Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 3
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

উদ্ভিদ রাজ্য

উদ্ভিদ রাজ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় অধ্যায়। এই অধ্যায়ে শৈবাল থেকে শুরু করে আবৃতবীজী সপুষ্পক উদ্ভিদ পর্যন্ত উদ্ভিদজগতের বিবর্তনীয় রূপরেখা, অঙ্গসংস্থানিক বৈচিত্র্য ও জীবনচক্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। লিনিয়াসের কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস থেকে বেন্থাম ও হুকারের বিখ্যাত প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস এবং আধুনিক জাতিজনি, সংখ্যাভিত্তিক, কোশতত্ত্বীয় ও রসায়নভিত্তিক ট্যাক্সোনমির বিকাশ দিয়ে অধ্যায়টি শুরু হয়। এরপর শৈবালের তিনটি প্রধান শ্রেণি (ক্লোরোফাইসি, ফিয়োফাইসি ও রোডাফাইসি), উদ্ভিদজগতের উভচর ব্রায়োফাইটা (মস ও লিভারওয়ার্ট), প্রথম সংবহনকলাযুক্ত স্থলজ উদ্ভিদ টেরিডোফাইটা ও সেলাজিনেলায় বীজ প্রকৃতির পূর্বাভাস, চরম মরুজ অভিযোজনযুক্ত ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ (পাইনাস ও সাইকাসের হ্যাপ্লয়েড সস্য) এবং গুপ্তবীজী উদ্ভিদের দ্বি-নিষেক ও বিভিন্ন প্রকার জীবনচক্র (হ্যাপ্লন্টিক, ডিপ্লন্টিক ও হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক) বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনজ সম্পদ আহরণ, কৃষি এবং ভেষজ ও বাণিজ্যিক শিল্পের জন্য উদ্ভিদজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অপরিহার্য। পৃথিবীর মোট কার্বন ডাইঅক্সাইড সংবন্ধনের অর্ধেকেরও বেশি সম্পন্ন করে সামুদ্রিক শৈবাল। লোহিত শৈবাল থেকে প্রাপ্ত অ্যাগার-অ্যাগার ছাড়া আধুনিক অণুজীববিজ্ঞান গবেষণাগারে ব্যাকটিরিয়া কালচার কিংবা মিষ্টান্ন শিল্পে জেলি উৎপাদন অসম্ভব। পিট মস বা স্ফ্যাগনামের অসাধারণ জলধারণ ক্ষমতা দূরপাল্লার চারাগাছ পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন উদ্ভিদের জীবনচক্র অনুধাবনের মাধ্যমে শস্যপ্রজনন ও ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • উদ্ভিদ কোষের সাধারণ গঠন (সেলুলোজ কোষপ্রাচীর, ভ্যাকুয়োল, ক্লোরোপ্লাস্ট)।
  • জনুক্রমের প্রাথমিক ধারণা (হ্যাপ্লয়েড n জননকোষ বনাম ডিপ্লয়েড 2n জাইগোট/রেণু)।
  • অধ্যায় ১ ও ২-এ পঠিত শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার মূল ধারণা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতি ও আধু...
2 শৈবাল বিভাগ (Algae): গঠন, জনন ও ৩টি...
3 ব্রায়োফাইটা: উদ্ভিদজগতের উভচর
4 টেরিডোফাইটা: প্রথম সংবহনী উদ্ভিদ ও...
5 ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms): নগ...
6 গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও উদ্ভিদের জীবনচক্...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতি ও আধুনিক ট্যাক্সোনমির ধারা

উদ্ভিদজগতের সুবিশাল রূপবৈচিত্র্যকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির ক্রমবিকাশ জানা প্রয়োজন। সরল কৃত্রিম পদ্ধতি থেকে শুরু করে অন্তঃশারীরস্থানভিত্তিক প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং আধুনিক বিবর্তনীয় পদ্ধতি পর্যন্ত এর পরিধি বিস্তৃত।

১. শ্রেণিবিন্যাসের ঐতিহাসিক পদ্ধতিসমূহ
  • কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস (Artificial System): কেবল এক বা দুটি বাহ্যিক বা অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের (যেমন উদ্ভিদের প্রকৃতি, পাতার আকৃতি বা পুংকেশর সংখ্যা) ওপর ভিত্তি করে রচিত পদ্ধতি।
    উদাহরণ ও ত্রুটি: ক্যারোলাস লিনিয়াস পুংকেশর সংখ্যার ভিত্তিতে উদ্ভিদকে ২৪টি শ্রেণিতে ভাগ করেছিলেন। এর প্রধান ত্রুটি হলো এটি নিকটাত্মীয় উদ্ভিদ প্রজাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দলে বিভক্ত করে ফেলেছিল এবং অঙ্গজ ও জনন বৈশিষ্ট্যের ওপর সমান গুরুত্ব দিয়েছিল—অথচ অঙ্গজ বৈশিষ্ট্য পরিবেশের প্রভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
  • প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস (Natural System): উদ্ভিদের সমস্ত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পারস্পরিক সাদৃশ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি। এতে কেবল বাহ্যিক রূপ নয়, কোষীয় কলাস্থান, অভ্যন্তরীণ শারীরস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব এবং ফাইটোকেমিস্ট্রি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচিত হয়।
    বেন্থাম ও হুকারের পদ্ধতি: জর্জ বেন্থাম ও জোসেফ ডালটন হুকার তাঁদের যুগান্তকারী গ্রন্থ Genera Plantarum (১৮৬২–১৮৮৩)-এ বীজযুক্ত উদ্ভিদের যে প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস উপস্থাপন করেন, তা আজও ভারতীয় উপমহাদেশ ও ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সমস্ত প্রধান হার্বেরিয়ামে নমুনা বিন্যাসের আদর্শ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • জাতিজনিগত শ্রেণিবিন্যাস (Phylogenetic System): জীবের বিবর্তনীয় এবং পূর্বপুরুষের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে রচিত পদ্ধতি। প্রবক্তা: এডলফ এংলার ও কার্ল প্রান্টল (১৮৮৭–১৮৯৯) এবং জন হাচিনসন (১৯২৬)।
২. আধুনিক ট্যাক্সোনমিক সহায়ক শাখাসমূহ

জীবাশ্মের অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদের বিবর্তনীয় জটিলতা নিরসনে আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা নিম্নলিখিত আধুনিক পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করেন:

  1. সংখ্যাভিত্তিক ট্যাক্সোনমি (Numerical Taxonomy বা Phenetics): সমস্ত পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যের গাণিতিক মূল্যায়ন কম্পিউটারের সাহায্যে করা হয়। প্রতিটি বৈশিষ্ট্যকে নির্দিষ্ট কোড ও নম্বর দিয়ে একসাথে শত শত বৈশিষ্ট্যের সমমূল্যায়ন করা হয়।
  2. কোশতত্ত্বীয় ট্যাক্সোনমি (Cytotaxonomy): ক্রোমোজোম সংখ্যা, ক্রোমোজোমের আকার, গঠন এবং মিয়োসিস বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের আচরণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস।
  3. রসায়নভিত্তিক ট্যাক্সোনমি (Chemotaxonomy): উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান যেমন ডিএনএ ও আরএনএ সিকোয়েন্স, অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রম, অ্যালকালয়েড, ফ্লেভোনয়েড এবং সুগন্ধী তেলের রাসায়নিক গঠনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস।

শৈবাল বিভাগ (Algae): গঠন, জনন ও ৩টি প্রধান শ্রেণি

শৈবাল (Algae) হলো ক্লোরোফিলযুক্ত, সমাঙ্গদেহী (Thalloid), স্বভোজী এবং প্রধানত জলজ (মিষ্টি ও লবণাক্ত জল) অপুষ্পক উদ্ভিদ। এদের দেহ এককোষী আণুবীক্ষণিক (Chlamydomonas), কলোনিযুক্ত (Volvox), অশাখ সূত্রাকার (Spirogyra, Ulothrix) থেকে শুরু করে ১০০ মিটার দীর্ঘ দৈত্যাকার কেল্প (Macrocystis) পর্যন্ত হতে পারে।

১. শৈবালের জনন পদ্ধতি
  • অঙ্গজ জনন: প্রধানত খণ্ডীভবন (Fragmentation) দ্বারা ঘটে; প্রতিটি খণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে নতুন থ্যালাস গঠন করে।
  • অযৌন জনন: বিভিন্ন প্রকার স্পোর উৎপাদনের মাধ্যমে ঘটে; সবচেয়ে সাধারণ হলো ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospores)।
  • যৌন জনন: দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:
    1. আইসোগ্যামাস (Isogamous): সমআকৃতির ও সমপ্রকৃতির গ্যামেটের মিলন। এটি ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল হতে পারে (যেমন Chlamydomonas debaryanum, Ulothrix) অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল হতে পারে (যেমন Spirogyra)।
    2. অ্যানাইসোগ্যামাস (Anisogamous): অসমান আকৃতির দুটি গ্যামেটের মিলন (যেমন Eudorina এবং Chlamydomonas-এর কিছু প্রজাতি)।
    3. উগ্যামাস (Oogamous): একটি বৃহৎ নিশ্চল স্ত্রী গ্যামেট (ডিম্বাণু) এবং একটি ক্ষুদ্র সচল পুং গ্যামেটের মিলন (যেমন Volvox এবং বাদামী শৈবাল Fucus)।
২. শৈবালের ৩টি প্রধান শ্রেণির তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বৈশিষ্ট্য ক্লোরোফাইসি (সবুজ শৈবাল) ফিয়োফাইসি (বাদামী শৈবাল) রোডাফাইসি (লোহিত শৈবাল)
প্রধান রঞ্জক পদার্থ ক্লোরোফিল a এবং ক্লোরোফিল b ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল c এবং ফিউকোজ্যান্থিন (জ্যান্থোফিল) ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল d এবং r-ফাইকোইরিথ্রিন
সঞ্চিত খাদ্য শ্বেতসার (Starch); পাইরেনয়েডে প্রোটিন কোরকে ঘিরে শ্বেতসার সঞ্চিত থাকে ল্যামিনারিন অথবা ম্যানিটল (জটিল অ্যালকোহল/কার্বোহাইড্রেট) ফ্লোরিডিয়ান শ্বেতসার (অ্যামাইলোপেকটিন ও গ্লাইকোজেনের অনুরূপ গঠন)
কোষপ্রাচীরের উপাদান ভেতরে সেলুলোজ ও বাইরে পেকটোজ সেলুলোজের বাইরে অ্যালজিন (Algin)-এর পিচ্ছিল জেলাটিনীয় আস্তরণ সেলুলোজ, পেকটিন এবং পলিসালফেট এস্টার
ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও অবস্থান ২ থেকে ৮টি, সমান এবং শীর্ষদেশে (Apical) ২টি, অসমান এবং পার্শ্বীয় (Lateral); নাশপাতি আকৃতির কোষ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (রেণু ও গ্যামেট উভয়ই নিশ্চল)
থ্যালাসের সংগঠন এককোষী, কলোনি বা সূত্রাকার হোল্ডফাস্ট (নোঙর), স্টিপ (বৃন্ত) এবং ফ্রন্ড (পাতাসদৃশ ফলক)-এ বিভক্ত জটিল বহুকোষী শাখান্বিত দেহ
উদাহরণ Chlamydomonas, Volvox, Ulothrix, Spirogyra, Chara Ectocarpus, Dictyota, Laminaria, Sargassum, Fucus Polysiphonia, Porphyra, Gracilaria, Gelidium
৩. শৈবালের অর্থনৈতিক ও বাস্তুতান্ত্রিক গুরুত্ব
  • বৈশ্বিক কার্বন সংবন্ধন: পৃথিবীর মোট সালোকসংশ্লেষীয় $CO_2$ সংবন্ধনের ৫০%-এরও বেশি সমুদ্রের শৈবাল দ্বারা সম্পন্ন হয়।
  • বাণিজ্যিক হাইড্রোকলয়েড: জলধারণকারী পলিস্যাকারাইড:
    • অ্যালজিন (Algin): বাদামী শৈবাল (Laminaria) থেকে পাওয়া যায়।
    • ক্যারাজিনান (Carrageenan): লোহিত শৈবাল (Chondrus crispus) থেকে নিষ্কাশিত হয়।
    • অ্যাগার-অ্যাগার (Agar): লোহিত শৈবাল Gelidium ও Gracilaria থেকে প্রস্তুত হয়, যা জীবাণু কালচার মাধ্যমে পুষ্টি মাধ্যম জমাট বাঁধাতে এবং আইসক্রিম ও জেলি তৈরিতে অপরিহার্য।
  • খাদ্য ও স্পেস রিসার্চ: Porphyra ও Sargassum খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। এককোষী সবুজ শৈবাল Chlorella প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় মহাকাশচারীদের বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ব্রায়োফাইটা: উদ্ভিদজগতের উভচর

ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) হলো অপুষ্পক, সংবহনকলাবিহীন আদিম স্থলজ উদ্ভিদ, যার মধ্যে মস ও লিভারওয়ার্ট অন্তর্ভুক্ত। আর্দ্র, ছায়াঘেরা স্যাঁতসেঁতে পাহাড়ের ঢালে এরা জন্মায়। এদের "উদ্ভিদজগতের উভচর" (Amphibians of the Plant Kingdom) বলা হয়, কারণ এরা ডাঙ্গার মাটিতে বাস করলেও যৌন জনন সম্পন্ন করার জন্য এদের জীবনচক্রে জল অপরিহার্য (সচল শুক্রাণু সাঁতার কেটে স্ত্রীধানীতে পৌঁছায়)।

১. থ্যালাস সংগঠন ও জনুক্রম
  • প্রধান উদ্ভিদ দেহ: ব্রায়োফাইটার মূল উদ্ভিদ দেহটি হলো হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর (Gametophyte, n)। এটি স্বাবলম্বী, ক্লোরোফিলযুক্ত, স্বাধীন এবং থ্যালয়েড বা পত্রল। এরা এককোষী বা বহুকোষী রাইজয়েড দ্বারা মাটির সাথে যুক্ত থাকে। এদের প্রকৃত মূল, কাণ্ড বা পাতা থাকে না (পরিবর্তে মূলাভাস, কাণ্ডসদৃশ কলাইড ও পাতাসদৃশ ফাইলাইড থাকে)। সংবহনকলা (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
  • জননাঙ্গ: বহুকোষী এবং বন্ধ্যা কোষাবরণী দ্বারা সুরক্ষিত:
    • পুংধানী (Antheridium): দ্বি-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল শুক্রাণু (অ্যান্থেরোজয়েড) তৈরি করে।
    • স্ত্রীধানী (Archegonium): ফ্লাস্কের আকৃতির, যার স্ফীত ভেন্টারের মধ্যে একটিমাত্র নিশ্চল ডিম্বাণু থাকে।
  • পরজীবী রেণুধর জনু (Sporophyte, 2n): নিষেকের পর ডিপ্লয়েড জাইগোট সাথে সাথে মিয়োসিস বিভাজন ঘটায় না; বরং মাইটোসিস দ্বারা বহুকোষী রেণুধর দেহ (2n) তৈরি করে। এই রেণুধর দেহটি স্বাধীন নয়; এটি আজীবন পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য প্রধান সবুজ লিঙ্গধরের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল (পরজীবী)। রেণুধর দেহটি তিনটি অংশে বিভক্ত:
    1. ফুট (Foot): লিঙ্গধরের কলা থেকে পুষ্টি শোষণকারী গোড়া।
    2. সিটা (Seta): রেণুধানীকে উঁচুতে তুলে ধরার জন্য লম্বা বৃন্ত।
    3. ক্যাপসুল (Capsule): শীর্ষস্থ বাক্স, যার ভেতরে মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড রেণু ($n$) সৃষ্টি হয়।
২. ব্রায়োফাইটার দুটি প্রধান শ্রেণি

১. লিভারওয়ার্ট (Hepaticopsida, উদাঃ Marchantia):

  • দেহ পৃষ্ঠ-অঙ্কীয়ভাবে চ্যাপ্টা (Dorsoventrally flattened) এবং মাটির সাথে লেপটে থাকে।
  • গেমা দ্বারা অযৌন জনন: থ্যালাসের ওপর ছোট পেয়ালার মতো গেমা কাপ (Gemma cups) থাকে। এর ভেতরে সবুজ, বহুকোষী অযৌন কুঁড়ি অর্থাৎ গেমা (Gemmae) তৈরি হয়। গেমা খসে পড়ে নতুন থ্যালাসের জন্ম দেয়।
  • ক্যাপসুলের ভেতরে আর্দ্রতাগ্রাহী ইলেটার (Elaters) থাকে যা পাক খেয়ে রেণু ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

২. মস (Bryopsida, উদাঃ Funaria, Sphagnum):

  • জীবনচক্রে দুটি সুস্পষ্ট লিঙ্গধর দশা থাকে:
    1. প্রোটোনেমা দশা (Protonema): রেণু অঙ্কুরিত হয়ে সরাসরি যে সবুজ, শাখান্বিত, সূত্রাকার প্রাথমিক দশা গঠন করে।
    2. পত্রল দশা (Leafy stage): প্রোটোনেমা থেকে পার্শ্বীয় মুকুল হিসেবে গজিয়ে ওঠা খাড়া পাতাযুক্ত কাক্ষিক দশা, যার শীর্ষে জননাঙ্গ গঠিত হয়।
  • পেরিস্টোম দন্ত: ক্যাপসুলের মুখে আর্দ্রতা-সংবেদনশীল ১৬টি বহিঃস্থ এবং ১৬টি অন্তঃস্থ পেরিস্টোম দাঁত (Peristome teeth) থাকে যা আবহাওয়ার পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রিতভাবে রেণু বিচ্ছুরণ ঘটায়।
৩. অর্থনৈতিক ও বাস্তুতান্ত্রিক তাৎপর্য
  • পিট কয়লা ও স্ফ্যাগনাম: Sphagnum মস শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জলাভূমিতে পচে কয়লার ন্যায় পিট (Peat) গঠন করে, যা শুষ্ক করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • চারাগাছ পরিবহন: স্ফ্যাগনাম তার শুষ্ক ওজনের ২৫ গুণ জল নিজের দেহে ধরে রাখতে পারে। তাই নার্সারিতে জীবন্ত চারাগাছ ও তাজা ফুল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্যাকিং করে পাঠানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
  • বাস্তুতন্ত্রের অগ্রদূত: লাইকেনের সাথে মস নগ্ন পাথরের ওপর মাটির স্তর তৈরি করে প্রাথমিক বাস্তুতান্ত্রিক উত্তরাধিকার (Lithosere) রচনা করে এবং মাটির ক্ষয় রোধ করে।

টেরিডোফাইটা: প্রথম সংবহনী উদ্ভিদ ও বীজ প্রকৃতির সূচনা

টেরিডোফাইটা (Pteridophyta) হলো উদ্ভিদজগতের বিবর্তনের প্রথম মাইলফলক—এরাই হলো প্রথম সংবহনকলাযুক্ত (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) স্থলজ উদ্ভিদ। ফার্ন ও হর্সটেল এর অন্তর্ভুক্ত। ব্রায়োফাইটার সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে, এদের প্রধান ও স্বাধীন উদ্ভিদ দেহটি হলো ডিপ্লয়েড রেণুধর (Sporophyte, 2n)।

১. অঙ্গসংস্থান ও সংবহন কলা
  • দেহের স্বাতন্ত্র্য: রেণুধর দেহটি প্রকৃত মূল, কাণ্ড (রাইজোম) এবং পাতায় সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত।
  • সংবহন কলা: আদিম নালিকা বান্ডিলযুক্ত। জাইলেমে কেবলমাত্র ট্র্যাকিড থাকে (প্রকৃত ভেসেল বা বাহিকা অনুপস্থিত); এবং ফ্লোয়েমে সিভকোষ থাকে (সঙ্গীকোষ অনুপস্থিত)।
  • পাতার প্রকারভেদ:
    • মাইক্রোফিল (Microphylls): ক্ষুদ্রাকার অবিভক্ত পত্রফলক যাতে একটিমাত্র অশাখ শিরা থাকে (যেমন Selaginella)।
    • ম্যাক্রোফিল (Macrophylls বা Megaphylls): বৃহৎ, যৌগিক পক্ষল পাতা বা ফ্রন্ড যাতে জালিকাকার শিরাবিন্যাস থাকে (যেমন ফার্ন বা Dryopteris)।
২. রেণু ও প্রোথ্যালাস (Prothallus)
  • পাতার নিম্নতলে রেণুস্থলী বা স্পোরাঞ্জিয়া গুচ্ছাকারে থাকে যাকে সোরাস (Sorus) বলে। উর্বর রেণুযুক্ত পাতাকে স্পোরোফিল (Sporophyll) বলা হয়। Selaginella ও Equisetum-এ স্পোরোফিলগুলি একত্রিত হয়ে শীর্ষস্থ শঙ্কু বা স্ট্রোবিলাস (Strobilus) গঠন করে।
  • প্রোথ্যালাস (Prothallus, n): রেণু অঙ্কুরিত হয়ে যে ক্ষুদ্র, অবৃন্তক, বহুকোষী, স্বাধীনজীবী, হৃৎপিণ্ডাকার সবুজ লিঙ্গধর দেহ সৃষ্টি করে, তাকে প্রোথ্যালাস বলে।
    ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: প্রোথ্যালাসে কোনো কিউটিকল বা সংবহন কলা থাকে না এবং এদের সচল শুক্রাণুর নিষেকের জন্য জলের প্রয়োজন হয়। তাই টেরিডোফাইটা কেবল স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে।
৩. অসমরেণুপ্রসূতা ও বীজ প্রকৃতির পূর্বাভাস (Seed Habit Precursor)

উচ্চশ্রেণির ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টির মূল বিবর্তনীয় ভিত্তি গড়ে উঠেছিল Selaginella ও Salvinia-এর মতো টেরিডোফাইটাতে:

  1. সমরেণুপ্রসূ বনাম অসমরেণুপ্রসূ (Heterospory): অধিকাংশ ফার্ন সমরেণুপ্রসূ (একই প্রকার রেণু সৃষ্টি করে)। কিন্তু সেলাজিনেলা ও সালভিনিয়া হলো অসমরেণুপ্রসূ; এরা দুই প্রকার রেণু তৈরি করে:
    • মাইক্রোস্পোর (Microspores): ক্ষুদ্রাকার অসংখ্য রেণু যা পুং লিঙ্গধর সৃষ্টি করে।
    • মেগাস্পোর (Megaspores): বৃহদাকার খাদ্যসমৃদ্ধ স্বল্পসংখ্যক রেণু যা স্ত্রী লিঙ্গধর সৃষ্টি করে।
  2. স্ত্রী লিঙ্গধরের মাতৃদেহে ধারণ: সেলাজিনেলায় মেগাস্পোরটি মাটিতে ঝরে পড়ে না; এটি মাতৃ রেণুধর উদ্ভিদের মেগাস্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করে।
  3. স্ত্রী লিঙ্গধরের অভ্যন্তরে ভ্রূণ গঠন: নিষেক মেগাস্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরেই সম্পন্ন হয় এবং জাইগোট বৃদ্ধি পেয়ে ভ্রূণ গঠন মেগাস্পোরের ভেতরেই মাতৃ উদ্ভিদের পুষ্টির সাহায্যে ঘটে।
  4. উপসংহার: মেগাস্পোরের মাতৃদেহে স্থায়ী ধারণ এবং রেণুর ভেতরে ভ্রূণের সুরক্ষা—এই প্রক্রিয়াটিকেই জীববিজ্ঞানে বীজ প্রকৃতির সূচনাবিন্দু বা পূর্বসূরী (Precursor to the Seed Habit) বলা হয়।
৪. টেরিডোফাইটার ৪টি শ্রেণি
  • সিলোপসিডা (Psilopsida): প্রাচীনতম মূলবিহীন সংবহনী উদ্ভিদ (যেমন Psilotum)।
  • লাইকোপসিডা (Lycopsida): ক্লাব মস (যেমন Selaginella, Lycopodium)।
  • স্ফেনোপসিডা (Sphenopsida): পর্বসন্ধিযুক্ত সিলিকাময় কাণ্ডবিশিষ্ট হর্সটেল (যেমন Equisetum)।
  • টেরোপসিডা (Pteropsida): প্রকৃত ফার্ন (যেমন Dryopteris, Pteris, Adiantum বা হাঁটা ফার্ন)।

ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms): নগ্ন বীজ ও অভিযোজন

ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) হলো এমন উদ্ভিদ গোষ্ঠী যাদের ডিম্বক কোনো গর্ভাশয় দ্বারা আবৃত থাকে না এবং নিষেকের পূর্বে ও পরে সর্বদা অনাবৃত অবস্থায় থাকে। গর্ভাশয় অনুপস্থিত থাকার কারণে এদের কখনোই প্রকৃত ফুল বা ফল গঠিত হয় না; কেবল নগ্ন বীজ সৃষ্টি হয়।

১. মরুজ অভিযোজন ও দানবীয় বৃক্ষ
  • দৈত্যাকার বৃক্ষ: ব্যক্তবীজীরা মূলত বহুবর্ষজীবী কাষ্ঠল গুল্ম বা সুউচ্চ বৃক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার দৈত্যাকার রেডউড বৃক্ষ Sequoia sempervirens বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম উদ্ভিদ প্রজাতি (১১০ মিটারেরও বেশি উঁচু)।
  • মূলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য: প্রধান মূল বা ট্যাপ রুট সিস্টেম।
    • পাইনাস (Pinus): মূলের সাথে ছত্রাক হাইফির স্থায়ী মিথোজীবী সহাবস্থান অর্থাৎ এক্টো-মাইকোরাইজা থাকে (ছত্রাক ব্যতীত পাইনাসের চারা বাঁচতে পারে না)।
    • সাইকাস (Cycas): বিশেষায়িত অস্থানিক মূল ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে উঠে এসে প্রবালের মতো শাখান্বিত কোরালয়েড মূল (Coralloid roots) গঠন করে, যার ভেতরে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়া (Anabaena, Nostoc) বাস করে।
  • মরুজ অভিযোজন (Xerophytic characters): পাইনাস ও কনিফারের পাতাগুলি তীব্র শৈত্য, শুষ্কতা ও বরফপাত সহ্য করার উপযোগী:
    1. সূঁচালো পাতা (Needle-like leaves): পাতার ক্ষেত্রফল কমিয়ে বাষ্পমোচন হ্রাস করে।
    2. পুরু কিউটিকল: বহিত্বকের ওপর মোমের পুরু প্রতিরোধী স্তর থাকে।
    3. সানকেন স্টোমাটা (Sunken Stomata): পত্ররন্ধ্রগুলি এপিডার্মিসের গর্তের গভীরে নিমজ্জিত থাকে, যা শুষ্ক বায়ুতে জলক্ষয় প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে।
২. শঙ্কু বা স্ট্রোবিলাস ও জনন

ব্যক্তবীজীরা অসমরেণুপ্রসূ (Heterosporous)। এদের জনন অঙ্গগুলি সংকুচিত হয়ে শঙ্কু বা কোণ গঠন করে:

  • পুং শঙ্কু (Male Cone): মাইক্রোস্পোরোফিলের সমন্বয়ে গঠিত; এর ভেতরে মাইক্রোস্পোর বা ডানাযুক্ত পরাগরেণু (Pollen grains) তৈরি হয়।
  • স্ত্রী শঙ্কু (Female Cone): মেগাস্পোরোফিলের সমন্বয়ে গঠিত; এর ওপর অনাবৃত ডিম্বক (Ovule) থাকে।
  • পাইনাস হলো সহবাসী বা মনোইশিয়াস (Monoecious) (একই গাছে পুং ও স্ত্রী শঙ্কু থাকে); কিন্তু সাইকাস হলো ভিন্নবাসী বা ডাইওইশিয়াস (Dioecious) (পুং ও স্ত্রী শঙ্কু পৃথক উদ্ভিদে জন্মায়)।
৩. ব্যক্তবীজীর হ্যাপ্লয়েড সস্যের প্রকৃতি
উচ্চমাধ্যমিক ও নিটের অতি-গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে ডিম্বকের মেগাস্পোর বিভাজিত হয়ে বহুকোষী স্ত্রী লিঙ্গধর গঠন করে যা সরাসরি ভ্রূণের খাদ্য সরবরাহকারী সস্য (Endosperm)-এ রূপান্তরিত হয়।
যেহেতু এই সস্য নিষেকের পূর্বেই গঠিত হয়, তাই ব্যক্তবীজীর সস্য সর্বদা হ্যাপ্লয়েড ($n$)! এটি আবৃতবীজীর নিষেকের পর গঠিত ট্রিপ্লয়েড ($3n$) সস্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
৪. পরাগযোগ ও নিষেক
  • বায়ুপরাগী (Anemophily): পরাগরেণু বাতাসের সাহায্যে ভেসে ডিম্বকের মাইক্রোপাইলে পৌঁছায়। পাইনাসের পরাগরেণুতে দুটি পার্শ্বীয় ডানা (Wings) থাকে যা বাতাসে বহুদূর ভেসে যেতে সাহায্য করে (বসন্তে পাইন বনে "সালফার শাওয়ার" দেখা যায়)।
  • সাইফোনোগ্যামি (Siphonogamy): পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালী তৈরি করে নিশ্চল পুং গ্যামেটকে স্ত্রীধানীতে পৌঁছে দেয়; ফলে নিষেকের জন্য কোনো বাহ্যিক জলের প্রয়োজন হয় না।

গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও উদ্ভিদের জীবনচক্র: জনুক্রম

উদ্ভিদজগতের বিবর্তনের চূড়ান্ত চূড়া হলো গুপ্তবীজী বা সপুষ্পক উদ্ভিদ (Angiosperms)। এদের ডিম্বকটি গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে সুরক্ষিত থাকে এবং নিষেকের পর ডিম্বক বীজে ও গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। উদ্ভিদের সমগ্র জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর জনু ও ডিপ্লয়েড রেণুধর জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে, যাকে জনুক্রম (Alternation of Generations) বলে।

১. গুপ্তবীজীর অনন্য দ্বি-নিষেক (Double Fertilization)

১৮৯৮ সালে রুশ বিজ্ঞানী এস. জি. নাওয়াশিন (S.G. Nawaschin) গুপ্তবীজী উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক আবিষ্কার করেন:

  1. অঙ্গজ মিলন বা প্রকৃত নিষেক (Syngamy): একটি হ্যাপ্লয়েড পুং গ্যামেট ($n$) ডিম্বাণুর ($n$) সাথে মিলিত হয়ে একটি ডিপ্লয়েড জাইগোট ($2n$) তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ভ্রূণে রূপান্তরিত হয়।
  2. ত্রিমিলন (Triple Fusion): অপর হ্যাপ্লয়েড পুং গ্যামেটটি ($n$) ভ্রূণস্থলীর কেন্দ্রে অবস্থিত ডিপ্লয়েড নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ($2n$) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড প্রাথমিক সস্য নিউক্লিয়াস (PEN, $3n$) তৈরি করে। PEN বারবার মাইটোসিসের মাধ্যমে ট্রিপ্লয়েড সস্য কলা ($3n$) গঠন করে যা বিকাশমান ভ্রূণকে পুষ্টি যোগায়।
২. উদ্ভিদের ৩ প্রকার জীবনচক্র ও জনুক্রম
জীবনচক্রের প্রকার প্রধান ও দীর্ঘস্থায়ী দশা ক্ষুদ্র ও পরজীবী দশা প্রতিনিধিত্বকারী উদ্ভিদ
হ্যাপ্লন্টিক (Haplontic) হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর ($n$): স্বাধীন, সালোকসংশ্লেষী ও প্রধান। ডিপ্লয়েড রেণুধর দশা কেবল এককোষী জাইগোট ($2n$) দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করে। জাইগোটে সরাসরি মিয়োসিস ঘটে হ্যাপ্লয়েড স্পোর সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ শৈবাল যেমন Volvox, Spirogyra এবং Chlamydomonas।
ডিপ্লন্টিক (Diplontic) ডিপ্লয়েড রেণুধর ($2n$): প্রধান, স্বাধীন, সংবহনী ও সালোকসংশ্লেষী। হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর দশাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং এককোষী বা কয়েক কোষী গ্যামেটে সীমাবদ্ধ (পরাগরেণু ও ভ্রূণস্থলী)। সমস্ত বীজযুক্ত উদ্ভিদ (ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী), এবং সামুদ্রিক বাদামী শৈবাল Fucus!
হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক (Haplodiplontic) উভয় দশাই (হ্যাপ্লয়েড $n$ ও ডিপ্লয়েড $2n$) বহুকোষী এবং সুস্পষ্টভাবে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
  • ব্রায়োফাইটাতে: লিঙ্গধর ($n$) প্রধান, রেণুধর ($2n$) পরজীবী।
  • টেরিডোফাইটাতে: রেণুধর ($2n$) প্রধান, লিঙ্গধর ($n$) স্বাধীন প্রোথ্যালাস।
ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা, এবং বিশেষ কিছু শৈবাল যেমন Ectocarpus, Polysiphonia ও কেল্প।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

শৈবালের রঞ্জক ও খাদ্য সঞ্চয়ন নীতি (Algal Diagnostic Rule)
ক্লোরোফাইসি (Chl a+b, শ্বেতসার) | ফিয়োফাইসি (Chl a+c, ফিউকোজ্যান্থিন, ল্যামিনারিন) | রোডাফাইসি (Chl a+d, r-ফাইকোইরিথ্রিন, ফ্লোরিডিয়ান শ্বেতসার)
রঞ্জক পদার্থ, সঞ্চিত খাদ্য ও ফ্ল্যাজেলার সংখ্যার ভিত্তিতে শৈবালের তিনটি প্রধান শ্রেণির নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ সূত্র।
বেন্থাম ও হুকারের প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস বিন্যাস
সপুষ্পক বীজযুক্ত উদ্ভিদ = দ্বিবীজপত্রী (দ্বিবীজপত্রী দলবিহীন, যুক্তদল, বিযুক্তদল) + ব্যক্তবীজী + একবীজপত্রী
বেন্থাম ও হুকারের জেনেরা প্ল্যান্টারাম-এ ব্যক্তবীজীকে দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রীর মধ্যবর্তী স্থানে রাখা হয়েছে।
বীজ প্রকৃতির পূর্বসূরী সূত্র (Seed Habit Precursor Theorem)
বীজ প্রকৃতি = অসমরেণুপ্রসূতা (Heterospory) + মাতৃ রেণুধরে মেগাস্পোরের ধারণ + রেণুর ভেতরে ভ্রূণের অন্তঃবিকাশ
সেলাজিনেলা নামক টেরিডোফাইটাতে মেগাস্পোর মাতৃদেহে ধারণের মাধ্যমে উচ্চতর উদ্ভিদের বীজ গঠনের ভিত্তি রচিত হয়।
ব্যক্তবীজীর সস্যের প্লয়েডি সমীকরণ
ব্যক্তবীজীর সস্য = নিষেকের পূর্বে গঠিত স্ত্রী লিঙ্গধর কলা = হ্যাপ্লয়েড (n)
গুপ্তবীজীর নিষেকের পর গঠিত ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্যের বিপরীতে ব্যক্তবীজীর সস্য সর্বদা হ্যাপ্লয়েড (n)।
দ্বি-নিষেক রাসায়নিক সমীকরণ (Double Fertilization)
প্রকৃত মিলন: পুং গ্যামেট (n) + ডিম্বাণু (n) → জাইগোট (2n) | ত্রিমিলন: পুং গ্যামেট (n) + নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) → PEN (3n)
এস. জি. নাওয়াশিন (১৮৯৮) কর্তৃক আবিষ্কৃত গুপ্তবীজী উদ্ভিদের অনন্য প্রজনন নীতি যা ডিপ্লয়েড ভ্রূণ ও ট্রিপ্লয়েড সস্য গঠন করে।
শৈবালের জীবনচক্রের ব্যতিক্রমী নিয়ম
সাধারণ শৈবাল = হ্যাপ্লন্টিক (Volvox, Spirogyra) | ব্যতিক্রম ১: Fucus = ডিপ্লন্টিক | ব্যতিক্রম ২: Ectocarpus ও Polysiphonia = হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে শৈবালের জনুক্রম সংক্রান্ত সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) রঞ্জক পদার্থ, সঞ্চিত খাদ্য এবং ফ্ল্যাজেলার অবস্থানের ভিত্তিতে ক্লোরোফাইসি, ফিয়োফাইসি ও রোডাফাইসির তুলনামূলক পার্থক্য ছকের মাধ্যমে লেখো। (খ) শৈবাল থেকে প্রাপ্ত দুটি বাণিজ্যিক হাইড্রোকলয়েডের নাম ও ব্যবহার উল্লেখ করো। [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) শৈবালের তিনটি শ্রেণির তুলনামূলক পার্থক্য (মান ৩)
বৈশিষ্ট্য ক্লোরোফাইসি (সবুজ শৈবাল) ফিয়োফাইসি (বাদামী শৈবাল) রোডাফাইসি (লোহিত শৈবাল)
প্রধান সালোকসংশ্লেষীয় রঞ্জক ক্লোরোফিল a এবং ক্লোরোফিল b ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল c এবং ফিউকোজ্যান্থিন ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল d এবং r-ফাইকোইরিথ্রিন
সঞ্চিত খাদ্য শ্বেতসার (Starch); পাইরেনয়েডে জমা থাকে ল্যামিনারিন বা ম্যানিটল ফ্লোরিডিয়ান শ্বেতসার (গ্লাইকোজেনের সমতুল্য)
ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও সন্নিবেশ ২ থেকে ৮টি, সমান এবং শীর্ষে ২টি, অসমান এবং পার্শ্বীয় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (রেণু ও গ্যামেট নিশ্চল)
(খ) শৈবালজাত দুটি হাইড্রোকলয়েডের ব্যবহার (মান ২)
  1. অ্যাগার-অ্যাগার (Agar-agar): লোহিত শৈবাল Gelidium এবং Gracilaria থেকে নিষ্কাশিত হয়। এটি অণুজীববিজ্ঞান গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি মাধ্যম জমাট বাঁধাতে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে আইসক্রিম ও জেলি তৈরিতে স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  2. অ্যালজিন (Algin): বাদামী শৈবাল (যেমন Laminaria) থেকে প্রাপ্ত জলধারণকারী পলিস্যাকারাইড, যা টুথপেস্ট, প্রসাধনী সামগ্রী, ওষুধ ও কাপড়ের ছাপাখানায় ইমালসিফায়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ 2
(ক) ব্রায়োফাইটাকে 'উদ্ভিদজগতের উভচর' বলা হয় কেন? (খ) ব্রায়োফাইটার লিঙ্গধর ও রেণুধর জনুর মধ্যে প্লয়েডি, স্বাবলম্বিতা ও গঠনের তিনটি পার্থক্য লেখো। [নম্বর বিভাজন: ২ + ৩ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) ব্রায়োফাইটাকে 'উদ্ভিদজগতের উভচর' বলার কারণ (মান ২)

ব্রায়োফাইটাকে দুটি প্রধান পরিবেশীয় নির্ভরতার জন্য উদ্ভিদজগতের উভচর বলা হয়:

  • এরা মাটিতে বসবাসকারী স্থলজ উদ্ভিদ হলেও স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র ছায়াযুক্ত স্থানে জন্মায়।
  • কিন্তু যৌন জনন সম্পন্ন করার জন্য এদের জীবনচক্রে জল অপরিহার্য। পুংধানী থেকে নির্গত দ্বি-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল শুক্রাণু জলের ফিল্মের মধ্য দিয়ে সাঁতার কেটে স্ত্রীধানীতে প্রবেশ করে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। জল না থাকলে এদের প্রজনন ও বংশরক্ষা অসম্ভব।
(খ) লিঙ্গধর বনাম রেণুধর জনুর পার্থক্য (মান ৩)
বৈশিষ্ট্য লিঙ্গধর জনু (Gametophyte) রেণুধর জনু (Sporophyte)
প্লয়েডি স্তর হ্যাপ্লয়েড ($n$) ডিপ্লয়েড ($2n$)
স্বাবলম্বিতা ও স্থায়িত্ব প্রধান, দীর্ঘস্থায়ী, স্বাধীন এবং ক্লোরোফিলযুক্ত হওয়ায় স্বভোজী। ক্ষণস্থায়ী, পরাধীন; খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য লিঙ্গধরের ওপর সম্পূর্ণ পরজীবী।
অঙ্গসংস্থানিক গঠন থ্যালাসাকার বা পত্রল কাণ্ডের মতো, যা রাইজয়েডের সাহায্যে মাটির সাথে যুক্ত থাকে। তিনটি অংশে বিভক্ত: ফুট (গোড়া), সিটা (বৃন্ত) এবং ক্যাপসুল (রেণুধানী)।
উদাহরণ 3
(ক) 'অসমরেণুপ্রসূতা' (Heterospory) কী? দুটি অসমরেণুপ্রসূ টেরিডোফাইটার নাম লেখো। (খ) সেলাজিনেলায় অসমরেণুপ্রসূতা কীভাবে বীজ প্রকৃতির (Seed Habit) সূচনা করেছিল তা ব্যাখ্যা করো। [নম্বর বিভাজন: ২ + ৩ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) অসমরেণুপ্রসূতার সংজ্ঞা ও উদাহরণ (মান ২)

যে প্রক্রিয়ায় কোনো সংবহনী উদ্ভিদে আকার ও কার্যকারিতার দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই প্রকার রেণু উৎপন্ন হয়, তাকে অসমরেণুপ্রসূতা (Heterospory) বলে:

  1. মাইক্রোস্পোর (Microspores): ক্ষুদ্রাকার রেণু যা অঙ্কুরিত হয়ে পুং লিঙ্গধর তৈরি করে।
  2. মেগাস্পোর (Megaspores): বৃহদাকার খাদ্যসমৃদ্ধ রেণু যা অঙ্কুরিত হয়ে স্ত্রী লিঙ্গধর তৈরি করে।

দুটি টেরিডোফাইটা: Selaginella এবং Salvinia (এছাড়াও Marsilea)।

(খ) সেলাজিনেলায় বীজ প্রকৃতির পূর্বাভাস (মান ৩)

উচ্চশ্রেণির ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ধাপগুলি সর্বপ্রথম Selaginella-র মতো অসমরেণুপ্রসূ উদ্ভিদে দেখা যায়:

  • মেগাস্পোরের খাদ্য সমৃদ্ধি: বৃহৎ মেগাস্পোরে প্রচুর খাদ্য সঞ্চিত থাকায় স্ত্রী লিঙ্গধর উপযুক্ত পুষ্টি পায়।
  • মাতৃ রেণুধরে মেগাস্পোরের ধারণ: সেলাজিনেলায় মেগাস্পোরটি মাটিতে ঝরে পড়ে না; এটি মাতৃ রেণুধর উদ্ভিদের মেগাস্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করে।
  • মেগাস্পোরের অভ্যন্তরেই ভ্রূণ সৃষ্টি: মেগাস্পোরের ভেতরেই ডিম্বাণুর নিষেক ঘটে এবং জাইগোট থেকে তরুণ ভ্রূণ সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়টি মাতৃ উদ্ভিদের আশ্রয়েই সম্পন্ন হয়।
  • তাৎপর্য: মেগাস্পোরকে মাতৃদেহে ধরে রাখা এবং ভ্রূণকে সুরক্ষা দেওয়া—এই ঘটনাটিকেই জীববিজ্ঞানে বীজ প্রকৃতির অপরিহার্য পূর্বসূরী (Precursor to the Seed Habit) বলা হয়।
উদাহরণ 4
(ক) ব্যক্তবীজী পাইনাস উদ্ভিদের তিনটি মরুজ অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। (খ) ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের সস্য কেন হ্যাপ্লয়েড (n) এবং গুপ্তবীজীর সস্য কেন ট্রিপ্লয়েড (3n) হয়? [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) পাইনাসের মরুজ অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য (মান ৩)

কনিফার জাতীয় ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ (যেমন পাইনাস) শুষ্ক, তীব্র শৈত্য ও বরফাবৃত পাহাড়ি অঞ্চলে জলক্ষয় রোধ করতে নিম্নলিখিত অভিযোজন প্রদর্শন করে:

  1. সূঁচালো পাতা (Needle-like leaves): পাতাগুলি সূঁচের মতো সরু হওয়ায় পাতার ক্ষেত্রফল ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়, যা বাষ্পমোচনের হার কমিয়ে দেয়।
  2. পুরু কিউটিকল (Thick Cuticle): পাতার বহিঃত্বকের ওপর মোমের পুরু কিউটিকল স্তর থাকে, যা সরাসরি বাষ্পমোচন বন্ধ করে।
  3. সানকেন স্টোমাটা (Sunken Stomata বা নিমজ্জিত পত্ররন্ধ্র): পত্ররন্ধ্রগুলি বহিঃত্বকের গভীর গর্তের ভেতর অবস্থান করে। এর ফলে রন্ধ্রের মুখে আর্দ্র বাতাসের স্তর থাকে এবং বাষ্পমোচনে অতিরিক্ত জলক্ষয় হয় না।
(খ) সস্যের প্লয়েডির বৈসাদৃশ্য (মান ২)
  • ব্যক্তবীজীর সস্য হ্যাপ্লয়েড ($n$): ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে ডিম্বকের মেগাস্পোর বিভাজিত হয়ে যে স্ত্রী লিঙ্গধর কলা তৈরি করে, সেটাই সরাসরি সস্য হিসেবে কাজ করে। যেহেতু এই সস্য নিষেকের পূর্বেই গঠিত হয় এবং কোনো নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটে না, তাই এটি সর্বদা হ্যাপ্লয়েড ($n$)।
  • গুপ্তবীজীর সস্য ট্রিপ্লয়েড ($3n$): গুপ্তবীজী উদ্ভিদে সস্য গঠিত হয় নিষেকের পর ত্রিমিলনের (Triple Fusion) মাধ্যমে। একটি হ্যাপ্লয়েড পুং গ্যামেট ($n$) ভ্রূণস্থলীর ডিপ্লয়েড নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ($2n$) সাথে মিলিত হয়ে প্রাথমিক সস্য নিউক্লিয়াস বা PEN ($3n$) তৈরি করে, যা পরে বিভাজিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড সস্য ($3n$) গঠন করে।
উদাহরণ 5
(ক) গুপ্তবীজী উদ্ভিদের 'দ্বি-নিষেক' (Double Fertilization) প্রক্রিয়াটি সমীকরণসহ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। (খ) নিষেকের পর জাইগোট এবং প্রাথমিক সস্য নিউক্লিয়াসের (PEN) ভবিষ্যৎ পরিণতি কী হয়? [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) দ্বি-নিষেক প্রক্রিয়া ও তার উপাদান (মান ৩)

১৮৯৮ সালে বিজ্ঞানী এস. জি. নাওয়াশিন গুপ্তবীজী উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক আবিষ্কার করেন। পরাগনালী ভ্রূণস্থলীতে প্রবেশ করে দুটি সচল পুং গ্যামেট মুক্ত করে, যার ফলে একই ভ্রূণস্থলীতে দুটি পৃথক নিষেক ঘটে:

  1. প্রকৃত মিলন বা সিনগ্যামি (Syngamy): একটি হ্যাপ্লয়েড পুং গ্যামেট ($n$) ডিম্বাণুর ($n$) সাথে মিলিত হয়ে একটি ডিপ্লয়েড জাইগোট ($2n$) তৈরি করে। $$ ext{পুং গ্যামেট } (n) + ext{ডিম্বাণু } (n) \longrightarrow ext{জাইগোট } (2n)$$
  2. ত্রিমিলন (Triple Fusion): দ্বিতীয় হ্যাপ্লয়েড পুং গ্যামেটটি ($n$) ভ্রূণস্থলীর কেন্দ্রে অবস্থিত ডিপ্লয়েড নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ($2n$) সাথে যুক্ত হয়। তিনটি হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসের এই মিলনকে ত্রিমিলন বলে, যার ফলে প্রাথমিক সস্য নিউক্লিয়াস (PEN, $3n$) গঠিত হয়। $$ ext{পুং গ্যামেট } (n) + ext{নির্ণীত নিউক্লিয়াস } (2n) \longrightarrow ext{PEN } (3n)$$

একই সাথে এই দুটি মিলন সংঘটিত হওয়ার ঘটনাকে দ্বি-নিষেক বলে।

(খ) জাইগোট ও PEN-এর ভবিষ্যৎ পরিণতি (মান ২)
  • জাইগোট ($2n$): মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণীয় বিকাশ ঘটিয়ে ভ্রূণে (Embryo) রূপান্তরিত হয়, যাতে ভ্রূণাক্ষ (ভ্রূণমুকুল ও ভ্রূণমূল) এবং এক বা দুটি বীজপত্র গঠিত হয়।
  • প্রাথমিক সস্য নিউক্লিয়াস বা PEN ($3n$): মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে খাদ্যসমৃদ্ধ ট্রিপ্লয়েড সস্য কলায় (Endosperm, $3n$) পরিণত হয়, যা বিকাশমান ভ্রূণকে বৃদ্ধি ও অঙ্কুরোদগমের জন্য পুষ্টি যোগায়।
উদাহরণ 6
(ক) উদ্ভিদের হ্যাপ্লন্টিক, ডিপ্লন্টিক এবং হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক জীবনচক্রের মধ্যে প্রধান দশা ও জাইগোটের পরিণতির ভিত্তিতে পার্থক্য লেখো। (খ) ডিপ্লন্টিক জীবনচক্র প্রদর্শনকারী একটি শৈবাল এবং হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক জীবনচক্র প্রদর্শনকারী দুটি শৈবালের নাম লেখো। [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) উদ্ভিদের জীবনচক্রের তুলনামূলক পার্থক্য (মান ৩)
বৈশিষ্ট্য হ্যাপ্লন্টিক (Haplontic) ডিপ্লন্টিক (Diplontic) হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক (Haplodiplontic)
প্রধান ও স্বাধীন দশা হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর ($n$): স্বাধীন, স্বভোজী ও দীর্ঘস্থায়ী। ডিপ্লয়েড রেণুধর ($2n$): প্রধান, স্বাধীন, সংবহনী ও দীর্ঘস্থায়ী। উভয় দশাই (লিঙ্গধর $n$ ও রেণুধর $2n$) বহুকোষী।
জাইগোটের পরিণতি ও রেণুধর রেণুধর কেবল এককোষী জাইগোট ($2n$) দ্বারা সীমাবদ্ধ; জাইগোটে সরাসরি মিয়োসিস ঘটে। জাইগোট বিভাজিত হয়ে বহুকোষী রেণুধর দেহ গঠন করে; স্পোরাঞ্জিয়ায় মিয়োসিস ঘটে। ব্রায়োফাইটাতে রেণুধর লিঙ্গধরের ওপর পরজীবী; টেরিডোফাইটাতে রেণুধর স্বাধীন ও সংবহনকলাযুক্ত।
প্রতিনিধিত্বকারী উদ্ভিদ অধিকাংশ শৈবাল (Volvox, Spirogyra) সমস্ত বীজযুক্ত উদ্ভিদ (ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী) ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা
(খ) শৈবালের ব্যতিক্রমী জীবনচক্র (মান ২)
  1. ডিপ্লন্টিক জীবনচক্রযুক্ত শৈবাল: বাদামী সামুদ্রিক শৈবাল ফিউকাস (Fucus)।
  2. হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক জীবনচক্রযুক্ত দুটি শৈবাল:
    • এক্টোকার্পাস (Ectocarpus) (বাদামী শৈবাল)
    • পলিসাইফোনিয়া (Polysiphonia) (লোহিত শৈবাল)

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের সস্যকে গুপ্তবীজীর মতো ট্রিপ্লয়েড (3n) মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের সস্য সর্বদা হ্যাপ্লয়েড (n), কারণ এটি নিষেকের পূর্বেই স্ত্রী লিঙ্গধরের কলা থেকে সরাসরি তৈরি হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

লোহিত শৈবালে (Rhodophyceae) অযৌন জননের জন্য সচল চলরেণু বা জুস্পোর আছে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

লোহিত শৈবালের সমগ্র জীবনচক্রে কোনো অবস্থাতেই ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোনো সচল কোষ থাকে না। এদের স্পোর ও শুক্রাণু উভয়ই নিশ্চল।

সাধারণ ভুল ধারণা

সমস্ত শৈবালের জীবনচক্র হ্যাপ্লন্টিক মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অধিকাংশ শৈবাল হ্যাপ্লন্টিক হলেও ফিউকাস (Fucus) শৈবাল সম্পূর্ণ ডিপ্লন্টিক এবং এক্টোকার্পাস ও পলিসাইফোনিয়া হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক।

সাধারণ ভুল ধারণা

ব্রায়োফাইটার রেণুধর দেহকে স্বাধীন ও সালোকসংশ্লেষী মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ব্রায়োফাইটার রেণুধর দেহটি (ফুট, সিটা, ক্যাপসুল) সম্পূর্ণভাবে লিঙ্গধর উদ্ভিদের ওপর খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য পরজীবী।

সাধারণ ভুল ধারণা

সমস্ত ফার্নকে অসমরেণুপ্রসূ (Heterosporous) মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অধিকাংশ সাধারণ ফার্ন (Dryopteris, Pteris) সমরেণুপ্রসূ। কেবল সেলাজিনেলা, সালভিনিয়া ও মার্সিলিয়া হলো অসমরেণুপ্রসূ।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

PK উদ্ভিদ রাজ্য: শৈবাল, ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা, ব্যক্তবীজী ও জনুক্রম ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি জীববিদ্যা — একক ১: জীবজগতের বৈচিত্র্য (অধ্যায় ৩) ১. শৈবালের ৩টি প্রধান শ্রেণি (Algae) • Chlorophyceae: ক্লোরোফিল a+b, পাইরেনয়েড (শ্বেতসার), ২-৮টি সমান ফ্ল্যাজেলা (Chlamydomonas, Spirogyra) • Phaeophyceae: ক্লোরোফিল a+c, ফিউকোজ্যান্থিন, ল্যামিনারিন/ম্যানিটল, অ্যালজিন, পার্শ্বীয় ফ্ল্যাজেলা (Fucus, Kelp) • Rhodophyceae: r-ফাইকোইরিথ্রিন, ফ্লোরিডিয়ান শ্বেতসার, ফ্ল্যাজেলা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (Polysiphonia, Gelidium) ২. ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা: ভ্রূণোদগম ও সংবহন কলা • Bryophytes: উদ্ভিদজগতের উভচর; লিঙ্গধর (n) প্রধান, রেণুধর (2n) পরজীবী; স্ফ্যাগনাম (পিট মস - জলধারণ ক্ষমতা) • Pteridophytes: প্রথম সংবহনকলাযুক্ত (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) স্থলজ উদ্ভিদ; রেণুধর (2n) প্রধান, স্বাবলম্বী প্রোথ্যালাস (n) • Seed Habit: সেলাজিনেলা ও সালভিনিয়ায় অসমরেণুপ্রসূতা (Heterospory) ও স্ত্রী লিঙ্গধরের মাতৃদেহে ধারণ ৩. ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms): নগ্ন বীজ ও অভিযোজন • Naked Seeds: গর্ভাশয় অনুপস্থিত, ডিম্বক অনাবৃত; ফলের সৃষ্টি হয় না; সেকোয়া (দৈত্যাকার রেডউড বৃক্ষ >১১০ মি.) • Xerophytic Traits: সূঁচালো পাতা, পুরু কিউটিকল, নিমজ্জিত পত্ররন্ধ্র (সানকেন স্টোমাটা); পাইনাস ও সাইকাস • Endosperm (n): নিষেকের পূর্বেই স্ত্রী লিঙ্গধর থেকে গঠিত হয় (গুপ্তবীজীর ট্রিপ্লয়েড 3n সস্যের বিপরীত) ৪. উদ্ভিদের জীবনচক্র ও জনুক্রম (Alternation of Generations) • Haplontic: লিঙ্গধর (n) প্রধান; রেণুধর কেবল এককোষী জাইগোট (2n); ভলভক্স, স্পাইরোগাইরা • Diplontic: রেণুধর (2n) প্রধান; লিঙ্গধর ক্ষণস্থায়ী; সমস্ত বীজযুক্ত উদ্ভিদ ও ফিউকাস শৈবাল • Haplodiplontic: উভয় দশাই বহুকোষী; ব্রায়োফাইটা (n প্রধান) ও টেরিডোফাইটা (2n প্রধান); এক্টোকার্পাস • Angiosperm: গুপ্তবীজীর অনন্য বৈশিষ্ট্য; অঙ্গজ মিলন (2n) + ত্রিমিলন (3n সস্য)

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
উদ্ভিদ রাজ্য হলো ক্লোরোফিলযুক্ত, স্বভোজী, সেলুলোজ প্রাচীরবিশিষ্ট বহুকোষী ইউক্যারিওটদের গোষ্ঠী, যাদের প্রধান বিভাগগুলি হলো শৈবাল, ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা, ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী।
মূল বিষয় 2
কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাসে কেবল কয়েকটি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের (যেমন পুংকেশর সংখ্যা) ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস করা হতো, যার ফলে নিকটাত্মীয় প্রজাতিগুলি পৃথক হয়ে যেত।
মূল বিষয় 3
জর্জ বেন্থাম ও জোসেফ ডালটন হুকার বীজযুক্ত উদ্ভিদের বিখ্যাত প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন যা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সাথে অন্তঃশারীরস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব ও ফাইটোকেমিস্ট্রির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
মূল বিষয় 4
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস সহায়ক পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে সংখ্যাভিত্তিক ট্যাক্সোনমি (কম্পিউটার বিশ্লেষণ), কোশতত্ত্বীয় ট্যাক্সোনমি (ক্রোমোজোম সংখ্যা ও আচরণ), এবং রসায়নভিত্তিক ট্যাক্সোনমি।
মূল বিষয় 5
শৈবাল হলো সরল থ্যালয়েড সমাঙ্গদেহী স্বভোজী অপুষ্পক জলজ উদ্ভিদ, যা প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত: ক্লোরোফাইসি, ফিয়োফাইসি এবং রোডাফাইসি।
মূল বিষয় 6
ক্লোরোফাইসি (সবুজ শৈবাল) ক্লোরোফিল a ও b ধারণ করে, পাইরেনয়েডে শ্বেতসার সঞ্চয় করে এবং এদের ২-৮টি সমান অগ্রস্থ ফ্ল্যাজেলা থাকে (Chlamydomonas, Spirogyra)।
মূল বিষয় 7
ফিয়োফাইসি (বাদামী শৈবাল) ফিউকোজ্যান্থিন রঞ্জকযুক্ত, খাদ্য হিসেবে ল্যামিনারিন ও ম্যানিটল সঞ্চয় করে, কোষপ্রাচীরে অ্যালজিন থাকে এবং দুটি অসমান পার্শ্বীয় ফ্ল্যাজেলা থাকে (Fucus, Laminaria)।
মূল বিষয় 8
রোডাফাইসি (লোহিত শৈবাল) r-ফাইকোইরিথ্রিন রঞ্জকযুক্ত, ফ্লোরিডিয়ান শ্বেতসার সঞ্চয় করে এবং এদের জীবনচক্রের কোনো পর্যায়েই কোনো প্রকার ফ্ল্যাজেলা বা সচল কোষ থাকে না।
মূল বিষয় 9
ব্রায়োফাইটাকে উদ্ভিদজগতের উভচর বলা হয় কারণ এরা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করলেও এদের যৌন জননে পুংরেণুর সঞ্চালনের জন্য জল অপরিহার্য।
মূল বিষয় 10
ব্রায়োফাইটাতে প্রধান স্বাবলম্বী দেহটি হলো হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর (n); এদের রেণুধর দেহটি (2n) লিঙ্গধরের ওপর খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সম্পূর্ণ পরজীবী।
মূল বিষয় 11
স্ফ্যাগনাম (পিট মস) তার মৃত কোষে প্রচুর জল ধারণ করতে পারে, তাই একে জীবিত চারাগাছ প্যাকেজিং ও পরিবহনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
মূল বিষয় 12
টেরিডোফাইটা হলো প্রথম সংবহনকলাযুক্ত (জাইলেম ট্র্যাকিড ও ফ্লোয়েম সিভকোষ) স্থলজ উদ্ভিদ; এদের প্রধান উদ্ভিদ দেহটি হলো ডিপ্লয়েড রেণুধর (2n)।
মূল বিষয় 13
টেরিডোফাইটার রেণু অঙ্কুরিত হয়ে ক্ষুদ্র, বহুকোষী, অবৃন্তক ও স্বাধীন সালোকসংশ্লেষী লিঙ্গধর দেহ গঠন করে যাকে প্রোথ্যালাস (Prothallus) বলে।
মূল বিষয় 14
সেলাজিনেলা ও সালভিনিয়ায় অসমরেণুপ্রসূতা (Heterospory) অর্থাৎ ক্ষুদ্র মাইক্রোস্পোর ও বৃহৎ মেগাস্পোর সৃষ্টি এবং স্ত্রী লিঙ্গধরের মাতৃদেহে ধারণ বীজ প্রকৃতির সরাসরি পূর্বসূরী।
মূল বিষয় 15
ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে ডিম্বকটি গর্ভাশয় দ্বারা আবৃত থাকে না, ফলে বীজ সম্পূর্ণ নগ্ন থাকে; সেকোয়া হলো বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম বৃক্ষ।
মূল বিষয় 16
ব্যক্তবীজী পাইনাসের সূঁচালো পাতা, পুরু কিউটিকল ও সানকেন স্টোমাটা জলক্ষয় রোধ করে; এদের মূল মাইকোরাইজা এবং সাইকাসের প্রবালসম মূলে সায়ানোব্যাকটেরিয়া থাকে।
মূল বিষয় 17
ব্যক্তবীজীর সস্য (Endosperm) নিষেকের পূর্বেই স্ত্রী লিঙ্গধর থেকে গঠিত হয় বলে এটি সর্বদা হ্যাপ্লয়েড (n), যা গুপ্তবীজীর ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মূল বিষয় 18
গুপ্তবীজী উদ্ভিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো দ্বি-নিষেক: অপত্য জনু (2n জাইগোট) এবং ত্রিমিলনজাত সস্য নিউক্লিয়াস (3n PEN)।
মূল বিষয় 19
উদ্ভিদের জীবনচক্রে হ্যাপ্লন্টিক (ভলভক্স, স্পাইরোগাইরা), ডিপ্লন্টিক (বীজযুক্ত উদ্ভিদ ও ফিউকাস শৈবাল), এবং হ্যাপ্লোডিপ্লন্টিক (ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা, এক্টোকার্পাস) জনুক্রম দেখা যায়।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
বেন্থাম ও হুকারের বীজযুক্ত উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসকে কেন 'প্রাকৃতিক' বলা হলেও 'জাতিজনিগত' বলা যায় না?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কারণ এটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কলাসংস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব ও শারীরস্থান বিবেচনা করায় প্রাকৃতিক; কিন্তু এতে উদ্ভিদের বিবর্তনীয় ধারা রক্ষা করা হয়নি—যেমন ব্যক্তবীজীকে দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রীর মাঝখানে রাখা হয়েছিল যা বিবর্তনীয় নিয়মের পরিপন্থী।
2
রেণু বিচ্ছুরণে লিভারওয়ার্টের চেয়ে মস কেন বেশি উন্নত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মস ক্যাপসুলের মুখে ১৬টি বহিঃস্থ ও ১৬টি অন্তঃস্থ পেরিস্টোম দন্ত থাকে যা বাতাসের আর্দ্রতার তারতম্যে সংবেদনশীলভাবে খুলে ও বন্ধ হয়ে দূর-দূরান্তে ধীরে ধীরে রেণু ছড়িয়ে দেয়; কিন্তু লিভারওয়ার্টে কেবল সাধারণ ইলেটারের সাহায্যে একবারে বিস্ফোরণ ঘটে।
3
সার্সিনেট ভারনেশন (Circinate Vernation) কী এবং এটি কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: কচি পাতার ফলক ঘড়ির স্প্রিং-এর মতো নিচ থেকে ওপরের দিকে বৃত্তাকারে কুন্ডলীকৃত থাকার বিশেষ অবস্থাকে সার্সিনেট ভারনেশন বলে, যা কচি অগ্রভাগকে আঘাত থেকে বাঁচায়। এটি ফার্ন ও সাইকাসে সুস্পষ্ট দেখা যায়।
4
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদগুলি কেন পৃথিবীর সব জায়গায় সমানভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: এদের লিঙ্গধর প্রোথ্যালাসে কোনো কিউটিকল বা সংবহন কলা থাকে না বলে এরা চরম শুষ্কতা সহ্য করতে পারে না। সবচেয়ে বড় কারণ হলো এদের সচল শুক্রাণুকে সাঁতার কেটে স্ত্রীধানীতে প্রবেশের জন্য এক পাতলা জলের ফিল্মের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
5
পাইনাস উদ্ভিদের বীজের অঙ্কুরোদগমে মাইকোরাইজার উপস্থিতি কেন বাধ্যতামূলক?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পাইনাসের মূলে মূলরোম অনুপস্থিত বা বিরল। মাইকোরাইজাল ছত্রাকের হাইফি মাটির গভীরে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে প্রধানত ফসফরাস ও জল শোষণ করে পাইনাসকে সরবরাহ করে; ছত্রাক ছাড়া পাইনাসের বীজ অঙ্কুরিতই হতে পারে না।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।