Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 1
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

সজীব বিশ্ব

সজীব বিশ্ব হলো ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার প্রথম ও মৌলিক অধ্যায়। এই অধ্যায়ে জীবনের প্রকৃত প্রকৃতি এবং জীবদেহের সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য (বিপাকক্রিয়া, কোষীয় সংগঠন ও সংবেদনশীলতা) ও অসংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্যের (বৃদ্ধি ও প্রজনন) মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। পৃথিবীর আনুমানিক ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ বর্ণিত প্রজাতির জীববৈচিত্র্য, বিজ্ঞানভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাসের অপরিহার্যতা, ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেম্যাটিক্সের মৌলিক ভিত্তি, ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত দ্বিপদ নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী (আইসিবিএন ও আইসিজেডএন), প্রজাতি থেকে রাজ্য পর্যন্ত সাতটি ট্যাক্সোনমিক ধাপ এবং হার্বেরিয়াম, বোটানিক্যাল গার্ডেন, মিউজিয়াম, চিড়িয়াখানা ও ট্যাক্সোনমিক কি-এর মতো শনাক্তকরণ সহায়ক উপকরণসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

মরুভূমির বালিয়াড়ি কিংবা বরফের পাহাড়ও সময়ের সাথে সাথে আকারে ও ভরে বৃদ্ধি পায়—তবে কি তাদের জীবন্ত বলা যাবে? অন্যদিকে খচ্চর কিংবা বন্ধ্যা কর্মী মৌমাছি সারা জীবনে কখনো সন্তান জন্ম দিতে পারে না—তবে কি তারা নির্জীব? জীববিজ্ঞানের এই প্রথম অধ্যায় জীবনের এই মৌলিক রহস্যেরই বৈজ্ঞানিক সমাধান উন্মোচন করে!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পৃথিবীর সুবিশাল জীববৈচিত্র্যকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনা ব্যতীত আধুনিক কৃষি, ভেষজ ঔষধ আবিষ্কার কিংবা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অসম্ভব। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ না থাকলে স্থানীয় নামের বিভ্রান্তিতে বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি ও সিস্টেম্যাটিক্স জীবের বিবর্তনীয় ধারা ও পারস্পরিক আত্মীয়তার সম্পর্ক উন্মোচন করে। এছাড়া হার্বেরিয়াম ও উদ্ভিদ উদ্যানের মতো সহায়ক উপাদান জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জিনতাত্ত্বিক গবেষণার অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • দশম শ্রেণি থেকে সজীব ও নির্জীবের প্রাথমিক পার্থক্যের ধারণা।
  • কোষের মৌলিক গঠন (নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম) সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান।
  • উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের পরিচিত সদস্যদের প্রাথমিক ধারণা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 জীব ও জীবনের বৈশিষ্ট্য: সংজ্ঞায়িত...
2 জীববৈচিত্র্য, শ্রেণীবিন্যাসের প্রয়...
3 দ্বিপদ নামকরণ ও আন্তর্জাতিক কোডসমূহ...
4 ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি ও বাধ্যতাম...
5 ট্যাক্সোনমিক সহায়ক উপাদান: হার্বের...
6 ট্যাক্সোনমিক কি (Key), ফ্লোরা, ম্যা...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

জীব ও জীবনের বৈশিষ্ট্য: সংজ্ঞায়িত বনাম অসংজ্ঞায়িত লক্ষণ

জীবন কী? জীবন হলো জৈব ও অজৈব অণুর এক অনন্য, সুশৃঙ্খল ও জটিল সমাহার যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে বৃদ্ধি, বিকাশ, সংবেদনশীলতা, উপযোজন এবং জনন সম্পন্ন করে। তবে আধুনিক জীববিজ্ঞানে সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য (যা ব্যতিক্রমহীনভাবে সকল জীবে বর্তমান এবং কোনো জড়বস্তুতে অনুপস্থিত) এবং অসংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

১. বৃদ্ধি (Growth)

বৃদ্ধির যমজ বৈশিষ্ট্য হলো: ভর বা ওজনের বৃদ্ধি এবং জীবের সংখ্যার বৃদ্ধি।

  • অনিয়ত বনাম নিয়ত বৃদ্ধি: উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ভাজক কলার উপস্থিতির কারণে সারা জীবন ধরে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অনিয়ত বৃদ্ধি ঘটে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সীমাবদ্ধ (নিয়ত বৃদ্ধি), এবং পরবর্তীকালে কেবল ক্ষয়পূরণের জন্য কোষ বিভাজন ঘটে।
  • অন্তর্মুখী বনাম বহির্মুখী বৃদ্ধি: জীবের দেহে প্রোটোপ্লাজমীয় সংশ্লেষের মাধ্যমে অন্তর্মুখী বৃদ্ধি (Intrinsic Growth) ঘটে। কিন্তু জড়বস্তু যেমন পাহাড়, পর্বত, বালিয়াড়ি বা পাথরের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পদার্থের স্তূপীকরণের মাধ্যমে বহির্মুখী বৃদ্ধি (Extrinsic Growth বা Accretion) ঘটে।
  • উপসংহার: যেহেতু জড়বস্তুরও ভরগত বৃদ্ধি ঘটে, তাই বৃদ্ধিকে জীবনের একক ও নিশ্চিত সংজ্ঞায়িত ধর্ম (Definitive Property) বলা যায় না; তবে অন্তর্মুখী বৃদ্ধি জীবের অন্যতম লক্ষণ।
২. জনন (Reproduction)

যে প্রক্রিয়ায় জীব নিজের অনুরূপ অপত্য সৃষ্টি করে প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করে, তাকে জনন বলে। এটি যৌন কিংবা অযৌন প্রক্রিয়ায় (রেণু উৎপাদন, কোরকোদগম, খণ্ডীভবন, পুনরুৎপত্তি) ঘটতে পারে।

  • এককোষী জীবে সমার্থকতা: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা কিংবা এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি এবং জনন পরস্পর সমার্থক, কারণ উভয়ের ফলেই কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
  • প্রজননের ব্যতিক্রম: জীবজগতের বহু সদস্য প্রজননে সম্পূর্ণ অক্ষম। যেমন: অনুর্বর কর্মী মৌমাছি (Sterile worker bees), খচ্চর (Mule - পুরুষ গাধা ও স্ত্রী ঘোড়ার সংকর), হিনি (Hinny) এবং বন্ধ্যা মানব দম্পতি। এরা প্রজননে অক্ষম হলেও সন্দেহাতীতভাবে জীবিত।
  • উপসংহার: প্রজনন কোনো জড়বস্তুতে দেখা না গেলেও সমস্ত জীবের জন্য অপরিহার্য নয়, ফলে এটি জীবনের সার্বিক সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য নয়।
৩. বিপাক (Metabolism - চূড়ান্ত সংজ্ঞায়িত ধর্ম)

জীবদেহে প্রতিনিয়ত সংঘটিত যাবতীয় গঠনমূলক (উপচিতি) ও ধ্বংসাত্মক (অপচিতি) রাসায়নিক বিক্রিয়ার সামগ্রিক যোগফলকে বিপাকক্রিয়া বলে।

  • এককোষী অনুজীব থেকে শুরু করে জটিল বহুকোষী প্রাণী ও উদ্ভিদ পর্যন্ত প্রতিটি জীবদেহে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার বিপাকীয় ক্রিয়া ঘটে চলেছে।
  • টেস্টটিউবে সম্পন্ন বিচ্ছিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া কোনো জীবদেহ নয়, তবে তা একটি জীবন্ত বিক্রিয়া (Living reaction)।
  • উপসংহার: ব্যতিক্রমহীনভাবে প্রতিটি জীবদেহের অভ্যন্তরে বিপাকক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই বিপাক জীবনের একটি পরম সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য।
৪. কোষীয় সংগঠন (Cellular Organization)

কোষ হলো জীবনের মৌলিক গঠনগত ও কার্যগত একক। কোষবিহীন অবস্থায় প্রোটোপ্লাজমের জৈবিক ক্রিয়াকলাপের স্বতন্ত্র প্রকাশ অসম্ভব। তাই কোষীয় সংগঠন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য সংজ্ঞায়িত ধর্ম।

৫. সংবেদনশীলতা ও সাড়াপ্রদান (Consciousness)

পরিবেশের ভৌতিক, রাসায়নিক কিংবা জৈবিক পরিবর্তনকে উদ্দীপক হিসেবে গ্রহণ করা এবং উপযুক্ত সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বা চেতনা বলে।

  • আলোককাল বা ফটোপিরিয়ড উদ্ভিদ ও প্রাণীদের প্রজনন চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  • সকল জীবের মধ্যে কেবল মানবজাতিই আত্ম-সচেতনতা (Self-consciousness) সম্পন্ন। হাসপাতালে কোমায় আক্রান্ত রোগীরা কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্যে বেঁচে থাকলেও তাদের কোষীয় বিপাক অব্যাহত থাকে।
  • উপসংহার: সংবেদনশীলতা বা বহিঃউদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা জীবনের একটি সার্বজনীন সংজ্ঞায়িত ধর্ম।
ডব্লিউবিসিএইচএসই পরীক্ষার টিপ: পরীক্ষায় বারবার প্রশ্ন আসে: "বৃদ্ধি ও জননকে জীবনের সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য বলা যায় না কেন?" উত্তরে সর্বদা বালিয়াড়ির বহির্মুখী সঞ্চয় এবং কর্মী মৌমাছি/খচ্চরের অনুর্বরতার সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে হবে।

জীববৈচিত্র্য, শ্রেণীবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা ও ট্যাক্সোনমি বনাম সিস্টেম্যাটিক্স

পৃথিবীর সমস্ত বাস্তুতন্ত্রে দৃশ্যমান জীবসমূহের বৈচিত্র্যময় রূপ, তাদের বাসস্থান ও আন্তঃক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) বলে।

১. জীববৈচিত্র্যের বিস্তৃতি ও পরিসংখ্যান
  • বর্তমানে বিজ্ঞানে নথিভুক্ত ও বর্ণিত প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ (1.7 - 1.8 Million)। এর মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ প্রাণী (যার মধ্যে পতঙ্গ শ্রেণি সর্বাধিক সমৃদ্ধ) এবং ৫ লক্ষ উদ্ভিদ প্রজাতি।
  • রবার্ট মে-এর বৈশ্বিক অনুমান অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রকৃত প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ, যার সিংহভাগ এখনও ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্য ও গভীর সমুদ্রে অনাবিষ্কৃত অবস্থায় রয়েছে।
২. শ্রেণীবিন্যাসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
  • লাখ লাখ প্রজাতিকে এককভাবে অধ্যয়ন করা অসম্ভব; শ্রেণীবিন্যাসের মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট দলে সুবিন্যস্ত করা যায়।
  • স্থানীয় বা আঞ্চলিক নামের বিভ্রান্তি দূর হয় (যেমন গৃহপালিত চড়ুই পাখিকে বাংলায় 'চড়াই', হিন্দিতে 'গৌরাইয়া' এবং স্প্যানিশে 'গোরিয়ন' বলা হয়)।
  • জীবের বিবর্তনীয় ইতিহাস (Phylogeny) এবং বিভিন্ন দলের মধ্যকার পারস্পরিক আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুধাবন করা যায়।
৩. ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): সংজ্ঞা ও চারটি মৌলিক স্তম্ভ

১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে সুইস উদ্ভিদবিজ্ঞানী এ. পি. দ্য ক্যান্ডোল (A. P. de Candolle) প্রথম Taxonomy শব্দটি ব্যবহার করেন (গ্রিক taxis = বিন্যাস, এবং nomos = নিয়ম)। ট্যাক্সোনমির মূল চারটি ধাপ হলো:

  1. বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ (Characterization): জীবের অঙ্গসংস্থানিক, শারীরবৃত্তীয় ও কোষীয় বৈশিষ্ট্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ।
  2. শনাক্তকরণ (Identification): সংগৃহীত নমুনাটি পূর্ব-পরিচিত কোনো জীবের সদৃশ নাকি সম্পূর্ণ নতুন তা নির্ধারণ করা।
  3. নামকরণ (Nomenclature): আন্তর্জাতিক কোড মেনে জীবের সর্বজনগ্রাহ্য বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান।
  4. শ্রেণীবিন্যাস (Classification): সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে জীবকে ট্যাক্সোনমিক ধাপসমূহে বিন্যস্ত করা।
৪. ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি বনাম আধুনিক সিস্টেম্যাটিক্স
বিষয় চিরাচরিত ট্যাক্সোনমি (Classical Taxonomy) আধুনিক বায়োসিস্টেমেটিক্স (New Systematics)
মূল ভিত্তি কেবলমাত্র বাহ্যিক অঙ্গসংস্থানিক লক্ষণ (Static Morphological traits)। অঙ্গসংস্থান, শারীরস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব, কোষতত্ত্ব, জিনতত্ত্ব ও বাস্তুবিদ্যা।
বিবর্তনীয় সম্পর্ক বিবর্তন বা ফাইলোজেনির কোনো স্থান ছিল না। ফাইলোজেনি বা বিবর্তনীয় আত্মীয়তা শ্রেণীবিন্যাসের প্রধান ভিত্তি।
প্রবক্তা থিওফ্রাস্টাস, ক্যারোলাস লিনিয়াস। স্যার জুলিয়ান হাক্সলি (১৯৪০ সালে প্রবর্তিত)।
অধ্যয়নের একক সংরক্ষিত মৃত নমুনা (Type specimen)। প্রকৃতিতে মিথস্ক্রিয়াশীল সমগ্র জীব জনসংখ্যা (Natural Population)।

দ্বিপদ নামকরণ ও আন্তর্জাতিক কোডসমূহ (Binomial Nomenclature)

আঞ্চলিক নামের বিভ্রান্তি দূর করে সমগ্র বিশ্বে একই জীবকে একটি নির্দিষ্ট নামে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Species Plantarum (১৭৫৩) এবং Systema Naturae-এর দশম সংস্করণে (১৭৫৮) দ্বিপদ নামকরণের বিজ্ঞানভিত্তিক ভিত্তি স্থাপন করেন।

১. দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়মাবলী
  1. লাতিন ভাষার ব্যবহার: বৈজ্ঞানিক নাম সর্বদা লাতিন বা লাতিনজাত শব্দ দ্বারা গঠিত হবে, কারণ লাতিন একটি অপরিবর্তনশীল ও মৃত ভাষা।
  2. দুটি পদের উপস্থিতি: প্রতিটি বৈজ্ঞানিক নাম দুটি পদ নিয়ে গঠিত:
    • প্রথম পদটি হলো গণ (Genus)-এর নাম।
    • দ্বিতীয় পদটি হলো প্রজাতি নির্দেশক পদ (Specific Epithet)।
  3. মুদ্রণ ও হস্তলিখন শৈলী: মুদ্রিত অবস্থায় বৈজ্ঞানিক নাম সর্বদা তির্যক হরফে (Italics) থাকবে। হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতির নামের নিচে পৃথকভাবে দাগ (Underline) দিতে হবে (যেমন: Mangifera indica)।
  4. হরফের আকার: গণ নামের প্রথম বর্ণটি সর্বদা বড় হাতের (Capital letter) হবে এবং প্রজাতির নামের প্রতিটি বর্ণ ছোট হাতের (Small letter) হবে (যেমন: Homo sapiens)।
  5. লেখকের নাম উদ্ধৃতি (Author Citation): যিনি প্রথম প্রজাতিটির বিজ্ঞানসম্মত বিবরণ প্রকাশ করেছেন, তাঁর নামের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রজাতির নামের শেষে সাধারণ হরফে লেখা হয়।
    উদাহরণ: Mangifera indica Linn. (এখানে 'Linn.' নির্দেশ করে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম এর নামকরণ করেন)।
  6. অগ্রাধিকার নিয়ম (Principle of Priority): একই জীবের একাধিক নামকরণ হয়ে থাকলে, আন্তর্জাতিক কোডের নিয়মানুযায়ী প্রকাশিত প্রাচীনতম নামটিই আইনত গ্রহণযোগ্য হবে।
  7. টোটোনিম (Tautonym): যখন গণ ও প্রজাতির নাম হুবহু একই হয়, তখন তাকে টোটোনিম বলে (যেমন: Catla catla, Naja naja)।
    জরুরি নিয়ম: প্রাণিবিজ্ঞানে (ICZN) টোটোনিম বৈধ হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে (ICBN/ICN) টোটোনিম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
২. নামকরণের আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ
  • ICBN / ICN: International Code of Botanical Nomenclature (বর্তমান নাম: International Code of Nomenclature for algae, fungi, and plants)।
  • ICZN: International Code of Zoological Nomenclature (প্রাণীর নামকরণ)।
  • ICNB / ICPN: International Code of Nomenclature of Bacteria (ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ)।
  • ICTV: International Committee on Taxonomy of Viruses (ভাইরাসের নামকরণ)।
৩. পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিকের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম
সাধারণ নাম বৈজ্ঞানিক নাম গণ (Genus) প্রজাতি (Species)
মানুষ Homo sapiens Homo sapiens
গৃহমাছি Musca domestica Musca domestica
আম Mangifera indica Mangifera indica
গম Triticum aestivum Triticum aestivum
বাঘ Panthera tigris Panthera tigris
আলু Solanum tuberosum Solanum tuberosum

ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি ও বাধ্যতামূলক সাতটি স্তর

শ্রেণীবিন্যাসের একক ধাপসমূহকে ট্যাক্সোনমিক ক্যাটাগরি বা সংবর্গ বলে। সমস্ত সংবর্গ যখন ক্রমানুসারে সাজানো হয়, তখন তাকে ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি (Taxonomic Hierarchy) বা লিনিয়ান অনুক্রম বলা হয়। প্রতিটি ধাপের অন্তর্গত নির্দিষ্ট জীবদলকে ট্যাক্সন (Taxon) বলে।

১. সাতটি বাধ্যগত স্তর (উচ্চক্রম থেকে নিম্নক্রম)
রাজ্য (Kingdom) → পর্ব/বিভাগ (Phylum/Division) → শ্রেণী (Class) → বর্গ (Order) → গোত্র (Family) → গণ (Genus) → প্রজাতি (Species)
২. প্রতিটি ট্যাক্সোনমিক ধাপের বিশদ বিবরণ
  • প্রজাতি (Species): শ্রেণীবিন্যাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ও মৌলিক একক। আর্নস্ট মেয়ারের জৈবিক প্রজাতি ধারণা (Biological Species Concept) অনুযায়ী, প্রজাতি হলো এমন কিছু জীবগোষ্ঠীর সমষ্টি যারা নিজেদের মধ্যে যৌন প্রজননে সক্ষম কিন্তু অন্য দল থেকে জননগতভাবে বিচ্ছিন্ন। যেমন: sapiens, indica।
  • গণ (Genus): এক বা একাধিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত প্রজাতির সমষ্টি। যেমন Panthera গণের মধ্যে রয়েছে সিংহ (P. leo), বাঘ (P. tigris) ও চিতাবাঘ (P. pardus)। Solanum গণের মধ্যে আলু (S. tuberosum) ও বেগুন (S. melongena)।
  • গোত্র (Family): পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কতগুলি গণের সমষ্টি। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে গোত্র নির্ধারণে অঙ্গজ ও জননগত (ফুল) বৈশিষ্ট্যের প্রাধান্য দেওয়া হয়।
    • উদ্ভিদ গোত্রের নামের শেষে -aceae যুক্ত হয় (যেমন: Solanaceae)।
    • প্রাণী গোত্রের নামের শেষে -idae যুক্ত হয় (যেমন: বিড়াল গোত্র Felidae, কুকুর গোত্র Canidae)।
  • বর্গ (Order): কিছু সাধারণ সাদৃশ্যযুক্ত গোত্রের সমষ্টি।
    • উদ্ভিদের ক্ষেত্রে নামের শেষে -ales থাকে (যেমন: Polymoniales বর্গের মধ্যে Solanaceae ও Convolvulaceae গোত্র রয়েছে)।
    • প্রাণীদের ক্ষেত্রে যেমন Carnivora বর্গের মধ্যে Felidae ও Canidae অন্তর্ভুক্ত।
  • শ্রেণী (Class): সম্পর্কিত কতগুলি বর্গের সমষ্টি। যেমন Primata (বানর, মানুষ) ও Carnivora বর্গদ্বয় Mammalia শ্রেণির অন্তর্গত।
  • পর্ব / বিভাগ (Phylum / Division): সম্পর্কিত কতগুলি শ্রেণীর সমাহার। প্রাণীদের ক্ষেত্রে পর্ব (Phylum) (যেমন: Chordata) এবং উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বিভাগ (Division) (যেমন: Angiospermae) ব্যবহৃত হয়।
  • রাজ্য (Kingdom): শ্রেণীবিন্যাসের সর্বোচ্চ সংবর্গ। উদ্ভিদজগতের জন্য Plantae এবং প্রাণীজগতের জন্য Animalia।
৩. হায়ারার্কির মৌলিক সূত্র
ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির সার্বজনীন নিয়ম:
প্রজাতি থেকে রাজ্যের দিকে যত উপরে যাওয়া যায়:
• সাধারণ সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা হ্রাস পায়।
• সার্বিক বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়।
বিপরীতভাবে, রাজ্য থেকে প্রজাতির দিকে যত নিচে নামা যায়, সাদৃশ্যের গভীরতা ও সুনির্দিষ্টতা তত বৃদ্ধি পায়।
৪. চারটি আদর্শ জীবের পূর্ণাঙ্গ ট্যাক্সোনমিক অবস্থান (WBCHSE পাঠ্যক্রম)
জীব সাধারণ নাম বৈজ্ঞানিক নাম গণ গোত্র বর্গ শ্রেণী পর্ব/বিভাগ
মানুষ Man Homo sapiens Homo Hominidae Primata Mammalia Chordata
গৃহমাছি Housefly Musca domestica Musca Muscidae Diptera Insecta Arthropoda
আম Mango Mangifera indica Mangifera Anacardiaceae Sapindales Dicotyledonae Angiospermae
গম Wheat Triticum aestivum Triticum Poaceae Poales Monocotyledonae Angiospermae

ট্যাক্সোনমিক সহায়ক উপাদান: হার্বেরিয়াম, উদ্ভিদ উদ্যান ও জাদুঘর

উদ্ভিদ ও প্রাণীর সঠিক শনাক্তকরণ ও গবেষণার জন্য প্রত্যক্ষ নমুনা অপরিহার্য। সংগৃহীত নমুনা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য জীববিজ্ঞানীরা যে বিশেষ পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করেন, তাদের ট্যাক্সোনমিক এইডস বা সহায়ক উপাদান বলা হয়।

১. হার্বেরিয়াম (Herbarium): প্রস্তুতি ও গুরুত্ব

সংগৃহীত উদ্ভিদ নমুনাকে শুষ্ক, চাপযুক্ত এবং নির্দিষ্ট মাপের কাগজে মাউন্ট করে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে সাজিয়ে রাখার আধারকে হার্বেরিয়াম বলে।

  • হার্বেরিয়াম শীটের প্রমাণ মাপ: আন্তর্জাতিক আদর্শ পরিমাপ হলো ৪১ সেমি × ২৯ সেমি (বা ১৬.৫ ইঞ্চি × ১১.৫ ইঞ্চি)।
  • হার্বেরিয়াম তৈরির মূল পর্যায়সমূহ:
    1. সংগ্রহ (Collection): ভাসকুলাম (Vasculum) ও প্ল্যান্ট প্রেস ব্যবহার করে সুস্থ উদ্ভিদ নমুনা সংগ্রহ।
    2. শুষ্ককরণ (Drying): ব্লটিং পেপারের মাঝে রেখে নিয়মিত কাগজ পরিবর্তন করে আর্দ্রতা দূর করা।
    3. বিষাক্তকরণ (Poisoning): ছত্রাক ও পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ০.১% মারকিউরিক ক্লোরাইড ($ ext{HgCl}_2$) দ্রবণে শোধন।
    4. মাউন্টিং (Mounting): আঠা বা লিনেন টেপ দিয়ে শীটের উপর উদ্ভিদটি আটকানো।
    5. লেবেলিং (Labeling): শীটের নীচের ডানদিকের কোণে নির্দিষ্ট লেবেল সাঁটা।
  • লেবেলের তথ্য: সংগ্রহের তারিখ ও স্থান, স্থানীয় ও ইংরেজি নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, গোত্র এবং সংগ্রাহকের নাম।
  • বিখ্যাত হার্বেরিয়াম:
    • রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন, কিউ (লন্ডন) — বিশ্বের বৃহত্তম হার্বেরিয়াম (৭০ লক্ষাধিক নমুনা)।
    • সেন্ট্রাল ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম (CNH), শিবপুর, হাওড়া (পশ্চিমবঙ্গ) — ২০ লক্ষাধিক সংরক্ষিত নমুনা সমৃদ্ধ ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
২. উদ্ভিদ উদ্যান (Botanical Garden)

জীবন্ত উদ্ভিদের সংরক্ষণ, গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত এলাকাকে উদ্ভিদ উদ্যান বলে। এটি Ex-situ বা বহিঃক্ষেত্রীয় সংরক্ষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

  • উদ্যানের প্রতিটি গাছে তার বৈজ্ঞানিক নাম এবং গোত্র লেখা পরিচিতি ফলক সাঁটা থাকে।
  • প্রখ্যাত উদ্ভিদ উদ্যান:
    • শিবপুর ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (AJC Bose Indian Botanic Garden, Howrah): প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন দ্য গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রি (মহাবটবৃক্ষ - Ficus benghalensis)-এর জন্য বিশ্বখ্যাত, যার বিস্তার প্রায় ৩.৫ একর।
    • ন্যাশনাল বোটানিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (NBRI), লখনউ।
    • রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন, কিউ, ইংল্যান্ড।
৩. জীবতাত্ত্বিক জাদুঘর (Museum)
  • বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য উদ্ভিজ্জ ও প্রাণী নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।
  • তরল সংরক্ষণ: কাঁচের জারে ৪% থেকে ১০% ফর্মালিন (ফরম্যালডিহাইডের জলীয় দ্রবণ) দ্রবণে নমুনা ডুবিয়ে রাখা হয়।
  • শুষ্ক সংরক্ষণ ও ইনসেক্ট বক্স: কীটপতঙ্গ ধরে কিউরেটিং জারে মেরে বিশেষ ইনসেক্ট বক্সে পিন দিয়ে আটকে রাখা হয়। বড় স্তন্যপায়ী ও পাখিদের চামড়া ছাড়িয়ে স্টাফিং (Taxidermy) করে রাখা হয়।
৪. প্রাণী উদ্যান বা চিড়িয়াখানা (Zoological Parks)

সংরক্ষিত প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের তত্ত্বাবধানে বন্যপ্রাণীদের রেখে তাদের খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ অধ্যয়নের জন্য চিড়িয়াখানা ব্যবহৃত হয় (যেমন কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা)।

ট্যাক্সোনমিক কি (Key), ফ্লোরা, ম্যানুয়াল, মনোগ্রাফ ও ক্যাটালগ

নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি জীববিজ্ঞানীগণ অজানা জীবের সঠিক শনাক্তকরণের জন্য বিশ্লেষণমূলক ট্যাক্সোনমিক কি এবং বিশেষ নথিপত্রের উপর নির্ভর করেন।

১. ট্যাক্সোনমিক কি (Taxonomic Key)

১৭৭৮ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জাঁ-ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক প্রথম ট্যাক্সোনমিক কি-এর ধারণা দেন। এটি সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি বিশ্লেষণমূলক শনাক্তকরণ সহায়ক মাধ্যম।

  • কাপলেট (Couplet): কি-এর মধ্যে একজোড়া বৈসাদৃশ্যমূলক বা বিপরীত বৈশিষ্ট্যকে কাপলেট বলা হয়। এটি ব্যবহারকারীকে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে নির্দেশ দেয়; একটি গ্রহণযোগ্য হলে অন্যটি বর্জিত হয়।
  • লিড (Lead): কাপলেটের অন্তর্গত প্রতিটি একক বাক্য বা বিবৃতিকে লিড বলে।
  • ট্যাক্সোনমিক কি-এর প্রকৃতি সম্পূর্ণ বিশ্লেষণমূলক (Analytical) এবং প্রতিটি ধাপের (গোত্র, গণ, প্রজাতি) জন্য পৃথক কি ব্যবহৃত হয়।
২. বিশেষ ট্যাক্সোনমিক সাহিত্য ও প্রকাশনা
গ্রন্থের ধরন সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্য অনন্য বৈশিষ্ট্য দৃষ্টান্ত
ফ্লোরা (Flora) কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্গত সমস্ত উদ্ভিদ প্রজাতির বাসস্থান ও বিস্তৃতির প্রামাণ্য দলিল। একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের সমগ্র উদ্ভিদের নির্ঘণ্ট ও বিশদ বিবরণ থাকে। Flora of British India (জে. ডি. হুকার); Flora of West Bengal।
ম্যানুয়াল (Manual) কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রজাতিসমূহের নামের দ্রুত শনাক্তকরণের সহায়ক পুস্তক। সহজে শনাক্তকরণের জন্য কি এবং অঙ্গসংস্থানিক সংকেত ধারণ করে। Manual of Cultivated Plants (এল. এইচ. বেইলি)।
মনোগ্রাফ (Monograph) যেকোনো একটি মাত্র ট্যাক্সনের (One Taxon) সমস্ত তথ্য সমৃদ্ধ সর্বাঙ্গীন গ্রন্থ। কেবল একটি পরিবার বা একটি গণের বৈশ্বিক তথ্য ধারণ করে। Monograph of Pinus; Monograph of Solanaceae।
ক্যাটালগ (Catalogue) কোনো এলাকার প্রাপ্ত সমস্ত প্রজাতির বর্ণানুক্রমিক বা সুশৃঙ্খল তালিকা। সংক্ষিপ্ত গ্রন্থপঞ্জি ও সংগ্রাহকের রেফারেন্স থাকে। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সংগ্রহ তালিকা।
উচ্চমাধ্যমিকের সতর্কতা: ফ্লোরা ও মনোগ্রাফের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলবেন না:
• ফ্লোরা: নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের সকল উদ্ভিদের তালিকা।
• মনোগ্রাফ: যেকোনো একটি মাত্র ট্যাক্সনের (যেমন একটি গোত্র) বিশ্বব্যাপী যাবতীয় তথ্য।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

জৈবিক প্রজাতি তত্ত্ব (Ernst Mayr)
প্রজাতি = জননগতভাবে বিচ্ছিন্ন, প্রাকৃতিক আন্তঃজননক্ষম জীবসমষ্টি
আর্নস্ট মেয়ারের তত্ত্বানুযায়ী, প্রজাতি হলো এমন জীবগোষ্ঠী যারা জিন পুলের অখণ্ডতা বজায় রেখে পরস্পরের সাথে জননে লিপ্ত হয় কিন্তু অন্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে।
দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়ম
বৈজ্ঞানিক নাম = গণ (Capital) + প্রজাতি (Small) [Italics হরফে মুদ্রিত]
ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত আন্তর্জাতিক সার্বজনীন লিখনরীতি যা আঞ্চলিক বিভ্রান্তি দূর করে বৈজ্ঞানিক নামের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা দান করে।
সংজ্ঞায়িত বনাম অসংজ্ঞায়িত ধর্মের নীতি
সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য = ১০০% জীবে উপস্থিত AND জড়বস্তুতে ০% উপস্থিতি
কোনো জৈবিক ধর্ম কেবল তখনই সংজ্ঞায়িত হিসেবে গণ্য হয় যখন তা সমস্ত জীবে ব্যতিক্রমহীনভাবে বর্তমান থাকে এবং জড়বস্তুতে কখনও দেখা যায় না।
হায়ারার্কির বিপরীত সাদৃশ্যের সূত্র
ট্যাক্সোনমিক ধাপ ↑ ⇒ সাধারণ সাদৃশ্য ↓ & সার্বিক বৈচিত্র্য ↑
প্রজাতি থেকে রাজ্যের দিকে ওঠার সাথে সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অনুপাত হ্রাস পায় এবং দলগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়।
অগ্রাধিকারের নীতি (Principle of Priority)
বৈধ নাম = আন্তর্জাতিক কোড মেনে প্রকাশিত প্রাচীনতম নাম
উদ্ভিদ ও প্রাণীর নামকরণের আন্তর্জাতিক কোডানুযায়ী প্রথম বৈধভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞানসম্মত নামটিই আইনসম্মত স্বীকৃতি লাভ করে।
কাপলেট ও লিড নীতি
কাপলেট = লিড ১ (+) বনাম লিড ২ (-)
ট্যাক্সোনমিক কি-এর শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া পরস্পরবিরোধী দুটি বিকল্পের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে একটির নির্বাচন অন্যটিকে বাতিল করে দেয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) বৃদ্ধি ও জননকে জীবের সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য বলা যায় না কেন? (খ) জীবনের দুটি পরম সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্যের নাম ও কারণ লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বিভাগ (ক) বৃদ্ধি ও জনন সংজ্ঞায়িত না হওয়ার কারণ (৩ নম্বর):
১. বৃদ্ধি: জীবের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমীয় সংশ্লেষের মাধ্যমে অন্তর্মুখী বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু জড়বস্তু যেমন পাহাড়, বালিয়াড়ি কিংবা পাথরের ক্ষেত্রেও বাইরে থেকে পদার্থের অবক্ষেপণ বা সঞ্চয়নের (Accretion) ফলে বাহ্যিক বৃদ্ধি ঘটে। যেহেতু বৃদ্ধি কেবল জীবের অনন্য ধর্ম নয়, তাই বৃদ্ধিকে জীবনের চূড়ান্ত সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য বলা যায় না।
২. জনন: প্রজননের মাধ্যমে জীব অপত্য সৃষ্টি করে। কিন্তু জীবজগতে খচ্চর (Mule), হিনি, বন্ধ্যা কর্মী মৌমাছি কিংবা নিঃসন্তান মানব দম্পতির মতো বহু সদস্য রয়েছে যারা জননে সম্পূর্ণ অক্ষম। অথচ এরা প্রত্যেকেই জীবিত ও সক্রিয়। অতএব জননহীনতা জীবনহীনতার প্রমাণ নয় বলে জননকে সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য বলা যায় না।

বিভাগ (খ) জীবনের পরম সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য (২ নম্বর):
১. বিপাক (Metabolism): জীবদেহে সংঘটিত সমস্ত উপচিতি ও অপচিতি বিক্রিয়ার সমষ্টি। পৃথিবীতে এমন কোনো জীব নেই যার দেহে বিপাক ঘটে না, এবং কোনো জড়বস্তু বিপাক প্রদর্শন করে না।
২. সংবেদনশীলতা (Consciousness): পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপক গ্রহণ এবং তার বিপরীতে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা এককোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে জটিল মানবজাতি পর্যন্ত সকল জীবে ব্যতিক্রমহীনভাবে বিদ্যমান।

উদাহরণ 2
(ক) দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়মাবলী সংক্ষেপে লেখো। (খ) লেখক উদ্ধৃতি (Author Citation) কী? উদাহরণ দাও। (গ) উদ্ভিদবিজ্ঞানে টোটোনিম নিষিদ্ধ কেন? [২ + ২ + ১ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বিভাগ (ক) দ্বিপদ নামকরণের নিয়মাবলী (২ নম্বর):
১. লাতিন শব্দ: বৈজ্ঞানিক নাম লাতিন বা লাতিনজাত হবে এবং মুদ্রিত অবস্থায় তির্যক হরফে (Italics) থাকবে, হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে পৃথক দাগ দিতে হবে।
২. দুটি পদ: প্রথম পদটি গণ (Genus, প্রথম বর্ণ Capital) এবং দ্বিতীয় পদটি প্রজাতি (Specific Epithet, ছোট হাতের হরফে লেখা হবে)।

বিভাগ (খ) লেখক উদ্ধৃতি (২ নম্বর):
যে বিজ্ঞানী কোনো প্রজাতির বিজ্ঞানসম্মত বৈধ বিবরণ প্রথম প্রকাশ করেন, তাঁর নামের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রজাতির নামের শেষে রোমান হরফে যুক্ত করার পদ্ধতিকে লেখক উদ্ধৃতি বলে।
উদাহরণ: Mangifera indica Linn., যেখানে 'Linn.' নির্দেশ করে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম এর বৈধ নামকরণ করেছিলেন।

বিভাগ (গ) টোটোনিম নিষিদ্ধকরণ (১ নম্বর):
যখন কোনো জীবের গণ ও প্রজাতির নাম একই হয় তাকে টোটোনিম বলে। উদ্ভিদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কোডে (ICBN/ICN) নামকরণের স্পষ্টতা বজায় রাখতে ও পুনরাবৃত্তি এড়াতে টোটোনিম সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উদাহরণ 3
(ক) ট্যাক্সোনমিক কি (Taxonomic Key) কাকে বলে? 'কাপলেট' ও 'লিড' বলতে কী বোঝায়? (খ) ফ্লোরা ও মনোগ্রাফের দুটি পার্থক্য লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বিভাগ (ক) ট্যাক্সোনমিক কি, কাপলেট ও লিড (৩ নম্বর):
১. সংজ্ঞা: ট্যাক্সোনমিক কি হলো জীবের বাহ্যিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি বিশ্লেষণমূলক শনাক্তকরণ নির্দেশিকা।
২. কাপলেট: কি-তে উপস্থিত একজোড়া পরস্পরবিরোধী বা বিপরীত বৈশিষ্ট্যকে কাপলেট (Couplet) বলে।
৩. লিড: কাপলেটের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি স্বতন্ত্র বিবৃতি বা একক বাক্যকে লিড (Lead) বলা হয়।

বিভাগ (খ) ফ্লোরা ও মনোগ্রাফের পার্থক্য (২ নম্বর):
১. ফ্লোরা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্গত সমস্ত উদ্ভিদ প্রজাতির বাসস্থান ও বিস্তৃতির সার্বিক তালিকা প্রদান করে (যেমন: Flora of British India)।
২. মনোগ্রাফ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রাপ্ত কেবল একটিমাত্র নির্দিষ্ট ট্যাক্সন বা দলের (যেমন কোনো একটি পরিবার বা একটি গণ) যাবতীয় বিশদ তথ্য প্রদান করে।

উদাহরণ 4
(ক) একটি আদর্শ হার্বেরিয়াম শীট তৈরির পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো। (খ) এর আন্তর্জাতিক প্রমাণ মাপ কত? (গ) হার্বেরিয়াম লেবেলে কী কী তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে? [২ + ১ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বিভাগ (ক) হার্বেরিয়াম প্রস্তুতি (২ নম্বর):
১. সংগ্রহ ও শুষ্ককরণ: ক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত উদ্ভিদের নমুনা ব্লটিং পেপারের মাঝে রেখে প্ল্যান্ট প্রেসের সাহায্যে শুকানো হয়।
২. বিষাক্তকরণ ও মাউন্টিং: ছত্রাক বা কীটের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ০.১% HgCl2 দ্রবণ দিয়ে শোধন করে আদর্শ মাপের শীটে আঠা দিয়ে সাঁটা হয়।

বিভাগ (খ) আদর্শ মাপ (১ নম্বর):
একটি প্রমাণ হার্বেরিয়াম শীটের আন্তর্জাতিক মাপ হলো ৪১ সেমি x ২৯ সেমি (১৬.৫ ইঞ্চি x ১১.৫ ইঞ্চি)।

বিভাগ (গ) লেবেলের তথ্য (২ নম্বর):
শীটের নীচের ডানদিকের কোণে সাঁটা লেবেলে থাকে:
- সংগ্রহের তারিখ ও স্থান
- স্থানীয় নাম, ইংরেজি নাম ও বৈজ্ঞানিক নাম
- উদ্ভিদের গোত্র (Family)
- সংগ্রাহকের নাম ও ফিল্ড নম্বর।

উদাহরণ 5
(ক) ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির বাধ্যগত সাতটি স্তর অধঃক্রমে লেখো। (খ) প্রজাতি থেকে রাজ্যের দিকে অগ্রসর হলে সাদৃশ্যের কীরূপ পরিবর্তন হয়? (গ) মানুষ ও আমের সম্পূর্ণ শ্রেণীবিন্যাস উল্লেখ করো। [১ + ১ + ৩ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বিভাগ (ক) অধঃক্রমিক হায়ারার্কি (১ নম্বর):
রাজ্য -> পর্ব/বিভাগ -> শ্রেণী -> বর্গ -> গোত্র -> গণ -> প্রজাতি।

বিভাগ (খ) সাদৃশ্যের পরিবর্তন (১ নম্বর):
প্রজাতি থেকে রাজ্যের দিকে উঠলে সাধারণ সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পায় এবং সার্বিক বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা বৃদ্ধি পায়।

বিভাগ (গ) মানুষ ও আমের শ্রেণীবিন্যাস (৩ নম্বর):
১. মানুষ (Homo sapiens):
- রাজ্য: Animalia
- পর্ব: Chordata
- শ্রেণী: Mammalia
- বর্গ: Primata
- গোত্র: Hominidae
- গণ: Homo
- প্রজাতি: sapiens
২. আম (Mangifera indica):
- রাজ্য: Plantae
- বিভাগ: Angiospermae
- শ্রেণী: Dicotyledonae
- বর্গ: Sapindales
- গোত্র: Anacardiaceae
- গণ: Mangifera
- প্রজাতি: indica

উদাহরণ 6
(ক) ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি ও আধুনিক বায়োসিস্টেমেটিক্সের মধ্যে তুলনা করো। (খ) আর্নস্ট মেয়ারের জৈবিক প্রজাতি ধারণার মূল বক্তব্য ও প্রধান সীমাবদ্ধতা কী? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:

বিভাগ (ক) ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি বনাম বায়োসিস্টেমেটিক্স (৩ নম্বর):
১. ক্লাসিক্যাল ট্যাক্সোনমি কেবল মৃত নমুনার বাহ্যিক অঙ্গসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং প্রজাতিকে অপরিবর্তনীয় সৃষ্টি মনে করত।
২. স্যার জুলিয়ান হাক্সলি প্রবর্তিত আধুনিক বায়োসিস্টেমেটিক্সে অঙ্গসংস্থানের সঙ্গে শারীরস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব, কোষতত্ত্ব, জিনতত্ত্ব এবং প্রধানত বিবর্তনীয় ইতিহাসকে (Phylogeny) সংযুক্ত করে জীব জনসংখ্যাকে বিচার করা হয়।

বিভাগ (খ) জৈবিক প্রজাতি ধারণা ও সীমাবদ্ধতা (২ নম্বর):
১. বক্তব্য: আর্নস্ট মেয়ারের মতে, প্রজাতি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশে পরস্পরের মধ্যে জননে সক্ষম কিন্তু অন্যান্য জীবগোষ্ঠী থেকে জননগতভাবে বিচ্ছিন্ন একদল জীবসমষ্টি।
২. সীমাবদ্ধতা: যেসকল জীব অযৌন জনন সম্পন্ন করে (যেমন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা) কিংবা জীবাশ্মীভূত বিলুপ্ত জীবদের ক্ষেত্রে এই আন্তঃজনন ধারণা প্রয়োগ করা যায় না।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

বৃদ্ধি ও জননকে জীবের নিশ্চিত ও একক সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পাহাড় ও বালিয়াড়ির মতো জড়বস্তুতেও বহির্মুখী সঞ্চয় দ্বারা বৃদ্ধি ঘটে এবং খচ্চর বা অনুর্বর কর্মী মৌমাছি জননে অক্ষম হয়েও সক্রিয় ও জীবিত। তাই কেবল বিপাক, কোষীয় সংগঠন ও সংবেদনশীলতাই জীবনের প্রকৃত সংজ্ঞায়িত ধর্ম।

সাধারণ ভুল ধারণা

উদ্ভিদের ক্ষেত্রে টোটোনিম (যেমন Malus malus) বৈধ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

উদ্ভিদবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক কোডে (ICBN/ICN) টোটোনিম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ; এটি কেবলমাত্র প্রাণিবিজ্ঞানে (ICZN যেমন Naja naja, Catla catla) বৈধ।

সাধারণ ভুল ধারণা

হাতে লেখার সময় পুরো বৈজ্ঞানিক নামটিকে একসাথে নিচে দাগ দেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

হস্তলিখনের সার্বজনীন নিয়ম অনুসারে গণ ও প্রজাতির নামের নিচে অবশ্যই পৃথকভাবে নিম্নরেখাঙ্কন করতে হবে (Mangifera indica)।

সাধারণ ভুল ধারণা

ফ্লোরা এবং মনোগ্রাফকে সমার্থক মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ফ্লোরা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের সমস্ত উদ্ভিদের প্রামাণ্য নির্ঘণ্ট, আর মনোগ্রাফ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিদ্যমান কেবল একটিমাত্র ট্যাক্সনের (গোত্র বা গণ) বিশদ বিবরণ।

সাধারণ ভুল ধারণা

হার্বেরিয়ামে জীবন্ত উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা হয় বলে ধারণা করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

হার্বেরিয়ামে প্রমাণ মাপের (৪১ × ২৯ সেমি) কাগজের শীটে শুষ্ক, চাপযুক্ত মৃত উদ্ভিদ নমুনা সংরক্ষিত থাকে। জীবন্ত উদ্ভিদের এক্স-সিটু সংরক্ষণ বোটানিক্যাল গার্ডেনে করা হয়।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

সজীব বিশ্ব: শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা, হায়ারার্কি ও সহায়ক উপকরণ ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি জীববিজ্ঞান — একক ১: জীবজগতের বৈচিত্র্য (অধ্যায় ১) Ch 1 ১. জীবনের লক্ষণ: সংজ্ঞায়িত বনাম অসংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য (Definitive - ব্যতিক্রমহীন): • বিপাকক্রিয়া (Metabolism): দেহের যাবতীয় রাসায়নিক বিক্রিয়া • কোষীয় সংগঠন (Cellular Organization): জীবনের ভিত্তি • সংবেদনশীলতা (Consciousness): বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া অসংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য (Non-Definitive): • বৃদ্ধি (Growth): জড়বস্তুও বহির্মুখী সঞ্চয়ে বৃদ্ধি পায় • জনন (Reproduction): কর্মী মৌমাছি, খচ্চর প্রজননে অক্ষম ২. লিনিয়ান ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি (৭টি বাধ্যগত ধাপ) 1 রাজ্য (Kingdom) e.g. Animalia / Plantae 2 পর্ব / বিভাগ (Phylum / Div.) e.g. Chordata / Angiospermae 3 শ্রেণী (Class) e.g. Mammalia / Dicotyledonae 4 বর্গ (Order) e.g. Primata / Sapindales 5 গোত্র (Family) e.g. Hominidae / Anacardiaceae 6 গণ (Genus) e.g. Homo / Mangifera 7 প্রজাতি (Species) e.g. sapiens / indica বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য হ্রাস পায় ↑ | বৈচিত্র্য ও সার্বিকতা বৃদ্ধি পায় ৩. ট্যাক্সোনমিক সহায়ক উপাদান (Taxonomical Aids) 🌿 হার্বেরিয়াম (Herbarium) শুষ্ক, চাপযুক্ত ও সংরক্ষিত উদ্ভিদ নমুনা (আদর্শ মাপ: ৪১ × ২৯ সেমি) ; সংগ্রহস্থল ও শনাক্তকরণ লেবেলযুক্ত। 🌳 উদ্ভিদ উদ্যান (Botanical Garden) জীবন্ত উদ্ভিদের সংগ্রহশালা (Ex-situ সংরক্ষণ); যেমন: শিবপুর বোটানি ক্যাল গার্ডেন (দ্য গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রি)। 🔑 ট্যাক্সোনমিক কি (Identification Key) বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে রচিত নির্দেশিকা; প্রতিটি জোড়াকে কাপলেট (Cou plet) এবং প্রতিটি বাক্যকে লিড (Lead) বলে। ৪. দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়মাবলী (Binomial Nomenclature - Linnaeus) • লাতিন ভাষা: বৈজ্ঞানিক নাম লাতিনজাত এবং তির্যক হরফে (Italics) মুদ্রণযোগ্য (হাতে লিখলে পৃথক নিম্নরেখাঙ্কন)। • প্রথম পদ গণ (Genus, প্রথম বর্ণ Capital), দ্বিতীয় পদ প্রজাতি (Specific Epithet, Small letter)। • উদাহারণ: Mangifera indica Linn. (আম গাছ; Linn. নির্দেশ করে ক্যারোলাস লিনি য়াস প্রথম নামকরণ করেন)।

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
জীব হলো স্ব-প্রতিলিপিকরণে সক্ষম, বিবর্তনশীল ও স্ব-নিয়ন্ত্রিত মিথস্ক্রিয়াতন্ত্র যা বহিঃউদ্দীপনায় সাড়া প্রদানে সক্ষম।
মূল বিষয় 2
বৃদ্ধি ও প্রজননকে জীবনের সর্বজনীন সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা যায় না, কারণ জড়বস্তুতেও (যেমন বালিয়াড়ি, পর্বত) বহির্মুখী সঞ্চয় দ্বারা বৃদ্ধি ঘটে এবং বহু জীব (যেমন খচ্চর, বন্ধ্যা কর্মী মৌমাছি, নিঃসন্তান মানব দম্পতি) প্রজননে অক্ষম।
মূল বিষয় 3
বিপাকক্রিয়া (দেহের যাবতীয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি), কোষীয় সংগঠন এবং সংবেদনশীলতা (উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা) হলো জীবনের চূড়ান্ত সংজ্ঞায়িত ধর্ম যা ব্যতিক্রমহীনভাবে সকল জীবে বিদ্যমান।
মূল বিষয় 4
পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ প্রজাতির জীব বিজ্ঞানসম্মতভাবে শনাক্ত ও বর্ণিত হয়েছে।
মূল বিষয় 5
ট্যাক্সোনমির চারটি মৌলিক স্তম্ভ হলো: চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ (Characterization), শনাক্তকরণ (Identification), নামকরণ (Nomenclature) এবং শ্রেণীবিন্যাস (Classification)।
মূল বিষয় 6
সিস্টেমেটিক্স হলো জীবসমূহের বৈচিত্র্য এবং তাদের মধ্যকার তুলনামূলক বিবর্তনীয় (Phylogenetic) সম্পর্কের বিজ্ঞানসম্মত অনুধাবন।
মূল বিষয় 7
ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত দ্বিপদ নামকরণে প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি পদ নিয়ে গঠিত: প্রথমটি গণ (Genus, প্রথম বর্ণ Capital) এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতি (Species, Small letter), যা লাতিন ভাষায় এবং তির্যক হরফে (Italics) মুদ্রিত হয়।
মূল বিষয় 8
জীবের নামকরণ আইসিবিএন (উদ্ভিদ), আইসিজেডএন (প্রাণী), আইসিএনবি (ব্যাকটেরিয়া) এবং আইসিটিভি (ভাইরাস) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
মূল বিষয় 9
লিনিয়ান ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির সাতটি বাধ্যগত স্তর হলো: রাজ্য, পর্ব/বিভাগ, শ্রেণী, বর্গ, গোত্র, গণ এবং প্রজাতি।
মূল বিষয় 10
প্রজাতি থেকে রাজ্যের দিকে অগ্রসর হলে সাদৃশ্যপূর্ণ সাধারণ বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পায় এবং সার্বিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়।
মূল বিষয় 11
ট্যাক্সোনমিক সহায়ক উপাদানের মধ্যে রয়েছে হার্বেরিয়াম (৪১ × ২৯ সেমি মাপের শীটে শুষ্ক ও সংরক্ষিত উদ্ভিদের সংগ্রহশালা), উদ্ভিদ উদ্যান (জীবন্ত উদ্ভিদের সংগ্রহ), জাদুঘর (সংরক্ষিত নমুনা), চিড়িয়াখানা এবং ট্যাক্সোনমিক কি।
মূল বিষয় 12
ট্যাক্সোনমিক কি হলো বৈসাদৃশ্যমূলক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে রচিত শনাক্তকরণ নির্দেশিকা, যার প্রতিটি জোড়াকে কাপলেট (Couplet) এবং প্রতিটি একক বাক্যকে লিড (Lead) বলা হয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
টেস্টটিউবে সম্পন্ন বিচ্ছিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে জীবন্ত বলা যায় কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: টেস্টটিউবে সম্পন্ন বিচ্ছিন্ন বিক্রিয়া কোনো স্বতন্ত্র জীব নয়, তবে তা কোষের বাইরে ঘটিত একটি জীবন্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া (Living reaction)।
2
প্রজাতি থেকে রাজ্যের দিকে উঠলে সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অনুপাত কমে কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কারণ ওপরের ধাপগুলি বহু বৈচিত্র্যময় নিম্নতর ধাপের একটি শিথিল সমাহার, যার সদস্যরা কেবল গুটিকয়েক মৌলিক সার্বিক বৈশিষ্ট্য ভাগ করে নেয়।
3
একটি হার্বেরিয়াম লেবেলে সাধারণত কোন তথ্যটি থাকে না?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উদ্ভিদের পূর্ণাঙ্গ উচ্চতা, শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়ার হার, ক্রোমোজোম সংখ্যা বা অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক উপাদানের মতো তথ্য হার্বেরিয়াম লেবেলে থাকে না।
4
চিড়িয়াখানা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কীভাবে অবদান রাখে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: চিড়িয়াখানায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের কৃত্রিম প্রজনন (Captive Breeding), চিকিৎসা ও আচরণগত গবেষণার মাধ্যমে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
5
বিজ্ঞানে ইংরেজি বা ফরাসির বদলে লাতিন ভাষাকে নামকরণের জন্য বেছে নেওয়া হলো কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: লাতিন একটি অপরিবর্তনশীল ও মৃত ভাষা, ফলে এর ব্যাকরণ বা শব্দের অর্থ সময়ের সাথে বদলায় না এবং এটি কোনো বিশেষ দেশের জাতীয়তাবাদের সাথে পক্ষপাতদুষ্ট নয়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

সজীব বিশ্ব অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।