়ের পাদদেশে একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীগুলিতে প্রলয়ঙ্করী বন্যা দেখা দেয়।

২. অক্টোবর হিট (October Heat):

  • সংজ্ঞা: সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ও অক্টোবর মাসে মৌসুমি বায়ু প্রত্যাহারের সময় উত্তর ও পূর্ব ভারতের সমভূমি অঞ্চলে যে অসহ্য ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর গরমের সৃষ্টি হয়, তাকে অক্টোবর হিট বলে।
  • কারণ: বর্ষা শেষ হওয়ায় আকাশ থেকে মেঘের চাদর সরে গিয়ে প্রখর রোদ ওঠে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা একলাফে ৩৩°-৩৬° সে-তে পৌঁছে যায়। কিন্তু পূর্ববর্তী চার মাসের বর্ষার কারণে মাটি ভিজে থাকায় এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা অত্যন্ত বেশি (৮০-৮৫%) থাকায় শরীরের ঘাম বাষ্পীভূত হতে পারে না।
  • প্রভাব: এর ফলে প্রচণ্ড ঘাম হয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শরীর মারাত্মকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অক্টোবরের শেষের দিকে রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটে এবং শীতের পদধ্বনি শোনা যায়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে সমগ্র ভারতে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমে একই সময়ে বৃষ্টি শুরু হয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মৌসুমি বায়ু ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হয়; এটি জুনের ১ তারিখে কেরলে প্রবেশ করে এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সমগ্র ভারতে বিস্তৃত হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

'লু' এবং 'কালবৈশাখী'-কে একই ধরনের স্থানীয় বায়ু বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

'লু' হলো উত্তর ভারতের বৃষ্টিহীন, প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাস। অপরদিকে 'কালবৈশাখী' হলো বজ্রবিদ্যুৎ, মুষলধারে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিসহ তীব্র প্রাক-বর্ষার ঝড়।

সাধারণ ভুল ধারণা

পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে বঙ্গোপসাগরের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বলে ভুল লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হলো ভূমধ্যসাগর থেকে আগত নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত যা শীতকালে উত্তর ভারতে পশ্চিম থেকে পূর্বে আসে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

ভারতের জলবায়ু ও মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতি দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু, জেট স্ট্রিম, ঋতুচক্র ও কোপেনের জলবায়ু বিভাগ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত) আরব সাগরীয় শাখা (পশ্চিমঘাট পর্বতে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত) বঙ্গোপসাগরীয় শাখা (মেঘালয় মালভূমি ও মৌসিনরাম >১১৮৭ সেমি) উষ্ণমণ্ডলীয় পূর্বালী জেট ও তিব্বত মালভূমির তাপীয় ইঞ্জিন ITCZ (আন্তঃক্রান্তীয় অভিসারী অঞ্চল) ও মৌসুমি খাতের অবস্থান ভারতের চারটি প্রধান ঋতু (IMD শ্রেণীবিভাগ) শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি): পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও রবি শস্য গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে): কালবৈশাখী (পশ্চিমবঙ্গ) ও লু (উত্তর ভারত) বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর): বর্ষার বিস্ফোরণ ও মৌসুমি বিরতি শরৎকাল (অক্টোবর-নভেম্বর): প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি ও অক্টোবর হিট কোপেনের জলবায়ু শ্রেণীবিভাগ (Köppen's Zones) Amw: পশ্চিম উপকূলীয় মৌসুমী আর্দ্র জলবায়ু Cwg: গাঙ্গেয় সমভূমি ও আসামের নাতিশীতোষ্ণ শুষ্ক শীতকালীন জলবায়ু As: করমণ্ডল উপকূলের শুষ্ক গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি জলবায়ু পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য কালবৈশাখী: এপ্রিল-মে মাসে তীব্র বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সে অতিবৃষ্টি (>৩০০ সেমি) বনাম রাঢ়ে খরা শরতের প্রত্যাবর্তনকালে বঙ্গোপসাগরে বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় উচ্চমাধ্যমিক একাদশ শ্রেণি ভূগোল • ভারতের জলবায়ু ও মৌসুমি বায়ুর সামগ্রিক রূপরেখা

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ভারতের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির, যা ঋতুভিত্তিক বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং বৈচিত্র্যময় উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত দ্বারা চিহ্নিত।
মূল বিষয় 2
প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলির মধ্যে রয়েছে কর্কটক্রান্তি রেখা, হিমালয় পর্বতের জলবায়ুগত প্রাচীর, ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রের নৈকট্য, উচ্চতা এবং উচ্চস্তরের জেট স্ট্রিম।
মূল বিষয় 3
শীতকালে উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিম ভূমধ্যসাগরীয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে উত্তর ভারতে নিয়ে আসে, যা রবি শস্যের জন্য অপরিহার্য।
মূল বিষয় 4
গ্রীষ্মকালে তিব্বত মালভূমির উত্তাপ ক্রান্তীয় পূর্বালী জেট স্ট্রিম সৃষ্টি করে, যা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে ভারতের দিকে আকর্ষণ করে।
মূল বিষয় 5
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দুটি শাখা: আরব সাগরীয় শাখা (পশ্চিমঘাটে ভারী বৃষ্টি) এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখা (গাঙ্গেয় সমভূমি ও উত্তর-পূর্বে বৃষ্টি)।
মূল বিষয় 6
মেঘালয় মালভূমির মৌসিনরাম পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান (>১,১৮৭ সেমি), যা খাসি পাহাড়ের ফানেল আকৃতির জন্য ঘটে।
মূল বিষয় 7
গ্রীষ্মকালের স্থানীয় ঝড়গুলির মধ্যে উত্তর ভারতের 'লু' এবং পশ্চিমবঙ্গের 'কালবৈশাখী' প্রধান; কালবৈশাখী ধান ও পাটের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
মূল বিষয় 8
কোপেনের শ্রেণীবিভাগ অনুসারে ভারতে Amw (পশ্চিম উপকূল), As (করমণ্ডল উপকূল), Aw (উপদ্বীপীয় মালভূমি), Cwg (গাঙ্গেয় সমভূমি) ও BWhw (মরুভূমি) দেখা যায়।
মূল বিষয় 9
বর্ষা শেষের পরিবর্তনকালে মেঘমুক্ত আকাশ ও মাটির আর্দ্রতার জন্য উত্তর ও পূর্ব ভারতে তীব্র ভ্যাপসা 'অক্টোবর হিট' অনুভূত হয়।
মূল বিষয় 10
পশ্চিমবঙ্গে উত্তরের আর্দ্র ডুয়ার্স, পশ্চিমের খরাপ্রবণ রাঢ় এবং দক্ষিণের সমভাবাপন্ন বদ্বীপীয় ও সুন্দরবনের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ জলবায়ু বিদ্যমান।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Geography — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: শাস্ত্র রূপে ভূগোল অধ্যায় 2: পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায় 3: ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায় 4: আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায় 5: সমস্থিতি তত্ত্ব অধ্যায় 6: বারিমণ্ডল অধ্যায় 7: মানব ভূগোলের পরিধি ও বিষয়বস্তু অধ্যায় 8: অর্থনৈতিক ভূগোল অধ্যায় 9: Secondary Activities - Industry অধ্যায় 10: তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 11: চতুর্থ স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 12: পঞ্চম স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 13: এক নজরে ভারত অধ্যায় 14: ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায় 15: ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায় 16: ভারতের জলবায়ু অধ্যায় 17: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও অরণ্য অধ্যায় 18: ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ভারতের জলবায়ু অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।