Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 5
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান

সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান (Morphology of Flowering Plants) হলো গুপ্তবীজী বা অ্যাঞ্জিওস্পার্ম উদ্ভিদের বাহ্যিক গঠন, রূপভেদ ও পরিবেশীয় অভিযোজনের বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনা। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উদ্ভিদের অঙ্গজ অঙ্গ (মূল, কাণ্ড ও পাতা) এবং জনন অঙ্গের (পুষ্পবিন্যাস, পুষ্প, ফল ও বীজ) বিশদ অঙ্গসংস্থান আলোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মূলের বিভিন্ন অঞ্চল ও মূলের রূপান্তর (বটের স্তম্ভমূল, ভুট্টার ঠেস মূল, সুন্দরবনের শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর); কাণ্ডের পর্ব ও পর্বমধ্য এবং ভূনিম্নস্থ কাণ্ড (আলুর স্ফীতকন্দ, আদার গ্রন্থিকাণ্ড, পেঁয়াজের কন্দ); পাতার শিরাবিন্যাস ও পত্রবিন্যাস; পুষ্পের প্রতিসাম্য ও গর্ভাশয়ের অবস্থান (গর্ভপাদ, গর্ভকোটরস্থ); অমরাবিন্যাস (একপ্রান্তীয়, অক্ষীয়, বহুপ্রান্তীয়); এবং তিনটি প্রধান উদ্ভিদ গোত্র—ফ্যাবেসি (Fabaceae), সোলানেসি (Solanaceae) ও লিলিয়েসি (Liliaceae)-র পুষ্প সংকেত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব গভীরভাবে শিখতে পারে। উচ্চ মাধ্যমিক ও নিট (NEET) উভয় পরীক্ষার জন্যই এই অধ্যায়টি মৌলিক ভিত্তি রচনা করে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

একটি গোলআলুকে আমরা মাটির নিচে পেলেও কেন কাণ্ড বলি, অথচ মিষ্টি আলুকে মাটির নিচে পেয়েও মূল বলা হয়?

অধ্যায়টির গুরুত্ব

উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থানিক জ্ঞান কৃষিবিজ্ঞান, উদ্যানপালনবিদ্যা, বনবিজ্ঞান এবং ভেষজ ঔষধি শিল্পে সরাসরি প্রয়োগ করা হয়। আলু, আদা, ওল বা মিষ্টি আলুর সঠিক অঙ্গসংস্থান জানা থাকলে এদের অঙ্গজ জনন ও বাণিজ্যিক ফলন বৃদ্ধি সহজ হয়। পুষ্পের গঠন ও পরাগমিলন কৌশল জানা সংকর বীজ উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধির প্রধান চাবিকাঠি। এছাড়া ভেষজ ঔষধি গাছ যেমন অশ্বগন্ধা, বাসক, সর্পগন্ধা বা যষ্টিমধুর সঠিক প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং ভেষজ কাঁচামালের ভেজাল প্রতিরোধে উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থানিক লক্ষণ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফলের সাধারণ ধারণা।
  • ভ্রূণের ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে মূল এবং ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে কাণ্ডের বিকাশ।
  • একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রাথমিক পার্থক্য।
  • পুষ্পের চারটি প্রধান স্তবক: বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 মূল তন্ত্র: গঠন, অঞ্চলসমূহ ও অভিযোজ...
2 কাণ্ডের অঙ্গসংস্থান: পর্ব, পর্বমধ্য...
3 পাতা: গঠন, শিরাবিন্যাস, পাতার প্রকা...
4 পুষ্পবিন্যাস ও পুষ্পের গঠন: অনিয়ত...
5 পুষ্পস্তবক, পুষ্পপত্রবিন্যাস, পুংকে...
6 ফল, বীজ এবং তিনটি প্রধান উদ্ভিদ গোত...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

মূল তন্ত্র: গঠন, অঞ্চলসমূহ ও অভিযোজনগত রূপান্তর (স্তম্ভমূল, ঠেস মূল, শ্বাসমূল)

মূল হলো উদ্ভিদের অধোগামী, বর্ণহীন, ধনাত্মক ভূ-অভিমুখী এবং ধনাত্মক জল-অভিমুখী অঙ্গ, যা ভ্রূণের ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে বৃদ্ধি পায়। এতে কোনো পর্ব, পর্বমধ্য, পাতা বা মুকুল থাকে না। এটি উদ্ভিদকে মাটিতে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে এবং জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

১. মূলতন্ত্রের প্রকারভেদ (Types of Root Systems)
  • প্রধান মূলতন্ত্র (Tap Root System): দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে ভ্রূণমূল সরাসরি বৃদ্ধি পেয়ে প্রাথমিক মূলে পরিণত হয় যা মাটির গভীরে প্রবেশ করে। এটি থেকে শাখা-প্রশাখা হিসেবে গৌণ ও প্রগৌণ মূল সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: সরিষা (Brassica), ছোলা, আম।
  • গুচ্ছ মূলতন্ত্র (Fibrous Root System): একবীজপত্রী উদ্ভিদে প্রাথমিক মূল স্বল্পস্থায়ী হয়। শীঘ্রই কাণ্ডের গোড়া থেকে অসংখ্য সুতোর মতো সরু মূলগুচ্ছ উৎপন্ন হয় যা মাটির উপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। উদাহরণ: গম, ধান, ঘাস।
  • অস্থানিক মূলতন্ত্র (Adventitious Root System): ভ্রূণমূল ব্যতীত উদ্ভিদের অন্য যেকোনো অংশ (যেমন কাণ্ড, শাখা বা পাতা) থেকে উৎপন্ন মূলকে অস্থানিক মূল বলে। উদাহরণ: বটের ঝুরি মূল, মনস্টেরা, পাথরকুচির পত্রজ মূল।
২. মূলের বিভিন্ন অঞ্চল (Regions of a Root)

একটি আদর্শ মূলের লম্বচ্ছেদে শীর্ষ থেকে গোড়ার দিকে চারটি অঞ্চল দেখা যায়:

  1. মূলত্র অঞ্চল (Root Cap / Calyptra): মূলের কোমল বর্ধনশীল শীর্ষকে আবৃত করে রাখা টুপির মতো সুরক্ষাকারী অঙ্গ। এটি মিউসিলেজ ক্ষরণ করে মাটির কঠিন কণার মধ্য দিয়ে মূলের প্রবেশ সহজ করে। (জলজ উদ্ভিদে মূলত্রের বদলে রুট পকেট থাকে, যেমন কচুরিপানা)।
  2. কোশ বিভাজন অঞ্চল (Meristematic Zone): মূলত্রের ঠিক পিছনে অবস্থিত কয়েক মিলিমিটার দীর্ঘ অঞ্চল। এর কোশগুলি ঘন প্রোটোপ্লাজমযুক্ত, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
  3. দীর্ঘীকরণ অঞ্চল (Region of Elongation): বিভাজন অঞ্চলের ঠিক উপরে অবস্থিত। এখানকার কোশগুলি দ্রুত লম্বায় বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মূল দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি লাভ করে।
  4. পরিপক্কতা অঞ্চল (Region of Maturation): দীর্ঘীকরণ অঞ্চলের উপরের অংশ যেখানে কোশগুলি বিভেদিত হয়ে বিভিন্ন স্থায়ী কলায় রূপান্তরিত হয়। এই অঞ্চলের বহিঃত্বক থেকে অসংখ্য সূক্ষ্ম, এককোষী রোম উৎপন্ন হয় যাদের মূলরোম (Root hairs) বলে। মূলরোমই মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
৩. মূলের বিশেষ অভিযোজনগত রূপান্তর
  • খাদ্য সঞ্চয়: প্রধান মূল খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়: শঙ্কু আকার (গাজর), শালগম আকার (শালগম ও বিট), মূল আকার (মূলো); অস্থানিক কন্দাল মূল (মিষ্টি আলু Ipomoea batatas)।
  • যান্ত্রিক অবলম্বন:
    • স্তম্ভমূল বা ঝুরিমূল (Prop Roots): বটের (Ficus benghalensis) অনুভূমিক ভারী শাখা থেকে উৎপন্ন হয়ে সোজা মাটির নিচে প্রবেশ করে এবং ভারী ডালপালাকে স্তম্ভের মতো ভার বহন করে।
    • ঠেস মূল (Stilt Roots): সরু ও দুর্বল কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদের (ভুট্টা, আখ, কেয়া) কাণ্ডের নিচের পর্ব থেকে তীর্যকভাবে নির্গত হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে গাছকে হেলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
  • শ্বসনমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophores): লবণাক্ত কর্দমাক্ত শ্বাসরোধী জলাভূমিতে জন্মায় এমন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে (যেমন: সুন্দরী, গরান, রাইজোফোরা) ভূনিম্নস্থ মূল থেকে অসংখ্য খাড়া কাঠি সদৃশ মূল অভিকর্ষের বিপরীতে (ঋণাত্মক ভূ-অভিমুখী) মাটির উপরে উঠে আসে। এদের গায়ে নিউম্যাথােড (Pneumathodes / Lenticels) নামক ছিদ্র থাকে যা দিয়ে এরা বায়ুর অক্সিজেন গ্রহণ করে।

কাণ্ডের অঙ্গসংস্থান: পর্ব, পর্বমধ্য, ভূনিম্নস্থ খাদ্য সঞ্চয় ও বায়বীয় রূপান্তর

কাণ্ড হলো উদ্ভিদের ঊর্ধ্বগামী, ধনাত্মক আলোকমুখী এবং ঋণাত্মক ভূ-অভিমুখী অক্ষ যা ভ্রূণের ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে উৎপন্ন হয়। কাণ্ডের সনাক্তকারী প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে সুস্পষ্ট পর্ব (Node) এবং দুটি পর্বের মধ্যবর্তী পর্বমধ্য (Internode) থাকে এবং পর্ব থেকে পাতা ও কাক্ষিক মুকুল সৃষ্টি হয়।

১. ভূনিম্নস্থ খাদ্য সঞ্চয়ী কাণ্ড (Underground Stem Modifications)

প্রতিকূল ঋতুতে বেঁচে থাকার জন্য এবং খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হওয়ার জন্য কাণ্ড মাটির নিচে প্রবেশ করে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে:

  • স্ফীতকন্দ (Stem Tuber): ভূনিম্নস্থ শাখার অগ্রভাগ খাদ্য সঞ্চয় করে অনিয়তাকার স্ফীত রূপ ধারণ করে। এর গায়ে খাঁজযুক্ত 'চোখ' (Eyes) থাকে, যা আসলে শল্কপত্রযুক্ত পর্ব এবং এতে কাক্ষিক মুকুল থাকে (যেমন: গোলআলু Solanum tuberosum)।
  • গ্রন্থিকাণ্ড (Rhizome): মাটির সমান্তরালে অনুভূমিকভাবে বর্ধনশীল স্থূল কাণ্ড। এতে সুস্পষ্ট পর্ব, পর্বমধ্য, বাদামী শল্কপত্র, অগ্রমুকুল ও অস্থানিক মূল থাকে (যেমন: আদা Zingiber, হলুদ Curcuma)।
  • গুঁড়িকন্দ (Corm): মাটির নিচে উল্লম্বভাবে বর্ধনশীল কঠিন ও স্থূল কাণ্ড। এতে বৃত্তাকার পর্ব এবং বড় অগ্রমুকুল থাকে (যেমন: ওল Amorphophallus, কচু, কেশর)।
  • কন্দ (Bulb): অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উত্তল চাকতির মতো কাণ্ড, যাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য রসালো রসপূর্ণ শল্কপত্র পেঁচিয়ে থাকে (যেমন: পেঁয়াজ Allium cepa, রসুন)।
২. অর্ধ-বায়বীয় কাণ্ড (Sub-Aerial Modifications)
  • ধাবক (Runner): মাটির উপর দিয়ে অনুভূমিকভাবে প্রসারিত দুর্বল কাণ্ড যা পর্ব থেকে মূল ও পাতা উৎপন্ন করে (যেমন: দূর্বাঘাস, থানকুনি)।
  • বক্রধাবক (Stolon): কাণ্ডের গোড়া থেকে উৎপন্ন হয়ে ধনুকের মতো বেঁকে মাটিতে স্পর্শ করে এবং নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে (যেমন: মেন্থা/পুদিনা, জুঁই)।
  • খর্বধাবক (Offset): জলজ উদ্ভিদের এক-পর্বমধ্য দীর্ঘ স্থূল ও ভঙ্গুর কাণ্ড, যার অগ্রভাগে পাতার রোজেট ও নিচে মূলগুচ্ছ থাকে (যেমন: কচুরিপানা Eichhornia, টোপাপানা Pistia)।
  • ঊর্ধ্বধাবক (Sucker): মাটির নিচের কাণ্ড থেকে তীর্যকভাবে উৎপন্ন হয়ে মাটির উপরে নতুন কাণ্ড সৃষ্টি করে (যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, আনারস, কলা)।
৩. বায়বীয় কাণ্ড (Aerial Modifications)
  • কাণ্ডজ আকর্ষ (Stem Tendrils): কাক্ষিক মুকুল রূপান্তরিত হয়ে সরু, প্যাঁচানো স্পর্শসংবেদনশীল সুতো তৈরি করে যা দুর্বল কাণ্ডকে উপরে উঠতে সাহায্য করে (যেমন: শসা, লাউ, কুমড়া, আঙুরলতা)।
  • কণ্টক বা শাখা কণ্টক (Stem Thorns): কাক্ষিক মুকুল রূপান্তরিত হয়ে শক্ত, কাষ্ঠল ও তীক্ষ্ণ কাঁটায় পরিণত হয় যা আত্মরক্ষা ও বাষ্পমোচন রোধে সাহায্য করে (যেমন: বেল, লেবু Citrus, বোগেনভিলিয়া)।
  • পর্ণকাণ্ড (Phylloclade): চরম মরু উদ্ভিদে পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় এবং কাণ্ডটি সবুজ, চ্যাপ্টা (ফণীমনসা Opuntia) বা নলাকার (Euphorbia) রসালো পাঁপড়ির মতো রূপ ধারণ করে সালোকসংশ্লেষ সম্পন্ন করে ও জল সঞ্চয় করে।

পাতা: গঠন, শিরাবিন্যাস, পাতার প্রকারভেদ, পত্রবিন্যাস ও রূপান্তর

পাতা হলো কাণ্ডের পর্ব থেকে উৎপন্ন বহিস্থ, সাধারণত চ্যাপ্টা ও সবুজ রঙের পার্শ্বীয় অঙ্গ। এর কক্ষে একটি কাক্ষিক মুকুল থাকে। পাতা উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষীয় ও বাষ্পমোচনকারী অঙ্গ।

১. পাতার প্রধান অংশসমূহ
  • পত্রমূল (Leaf Base / Hypopodium): যার দ্বারা পাতা কাণ্ডের পর্বে যুক্ত থাকে। এর দুপাশে ছোট উপপত্র (Stipules) থাকতে পারে। শিম্বীগোত্রীয় উদ্ভিদে পত্রমূলটি স্ফীত হয়ে পালভিনাস (Pulvinus) গঠন করে, যা পাতার ঘুমন্ত চলনে সাহায্য করে। একবীজপত্রীতে পত্রমূল কাণ্ডকে বেষ্টন করে থাকে।
  • পত্রবৃন্ত (Petiole / Mesopodium): পাতার বোঁটা যা ফলককে আলোর দিকে তুলে ধরে এবং হাওয়ায় আন্দোলিত হতে সাহায্য করে।
  • পত্রফলক (Lamina / Epipodium): পাতার প্রসারিত সবুজ অংশ যাতে শিরা ও উপশিরা বিন্যস্ত থাকে। এর মাঝখান দিয়ে প্রধান মধ্যশিরা (Midrib) চলে যায়।
২. শিরাবিন্যাস (Venation)
  • জালিকাযুক্ত শিরাবিন্যাস (Reticulate Venation): উপশিরাগুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে ফলকের উপর জালের মতো জালিকা তৈরি করে। এটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের অন্যতম সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য (যেমন: আম, অশ্বত্থ, জবা)।
  • সমান্তরাল শিরাবিন্যাস (Parallel Venation): শিরাগুলি পরস্পরের সমান্তরালে অবস্থান করে, কোনো জালক তৈরি করে না। এটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য (যেমন: ধান, গম, কলা, ঘাস)।
৩. সরল পত্র বনাম যৌগিক পত্র
  • সরল পত্র (Simple Leaf): ফলকটি অখণ্ড থাকে, অথবা যদি খাঁজকাটা থাকে তবে খাঁজ কখনোই মধ্যশিরা পর্যন্ত পৌঁছায় না (যেমন: আম, বট)।
  • যৌগিক পত্র (Compound Leaf): ফলকের খাঁজ মধ্যশিরা পর্যন্ত গভীরভাবে বিস্তৃত হয়ে ফলকটিকে কতগুলি পৃথক পত্রকে (Leaflets) বিভক্ত করে। যৌগিক পত্রের বৃন্তের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল থাকে, কিন্তু পৃথক পত্রকের কক্ষে কোনো মুকুল থাকে না:
    • পক্ষল যৌগিক পত্র (Pinnately Compound): একটি সাধারণ অক্ষ বা র্যাকিসে (মধ্যশিরা) পত্রকগুলি দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে (যেমন: নিম, গোলাপ)।
    • করতলাকার যৌগিক পত্র (Palmately Compound): পত্রবৃন্তের শীর্ষে একটি বিন্দু থেকে সমস্ত পত্রক হাতের আঙুলের মতো বিকিরিত হয় (যেমন: শিমুল Bombax)।
৪. পত্রবিন্যাস (Phyllotaxy)

কাণ্ডে বা শাখায় পাতার নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো থাকার পদ্ধতিকে পত্রবিন্যাস বলে:

  • একান্তর (Alternate): প্রতিটি পর্ব থেকে একটিমাত্র পাতা একান্তর ক্রমে উৎপন্ন হয় (যেমন: জবা, সরিষা, সূর্যমুখী)।
  • বিপরীত (Opposite): প্রতিটি পর্বে একজোড়া পাতা একে অপরের মুখোমুখি বিপরীত দিকে উৎপন্ন হয় (যেমন: আকন্দ Calotropis, পেয়ারা)।
  • আবর্ত (Whorled): প্রতিটি পর্বে তিন বা ততোধিক পাতা চক্রাকারে অবস্থান করে (যেমন: ছাতিম Alstonia, করবী Nerium)।
৫. পাতার রূপান্তর
  • পত্র আকর্ষ: আরোহণের জন্য পাতা বা পত্রক স্প্রিং-এর মতো আকর্ষে পরিণত হয় (যেমন: মটরগাছের শীর্ষ পত্রক)।
  • পত্র কণ্টক: বাষ্পমোচন রোধ ও আত্মরক্ষায় পাতা কাঁটায় পরিণত হয় (যেমন: ক্যাকটাস, শিয়ালকাঁটা)।
  • পর্ণবৃন্ত (Phyllode): অস্ট্রেলিয়ান বাবলা (Acacia auriculiformis)-তে পাতার ফলক ঝরে যায় এবং পত্রবৃন্তটি চ্যাপ্টা, সবুজ ও কাস্তের মতো প্রসারিত হয়ে সালোকসংশ্লেষ সম্পন্ন করে।
  • পতঙ্গভুক পাতা: নাইট্রোজেনের ঘাটতি মেটাতে পাতা ফাঁদে রূপান্তরিত হয় (যেমন: কলসীপত্রী Nepenthes, ঝাঁঝি Utricularia)।

পুষ্পবিন্যাস ও পুষ্পের গঠন: অনিয়ত বনাম নিয়ত পুষ্পবিন্যাস, প্রতিসাম্য ও গর্ভাশয়ের অবস্থান

পুষ্প হলো যৌন জননের জন্য রূপান্তরিত এক বিশেষ ধরনের সংক্ষিপ্ত বিটপ। পুষ্পাক্ষের (Peduncle) উপর ফুলগুলির বিন্যাস পদ্ধতিকে পুষ্পবিন্যাস (Inflorescence) বলে।

১. পুষ্পবিন্যাসের প্রধান প্রকারভেদ: অনিয়ত বনাম নিয়ত
বৈশিষ্ট্যঅনিয়ত বা রেসিমোস (Racemose)নিয়ত বা সাইমোস (Cymose)
পুষ্পাক্ষের বৃদ্ধিপুষ্পাক্ষটি অবিরাম বৃদ্ধি পায়; শীর্ষে কখনো ফুল ফোটে না (অনির্দিষ্ট বৃদ্ধি)।পুষ্পাক্ষের শীর্ষ ফুল উৎপন্ন করে বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয় (নির্দিষ্ট বৃদ্ধি)।
পুষ্প ফোটার ক্রমঅগ্রোমুখ (Acropetal) ক্রম: নিচের বা গোড়ার ফুলগুলি প্রাচীন এবং শীর্ষের ফুলগুলি কচি।তল্যাভিমুখ (Basipetal) ক্রম: শীর্ষের ফুলটি প্রাচীনতম এবং নিচের ফুলগুলি কচি।
প্রস্ফুটন রীতিঅভিকেন্দ্রী (Centripetal): পরিধির ফুল আগে ফোটে, কেন্দ্রের ফুল পরে ফোটে।অপকেন্দ্রী (Centrifugal): কেন্দ্রের ফুল আগে ফোটে, পরিধির ফুল পরে ফোটে।
উদাহরণসরিষা (Brassica), মূলো, গুলমোহর, রজনীগন্ধা।জবা, জুঁই (Jasminum), বেগুন (Solanum), বোগেনভিলিয়া।
২. পুষ্পের প্রতিসাম্য (Flower Symmetry)
  • সমপ্রতিসম বা বহুপ্রতিসম (Actinomorphic - $\oplus$): পুষ্পাক্ষের কেন্দ্র দিয়ে যে কোনো উল্লম্ব তলে কাটলে ফুলটিকে দুটি সমান অর্ধাংশে ভাগ করা যায় (অরীয় প্রতিসাম্য)। উদাহরণ: সরিষা, ধুতুরা, লঙ্কা।
  • একপ্রতিসম (Zygomorphic - $\%$): একটিমাত্র নির্দিষ্ট উল্লম্ব তলে কাটলেই ফুলটিকে দুটি সদৃশ অর্ধাংশে ভাগ করা যায় (দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য)। উদাহরণ: মটর, বকফুল, অপরাজিতা, গুলমোহর।
  • অপ্রতিসম (Asymmetric): কোনো তল দিয়েই ফুলটিকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করা যায় না। উদাহরণ: কলাবতী (Canna)।
৩. পুষ্পাক্ষে গর্ভাশয়ের অবস্থান (Ovary Position on Thalamus)
  • গর্ভপাদ পুষ্প (Hypogynous Flower): পুষ্পাক্ষটি উত্তল বা কোণাকার। স্ত্রীস্তবক বা গর্ভাশয় শীর্ষে অবস্থান করে এবং বৃতি, দলমণ্ডল ও পুংস্তবক গর্ভাশয়ের নিচ থেকে উৎপন্ন হয়। গর্ভাশয়টিকে অধিজ বা সুপিরিয়র গর্ভাশয় (Superior Ovary - $\underline{\text{G}}$) বলে। উদাহরণ: সরিষা, জবা, বেগুন।
  • গর্ভকোটরস্থ পুষ্প (Perigynous Flower): পুষ্পাক্ষের প্রান্ত পেয়ালার মতো বা চ্যাপ্টা হয়ে বাড়ে। গর্ভাশয় কেন্দ্রে থাকে এবং অন্য স্তবকগুলি পেয়ালার কিনারা থেকে একই উচ্চতায় উৎপন্ন হয়। গর্ভাশয়টি অর্ধ-অধীনস্থ (Half-inferior - $-\text{G}-$)। উদাহরণ: গোলাপ, পিচ, প্লাম।
  • গর্ভশীর্ষ পুষ্প (Epigynous Flower): পুষ্পাক্ষের কিনারা উপরের দিকে বেড়ে গর্ভাশয়কে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয় এবং তার সাথে যুক্ত হয়ে যায়। বৃতি, দল ও পুংকেশর গর্ভাশয়ের উপর থেকে নির্গত হয়। গর্ভাশয়টিকে অধীনস্থ বা ইনফিরিয়র গর্ভাশয় (Inferior Ovary - $\bar{\text{G}}$) বলে। উদাহরণ: পেয়ারা, শসা, কুমড়া, সূর্যমুখীর প্রান্তপুষ্পিকা।

পুষ্পস্তবক, পুষ্পপত্রবিন্যাস, পুংকেশরের সংযোগ ও অমরাবিন্যাস

একটি সম্পূর্ণ ফুলে চারটি স্তবক থাকে: দুটি সাহায্যকারী স্তবক (বৃতি ও দলমণ্ডল, বা পুষ্পপুট) এবং দুটি আবশ্যকীয় জনন স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক)।

১. পুষ্পপত্রবিন্যাস (Aestivation)

মুকুল অবস্থায় বৃত্তাংশ (Sepals) বা দলাংশগুলির (Petals) পারস্পরিক সাজানো থাকার রীতিকে পুষ্পপত্রবিন্যাস বলে:

  • প্রান্তস্পর্শী (Valvate): দল বা বৃত্তাংশগুলির প্রান্তভাগ একে অপরকে স্পর্শ করে থাকে কিন্তু কেউ কাউকে ঢেকে রাখে না (যেমন: আকন্দ Calotropis, সরিষা)।
  • ব্যবর্তিত (Twisted): প্রতিটি দলাংশের এক প্রান্ত সংলগ্ন দলাংশকে ঢেকে রাখে এবং অন্য প্রান্তটি পেছনের দলাংশ দ্বারা ঢাকা থাকে (যেমন: জবা, ঢেঁড়শ, কার্পাস)।
  • ইমব্রিকেট (Imbricate): দলগুলির প্রান্তভাগ অনিয়মিতভাবে একে অপরকে ঢেকে রাখে, কোনো নির্দিষ্ট দিক থাকে না (যেমন: Cassia, গুলমোহর)।
  • ধ্বজক বা ভেক্সিলারি (Vexillary / Papilionaceous): মটর ফুলে দেখা যায়; সবচেয়ে পেছনের বৃহৎ পাপড়িটিকে ধ্বজক বা স্ট্যান্ডার্ড (Vexillum) বলে; এটি দুটি পার্শ্বীয় পাপড়ি পক্ষ বা উইংস (Wings)-কে ঢেকে রাখে, এবং পক্ষ দুটি অগ্রবর্তী যুক্ত নৌকার মতো পাপড়ি তরী বা কিল (Keel)-কে ঢেকে রাখে।
২. পুংস্তবক: পুংকেশরের সংযুক্তি ও রূপভেদ
  • পুংকেশরের সংযুক্তি (Cohesion):
    • একগুচ্ছক (Monadelphous): পুংদণ্ডগুলি যুক্ত হয়ে একটিমাত্র নালী বা গুচ্ছ তৈরি করে (যেমন: জবা)।
    • দ্বি-গুচ্ছক (Diadelphous): পুংদণ্ডগুলি দুটি গুচ্ছে বিন্যস্ত থাকে (যেমন: মটর, যেখানে ৯টি যুক্ত ও ১টি মুক্ত: $(9)+1$)।
    • বহুগুচ্ছক (Polyadelphous): পুংদণ্ডগুলি দুইয়ের অধিক গুচ্ছে বিভক্ত থাকে (যেমন: লেবু Citrus)।
    • যুক্তপরাগধানী (Syngenesious): পরাগধানীগুলি যুক্ত কিন্তু পুংদণ্ড মুক্ত (যেমন: সূর্যমুখী)।
  • অন্য স্তবকের সাথে সংযুক্তি (Adhesion):
    • দললগ্ন (Epipetalous): পুংকেশর পাপড়ির সাথে যুক্ত থাকে (যেমন: বেগুন, ধুতুরা)।
    • অধিপুট বা টেপাললগ্ন (Epiphyllous): পুংকেশর পুষ্পপুটের (Tepal) সাথে যুক্ত থাকে (যেমন: পেঁয়াজ, লিলি)।
  • পুংদণ্ডের দৈর্ঘ্যভেদ: দ্বিদৈর্ঘী (Didynamous): ৪টি পুংকেশরের ২টি লম্বা ও ২টি খাটো (তুলসী); চতুর্দৈর্ঘী (Tetradynamous): ৬টি পুংকেশরের ভিতরের ৪টি লম্বা ও বাইরের ২টি খাটো (সরিষা)। বন্ধ্যা পুংকেশরকে স্ট্যামিনোড (Staminode) বলে।
৩. অমরাবিন্যাস (Placentation)

গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে অমরা বা প্ল্যাসেন্টায় ডিম্বকগুলি যেভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অমরাবিন্যাস বলে:

  • একপ্রান্তীয় (Marginal): একগর্ভপত্রী গর্ভাশয়ের অঙ্কীয় সীমারেখা বরাবর অমরা একটি শৈলশিরা গঠন করে এবং তাতে ডিম্বকগুলি দুই সারিতে সজ্জিত থাকে (যেমন: মটর, শিম)।
  • অক্ষীয় (Axile): বহুপ্রকোষ্ঠী যুক্তগর্ভপত্রী গর্ভাশয়ে প্রকোষ্ঠ প্রাচীর কেন্দ্রে মিলিত হয়ে একটি কেন্দ্রীয় অক্ষ তৈরি করে এবং অক্ষের উপর ডিম্বকগুলি সজ্জিত থাকে (যেমন: জবা, টমেটো, লেবু, পেঁয়াজ)।
  • বহুপ্রান্তীয় (Parietal): একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ের ভিতরের পরিধি প্রাচীর থেকে ডিম্বক উৎপন্ন হয়। সরিষায় (Brassicaceae) ভুয়া পর্দা রেপ্লাম (Replum) গঠিত হওয়ায় এটি দ্বিপ্রকোষ্ঠী দেখায়।
  • মুক্ত-কেন্দ্রীয় (Free Central): একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ে কোনো ব্যবধায়ক পর্দা থাকে না; কেন্দ্রে অবস্থিত একটি মুক্ত অক্ষের চারদিকে ডিম্বক সজ্জিত থাকে (যেমন: Dianthus, Primula)।
  • মূলদেশীয় (Basal): একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ের তলদেশ থেকে অমরা উৎপন্ন হয় এবং একটিমাত্র ডিম্বক ধারণ করে (যেমন: সূর্যমুখী, গাঁদা)।

ফল, বীজ এবং তিনটি প্রধান উদ্ভিদ গোত্র: Fabaceae, Solanaceae ও Liliaceae

ফল হলো নিষেকের পর পরিপক্ক গর্ভাশয়। নিষেক ছাড়া গঠিত বীজহীন ফলকে পার্থেনোকার্পিক ফল বলে (যেমন: কলা)। ফলের প্রাচীরকে পেরিকার্প বলে, যা বহিঃত্বক (Epicarp), মধ্যত্বক (Mesocarp) ও অন্তস্ত্বক (Endocarp)-এ বিভক্ত। আম ও নারকেল হলো অশ্মগর্ভ ফল (Drupe), যাদের অন্তস্ত্বকটি পাথরের মতো কঠিন কাষ্ঠল হয়।

১. ফ্যাবেসি গোত্র (Family Fabaceae / মটর গোত্র)
  • অঙ্গজ বৈশিষ্ট্য: গুল্ম, বৃক্ষ বা বিরুৎ; মূলে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী Rhizobium ব্যাকটেরিয়াযুক্ত অর্বুদ; পক্ষল যৌগিক পাতা যাতে পালভিনাস পত্রমূল থাকে।
  • পুষ্পীয় বৈশিষ্ট্য: পুষ্পবিন্যাস রেসিম; ফুল একপ্রতিসম (%), উভলিঙ্গ; বৃতি: ৫টি বৃত্তাংশ যুক্ত $K_{(5)}$; দলমণ্ডল: ৫টি মুক্ত পাপড়ি, ভেক্সিলারি পুষ্পপত্রবিন্যাস $C_{1+2+(2)}$; পুংস্তবক: ১০টি পুংকেশর, দ্বি-গুচ্ছক $A_{(9)+1}$; স্ত্রীস্তবক: একগর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয় $\underline{G}_1$, একপ্রান্তীয় অমরাবিন্যাস; ফল: লেগিউম বা শুঁটি।
  • পুষ্প সংকেত: $\%\, \oint\, K_{(5)}\, C_{1+2+(2)}\, A_{(9)+1}\, \underline{G}_1$
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: ডাল (ছোলা, মুগ, অড়হর, সয়াবিন); ভোজ্য তেল (চীনাবাদাম); নীল রং (Indigofera); তন্তু (শনপাট); পশুখাদ্য (Trifolium); ওষুধ (যষ্টিমধু Glycyrrhiza glabra)।
২. সোলানেসি গোত্র (Family Solanaceae / আলু গোত্র)
  • অঙ্গজ বৈশিষ্ট্য: প্রধানত বিরুৎ বা গুল্ম; কাণ্ড শাখাপ্রশাখা যুক্ত, আলুতে ভূনিম্নস্থ কন্দ; পাতা একান্তর, সরল, জালিকা শিরাবিন্যাস।
  • পুষ্পীয় বৈশিষ্ট্য: পুষ্পবিন্যাস সাইমোস; ফুল সমপ্রতিসম ($\oplus$), উভলিঙ্গ; বৃতি: ৫টি বৃত্তাংশ যুক্ত $K_{(5)}$, চিরস্থায়ী (টমেটো, বেগুন); দলমণ্ডল: ৫টি যুক্ত পাপড়ি $C_{(5)}$; পুংস্তবক: ৫টি পুংকেশর, দললগ্ন $A_5$; স্ত্রীস্তবক: দ্বি-গর্ভপত্রী যুক্তগর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয় $\underline{G}_{(2)}$, তীর্যকভাবে অবস্থিত গর্ভাশয় ও স্ফীত অমরা, অক্ষীয় অমরাবিন্যাস; ফল: বেরি বা ক্যাপসুল।
  • পুষ্প সংকেত: $\oplus\, \oint\, K_{(5)}\, \overbrace{C_{(5)}\, A_5}\, \underline{G}_{(2)}$
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: খাদ্য (আলু, টমেটো, বেগুন); মশলা (লঙ্কা); ওষুধ (বেলাডোনা, অশ্বগন্ধা); মাদক (তামাক Nicotiana tabacum); শোভাবর্ধক (পিটুনিয়া)।
৩. লিলিয়েসি গোত্র (Family Liliaceae / লিলি গোত্র - একবীজপত্রী)
  • অঙ্গজ বৈশিষ্ট্য: বহুবর্ষজীবী বিরুৎ; ভূনিম্নস্থ কন্দ, গুঁড়িকন্দ বা গ্রন্থিকাণ্ড; পাতা মূলোদ্ভূত, একান্তর, সমান্তরাল শিরাবিন্যাস।
  • পুষ্পীয় বৈশিষ্ট্য: ফুল সমপ্রতিসম ($\oplus$), উভলিঙ্গ; পুষ্পপুট: ৬টি টেপাল দুটি আবর্তে $P_{(3+3)}$, দলসদৃশ; পুংস্তবক: ৬টি পুংকেশর, অধিপুট বা টেপাললগ্ন $A_{3+3}$; স্ত্রীস্তবক: ত্রি-গর্ভপত্রী যুক্তগর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয় $\underline{G}_{(3)}$, ত্রিপ্রকোষ্ঠী, অক্ষীয় অমরাবিন্যাস; ফল: ক্যাপসুল; বীজ সস্যল।
  • পুষ্প সংকেত: $\oplus\, \oint\, \overbrace{P_{(3+3)}\, A_{3+3}}\, \underline{G}_{(3)}$
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: শোভাবর্ধক (টিউলিপ, গ্লোরিওসা); ওষুধ (ঘৃতকুমারী / Aloe); সবজি (শতমূলী / Asparagus); মশলা (পেঁয়াজ, রসুন); কোলচিসিন (Colchicum autumnale)।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

মূলের ক্রিয়ামূলক অঞ্চল ধারা: মূলত্র (সুরক্ষা) → বিভাজন অঞ্চল (মাইটোসিস) → দীর্ঘীকরণ (দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি) → পরিপক্কতা (মূলরোম ও শোষণ)
মূলের কার্যপ্রণালী উপপাদ্য: জল ও খনিজ লবণ শোষণকারী মূলরোম কেবলমাত্র পরিপক্কতা অঞ্চলে থাকে; পূর্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে পরিণত জাইলেম বা শোষণকারী অঙ্গ থাকে না।
কাণ্ড সনাক্তকরণ নিয়ম: পর্ব + পর্বমধ্য + শল্কপত্র + কাক্ষিক মুকুল ('চোখ') = রূপান্তর কাণ্ড
রূপান্তরিত কাণ্ড সনাক্তকরণ সূত্র: আকৃতি গোল বা মাটির নিচে অবস্থান যাই হোক না কেন (আলুর স্ফীতকন্দ, আদার গ্রন্থিকাণ্ড, ওলের গুঁড়িকন্দ, পেঁয়াজের কন্দ), কাক্ষিক মুকুল ও পর্বের উপস্থিতিতেই অঙ্গটি কান্ডীয় বলে প্রমাণিত হয়।
পুষ্পাক্ষীয় গর্ভাশয় সন্নিবেশ: গর্ভপাদ (অধিজ গর্ভাশয়, G-আন্ডারলাইন) বনাম গর্ভকোটরস্থ (অর্ধ-অধীনস্থ, -G-) বনাম গর্ভশীর্ষ (অধীনস্থ গর্ভাশয়, G-বার)
পুষ্পাক্ষীয় বক্রতা নীতি: উত্তল পুষ্পাক্ষ = অধিজ গর্ভাশয় (সরিষা, জবা); পেয়ালাকার পুষ্পাক্ষ = অর্ধ-অধীনস্থ (গোলাপ, পিচ); গর্ভাশয়কে সম্পূর্ণ ঢেকে দেওয়া পুষ্পাক্ষ = অধীনস্থ গর্ভাশয় (পেয়ারা, শসা)।
অমরাবিন্যাস ম্যাট্রিক্স: একপ্রান্তীয় (মটর) | অক্ষীয় (জবা, সোলানেসি) | বহুপ্রান্তীয় যাতে রেপ্লাম থাকে (সরিষা) | মুক্ত-কেন্দ্রীয় (ডায়ান্থাস) | মূলদেশীয় (সূর্যমুখী)
ডিম্বক সন্নিবেশ সমীকরণ: অঙ্কীয় সীমায় শৈলশিরা = একপ্রান্তীয়; বহুপ্রকোষ্ঠে কেন্দ্রীয় অক্ষ = অক্ষীয়; পরিধি প্রাচীরে ভুয়া পর্দা সহ = বহুপ্রান্তীয়; পর্দাবিহীন মুক্ত কেন্দ্র = মুক্ত-কেন্দ্রীয়; গোড়ায় একক ডিম্বক = মূলদেশীয়।
পুষ্পের প্রতিসাম্য রূপভেদ: সমপ্রতিসম (অরীয়, ⊕, একাধিক তল) বনাম একপ্রতিসম (দ্বিপার্শ্বীয়, %, একটিমাত্র তল)
পরাগায়ক বিশিষ্টতা নীতি: একপ্রতিসম পুষ্পে (মটর) পতঙ্গের নির্দিষ্ট অবতরণ মঞ্চ (উইংস/কিল) গঠিত হয়ে নির্দিষ্ট পতঙ্গ দ্বারা পরাগমিলন সুনিশ্চিত করে, সমপ্রতিসম ফুলে সবদিক থেকে পতঙ্গ প্রবেশ করতে পারে।
তিন গোত্রের পুষ্প সংকেত: Fabaceae [% ⚥ K(5) C1+2+(2) A(9)+1 G1] vs Solanaceae [⊕ ⚥ K(5) C(5) A5 G(2)] vs Liliaceae [⊕ ⚥ P(3+3) A3+3 G(3)]
গোত্র সনাক্তকারী ম্যাট্রিক্স: ফ্যাবেসি দ্বি-গুচ্ছক ও ভেক্সিলারি পাপড়ি দ্বারা; সোলানেসি দললগ্ন পুংকেশর ও তীর্যক স্ফীত অমরা দ্বারা; এবং লিলিয়েসি ৬টি টেপাল ও অধিপুট পুংকেশর দ্বারা সনাক্ত করা হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) যান্ত্রিক অবলম্বন ও শ্বসনের জন্য মূলের অভিযোজনগত রূপান্তর উদাহরণসহ আলোচনা করো। (খ) নিউম্যাথােড কী? [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) যান্ত্রিক অবলম্বন ও শ্বসনে মূলের রূপান্তর (মান ৩)
  • ১. স্তম্ভমূল বা ঝুরিমূল (Prop Roots): বটগাছের (Ficus benghalensis) অনুভূমিক মোটা ডালপালা থেকে উৎপন্ন হয়ে উল্লম্বভাবে সোজা মাটির নিচে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এরা কাষ্ঠল ও স্থূল স্তম্ভের রূপ ধারণ করে গাছের বিশাল ভারী ডালপালাকে ছাতার মতো ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ২. ঠেস মূল (Stilt Roots): ভুট্টা ও আখের মতো সরু ও লম্বা উদ্ভিদের কাণ্ডের নিচের দিকের পর্ব থেকে কতগুলি অস্থানিক মূল তীর্যকভাবে নির্গত হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে। এরা তীব্র বাতাসে গাছকে মাটিতে সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে ঠেস দিয়ে সাহায্য করে।
  • ৩. শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophores): লবণাক্ত কর্দমাক্ত ম্যানগ্রোভ অরণ্যে (যেমন: সুন্দরী, গরান) মাটির নিচে বাতাসের অভাব থাকায় কিছু অস্থানিক মূল ঋণাত্মক ভূ-অভিমুখী হয়ে খাড়াভাবে মাটির উপরে উঠে আসে এবং বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
(খ) নিউম্যাথােড (মান ২)

নিউম্যাথােড (Pneumathodes / Lenticels): ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূলের (Pneumatophore) বহিরাবরণে অবস্থিত অসংখ্য সূক্ষ্ম লেন্স আকৃতির শ্বাসছিদ্র। এই ছিদ্রগুলির নিচে শিথিলভাবে সজ্জিত প্যারেনকাইমা কোশ থাকে যা সরাসরি ভিতরের বায়ুগহ্বরের সাথে যুক্ত থাকে এবং কর্দমাক্ত মাটির নিচে নিমজ্জিত মূলের কোশীয় শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগে সাহায্য করে।

উদাহরণ 2
(ক) খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য কাণ্ডের চারটি ভূনিম্নস্থ রূপান্তরের নাম উদাহরণসহ লেখো। (খ) পেঁয়াজের কন্দ যে একটি রূপান্তরিত বিটপ, তার দুটি প্রমাণ দাও। [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) খাদ্য সঞ্চয়ী ভূনিম্নস্থ কাণ্ড (মান ৩)
রূপান্তরের নামঅঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যউদাহরণ
১. স্ফীতকন্দ (Tuber)ভূনিম্নস্থ শাখার স্ফীত অগ্রভাগ; গায়ে খাঁজযুক্ত পর্ব ও কাক্ষিক মুকুলযুক্ত 'চোখ' থাকে।গোলআলু (Solanum tuberosum)
২. গ্রন্থিকাণ্ড (Rhizome)মাটির নিচে অনুভূমিকভাবে প্রসারিত স্থূল কাণ্ড; পর্ব, পর্বমধ্য ও শল্কপত্রযুক্ত।আদা (Zingiber), হলুদ
৩. গুঁড়িকন্দ (Corm)মাটির নিচে উল্লম্বভাবে বর্ধনশীল কঠিন ও গোলাকার কাণ্ড; চক্রাকার পর্ব ও অগ্রমুকুল থাকে।ওল (Amorphophallus), কচু
৪. কন্দ (Bulb)চাকতির মতো সংক্ষিপ্ত কাণ্ড যাকে ঘিরে রসালো রসপূর্ণ শল্কপত্র স্তরবিন্যস্ত থাকে।পেঁয়াজ (Allium cepa), রসুন
(খ) পেঁয়াজ একটি রূপান্তরিত বিটপ—তার প্রমাণ (মান ২)
  1. চাকতি সদৃশ কাণ্ড: পেঁয়াজের গোড়ায় একটি চ্যাপ্টা উত্তল চাকতির মতো অংশ থাকে, যাতে সুস্পষ্ট পর্ব ও সংক্ষিপ্ত পর্বমধ্য বর্তমান।
  2. মাংসল শল্কপত্র ও মুকুল: পেঁয়াজের যে রসালো স্তরগুলি আমরা খাই, সেগুলি আসলে রূপান্তরিত পাতার স্ফীত পত্রমূল এবং চাকতির কেন্দ্রে একটি অগ্রমুকুল থাকে যা থেকে নতুন সবুজ বায়বীয় পাতা গজায়।
উদাহরণ 3
(ক) অক্ষের বৃদ্ধি, পুষ্পের পরিস্ফুটন ও প্রস্ফুটন রীতির ভিত্তিতে রেসিমোস ও সাইমোস পুষ্পবিন্যাসের তিনটি পার্থক্য লেখো। (খ) সায়াথিয়াম (Cyathium) পুষ্পবিন্যাস কোন উদ্ভিদে দেখা যায় এবং এর বিশেষত্ব কী? [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) রেসিমোস বনাম সাইমোস পুষ্পবিন্যাস (মান ৩)
তুলনীয় বৈশিষ্ট্যরেসিমোস (অনিয়ত পুষ্পবিন্যাস)সাইমোস (নিয়ত পুষ্পবিন্যাস)
১. পুষ্পাক্ষের বৃদ্ধিপুষ্পাক্ষের বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট; শীর্ষে ফুল গঠিত হয় না।শীর্ষে ফুল গঠিত হওয়ায় পুষ্পাক্ষের বৃদ্ধি নির্দিষ্ট/সীমাবদ্ধ।
২. ফুল ফোটার অনুক্রমঅগ্রোমুখ (Acropetal): নিচের বা গোড়ার ফুল প্রাচীন, শীর্ষের ফুল কচি।তল্যাভিমুখ (Basipetal): শীর্ষের ফুল প্রাচীনতম, নিচের ফুল কচি।
৩. প্রস্ফুটন রীতিঅভিকেন্দ্রী: পরিধির দিকের ফুল আগে এবং কেন্দ্রের ফুল পরে ফোটে।অপকেন্দ্রী: কেন্দ্রের ফুল আগে এবং পরিধির ফুল পরে ফোটে।
৪. উদাহরণসরিষা (Brassica), মূলো, রজনীগন্ধা।জবা (Hibiscus), জুঁই, বেগুন (Solanum)।
(খ) সায়াথিয়াম পুষ্পবিন্যাস (মান ২)

উদ্ভিদ: Euphorbia (দুধিয়া বা লালপাতা)।

বিশেষত্ব: এটি একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিশেষ যৌগিক পুষ্পবিন্যাস। এতে পেয়ালার মতো কতগুলি পুষ্পমঞ্জরীপত্র যুক্ত হয়ে একটি আধার গঠন করে। পেয়ালার কেন্দ্রে একটিমাত্র নগ্ন স্ত্রীফুল (বৃন্তযুক্ত ত্রগর্ভপত্রী গর্ভাশয়) থাকে এবং তাকে ঘিরে বহুসংখ্যক নগ্ন পুরুষফুল (প্রতিটি একটিমাত্র পুংকেশরে রূপান্তরিত) অবস্থান করে। পেয়ালার গায়ে একটি নালীগ্রন্থি থাকে যা মকরন্দ ক্ষরণ করে।

উদাহরণ 4
(ক) গর্ভপাদ, গর্ভকোটরস্থ ও গর্ভশীর্ষ পুষ্প কাকে বলে? প্রতিটির গর্ভাশয়ের অবস্থান ও একটি করে উদাহরণ দাও। (খ) স্ট্যামিনোড (Staminode) কী? [নম্বর বিভাজন: ৪ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) গর্ভাশয়ের অবস্থান অনুসারে পুষ্পের প্রকারভেদ (মান ৪)
পুষ্পের নামপুষ্পাক্ষের গঠন ও স্তবকের বিন্যাসগর্ভাশয়ের অবস্থানউদাহরণ
১. গর্ভপাদ পুষ্প (Hypogynous)পুষ্পাক্ষ উত্তল; গর্ভাশয়টি শীর্ষে থাকে এবং বৃতি, দল ও পুংকেশর গর্ভাশয়ের নিচ থেকে উৎপন্ন হয়।অধিজ গর্ভাশয় (Superior Ovary - $\underline{\text{G}}$)সরিষা, জবা, বেগুন।
২. গর্ভকোটরস্থ পুষ্প (Perigynous)পুষ্পাক্ষ পেয়ালার মতো প্রসারিত; গর্ভাশয় কেন্দ্রে থাকে এবং অন্য স্তবকগুলি পেয়ালার কিনারা থেকে একই উচ্চতায় উৎপন্ন হয়।অর্ধ-অধীনস্থ গর্ভাশয় (Half-inferior - $-\text{G}-$)গোলাপ, পিচ, প্লাম।
৩. গর্ভশীর্ষ পুষ্প (Epigynous)পুষ্পাক্ষ বেড়ে গিয়ে গর্ভাশয়কে সম্পূর্ণ আবৃত ও যুক্ত করে ফেলে; অন্য স্তবকগুলি গর্ভাশয়ের উপর থেকে উৎপন্ন হয়।অধীনস্থ গর্ভাশয় (Inferior Ovary - $\bar{\text{G}}$)পেয়ারা, শসা, সূর্যমুখীর রে-ফ্লোরেট।
(খ) স্ট্যামিনোড (মান ১)

স্ট্যামিনোড (Staminode): যে পুংকেশর সম্পূর্ণ বন্ধ্যা এবং কোনো পরাগরেণু তৈরি করতে সক্ষম নয়, তাকে স্ট্যামিনোড বলে (যেমন: Cassia-র কিছু পুংকেশর)।

উদাহরণ 5
(ক) অমরাবিন্যাস কাকে বলে? একপ্রান্তীয়, অক্ষীয়, বহুপ্রান্তীয়, মুক্ত-কেন্দ্রীয় ও মূলদেশীয় অমরাবিন্যাসের বর্ণনা একটি করে উদাহরণসহ দাও। (খ) রেপ্লাম (Replum) কী? [নম্বর বিভাজন: ৪ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) অমরাবিন্যাসের প্রকারভেদ (মান ৪)

অমরাবিন্যাস (Placentation): গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে অমরা বা প্ল্যাসেন্টায় ডিম্বকগুলির সজ্জিত থাকার রীতিকে অমরাবিন্যাস বলে:

  • ১. একপ্রান্তীয় (Marginal): একগর্ভপত্রী গর্ভাশয়ের অঙ্কীয় সীমারেখা বরাবর অমরা সৃষ্টি হয় এবং তার উপর ডিম্বকগুলি দুটি সারিতে বিন্যস্ত থাকে (যেমন: মটর, শিম)।
  • ২. অক্ষীয় (Axile): বহুপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ে প্রকোষ্ঠের ব্যবধায়ক পর্দাগুলি কেন্দ্রে মিলিত হয়ে একটি অক্ষ তৈরি করে এবং অক্ষের গায়ে ডিম্বকগুলি বিন্যস্ত থাকে (যেমন: জবা, টমেটো, লেবু)।
  • ৩. বহুপ্রান্তীয় (Parietal): একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ের ভিতরের পরিধি প্রাচীর থেকে ডিম্বক উৎপন্ন হয় (যেমন: সরিষা, শিয়ালকাঁটা Argemone)।
  • ৪. মুক্ত-কেন্দ্রীয় (Free Central): একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ে কোনো ব্যবধায়ক পর্দা থাকে না; কেন্দ্রে অবস্থিত একটি স্বাধীন অক্ষের চারদিকে ডিম্বক সজ্জিত থাকে (যেমন: Dianthus, Primula)।
  • ৫. মূলদেশীয় (Basal): একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ের তলদেশ থেকে অমরা উৎপন্ন হয়ে একটিমাত্র ডিম্বক ধারণ করে (যেমন: সূর্যমুখী, গাঁদা)।
(খ) রেপ্লাম (মান ১)

রেপ্লাম (Replum): ক্রুসিফেরি বা ব্রাসিকেসি গোত্রের (যেমন সরিষা) একপ্রকোষ্ঠী গর্ভাশয়ের দুটি বিপরীত বহুপ্রান্তীয় ওমরার সংযোগস্থলে গঠিত একটি কৃত্রিম পর্দা, যা ডিম্বাশয়টিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে দ্বিপ্রকোষ্ঠীতে পরিণত করে।

উদাহরণ 6
(ক) ফ্যাবেসি (Fabaceae), সোলানেসি (Solanaceae) এবং লিলিয়েসি (Liliaceae) গোত্রের মধ্যে পুষ্প সংকেত, দলমণ্ডল/পুষ্পপুট, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবকের তুলনামূলক ছক প্রস্তুত করো। (খ) প্রতিটি গোত্রের একটি করে ঔষধি উদ্ভিদের নাম লেখো। [নম্বর বিভাজন: ৪ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) তিনটি প্রধান গোত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণ (মান ৪)
বৈশিষ্ট্যফ্যাবেসি (Fabaceae)সোলানেসি (Solanaceae)লিলিয়েসি (Liliaceae)
পুষ্পের প্রকৃতিএকপ্রতিসম (%), উভলিঙ্গসমপ্রতিসম ($\oplus$), উভলিঙ্গসমপ্রতিসম ($\oplus$), উভলিঙ্গ
দলমণ্ডল / পুষ্পপুটদলমণ্ডল: ৫টি মুক্ত পাপড়ি, ভেক্সিলারি $C_{1+2+(2)}$দলমণ্ডল: ৫টি যুক্ত পাপড়ি, আবর্তিত বা নলাকার $C_{(5)}$পুষ্পপুট: ৬টি টেপাল দুটি আবর্তে যুক্ত $P_{(3+3)}$
পুংস্তবক১০টি পুংকেশর, দ্বি-গুচ্ছক $A_{(9)+1}$৫টি পুংকেশর, দললগ্ন $A_5$৬টি পুংকেশর, অধিপুট বা টেপাললগ্ন $A_{3+3}$
স্ত্রীস্তবকএকগর্ভপত্রী অধিজ $\underline{G}_1$, একপ্রান্তীয় অমরাবিন্যাসদ্বি-গর্ভপত্রী অধিজ $\underline{G}_{(2)}$, তীর্যক গর্ভাশয় ও স্ফীত অমরা, অক্ষীয়ত্রি-গর্ভপত্রী অধিজ $\underline{G}_{(3)}$, ত্রিপ্রকোষ্ঠী, অক্ষীয় অমরাবিন্যাস
পুষ্প সংকেত$\%\, \oint\, K_{(5)}\, C_{1+2+(2)}\, A_{(9)+1}\, \underline{G}_1$$\oplus\, \oint\, K_{(5)}\, \overbrace{C_{(5)}\, A_5}\, \underline{G}_{(2)}$$\oplus\, \oint\, \overbrace{P_{(3+3)}\, A_{3+3}}\, \underline{G}_{(3)}$
(খ) ঔষধি উদ্ভিদের নাম (মান ১)
  • ফ্যাবেসি: যষ্টিমধু (Glycyrrhiza glabra — কাশির উপশমে ব্যবহৃত)।
  • সোলানেসি: অশ্বগন্ধা (Withania somnifera) বা বেলাডোনা (Atropa belladonna)।
  • লিলিয়েসি: ঘৃতকুমারী (Aloe vera) বা Colchicum autumnale (কোলচিসিনের উৎস)।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মাটির নিচে থাকে বলে গোলআলুকে মূল মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গোলআলু হলো ভূনিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড (স্ফীতকন্দ)। এতে পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে যা 'চোখ' হিসেবে দৃশ্যমান এবং এতে অবস্থিত কাক্ষিক মুকুল অঙ্কুরিত হয়ে নতুন পাতা ও কাণ্ড তৈরি করতে পারে।

সাধারণ ভুল ধারণা

গোলআলু ও মিষ্টি আলুকে একই ধরনের রূপান্তর মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গোলআলু হলো কাণ্ডের রূপান্তর (স্ফীতকন্দ), যার গায়ে চোখ বা মুকুল থাকে। মিষ্টি আলু হলো অস্থানিক মূলের রূপান্তর (কন্দাল মূল), যাতে কোনো পর্ব, পর্বমধ্য বা কাক্ষিক মুকুল থাকে না।

সাধারণ ভুল ধারণা

সরিষা ফুলের বহুপ্রান্তীয় অমরাবিন্যাসকে অক্ষীয় মনে করা কারণ গর্ভাশয়ে দুটি প্রকোষ্ঠ দেখা যায়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সরিষার গর্ভাশয় আদতে একপ্রকোষ্ঠী এবং ডিম্বক পরিধি প্রাচীরে যুক্ত থাকে। নিষেকের সময় 'রেপ্লাম' নামক একটি কৃত্রিম ব্যবধায়ক পর্দা তৈরি হওয়ায় এটি দেখতে দ্বিপ্রকোষ্ঠী মনে হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

পর্ণকাণ্ড (Phylloclade) এবং পর্ণবৃন্ত (Phyllode)-কে একই রূপান্তর মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পর্ণকাণ্ড হলো সম্পূর্ণ কাণ্ডের চ্যাপ্টা সবুজ পাতাসদৃশ রূপান্তর (যেমন ফণীমনসা)। পর্ণবৃন্ত হলো পাতার বোঁটার চ্যাপ্টা সবুজ সালোকসংশ্লেষী রূপান্তর (যেমন অস্ট্রেলিয়ান বাবলা)।

সাধারণ ভুল ধারণা

গর্ভকোটরস্থ পুষ্পের (Perigynous) গর্ভাশয়কে সম্পূর্ণ অধীনস্থ মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

গর্ভকোটরস্থ পুষ্পে (গোলাপ, পিচ) গর্ভাশয় পুষ্পাক্ষের পেয়ালার মধ্যে মুক্ত অবস্থায় বসে থাকে, তাই এটি অর্ধ-অধীনস্থ (Half-inferior)। কেবল গর্ভশীর্ষ পুষ্পেই গর্ভাশয় সম্পূর্ণ অধীনস্থ (Inferior) হয়।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

MFP সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান: মূল, কাণ্ড, পাতা, পুষ্প ও গোত্রসমূহ ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি জীববিদ্যা — একক ২: উদ্ভিদের গঠনগত সংগঠন (অধ্যায় ৫) ১. মূল ও কাণ্ডের অভিযোজনগত রূপান্তর (Root & Stem Modifications) • মূলের রূপান্তর: স্তম্ভমূল (Prop root - বট) | ঠেস মূল (Stilt root - ভুট্টা, আখ) | শ্বাসমূল (Pneumatophore - সুন্দরী, রাইজোফোরা) • ভূনিম্নস্থ কাণ্ড: স্ফীতকন্দ (গোলআলু) | গ্রন্থিকাণ্ড (আদা, হলুদ) | গুঁড়িকন্দ (ওল) | কন্দ (পেঁয়াজ, রসুন) • বায়বীয় কাণ্ড: পর্ণকাণ্ড (Phylloclade - ফণীমনসা, জল ও মিউসিলেজ সঞ্চয়) | কণ্টক (লেবু, বোগেনভিলিয়া - আত্মরক্ষা) ২. পুষ্পের গঠন, অমরাবিন্যাস ও পুষ্পপত্রবিন্যাস (Floral Morphology & Placentation) • পুষ্পের প্রতিসাম্য: সমপ্রতিসম (Actinomorphic: সরিষা, জবা) | একপ্রতিসম (Zygomorphic: মটর, গুলমোহর) • গর্ভাশয়ের অবস্থান: গর্ভপাদপুষ্প (Hypogynous - অধিজ গর্ভাশয়) | গর্ভকোটরস্থ (Epigynous - অধীনস্থ গর্ভাশয় - পেয়ারা, শসা) • অমরাবিন্যাস (Placentation): একপ্রান্তীয় (মটর) | অক্ষীয় (জবা, লেবু, টমেটো) | বহুপ্রান্তীয় (সরিষা, রেপ্লাম) | মুক্ত-কেন্দ্রীয় (ডায়ান্থাস) • পুষ্পপত্রবিন্যাস (Aestivation): প্রান্তস্পর্শী (Valvate) | ব্যবর্তিত (Twisted) | কুইনকানসিয়াল | ধ্বজক বা ভেক্সিলারি (মটর) ৩. তিনটি প্রধান উদ্ভিদ গোত্র ও পুষ্প সংকেত (Diagnostic Plant Families) • Fabaceae (মটর গোত্র): % ⚥ K(5) C1+2+(2) A(9)+1 G1 [দ্বি-গুচ্ছক পুংকেশর, একপ্রান্তীয় অমরাবিন্যাস, লেগিউম ফল] • Solanaceae (আলু গোত্র): ⊕ ⚥ K(5) C(5) A5 G(2) [দললগ্ন পুংকেশর, স্ফীত অমরা, তীর্যক গর্ভাশয়, বেরি/ক্যাপসুল] • Liliaceae (লিলি একবীজপত্রী): ⊕ ⚥ P(3+3) A3+3 G(3) [পুষ্পপুট (Tepals), অধিপুট পুংকেশর, ত্রিগর্ভপত্রী, অক্ষীয়] WBCHSE • অঙ্গসংস্থান

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
মূলতন্ত্র প্রধানত তিন প্রকার: প্রধান মূলতন্ত্র (দ্বিবীজপত্রী), গুচ্ছ মূলতন্ত্র (একবীজপত্রী), এবং অস্থানিক মূলতন্ত্র (ভ্রূণমূল ছাড়া অন্য অংশ থেকে উৎপন্ন)।
মূল বিষয় 2
একটি আদর্শ মূলের চারটি অঞ্চল রয়েছে: মূলত্র অঞ্চল, কোশ বিভাজন অঞ্চল, দীর্ঘীকরণ অঞ্চল, এবং পরিপক্কতা অঞ্চল (যেখান থেকে শোষণকারী মূলরোম সৃষ্টি হয়)।
মূল বিষয় 3
মূলের রূপান্তরগুলির মধ্যে খাদ্য সঞ্চয় (গাজর, মূলো, মিষ্টি আলু), যান্ত্রিক অবলম্বন (বটের স্তম্ভমূল, ভুট্টার ঠেস মূল), এবং শ্বসন (সুন্দরী ও রাইজোফোরার শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর) প্রধান।
মূল বিষয় 4
কাণ্ড পর্ব ও পর্বমধ্য ধারণ করে; ভূনিম্নস্থ খাদ্য সঞ্চয়ী কাণ্ডের মধ্যে স্ফীতকন্দ (আলু), গ্রন্থিকাণ্ড (আদা), গুঁড়িকন্দ (ওল) এবং কন্দ (পেঁয়াজ); বায়বীয় রূপান্তরের মধ্যে পর্ণকাণ্ড (ফণীমনসা), কাণ্ডজ আকর্ষ ও কণ্টক উল্লেখযোগ্য।
মূল বিষয় 5
পাতার তিনটি অংশ: পত্রমূল, বৃন্ত ও ফলক; শিরাবিন্যাস জালিকাযুক্ত (দ্বিবীজপত্রী) বা সমান্তরাল (একবীজপত্রী); পত্রবিন্যাস একান্তর, বিপরীত বা আবর্ত; রূপান্তরের মধ্যে আকর্ষ, কণ্টক ও পর্ণবৃন্ত (অস্ট্রেলিয়ান অ্যাকাসিয়া) প্রধান।
মূল বিষয় 6
পুষ্পবিন্যাস দুই প্রকার: অনিয়ত বা রেসিমোস (অনির্দিষ্ট বৃদ্ধি, অগ্রোমুখ পুষ্প পরিস্ফুটন) এবং নিয়ত বা সাইমোস (নির্দিষ্ট বৃদ্ধি, তল্যাভিমুখ পুষ্প পরিস্ফুটন)।
মূল বিষয় 7
পুষ্পের প্রতিসাম্য: সমপ্রতিসম (অরীয়, যেমন সরিষা) বা একপ্রতিসম (দ্বিপার্শ্বীয়, যেমন মটর); গর্ভাশয়ের অবস্থান অনুসারে গর্ভপাদ (অধিজ গর্ভাশয়), গর্ভকোটরস্থ (অর্ধ-অধীনস্থ) এবং গর্ভশীর্ষ (অধীনস্থ গর্ভাশয়)।
মূল বিষয় 8
পুষ্পপত্রবিন্যাস (Aestivation) হতে পারে প্রান্তস্পর্শী, ব্যবর্তিত, কুইনকানসিয়াল, বা ধ্বজক/ভেক্সিলারি (মটর)।
মূল বিষয় 9
পুংকেশর হতে পারে একগুচ্ছক (জবা), দ্বিগুণিত বা দ্বি-গুচ্ছক (মটর ৯+১), বহুগুচ্ছক (লেবু); দললগ্ন (বেগুন) বা অধিপুট (লিলি)।
মূল বিষয় 10
অমরাবিন্যাসের প্রধান রূপভেদ: একপ্রান্তীয় (মটর), অক্ষীয় (জবা, টমেটো, পেঁয়াজ), বহুপ্রান্তীয় (সরিষা, যাতে রেপ্লাম থাকে), মুক্ত-কেন্দ্রীয় (ডায়ান্থাস), এবং মূলদেশীয় (সূর্যমুখী)।
মূল বিষয় 11
ড্রুপ হলো একবীজযুক্ত অশ্মগর্ভ ফল (আম, নারকেল), যার পেরিকার্প বহিঃত্বক, মধ্যত্বক ও কঠিন অন্তস্ত্বকে বিভক্ত।
মূল বিষয় 12
Fabaceae গোত্রের বৈশিষ্ট্য: একপ্রতিসম পুষ্প, ভেক্সিলারি দলমণ্ডল, দ্বি-গুচ্ছক পুংকেশর (৯)+১, একগর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয়, একপ্রান্তীয় অমরাবিন্যাস ও লেগিউম ফল।
মূল বিষয় 13
Solanaceae গোত্রের বৈশিষ্ট্য: সমপ্রতিসম পুষ্প, দললগ্ন পুংকেশর, তীর্যকভাবে অবস্থিত দ্বি-গর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয় যাতে স্ফীত অমরা ও অক্ষীয় অমরাবিন্যাস থাকে, বেরি বা ক্যাপসুল ফল।
মূল বিষয় 14
Liliaceae গোত্রের বৈশিষ্ট্য: একবীজপত্রী লিলি গোত্র; ৬টি টেপালযুক্ত পুষ্পপুট P(3+3), অধিপুট পুংকেশর A3+3, ত্রিগর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয়, অক্ষীয় অমরাবিন্যাস ও ক্যাপসুল ফল।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
সরিষা ফুলের গর্ভাশয় শুরুতে একপ্রকোষ্ঠী হলেও পরিণত অবস্থায় দ্বিপ্রকোষ্ঠী দেখায় কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: সরিষা ফুলের গর্ভাশয়টি প্রাথমিকভাবে একপ্রকোষ্ঠী থাকে এবং এর অমরাবিন্যাস বহুপ্রান্তীয় (Parietal)। কিন্তু বৃদ্ধি ও নিষেকের সময় দুটি বিপরীত প্রান্তীয় ওমরার মধ্যবর্তী স্থান থেকে 'রেপ্লাম' (Replum) নামক একটি মেমব্রেনাস ভুয়া ব্যবধায়ক পর্দা গঠিত হয়। এই রেপ্লাম গর্ভাশয়টিকে দুটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে, ফলে পরিণত ফলটি দ্বিপ্রকোষ্ঠী দেখায়।
2
পালভিনাস (Pulvinus) কী এবং শিম্বীগোত্রীয় পাতায় এটি কী ভূমিকা পালন করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পালভিনাস হলো শিম্বীগোত্রীয় উদ্ভিদের (Fabaceae) পাতার গোড়ায় অবস্থিত স্ফীত কুশনের মতো পত্রমূল। এটি একটি হাইড্রলিক সঞ্চালক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে: এর প্যারেনকাইমা কোশের বিপরীত প্রান্তগুলিতে দ্রুত রসস্ফীতি চাপের (Turgor pressure) পরিবর্তনের মাধ্যমে পাতাগুলির ঘুমন্ত চলন (Nyctinastic movement) বা স্পর্শীয় চলন নিয়ন্ত্রিত হয়।
3
একটি গুঁড়িকন্দ (Corm) এবং স্ফীতকন্দের (Tuber) মধ্যে গঠনগত পার্থক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: গুঁড়িকন্দ (যেমন ওল, কচু) হলো মাটির নিচে উল্লম্বভাবে বর্ধনশীল কঠিন ও ঘন কাণ্ড, যাতে স্পষ্ট বৃত্তাকার পর্ব, শল্কপত্র এবং একটি প্রধান শক্তিশালী অগ্রমুকুল থাকে যা প্রতি বছর বংশবৃদ্ধি করে। অন্যদিকে স্ফীতকন্দ (যেমন আলু) হলো সরু অনুভূমিক ভূনিম্নস্থ শাখার অগ্রভাগের অনিয়তাকার স্ফীত রূপ, যাতে কোনো উল্লম্ব মেরু থাকে না এবং গায়ে চোখ (মুকুলযুক্ত পর্ব) থাকে।
4
দললগ্ন পুংকেশর এবং অধিপুট পুংকেশরের মধ্যে একটি করে উদাহরণসহ পার্থক্য লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: দললগ্ন পুংকেশর (Epipetalous) হলো সেই পুংকেশর যার পুংদণ্ডগুলি দলমণ্ডলের পাপড়ির ভিতরের গায়ে যুক্ত থাকে (যেমন: বেগুন, ধুতুরা, সোলানেসি)। অধিপুট পুংকেশর (Epiphyllous বা Epitepalous) হলো সেই পুংকেশর যা পাপড়ির পরিবর্তে অখণ্ড পুষ্পপুটের (Tepal) সাথে যুক্ত থাকে (যেমন: পেঁয়াজ, লিলি, লিলিয়েসি)।
5
আম ও নারকেলের ভোজ্য অংশ সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও উভয়কেই কেন ড্রুপ (Drupe) ফল বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: আম ও নারকেল উভয় ফলই একগর্ভপত্রী অধিজ গর্ভাশয় থেকে উৎপন্ন একবীজযুক্ত ফল এবং উভয়ের ফলত্বক (Pericarp) তিনটি স্তরে বিভক্ত: পাতলা বহিঃত্বক, মধ্যত্বক এবং অত্যন্ত কঠিন পাথরের মতো অন্তস্ত্বক (Endocarp)। এই অন্তর্গঠনগত মিলের জন্যই উভয়কেই ড্রুপ বলা হয়; যদিও আমের রসালো মধ্যত্বক ভোজ্য এবং নারকেলের মধ্যত্বকটি আঁশযুক্ত (ছোবড়া) এবং ভোজ্য অংশটি হলো ভিতরের সস্য (Endosperm)।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।