Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 17
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন

রেচন হলো একটি অত্যাবশ্যক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবদেহে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড বিপাকের ফলে উৎপন্ন ক্ষতিকারক নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ—যেমন অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিড—দেহ থেকে অপসারিত হয়। মানবদেহের রেচনতন্ত্র একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া মূত্রনালী, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালীর সমন্বয়ে গঠিত। এটি কেবল বর্জ্য নিষ্কাশনই করে না, বরং দেহের অভ্যন্তরীণ তরলের আয়তন, অসমোটিক চাপ, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য, রক্তের অম্ল-ক্ষারীয় সাম্যাবস্থা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি বৃক্কে অবস্থিত প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ নেফ্রন অতিপরিস্রাবণ, নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ এবং নালিকাগত ক্ষরণের মাধ্যমে মূত্র উৎপাদন সম্পন্ন করে। এছাড়া হেনলির লুপ ও ভাসা রেকটার কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থা, অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন (ADH), রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন তন্ত্র (RAAS) এবং অ্যাট্রিয়াল নেট্রিইউরেটিক ফ্যাক্টর (ANF)-এর সুনির্দিষ্ট হরমোনীয় সমন্বয়ে মানবদেহ শুষ্ক পরিবেশেও জল সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

বৃক্কীয় শারীরবিদ্যার গভীর জ্ঞান ইউরেমিয়া, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কের অকার্যকারিতা (Renal Failure), বৃক্কে পাথর সৃষ্টি (Renal Calculi), ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস এবং গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসের মতো জটিল রোগের কারণ ও প্রতিকার বুঝতে অপরিহার্য। এছাড়াও এটি কৃত্রিম বৃক্ক বা হিমোডায়ালাইসিস এবং বৃক্ক প্রতিস্থাপনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক সংসদ (WBCHSE) এবং NEET পরীক্ষায় কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP), হেনলির লুপের কাউন্টার-কারেন্ট মেকানিজম এবং হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রশ্নাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক নম্বর বহনকারী অংশ।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 নাইট্রোজেনঘটিত রেচন কৌশল ও অমেরুদণ্...
2 মানব রেচনতন্ত্রের স্থূল শারীরস্থান...
3 নেফ্রনের সূক্ষ্ম গঠন ও জাক্সটাগ্লোম...
4 মূত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া: অতিপরিস্রা...
5 কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থা ও মূত্র ঘ...
6 স্নায়ু-হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ, মূত্রত...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

নাইট্রোজেনঘটিত রেচন কৌশল ও অমেরুদণ্ডীদের রেচন অঙ্গ

১. নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের উৎপত্তি ও প্রকারভেদ

প্রোটিন (অ্যামিনো অ্যাসিডের ডিঅ্যামিনেশন) ও নিউক্লিক অ্যাসিডের অপচিতিমূলক বিপাকের ফলে প্রাণীদেহে ক্ষতিকারক নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়। জলবায়ু এবং প্রাপ্ত জলের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে প্রাণীদের তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

১. অ্যামোনোটেলিজম (Ammonotelism):
• বিষাক্ততা ও দ্রাব্যতা: অ্যামোনিয়া (NH3) অত্যন্ত বিষাক্ত ও জলে দ্রুত দ্রবণীয় একটি ক্ষারীয় গ্যাস।
• জলের প্রয়োজনীয়তা: ১ গ্রাম অ্যামোনিয়াঘটিত নাইট্রোজেন নির্গত করতে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ মিলি জল প্রয়োজন।
• নির্গমন পদ্ধতি: সাধারণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহতল বা ফুলকার মাধ্যমে অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH4+) রূপে নির্গত হয়; বৃক্কের ভূমিকা গৌণ।
• উদাহরণ: জলজ অমেরুদণ্ডী (প্রোটোজোয়া, স্পঞ্জ, নিডারিয়া), অস্থিময় মাছ (টেলিওস্ট), জলজ উভচরের ব্যাঙাচি।
২. ইউরিওটেলিজম (Ureotelism):
• বিষাক্ততা: ইউরিয়া [CO(NH2)2] অ্যামোনিয়ার তুলনায় প্রায় ১ লক্ষ গুণ কম বিষাক্ত এবং মাঝারি দ্রবণীয়।
• উৎপত্তি: যকৃতে ক্রেবস-হেন্সলাইট অর্নিথিন চক্রে (Ornithine Cycle) ৩ অণু ATP খরচ করে ২ অণু NH3 এবং ১ অণু CO2 যুক্ত হয়ে ইউরিয়া সংশ্লেষিত হয়।
• জলের প্রয়োজনীয়তা: ১ গ্রাম নাইট্রোজেন ইউরিয়ারূপে ত্যাগে মাত্র ~৫০ মিলি জল প্রয়োজন হয়।
• উদাহরণ: মানুষসহ সমস্ত স্তন্যপায়ী, পূর্ণাঙ্গ স্থলচর উভচর (ব্যাঙ), এবং সমুদ্রের তরুণাস্থিময় হাঙ্গর ও শঙ্কর মাছ (এরা রক্তে ইউরিয়া ধরে রেখে সমুদ্রের জলের সাথে সম-অভিস্রবণীয় অবস্থা রক্ষা করে)।
৩. ইউরিকোটেলিজম (Uricotelism):
• বিষাক্ততা ও দ্রাব্যতা: ইউরিক অ্যাসিড (C5H4N4O3) প্রায় নির্বিষ এবং জলে সম্পূর্ণ অদ্রবণীয়।
• জলের প্রয়োজনীয়তা: ১ গ্রাম নাইট্রোজেন ত্যাগে মাত্র ~১০ মিলি জল অপচয় হয়; অর্ধ-কঠিন পেলেট বা লেই রূপে নির্গত হয়।
• অভিযোজনিক গুরুত্ব: স্থলভাগে চরম জল সংকট মোকাবিলা, পক্ষীশ্রেণিতে ওড়ার সুবিধার জন্য ওজন হ্রাস এবং শেলযুক্ত ক্লেইডয়িক ডিমের অভ্যন্তরে ভ্রূণের সুরক্ষায় অপরিহার্য।
• উদাহরণ: সরীসৃপ (টিকটিকি, সাপ), পাখি, স্থলচর শামুক এবং স্থলচর পতঙ্গ (আরশোলা)।
২. অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের বিভিন্ন রেচন অঙ্গের তুলনা
রেচন অঙ্গগঠনগত বৈশিষ্ট্যপ্রতিনিধি প্রাণীশারীরবৃত্তীয় কার্য
প্রোটোনেফ্রিডিয়া (শিখা কোষ / Solenocyte)শাখান্বিত নালিকাতন্ত্রের প্রান্তে অবস্থিত গহ্বরযুক্ত কোষ, যার মধ্যে সিলিয়ার গুচ্ছ শিখার মতো স্পন্দিত হয়প্ল্যাটিহেলমিন্থেস (প্ল্যানেরিয়া, ফিতাকৃমি), রটিফার, অ্যাম্ফিঅক্সাসপ্রধানত অসমোরেগুলেশন (জল ও আয়নের সাম্যাবস্থা); গৌণভাবে রেচন
মেটানেফ্রিডিয়া (নেফ্রিডিয়া)উভয়প্রান্তে উন্মুক্ত কুন্ডলীকৃত নালিকা: নেফ্রোস্টোম ফানেল দেহগহ্বরে এবং নেফ্রিডিওপোর বাইরে উন্মুক্তঅ্যানেলিডা (কেঁচো: সেপ্টাল, ফ্যারিঞ্জিয়াল ও ইন্টেগুমেন্টারি)দেহগহ্বরের তরল থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য দূরীকরণ ও জল সাম্য
ম্যালপিজিয়ান নালিকামধ্যান্ত্র ও পশ্চাদান্ত্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত ১০০-১৫০টি সরু, হলুদ বর্ণের অন্ধ নালিকা যা হিমোলিম্ফে নিমজ্জিতআর্থ্রোপোডা (আরশোলা ও অন্যান্য পতঙ্গ)হিমোলিম্ফ থেকে পটাশিয়াম ইউরেট গ্রহণ করে অন্ত্রে ইউরিক অ্যাসিড হিসেবে নিক্ষেপ
সবুজ গ্রন্থি / অ্যান্টিনাল গ্রন্থিস্পর্শকের গোড়ায় অবস্থিত একজোড়া গ্রন্থি; এন্ড-স্যাক, ল্যাবাইরি্থ, ব্লাডার ও রেচন ছিদ্র নিয়ে গঠিতক্রাস্টেশিয়া (চিংড়ি)রক্ত থেকে অতিপরিস্রাবণ ও লবণ-জলের সমতা রক্ষা
কক্সাল গ্রন্থিহাঁটার পায়ের গোড়ায় অবস্থিত বিশেষ থলি সদৃশ গ্রন্থিঅ্যারাকনিডা (মাকড়সা, কাঁকড়াবিছে)গুয়ানিন রেচন ও অসমোরেগুলেশন

মানব রেচনতন্ত্রের স্থূল শারীরস্থান ও বৃক্কের অভ্যন্তরীণ গঠন

১. মানব বৃক্কের অবস্থান ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য

মানব রেচনতন্ত্র একজোড়া বৃক্ক (Kidneys), একজোড়া মূত্রনালী (Ureters), একটি মূত্রথলি (Urinary Bladder) এবং একটি মূত্রনালী (Urethra) নিয়ে গঠিত।

  • অবস্থান: উদরগহ্বরের পেছনের প্রাচীরে পেরিটোনিয়ামের পেছনে অবস্থিত (রেট্রোপেরিটোয়াল / Retroperitoneal)। মেরুদণ্ডের দ্বাদশ থোরাসিক (T12) থেকে তৃতীয় লাম্বার (L3) কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত। যকৃতের উপস্থিতির কারণে ডান বৃক্কটি বাম বৃক্কের চেয়ে প্রায় ১.৫-২ সেমি নিচে অবস্থান করে।
  • আকার ও ওজন: শিম্বাকৃতি (Bean-shaped), দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেমি, প্রস্থ ৫-৭ সেমি, পুরুত্ব ২-৩ সেমি এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে গড় ওজন ১২০-১৭০ গ্রাম (স্ত্রীদেহে সামান্য কম, প্রায় ১২০-১৫০ গ্রাম)।
  • হাইলাম (Hilum): বৃক্কের ভেতরের অবতল খাঁজ যার মধ্য দিয়ে রেনাল ধমনি, স্নায়ু প্রবেশ করে এবং রেনাল শিরা, লসিকা নালী ও মূত্রনালী নির্গত হয়। হাইলাম ভেতরে একটি ফানেল আকৃতির অংশে উন্মুক্ত হয় যাকে রেনাল পেলভিস (Renal Pelvis) বলে।
  • প্রতিরক্ষামূলক আবরণী (ভেতর থেকে বাইরে):
    1. রেনাল ক্যাপসুল (Renal Capsule): সর্বভেতরের স্বচ্ছ, শক্ত তন্তুময় পর্দা যা বৃক্ককে সংক্রমণ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।
    2. অ্যাডিপোজ ক্যাপসুল (Perirenal Fat): মধ্যবর্তী চর্বির স্তর যা শক-অ্যাবজরবার হিসেবে কাজ করে এবং বৃক্ককে স্বস্থানে ধরে রাখে।
    3. রেনাল ফ্যাসিয়া (Gerota's Fascia): সর্ববহিঃস্থ ঘন সংযোজক কলার স্তর যা বৃক্ক ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে উদরপ্রাচীরের সাথে সংযুক্ত করে।
২. বৃক্কের অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক বিন্যাস

বৃক্কের একটি লম্বচ্ছেদ করলে দুটি স্পষ্ট বলয় বা অঞ্চল পরিলক্ষিত হয়:

১. বহিঃস্থ রেনাল কর্টেক্স (Renal Cortex): হালকা লালচে-বাদামি বর্ণের দানাদার স্তর। এখানে সমস্ত ম্যালপিজিয়ান কণিকা, নিকটবর্তী সংবর্ত নালিকা (PCT) এবং দূরবর্তী সংবর্ত নালিকা (DCT) অবস্থান করে।
২. অভ্যন্তরীণ রেনাল মেডুলা (Renal Medulla): গাঢ় বর্ণের রেখাযুক্ত স্তর যা ৮ থেকে ১৮টি ত্রিকোণাকার মেডুলারি পিরামিডে (Medullary Pyramids) বিভক্ত। পিরামিডের চওড়া ভিত্তি কর্টেক্সের দিকে এবং সূঁচালো শীর্ষভাগ যাকে রেনাল প্যাপিলা (Renal Papilla) বলে, তা পেলভিসের দিকে নির্দেশিত থাকে।
৩. বার্টিনির স্তম্ভ (Columns of Bertini): কর্টেক্স অঞ্চলের যে অংশগুলি দুটি পাশাপাশি পিরামিডের মধ্যবর্তী স্থানে মেডুলার গভীরে প্রবেশ করে, তাদের রেনাল কলাম বা বার্টিনির স্তম্ভ বলে।
৪. মূত্র নিষ্কাশন পথ: রেনাল প্যাপিলা → মাইনর ক্যালিক্স (Minor Calyx, ৮-১৮টি) → মেজর ক্যালিক্স (Major Calyx, ২-৩টি) → রেনাল পেলভিস → মূত্রনালী (Ureter).
৩. রেনাল রক্ত সংবহন পথ

মানব বৃক্ক বিশ্রামে থাকা অবস্থায় মোট কার্ডিয়াক আউটপুটের প্রায় ২০-২৫% (~১২০০ মিলি/মিনিট) রক্ত গ্রহণ করে। রেনাল রক্তনালীগুলির প্রবাহ ক্রম নিম্নরূপ:

মহাধমনি → রেনাল ধমনি → সেগমেন্টাল ধমনি → ইন্টারলোবার ধমনি (পিরামিডের ফাঁকে) → আর্কুয়েট ধমনি (কর্টিকোমেডুলারি সংযোগস্থলে) → ইন্টারলোবুলার ধমনি → অন্তর্মুখী ধমনিকা (Afferent arteriole) → গ্লোমেরুলাস কৌশিকজালক (উচ্চচাপে পরিস্রাবণ) → বহির্মুখী ধমনিকা (Efferent arteriole) → পেরিটিউবুলার কৌশিকজালক / ভাসা রেকটা (পুনঃশোষণ ও ক্ষরণ) → ইন্টারলোবুলার শিরা → আর্কুয়েট শিরা → ইন্টারলোবার শিরা → রেনাল শিরা → নিম্ন মহাশিরা।

নেফ্রনের সূক্ষ্ম গঠন ও জাক্সটাগ্লোমেরুলার অ্যাপারেটাস (JGA)

১. নেফ্রনের কলাস্থানিক গঠন

নেফ্রন হলো বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক (প্রতি বৃক্কে সংখ্যা প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ)। প্রতিটি নেফ্রন মূলত দুটি অংশে বিভক্ত: ম্যালপিজিয়ান কণিকা বা রেনাল করপাসল এবং রেনাল নালিকা।

ক. ম্যালপিজিয়ান কণিকা (Malpighian Body):
• গ্লোমেরুলাস: অন্তর্মুখী ধমনিকা বিভাজিত হয়ে প্রায় ৫০টি কৌশিকজালকের একটি উচ্চচাপযুক্ত স্তবক গঠন করে, যা পুনরায় মিলিত হয়ে বহির্মুখী ধমনিকা তৈরি করে। অন্তর্মুখী ধমনিকার ব্যাস বহির্মুখী ধমনিকার চেয়ে বেশি হওয়ায় গ্লোমেরুলাসে উচ্চ উদস্থিতিক চাপ (~৬০ mmHg) সৃষ্টি হয়।
• বোম্যান্স ক্যাপসুল: গ্লোমেরুলাসকে ঘিরে থাকা দ্বি-স্তরযুক্ত পেয়ালার মতো অংশ।
- প্যারাইটাল স্তর: বাইরের স্তর, সরল আইঁশাকার আবরণী কলা দ্বারা গঠিত।
- ভিসেরাল স্তর: গ্লোমেরুলার ক্যাপিলারিকে সরাসরি স্পর্শ করে থাকে। এটি পোডোসাইট (Podocyte) নামক বিশেষ আকৃতির কোষ দ্বারা গঠিত। পোডোসাইটের আঙুলের মতো প্রবর্ধক (Pedicels) পরস্পরের সাথে ইন্টারডিজিটেট করে প্রায় ২৫ nm প্রশস্ত পরিস্রাবণ স্লিট বা স্লিট পোর তৈরি করে। নেফ্রিন প্রোটিনযুক্ত স্লিট ডায়াফ্রাম কেবল ৭ nm-এর ছোট অণুকে প্রবেশ করতে দেয়।
খ. রেনাল নালিকা (Renal Tubule):
• নিকটবর্তী সংবর্ত নালিকা (PCT): সরল ঘনকাকার ব্রাশ বর্ডার আবরণী কলা (Brush border cuboidal epithelium) দ্বারা গঠিত। অসংখ্য মাইক্রোভিলি নালিকার শোষণ তল ২০ গুণ বৃদ্ধি করে এবং প্রচুর মাইটোকন্ড্রিয়া সক্রিয় পরিবহনে শক্তি জোগায়।
• হেনলির লুপ: হেয়ারপিনের মতো বাঁকানো নালিকা।
- নিম্নগামী পাতলা বাহু: সরল আইঁশাকার কলা; জলের প্রতি অত্যন্ত ভেদ্য (Aquaporin-1 সমৃদ্ধ); লবণ ও ইউরিয়ার প্রতি অভেদ্য।
- ঊর্ধ্বগামী পাতলা ও পুরু বাহু: জলের প্রতি সম্পূর্ণ অভেদ্য; পুরু বাহুটি সরল ঘনকাকার কলাযুক্ত এবং সক্রিয়ভাবে Na+/K+/2Cl- কো-ট্রান্সপোর্টার (NKCC2) দ্বারা লবণ নিষ্কাশন করে।
• দূরবর্তী সংবর্ত নালিকা (DCT): ব্রাশ বর্ডারহীন সরল ঘনকাকার আবরণী; শর্তাধীন হরমোন নিয়ন্ত্রিত পুনঃশোষণ ও ক্ষরণের স্থান।
• সংগ্রাহী নালী (Collecting Duct): কর্টেক্স থেকে মেডুলার মধ্য দিয়ে বেলিনির নালিকা হয়ে প্যাপিলায় উন্মুক্ত হয়। প্রিন্সিপাল কোষ (জল ও লবণ শোষণ) এবং ইন্টারক্যালেটেড কোষ (অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য) ধারণ করে।
২. কর্টিকাল নেফ্রন বনাম জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন
তুলনার ভিত্তিকর্টিকাল নেফ্রন (~৮০-৮৫%)জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন (~১৫-২০%)
ম্যালপিজিয়ান কণিকার অবস্থানকর্টেক্সের বহিরাঞ্চল ও মধ্যভাগেমেডুলার কাছাকাছি কর্টেক্সের গভীর অংশে
হেনলির লুপের দৈর্ঘ্যখুব ছোট; মেডুলার গভীরে প্রবেশ করে না বললেই চলেঅত্যন্ত দীর্ঘ; মেডুলার গভীরে প্যাপিলা পর্যন্ত বিস্তৃত
ভাসা রেকটা (Vasa Recta)অনুপস্থিত বা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; পেরিটিউবুলার জালক বিদ্যমানসুগঠিত হেয়ারপিন আকৃতির বিশেষ রক্তজালক (ভাসা রেকটা) উপস্থিত
শারীরবৃত্তীয় কার্যস্বাভাবিক অবস্থায় পরিস্রাবণ ও সাধারণ পুনঃশোষণকাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার হিসেবে গাঢ় ও ঘন মূত্র উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে
৩. জাক্সটাগ্লোমেরুলার অ্যাপারেটাস (JGA)

নেফ্রনের রক্ত সরবরাহকারী অন্তর্মুখী ধমনিকা এবং ডিসিটির প্রাথমিক অংশের স্পর্শস্থলে গঠিত একটি বিশেষ সংবেদী কোষপুঞ্জ:

  • ম্যাকুলা ডেনসা (Macula Densa): ডিসিটি প্রাচীরের বিশেষায়িত ঘন স্তম্ভাকার কোষ যা নালিকার তরলে NaCl-এর ঘনত্ব ও প্রবাহের গতি পর্যবেক্ষণ করে।
  • জাক্সটাগ্লোমেরুলার (JG) কোষ: অন্তর্মুখী ধমনিকার টিউনিকা মিডিয়ার রূপান্তরিত মসৃণ পেশিকোষ, যা রক্তচাপ কমলে রেনিন (Renin) নামক প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক ক্ষরণ করে।
  • ল্যাসিস কোষ (Extraglomerular Mesangial Cells): সিগন্যাল সঞ্চালনে অংশ নেয়।

মূত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া: অতিপরিস্রাবণ, পুনঃশোষণ ও নালিকাগত ক্ষরণ

১. প্রথম ধাপ: গ্লোমেরুলার অতিপরিস্রাবণ (Ultrafiltration)

রক্ত থেকে প্লাজমার প্রোটিনমুক্ত জলীয় অংশের বোম্যান্স ক্যাপসুলের লুমেনে প্রবেশ করাকে অতিপরিস্রাবণ বলে। এটি ত্রি-স্তরীয় পরিস্রাবণ পর্দার মাধ্যমে ঘটে:

  1. গ্লোমেরুলার কৌশিকনালীর এন্ডোথেলিয়াম: ৭০-১০০ nm ব্যাসের ছিদ্রযুক্ত (Fenestrations), যা রক্তকণিকা আটকে দেয়।
  2. ভিত্তি পর্দা (Basement Membrane): ঋণাত্মক আধানযুক্ত হেপারান সালফেট সমৃদ্ধ স্তর, যা রক্তরস প্রোটিন (অ্যালবুমিন)-কে প্রতিহত করে।
  3. পোডোসাইটের পেডিকেল স্লিট: ২৫ nm পরিস্রাবণ ছিদ্র, যা নেফ্রিন প্রোটিন দ্বারা আচ্ছাদিত।
কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (Effective Filtration Pressure - EFP / NFP):
• গ্লোমেরুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ (GHP): অন্তর্মুখী ধমনিকা চওড়া হওয়ায় কৌশিকনালীর রক্তচাপ: +৬০ mmHg (পরিস্রাবণের অনুকূলে)।
• রক্তের কলয়েড অভিস্রবণ চাপ (BCOP): প্লাজমা প্রোটিন (প্রধানত অ্যালবুমিন)-এর অভিস্রবণ টান: -৩২ mmHg (পরিস্রাবণের প্রতিকূলে)।
• ক্যাপসুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ (CHP): বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতরের তরলের চাপ: -১৮ mmHg (পরিস্রাবণের প্রতিকূলে)।
$$\text{কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP)} = \text{GHP} - (\text{BCOP} + \text{CHP}) = ৬০ - (৩২ + ১৮) = +১০\text{ mmHg}$$
• গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ হার (GFR): উভয় বৃক্কের দ্বারা প্রতি মিনিটে উৎপন্ন পরিস্রুত তরলের পরিমাণ = ১২৫ mL/মিনিট = ১৮০ লিটার/দিন।
• প্রাথমিক পরিস্রুতের উপাদান: প্রোটিনবিহীন রক্তরস—জল, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন, Na+, K+, Cl- ও HCO3-।
২. দ্বিতীয় ধাপ: নির্বাচনমূলক নালিকাগত পুনঃশোষণ (৯৯% দক্ষতা)

দৈনিক উৎপাদিত ১৮০ লিটার পরিস্রুত তরলের প্রায় ১৭৮.৫ লিটার (~৯৯%) রক্তে ফিরে যায়, ফলে নির্গত মূত্রের পরিমাণ মাত্র ১.০ থেকে ১.৫ লিটার হয়।

  • PCT-তে পুনঃশোষণ (প্রধান কর্মক্ষেত্র): পরিস্রুত তরলের ৭০-৮০% জল ও ইলেক্ট্রোলাইট এখানে পুনঃশোষিত হয়।
    • গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড (১০০%): Na+-এর সাথে গৌণ সক্রিয় পরিবহনের (SGLT1/SGLT2 সিমপোর্টার) মাধ্যমে সম্পূর্ণ পুনঃশোষিত হয়। রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক রেনাল থ্রেশহোল্ড ১৮০ mg/dL।
    • সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্লোরাইড: ৭০-৮০% সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় উপায়ে পুনঃশোষিত হয়।
    • বাইকার্বনেট (HCO3-): কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ উৎসেচক ও Na+/H+ এক্সচেঞ্জারের মাধ্যমে ৮৫-৯০% পুনঃশোষিত হয়।
    • বাধ্যতামূলক জল পুনঃশোষণ (Obligatory Water Reabsorption): দ্রাবের পিছু পিছু অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উচ্চ ঘনত্বের অ্যাকোয়াপোরিন-১ (AQP-1) চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জল রক্তে প্রবেশ করে।
  • হেনলির লুপে পুনঃশোষণ:
    • নিম্নগামী বাহু: জল বেরিয়ে যায়, তরলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষবিন্দুতে ১২০০ mOsm/L হয়।
    • ঊর্ধ্বগামী বাহু: জল ঢুকতে বা বের হতে পারে না; পুরু অংশ সক্রিয়ভাবে লবণ বার করে দেয়, ফলে তরলের ঘনত্ব কমে ২০০ mOsm/L (হাইপোটনিক) হয়।
  • ডিসিটি ও সংগ্রাহী নালীতে শর্তাধীন পুনঃশোষণ (Facultative):
    • অ্যালডোস্টেরনের প্রভাবে: Na+ এবং জলের পুনঃশোষণ বৃদ্ধি পায় এবং K+ ক্ষরণ হয়।
    • ADH-এর প্রভাবে: সংগ্রাহী নালীর প্রাচীরে অ্যাকোয়াপোরিন-২ (AQP-2) যুক্ত হয়ে জল দ্রুত পুনঃশোষিত হয়।
৩. তৃতীয় ধাপ: নালিকাগত ক্ষরণ (Tubular Secretion)

পেরিটিউবুলার রক্তজালক থেকে ক্ষতিকারক ও অতিরিক্ত পদার্থ সরাসরি রেনাল নালিকার লুমেনে সক্রিয়ভাবে প্রেরিত হয়:

  • ক্ষরিত পদার্থসমূহ: হাইড্রোজেন আয়ন (H+), পটাশিয়াম আয়ন (K+), অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH4+), ক্রিয়েটিনিন এবং ভেষজ বর্জ্য (যেমন পেনিসিলিন)।
  • স্থান: PCT-তে H+, NH4+ ও ড্রাগস ক্ষরিত হয়; DCT এবং সংগ্রাহী নালীতে K+ ও H+ আয়ন নিয়ন্ত্রিতভাবে ক্ষরিত হয়।
  • শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব: রক্তের pH (৭.৩৫-৭.৪৫) রক্ষা করা এবং প্রাণঘাতী হাইপারক্যালেমিয়া (পটাশিয়ামের বৃদ্ধি যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটাতে পারে) রোধ করা।

কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থা ও মূত্র ঘনকরণ কৌশল

১. কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থার মূলনীতি

স্থলচর স্তন্যপায়ী হিসেবে মানুষ রক্তরসের (৩০০ mOsm/L) তুলনায় প্রায় ৪ গুণ গাঢ় মূত্র (১২০০ mOsm/L) নিষ্কাশন করতে পারে। এই জল সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনের দুটি বিপরীতমুখী প্রবাহযুক্ত নালিকার সমন্বয়:

  1. কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার (Counter-Current Multiplier): হেনলির লুপ, যার নিম্নগামী ও ঊর্ধ্বগামী বাহুতে তরল বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
  2. কাউন্টার-কারেন্ট এক্সচেঞ্জার (Counter-Current Exchanger): ভাসা রেকটা (রক্তজালক), যার নিম্নগামী ও ঊর্ধ্বগামী বাহুর রক্ত বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
২. কর্টিকোমেডুলারি ঘনত্ব নতিমাত্রা (Corticomedullary Gradient)

রেনাল কর্টেক্সে তরলের অভিস্রবণ চাপ ৩০০ mOsm/L থেকে শুরু করে মেডুলার গভীরে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে রেনাল প্যাপিলায় সর্বোচ্চ ১২০০ mOsm/L-এ পৌঁছায়। এই নতিমাত্রা তৈরির মূল উপাদান হলো NaCl এবং ইউরিয়া।

নতিমাত্রা সৃষ্টি ও সংরক্ষণের ধাপসমূহ:
• সক্রিয় NaCl নিষ্কাশন: হেনলির লুপের পুরু ঊর্ধ্বগামী বাহু NKCC2 কো-ট্রান্সপোর্টারের মাধ্যমে মেডুলার ইন্টারস্টিশিয়ামে প্রচুর NaCl পাম্প করে দেয়। যেহেতু এই বাহুটি জলের প্রতি অভেদ্য, তাই ইন্টারস্টিশিয়াম লবণাক্ত হয় কিন্তু নালিকার ভেতরের তরল লঘু হয়ে যায়।
• জল নিষ্কাশন: লুপের নিম্নগামী বাহুটি অত্যন্ত জল-ভেদ্য হওয়ায় আশেপাশের ঘন ইন্টারস্টিশিয়ামের আকর্ষণে জল বেরিয়ে আসে। ফলে তরল নিচে নামার সাথে সাথে গাঢ় হয়ে লুপের মোড়ে ১২০০ mOsm/L-এ পৌঁছায়।
• ইউরিয়া চক্রায়ন (Urea Recycling): সংগ্রাহী নালীর গভীর অংশ থেকে ইউরিয়া ডিফিউশন প্রক্রিয়ায় মেডুলারি ইন্টারস্টিশিয়ামে চলে আসে এবং সেখানে প্রায় ৫০০ mOsm/L অভিস্রবণ চাপ সৃষ্টি করে। এই ইউরিয়ার কিছু অংশ হেনলির পাতলা ঊর্ধ্বগামী বাহুতে প্রবেশ করে পুনরায় চক্রাকারে সংগ্রাহী নালীতে ফিরে আসে।
• ভাসা রেকটার ভূমিকা: নিম্নগামী ভাসা রেকটা রক্তে NaCl ও ইউরিয়া গ্রহণ করে এবং জল হারায়; ঊর্ধ্বগামী ভাসা রেকটা জল পুনঃশোষণ করে এবং NaCl/ইউরিয়াকে পুনরায় ইন্টারস্টিশিয়ামে ছেড়ে দেয়। এর ফলে মেডুলার লবণ ধুয়ে না গিয়ে রক্তের সংবহনে জমা থাকে।
৩. সংগ্রাহী নালীতে চূড়ান্ত মূত্র ঘনকরণ

ডিসিটি থেকে প্রায় লঘু তরল (~২০০ mOsm/L) যখন সংগ্রাহী নালীর মধ্য দিয়ে মেডুলার ১২০০ mOsm/L অঞ্চলের দিকে নামতে থাকে, তখন ADH (ভ্যাসোপ্রেসিন) হরমোনের প্রভাবে নালীর প্রাচীরে অ্যাকোয়াপোরিন-২ জলের চ্যানেলগুলি উন্মুক্ত হয়। মেডুলার তীব্র অভিস্রবণ টানে নালিকা থেকে বিপুল পরিমাণ জল ইন্টারস্টিশিয়াম ও ভাসা রেকটায় পুনঃশোষিত হয়। ফলস্বরূপ, মানবদেহের বহুমূল্য জল সংরক্ষিত হয় এবং রেনাল পেলভিসে অত্যন্ত ঘন ও গাঢ় মূত্র (১২০০ mOsm/L) প্রবেশ করে।

স্নায়ু-হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ, মূত্রত্যাগ ও রেচনতন্ত্রের রোগসমূহ

১. বৃক্ক কার্য নিয়ন্ত্রণে হরমোনীয় ফিডব্যাক অক্ষসমূহ

দেহের তরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তিনটি প্রধান হরমোনীয় ব্যবস্থা পারস্পরিক সমন্বয়ে কাজ করে:

১. হাইপোথ্যালামিক অসমোরিসেপ্টর - ADH (ভ্যাসোপ্রেসিন) অক্ষ:
• উদ্দীপনা: রক্তে জলের স্বল্পতা, প্লাজমার অভিস্রবণ চাপ বৃদ্ধি (>৩০০ mOsm/L) বা রক্তের আয়তন কমে গেলে হাইপোথ্যালামাসের অসমোরিসেপ্টর উদ্দীপিত হয়।
• কার্য: পশ্চাৎ পিটুইটারি থেকে অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন (ADH / Vasopressin) ক্ষরিত হয়।
• প্রভাব: সংগ্রাহী নালীর প্রিন্সিপাল কোষে অ্যাকোয়াপোরিন-২ যুক্ত করে জলের পুনঃশোষণ বাড়ায় এবং মূত্রের পরিমাণ কমায় (অ্যান্টিডাইইউরেসিস)। রক্তচাপ অত্যধিক কমে গেলে এটি রক্তনালী সংকুচিত করে চাপ বাড়ায়।
• রোগ: ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes Insipidus): ADH-এর অভাবে জল পুনঃশোষণ ব্যাহত হয়ে দৈনিক ৫-২০ লিটার অত্যধিক পাতলা মূত্র নির্গত হয় (বহুমূত্র রোগ), তবে এতে কোনো শর্করা থাকে না।
২. রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন তন্ত্র (RAAS):
• উদ্দীপনা: গ্লোমেরুলার রক্তচাপ, রক্তের আয়তন বা GFR হ্রাস পেলে অন্তর্মুখী ধমনিকার JG কোষ উদ্দীপিত হয়।
• ক্যাসকেড: JG কোষ রেনিন ক্ষরণ করে → যকৃতের অ্যাঞ্জিওটেনসিনোজেন-কে অ্যাঞ্জিওটেনসিন I-এ পরিণত করে → ফুসফুসের ACE (Angiotensin Converting Enzyme) একে শক্তিশালী অ্যাঞ্জিওটেনসিন II-তে রূপান্তরিত করে।
• অ্যাঞ্জিওটেনসিন II-এর প্রভাব:
- রক্তনালী সংকুচিত করে সিস্টেমিক রক্তচাপ বাড়ায় এবং বহির্মুখী ধমনিকা সংকুচিত করে GFR বৃদ্ধি করে।
- অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স থেকে অ্যালডোস্টেরন ক্ষরণ ঘটায়, যা ডিসিটিতে Na+ ও জলের পুনঃশোষণ বৃদ্ধি করে।
- তৃষ্ণা কেন্দ্র ও ADH ক্ষরণ উদ্দীপিত করে।
৩. অ্যাট্রিয়াল নেট্রিইউরেটিক ফ্যাক্টর (ANF / ANP) - হৃৎপিণ্ডের প্রতিরোধক ব্যবস্থা:
• উদ্দীপনা: রক্তচাপ বা রক্তের আয়তন অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ প্রাচীর প্রসারিত হয়।
• কার্য: অলিন্দের মায়োসাইট কোষ থেকে ANF ক্ষরিত হয়।
• প্রভাব: রক্তনালীর প্রসারণ ঘটায়, রেনিন ও অ্যালডোস্টেরন ক্ষরণ বন্ধ করে এবং মূত্রে সোডিয়াম (নেট্রিইউরেসিস) ও জল নির্গমন বৃদ্ধি করে রক্তচাপ কমায়। এটি RAAS তন্ত্রের সরাসরি বিপরীতমুখী নিয়ন্ত্রক।
২. মূত্রত্যাগ প্রতিফলন (Micturition Reflex)

মূত্রথলি থেকে মূত্রনালীর মাধ্যমে মূত্র নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াকে মূত্রত্যাগ বলে:

  • মূত্রথলি পূর্ণ হওয়া: প্রায় ৩০০-৪০০ মিলি মূত্র জমা হলে মূত্রথলির ডিট্রিউসার পেশির প্রাচীর প্রসারিত হয় এবং স্ট্রেচ রিসেপ্টর উদ্দীপিত হয়।
  • স্নায়ু প্রবাহ: সংজ্ঞাবহ স্নায়ু সংকেত মেরুরজ্জুর স্যাক্রাল মিকচুরিশন কেন্দ্র (S2-S4) এবং মস্তিষ্কের পনসে প্রেরিত হয়।
  • মোটর সাড়া: প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর প্রভাবে মূত্রথলির ডিট্রিউসার পেশি সংকুচিত হয় এবং অনৈচ্ছিক অভ্যন্তরীণ স্ফিঙ্কটার শিথিল হয়।
  • ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণ: ঐচ্ছিক ডোরাকাটা পেশি দ্বারা গঠিত বহিঃস্থ স্ফিঙ্কটার শিথিল হলে মূত্র দেহ থেকে নির্গত হয়।
  • স্বাভাবিক মূত্রের বৈশিষ্ট্য: স্বচ্ছ, হালকা হলুদ (ইউরোক্রোম রঞ্জক), সামান্য অম্লীয় (pH প্রায় ৬.০, সীমা ৪.৫-৮.০), আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১৫-১.০২৫; দৈনিক নির্গত ইউরিয়ার পরিমাণ ২৫-৩০ গ্রাম।
৩. মানবদেহের সহায়ক রেচন অঙ্গসমূহ
  • ফুসফুস: শ্বাসবায়ুর মাধ্যমে দৈনিক প্রচুর পরিমাণ CO2 (প্রায় ২০০ mL/মিনিট বা ১৮ লিটার/ঘণ্টা) এবং প্রায় ৪০০ মিলি জলীয় বাষ্প নির্গত করে।
  • যকৃত: হিমোগ্লোবিনের বিশ্লিষ্ট অংশ থেকে পিত্তরঞ্জক (বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন) তৈরি করে এবং কোলেস্টেরল, স্টেরয়েড হরমোন ও ওষুধের বর্জ্য পিত্তের মাধ্যমে অন্ত্রে প্রেরণ করে মলের সাথে নিষ্কাশন করে।
  • ত্বক: ঘর্মগ্রন্থি ঘামের মাধ্যমে জল, NaCl, সামান্য ইউরিয়া ও ল্যাকটিক অ্যাসিড নির্গত করে দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে; সিবেসিয়াস গ্রন্থি সিবামের মাধ্যমে স্টেরল, হাইড্রোকার্বন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্যাগ করে ত্বকে ফ্যাটি আবরণ তৈরি করে।
৪. রেচনতন্ত্রের রোগসমূহ ও ক্লিনিকাল হিমোডায়ালাইসিস
রোগ / পদ্ধতিকারণ ও রোগলক্ষণচিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
ইউরেমিয়া (Uremia)বৃক্কের অকার্যকারিতার কারণে রক্তে ইউরিয়া ও বিষাক্ত নাইট্রোজেন বর্জ্যের মাত্রা বৃদ্ধি (>৪০ mg/dL)বমি বমি ভাব, অবসাদ, পেরিকার্ডাইটিস, কোমা; অবিলম্বে হিমোডায়ালাইসিস প্রয়োজন
রেনাল ক্যালকুলি (Renal Calculi / পাথর)বৃক্কে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম অক্সালেট, ক্যালসিয়াম ফসফেট বা ইউরিক অ্যাসিড কেলাসের পাথর জমাতীব্র পিঠ ও তলপেটের ব্যথা (রেনাল কলিক), রক্তমূত্র; প্রচুর জলপান, লিথোট্রিপসি (শব্দতরঙ্গে পাথর চূর্ণ) বা অস্ত্রোপচার
গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস (Glomerulonephritis)ইমিউন জটিলতার কারণে গ্লোমেরুলাসের প্রদাহ (যেমন স্ট্রেপ্টোকক্কাস সংক্রমণের পর)রক্তমূত্র (ধোঁয়াটে মূত্র), প্রোটিনমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, মুখে ও চোখের চারপাশে ফোলাভাব (Edema)
রেনাল ফেইলিওর (Renal Failure)GFR মারাত্মক হ্রাস বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া (তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী)অ্যাসিডোসিস, হাইপারক্যালেমিয়া, বিষাক্ততা; হিমোডায়ালাইসিস বা বৃক্ক প্রতিস্থাপন
হিমোডায়ালাইসিস (কৃত্রিম বৃক্ক)ধমনি থেকে রক্ত নিয়ে সেলোফেন টিউবযুক্ত ডায়ালাইজার মেশিনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়রক্তে হেপারিন মেশানো হয়; ডায়ালাইজিং তরলে ইউরিয়া না থাকায় বর্জ্য বেরিয়ে যায়; অ্যান্টি-হেপারিন যুক্ত করে রক্ত শিরায় ফেরানো হয়
বৃক্ক প্রতিস্থাপন (Kidney Transplant)সুস্থ দাতার বৃক্ক গ্রহীতার ইলিয়াক ফোসায় স্থাপন করানিকট আত্মীয়ের সাথে HLA টিস্যু ম্যাচিং প্রয়োজন; সারাজীবন ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ (সাইক্লোস্পোরিন) গ্রহণ আবশ্যক

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP / NFP)
$$EFP = +১০ mmHg$$
GHP হলো গ্লোমেরুলার রক্তচাপ (+৬০ mmHg); BCOP হলো প্লাজমা প্রোটিনের বিপরীতমুখী টান (-৩২ mmHg); CHP হলো ক্যাপসুলার চাপ (-১৮ mmHg)।
গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ হার (GFR)
$$GFR = ১২৫ mL/মিনিট = ১৮০ লিটার/দিন$$
রেনাল প্লাজমা ফ্লো-এর (~৬৫০ mL/মিনিট) প্রায় ২০% পরিস্রুত হয়; ইন্ট্রিনসিক অটোরেগুলেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
পরিস্রাবণ ভগ্নাংশ (Filtration Fraction - FF)
$$FF ≈ ২০\%$$
রেনাল প্লাজমা ফ্লো (RPF) = মোট রেনাল রক্তপ্রবাহ (১২০০ mL/মিনিট) * (১ - হেমাটোক্রিট ০.৪৫) = ৬৫০ mL/মিনিট।
নালিকাগত পুনঃশোষণ দক্ষতা
$$\% পুনঃশোষিত ≈ ৯৯.২\%$$
PCT একাই ৭০-৮০% পুনঃশোষণ করে; ডিসিটি ও সংগ্রাহী নালী হরমোনের অধীনে বাকি পুনঃশোষণ সম্পন্ন করে।
মেডুলারি অভিস্রবণ নতিমাত্রা (Corticomedullary Gradient)
$$ Osm = ৯০০ mOsm/L$$
কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার (লুপের ঊর্ধ্বগামী বাহুর সক্রিয় NaCl পাম্প) ও সংগ্রাহী নালীর ইউরিয়া নিষ্কাশন দ্বারা রক্ষিত হয়।
রেনাল ক্লিয়ারেন্স সূত্র (Renal Clearance)
$$C_x = {U_x × V}{P_x} mL/মিনিট$$
U_x = মূত্রে পদার্থের ঘনত্ব, V = মূত্র ত্যাগের হার (mL/মিনিট), P_x = প্লাজমায় পদার্থের ঘনত্ব। ইনুলিন (Inulin) ক্লিয়ারেন্স সরাসরি GFR (১২৫ mL/মিনিট) নির্দেশ করে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP) গণনা করো যদি: গ্লোমেরুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ = ৬২ mmHg, রক্তের কলয়েড অভিস্রবণ চাপ = ৩০ mmHg এবং ক্যাপসুলার চাপ = ১৭ mmHg হয়। (খ) রক্তরস প্রোটিন অ্যালবুমিনের আণবিক ব্যাস গ্লোমেরুলার ছিদ্রের চেয়ে ছোট হওয়া সত্ত্বেও কেন স্বাভাবিক পরিস্রুতে অ্যালবুমিন অনুপস্থিত থাকে? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP / NFP) নির্ণয়: [৩ নম্বর]
• প্রয়োজনীয় সূত্র:
$$\text{EFP} = \text{GHP} - (\text{BCOP} + \text{CHP})$$
• প্রদত্ত মানসমূহ:
- গ্লোমেরুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ (GHP) = ৬২ mmHg
- রক্তের কলয়েড অভিস্রবণ চাপ (BCOP) = ৩০ mmHg
- ক্যাপসুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ (CHP) = ১৭ mmHg
• মান বসিয়ে পাই:
$$\text{EFP} = ৬২ - (৩০ + ১৭) = ৬২ - ৪৭ = +১৫\text{ mmHg}$$
• উত্তর: কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ হলো +১৫ mmHg, যা বোম্যান্স ক্যাপসুলের লুমেনে অতিপরিস্রাবণ সচল রাখে।

(খ) প্রাথমিক পরিস্রুতে অ্যালবুমিন অনুপস্থিত থাকার বৈজ্ঞানিক কারণ: [২ নম্বর]
১. স্থিরতড়িৎ বিকর্ষণ: গ্লোমেরুলার কৌশিকনালীর ছিদ্রের আকার (৭০-১০০ nm) অ্যালবুমিনের ব্যাসের (~৭ nm) চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু গ্লোমেরুলার ভিত্তি পর্দা (GBM) এবং পোডোসাইটের স্লিট ডায়াফ্রাম ঋণাত্মক আধানযুক্ত হেপারান সালফেট ও গ্লাইকোপ্রোটিন সমৃদ্ধ।
২. রক্তের স্বাভাবিক pH-এ (৭.৪) অ্যালবুমিন অণুগুলি ঋণাত্মক আধান বহন করে। সমধর্মী ঋণাত্মক আধানের কারণে ভিত্তি পর্দা অ্যালবুমিনকে প্রবলভাবে বিকর্ষণ করে আটকে দেয়।
৩. এছাড়া পোডোসাইটের স্লিট ডায়াফ্রামের কার্যকর মলিকুলার ছাঁকনির কাট-অফ মান ৬০-৭০ kDa; অ্যালবুমিনের আণবিক ওজন ৬৯ kDa হওয়ায় এটি যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক উভয়ভাবেই বাধাপ্রাপ্ত হয়।
উদাহরণ 2
(ক) জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনে হেনলির লুপ ও ভাসা রেকটা কীভাবে কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে মূত্র ঘন করে তা ব্যাখ্যা করো। (খ) মেডুলার অতি-অভিস্রবণীয়তা রক্ষায় ইউরিয়া চক্রায়নের ভূমিকা কী? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থা ও মূত্র ঘনকরণ: [৩ নম্বর]
১. কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার (হেনলির লুপ):
• নিম্নগামী বাহু: জলের প্রতি অত্যন্ত ভেদ্য কিন্তু লবণের প্রতি অভেদ্য। তরল নিচে নামার সময় মেডুলার উচ্চ লবণের আকর্ষণে জল বেরিয়ে আসে, ফলে লুপের শীর্ষবিন্দুতে তরলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে ১২০০ mOsm/L হয়।
• ঊর্ধ্বগামী বাহু: জলের প্রতি সম্পূর্ণ অভেদ্য। পুরু অংশ সক্রিয়ভাবে NaCl পাম্প করে মেডুলার ইন্টারস্টিশিয়ামে জমা করে, ফলে তরল ডিসিটিতে প্রবেশের সময় লঘু (২০০ mOsm/L) হয় কিন্তু মেডুলা অতি-অভিস্রবণীয় থাকে।
২. কাউন্টার-কারেন্ট এক্সচেঞ্জার (ভাসা রেকটা):
• সমান্তরাল কৌশিকনালীর নিম্নগামী বাহু লবণ ও ইউরিয়া গ্রহণ করে জল হারায়; ঊর্ধ্বগামী বাহু জল শোষণ করে লবণ ফিরিয়ে দেয়।
• এর ফলে পুনঃশোষিত জল সাধারণ সংবহনে ফিরে যায় এবং মেডুলার ১২০০ mOsm/L নতিমাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে।

(খ) ইউরিয়া চক্রায়নের (Urea Recycling) ভূমিকা: [২ নম্বর]
১. সংগ্রাহী নালীতে ADH-এর প্রভাবে জল শোষিত হওয়ায় অভ্যন্তরে ইউরিয়ার ঘনত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
২. নালিকার গভীর অংশ থেকে ইউরিয়া ডিফিউশন প্রক্রিয়ায় মেডুলার ইন্টারস্টিশিয়ামে প্রবেশ করে মেডুলার মোট ১২০০ mOsm/L ঘনত্বের প্রায় ৫০০ mOsm/L একাই তৈরি করে।
৩. এই ইউরিয়া হেনলির পাতলা ঊর্ধ্বগামী বাহুতে প্রবেশ করে পুনরায় সংগ্রাহী নালীতে ফিরে আসে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে মেডুলার লবণাক্ততা ধরে রাখে।
উদাহরণ 3
(ক) রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন তন্ত্রের (RAAS) ধারাবাহিক সক্রিয়করণ ও তার শারীরিক ফলাফল বর্ণনা করো। (খ) ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের মধ্যে কারণ ও মূত্রের প্রকৃতির পার্থক্য লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) RAAS তন্ত্রের সক্রিয়করণ ও প্রভাব: [৩ নম্বর]
১. উদ্দীপনা: রক্তচাপ কমে যাওয়া, রক্তের আয়তন হ্রাস বা GFR কমে গেলে অন্তর্মুখী ধমনিকার জাক্সটাগ্লোমেরুলার (JG) কোষ থেকে রেনিন উৎসেচক রক্তে ক্ষরিত হয়।
২. ক্যাসকেড রূপান্তর: রেনিন রক্তরসের যকৃৎ-নিঃসৃত অ্যাঞ্জিওটেনসিনোজেন-কে অ্যাঞ্জিওটেনসিন I-এ পরিণত করে। পরবর্তীতে ফুসফুসের কৈশিকজালকের ACE উৎসেচক একে সক্রিয় অ্যাঞ্জিওটেনসিন II-তে রূপান্তরিত করে।
৩. শারীরবৃত্তীয় ফলাফল:
• রক্তনালী সংকোচন: অ্যাঞ্জিওটেনসিন II শক্তিশালী রক্তনালী সংকোচক হিসেবে কাজ করে রক্তচাপ বাড়ায় এবং বহির্মুখী ধমনিকা সংকুচিত করে GFR বৃদ্ধি করে।
• অ্যালডোস্টেরন ক্ষরণ: অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স থেকে অ্যালডোস্টেরন ক্ষরণ ঘটায়, যা ডিসিটি ও সংগ্রাহী নালীতে Na+ ও জলের পুনঃশোষণ ঘটিয়ে রক্তের আয়তন ও চাপ স্বাভাবিক করে।
• তৃষ্ণা ও ADH: হাইপোথ্যালামাসের তৃষ্ণা কেন্দ্র ও ADH ক্ষরণ উদ্দীপিত করে।

(খ) ডায়াবেটিস মেলিটাস বনাম ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস: [২ নম্বর]
তুলনার বিষয়ডায়াবেটিস মেলিটাস (মধুমূত্র)ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (বহুমূত্র)
মূল কারণইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি বা কার্যহীনতাADH (ভ্যাসোপ্রেসিন) হরমোনের অভাব বা বৃক্কের গ্রাহকের অক্ষমতা
রক্তে শর্করারক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)রক্তে শর্করার মাত্রা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকে
মূত্রের উপাদান ও ঘনত্বমূত্রে গ্লুকোজ (গ্লাইকোসুরিয়া) ও কিটোন বডি উপস্থিত; আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশি (>১.০৩০)মূত্রে কোনো গ্লুকোজ বা কিটোন বডি থাকে না; অত্যন্ত লঘু ও বর্ণহীন মূত্র (<১.০০৫)
দৈনিক মূত্রের পরিমাণমাঝারি বহু-মূত্রতা (৩-৫ লিটার/দিন)মারাত্মক বহু-মূত্রতা (৫-২০ লিটার/দিন)
উদাহরণ 4
(ক) মূত্রত্যাগ প্রতিফলনের (Micturition Reflex) প্রধান ধাপগুলি লেখো। (খ) মূত্রের চারটি অস্বাভাবিক উপাদানের নাম ও তাদের রোগনির্ণয়মূলক তাৎপর্য উল্লেখ করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) মূত্রত্যাগ প্রতিফলন (Micturition Reflex): [৩ নম্বর]
১. মূত্রথলির প্রসারণ: মূত্রথলিতে ৩০০-৪০০ মিলি মূত্র জমা হলে অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধি পায় এবং থলির গাত্রের ডিট্রিউসার পেশির স্ট্রেচ রিসেপ্টরগুলি উদ্দীপিত হয়।
২. সংবেদী উদ্দীপনা প্রেরণ: পেলভিক স্নায়ুর মাধ্যমে সংবেদনশীল উদ্দীপনা মেরুরজ্জুর স্যাক্রাল মিকচুরিশন কেন্দ্রে (S2-S4) এবং মস্তিষ্কের পনস ও কর্টেক্সে পৌঁছায়।
৩. প্যারাসিমপ্যাথেটিক মোটর ক্রিয়া ও স্ফিঙ্কটার নিয়ন্ত্রণ: অটোনোমিক প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর সংকেতে ডিট্রিউসার পেশি সংকুচিত হয় এবং অনৈচ্ছিক অভ্যন্তরীণ স্ফিঙ্কটার শিথিল হয়। একই সাথে ঐচ্ছিক সোমাটিক পুডেন্ডাল স্নায়ুর সংকেত বন্ধ হয়ে বহিঃস্থ স্ফিঙ্কটার শিথিল হলে মূত্র দেহ থেকে নির্গত হয়।

(খ) মূত্রের অস্বাভাবিক উপাদান ও তাৎপর্য: [২ নম্বর]
১. গ্লাইকোসুরিয়া (Glycosuria): মূত্রে গ্লুকোজের উপস্থিতি; রক্তে শর্করা রেনাল থ্রেশহোল্ড (১৮০ mg/dL) অতিক্রম করলে ঘটে, যা ডায়াবেটিস মেলিটাসের প্রধান লক্ষণ।
২. কিটোনুরিয়া (Ketonuria): মূত্রে কিটোন বডির উপস্থিতি; অনাহার বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ফ্যাটের অতিরিক্ত অপচিতির ইঙ্গিত দেয়।
৩. প্রোটিনুরিয়া বা অ্যালবুমিনুরিয়া (Proteinuria): মূত্রে রক্তরস প্রোটিনের উপস্থিতি; গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ পর্দার ক্ষতি (গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস, নেফ্রোটিক সিনড্রোম) নির্দেশ করে।
৪. হেমাটুরিয়া (Hematuria): মূত্রে অক্ষত লোহিত রক্তকণিকার (RBC) উপস্থিতি; বৃক্কে পাথর, মূত্রনালীর সংক্রমণ বা টিউমারের লক্ষণ।
উদাহরণ 5
(ক) কৃত্রিম বৃক্ক বা হিমোডায়ালাইসিসের কার্যপদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো। (খ) এই পদ্ধতিতে হেপারিন এবং অ্যান্টি-হেপারিন ব্যবহারের গুরুত্ব কী? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) হিমোডায়ালাইসিসের কার্যপদ্ধতি: [৩ নম্বর]
১. রক্ত গ্রহণ: রোগীর সুবিধাজনক কোনো ধমনি (যেমন হাতের রেডিয়াল ধমনি) থেকে রক্ত পাম্পের সাহায্যে টেনে ডায়ালাইজার ইউনিটে পাঠানো হয়।
২. ডায়ালাইজার ও ডায়ালাইজিং তরল: ডায়ালাইজারে খাঁজকাটা বা ফাঁপা সেলোফেন পর্দার নালিকা থাকে, যা একটি নিয়ন্ত্রিত ডায়ালাইজিং তরলে নিমজ্জিত থাকে।
৩. ব্যাপন ও পরিশোধন: ডায়ালাইজিং তরলের আয়ন ও অসমোটিক গঠন রক্তরসের অনুরূপ হলেও এতে কোনো নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন) থাকে না।
৪. ফলে ঘনত্বের নতিমাত্রা অনুসারে রক্তের বর্জ্য পদার্থগুলি সেলোফেন পর্দা ভেদ করে ডায়ালাইজিং তরলে ব্যাপিত হয়ে বেরিয়ে যায় এবং রক্ত বিশুদ্ধ হয়। অতিরিক্ত জল হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপে অপসারিত হয়।

(খ) হেপারিন ও অ্যান্টি-হেপারিনের ভূমিকা: [২ নম্বর]
১. হেপারিন: রক্ত ডায়ালাইজারে প্রবেশের ঠিক আগে এতে হেপারিন মেশানো হয়, যাতে কৃত্রিম সেলোফেন পর্দার সংস্পর্শে এসে রক্ত জমাট না বাঁধে (থ্রম্বোসিস রোধ)।
২. অ্যান্টি-হেপারিন (প্রোটামিন সালফেট): পরিশোধিত রক্ত রোগীর শিরায় ফেরত পাঠানোর ঠিক পূর্বে অ্যান্টি-হেপারিন যোগ করা হয়। এটি হেপারিনের ক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করে রক্তের স্বাভাবিক তঞ্চন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনে এবং রোগীর দেহে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দূর করে।
উদাহরণ 6
(ক) বিষাক্ততা, সংশ্লেষের স্থান এবং জলের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে অ্যামোনোটেলিজম, ইউরিওটেলিজম ও ইউরিকোটেলিজমের তুলনা করো। (খ) নিম্নলিখিত প্রাণীদের রেচন অঙ্গের নাম লেখো: (i) প্ল্যানেরিয়া, (ii) কেঁচো, (iii) আরশোলা, (iv) চিংড়ি। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) রেচন কৌশলসমূহের তুলনামূলক আলোচনা: [৩ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যঅ্যামোনোটেলিজমইউরিওটেলিজমইউরিকোটেলিজম
আপেক্ষিক বিষাক্ততাঅত্যধিক বিষাক্ত (সরাসরি স্নায়ুবিষ)মাঝারি বিষাক্ত (অ্যামোনিয়ার চেয়ে ১ লক্ষ গুণ কম)সম্পূর্ণ নির্বিষ ও অদ্রবণীয়
সংশ্লেষের স্থান ও শক্তি ব্যয়সরাসরি কলাকোষে ডিঅ্যামিনেশন; অতিরিক্ত ATP লাগে নাযকৃতে অর্নিথিন চক্রে সংশ্লেষিত; ৩টি ATP ব্যয় হয়যকৃৎ ও ম্যালপিজিয়ান নালিকায় সংশ্লেষিত; প্রচুর শক্তি ব্যয়সাপেক্ষ
১ গ্রাম নাইট্রোজেনে জলের অপচয়প্রচুর (~৩০০-৫০০ মিলি)মাঝারি (~৫০ মিলি)ন্যূনতম (~১০ মিলি; শুষ্ক পেলেট)

(খ) প্রাণীদের রেচন অঙ্গ: [২ নম্বর]
• (i) প্ল্যানেরিয়া: শিখা কোষ (Flame cells / প্রোটোনেফ্রিডিয়া)
• (ii) কেঁচো: নেফ্রিডিয়া (Nephridia)
• (iii) আরশোলা: ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)
• (iv) চিংড়ি: সবুজ গ্রন্থি / অ্যান্টিনাল গ্রন্থি (Green glands)

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মূত্র ঘনকরণে কর্টিকাল নেফ্রনের ভূমিকা আছে বলে ভুল ধারণা করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কর্টিকাল নেফ্রন সংখ্যায় ৮৫% হলেও এদের হেনলির লুপ খুব ছোট এবং এদের কোনো ভাসা রেকটা থাকে না। কেবল জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনের (১৫%) দীর্ঘ লুপ ও ভাসা রেকটা মেডুলায় কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে মূত্র ঘন করতে পারে।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে গ্লোমেরুলাসে সাধারণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সমস্ত উপাদান পরিস্রুত হয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ কোনো ব্যাপন নয়, এটি কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP = ১০ mmHg) দ্বারা পরিচালিত অতিপরিস্রাবণ। এটি আকারের ভিত্তিতে এবং ঋণাত্মক আধানের বিকর্ষণের কারণে রক্তকণিকা ও প্লাজমা প্রোটিনকে সম্পূর্ণ আটকে দেয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

হেনলির লুপের নিম্নগামী বাহু লবণ পুনঃশোষণ করে বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

লুপের নিম্নগামী পাতলা বাহুটি জলের প্রতি অত্যন্ত ভেদ্য কিন্তু লবণের প্রতি সম্পূর্ণ অভেদ্য। কেবল ঊর্ধ্বগামী বাহুটি সক্রিয়ভাবে NaCl নিষ্কাশন করতে পারে।

সাধারণ ভুল ধারণা

ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসকে একই রোগ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ডায়াবেটিস মেলিটাস ইনসুলিনের অভাবে ঘটে এবং মূত্রে প্রচুর গ্লুকোজ নির্গত হয়। ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ADH হরমোনের অভাবে ঘটে এবং মূত্রে কোনো গ্লুকোজ থাকে না, কেবল অস্বাভাবিক মাত্রায় পাতলা জলীয় মূত্র নির্গত হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

ANF হরমোনকে RAAS ব্যবস্থার সহায়ক মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ANF হলো RAAS ব্যবস্থার সরাসরি শত্রু বা প্রতিপক্ষ হরমোন। RAAS যখন রক্তচাপ বাড়াতে লবণ ও জল ধরে রাখে, ANF তখন অলিন্দ থেকে ক্ষরিত হয়ে রক্তনালী প্রসারিত করে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে সোডিয়াম বের করে দিয়ে রক্তচাপ কমায়।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

১৭ রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন: নেফ্রন, কাউন্টার-কারেন্ট ও অসমোরেগুলেশন WBCHSE একাদশ শ্রেণি জীববিজ্ঞান • একক ৫: মানব শারীরবিদ্যা • বৃক্কীয় ক্লিয়ারেন্স, RAAS ও ডায়ালাইসিস ১. রেচন কৌশল ও বৃক্কের শারীরস্থান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থ ও প্রকারভেদ • অ্যামোনোটেলিক: NH₃ (অত্যধিক বিষাক্ত; ৩০০-৫০০ mL জল/g N) জলজ অমেরুদণ্ডী, অস্থিময় মাছ, ব্যাঙাচি • ইউরিওটেলিক: ইউরিয়া (কম বিষাক্ত; যকৃতে অর্নিথিন চক্র) স্তন্যপায়ী, পূর্ণাঙ্গ উভচর, তরুণাস্থিময় হাঙ্গর • ইউরিকোটেলিক: ইউরিক অ্যাসিড (শুষ্ক পেলেট; ১০ mL জল/g N) প্রাণীজগতের বিভিন্ন রেচন অঙ্গ • শিখা কোষ (প্রোটোনেফ্রিডিয়া): প্ল্যানেরিয়া, অ্যাম্ফিঅক্সাস • নেফ্রিডিয়া: কেঁচো (অ্যানেলিডা; অসমোরেগুলেশন) • ম্যালপিজিয়ান নালিকা: আরশোলা ও পতঙ্গ শ্রেণি • সবুজ গ্রন্থি / অ্যান্টিনাল গ্রন্থি: চিংড়ি (ক্রাস্টেশিয়া) মানব বৃক্কের স্থূল শারীরস্থান • রেট্রোপেরিটোয়াল, শিম্বাকৃতি, T₁₂–L₃ কশেরুকা স্তরে অবস্থিত • হাইলাম: রেনাল ধমনি, শিরা ও মূত্রনালীর প্রবেশ/প্রস্থান পথ • বহিঃস্থ কর্টেক্স ও অভ্যন্তরীণ মেডুলা (৮-১৮টি পিরামিড) • বার্টিনির স্তম্ভ: মেডুলার অভ্যন্তরে প্রসারিত কর্টেক্স অঞ্চল মূত্র প্রবাহ: প্যাপিলা → মাইনর ক্যালিক্স → মেজর ক্যালিক্স → পেলভিস নেফ্রনের প্রকারভেদ: কর্টিকাল বনাম জাক্সটামেডুলারি • কর্টিকাল (~৮৫%): সংক্ষিপ্ত হেনলির লুপ, সাধারণ রক্তজালক • জাক্সটামেডুলারি (~১৫%): দীর্ঘ হেনলির লুপ মেডুলায় বিস্তৃত • বিশেষ হেয়ারপিন আকৃতির রক্তজালক (ভাসা রেকটা) যুক্ত গাঢ় ও ঘন মূত্র উৎপাদনে কাউন্টার-কারেন্ট ব্যবস্থায় অপরিহার্য ২. নেফ্রন ও মূত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া ১. গ্লোমেরুলার অতিপরিস্রাবণ (Ultrafiltration) • ৩-স্তরী ফিল্টার: অন্তঃআবরণী + ভিত্তি পর্দা + পোডোসাইট স্লিট • গ্লোমেরুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ (GHP): ~৬০ mmHg • বিপরীতমুখী চাপ: কলয়েড অভিস্রবণীয় (BCOP ৩২) + ক্যাপসুলার (CHP ১৮) → কার্যকরী পরিস্রাবণ চাপ (EFP) = ৬০ − (৩২+১৮) = ১০ mmHg • GFR = ১২৫ mL/মিনিট = ১৮০ L/দিন (৯৯% পুনঃশোষিত!) দৈনিক নির্গত মূত্রের স্বাভাবিক পরিমাণ = প্রায় ১.০ থেকে ১.৫ লিটার ২. নির্বাচনমূলক নালিকাগত পুনঃশোষণ (৯৯%) • PCT (ব্রাশ বর্ডার আবরণী): ৭০-৮০% পরিস্রুত পুনঃশোষণ করে ১০০% গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড (সক্রিয় SGLT পরিবহন) ৭০-৮০% Na⁺, K⁺, Cl⁻, HCO₃⁻ ও জল (অ্যাকোয়াপোরিন-১) • হেনলির লুপ: - নিম্নগামী বাহু: জলের প্রতি ভেদ্য; লবণের প্রতি অভেদ্য - লুপের শীর্ষবিন্দুতে ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে ১২০০ mOsm/L হয় - ঊর্ধ্বগামী বাহু: জলের প্রতি অভেদ্য; সক্রিয়ভাবে NaCl নিষ্কাশন - ডিসিটিতে প্রবেশের সময় তরল হাইপোটনিক (২০০ mOsm/L) হয় • DCT ও সংগ্রাহী নালী: শর্তাধীন Na⁺ (অ্যালডোস্টেরন) ও জল (ADH) ৩. নালিকাগত ক্ষরণ (অম্ল-ক্ষারীয় সাম্যাবস্থা) • রক্তজালক থেকে নালিকার গহ্বরে বর্জ্য পদার্থের সক্রিয় ক্ষরণ • ক্ষরিত পদার্থ: H⁺, K⁺, NH₄⁺, ক্রিয়েটিনিন ও ওষুধ (পেনিসিলিন) • PCT ও DCT রক্তের pH (৭.৩৫–৭.৪৫) রক্ষা করতে সাহায্য করে • আয়নীয় ভারসাম্য ও দেহরস নিয়ন্ত্রণ করে মূত্র = পরিস্রাবণ − পুনঃশোষণ + নালিকাগত ক্ষরণ ৩. কাউন্টার-কারেন্ট ও হরমোন নিয়ন্ত্রণ কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার ও এক্সচেঞ্জার • হেনলির লুপ (মাল্টিপ্লায়ার) + ভাসা রেকটা (এক্সচেঞ্জার) • মেডুলারি নতিমাত্রা: ৩০০ mOsm/L (কর্টেক্স) → ১২০০ (মেডুলা) • নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান: NaCl পরিবহন ও ইউরিয়া চক্রায়ন • সংগ্রাহী নালী থেকে ইউরিয়া নির্গত হয়ে লুপে প্রবেশ করে • উচ্চ অভিস্রবণ চাপের কারণে সংগ্রাহী নালী থেকে জল বেরিয়ে আসে → প্রাথমিক পরিস্রুতের ৪ গুণ গাঢ় মূত্র তৈরি হয় (১২০০ mOsm/L) হরমোন নিয়ন্ত্রণ: ADH, RAAS ও ANF • ADH / ভ্যাসোপ্রেসিন (হাইপোথ্যালামাস): জল স্বল্পতায় ক্ষরিত সংগ্রাহী নালীতে অ্যাকোয়াপোরিন-২ বৃদ্ধি করে মূত্র হ্রাস করে (ঘাটতিতে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস: সুগারহীন বহুমূত্র রোগ) • RAAS তন্ত্র (JGA কোষপুঞ্জ): রক্তচাপ কমে গেলে রেনিন → অ্যাঞ্জিওটেনসিন II → অ্যালডোস্টেরন → Na⁺ ও জলের পুনঃশোষণ ঘটিয়ে চাপ বাড়ায় • ANF (অলিন্দ প্রাচীর): রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে রক্তনালী প্রসারিত করে সোডিয়াম নিঃসরণ ঘটিয়ে RAAS-কে প্রতিহত করে রেচনতন্ত্রের রোগ ও কৃত্রিম বৃক্ক (ডায়ালাইসিস) • ইউরেমিয়া: রক্তে ইউরিয়ার অতিরিক্ত সঞ্চয় (>৪০ mg/dL) • রেনাল ক্যালকুলি: ক্যালসিয়াম অক্সালেট কেলাসের পাথর • গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস: গ্লোমেরুলাসের প্রদাহ ও রক্তক্ষরণ • হিমোডায়ালাইসিস: সেলোফেন টিউবযুক্ত কৃত্রিম বৃক্ক যন্ত্র; হেপারিন প্রয়োগ → ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য অপসারণ → অ্যান্টি-হেপারিন যুক্ত করে বিশুদ্ধ রক্ত দেহে প্রবেশ করানো হয় বৃক্ক প্রতিস্থাপন: চূড়ান্ত সমাধান; উপযুক্ত HLA টিস্যু ম্যাচিং প্রয়োজন

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
রেচন হলো ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য অপসারক প্রক্রিয়া; প্রাণীরা অ্যামোনোটেলিক (জলজ), ইউরিওটেলিক (স্তন্যপায়ী/উভচর) এবং ইউরিকোটেলিক (পাখি, সরীসৃপ, পতঙ্গ) শ্রেণিতে বিভক্ত।
মূল বিষয় 2
অমেরুদণ্ডীদের বিশেষ রেচন অঙ্গ: শিখা কোষ (প্ল্যানেরিয়া), নেফ্রিডিয়া (কেঁচো), ম্যালপিজিয়ান নালিকা (আরশোলা) এবং সবুজ গ্রন্থি (চিংড়ি)।
মূল বিষয় 3
মানব বৃক্ক উদরগহ্বরের পেছনের প্রাচীরে রেট্রোপেরিটোয়াল অবস্থানে (T12-L3) অবস্থিত; বহিঃস্থ কর্টেক্স ও অভ্যন্তরীণ মেডুলা ৮-১৮টি পিরামিডে বিভক্ত।
মূল বিষয় 4
প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে; জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনগুলি (১৫%) দীর্ঘ লুপ ও ভাসা রেকটার সাহায্যে মেডুলার ঘনত্ব নতিমাত্রা রক্ষা করে।
মূল বিষয় 5
মূত্র উৎপাদনের তিনটি ধাপ: (১) গ্লোমেরুলার অতিপরিস্রাবণ (EFP = ১০ mmHg, GFR = ১২৫ mL/মিনিট বা ১৮০ L/দিন), (২) নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ (৯৯% রক্তে ফেরে), এবং (৩) নালিকাগত ক্ষরণ (H+, K+, NH4+)।
মূল বিষয় 6
PCT ব্রাশ বর্ডার ঘনকাকার আবরণীর মাধ্যমে গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিডের ১০০% এবং জল ও লবণের ৭০-৮০% পুনঃশোষণ করে।
মূল বিষয় 7
কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার (হেনলির লুপ) ও এক্সচেঞ্জার (ভাসা রেকটা) মেডুলায় ৩০০ থেকে ১২০০ mOsm/L ঘনত্ব সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে।
মূল বিষয় 8
ইউরিয়া চক্রায়ন সংগ্রাহী নালী ও হেনলির লুপের মধ্যে ইউরিয়া আবর্তন ঘটিয়ে মেডুলারি ইন্টারস্টিশিয়ামের ঘনত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।
মূল বিষয় 9
বৃক্কের কার্যাবলি ADH (সংগ্রাহী নালীতে জল শোষণ বৃদ্ধি), RAAS (রেনিন -> অ্যাঞ্জিওটেনসিন II -> অ্যালডোস্টেরন) এবং ANF (সোডিয়াম নিঃসরণকারী প্রতিরোধক) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
মূল বিষয় 10
রেচনতন্ত্রের রোগ: ইউরেমিয়া (রক্তে ইউরিয়া বৃদ্ধি), রেনাল ক্যালকুলি (পাথর) ও গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস; অন্তিম চিকিৎসায় হিমোডায়ালাইসিস বা বৃক্ক প্রতিস্থাপন করা হয়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ পর্দার তিনটি স্তরের নাম লেখো এবং কোন স্তরটি প্লাজমা প্রোটিনকে তড়িৎ-বিকর্ষণ করে আটকে দেয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: তিনটি স্তর হলো: (১) কৈশিকনালীর ছিদ্রযুক্ত অন্তঃআবরণী (Fenestrated endothelium), (২) গ্লোমেরুলার ভিত্তি পর্দা (Basement membrane) এবং (৩) পোডোসাইটের স্লিট ছিদ্রযুক্ত ভিসেরাল স্তর। এর মধ্যে ঋণাত্মক আধানযুক্ত হেপারান সালফেট সমৃদ্ধ ভিত্তি পর্দা অ্যালবুমিনের মতো ঋণাত্মক প্লাজমা প্রোটিনকে স্থিরতড়িৎ বিকর্ষণে আটকে দেয়।
2
কেন হেনলির লুপের নিম্নগামী বাহু জলের প্রতি ভেদ্য কিন্তু ঊর্ধ্বগামী বাহু জলের প্রতি সম্পূর্ণ অভেদ্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: নিম্নগামী পাতলা বাহুতে উচ্চ ঘনত্বের অ্যাকোয়াপোরিন-১ (AQP-1) জলের চ্যানেল উপস্থিত থাকে এবং এতে কোনো সক্রিয় লবণ পাম্প থাকে না। পক্ষান্তরে ঊর্ধ্বগামী বাহুর কোষে অ্যাকোয়াপোরিন চ্যানেল থাকে না এবং এর কোষগুলির সংযোগস্থল অত্যন্ত আঁটসাঁট হওয়ায় জল ঢুকতে বা বের হতে পারে না, তবে এটি সক্রিয় Na+/K+/2Cl- কো-ট্রান্সপোর্টার ধারণ করে।
3
রক্তচাপ কমে গেলে কীভাবে জাক্সটাগ্লোমেরুলার (JG) কোষ থেকে রেনিন ক্ষরণ উদ্দীপিত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: রক্তচাপ কমলে অন্তর্মুখী ধমনিকার রক্তপ্রবাহ ও চাপ হ্রাস পায়, যা ধমনিকার প্রাচীরের ব্যারোরিসেপ্টরকে সক্রিয় করে। একই সাথে GFR কমে যাওয়ায় ডিসিটিতে NaCl-এর প্রবাহ কমে যায়, যা ম্যাকুলা ডেনসা কোষ শনাক্ত করে সংলগ্ন জেজি (JG) কোষকে রেনিন ক্ষরণের নির্দেশ পাঠায়।
4
ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ও ডায়াবেটিস মেলিটাসের রোগীর মূত্র পরীক্ষার ফলাফলের মূল পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে রোগীর মূত্রে কোনো গ্লুকোজ বা কিটোন বডি থাকে না এবং মূত্র অত্যন্ত লঘু (আপেক্ষিক গুরুত্ব <১.০০৫) হয়। ডায়াবেটিস মেলিটাসে মূত্রে গ্লুকোজ (গ্লাইকোসুরিয়া) ও কিটোন বডি উপস্থিত থাকে এবং মূত্রের আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশি (>১.০৩০) হয়।
5
হিমোডায়ালাইসিসের সময় হেপারিন এবং অ্যান্টি-হেপারিন কোন কোন মুহূর্তে প্রয়োগ করা হয় এবং কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: হেপারিন প্রয়োগ করা হয় রক্ত ডায়ালাইজার মেশিনে প্রবেশের ঠিক আগে, যাতে কৃত্রিম সেলোফেন নালিকার সংস্পর্শে এসে রক্ত জমাট না বাঁধে। অ্যান্টি-হেপারিন (প্রোটামিন সালফেট) যোগ করা হয় পরিশোধন শেষে রক্ত রোগীর শিরায় ফেরত পাঠানোর ঠিক আগে, যাতে হেপারিন নিষ্ক্রিয় হয়ে স্বাভাবিক রক্ত তঞ্চন ক্ষমতা ফিরে আসে এবং রক্তক্ষরণ রোধ হয়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।