Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 18
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

চলন ও গমন

চলন হলো জীবদেহের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন ঘটে; অন্যদিকে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে গমন বলে। মানবদেহ এবং অন্যান্য উন্নত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে চলন ও গমন পেশিতন্ত্র ও কঙ্কালতন্ত্রের সুসংহত সমন্বয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মানবদেহে তিন ধরনের পেশিকলা দেখা যায়: কঙ্কাল পেশি (রেখায়িত ও ঐচ্ছিক), আন্তরযন্ত্রীয় বা মসৃণ পেশি (অরেখ ও অনৈচ্ছিক), এবং হৃদপেশি (রেখায়িত ও অনৈচ্ছিক)। আণবিক স্তরে কঙ্কাল পেশির সংকোচন বিজ্ঞানী হাক্সলে ও হ্যানসনের স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে ক্যালসিয়াম আয়ন মুক্ত হলে মায়োসিন এটিপিয়েজ দ্বারা এটিপি বিশ্লিষ্ট হয় এবং অ্যাকটিন তন্তু মায়োসিন তন্তুর উপর পিছলে গিয়ে সারকোমিয়ারকে সংকুচিত করে। প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহের কঙ্কাল ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত, যা অক্ষীয় কঙ্কাল (৮০টি অস্থি) এবং উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (১২৬টি অস্থি)-এ বিভক্ত। অস্থিগুলি বিভিন্ন প্রকার অস্থিসন্ধি (তন্তুময়, তরুণাস্থিময় এবং সচল সাইনোভিয়াল সন্ধি) দ্বারা যুক্ত থেকে জৈবযান্ত্রিক লিভার হিসেবে কার্য সম্পাদন করে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পেশি ও কঙ্কালতন্ত্রের শারীরবৃত্তীয় জ্ঞান মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস, মাসকুলার ডিস্ট্রফি, টিটেনি, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট বা বাত এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিকাল ব্যাধি নির্ণয় ও চিকিৎসায় অপরিহার্য। এটি অর্থোপেডিক বায়োমেকানিক্স, স্পোর্টস মেডিসিন এবং পুনর্বাসন চিকিৎসায় মূল ভিত্তি স্থাপন করে। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক (WBCHSE) এবং নিট (NEET) পরীক্ষায় সারকোমিয়ারের সংকোচন প্রক্রিয়া, ক্রস-ব্রিজ চক্র, অস্থির সংখ্যা বণ্টন এবং সাইনোভিয়াল সন্ধির শ্রেণিবিভাগ থেকে নিয়মিত দীর্ঘ ও অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আসে।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 চলনের প্রকারভেদ ও পেশিকলার তুলনামূল...
2 কঙ্কাল পেশিতন্তুর পরাআণুবীক্ষণিক গঠ...
3 সংকোচনশীল প্রোটিন ও স্লাইডিং ফিলামে...
4 পেশি সংকোচনের শক্তিবিজ্ঞান, রিগর মর...
5 মানব কঙ্কালতন্ত্র: অক্ষীয় ও উপাঙ্গ...
6 অস্থিসন্ধির শ্রেণিবিভাগ ও পেশি-কঙ্ক...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

চলনের প্রকারভেদ ও পেশিকলার তুলনামূলক কলাস্থানিক গঠন

১. মানবদেহের বিভিন্ন কোষে চলনের জৈবিক প্রকারভেদ

চলন হলো দেহের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ বা অংশের নড়াচড়া, আর গমন হলো নিজের ইচ্ছায় সম্পূর্ণ জীবদেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর। মানবদেহের কোষীয় ও কলাস্তরে প্রধানত তিন প্রকার চলন দেখা যায়:

১. অ্যামিবয়েড চলন (Amoeboid Movement):
• কৌশল: কোষরসের সান্দ্রতা পরিবর্তন (সল-জেল রূপান্তর) এবং সাইটোস্কেলিটনের অ্যাকটিন মাইক্রোফিলামেন্ট পলিমারাইজেশনের মাধ্যমে ক্ষণপদ (সিউডোপোডিয়া) তৈরি করে এই চলন ঘটে।
• উদাহরণ: রক্তস্রোত ও কলার মধ্যে শ্বেত রক্তকণিকা (প্রধানত নিউট্রোফিল) এবং কলাস্থ ম্যাক্রোফাজ ক্ষণপদের সাহায্যে ডায়াপেডেসিস পদ্ধতিতে কৈশিকনালীর প্রাচীর ভেদ করে জীবাণু ভক্ষণ করে।
২. সিলিয়ারি ও ফ্ল্যাজেলার চলন (Ciliary & Flagellar Movement):
• কৌশল: কোষপর্দা থেকে উদ্ভূত চুলের মতো সূক্ষ্ম সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার ৯+২ অণুনালিকা (মাইক্রোটিউবিউল) বিন্যাসে ডাইনিন এটিপিয়েজের প্রভাবে ছন্দবদ্ধ তরঙ্গায়িত সঞ্চালন ঘটে।
• মানবদেহের অবস্থান:
- শ্বাসনালীর এপিথেলিয়াম: ট্রাকিয়া ও ব্রঙ্কাইয়ের রোমশ এপিথেলিয়াম সিলিয়ার আন্দোলনের সাহায্যে মিউকাসে আটকে থাকা ধূলিকণা ও জীবাণুকে গলবিলের দিকে ঠেলে দেয় (মিউকোসিলিয়ারি এসকেলেটর)।
- স্ত্রী জনননালী: ডিম্বনালীর (ফেলোপিয়ান নালী) সিলিয়া নিশ্চল ডিম্বাণুকে জরায়ুর দিকে পরিবাহিত করে।
- ফ্ল্যাজেলার চলন: পুরুষ শুক্রাণুর পুচ্ছ ফ্ল্যাজেলামের চাবুকের মতো সঞ্চালনের মাধ্যমে স্ত্রী জনননালীতে সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হয়।
৩. পেশিজ চলন (Muscular Movement):
• কৌশল: বিশেষায়িত পেশিকোষের উদ্দীপনশীলতা, সংকোচনশীলতা ও স্থিতিস্থাপক ধর্মের সমন্বয়ে পেশি সংকোচন ঘটে।
• গুরুত্ব: হাত-পা সঞ্চালন, চোয়াল ও জিহ্বার নড়াচড়া, ডায়াফ্রামের মাধ্যমে শ্বাসক্রিয়া, হৃদপিণ্ডের রক্ত সংবহন এবং পৌষ্টিকনালীর পেরিস্টালসিস সম্পূর্ণভাবে পেশিজ চলনের অধীন।
২. মানবদেহের তিন প্রকার পেশিকলার তুলনামূলক কলাস্থানিক গঠন
বৈশিষ্ট্যকঙ্কাল পেশি (Skeletal)মসৃণ/আন্তরযন্ত্রীয় পেশি (Smooth)হৃদপেশি (Cardiac)
অবস্থানকঙ্কাল অস্থির সাথে টেন্ডনের মাধ্যমে যুক্তফাঁপা আন্তরযন্ত্রের প্রাচীরে (পাকস্থলী, অন্ত্র, রক্তনালী, মূত্রাশয়)কেবলমাত্র হৃদপিণ্ডের মায়োকার্ডিয়াম প্রাচীরে
কোষের আকারদীর্ঘ, নলাকার, অশাখান্বিত তন্তু (১–৪০ মিমি)দীর্ঘায়িত, মাকু-আকৃতির (ফিউসিফর্ম), দুই প্রান্ত সূঁচালোস্বল্পদৈর্ঘ্য নলাকার, শাখান্বিত এবং পরস্পর সংযুক্ত
রেখায়ন ও সারকোমিয়ারসুস্পষ্ট গাঢ় (A) ও হালকা (I) রেখাযুক্ত; সারকোমিয়ার বর্তমানরেখাহীন মসৃণ; মায়োফিলামেন্ট অনিয়মিত জালে বিন্যস্তস্পষ্ট রেখাযুক্ত; সুনির্দিষ্ট সারকোমিয়ার বর্তমান
নিউক্লিয়াসের রূপবহুনিউক্লিয়াসযুক্ত সিনসিটিয়াম; নিউক্লিয়াস পরিধির দিকে সারকোলেমার নিচে থাকেএকক ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস কোষের কেন্দ্রে অবস্থিতসাধারণত একক (কখনও দুটি) কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস
ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কঅনুপস্থিতঅনুপস্থিতউপস্থিত; বিশেষায়িত সংযোগস্থল যাতে ডেসমেসোম ও গ্যাপ জংশন থাকে
নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ু সরবরাহঐচ্ছিক; সোম্যাটিক স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিতঅনৈচ্ছিক; স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (ANS) দ্বারা চালিতঅনৈচ্ছিক; স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র ও নিজস্ব পেসমেকার নিয়ন্ত্রিত
সংকোচনের গতি ও ক্লান্তিঅত্যন্ত দ্রুত ও শক্তিশালী; দ্রুত ক্লান্ত (fatigue) হয়ধীর, ছন্দবদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী; সহজে ক্লান্ত হয় নাছন্দবদ্ধ, অবিরাম ও ক্লান্তিহীনভাবে আজীবন সংকুচিত হয়

কঙ্কাল পেশিতন্তুর পরাআণুবীক্ষণিক গঠন ও সারকোমিয়ার

১. কঙ্কাল পেশির ম্যাক্রো ও মাইক্রো-সাংগঠনিক স্তরক্রম

একটি সম্পূর্ণ কঙ্কাল পেশি কলাস্থানিক সংযোগ কলার তিনটি সুরক্ষামূলক আবরণী স্তর দ্বারা গঠিত:

  • এপিমায়োসিয়াম (Epimysium): সম্পূর্ণ পেশিটিকে পরিবেষ্টনকারী ঘন কোলাজেনযুক্ত বাহ্যিক আবরণী।
  • পেরিমায়োসিয়াম (Perimysium): পেশিতন্তুর গুচ্ছগুলিকে (Fascicles) পরিবেষ্টনকারী স্তর।
  • এন্ডোমায়োসিয়াম (Endomysium): প্রতিটি একক পেশিতন্তুর (পেশিকোষ) প্লাজমা পর্দার বাইরে অবস্থিত সূক্ষ্ম জালিকাযুক্ত আবরণ।
২. সারকোপ্লাজমিক ট্রায়াড ও T-টিউবিউল ব্যবস্থা

কঙ্কাল পেশিকোষের প্লাজমা পর্দাকে সারকোলেমা (Sarcolemma) এবং সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম (Sarcoplasm) বলে। পেশিতন্তুর অভ্যন্তরে সারকোলেমা ভেতরের দিকে প্রবিষ্ট হয়ে T-টিউবিউল (Transverse Tubules) তৈরি করে, যা A-ব্যান্ড ও I-ব্যান্ডের সংযোগস্থলে সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের দুটি টার্মিনাল সিস্টার্নির সাথে ত্রয়ী বা ট্রায়াড (Triad) গঠন করে। এই ট্রায়াড অ্যাকশন পটেনশিয়ালকে দ্রুত পেশিকোষের অভ্যন্তরে পৌঁছে দিয়ে Ca2+ নিঃসরণ ঘটায়।

৩. সারকোমিয়ারের গঠন ও বিভিন্ন অঞ্চলের তাৎপর্য

মায়োফাইব্রিল বরাবর দুটি পরপর Z-রেখা (Z-disc / Krause's membrane)-র মধ্যবর্তী অংশকে সারকোমিয়ার (Sarcomere) বলে। এটি কঙ্কাল পেশির প্রাথমিক কার্যকরী ও সংকোচনশীল একক (বিশ্রামাবস্থায় দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫ μm)। সারকোমিয়ারে নিম্নলিখিত ব্যান্ডগুলি পরিলক্ষিত হয়:

অঞ্চল / ব্যান্ডআণবিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যপেশি সংকোচনে ভূমিকা
A-ব্যান্ড (Anisotropic Band)গাঢ় ব্যান্ড; মায়োসিন তন্তুর সমগ্র দৈর্ঘ্য বরাবর বিস্তৃত এবং দুই প্রান্তে অ্যাকটিন তন্তুর সাথে আংশিক সমাপতিত (দৈর্ঘ্য ১.৬ μm)।সংকোচনের সময় এর দৈর্ঘ্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকে।
I-ব্যান্ড (Isotropic Band)হালকা ব্যান্ড; শুধুমাত্র পাতলা অ্যাকটিন তন্তু নিয়ে গঠিত, যার ঠিক মাঝখান দিয়ে Z-রেখা অতিক্রম করে।সংকোচনের সময় অ্যাকটিন তন্তু ভেতরে প্রবেশ করায় এটি সংকুচিত ও ছোট হয়।
H-অঞ্চল (Hensen's Zone)A-ব্যান্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত তুলনামূলক হালকা অঞ্চল, যেখানে অ্যাকটিনের কোনো সমাপতন নেই (কেবলমাত্র মায়োসিন থাকে)।সংকোচনের সময় অ্যাকটিন তন্তু পরস্পরের কাছে এসে একে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে দেয়।
M-রেখা (M-line)H-অঞ্চলের ঠিক মধ্যবিন্দুতে মায়োসিন তন্তুগুলিকে ধারণকারী প্রোটিন নির্মিত সূক্ষ্ম অনুদৈর্ঘ্য বন্ধনী।সংকোচনের সময় অক্ষীয় স্থায়িত্ব বজায় রাখে।
Z-রেখা (Z-line)I-ব্যান্ডের কেন্দ্রস্থ প্রোটিনীয় অনুপ্রস্থ বিভাজক, যার সাথে অ্যাকটিন তন্তুগুলি দৃঢ়ভাবে নোঙর করা থাকে।সংকোচনের সময় দুটি Z-রেখা পরস্পরের নিকটে সরে আসে।

সংকোচনশীল প্রোটিন ও স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব

১. সংকোচনশীল ও নিয়ন্ত্রক প্রোটিনের আণবিক গঠন

পেশি সংকোচনের আণবিক যন্ত্রপাতিতে প্রধানত দুটি প্রোটিন তন্তু অংশ নেয়:

১. সূক্ষ্ম তন্তু (Thin / Actin Filament): ব্যাস প্রায় ৫–৮ nm। তিনটি প্রোটিন নিয়ে গঠিত:
• F-অ্যাকটিন (Filamentous Actin): দুটি পেঁচানো সুতোর মতো গঠন, যা গোলকাকার G-অ্যাকটিন (Globular Actin) মনোমার পলিমারাইজেশন দ্বারা গঠিত। প্রতিটি G-অ্যাকটিনে মায়োসিনের যুক্ত হওয়ার স্থান থাকে।
• ট্রপোমায়োসিন (Tropomyosin): দুটি তন্তুময় সূত্র যা অ্যাকটিন হেলিক্সের খাঁজ বরাবর অবস্থান করে বিশ্রামাবস্থায় অ্যাকটিনের সক্রিয় স্থানগুলিকে ঢেকে রাখে।
• ট্রপোনিন ট্রাইমার (Troponin Complex): নিয়মিত দূরত্বে অবস্থিত তিনটি গোলকাকার সাবইউনিটযুক্ত প্রোটিন:
- Troponin T (TnT): ট্রপোমায়োসিনের সাথে ট্রপোনিনকে আবদ্ধ করে রাখে।
- Troponin I (TnI): বিশ্রামাবস্থায় অ্যাকটিন-মায়োসিন আন্তঃক্রিয়াকে নিবৃত্ত (inhibit) করে।
- Troponin C (TnC): এতে চারটি Ca2+ আয়ন সংযুক্তিস্থল থাকে; ক্যালসিয়াম আবদ্ধ হলে এর রূপান্তর ঘটে।
২. স্থূল তন্তু (Thick / Myosin Filament): ব্যাস প্রায় ১৫ nm। এটি প্রায় ৩০০টি মায়োসিন অণুর পলিমার:
• প্রতিটি মায়োসিন অণু দুটি অভিন্ন মেরোমায়োসিন (Meromyosin) একক নিয়ে গঠিত:
- ভারী মেরোমায়োসিন (HMM): গোলকাকার মস্তক এবং ছোট স্থিতিস্থাপক গ্রীবা নিয়ে গঠিত। মস্তকে রয়েছে (ক) অ্যাকটিন-সংযুক্তিস্থল এবং (খ) এটিপিয়েজ উৎসেচকীয় সাইট যা Mg2+-এর উপস্থিতিতে ATP বিশ্লিষ্ট করে।
- হালকা মেরোমায়োসিন (LMM): দীর্ঘ পেঁচানো আলফা-হেলিক্স লেজ, যা তন্তুর অক্ষ বরাবর পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে।
২. স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব ও ক্রস-ব্রিজ চক্রের চারটি প্রধান পর্যায়

১৯৫৪ সালে এইচ. ই. হাক্সলে এবং এ. এফ. হাক্সলে স্বতন্ত্রভাবে স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব (Sliding Filament Theory) প্রস্তাব করেন। তাঁদের মতে, পেশি সংকোচনের সময় কোনো তন্তুর নিজস্ব দৈর্ঘ্যের হ্রাস ঘটে না; বরং অ্যাকটিন তন্তুগুলি মায়োসিনের উপর দিয়ে ভিতরের দিকে পিছলে যায়।

ক্রস-ব্রিজ আণবিক চক্রের পর্যায়সমূহ:
ধাপ ১: মায়োসিন মস্তকের সক্রিয়করণ (ATP Hydrolysis):
মায়োসিন মস্তকে অবস্থিত মায়োসিন এটিপিয়েজ ATP-কে বিশ্লিষ্ট করে ADP এবং অজৈব ফসফেট (Pi)-এ পরিণত করে। মুক্ত শক্তি মায়োসিন মস্তককে ৯০ ডিগ্রি উচ্চ-শক্তি কোণে দাঁড় করায়।

ধাপ ২: ক্রস-ব্রিজ গঠন (Cross-Bridge Attachment):
সারকোপ্লাজমে মুক্ত Ca2+ ট্রপোনিন C (TnC)-এর সাথে যুক্ত হয়। এতে ট্রপোমায়োসিন সরে গিয়ে অ্যাকটিনের সক্রিয় স্থান উন্মুক্ত হয়। সক্রিয় মায়োসিন মস্তক উন্মুক্ত অ্যাকটিনের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যাক্টোমায়োসিন ক্রস-ব্রিজ গঠন করে।

ধাপ ৩: পাওয়ার স্ট্রোক (The Power Stroke):
অ্যাকটিনের সাথে যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে মায়োসিন মস্তক থেকে Pi ও ADP মুক্ত হয়। এর ফলে মস্তকটি তার নমনীয় গ্রীবার উপর ৪৫ ডিগ্রি কোণে হেলে যায় (পাওয়ার স্ট্রোক)। এর ফলে অ্যাকটিন তন্তু M-রেখার দিকে প্রায় ১০ nm ভিতরের দিকে টানা হয়।

ধাপ ৪: ক্রস-ব্রিজ বিচ্ছিন্নকরণ ও শিথিলকরণ (Cross-Bridge Detachment):
মায়োসিন মস্তকে একটি নতুন তাজা ATP অণু যুক্ত হলে মায়োসিনের অ্যাকটিনের প্রতি আসক্তি হ্রাস পায় এবং ক্রস-ব্রিজটি খুলে যায়। পুনরায় ATP বিশ্লিষ্ট হলে চক্রটি আবার আবর্তিত হয়।

পেশি সংকোচনের শক্তিবিজ্ঞান, রিগর মর্টিস এবং লোহিত বনাম শ্বেত পেশিতন্তু

১. পেশি সংকোচনে শক্তির জৈবরাসায়নিক উৎস

পেশি সংকোচনের যান্ত্রিক কাজের জন্য অবিরাম ATP প্রয়োজন হয়। পেশিকোষে সঞ্চিত ATP মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এর পুনরুৎপাদন প্রধানত তিনটি পথে ঘটে:

  • ক্রিয়েটিন ফসফেট ব্যবস্থা (Phosphagen System): তীব্র আকস্মিক কাজের সময় ক্রিয়েটিন কাইনেজ উৎসেচক ক্রিয়েটিন ফসফেট থেকে ফসফেট মূলক ADP-তে স্থানান্তরিত করে অত্যন্ত দ্রুত ATP উৎপন্ন করে (১০–১৫ সেকেন্ডের শক্তি)।
  • অবাত গ্লাইকোলাইসিস (Anaerobic Glycolysis): অক্সিজেনের ঘাটতিতে পেশির গ্লাইকোজেন দ্রুত ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে (১–২ মিনিটের তীব্র পরিশ্রম)। অতিরিক্ত ল্যাকটিক অ্যাসিড পেশিতে জমা হলে পেশি অবসাদ (Muscle Fatigue) ঘটে। এটি পরবর্তীতে কোরি চক্রের মাধ্যমে যকৃতে গিয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
  • সবাত শ্বসন (Aerobic Respiration): দীর্ঘস্থায়ী সহনশীল কাজের সময় মাইটোকনড্রিয়ায় ক্রেবস চক্র ও অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লুকোজ জারিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ATP তৈরি করে।
২. রিগর মর্টিস (Rigor Mortis)-এর শারীরবৃত্তীয় কারণ

মানুষ বা প্রাণীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর সমস্ত কঙ্কাল পেশি শক্ত ও অনমনীয় হয়ে ওঠে, যাকে রিগর মর্টিস বলে।

  • কারণ: মৃত্যুর পর রক্ত সংবহন ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোষে ATP সংশ্লেষ সম্পূর্ণ থেমে যায়। ATP-র অভাবে সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের SERCA পাম্প কাজ করতে পারে না, ফলে সারকোপ্লাজমে ক্যালসিয়াম আয়ন জমে থাকে এবং অ্যাকটিনের স্থানগুলি উন্মুক্ত থাকে। মায়োসিন মস্তক অ্যাকটিনের সাথে যুক্ত হয়ে ক্রস-ব্রিজ তৈরি করে। কিন্তু ক্রস-ব্রিজ খোলার জন্য নতুন ATP অণুর সংযুক্তি বাধ্যতামূলক। নতুন ATP না থাকায় অ্যাক্টোমায়োসিন কমপ্লেক্স স্থায়ীভাবে আটকে থাকে এবং পেশি চরম অনমনীয় হয়ে যায়।
  • বিলুপ্তি: মৃত্যুর প্রায় ২৪–৩৬ ঘণ্টা পর লাইসোজোমাল প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক দ্বারা অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিন বিনষ্ট হলে রিগর মর্টিস স্বাভাবিকভাবেই দূর হয়।
৩. লোহিত পেশিতন্তু বনাম শ্বেত পেশিতন্তুর তুলনামূলক পার্থক্য
বৈশিষ্ট্যলোহিত পেশিতন্তু (Red / Type I)শ্বেত পেশিতন্তু (White / Type II)
মায়োগ্লোবিন উপাদানঅত্যধিক মায়োগ্লোবিন থাকায় গাঢ় লাল বর্ণেরমায়োগ্লোবিনের পরিমাণ খুব কম থাকায় ফ্যাকাশে সাদাটে
মাইটোকনড্রিয়ার সংখ্যাঅসংখ্য বৃহৎ মাইটোকনড্রিয়া উপস্থিতখুব কম সংখ্যক ক্ষুদ্র মাইটোকনড্রিয়া থাকে
রক্তজালক সরবরাহঘন রক্তজালকের নেটওয়ার্কযুক্ততুলনামূলকভাবে রক্তজালক সরবরাহ কম
বিপাকীয় পথপ্রধানত সবাত শ্বসন (অক্সিডেটিভ)প্রধানত অবাত গ্লাইকোলাইসিস (গ্লাইকোলাইটিক)
সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামমাঝারি উন্নত; Ca2+ নিঃসরণ ধীরঅত্যন্ত সুগঠিত ও বিস্তৃত; Ca2+ নিঃসরণ অতি দ্রুত
সংকোচনের গতিধীরগতির সংকোচন (Slow-twitch)অত্যন্ত দ্রুতগতির সংকোচন (Fast-twitch)
ক্লান্তিরোধক ক্ষমতাউচ্চ ক্লান্তিহীন সহনশীলতা (Fatigue-resistant)খুব দ্রুত ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে ক্লান্ত হয়
মানবদেহের উদাহরণমেরুদণ্ডের পার্শ্ববর্তী পেশি, পায়ের সোলেয়াস পেশি (ভারসাম্য রক্ষা)চোখের উপনেত্র পেশি (Eyeball), আঙুলের সূক্ষ্ম দ্রুত সঞ্চালন পেশি

মানব কঙ্কালতন্ত্র: অক্ষীয় ও উপাঙ্গীয় কঙ্কাল

১. মানব কঙ্কালতন্ত্রের সাধারণ বিন্যাস (মোট ২০৬টি অস্থি)

প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহের অস্থিকঙ্কাল মোট ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত, যা দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

  • ১. অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial Skeleton): দেহের অনুদৈর্ঘ্য কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর বিন্যস্ত মোট ৮০টি অস্থি।
  • ২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular Skeleton): উর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গ এবং তাদের মেখলা নিয়ে গঠিত মোট ১২৬টি অস্থি।
২. অক্ষীয় কঙ্কালের পুঙ্খানুপুঙ্খ বণ্টন (৮০টি অস্থি)
অঞ্চলঅস্থির নাম ও সংখ্যামোট
করোটি (Skull)• করোটিকা অস্থি (Cranial - ৮টি): ফ্রন্টাল ১, প্যারাইটাল ২, অক্সিপিটাল ১, টেম্পোরাল ২, স্ফেনয়েড ১, এথময়েড ১
• মুখমণ্ডলীয় অস্থি (Facial - ১৪টি): নাসিকা ২, ম্যাক্সিলা ২, জাইগোম্যাটিক ২, ল্যাক্রিমাল ২, প্যালাটাইন ২, ইনফিরিয়র ন্যাসাল কঙ্কা ২, ভোমার ১, ম্যান্ডিবল ১
২২টি
হাইঅয়েড (Hyoid)জিহ্বার তলদেশে গলবিলের উপরে অবস্থিত U-আকৃতির একক অস্থি১টি
কর্ণাস্থি (Ear Ossicles)উভয় মধ্যকর্ণে অবস্থিত: ম্যালিয়াস ২, ইনকাস ২, স্টেপিস ২ (স্টেপিস মানবদেহের ক্ষুদ্রতম অস্থি)৬টি
মেরুদণ্ড (Vertebral Column)সারভাইকাল (গ্রীবাদেশীয়) ৭, থোরাসিক (বক্ষদেশীয়) ১২, লাম্বার (কটিদেশীয়) ৫, স্যাক্রাম ১ (৫টি সংযুক্ত), কক্কিক্স ১ (৪টি সংযুক্ত)
মেরুদণ্ডের সূত্র: C7 T12 L5 S1 Co1 = ২৬
২৬টি
স্টার্নাম (Sternum)বক্ষের কেন্দ্রে অবস্থিত খাঁড়ার মতো চেপ্টা উরোস্থি (ম্যানুব্রিয়াম, দেহ ও জিফয়েড প্রসেস)১টি
পরশুকা (Ribs)১২ জোড়া বক্ষদেশীয় খাঁচার অস্থি:
• প্রকৃত পরশুকা (True Ribs - জোড়া ১–৭): সরাসরি স্টার্নামের সাথে যুক্ত (১৪টি)
• অপ্রকৃত পরশুকা (False Ribs - জোড়া ৮–১০): ৭ম পরশুকার তরুণাস্থির সাথে যুক্ত (৬টি)
• ভাসমান পরশুকা (Floating Ribs - জোড়া ১১–১২): সামনে উন্মুক্ত ও অগ্রপ্রান্ত মুক্ত (৪টি)
২৪টি
অক্ষীয় কঙ্কালের মোট অস্থি সংখ্যা৮০টি
৩. উপাঙ্গীয় কঙ্কালের পুঙ্খানুপুঙ্খ বণ্টন (১২৬টি অস্থি)
অঞ্চলঅস্থির বিবরণ ও নামমোট
বক্ষমেখলা (Pectoral Girdle)ক্ল্যাভিকল (কলার বোন) ২টি + স্ক্যাপুলা (অংসফলক, যাতে গ্লেনয়েড গহ্বর থাকে) ২টি৪টি
উর্ধ্বাঙ্গ (Upper Limbs - উভয় হাত)প্রতি হাতে ৩০টি করে:
হিউমেরাস ১, রেডিয়াস ১, উলনা ১, কার্পাল (কবজির অস্থি) ৮, মেটাকার্পাল (করতল) ৫, ফ্যালাঞ্জেস (আঙুলের অস্থি: ২,৩,৩,৩,৩) ১৪ = মোট ৩০ × ২
৬০টি
শ্রোণিমেখলা (Pelvic Girdle)দুটি নিতম্বাস্থি (Coxal bones); প্রতিটি ইলিয়াম, ইশ্চিয়াম ও পিউবিস যুক্ত হয়ে গঠিত এবং অ্যাসিটাবুলাম গহ্বরযুক্ত২টি
নিম্নাঙ্গ (Lower Limbs - উভয় পা)প্রতি পায়ে ৩০টি করে:
ফিমার (দেহের দীর্ঘতম ও শক্তিশালী অস্থি) ১, প্যাটেলা (জানুফলক/হাঁটুর সিসাময়েড অস্থি) ১, টিবিয়া ১, ফিবুলা ১, টার্সাল (গোড়ালির অস্থি) ৭, মেটাটার্সাল ৫, ফ্যালাঞ্জেস (পায়ের আঙুল: ২,৩,৩,৩,৩) ১৪ = মোট ৩০ × ২
৬০টি
উপাঙ্গীয় কঙ্কালের মোট অস্থি সংখ্যা১২৬টি

অস্থিসন্ধির শ্রেণিবিভাগ ও পেশি-কঙ্কালতন্ত্রের রোগসমূহ

১. মানবদেহের অস্থিসন্ধির গঠনগত ও কার্যগত শ্রেণিবিভাগ

দুটি বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলে। সঞ্চালন ক্ষমতার ভিত্তিতে অস্থিসন্ধি তিন প্রকার:

১. তন্তুময় বা অনড় সন্ধি (Fibrous / Synarthrosis):
• অস্থির প্রান্তগুলি ঘন শ্বেত তন্তুময় কোলাজেন সংযোগ কলা দ্বারা অতি দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে; কোনো সঞ্চালন সম্ভব নয়।
• উদাহরণ: করোটিকার অস্থির মধ্যবর্তী সেলাই বা সিউচার (Sutures) এবং দাঁত ও চোয়ালের গর্তের মধ্যকার গমফোসিস (Gomphosis)।
২. তরুণাস্থিময় বা ঈষৎসচল সন্ধি (Cartilaginous / Amphiarthrosis):
• অস্থিগুলি হায়ালিন বা ফাইব্রোকার্টিলেজ দ্বারা যুক্ত থাকে; সামান্য নমনীয় সঞ্চালন সম্ভব।
• উদাহরণ: মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলির মধ্যবর্তী আন্তঃকশেরুকা চাকতি (Intervertebral discs) এবং পিউবিক সিমফাইসিস।
৩. সাইনোভিয়াল বা পূর্ণসচল সন্ধি (Synovial / Diarthrosis):
• অস্থিগুলির সংযোগস্থলে হায়ালিন তরুণাস্থি দ্বারা আবৃত আর্টিকুলার কার্টিলেজ এবং সাইনোভিয়াল পর্দা দ্বারা ঘেরা সাইনোভিয়াল তরলপূর্ণ গহ্বর থাকে। এটি ঘর্ষণহীন মুক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করে।
সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির প্রধান প্রকারভেদ ও উদাহরণ
সাইনোভিয়াল সন্ধির প্রকারযান্ত্রিক সঞ্চালনের প্রকৃতিমানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
বল ও সকেট সন্ধি (Ball and Socket)সর্বাধিক গতিশীল বহুধক্ষীয় সঞ্চালন (ঘূর্ণন, ফ্লেক্সন, এক্সটেনশন, অ্যাবডাকশন)• স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড গহ্বরে হিউমেরাসের মস্তক (কাঁধের সন্ধি)
• শ্রোণিমেখলার অ্যাসিটাবুলামে ফিমারের মস্তক (নিতম্বের সন্ধি)
কব্জা সন্ধি (Hinge Joint)দরজার কব্জার মতো একটি নির্দিষ্ট তলে একমুখী ভাঁজ ও প্রসারণ• কনুই সন্ধি (হিউমেরাস ও উলনা)
• হাঁটু সন্ধি (ফিমার ও টিবিয়া)
• আঙুলের ইন্টারফ্যালাঞ্জিয়াল সন্ধি
পিভট বা আবর্তক সন্ধি (Pivot Joint)একটি অস্থির অভিক্ষেপ অন্য অস্থির বলয়ের মধ্যে অনুদৈর্ঘ্য অক্ষে আবর্তিত হয়• অ্যাটলাস (C1) ও অ্যাক্সিস (C2)-এর ডেনস-এর মধ্যকার সন্ধি (মাথার 'না' সূচক ঘূর্ণন)
• রেডিও-উলনার প্রক্সিমাল সন্ধি
গ্লাইডিং বা পিছলে চলা সন্ধি (Gliding Joint)দুটি সমতল অস্থির উপরিভাগ পরস্পরের উপর পিছলে যায়• কবজির কার্পাল অস্থিগুলির মধ্যবর্তী ইন্টারকার্পাল সন্ধি
• গোড়ালির ইন্টারটার্সাল সন্ধি
স্যাডল সন্ধি (Saddle Joint)ঘোড়ার জিনের মতো অবতল-উত্তল পৃষ্ঠতল; দ্ব্যক্ষীয় সঞ্চালনহাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের কার্পাল (ট্রাপিজিয়াম) ও ১ম মেটাকার্পালের মধ্যকার সন্ধি
কন্ডাইলয়েড বা উপবৃত্তাকার সন্ধি (Condyloid)উপবৃত্তাকার স্ফীতি অবতল গহ্বরে প্রবেশ করে; ঘূর্ণন ব্যতিরেকে দ্ব্যক্ষীয় সঞ্চালন• করোটির অক্সিপিটাল কন্ডাইল ও অ্যাটলাসের মধ্যবর্তী সন্ধি (মাথার 'হ্যাঁ' সূচক সঞ্চালন)
• রেডিওকার্পাল সন্ধি
২. পেশি ও কঙ্কালতন্ত্রের প্রধান রোগসমূহ (Disorders)
রোগের নামকারণ ও রোগতত্ত্বলক্ষণ ও প্রভাব
মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস (Myasthenia Gravis)স্বতঃঅনাক্রম্য রোগ (Autoimmune disorder); স্বতঃঅ্যান্টিবডি নিউরোমাসকুলার জংশনের নিকোটিনিক অ্যাসিটাইলকোলিন গ্রাহক (AChR)-কে আক্রমণ করে ধ্বংস করে।পেশির চরম দুর্বলতা, দ্রুত ক্লান্তি, চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis), গিলতে অসুবিধা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে শ্বাসপেশির পক্ষাঘাত।
মাসকুলার ডিস্ট্রফি (Muscular Dystrophy)X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত ব্যাধি (যেমন ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি); সাইটোস্কেলিটন প্রোটিন ডিস্ট্রোফিন (Dystrophin) তৈরির জিনে মিউটেশন।কঙ্কাল পেশিতন্তুর প্রগতিশীল ক্ষয়, পেশি বিশ্লিষ্ট হয়ে চর্বি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়া, শৈশবেই হাঁটার ক্ষমতা হারানো এবং শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতায় অকালমৃত্যু।
টিটেনি (Tetany)রক্তে আয়নীয় ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক হ্রাস পাওয়া (Hypocalcemia); প্যারাথাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি বা অ্যালকালোসিস।স্নায়ু ও পেশির অত্যধিক উত্তেজনা; হাত ও পায়ের আঙুলে অনৈচ্ছিক যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘস্থায়ী খিঁচুনি (Carpopedal spasm), ল্যারিঞ্জিয়াল স্প্যাজম।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)বয়সবৃদ্ধিজনিত ক্ষয়রোগ (Wear-and-tear disease); অস্থিসন্ধির হায়ালিন আর্টিকুলার তরুণাস্থির ধীরে ধীরে অবক্ষয় ও ক্ষয়সাধন।সন্ধিস্থলে তীব্র ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া, নড়াচড়ায় শব্দ (Crepitus), অস্থি-কণ্টক (Osteophytes) তৈরি; হাঁটু ও কোমরে বেশি দেখা যায়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)দীর্ঘস্থায়ী স্বতঃঅনাক্রম্য রোগ; রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর (IgM অ্যান্টিবডি) সাইনোভিয়াল পর্দার বিরুদ্ধে কাজ করে।উভয় পাশের সন্ধির সাইনোভিয়াল পর্দার প্রদাহ, ক্ষয়কারী দানাদার কলা (Pannus) গঠন, তরুণাস্থি ধ্বংস এবং অস্থি সংলগ্ন হয়ে হাত-পা বেঁকে বিকৃতি ঘটা।
গাউট বা গেঁটেবাত (Gout)বিপাকীয় ত্রুটিজনিত রোগ; রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি (>৭ mg/dL) পাওয়া (Hyperuricemia)।অস্থিসন্ধির সাইনোভিয়াল তরলে তীক্ষ্ণ সূঁচের মতো মনোসোডিয়াম ইউরেট স্ফটিক জমা হওয়া; প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও ফোলাভাব, প্রধানত পায়ের বুড়ো আঙুলের সন্ধিতে (Podagra) আক্রমণ করে।
অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis)বয়সজনিত বিপাকীয় অস্থিরোগ যেখানে অস্থি গঠনকারী অস্টিওব্লাস্টের চেয়ে অস্থিক্ষয়কারী অস্টিওক্ল্যাস্টের কার্যকারিতা বেড়ে যায়।অস্থির ঘনত্ব (BMD) হ্রাস, অস্থি ভঙ্গুর ও ছিদ্রযুক্ত হওয়া; সামান্য আঘাতেই মেরুদণ্ড ও ফিমারের গ্রীবা ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা। মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ইস্ট্রোজেনের ঘাটতিতে এটি মারাত্মক রূপ নেয়।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

সারকোমিয়ার সংকোচনের জ্যামিতিক সূত্র
$$L_{A-band} = ধ্রুবক = ১.৬\ $$
বিশ্রামাবস্থায় সারকোমিয়ারের দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫ মাইক্রোমিটার; পূর্ণ সংকোচনে H-অঞ্চল শূন্যে পৌঁছায় এবং দৈর্ঘ্য ১.৮ মাইক্রোমিটারে নেমে আসে।
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মেরুদণ্ডের সূত্র
$$C_7\ T_{12}\ L_5\ S_1\ Co_1 = ২৬$$
শিশুর ক্ষেত্রে অস্থি সংবদ্ধ হওয়ার পূর্বে মোট ৩৩টি পৃথক কশেরুকা থাকে (৫টি পৃথক স্যাক্রাল ও ৪টি কক্কিজিয়াল)।
বক্ষপিঞ্জরের পরশুকা ম্যাট্রিক্স
$$৭ জোড়া প্রকৃত + ৩ জোড়া অপ্রকৃত + ২ জোড়া ভাসমান = ১২ জোড়া = ২৪টি পরশুকা$$
জোড়া ১–৭ সরাসরি স্টার্নামে যুক্ত; জোড়া ৮–১০ সপ্তম পরশুকার তরুণাস্থিতে যুক্ত; জোড়া ১১–১২ অগ্রভাগে সম্পূর্ণ মুক্ত।
হস্ত ও পদের ফ্যালাঞ্জিয়াল সূত্র
$$১৪টি ফ্যালাঞ্জেস × ৪টি অঙ্গ = ৫৬টি ফ্যালাঞ্জেস মোট$$
বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে শুধুমাত্র প্রক্সিমাল ও ডিস্টাল ফ্যালাঞ্জেস থাকে; অন্যান্য আঙুলে প্রক্সিমাল, মিডল ও ডিস্টাল থাকে।
মানবদেহের কঙ্কাল অস্থির পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্য
$$৮০ (অক্ষীয়) + ১২৬ (উপাঙ্গীয়) = ২০৬টি অস্থি$$
অক্ষীয়: করোটি ২২ + হাইঅয়েড ১ + কর্ণাস্তি ৬ + মেরুদণ্ড ২৬ + স্টার্নাম ১ + পরশুকা ২৪ = ৮০। উপাঙ্গীয়: বক্ষমেখলা ৪ + উর্ধ্বাঙ্গ ৬০ + শ্রোণিমেখলা ২ + নিম্নাঙ্গ ৬০ = ১২৬।
ক্রস-ব্রিজ মেকানিক্যাল কার্য সমীকরণ
$$d_{step} ≈ ১০ nm প্রতি পাওয়ার স্ট্রোক$$
কঙ্কাল পেশিতে ATP আর্দ্রবিশ্লেষণের রাসায়নিক শক্তি প্রায় ৪০-৫০% দক্ষতায় যান্ত্রিক কার্যে রূপান্তরিত হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব অনুসারে কঙ্কাল পেশির পূর্ণ সংকোচনের সময় সারকোমিয়ারের গঠনগত পরিবর্তনগুলি ব্যাখ্যা করো। (খ) পেশি সংকোচনের সময় A-ব্যান্ডের দৈর্ঘ্য কেন অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু I-ব্যান্ড ও H-অঞ্চল ছোট হয়? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) সংকোচনের সময় সারকোমিয়ারের গঠনগত পরিবর্তন: [৩ নম্বর]
১৯৫৪ সালে বিজ্ঞানী হাক্সলে ও হ্যানসনের স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব অনুসারে পেশি সংকোচনের সময় নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি ঘটে:
১. অ্যাকটিন তন্তুর অন্তর্মুখী স্লাইডিং: উদ্দীপিত মায়োসিন ক্রস-ব্রিজ মস্তক অ্যাকটিনের সাথে যুক্ত হয়ে ৪৫ ডিগ্রি কোণে হেলে গিয়ে (পাওয়ার স্ট্রোক) পাতলা অ্যাকটিন তন্তুগুলিকে মায়োসিনের উপর দিয়ে M-রেখার দিকে টেনে আনে।
২. সারকোমিয়ারের সংকোচন: অ্যাকটিন তন্তুগুলি Z-রেখায় দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকায় দুটি Z-রেখা পরস্পরের নিকটবর্তী হয়। ফলে সারকোমিয়ারের বিশ্রামকালীন দৈর্ঘ্য (প্রায় ২.৫ μm) হ্রাস পেয়ে প্রায় ১.৮ μm-এ নেমে আসে।
৩. I-ব্যান্ডের হ্রাসপ্রাপ্তি: আইসোট্রপিক I-ব্যান্ড (যেখানে অ্যাকটিন একা থাকে) সংকুচিত হয়ে ক্রমশ ছোট হতে থাকে, কারণ অ্যাকটিন তন্তু A-ব্যান্ডের গভীরে প্রবেশ করে।
৪. H-অঞ্চলের বিলুপ্তি: মায়োসিন-কেবল মধ্যবর্তী H-অঞ্চলটি দুই প্রান্ত থেকে অ্যাকটিন তন্তু পরস্পরের উপর সমাপতিত হওয়ার কারণে ক্রমশ সংকুচিত হয় এবং পূর্ণ সংকোচনে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

(খ) A-ব্যান্ডের দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকার কারণ: [২ নম্বর]
১. A-ব্যান্ডটি সম্পূর্ণভাবে স্থূল মায়োসিন তন্তুর ভৌত দৈর্ঘ্য (প্রায় ১.৬ μm) দ্বারা নির্ধারিত।
২. পেশি সংকোচনের সময় কোনো প্রোটিন তন্তুর নিজস্ব দৈর্ঘ্যের কোনো হ্রাস, বৃদ্ধি বা ভাঁজ ঘটে না; এটি কেবল অ্যাকটিনের মায়োসিনের উপর পিছলে যাওয়ার একটি আপেক্ষিক ঘটনা।
৩. যেহেতু মায়োসিন তন্তুর নিজস্ব দৈর্ঘ্য সর্বদা স্থির থাকে, তাই পেশির শিথিল বা চরম সংকোচন—উভয় অবস্থাতেই A-ব্যান্ডের দৈর্ঘ্য সর্বদা সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত (১.৬ μm) থাকে।
উদাহরণ 2
(ক) পেশি সংকোচনের উত্তেজনা-সংকোচন যুগলবন্দীতে ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) এবং ট্রপোনিন C-এর ভূমিকা আলোচনা করো। (খ) মৃত্যুর পর রিগর মর্টিস সৃষ্টি ও পরবর্তীকালে তা দূর হওয়ার জৈবরাসায়নিক কারণ ব্যাখ্যা করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) Ca2+ এবং ট্রপোনিন C-এর ভূমিকা: [৩ নম্বর]
১. ক্যালসিয়ামের অন্তঃপ্রবাহ: স্নায়ু উদ্দীপনা T-টিউবিউলে পৌঁছালে সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের টার্মিনাল সিস্টার্নি থেকে বিপুল পরিমাণ Ca2+ সারকোপ্লাজমে মুক্ত হয়।
২. ট্রপোনিন C-এর সাথে সংযুক্তি: মুক্ত Ca2+ সূক্ষ্ম অ্যাকটিন তন্তুতে অবস্থিত ট্রপোনিন C (TnC) সাবইউনিটের সাথে উচ্চ আসক্তিতে আবদ্ধ হয়।
৩. সক্রিয় স্থান উন্মোচন: Ca2+-TnC সংযুক্তি ট্রপোনিন অণুর রূপান্তর ঘটায়, যা ট্রপোমায়োসিনকে অ্যাকটিনের খাঁজ থেকে সরিয়ে দেয়। এর ফলে অ্যাকটিনের উপর মায়োসিন-সংযুক্তিস্থলগুলি উন্মুক্ত হয় এবং মায়োসিন মস্তক যুক্ত হয়ে ক্রস-ব্রিজ গঠন সম্পন্ন করে।

(খ) রিগর মর্টিসের কারণ ও নিবৃত্তি: [২ নম্বর]
১. সৃষ্টির কারণ: মৃত্যুর পর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হলে ATP সংশ্লেষ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কোষে ATP না থাকায় সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের Ca2+ পাম্প কাজ করতে পারে না। ফলে সারকোপ্লাজমে জমে থাকা Ca2+-এর প্রভাবে অ্যাকটিনের স্থান উন্মুক্ত থাকে এবং মায়োসিন মস্তক ক্রস-ব্রিজ তৈরি করে। কিন্তু ক্রস-ব্রিজ বিচ্ছিন্ন করার জন্য তাজা ATP-র সংযুক্তি অপরিহার্য। ATP-র অভাবে অ্যাক্টোমায়োসিন জটিল চিরস্থায়ীভাবে আটকে থাকে, ফলে পেশি অনমনীয় ও শক্ত হয়ে রিগর মর্টিস সৃষ্টি করে।
২. নিবৃত্তি: মৃত্যুর ২৪–৩৬ ঘণ্টা পর লাইসোজোম থেকে নির্গত প্রোটিওলাইটিক উৎসেচকগুলি পেশির অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিনকে পাচিত ও বিনষ্ট করে দেয়, ফলে রিগর মর্টিস স্বাভাবিকভাবে কেটে যায়।
উদাহরণ 3
(ক) লোহিত পেশিতন্তু (Type I) এবং শ্বেত পেশিতন্তুর (Type II) মধ্যে তিনটি প্রধান কলাস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য সারণিবদ্ধ করো। (খ) মানবদেহের সোলেয়াস পেশি ও অক্ষিগোলকের পেশিতে কোন প্রকার তন্তুর প্রাধান্য দেখা যায় এবং কেন? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) লোহিত বনাম শ্বেত পেশিতন্তুর পার্থক্য: [৩ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যলোহিত পেশিতন্তু (Type I)শ্বেত পেশিতন্তু (Type II)
মায়োগ্লোবিন ও বর্ণঅত্যধিক মায়োগ্লোবিন থাকে; গাঢ় লাল বর্ণেরমায়োগ্লোবিনের পরিমাণ নগণ্য; ফ্যাকাশে সাদাটে
মাইটোকনড্রিয়া ও শ্বসনঅসংখ্য বৃহৎ মাইটোকনড্রিয়া; সবাত অক্সিডেটিভ শ্বসন চালায়খুব কম মাইটোকনড্রিয়া; অবাত গ্লাইকোলাইসিসের উপর নির্ভরশীল
সংকোচনের প্রকৃতি ও ক্লান্তিধীরগতির সংকোচনশীল; ক্লান্তিহীনভাবে দীর্ঘক্ষণ কার্যকরঅত্যন্ত দ্রুত সংকোচনশীল; ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে দ্রুত ক্লান্ত হয়

(খ) মানবদেহের নির্দিষ্ট পেশিতে বণ্টন ও যুক্তি: [২ নম্বর]
১. সোলেয়াস পেশি (পায়ের কাফ পেশি): এতে লোহিত পেশিতন্তুর (Type I) প্রাধান্য থাকে। যুক্তি: অভিকর্ষের বিপরীতে দেহের খাড়া ভঙ্গিমা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিকিয়ে রাখার জন্য ধীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং ক্লান্তিহীন সংকোচনের প্রয়োজন হয়, যা লোহিত পেশি সবাত শ্বসনের মাধ্যমে পূরণ করে।
২. অক্ষিগোলকের পেশি (Extraocular Muscles): এতে শ্বেত পেশিতন্তুর (Type II) প্রাধান্য থাকে। যুক্তি: চোখের দৃষ্টি দ্রুত এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে সরানোর জন্য মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে অতীব দ্রুতগতির সংকোচন দরকার, যা দ্রুত-সংকোচনশীল শ্বেততন্তু সরবরাহ করে।
উদাহরণ 4
(ক) মানবদেহের ১২ জোড়া পরশুকাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করো এবং স্টার্নামের সাথে এদের সংযোগ বর্ণনা করো। (খ) মানব অক্ষীয় কঙ্কাল কী কী অস্থি নিয়ে গঠিত এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মেরুদণ্ডের সংকেতটি লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) পরশুকার শ্রেণিবিভাগ ও সংযুক্তি: [৩ নম্বর]
মানবদেহের ১২ জোড়া (মোট ২৪টি) পরশুকাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
১. প্রকৃত পরশুকা (True Ribs - জোড়া ১ থেকে ৭): এই সাত জোড়া পরশুকা পশ্চাৎভাগে থোরাসিক কশেরুকার সাথে এবং অগ্রভাগে নিজস্ব হায়ালিন তরুণাস্থির মাধ্যমে সরাসরি স্টার্নামের সাথে যুক্ত থাকে।
২. অপ্রকৃত পরশুকা (False Ribs - জোড়া ৮, ৯ ও ১০): এই তিন জোড়া পরশুকা স্টার্নামের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে না; এদের তরুণাস্থিগুলি সপ্তম পরশুকার তরুণাস্থির সাথে যুক্ত হয়ে উপকোস্টাল আর্চ গঠন করে।
৩. ভাসমান পরশুকা (Floating Ribs - জোড়া ১১ ও ১২): এই দুই জোড়া পরশুকা পশ্চাৎভাগে কশেরুকার সাথে যুক্ত থাকলেও অগ্রভাগে স্টার্নাম বা অন্য কোনো অস্থির সাথে যুক্ত থাকে না; উদরপ্রাচীরের পেশির মধ্যে মুক্তভাবে অবস্থান করে।

(খ) অক্ষীয় কঙ্কালের উপাদান ও মেরুদণ্ডের সংকেত: [২ নম্বর]
১. অক্ষীয় কঙ্কাল দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষের মোট ৮০টি অস্থি নিয়ে গঠিত: করোটি (২২টি: করোটিকা ৮ + মুখমণ্ডলীয় ১৪), হাইঅয়েড (১টি), কর্ণাস্তি (৬টি), মেরুদণ্ড (২৬টি), স্টার্নাম (১টি) এবং পরশুকা (২৪টি)।
২. প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মেরুদণ্ডের সূত্র:
$$\text{C}_7\ \text{T}_{12}\ \text{L}_5\ \text{S}_1\ \text{Co}_1 = ২৬$$
(যেখানে C = সারভাইকাল ৭, T = থোরাসিক ১২, L = লাম্বার ৫, S = স্যাক্রাম ১ [৫টি যুক্ত], Co = কক্কিক্স ১ [৪টি যুক্ত])।
উদাহরণ 5
(ক) সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির একটি চিহ্নিত চিত্ররূপ ও এর চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। (খ) বল ও সকেট সন্ধি এবং পিভট সন্ধির একটি করে উদাহরণ দাও ও তাদের সঞ্চালন ক্ষমতা ব্যাখ্যা করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির প্রধান বৈশিষ্ট্য: [৩ নম্বর]
১. আর্টিকুলার তরুণাস্থি: সংযোগকারী অস্থিগুলির প্রান্তভাগ মসৃণ ও স্থিতিস্থাপক হায়ালিন তরুণাস্থি দ্বারা আবৃত থাকে, যা ঘর্ষণ হ্রাস করে।
২. সাইনোভিয়াল গহ্বর: অস্থি দুটির মধ্যস্থলে একটি সুস্পষ্ট তরলপূর্ণ ফাঁক বা গহ্বর থাকে।
৩. সাইনোভিয়াল পর্দা ও তরল: সন্ধি ক্যাপসুলের ভেতরের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনোভিয়াল পর্দা থেকে পিচ্ছিল হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ সাইনোভিয়াল তরল ক্ষরিত হয়, যা সন্ধিকে পিচ্ছিল রাখে ও তরুণাস্থিকে পুষ্টি জোগায়।
৪. আর্টিকুলার ক্যাপসুল ও লিগামেন্ট: ঘন কোলাজেন তন্তুর সন্ধি ক্যাপসুল এবং শক্ত লিগামেন্ট অস্থিগুলিকে দৃঢ়ভাবে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখে।

(খ) সন্ধির উদাহরণ ও সঞ্চালন ক্ষমতা: [২ নম্বর]
১. বল ও সকেট সন্ধি: উদাহরণ—কাঁধের সন্ধি (স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড গহ্বরে হিউমেরাসের মস্তক) অথবা নিতম্বের সন্ধি (অ্যাসিটাবুলামে ফিমারের মস্তক)। সঞ্চালন: এটি সর্বাপেক্ষা গতিশীল সন্ধি, যা সমস্ত তলে (ফ্লেক্সন, এক্সটেনশন, রোটেশন ও সারকামডাকশন) অবাধ সঞ্চালন প্রদান করে।
২. পিভট সন্ধি: উদাহরণ—প্রথম কশেরুকা অ্যাটলাস (C1) এবং দ্বিতীয় কশেরুকা অ্যাক্সিস (C2)-এর ডেনস-এর মধ্যকার সন্ধি। সঞ্চালন: এটি একটি কেন্দ্রীয় অক্ষের চারদিকে আবর্তিত হতে পারে, যার ফলে মাথাকে ডানে-বামে ঘোরানো ('না' বাচক সঞ্চালন) সম্ভব হয়।
উদাহরণ 6
(ক) মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস এবং মাসকুলার ডিস্ট্রফির মধ্যে দুটি মৌলিক রোগতাত্ত্বিক পার্থক্য নির্দেশ করো। (খ) গাউট এবং অস্টিওপোরোসিস রোগের কারণ ও প্রধান লক্ষণগুলি লেখো। [২.৫ + ২.৫ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস বনাম মাসকুলার ডিস্ট্রফি: [২.৫ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যমায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস (Myasthenia Gravis)মাসকুলার ডিস্ট্রফি (Muscular Dystrophy)
রোগের প্রকৃতিস্বতঃঅনাক্রম্য রোগ (Autoimmune); স্নায়ু-পেশি সংযোগস্থলে অ্যান্টিবডি ACh গ্রাহককে ধ্বংস করেবংশগত জিনঘটিত ব্যাধি (X-linked recessive); ডিস্ট্রোফিন জিন মিউটেশনের ফলে ঘটে
পেশির প্যাথলজিপেশিতন্তুর সরাসরি ধ্বংস হয় না; গ্রাহক অবরুদ্ধ হওয়ায় সংবেদনশীলতা কমে ও ক্লান্তি আসেপেশিতন্তুর প্রগতিশীল অপকর্ষ (necrosis) ঘটে এবং পেশি নষ্ট হয়ে চর্বিতে পরিণত হয়

(খ) গাউট ও অস্টিওপোরোসিসের কারণ ও লক্ষণ: [২.৫ নম্বর]
১. গাউট (গেঁটেবাত):
• কারণ: পিউরিন বিপাকের ত্রুটির কারণে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া (Hyperuricemia)।
• লক্ষণ: সাইনোভিয়াল সন্ধিস্থলে তীক্ষ্ণ মনোসোডিয়াম ইউরেট স্ফটিক জমা হয়ে মারাত্মক প্রদাহ, লাল হয়ে ফুলে ওঠা এবং তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি হয় (বিশেষত পায়ের বুড়ো আঙুলে)।
২. অস্টিওপোরোসিস:
• কারণ: অস্থিক্ষয়কারী অস্টিওক্ল্যাস্টের ক্রিয়া বৃদ্ধি এবং মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ইস্ট্রোজেনের অভাব অথবা ক্যালসিয়াম/ভিটামিন D-এর ঘাটতি।
• লক্ষণ: অস্থির ঘনত্ব হ্রাস পাওয়া, অস্থি ভঙ্গুর ও ছিদ্রযুক্ত হওয়া এবং সামান্য আঘাতেই মেরুদণ্ড ও ফিমারের অস্থি ভেঙে যাওয়া।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

পেশি সংকোচনের সময় A-ব্যান্ড সংকুচিত বা ছোট হয়ে যায় বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

A-ব্যান্ড হলো স্থূল মায়োসিন তন্তুর সম্পূর্ণ ভৌত দৈর্ঘ্য (১.৬ মাইক্রোমিটার)। সংকোচনের সময় ফিলামেন্টের নিজস্ব দৈর্ঘ্য কমে না, কেবল অ্যাকটিন ভিতরে পিছলে যায়। তাই A-ব্যান্ডের দৈর্ঘ্য সর্বদা স্থির ও অপরিবর্তিত থাকে; কেবল I-ব্যান্ড ও H-অঞ্চল ছোট হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

বিশ্বাস করা যে ATP কেবল সংকোচনের পাওয়ার স্ট্রোকের জন্যই প্রয়োজন হয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পেশি শিথিলকরণের জন্যও ATP অপরিহার্য। মায়োসিন মস্তকে নতুন ATP যুক্ত না হলে অ্যাকটিন-মায়োসিন ক্রস-ব্রিজ কখনোই খুলতে পারে না। এই কারণেই মৃত্যুর পর ATP-র অভাবে রিগর মর্টিস ঘটে।

সাধারণ ভুল ধারণা

অ্যাটলাস (C1) এবং অ্যাক্সিস (C2) কশেরুকার কাজ ও তাদের গতিবিধি গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অ্যাটলাস করোটির অক্সিপিটাল কন্ডাইলের সাথে যুক্ত হয়ে মাথা উপর-নিচে সঞ্চালনে ('হ্যাঁ' বাচক) সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যাক্সিসের ডেনস প্রক্রিয়ার চারদিকে অ্যাটলাস আবর্তিত হয়ে মাথা ডানে-বামে ঘোরানোর ('না' বাচক) পিভট সঞ্চালন ঘটায়।

সাধারণ ভুল ধারণা

মানবদেহে মোট পরশুকার সংখ্যা ও তাদের শ্রেণিবিন্যাস ভুল লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

মানবদেহে ১২টি পরশুকা নয়, বরং ১২ জোড়া অর্থাৎ মোট ২৪টি পরশুকা থাকে। জোড়া ১–৭ হলো প্রকৃত (True), জোড়া ৮–১০ অপ্রকৃত (False), এবং জোড়া ১১–১২ হলো ভাসমান (Floating) পরশুকা।

সাধারণ ভুল ধারণা

গেঁটেবাত (Gout) এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসকে একই প্রক্রিয়া বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো বয়সজনিত কারণে তরুণাস্থির ক্ষয়রোগ। অন্যদিকে গাউট হলো বিপাকীয় রোগ, যেখানে রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড থেকে তীক্ষ্ণ ইউরেট স্ফটিক সন্ধিতে জমা হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

১৮ চলন ও গমন: সারকোমিয়ার, স্লাইডিং ফিলামেন্ট ও কঙ্কালতন্ত্রের শারীরস্থান WBCHSE একাদশ শ্রেণি জীববিজ্ঞান • একক ৫: মানব শারীরবিদ্যা • ক্রস-ব্রিজ চক্র, ২০৬টি অস্থি ও অস্থিসন্ধি ১. পেশির প্রকারভেদ ও সারকোমিয়ার পেশি কলার কলাস্থানিক প্রকারভেদ • কঙ্কাল পেশি: চিহ্নিত, ঐচ্ছিক, সিনসাইসিয়াল (বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত) অস্থির সাথে যুক্ত; দ্রুত সংকোচনশীল ও সহজে ক্লান্ত হয় • অরেখ (মসৃণ) পেশি: রেখাহীন, অনৈচ্ছিক, মাকু-আকৃতির পৌষ্টিকনালী ও রক্তনালীর প্রাচীরে; ধীর ও ক্লান্তিহীন • হৃদপেশি: রেখাঙ্কিত, অনৈচ্ছিক, শাখান্বিত, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কযুক্ত সারকোমিয়ার (Z-রেখা থেকে Z-রেখা) • মায়োফাইব্রিলের গঠনগত ও সংকোচনশীল কার্যকরী একক • A-ব্যান্ড (অ্যানআইসোট্রপিক): মায়োসিন ও সমাপতিত অ্যাকটিন • I-ব্যান্ড (আইসোট্রপিক): কেবল অ্যাকটিন; মাঝে Z-রেখা থাকে • H-অঞ্চল: A-ব্যান্ডের মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে শুধু মায়োসিন থাকে M-রেখা: H-অঞ্চলকে দ্বিখণ্ডিতকারী সূক্ষ্ম তন্তুময় পর্দা সংকোচনশীল তন্তু: অ্যাকটিন ও মায়োসিন • অ্যাকটিন তন্তু: দুটি পেঁচানো F-অ্যাকটিনের হেলিক্স (G-অ্যাকটিন পলিমার) • ট্রপোমায়োসিন: মায়োসিন বন্ধন স্থান ঢেকে রাখা প্রোটিন সূত্র • ট্রপোনিন ট্রাইমার: TnT (ট্রপোমায়োসিন), TnI (নিবারক), ও TnC (Ca²⁺ যুক্ত হয়ে সক্রিয় স্থান উন্মুক্ত করে) • মায়োসিন তন্তু: মেরোমায়োসিন (HMM মস্তক ও LMM লেজ) লোহিত পেশিতন্তু বনাম শ্বেত পেশিতন্তু • লোহিত তন্তু: উচ্চ মায়োগ্লোবিন, মাইটোকন্ড্রিয়া, অবাত, ক্লান্তিহীন • শ্বেত তন্তু: কম মায়োগ্লোবিন, সমৃদ্ধ SR, দ্রুত গ্লাইকোলাইসিস ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে শ্বেত পেশিতন্তু দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে ২. স্লাইডিং ফিলামেন্ট ও পেশি সংকোচন ১. উত্তেজনা-সংকোচন কাপলিং (Coupling) • মোটর স্নায়ুর ক্রিয়া বিভব স্নায়ু-পেশি সংযোগস্থলে পৌঁছায় • অ্যাসিটাইলকোলিন (ACh) ক্ষরিত হয়ে সারকোলেমা ডিপোলারাইজ করে • উদ্দীপনা T-টিউবিউলের মাধ্যমে সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামে ছড়ায় → সিস্টার্নি থেকে সারকোপ্লাজমে বিপুল Ca²⁺ নিঃসৃত হয় • Ca²⁺ যুক্ত হয় TnC-তে → ট্রপোমায়োসিন স্থানচ্যুত হয় অ্যাকটিনের মায়োসিন-বন্ধনকারী সক্রিয় স্থান উন্মুক্ত হয় ২. ক্রস-ব্রিজ চক্র (পাওয়ার স্ট্রোক) ১. বন্ধন: মায়োসিন মস্তক (ADP+Pi) অ্যাকটিনের সাথে যুক্ত হয় ২. পাওয়ার স্ট্রোক: Pi নির্গত হয়; মস্তক ৪৫° হেলে গিয়ে অ্যাকটিন তন্তুকে M-রেখার দিকে টেনে নিয়ে আসে → I-ব্যান্ড কমে যায়, H-অঞ্চল বিলুপ্ত হয়, A-ব্যান্ড স্থির থাকে! ৩. বিযুক্তি: নতুন ATP যুক্ত হলে ক্রস-ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হয় ৪. পুনঃপ্রস্তুতি: মায়োসিন ATPase দ্বারা ATP ভেঙে ADP+Pi হয়, মস্তক পুনরায় ৯০° উচ্চ-শক্তির কোণে ফিরে আসে • রাইগর মর্টিস: মৃত্যুর পর ATP অভাবে ক্রস-ব্রিজ আটকে থাকে শিথিলকরণ: SERCA পাম্প দ্বারা Ca²⁺ পুনরায় রেটিকুলামে শোষিত হয় সংকোচনের সময় সারকোমিয়ারের পরিবর্তন • দুটি Z-রেখা পরস্পরের নিকটে আসে (সারকোমিয়ার হ্রাস পায়) • I-ব্যান্ড: ক্রমান্বয়ে সংক্ষিপ্ত হয় • H-অঞ্চল: সংকুচিত হয়ে সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে যায় • A-ব্যান্ড: সংকোচনের সময় দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে! ফিলামেন্টগুলি নিজেদের দৈর্ঘ্য না বদলে পরস্পরের ওপর পিছলে যায় ৩. কঙ্কালতন্ত্র (২০৬), সন্ধি ও রোগসমূহ মানব কঙ্কাল: অক্ষীয় (৮০) ও উপাঙ্গীয় (১২৬) • অক্ষীয় (৮০): করোটি (২২: ৮ করোটিকা + ১৪ মুখমণ্ডলীয়) + হায়য়েড (১) + কর্ণাস্থি (৬) + মেরুদণ্ড (২৬: C7, T12, L5, S1, Co1) + উরোস্থি (১) + পর্শুকা (২৪: ৭ জোড়া প্রকৃত, ৩ অপ্রকৃত, ২ ভাসমান) • উপাঙ্গীয় (১২৬): বক্ষচক্র (৪: ক্ল্যাভিকল ও স্ক্যাপুলা) ঊর্ধ্বাঙ্গ (৬০: হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা, কার্পাল ৮, মেটাকার্পাল ৫, ফ্যালাঞ্জেস ১৪) শ্রোণীচক্র (২ কসাল) + নিম্নাঙ্গ (৬০: ফিমার, প্যাটেলা, টিবিয়া, ফিবুলা, টার্সাল ৭, মেটাটার্সাল ৫, ফ্যালাঞ্জেস ১৪) সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির শ্রেণিবিভাগ • বল ও সকেট সন্ধি: স্কন্ধসন্ধি (গ্লেনয়েড) ও উরুসন্ধি (অ্যাসিটাবুলাম) • কব্জা সন্ধি (Hinge): হাঁটু সন্ধি, কনুই সন্ধি, ইন্টারফ্যালাঞ্জিয়াল • পিভট সন্ধি (Pivot): অ্যাটলাস ও অ্যাক্সিস (মাথা নাড়ানোর সন্ধি) • গ্লাইডিং সন্ধি: কার্পালগুলির মাঝে; টার্সালগুলির মাঝে • স্যাডল সন্ধি: বুড়ো আঙুলের কার্পাল ও মেটাকার্পালের মাঝে বৈশিষ্ট্য: সাইনোভিয়াল তরল, হায়ালিন তরুণাস্থি ও ক্যাপসুল পেশি ও অস্থি সম্পর্কিত রোগসমূহ • মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস: অটো-অ্যান্টিবডি ACh রিসেপ্টর ব্লক করে; কঙ্কাল পেশির ক্রমিক দুর্বলতা ও অবশতা সৃষ্টি করে • মাসকুলার ডিস্ট্রফি: বংশগত জিনঘটিত পেশির ক্ষয়রোগ • টিটেনি: হাইপোক্যালসিমিয়ার কারণে পেশির তীব্র অনৈচ্ছিক খিঁচুনি • গাউট (বাত): অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিডের কেলাস জমা হওয়া • অস্টিওপোরোসিস: হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস; মেনোপজের পর নারীদের ইস্ট্রোজেনের অভাবে অস্থি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে ও ফ্র্যাকচার বাড়ে

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
কোষীয় চলন অ্যামিবয়েড (শ্বেতকণিকা), সিলিয়ারি (শ্বাসনালী, ডিম্বনালী), ফ্ল্যাজেলার (শুক্রাণু) ও পেশিজ পদ্ধতিতে ঘটে। গমন হলো সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন।
মূল বিষয় 2
পেশিকলা তিন প্রকার: কঙ্কাল পেশি (রেখায়িত, ঐচ্ছিক, সিনসিটিয়াল), মসৃণ পেশি (অরেখ, অনৈচ্ছিক, মাকু-আকৃতি), এবং হৃদপেশি (রেখায়িত, অনৈচ্ছিক, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কযুক্ত)।
মূল বিষয় 3
সারকোমিয়ার হলো দুটি Z-রেখার মধ্যবর্তী পেশির কার্যকরী সংকোচনশীল একক; এতে A-ব্যান্ড (মায়োসিন + অ্যাকটিন), মধ্যবর্তী H-অঞ্চল, M-রেখা ও হালকা I-ব্যান্ড থাকে।
মূল বিষয় 4
সূক্ষ্ম তন্তুতে F-অ্যাকটিন, ট্রপোমায়োসিন ও ট্রপোনিন ট্রাইমার (TnT, TnI, TnC) থাকে; স্থূল তন্তুতে মায়োসিনের HMM মস্তক (ATP-আর্দ্রবিশ্লেষক) ও LMM লেজ থাকে।
মূল বিষয় 5
স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব অনুসারে অ্যাকটিন মায়োসিনের উপর M-রেখার দিকে পিছলে যায়; সারকোমিয়ার, I-ব্যান্ড ও H-অঞ্চল ছোট হয়, কিন্তু A-ব্যান্ড সর্বদা ১.৬ মাইক্রোমিটার স্থির থাকে।
মূল বিষয় 6
উত্তেজনা-সংকোচন যুগলবন্দী: স্নায়ু তাড়না -> অ্যাসিটাইলকোলিন ক্ষরণ -> T-টিউবিউল ডিপোলারাইজেশন -> সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে Ca2+ ক্ষরণ -> TnC-তে Ca2+ আবদ্ধ -> ট্রপোমায়োসিন অপসারণ -> ক্রস-ব্রিজ চক্র।
মূল বিষয় 7
পাওয়ার স্ট্রোক, ক্রস-ব্রিজ বিচ্ছিন্নকরণ এবং Ca2+ পাম্প করার জন্য ATP অপরিহার্য; মৃত্যুর পর ATP ফুরিয়ে গেলে রিগর মর্টিস ঘটে।
মূল বিষয় 8
লোহিত পেশিতন্তু (Type I) মায়োগ্লোবিন ও মাইটোকনড্রিয়া সমৃদ্ধ এবং সবাত শ্বসনে ক্লান্তিহীন থাকে; শ্বেত পেশিতন্তু (Type II) অবাত গ্লাইকোলাইসিসে দ্রুত ক্লান্ত হয়।
মূল বিষয় 9
প্রাপ্তবয়স্ক মানব কঙ্কালে ২০৬টি অস্থি: অক্ষীয় (৮০টি: করোটি ২২, হাইঅয়েড ১, কর্ণাস্তি ৬, মেরুদণ্ড ২৬, স্টার্নাম ১, পরশুকা ২৪) এবং উপাঙ্গীয় (১২৬টি: মেখলা ও পদসমূহ)।
মূল বিষয় 10
সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি মুক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করে (বল ও সকেট, কব্জা, পিভট, স্যাডল)। প্রধান রোগ: মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস, মাসকুলার ডিস্ট্রফি, টিটেনি, গাউট এবং অস্টিওপোরোসিস।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
সূক্ষ্ম (অ্যাকটিন) এবং স্থূল (মায়োসিন) মায়োফিলামেন্টের নির্দিষ্ট আণবিক উপাদানগুলির নাম লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: সূক্ষ্ম তন্তু দুটি হেলিক্যাল F-অ্যাকটিন পলিমার, দুটি ট্রপোমায়োসিন তন্তু এবং তিনটি সাবইউনিটযুক্ত ট্রপোনিন ট্রাইমার (TnT, TnI, TnC) নিয়ে গঠিত। স্থূল তন্তু পলিমারাইজড মেরোমায়োসিন দ্বারা গঠিত, যার প্রতিটিতে ভারী মেরোমায়োসিন (HMM) গোলকাকার মস্তক (অ্যাকটিন-যুক্তিস্থল ও এটিপিয়েজ উৎসেচক সাইটযুক্ত) এবং হালকা মেরোমায়োসিন (LMM) লেজ থাকে।
2
পেশি সংকোচনের সময় সারকোমিয়ারের কোন ব্যান্ড বা অঞ্চলের দৈর্ঘ্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকে এবং কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: A-ব্যান্ডের দৈর্ঘ্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত (প্রায় ১.৬ মাইক্রোমিটার) থাকে। কারণ A-ব্যান্ডটি সম্পূর্ণভাবে স্থূল মায়োসিন ফিলামেন্টের দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে এবং স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব অনুসারে সংকোচনে ফিলামেন্টের কোনো সংকোচন ঘটে না, কেবল অ্যাকটিন তন্তু মায়োসিনের উপর দিয়ে পিছলে যায়।
3
পেশি শিথিলকরণের জন্য কেন তাজা ATP-র সংযুক্তি বাধ্যতামূলক এবং এর অভাবে কীভাবে রিগর মর্টিস ঘটে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মায়োসিন মস্তকে একটি নতুন ATP অণু যুক্ত হলে অ্যাকটিনের প্রতি মায়োসিনের আসক্তি হ্রাস পায় এবং অ্যাক্টোমায়োসিন ক্রস-ব্রিজটি খুলে যায়। মৃত্যুর পর ATP সম্পূর্ণ নিঃশেষিত হলে ক্রস-ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না, ফলে অ্যাকটিন ও মায়োসিন স্থায়ীভাবে আবদ্ধ হয়ে অনমনীয় রিগর মর্টিস অবস্থা সৃষ্টি করে।
4
অগ্রভাগের স্টার্নাম সংযুক্তির ভিত্তিতে প্রকৃত পরশুকা, অপ্রকৃত পরশুকা ও ভাসমান পরশুকার পার্থক্য নির্দেশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রকৃত পরশুকা (জোড়া ১–৭) নিজস্ব কস্টাল তরুণাস্থির মাধ্যমে সরাসরি স্টার্নামের সাথে যুক্ত থাকে। অপ্রকৃত পরশুকা (জোড়া ৮–১০) সরাসরি স্টার্নামে যুক্ত না হয়ে ৭ম পরশুকার তরুণাস্থির সাথে যুক্ত হয়। ভাসমান পরশুকা (জোড়া ১১–১২) অগ্রভাগে কোনো অস্থির সাথে যুক্ত থাকে না এবং মুক্তভাবে অবস্থান করে।
5
স্যাডল সন্ধি এবং পিভট সন্ধির যান্ত্রিক গঠন ও মানবদেহের একটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: স্যাডল সন্ধির অস্থির উপরিভাগ অবতল-উত্তল জিনের মতো হয় এবং দ্ব্যক্ষীয় সঞ্চালন ঘটায় (যেমন: হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের ট্রাপিজিয়াম ও ১ম মেটাকার্পালের মধ্যকার সন্ধি)। পিভট সন্ধিতে একটি অস্থির গোলাকার প্রসেস অন্য অস্থির বলয়ের মধ্যে অনুদৈর্ঘ্য অক্ষে আবর্তিত হয় (যেমন: অ্যাটলাস ও অ্যাক্সিসের ডেনস-এর মধ্যকার সন্ধি যা মাথার 'না' বাচক ঘূর্ণন ঘটায়)।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

চলন ও গমন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।