উদ্ভিদজগতের সুবিশাল রূপবৈচিত্র্যকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির ক্রমবিকাশ জানা প্রয়োজন। সরল কৃত্রিম পদ্ধতি থেকে শুরু করে অন্তঃশারীরস্থানভিত্তিক প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং আধুনিক বিবর্তনীয় পদ্ধতি পর্যন্ত এর পরিধি বিস্তৃত।
- কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস (Artificial System): কেবল এক বা দুটি বাহ্যিক বা অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের (যেমন উদ্ভিদের প্রকৃতি, পাতার আকৃতি বা পুংকেশর সংখ্যা) ওপর ভিত্তি করে রচিত পদ্ধতি।
উদাহরণ ও ত্রুটি: ক্যারোলাস লিনিয়াস পুংকেশর সংখ্যার ভিত্তিতে উদ্ভিদকে ২৪টি শ্রেণিতে ভাগ করেছিলেন। এর প্রধান ত্রুটি হলো এটি নিকটাত্মীয় উদ্ভিদ প্রজাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দলে বিভক্ত করে ফেলেছিল এবং অঙ্গজ ও জনন বৈশিষ্ট্যের ওপর সমান গুরুত্ব দিয়েছিল—অথচ অঙ্গজ বৈশিষ্ট্য পরিবেশের প্রভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। - প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস (Natural System): উদ্ভিদের সমস্ত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পারস্পরিক সাদৃশ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি। এতে কেবল বাহ্যিক রূপ নয়, কোষীয় কলাস্থান, অভ্যন্তরীণ শারীরস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব এবং ফাইটোকেমিস্ট্রি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচিত হয়।
বেন্থাম ও হুকারের পদ্ধতি: জর্জ বেন্থাম ও জোসেফ ডালটন হুকার তাঁদের যুগান্তকারী গ্রন্থ Genera Plantarum (১৮৬২–১৮৮৩)-এ বীজযুক্ত উদ্ভিদের যে প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস উপস্থাপন করেন, তা আজও ভারতীয় উপমহাদেশ ও ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সমস্ত প্রধান হার্বেরিয়ামে নমুনা বিন্যাসের আদর্শ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - জাতিজনিগত শ্রেণিবিন্যাস (Phylogenetic System): জীবের বিবর্তনীয় এবং পূর্বপুরুষের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে রচিত পদ্ধতি। প্রবক্তা: এডলফ এংলার ও কার্ল প্রান্টল (১৮৮৭–১৮৯৯) এবং জন হাচিনসন (১৯২৬)।
জীবাশ্মের অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদের বিবর্তনীয় জটিলতা নিরসনে আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা নিম্নলিখিত আধুনিক পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করেন:
- সংখ্যাভিত্তিক ট্যাক্সোনমি (Numerical Taxonomy বা Phenetics): সমস্ত পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যের গাণিতিক মূল্যায়ন কম্পিউটারের সাহায্যে করা হয়। প্রতিটি বৈশিষ্ট্যকে নির্দিষ্ট কোড ও নম্বর দিয়ে একসাথে শত শত বৈশিষ্ট্যের সমমূল্যায়ন করা হয়।
- কোশতত্ত্বীয় ট্যাক্সোনমি (Cytotaxonomy): ক্রোমোজোম সংখ্যা, ক্রোমোজোমের আকার, গঠন এবং মিয়োসিস বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের আচরণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস।
- রসায়নভিত্তিক ট্যাক্সোনমি (Chemotaxonomy): উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান যেমন ডিএনএ ও আরএনএ সিকোয়েন্স, অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রম, অ্যালকালয়েড, ফ্লেভোনয়েড এবং সুগন্ধী তেলের রাসায়নিক গঠনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস।