Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 9
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

জৈব অণুসমূহ

জৈব অণুসমূহ অধ্যায়টি জীবদেহের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপের আণবিক ও জৈবরাসায়নিক ভিত্তি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে। অধ্যায়ের শুরুতে ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড দ্বারা সজীব কলার রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জৈব অণুগুলিকে অ্যাসিড-দ্রাব্য ক্ষুদ্র জৈব অণু (মনোস্যাকারাইড, অ্যামিনো অ্যাসিড, নিউক্লিওটাইড; ১৮ থেকে ৮০০ ডাল্টন) এবং অ্যাসিড-অদ্রাব্য বৃহৎ জৈব অণুতে (প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড, নিউক্লিক অ্যাসিড; ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি) পৃথকীকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ঝিল্লিজাত লিপিডের ব্যতিক্রমী অদ্রাব্য পুটিকা আচরণের কারণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রাথমিক মেটাবোলাইটস এবং উদ্ভিদের আত্মরক্ষা ও ভেষজ গুণসম্পন্ন গৌণ মেটাবোলাইটসের পার্থক্য নির্দেশ করা হয়েছে। কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণিবিভাগ, বিজারক ও অবিজারক শর্করা, স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, সেলুলোজ ও কাইটিনের গঠনগত পার্থক্য বিশদ আলোচিত। লিপিডের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, ট্রাইগ্লিসারাইড, লেসিথিন ও কোলেস্টেরলের শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অ্যামিনো অ্যাসিডের সুইটার-আয়ন গঠন, পেপটাইড বন্ধন এবং প্রোটিনের চার স্তরীয় রূপতত্ত্ব (প্রাথমিক, গৌণ, প্রগৌণ ও চতুর্গৌণ) পর্যালোচনা করা হয়েছে। ওয়াটসন ও ক্রিকের B-DNA দ্বি-সর্পিল মডেল, চারগাফের নীতি এবং উৎসেচকের ক্রিয়াকৌশল, সক্রিয়করণ শক্তি হ্রাসকরণ, মাইকেলিস-মেনটেন গতিবিদ্যা, প্রতিযোগিতামূলক বাধা ও সহ-উপাদানের ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষিত হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

একটি জীবিত জীবকে যদি সম্পূর্ণরূপে পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবে তার সমস্ত জল বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায় এবং সমস্ত কার্বন কাঠামো কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায়, অবশিষ্ট থাকে এক চিমটি অজৈব খনিজের ছাই। কিন্তু জীবিতাবস্থায় এই কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুগুলিই কীভাবে এমন সব স্বয়ংক্রিয় আণবিক যন্ত্র তৈরি করে যা প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনা করে জীবনকে সচল রাখে?

অধ্যায়টির গুরুত্ব

জৈব অণুর জ্ঞান আধুনিক আণবিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান, মেটাবলিক ডায়াগনস্টিকস এবং ফার্মাকোলজির প্রাণকেন্দ্র। রক্তে গ্লুকোজ ও গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন (HbA1c) পরিমাপের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়, এবং লিপিড প্রোফাইল দ্বারা হৃদরোগের ঝুঁকি যাচাই করা হয়। সিকেল সেল অ্যানিমিয়ার মতো মারাত্মক বংশগত ব্যাধি হিমোগ্লোবিনের বিটা-শৃঙ্খলের ৬ নম্বর স্থানে গ্লুটামিক অ্যাসিডের পরিবর্তে ভ্যালিন প্রতিস্থাপনের কারণে ঘটে। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ও ক্যান্সারের কেমোথেরাপির ওষুধগুলি ব্যাকটেরিয়ার বা টিউমার কোষের নির্দিষ্ট উৎসেচকের প্রতিযোগিতামূলক বাধার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়; যেমন সালফা ড্রাগ ব্যাকটেরিয়ার ফলিক অ্যাসিড সংশ্লেষ বন্ধ করে দেয়।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • জৈব রসায়নের মূল ধারণা: কার্যকরী মূলক (কার্বক্সিল, অ্যামিনো, হাইড্রক্সিল, ফসফেট) ও সমযোজী রাসায়নিক বন্ধন
  • কোষবিদ্যা (অধ্যায় ৮): প্লাজমা পর্দার গঠন, রাইবোজোমের প্রোটিন অনুবাদ এবং নিউক্লিয়াসের ক্রোমাটিন
  • সাধারণ রসায়ন: অম্ল-ক্ষারক সাম্যাবস্থা, pH স্কেল, হাইড্রোজেন বন্ধন এবং ঘনীভবন বিক্রিয়া

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 রাসায়নিক উপাদানের বিশ্লেষণ, ক্ষুদ্...
2 কার্বোহাইড্রেট: মনোস্যাকারাইড, ডাইস...
3 লিপিড: ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারাইড,...
4 অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিনের চার স্...
5 নিউক্লিক অ্যাসিড: নিউক্লিওটাইড, ওয়...
6 উৎসেচক: ক্রিয়াকৌশল, গতিবিদ্যা, প্র...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

রাসায়নিক উপাদানের বিশ্লেষণ, ক্ষুদ্র জৈব অণু বনাম বৃহৎ জৈব অণু এবং মেটাবোলাইটস

১. সজীব কলার রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ পদ্ধতি

ব্যাকটিরিয়া থেকে শুরু করে উদ্ভিদ ও মানুষ পর্যন্ত সমস্ত সজীব বস্তুর শরীর প্রধানত কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও সালফার সমৃদ্ধ জৈব যৌগ দ্বারা গঠিত। সজীব কলার রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণের পদ্ধতি হলো:

  • ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড ($ ext{Cl}_3 ext{C-COOH}$) দ্বারা পেষণ: একটি সজীব কলা (যেমন পাতার টুকরো বা প্রাণীর যকৃৎ) নিয়ে হামানদিস্তায় ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড সহকারে ভালোভাবে পেষণ করে একটি ঘন মিশ্রণ বা স্লারি তৈরি করা হয়।
  • ছাঁকন ও পৃথকীকরণ: স্লারিটিকে পাতলা সুতি কাপড়ের মধ্য দিয়ে ফিল্টার করলে দুটি স্পষ্ট রাসায়নিক অংশ পাওয়া যায়:
    • অ্যাসিড-দ্রাব্য অংশ (Filtrate): ছাঁকনি গলে টেস্টটিউবে জমা তরল। এতে ১৮ থেকে ৮০০ ডাল্টন আণবিক ভরবিশিষ্ট দ্রবীভূত যৌগ থাকে, যাদের ক্ষুদ্র জৈব অণু (Biomicromolecules) বলে (যেমন মনোস্যাকারাইড, অ্যামিনো অ্যাসিড, নাইট্রোজেন ক্ষারক, নিউক্লিওটাইড)। এটি সাইটোপ্লাজমের জলীয় উপাদানকে নির্দেশ করে।
    • অ্যাসিড-অদ্রাব্য অংশ (Retentate): ছাঁকনির ওপরে তলানি হিসেবে আটকে থাকা অংশ। এতে ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি আণবিক ভরবিশিষ্ট পলিমার থাকে, যাদের বৃহৎ জৈব অণু (Biomacromolecules) বলে (যেমন প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড এবং নিউক্লিক অ্যাসিড)।
  • লিপিডের ব্যতিক্রমী অবস্থান: লিপিডের আণবিক ভর কখনোই ৮০০ ডাল্টনের বেশি নয় (পামিটিক অ্যাসিড ২৫৬ Da, লেসিথিন ৭৩৪ Da); তাই এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ক্ষুদ্র অণু। কিন্তু লিপিড কোষপর্দা ও অঙ্গাণুর আবরণে সাজানো থাকে। পেষণের সময় পর্দাগুলি ছিঁড়ে গিয়ে গোলকাকার জল-অদ্রাব্য ভেসিকল (Liposomes) গঠন করে। অ্যাসিড দ্রবণে অদ্রাব্য এই ভেসিকলগুলি ছাঁকনির কাপড়ের ছিদ্র গলে যেতে পারে না, ফলে এরা রিটেনটেটে বৃহৎ অণুর সাথে আটকে থাকে।
  • ভস্ম বিশ্লেষণ (Ash Analysis): কলার তাজা ওজন মেপে তাকে শুকিয়ে জল বাষ্পীভূত করে শুষ্ক ওজন নেওয়া হয়। এরপর উচ্চ তাপে সম্পূর্ণরূপে দহন করলে সমস্ত কার্বন ও নাইট্রোজেন যৌগ গ্যাস ($ ext{CO}_2, ext{H}_2 ext{O}$) হয়ে উড়ে যায়। অবশিষ্ট অজৈব ছাই বা ভস্মে ক্যালসিয়াম ($ ext{Ca}^{2+}$), ম্যাগনেসিয়াম ($ ext{Mg}^{2+}$), পটাসিয়াম ($ ext{K}^+$), ফসফেট ($ ext{PO}_4^{3-}$), সালফেট ($ ext{SO}_4^{2-}$) ইত্যাদি খনিজ মৌল শনাক্ত করা হয়।
২. প্রাথমিক বনাম গৌণ মেটাবোলাইটস

মেটাবলিজমের মধ্যবর্তী ও অন্তিম পদার্থগুলিকে মেটাবোলাইটস বলে:

  • প্রাথমিক মেটাবোলাইটস: কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও মূল শারীরবৃত্তীয় কাজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত যৌগ (যেমন গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, নিউক্লিওটাইড, ATP)। সমস্ত সজীব কোষে এদের উপস্থিতি সার্বজনীন।
  • গৌণ মেটাবোলাইটস: প্রধানত উদ্ভিদ, ছত্রাক ও অণুজীব দ্বারা তৈরি যৌগ যা তাদের প্রত্যক্ষ প্রাথমিক বৃদ্ধিতে অংশ না নিলেও আত্মরক্ষা, ক্ষত নিরাময় ও পরিবেশীয় ভূমিকা পালন করে। মানুষের চিকিৎসা ও বাণিজ্যে এদের গুরুত্ব অপরিসীম:
শ্রেণি উদাহরণ অর্থনৈতিক ও জৈবিক তাৎপর্য
অ্যালকালয়েড (Alkaloids) মরফিন, কোডিন আফিম গাছ থেকে প্রাপ্ত তীব্র বেদনানাশক ও নারকোটিক ওষুধ।
টারপিনয়েড (Terpenoids) মনোটারপিন, ডাইটারপিন উদ্ভিদের সুগন্ধি ও কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধক উদ্বায়ী যৌগ।
উদ্বায়ী তেল (Essential Oils) লেমন গ্রাস তেল, ইউক্যালিপটাস তেল জীবাণুনাশক ও প্রসাধন শিল্পে ব্যবহৃত সুগন্ধি যৌগ।
বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) অ্যাব্রিন (কুঁচ বীজ), রিসিন (রেড়ি বীজ) রাইবোজোম নিষ্ক্রিয়কারী অত্যন্ত মারাত্মক উদ্ভিদ প্রোটিন।
লেকটিন (Lectins) কনকানাভালিন A (Concanavalin A) শর্করা আবদ্ধকারী প্রোটিন; রক্তকণিকা পুঞ্জীকরণ পরীক্ষায় ব্যবহৃত।
ওষুধ বা ড্রাগ (Drugs) ভিনব্লাস্টিন, কারকিউমিন ভিনব্লাস্টিন (নয়নতারা থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টি-ক্যান্সার ওষুধ); কারকিউমিন (হলুদের প্রদাহরোধী উপাদান)।
পলিমারিক পদার্থ প্রাকৃতিক রবার, গঁদ, সেলুলোজ উদ্ভিদের ক্ষরণ ও শিল্প কারখানায় বহুল ব্যবহৃত উপাদান।

কার্বোহাইড্রেট: মনোস্যাকারাইড, ডাইস্যাকারাইড ও পলিস্যাকারাইড

১. কার্বোহাইড্রেটের রাসায়নিক প্রকৃতি ও শ্রেণিবিভাগ

কার্বোহাইড্রেট হলো পলিহাইড্রক্সি অ্যালডিহাইড বা কিটোন এবং তাদের ঘনীভূত পলিমার, যাদের সাধারণ সংকেত $ ext{C}_n( ext{H}_2 ext{O})_n$:

  • মনোস্যাকারাইড: সরলতম একক শর্করা যা আর্দ্রবিশ্লেষণে আরও ক্ষুদ্র শর্করায় পরিণত হয় না:
    • কার্বন সংখ্যার ভিত্তিতে: ট্রায়োজ ($n=3$: গ্লিসার্যালডিহাইড), পেন্টোজ ($n=5$: রাইবোজ $ ext{C}_5 ext{H}_{10} ext{O}_5$, ডিঅক্সিরাইবোজ $ ext{C}_5 ext{H}_{10} ext{O}_4$), হেক্সোজ ($n=6$: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাকটোজ)।
    • কার্যকরী মূলকের ভিত্তিতে: অ্যালডোজ (অ্যালডিহাইড মূলকযুক্ত: গ্লুকোজ, রাইবোজ) এবং কিটোজ (কিটোন মূলকযুক্ত: ফ্রুক্টোজ, রাইবিউলোজ)।
  • ডাইস্যাকারাইড: দুটি মনোস্যাকারাইড একক জল বিয়োজন দ্বারা গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়:
    • মল্টোজ: $lpha$-D-গ্লুকোজ + $lpha$-D-গ্লুকোজ ($lpha-1,4$ বন্ধন); মুক্ত অ্যানোমেরিক C1 থাকায় এটি বিজারক শর্করা।
    • ল্যাকটোজ (দুগ্ধ শর্করা): $eta$-D-গ্যালাকটোজ + $eta$-D-গ্লুকোজ ($eta-1,4$ বন্ধন); বিজারক শর্করা।
    • সুক্রোজ (ইক্ষু শর্করা): $lpha$-D-গ্লুকোজ + $eta$-D-ফ্রুক্টোজ ($lpha-1,eta-2$ বন্ধন); উভয় অ্যানোমেরিক কার্বন বন্ধনে লিপ্ত থাকায় এটি অবিজারক শর্করা (Non-reducing sugar)।
২. পলিস্যাকারাইড (জটিল গ্লাইকান)

অসংখ্য মনোস্যাকারাইড একক গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে গঠিত বৃহৎ অণু:

  • হোমো-পলিস্যাকারাইড: একই প্রকার মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত:
    • স্টার্চ: উদ্ভিদের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য। দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত:
      • অ্যামাইলোজ (১৫–২০%): অশাখ $lpha-1,4$ গ্লুকোজ শৃঙ্খল; ডানাবর্তী হেলিক্স গঠন করে যার ভেতর আয়োডিন ($ ext{I}_2$) আটকে গিয়ে গাঢ় নীল-কালো বর্ণ ধারণ করে।
      • অ্যামাইলোপেকটিন (৮০–৮৫%): শাখাযুক্ত পলিমার; $lpha-1,4$ শৃঙ্খলের পাশাপাশি প্রতি ২৪–৩০ একক পর $lpha-1,6$ শাখা থাকে।
    • গ্লাইকোজেন (প্রাণিজ স্টার্চ): প্রাণীদেহের যকৃৎ ও পেশীতে সঞ্চিত খাদ্য। অ্যামাইলোপেকটিনের চেয়ে অনেক বেশি শাখাযুক্ত (প্রতি ৮–১২ একক পর $lpha-1,6$ শাখা)। আয়োডিনে লালচে-বেগুনি বর্ণ দেয়। এর ডান দিক বিজারক এবং বাম দিক অবিজারক প্রান্ত।
    • সেলুলোজ: উদ্ভিদ কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান এবং জীবমণ্ডলের সর্বাধিক প্রাচুর্যপূর্ণ জৈব অণু। $eta$-D-গ্লুকোজের ঋজু, অশাখ শৃঙ্খল যা $eta-1,4$ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনে যুক্ত। শৃঙ্খলগুলি হাইড্রোজেন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দৃঢ় মাইক্রোফাইব্রিল তৈরি করে। হেলিক্স কুন্ডলী না থাকায় এটি আয়োডিনের সাথে কোনো বর্ণ দেয় না।
    • ইনুলিন: ফ্রুক্টোজের সরল পলিমার (ডালিয়া উদ্ভিদের মূলে থাকে); বৃক্কের গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট (GFR) মাপতে ব্যবহৃত হয়।
  • হেটারো-পলিস্যাকারাইড: একাধিক প্রকার শর্করা ডেরিভেটিভ দ্বারা গঠিত:
    • কাইটিন: N-অ্যাসিটাইলগ্লুকোসামিন (NAG)-এর $eta-1,4$ হোমোপলিমার; আর্থ্রোপোডার শক্ত বহিঃকঙ্কাল এবং ছত্রাকের কোষ প্রাচীর গঠন করে। সেলুলোজের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাচুর্যপূর্ণ জৈব অণু।
    • পেপটিডোগ্লাইক্যান: ব্যাকটেরিয়া প্রাচীরে NAG ও NAM-এর সাথে পেপটাইড শৃঙ্খলের সংযোগ।
    • হায়ালিউরোনিক অ্যাসিড: সাইনোভিয়াল তরল ও চোখে পিচ্ছিলকারক হিসেবে উপস্থিত।

লিপিড: ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারাইড, ফসফোলিপিড ও স্টেরয়েড

১. লিপিডের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিভাগ

লিপিড হলো জলে অদ্রবণীয় কিন্তু জৈব দ্রাবকে (ইথার, বেনজিন, ক্লোরোফর্ম) সহজে দ্রবণীয় জৈব অণু। এদের মধ্যে প্রচুর শক্তি সঞ্চিত থাকে:

২. ফ্যাটি অ্যাসিড

হাইড্রোকার্বন শৃঙ্খলযুক্ত জৈব কার্বক্সিলিক অ্যাসিড ($R- ext{COOH}$), যেখানে কার্বন সংখ্যা ১ থেকে ২৯ পর্যন্ত হতে পারে:

  • সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড: কার্বন শৃঙ্খলে কোনো কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন থাকে না ($ ext{C-C}$ একক বন্ধন); সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন (গলনাঙ্ক বেশি), যেমন পামিটিক অ্যাসিড (১৬ কার্বন: $ ext{CH}_3( ext{CH}_2)_{14} ext{COOH}$) এবং স্টিয়ারিক অ্যাসিড (১৮ কার্বন: $ ext{CH}_3( ext{CH}_2)_{16} ext{COOH}$)।
  • অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড: কার্বন শৃঙ্খলে এক বা একাধিক দ্বিবন্ধন ($ ext{C=C}$) থাকে; সাধারণ তাপমাত্রায় তরল (তেল):
    • মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA): একটি দ্বিবন্ধনযুক্ত, যেমন ওলেইক অ্যাসিড (১৮:১)।
    • পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA): একাধিক দ্বিবন্ধনযুক্ত, যেমন লিনোলেইক অ্যাসিড (১৮:২), লিনোলেনিক অ্যাসিড (১৮:৩) এবং অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (২০ কার্বন, ৪টি দ্বিবন্ধন)।
    • অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড: লিনোলেইক ও লিনোলেনিক অ্যাসিড মানবদেহে তৈরি হতে পারে না, খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়।
৩. গ্লিসারাইড (প্রশম ফ্যাট)

ট্রাইহাইড্রক্সি অ্যালকোহল গ্লিসারল (প্রোপেন-১,২,৩-ট্রাইঅল)-এর সাথে ফ্যাটি অ্যাসিডের এস্টার যৌগ:

  • ট্রাইগ্লিসারাইড (ট্রাইঅ্যাসাইলগ্লিসারল): গ্লিসারলের তিনটি $- ext{OH}$ মূলকের সাথে তিনটি ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বক্সিল মূলক যুক্ত হয়ে তিনটি এস্টার বন্ধন ($-COO-$) সৃষ্টি করে। প্রাণীদেহের অ্যাডিপোজ কলায় সঞ্চিত প্রধান শক্তিভাণ্ডার।
  • ফ্যাট বনাম তেল: সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত গ্লিসারাইড সাধারণ তাপমাত্রায় জমাট বেঁধে ফ্যাট (ঘি, চর্বি) গঠন করে; অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত গ্লিসারাইড কম গলনাঙ্কের জন্য তরল তেল (সর্ষের তেল, তিলের তেল) হিসেবে থাকে।
৪. ফসফোলিপিড ও জটিল লিপিড

ফসফরাস ও পোলার গ্রুপযুক্ত লিপিড যা জৈব ঝিল্লির প্রধান ভিত্তি:

  • লেসিথিন (ফসফাটিডিলকোলিন): গ্লিসারলের দুটি কার্বনে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং তিন নম্বর কার্বনে ফসফেট মূলকের সাথে কোলিন নামক নাইট্রোজেনাস ক্ষারক যুক্ত থাকে।
  • উভকামী (Amphipathic) প্রকৃতি: এর একটি পোলার জলআকর্ষী (হাইড্রোফিলিক) মস্তক এবং দুটি নন-পোলার জলবিকর্ষী (হাইড্রোফোবিক) পুচ্ছ থাকে, যা কোষপর্দায় লিপিড দ্বি-স্তর তৈরিতে সাহায্য করে।
৫. স্টেরয়েড ও জাত লিপিড

চারটি বলয় সমন্বিত সাইক্লোপেন্টানোপারহাইড্রোফেনানথ্রিন নিউক্লিয়াস যুক্ত জটিল লিপিড:

  • কোলেস্টেরল: প্রাণী কোষপর্দার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; এটি পর্দার তারল্য বজায় রাখে এবং স্টেরয়েড হরমোন (টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, কর্টিসোল), ভিটামিন ডি ও পিত্তলবণের পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করে।

অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিনের চার স্তরীয় গঠন বিন্যাস

১. অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন ও শ্রেণিবিভাগ

অ্যামিনো অ্যাসিড হলো প্রতিস্থাপিত মিথেন অণু যার কেন্দ্রীয় $lpha$-কার্বনে চারটি ভিন্ন গ্রুপ যুক্ত থাকে: (১) অ্যামিনো মূলক ($- ext{NH}_2$), (২) কার্বক্সিল মূলক ($- ext{COOH}$), (৩) হাইড্রোজেন পরমাণু ($- ext{H}$), এবং (৪) পরিবর্তনশীল পার্শ্ব-শৃঙ্খল ($- ext{R}$ মূলক):

  • R-মূলকের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ:
    • প্রশম / অ্যালিফ্যাটিক: গ্লাইসিন ($ ext{R} = - ext{H}$, সরলতম, আলোক নিষ্ক্রিয়/অপ্রতিসম কার্বনহীন), অ্যালানিন ($ ext{R} = - ext{CH}_3$), ভ্যালিন।
    • অম্লীয়: অতিরিক্ত কার্বক্সিল গ্রুপযুক্ত; গ্লুটামিক অ্যাসিড, অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড।
    • ক্ষারীয়: অতিরিক্ত অ্যামিনো গ্রুপযুক্ত; লাইসিন, আর্জিনিন, হিস্টিডিন।
    • অ্যারোমেটিক: বেনজিন বলয়যুক্ত; ফিনাইলঅ্যালানিন, টাইরোসিন, ট্রিপটোফ্যান।
    • সালফারযুক্ত: সিস্টাইন (ডাইসালফাইড সেতু $- ext{S}- ext{S}-$ গঠন করে), মেথিওনিন।
  • সুইটার-আয়ন (Zwitterion): জলীয় দ্রবণে বা আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দুতে (pI) অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্বক্সিল গ্রুপ প্রোটন ত্যাগ করে ($- ext{COO}^-$) এবং অ্যামিনো গ্রুপ প্রোটন গ্রহণ করে ($- ext{NH}_3^+$), ফলে দ্বিমেরুযুক্ত প্রশম সুইটার-আয়ন সৃষ্টি হয়।
২. পেপটাইড বন্ধন

প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের হেটারোপলিমার। একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের $lpha$-কার্বক্সিল মূলকের সাথে সংলগ্ন অ্যামিনো অ্যাসিডের $lpha$-অ্যামিনো মূলক যুক্ত হয়ে এক অণু জল নির্গত করে সমযোজী অ্যামাইড বন্ধন গঠন করে, যাকে পেপটাইড বন্ধন ($- ext{CO}- ext{NH}-$) বলে। প্রতিটি পলিপেপটাইডের বাম প্রান্তে মুক্ত অ্যামিনো গ্রুপ (N-প্রান্ত) এবং ডান প্রান্তে মুক্ত কার্বক্সিল গ্রুপ (C-প্রান্ত) থাকে।

৩. প্রোটিনের চার স্তরীয় রূপতত্ত্ব
গঠন স্তর বর্ণনা ও জ্যামিতিক রূপ সুস্থিতকারী রাসায়নিক বন্ধন জৈবিক উদাহরণ
প্রাথমিক ($১^\circ$) N-প্রান্ত থেকে C-প্রান্ত পর্যন্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের সুনির্দিষ্ট রৈখিক অনুক্রম। কেবলমাত্র সমযোজী পেপটাইড বন্ধন ($- ext{CO}- ext{NH}-$)। ইনসুলিনের ৫১টি অ্যামিনো অ্যাসিডের অনুক্রম।
গৌণ ($২^\circ$) পলিপেপটাইড মেরুদণ্ডের পর্যায়ক্রমিক কুন্ডলীকরণ: $lpha$-হেলিক্স ও $eta$-প্লিটেড শিট। কার্বনাইল অক্সিজেন ($> ext{C}= ext{O}$) ও অ্যামাইড হাইড্রোজেন ($- ext{NH}-$) মধ্যবর্তী হাইড্রোজেন বন্ধন। চুলের $lpha$-কেরাটিন; রেশমের ফাইব্রোইন ($eta$-শিট)।
প্রগৌণ ($৩^\circ$) পলিপেপটাইডের জটিল ত্রিমাত্রিক গ্লোবিউলার ভাঁজ; অনুঘটনীয় সক্রিয় স্থান গঠন করে। হাইড্রোফোবিক মিথস্ক্রিয়া, হাইড্রোজেন বন্ধন, আয়নিক লবণ সেতু এবং সমযোজী ডাইসালফাইড বন্ধন ($- ext{S}- ext{S}-$)। মায়োগ্লোবিন, রাইবোনিউক্লিয়েজ, একক শৃঙ্খলের সকল এনজাইম।
চতুর্গৌণ ($৪^\circ$) একাধিক স্বাধীন পলিপেপটাইড সাবইউনিটের একত্রে ত্রিমাত্রিক সংযোজন। দুর্বল অহাইড্রোলাইটিক বন্ধন (হাইড্রোফোবিক মিথস্ক্রিয়া, হাইড্রোজেন বন্ধন, লবণ সেতু)। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হিমোগ্লোবিন ($lpha_2eta_2$ টেট্রামার)।

নিউক্লিক অ্যাসিড: নিউক্লিওটাইড, ওয়াটসন-ক্রিক B-DNA দ্বি-সর্পিল ও RNA

১. নিউক্লিক অ্যাসিডের রাসায়নিক এককসমূহ

নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA ও RNA) হলো নিউক্লিওটাইড নামক এককের পুনরাবৃত্তিতে গঠিত পলিমার। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:

  • নাইট্রোজেন ক্ষারক:
    • পিউরিন (দ্বি-বলয় বিষমচাক্রিক ক্ষারক): ৯ সদস্যের বলয়; অ্যাডেনিন (A) এবং গুয়ানিন (G)।
    • পিরিমিডিন (এক-বলয় বিষমচাক্রিক ক্ষারক): ৬ সদস্যের বলয়; সাইটোসিন (C), থাইমিন (T) (কেবল DNA-তে) এবং ইউরাসিল (U) (কেবল RNA-তে)।
  • পেন্টোজ শর্করা: ৫ কার্বনযুক্ত শর্করা; RNA-তে $eta$-D-রাইবোজ ($ ext{C}_5 ext{H}_{10} ext{O}_5$) এবং DNA-তে ২'-ডিঅক্সিরাইবোজ ($ ext{C}_5 ext{H}_{10} ext{O}_4$, যার C2' কার্বনে অক্সিজেন থাকে না)।
  • ফসফেট গ্রুপ: ফসফরিক অ্যাসিড ($ ext{H}_3 ext{PO}_4$) যা শর্করার ৫'-হাইড্রক্সিলের সাথে এস্টার বন্ধনে যুক্ত থাকে।
২. নিউক্লিওসাইড, নিউক্লিওটাইড ও ডাইনিউক্লিওটাইড
  • নিউক্লিওসাইড: নাইট্রোজেন ক্ষারক + পেন্টোজ শর্করা; শর্করার C1' এবং ক্ষারকের N9 (পিউরিন) বা N1 (পিরিমিডিন)-এর মাঝে N-গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন থাকে (যেমন অ্যাডেনোসিন, গুয়ানোসিন, সাইটিডিন, থাইমিডিন)।
  • নিউক্লিওটাইড: নিউক্লিওসাইডের C5' কার্বনে ফসফেট যুক্ত হলে তাকে নিউক্লিওটাইড বলে (যেমন অ্যাডিনাইলিক অ্যাসিড / AMP, ATP)।
  • ফসফোডাইএস্টার বন্ধন: একটি নিউক্লিওটাইডের শর্করার ৩'-OH মূলকের সাথে পরবর্তী নিউক্লিওটাইডের ৫'-ফসফেট যুক্ত হয়ে $৩'-৫'$ ফসফোডাইএস্টার বন্ধন তৈরি করে পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল গঠন করে ($৫' o ৩'$ মেরুত্ব)।
৩. ওয়াটসন ও ক্রিকের B-DNA ডাবল হেলিক্স মডেল (১৯৫৩)

ডিএনএ-র সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য মডেলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • বিপরীত সমান্তরাল দ্বি-সূত্রক: দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্রক একটি সাধারণ অক্ষের চারদিকে ডানাবর্তে পেঁচিয়ে থাকে। একটি সূত্রকের দিক $৫' o ৩'$ হলে অপর সূত্রকের দিক হয় $৩' o ৫'$।
  • বহিঃস্থ মেরুদণ্ড: পর্যায়ক্রমিক শর্করা ও ফসফেট গ্রুপ দ্বারা গঠিত; জলবিকর্ষী ক্ষারকগুলি ভেতরের দিকে অক্ষের সাথে লম্বভাবে অবস্থান করে।
  • পরিপূরক ক্ষারক জোড়: পিউরিন সর্বদা পিরিমিডিনের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধনে আবদ্ধ হয়:
    • অ্যাডেনিন থাইমিনের সাথে: ২টি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা ($A = T$)।
    • গুয়ানিন সাইটোসিনের সাথে: ৩টি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা ($G \equiv C$)।
  • B-DNA-র জ্যামিতিক মাপ:
    • পিচ: এক পূর্ণ ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য $৩.৪ ext{ nm}$ ($৩৪ ext{ \AA}$)।
    • ক্ষারক জোড়: প্রতি পূর্ণ পাকে ১০টি ক্ষারক জোড় (bp) থাকে।
    • দূরত্ব: পরপর দুটি ক্ষারক জোড়ের দূরত্ব $০.৩৪ ext{ nm}$ ($৩.৪ ext{ \AA}$)।
    • ব্যাস: দ্বি-সর্পিলের ব্যাস সর্বদা স্থির $২.০ ext{ nm}$ ($২০ ext{ \AA}$)।
  • চারগাফের নীতি: দ্বিসূত্রী ডিএনএ-তে $[A] = [T]$ এবং $[G] = [C]$; মোট পিউরিন সমান মোট পিরিমিডিন ($[A+G] = [T+C]$)।

উৎসেচক: ক্রিয়াকৌশল, গতিবিদ্যা, প্রভাবক, প্রতিরোধ ও সহ-উপাদান

১. উৎসেচকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য

উৎসেচক হলো প্রোটিন দ্বারা গঠিত জৈব অনুঘটক (ব্যতিক্রম অনুঘটনীয় আরএনএ বা রাইবোজাইম, যেমন ২৩এস rRNA)। এরা বিক্রিয়ার গতিবেগ $১০^৬$ থেকে $১০^{১২}$ গুণ বৃদ্ধি করে, সাবস্ট্রেটের প্রতি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং মৃদু শারীরবৃত্তীয় অবস্থায় কাজ করে।

২. উৎসেচকের ক্রিয়াকৌশল: সক্রিয়করণ শক্তি হ্রাসকরণ

বিক্রিয়ক অণুগুলিকে উৎপাদে পরিণত হতে হলে একটি নির্দিষ্ট শক্তি বাধা বা সক্রিয়করণ শক্তি ($E_a$) অতিক্রম করে অস্থায়ী ট্রানজিশন স্টেটে পৌঁছাতে হয়:

  • উৎসেচক-সাবস্ট্রেট জটিল ($ES$): উৎসেচকের ত্রিমাত্রিক সক্রিয় স্থানে সাবস্ট্রেট আবদ্ধ হয়: $$ ext{E} + ext{S} ightleftharpoons ext{ES} o ext{EP} o ext{E} + ext{P}$$
  • সক্রিয়করণ শক্তি হ্রাস: সাবস্ট্রেট আবদ্ধ হলে এর রাসায়নিক বন্ধনগুলি বিকৃত ও দুর্বল হয়ে যায়, ফলে ট্রানজিশন স্টেটের শক্তির স্তর নিচে নেমে আসে ($E_a$ হ্রাস পায়)। তবে এটি বিক্রিয়ার মোট মুক্ত শক্তি পরিবর্তন ($\Delta G$) বা সাম্যাবস্থা ধ্রুবক ($K_{eq}$) পরিবর্তন করে না।
৩. উৎসেচক গতিবিদ্যা ও প্রভাবকসমূহ
  • সাবস্ট্রেট ঘনত্ব ($[S]$): সাবস্ট্রেট বাড়ালে প্রাথমিক বেগ ($v_0$) প্রথমে দ্রুত বাড়ে এবং পরে সমস্ত সক্রিয় স্থান সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ বেগে ($V_{\max}$) পৌঁছায়। মাইকেলিস ধ্রুবক ($K_m$) হলো সেই সাবস্ট্রেট ঘনত্ব যাতে বেগ অর্ধ-সর্বোচ্চ ($ rac{1}{2}V_{\max}$) হয়। $K_m$ কম হলে সাবস্ট্রেটের প্রতি উৎসেচকের আকর্ষণ বেশি হয়।
  • উষ্ণতা: একটি অনুকূল উষ্ণতায় (মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৭°C) উৎসেচক সর্বাধিক সক্রিয় থাকে। কম উষ্ণতায় এটি নিষ্ক্রিয় হয় এবং উচ্চ উষ্ণতায় প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন ভেঙে বিকৃত (Denatured) হয়ে যায়। ($Q_{10} pprox ২$)।
  • pH: প্রতিটি উৎসেচকের একটি নির্দিষ্ট অনুকূল pH থাকে (পেপসিন pH ১.৫–২.০, লালারসীয় অ্যামাইলেজ pH ৬.৮, ট্রিপসিন pH ৮.০)।
৪. উৎসেচক প্রতিরোধ (Enzyme Inhibition)
  • প্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধ (Competitive Inhibition): প্রতিরোধকের গঠন সাবস্ট্রেটের সমরূপ হওয়ায় এটি সক্রিয় স্থানের জন্য সাবস্ট্রেটের সাথে লড়াই করে:
    • গতিবিদ্যা: $V_{\max}$ অপরিবর্তিত থাকে (প্রচুর সাবস্ট্রেট যোগ করে বাধা দূর করা যায়); কিন্তু আপাত $K_m$ বৃদ্ধি পায়।
    • উদাহরণ: সাকসিনেট ডিহাইড্রোজিনেজের ওপর ম্যালোনেট-এর বাধা; ব্যাকটেরিয়ার ফলিক অ্যাসিড তৈরিতে সালফা ড্রাগ।
  • অপ্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধ (Non-competitive Inhibition): প্রতিরোধক সক্রিয় স্থানের বাইরে অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়ে সক্রিয় স্থানের গঠন নষ্ট করে দেয়:
    • গতিবিদ্যা: $V_{\max}$ হ্রাস পায়; কিন্তু $K_m$ অপরিবর্তিত থাকে।
    • উদাহরণ: কোষীয় শ্বসনে সাইটোক্রোম সি অক্সিডেজের ওপর সায়ানাইড ($ ext{CN}^-$) বিষক্রিয়া।
৫. উৎসেচকের শ্রেণিবিভাগ (IUBMB পদ্ধতি)

বিক্রিয়ার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে উৎসেচক ৬টি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত:

  1. অক্সিডোরিডাক্টেজ / ডিহাইড্রোজিনেজ: জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া ঘটায়, যেমন অ্যালকোহল ডিহাইড্রোজিনেজ।
  2. ট্রান্সফারেজ: এক অণু থেকে অন্য অণুতে কার্যকরী মূলক স্থানান্তর করে, যেমন হেক্সোকাইনেজ।
  3. হাইড্রোলেজ: জলের সাহায্যে বন্ধন আর্দ্রবিশ্লেষণ করে, যেমন পেপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ।
  4. লায়েজ: জল সংযোজন ছাড়াই বন্ধন ভেঙে দ্বিবন্ধন সৃষ্টি করে, যেমন অ্যালডোলেজ।
  5. আইসোমারেজ: আইসোমার রূপান্তর ঘটায়, যেমন ট্রায়োজ ফসফেট আইসোমারেজ।
  6. লাইগেজ (সিন্থেটেজ): ATP ভেঙে দুটি অণুকে সংযুক্ত করে, যেমন DNA লাইগেজ।
৬. সহ-উপাদান (Co-factors)

উৎসেচকের অনুঘটনীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অপ্রোটিন উপাদানকে কো-ফ্যাক্টর বলে। সম্পূর্ণ সক্রিয় উৎসেচককে হলোএনজাইম বলে, যা প্রোটিন অংশ (অ্যাপোএনজাইম) এবং অপ্রোটিন অংশ (কো-ফ্যাক্টর) নিয়ে গঠিত। কো-ফ্যাক্টর তিন প্রকার:

  • প্রস্থেটিক গ্রুপ: অ্যাপোএনজাইমের সাথে স্থায়ী ও দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ জৈব উপাদান:
    • উদাহরণ: ক্যাটালেজ ও পারঅক্সিডেজের হিম (Heme) গ্রুপ।
  • কো-এনজাইম: শিথিলভাবে যুক্ত জৈব উপাদান; মূলত জলে দ্রবণীয় ভিটামিন থেকে উৎপন্ন:
    • $ ext{NAD}^+$ ও $ ext{NADP}^+$: এতে ভিটামিন B3 (নিয়াসিন) থাকে।
    • FAD: এতে ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন) থাকে।
    • কো-এনজাইম A: এতে ভিটামিন B5 (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড) থাকে।
  • ধাতব আয়ন সক্রিয়ক: সক্রিয় স্থানে সন্নিবেশ বন্ধন গঠন করে:
    • $ ext{Zn}^{2+}$: কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ এবং কার্বক্সিপেপটাইডেজ-এর সহ-উপাদান।
    • $ ext{Mg}^{2+}$: হেক্সোকাইনেজ সহ সমস্ত কাইনেজ উৎসেচকের সহ-উপাদান।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

মাইকেলিস-মেনটেন উৎসেচক গতিবিদ্যা সমীকরণ
$$v_0 = (V_max * [S]) / (K_m + [S])$$
যখন [S] = Km, তখন v0 = 1/2 Vmax হয়। Km হলো উৎসেচক ও সাবস্ট্রেটের পারস্পরিক আসক্তির ব্যস্তানুপাতিক।
দ্বিসূত্রী ডিএনএ-তে চারগাফের সমতা নীতি
[A] = [T], [G] = [C] এবং ([A] + [G]) / ([T] + [C]) = 1.0 (পিউরিন = পিরিমিডিন)
এটি কেবলমাত্র দ্বিসূত্রী ডিএনএ-র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; একসূত্রী ডিএনএ বা আরএনএ-তে চারগাফের নিয়ম খাটে না।
অ্যামিনো অ্যাসিডের সুইটার-আয়ন আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দু (pI)
$$pI = (pK_a1 + pK_a2) / 2$$
pH < pI হলে অ্যামিনো অ্যাসিড ক্যাটায়ন (+) এবং pH > pI হলে অ্যানায়ন (-) হিসেবে আচরণ করে।
ওয়াটসন-ক্রিক B-DNA জ্যামিতিক পরিমাপ
পিচ = ৩.৪ nm, অক্ষীয় বৃদ্ধি = ০.৩৪ nm, বেস পেয়ার/পাক = ১০, ব্যাস = ২.০ nm
পাশাপাশি দুটি ক্ষারক জোড়ের মধ্যে ঘূর্ণন কোণ ৩৬ ডিগ্রি।
কার্বোহাইড্রেট গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন ঘনীভবন সমীকরণ
C6H12O6 + C6H12O6 -> C12H22O11 + H2O
সুক্রোজে গ্লুকোজের C1 ও ফ্রুক্টোজের C2 অ্যানোমেরিক কার্বনে আলফা-১,বিটা-২ বন্ধন গঠিত হওয়ায় এটি অবিজারক শর্করা।
ট্রাইগ্লিসারাইড এস্টারিফিকেশন বিক্রিয়া
গ্লিসারল + ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড -> ট্রাইগ্লিসারাইড + ৩ H2O
ট্রাইগ্লিসারাইড হলো প্রোটোপ্লাজম ও অ্যাডিপোজ কলায় সঞ্চিত প্রধান প্রশম লিপিড।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) ওয়াটসন ও ক্রিক প্রস্তাবিত B-DNA দ্বি-সর্পিল মডেলটি বর্ণনা করো। চারগাফের ক্ষারক সমতা নীতিটি লেখো। (খ) নিউক্লিওসাইড ও নিউক্লিওটাইডের মধ্যে পার্থক্য লেখো এবং প্রতিটির দুটি উদাহরণ দাও। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) ওয়াটসন ও ক্রিকের B-DNA মডেল এবং চারগাফের নীতি: [৩ নম্বর]
১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ও মরিস উইলকিন্সের এক্স-রে অপবর্তন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনএ-র দ্বি-সর্পিল মডেল প্রস্তাব করেন:
১. বিপরীত সমান্তরাল পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল: ডিএনএ দুটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত যা একটি কেন্দ্রীয় কাল্পনিক অক্ষের চারদিকে ডানাবর্তে কুন্ডলীকৃত থাকে। একটি শৃঙ্খলের অভিমুখ $৫' \to ৩'$ হলে অন্যটির অভিমুখ হয় $৩' \to ৫'$।
২. মেরুদণ্ড ও কেন্দ্র: শৃঙ্খলের বহিঃস্থ মেরুদণ্ডটি পর্যায়ক্রমিক ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা ও ফসফেট গ্রুপ দ্বারা গঠিত যা $৩'-৫'$ ফসফোডাইএস্টার বন্ধনে আবদ্ধ। ক্ষারকগুলি ভেতরে অক্ষের সাথে সমকোণে বিন্যস্ত থাকে।
৩. পরিপূরক ক্ষারক জোড় (Complementary Base Pairing): পিউরিন সর্বদা পিরিমিডিনের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়: অ্যাডেনিন দুটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা থাইমিনের সাথে যুক্ত হয় ($A = T$) এবং গুয়ানিন তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা সাইটোসিনের সাথে যুক্ত হয় ($G \equiv C$)।
৪. সর্পিলের জ্যামিতিক মাপ: এক পূর্ণ পাকে সর্পিলের দৈর্ঘ্য বা পিচ হলো $৩.৪\text{ nm}$ ($৩৪\text{ \AA}$), যাতে ১০টি ক্ষারক জোড় (bp) থাকে। পরপর দুটি ক্ষারক জোড়ের মধ্যকার অক্ষীয় দূরত্ব $০.৩৪\text{ nm}$ ($৩.৪\text{ \AA}$) এবং সর্পিলের ব্যাস সর্বদা স্থির $২.০\text{ nm}$ ($২০\text{ \AA}$) থাকে।
- চারগাফের নীতি (Chargaff's Rules): দ্বিসূত্রী ডিএনএ-তে:
(১) অ্যাডেনিনের মোলার পরিমাণ সর্বদা থাইমিনের সমান ($[A] = [T]$) এবং গুয়ানিনের পরিমাণ সাইটোসিনের সমান ($[G] = [C]$)।
(২) মোট পিউরিন ক্ষারকের পরিমাণ মোট পিরিমিডিন ক্ষারকের সমান: $\frac{[A] + [G]}{[T] + [C]} = ১.০$।

(খ) নিউক্লিওসাইড বনাম নিউক্লিওটাইড: [২ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যনিউক্লিওসাইডনিউক্লিওটাইড
উপাদাননাইট্রোজেন ক্ষারক + পেন্টোজ শর্করা (ফসফেট অনুপস্থিত)।নাইট্রোজেন ক্ষারক + পেন্টোজ শর্করা + ফসফেট গ্রুপ।
বন্ধন প্রকৃতিকেবল শর্করার C1' ও ক্ষারকের মাঝে $N\text{-গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন}$ থাকে।$N\text{-গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন}$ ছাড়াও C5' কার্বনে $৫'\text{-ফসফোএস্টার বন্ধন}$ থাকে।
তড়িৎ প্রকৃতিপ্রশম বা সামান্য ক্ষারীয় প্রকৃতির অণু।ফসফেটের আয়নায়নের কারণে স্পষ্ট অম্লধর্মী ও ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
উদাহরণঅ্যাডেনোসিন, গুয়ানোসিন, সাইটিডিন, থাইমিডিন।অ্যাডিনাইলিক অ্যাসিড (AMP), গুয়ানাইলিক অ্যাসিড (GMP), ATP।
উদাহরণ 2
(ক) প্রোটিনের চার স্তরীয় গঠন বিন্যাস ($১^\circ, ২^\circ, ৩^\circ, ৪^\circ$) এবং প্রতিটি স্তর সুস্থিতকারী রাসায়নিক বন্ধনগুলি ব্যাখ্যা করো। (খ) সুইটার-আয়ন (Zwitterion) কী? আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দুতে একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন সংকেত দেখাও। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) প্রোটিনের চার স্তরীয় গঠন বিন্যাস: [৩ নম্বর]
প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের হেটারোপলিমার যার চারটি সুসংগঠিত রূপতাত্ত্বিক স্তর রয়েছে:
১. প্রাথমিক ($১^\circ$) স্তর: পলিপেপটাইড শৃঙ্খলে অ্যামিনো অ্যাসিডের সুনির্দিষ্ট রৈখিক অনুক্রম (N-প্রান্ত থেকে C-প্রান্ত পর্যন্ত)। এটি সম্পূর্ণরূপে সমযোজী পেপটাইড বন্ধন ($-\text{CO}-\text{NH}-$) দ্বারা গঠিত। এটি পরবর্তী সকল স্তরের রূপ নির্ধারণ করে।
২. গৌণ ($২^\circ$) স্তর: পলিপেপটাইড মেরুদণ্ডের নিয়মিত পর্যায়ক্রমিক কুন্ডলীকরণ, যা কার্বনাইল অক্সিজেন ($>\text{C}=\text{O}$) এবং অ্যামাইড হাইড্রোজেনের ($-\text{NH}-$) মধ্যবর্তী হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা সুস্থিত থাকে:
- $\alpha$-হেলিক্স: ডানাবর্তী স্প্রিং সদৃশ কুন্ডলী যাতে প্রতি পাকে ৩.৬টি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে (যেমন চুলের $\alpha$-কেরাটিন)।
- $\beta$-প্লিটেড শিট: শৃঙ্খলগুলি পাশাপাশি বিন্যস্ত হয়ে সমান্তরাল বা বিপরীত-সমান্তরাল চাদরের মতো রূপ নেয় (যেমন রেশম ফাইব্রোইন)।
৩. প্রগৌণ ($৩^\circ$) স্তর: সমগ্র পলিপেপটাইড শৃঙ্খলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুমড়ে-মুচড়ে ঘন ত্রিমাত্রিক গ্লোবিউলার আকার ধারণ করে। এটি উৎসেচকের অনুঘটনীয় সক্রিয় স্থান (Active site) তৈরি করে। সুস্থিতকারী বন্ধন: (১) অভ্যন্তরীণ হাইড্রোফোবিক মিথস্ক্রিয়া, (২) হাইড্রোজেন বন্ধন, (৩) আয়নিক বা লবণ সেতু, এবং (৪) সিস্টাইনের মধ্যবর্তী সমযোজী ডাইসালফাইড বন্ধন ($-\text{S}-\text{S}-$)।
৪. চতুর্গৌণ ($৪^\circ$) স্তর: দুই বা ততোধিক স্বাধীন পলিপেপটাইড সাবইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত জটিল প্রোটিন রূপ। সাবইউনিটগুলি হাইড্রোফোবিক ও দুর্বল আয়নিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। উদাহরণ: প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হিমোগ্লোবিন হলো একটি $\alpha_2\beta_2$ টেট্রামার (দুটি $\alpha$-শৃঙ্খল ও দুটি $\beta$-শৃঙ্খল)।

(খ) সুইটার-আয়ন ও আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দু: [২ নম্বর]
- সংজ্ঞা: অ্যামিনো অ্যাসিডে একই সাথে ক্ষারীয় অ্যামিনো মূলক ($-\text{NH}_2$) এবং অম্লীয় কার্বক্সিল মূলক ($-\text{COOH}$) উপস্থিত থাকে। একটি নির্দিষ্ট হাইড্রোজেন আয়ন ঘনত্বে বা pH-এ (যাকে আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দু বা pI বলে), কার্বক্সিল মূলক প্রোটন ত্যাগ করে ($-\text{COO}^-$) এবং অ্যামিনো মূলক প্রোটন গ্রহণ করে ($-\text{NH}_3^+$)। ফলে অণুটি একই সাথে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় আধান ধারণ করে এবং এর মোট কার্যকর আধান শূন্য হয়। এই দ্বিমেরুবিশিষ্ট আয়নকে সুইটার-আয়ন (Zwitterion) বলে।
- গঠন সংকেত:
     H
     |
+H3N-C-COO-
     |
     R   (pI মান-এ মোট আধান = ০)

$\text{pH} < \text{pI}$ (অম্লীয়) হলে এটি ক্যাটায়ন ($+$) এবং $\text{pH} > \text{pI}$ (ক্ষারীয়) হলে এটি অ্যানায়ন ($-$) হিসেবে আচরণ করে।
উদাহরণ 3
(ক) উৎসেচক কীভাবে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার সক্রিয়করণ শক্তি হ্রাস করে? উৎসেচক-সাবস্ট্রেট জটিল গঠনের প্রবাহচিত্র দাও। (খ) প্রতিযোগিতামূলক ও অপ্রতিযোগিতামূলক উৎসেচক বাধার মধ্যে পার্থক্য লেখো এবং প্রতিটির একটি করে উদাহরণ দাও। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) উৎসেচকের ক্রিয়াকৌশল ও সক্রিয়করণ শক্তি: [৩ নম্বর]
- সক্রিয়করণ শক্তি ($E_a$): যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক অণুগুলিকে ($S$) উৎপাদে পরিণত হতে হলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গতিশক্তি বা তাপীয় শক্তি শোষণ করে একটি উচ্চ-শক্তিবিশিষ্ট অস্থায়ী রূপান্তর দশা (Transition State) অতিক্রম করতে হয়। এই প্রয়োজনীয় শক্তির বাধাকে সক্রিয়করণ শক্তি ($E_a$) বলে।
- উৎসেচক যেভাবে $E_a$ হ্রাস করে:
১. উৎসেচক ($E$) পৃষ্ঠের সুনির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক খাঁজে বা সক্রিয় স্থানে সাবস্ট্রেট অণু ($S$) আবদ্ধ হয়ে ক্ষণস্থায়ী উৎসেচক-সাবস্ট্রেট জটিল ($ES$) গঠন করে: $\text{E} + \text{S} \rightleftharpoons \text{ES}$।
২. সক্রিয় স্থানের অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে আবদ্ধ হওয়ায় সাবস্ট্রেটের রাসায়নিক বন্ধনগুলি টানটান ও বিকৃত হয় (Induced Fit Model)। ফলে রূপান্তর দশাটির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় এবং এর শক্তির স্তর নিচে নেমে আসে ($E_{a,\text{cat}} \ll E_{a,\text{uncat}}$)।
৩. কম শক্তিতেই সাবস্ট্রেট রূপান্তরিত হয়ে উৎসেচক-উৎপাদ জটিল ($EP$) তৈরি করে যা বিশ্লিষ্ট হয়ে অপরিবর্তিত উৎসেচক ($E$) ও উৎপাদ ($P$) মুক্ত করে: $\text{ES} \to \text{EP} \to \text{E} + \text{P}$।
মনে রাখবে: উৎসেচক বিক্রিয়ার মুক্ত শক্তির পরিবর্তন ($\Delta G$) বা সাম্যাবস্থা ধ্রুবক ($K_{eq}$) কোনোভাবেই পরিবর্তন করে না।

(খ) প্রতিযোগিতামূলক বনাম অপ্রতিযোগিতামূলক বাধা: [২ নম্বর]
পার্থক্যসূচক বিষয়প্রতিযোগিতামূলক বাধা (Competitive)অপ্রতিযোগিতামূলক বাধা (Non-competitive)
গঠনগত সাদৃশ্যপ্রতিরোধকের গঠন সাবস্ট্রেটের রাসায়নিক গঠনের সাথে হুবহু মিলে যায়।প্রতিরোধকের গঠনের সাথে সাবস্ট্রেটের কোনো সাদৃশ্য থাকে না।
যুক্ত হওয়ার স্থানউৎসেচকের মূল অনুঘটনীয় সক্রিয় স্থানে সাবস্ট্রেটের সাথে প্রতিযোগিতা করে যুক্ত হয়।সক্রিয় স্থানের বাইরে অবস্থিত একটি পৃথক অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়।
$V_{\max}$-এর ওপর প্রভাবসর্বোচ্চ বেগ ($V_{\max}$) অপরিবর্তিত থাকে (প্রচুর সাবস্ট্রেট যোগ করে বাধা দূর করা যায়)।সর্বোচ্চ বেগ ($V_{\max}$) হ্রাস পায় (সাবস্ট্রেট বাড়িয়েও বাধা কাটানো যায় না)।
$K_m$-এর ওপর প্রভাবআপাত মাইকেলিস ধ্রুবক ($K_m$) বৃদ্ধি পায় (আসক্তি হ্রাস পায়)।$K_m$ অপরিবর্তিত থাকে (অবশিষ্ট সক্রিয় স্থানগুলির আসক্তি অপরিবর্তিত থাকে)।
উদাহরণসাকসিনেট ডিহাইড্রোজিনেজ-এর ওপর ম্যালোনেট-এর বাধা; ব্যাকটেরিয়ার ফলিক অ্যাসিড তৈরিতে সালফা ড্রাগ।কোষীয় শ্বসনে সাইটোক্রোম সি অক্সিডেজ-এর ওপর সায়ানাইড ($\text{CN}^-$) বিষক্রিয়া।
উদাহরণ 4
(ক) ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যবহার করে সজীব কলাকে অ্যাসিড-দ্রাব্য ও অ্যাসিড-অদ্রাব্য অংশে পৃথক করার পদ্ধতিটি বর্ণনা করো। আণবিক ভর ৮০০ ডাল্টনের কম হওয়া সত্ত্বেও লিপিড কেন অ্যাসিড-অদ্রাব্য অংশে জমা হয়? (খ) প্রাথমিক ও গৌণ মেটাবোলাইটের মধ্যে পার্থক্য লেখো এবং প্রতিটির দুটি করে উদাহরণ দাও। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) কলার রাসায়নিক নিষ্কাশন ও লিপিডের ব্যতিক্রমী অবস্থান: [৩ নম্বর]
- নিষ্কাশন পদ্ধতি:
১. যেকোনো সজীব কলাকে (সবজির টুকরো বা যকৃৎ) হামানদিস্তায় নিয়ে ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিডে ($\text{Cl}_3\text{C-COOH}$) ভালোভাবে পেষণ করে একটি ঘন মিশ্রণ বা স্লারি তৈরি করা হয়।
২. মিশ্রণটিকে সুতি কাপড় বা চিজক্লথের মধ্য দিয়ে ছেঁকে নিলে দুটি স্পষ্ট অংশ পাওয়া যায়:
- ফিলট্রেট (অ্যাসিড-দ্রাব্য অংশ): ছাঁকনি গলে নিচে জমা তরলে ১৮ থেকে ৮০০ ডাল্টন আণবিক ভরবিশিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র অণু থাকে, যাদের ক্ষুদ্র জৈব অণু (Biomicromolecules) বলে (যেমন গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, নিউক্লিওটাইড, খনিজ লবণ)। এটি সাইটোপ্লাজমকে নির্দেশ করে।
- রিটেনটেট (অ্যাসিড-অদ্রাব্য অংশ): ছাঁকনির ওপর আটকে থাকা তলানিতে ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি আণবিক ভরবিশিষ্ট পলিমারিক অণু থাকে, যাদের বৃহৎ জৈব অণু (Biomacromolecules) বলে (যেমন প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড, নিউক্লিক অ্যাসিড)।
- লিপিডের ব্যতিক্রমী কারণ:
লিপিডের আণবিক ভর কখনোই ৮০০ ডাল্টনের বেশি হয় না (যেমন পামিটিক অ্যাসিড ২৫৬ Da, লেসিথিন ৭৩৪ Da); তাই এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ক্ষুদ্র অণু। কিন্তু লিপিড কোষপর্দা ও অঙ্গাণুর আবরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকে। কলা পেষার সময় কোষপর্দাগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় এবং জলের সংস্পর্শে এই টুকরোগুলি গোলকাকার জল-অদ্রাব্য ক্ষুদ্র পুটিকা বা ভেসিকল (Liposomes) তৈরি করে। অ্যাসিড দ্রবণে অদ্রাব্য এই ভেসিকলগুলি আকারের কারণে কাপড়ের ছাঁকনি গলে যেতে পারে না, ফলে এরা প্রকৃত বৃহৎ অণু না হওয়া সত্ত্বেও রিটেনটেটে আটকে যায়।

(খ) প্রাথমিক বনাম গৌণ মেটাবোলাইটস: [২ নম্বর]
পার্থক্যসূচক বিষয়প্রাথমিক মেটাবোলাইটস (Primary)গৌণ মেটাবোলাইটস (Secondary)
শারীরবৃত্তীয় ভূমিকাকোষের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বৃদ্ধি, বিকাশ ও জনন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই; উদ্ভিদের আত্মরক্ষা ও পরিবেশীয় ভূমিকা পালন করে।
বিস্তারসার্বজনীন; ব্যাকটিরিয়া থেকে মানুষ পর্যন্ত সমস্ত সজীব কোষে উপস্থিত।সীমিত; প্রধানত উদ্ভিদ, ছত্রাক ও অণুজীবদের মধ্যে দেখা যায়।
নির্দিষ্ট কাজসুনির্দিষ্ট ও সুপরিচিত কাজ রয়েছে (যেমন শক্তি উৎপাদন, প্রোটিন সংশ্লেষ)।উৎপাদক জীবে কাজ অনেক সময় অজ্ঞাত, তবে মানুষের অর্থনৈতিক ও চিকিৎসায় বিশেষ উপযোগী।
উদাহরণগ্লুকোজ, অ্যালানিন, এটিপি, পামিটিক অ্যাসিড।অ্যালকালয়েড: মরফিন, কোডিন; টক্সিন: রিসিন, অ্যাব্রিন; ড্রাগ: ভিনব্লাস্টিন, কারকিউমিন।
উদাহরণ 5
(ক) মনোমার একক, গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনের ধরন এবং আয়োডিনের সাথে বিক্রিয়ার ভিত্তিতে স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজের মধ্যে তুলনা করো। (খ) সেলুলোজ কেন আয়োডিনের সাথে নীল বর্ণ দেয় না কিন্তু স্টার্চ গাঢ় নীল বর্ণ দেয়? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) স্টার্চ বনাম গ্লাইকোজেন বনাম সেলুলোজ: [৩ নম্বর]
পার্থক্যসূচক বিষয়স্টার্চ (Starch)গ্লাইকোজেন (Glycogen)সেলুলোজ (Cellulose)
মনোমার একক$\alpha$-D-গ্লুকোজ।$\alpha$-D-গ্লুকোজ।$\beta$-D-গ্লুকোজ।
গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনঅ্যামাইলোজে সরল $\alpha-1,4$ এবং অ্যামাইলোপেকটিনে প্রতি ২৪–৩০ একক পর $\alpha-1,6$ শাখা।$\alpha-1,4$ শৃঙ্খল এবং প্রতি ৮–১২ একক পর ঘন $\alpha-1,6$ শাখা।কেবলমাত্র অশাখ $\beta-1,4$ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন।
উৎস ও বিস্তারউদ্ভিদের সঞ্চিত প্রধান খাদ্য (বীজ, কন্দ)।প্রাণী ও ছত্রাকের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য (যকৃৎ, পেশী)।উদ্ভিদ কোষ প্রাচীরের মূল উপাদান; জীবজগতের সর্বাধিক প্রাচুর্যপূর্ণ জৈব অণু।
আয়োডিন পরীক্ষা ($I_2$)গাঢ় নীল-কালো বর্ণ দেয়।লালচে-বাদামি বা বেগুনি বর্ণ দেয়।কোনো বর্ণ দেয় না (হলুদ-বাদামি থাকে)।
আণবিক রূপতত্ত্বকুন্ডলিত হেলিক্স (অ্যামাইলোজ) ও শাখাযুক্ত থোকা (অ্যামাইলোপেকটিন)।অত্যন্ত ঘন শাখাযুক্ত গ্লোবিউলার বৃক্ষাকার গঠন।সোজা, সমান্তরাল হাইড্রোজেন বন্ধনে আবদ্ধ দৃঢ় মাইক্রোফাইব্রিল।

(খ) আয়োডিন বিক্রিয়ায় পার্থক্যের কারণ: [২ নম্বর]
- স্টার্চ: স্টার্চের অ্যামাইলোজ অংশটি $\alpha-1,4$ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনের জ্যামিতিক কোণের কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি ফাঁপা ডানাবর্তী স্প্রিং বা হেলিকাল গৌণ কুন্ডলী ধারণ করে। যখন স্টার্চে আয়োডিন দ্রবণ যোগ করা হয়, তখন আয়োডিন অণুগুলি এই হেলিক্সের ফাঁপা নলের ভেতরে প্রবেশ করে আটকে যায়। আয়োডিন এবং শর্করার ইলেকট্রন মেঘের মিথস্ক্রিয়ায় আলো শোষিত হয়ে একটি গাঢ় নীল-কালো জটিল যৌগ দৃশ্যমান হয়।
- সেলুলোজ: সেলুলোজে $\beta-D$-গ্লুকোজ অণুগুলি $\beta-1,4$ বন্ধনে যুক্ত থাকে, যার ফলে পরপর গ্লুকোজ অণুগুলি ১৮০° উল্টো হয়ে অবস্থান করে একটি সম্পূর্ণ সরল রৈখিক ফিতার মতো শৃঙ্খল গঠন করে। পাশাপাশি শৃঙ্খলগুলি আন্তঃআণবিক হাইড্রোজেন বন্ধনে শক্তভাবে জোড়া লেগে যায়। সেলুলোজে কোনো হেলিকাল কুন্ডলী বা ফাঁকা গহ্বর না থাকায় এটি আয়োডিন অণুকে ধরে রাখতে পারে না, ফলে কোনো নীল বর্ণ সৃষ্টি হয় না।
উদাহরণ 6
নিম্নলিখিত বিবরণগুলি থেকে সংশ্লিষ্ট জৈব অণু, সহ-উপাদান বা উৎসেচক শ্রেণি শনাক্ত করো: (১) কোষপর্দায় প্রাচুর্যপূর্ণ একটি উভকামী ফসফোলিপিড যা গ্লিসারল, দুটি ফ্যাটি অ্যাসিড, ফসফরিক অ্যাসিড ও কোলিন নিয়ে গঠিত। (২) অপ্রোটিন জৈব সহ-উপাদান যা অ্যাপোএনজাইমের সাথে দৃঢ়ভাবে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকে (যেমন ক্যাটালেজের হিম)। (৩) যে উৎসেচক শ্রেণি এটিপি আর্দ্রবিশ্লেষণের মাধ্যমে দুটি অণুর সমযোজী সংযোজন ঘটায় (যেমন DNA লাইগেজ)। (৪) N-অ্যাসিটাইলগ্লুকোসামিনের জটিল পলিমার যা সন্ধিপদীদের বহিঃকঙ্কাল ও ছত্রাকের প্রাচীর গঠন করে। (৫) সাকসিনেট ডিহাইড্রোজিনেজ উৎসেচকের প্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধক যা সাকসিনেটের সমরূপী। [১ x ৫ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
শনাক্তকরণ: [প্রতিটিতে ১ নম্বর]
১. লেসিথিন (ফসফাটিডিলকোলিন): কোষপর্দার প্রধান ফসফোলিপিড যার একটি পোলার কোলিন-ফসফেট মস্তক এবং দুটি নন-পোলার ফ্যাটি অ্যাসিড পুচ্ছ থাকে।
২. প্রস্থেটিক গ্রুপ (Prosthetic Group): উৎসেচকের প্রোটিন অংশের সাথে স্থায়ী ও দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ অপ্রোটিন জৈব উপাদান (যেমন ক্যাটালেজ ও পারঅক্সিডেজের লৌহ-পর্ফাইরিন হিম গ্রুপ)।
৩. লাইগেজ (IUBMB শ্রেণি ৬): যে উৎসেচকগুলি ATP ভেঙে $\text{C-O}, \text{C-S}, \text{C-N}$ বা $\text{C-C}$ বন্ধন গঠনের মাধ্যমে দুটি পৃথক অণুকে সংযুক্ত করে।
৪. কাইটিন (Chitin): $\beta-1,4$ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনে আবদ্ধ N-অ্যাসিটাইলগ্লুকোসামিন (NAG)-এর সরল পলিমার যা জীবমণ্ডলে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাপ্ত জৈব যৌগ।
৫. ম্যালোনেট (ম্যালোনিক অ্যাসিড): তিন কার্বনযুক্ত ডাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড যা সাকসিনেটের মতো দেখতে হওয়ায় সাকসিনেট ডিহাইড্রোজিনেজের সক্রিয় স্থানে প্রতিযোগিতা করে যুক্ত হয়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের মতো লিপিডকেও প্রকৃত বৃহৎ জৈব অণু (Macromolecule) মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

লিপিডের আণবিক ভর ৮০০ ডাল্টনের বেশি হয় না (যেখানে প্রকৃত বৃহৎ অণুর ভর ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি)। কলা হোমোজেনাইজেশনের সময় কোষপর্দার লিপিড ভেঙে জল-অদ্রাব্য ক্ষুদ্র পুটিকা (ভেসিকল) তৈরি করে ফিল্টারের ছাঁকনিতে আটকে যাওয়ায় এটি অ্যাসিড-অদ্রাব্য অংশে পাওয়া যায়।

সাধারণ ভুল ধারণা

গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় সুক্রোজকে বিজারক শর্করা মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ পৃথকভাবে বিজারক শর্করা হলেও সুক্রোজে গ্লুকোজের অ্যালডিহাইড মূলক (C1) এবং ফ্রুক্টোজের কিটোন মূলক (C2) উভয়ই আলফা-১,বিটা-২ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। কোনো মুক্ত অ্যানোমেরিক মূলক না থাকায় সুক্রোজ একটি অবিজারক শর্করা।

সাধারণ ভুল ধারণা

প্রতিযোগিতামূলক ও অপ্রতিযোগিতামূলক বাধার ক্ষেত্রে Km এবং Vmax-এর প্রভাবকে গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধক সক্রিয় স্থানের জন্য লড়াই করে আপাত Km বৃদ্ধি করে কিন্তু প্রচুর সাবস্ট্রেট যোগ করে মূল Vmax অর্জন করা যায়। পক্ষান্তরে অপ্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধক অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়ে Vmax হ্রাস করে কিন্তু Km অপরিবর্তিত থাকে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ধারণা করা যে সমস্ত উৎসেচকই বাধ্যতামূলকভাবে প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অধিকাংশ উৎসেচক গ্লোবিউলার প্রোটিন হলেও কিছু অনুঘটক আরএনএ অণু রয়েছে যাদের রাইবোজাইম (Ribozyme) বলে (যেমন ব্যাকটিরিয়ার রাইবোজোমের ২৩এস rRNA যা পেপটাইড বন্ধন গঠনে সাহায্য করে)।

সাধারণ ভুল ধারণা

প্রোটিনের গৌণ গঠন (আলফা-হেলিক্স ও বিটা-শিট) ডাইসালফাইড বন্ধন দ্বারা গঠিত বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

প্রোটিনের গৌণ গঠন সম্পূর্ণভাবে পলিপেপটাইড ব্যাকবোনের কার্বনাইল অক্সিজেন ও অ্যামাইড হাইড্রোজেনের মধ্যবর্তী হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা সুস্থিত থাকে। সমযোজী ডাইসালফাইড সেতু (-S-S-) প্রোটিনের প্রগৌণ (৩°) ও চতুর্গৌণ (৪°) গঠনকে সুস্থিত করে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

জৈব অণুসমূহ (অধ্যায় ৯) - জৈব রসায়ন, প্রোটিন স্তর, ডিএনএ ও উৎসেচক গতিবিদ্যা প্রোটিন গঠন স্তর (১°-৪°) | ওয়াটসন-ক্রিক B-DNA দ্বি-সর্পিল | উৎসেচক ক্রিয়া ও সক্রিয়করণ শক্তি 1 ১. প্রোটিনের গঠন স্তর ও পেপটাইড বন্ধন 1° Primary: -NH-CHR-CO-NH-CHR- 2° Secondary: α-Helix & β-Sheet (H-Bonds) 3° Tertiary: 3D Globular Active Site 4° Quaternary: Oligomeric (Hb α2β2) প্রাথমিক (১°): অ্যামিনো অ্যাসিডের রৈখিক শৃঙ্খল গৌণ (২°): α-হেলিক্স ও β-প্লিটেড শিট (H-বন্ধন) প্রগৌণ (৩°): ৩-মাত্রিক গ্লোবিউলার ভাঁজ (সক্রিয় রূপ) চতুর্গৌণ (৪°): বহু-সাবইউনিট সংকলন (যেমন হিমোগ্লোবিন) ⚡ পেপটাইড বন্ধন (-CO-NH-) 🏷️ সুইটার-আয়ন ও আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দু 2 ২. ওয়াটসন-ক্রিক B-DNA দ্বি-সর্পিল A = T (2H) G ≡ C (3H) T = A (2H) C ≡ G (3H) Pitch: 3.4 nm পরস্পর বিপরীত সমান্তরাল শৃঙ্খল (5'→3' ও 3'→5') ফসফোডাইএস্টার বন্ধন + শর্করা-ফসফেট মেরুদণ্ড পরিপূরক ক্ষারক জোড়: A=T (২টি H) ও G≡C (৩টি H) পিচ = ৩.৪ nm (১০টি বেস পেয়ার/পাক, ব্যাস ২.০ nm) 🧬 চারগাফের সমতা নীতি ([A+G] = [T+C]) 🔬 নিউক্লিওসাইড বনাম নিউক্লিওটাইড 3 ৩. উৎসেচক গতিবিদ্যা ও সক্রিয়করণ শক্তি Potential Energy Reaction Progress → Substrate (S) Product (P) Ea without Enzyme Ea with Enzyme (ES) সক্রিয়করণ শক্তি (Ea) হ্রাস করে বিক্রিয়া ত্বরণ ক্ষণস্থায়ী উৎসেচক-সাবস্ট্রেট সংকুল (ES কমপ্লেক্স) মাইকেলিস ধ্রুবক (Km): 1/2 Vmax-এ সাবস্ট্রেট ঘনত্ব প্রতিযোগিতামূলক বাধা (Km বৃদ্ধি, Vmax অপরিবর্তিত) 🧪 IUBMB ৬টি উৎসেচক শ্রেণি ⚙️ সহ-উপাদান: প্রস্থেটিক গ্রুপ ও কো-এনজাইম

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
সমস্ত সজীব জীব জৈব বৃহদণু এবং অজৈব খনিজ লবণ দ্বারা গঠিত। ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড দ্বারা কলার হোমোজেনাইজেশন করলে দ্রাব্য অংশ (১৮–৮০০ ডাল্টন, ক্ষুদ্র জৈব অণু) এবং অদ্রাব্য অংশ (>১০,০০০ ডাল্টন, বৃহৎ জৈব অণু) পৃথক হয়।
মূল বিষয় 2
লিপিডের আণবিক ভর ৮০০ ডাল্টনের কম হওয়ায় এটি প্রকৃত অর্থে বৃহৎ জৈব অণু নয়; কিন্তু হোমোজেনাইজেশনের সময় কোষপর্দা বিদীর্ণ হয়ে জল-অদ্রাব্য ক্ষুদ্র পুটিকা (ভেসিকল) তৈরি করায় এটি অ্যাসিড-অদ্রাব্য অংশে জমা হয়।
মূল বিষয় 3
প্রাথমিক মেটাবোলাইটস (অ্যামিনো অ্যাসিড, শর্করা, নিউক্লিওটাইড) প্রত্যক্ষ শারীরবৃত্তীয় বৃদ্ধিতে অংশ নেয়; গৌণ মেটাবোলাইটস (অ্যালকালয়েড, টারপিনয়েড, টক্সিন, ড্রাগ) উদ্ভিদের আত্মরক্ষা ও পরিবেশীয় ভূমিকা পালন করে।
মূল বিষয় 4
কার্বোহাইড্রেট হলো পলিহাইড্রক্সি অ্যালডিহাইড বা কিটোন। মনোস্যাকারাইডগুলি গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়। সুক্রোজ একটি অবিজারক শর্করা। স্টার্চ আয়োডিনকে কুন্ডলীতে ধরে রেখে গাঢ় নীল বর্ণ ধারণ করে; সেলুলোজ সরল শৃঙ্খল হওয়ায় আয়োডিন বর্ণ সৃষ্টি করে না; গ্লাইকোজেন হলো প্রাণিজ সঞ্চয়ী পলিস্যাকারাইড।
মূল বিষয় 5
লিপিড হলো ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের জল-অদ্রাব্য এস্টার। সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডে কোনো দ্বিবন্ধন থাকে না; অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডে এক বা একাধিক দ্বিবন্ধন থাকে। লেসিথিন হলো কোষপর্দার প্রধান ফসফোলিপিড।
মূল বিষয় 6
অ্যামিনো অ্যাসিড হলো প্রতিস্থাপিত মিথেন যেখানে আলফা-কার্বনে অ্যামিনো, কার্বক্সিল, হাইড্রোজেন ও R-গ্রুপ যুক্ত থাকে। আইসো-ইলেকট্রিক বিন্দুতে এটি সুইটার-আয়ন হিসেবে থাকে। দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন (-CO-NH-) দ্বারা যুক্ত হয়।
মূল বিষয় 7
প্রোটিনের চারটি স্তর: প্রাথমিক (রৈখিক পেপটাইড শৃঙ্খল), গৌণ (আলফা-হেলিক্স ও বিটা-প্লিটেড শিট, হাইড্রোজেন বন্ধন), প্রগৌণ (ত্রিমাত্রিক গ্লোবিউলার ভাঁজ, সক্রিয় সাইট, ডাইসালফাইড ও হাইড্রোফোবিক বন্ধন), এবং চতুর্গৌণ (একাধিক সাবইউনিটের সংকলন, যেমন হিমোগ্লোবিন)।
মূল বিষয় 8
নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA ও RNA) হলো ৩'-৫' ফসফোডাইএস্টার বন্ধন দ্বারা যুক্ত নিউক্লিওটাইডের পলিমার। নিউক্লিওটাইড গঠিত হয় নাইট্রোজেন ক্ষারক, পেন্টোজ শর্করা ও ফসফেট গ্রুপ নিয়ে।
মূল বিষয় 9
ওয়াটসন ও ক্রিকের B-DNA হলো বিপরীত সমান্তরাল দ্বি-সর্পিল যার পিচ ৩.৪ nm (১০টি ক্ষারক জোড়/পাক, ০.৩৪ nm দূরত্ব, ২.০ nm ব্যাস), পরিপূরক ক্ষারক বন্ধন (A=T দুটি H-বন্ধন, G=C তিনটি H-বন্ধন) এবং এটি চারগাফের নিয়ম ([A]=[T], [G]=[C], পিউরিন=পিরিমিডিন) মেনে চলে।
মূল বিষয় 10
মেটাবলিজম হলো কোষের সকল রাসায়নিক ক্রিয়ার সমষ্টি: অ্যানাবলিক পথ শক্তি শোষণ করে জৈব অণু তৈরি করে এবং ক্যাটাবলিক পথ শক্তি মুক্ত করে ATP উৎপন্ন করে। সজীব অবস্থা হলো একটি অ-সাম্যাবস্থা স্থির অবস্থা (Non-equilibrium steady state)।
মূল বিষয় 11
উৎসেচক হলো প্রোটিনজাত জৈব অনুঘটক (ব্যতিক্রম রাইবোজাইম RNA) যা সামগ্রিক মুক্ত শক্তির পরিবর্তন (delta G) অপরিবর্তিত রেখে সক্রিয়করণ শক্তি (Ea) হ্রাস করে বিক্রিয়ার হার বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
মূল বিষয় 12
মাইকেলিস ধ্রুবক (Km) হলো অর্ধ-সর্বোচ্চ বেগে (1/2 Vmax) সাবস্ট্রেট ঘনত্ব; কম Km উচ্চ আকর্ষণ নির্দেশ করে। প্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধক সক্রিয় স্থানের জন্য লড়াই করে Km বৃদ্ধি করে কিন্তু Vmax অপরিবর্তিত রাখে। কো-ফ্যাক্টরের মধ্যে রয়েছে প্রস্থেটিক গ্রুপ, কো-এনজাইম ও ধাতব আয়ন।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
উচ্চ উষ্ণতায় প্রোটিনের পেপটাইড বন্ধন না ভাঙলেও উৎসেচকের অনুঘটন ক্ষমতা কেন সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উৎসেচকের অনুঘটন ক্ষমতা তার প্রগৌণ (৩°) এবং চতুর্গৌণ (৪°) কাঠামোর ফলে সৃষ্ট সুনির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক সক্রিয় স্থানের (Active site) ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ তাপে পেপটাইড বন্ধন অক্ষত থাকলেও হাইড্রোজেন বন্ধন, হাইড্রোফোবিক মিথস্ক্রিয়া ও লবণ সেতু ভেঙে যায়। ফলে গ্লোবিউলার প্রোটিনটি বিকৃত (Denatured) হয়ে যায় এবং ত্রিমাত্রিক সক্রিয় স্থানটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটি সাবস্ট্রেটের সাথে আর যুক্ত হতে পারে না।
2
পরীক্ষাগারে কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক ও অপ্রতিযোগিতামূলক উৎসেচক বাধার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রতিরোধকের উপস্থিতিতে সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব [S] ক্রমশ বৃদ্ধি করে বিক্রিয়ার গতিবেগ মেপে পার্থক্য করা যায়: (১) প্রতিযোগিতামূলক বাধায় সাবস্ট্রেট অনেক বাড়ালে প্রতিরোধক অপসারিত হয় এবং বিক্রিয়াটি তার মূল Vmax অর্জন করতে পারে (তবে Km বেশি হয়)। (২) অপ্রতিযোগিতামূলক বাধায় প্রতিরোধকটি অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত থাকায় সাবস্ট্রেট যতই বাড়ানো হোক না কেন, নিষ্ক্রিয় উৎসেচকগুলি কাজ করতে পারে না; ফলে Vmax স্থায়ীভাবে কমে যায় এবং মূল Vmax কখনোই ফিরে পাওয়া যায় না।
3
জীবদেহের সজীব অবস্থাকে কেন 'অ-সাম্যাবস্থা স্থির অবস্থা' (Non-equilibrium steady state) বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পদার্থবিদ্যার নিয়মানুসারে যেকোনো বদ্ধ সিস্টেম সাম্যাবস্থায় পৌঁছালে তার মুক্ত শক্তির পরিবর্তন শূন্য হয় (delta G = 0) এবং সে কোনো কার্যকর কাজ সম্পাদন করতে পারে না। জীবন্ত কোষকে বেঁচে থাকতে হলে নিরন্তর বিপাকীয় কাজ (আয়ন পরিবহন, প্রোটিন সংশ্লেষ, পেশি চলন) করতে হয়। সাম্যাবস্থা মানেই কোষের মৃত্যু। তাই সজীব কোষ পরিবেশ থেকে অনবরত পুষ্টি ও শক্তি গ্রহণ করে ক্যাটাবলিজম ও অ্যানাবলিজমের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক উপাদানকে একটি অবিচ্ছিন্ন গতিশীল অ-সাম্যাবস্থায় ধরে রাখে।
4
গ্লাইকোজেনকে কেন 'প্রাণিজ স্টার্চ' বলা হয় এবং উদ্ভিদের অ্যামাইলোপেকটিনের চেয়ে এর গঠনগত সুবিধা কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উদ্ভিদে স্টার্চ যেভাবে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে থাকে, প্রাণী ও ছত্রাকে একইভাবে গ্লাইকোজেন প্রধান সঞ্চিত শর্করা হিসেবে থাকায় একে প্রাণিজ স্টার্চ বলে। উভয়েই আলফা-D-গ্লুকোজের পলিমার হলেও অ্যামাইলোপেকটিনে প্রতি ২৪–৩০ একক পরপর শাখা তৈরি হয়, যেখানে গ্লাইকোজেনে প্রতি ৮–১২ একক পরপর ঘন শাখা তৈরি হয়। এই ঘন শাখার ফলে হাজার হাজার মুক্ত প্রান্ত তৈরি হয়, যার ফলে বিপাকীয় জরুরি অবস্থায় (লড়াই বা পালানোর সময়) গ্লাইকোজেন ফসফোরাইলেজ উৎসেচক খুব দ্রুত একসাথে লক্ষ লক্ষ গ্লুকোজ অণু মুক্ত করে রক্তে সরবরাহ করতে পারে।
5
দ্বিসূত্রী ডিএনএ-তে (A+G)/(T+C) অনুপাত সর্বদা ১.০ হলেও বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে (A+T)/(G+C) অনুপাত কেন ভিন্ন হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ওয়াটসন-ক্রিক ক্ষারক জোড় নিয়মানুসারে প্রতিটি পিউরিনের সাথে একটি নির্দিষ্ট পিরিমিডিন যুক্ত হয় (A-এর সাথে T এবং G-এর সাথে C)। তাই মোট পিউরিন সর্বদা মোট পিরিমিডিনের সমান হয়, যার ফলে (A+G)/(T+C) মান সর্বদা কঠোরভাবে ১.০ থাকে। কিন্তু ডিএনএ-তে কত জোড়া A-T থাকবে আর কত জোড়া G-C থাকবে, তার কোনো নির্দিষ্ট অনুপাত প্রকৃতিতে নির্ধারিত নেই। জীবভেদে অভিযোজন ও বিবর্তনের কারণে জিনের GC-পরিমাণ ভিন্ন হয় (যেমন তাপসহনশীল ব্যাকটিরিয়ায় ৩টি হাইড্রোজেন বন্ধনযুক্ত G-C বেশি থাকে), তাই (A+T)/(G+C) অনুপাত প্রজাতিভেদে আলাদা হয়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

জৈব অণুসমূহ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।