Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Geography • অধ্যায় 15
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী

ভারতের জলনির্গম প্রণালী ও নদী ব্যবস্থা উপমহাদেবীর ভূপ্রাকৃতিক বিবর্তন, জলবায়ু এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। নদীমাতৃক এই দেশে নদনদীগুলি কেবল চাষাবাদের জল ও পলিসমৃদ্ধ উর্বর সমভূমি গঠন করে না, বরং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, নৌপরিবহন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং অনন্য জৈববৈচিত্র্য রক্ষায় অপরিসীম ভূমিকা পালন করে। ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, জলপ্রবাহের প্রকৃতি এবং উৎপত্তি অনুসারে ভারতের নদী প্রণালীকে প্রধান দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়: হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট নিত্যবহ নদী ব্যবস্থা (সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র) এবং দক্ষিণ ভারতের বৃষ্টির জলে পুষ্ট অনিত্যবহ উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থা (গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী, মহানদী, নর্মদা ও তাপ্তি)। হিমালয় থেকে উদ্ভূত নদীগুলি নবীন ও গতিশীল; এগুলি গভীর গিরিখাত, জলপ্রপাত, পূর্ববর্তী নদী রূপ এবং বদ্বীপ গড়ে তোলে। অপরদিকে উপদ্বীপীয় নদীগুলি সুপ্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ক্ষয়ের শেষ সীমায় উপনীত হয়েছে এবং প্রশস্ত অগভীর উপত্যকার সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক নদী ব্যবস্থা—যেমন উত্তরবঙ্গের খরস্রোতা নদী (তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা), পশ্চিমের রাঢ় অঞ্চলের মালভূমিজাত নদী (দামোদর, রূপনারায়ণ, কংসাবতী) এবং সুন্দরবনের জোয়ারভাটার খাঁড়ি—বিশেষ ভৌগোলিক গুরুত্ব বহন করে। জলবিভাজিকা, নদী অববাহিকা, জলনির্গম প্রণালীর বিন্যাস এবং নমামি গঙ্গে ও নদী সংযোগ প্রকল্পের মতো আধুনিক জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

ভারতের নদী ব্যবস্থা পাঠ করা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, বন্যা ও খরা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক। ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বছরের মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে, যার ফলে একদিকে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বিধ্বংসী বন্যা দেখা দেয় এবং অন্যদিকে দাক্ষিণাত্যের বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে তীব্র খরা সৃষ্টি হয়। নদী অববাহিকা, জলবিভাজিকা ও হাইডোগ্রাফের বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান থাকলে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং জাতীয় নদী সংযোগ প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এছাড়াও ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও নগরায়নের দূষণ থেকে গঙ্গাসহ অন্যান্য পবিত্র নদীকে রক্ষা করা এবং নদীর ন্যূনতম বাস্তুতান্ত্রিক প্রবাহ বা ইকোলজিক্যাল ফ্লো (E-Flow) বজায় রাখা বর্তমান প্রজন্মের প্রধান পরিবেশগত দায়িত্ব।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 জলনির্গম প্রণালীর ধারণা, জলবিভাজিকা...
2 হিমালয় নদী ব্যবস্থা: সিন্ধু ও ব্রহ...
3 গঙ্গা নদী ব্যবস্থা: পঞ্চপ্রয়াগ, অব...
4 উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থা: পূর্ববাহিন...
5 পশ্চিমবঙ্গের নদনদী ও জলসম্পদ: আঞ্চল...
6 নদী শাসন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

জলনির্গম প্রণালীর ধারণা, জলবিভাজিকা ও নদী নকশা

১. মৌলিক হাইড্রোলজিক্যাল পরিভাষা ও ধারণা

ভূমির প্রাথমিক ঢাল, শিলাস্তরের গঠন এবং ভূ-আন্দোলনের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট জলপ্রণালী বা খাতের মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক জলের সুশৃঙ্খল প্রবাহকে জলনির্গম প্রণালী (Drainage System) বলা হয়।

  • নদী অববাহিকা (Drainage Basin / River Catchment): একটি প্রধান নদী তার যাবতীয় উপনদী ও শাখানদীসহ যে সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জল নিকাশ করে বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে ফেলে, তাকে ওই নদীর অববাহিকা বলে। ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা হলো গঙ্গা অববাহিকা (ভারতে আয়তন প্রায় ৮,৬০,০০০ বর্গ কিমি)।
  • জলবিভাজিকা (Water Divide / Watershed): দুটি পাশাপাশি অবস্থিত নদী অববাহিকাকে পরস্পর থেকে পৃথককারী উচ্চভূমি বা শৈলশিরাকে জলবিভাজিকা বলে। উভয় ঢালে পতিত বৃষ্টির জল ভিন্ন ভিন্ন নদী প্রণালীতে প্রবাহিত হয়।
    • দিল্লি শৈলশিরা ও আরাবল্লী পর্বত: পশ্চিমে সিন্ধু নদী অববাহিকা এবং পূর্বে গঙ্গা নদী অববাহিকার মধ্যে প্রধান জলবিভাজিকা হিসেবে কাজ করে।
    • বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতমালা: উত্তর ভারতের গঙ্গা প্রণালী ও দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থার জলবিভাজক।
    • পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (সহ্যাদ্রি): দক্ষিণ ভারতের প্রধান অবিচ্ছিন্ন জলবিভাজিকা, যা পশ্চিমে আরব সাগরে পতনশীল ক্ষুদ্র খরস্রোতা নদী এবং পূর্বে বঙ্গোপসাগরে পতনশীল দীর্ঘ নদীগুলিকে পৃথক করেছে।
  • পূর্ববর্তী নদী বনাম অধ্যারোপিত নদী:
    • পূর্ববর্তী নদী (Antecedent River): ভূমিরূপের উত্থানের পূর্বেই যেসব নদী বর্তমান ছিল এবং ভূ-উত্থানের সঙ্গে সমতা রেখে নিম্নক্ষয় চালিয়ে গিয়ে গভীর গিরিখাত সৃষ্টির মাধ্যমে নিজস্ব গতিপথ অপরিবর্তিত রেখেছে। যেমন: সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র, সুবনসিঁড়ি, অরুণ (কোশীর উপনদী)।
    • অধ্যারোপিত নদী (Superimposed River): নবীন শিলাস্তরের ঢাল অনুসারে গঠিত হয়ে পরে নিম্নক্ষয়ের দ্বারা নীচের প্রাচীন অসঙ্গত শিলাস্তরের ওপর নিজের গতিপথ চাপিয়ে দেওয়া নদী। যেমন: সুবর্ণরেখা, চম্বল, দামোদর, বানাস।
২. জলনির্গম প্রণালীর জ্যামিতিক বিন্যাস বা নদী নকশা (Drainage Patterns)
নদী নকশার নাম গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও শিলার প্রকৃতি ভারতীয় উদাহরণ
বৃক্ষরূপী (Dendritic Pattern) শাখা-প্রশাখাসহ গাছের ডালপালার মতো বিন্যাস; উপনদীগুলি মূল নদীতে সূক্ষ্মকোণে মিলিত হয়। সমজাতীয় ও অনুভূমিক শিলাস্তরে গঠিত। উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল, গঙ্গা, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও মহানদী অববাহিকা।
জাফরীরূপী (Trellis Pattern) পরস্পর সমান্তরাল প্রধান অনুগামী নদী এবং তাদের সঙ্গে সমকোণে মিলিত পরবর্তী নদী। ভাঁজযুক্ত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমিক কঠিন ও কোমল শিলাস্তরে গড়ে ওঠে। শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশ, ছোটনাগপুর মালভূমির প্রান্তভাগ এবং সিংভূম অঞ্চল।
অরীয় নদী নকশা (Radial Pattern) কোনো কেন্দ্রীয় গম্বুজাকৃতি উচ্চভূমি বা আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে নদীগুলি চাকার স্পোকের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অমরকণ্টক মালভূমি (এখান থেকে নর্মদা পশ্চিমে, শোন উত্তরে এবং জোহিলা নির্গত হয়েছে), গিরনার পাহাড়।
কেন্দ্রমুখী (Centripetal Pattern) চারিদিকের উচ্চভূমি থেকে নদীগুলি প্রবাহিত হয়ে কেন্দ্রীয় কোনো হ্রদ বা নিম্নভূমিতে এসে মিলিত হয়। মণিপুরের লোকটাক হ্রদ অববাহিকা, রাজস্থানের সম্বর লবণাক্ত হ্রদ।
আয়তাকার (Rectangular Pattern) নদীগুলি পরস্পরের সঙ্গে সমকোণে বাঁক নেয়; শিলাস্তরের সন্ধি (Joints) ও চ্যুতিরেখা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিন্ধ্য পর্বতের বেলেপাথর অঞ্চল এবং বুন্দেলখণ্ডের গ্রানাইট শিলাযুক্ত ফাটল অঞ্চল।
সমান্তরাল (Parallel Pattern) নদীগুলি অত্যন্ত খাড়া ঢালের ওপর দিয়ে পরস্পর সমান্তরালভাবে দ্রুত প্রবাহিত হয়। পশ্চিমঘাট পর্বতের খাড়া পশ্চিম ঢাল বেয়ে আরব সাগরে পতনশীল নদীসমূহ (যেমন: শরাবতী, নেত্রাবতী, পেরিয়ার)।

হিমালয় নদী ব্যবস্থা: সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা

১. হিমালয় থেকে উদ্ভূত নদনদীর বৈশিষ্ট্য

হিমালয়ের তুষারাবৃত শৃঙ্গ ও হিমবাহ থেকে সৃষ্ট নদীগুলির প্রধান ভৌগোলিক লক্ষণগুলি হলো:

  • নিত্যবহ প্রবাহ (Perennial Nature): এই নদীগুলি গ্রীষ্মকালে বরফগলা জলে এবং বর্ষাকালে মৌসুমি বৃষ্টিতে পুষ্ট থাকে; ফলে সারাবছর পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ বজায় থাকে।
  • যৌবন অবস্থার প্রাধান্য: পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল নিম্নক্ষয়ের কারণে গভীর 'V' আকৃতির উপত্যকা, সুগভীর গিরিখাত (যেমন সিন্ধু গিরিখাত ও দিহং গিরিখাত), খরস্রোত ও জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
  • পলিগঠন ও গতিপথ পরিবর্তন: সমভূমিতে প্রবেশ করার পর বিপুল পলি সঞ্চয়ের ফলে নদীখাত ভরাট হয়ে যায়, যার ফলে বিনুনি রূপ (Braided channel), অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ এবং ভয়াবহ গতিপথ পরিবর্তন দেখা যায়।
২. সিন্ধু নদী ব্যবস্থা (Indus River System)

সিন্ধু নদ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম নদী। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৮৮০ কিমি (ভারতে ১,১১৪ কিমি) এবং মোট অববাহিকার ক্ষেত্রফল ১১,৬৫,০০০ বর্গ কিমি (ভারতে ৩,২১,২৮৯ বর্গ কিমি)।

  • উৎস: তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে কৈলাস পর্বতমালার উত্তরে বোখার চু (Bokhar Chu) হিমবাহ থেকে (~৪,১৬৪ মিটার উচ্চতায়)। তিব্বতে এর নাম সিংগি খাম্বান (Singi Khamban) বা 'সিংহের মুখ'।
  • ভারতে প্রবাহ: লাদাখ ও জাস্কর পর্বতের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে লেহ অতিক্রম করে এবং গিলগিটের কাছে সুগভীর গিরিখাত (৫,১৮০ মিটার গভীর) তৈরি করে পাকিস্তানে প্রবেশ করে।
  • ডান তীরের উপনদী: শ্যোক, গিলগিট, হুঞ্জা, শিগার, দ্রাস, কাবুল, কুররম এবং গোমাল।
  • বাম তীরের পঞ্চনদ (The Panjnad):
    • ঝিলাম (Jhelum / বিতস্তা): কাশ্মীরের পীরপাঞ্জালের পাদদেশে ভেরিনাগ প্রস্রবণ থেকে উৎপত্তি; শ্রীনগর ও উলার হ্রদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
    • চন্দ্রভাগা (Chenab / অশিক্নি): সিন্ধুর বৃহত্তম উপনদী; হিমাচল প্রদেশের লাহুল অঞ্চলে চন্দ ও ভাগা নদীর মিলনে গঠিত।
    • ইরাবতী (Ravi / পুরুষিণী): হিমাচল প্রদেশের কুল্লু পাহাড়ের রোহতাং পাসের কাছ থেকে উৎপন্ন।
    • বিপাশা (Beas / বিপাশা): রোহতাং পাসের বিয়াস কুণ্ড থেকে উৎপন্ন; সম্পূর্ণভাবে ভারতের মধ্যে প্রবাহিত হয়ে পাঞ্জাবের হারিকে-তে শতদ্রুর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
    • শতদ্রু (Satluj / শতদ্রু): পূর্ববর্তী নদী; তিব্বতের মানসরোবরের কাছে রাক্ষসতাল (Rakas Lake) থেকে উৎপন্ন; শিবকি লা গিরিপথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে; ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ এই নদীর ওপর নির্মিত।
  • সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty, ১৯৬০): বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত। এই চুক্তি অনুসারে পূর্বের তিনটি নদীর (রবি, বিয়াস, শতদ্রু) জলের ওপর ভারতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং পশ্চিমের তিনটি নদীর (সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাব) জল প্রধানত পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ।
৩. ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা (Brahmaputra River System)

তিব্বতের মানস সরোবরের দক্ষিণ-পূর্বে কৈলাস পর্বতের চেমাযুংদুং হিমবাহ থেকে উৎপন্ন (~৫,১৫০ মিটার উচ্চতায়):

  • তিব্বতে প্রবাহ: তিব্বতে নদীটি সাংপো (Tsangpo) নামে পরিচিত, যার অর্থ 'পবিত্রকারী'। এটি হিমালয়ের সমান্তরালে পূর্বদিকে প্রায় ১,২০০ কিমি পথ অতিক্রম করে।
  • নামচা বারওয়া ও গ্রেট ইউ-টার্ন: নামচা বারওয়া শৃঙ্গের (৭,৭৫৭ মিটার) কাছে নদীটি আকস্মিকভাবে ইংরেজী 'U' অক্ষরের মতো বাঁক নিয়ে পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত (ইয়ারলুং সাংপো গিরিখাত) তৈরি করে অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে। সেখানে এর নাম শিয়াং এবং পরে দিহং।
  • আসাম উপত্যকা ও ব্রহ্মপুত্র নাম ধারণ: সাদিয়ার কাছে দিহং নদীর সঙ্গে পূর্ব দিক থেকে আগত দুটি প্রবল উপনদী—দিবাং ও লোহিত মিলিত হয়। এই ত্রিবেণী সঙ্গমের পর থেকেই নদীটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রহ্মপুত্র নামে অভিহিত হয়।
  • প্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য:
    • বিনুনি নদী ও মাজুলি দ্বীপ: আসাম উপত্যকায় বিপুল পলি সঞ্চয় ও মৃদু ঢালের কারণে নদীটি বিনুনি রূপ ধারণ করেছে। এই নদীখাতে অবস্থিত মাজুলি দ্বীপ হলো বিশ্বের বৃহত্তম জনবসতিপূর্ণ নদীদ্বীপ এবং ভারতের প্রথম নদীদ্বীপ জেলা।
    • প্রধান উপনদী: ডান তীরের: সুবনসিঁড়ি (পূর্ববর্তী নদী), কামেং, মানস, সংকোষ ও তিস্তা। বাম তীরের: বুড়ি দিহিং, ধানসিঁড়ি ও কপিলী।
    • বাংলাদেশে প্রবেশ: ধুবড়ির কাছে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নদীটির নাম হয় যমুনা। পরে এটি পদ্মার (গঙ্গা) সঙ্গে মিলিত হয় এবং অবশেষে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।

গঙ্গা নদী ব্যবস্থা: পঞ্চপ্রয়াগ, অববাহিকা ও বদ্বীপ

১. গঙ্গার উৎপত্তি ও গাড়োয়াল হিমালয়ের পঞ্চপ্রয়াগ

গঙ্গা ভারতের জাতীয় নদী এবং সর্বপ্রধান নদী (দৈর্ঘ্য ২,৫২৫ কিমি)। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে (উচ্চতা ৩,৮৯২ মিটার) গঙ্গার মূল ধারা ভাগীরথী হিসেবে নির্গত হয়েছে। অপরদিকে বদ্রীনাথের ওপরের সতোপন্থ ও ভাগীরথ খড়ক হিমবাহ থেকে অলকানন্দা নদী নির্গত হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয়ে অলকানন্দা নদীর গতিপথে পাঁচটি পবিত্র সঙ্গমস্থল সৃষ্টি হয়েছে, যা ভূগোল ও সংস্কৃতিতে পঞ্চপ্রয়াগ নামে খ্যাত:

প্রয়াগের নাম প্রধান নদী মিলিত উপনদী ভৌগোলিক ও বিশেষ গুরুত্ব
১. বিষ্ণুপ্রয়াগ (Vishnuprayag) অলকানন্দা ধৌলীগঙ্গা বদ্রীনাথের নিম্নে জোশীমঠের কাছে প্রথম সঙ্গম।
২. নন্দপ্রয়াগ (Nandaprayag) অলকানন্দা নন্দাকিনী নন্দাদেবী পর্বতের পশ্চিম ঢাল থেকে আগত নদী।
৩. কর্ণপ্রয়াগ (Karnaprayag) অলকানন্দা পিন্দার নদী কুমায়ুনের পিন্ডারী হিমবাহ থেকে পিন্দার নদী নেমে এসেছে।
৪. রুদ্রপ্রয়াগ (Rudraprayag) অলকানন্দা মন্দাকিনী (কালিগঙ্গা) কেদারনাথের চোরাবাড়ি হিমবাহ থেকে মন্দাকিনী প্রবাহিত।
৫. দেবপ্রয়াগ (Devprayag) অলকানন্দা ভাগীরথী ঐতিহাসিক সঙ্গমস্থল; এখান থেকেই মিলিত ধারার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে 'গঙ্গা' হয়।
২. গঙ্গার গতিপথ ও উপনদীসমূহ

হরিদ্বারের কাছে গঙ্গা শিবালিক পর্বত অতিক্রম করে উত্তর ভারতের সমভূমিতে প্রবেশ করেছে। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি অসংখ্য উপনদীর জল গ্রহণ করেছে:

  • ডান তীরের উপনদী:
    • যমুনা (Yamuna): গঙ্গার দীর্ঘতম ও সর্বপ্রধান উপনদী (দৈর্ঘ্য ১,৩৭৬ কিমি)। বান্দরপুঁছ শৃঙ্গের যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন। প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদ) ত্রিবেণী সঙ্গমে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। যমুনার নিজস্ব উপনদী হলো চম্বল (উচ্চারিত খাড়া গিরিখাত ও ব্যাডল্যান্ড ভূমিরূপের জন্য বিখ্যাত), সিন্ধ, বেতোয়া এবং কেন।
    • শোন (Son): অমরকণ্টক মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে পাটনার কাছে গঙ্গায় পতিত হয়েছে।
    • দামোদর: ছোটনাগপুর থেকে উৎপন্ন হয়ে নিম্নবঙ্গে হুগলী নদীতে মিলিত হয়েছে।
  • বাম তীরের উপনদী:
    • রামগঙ্গা: কুমায়ুন হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে কনৌজের কাছে গঙ্গায় মেশে।
    • গোমতী: উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটের ফুলহর হ্রদ থেকে সমভূমিজাত নদী হিসেবে উৎপন্ন; লখনউ শহর এর তীরে অবস্থিত।
    • ঘর্ঘরা (Ghaghara / কর্নালী): তিব্বতের মাপচাচুংগো হিমবাহ থেকে উৎপন্ন; জলবহনের দিক থেকে গঙ্গার বৃহত্তম উপনদী; ছাপরার কাছে গঙ্গায় মিলিত।
    • গণ্ডক (Gandak): নেপাল হিমালয়ের ধৌলাগিরি ও এভারেস্টের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে পাটনার কাছে সোনপুরে মিলিত।
    • কোশী (Kosi): সপ্তকোশীর মিলিত ধারা; প্রধান ধারা অরুণ তিব্বত থেকে আগত পূর্ববর্তী নদী; ঘনঘন গতিপথ পরিবর্তন ও বিধ্বংসী বন্যার কারণে একে 'বিহারের দুঃখ' বলা হয়।
    • মহানন্দা (Mahananda): দার্জিলিং পাহাড়ের মহলাধিরাম থেকে উৎপন্ন; ভারতে গঙ্গার শেষ বাম তীরের উপনদী।
৩. ফারাক্কায় বিভাজন ও গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা-র কাছে গঙ্গা দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়েছে:

  1. ভাগীরথী-হুগলী: মূল শাখাটি পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় ও বদ্বীপ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে কলকাতা ও হলদিয়া পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে গঙ্গাসাগরে পতিত হয়েছে।
  2. পদ্মা: প্রধান জলধারাটি দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যেখানে এটি যমুনা (ব্রহ্মপুত্র) ও মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় বদ্বীপ—সুন্দরবন বদ্বীপ গড়ে তুলেছে।

উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থা: পূর্ববাহিনী ও পশ্চিমবাহিনী নদনদী

১. উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থা হিমালয়ের নদীর তুলনায় ভূতাত্ত্বিকভাবে অনেক বেশি প্রাচীন। এই নদীগুলি প্রৌঢ় ও বার্ধক্য অবস্থায় অবস্থান করছে এবং ভূমির ক্ষয়সীমায় পৌঁছে বিন্যস্ত অনুদৈর্ঘ্য ঢাল (Graded profile) লাভ করেছে।

  • পশ্চিম ঢালের নিমজ্জন: টারশিয়ারি যুগে উপদ্বীপীয় ভূখণ্ডের পশ্চিমভাগ সমুদ্রে বসে যাওয়ার ফলে পশ্চিমঘাট পর্বতের খাড়া চ্যুতিভৃগু সৃষ্টি হয়।
  • উপদ্বীপের সাধারণ ঢাল: ভূখণ্ডের সাধারণ ঢাল উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে হওয়ার কারণে অধিকাংশ বড় নদী বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
  • গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley): বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী চ্যুতিজনিত গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে সাধারণ ঢালের বিপরীতে নর্মদা ও তাপ্তি নদী পশ্চিমে আরব সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
২. পূর্ববাহিনী উপদ্বীপীয় নদী (বঙ্গোপসাগরে পতনশীল)
নদীর নাম দৈর্ঘ্য ও অববাহিকা উৎসস্থল প্রধান উপনদী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও বদ্বীপ
মহানদী (Mahanadi) ৮৫১ কিমি
১,৪১,৬০০ বর্গ কিমি
ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার সিহাওয়া পাহাড় বাম: শিবনাথ, হাসদেও, মান্ড, ইব।
ডান: ওং, জোঙ্ক, তেল।
ওড়িশার সম্বলপুরে হীরাকুঁদ বাঁধ (বিশ্বের দীর্ঘতম মাটির বাঁধ)। পারাদ্বীপে সুবিশাল বদ্বীপ গঠিত।
গোদাবরী (Godavari)
'দক্ষিণ গঙ্গা'
১,৪৬৫ কিমি (দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী)
৩,১২,৮১২ বর্গ কিমি
মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ত্র্যম্বকেশ্বর (পশ্চিমঘাট পর্বত) বাম: পেনগঙ্গা, ওয়ার্ধা, ওয়েনগঙ্গা (সম্মিলিত ধারা প্রাণহিতা), ইন্দ্রাবতী, শবরী।
ডান: মঞ্জিরা।
পোলাভরম প্রকল্প, শ্রীরাম সাগর। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামুন্দ্রির কাছে বিশাল ধনুকাকৃতি বদ্বীপ তৈরি করেছে।
কৃষ্ণা (Krishna) ১,৪০১ কিমি
২,৫৮,৯৪৮ বর্গ কিমি
মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বরের কাছে পশ্চিমঘাট পর্বত ডান: কয়না, পঞ্চগঙ্গা, ঘাটপ্রভা, মালপ্রভা, তুঙ্গভদ্রা।
বাম: ভীমা, মুসী, মুন্নেরু।
নাগার্জুন সাগর বাঁধ, শ্রীশৈলম বাঁধ, আলমাটি বাঁধ। বিজয়ওয়াড়ায় বদ্বীপ গড়ে তুলেছে।
কাবেরী (Kaveri)
'দক্ষিণের গঙ্গা'
৮০০ কিমি
৮১,১৫৫ বর্গ কিমি
কর্ণাটকের কুর্গ জেলার ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের তালাকাবেরী বাম: হারাঙ্গি, হেমাRule, শিমশা, অর্কাবতী।
ডান: লক্ষ্মণতীর্থ, ভবানী, অমরাবতী, কাবিনী।
নিত্যবহ চরিত্র: উচ্চ অববাহিকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং নিম্ন অববাহিকায় উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বছরে দুবার বর্ষা পায়। শিবসমুদ্রম জলপ্রপাত ও মেত্তুর বাঁধ।
৩. পশ্চিমবাহিনী উপদ্বীপীয় নদী (আরব সাগরে পতনশীল)

পশ্চিমবাহিনী নদীগুলি মোহনায় কোনো বদ্বীপ গড়ে তোলে না; পরিবর্তে এগুলি গভীর খাড়ি (Estuary) ও উপহ্রদ তৈরি করে সাগরে পতিত হয়:

  • নর্মদা (Narmada): পশ্চিমবাহিনী নদীগুলির মধ্যে দীর্ঘতম (দৈর্ঘ্য ১,৩১২ কিমি)। মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টক মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তরে বিন্ধ্য ও দক্ষিণে সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জবলপুরের কাছে মার্বেল পাথরের ওপর সৃষ্টি করেছে নয়নাভিরাম ধুঁয়াধার জলপ্রপাত। প্রধান বহুমুখী প্রকল্প হলো সর্দার সরোবর বাঁধ (গুজরাট)। খাম্বাত উপসাগরে ২৭ কিমি দীর্ঘ মোহনা বা খাড়ির মাধ্যমে পতিত হয়েছে।
  • তাপ্তি (Tapi / Tapti): দ্বিতীয় প্রধান পশ্চিমবাহিনী নদী (দৈর্ঘ্য ৭২৪ কিমি)। মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার মুলতাই মালভূমি থেকে উৎপন্ন। সাতপুরা পর্বতের দক্ষিণে সমান্তরাল গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট হয়ে সুরাটের কাছে খাম্বাত উপসাগরে পতিত হয়েছে। প্রধান বাঁধ: উকাই প্রকল্প ও কাকরাপাড়া প্রকল্প।
  • অন্যান্য পশ্চিমবাহিনী নদী:
    • সবরমতী: রাজস্থানের মেওয়ারের আরাবল্লী পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে আহমেদাবাদের মধ্য দিয়ে খাম্বাত উপসাগরে পতিত।
    • মাহি: মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্য পাহাড় থেকে উৎপন্ন; কর্কটক্রান্তি রেখাকে দুবার অতিক্রম করেছে।
    • লুনি (Luni): থর মরুভূমির প্রধান অন্তঃস্থ নদী (Inland Drainage)। আজমিরের কাছে আরাবল্লী থেকে উৎপন্ন হয়ে কচ্ছের রণে বিলীন হয়েছে। বালোত্রা পর্যন্ত জল মিষ্টি এবং নিম্নে লবণাক্ত।
    • গোয়ার নদী: মাণ্ডবী ও জুয়ারী (মার্মাগাও বন্দর জুয়ারী নদীর মোহনায় অবস্থিত)।
    • কর্ণাটকের নদী: শরাবতী (এর ওপর ভারতের বিখ্যাত যোগ বা গেরসোপ্পা জলপ্রপাত অবস্থিত, উচ্চতা ২৫৩ মিটার) ও কালী।
    • কেরালার নদী: পেরিয়ার (কেরালার দীর্ঘতম নদী, ২৪৪ কিমি; ইদুক্কি খিলান বাঁধ) ও ভারতপুঝা।

পশ্চিমবঙ্গের নদনদী ও জলসম্পদ: আঞ্চলিক ভূগোল ও ব্যবস্থাপনা

১. পশ্চিমবঙ্গের নদনদীর ভূপ্রাকৃতিক শ্রেণীবিভাগ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গের নদী প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূপ্রাকৃতিক গঠন ও প্রবাহ অনুসারে রাজ্যের নদনদীকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

পশ্চিমবঙ্গের তিন নদী অঞ্চল:
১. উত্তরবঙ্গের হিমালয়জাত খরস্রোতা নদনদী
২. পশ্চিমের মালভূমি ও রাঢ় অঞ্চলের নদনদী
৩. সুন্দরবন অঞ্চলের জোয়ারভাটার নদী ও খাড়ি
২. উত্তরবঙ্গের নদনদী (হিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন)

এই নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট নিত্যবহ, প্রচণ্ড খরস্রোতা এবং বর্ষাকালে তরাই ও ডুয়ার্স সমভূমিতে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে:

  • তিস্তা (Teesta - উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন): উত্তর সিকিমের পৌহুনরী হিমবাহের চো লামো হ্রদ থেকে উৎপন্ন (~৭,০৬৮ মিটার উচ্চতায়)। দার্জিলিং হিমালয়ে গভীর গিরিখাত সৃষ্টি করে তিস্তা বাজারে রঙ্গিত নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সেভকের কাছে সমভূমিতে নেমে জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশে যমুনায় পতিত হয়েছে। ঐতিহাসিক দিক: ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পূর্বে তিস্তা গঙ্গার উপনদী ছিল; বন্যার পর গতিপথ বদলে এটি ব্রহ্মপুত্রের সাথে যুক্ত হয়।
  • তোর্সা (Torsa): তিব্বতের চুম্বি উপত্যকায় আমো চু নামে উৎপন্ন হয়ে ভুটান ও আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
  • জলঢাকা (Jaldhaka): সিকিমের বিদাং হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভুটান, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার হয়ে বাংলাদেশে যমুনায় পতিত হয়েছে। ঝালং-এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে।
  • মহানন্দা (Mahananda): দার্জিলিং-এর কার্শিয়াং-এর কাছে মহলাধিরাম পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে শিলিগুড়ি ও মালদার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে গঙ্গায় মিশেছে। এর প্রধান উপনদী হলো বালাসন ও মেচী।
  • অন্যান্য নদী: কালজানী, রায়ডাক, সংকোষ (পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমানা নির্দেশক)।
৩. পশ্চিমের মালভূমি ও রাঢ় অঞ্চলের নদনদী (ছোটনাগপুর থেকে উৎপন্ন)

এই নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট অনিত্যবহ; বর্ষাকালে বিধ্বংসী হড়পা বান ও বন্যায় রূপ নেয় এবং গ্রীষ্মকালে জলহীন বালুকাময় খাতে পরিণত হয়:

  • দামোদর (Damodar - 'বাংলার দুঃখ'): ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার ছোটনাগপুর মালভূমির খামারপাত পাহাড় থেকে উৎপন্ন। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান ও হুগলীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উলুবেড়িয়ার কাছে হুগলী নদীতে মিশেছে। অতীতে প্রতিবছর বর্ধমান ও নিম্নবঙ্গে প্লাবন ঘটাত বলে একে 'বাংলার দুঃখ' বলা হতো। ১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি ভ্যালি অথরিটির (TVA) অনুকরণে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) গড়ে তোলা হয়। প্রধান বাঁধ: তিলাইয়া, মাইথন, কোনার, পাঞ্চেত এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ।
  • রূপনারায়ণ (Rupnarayan): পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের কাছে দ্বারকেশ্বর ও শিলাই (শিলাবতী) নদীর মিলনে রূপনারায়ণ গঠিত হয়ে গেঁওখালির কাছে হুগলীতে মিশেছে।
  • কংসাবতী বা কাঁসাই (Kangsabati): পুরুলিয়ার ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে উৎপন্ন; কুমারী নদীর সঙ্গমে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাটির বাঁধ নির্মিত হয়েছে।
  • ময়ূরাক্ষী (Mayurakshi): ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের ত্রিকূট পাহাড় থেকে উৎপন্ন; এর ওপর নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত ম্যাসানজোড় বাঁধ (কানাডা বাঁধ)।
  • সুবর্ণরেখা (Subarnarekha): রাঁচি মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে পুরুলিয়া, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে; হুড্রু জলপ্রপাত এর ওপর অবস্থিত; নদীগর্ভের বালিতে স্বর্ণরেণু পাওয়ার জন্য এই নামকরণ।
৪. সুন্দরবনের জোয়ারভাটার নদনদী ও নদীখাঁড়ি

দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলি মূলত সমুদ্রের জোয়ারের জলে পুষ্ট লবণাক্ত খাড়ি। প্রধান নদীগুলির মধ্যে রয়েছে মাতলা, গোসাবা, বিদ্যাধরী, রায়মঙ্গল, সপ্তমুখী, ঠাকুরান, কালিন্দী ও পিয়ালী। পলি জমে মূল গঙ্গার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এদের অধিকাংশই স্থানীয় নদীখাতে রূপ নিয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত জলে প্লাবিত হয়।

হুগলী নদীর বাণ ডাকা (Tidal Bore): বর্ষাকালে ভরা কোটালে সমুদ্রের তীব্র জোয়ারের জল যখন ফানেল আকৃতির হুগলী নদীর অগভীর মোহনায় প্রবেশ করে, তখন বিপরীতমুখী নদীপ্রবাহের মুখোমুখি হয়ে ৫-৬ মিটার উঁচু জলপ্রাচীরের মতো গর্জন করতে করতে উজানের দিকে ধেয়ে আসে। একে বাণ ডাকা বলা হয়।

নদী শাসন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী সংযোগ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ

১. নদীর জলপ্রবাহের প্রকৃতি বা রিভার রেজিম (River Regime)

বছরের বিভিন্ন ঋতুতে নদীর জলপ্রবাহের পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধির বাৎসরিক নকশাকে নদী শাসন বা রিভার রেজিম বলে, যা বাৎসরিক হাইড্রোগ্রাফের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়:

  • উত্তর ভারতের হিমালয় নদীর রেজিম (দ্বি-শীর্ষ হাইড্রোগ্রাফ): বছরে দুবার জলস্ফীতি ঘটে—প্রথমত মে-জুন মাসে প্রবল গ্রীষ্মে বরফ গলার কারণে, এবং দ্বিতীয়ত জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে। শীতকালে জলপ্রবাহ সর্বনিম্ন থাকে।
  • দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপীয় নদীর রেজিম (একক-শীর্ষ হাইড্রোগ্রাফ): বরফগলা জলের জোগান না থাকায় প্রবাহ কেবল বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। জুলাই-আগস্টে জলপ্রবাহের তীব্র শীর্ষ দেখা যায় এবং গ্রীষ্মে নদীগুলি প্রায় শুকিয়ে যায়। (ব্যতিক্রম: কাবেরী নদী, যা বছরে দুবার মৌসুমি বৃষ্টি পায়)।
২. জাতীয় নদী সংযোগ প্রকল্প (National River Interlinking Project)

ভারতের পূর্বাঞ্চলের উদ্বৃত্ত জলধারাকে খরাপীড়িত পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে স্থানান্তর করার লক্ষ্যে জাতীয় জল উন্নয়ন সংস্থা (NWDA) এই মেগা প্রকল্প পরিকল্পনা করেছে, যা দুটি ভাগে বিভক্ত:

  1. হিমালয় অংশ (১৪টি সংযোগ): গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের অতিরিক্ত জল পশ্চিমে সিন্ধু এবং দক্ষিণে মহানদী অববাহিকায় পাঠানো।
  2. উপদ্বীপীয় অংশ (১৬টি সংযোগ): দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির মধ্যে জল বণ্টন। এর মধ্যে কেন-বেতোয়া সংযোগ প্রকল্প (KBLP) হলো ভারতের প্রথম কার্যকরী নদী সংযোগ পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের কেন নদীর অতিরিক্ত জল উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের খরাপীড়িত বেতোয়া নদীতে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।
৩. নদী দূষণ, নমামি গঙ্গে ও ইকোলজিক্যাল ফ্লো (E-Flow)

অনিয়ন্ত্রিত পৌর বর্জ্য, নিকাশী নালার অপরিশোধিত জল, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং শিল্পজাত তরল বর্জ্যের কারণে ভারতের প্রধান নদীগুলি মারাত্মকভাবে দূষিত:

  • নমামি গঙ্গে প্রকল্প (Namami Gange Programme): ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা নদীর দূষণরোধ, পুনরুজ্জীবন ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য এই সমন্বিত ফ্ল্যাগশিপ মিশন চালু করে। এর প্রধান স্তম্ভগুলির মধ্যে রয়েছে:
    • আধুনিক পয়ঃপ্রণালী শোধনাগার (STP) স্থাপন করে সরাসরি নর্দমার জল ফেলা বন্ধ করা।
    • নদী তীরবর্তী শ্মশান ও ঘাট সংস্কার (বারাণসী, হরিদ্বার, কানপুর)।
    • গাঙ্গেয় শুশুক (Gangetic Dolphin) ও জলজ প্রাণীর সংরক্ষণ।
    • নদীর দুই তীরে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও জৈব কৃষিকাজ উৎসাহিত করা।
  • ন্যূনতম বাস্তুতান্ত্রিক প্রবাহ (Environmental Flow / E-Flow): নদীগর্ভের মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য এবং বর্জ্য নিষ্কাশন ও পলি সঞ্চালনের জন্য বাঁধ বা ব্যারেজের ভাটিতে যে ন্যূনতম পরিমাণ অবিচ্ছিন্ন জলপ্রবাহ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, তাকে পরিবেশগত প্রবাহ বা ই-ফ্লো বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা, সূত্র ও পরিমাপক

হরটনের দ্বিধাবিভক্তি অনুপাত সূত্র (Bifurcation Ratio)
$$R_b = N_u / N_{u+1}$$
নদীর জলনির্গম পরিমাপ সূত্র (Discharge Continuity Principle)
$$Q = A \times V$$
জলনির্গম ঘনত্ব পরিমাপ সূত্র (Drainage Density)
$$D_d = \sum L / A$$

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
উৎস, প্রবাহের প্রকৃতি, উপত্যকার ক্ষয়চক্র এবং বদ্বীপ গঠনের ভিত্তিতে উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর মধ্যে তুলনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

উত্তর ভারতের (হিমালয়জাত) এবং দক্ষিণ ভারতের (উপদ্বীপীয়) নদনদীর মধ্যে প্রধান তুলনামূলক পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:

১. উৎপত্তি ও জলের উৎস:

  • উত্তর ভারতের নদী: হিমালয় ও তিব্বতের উচ্চ তুষারাবৃত শৃঙ্গ ও হিমবাহ থেকে উৎপন্ন (যেমন: গঙ্গোত্রী, বোখার চু, চেমাযুংদুং)। এগুলি বরফগলা জল ও বর্ষার জল উভয় দ্বারাই পুষ্ট; তাই সারাবছর জল থাকে (নিত্যবহ)।
  • দক্ষিণ ভারতের নদী: তুলনামূলক কম উচ্চতার পশ্চিমঘাট, বিন্ধ্য বা সাতপুরা পর্বত থেকে উৎপন্ন (যেমন: ত্র্যম্বকেশ্বর, মহাবালেশ্বর, অমরকণ্টক)। এগুলি কেবল বৃষ্টির জলে পুষ্ট; তাই গ্রীষ্মে জল অত্যন্ত কমে যায় বা শুকিয়ে যায় (অনিত্যবহ)।

২. ক্ষয়চক্রের অবস্থা ও উপত্যকার রূপ:

  • উত্তর ভারতের নদী: নবীন ভঙ্গিল পর্বতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষয়চক্রের যৌবন অবস্থায় রয়েছে। গভীর 'V' আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত ও গিরিখাত সৃষ্টি করে।
  • দক্ষিণ ভারতের নদী: প্রাচীন ক্ষয়প্রাপ্ত মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ক্ষয়চক্রের প্রৌঢ় বা বার্ধক্য অবস্থায় উপনীত হয়েছে। উপত্যকাগুলি অগভীর, চওড়া এবং বিন্যস্ত ঢালযুক্ত।

৩. গতিপথের পরিবর্তন ও পলি পরিবহন:

  • উত্তর ভারতের নদী: প্রচুর পলি বহন করে এবং সমভূমিতে নদীখাত ভরাট হয়ে বারবার গতিপথ পরিবর্তন ও বন্যা ঘটায় (যেমন কোশী ও ব্রহ্মপুত্র)।
  • দক্ষিণ ভারতের নদী: কঠিন প্রাচীন শিলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পলি কম থাকে এবং এদের গতিপথ সুনির্দিষ্ট ও স্থির।

৪. বদ্বীপ বনাম মোহনা গঠন:

  • উত্তর ভারতের নদী: সমুদ্রে পতনের মুখে বিশাল বিস্তৃত ধনুকাকৃতি বদ্বীপ গঠন করেছে (যেমন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ)।
  • দক্ষিণ ভারতের নদী: পূর্ববাহিনী নদীগুলি (গোদাবরী, কৃষ্ণা) বদ্বীপ গঠন করলেও পশ্চিমবাহিনী নদীগুলি (নর্মদা, তাপ্তি) কোনো বদ্বীপ গড়ে তোলে না, সরাসরি খাড়ির মাধ্যমে সমুদ্রে পড়ে।
উদাহরণ 2
পূর্ববর্তী নদী (Antecedent River) কাকে বলে? ভারতীয় হিমালয়ের নদীগুলির সাপেক্ষে এর উপযুক্ত ভৌগোলিক ব্যাখ্যা দাও।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

১. পূর্ববর্তী নদীর সংজ্ঞা: কোনো নদী প্রণালী গঠিত হওয়ার পর যদি তার গতিপথ বরাবর কোনো নতুন পর্বতমালা বা উচ্চভূমির ভূ-উত্থান ঘটে, এবং নদীটি যদি সেই উত্থানের হারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমহারে নিম্নক্ষয় চালিয়ে গিয়ে নিজের পূর্বতন গতিপথ অক্ষুণ্ণ রাখে, তবে সেই নদীকে পূর্ববর্তী নদী (Antecedent River) বলা হয়।

২. গিরিখাত সৃষ্টির ভৌগোলিক প্রক্রিয়া: পর্বত উত্থানের ফলে নদীর ঢাল বৃদ্ধি পায়, যার ফলে নদীর নিম্নক্ষয় ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। উত্থানশীল শৈলশিরার গায়ে নদীটি উল্লম্বভাবে ক্ষয় চালিয়ে অত্যন্ত খাড়া ও সংকীর্ণ সুগভীর গিরিখাত (Gorge বা Canyon) কেটে বেরিয়ে যায়। ফলে ভূপ্রকৃতি বদলে গেলেও নদীর মানচিত্রীয় গতিপথ পরিবর্তিত হয় না।

৩. ভারতীয় উদাহরণ:

  • সিন্ধু নদ: লাদাখ ও কারাকোরামের উত্থানের সাথে সাথে কেটে গভীর সিন্ধু গিরিখাত (গিলগিটের কাছে ৫,১৮০ মিটার গভীর) তৈরি করেছে।
  • ব্রহ্মপুত্র নদ: হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অক্ষীয় বাঁকে নামচা বারওয়া শৃঙ্গের পাশ দিয়ে পৃথিবীর গভীরতম ইয়ারলুং সাংপো গিরিখাত তৈরি করে ভারতে প্রবেশ করেছে।
  • শতদ্রু নদী: জাস্কর ও বৃহত্তর হিমালয়কে চিরে গভীর শিবকি লা গিরিখাত কেটে ভারতে প্রবেশ করেছে।
  • অরুণ ও সুবনসিঁড়ি: হিমালয় উত্থানের পূর্ববর্তী নদী হিসেবে সরাসরি মূল হিমালয় পর্বতমালাকে ভেদ করেছে।
উদাহরণ 3
অলকানন্দা নদীর গতিপথে অবস্থিত পঞ্চপ্রয়াগের নাম ক্রমানুসারে লেখো এবং প্রতিটি প্রয়াগে কোন কোন নদী মিলিত হয়েছে তা উল্লেখ করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয়ে অলকানন্দা নদীর প্রবাহপথ ধরে উৎস থেকে মোহনার দিকে (উত্তর থেকে দক্ষিণে) অবস্থিত পবিত্র পাঁচটি সঙ্গমস্থল বা পঞ্চপ্রয়াগ নিম্নরূপ:

১. বিষ্ণুপ্রয়াগ (Vishnuprayag):

  • অলকানন্দা এবং ধৌলীগঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থল।
  • জোশীমঠের সন্নিকটে প্রায় ১,৩৭২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

২. নন্দপ্রয়াগ (Nandaprayag):

  • অলকানন্দা এবং নন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থল।
  • নন্দাদেবী পর্বতের পশ্চিম ঢাল থেকে নন্দাকিনী নদী এসে মিলিত হয়েছে।

৩. কর্ণপ্রয়াগ (Karnaprayag):

  • অলকানন্দা এবং পিন্দার নদীর সঙ্গমস্থল।
  • পিন্ডারী হিমবাহ থেকে আগত পিন্দার নদী এখানে যুক্ত হয়েছে।

৪. রুদ্রপ্রয়াগ (Rudraprayag):

  • অলকানন্দা এবং মন্দাকিনী (কালিগঙ্গা) নদীর সঙ্গমস্থল।
  • কেদারনাথের দিক থেকে চোরাবাড়ি হিমবাহজাত মন্দাকিনী নদী এখানে অলকানন্দায় মেশে।

৫. দেবপ্রয়াগ (Devprayag):

  • অলকানন্দা এবং ভাগীরথী নদীর ঐতিহাসিক সঙ্গমস্থল।
  • বিশেষ গুরুত্ব: দেবপ্রয়াগের পর থেকেই অলকানন্দা ও ভাগীরথীর এই সম্মিলিত জলধারা আনুষ্ঠানিকভাবে 'গঙ্গা' নামে পরিচিত হয়।
উদাহরণ 4
নর্মদা ও তাপ্তি নদী কেন পশ্চিমবাহিনী হয়েছে এবং এরা মোহনায় বদ্বীপ গঠন করতে পারেনি কেন?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

নর্মদা ও তাপ্তি নদীর পশ্চিমমুখী গতি এবং এদের বদ্বীপ না গড়ার পেছনে নির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক ও জলবিজ্ঞানগত কারণ রয়েছে:

১. পশ্চিমমুখী প্রবাহের কারণ (গ্রস্ত উপত্যকার ভূমিকা):

  • দাক্ষিণাত্যের উপদ্বীপীয় মালভূমির সাধারণ ভূপ্রাকৃতিক ঢাল হলো উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে, যার কারণে গোদাবরী, কৃষ্ণা বা মহানদী বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
  • কিন্তু টারশিয়ারি যুগে ভূ-আলোড়নের ফলে উপদ্বীপীয় শিলাস্তরে দুটি দীর্ঘ সমান্তরাল চ্যুতি ও অবনমিত গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley বা Graben) সৃষ্টি হয়।
  • নর্মদা নদী উত্তরে বিন্ধ্য ও দক্ষিণে সাতপুরার মধ্যবর্তী গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে এবং তাপ্তি নদী সাতপুরার দক্ষিণের গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভূখণ্ডের বিপরীত স্থানীয় ঢাল ও চ্যুতিখাতের বাধ্যবাধকতায় এরা পশ্চিমে আরব সাগরে পতিত হয়েছে।

২. বদ্বীপ গঠন না হওয়ার কারণ:

  • পলির স্বল্পতা: নদী দুটি প্রাচীন কঠিন ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এদের ক্ষয়জাত পলি ও পলির বোঝা অত্যন্ত কম থাকে।
  • উপত্যকার খাড়াই ও প্রবল বেগ: সংকীর্ণ পাথুরে খাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর গতিবেগ শেষ পর্যন্ত তীব্র থাকে, ফলে মোহনায় পলি জমার সুযোগ থাকে না।
  • খাম্বাত উপসাগরের প্রবল জোয়ারভাটা: খাম্বাত উপসাগরে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী জোয়ারভাটা দেখা যায় (জোয়ারের উচ্চতা ৮-১০ মিটার পর্যন্ত হয়)। এই তীব্র জোয়ারভাটার টানে মোহনায় বাহিত সমস্ত পলি সমুদ্রে ভেসে চলে যায়; ফলে বদ্বীপের পরিবর্তে প্রশস্ত ফানেল আকৃতির খাড়ি বা মোহনা (Estuary) সৃষ্টি হয়েছে।
উদাহরণ 5
উত্তরবঙ্গের নদনদীতে প্রায়শই বিধ্বংসী বন্যা কেন দেখা দেয়? এর প্রতিকার হিসেবে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে?
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

উত্তরবঙ্গের নদীগুলি (তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, কালজানী) প্রতিবছর বর্ষায় ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:

১. বন্যার মূল কারণসমূহ:

  • অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত: পূর্ব হিমালয়ের দক্ষিণ ঢাল ও তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে বর্ষাকালে বার্ষিক প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ মিমি প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, যা দ্রুত নদীখাতে নেমে আসে।
  • ঢালের আকস্মিক পরিবর্তন: নদীগুলি তীব্র ঢালযুক্ত খাড়া পাহাড় থেকে নেমে হঠাৎ করেই তরাইয়ের সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে। ফলে জলের তীব্র বেগ আকস্মিকভাবে থমকে গিয়ে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে প্লাবন ঘটায়।
  • নদীখাত ভরাট ও পলিসঞ্চয়: সিকিম ও ভুটান পাহাড়ে বৃক্ষচ্ছেদন ও ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ নুড়ি, পাথর ও বালি নদীগর্ভে জমা হয়ে নদীখাতকে অগভীর করে তুলেছে।
  • বিনুনি নদী ও গতিপথ পরিবর্তন: নদীখাত অগভীর হওয়ায় জল উপচে পড়ে নদীগুলি নতুন নতুন ধারায় বিভক্ত হয় ও নদীর পাড় ভাঙে।

২. বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা:

  • উচ্চ অববাহিকায় বৃক্ষরোপণ: সিকিম ও ভুটানের পাহাড়ি ঢালে ব্যাপক হারে বনায়ন করে ভূমিক্ষয় ও ধস রোধ করা।
  • নদীগর্ভ খনন ও ড্রেজিং: নদীগর্ভ থেকে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত পলি, বালি ও নুড়িপাথর সরিয়ে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
  • জলাধার ও চেক ড্যাম নির্মাণ: পাহাড়ের পাদদেশে ছোট ছোট জলাধার তৈরি করে বর্ষার অতিরিক্ত জল ধরে রাখা।
  • আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা: ভুটান ও ভারতের মধ্যে নদীগুলোর জলস্তর সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
উদাহরণ 6
দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) গঠনের উদ্দেশ্য ও এর বহুমুখী সাফল্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

১৯৪৮ সালের ৭ই জুলাই স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা হিসেবে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি ভ্যালি অথরিটির (TVA) আদলে গড়ে তোলা হয়েছিল।

১. DVC পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য:

  • বন্যা নিয়ন্ত্রণ: দামোদর নদীর বিধ্বংসী প্লাবন রোধ করে নিম্নবঙ্গ ও বর্ধমানের জনজীবন রক্ষা করা।
  • সেচ ব্যবস্থার বিস্তার: খারিফ ও রবি শস্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে নিয়মিত খালের মাধ্যমে জলসেচ প্রদান।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন: জলবিদ্যুৎ ও কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে পূর্ব ভারতের শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।
  • ভূমিক্ষয় রোধ ও বনসৃজন: ছোটনাগপুর মালভূমির ক্ষয়প্রাপ্ত অঞ্চলের মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও বনায়ন।

২. প্রধান নির্মিত বাঁধ ও ব্যারেজসমূহ:

  • বরাকর নদীর ওপর তিলাইয়া ও মাইথন বাঁধ (মাইথনে ভূগর্ভস্থ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে)।
  • দামোদর নদের ওপর পাঞ্চেত বাঁধ এবং কোনার নদীর ওপর কোনার বাঁধ।
  • পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে নির্মিত দুর্গাপুর ব্যারেজ, যা থেকে প্রায় ২,৪৯৬ কিমি দীর্ঘ সেচখাল বিস্তৃত হয়েছে।

৩. সাফল্য ও অবদান:

  • দামোদরের ভয়াবহ বন্যার তীব্রতা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এবং বর্ধমান জেলাকে পশ্চিমবঙ্গের উর্বর 'শস্যভাণ্ডার'-এ পরিণত করেছে।
  • দুর্গাপুর-আসানসোল-রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে জল ও বিদ্যুতের মূল ভিত্তি জুগিয়ে এটি 'ভারতের রূঢ়' অঞ্চল গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

'দক্ষিণ গঙ্গা' (গোদাবরী) এবং 'দক্ষিণের গঙ্গা' (কাবেরী) এই দুটি নামকে গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

দৈর্ঘ্য ও অববাহিকার বিশালতার জন্য গোদাবরীকে বলা হয় 'দক্ষিণ গঙ্গা' বা 'বৃদ্ধ গঙ্গা'। পক্ষান্তরে পবিত্রতা ও নিত্যবহ প্রবাহের কারণে কাবেরীকে বলা হয় 'দক্ষিণের গঙ্গা'।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে দক্ষিণ ভারতের সব নদীই পূর্ববাহিনী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অধিকাংশ নদী বঙ্গোপসাগরে পড়লেও নর্মদা ও তাপ্তি গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবাহিনী হয়ে আরব সাগরে পড়েছে।

সাধারণ ভুল ধারণা

গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে সরাসরি 'গঙ্গা' নামে নদী নির্গত হয়েছে বলে লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ থেকে যে নদীটি বের হয় তার নাম ভাগীরথী। দেবপ্রয়াগে অলকানন্দার সাথে মিলনের পরেই কেবল নদীটির নাম হয় গঙ্গা।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

ভারতের জলনির্গম প্রণালী ও প্রধান নদী অববাহিকা হিমালয় ও উপদ্বীপীয় নদনদীর তুলনামূলক রূপরেখা, জলবিভাজিকা ও পঞ্চপ্রয়াগ হিমালয় নদী ব্যবস্থা (নিত্যবহ ও হিমবাহপুষ্ট) সিন্ধু প্রণালী (ঝিলাম, চন্দ্রভাগা, ইরাবতী, শতদ্রু) গঙ্গা প্রণালী (দৈর্ঘ্য: ২৫২৫ কিমি | অলকানন্দা + ভাগীরথী) পঞ্চপ্রয়াগ: দেব, রুদ্র, কর্ণ, নন্দ ও বিষ্ণুপ্রয়াগ ব্রহ্মপুত্র (তিব্বতে সাংপো, ডিহং, মাজুলি দ্বীপ) উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থা (বৃষ্টির জলে পুষ্ট) পূর্ববাহিনী নদী (বঙ্গোপসাগর - বদ্বীপ সৃষ্টিকারী) মহানদী, গোদাবরী (দক্ষিণ গঙ্গা), কৃষ্ণা, কাবেরী পশ্চিমবাহিনী নদী (আরব সাগর - খাড়ি সৃষ্টিকারী) নর্মদা ও তাপ্তি (গ্রস্ত উপত্যকা), সবরমতী, লুনি প্রধান জলবিভাজিকা ও ভূপ্রাকৃতিক প্রভাব দিল্লি শৈলশিরা ও আরাবল্লী: সিন্ধু ও গঙ্গার জলবিভাজিকা বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতমালা: উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিভাজক পশ্চিমঘাট পর্বতমালা: আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর অববাহিকা বিভাজক পশ্চিমবঙ্গের নদনদী ও নদী ব্যবস্থাপনা উত্তরবঙ্গ: তিস্তা (উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন), তোর্সা, জলঢাকা রাঢ় অঞ্চল: দামোদর (DVC বহুমুখী প্রকল্প), রূপনারায়ণ সুন্দরবন: মাতলা, গোসাবা, বিদ্যাধরী (জোয়ারভাটার খাঁড়ি) উচ্চমাধ্যমিক একাদশ শ্রেণি ভূগোল • ভারতের নদনদী ও নদী অববাহিকা সমীক্ষা

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
ভারতের নদী ব্যবস্থাকে প্রধানত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: উত্তর ভারতের হিমালয়জাত নিত্যবহ নদী (সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র) এবং দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপীয় নদী (গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী, মহানদী, নর্মদা, তাপ্তি)।
মূল বিষয় 2
প্রধান জলবিভাজিকাগুলি হলো দিল্লি শৈলশিরা-আরাবল্লী (সিন্ধু ও গঙ্গার মধ্যে), বিন্ধ্য-সাতপুরা (উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে) এবং পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যে)।
মূল বিষয় 3
সিন্ধু, শতদ্রু ও ব্রহ্মপুত্র হলো পূর্ববর্তী নদী; এগুলি হিমালয় উত্থানের পূর্বেই সৃষ্ট এবং সুগভীর গিরিখাত কেটে নিজেদের গতিপথ বজায় রেখেছে।
মূল বিষয় 4
সিন্ধু নদ তিব্বতের বোখার চু হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে পঞ্চনদ (ঝিলাম, চেনাব, রবি, বিয়াস, শতদ্রু) সহ আরব সাগরে পড়েছে।
মূল বিষয় 5
গঙ্গা নদী গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে ভাগীরথী নামে উৎপন্ন হয়ে দেবপ্রয়াগে অলকানন্দার সাথে মিলিত হয়ে গঙ্গা নাম ধারণ করেছে এবং ফারাক্কায় ভাগীরথী-হুগলী ও পদ্মায় বিভক্ত হয়েছে।
মূল বিষয় 6
গাড়োয়াল হিমালয়ের পঞ্চপ্রয়াগ হলো বিষ্ণুপ্রয়াগ (ধৌলীগঙ্গা), নন্দপ্রয়াগ (নন্দাকিনী), কর্ণপ্রয়াগ (পিন্দার), রুদ্রপ্রয়াগ (মন্দাকিনী) এবং দেবপ্রয়াগ (ভাগীরথী)।
মূল বিষয় 7
ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে সাংপো নামে পরিচিত; নামচা বারওয়ায় ইউ-টার্ন নিয়ে আসামে দিহং, দিবাং ও লোহিতের মিলনে ব্রহ্মপুত্র নাম নিয়েছে এবং মাজুলি দ্বীপ গড়ে তুলেছে।
মূল বিষয় 8
উপদ্বীপীয় নদীগুলি বার্ধক্য অবস্থায় উন্নীত ও ক্ষয়প্রাপ্ত; পূর্ববাহিনী নদীগুলি (গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী) বঙ্গোপসাগরে সুবিশাল বদ্বীপ গড়ে তুলেছে।
মূল বিষয় 9
নর্মদা ও তাপ্তি গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে সাধারণ ঢালের বিপরীতে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে খাম্বাত উপসাগরে খাড়ি বা মোহনা গঠন করেছে (কোনো বদ্বীপ গঠন করেনি)।
মূল বিষয় 10
পশ্চিমবঙ্গের নদী ব্যবস্থা উত্তরবঙ্গের বরফগলা জলে পুষ্ট নদী (তিস্তা, তোর্সা), পশ্চিমের রাঢ় অঞ্চলের বৃষ্টিপুষ্ট নদী (দামোদর DVC, রূপনারায়ণ) এবং সুন্দরবনের জোয়ারের জলে পুষ্ট খাঁড়ি নিয়ে গঠিত।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
2
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
3
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
4
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
5
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর:
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Geography — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: শাস্ত্র রূপে ভূগোল অধ্যায় 2: পৃথিবীর উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যায় 3: ভূরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া অধ্যায় 4: আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায় 5: সমস্থিতি তত্ত্ব অধ্যায় 6: বারিমণ্ডল অধ্যায় 7: মানব ভূগোলের পরিধি ও বিষয়বস্তু অধ্যায় 8: অর্থনৈতিক ভূগোল অধ্যায় 9: Secondary Activities - Industry অধ্যায় 10: তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 11: চতুর্থ স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 12: পঞ্চম স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অধ্যায় 13: এক নজরে ভারত অধ্যায় 14: ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতি অধ্যায় 15: ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায় 16: ভারতের জলবায়ু অধ্যায় 17: ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও অরণ্য অধ্যায় 18: ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

ভারতের নদনদী ও জলনির্গম প্রণালী অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।