ইংরেজি 'Geography' শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ 'Geo' (যার অর্থ পৃথিবী) এবং 'Graphein' (যার অর্থ বর্ণনা বা অঙ্কন করা) থেকে এসেছে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে (প্রায় ২৭৬–১৯৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গ্রিক পণ্ডিত ও জ্যোতির্বিদ ইরাটোস্থেনিস (Eratosthenes) সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। তাই ইরাটোস্থেনিসকে ভূগোলের জনক বা অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলায় 'ভূগোল' শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'ভূ' (পৃথিবী) এবং 'গোল' (গোলাকার) থেকে, অর্থাৎ গোলাকার পৃথিবীর বিজ্ঞানসম্মত রূপরেখা।
কালক্রমে ভূগোলের সংজ্ঞা কেবল বর্ণনামূলক পর্যায় থেকে গভীর কার্যকারণ বিশ্লেষণে রূপান্তরিত হয়েছে:
- রিচার্ড হার্টশোর্ন (Richard Hartshorne, ১৯৩৯): তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ 'The Nature of Geography'-তে ভূগোলকে 'আঞ্চলিক বিভেদীকরণ' (Areal Differentiation)-এর বিজ্ঞান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ভূগোল হলো ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের নির্ভুল, সুশৃঙ্খল ও যুক্তিসঙ্গত বর্ণনা ও ব্যাখ্যার বিজ্ঞান।
- আলফ্রেড হেটনার (Alfred Hettner, ১৯০৫): ভূগোলকে 'স্থানিক বিজ্ঞান' (Chorological Science) হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের উপাদানসমূহের স্থানিক সহাবস্থান ও সম্পর্ক নির্ণয় করে।
- আলেকজান্ডার ফন হামবোল্ট ও কার্ল রিটার: উনিশ শতকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক ভূগোলের ভিত্তি স্থাপন করেন, যেখানে অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও তুলনামূলক আঞ্চলিক বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
- পিটার হ্যাগেট (Peter Haggett, ১৯৭২): ভূগোলকে স্থানিক সংগঠন (Spatial Organization), নোড, নেটওয়ার্ক ও স্থানিক মিথস্ক্রিয়ার বিজ্ঞান বলে উল্লেখ করেন।
আধুনিক ভূগোল কেবল 'কোথায়' (Where - স্থানিক অবস্থান) উত্তর খোঁজে না; এটি 'কী' (What - বিষয়টির চরিত্র), 'কেন' (Why - ভৌগোলিক কার্যকারণ) এবং 'কীভাবে' (How - পরিবেশ ও মানুষের মিথস্ক্রিয়া) এই তিনটি মৌলিক প্রশ্নের নিখুঁত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রদান করে।