মূল হলো উদ্ভিদের অধোগামী, বর্ণহীন, ধনাত্মক ভূ-অভিমুখী এবং ধনাত্মক জল-অভিমুখী অঙ্গ, যা ভ্রূণের ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে বৃদ্ধি পায়। এতে কোনো পর্ব, পর্বমধ্য, পাতা বা মুকুল থাকে না। এটি উদ্ভিদকে মাটিতে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে এবং জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
- প্রধান মূলতন্ত্র (Tap Root System): দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে ভ্রূণমূল সরাসরি বৃদ্ধি পেয়ে প্রাথমিক মূলে পরিণত হয় যা মাটির গভীরে প্রবেশ করে। এটি থেকে শাখা-প্রশাখা হিসেবে গৌণ ও প্রগৌণ মূল সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: সরিষা (Brassica), ছোলা, আম।
- গুচ্ছ মূলতন্ত্র (Fibrous Root System): একবীজপত্রী উদ্ভিদে প্রাথমিক মূল স্বল্পস্থায়ী হয়। শীঘ্রই কাণ্ডের গোড়া থেকে অসংখ্য সুতোর মতো সরু মূলগুচ্ছ উৎপন্ন হয় যা মাটির উপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। উদাহরণ: গম, ধান, ঘাস।
- অস্থানিক মূলতন্ত্র (Adventitious Root System): ভ্রূণমূল ব্যতীত উদ্ভিদের অন্য যেকোনো অংশ (যেমন কাণ্ড, শাখা বা পাতা) থেকে উৎপন্ন মূলকে অস্থানিক মূল বলে। উদাহরণ: বটের ঝুরি মূল, মনস্টেরা, পাথরকুচির পত্রজ মূল।
একটি আদর্শ মূলের লম্বচ্ছেদে শীর্ষ থেকে গোড়ার দিকে চারটি অঞ্চল দেখা যায়:
- মূলত্র অঞ্চল (Root Cap / Calyptra): মূলের কোমল বর্ধনশীল শীর্ষকে আবৃত করে রাখা টুপির মতো সুরক্ষাকারী অঙ্গ। এটি মিউসিলেজ ক্ষরণ করে মাটির কঠিন কণার মধ্য দিয়ে মূলের প্রবেশ সহজ করে। (জলজ উদ্ভিদে মূলত্রের বদলে রুট পকেট থাকে, যেমন কচুরিপানা)।
- কোশ বিভাজন অঞ্চল (Meristematic Zone): মূলত্রের ঠিক পিছনে অবস্থিত কয়েক মিলিমিটার দীর্ঘ অঞ্চল। এর কোশগুলি ঘন প্রোটোপ্লাজমযুক্ত, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
- দীর্ঘীকরণ অঞ্চল (Region of Elongation): বিভাজন অঞ্চলের ঠিক উপরে অবস্থিত। এখানকার কোশগুলি দ্রুত লম্বায় বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মূল দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি লাভ করে।
- পরিপক্কতা অঞ্চল (Region of Maturation): দীর্ঘীকরণ অঞ্চলের উপরের অংশ যেখানে কোশগুলি বিভেদিত হয়ে বিভিন্ন স্থায়ী কলায় রূপান্তরিত হয়। এই অঞ্চলের বহিঃত্বক থেকে অসংখ্য সূক্ষ্ম, এককোষী রোম উৎপন্ন হয় যাদের মূলরোম (Root hairs) বলে। মূলরোমই মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
- খাদ্য সঞ্চয়: প্রধান মূল খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়: শঙ্কু আকার (গাজর), শালগম আকার (শালগম ও বিট), মূল আকার (মূলো); অস্থানিক কন্দাল মূল (মিষ্টি আলু Ipomoea batatas)।
- যান্ত্রিক অবলম্বন:
- স্তম্ভমূল বা ঝুরিমূল (Prop Roots): বটের (Ficus benghalensis) অনুভূমিক ভারী শাখা থেকে উৎপন্ন হয়ে সোজা মাটির নিচে প্রবেশ করে এবং ভারী ডালপালাকে স্তম্ভের মতো ভার বহন করে।
- ঠেস মূল (Stilt Roots): সরু ও দুর্বল কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদের (ভুট্টা, আখ, কেয়া) কাণ্ডের নিচের পর্ব থেকে তীর্যকভাবে নির্গত হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে গাছকে হেলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
- শ্বসনমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophores): লবণাক্ত কর্দমাক্ত শ্বাসরোধী জলাভূমিতে জন্মায় এমন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে (যেমন: সুন্দরী, গরান, রাইজোফোরা) ভূনিম্নস্থ মূল থেকে অসংখ্য খাড়া কাঠি সদৃশ মূল অভিকর্ষের বিপরীতে (ঋণাত্মক ভূ-অভিমুখী) মাটির উপরে উঠে আসে। এদের গায়ে নিউম্যাথােড (Pneumathodes / Lenticels) নামক ছিদ্র থাকে যা দিয়ে এরা বায়ুর অক্সিজেন গ্রহণ করে।