Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 6
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন

সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন (Anatomy of Flowering Plants) হলো গুপ্তবীজী বা অ্যাঞ্জিওস্পার্ম উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ আণুবীক্ষণিক কোশীয় সংগঠন, কলাবিন্যাস এবং কার্যগত শারীরস্থানের বিজ্ঞানভিত্তিক অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার এই অত্যন্ত মৌলিক অধ্যায়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন কলার শ্রমবণ্টন—ভাজক কলা (শীর্ষস্থ, নিবেশিত ও পার্শ্বীয়) থেকে শুরু করে বিশেষায়িত স্থায়ী কলা (প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা, জাইলেম ও ফ্লোয়েম)—ধারাবাহিকভাবে আলোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তিনটি সমন্বিত কলাতন্ত্র: ত্বকীয় কলাতন্ত্র (পত্ররন্ধ্রীয় জটিলতা, ট্রাইকোম ও মূলরোম), ভিত্তি কলাতন্ত্র (কর্টেক্স, ক্যাসপেরিয়ান পট্টিযুক্ত অন্তস্ত্বক, পরিচক্র ও মজ্জা), এবং সংবহন কলাতন্ত্রের (অরীয় বনাম যুক্ত সমপার্শ্বীয় মুক্ত/বদ্ধ বান্ডিল) বিশদ রূপরেখা জানতে পারে। দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী মূল, কাণ্ড ও পাতার তুলনামূলক শারীরস্থান যান্ত্রিক দৃঢ়তা, জল সংবহন ও সালোকসংশ্লেষের নিখুঁত অভিযোজন তুলে ধরে। অধ্যায়ের চূড়ান্ত অংশে সংবহন ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তায় গৌণ বৃদ্ধি, বসন্ত ও শরৎ কাঠের সমন্বয়ে গঠিত বর্ষবলয় ও বৃক্ষকালানুক্রমিকবিদ্যা (Dendrochronology), টাইলোসেসযুক্ত সারকাষ্ঠ ও সজীব রসকাষ্ঠের প্রভেদ, এবং ফেলোজেন ও লেন্টিসেলের মাধ্যমে পেরিডার্ম গঠনের তত্ত্ব বিশদভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক এবং নিট (NEET) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য এই অধ্যায়টি অপরিহার্য ভিত্তি।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

একটি শতবর্ষী প্রাচীন বৃক্ষের গুঁড়ি কেটে কীভাবে একজন বিজ্ঞানী গাছটির সঠিক বয়স এবং অতীতের কোন কোন বছর তীব্র খরা হয়েছিল তা নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারেন?

অধ্যায়টির গুরুত্ব

উদ্ভিদের অন্তর্গঠনের জ্ঞান বনবিজ্ঞান, কাষ্ঠশিল্প, কৃষিবিজ্ঞান, ভেষজবিদ্যা এবং জলবায়ু গবেষণায় সরাসরি ব্যবহৃত হয়। কাষ্ঠল গুঁড়ির প্রস্থচ্ছেদে বর্ষবলয় গণনা করে শতবর্ষ প্রাচীন জীবন্ত বৃক্ষের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ এবং ঐতিহাসিক খরা ও বৃষ্টির চক্র পুনর্গঠন করা যায় (বৃক্ষকালানুক্রমিকবিদ্যা)। সারকাষ্ঠ ও রসকাষ্ঠের অনুপাত জানা আসবাবপত্র ও গৃহনির্মাণে দীর্ঘস্থায়ী ঘুণ-প্রতিরোধী কাঠ নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি। এছাড়া ভেষজ ওষুধ তৈরিতে বিভিন্ন গাছগাছড়ার গুঁড়ো বা মশলার বাণিজ্যিক ভেজাল নির্ণয়ে আণুবীক্ষণিক চিহ্ন—যেমন বীজত্বকের স্ক্লেরাইড কোশ, স্টার্চ শিথ এবং ট্রাইকোমের গঠন শনাক্তকরণে উদ্ভিদ শারীরস্থান অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • উদ্ভিদ কোশের সাধারণ গঠন (কোশপ্রাচীর, সেলুলোজ, ভ্যাকুওল ও প্লাস্টিড)।
  • ভ্রূণের ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে মূল এবং ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে কাণ্ডের বিকাশ।
  • একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের সাধারণ বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য।
  • কোশ বিভাজনের মৌলিক ধারণা এবং ভাজক কোশ থেকে স্থায়ী কোশে রূপান্তর।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 ভাজক কলা ও সরল স্থায়ী কলা: কোশীয়...
2 জটিল স্থায়ী কলা: জাইলেম ও ফ্লোয়েম...
3 উদ্ভিদের কলাতন্ত্র: ত্বকীয়, ভিত্তি...
4 মূলের অন্তর্গঠন: দ্বিবীজপত্রী মূল ব...
5 কাণ্ড ও পাতার অন্তর্গঠন: দ্বিবীজপত্...
6 দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি: ক...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

ভাজক কলা ও সরল স্থায়ী কলা: কোশীয় বিভেদন ও যান্ত্রিক অভিযোজন

উদ্ভিদদেহে সম-উৎপত্তিবিশিষ্ট এবং একই ধরণের কার্য সম্পাদনে নিয়োজিত নির্দিষ্ট কোশসমষ্টিকে কলা (Tissue) বলে। বিভাজন ক্ষমতার ভিত্তিতে উদ্ভিদ কলাকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: ভাজক কলা (Meristematic tissue) এবং স্থায়ী কলা (Permanent tissue)।

১. ভাজক কলা (Meristematic Tissues)

ভাজক কলার কোশগুলি অপরিণত, সর্বদা সক্রিয় মাইটোসিস বিভাজনে সক্ষম, পাতলা সেলুলোজ নির্মিত কোশপ্রাচীরযুক্ত, ঘন দানাদার প্রোটোপ্লাজম ও সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াসযুক্ত, ভ্যাকুওলহীন এবং আন্তঃকোশীয় স্থানহীনভাবে নিবিড়ভাবে সন্নিবিষ্ট থাকে।

  • অবস্থান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ:
    • শীর্ষস্থ ভাজক কলা (Apical Meristem): মূল ও কাণ্ডের ক্রমবর্ধমান অগ্রভাগে অবস্থিত (Root Apical Meristem - RAM এবং Shoot Apical Meristem - SAM)। এটি উদ্ভিদের প্রাথমিক কলা গঠন করে এবং দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
    • নিবেশিত ভাজক কলা (Intercalary Meristem): দুটি স্থায়ী কলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, বিশেষত একবীজপত্রী ঘাস, বাঁশ ও পুদিনার পর্বমধ্যের গোড়ায় থাকে। এটি তৃণভোজী প্রাণীদের দ্বারা ভক্ষিত অংশ দ্রুত পুনরুৎপাদনে সহায়তা করে।
    • পার্শ্বীয় ভাজক কলা (Lateral Meristem): কাণ্ড ও মূলের পার্শ্বদেশে অনুদৈর্ঘ্যভাবে অবস্থিত বেলনাকার ভাজক কলা। এটি পরিক্লিনাল বিভাজনের মাধ্যমে গৌণ কলা সৃষ্টি করে উদ্ভিদের স্থূলতা বা বেধ বৃদ্ধি করে (যেমন সংবহন ক্যাম্বিয়াম ও কর্ক ক্যাম্বিয়াম / ফেলোজেন)।
  • উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ:
    • প্রাথমিক ভাজক কলা (Primary Meristem): ভ্রূণাবস্থা থেকে সারাজীবন সক্রিয় থাকে (শীর্ষস্থ ও নিবেশিত ভাজক কলা)।
    • গৌণ ভাজক কলা (Secondary Meristem): স্থায়ী কোশগুলির পুনরায় বিভাজন ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে (Dedifferentiation) পরবর্তী জীবনে গঠিত হয় (যেমন মজ্জাংশু থেকে গঠিত ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম এবং কর্টেক্স থেকে গঠিত কর্ক ক্যাম্বিয়াম / ফেলোজেন)।
২. সরল স্থায়ী কলা (Simple Permanent Tissues)

যে স্থায়ী কলা কেবলমাত্র এক প্রকার সমআকৃতির ও সমপ্রকৃতির কোশ দ্বারা গঠিত, তাকে সরল স্থায়ী কলা বলে:

  • প্যারেনকাইমা (Parenchyma):
    • গঠন: সজীব, সমব্যাসীয়, গোলাকার বা ডিম্বাকার কোশ; পাতলা সেলুলোজ কোশপ্রাচীর ও সুস্পষ্ট কেন্দ্রস্থ ভ্যাকুওলযুক্ত। কোশগুলির মধ্যে সুস্পষ্ট আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে।
    • রূপান্তর ও কাজ: খাদ্য সংশ্লেষ ও সঞ্চয় এর প্রধান কাজ। ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমাকে ক্লোরেনকাইমা (সালোকসংশ্লেষকারী) এবং জলজ উদ্ভিদে (কচুরিপানা, পদ্ম) বড় বড় বায়ুপূর্ণ গহ্বরযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (প্লবতা ও গ্যাস বিনিময়ে সহায়ক) বলে।
  • কোলেনকাইমা (Collenchyma):
    • গঠন: সজীব, দীর্ঘাকার কোশ। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো কোশগুলির সংযোগস্থলে বা কোণে পেক্টিন, সেলুলোজ ও হেমিসেলুলোজের অসম স্থূলীভবন ঘটে। কোশগুলির মধ্যে কোনো আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে না।
    • অবস্থান ও কাজ: দ্বিবীজপত্রী কচি কাণ্ড ও পত্রবৃন্তের অধস্ত্বকে (hypodermis) থাকে। এটি উদ্ভিদের নমনীয় যান্ত্রিক শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে, যার ফলে তীব্র বাতাসে কচি ডালপালা না ভেঙে সহজে বেঁকে যেতে পারে। (একবীজপত্রী কাণ্ড এবং মূলে কোলেনকাইমা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত)।
  • স্ক্লেরেনকাইমা (Sclerenchyma):
    • গঠন: পরিণত অবস্থায় সম্পূর্ণ মৃত ও প্রোটোপ্লাজমবিহীন। কোশপ্রাচীর অত্যন্ত পুরু এবং শক্ত লিগনিন দ্বারা স্থূলীকৃত। কোশগহ্বর (lumen) অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং প্রাচীরে কুপ (pits) থাকে।
    • প্রকারভেদ:
      1. স্ক্লেরেনকাইমা তন্তু (Fibres): সুতোর মতো দীর্ঘ, দুই প্রান্ত ছুঁচলো কোশ, যা গুচ্ছাকারে থাকে (যেমন পাটের বাস্ট তন্তু)।
      2. স্ক্লেরাইড বা অশ্মকোশ (Sclereids / Stone Cells): প্রায় গোলাকার বা ডিম্বাকার অত্যন্ত স্থূলপ্রাচীরযুক্ত কোশ। পেয়ারা, নাসপাতি, সফেদা ফলের শাঁসের খসখসে দানা, বাদামের খোসা এবং ডালশস্যের বীজত্বকে পাওয়া যায়।

জটিল স্থায়ী কলা: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের আণুবীক্ষণিক গঠন

একাধিক প্রকার ভিন্নধর্মী কোশ সমন্বয়ে গঠিত যে স্থায়ী কলা উদ্ভিদদেহে সংবহন ও যান্ত্রিক কার্যে যৌথভাবে অংশ নেয়, তাকে জটিল স্থায়ী কলা (Complex Permanent Tissue) বলে। জটিল কলা দুই প্রকার: জাইলেম ও ফ্লোয়েম।

১. জাইলেম (Xylem / দারুকলা)

জাইলেম মূল থেকে শোষিত জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ ঊর্ধ্বমুখী একমুখী সংবহনে পাতায় পৌঁছে দেয়। এর চারটি উপাদান হলো:

  • ট্রাকিড (Tracheids): প্রোটোপ্লাজমবিহীন মৃত, দীর্ঘাকার, দুই প্রান্ত ছুঁচলো নলাকার কোশ। প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং এতে সপাড় কুপ (bordered pits) থাকে। ব্যক্তবীজী ও ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের প্রধান পরিবাহী উপাদান।
  • বাহিকা (Vessels / Xylem Tracheae): একাধিক বাহিকা কোশ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে তৈরি এক দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন ফাঁপা নল। প্রান্তীয় প্রাচীর সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে দ্রবীভূত হয়ে ছিদ্রযুক্ত পাত (Perforation plate) গঠন করে। অ্যাঞ্জিওস্পার্মের অনন্য বৈশিষ্ট্য: বাহিকা প্রায় সমস্ত গুপ্তবীজী উদ্ভিদে উপস্থিত থাকে, কিন্তু ব্যক্তবীজীতে (Gnetales ছাড়া) অনুপস্থিত।
  • জাইলেম তন্তু (Xylem Fibres): অত্যন্ত পুরু প্রাচীর ও সংকীর্ণ গহ্বরযুক্ত মৃত স্ক্লেরেনকাইমা তন্তু; যান্ত্রিক শক্তি জোগায়।
  • জাইলেম প্যারেনকাইমা: জাইলেমের একমাত্র সজীব উপাদান। পাতলা সেলুলোজ প্রাচীরযুক্ত কোশ; স্টার্চ ও ফ্যাট সঞ্চয় করে এবং এর মেডুলারি রে কোশগুলি জল ও খাদ্য অনুভূমিকভাবে (অরীয়ভাবে) পরিবহনে অংশ নেয়।
২. প্রাথমিক জাইলেমের রূপভেদ: এন্ডার্ক বনাম এক্সার্ক
শারীরস্থানিক অবস্থাপ্রোটোজাইলেমের অবস্থানমেটাজাইলেমের অবস্থানউদ্ভিদ অঙ্গ
এন্ডার্ক বা অন্তঃসারক (Endarch)কেন্দ্রের দিকে (মজ্জার দিকে) অবস্থিতপরিধির দিকে (কর্টেক্সের দিকে) অবস্থিতদ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী কাণ্ড
এক্সার্ক বা বহিঃসারক (Exarch)পরিধির দিকে (পরিচক্রের দিকে) অবস্থিতকেন্দ্রের দিকে (ভেতরের দিকে) অবস্থিতদ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী মূল
৩. ফ্লোয়েম (Phloem / বাস্টকলা)

পাতায় সালোকসংশ্লেষে তৈরি তরল জৈব খাদ্যকে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে দ্বিমুখী সংবহন করে ফ্লোয়েম। এর চারটি উপাদান হলো:

  • সীভনল (Sieve Tube Elements): নলাকার কোশ সারি, যাদের আড়াআড়ি প্রান্তপ্রাচীর চালনীর মতো ছিদ্রযুক্ত হয়ে সীভপ্লেট গঠন করে। সাইটোলজিক্যাল চমক: পরিণত সক্রিয় সীভনল কোশে পরিধীয় সাইটোপ্লাজম ও বড় ভ্যাকুওল থাকে, কিন্তু কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না! এর সমস্ত বিপাকীয় ক্রিয়া পাশের সঙ্গী কোশের নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • সঙ্গী কোশ (Companion Cells): সীভনলের গায়ে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে থাকা সজীব, ঘন সাইটোপ্লাজম ও সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াসযুক্ত বিশেষায়িত প্যারেনকাইমা কোশ। সীভনল ও সঙ্গী কোশ উভয়ই একই মাতৃকোশ থেকে উৎপন্ন হয়। প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে এরা সীভনলের চাপ বজায় রাখে। (ব্যক্তবীজীতে এদের পরিবর্তে অ্যালবুমিনাস কোশ থাকে)।
  • ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা: সজীব প্যারেনকাইমা কোশ যা রজন, ক্ষীর ও মিউসিলেজ সঞ্চয় করে। অধিকাংশ একবীজপত্রী উদ্ভিদে এটি অনুপস্থিত।
  • ফ্লোয়েম তন্তু বা বাস্ট তন্তু (Bast Fibres): ফ্লোয়েমের একমাত্র মৃত উপাদান। দীর্ঘ, লিগনিনযুক্ত পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট স্ক্লেরেনকাইমা তন্তু। বাণিজ্যিকভাবে পাট (Corchorus), তিসি (Flax) এবং গাঁজা/শণ (Hemp) থেকে বাস্ট তন্তু সংগৃহীত হয়।

উদ্ভিদের কলাতন্ত্র: ত্বকীয়, ভিত্তি ও সংবহন কলাতন্ত্রের সামগ্রিক স্থাপত্য

১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী জুলিয়াস ভন স্যাক্স উদ্ভিদদেহে কলার অবস্থান ও কাজের ভিত্তিতে সমস্ত কলাকে তিনটি প্রধান কলাতন্ত্রে বিন্যস্ত করেন: ত্বকীয় কলাতন্ত্র, ভিত্তি কলাতন্ত্র এবং সংবহন কলাতন্ত্র।

১. ত্বকীয় কলাতন্ত্র (Epidermal Tissue System)

উদ্ভিদদেহের সর্ববহিঃস্থ প্রতিরক্ষামূলক আবরণী গঠন করে:

  • বহিঃত্বক (Epidermis): আন্তঃকোশীয় স্থানবিহীনভাবে নিবিড়ভাবে সংলগ্ন একসারি প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারা গঠিত। কাণ্ড ও পাতার বহিঃত্বকের বাইরের প্রাচীরে জলরোধী মোমের মতো পদার্থ কিউটিন নির্মিত কিউটিকল (Cuticle) থাকে যা বাষ্পমোচন রোধ করে (মূলে কিউটিকল অনুপস্থিত)।
  • পত্ররন্ধ্রীয় জটিলতা (Stomatal Apparatus): পাতা ও কচি কাণ্ডের ত্বকে গ্যাস বিনিময় ও বাষ্পমোচন নিয়ন্ত্রণকারী ক্ষুদ্র ছিদ্র। প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি বিশেষায়িত রক্ষীকোশ (Guard cells) দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে:
    • দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে: রক্ষীকোশ দুটি বৃক্কাকার বা শিম-বীজাকার (Kidney-shaped), যার ভেতরের প্রাচীর পুরু ও বাইরের প্রাচীর পাতলা।
    • একবীজপত্রী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদে: রক্ষীকোশ দুটি ডাম্বেল-আকৃতির (Dumb-bell-shaped)।
    • রক্ষীকোশ সংলগ্ন পরিবর্তিত ত্বকীয় কোশগুলিকে সহায়ক কোশ (Subsidiary cells) বলে। রন্ধ্র, রক্ষীকোশ ও সহায়ক কোশকে একত্রে স্টোমাটাল অ্যাপারেটাস বলে।
  • ত্বকীয় উপবৃদ্ধি: কাণ্ডের ত্বক থেকে উৎপন্ন বহুকোষী রোমকে ট্রাইকোম (Trichome) বলে (বাষ্পমোচন কমায় ও ক্ষরণ করে); মূলের পরিপক্কতা অঞ্চলের ত্বকের এককোষী বর্ধিত অংশকে মূলরোম (Root hair) বলে (জল ও খনিজ শোষণ করে)।
২. ভিত্তি কলাতন্ত্র (Ground / Fundamental Tissue System)

ত্বকীয় ও সংবহন কলাতন্ত্র ব্যতীত উদ্ভিদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ কলা ভিত্তি কলাতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত:

  • কর্টেক্স (Cortex): বহিঃত্বকের নিচে অবস্থিত বহুস্তরীয় অঞ্চল। দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে এটি অধস্ত্বক (Hypodermis - কোলেনকাইমা), সাধারণ কর্টেক্স (প্যারেনকাইমা), এবং অন্তস্ত্বক (Endodermis)-এ বিভক্ত।
  • অন্তস্ত্বক: কর্টেক্সের সবচেয়ে ভেতরের স্তর। দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে প্রচুর স্টার্চ জমা থাকায় একে শ্বেতসার আবরণ (Starch sheath) বলে। মূলে অন্তস্ত্বকের কোশপ্রাচীরে জলরোধী সুবেরিন নির্মিত ক্যাসপেরিয়ান পট্টি (Casparian strips) থাকে যা জলপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ রেখা হিসেবে কাজ করে।
  • পরিচক্র (Pericycle): অন্তস্ত্বকের ভেতরের স্তর। দ্বিবীজপত্রী মূলে এটি থেকে পার্শ্বীয় মূল ও ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি হয়; দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে স্ক্লেরেনকাইমা নির্মিত অর্ধচন্দ্রাকার টুপি গঠন করে।
  • মজ্জা ও মজ্জাংশু: কাণ্ড বা মূলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্যারেনকাইমা অঞ্চল হলো মজ্জা (Pith); বান্ডিলগুলির মাঝের রশ্মিকে মজ্জাংশু বলে।
৩. সংবহন কলাতন্ত্র (Vascular Tissue System)

জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রিত হয়ে সংবহন বান্ডিল (Vascular Bundle) গঠন করে:

  • অরীয় সংবহন বান্ডিল (Radial Bundle): জাইলেম ও ফ্লোয়েম ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পর্যায়ক্রমিকভাবে সজ্জিত থাকে। এটি সকল মূলের (দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী মূল) লাক্ষণিক বৈশিষ্ট্য।
  • যুক্ত সমপার্শ্বীয় সংবহন বান্ডিল (Conjoint Collateral Bundle): জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে একসাথে অবস্থান করে (ফ্লোয়েম বাইরে, জাইলেম ভেতরে)। এটি কাণ্ড ও পাতার বৈশিষ্ট্য:
    • মুক্ত (Open): জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ভাজক কলা ক্যাম্বিয়াম উপস্থিত থাকে, যা গৌণ বৃদ্ধিতে সক্ষম (দ্বিবীজপত্রী কাণ্ড)।
    • বদ্ধ (Closed): ক্যাম্বিয়াম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না (একবীজপত্রী কাণ্ড ও পাতা)।
    • উভপার্শ্বীয় (Bicollateral): জাইলেমের উভয় পাশে (বাইরে ও ভেতরে) ফ্লোয়েম এবং দুটি ক্যাম্বিয়াম থাকে (যেমন লাউ, কুমড়ো—Cucurbitaceae)।

মূলের অন্তর্গঠন: দ্বিবীজপত্রী মূল বনাম একবীজপত্রী মূলের তুলনামূলক শারীরস্থান

উদ্ভিদের মূল ভূনিম্নস্থ অক্ষ যা মাটি থেকে জল ও খনিজ শোষণ করে গাছকে নোঙরের মতো আটকে রাখে। দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী মূলের সাধারণ কলাবিন্যাস এক হলেও জাইলেম বান্ডিলের সংখ্যা ও মজ্জার গঠনে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

১. দ্বিবীজপত্রী মূলের অন্তর্গঠন (সূর্যমুখী মূল - Helianthus Root)
  1. এপিব্লেমা বা মূলত্বক: সর্ববহিঃস্থ একক কোশস্তর; কিউটিকল ও পত্ররন্ধ্র অনুপস্থিত। অসংখ্য এককোষী মূলরোম উৎপন্ন হয়।
  2. কর্টেক্স: পাতলা সেলুলোজ প্রাচীর ও আন্তঃকোশীয় স্থানযুক্ত বহুস্তরীয় প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারা গঠিত।
  3. অন্তস্ত্বক: কর্টেক্সের শেষ স্তর। পিপাকৃতির কোশগুলির অরীয় ও অনুপ্রস্থ প্রাচীরে জলরোধী সুবেরিন নির্মিত ক্যাসপেরিয়ান পট্টি থাকে। প্রোটোজাইলেমের ঠিক বিপরীতে থাকা পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোশগুলিকে প্যাসেজ কোশ (Passage cells) বলে, যার মাধ্যমে জল পরিচক্রে প্রবেশ করে।
  4. পরিচক্র: অন্তস্ত্বকের নিচে অবস্থিত। এটি সম্পূর্ণরূপে বিভাজনক্ষম: এখান থেকেই সমস্ত পার্শ্বীয় মূল (Lateral roots) এবং গৌণ সংবহন ক্যাম্বিয়াম উৎপন্ন হয়।
  5. সংবহন বান্ডিল: অরীয় এবং এক্সার্ক (Exarch) জাইলেম (প্রোটোজাইলেম পরিধিতে, মেটাজাইলেম কেন্দ্রে)। বান্ডিলের সংখ্যা সাধারণত ২ থেকে ৬টি (ডাইআর্ক থেকে হেক্সআর্ক - Diarch to Hexarch)। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে সংযোগকারী প্যারেনকাইমা কলা থাকে।
  6. মজ্জা (Pith): অত্যন্ত ক্ষুদ্র, অপরিণত অথবা সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।
2. একবীজপত্রী মূলের অন্তর্গঠন (ভুট্টা মূল - Zea mays Root)

একবীজপত্রী মূলের এপিব্লেমা, কর্টেক্স ও অন্তস্ত্বক দ্বিবীজপত্রী মূলের অনুরূপ হলেও নিম্নলিখিত প্রধান পার্থক্যগুলি দেখা যায়:

  • পলিয়ার্ক জাইলেম (Polyarch Condition): সংবহন বান্ডিলের সংখ্যা সর্বদা ৬-এর অধিক (সাধারণত ৮ থেকে ২০ বা ততোধিক) জাইলেম ও ফ্লোয়েম গুচ্ছ চক্রাকারে সজ্জিত থাকে।
  • সুস্পষ্ট বৃহৎ মজ্জা: কেন্দ্রস্থলে একটি অত্যন্ত বড়, সুগঠিত ও সুস্পষ্ট প্যারেনকাইমা নির্মিত মজ্জা (Large well-developed pith) উপস্থিত থাকে।
  • গৌণ বৃদ্ধির অনুপস্থিতি: ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি না হওয়ায় একবীজপত্রী মূলে কখনোই কোনো গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না।
৩. দ্বিবীজপত্রী মূল বনাম একবীজপত্রী মূলের পার্থক্য ছক
শারীরস্থানিক বৈশিষ্ট্যদ্বিবীজপত্রী মূল (সূর্যমুখী মূল)একবীজপত্রী মূল (ভুট্টা মূল)
সংবহন বান্ডিলের সংখ্যা২ থেকে ৬টি (ডাইআর্ক থেকে হেক্সআর্ক)সর্বদা ৬-এর অধিক; বহুসংখ্যক (পলিয়ার্ক, ৮-২০+)
মজ্জা (Pith)অত্যন্ত ছোট, সংকুচিত বা অনুপস্থিতসুস্পষ্ট, বৃহৎ এবং সুগঠিত
ক্যাম্বিয়াম ও গৌণ বৃদ্ধিপরিচক্র ও সংযোগকারী কলা থেকে ক্যাম্বিয়াম গঠিত হয়; গৌণ বৃদ্ধি ঘটেক্যাম্বিয়াম কখনোই গঠিত হয় না; গৌণ বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত

কাণ্ড ও পাতার অন্তর্গঠন: দ্বিবীজপত্রী বনাম একবীজপত্রীর তুলনামূলক রূপরেখা

কাণ্ড ও পাতার অভ্যন্তরীণ শারীরস্থান দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে মৌলিক কাঠামোগত ভিন্নতা প্রদর্শন করে, যা তাদের সংবহন দক্ষতা ও পরিবেশীয় বাষ্পমোচন নিয়ন্ত্রণের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

১. দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডের অন্তর্গঠন (সূর্যমুখী কাণ্ড)
  • বহিঃত্বক: এককোষী স্তর; বাইরের প্রাচীরে কিউটিকল এবং বহুকোষী রোম বা ট্রাইকোম থাকে।
  • অধস্ত্বক (Hypodermis): বহিঃত্বকের নিচে অবস্থিত ৩-৫ স্তরবিশিষ্ট কোলেনকাইমা কলা যা কাণ্ডকে নমনীয় যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।
  • অন্তস্ত্বক (শ্বেতসার আবরণ): তরঙ্গায়িত একক কোশস্তর যা প্রচুর স্টার্চ দানা ধারণ করে।
  • পরিচক্র: অন্তস্ত্বকের নিচে অবস্থিত; প্রতিটি সংবহন বান্ডিলের মাথায় স্ক্লেরেনকাইমা নির্মিত অর্ধচন্দ্রাকার টুপি (Hard bast) এবং মাঝে প্যারেনকাইমা থাকে।
  • সংবহন বান্ডিল: একটি সুন্দর বৃত্তাকার বলয়ে (Eustele) সজ্জিত থাকে। প্রতিটি বান্ডিল যুক্ত, সমপার্শ্বীয়, উন্মুক্ত (Open - ক্যাম্বিয়ামযুক্ত) এবং এন্ডার্ক (Endarch) প্রকৃতির। বান্ডিলগুলির মাঝে প্যারেনকাইমা নির্মিত মজ্জাংশু (Medullary rays) থাকে। কেন্দ্রস্থলে বৃহৎ মজ্জা উপস্থিত।
২. একবীজপত্রী কাণ্ডের অন্তর্গঠন (ভুট্টা কাণ্ড)
  • বহিঃত্বক: একক স্তরবিশিষ্ট কিউটিকলযুক্ত ত্বক; ট্রাইকোম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
  • অধস্ত্বক (Hypodermis): ২-৩ স্তরবিশিষ্ট অত্যন্ত শক্ত লিগনিনযুক্ত স্ক্লেরেনকাইমা কলা দ্বারা গঠিত।
  • ভিত্তি কলা (Ground Tissue): কর্টেক্স, অন্তস্ত্বক, পরিচক্র ও মজ্জায় অবিভক্ত; অধস্ত্বকের নিচ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অবিচ্ছিন্ন প্যারেনকাইমা ভর।
  • সংবহন বান্ডিল: ভিত্তি কলার মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো (Atactostele) থাকে। পরিধির বান্ডিলগুলি আকারে ছোট ও ঘনসন্নিবিষ্ট; কেন্দ্রের বান্ডিলগুলি আকারে বড় ও দূরে দূরে অবস্থিত।
  • বান্ডিলের প্রকৃতি: প্রতিটি বান্ডিল যুক্ত, সমপার্শ্বীয়, বদ্ধ (Closed - ক্যাম্বিয়ামবিহীন) এবং চারপাশ একটি স্ক্লেরেনকাইমা বান্ডিল টুপি (Bundle sheath) দ্বারা আবৃত। প্রোটোজাইলেম কোশ বিশ্লিষ্ট হয়ে একটি জলপূর্ণ প্রোটোজাইলেম গহ্বর বা জলনালী (Lysigenous water cavity) গঠন করে। ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা অনুপস্থিত।
৩. বিষমপৃষ্ঠ পাতা (দ্বিবীজপত্রী) বনাম সমদ্বিপৃষ্ঠ পাতা (একবীজপত্রী)
শারীরস্থানিক বৈশিষ্ট্যবিষমপৃষ্ঠ পাতা (দ্বিবীজপত্রী - আম/সূর্যমুখী পাতা)সমদ্বিপৃষ্ঠ পাতা (একবীজপত্রী - ঘাস/ভুট্টা পাতা)
পত্ররন্ধ্রের অবস্থানহাইপোস্টোমাটিক: পত্ররন্ধ্র প্রধানত বা কেবলমাত্র নিম্নত্বকে (abaxial) অবস্থিত; ঊর্ধ্বত্বকে প্রায় থাকেই না।অ্যাম্ফিস্টোমাটিক: পত্ররন্ধ্র উভয় ত্বকে (adaxial ও abaxial) সমানভাবে বণ্টিত থাকে।
রক্ষীকোশের আকৃতিবৃক্কাকার বা শিম-বীজের মতো (Kidney-shaped)ডাম্বেল-আকৃতির (Dumb-bell-shaped)
মেসোফিল কলার বিভাজনসুস্পষ্ট দুটি স্তরে বিভক্ত:
১. প্যালিসেড প্যারেনকাইমা: ওপরের ত্বকের নিচে অবস্থিত ঘনসন্নিবিষ্ট স্তম্ভাকার কোশ যাতে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
২. স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা: নিচের ত্বকের কাছে শিথিলভাবে সজ্জিত কোশ যাতে বড় বড় বায়ুকুঠুরি থাকে।
সম্পূর্ণরূপে অবিভক্ত; সমস্ত মেসোফিল কোশ সমআকৃতির গোলাকার ক্লোরেনকাইমা দ্বারা গঠিত।
বুলিফর্ম কোশ (Bulliform Cells)সম্পূর্ণ অনুপস্থিতউপস্থিত: ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ওপরের ত্বকে কিছু কোশ বড়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত ও জলপূর্ণ হয়ে বুলিফর্ম কোশ বা মোটর কোশ গঠন করে। জলের ঘাটতি হলে এরা শিথিল হয়ে পাতাকে গুটিয়ে ফেলে বাষ্পমোচন কমায়।

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি: ক্যাম্বিয়াম বলয়, কাষ্ঠের রূপভেদ ও পেরিডার্ম

গৌণ ভাজক কলার (সংবহন ক্যাম্বিয়াম ও ফেলোজেন) বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের কাণ্ড ও মূলের স্থূলতা বা পরিধি বৃদ্ধিকে দ্বৈত বৃদ্ধি বা গৌণ বৃদ্ধি (Secondary Growth) বলে। এটি ব্যক্তবীজী ও কাষ্ঠল দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, কিন্তু একবীজপত্রীতে অনুপস্থিত।

১. সংবহন ক্যাম্বিয়াম বলয়ের উৎপত্তি ও সক্রিয়তা
  1. ক্যাম্বিয়াম বলয় গঠন: দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে সংবহন বান্ডিলের ভেতরের ক্যাম্বিয়ামকে ইন্ট্রাফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম বলে। গৌণ বৃদ্ধির শুরুতে এর পাশের মজ্জাংশুর স্থায়ী প্যারেনকাইমা কোশগুলি পুনরায় বিভাজনক্ষম হয়ে ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম গঠন করে। উভয় ক্যাম্বিয়াম যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ গোলাকার সংবহন ক্যাম্বিয়াম বলয় তৈরি করে।
  2. দ্বিমুখী কোশ উৎপাদন: ক্যাম্বিয়াম বলয়টি দুদিকে কোশ বিভাজন ঘটায়: ভেতরের দিকে উৎপন্ন হয় গৌণ জাইলেম বা কাঠ (Secondary Xylem) এবং বাইরের দিকে উৎপন্ন হয় গৌণ ফ্লোয়েম (Secondary Phloem)। ক্যাম্বিয়াম ভেতরের দিকে অনেক বেশি সক্রিয় থাকায় গৌণ ফ্লোয়েমের চেয়ে ৮-১০ গুণ বেশি গৌণ জাইলেম গঠিত হয়। ফলে প্রাথমিক ফ্লোয়েম ও কর্টেক্স বাইরের দিকে ক্রমাগত চাপে পিষ্ট হতে থাকে।
২. কাষ্ঠের রূপভেদ ও বর্ষবলয় (Annual Rings)
  • বসন্ত কাঠ (Spring Wood / Early Wood): বসন্তকালে অনুকূল জলবায়ুর কারণে ক্যাম্বিয়াম অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। এই সময় গঠিত গৌণ জাইলেমে প্রশস্ত গহ্বর ও পাতলা প্রাচীরযুক্ত বহুসংখ্যক বাহিকা তৈরি হয়। এর রং হালকা এবং ঘনত্ব কম হয়।
  • শরৎ কাঠ (Autumn Wood / Late Wood): শীত বা শরৎকালে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তা কমে যায়। এই সময় সংকীর্ণ গহ্বর ও পুরু প্রাচীরযুক্ত অল্পসংখ্যক বাহিকা গঠিত হয়। এর রং গাঢ় এবং ঘনত্ব বেশি হয়।
  • বর্ষবলয় (Annual Ring): প্রতি বছর গঠিত একটি হালকা বসন্ত কাঠ এবং একটি গাঢ় শরৎ কাঠের বলয় মিলে তৈরি হয় একটি বর্ষবলয়। গাছের গুঁড়ির প্রস্থচ্ছেদে বর্ষবলয়ের সংখ্যা গণনা করে জীবন্ত বৃক্ষের প্রকৃত বয়স এবং অতীতের জলবায়ুর পরিবর্তন নির্ধারণ করার বিজ্ঞানকে বৃক্ষকালানুক্রমিকবিদ্যা (Dendrochronology) বলে।
৩. সারকাষ্ঠ (Heartwood) বনাম রসকাষ্ঠ (Sapwood)
তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যসারকাষ্ঠ বা ডুরামন (Heartwood / Duramen)রসকাষ্ঠ বা অ্যালবার্নাম (Sapwood / Alburnum)
অবস্থানকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সবচেয়ে ভেতরের প্রাচীন কাঠকাণ্ডের পরিধিভাগে সংবহন ক্যাম্বিয়ামের সংলগ্ন কাঠ
রং ও ঘনত্বট্যানিন, রজন, গঁদ, উদ্বায়ী তেল জমার কারণে গাঢ় খয়েরি বা কালো; অত্যন্ত ভারী ও শক্তহালকা হলুদ বা বাদামি রং; তুলনামূলক কম ঘনত্বযুক্ত
কোশীয় সজীবতাসম্পূর্ণরূপে মৃত; কোনো সজীব কোশ থাকে নাসজীব জাইলেম প্যারেনকাইমা ও মজ্জারশ্মি বর্তমান
টাইলোসেস (Tyloses)উপস্থিত: পাশের প্যারেনকাইমা কোশ ফুলে বেলুনের মতো বাহিকার গহ্বরে ঢুকে তা বন্ধ করে দেয়অনুপস্থিত: বাহিকার গহ্বর সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে
শারীরবৃত্তীয় কার্যজল সংবহন বন্ধ; কাণ্ডকে অপরিসীম যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে এবং ঘুণ ও ছত্রাক প্রতিরোধী (উন্নত মানের কাঠ)মূল থেকে পাতায় জল ও খনিজ লবণের সক্রিয় ঊর্ধ্বমুখী সংবহন বজায় রাখে
৪. কর্ক ক্যাম্বিয়াম (ফেলোজেন) ও পেরিডার্ম

গৌণ জাইলেমের ক্রমাগত বৃদ্ধির চাপে কাণ্ডের মূল ত্বক ও কর্টেক্স ফেটে যায়। উদ্ভিদের সুরক্ষা বজায় রাখতে বাইরের কর্টেক্সের কোশ থেকে একটি নতুন গৌণ ভাজক কলা সৃষ্টি হয়, যাকে কর্ক ক্যাম্বিয়াম বা ফেলোজেন (Phellogen) বলে।

  • ফেলোজেনের কার্য:
    • বাইরের দিকে: কোশ বিভাজিত করে কর্ক বা ফেল্লেম (Phellem) তৈরি করে। কর্ক কোশগুলি মৃত, নিবিড়ভাবে সন্নিবিষ্ট এবং এদের প্রাচীরে জলরোধী সুবেরিন জমা থাকে।
    • ভেতরের দিকে: সজীব প্যারেনকাইমা কোশ তৈরি করে যাকে গৌণ কর্টেক্স বা ফেল্লোডার্ম (Phelloderm) বলে।
  • পেরিডার্ম (Periderm): ফেল্লেম + ফেলোজেন + ফেল্লোডার্ম—এই তিনটি স্তরকে একত্রে পেরিডার্ম বলে: $$\text{Periderm} = \text{Phellem (Cork)} + \text{Phellogen (Cork Cambium)} + \text{Phelloderm (Secondary Cortex)}$$
  • বাকল বা ছাল (Bark): সংবহন ক্যাম্বিয়ামের বাইরে অবস্থিত সমস্ত কলাকে একত্রে ছাল বা বাকল বলে: $$\text{Bark} = \text{Periderm} + \text{Secondary Phloem} + \text{Primary Phloem}$$
  • লেন্টিসেল (Lenticels): কর্কের কিছু কিছু জায়গায় ফেলোজেন সুবেরিনযুক্ত কর্ক তৈরির পরিবর্তে পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট গোলাকার পরিপূরক কোশ (Complementary cells) উৎপন্ন করে যা ত্বককে ফাটিয়ে লেন্সের মতো ছিদ্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে কাষ্ঠল কাণ্ডে শ্বাসবায়ু ($O_2/CO_2$) বিনিময় ঘটে।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

প্রাথমিক জাইলেম বিন্যাস সূত্র (Endarch vs Exarch)
কাণ্ডে: এন্ডার্ক (কেন্দ্র থেকে পরিধিমুখী) | মূলে: এক্সার্ক (পরিধি থেকে কেন্দ্রাভিমুখী)
প্রোটোজাইলেমের বাহিকাগুলি সংকীর্ণ ও সর্পিল/বলয়াকার স্থূলীকৃত; মেটাজাইলেমের বাহিকাগুলি প্রশস্ত ও সপাড়/জালিকাযুক্ত স্থূলীকৃত।
ক্যাসপেরিয়ান পট্টি ও সিমপ্লাস্টীয় প্রবাহ সমীকরণ
অন্তস্ত্বকে সুবেরিন পট্টি = অ্যাপোপ্লাস্ট অবরোধ -> বাধ্যতামূলক সিমপ্লাস্টীয় প্রবেশ
সুবেরিন একটি অসংলগ্ন মোমজাতীয় পদার্থ যা কোশপ্রাচীর দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত জল ও আয়নের প্রবেশ রোধ করে মূলজ চাপ বজায় রাখে।
বর্ষবলয় সমীকরণ ও ডেনড্রোক্রোনোলজি তত্ত্ব
১টি বর্ষবলয় = ১টি বসন্ত কাঠ + ১টি শরৎ কাঠ
বৃক্ষের বয়স (বছর) = কাণ্ডের গোড়ার প্রস্থচ্ছেদে বর্ষবলয়ের মোট সংখ্যা। ঋতুভেদহীন নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের উদ্ভিদে স্পষ্ট বর্ষবলয় গঠিত হয় না।
পেরিডার্মের উপাদান সমীকরণ (Periderm Formula)
পেরিডার্ম = ফেল্লেম (কর্ক) + ফেলোজেন (কর্ক ক্যাম্বিয়াম) + ফেল্লোডার্ম (গৌণ কর্টেক্স)
ফেল্লেম কোশ মৃত ও সুবেরিনযুক্ত; ফেলোজেন গৌণ ভাজক কলা; ফেল্লোডার্ম সজীব প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারা গঠিত।
উদ্ভিদ বাকল বা ছালের উপাদান সমীকরণ (Bark Formula)
বাকল/ছাল = পেরিডার্ম + গৌণ ফ্লোয়েম + প্রাথমিক ফ্লোয়েম
ঋতুর শুরুতে গঠিত বাকলকে নরম বাকল এবং ঋতুর শেষে গঠিত বাকলকে শক্ত বাকল বলে। গাছ থেকে ছাল গোল করে কেটে নিলে গাছটি মারা যায়।
সংবহন বান্ডিল নির্ণায়ক সূত্র
মূল: অরীয় | দ্বিবীজপত্রী কাণ্ড: যুক্ত সমপার্শ্বীয় মুক্ত | একবীজপত্রী কাণ্ড: যুক্ত সমপার্শ্বীয় বদ্ধ
মুক্ত বান্ডিলে ক্যাম্বিয়াম থাকায় গৌণ বৃদ্ধি সম্ভব; বদ্ধ বান্ডিলে ক্যাম্বিয়াম না থাকায় কোনো গৌণ বৃদ্ধি হয় না।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
একটি দ্বিবীজপত্রী কাণ্ড (সূর্যমুখী) এবং একটি একবীজপত্রী কাণ্ডের (ভুট্টা) অন্তর্গঠনের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলির ভিত্তিতে তুলনা করো: (i) অধস্ত্বক, (ii) ভিত্তি কলার বিন্যাস, (iii) সংবহন বান্ডিলের সজ্জা ও টুপি, এবং (iv) ক্যাম্বিয়ামের উপস্থিতি। [মান বণ্টন: ১ + ১ + ২ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সূর্যমুখী কাণ্ডে কোলেনকাইমা অধস্ত্বক, সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত ভিত্তি কলা (কর্টেক্স, অন্তস্ত্বক, মজ্জা) এবং ক্যাম্বিয়ামযুক্ত বলয়াকার উন্মুক্ত বান্ডিল থাকে। ভুট্টা কাণ্ডে স্ক্লেরেনকাইমা অধস্ত্বক, অবিভক্ত ভিত্তি কলা এবং বান্ডিল টুপি ও জলনালীযুক্ত বিক্ষিপ্ত বদ্ধ বান্ডিল থাকে যাতে কোনো ক্যাম্বিয়াম থাকে না।
উদাহরণ 2
ক্যাসপেরিয়ান পট্টি (Casparian Strip) কী? এর রাসায়নিক উপাদান ও অবস্থান উল্লেখ করো। মূলের অন্তস্ত্বক দিয়ে জাইলেমে জল ও খনিজ লবণ পরিবহনে এটি কীভাবে কাজ করে? [মান বণ্টন: ২ + ১ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ক্যাসপেরিয়ান পট্টি হলো মূলের অন্তস্ত্বকের প্রাচীরে অবস্থিত জলরোধী সুবেরিন নির্মিত ফিতা। এটি কোশপ্রাচীরের মধ্য দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত অ্যাপোপ্লাস্টীয় জলপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে জলকে সজীব কোশের অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে সিমপ্লাস্টীয় পথে জাইলেমে যেতে বাধ্য করে, যা খনিজ শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
উদাহরণ 3
বসন্ত কাঠ (Early Wood) ও শরৎ কাঠের (Late Wood) মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো। এদের মাধ্যমে কীভাবে বর্ষবলয় গঠিত হয়? বৃক্ষকালানুক্রমিকবিদ্যা (Dendrochronology) কী? [মান বণ্টন: ২.৫ + ১.৫ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
বসন্ত কাঠে প্রশস্ত গহ্বরযুক্ত হালকা কম ঘনত্বের বাহিকা থাকে যা বসন্তের সক্রিয় ক্যাম্বিয়াম দ্বারা গঠিত হয়; শরৎ কাঠে সংকীর্ণ গহ্বরযুক্ত গাঢ় অধিক ঘনত্বের বাহিকা থাকে যা শীতের অলস ক্যাম্বিয়াম দ্বারা গঠিত হয়। এই দুটি বলয় মিলে এক বছরের বর্ষবলয় তৈরি করে। বর্ষবলয় গণনা করে গাছের বয়স ও প্রাচীন জলবায়ু জানার পদ্ধতিকে ডেনড্রোক্রোনোলজি বলে।
উদাহরণ 4
সারকাষ্ঠ (Heartwood) এবং রসকাষ্ঠের (Sapwood) মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পার্থক্য নিরূপণ করো: (i) কাণ্ডে অবস্থান, (ii) রং ও ঘনত্ব, (iii) সজীব কোশের উপস্থিতি, (iv) টাইলোসেসের উপস্থিতি, এবং (v) সংবহন ক্ষমতা বনাম টেকসই স্থায়িত্ব। [মান বণ্টন: প্রতিটি পয়েন্টে ১ নম্বর = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সারকাষ্ঠ হলো কাণ্ডের কেন্দ্রীয় গাঢ়, ভারী, মৃত, টাইলোসেস দ্বারা অবরুদ্ধ কাঠ যা জল পরিবহন করে না কিন্তু আসবাবের জন্য অত্যন্ত টেকসই ও ঘুণ-প্রতিরোধী। রসকাষ্ঠ হলো পরিধির হালকা, সজীব, টাইলোসেসহীন কাঠ যা সক্রিয়ভাবে জল ও খনিজ রস সংবহন করে।
উদাহরণ 5
কর্ক ক্যাম্বিয়াম (ফেলোজেন) কীভাবে গঠিত হয় এবং এর কাজ কী? পেরিডার্ম এবং বাকল (Bark) বলতে কী বোঝায়? লেন্টিসেল কী এবং কাষ্ঠল কাণ্ডে এর গুরুত্ব কী? [মান বণ্টন: ২ + ১.৫ + ১.৫ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
ফেলোজেন হলো কর্টেক্স থেকে উৎপন্ন গৌণ ভাজক কলা যা বাইরে কর্ক (ফেল্লেম) ও ভেতরে ফেল্লোডার্ম তৈরি করে। পেরিডার্ম = ফেল্লেম + ফেলোজেন + ফেল্লোডার্ম। বাকল হলো সংবহন ক্যাম্বিয়ামের বাইরের সমস্ত কলা (পেরিডার্ম + ফ্লোয়েম)। লেন্টিসেল হলো কর্কের মাঝে পরিপূরক কোশযুক্ত ছিদ্র যা কাষ্ঠল কাণ্ডে শ্বাসবায়ু বিনিময় নিয়ন্ত্রণ করে।
উদাহরণ 6
একটি বিষমপৃষ্ঠ পাতা (দ্বিবীজপত্রী) এবং একটি সমদ্বিপৃষ্ঠ পাতার (একবীজপত্রী) অন্তর্গঠনের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তুলনা করো: (i) পত্ররন্ধ্রের বণ্টন, (ii) রক্ষীকোশের আকৃতি, (iii) মেসোফিল কলার বিভেদন, এবং (iv) বুলিফর্ম কোশের উপস্থিতি ও কাজ। [মান বণ্টন: ১ + ১ + ২ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
দ্বিবীজপত্রী বিষমপৃষ্ঠ পাতা হাইপোস্টোমাটিক, বৃক্কাকার রক্ষীকোশযুক্ত এবং মেসোফিল প্যালিসেড ও স্পঞ্জি স্তরে বিভক্ত। একবীজপত্রী সমদ্বিপৃষ্ঠ পাতা অ্যাম্ফিস্টোমাটিক, ডাম্বেল-আকৃতির রক্ষীকোশযুক্ত, অবিভক্ত মেসোফিলযুক্ত এবং ওপরের ত্বকে খরা প্রতিরোধী বুলিফর্ম (মোটর) কোশ ধারণ করে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

কোলেনকাইমার কোশপ্রাচীর স্ক্লেরেনকাইমার মতো লিগনিনযুক্ত মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কোলেনকাইমা একটি সজীব কলা এবং এর কোশের কোণে কোণীয় স্থূলীভবন শুধুমাত্র পেক্টিন, সেলুলোজ ও হেমিসেলুলোজ দ্বারা গঠিত। এতে কোনো লিগনিন থাকে না। স্ক্লেরেনকাইমা হলো মৃত কলা যার প্রাচীর লিগনিনযুক্ত।

সাধারণ ভুল ধারণা

কাণ্ডের এন্ডার্ক জাইলেম এবং মূলের এক্সার্ক জাইলেমের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কাণ্ডে জাইলেমের বিকাশ কেন্দ্রাতিগ হওয়ায় এন্ডার্ক বা অন্তঃসারক (প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রে মজ্জার দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধিতে থাকে)। মূলে জাইলেমের বিকাশ কেন্দ্রাভিমুখী হওয়ায় এক্সার্ক বা বহিঃসারক (প্রোটোজাইলেম পরিধিতে পরিচক্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রে থাকে)।

সাধারণ ভুল ধারণা

সীভনল উপাদান সজীব হওয়ায় এতে নিউক্লিয়াস আছে বলে ধরে নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পরিণত সীভনল কোশ সজীব এবং পরিধীয় সাইটোপ্লাজমযুক্ত হলেও এটি সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসবিহীন! এর সমস্ত বিপাকীয় কাজ পাশের সঙ্গী কোশের নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

গাছের বাকল বা ছাল (Bark) এবং কর্ককে (Cork) একই জিনিস বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

কর্ক বা ফেল্লেম হলো ফেলোজেন থেকে উৎপন্ন সর্ববহিঃস্থ সুবেরিনযুক্ত মৃত স্তর মাত্র। বাকল বা ছাল (Bark) হলো সংবহন ক্যাম্বিয়ামের বাইরে অবস্থিত সমস্ত কলা, যার মধ্যে পেরিডার্ম এবং গৌণ/প্রাথমিক ফ্লোয়েম উভয়ই অন্তর্গত।

সাধারণ ভুল ধারণা

একবীজপত্রী মূলে দ্বিবীজপত্রী মূলের মতো কম সংখ্যক জাইলেম বান্ডিল মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

দ্বিবীজপত্রী মূলে জাইলেম বান্ডিল থাকে ২ থেকে ৬টি (ডাইআর্ক থেকে হেক্সআর্ক) এবং মজ্জা প্রায় অনুপস্থিত থাকে। একবীজপত্রী মূলে জাইলেম বান্ডিল থাকে ৬-এর অধিক বহুসংখ্যক (পলিয়ার্ক, ৮-২০+) এবং কেন্দ্রে একটি বিশাল সুগঠিত মজ্জা থাকে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন ও কলাসংস্থান (Anatomy of Flowering Plants) পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) • একাদশ শ্রেণি জীববিদ্যা • একক ২ 1 ১. উদ্ভিদ কলা ও কলাতন্ত্র Meristems (विभज्योतक / ভাজক) ভাজক কলা (শীর্ষস্থ, নিবেশিত, পার্শ্বীয়) Simple Tissues (সরল / सरल) সরল স্থায়ী কলা (প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা) Complex Tissues (জটিল / जटिल) জটিল কলা (জাইলেম: ট্রাকিড, বাহিকা; ফ্লোয়েম: চালনী উপাদান, সঙ্গী কোশ) Vascular Bundles (সংবহন / संवहन) সংবহন কলাতন্ত্র (অরীয়, যুক্ত সমপার্শ্বীয় মুক্ত/বদ্ধ) 2 ২. দ্বিবীজপত্রী বনাম একবীজপত্রী অন্তর্গঠন Root Anatomy (মূল / जड़) মূল (Root): ডাইআর্ক-হেক্সআর্ক (দ্বিবীজপত্রী) বনাম পলিয়ার্ক (একবীজপত্রী) Stem Anatomy (কাণ্ড / तना) কাণ্ড (Stem): বলয়াকারে উন্মুক্ত বান্ডিল (দ্বিবীজপত্রী) বনাম বিক্ষিপ্ত বদ্ধ (একবীজপত্রী) Leaf Anatomy (পাতা / पत्ती) পাতা (Leaf): বিষমপৃষ্ঠ (প্যালিসেড/স্পঞ্জি) বনাম সমদ্বিপৃষ্ঠ (বুলিফর্ম কোশ) Casparian Strip (সুবেরিন পট্টি) ক্যাসপেরিয়ান পট্টি (অন্তস্ত্বচায় সুবেরিন) ও জল সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ 3 ৩. দ্বৈত/গৌণ বৃদ্ধি ও কাঠ গঠন Cambial Ring (ক্যাম্বিয়াম বলয়) ক্যাম্বিয়াম বলয়: অন্তর্বান্ডিল + ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম Annual Rings (বর্ষবলয় / वलय) বসন্ত কাঠ (প্রশস্ত গহ্বর) + শরৎ কাঠ (সংকীর্ণ) = বার্ষিক বর্ষবলয় Heartwood vs Sapwood (কাষ্ঠ) সারকাষ্ঠ (Heartwood - টাইলোসেস) বনাম রসকাষ্ঠ (Sapwood) Periderm & Lenticels (বাকল) পেরিডার্ম (ফেল্লেম + ফেলোজেন + ফেল্লোডার্ম) ও লেন্টিসেল WBCHSE Class 11 Biology • Unit II • Concept & Examination Visual Roadmap

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
উদ্ভিদ কলা প্রধানত দুই প্রকার: ভাজক কলা (বিভাজনক্ষম অপরিণত কোশ) এবং স্থায়ী কলা (বিভাজনহীন নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম পরিণত কোশ)।
মূল বিষয় 2
অবস্থান অনুসারে ভাজক কলা তিন প্রকার: শীর্ষস্থ ভাজক কলা (দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি), নিবেশিত ভাজক কলা (ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে পর্বমধ্যের বৃদ্ধি ও পুনরুৎপাদন), এবং পার্শ্বীয় ভাজক কলা (ক্যাম্বিয়াম ও ফেলোজেন, যা উদ্ভিদের প্রস্থ বা স্থূলতা বৃদ্ধি করে)।
মূল বিষয় 3
সরল স্থায়ী কলার মধ্যে প্যারেনকাইমা (সজীব, পাতলা প্রাচীর, সঞ্চয়ী/ক্লোরেনকাইমা/অ্যারেনকাইমা), কোলেনকাইমা (সজীব, পেকটিন কোণীয় স্ফীতি, কচি কাণ্ডের নমনীয় যান্ত্রিক শক্তি), এবং স্ক্লেরেনকাইমা (মৃত, লিগনিনযুক্ত পুরু প্রাচীর; তন্তু ও স্ক্লেরাইড/অশ্মকোশ) উল্লেখযোগ্য।
মূল বিষয় 4
জটিল কলার মধ্যে জাইলেম (জল ও খনিজ পরিবহনকারী; ট্রাকিড, বাহিকা, জাইলেম তন্তু এবং সজীব জাইলেম প্যারেনকাইমা) এবং ফ্লোয়েম (জৈব খাদ্য পরিবহনকারী; সীভনল, সঙ্গী কোশ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও মৃত বাস্ট তন্তু) প্রধান।
মূল বিষয় 5
প্রাথমিক জাইলেমের বিন্যাস: কাণ্ডে এন্ডার্ক বা অন্তঃসারক (প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রে ও মেটাজাইলেম পরিধিতে) এবং মূলে এক্সার্ক বা বহিঃসারক (প্রোটোজাইলেম পরিধিতে ও মেটাজাইলেম কেন্দ্রে)।
মূল বিষয় 6
কলাতন্ত্র তিন প্রকার: ত্বকীয় কলাতন্ত্র (বহিঃত্বক, কিউটিকল, বৃক্কাকার/ডাম্বেল-আকৃতির রক্ষীকোশযুক্ত পত্ররন্ধ্র, ট্রাইকোম ও মূলরোম), ভিত্তি কলাতন্ত্র (কর্টেক্স, ক্যাসপেরিয়ান পট্টিযুক্ত অন্তস্ত্বক, পরিচক্র, মজ্জা ও মজ্জাংশু), এবং সংবহন কলাতন্ত্র (মূলে অরীয়; দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে যুক্ত সমপার্শ্বীয় মুক্ত; একবীজপত্রী কাণ্ডে যুক্ত সমপার্শ্বীয় বদ্ধ)।
মূল বিষয় 7
দ্বিবীজপত্রী মূলে ২ থেকে ৬টি (ডাইআর্ক থেকে হেক্সআর্ক) জাইলেম-ফ্লোয়েম বান্ডিল ও ক্ষুদ্র মজ্জা থাকে; একবীজপত্রী মূলে ৬-এর অধিক (পলিয়ার্ক) বান্ডিল ও সুস্পষ্ট বৃহৎ মজ্জা থাকে।
মূল বিষয় 8
দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে সংবহন বান্ডিলগুলি বলয়াকারে উন্মুক্ত (ক্যাম্বিয়ামযুক্ত) অবস্থায় থাকে; একবীজপত্রী কাণ্ডে বান্ডিলগুলি ভিত্তি কলায় বিক্ষিপ্তভাবে বদ্ধ অবস্থায় ছড়ানো থাকে এবং প্রোটোজাইলেম গহ্বর উপস্থিত থাকে।
মূল বিষয় 9
দ্বিবীজপত্রী পাতা বিষমপৃষ্ঠ (মেসোফিল প্যালিসেড ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমায় বিভক্ত); একবীজপত্রী পাতা সমদ্বিপৃষ্ঠ (অবিভক্ত মেসোফিল এবং ঘাসের পাতায় জল সঞ্চয়ী ও পাতা কুঞ্চনকারী বুলিফর্ম কোশ বর্তমান)।
মূল বিষয় 10
দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে গৌণ বৃদ্ধি ঘটে সংবহন ক্যাম্বিয়াম (ভেতরে গৌণ জাইলেম/কাঠ এবং বাইরে গৌণ ফ্লোয়েম তৈরি করে) এবং কর্ক ক্যাম্বিয়াম বা ফেলোজেনের (বাইরে কর্ক/ফেল্লেম ও ভেতরে ফেল্লোডার্ম তৈরি করে) সক্রিয়তায়।
মূল বিষয় 11
প্রতি বছর গঠিত একটি হালকা বসন্ত কাঠ ও একটি গাঢ় শরৎ কাঠের বলয় মিলে তৈরি হয় একটি বর্ষবলয়; বর্ষবলয় গণনার মাধ্যমে উদ্ভিদের বয়স নির্ণয়কে ডেনড্রোক্রোনোলজি বলে।
মূল বিষয় 12
সারকাষ্ঠ (Heartwood) হলো কাণ্ডের কেন্দ্রীয় গাঢ়, মৃত, টাইলোসেস ও ট্যানিনযুক্ত জল পরিবহনে অক্ষম কিন্তু টেকসই কাঠ; রসকাষ্ঠ (Sapwood) হলো পরিধির হালকা সজীব জল পরিবহনকারী কাঠ।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
ব্যক্তবীজী কাষ্ঠকে কেন 'নরম কাঠ' (Softwood) এবং দ্বিবীজপত্রী গুপ্তবীজী কাষ্ঠকে 'শক্ত কাঠ' (Hardwood) বলা হয়, যদিও এদের প্রকৃত যান্ত্রিক শক্তিমত্তা যাই হোক না কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: শারীরস্থানিকভাবে ব্যক্তবীজী কাষ্ঠে কোনো জাইলেম বাহিকা (Vessels) থাকে না, কেবল ট্রাকিড থাকে, তাই একে ছিদ্রহীন কাঠ বা Softwood বলে। দ্বিবীজপত্রী গুপ্তবীজী কাষ্ঠে প্রশস্ত গহ্বরযুক্ত ও ছিদ্রিত প্রাচীরযুক্ত প্রকৃত বাহিকা (Pores) থাকে, তাই একে সছিদ্র কাঠ বা Hardwood বলে।
2
দ্বিবীজপত্রী মূলে সংবহন ক্যাম্বিয়ামের উৎপত্তি কীভাবে হয় এবং এর আকৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: দ্বিবীজপত্রী মূলে সংবহন ক্যাম্বিয়াম সম্পূর্ণরূপে একটি গৌণ ভাজক কলা। এটি ফ্লোয়েম বান্ডিলের নিচের সংযোগকারী প্যারেনকাইমা এবং প্রোটোজাইলেম বান্ডিলের বাইরের পরিচক্রের কোশ থেকে উৎপন্ন হয়। শুরুতে এটি একটি ঢেউখেলানো (wavy) বলয় গঠন করে, কিন্তু ফ্লোয়েমের নিচে দ্রুত গৌণ জাইলেম তৈরি হওয়ার সাথে সাথে পরবর্তীতে এটি সম্পূর্ণ বৃত্তাকার রূপ ধারণ করে।
3
নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী উষ্ণমণ্ডলীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চলের বৃক্ষে কেন সুস্পষ্ট বর্ষবলয় দেখা যায় না?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: বর্ষবলয় তৈরি হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সুস্পষ্ট ঋতুভিত্তিক জলবায়ুর পরিবর্তন (অনুকূল উষ্ণ বসন্ত বনাম প্রতিকূল শীত)। কিন্তু নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছরই তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা প্রায় সমান থাকে, ফলে সারা বছর ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তা অভিন্ন থাকে এবং বসন্ত ও শরৎ কাঠের কোনো রূপভেদ তৈরি হয় না।
4
টাইলোসেস (Tyloses) কী, কাণ্ডের কোন কাষ্ঠে এটি উৎপন্ন হয় এবং জল পরিবহনে এর প্রভাব কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: টাইলোসেস হলো জাইলেম প্যারেনকাইমা ও মজ্জারশ্মির কোশের বেলুনের মতো ফোলা অংশ যা প্রাচীরের কুপ ভেদ করে জাইলেম বাহিকার গহ্বরে প্রবেশ করে। এটি শুধুমাত্র সারকাষ্ঠে (Heartwood) গঠিত হয়। এটি বাহিকার সমস্ত গহ্বর অবরুদ্ধ করে ফেলে, ফলে সারকাষ্ঠের জল পরিবহন ক্ষমতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
5
একটি কাষ্ঠল গাছের গুঁড়ির ছাল গোল করে বৃত্তাকারে কেটে তুলে নিলে (Girdling) গাছটি কেন মারা যায় এবং কোন অঙ্গটি প্রথমে মারা যায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ছাল বা বাকলে গৌণ ফ্লোয়েম অন্তর্ভুক্ত থাকে। বৃত্তাকারে ছাল তুলে নিলে পাতা থেকে মূলে শর্করা বা খাদ্য পরিবহনের ফ্লোয়েম পথটি সম্পূর্ণ কেটে যায়। ফলে খাদ্যের অভাবে প্রথমে গাছের মূল মারা যায়। মূল মারা গেলে জল শোষণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ গাছটি শুকিয়ে মারা যায়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।