ভূমির প্রাথমিক ঢাল, শিলাস্তরের গঠন এবং ভূ-আন্দোলনের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট জলপ্রণালী বা খাতের মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক জলের সুশৃঙ্খল প্রবাহকে জলনির্গম প্রণালী (Drainage System) বলা হয়।
- নদী অববাহিকা (Drainage Basin / River Catchment): একটি প্রধান নদী তার যাবতীয় উপনদী ও শাখানদীসহ যে সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জল নিকাশ করে বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে ফেলে, তাকে ওই নদীর অববাহিকা বলে। ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা হলো গঙ্গা অববাহিকা (ভারতে আয়তন প্রায় ৮,৬০,০০০ বর্গ কিমি)।
- জলবিভাজিকা (Water Divide / Watershed): দুটি পাশাপাশি অবস্থিত নদী অববাহিকাকে পরস্পর থেকে পৃথককারী উচ্চভূমি বা শৈলশিরাকে জলবিভাজিকা বলে। উভয় ঢালে পতিত বৃষ্টির জল ভিন্ন ভিন্ন নদী প্রণালীতে প্রবাহিত হয়।
- দিল্লি শৈলশিরা ও আরাবল্লী পর্বত: পশ্চিমে সিন্ধু নদী অববাহিকা এবং পূর্বে গঙ্গা নদী অববাহিকার মধ্যে প্রধান জলবিভাজিকা হিসেবে কাজ করে।
- বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতমালা: উত্তর ভারতের গঙ্গা প্রণালী ও দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপীয় নদী ব্যবস্থার জলবিভাজক।
- পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (সহ্যাদ্রি): দক্ষিণ ভারতের প্রধান অবিচ্ছিন্ন জলবিভাজিকা, যা পশ্চিমে আরব সাগরে পতনশীল ক্ষুদ্র খরস্রোতা নদী এবং পূর্বে বঙ্গোপসাগরে পতনশীল দীর্ঘ নদীগুলিকে পৃথক করেছে।
- পূর্ববর্তী নদী বনাম অধ্যারোপিত নদী:
- পূর্ববর্তী নদী (Antecedent River): ভূমিরূপের উত্থানের পূর্বেই যেসব নদী বর্তমান ছিল এবং ভূ-উত্থানের সঙ্গে সমতা রেখে নিম্নক্ষয় চালিয়ে গিয়ে গভীর গিরিখাত সৃষ্টির মাধ্যমে নিজস্ব গতিপথ অপরিবর্তিত রেখেছে। যেমন: সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র, সুবনসিঁড়ি, অরুণ (কোশীর উপনদী)।
- অধ্যারোপিত নদী (Superimposed River): নবীন শিলাস্তরের ঢাল অনুসারে গঠিত হয়ে পরে নিম্নক্ষয়ের দ্বারা নীচের প্রাচীন অসঙ্গত শিলাস্তরের ওপর নিজের গতিপথ চাপিয়ে দেওয়া নদী। যেমন: সুবর্ণরেখা, চম্বল, দামোদর, বানাস।
| নদী নকশার নাম | গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও শিলার প্রকৃতি | ভারতীয় উদাহরণ |
|---|---|---|
| বৃক্ষরূপী (Dendritic Pattern) | শাখা-প্রশাখাসহ গাছের ডালপালার মতো বিন্যাস; উপনদীগুলি মূল নদীতে সূক্ষ্মকোণে মিলিত হয়। সমজাতীয় ও অনুভূমিক শিলাস্তরে গঠিত। | উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল, গঙ্গা, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও মহানদী অববাহিকা। |
| জাফরীরূপী (Trellis Pattern) | পরস্পর সমান্তরাল প্রধান অনুগামী নদী এবং তাদের সঙ্গে সমকোণে মিলিত পরবর্তী নদী। ভাঁজযুক্ত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমিক কঠিন ও কোমল শিলাস্তরে গড়ে ওঠে। | শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশ, ছোটনাগপুর মালভূমির প্রান্তভাগ এবং সিংভূম অঞ্চল। |
| অরীয় নদী নকশা (Radial Pattern) | কোনো কেন্দ্রীয় গম্বুজাকৃতি উচ্চভূমি বা আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে নদীগুলি চাকার স্পোকের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। | অমরকণ্টক মালভূমি (এখান থেকে নর্মদা পশ্চিমে, শোন উত্তরে এবং জোহিলা নির্গত হয়েছে), গিরনার পাহাড়। |
| কেন্দ্রমুখী (Centripetal Pattern) | চারিদিকের উচ্চভূমি থেকে নদীগুলি প্রবাহিত হয়ে কেন্দ্রীয় কোনো হ্রদ বা নিম্নভূমিতে এসে মিলিত হয়। | মণিপুরের লোকটাক হ্রদ অববাহিকা, রাজস্থানের সম্বর লবণাক্ত হ্রদ। |
| আয়তাকার (Rectangular Pattern) | নদীগুলি পরস্পরের সঙ্গে সমকোণে বাঁক নেয়; শিলাস্তরের সন্ধি (Joints) ও চ্যুতিরেখা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। | বিন্ধ্য পর্বতের বেলেপাথর অঞ্চল এবং বুন্দেলখণ্ডের গ্রানাইট শিলাযুক্ত ফাটল অঞ্চল। |
| সমান্তরাল (Parallel Pattern) | নদীগুলি অত্যন্ত খাড়া ঢালের ওপর দিয়ে পরস্পর সমান্তরালভাবে দ্রুত প্রবাহিত হয়। | পশ্চিমঘাট পর্বতের খাড়া পশ্চিম ঢাল বেয়ে আরব সাগরে পতনশীল নদীসমূহ (যেমন: শরাবতী, নেত্রাবতী, পেরিয়ার)। |